বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত রাশি, পরিমাপ ও পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন

মোট প্রশ্ন২৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত রাশি, পরিমাপ ও পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৫৩

.
স্কেলার রাশির উদাহরণ কোনটি? 
  1. সরণ 
  2. তাপমাত্রা 
  3. বেগ 
  4. ওজন 
ব্যাখ্যা

ভৌত রাশি: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- 
  1. সেক্সট্যান্ট
  2. অডিওমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।  
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

.
শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করেছিলেন কে? 
  1. থেলিস
  2. আর্যভট্ট
  3. পিথাগোরাস
  4. আরিস্তারাকস
ব্যাখ্যা
গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান বলতে যে বিষয়টিকে বোঝানো হয়, প্রাচীনকালে সেটি শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে। 
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিসের (BC 624-586) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, কারণ তিনিই প্রথম কার্যকারণ এবং যুক্তি ছাড়া শুধু ধর্ম, অতীন্দ্রিয় এবং পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 
- সেই সময়ের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীদের মাঝে পিথাগোরাস (527 BC) একটি স্মরণীয় নাম। জ্যামিতি এবং কম্পমান তারের ওপর তার মৌলিক কাজ ছিল। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (460 BC) প্রথম ধারণা দেন যে পদার্থের অবিভাজ্য একক আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যাটম (এই নামটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকে)। তবে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তার ধারণাটি প্রমাণের কোনো সুযোগ ছিল না বলে সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। 
- সেই সময়কার সবচেয়ে বড় দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের মাটি, পানি, বাতাস ও আগুন দিয়ে সবকিছু তৈরি হওয়ার মতবাদটিই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। 
- আরিস্তারাকস (310 BC) প্রথমে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দিয়েছিলেন এবং তার অনুসারী সেলেউকাস যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটি প্রমাণ করেছিলেন, যদিও সেই যুক্তিগুলো এখন কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। 
- গ্রিক বিজ্ঞান এবং গণিত তার সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের (287 BC) সময়। তরল পদার্থে ঊর্ধ্বমুখী বলের বিষয়টি এখনো বিজ্ঞান বইয়ের পঠনসূচিতে থাকে। গোলীয় আয়নায় সূর্যরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে দূর থেকে শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরিয়ে তিনি যুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন। 
- গ্রিক আমলের আরেকজন বিজ্ঞানী ছিলেন ইরাতোস্থিনিস (276 BC), যিনি সেই সময়ে সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বের করেছিলেন। 

- এরপর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা প্রায় বন্ধ হয়েছিল। শুধু ভারতীয়, মুসলিম এবং চীনা ধারার সভ্যতা গ্রিক ধারার এই জ্ঞানচর্চাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। 
- ভারতবর্ষে আর্যভট্ট (476), ব্রহ্মগুপ্ত এবং ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন। 
- শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করার কাজটিও ভারতবর্ষে (আর্যভট্ট) করা হয়েছিল। 
- মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর আল খোয়ারিজমির (783) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। তার লেখা আল জাবির বই থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 
- ইবনে আল হাইয়াম (965) কে আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- আল মাসুদি (896) প্রকৃতির ইতিহাস নিয়ে 30 খণ্ডে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লিখেছিলেন। 
- ওমর খৈয়ামের নাম সবাই কবি হিসেবে জানে; কিন্তু তিনি ছিলেন উঁচুমাপের একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক। 
- চীনা গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীরাও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তাদের মাঝে শেন কুয়োর নামটি উল্লেখ করা যায় (1031), যিনি চুম্বক নিয়ে কাজ করেছেন এবং ভ্রমণের সময় কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু কোন ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান?
  1. অপটিক্স
  2. ব্যাটারি ডিজাইন
  3. তাপগতিবিজ্ঞান 
  4. তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
আর্কিমিডিসের নীতি প্রযোজ্য-
  1. ক) কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  2. খ) তরল ও কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে
  3. গ) তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতিঃ
বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়। বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল উর্ধ্বচাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে। তাই, কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।।
.
'বেকরেল' নিচের কোনটির একক?
  1. এক্সরে
  2. দীপন ক্ষমতা
  3. তেজস্ক্রিয়তা
  4. লেন্সের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ করার জন্য যে একক ধরা হয় তাকে বলা হয় বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা হলো যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি, তাদের নিউক্লিয়াস দ্রুত গতির নিউটন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদন সম্পূর্ণ বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনা।
- ফরাসি বিজ্ঞানী অঁতোয়ান অঁরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করে ফেলেন যা সারা বিশ্বের বিজ্ঞান জগতে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- তিনি দেখতে পান যে, ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত বিশেষ ভেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি বা বিকিরণ নির্গত হয়।
- তার নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকারেল রশ্মি।
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে।

উৎস: Britannica.com
.
এক মাইক্রোফ্যারাডে বলতে বুঝায়-
  1. এক ফ্যারাডের এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  2. এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  3. এক ফ্যারাডের এক কোটি ভাগের এক ভাগ
  4. এক ফ্যারাডের দশ কোটি ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
পরিবাহীর ধারকত্ব: 
- কোনো বিভব একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ আধানের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ পরিবাহকের ধারকত্ব বলে। 
মনে করি, কোনো পরিবাহকের বিভব V পরিমাণ বৃদ্ধি করতে Q পরিমাণ আধান প্রয়োজন হয়। 
সুতরাং, পরিবাহকের ধারকত্ব, Q ∞ V 
বা, Q/V = ধ্রবক = ধারকত্ব 
∴ C = Q/V. 

একক: 
- এস. আই বা S.I পদ্ধতিতে ধারকত্বের একক ফ্যারাড (F)। 
- উপরের সমীকরণ থেকে দেখা যায় যে, V = 1 ভোল্ট (V) এবং Q = 1 কুলম্ব (C) হলে C = 1 ফ্যারাড (F) হয়। 

ফ্যারাডের সংজ্ঞা: 
- কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (1V) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (1C) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্বকে এক ফ্যারাড (1F) বলে।
∴ 1F= 1C/1V = 1 CV-1
- এক ফ্যারাড (1F) বেশ বড় একক বিধায়, একে সচরাচর ব্যবহার করা হয় না, মাইক্রোফ্যারাড (µF) কেই ধারাকত্বের একক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগকে এক মাইক্রোফ্যারাড বলে। 
অর্থাৎ, 1µF = 10-6F. 
- মাইক্রোফ্যারাড ছাড়াও ন্যানোফ্যারাড (nF), পিকোফ্যারাড বা মাইক্রো মাইক্রোফ্যারাড (µµF) এককও ব্যবহার করা হয়। 
1nF = 10-9F এবং 1pF = 1µµF =10-12F. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
“Response in the Living and Non-living” গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. রাদারফোর্ড
  4. জগদীশচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

• “Response in the Living and Non-living” গ্রন্থটি জগদীশচন্দ্র বসুর রচনা, যেখানে তিনি জীব ও জড়বস্তুর প্রতিক্রিয়ার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করেছেন।

• জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান (Contributions of Jagadish Chandra Bose):
-জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮–১৯৩৭) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী।
- তিনি মূলত উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
 
• বৈজ্ঞানিক অবদান:
- তিনি প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদও উদ্দীপনায় সাড়া দেয় এবং উদ্ভিদের মধ্যেও সংবেদনশীলতা বিদ্যমান।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি, উদ্দীপনা ও প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণের জন্য তিনি ক্রেস্কোগ্রাফ (Crescograph) নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ভিদের সূক্ষ্মতম বৃদ্ধি ও প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা সম্ভব হয়।
 
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ গবেষণা:
- জগদীশচন্দ্র বসু তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন এবং রেডিও তরঙ্গের ধর্ম ব্যাখ্যায় অবদান রাখেন।
- তিনি বেতার যোগাযোগ গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
 
• স্বীকৃতি ও সম্মান:
- তিনি রয়্যাল সোসাইটি (Fellow of the Royal Society – FRS)–এর ফেলো নির্বাচিত হন।
- তার গবেষণা কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়।
 
• গ্রন্থ:
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Response in the Living and Non-living”, যেখানে জীব ও জড়বস্তুর প্রতিক্রিয়ার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. ওডোমিটার
  2. ট্যাকোমিটার
  3. অডিওমিটার
  4. ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করতে অডিওমিটার ব্যবহার করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১০.
নিচের কোনটি সবচেয়ে ছোট মান নির্দেশ করে? 
  1. পিকো
  2. ফেমটো
  3. ন্যানো
  4. মাইক্রো
ব্যাখ্যা
- ফেমটো = 10−15 যা সবচেয়ে ছোট মান নির্দেশ করে, কারণ এর সূচক সবচেয়ে বড় ঋণাত্মক (−15)। 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু SI উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারা যায়। 
- কিছু উপসর্গ নিচের টেবিলে দেখানো হয়েছে- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
'তাপমাত্রা' কোন ধরনের ভৌত রাশি?
  1. স্কেলার রাশি
  2. ভেক্টর রাশি
  3. দিক রাশি
  4. লব্ধ রাশি
ব্যাখ্যা

'তাপমাত্রা' একটি স্কেলার রাশি। 

ভৌত রাশি (Physical Quantity):
কিছু ভৌত রাশি প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মান প্রয়োজন, আবার কিছু প্রকাশের জন্য মানের পাশাপাশি দিকও প্রয়োজন। এই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির মান এবং দিক উভয়ই থাকে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলা হয়।
উদাহরণ: ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল, সরণ ইত্যাদি।
ভেক্টর রাশির ধর্ম:
- সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায়, কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না।
- দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
- দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
- ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
- ভেক্টরকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।

২. স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বলা হয়।
উদাহরণ: তাপমাত্রা, দৈর্ঘ্য, কাজ, ভর, সময়, দ্রুতি ইত্যাদি।
স্কেলার রাশির ধর্ম:
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফল সর্বদা একটি স্কেলার রাশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
সরু তারের ব্যাস নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. স্লাইড ক্যালিপার্স 
  2. তুলা যন্ত্র
  3. স্ক্রু গজ 
  4. মিটার স্কেল 
ব্যাখ্যা

স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
- স্ক্রু যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য কোন যন্ত্র আবিষ্কার করেন? 
  1. টেলিস্কোপ
  2. ক্রেস্কোগ্রাফ
  3. ব্যারোমিটার
  4. স্পেকট্রোমিটার
ব্যাখ্যা
জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান: 
- আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একদিকে ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী; অন্যদিকে একজন সফল জীববিজ্ঞানী। 
- এই উপমহাদেশে তিনি ছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন বিজ্ঞানী। জগদীশচন্দ্র বসুর পূর্বপুরুষেরা থাকতেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে।
- তার জন্ম হয় 1858 সালের 30 নভেম্বর, ময়মনসিংহে।
- তার বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুর জেলার একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার লেখাপড়া শুরু হয় ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে, পরে কলকাতায় হেয়ার স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। 1880 সালে বিএ পাস করার পর তিনি ইংল্যান্ড যান এবং 1880-1884 সালের ভেতরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। 
- 1885 সালে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। সেই যুগে তার কলেজে গবেষণার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তার পরও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান। দিনের বেলায় তার নানারকম ব্যস্ততা ছিল। তাই গবেষণার কাজ করতেন রাতের বেলায়। 

- বৈদ্যুতিক তার ছাড়া কীভাবে দূরে রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এ বিষয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেন। 1895 সালে তিনি প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। 
- মাইক্রোওয়েভ গবেষণার ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান আছে, তিনিই প্রথম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে (প্রায় 5 মিলিমিটার) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। 
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেতকে শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান "ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE)" তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। 

- পরবর্তী সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এর মাঝে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার, খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত এবং বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আগে ধারণা করা হতো উদ্দীপকের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি হচ্ছে রাসায়নিক, কিন্তু তিনি দেখিয়েছিলেন এটি আসলে বৈদ্যুতিক। 
- 1917 সালে উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু বাংলায় লেখা রচনাবলি 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হচ্ছে "Response in the living and nonliving". 
- 1937 সালের 23 নভেম্বর জ্ঞানতাপস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
তেজস্ক্রিয়তার আন্তর্জাতিক একক কী?
  1. ক) রন্টজেন
  2. খ) কুরি
  3. গ) জুল
  4. ঘ) বেকেরেল
ব্যাখ্যা

Radioactivity refers to the amount of ionizing radiation released by a material. Whether it emits alpha or beta particles, gamma rays, x-rays, or neutrons, a quantity of radioactive material is expressed in terms of its radioactivity (or simply its activity).
This represents how many atoms in the material decay in a given time period. The units of measurement for radioactivity are the becquerel (Bq, international unit) and the curie (Ci, U.S. unit).
সূত্র: Encyclopedia Britannica

১৫.
তড়িৎ তীব্রতার একক কোনটি?
  1. ক) N
  2. খ) Nm
  3. গ) Nm-1
  4. ঘ) NC-1
ব্যাখ্যা
কোনো স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণ জানা থাকলে যেমন ঐ স্থানের যে কোনো বস্তুর ওজন (অভিকর্ষ জনিত বল) বের করা সুবিধা হয়, তেমনি তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে তড়িৎ ক্ষেত্রের তীব্রতা জানা থাকলে ঐ বিন্দুতে অবস্থিত যে কোনো আধানের উপর ক্রিয়াশীল বলের মান নির্ণয় করা সম্ভব। তড়িৎ ক্ষেত্রের মধ্যে কোনো বিন্দুতে একক ধনাত্মক আধান রাখলে সেটি যে বল অনুভব করে তাকে ঐ ক্ষেত্রের ঐ বিন্দুতে তড়িৎ ক্ষেত্রের তীব্রতা বলে। একে E দিয়ে প্রকাশ করা হয়। তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে +q আধান রাখলে যদি আধানটি F বল অনুভব করে তাহলে ঐ বিন্দুর তড়িৎ তীব্রতা,

E = F/q

তড়িৎ তীব্রতা একটি দিক রাশি এবং এর দিক হলো ঐ আধানের উপর বল যে দিকে ক্রিয়া করে সেই দিক বরাবর। তড়িৎ তীব্রতার একক হলো NC-1

সূত্র - SSC, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ড বই
১৬.
যৌগিক রাশি নয় কোনটি?
  1. তড়িৎপ্রবাহ
  2. তাপ
  3. বিভব
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা
• তড়িৎপ্রবাহ যৌগিক রাশি নয়।

ভৌত রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন-
• দৈর্ঘ্য,
• ভর,
• সময়,
• তাপমাত্রা,
• তড়িৎপ্রবাহ,
• দীপন তীব্রতা এবং
• পদার্থের পরিমাণ।

যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন -
• বেগ,
• ত্বরণ,
• কাজ,
• বল,
• তাপ,
• বিভব ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
নিচের কোনটি স্কেলার রাশির উদাহরণ?
  1. বল 
  2. বেগ 
  3. দৈর্ঘ্য
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা

ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই থাকে, তাদেরকে কী বলা হয়? 
  1. ভেক্টর রাশি 
  2. অদিক রাশি 
  3. ঘূর্ণন রাশি 
  4. স্কেলার রাশি 
ব্যাখ্যা

রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এই জন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

২। ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
কাজ সৃষ্টির জন্য নিচের কোন দুটি রাশি জানা থাকা প্রয়োজন?
  1. সরণ ও ত্বরণ
  2. বল ও ত্বরণ
  3. বল ও সরণ
  4. সরণ ও মন্দন
ব্যাখ্যা
কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে বল এবং সরণ এই দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই। 

কাজের মাত্রা: 
কাজের মাত্রা = বলের মাত্রা × সরণের মাত্রা 
= ভর × সরণ/সময়2 × সরণ 
= ভর × (সরণ/সময়)2
[W] = ML2T-2 । 

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে (m)। 
অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J) বলা হয়। এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
বৈদ্যুতিক প্রবাহের SI একক কোনটি?
  1. ভোল্ট
  2. ওয়াট
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. ওহম
ব্যাখ্যা

• বৈদ্যুতিক প্রবাহের SI একক হলো অ্যাম্পিয়ার (Ampere), যা বিদ্যুৎ প্রবাহের মাত্রা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।

• ভৌত রাশি এবং তাদের পরিমাপ (Physical Quantities and Their Measurement):
- পানি ঠান্ডা করলে তা বরফে পরিণত হয়, আবার গরম করলে তা বাষ্পে রূপান্তরিত হয়—এটি একটি পরিচিত ভৌত পরিবর্তন।
- মানুষ দৈনন্দিন জীবনে এসব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলেও, কেবল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়।
- প্রকৃত বিজ্ঞান বুঝতে হলে পরিমাপের মাধ্যমে বিষয়গুলো নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- কোন তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়,
- কোন তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়,
- এগুলো পরিমাপের মাধ্যমেই নির্দিষ্টভাবে জানা যায়।
- বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পরিমাপের মাধ্যমে ভৌত রাশিগুলোকে নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা।
 
• ভৌত রাশি (Physical Quantity):
- যে সকল রাশির পরিমাপ করা যায় এবং যেগুলোকে সংখ্যা ও এককের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, সেগুলোকে ভৌত রাশি বলা হয়।
 
• SI পদ্ধতি ও মৌলিক ভৌত রাশি:
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI System) অনুযায়ী মোট সাতটি মৌলিক ভৌত রাশি নির্ধারিত আছে।
 
• SI একক পদ্ধতির মৌলিক ভৌত রাশি, একক ও প্রতীক:
• দৈর্ঘ্য:
- একক: মিটার (meter),
- প্রতীক: m

• ভর:
- একক: কিলোগ্রাম (kilogram),
- প্রতীক: kg

• সময়:
- একক: সেকেন্ড (second),
- প্রতীক: s

• বৈদ্যুতিক প্রবাহ:
- একক: অ্যাম্পিয়ার (ampere),
- প্রতীক: A

• তাপমাত্রা:
- একক: কেলভিন (kelvin),
- প্রতীক: K

• পদার্থের পরিমাণ:
- একক: মোল (mole),
- প্রতীক: mol

• দীপন তীব্রতা:
- একক: ক্যান্ডেলা (candela),
- প্রতীক: cd

• Other Options:
ক) ভোল্ট হলো বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্যের একক।
খ) ওয়াট হলো ক্ষমতার একক।
ঘ) ওহম হলো বৈদ্যুতিক রোধের একক।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২১.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে - 
  1. ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এক্ষেত্রে - 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
কোন সাল থেকে পৃথিবীতে এস.আই পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়?
  1. ১৯৪৫
  2. ১৯৫৬
  3. ১৯৬০
  4. ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি: 
- পূর্বে কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয়ের বিভিন্ন একক পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। 
- একই পরিমাপের জন্য প্রচলিত বিভিন্ন একক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- এমকেএস (মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড), এফপিএস (ফুট, পাউন্ড, সেকেন্ড) ও সিজিএস (সেন্টিমিটার, গ্রাম, সেকেন্ড) পদ্ধতি নামে প্রচলিত। 
- দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন একক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 
অথাৎ, একই রাশি পরিমাপের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন একক ব্যবহার করা হতো। এককের এই বিভিন্নতার কারণে নানা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৯৬০ সাল থেকে পৃথিবীর সমগ্র দেশে একটি সাধারণ পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যাকে এস.আই বা ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিট বলা হয়। 
- এই আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে সকল ভৌত রাশির জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট একক নির্ধারণ করা হয়েছে। 
যেমন: 
• দৈর্ঘ্যের একক মিটার, 
• ভরের একক কিলোগ্রাম, 
• সময়ের একক সেকেন্ড, 
• তাপমাত্রার একক কেলভিন, 
• বৈদ্যুতিক আধানের একক কুলম্ব, 
• আলোক ঔজ্জ্বল্যের একক ক্যান্ডেলা ও 
• পদার্থের পরিমাণের একক মোল। 
- এই এককগুলো বর্তমানে এস. আই পদ্ধতির মৌলিক একক। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২৩.
"ন্যানো" (n) উপসর্গের মান কত?
  1. 10 -9
  2. 10 -6
  3. 10 -12
  4. 10 -15
ব্যাখ্যা
- "ন্যানো" (n) উপসর্গের মান হলো 10-9  । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 

- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারবে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
ব্যারোমিটারের চাপ কমে যাওয়া কিসের লক্ষণ?
  1. তুষার
  2. শৈত্যপ্রবাহ
  3. তীব্র গরম
  4. বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

ব্যারোমিটার হল বায়ুর চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র।

ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী টরেসিলি। যে যন্ত্র দিয়ে বাতাসের চাপ মাপা হয় সে যন্ত্রকে বলা হয় ব্যারোমিটার।
- বাতাসের চাপ সবসময় স্থির থাকে না। কখনো তা বাড়ে আবার কখনো কমে। এর একমাত্র কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের হ্রাস-বৃদ্ধি।
- বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বাতাসের চাপ কমে যায় এবং তা ব্যারোমিটারে ধরা পড়ে।
- বাতাসের চাপ কমলে বুঝতে হবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বাতাসের চাপ বাড়তে থাকলে আবহাওয়া পরিষ্কার হবে।

২৫.
পানির স্রোতে আছে-
  1. গতি শক্তি
  2. বিভব শক্তি
  3. ক ও খ উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• জলবিদ্যুৎ:
- পানি হলো নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়। একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় জলরাশিতে জমা হয় স্থিতিশক্তি, কিন্তু যে শক্তি কাজে লাগানাে হয় তা হলাে গতিশক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাাদন পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
ভেক্টর রাশির ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক? 
  1. ভেক্টর রাশির মান ও দিক নেই।
  2. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
  3. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায় না।
  4. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে।
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশির ধর্ম: 
- ভেক্টর রাশিগুলো কিছু মৌলিক নিয়ম বা ধর্ম অনুসরণ করে। 
যেমন- 
১. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে। 
২. সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
৩. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি। 
৪. দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি। 
৫. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না। 
৬. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়। 

২। স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্টমিটার
  3. অণুবীক্ষণযন্ত্র
  4. তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হিসেবে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

অ্যামিটার:

- অ্যামিটার এমন একটি পরিমাপক যন্ত্র যা দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। এটিকে বর্তনীর সাথে সিরিজে সংযুক্ত করা হয়।

ভোল্টমিটার:

-যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায় তাকে ভোল্টমিটার বলে।

অণুবীক্ষণযন্ত্র:

- যে যন্ত্রের সাহায্যে অতি ক্ষুদ্র বস্তু যা খালি চোখে দেখা যায় না সেই বস্তুটিকে বড় করে দেখা যায় তাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে।

তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র:

- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণয় করা যায়, তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

২৮.
বোসন কণার নামকরণে কার অবদান রয়েছে? 
  1. ম্যাক্স প্ল্যাংক 
  2. আইনস্টাইন 
  3. হাইজেনবার্গ 
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু 
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- 1803 সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দেন, থমসন 1897 সালে ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন, এবং রাদারফোর্ড 1911 সালে পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। তবে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন মডেলটি স্থিতিশীলতার দিক থেকে ব্যাখ্যাতীত ছিল। 
- 1900 সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন, যা কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করে। পরবর্তীতে বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যায় কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রয়োগ করেন। 
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে বিকিরণসংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রস্তাব করেন এবং তাঁকে এই তত্ত্বের জনক বলা হয়; তাঁর নামে কণার নামকরণ হয় বোসন (Boson)। 
- 1900–1930 সময়কালে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাক প্রমুখ বিজ্ঞানীরা মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। 

- মাইকেলসন ও মোরলি 1887 সালে ইথারের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন এবং দেখান যে আলোর বেগ সব মাধ্যমে সমান। 
- আইনস্টাইন 1905 সালে আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Theory of Relativity) প্রবর্তন করে এটি ব্যাখ্যা দেন এবং বিখ্যাত সূত্র E = mc2 প্রদান করেন, যা ভরকে শক্তিতে রূপান্তরযোগ্য প্রমাণ করে। 
- ডিরাক 1931 সালে প্রতিকণার (Antiparticle) অস্তিত্বের পূর্বাভাস দেন, যা পরের বছর প্রমাণিত হয়।
- 1895 সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- 1896 সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- 1899 সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯.
বেগ নির্ণয়ের জন্য কোন দুটি মৌলিক রাশির প্রয়োজন হয়? 
  1. দৈর্ঘ্য ও তাপমাত্রা
  2. দৈর্ঘ্য ও সময়
  3. দৈর্ঘ্য ও ভর
  4. তাপমাত্রা ও ভর
ব্যাখ্যা
রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ বা যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দৈর্ঘ্য (দূরত্ব) এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়, তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
ট্যাকোমিটার কী? 
  1. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
  2. শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র 
  3. গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র 
  4. উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র 
ব্যাখ্যা

- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র

​অন্যদিকে, 
- ​অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ক্যালরিমিটার- তাপ পরিমাপক যন্ত্র। 
- ম্যানোমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৩১.
স্ক্রু-গেইজের ন্যূনাঙ্ক সাধারণত কত?
  1. 1.0 mm
  2. 0.01 mm
  3. 0.1 mm
  4. 0.001 mm
ব্যাখ্যা

স্ক্রু-গেইজ (Screw Gauge): 
- ভার্নিয়ার স্কেলের পরিবর্তে একটা স্ক্রুকে ঘুরিয়ে স্কেলকে সামনে-পেছনে নিয়েও স্ক্রু-গেইজ (Screw Gauge) নামে বিশেষ এক ধরনের স্কেলে দৈর্ঘ্য মাপা হয়। এখানে, স্ক্রুর ঘাট (thread) অত্যন্ত সূক্ষ্ম রাখা হয় এবং পুরো একবার ঘোরানোর পর স্কেল লাগানো স্ক্রুটি হয়তো 1 mm অগ্রসর হয়, স্ক্রুর এই সরণকে স্ক্রুর পিচ (pitch) বলে।
- যে বৃত্তাকার অংশটি ঘুরিয়ে স্কেলটিকে সামনে-পেছনে নেওয়া হয় সেটিকে সমান 100 ভাগে ভাগ করা হলে প্রতি এক ঘর ঘূর্ণনের জন্য স্কেলটি পিচের 1/100 ভাগের এক ভাগ অগ্রসর হয়। 
অর্থাৎ, এই স্কেলে 1/100 mm = 0.01 mm পর্যন্ত মাপা সম্ভব হতে পারে, এটাকে স্ক্রু গেইজের ন্যূনাঙ্ক বলে। 
- আজকাল ভার্নিয়ার স্কেলের পরিবর্তে ডায়াল লাগানো কিংবা ডিজিটাল স্লাইড ক্যালিপার্স বের হয়েছে, যা দিয়ে সরাসরি সূক্ষ্মভাবে দৈর্ঘ্য মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২.
তাপের এস আই একক কী? 
  1. ক্যালভিন
  2. জুল
  3. ক্যালরি
  4. কিলো-ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তাপের একক: 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস আই একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে ১ ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- ৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি ১ ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
- তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
‘পিকো’ প্রিফিক্সের মান কী?
  1. 10-18
  2. 10-15
  3. 10-9
  4. 10-12
ব্যাখ্যা

• ‘পিকো’ (pico) একটি মেট্রিক প্রিফিক্স যা কোনো এককের খুব ছোট অংশ নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিমাপে ব্যবহৃত হয়, যেমন দৈর্ঘ্য, ভল্টেজ বা সময়। মেট্রিক সিস্টেমে ‘পিকো’ মানে 10-12 অর্থাৎ এক ইউনিটের এক ট্রিলিয়ন ভাগের একটি অংশ।

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪.
অক্সিজেন আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৭৭৪ সালে
  2. খ) ১৭৮২ সালে
  3. গ) ১৭৬৬ সালে
  4. ঘ) ১৮০২ সালে
ব্যাখ্যা

ইংরেজ রসায়নবিদ জোসেফ প্রেস্টলি ১৭৭৪ সালে অক্সিজেন আবিষ্কার করেছিলেন।
সূত্র: ব্রিটানিকা

৩৫.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক কী? 
  1. ফুট
  2. মিটার
  3. সেন্টিমিটার 
  4. মিলিমিটার 
ব্যাখ্যা

সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে- 
• দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার (cm),
• ভরের একক গ্রাম (g) এবং
• সময়ের একক (s). 

এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI) এম.কে.এস. পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই- 
দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m)
• ভরের একক কেজি (kg) বা কিলোগ্রাম এবং
• সময়ের একক (s). 

এফ.পি.এস পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে-
• দৈর্ঘ্যের একক ফুট (ft),
• ভরের একক পাউন্ড (lb)এবং
• সময়ের একক (s). 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং britannica.com।

৩৬.
ভেক্টর রাশির কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক?
  1. ভেক্টর রাশির মান ও দিক নেই
  2. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়
  3. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি স্কেলার রাশি
  4. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে
ব্যাখ্যা

• ভেক্টর রাশির একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিভাজন। একটি ভেক্টর রাশিকে দুই বা ততোধিক উপাংশে (Components) বিভক্ত করা যায়।

• ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি, 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

• স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

 • ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

• ভেক্টর রাশির ধর্ম: 
- ভেক্টর রাশিগুলো কিছু মৌলিক নিয়ম বা ধর্ম অনুসরণ করে। 
যেমন- 
১. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে। 
২. সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
৩. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি। 
৪. দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি। 
৫. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না। 
৬. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
কিসের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস পরিমাপ করা যায়?
  1. স্লাইড ক্যালিপার্স
  2. স্ক্রু গজ
  3. ভার্নিয়ার স্কেল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্লাইড ক্যালিপার্স: 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৩৮.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে কোন তত্ত্বের মধ্য দিয়ে? 
  1. হাইজেনবার্গ এর অনিশ্চয়তাবাদ তত্ত্ব
  2. প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক প্রদত্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং ১৯০৫ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন প্রদত্ত আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব দুটি পদার্থবিজ্ঞানের জগৎকে কাপিয়ে দেয়। 
- দুটি ধারণাই প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিতে সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। 
- কয়েক দশকের সাধনায় এই তত্ত্বগুলাে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান এবং ঘনীভূত পদার্থের পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন, বিকাশ ও তত্ত্বকে প্রেরণা জোগায়। 
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে, এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালাে বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন। 
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে আরেকটি বিপ্লব আনেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব ও আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৩৯.
কাজ ও বলের একক যথাক্রমে -
  1. নিউটন ও মিটার
  2. জুল ও ডাইন
  3. ওয়াট ও পাউন্ড
  4. প্যাসকেল ও কিলোগ্রাম
ব্যাখ্যা

SI পদ্ধতিতে কাজের একক জুল।
SI পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন।
C.G.S পদ্ধতিতে বলের একক ডাইন।

৪০.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ট্যাকোমিটার 
  2. অডিওমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪১.
নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য - প্রমাণ করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
  2. খ) হেনরী ও লেঞ্জ
  3. গ) চন্দ্রশেখর ভেংকটারমন ও আব্দুস সালাম
  4. ঘ) জন এরিংটোন ও এনরিকো ফার্মি
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৮ সালে ওটো হান (১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান (১৯০২-১৯৮০) প্রমাণ করেন যে, নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য ।
- অর্থাৎ ফিশনের ফলে একটি বড় ভর সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রায় সমান ভর বিশিষ্ট দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং
প্রচুর শক্তি উৎপাদিত হয়।
- এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে নিউক্লিয় বোমা ও নিউক্লিয় চুল্লীর উদ্ভাবন হয়। নিউক্লিয়াস বিভাজন থেকে যে শক্তি উৎপাদন হয়, সেই শক্তির পরিমাণ বিপুল ।
- এজন্য বর্তমান আধুনিক বিশ্ব নিউক্লিয় শক্তিকে শক্তির একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে।
- ম্যাক্স প্ল্যাংক (১৮৫৮-১৯৪৭) বিকিরণ সম্পর্কীত কোয়ান্টাম তত্ত্ব  আবিষ্কার করেন। 

উৎস: এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপার জন্য জগদীশচন্দ্র বসু কোন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন? 
  1. ক্রেস্কোগ্রাফ
  2. স্পেকট্রোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা

• জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদবিদ্যা এবং পদার্থবিজ্ঞানের একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং মাপার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ নামক একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন। এই যন্ত্রটির সাহায্যে উদ্ভিদের অতি সূক্ষ্ম বৃদ্ধি নিরীক্ষণ করা সম্ভব ছিল, যা সাধারণ চোখ দিয়ে দেখা যেত না। ক্রেস্কোগ্রাফ উদ্ভিদের পাতার বৃদ্ধি, লতাপাতা বা শিকড়ের দৈর্ঘ্য ইত্যাদি সময়ের সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা নির্ভুলভাবে রেকর্ড করতে সাহায্য করত। বসুর এই উদ্ভাবন উদ্ভিদবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সৃষ্টি করে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও জীবনচক্রের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে নতুন দিশা দেখায়। ফলে এটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষণাকে অনেক উন্নত ও সূক্ষ্ম পর্যায়ে নিয়ে যায়।

- উত্তর: ক) ক্রেস্কোগ্রাফ। 

জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান: 
- আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একদিকে ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী; অন্যদিকে একজন সফল জীববিজ্ঞানী। 
- এই উপমহাদেশে তিনি ছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন বিজ্ঞানী। জগদীশচন্দ্র বসুর পূর্বপুরুষেরা থাকতেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে।
- তার জন্ম হয় 1858 সালের 30 নভেম্বর, ময়মনসিংহে।
- তার বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুর জেলার একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার লেখাপড়া শুরু হয় ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে, পরে কলকাতায় হেয়ার স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। 1880 সালে বিএ পাস করার পর তিনি ইংল্যান্ড যান এবং 1880-1884 সালের ভেতরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। 
- 1885 সালে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। সেই যুগে তার কলেজে গবেষণার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তার পরও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান। দিনের বেলায় তার নানারকম ব্যস্ততা ছিল। তাই গবেষণার কাজ করতেন রাতের বেলায়। 

- বৈদ্যুতিক তার ছাড়া কীভাবে দূরে রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এ বিষয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেন। 1895 সালে তিনি প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। 
- মাইক্রোওয়েভ গবেষণার ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান আছে, তিনিই প্রথম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে (প্রায় 5 মিলিমিটার) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। 
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেতকে শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান "ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE)" তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। 

- পরবর্তী সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এর মাঝে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার, খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত এবং বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আগে ধারণা করা হতো উদ্দীপকের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি হচ্ছে রাসায়নিক, কিন্তু তিনি দেখিয়েছিলেন এটি আসলে বৈদ্যুতিক। 
- 1917 সালে উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু বাংলায় লেখা রচনাবলি 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হচ্ছে "Response in the living and nonliving". 
- 1937 সালের 23 নভেম্বর জ্ঞানতাপস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩.
গাড়িতে ব্যবহৃত Odometer কী পরিমাপ করে?
  1. গতি
  2. দূরত্ব
  3. ফুয়েল
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
• গাড়িতে ব্যবহৃত Odometer দূরত্ব পরিমাপ করে।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক যন্ত্র:
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার।
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার।
- হাইড্রোমিটার তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র।
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র গ্রাডিমিটার।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা।
৪৪.
বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন কে? 
  1. জন বেয়ার্ড
  2. জি. মার্কনী
  3. গ্রাহাম বেল
  4. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
কোন বিজ্ঞানীকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়?
  1. হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  2. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
ভৌত বিজ্ঞানে বিজ্ঞানীদের অবদান: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেল্লার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 
- গ্যালিলিও গ্যালিলিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 
- আইজ্যাক নিউটন ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 
- অষ্টাদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আবিষ্কার ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ঘটায়। 
- জেমস্ ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। 
- হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন। 
- পরবর্তীতে মাইকেল ফ্যারাডে, হেনরী, লেঞ্জ প্রমূখ বিজ্ঞানীগণ চৌম্বকীয় ক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপাদন করার তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। এটি ছিল যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরের কৌশল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
একক সংক্রান্ত কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) দীপন তীব্রতা- ক্যানডেলা
  2. খ) ক্ষমতা- ওয়াট
  3. গ) তড়িৎ তীব্রতা- ভোল্ট
  4. ঘ) পরিবাহিতা- সিমেন্স
ব্যাখ্যা
তড়িৎ তীব্রতার একক- নিউটন/কুলম্ব। আরো কিছু একক হলোঃ দীপন তীব্রতা- ক্যানডেলা, দীপন (Illumination)- লাক্স, ক্ষমতা- ওয়াট, তড়িৎ বিভব- ভোল্ট, পরিবাহিতা- সিমেন্স, বল- নিউটন, ওজন- নিউটন, কাজ- জুল, শক্তি- জুল, তাপ- জুল।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭.
ট্যাকোমিটার কী?
  1. শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র
  2. মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
  3. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
  4. গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র- ক্যালরিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েসাইট।
৪৮.
নিচের কোন রাশির মান সরাসরি মাপা যায় না কিন্তু মৌলিক রাশি থেকে নির্ণয় করা যায়? 
  1. বেগ
  2. দৈর্ঘ্য 
  3. ভর 
  4. সময় 
ব্যাখ্যা

- বেগ হলো একটি লব্ধ রাশি, যা সরাসরি মাপা যায় না, কিন্তু মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য এবং সময় থেকে নির্ণয় করা যায়। বেগকে দূরত্ব (দৈর্ঘ্য) এবং সময় দ্বারা ভাগ করে (বেগ = দূরত্ব / সময়) হিসাব করা হয়। 

রাশি: 

- বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিামাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, এ রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ বা যৌগিক রাশি: 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলা হয়।
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।  
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯.
নিচের কোনটি দিক রাশির উদাহরণ? 
  1. দ্রুতি
  2. ভর
  3. বেগ
  4. দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
Fathom কিসের একক?
  1. শব্দ
  2. গভীরতা
  3. দূরত্ব
  4. দীপন তীব্রতা
ব্যাখ্যা

ফ্যাদম হল দৈর্ঘ্য পরিমাপের একটি একক যা ৬ ফিট (১.৮২৮৮ মিটার) এর সমান, যা দীর্ঘদিন ধরে গভীরতার নটিক্যাল ইউনিট হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ঐতিহাসিক ভাবে ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলোতে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি একক।

Source: Britannica.com

৫১.
সর্বাপেক্ষা ছোট একক কোনটি?
  1. মিলি মাইক্রোন
  2. অ্যাংস্ট্রম
  3. অ্যাটোমিটার
  4. এক্সামিটার
ব্যাখ্যা
• ১ মাইক্রোন =১০−৬ m
• ১ মিলি মাইক্রোন = ১০-৬ × ১০−৩ m = ১০-৯m

• ১ অ্যাংস্ট্রম = ১০−১০m

• ১ অ্যাটো মিটার = ১০−১৮m

• ১ এক্সামিটার = ১০১৮m

সুতরাং, সর্বাপেক্ষা ছোট একক - অ্যাটোমিটার।

সূত্র- ব্রিটানিকা।
৫২.
ল্যাক্টোমিটার (Lactometer) দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়?
  1. দুধের ঘনত্ব
  2. দুধের আর্দ্রতা
  3. দুধের pH মান
  4. দুধের শর্করা পরিমাণ
ব্যাখ্যা

ল্যাক্টোমিটার (Lactometer) হলো একটি বিশেষ যন্ত্র, যা দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের জন্য দুধের ঘনত্ব (Density) পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।

ল্যাক্টোমিটারের কাজ:
- দুধে পানি মেশানো হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।
- বিশুদ্ধ দুধের তুলনায় মিশ্রিত বা পাতলা দুধের ঘনত্ব কম হয়, যা ল্যাক্টোমিটারের মাধ্যমে চিহ্নিত করা সম্ভব।
- হাইড্রোমিটারের মতোই কাজ করে, তবে এটি বিশেষভাবে দুধের জন্য ডিজাইন করা।

আরো কিছু পরিমাপক যন্ত্র:
- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র হলো - ট্যাকোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় এর যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- বায়ুর চাপ নির্ণয় এর যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- বায়ুর গতিবেগ নির্ণয় এর যন্ত্র - এনিমোমিটার।
- বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইগ্রোমিটার।
- তরলের ঘনত্ব নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয় - ল্যাক্টোমিটার।
- বৃষ্টির পরিমাণ হিসেব করতে ব্যবহৃত হয় - রেইনগেজ।
- মোটর গাড়ির গতি পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় - ওডোমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৫৩.
হিগের কণার (Higgs Particle) প্রকৃতির সাথে কোন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নাম জড়িয়ে আছে?
  1. স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
  2. সত্যেন্দ্র নাথ বসু
  3. প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম
  4. ড. কুদরত-ই-খুদা
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন।
-----------------------

বোসন (Boson): 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। 
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
যথা- 

(i) গেজ বোসন (Gauge Boson): 
- এদের স্পিন হলো 1 । 
- এই কণাগুলো হলো- গণ্ডুওন (g), ফোটন (γ) এবং W ও Z বোসন। 
• গণ্ডুণ্ডন: গণ্ডুওন কণা হলো সবল নিউক্লিয় বলবাহী কণা। এর নিশ্চল ভর শূন্য। 
• ফোটন: এই কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। এর নিশ্চল ভর শূন্য। 
• W ও Z বোসন: W+, W- এবং W0 এই তিনটি বোসন কণা দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক। এ কণাগুলোর ভর আছে।

(ii) হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্তানান্তরিত হয়। হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্তানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে। 
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
তাপমাত্রার এস আই একক কোনটি?
  1. ডিগ্রী সেলসিয়াস
  2. কেলভিন
  3. ফারেনহাইট
  4. ক্যালরি
ব্যাখ্যা



সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
একটি গোলকের ব্যাসার্ধ r = 5.00 ± 0.02 cm. গোলকের আয়তনের শতকরা ত্রুটি কত হবে?
  1. 0.12%
  2. 0.6%
  3. 1.20%
  4. 3 %
ব্যাখ্যা

আমরা জানি,
গোলকের আয়তন, V = (4/3) πr2
অতএব, আয়তন V ব্যাসার্ধ r-এর ঘাত ৩ এর সমানুপাতিক।
V∝r3
আবার,         
ΔV/V = 3(Δr/r)
এখানে,
Δr = 0.02cm
r = 5cm
তাহলে,
ΔV/V = 3 × (0.02/5)
         = 3 × 0.004
         = 0.012

শতকরা ত্রুটি = 0.012 × 100
                     = 1.2%

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি?
  1. ত্বরণ
  2. বিভব
  3. বল
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- 
• দৈর্ঘ্য, 
• ভর, 
• সময়, 
• তাপমাত্রা, 
• তড়িৎপ্রবাহ, 
• দীপন তীব্রতা এবং 
• পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন - 
• বেগ, 
• ত্বরণ, 
• কাজ, 
• বল, 
• তাপ, 
• বিভব ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
১ কিলোগ্রাম কত পাউন্ডের সমান?
  1. ২.১০
  2. ২.১৫
  3. ২.২০
ব্যাখ্যা
• ১ কেজি  = ২.২০ পাউন্ড।

উল্লেখ্য,
- ১ কুইন্টাল = ১০০ কিলোগ্রাম।
- ১ মেট্রিক টন = ১০০০ কিলোগ্রাম। 
- ১০ কুইন্টাল = ১ মেট্রিক টন। 
- ১ পাউন্ড = ১৬ আউন্স।
- ১ মণ = ৩৭.৩২ কেজি।
- ১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি। 
- ১ মিটার = ১০০ সে.মি.। 
- ১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেন্টিমিটার। 
- ১ মিটার = ১০০ সেন্টিমিটার। 
- ১ মিটার = ১০০০ মিলিমিটার। 
- ১ কিলোমিটার = ১০০০ মিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫৮.
6N এবং 8N মানের দুটি বল লম্বভাবে ক্রিয়া করলে লব্ধির মান কত?
  1. 8 N
  2. 10 N
  3. 12 N
  4. 4 N
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 6N এবং 8N মানের দুটি বল লম্বভাবে ক্রিয়া করলে লব্ধির মান কত?

সমাধান:
দুটি বল P ও Q লম্বভাবে ক্রিয়া (θ = 90°) করলে,
এদের লব্ধি, R2 = P2 + Q2 + 2PQcosθ
⇒ R2 = 62 + 82 + 2 × 6 × 8 × cos90°
⇒ R2 = 36 + 64 + 0
⇒ R2 = 100

∴ লব্ধির মান, R = √100
= 10 N
৫৯.
আধুনিক বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. ক) কোপার্নিকাস
  2. খ) গ্যালিলিও
  3. গ) আইজ্যাক নিউটন
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন।
গ্যালিলিও গাণিতিক সূত্র দেওয়ার পর পরীক্ষা করে সেই সূত্রটি প্রমাণ করার বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন। তাই গ্যালিলিওকে অনেক সময় আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
অন্যদিকে,
নিউটন বলবিদ্যা ও গতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন এবং
আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার সূত্র প্রদান করেন।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০.
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক রাশির কতটি একক আছে? 
  1. ৮ 
ব্যাখ্যা

রাশি এবং তাদের পরিমাপ: 
- প্রকৃত বিজ্ঞানে সবকিছুরই পরিমাপ করতে হয়; বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরিমাপ করে সব কিছুকে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা। 
- এই জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলে, এই ভৌতজগতে অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা পরিমাপ করা সম্ভব। 
যেমন- কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, আয়তন, ওজন, তাপমাত্রা, রং, কাঠিন্য, তার অবস্থান, বেগ, তার ভেতরকার উপাদান, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, স্থিতিস্থাপকতা, তাপ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, ঘনত্ব, আপেক্ষিক তাপ, চাপ গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক ইত্যাদি।
অর্থাৎ, ভৌতজগতে রাশিমালার কোনো শেষ নেই। 
- এই অসংখ্য রাশিমালা পরিমাপ করার জন্য অসংখ্য রাশির সংজ্ঞা আর অসংখ্য একক তৈরি করে রাখতে হবে বিষয়টি এমন নয়; শুধুমাত্র সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায়। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায় সে সব রাশিকে বলে মৌলিক রাশি। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা। 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, এই সাতটি একককে বলে এস.আই (S.I) একক। 

লব্ধ রাশি: 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি ব্যবহার করে যখন অন্য কোনো রাশি প্রকাশ করা হয়, তখন তালে বলে লব্ধ রাশি। 
যেমন- কাজ, ক্ষমতা, বল, বেগ, ত্বরণ, ঘনত্ব ইত্যাদি হচ্ছে লব্ধ রাশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১.
'নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য' এই কথা কে প্রমাণ করেন?
  1. ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
  2. ওটো হান ও আইনস্টাইন
  3. আইনস্টাইন ও স্ট্রেসম্যান
  4. স্ট্রেসম্যান ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা
ভৌত বিজ্ঞানের অবদান: 
- বিংশ শতাব্দিীতে পদার্থবিজ্ঞানে আরো নতুন নতুন আবিষ্কার যুক্ত হয়। 
- ম্যাক্স প্ল্যাংক বিকিরণ সম্পর্কীত কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রদান করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত ভর-শক্তির সূত্র (E=mc2) আবিষ্কার করেন। 
- ১৯১১ সালে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব এবং নীলস্ বোর হাইড্রোজেন পরমাণু ইলেকট্রন স্তরের ধারণা প্রদান করেন। পরবর্তীতে নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে আরো উন্নতি সাধিত হয়।
- ১৯৩৮ সালে ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান প্রমাণ করেন যে, নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। 
অর্থাৎ, ফিশনের ফলে একটি বড় ভর সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রায় সমান ভর বিশিষ্ট দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং প্রচুর শক্তি উৎপাদিত হয়। এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে নিউক্লিয় বোমা ও নিউক্লিয় চুল্লীর উদ্ভাবন হয়। নিউক্লিয়াস বিভাজন থেকে যে শক্তি উৎপাদন হয়, সেই শক্তির পরিমাণ বিপুল। এজন্য বর্তমান আধুনিক বিশ্ব নিউক্লিয় শক্তিকে শক্তির একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে। 
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার তত্ত্ব বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব নামে পরিচিত। তার নামানুসারে বিশেষ এক শ্রেণির মৌলিক কণার নামকরণ করা হয়েছে 'বোসন' নামে। 
- ভারতীয় নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেংকটারমন রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন। 
- এছাড়া পাকিস্তানী বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম তাড়িতচুম্বক বল ও দুর্বল পারমাণবিক বলের অভিন্নতা প্রদান করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপের ক্ষেত্রে কোন ধরনের স্কেল ব্যবহার করা হয়?
  1. মিটার স্কেল
  2. ফুট স্কেল
  3. সেন্টিমিটার স্কেল
  4. ভার্নিয়ার স্কেল
ব্যাখ্যা
• ভার্নিয়ার স্কেল:
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- মিলিমিটারের ভগ্নাংশ যেমন, 0.2 মিমি, 0.5 মিমি বা 0.9 মিমি ইত্যাদি মাপার জন্য আমাদের ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করতে হয়।
- ফরাসী গণিত শাস্ত্রবিদ পিয়েরে ভার্নিয়ার এই স্কেল উদ্ভাবন করেন।
- এজন্য তাঁর নামানুসারে এ স্কেলের নামকরণ করা হয় ভার্নিয়ার স্কেল ।
- মিটার স্কেলের সাথে ভার্নিয়ার স্কেল সংযুক্ত করে মিলিমিটারের ভগ্নাংশ নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- ভার্নিয়ার স্কেল আকারে মূল স্কেল অপেক্ষা ছোট হয়।
- এই স্কেলটি মূল স্কেল বা প্রধান স্কেলের পাশে সংযুক্ত থাকে, ভার্নিয়ার স্কেলকে প্রধান স্কেলের পাশ দিয়ে সামনে বা পেছনে সরানো যায়।
- প্রধান স্কেলের এক ভাগের দৈর্ঘ্য এবং ভার্নিয়ার স্কেলের এক ভাগের দৈর্ঘ্যের পার্থক্যকে ভার্নিয়ার ধ্রুবক (Vernier constant) V.C বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র-
  1. ওডোমিটার
  2. ক্রনমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
ক্রেসকোগ্রাফ: 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম 'ক্রেসকোগ্রাফ'। 
- এটি আবিষ্কারক হলেন জগদীশচন্দ্র বসু। 
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে। 

অন্যদিকে, 
- উড়োজাহাজের গতি নির্নায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্নায়ক যন্ত্র - ওডোমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৬৪.
পদার্থের পরিমাণ পরিমাপের একক কোনটি? 
  1. ক্যান্ডেলা
  2. মোল
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. কিলোগ্রাম
ব্যাখ্যা
মোল: 
- পদার্থের পরিমাণ পরিমাপের একক মোল। 
- যে পরিমান পদার্থে 0.012 কিলোগ্রাম কার্বন-12 এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট (যেমন পরমাণু, অণু, আয়ন, ইলেকট্রন ইত্যাদি বা এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ) থাকে, তাকে 1 মোল বলে। 

কিলোগ্রাম: 
- ভরের একক কিলোগ্রাম। 
- কিলোগ্রাম ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস এন্ড মেজারস এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি একটি সিলিন্ডারের ভরকে 1 কিলোগ্রাম (kg) বলে। 
- এই সিলিন্ডারটির উচ্চতা ও ব্যাস উভয়ই 3.9 cm. 

অ্যাম্পিয়ার: 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- শূন্য মাধ্যমে 1m দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষনীয় প্রস্থচ্ছেদের দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে 2×10-7 N নিউটন বল উৎপন্ন হয়, তাকে 1 ampere (অ্যাম্পিয়ার) বলে। 

ক্যান্ডেলা: 
- দীপন তীব্রতার একক ক্যান্ডেলা। 
- ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে 540×1012 হার্জ কম্পাঙ্কের এক বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরোডিয়ান ঘনকোণে 1/863 ওয়াট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটে কোন তত্ত্বের উন্নয়নের মাধ্যমে?
  1. ক) স্ট্রিং থিউরী
  2. খ) কোয়ান্টাম থিউরী
  3. গ) রিলেটিভিটি থিউরী
  4. ঘ) থিউরী অব এক্সপানশন
ব্যাখ্যা
- আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত.১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।
- ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন।

 উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
৬৬.
কোন গ্রিক বিজ্ঞানী পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয় করেছিলেন?
  1. পিথাগোরাস
  2. অ্যারিস্টটল 
  3. ইরাতোস্থিনিস
  4. আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা

গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান বলতে যে বিষয়টিকে বোঝানো হয়, প্রাচীনকালে সেটি শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিসের (BC 624-586) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, কারণ তিনিই প্রথম কার্যকারণ এবং যুক্তি ছাড়া শুধু ধর্ম, অতীন্দ্রিয় এবং পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 
- সেই সময়ের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীদের মাঝে পিথাগোরাস (527 BC) একটি স্মরণীয় নাম। জ্যামিতি এবং কম্পমান তারের ওপর তার মৌলিক কাজ ছিল। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (460 BC) প্রথম ধারণা দেন যে পদার্থের অবিভাজ্য একক আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যাটম (এই নামটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকে)। তবে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তার ধারণাটি প্রমাণের কোনো সুযোগ ছিল না বলে সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। 
- সেই সময়কার সবচেয়ে বড় দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের মাটি, পানি, বাতাস ও আগুন দিয়ে সবকিছু তৈরি হওয়ার মতবাদটিই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। 
- আরিস্তারাকস (310 BC) প্রথমে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দিয়েছিলেন এবং তার অনুসারী সেলেউকাস যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটি প্রমাণ করেছিলেন, যদিও সেই যুক্তিগুলো এখন কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। 
- গ্রিক বিজ্ঞান এবং গণিত তার সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের (287 BC) সময়। তরল পদার্থে ঊর্ধ্বমুখী বলের বিষয়টি এখনো বিজ্ঞান বইয়ের পঠনসূচিতে থাকে। গোলীয় আয়নায় সূর্যরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে দূর থেকে শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরিয়ে তিনি যুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন। 
- গ্রিক আমলের আরেকজন বিজ্ঞানী ছিলেন ইরাতোস্থিনিস (276 BC), যিনি সেই সময়ে সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বের করেছিলেন। 

- এরপর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা প্রায় বন্ধ হয়েছিল। শুধু ভারতীয়, মুসলিম এবং চীনা ধারার সভ্যতা গ্রিক ধারার এই জ্ঞানচর্চাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। 
- ভারতবর্ষে আর্যভট্ট (476), ব্রহ্মগুপ্ত এবং ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন। 
- শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করার কাজটিও ভারতবর্ষে (আর্যভট্ট) করা হয়েছিল। 
- মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর আল খোয়ারিজমির (783) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। তার লেখা আল জাবির বই থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 
- ইবনে আল হাইয়াম (965) কে আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- আল মাসুদি (896) প্রকৃতির ইতিহাস নিয়ে 30 খণ্ডে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লিখেছিলেন। 
- ওমর খৈয়ামের নাম সবাই কবি হিসেবে জানে; কিন্তু তিনি ছিলেন উঁচুমাপের একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক। 
- চীনা গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীরাও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তাদের মাঝে শেন কুয়োর নামটি উল্লেখ করা যায় (1031), যিনি চুম্বক নিয়ে কাজ করেছেন এবং ভ্রমণের সময় কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭.
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে? 
  1. ওপেনহাইমার
  2. রোজেনবার্গ
  3. অটোহ্যান
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
রবার্ট ওপেনহাইমার: 
- জুলিয়াস রবার্ট ওপেনহাইমার এর জন্ম ২২ এপ্রিল, ১৯০৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। 
- রবার্ট ওপেনহাইমার পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করেন। 
- রবার্ট ওপেনহেইমার নিউ মেক্সিকোতে লস আলামোসের ল্যাবরেটরির পরিচালক ছিলেন। 
- সেখানে তিনি পরমাণু বোমার নকশা করেছিলেন। 
- তাকে 'Father of Atomic Bomb' হিসেবেও অভিহিত করা হয়। 
- পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয় ইউরেনিয়াম-২৩৫। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান নামের যে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, ওই দুটি বোমা তৈরিতেই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছিল। 
- মৃত্যু: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ সালে নিউ জার্সির প্রিন্সটনে। 

উৎস: Britannica.
৬৮.
খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের ভর সূক্ষ্মভাবে মাপতে কোন যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. স্ক্রু গজ
  2. তুলা যন্ত্র
  3. স্লাইড ক্যালিপার্স
  4. ডিজিটাল স্কেল
ব্যাখ্যা
তুলা যন্ত্র: 
- পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নে খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের ভর সূক্ষ্মভাবে মাপার জন্য তুলা যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। 
- তখন সাধারণ নিক্তির সাহায্যে তা পরিমাপ করা সম্ভব হয় না। 
- বস্তু বা পদার্থের ভর যত কম হবে, তার ভর পরিমাপের জন্য তত সুক্ষ্ম নিক্তির প্রয়োজন হবে। 
- এই রকম একটি নিক্তি হল তুলা যন্ত্র। 
- পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নের ল্যাবরেটরীতে খুব অল্প পরিমাণ নমুনার ভর পরিমাপ করতে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
সময়ের সাথে সরণের পরিবর্তনের হারকে কী বলে? 
  1. দূরত্ব
  2. ত্বরণ
  3. দ্রুতি
  4. বেগ
ব্যাখ্যা
বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের পরিবর্তনের হারকে বেগ বলে। 
- কোনো নির্দিষ্ট দিকে দ্রুতিকে বলা হয় বেগ। 
- বেগের মান বলার সাথে দিকও উল্লেখ করতে হয়। কারণ, বেগের মান ও দিক উভয়ই আছে। 
- কিন্তু দ্রুতির শুধু মান আছে। 
- ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাকদৌড়ে প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বই হলো দ্রুতি। 
- দ্রুতির কোনো নির্দিষ্ট দিক নেই, শুধু মান আছে। 
- নির্দিষ্ট কোনো দিকে ১০০ মিটার দৌড়ে প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হলো বেগ। 
- কোনো নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে কোনো বস্তুর সরণ হলো ঐ বিন্দু থেকে নির্দিষ্ট দিকে দূরত্বের সমান। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৭০.
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. সেক্সট্যান্ট 
  2. ক্রোনােমিটার 
  3. ম্যানোমিটার 
  4. ফ্যাদোমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• অ্যানিমোমিটার - বায়ু প্রবাহের গতিবেগ নির্ণয়ের যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার - বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
সেক্সট্যান্ট - সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ - ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
ম্যানােমিটার - গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
ফ্যাদোমিটার - সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• জাইরাে কম্পাস - জাহাজের দিক নির্ণয়ের যন্ত্র। 
ক্রোনােমিটার - সমুদ্রের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের যন্ত্র বা সূক্ষ্মভাবে সময় পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: উচ্চ-মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান এবং ব্রিটানিকা।

৭১.
MKS পদ্ধতিতে ভরের একক-
  1. কিলোগ্রাম
  2. পাউন্ড
  3. গ্রাম
  4. আউন্স
ব্যাখ্যা
• এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে
- দৈর্ঘ্যের একক মিটার।
- ভরের একক কিলোগ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে
- দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার।
- ভরের একক গ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• এফ.পি.এস পদ্ধতিতে
- দৈর্ঘ্যের একক ফুট।
- ভরের একক পাউন্ড।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা।
৭২.
কোন উপকরণের সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয় করা যায়?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. পাইরোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
ব্যাখ্যা

• বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয় করতে হাইগ্রোমিটার ব্যবহৃত হয়। হাইগ্রোমিটার এমন একটি যন্ত্র যা বায়ুর আর্দ্রতার পরিমাণ বা আর্দ্রতার শতকরা মান পরিমাপ করতে সাহায্য করে। বায়ুর আর্দ্রতা হলো বায়ুর মধ্যে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি, যা আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। হাইগ্রোমিটার বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, যেমন: কাপড় বা কাশ্মীরের তন্তু ব্যবহার করে তৈরি অ্যানালগ হাইগ্রোমিটার, কিংবা আধুনিক ডিজিটাল হাইগ্রোমিটার। অন্যদিকে, পাইরোমিটার তাপমাত্রা মাপার জন্য, ম্যানোমিটার চাপ পরিমাপের জন্য এবং ব্যারোমিটার বায়ুর চাপ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই আর্দ্রতা নির্ণয়ের জন্য সঠিক উত্তর হলো ক) হাইগ্রোমিটার।
 
বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity): 
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না। 
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা। 
অর্থাৎ, বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। 
- বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম। 
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে। 
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়। 
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। পরম আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা। 

২। আপেক্ষিক আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাতকে বলা হয় আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার। 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার। 
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
মিটার ব্রীজ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. বিভব পার্থক্য
  2. অজানা রোধ
  3. তড়িৎ প্রবাহ 
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

- মিটার ব্রিজ হলো এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা হুইটস্টোন ব্রিজ নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে এক মিটার লম্বা একটি সুষম রোধের তার ব্যবহার করা হয় বলে একে মিটার ব্রিজ বলা হয়। এই যন্ত্রের সাহায্যে কোনো পরিবাহীর অজানা রোধ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যায়। 

মিটার ব্রীজ: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে এক মিটার লম্বা সুষম প্রস্থচ্ছেদের তারের অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে মিটার ব্রীজ বলা হয়। 
- হুইটস্টোন ব্রীজ নীতি প্রয়োগ করে মিটার ব্রীজ তৈরী করা হয়। 
- পরীক্ষাগারে কোনো পরিবাহীর অজানা রোধ নির্ণয় করার জন্য মিটার ব্রীজ ব্যবহার করা হয়। 

পোস্ট অফিস বক্স: 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে পোষ্ট অফিসে টেলিগ্রাফের তারের রোধ নির্ণয় করা হতো বলে এটি পোষ্ট অফিস বক্স নামে পরিচিত। 

পোটেনশিওমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বিভবপতন পদ্ধতিতে বিভব পার্থক্য ও বিদ্যুৎচালক শক্তি সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করা যায়, তাকে পোটেনশিওমিটার বলা হয়। 
- পোটেনশিওমিটারের সাহায্যে স্বল্প মানের তড়িৎপ্রবাহ ও নিম্নমানের রোধ মাপা সম্ভব হয়। 

অ্যামমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে অ্যামমিটার বলা হয়। 
- অ্যামমিটারের সাথে অতিরিক্ত শান্ট ব্যবহার করে এর পাল্লা বৃদ্ধি করা যায়। 

ভোল্টমিটার: 
- যেকোনো দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪.
কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক কে?
  1. বোর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. হাইজেনবার্গ
  4. ডিরাক
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- ১৮০৩ সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, ১৮৯৭ সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। 
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯২৪ সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 

- ১৯০০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং ১৮৮৭ সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক ১৯৩১ সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৬ সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- ১৮৯৯ সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৫.
বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র কোনটি?
  1. হাইগ্রোমিটার 
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. ব্যারােমিটার 
  4. ম্যানােমিটার 
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হলো ব্যারোমিটার (Barometer)। এটি মূলত বায়ুর চাপ মাপতে ব্যবহৃত হয়। ব্যারোমিটারের কাজের পদ্ধতি হলো বায়ুর ওজন দ্বারা একটি তরল বা যান্ত্রিক যন্ত্রে চাপের পরিবর্তন পরিমাপ করা। প্রচলিত ধরণের ব্যারোমিটারে সাধারণত পারদ (Mercury) ব্যবহার করা হয়, যা একটি উল্লম্ব নলিকায় রাখা থাকে। বায়ুর চাপ বাড়লে পারদের স্তর উপরে ওঠে এবং চাপ কমলে স্তর নিচে নামে। ব্যারোমিটার আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও ব্যবহৃত হয়, কারণ বায়ুর চাপের পরিবর্তন দিয়ে বৃষ্টি, কুয়াশা বা শুকনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া যায়।

অন্যদিকে, 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৭৬.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশি?
  1. দ্রুতি
  2. সরণ
  3. ভর 
  4. সময় 
ব্যাখ্যা

- সরণ হলো একটি নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন, যার নির্দিষ্ট মান এবং দিক থাকে, তাই এটি একটি ভেক্টর রাশি। 

ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এই বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
  1. ১ N
  2. √৬১ N
  3. ৩০ N
  4. √১১ N
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N 
∴ তাদের লব্ধি পরিমাণ = √(৬ + ৫)
= √(৩৬ + ২৫)
= √৬১ N  ।
৭৮.
দীপন তীব্রতার একককে কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
  1. ক) cd
  2. খ) ca
  3. গ) ad
  4. ঘ) cc
ব্যাখ্যা

দীপন তীব্রতা (Luminous intensity)
আমরা বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন প্রকার আলোক উৎস ব্যবহার করি। কোনোটি বেশি আলো দেয়, আবার কোনোটি কম আলো দেয়। একটি উৎস কি পরিমাণ আলো দেয় তার পরিমাণকে বলা হয় দীপন উৎসের তীব্রতা।
অর্থাৎ উৎসের দীপন তীব্রতা বলতে বুঝায় এটি প্রতি সেকেন্ডে কি পরিমাণ আলো দেয় বা এ থেকে কি পরিমাণ আলোক শক্তি নির্গত হয়।
একটি বিন্দু উৎস থেকে নির্দিষ্ট দিকে, প্রতি সেকেন্ডে একক ঘনকোণে যে পরিমাণ আলোক নির্গত হয় তাকে ঐ উৎসের দীপন তীব্রতা বলে। এর সংকেত I.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে দীপন তীব্রতার একক ক্যান্ডেলা (cd)।

আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ১৯৮৯ সালে ক্যান্ডেলার নিম্নরূপ সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে।
এক ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে  540 × 1012  হার্জ কম্পাঙ্কের এক বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরেডিয়ান ঘনকোণে 1/683 ওয়াট।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯.
চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কি কারণে?
  1. ক) ত্বরণ
  2. খ) বেগ
  3. গ) গতি
  4. ঘ) জড়তা
ব্যাখ্যা
স্থির বস্তুর স্থির এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার প্রবণতা কে জড়তা বলে। চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে বসে থাকা যাত্রীর নিচের অংশ স্থির হয়ে গেলেও জড়তার কারণে উপরের অংশ গতিশীল থাকে তাই যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
৮০.
যে ভৌত রাশিগুলোর মান ও দিক উভয়ই আছে, সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. স্কেলার রাশি
  2. ঘূর্ণন রাশি
  3. অদিক রাশি 
  4. ভেক্টর রাশি 
ব্যাখ্যা

• যে সকল ভৌত রাশির মানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট দিকও থাকে, সেগুলোকে ভেক্টর রাশি বলা হয়। ভেক্টর রাশির ক্ষেত্রে শুধু পরিমাণ জানলেই যথেষ্ট নয়, কোন দিকে ক্রিয়া করছে তাও জানা জরুরি। উদাহরণ হিসেবে বল, বেগ, ত্বরণ ও বল উল্লেখযোগ্য। এর বিপরীতে স্কেলার রাশির শুধু মান থাকে, দিক থাকে না, যেমন ভর বা তাপমাত্রা। 

রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এই জন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

১। স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

২। ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১.
ভরবেগের একক কোনটি? 
  1. N
  2. m/s 
  3. kg m/s
  4. kg m/s2
ব্যাখ্যা

ভরবেগ (Momentum): 
- ভরবেগ হচ্ছে গতিশীল বস্তুর ভর ও বেগের সমন্বয়ে গঠিত একটি ভৌত রাশি। 
- এটি গতিশীল বস্তুর ভর ও বেগের উপর নির্ভরশীল। 
যেমন- টেবিল টেনিস বলকে থামানোর চেয়ে একটি গতিশীল ট্রাক থামানো অনেক কঠিন কেন যদিও বস্তু দুটি সমদ্রুতিতে চলছে; কারণ টেবিল টেনিস বল এবং প্রাইভেট গাড়ি একই দ্রুতিতে গতিশীল থাকা সত্ত্বেও প্রাইভেট গাড়ির ভরবেগ বেশি। 
- কোন গতিশীল বস্তুকে থামানো কত কঠিন তা নির্ভর করে গতিশীল বস্তুটির ভরবেগের পরিমাপের উপর। 
- কোন বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে এর ভরবেগ বলে। 
একটি বস্তুর ভর = m এবং বেগ= v হলে, ভরবেগ, p = mv  । 
- ভরবেগ একটি ভেক্টর রাশি, এর দিক বেগের দিকে। 
- ভরবেগের একক kgms-1 এবং মাত্রা MLT -1 । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২.
শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র-
  1. অডিওমিটার
  2. অ্যামিটার
  3. অডিওফোন
  4. অলটিমিটার
ব্যাখ্যা
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- অ্যামিটার তড়িৎ প্রবাহের মান নির্ণয় করে। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৮৩.
১ ইঞ্চিতে কত সেন্টিমিটার হয়?
  1. ক) 1.54 cm
  2. খ) 2.54 cm
  3. গ) 2.12 cm
  4. ঘ) 3.54 cm
ব্যাখ্যা

 ১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেন্টিমিটার 

সেন্টিমিটার (প্রতীক cm বা সেমি) মেট্রিক পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের এক ধরনের একক, যা ১ মিটারের ১ শত ভাগের ১ ভাগ (১ সেমি = ১০০ / ১ মিটার)। এই পরিমাপ বর্তমানে এসআই একক পদ্ধতিতে চালু আছে। বাংলা ভাষায় এর প্রতীক সেমি হিসাবেও লেখা হয়ে থাকে।
ইঞ্চি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একটি ব্রিটিশ একক। ৩৬ ইঞ্চিতে এক গজ এবং ১২ ইঞ্চিতে ১ ফুট হয়। ক্ষেত্রফল মাপার জন্য রয়েছে বর্গ ইঞ্চি এবং আয়তন মাপার জন্য ঘন ইঞ্চি।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান। 

৮৪.
অ্যামিটার কী পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়?
  1. রোধ
  2. তড়িৎ প্রবাহ
  3. বিভব পার্থক্য 
  4. ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

- অ্যামিটার (Ammeter) একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা কোনো বর্তনীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ (Electric Current) সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। 

অ্যামিটার: 
- অ্যামিটার একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- অ্যামিটারের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়। 
- অ্যামিটার বর্তনীর সাথে শ্রেণি সংযোগে যুক্ত থাকে। 
- এই যন্ত্রে মূলত একটি গ্যালভানোমিটার থাকে। গ্যালভানোমিটার হচ্ছে সেই যন্ত্র যার সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। 
- এই গ্যালভানোমিটারে বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি অ্যাম্পিয়ার, মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা মাইক্রোঅ্যাম্পিয়ার এককে দাগকাটা একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বিদ্যুৎ কোষের মতো অ্যামিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৮৫.
সিজিএস পদ্ধতিতে ভরের একক কী?
  1. ক) কিলোগ্রাম
  2. খ) পাউন্ড
  3. গ) গ্রাম
  4. ঘ) আউন্স
ব্যাখ্যা

Thecentimetre–gram–second system of units (abbreviated CGS or cgs) is a variant
of the metric system based on the centimetre as the unit of length, the gram as the 
unit of mass, and the second as the unit of time.

৮৬.
নিচের কোনটি লব্ধ রাশি? 
  1. তাপমাত্রা
  2. ত্বরণ
  3. তড়িৎপ্রবাহ
  4. দীপন তীব্রতা
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- কিছু কিছু মূল রাশি আছে, যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভরশীল নয়। এসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে। 
- রাশিগুলোকে পরিমাপ করতে অন্য কোন এককের উপর নির্ভর করতে হয় না। 

যৌগিক বা লব্ধ রাশি: 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ। 
- যে গুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭.
আধান বা চার্জের একক কি?
  1. ক) অ্যাম্পিয়ার
  2. খ) কুলম্ব
  3. গ) ওহম
  4. ঘ) ভোল্ট
ব্যাখ্যা

- চার্জের একক হলো কুলম্ব।
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।

সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 

৮৮.
কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ না অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায় কোনটির সাহায্যে?
  1. ক) গলনাঙ্ক
  2. খ) স্ফুটনাঙ্ক
  3. গ) ব্যাপন
  4. ঘ) নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।
গলনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - রসায়ন বোর্ড বই।
৮৯.
আর্কিমিডিসের জন্মস্থান-
  1. সিসিলি
  2. বার্সিলোনা
  3. ইস্তাম্বুল
  4. টরেন্টো
ব্যাখ্যা
- বিখ্যাত গণিতবিদ ও দার্শনিক আর্কিমিডিস আনুমানিক ২৮৭ খৃস্টপূর্বাব্দে তৎকালীন বৃহত্তর গ্রিসের উপনিবেশ সিসিলি দ্বীপের সিরাকিউজ নামের বন্দর নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। 

আর্কিমিডিসের নীতি: 
- বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়।
- বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্ব চাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে। 
- তাই কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৯০.
মৌলিক রাশির অন্তর্ভূক্ত নয় কোনটি?
  1. সময়
  2. তাপমাত্রা
  3. ত্বরণ
  4. পদার্থের পরিমাণ
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে। 
- রাশিগুলোকে পরিমাপ করতে অন্য কোন এককের উপর নির্ভর করতে হয় না। 

লব্ধ রাশি: 
- যে রাশিগুলো মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল তাদেরকে লব্ধ রাশি বলে। 
যেমন- বেগ, কাজ, ত্বরণ ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
'ফেমটো' উপসর্গের মান কোনটি?
  1. 10-9
  2. 10-12
  3. 10-15
  4. 10-18
ব্যাখ্যা

• 'ফেমটো' (f) উপসর্গের মান হচ্ছে 10-15  ।  

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২.
উপসর্গ “ন্যানো (Nano)” দ্বারা কী বোঝানো হয়? 
  1.  10-6
  2.  10-9
  3.  10-12
  4.  10-15
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “ন্যানো (Nano)” দ্বারা বোঝানো হয়- 10-9 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশি?
  1. বেগ
  2. ত্বরণ
  3. মন্দন
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
• দিকের বিবেচনায় রাশিকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: সদিক রাশি বা ভেক্টর রাশি এবং নির্দিক রাশি বা স্কেলার রাশি।

ভেক্টর রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়, তাদের ভেক্টর রাশি বলে।
- যেমন: সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি।
- শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়।
- দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে।
- ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।

স্কেলার রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
- যেমন: দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি।
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফল সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪.
স্টপ ওয়াচের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সময়ে খরচ কমানো
  2. সময়ের গতি বৃদ্ধি করা
  3. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা
  4. একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে সময় পরিমাপ করা
ব্যাখ্যা
থামা ঘড়ি (Stop Watch): 
- সময়কাল মাপার জন্য স্টপ ওয়াচ ব্যবহার করা হয়। 
- একসময় নিখুঁত স্টপ ওয়াচ অনেক মূল্যবান সামগ্রীথাকলেও ইলেকট্রনিকসের অগ্রগতির কারণে খুব অল্প দামের মোবাইল টেলিফোনেও আজকাল অনেক সূক্ষ্ম স্টপ ওয়াচ পাওয়া যায়। 
- স্টপ ওয়াচে যেকোনো একটি মুহূর্ত থেকে সময় মাপা শুরু করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর সময় মাপা বন্ধ করে কতখানি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, সেটি বের করে ফেলা যায়। 
- স্টপ ওয়াচ যত সূক্ষ্মভাবে সময় মাপতে পারে, হাত দিয়ে কখনোই তত সূক্ষ্ম সময়ে বের করতে পারা যায় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫.
তাৎক্ষণিক বেগ পেতে হলে- 
  1. সময় ব্যবধান এক হতে হবে 
  2. সময় ব্যবধান শূন্য হতে হবে 
  3. সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হতে হবে 
  4.  সময় ব্যবধান অসীম হতে হবে 
ব্যাখ্যা

বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ: 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ: 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- চোখের পাতা বন্ধ বা খুলতে যে সময় ব্যবধান হয় তাকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র বা শূন্যের কাছাকাছি ধরা যেতে পারে। গাণিতিকভাবে At→0 দ্বারা সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি বুঝায়। 
অর্থাৎ, সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

তাৎক্ষনিক ত্বরণ: 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে তাৎক্ষণিক ত্বরণ বলে।

সমবেগ: 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন- শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

মধ্যবেগ: 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

অসম বেগ: 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসমবেগ বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬.
সময়ের সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে কী বলে? 
  1. দ্রুতি
  2. বেগ
  3. মন্দন
  4. সরণ
ব্যাখ্যা
মন্দন: 
- সময়ের সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। 
- অন্য ভাবে একক সময়ে গতিশীল বস্তুকণার বেগের পরিবর্তন কমতে থাকলে যে রাশি পাওয়া যায় তাকে মন্দন বলে। 
- মন্দনের একক ও মাত্রা ত্বরণের অনুরূপ। 

ত্বরণ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলা হয়। 
- ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো বস্তুর ত্বরণ জানতে হলে বস্তুটির বেগের পরিবর্তনের হার এবং উক্ত পরিবর্তনের দিক উভয়ই জানতে হয়। 

দ্রুতি: 
- কোনো বস্তু একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে বা দূরত্বের হারকে দ্রুতি বলে। 
- এটি একটি স্কেলার রাশি। 
- বেগের মান দ্বারা দ্রুতি পরিমাপ করা হয়। 

সরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট দিকে সরল পথে কোনো বস্তু যে দূরত্ব বা পথ অতিক্রম করে তাকে সরণ বলে। 
- সরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো গতিশীল বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট দিকে হলে সরণ ঘটে। 

বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
FPS পদ্ধতিতে ভরের একক কীভাবে প্রকাশ করা হয়?
  1. আউন্স
  2. গ্রাম
  3. কিলোগ্রাম
  4. পাউন্ড
ব্যাখ্যা
• সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে,
- দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার।
- ভরের একক গ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে,
- দৈর্ঘ্যের একক মিটার।
- ভরের একক কিলোগ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• এফ.পি.এস পদ্ধতিতে,
- দৈর্ঘ্যের একক ফুট।
- ভরের একক পাউন্ড।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮.
১ ন্যানো সেকেন্ড হলো- 
  1. ১ সেকেন্ডের ১০ হাজার ভাগের একভাগ 
  2. ১ সেকেন্ডের ১০ লক্ষ ভাগের একভাগ 
  3. ১ সেকেন্ডের ১০ কোটি ভাগের একভাগ 
  4. ১ সেকেন্ডের ১০০ কোটি ভাগের একভাগ 
ব্যাখ্যা
• ১ সেকেন্ডের ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগকে ১ ন্যানো সেকেন্ড বলে।

অর্থাৎ ১ ন্যানো সেকেন্ড = ১০-৯ সেকেন্ড।
- ১ মিলি সেকেন্ড = ১ সেকেন্ডের এক হাজার ভাগের এক ভাগ।
- ১ মাইক্রো সেকেন্ড = ১ সেকেন্ডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ।
- ১ ন্যানো সেকেন্ড = ১ সেকেন্ডের একশত কোটি ভাগের এক ভাগ।
- ১ পিকো সেকেন্ড = ১ সেকেন্ডের এক লক্ষ কোটি ভাগের এক ভাগ।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯৯.
'বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২১ সালে
  2. খ) ১৯০৫ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
- আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব পরস্পরের তুলনায় ঊর্ধ্ব বা নিম্নগতিশীল বস্তুসমূহ বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
- পক্ষান্তরে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব শুধু পরস্পরের তুলনায় সমগতিতে সঞ্চরণশীল বা অসঞ্চরণশীল বস্তু বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- এটি সাধারণ তত্ত্বের একটি বিশেষ রূপ। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০০.
পদার্থের অবিভাজ্য একক সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দেন কে?
  1. ডেমোক্রিটাস
  2. জন ডাল্টন
  3. পিথাগোরাস
  4. নীলস বোর
ব্যাখ্যা
- পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার একক এটম সম্পর্কে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম। 
- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত, তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। 
- এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।