বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা / ২৪ · ১০১২০০ / ২,৩৩১

১০১.
ন্যায়পাল কীরূপ ক্ষমতার অধিকারী?
  1. ক) প্রধানমন্ত্রীর ন্যায়
  2. খ) আইনমন্ত্রীর ন্যায়
  3. গ) সংসদ সদস্যের ন্যায়
  4. ঘ) সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের ন্যায়
ব্যাখ্যা
ন্যায়পাল

'ন্যায়পাল' শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Ombudsman'। এর অর্থ হলো প্রতিনিধি বা মুখপাত্র। অর্থাৎ, ন্যায়পাল অন্যের জন্য কথা বলবেন। ন্যায়পাল বা Ombudsman-এর পদ সর্বপ্রথম সৃষ্টি হয় ১৮০৯ সালে, সুইডেনে। ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল পদ প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়পালের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। 

সুইডিশ ভাষায় Ombudsman বা ন্যায়পাল বলতে এমন একজন সরকারি মুখপাত্র বা প্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তাকে বোঝায় যিনি সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করেন। 

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়পাল হলো সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত কমিশনার বা কর্মকর্তা যিনি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করেন। বছর শেষে ন্যায়পাল তার দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত একটি বার্ষিক রিপোর্ট প্রদান করবেন এবং তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। ন্যায়পাল সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের ন্যায় ক্ষমতার অধিকারী।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০২.
সংবধিানের কোথায় প্রশাসনের সর্বস্তরের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে?
  1. ৭ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১১ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২০ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৬০ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সংবিধানে ১১ নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে,
“প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে৷”
অন্যদিকে,
- ৭ নং অনুচ্ছেদ : সংবিধানের প্রাধান্য
- ২০ নং অনুচ্ছেদ : অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
- ৬০ নং অনুচ্ছেদ : স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)

১০৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে ‘প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা’ কথা উল্লেখ রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ- ১২১
  2. অনুচ্ছেদ- ১২৪
  3. অনুচ্ছেদ- ১২২
  4. অনুচ্ছেদ- ১৪১
ব্যাখ্যা

- অনুচ্ছেদ- ১২১; প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- সংসদের নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার একটি করিয়া ভোটার-তালিকা থাকিবে এবং ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদের ভিত্তিতে ভোটারদের বিন্যস্ত করিয়া কোন বিশেষ ভোটার-তালিকা প্রণয়ন করা যাবে না।

নির্বাচন:
১১৮। নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা;
১১৯। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব
১২০। নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ;
১২১। প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা;
১২২। ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা;
১২৩। নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়;
১২৪। নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা;
১২৫। নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা;
১২৬। নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১০৪.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের কথা সংবিধানে উল্লেখ আছে –
  1. ৩ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৬ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৭খ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা'র প্রথম দশ চরণ।
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হলো সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হলো উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পত্র, তার উভয় পার্শ্বে দুইটি করে তারকা।
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।

উল্লেখ্য,
- ১ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্র,
- ২ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
- ২ক নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রধর্ম,
- ৩ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রভাষা,
- ৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক,
- ৪ক নং অনুচ্ছেদ: জাতির পিতার প্রতিকৃতি,
- ৫ নং অনুচ্ছেদ: রাজধানী,
- ৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকত্ব,
- ৭ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের প্রাধান্য,
- ৭ক নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ,
- ৭খ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১০৫.
'অর্থবিল' সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৮০
  2. অনুচ্ছেদ ৮১
  3. অনুচ্ছেদ ৮৭
  4. অনুচ্ছেদ ৯৩
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ ৮০: আইন প্রণয়ন পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৮৭ : বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
-  অনুচ্ছেদ  ৯৩ :  অধ্যাদেশপ্রণয়ন-ক্ষমতা।

সূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১০৬.
Which articles of the constitution mention about 'Annual Financial Statement'?
  1. 27
  2. 39
  3. 43
  4. 87
ব্যাখ্যা
বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৭ নং অনুচ্ছেদ বাজেটকে 'বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি' নামে বর্ণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ - ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
(১) প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সম্পর্কে উক্ত বৎসরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি (এই ভাগে "বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি" নামে অভিহিত) সংসদে উপস্থাপিত হবে।
(২) বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে পৃথক পৃথকভাবে
(ক) এই সংবিধানের অধীন সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়রূপে বর্ণিত ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, এবং
(খ) সংযুক্ত তহবিল হতে ব্যয় করা হবে, এইরূপ প্রস্তাবিত অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, প্রদর্শিত হবে এবং অন্যান্য ব্যয় হতে রাজস্ব খাতের ব্যয় পৃথক করে প্রদর্শিত হবে।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ নং অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে, 'রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতা রক্ষার অধিকার থাকিবে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদ বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১০৭.
বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন কে?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) বিচারপতি আবু সায়্যিদ চৌধুরী
  4. ঘ) বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ২২শে মার্চ সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সায়্যিদ চৌধুরী বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। ২৩ মার্চ এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
- এর আগে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন এবং ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে বিচারপতি আবু সায়্যিদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতি মনোনীত হন।
- ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে নির্বাচিতদের নিয়ে এই গণপরিষদ পরিষদ গঠিত হয়।
- প্রথম অধিবেশনে গণপরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিলো ৪৩০ জন যা পরবর্তীতে ৪০৩ জন এ নেমে আসে।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১০-১১ এপ্রিল। সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ।
- ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাত ১২ টায় গণপরিষদ বিলুপ্ত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১০৮.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়?
  1. চতুর্থ
  2. পঞ্চম
  3. ষষ্ঠ
  4. সপ্তম
ব্যাখ্যা
৪র্থ সংশোধনী:
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- ৪র্থ সংশোধনী বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনপদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসনপদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন করা হয়।
- চতুর্থ সংশোধনীর আগে বাহাত্তরের সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াতেন প্রধান বিচারপতি। চতুর্থ সংশোধনীতে এটি স্পিকারের কাছে ন্যস্ত হয়।
- বাহাত্তরের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগসহ নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল, যা চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অধীনে আইন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হয়।

⇒ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন:
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়।
- এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।
- তিনি ইচ্ছানুযায়ী উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং অন্যান্য সরকারি বিভাগের কর্মকর্তা নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে পারবেন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
১০৯.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা কত?
  1. ৫০
  2. ২৫
  3. ৩০
  4. ৪০
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ টি।
• সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে বর্তমানে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ৫০টি এবং সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলায় আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- বাংলাদেশের সংসদ একটি এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা যা ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
- যার মধ্যে ৩০০টি আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার ৩০০ জন সদস্য যা প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে একজন করে।

- অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। 
- ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য এই বিধান নবম সংসদের শুরু থেকে দশ বছর অব্যাহত থাকবে।
- ১৭তম সংশোধনী অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেয়াদ দশম সংসদের শুরু থেকে আরও ২৫ বছরে বৃদ্ধি পাবে।
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের  সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৮টি রয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
১১০.
'সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন'- সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ৭(১)
  2. ৭(২)
  3. ৭(ক)
  4. ৭(খ)
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ০৭: সংবিধানের প্রাধান্য:
- ৭(১) নং অনুচ্ছেদে বলা আছে,
প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে ৷

- ৭(২) নং অনুচ্ছেদে বলা আছে,
জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে ।

উল্লেখ্য,
- অনুচ্ছেদ ০৭ক: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।
- অনুচ্ছেদ ০৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১১১.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে?
  1. ১৬তম
  2. ১৭তম
  3. ১৪তম
  4. ১৫তম
ব্যাখ্যা
• পঞ্চদশ সংশোধনী:
 - সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ২৫ জুন সংসদে পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংবিধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীতকরণ।
- এবং সংবিধানের পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদ ৭-এর স্থলে ৭(১) এবং ৭(খ) যুক্ত করা হয়।
- যার উদ্দেশ্য অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের সমাপ্তি ঘটানো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ২৫
  2. অনুচ্ছেদ ২৪
  3. অনুচ্ছেদ ২৩
  4. অনুচ্ছেদ ২২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ২৫:
- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র
(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১১৩.
নিচের কোনটি দ্বিতীয় সংশোধনীর বিষয়বস্তু?
  1. ক) যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান সন্নিবেশন
  2. খ) জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান চালু
  3. গ) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় সংশোধনী
• সংসদে উত্থাপন: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
• উত্থাপনকারী: আইনমন্ত্রী শ্রী মনোরঞ্জন ধর
• সংসদে গৃহীত: ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
• রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধন আইন দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার বিধান চালু করা হয়। এছাড়াও, নিবর্তনমূলক আটক ও জরুরী অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়।

এই সংশোধনী আইনের ফলে -
১. সংবিধানের ২৬, ৬৩, ৭২ ও ১৪২ নং অনুচ্ছেদ সংশোধিত হয়; 
২. ৩৩ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হয়, এবং 
৩. সংবিধানে একটি নতুন ভাগ, যথা ভাগ ৯ক সংযুক্ত হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে নাগরিকদের কতিপয় মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন বই
১১৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংসদের অধিবেশনের উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭১
  2. অনুচ্ছেদ ৭২
  3. অনুচ্ছেদ ৭৩
  4. অনুচ্ছেদ ৭৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩(ক) - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৮১ - অর্থবিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১১৫.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে ‍বাহাত্তরের মূল সংবিধানের মূলনীতিগুলো পুনঃস্থাপন করা হয়?
  1. সপ্তম সংশোধনী 
  2. পঞ্চম সংশোধনী
  3. চতুর্থ সংশোধনী 
  4. পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান: 
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি প্রধান মূলনীতিতে (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা)পুনঃস্থাপন করা হয়।

• পঞ্চদশ সংশোধনী:
- জুলাই, ২০১১  আইন পাস হয়।
• পঞ্চদশ সংশোধনী সমূহ:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
- ১৯৭২ মূল সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

অপরদিকে,
- পঞ্চম সংশোধনী মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে সামরিক সরকার কর্তৃক যেসব বিধিবিধান প্রণয়ন ও সংবিধানের সংশোধনী আনা হয়েছে, সেগুলো পঞ্চম সংশোধনী আইনে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
- রাষ্ট্রীয় মূলনীতি পরিবর্তন করা হয়।
- বাংলাদেশের নাগরিকতা 'বাঙালি' থেকে 'বাংলাদেশি' করা হয়।

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১১৬.
নিম্নের কোনটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান?
  1. দুর্নীতি দমন কমিশন
  2. তথ্য কমিশন
  3. নির্বাচন কমিশন
  4. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ব্যাখ্যা

• নির্বাচন কমিশন:
- বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- সংবিধানের ১১৯ থেকে ১২৬ নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের কথা উল্লেখ আছে।

• সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান: 
- নির্বাচন কমিশন,
- বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন,
- কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল অব বাংলাদেশ,
- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

• সাংবিধানিক পদ: 
- সাংবিধানিক পদ,
- রাষ্ট্রপতি,
- প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপ-মন্ত্রী,
- স্পীকার এবং ডেপুটি স্পীকার,
- অ্যাটর্নি জেনারেল,
- প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতি,
- নির্বাচন কমিশনারের সভাপতি ও সদস্যগণ,
- সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১১৭.
নিম্নোক্ত কোন সংশোধনীটি হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল করা হয়নি?
  1. ক) ষোড়শ সংশোধনী
  2. খ) পঞ্চম সংশোধনী
  3. গ) ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. ঘ) চতুর্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭টি সংশোধনী আনা হয়
• এর মধ্যে চারটি সংশোধনী হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়েছে।
এগুলো হলো:-
• পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) : বাতিল (আগস্ট ২০০৫)
• সপ্তম সংশোধনী (১৯৮৬) : বাতিল (আগস্ট ২০১০)
• ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬) : বাতিল (২০১১)
• ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪) : বাতিল (২০১৭)। 

অন্যদিকে, 
• ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।   

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১১৮.
বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনটি নাগরিকের কর্তব্য নয়?
  1. নাগরিক দায়িত্ব পালন করা
  2. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা
  3. সংবিধান ও আইন মান্য করা
  4. শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন প্রয়োগ করা
ব্যাখ্যা
নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য:
বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে ২ শ্রেণীর ব্যক্তিদের কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছে, যথাঃ
ক) নাগরিকের কর্তব্য এবং
খ) অনুচ্ছেদে সরকারী কর্মচারীর কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

-সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, একজন নাগরিকের কর্তব্য হলো-
i. সংবিধান ও আইন মান্য করা;
ii. শৃঙ্খলা রক্ষা করা;
iii. নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং
iv. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা।

-সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, সরকারী কর্মকর্তার কর্তব্য হলো-
সরকারী কর্মকর্তা বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে উল্লেখিত কর্তব্য পালন করবে। শুধুমাত্র সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে, জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।

-সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের বিধান: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য:
(১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
(২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।

অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন প্রয়োগ করা' নাগরিকের কর্তব্য নয়। কিন্তু শৃঙ্খলা রক্ষা করা ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। 

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১১৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা কথা বলা আছে?
  1. ক) ৬৩
  2. খ) ৬২
  3. গ) ৬১
  4. ঘ) ৬০
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬১ নং অনুচ্ছেদে 'সর্বাধিনায়কতা' কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬২ নং অনুচ্ছেদে 'প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি' কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬০ নং অনুচ্ছেদে 'স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা' কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৯ নং অনুচ্ছেদে 'শপথ গ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদন্ড' কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১২০.
কোনটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. গণতন্ত্র
  2. সমাজতন্ত্র
  3. সমঅধিকার
  4. জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
• 'সমঅধিকার' - বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
- ৮ নং অনুচ্ছেদে ১ নং দফানুসারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হলো চারটি।

এগুলো হলো:
- জাতীয়তাবাদ,
- সমাজতন্ত্র,
- গণতন্ত্র ও
- ধর্মনিরপেক্ষতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১২১.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য ঘোষণা হবে?
  1. জাতীয় সংসদের সদস্যপদ হারালে
  2. অনাস্থা প্রস্তাবে পরাজিত হলে
  3. মৃত্যুবরণ করলে অথবা পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিলে
  4. উপরোক্ত সবগুলো ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ৫৭: প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ
(১) প্রধানমন্ত্রীর পদ খালি হবে যদি—
(ক) তিনি কোনো সময়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র দেন; অথবা
(খ) তিনি সংসদ সদস্য না থাকেন।

(২) যদি প্রধানমন্ত্রী সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারান, তবে তাঁকে হয় পদত্যাগ করতে হবে, নয়তো সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে পরামর্শ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এভাবে পরামর্শ দিলে, রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেবেন যদি তিনি নিশ্চিত হন যে সংসদের আর কোনো সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থা অর্জন করতে পারবেন না।

(৩) নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজের পদে বহাল থাকবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১২২.
অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান কে?
  1. ড. বদিউল আলম মজুমদার
  2. ড. ইফতেখারুজ্জামান
  3. অধ্যাপক আলী রীয়াজ
  4. আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।] 

সংস্কার কমিশন: 
- রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে ছয়টি কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
- বিশিষ্ট নাগরিকদের এসব কমিটির প্রধান করা হয়েছে। 
- জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা জানান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

• নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন - ড. বদিউল আলম মজুমদার;
• পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন - সফর রাজ হোসেন;
• বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন - বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান;
• দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন - ড. ইফতেখারুজ্জামান;
• জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন - আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী;
• সংবিধান সংস্কার কমিশন - অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

[সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এই কমিশনের প্রধান হিসেবে তার পরিবর্তে আলী রীয়াজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]  

সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১২৩.
সংবিধান অনুসারে কার সম্মতিতে বাংলাদেশ অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সংসদ
  4. সেনা-প্রধান
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জাতীয় সংসদের।
সংসদের সম্মতি ব্যতীত রাষ্ট্র যুদ্ধ ঘোষণা বা কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান।

১২৪.
বাংলাদেশ সংবিধানে 'সমাবেশের স্বাধীনতা’ কত নং অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ২৭ নং
  2. ৩৬ নং
  3. ৩৭ নং
  4. ৩৪ নং
ব্যাখ্যা

- ৩৭নং অনুচ্ছেদে সমাবেশের স্বাধীনতা কথা বলা হয়েছে।

 • সমাবেশের স্বাধীনতা:
 - ৩৭ নং অনুচ্ছেদে,  জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

 • কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
 - ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
 - ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
 - ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
 - ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
 - ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
 - ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
 - ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
 - ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
 - ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
 - ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
 - ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
 - ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১২৫.
বাংলাদেশের সাংবিধানিক/অফিসিয়াল নাম কি?
  1. ক) Republic of Bangladesh
  2. খ) Democratic Republic of Bangladesh
  3. গ) People’s Republic of Bangladesh
  4. ঘ) Democratic People's Republic of Bangladesh
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাংবিধানিক বা অফিসিয়াল নাম - People’s Republic of Bangladesh বা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
১২৬.
সংবিধানে 'কোরাম' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ৭৫ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৭৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৭৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৭৮ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
কোরাম
• বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
• জাতীয় সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সময়ে উপস্থিত সংসদ সংখ্যা ৬০ জনের কম বলে যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় তাহলে তিনি অনূন্য ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখবেন কিংবা মুলতবি করবেন।   

অন্যদিকে, 
• ৭৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদের স্থায়ী কমিটি সমূহ এবং
• ৭৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
• ৭৭ নং অনুচ্ছেদ - ন্যায়পাল। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১২৭.
সংবিধানের ৮৭নং অনুচ্ছেদে কী উল্লেখ রয়েছে?
  1. আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি
  2. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
  3. সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব
  4. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৪৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।

• সংবিধানের ৮০নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে-  আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

• সংবিধানের ৮১নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- অর্থবিল।

• সংবিধানের ৮২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ।

• সংবিধানের ৮৩নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা।

• সংবিধানের ৮৪নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।

• সংবিধানের ৮৫নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ।

• সংবিধানের ৮৬নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে প্রদেয় অর্থ।

• সংবিধানের ৮৭নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।

• সংবিধানের ৮৮নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়।

• সংবিধানের ৮৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১২৮.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি বলে গণ্য হবে?
  1. ৫ নং
  2. ৭ নং
  3. ৩ নং
  4. ৬ নং
ব্যাখ্যা
• ২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্ধারণ।
• ৩ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে - বাংলাদেশের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা ।
• ৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে - বাংলাদেশের রাজধানী হবে ঢাকা।
• ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে - প্রজাতন্ত্রের সকল মালিক জনগণ।
• ৬ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে - বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি, ও নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি বলে গণ্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১২৯.
সংবিধানের ২২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র কী নিশ্চিত করবে?
  1. ধর্মনিরপেক্ষতা
  2. নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব
  3. বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ
  4. চলাফেরার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

২২নং অনুচ্ছেদ: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ- 
- রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন। 

অন্যদিকে: 
- ১২নং অনুচ্ছেদ : ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ৩৬নং অনুচ্ছেদ : চলাফেরার স্বাধীনতা।
- ৪১নং অনুচ্ছেদ : ধর্মীয় স্বাধীনতা।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১৩০.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের প্রচ্ছদ কোন রঙের?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) নীল
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রচ্ছদ (cover page)  সাদা রঙের।

• সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালরে ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন। 
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩১.
' বাঙালি জাতীয়তাবাদ' এর পরিবর্তে 'বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ' প্রবর্তিত হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. তৃতীয়
  2. চতুর্থ
  3. পঞ্চম
  4. ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
পঞ্চম সংশোধনী:

- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় পঞ্চম সংশোধনী আইন।
- এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয় ।
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত যে সকল সামরিক বিধি, সংবিধান সংশোধন সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করা হয় সেগুলো সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী হিসেবে কাজ করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয়।
- এই  সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সন্নিবেশিত হয় ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১৩২.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তিত হয় -
  1. ক) ১৭ এপ্রিল ১৯৯১
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  3. গ) ৭ মার্চ ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং একই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বলবৎ হয়।
 -গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি,
- তফসিল আছে ৭টি,
- মূলনীতি আছে ৪টি,
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।

সূত্রঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৩.
’গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ সংবিধানের কোন  অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ৮ নং
  2. ১৪ নং
  3. ২১ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা
• ’গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
সংবিধানের ২৪ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
সংবিধানের ৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - মূলনীতিসমূহ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৩৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে ‘ন্যায়পাল’ এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ৭৬
  2. অনুচ্ছেদ - ৭৭
  3. অনুচ্ছেদ - ৭৩
  4. অনুচ্ছেদ - ৭১
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ‘ন্যায়পাল’ এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

• অনুচ্ছেদ - ৭৭ : ন্যায়পাল: 
১. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।
২. সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরকম দায়িত্ব প্রদান করবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
৩. ন্যায়পাল তার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হবে।

অন্যদিকে: 
- ৭১ নং অনুচ্ছেদে দ্বৈত সদস্যতায় বাধা, 
- ৭৬ নং অনুচ্ছেদ : সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ, 
- ৭৩ নং অনুচ্ছেদে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী। 

সূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রিট আবেদন করা যায়?
  1. ১০১
  2. ১০০
  3. ১০২
  4. ১০৪
ব্যাখ্যা
রিট:
- রিট শব্দটির অর্থ হলো আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত আদেশ।
- রিট হল এমন এক আদেশ যার মাধ্যমে আদালত কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা করা হত বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে।

উল্লেখ্য,
- সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য যে পিটিশন দায়ের করে, তা রিট পিটিশন নামে পরিচিত।
- সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্টতা বলবত করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যাচোলনাকে কার্যকর করতে পারে যা হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১৩৬.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'বাক-স্বাধীনতার' কথা বলা হয়েছে?
  1. ৩৬ নং
  2. ৩৭ নং
  3. ৩৮ নং
  4. ৩৯ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে চলাফেরার স্বাধীনতা।
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সমাবেশে স্বাধীনতা।
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংগঠনের স্বাধীনতা।
- ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩৭.
সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে 'সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা' চালু হয়?
  1. ৩য়
  2. ৪র্থ
  3. ৫ম
  4. ৬ষ্ঠ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭ বার সংশোধন হয়েছে। 

৪র্থ সংশোধনী:
- ৪র্থ সংশোধনী বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে  রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
- দেশে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করা হয়।
- যার নাম ছিল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ (বাকশাল)।
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হয়।

অন্যদিকে -
তৃতীয় সংশোধনী:
- মূলত ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণী একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য ১৯৭৪ সালের ২৩ নভেম্বর এ সংশোধনী আনা হয়। ভারতের কিছু অংশ বাংলাদেশে আসবে এবং বাংলাদেশের কিছু অংশ ভারতে আসবে- এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্যই তৃতীয় সংশোধনী আনা হয়।

পঞ্চম সংশোধনী:
- জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। এ সংশোধনী ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্টে সামরিক শাসন জারির পর থেকে ৯ এপ্রিল ১৯৭৯ পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব আদেশ, ঘোষণা ও দণ্ডাদেশ বৈধ বলে অনুমোদন করে। এ সংশোধনীটি উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়।

ষষ্ঠ সংশোধনী:
- ১৯৮১ সালের ৯ জুলাই এ সংশোধনী আনা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর উপরাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তৎকালীন বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে আব্দুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী পদকে প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদ বলে গণ্য করা হবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১৩৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অঙ্গীকার করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১৮ (ক)
  3. অনুচ্ছেদ ১৫
  4. অনুচ্ছেদ ১৩
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ১৮ (ক): 
-  ″রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।″

- এই অনুচ্ছেদটি দ্বারা পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্দেশ করে। 
- অর্থাৎ, বর্তমান প্রজন্মের মানুষরা যেমন পরিবেশ ব্যবহার করছে, সেইসাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সুস্থ পরিবেশে বাঁচার সুযোগ রাষ্ট্রকে  নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ ১৩: মালিকানার নীতি
- অনুচ্ছেদ ১৫: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
- অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৩৯.
বাংলাদেশের সংবিধানে 'আইনের ব্যাখ্যা' দেওয়া আছে -
  1. ১৫০ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৫১ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৫২ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৫৩ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
• বাংলাদেশের সংবিধানে আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া ১৫২ নং অনুচ্ছেদে।
- বিষয় বা প্রসঙ্গের প্রয়োজনে অন্যরূপ না হইলে এই সংবিধানে “অধিবেশন” ( সংসদ-প্রসঙ্গে) অর্থ এই সংবিধান-প্রবর্তনের পর কিংবা একবার স্থগিত হইবার বা ভাঙ্গিয়া যাইবার পর সংসদ যখন প্রথম মিলিত হয়, তখন হইতে সংসদ স্থগিত হওয়া বা ভাঙ্গিয়া যাওয়া পর্যন্ত বৈঠকসমূহ।

এছাড়াও,
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানে অনুচ্ছেদ রয়েছে ১৫৩ টি।
- বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয় পরিবর্তন সহজ নয় বলে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ৪টি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৪০.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির কে সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি?
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  3. ড. কামাল হোসেন
  4. এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- শুধু 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
- তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- সবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 
১৪১.
বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি অধ্যায় রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ মৌলিক অধিকার:
- মৌলিক অধিকার বলতে বুঝায় নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি, যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং অলঙ্ঘনীয়।
- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকলে তা সাংবিধানিক আইনের মর্যাদা লাভ করে।
- এর ফলে সরকার এ সমস্ত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- নাগরিকগণ তাদের অধিকার ভোগ করতে কোনো প্রকার সরকারি বাধার সম্মুখীন হয় না।

⇒ মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বর্ণিত হয়েছে।

⇒ তথ্য পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৪৩.
সাধারণ নির্বাচনের কতদিনের মধ্যে সংসদ আহ্বান করতে হয়?
  1. ৬০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ সংসদের অধিবেশন:
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে সংসদের অধিবেশন নিয়ে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বলা হয়েছে:
⇒ ১. রাষ্ট্রপতি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদ আহ্বান, স্থগিত এবং ভঙ্গ করবেন। তিনি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন।
→ তবে, সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের বেশি বিরতি দেওয়া যাবে না।
→ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লিখিতভাবে দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী এই দায়িত্ব পালন করবেন।
⇒ ২. সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে হবে।
⇒ ৩. প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৫ বছর পর সংসদ ভেঙে যাবে, যদি রাষ্ট্রপতি আগে না ভাঙেন।
→ তবে, যুদ্ধে লিপ্ত থাকলে সংসদের মেয়াদ একবারে সর্বোচ্চ ১ বছর বাড়ানো যাবে এবং যুদ্ধ শেষে এই মেয়াদ ৬ মাসের বেশি হবে না।
→ সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর যদি রাষ্ট্রপতি মনে করেন যুদ্ধাবস্থার কারণে সংসদ পুনরায় আহ্বান করা প্রয়োজন, তাহলে তিনি ভেঙে দেওয়া সংসদ পুনরায় আহ্বান করতে পারেন।
→ সংসদের বৈঠকগুলো কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে ’ন্যায়পাল’ কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৫৬নং
  2. ৭৭নং
  3. ১২৭নং
  4. ১৩৭নং
ব্যাখ্যা

• ন্যায়পাল:
- সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল কথা উল্লেখ্য রয়েছে।
- ৭৭(১): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।
- ৭৭(২): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়,
- সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরূপ দায়িত্ব প্রদান করবে।
- ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
- (৩) ন্যায়পাল তাঁহার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন।
- এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হবে।

উল্লেখ্য
- কর্মকমিশন: ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ;
- মহা হিসাব নিরীক্ষক: ১২৭ নং অনুচ্ছেদ;
- রাষ্ট্রপতি: ৪৮ নং অনুচ্ছেদ।
-  মন্ত্রিগণ: ৫৬ নং অনুচ্ছেদ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদের আসন কখন শূন্য হবে?
  1. একাদিক্রমে নব্বই কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে
  2. স্পীকারের নিকট পত্রযোগে পদত্যাগ করলে
  3. সংসদ ভেঙে গেলে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি -
- (ক) তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তা বর্ধিত করতে পারবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না নিয়ে তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভেঙে যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হয়ে যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
- ৬৭ (২) নং অনুচ্ছেদ- কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৬.
জাতীয় সংসদে 'কাউন্টিং' ভোট কি?
  1. সংসদ নেতার ভোট
  2. হুইপের ভোট
  3. স্পিকারের ভোট
  4. রাষ্ট্রপতির ভোট
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে “কাউন্টিং” শব্দের পরিবর্তে “কাস্টিং” হবে।
• জাতীয় সংসদে 'কাস্টিং ভোট' হলো — স্পিকারের ভোট।

কাস্টিং ভোট (Casting Vote):
- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন।
- একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পিকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
”উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পিকার) ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১৪৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত বিধান উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৫৮ অনুচ্ছেদ
  2. ৫৯ অনুচ্ছেদ
  3. ৬৯ অনুচ্ছেদ
  4. ৬৮ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত মৌলিক বিধান দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তৃনমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য স্থানীয় সরকারকে প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান এবং একই সাথে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে স্থানীয় সরকার সম্পর্কে ৪টি অনুচ্ছেদ রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৯, ১১, ৫৯ এবং ৬০)।
- এসব অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা ও কার্যকারিতা বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

⇒ অনুচ্ছেদ ৯: এই অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা এবং কৃষক, শ্রমিক ও মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়েছে। 
⇒ অনুচ্ছেদ ১১: প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। 
⇒ অনুচ্ছেদ ৫৯: প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিটের স্থানীয় শাসন নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থাগুলির উপর ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে।
⇒ অনুচ্ছেদ ৬০: স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ করার ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ এবং নিজস্ব তহবিল রক্ষনাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ক্ষমতা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

৫৯। (১) আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক এককাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।(২) এই সংবিধান ও অন্য কোন আইন-সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা যেরূপ নির্দিষ্ট করিবেন, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় উল্লিখিত অনুরূপ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান যথোপযুক্ত প্রশাসনিক এককাংশের মধ্যে সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন এবং অনুরূপ আইনে নিম্নলিখিত বিষয় সংক্রান্ত দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত হইতে পারিবে:

(ক) প্রশাসন ও সরকারী কর্মচারীদের কার্য;
(খ) জনশৃংখলা রক্ষা;
(গ) জনসাধারণের কার্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

উৎস:
i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষাকর্তা-
  1. প্রেসিডেন্ট
  2. জাতীয় সংসদ
  3. বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
  4. হাই কোর্ট
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষাকর্তা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

♦ সংবিধানের রক্ষক:
→ বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষক সুপ্রিম কোর্ট।
→ সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক।
→ তাই এর ক্ষমতা ও কার্যাবলী অপরিসীম।
→ সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে সুপ্রীম কোর্ট দেশের সকল আদালতের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
→ সংবিধান বহির্ভূত সব কিছুকেই সুপ্রীম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করতে পারে।
→ সুপ্রীম কোর্ট জনগণের মৌলিক অধিকারের সংরক্ষক ও সংবিধানের রক্ষক।

♦ উল্লেখ্য:
→ বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
→ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
→ সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
→ সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল একটি কমিটি গঠন করা হয়।
→ এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
→ এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
→ সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান ও বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৯.
সংবিধানের ১৮(২) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোন ধরনের অপরাধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন?
  1. চুরি, ডাকাতি, এবং খুন
  2. ঘুষ ও দুর্নীতি
  3. সাইবার অপরাধ এবং প্রতারণা
  4. জুয়া এবং গনিকাবৃত্তি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
 
⇒ ১৮ (১) নং দফায় বলা হয়েছে, জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

⇒ ১৮ (২) নং দফায় বলা হয়েছে, গনিকাবৃত্তি এবং জুয়াখেলা নিরোধের জন্যে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৫০.
সংবিধানের ৪১ নং অনুচ্ছেদে কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ক) আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার
  2. খ) ধর্মীয় স্বাধীনতা
  3. গ) চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা
  4. ঘ) সমাবেশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• ৩১ নং অনুচ্ছেদ - আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।
• ৩৭ নং অনুচ্ছেদ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
• ৩৯ নং অনুচ্ছেদ - চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা।
৪১ নং অনুচ্ছেদ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।   

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫১.
সংবিধানের তফসিল কতটি?
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ৬টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধান হল মৌলিক বিধানাবলির  সমন্বয়  একটি গঠনতন্ত্র যার উপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের পূর্ণ নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
- সংবিধান গণাপরিষদে গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকর হয়- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা আছে- বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
- সংবিধানের মূলনীতি- ৪টি।
- সংবিধানের তফসিল- ৭ টি।
- সংবিধানের ভাগ- ১১ টি।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ১৫৩ ‍টি।
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৫২.
সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ থেকে ৪৫টি করা হয় সংবিধানের কততম সংশোধনীতে?
  1. ক) একাদশ সংশোধনী
  2. খ) ত্রয়োদশ সংশোধনী
  3. গ) চতুর্দশ সংশোধনী
  4. ঘ) সপ্তদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
চতুর্দশ সংশোধনী
সংসদে উত্থাপন: ২৭ মার্চ, ২০০৪
উত্থাপনকারী: আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ এই সংশোধনীটি উত্থাপন করেন।
সংসদে গৃহীত:  ১৬ মে, ২০০৪
রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ১৭ মে, ২০০৪

চতুর্দশ সংবিধান সংশোধন আইন অনুসারে,
৬৫(৩) নং অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ থেকে ৪৫টি করা হয়।
বিচারপতি, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়।
১৪৮ অনুচ্ছেদে (২ক) দফা সংযুক্ত করা হয়।
এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং সরকারি ও আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি বা ছবি প্রদর্শনের বিধান করা হয়।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
১৫৩.
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজন করা হয়?
  1. একাদশ সংশোধনী
  2. পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. দশম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ সংশোধনী: 
- শিরোনাম: সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬
- পাস হয়: ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ।
- বিষয়বস্তু: একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যা অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
- সংবিধানে ৫৮(ক), ৫৮(খ), ৫৮(গ), ৫৮(ঘ), ৫৮(ঙ), এই ৫টি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়।
-  জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করা হয়। 
- গত ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও পত্রিকা।

১৫৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “গনতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের” নিশ্চয়তা দেয়া আছে?
  1. অনুচ্ছেদ-১৪
  2. অনুচ্ছেদ-১২
  3. অনুচ্ছেদ-১১
  4. অনুচ্ছেদ-১০
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার: 
 অনুচ্ছেদ- ১১: প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
 
অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ- ১০। সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি;
- অনুচ্ছেদ- ১১। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার;
- অনুচ্ছেদ- ১২। ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ- ১৩। মালিকানার নীতি;
- অনুচ্ছেদ- ১৪। কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি;
- অনুচ্ছেদ- ১৫। মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা;
- অনুচ্ছেদ- ১৬। গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব;
- অনুচ্ছেদ- ১৭। অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা;
- অনুচ্ছেদ- ১৮। জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা;
- অনুচ্ছেদ- ১৮ক। পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৫৫.
সংবিধানের ১২২নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা
  2. ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
  3. নির্বাচন কমিশনের গঠন
  4. নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ ‘ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা’ সংক্রান্ত।

ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
- সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার যোগ্য হবেন, যদি তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং তাঁর বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়। এছাড়াও, যোগ্য আদালত কর্তৃক তিনি অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষিত না হয়ে থাকেন এবং ঘোষণাটি বহাল না থাকে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী হিসেবে তার বসবাস থাকতে হবে বা আইনের দৃষ্টিতে তিনি ঐ এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হতে হবে। উপরন্তু, তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে না থাকলে, তিনি ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হবার অধিকারী হবেন।

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ - ১১৯ : নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ - ১১৮ : নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ - ১২৩ : নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।

সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫৬.
সংবিধানের কোন তফসিল অনুসারে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির নিকট শপথ গ্রহণ করেন?
  1. প্রথম তফসিল
  2. দ্বিতীয় তফসিল
  3. তৃতীয় তফসিল
  4. চতুর্থ তফসিল
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির নিকট শপথ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি। যথা:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
• রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার।
• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।
• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যবৃন্দ।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে "নির্বাচন" সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. অষ্টম ভাগে
  2. সপ্তম ভাগে
  3. ষষ্ঠ ভাগে
  4. পঞ্চম ভাগে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী,
- দশম ভাগে সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৫৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ২ক নং অনুচ্ছেদে কী সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. রাষ্ট্রধর্ম
  2. প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা
  3. নাগরিকত্ব
  4. সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ -
- ১ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্র,
- ২ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
- ২ক নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রধর্ম,
- ৩ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রভাষা,
- ৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক,
- ৪ক নং অনুচ্ছেদ: জাতির পিতার প্রতিকৃতি,
- ৫ নং অনুচ্ছেদ: রাজধানী,
- ৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকত্ব,
- ৭ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের প্রাধান্য,
- ৭ক নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ,
- ৭খ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের মূলনীতি (Fundamental Principles of State Policy) বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৮–২৫ অনুচ্ছেদ
  2. ৯–২৫ অনুচ্ছেদ
  3. ৮–২৪ অনুচ্ছেদ
  4. ১০–২৭ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (Part II) রাষ্ট্রের মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৮ থেকে ২৫ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (Fundamental Principles of State Policy) নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ:
- সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম - ২৫ তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই ৪টি বিষয়কে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
- এতে আরো বলা হয়েছে, উপরোক্ত চারটি নীতিসহ ২য় ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে গণ্য হবে।

• জাতীয়তাবাদ:
- ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি (অনুচ্ছেদ ৯)।

• সমাজতন্ত্র:
- মানুষের উপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হল রাষ্ট্রের লক্ষ্য (অনুচ্ছেদ ১০)।

• গণতন্ত্র:
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে (অনুচ্ছেদ ১১)।

• ধর্মনিরপেক্ষতা:
- ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা অবসান, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করা এবং কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিপীড়নের অবসান (অনুচ্ছেদ ১২)।

উৎস:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ধারায় নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে?
  1. ৯৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১১৮ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৪২ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদ 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সর্বোচ্চ চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।
- রাষ্ট্রপতি সংবিধান ও প্রণীত আইনের বিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রদান করবেন।
- একাধিক কমিশনার থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
- এই অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনারদের পদ মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এবং তাদের ভবিষ্যৎ সরকারি নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উল্লেখ করা হয়েছে।
- পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মতো একই পদ্ধতি ও কারণ ছাড়া কোনো নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যাবে না।
- সর্বশেষে, কমিশনারদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ব্যবস্থাও এই অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে,
সংবিধানের ৯৬ নং অনুচ্ছেদ:
- এই অনুচ্ছেদে বিচারকদের পদের মেয়াদ ও অপসারণ নিয়ে বলা হয়েছে।
- এতে বলা হয়েছে, কোনো বিচারক ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত পদে বহাল থাকবেন।
- প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের ক্ষেত্রে সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির আদেশ ছাড়া বিচারককে অপসারণ করা যাবে না।
- অভিযোগের তদন্ত ও পদ্ধতি সংসদ আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।
- তাছাড়া, বিচারক চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগ করতে পারবেন।

• সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ:
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত।
- সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিত করতে পারে।
- তবে সংশোধনী বিলের শিরোনামে সংশোধনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
- বিলটি সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত হতে হবে। 
- গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হলে তিনি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন।
- সম্মতি না দিলে নির্ধারিত সময় শেষে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

সংবিধানের ১৪৬ নং অনুচ্ছেদ:
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- "বাংলাদেশ" নাম ব্যবহার করে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারের পক্ষ থেকে মামলা করা যেতে পারে। 

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

১৬১.
নির্ণায়ক ভোট প্রদান করেন কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. চীফ হুইপ
  3. স্পিকার
  4. সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংসদের কোন প্রস্তাবে বা সিদ্ধান্তে সভাপতি হিসেবে স্পিকার প্রদত্ত ভোটকে ‘নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট’ বলে।
- তবে স্পিকার সবক্ষেত্রে তার ভোটাধিকার প্রদান করতে পারে না। কোন প্রস্তাব পাশের ক্ষেত্রে যখন প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে সমান সংখ্যক ভোট পড়ে, কেবল সেক্ষেত্রেই স্পিকার ‘নির্ণায়ক ভোট’ প্রয়োগ করতে পারেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১৬২.
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের বয়সসীমা সর্বোচ্চ কত?
  1. ক) ৫১ বছর
  2. খ) ৬০ বছর
  3. গ) ৬৫ বছর
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের সর্বোচ্চ কোনো বয়সসীমা নেই।

• প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‌ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের যোগ্যতা :

- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগদানের জন্য কোনো ব্যক্তিকে সুপারিশ করার ক্ষেত্রে তার নিম্নরূপ যোগ্যতা থাকতে হবে, যথা:-
(ক) তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;
(খ) তার বয়স ন্যূনতম ৫০ (পঞ্চাশ) বছর হতে হবে; এবং
(গ) কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা-সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত পদে বা পেশায় তাঁহার অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬৩.
নিচের কোন কাজটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারে নেই?
  1. ক) সংসদ অধিবেশন আহ্বান
  2. খ) জাতীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ
  4. ঘ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭২ নং অনুচ্ছেদের ১ নং দফা অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন। তবে এই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর ‍লিখিত পরামর্শ অনুসরণ করে থাকেন। 
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্পিকার যথাক্রমে জাতীয় সংসদের নেতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- আর চিপ হুইপ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
- তবে বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অনেক সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাদেশ সংবিধান।
১৬৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  2. নারী পুরুষের সমান অধিকার
  3. সমাবেশের স্বাধীনতা
  4. বাকৃ-স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮(১ ) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে- ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষ ভেদে রাষ্ট্র কোন নাগরিকের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করবেনা।
• বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে- নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবে।

এছাড়াও 
• সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
• সংবিধানের ৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে- সমাবেশের স্বাধীনতার কথা বর্ণনা করা আছে।
• সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৬৫.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় কত সালে?
  1. ক) ২০১৫
  2. খ) ২০১৩
  3. গ) ২০১২
  4. ঘ) ২০১১
ব্যাখ্যা
• ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
• এর অধীনে ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।
• ৩ এপ্রিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার শপথ গ্রহণ করে।
• এর আগে ১৯৯০ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও এর সাংবিধানিক ভিত্তি ছিলো না।
• ফখরুদ্দিন আহমেদ সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।
• ৩০ জুন, ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬৬.
”ধর্মীয় স্বাধীনতা” সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু?
  1. ৪৫নং
  2. ৪১নং
  3. ৪৬নং
  4. ৪২নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৪১নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু-  ধর্মীয় স্বাধীনতা।
• সংবিধানের ৪২নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- সম্পত্তির অধিকার।
• সংবিধানের ৪৫নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।
• সংবিধানের ৪৬নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৬৭.
সরকারী কর্ম কমিশন বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেন কার নিকট? 
  1. জাতীয় সংসদ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

সরকারী কর্ম কমিশন: 
- সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদে বার্ষিক রিপোর্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- প্রত্যেক কমিশন প্রতি বৎসর মার্চ মাসের প্রথম দিবসে বা তাহার পূর্বে পূর্ববর্তী একত্রিশে ডিসেম্বরে সমাপ্ত এক বৎসরে স্বীয় কার্যাবলী সম্বন্ধে রিপোর্ট প্রস্তুত করবেন এবং তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করবেন।
 - যে বৎসর রিপোর্ট পেশ করা হইয়াছে, সেই বৎসর একত্রিশে মার্চের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে রাষ্ট্রপতি উক্ত রিপোর্ট ও স্মারকলিপি সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করবেন।

এছাড়াও,
- সংবিধানের নবম ভাগের ২য় পরিচ্ছেদে সরকারী কর্ম কমিশন সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে রয়েছে সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৬৮.
সংবিধানের ১০৩নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. সুপ্রীম কোর্টের আসন
  2. হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
  3. আপীল বিভাগের এখতিয়ার
  4. আপীল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।
- অনুচ্ছেদ ১০১ - হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০২ - কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০৩ - আপীল বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০৪ - আপীল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ।
- অনুচ্ছেদ ১০৫ - আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা।
- অনুচ্ছেদ ১০৬ - সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০৭ - সুপ্রীম কোর্টের বিধিপ্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০৮ - "কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১০৯ - আদালতসমূহের উপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ।
- অনুচ্ছেদ ১১০ - অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৬৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. জাতীয় সংসদ
  4. আইন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ব্যাখাকারক বা অভিভাবক সুপ্রিম কোর্ট।

• বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের মৌলিক ও সর্বোচ্চ আইন।
- বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট তা নির্ধারণ করার অধিকারী, নির্বাহী বিভাগ নয়।
- অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট হলো সংবিধানের ব্যাখাকারক বা অভিভাবক।
- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রয়োজন হয়।

এছাড়াও, 
- সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।
- এ খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭০.
৭ ই মার্চের ভাষণ কততম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) একাদশ
  2. খ) দ্বাদশ
  3. গ) চতুর্দশ
  4. ঘ) পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২'র সংবিধানের মূলনীতি পুনর্বহাল, ৭ই মার্চের ভাষণের সংযুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা বাতিল করা হয়৷
১৭১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ২৫
  2. অনুচ্ছেদ ২২
  3.  অনুচ্ছেদ ২৪
  4. অনুচ্ছেদ ২১
ব্যাখ্যা

- অনুচ্ছেদ ২৫(১) আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি।

• দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। 
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি,নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- ২৫(১) জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র।
(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৭২.
মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. স্পিকার
  4. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা

সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
• রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধান বিচারপতি।
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
- স্পিকার।
- ডেপুটি স্পিকার।

• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৭৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী বলে পরিচিত হবেন?
  1. ৫(১)
  2. ৫(২)
  3. ৬(১)
  4. ৬(২)
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের মোট এগারটি ভাগ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম ভাগ প্রজাতন্ত্র (১-৭খ)।
- অনুচ্ছেদ ৬(১) অনুযায়ী -  বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
- অনুচ্ছেদ ৬(২)  অনুযায়ী - বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ৫ (১) অনুযায়ী- প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা ৷ 
- অনুচ্ছেদ (২) অনুযায়ী- রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ।

১৭৪.
জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি কে?
  1. ক) লুই কান
  2. খ) মাজহারুল হক
  3. গ) এফ আর খান
  4. ঘ) হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৫৯ সালে প্রথম ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সটির পরিকল্পনা গৃহীত হয়। তখনকার খ্যাতনামা স্থপতি লুই কান ভবন কমপ্লেক্সটির নকশা প্রণয়নের দায়িত্ব পান। ১৯৬২ সালে মূল নকশা প্রস্তুত হয়। কমপ্লেক্সটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালে।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
১৭৫.
Habeas Corpus writ দায়ের করা হয় সংবিধানের ______ অনুচ্ছেদ লংঘনের কারনে। 
  1. ৩১
  2. ৩২
  3. ৩৪
  4. ৩৩
ব্যাখ্যা

→ Habeas Corpus writ দায়ের করা হয় সংবিধানের ৩৩ নং অনুচ্ছেদ লংঘনের কারনে। 

♦ Habeas Corpus writ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (২)(খ) অনুসারে Writ of Habeas Corpus-এর জন্য যে কোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন।
- হেবিয়াস কর্পাস রিট বলতে বোঝায় আদালতের এমন একটি আদেশ, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটক বা বন্দি করে রাখা হয়েছে কি না তা যাচাই করা হয়।
অর্থাৎ, Habeas Corpus Writ হলো সংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারভিত্তিক রিট, যার মাধ্যমে অবৈধ আটক বা বেআইনি বন্দিত্বের বিরুদ্ধে আদালতের তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।
- এই রিটের মাধ্যমে আদালত আটককারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে এবং কেন তাকে আটক রাখা হয়েছে তার আইনগত কারণ ব্যাখ্যা করতে।
- যদি আটক বৈধ না হয়, তবে আদালত তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

♦ বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ – 'গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ':
(১) গ্রেপ্তারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করিয়া প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তাঁহার মনোনীত আইনজীবীর সহিত পরামর্শের ও তাঁহার দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না।

(২) গ্রেপ্তারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে (গ্রেপ্তারের স্থান হইতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ব্যতিরেকে) হাজির করা হইবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাঁহাকে তদতিরিক্তকাল প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না।

(৩) এই অনুচ্ছেদের (১) ও (২) দফার কোন কিছুই সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না,
(ক) যিনি বর্তমান সময়ের জন্য বিদেশী শত্রু; অথবা
(খ) যাঁহাকে নিবর্তনমূলক আটকের বিধান-সংবলিত কোন আইনের অধীন গ্রেপ্তার করা হইয়াছে বা আটক করা হইয়াছে।

(৪) নিবর্তনমূলক আটকের বিধান-সংবলিত কোন আইন কোন ব্যক্তিকে ছয় মাসের অধিক কাল আটক রাখিবার ক্ষমতা প্রদান করিবে না যদি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক রহিয়াছেন বা ছিলেন কিংবা সুপ্রীম কোর্টের বিচারকপদে নিয়োগলাভের যোগ্যতা রাখেন, এইরূপ দুইজন এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত একজন প্রবীণ কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত কোন উপদেষ্টা-পর্ষদ্ উক্ত ছয় মাস অতিবাহিত হইবার পূর্বে তাঁহাকে উপস্থিত হইয়া বক্তব্য পেশ করিবার সুযোগদানের পর রিপোর্ট প্রদান না করিয়া থাকেন যে, পর্ষদের মতে উক্ত ব্যক্তিকে তদতিরিক্ত কাল আটক রাখিবার পর্যাপ্ত কারণ রহিয়াছে।

(৫) নিবর্তনমূলক আটকের বিধান-সংবলিত কোন আইনের অধীন প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে আটক করা হইলে আদেশদানকারী কর্তৃপক্ষ তাঁহাকে যথাসম্ভব শীঘ্র আদেশদানের কারণ জ্ঞাপন করিবেন এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য-প্রকাশের জন্য তাঁহাকে যত সত্বর সম্ভব সুযোগদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, আদেশদানকারী কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় তথ্যাদি-প্ৰকাশ জনস্বার্থবিরোধী বলিয়া মনে হইলে অনুরূপ কর্তৃপক্ষ তাহা প্রকাশে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিতে পারিবেন ।

(৬) উপদেষ্টা-পর্ষদ কর্তৃক এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার অধীন তদন্তের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবেন।

♦ উল্লেখ্য:
- অনুচ্ছেদ ৩১ - আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৩২ - জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৪ - জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে "রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি" সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. চতুর্থ ভাগ
  2. তৃতীয় ভাগ
  3. দ্বিতীয় ভাগ
  4. প্রথম ভাগ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী,
- দশম ভাগে সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৭৭.
সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  2. পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. ষোড়শ সংশোধনী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।

পঞ্চদশ (১৫তম) সংশোধনী এর বিষয়বস্তু:
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল;
• দলীয় সরকারের অধীন মেয়াদ শেষ হবার আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান;
• সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা;
• ৪৭ এর ৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য "অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তিসমষ্টি বা সংগঠন" এর বিচার করার বিধান সংযুক্ত করা;
• জরুরী অবস্থার মেয়াদ অনধিক ১২০ দিন করা হয়;
• সংবিধানে নতুন তিনটি তফসিল যুক্ত করা হয়- যথা পঞ্চম, ষষ্ঠ, ও সপ্তম।

⇒ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
- বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট পদ্ধতি বাতিল করে সংবিধানের যে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিলো সেটিকে আংশিক বাতিল করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
- এই সংশোধনীতে ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়েছিলো।
- আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর মোট ছয়টি বিধান বাতিল করেছে।

তথ্যসূত্র - ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
১৭৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪৮
  2. অনুচ্ছেদ ৪৯
  3. অনুচ্ছেদ ৫০
  4. অনুচ্ছেদ ৫১
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।
- অনুচ্ছেদ ৪৬ - দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৪৭ - কতিপয় আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ৪৭(ক) - সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৪৮ - রাষ্ট্রপতি।
- অনুচ্ছেদ ৪৯ - ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭৯.
কোন দেশের পার্লামেন্টকে ‘Mother of Parliaments’ বলা হয়?
  1. ক) ব্রিটেন
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার গোরাপত্তন ঘটেছে ব্রিটেনে।
- এই জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কে ‘Mother of Parliaments’ বলা হয়ে থাকে ।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ঐতিহ্য অনুসরন করে ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। 
- ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়। 
- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলীর আলোকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী নির্ধারন করা হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
সংবিধানের ৪ নং তফসিলে বর্ণিত হয়েছে-
  1. শপথ ও ঘোষণা
  2. অন্যান্য ‍বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
  3. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  4. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে।
এগুলো হলো:
- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালিন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণ
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১৮১.
‘এ সংবিধান বাঙালি জাতির স্বাধীন সত্তার অভিব্যক্তি’- উক্তিটি কার?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) ড. কামাল হোসেন
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- আইনমন্ত্রী ও খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. কামাল হােসেন বলেন যে, ‘এ সংবিধান বাঙালি জাতির স্বাধীন সত্তার অভিব্যক্তি’ 
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সংসদে বলেন যে, ‘এ সংবিধান লিখিত হয়েছে লাখাে শহীদের রক্তের অক্ষরে’

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন -প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

১৮২.
বর্তমান সংবিধানে মোট কতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে?
  1. ২০০টি
  2. ১৬০টি
  3. ১৫৩টি
  4. ১৬৫টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে;
- মোট অনুচ্ছেদ: ১৫৩ টি।
- সংবিধানে তফসিল: ৭টি,
- সংবিধানে মূলনীতি: ৪টি,
- সংবিধানে প্রস্তাবনা: ১টি।
- সংবিধানে মোট ভাগ: ১১টি।
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে, যথা:-

এছাড়াও,
- প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও,
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৮৩.
সাধারণত কোনো বিলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সম্মতি দেওয়ার সময়সীমা-
  1. ক) ১০ দিন
  2. খ) ৭ দিন
  3. গ) ১৫ দিন
  4. ঘ) ৫ দিন
ব্যাখ্যা
- সংসদে গৃহীত বিল সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার পর রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি দান অথবা পুনরায় সংসদের বিবেচনার জন্য পাঠাবেন ১৫ দিনের মধ্যে
- তবে কোনো বিল পুনরায় সংসদের বিবেচনার জন্য পাঠালে ফেরত আসার পর তা পাস করতে হবে ৭ দিনের মধ্যে। 

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৪.
সংবিধানের পঞ্চম ভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. আইনসভা
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাচন
  4. কর্ম কমিশন
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১১টি ভাগের বিষয়াবলি:
- সংবিধানের প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা ,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম তফসিলে কোন বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে?
  1. ক) স্বাধীনতার ঘোষণা
  2. খ) ৭ই মার্চের ভাষণ
  3. গ) স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
  4. ঘ) ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
ব্যাখ্যা
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে নতুন ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারে জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম তফসিলে সংযোজন করা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।

প্রথম তফসিল
অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।

দ্বিতীয় তফসিল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।

তৃতীয় তফসিল
শপথ ও ঘোষণা।

চতুর্থ তফসিল
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

পঞ্চম তফসিল
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।

ষষ্ঠ তফসিল
স্বাধীনতার ঘোষণা।

সপ্তম তফসিল
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৬.
’বাংলাদেশের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
  1. ৫নং
  2. ৩নং
  3. ৭(১)নং
  4. ২নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদ অনুসারে - বাংলাদেশের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা ।

অন্যদিকে,

• সংবিধানের ২নং অনুচ্ছেদ অনুসারে - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্ধারণ হয়।
• সংবিধানের ৫নং অনুচ্ছেদ অনুসারে - বাংলাদেশের রাজধানী হবে ঢাকা।
• সংবিধানের ৭(১)নং অনুচ্ছেদ অনুসারে - প্রজাতন্ত্রের সকল মালিক জনগণ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৮৭.
১৯৭১ সালের '২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা' সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. তৃতীয়
  2. চতুর্থ
  3. পঞ্চম
  4. ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে।

৭টি তফসিল:
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের ফোন কোনো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী চেক করতে পারে না?
  1. ৪০ নং
  2. ৪১ নং
  3. ৪২ নং
  4. ৪৩ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।

• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য় ভাগে 'মৌলিক অধিকার' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ 'গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ' অনুযায়ী যোগাযোগ থেকে শুরু করে চিঠিপত্র আদান-প্রদান এবং ব্যক্তিগত সবকিছুর গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

⇒ ৪৩ নং অনুছেদ:
- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের -
(ক) প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হতে নিজ গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকবে; এবং
(খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতারক্ষার অধিকার থাকবে।

অন্যদিকে,
- ৪০ নং অনুচ্ছেদ: পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- ৪১ নং অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তির অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৯.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়ে থাকেন?
  1. অনুচ্ছেদ ৫৫
  2. অনুচ্ছেদ ৫৬
  3. অনুচ্ছেদ ৫৮
  4. অনুচ্ছেদ ৫৯
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৫৬ নং অনুচ্ছেদের ২ নং দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দান করে থাকেন।
- ৫৬ (৩) নং দফা অনুযায়ী, যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ৫৫ : মন্ত্রীসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ : মন্ত্রীদের পদের মেয়াদ। 
- অনুচ্ছেদ ৫৯ : স্থানীয় শাসন। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
১৯০.
সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন কতজন?
  1. ৩২ জন
  2. ৩৪ জন
  3. ৩৩ জন
  4. ৩৭ জন
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ গণপরিষদ হল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সংবিধান  অধিবেশন।
- রাষ্ট্রপতি গণপরিষদের আহ্বান করেন-১০  এপ্রিল ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর ১৯৭২
- গৃহীত হয় -৪ নভেম্বর ১৯৭২।
- কার্যকর হয় -১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপন করেন- ড. কামাল হোসেন।   
- গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন- শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণ পরিষদের  ডেপুটি স্পিকার  ছিলেন-মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আব্দুল রশিদ তর্কবাগী।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন-৩৪ জন।
- একমাত্র নারী সদস্য- বেগম রাজিয়া বানু।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯১.
প্রধান বিচারপতির পদের মেয়াদ কত বছর?
  1. ৪ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৩ বছর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ তাদের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকতে পারবেন।
- ১৯৭২ সালের ‍মূল সংবিধানে বিচারকদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ছিলো ৬২ বছর।
- ১৯৮৬ সালে সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে তা ৬৫ বছরে এবং ২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনী দ্বারা অবসর গ্রহণের বয়ষসীমা ৬৭ বছরে উন্নীত করা হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১৯২.
সংবিধান সম্পর্কে নিচের কোন বিবৃতিটি সঠিক নয়?
  1. ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
  3. সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেন।
  4. ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।   
ব্যাখ্যা
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেন। - এটি বিবৃতিটি সঠিক নয়। 

• সংবিধান:

- ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- শুধু 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে  আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে।
- ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
- তবে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- সবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।   

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১৯৩.
কোনটি বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অংশ নয়?
  1. গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ
  2. দায়মুক্তি ক্ষমতা
  3. যুদ্ধ ঘোষণা
  4. পেশার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
যুদ্ধ ঘোষণা বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অংশ নয়।

সংবিধানের তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার

- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭) মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ রয়েছে। এগুলো হলো: 
২৬। মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল,
২৭। আইনের দৃষ্টিতে সমতা,
২৮। ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য,
২৯। সরকারী নিয়োগলাভে সুযোগের সমতা,
৩০। বিদেশী খেতার প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ,
৩১। আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার,
৩২। জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ,
৩৩। গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ,
৩৪। জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ,
৩৫। বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ,
৩৬। চলাফেরার স্বাধীনতা,
৩৭। সমাবেশের স্বাধীনতা,
৩৮। সংগঠনের স্বাধীনতা,
৩৮। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা,
৪০। পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা,
৪১। ধর্মীয় স্বাধীনতা,
৪২। সম্পত্তির অধিকার,
৪৩। গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ,
88। মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ,
৪৫। শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন,
৪৬। দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা,
৪৭। কতিপয় আইনের হেফাজত।

অন্যদিকে,
- যুদ্ধ ঘোষণা বাংলাদেশ সংবিধানের ৪র্থ ভাগের অংশ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৯৪.
সংবিধানের কোন তফসিলটি বর্তমানে কার্যকর নয়?
  1. ১ম
  2. ৫ম
  3. ২য়
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি। যথা:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

⇒ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- সংবিধানের চতুর্থ সংশােধন আইন, ১৯৭৫ এর ৩০ নং ধারাবলে মূল সংবিধানের এই দ্বিতীয় তফসিলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
- অর্থাৎ, দ্বিতীয় তফসিল এখন আর কার্যকর নেই।
- ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- যার নাম দেয়া হয় বাকশালট

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১৯৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১৯৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'রাজধানী' সম্পর্কে বর্ণিত আছে?
  1. ২ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২ক নং অনুচ্ছেদ
  3. ৪ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৫ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ -
- ১ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্র,
- ২ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
- ২ক নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রধর্ম,
- ৩ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রভাষা,
- ৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক,
- ৪ক নং অনুচ্ছেদ: জাতির পিতার প্রতিকৃতি,
- ৫ নং অনুচ্ছেদ: রাজধানী,
- ৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকত্ব,
- ৭ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের প্রাধান্য,
- ৭ক নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ,
- ৭খ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৯৭.
জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা কতজন?
  1. ৩০০ জন
  2. ৩৪৫ জন
  3. ৩৫০ জন
  4. ৩৫৪ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০জন। এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সদস্য ৩০০ জন। অন্যজন ৫০ জন সদস্য নির্বাচিত সাংসদদের ভোটে মহিলাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

জাতীয় সংসদের ১ নং আসন পঞ্চগড়-১ এবং ৩০০ নং আসন বান্দরবান।
বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে। সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।

(তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট)
১৯৮.
প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
  1. অনুচ্ছেদ ১
  2. অনুচ্ছেদ ২ক
  3. অনুচ্ছেদ ২
  4. অনুচ্ছেদ ৪ক
ব্যাখ্যা

প্রথম ভাগ- প্রজাতন্ত্র: 
- ১নং অনুচ্ছেদঃ প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২৷ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা সম্পর্কে বলা হয়েছে। 
- অনুচ্ছেদ ২ক এ রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে বলা আছে।
- [২ক। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন]

অন্যদিকে,
- ৩নং অনুচ্ছেদঃ রাষ্ট্রভাষা।
- ৪নং অনুচ্ছেদঃ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- ৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৯৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের কততম সংশোধনীতে "বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহিম" সংযোজন করা হয়? 
  1. চতুর্থ 
  2. পঞ্চম 
  3. দ্বিতীয় 
  4. প্রথম 
ব্যাখ্যা

পঞ্চম সংশোধনী: 
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে।
- বাংলাদেশের পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) ছিল একটি বিতর্কিত সংশোধনী।

- এই সংশোধনীর মাধ্যমে-
• ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক সরকারের সমস্ত কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়া হয়।
সংবিধানের শুরুতে "বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহিম" সংযোজন করা হয়।
• তাছাড়া, বাঙালি জাতিকে ‘বাংলাদেশি’ নামে আখ্যায়িত করা হয়, যদিও এটি পরে পরিবর্তিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ২০০৫ সালে হাইকোর্ট পঞ্চম সংশোধনীর সামরিক শাসন বৈধতা দানকারী অংশটি অবৈধ ঘোষণা করে।
- আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখলেও, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজনের অংশটি বাতিল করেনি। 

উৎস:
১. BBC News;
২. প্রথম আলো পত্রিকা;
৩. বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

২০০.
’সরকারী কর্ম কমিশন’ সংবিধানের কোন ভাগে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. দশম ভাগ
  2. অষ্টম ভাগ
  3. নবম ভাগ
  4. সপ্তম ভাগ
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের নবম ভাগে সরকারী কর্ম কমিশন কথা রয়েছে।

- অনুচ্ছেদ: ১৩৭। কমিশন-প্রতিষ্ঠা,
- অনুচ্ছেদ: ১৩৮। সদস্য-নিয়োগ,
- অনুচ্ছেদ: ১৩৯। পদের মেয়াদ,
- অনুচ্ছেদ: ১৪০। কমিশনের দায়িত্ব
- অনুচ্ছেদ: ১৪১। বার্ষিক রিপোর্ট

অপরদিকে,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।