বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংবিধান

মোট প্রশ্ন২,৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সংবিধান

PrepBank · পাতা / ২৪ · ১০০ / ২,৩৩১

.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ কে করে থাকেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সুপ্রিমকোর্ট
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ:
⇒ সংবিধানের ৫৬নং অনুচ্ছেদের ২নং দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দান করে থাকেন।
- ৫৬ (৩)নং দফা অনুযায়ী, যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।

- মন্ত্রীসভা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন থাকে।
- মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ, দপ্তর বন্টন, নিয়োগ ও অব্যাহতি প্রভৃতি প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়।
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একক ও যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। মন্ত্রিসভার সদস্যগণ জাতীয় সংসদের সদস্যদের থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রিসভার এক-দশমাংশ সদস্য সাংসদ নয় এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি।
.
সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. সকল নাগরিকের চাকুরি লাভের সুযোগ
  2. সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার
  3. সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
  4. রাষ্ট্রপতির অভিসংশন
ব্যাখ্যা

• সংবিধান: 
- সংবিধানের ২৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবেন।

এছাড়াও -
- রাষ্ট্রপতির অভিসংশন - ৫২ নং অনুচ্ছেদ।
- সুপ্রিম কোর্টের গঠন - ৯৪ নং অনুচ্ছেদ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫০
  2. অনুচ্ছেদ ৫১
  3. অনুচ্ছেদ ৫২
  4. অনুচ্ছেদ ৫৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
.
সংবিধান অনুসারে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন কে?
  1. স্পিকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
- সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় এবং সংসদ অধিবেশনকাল ব্যতীত সময়ে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আইনের ন্যায় কার্যকর যে আদেশ জারি করেন তা ‘অধ্যাদেশ’ নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে থাকেন।
- এই অধ্যাদেশ জারির পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি উপস্থাপন করতে হয় এবং উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ এটি অনুমোদন না করলে ৩০ দিন পর এই অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়ে যায়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
.
৩৯ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে-
  1. ক) সমাবেশের স্বাধীনতা
  2. খ) সংগঠনের স্বাধীনতা
  3. গ) চলাফেরার স্বাধীনতা
  4. ঘ) চিন্তা, বিবেক ও বাক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেক এবং বাক স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। ৩৯ (২) (খ) উপ-দফায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ৩৬, ৩৭ এবং ৩৮ নং অনুচ্ছেদে যথাক্রমে চলাফেরা, সমাবেশ এবং সংগঠনের স্বাধীনতা বিবৃত করা হয়েছে। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
.
পঞ্চদশ সংশোধনীতে মোট কয়টি পরিবর্তন আনা হয়েছিলো?
  1. ৫০টি
  2. ৫২টি
  3. ৫৪টি
  4. ৫৬টি
ব্যাখ্যা
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট পদ্ধতি বাতিল করে সংবিধানের যে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছিলো সেটিকে আংশিক বাতিল করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
- কিন্তু যে অংশটি বাতিল করা হয়েছে তার ফলে দেশের সংবিধানে আবারো নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছে এবং সংবিধানের কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনীর জন্য গণভোটের বিধান পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।
- আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর মোট ছয়টি বিধান বাতিল করেছে।
- ওই সংশোধনীতে ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়েছিলো।
- বাকীগুলো পরবর্তী সংসদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।
- তবে আইনজীবীরা বলছেন হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে করা বিধান বাতিল হলেও সংবিধানে এখনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরছে না।
- বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত করা হয়, সেই ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগ যে আদেশ দিয়েছিল, তার ওপর একটি রিভিউ পিটিশন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে।
- ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ওই রায় দিয়েছিলেন।
- ২০২৪ সালের ১৮ই আগস্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেন বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন।
- উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ হয়েছিলো সংসদে।

উৎস: বিবিসি বাংলা (১৭ ডিসেম্বর ২০২৪)
.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে, ’জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন নিদের্শনা’ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ২৪ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. ২৫ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- ২৪ নং অনুচ্ছেদে, জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন নিদের্শনা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে।
------------------------------------------------
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাদ্যতামূলক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে।
- ২৫ নং অনুচ্ছেদ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ।
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদ সমাবেশেরে স্বাধীনতা  বিষয়ক ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
.
বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটিতে আওয়ামী লীগের ছাড়া কতজন সদস্য ছিলেন?
  1. ক) ১ জন
  2. খ) ২ জন
  3. গ) ৩ জন
  4. ঘ) ৪ জন
ব্যাখ্যা

- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- আওয়ামী লীগ থেকে ছিল ৩৩ জন সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া মাত্র এক জন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে কোন দেশের সংবিধান অনুসরণ করা হয়েছে?
  1. ভারত
  2. যুক্তরাজ্য
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে অনুসরণ করা হয় ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধান।
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংবিধান- ভারতের।
- পৃথিবীর যে সকল দেশের সংবিধান অলিখিত- স্পেন, নিউজিল্যান্ড, ব্রিটেন, সৌদি আরব ও ইসরায়েল।
- গণপরিষদের সর্বমোট ২১ টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান হাতে লিখে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল।
- সংবিধানের হস্তলিপির কাজ করেছেন এ কে এম আবদুর রুউফ ।
- হাতে লেখা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের পৃষ্ঠা ছিল ১০৯ ।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা হয়েছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'
- সংবিধানের অঙ্গসজ্জা কার্যক্রমের মূল তত্ত্বাবদায়ক ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নাল আবেদীন।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৩৭ নং
  2. ১৩৮ নং
  3. ১৩৯ নং
  4. ১৪০ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত ৫ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

সংবিধানের -
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪০ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
-  ১৪১ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন বার্ষিক রিপোর্ট কিভাবে জমা দিবে তার কথা উল্লেখ রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলােকে বাংলাদেশে বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ২৩
  2. অনুচ্ছেদ ২৪
  3. অনুচ্ছেদ ২২
  4. অনুচ্ছেদ ২৫
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫ নং অনুচ্ছেদে — বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ২৫:
- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন,
- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা,
- অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা,
- আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা,
এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র -

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- ২৩ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় সংস্কৃতি
- ২৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

১২.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছে কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে
  2. খ) বিপ্লবের মাধ্যমে
  3. গ) অনুমোদনের মাধ্যমে
  4. ঘ) ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদ সদস্যদের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত হয়েছে।
অনুমোদনের মাধ্যমে প্রণীত হয়েছে ম্যাগনাকার্টা যা ব্রিটিশ সংবিধানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
বিপ্লবের দ্বারা প্রণীত হয়েছে কিউবা, রাশিয়া, চীন প্রভৃতি দেশের সংবিধান।
ক্রম বিবর্তনের মাধ্যমে প্রণীত হয়েছে ব্রিটেনের সংবিধান।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
১৩.
বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় -
  1. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  2. ১৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  3. ১২ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

উল্লেখ্য,
- বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রাম ও বহু তাজা প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার পর ঢাকা স্থানান্তরিত হয়।
- ঢাকায় এসে এ সরকার প্রকৃত শাসনভার গ্রহণ করে।
- ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ "বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান অধ্যাদেশ" জারি করা হয়।
- এ আদেশ জারিই হল বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম পদক্ষেপ।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ হলো-
  1. ৯৬
  2. ৯৪
  3. ৯৫(১)
  4. ৯৮
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৯৫ : বিচারক-নিয়োগ
১. প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।
২. কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্তত দশ বৎসর এ্যাডভোকেট না থাকলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্তত দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না থাকলে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে;
বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।
(৩) ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করেছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হবে।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
১৫.
"প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবেন" - এটি বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয়?
  1. অনুচ্ছেদ - ৪ (ক)
  2. অনুচ্ছেদ - ৩
  3. অনুচ্ছেদ - ২ (ক)
  4. অনুচ্ছেদ - ২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- সংবিধানের ২ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবে। 

অন্যদিকে: 
অনুচ্ছেদ ৪ক - জাতির পিতার প্রতিকৃতি। 
অনুচ্ছেদ ৪ - জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক। 
অনুচ্ছেদ ৩ - রাষ্ট্রভাষা। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী?
  1. জরুরি অবস্থা ঘোষণা 
  2. রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তন
  3. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
  4. মহিলা সদস্যের পদ সংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে। 

⇒ প্রথম সংশোধনী: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
- সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই ।
- এ সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭ অনুচ্ছেদে দুটি নতুন উপধারা সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মূল কারণ ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করা।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য আইন তৈরি এবং তা কার্যকর করার বিষয় আনা হয় এই সংশোধনীতে। পরে এর আওতায় আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ আইন করা সম্ভব হয়।  এর দু'দিন পরই রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করেছিলেন। সংসদে বিলটি এনেছিলেন সে সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর। সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে শুধু তিনজন সদস্য ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলেন।

- এ সংশোধনীর মূল কারণ ছিল গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য আইন তৈরি এবং তা কার্যকর করা।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ৯৪ (১)
  2. ৯৫ (১)
  3. ৯৬ (১)
  4. ৯৭ (১)
ব্যাখ্যা
সুপ্রিম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- ২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
- ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়। 

অন্যদিকে -
- সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন। 
- সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'কোন বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।'

উৎস: i) সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
         ii) ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, দৈনিক ইত্তেফাক।
        iii) বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের নির্দেশনা আছে?
  1. ২২ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৩ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৪ নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৫ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ:
- মূলত বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ১৯৯৪ সালে একটি রিট মামলা করেছিলেন জেলা জজ ও জুডিশিয়াল এসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেন।
- সেই মামলাটি 'মাসদার হোসন মামলা' নামে পরিচিত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে যার চূড়ান্ত রায় হয়েছিল ১৯৯৯ সালে।
- রায়ের আট বছর পর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগসমূহ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৯ সালে সর্বোচ্চ আদালত বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার রায় দেন।
- বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করতে দেওয়া রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২৩ নং: জাতীয় সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ২৪ নং: জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ২৫ নং: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
১৯.
When was the Constitution of Bangladesh adopted in the National Parliament of Bangladesh?
  1. ক) 2 October, 1972
  2. খ) 16 December, 1972
  3. গ) 4 November, 1972
  4. ঘ) 4 January, 1973
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
 -গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
২০.
'কাস্টিং ভোট' বলতে কী বোঝায়?
  1. স্পিকারের ভোট
  2. স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ভোট
  3. দুই তৃতীয়াংশ ভোট
  4. এক দশমাংশ ভোট
ব্যাখ্যা

কাস্টিং ভোট: (Casting Vote):
​- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী: ”উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পীকার) ভোটদান করবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।”
​- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন। একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পিকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২১.
১৯৭২ সালের সংবিধান রচনার কমিটিতে নিম্নের কোন মন্ত্রি ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
গণপরিষদের অধিবেশন:
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ অধিবেশনে গণপরিষদের স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হয়।
- শাহ আব্দুল হামিদ গণপরিষদের প্রথম স্পীকার নির্বাচিত হন।
- তাঁর মৃত্যুর পর নির্বাচিত হন জনাব মোহাম্মদ উল্লাহ।
- এ অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়। এটি হল "সংবিধান কমিটি"।
- এ কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন তৎকালীন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। এ কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৪ জন।

⇒ গণপরিষদে সংবিধান পেশ
- সংবিধান কমিটিতে ড. কামাল হোসেন ছাড়া আরও চার জন মন্ত্রী ছিলেন।
- তারা হলেন যথাক্রমে (১) সৈয়দ নজরুল ইসলাম; (২) তাজউদ্দিন আহমদ; (৩) খন্দকার মুশতাক আহমেদ; (৪) এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
- এ ছাড়া ৭ জন মহিলা সদস্যের মধ্যে একজন ছিলেন সংসদ সদস্য।
- এ কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে।
- ঐ অধিবেশনে সংবিধান কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন সংবিধান বিল আকারে গণপরিষদে পেশ করেন।
- ১৩ অক্টোবর গণপরিষদ কিছু কিছু সংশোধনীসহ এ খসড়া সংবিধানের বিধিমালা গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫০
  2. অনুচ্ছেদ ৫১
  3. অনুচ্ছেদ ৫২
  4. অনুচ্ছেদ ৫৩
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা।
- অনুচ্ছেদ ৬২ - প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ।
- অনুচ্ছেদ ৬৪ - অ্যাটর্নি-জেনারেল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

২৩.
সংবিধানের কোন অধ্যায় ’সংবিধান সংশোধন’ সংবলিত?
  1. সপ্তম অধ্যায়
  2. দশম অধ্যায়
  3. চতুর্থ অধ্যায়
  4. একাদশ অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
- প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
- পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
- ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
- সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
- অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- নবম অধ্যায়  - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ;
- দশম অধ্যায়  - সংবিধানের সংশোধন।
- একাদশ অধ্যায়  - বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২৪.
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করেন সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী?
  1. ৬১ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৬২ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৬৪ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৬৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
এটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে পঞ্চম পরিচ্ছেদের ৬৪নং অনুচ্ছেদে এটর্নি জেনারেল সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- এটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
- রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত এটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৮
  3. অনুচ্ছেদ ১৯
  4. অনুচ্ছেদ ২০
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১০ - সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১১ - গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।
- অনুচ্ছেদ ১২ - ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ১৩ - মালিকানার নীতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪ - কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৫ - মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- অনুচ্ছেদ ১৬ - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- অনুচ্ছেদ ১৭ - অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- অনুচ্ছেদ ১৮ - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- অনুচ্ছেদ ১৮(ক) - পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ১৯ - সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
২৬.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, কার উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি তার পদ ত্যাগ করতে পারবেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পিকার
  3. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  4. ডেপুটি স্পিকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের ৫০ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ;
⇒ ৫০(১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর মেয়াদে তাঁর পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।
- তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর উত্তরাধিকারী-কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।

⇒ ৫০(২) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- একাদিক্রমে হোক বা না হোক-দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকবেন না।

⇒ ৫০(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি তার পদ ত্যাগ করতে পারবেন

⇒ ৫০(৪) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যভারকালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না, এবং কোন সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতিরূপে তাঁর কার্যভার গ্রহণের দিনে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২৭.
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ক) ১৯৮৯ সালে
  2. খ) ১৯৯০ সালে
  3. গ) ১৯৯৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
• বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন ১৯৯০ সালে প্রণীত হয়। 

প্রাথমিক শিক্ষা আইন:
- সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে বাধ্যতামূলকভাবে সকল শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষার সমান সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেয়। এ জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতা অপরিহার্য হওয়ায় জাতীয় সংসদ কর্তৃক ‘প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন ১৯৯০’ পাশ করা হয়েছে।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১/০৮/১৯৯০ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১/১১/১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট’।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কমপক্ষে ১৮ বয়স প্রয়োজন হয়?
  1. ১২২ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১১৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১১৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
১২২। (১) প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁহার বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে;
ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন।

• অন্যদিকে:
- ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব। 
- ১১৮ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা। 
- ১১৭ নং অনুচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ। 

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
২৯.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হয়?
  1. ৯৪ (১) নং
  2. ৯৫ (১) নং
  3. ৯৬ (১) নং
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৯৪ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হয়।

সুপ্রিম কোর্ট:

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়।

অন্যদিকে -
- সংবিধানের ৯৫ (১) নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।
- সংবিধানের ৯৬ (১) নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'কোন বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।'

উৎস: i) সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
         iii) ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, দৈনিক ইত্তেফাক।
৩০.
সংসদের অনুমতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষনা করা যাবেনা সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) ৬৩ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ৬৪ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ৬১ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ৫৯ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৬৩ নং অনুচ্ছেদে সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাইবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিবে না সম্পর্কে বলা হয়েছে।
সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্ণি-জেনারেল সম্পর্কে বলা হয়েছে ।
সংবিধানের ৬১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত থাকবে
সংবিধানের ৫৯ নং অনুচ্ছেদে আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে। 

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৩১.
নিম্নের কোন তফসিলৎ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৪র্থ
  4. ৫ম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- সংবিধানের চতুর্থ সংশােধন আইন, ১৯৭৫ এর ৩০ নং ধারাবলে মূল সংবিধানের এই দ্বিতীয় তফসিলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
- অর্থাৎ, দ্বিতীয় তফসিল এখন আর কার্যকর নেই।
- ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- যার নাম দেয়া হয় বাকশাল।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৩২.
বাংলাদেশ সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. তাজউদ্দিন আহম্মেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- সংবিধান রচনা ও গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
- গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার যথাক্রমে শাহ আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ উল্লাহ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
রাষ্ট্রপতি যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ
- স্পিকার
- ডেপুটি স্পিকার
- প্রধান বিচারপতি।
স্পিকার যাদের শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।
প্রধান ‍বিচারপতি যাদের শপথ বাক্য করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ
- পিএসসির সদস্যবৃন্দ
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
- নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৩৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতিগুলো কী কী?
  1. গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, আইনের শাসন, ধর্মনিরপেক্ষতা
  2. গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, মানবাধিকার
  3. গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা
  4. গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের  অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি চারটি।
- যথা- জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি,
- তফসিল আছে ৭টি,
- মূলনীতি আছে ৪টি,
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৫.
জুলাই জাতীয় সনদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে কোনটি সুপারিশ করা হয়নি?
  1. সাম্য
  2. মানবিক মর্যাদা
  3. সামাজিক ন্যায়বিচার 
  4. বহুত্ত্ববাদ 
ব্যাখ্যা

- জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে 'বহুত্ত্ববাদের' পরিবর্তে 'ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি' কে সুপারিশ করা হয়েছে।

• জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫:
- জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে 'বহুত্ত্ববাদের' পরিবর্তে 'ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি' কে সুপারিশ করা হয়েছে।
- সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে সুপারিশ করা হয়েছে:
(১) সাম্য,
(২) মানবিক মর্যাদা,
(৩) সামাজিক ন্যায়বিচার 
(৪) ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি

- যেখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা কথাটি থাকবে না।
- তবে প্রস্তাবের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতসহ ২৭টি দল একমত হলেও গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডিসহ কয়েকটি দল ভিন্নমত পোষণ করেছে।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে রয়েছে:
(১) জাতীয়তাবাদ,
 (২) গণতন্ত্র,
 (৩) সমাজতন্ত্র ও
 (৪) ধর্মনিরপেক্ষতা

তথ্যসূত্র: জুলাই জাতীয় সনদ ও বিবিসি। 

৩৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ৩৪নং
  2. ৩১নং
  3. ৩৬নং
  4. ২৯নং
ব্যাখ্যা
• সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- অনুচ্ছেদ ৩৪ (১), ৩৪ (২ ক) অনুযায়ী সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ।
- এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
- তবে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়াও,
- ২৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা,
- ৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার,
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- তফসিল আছে ৭টি।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৭.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে 'অনুপস্থিতি প্রভৃতির কারণে রাষ্ট্রপতি পদে স্পিকার থাকবেন'?
  1. ৫২ নং 
  2. ৫৩ নং
  3. ৫৪ নং
  4. ৫৫ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ নং অনুচ্ছেদ: অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ১ম অনুচ্ছেদের ৫৪ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'অনুপস্থিতি প্রভৃতির কারণে রাষ্ট্রপতি পদে স্পিকার থাকবেন'
• ৫৪। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে,
- ৫২ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতির অভিশংসন। 
- ৫৩ নং অনুচ্ছেদ: অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ। 
- ৫৫ নং অনুচ্ছেদ: মন্ত্রিসভা। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৮.
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্যে অবশ্যই-
  1. কোন রাজনৈতিক দল থেকে সাংসদ হতে হবে
  2. বয়স সর্বনিম্ন ৩৫ বছর হতে হবে
  3. জাতীয় সংসদের সদস্য হতে হবে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৫৬(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
“যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।”
- প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার জন্যে অবশ্যই জাতীয় সংসদের সদস্য হতে হবে এবং বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৩৯.
দেশের ৩০০ তম সংসদীয় আসন কোনটি?
  1. ক) পঞ্চগড়-১
  2. খ) কক্সবাজার-৪
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) কক্সবাজার-১
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের ৩০০তম আসন হলো বান্দরবান। ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় একটি করে সংসদীয় আসন। (সূত্রঃ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট)
৪০.
রাষ্ট্রপতি সংবিধানের কততম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন?
  1. ৯৪ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৯৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৯৬ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৯৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫(১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারকদের নিয়োগদান করিবেন।'
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৪১.
জাতীয় নির্বাচন সংবিধানের কত নং অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়?
  1. ৫ম
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম
  4. ৮ম
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র
দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার
চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ
পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা
ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ
সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন
অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন
একাদশ অধ্যায় - বিবিধ

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪২.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদের মধ্যে 'গণতন্ত্র ও মানবাধিকার'- এর কথা বলা হয়েছে?
  1. ৯নং
  2. ১১ নং
  3. ১০ নং
  4. ১২ নং
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় মূলনীতি:
- বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতগুলো মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এ নীতিগুলো রাষ্ট্র শাসনের মূলসূত্র।
- মূল সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি শিরোনামে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- এগুলো হলো:
• জাতীয়তাবাদ: মূল সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে।'
• সমাজতন্ত্র: মূল সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ানুগ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজ কায়েম করা হবে।'
• গণতন্ত্র ও মানবাধিকার: সংবিধানের  ১১ নং  অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
• ধর্ম নিরপেক্ষতা: সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোন ধর্মের ব্যবহার, কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির বৈষম্য বা তার উপর উৎপীড়ন করা হবে না।'

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
সংবিধানের কোন সংশোধনীতে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
  1. একাদশ সংশোধনী
  2. দ্বাদশ সংশোধনী
  3. পঞ্চদশ সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী আইন:- সংবিধান আইন ২০১১
- পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ৮,৯,১০,১২ অনুচ্ছেদ পুণর্বহাল করায় বাহাত্তরের মূল সংবিধানের চেতনাকে ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।
- অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৪.
গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় কবে?
  1. ১১ অক্টোবর, ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য, অনুপস্থিতি, অসুস্থতা, অসমর্থ প্রভৃতির-কালে তাঁর দায়িত্ব পালন করিবেন কে? 
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. আইন মন্ত্রী 
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
- সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। 
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে। 
- এতে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ১১ টি ভাগ রয়েছে।
- ৭টি তফসিল রয়েছে।

৫৪ নং অনুচ্ছেদ: অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার; 
- রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্বে প্রযুক্ত হয়?
  1. ৪৮ নং
  2. ৫৫ নং
  3. ৫৮ নং
  4. ৬২ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ৫৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা -
- ৫৫ (১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করবে, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
- ৫৫ (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে।
- ৫৫ (৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবেন।
- ৫৫ (৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে।
- ৫৫ (৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হবে, রাষ্ট্রপতি তা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলে তার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
- ৫৫ (৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করবেন।

এছাড়া,
- ৪৮ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি।
- ৫৮ নং অনুচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য মন্ত্রীগণের পদের মেয়াদ।
- ৬২ নং অনুচ্ছেদ: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৭.
বাংলাদেশ সংবিধান হাতে লেখার দায়িত্ব কার ওপর ন্যস্ত ছিল?
  1. আব্দুর রউফ
  2. হাশেম খান
  3. সমরজিৎ রায় চৌধুরী
  4. আবুল বারক আলভী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরী হয়।

উল্লেখ্য,
- হস্তলিখিত সংবিধানটির মূল লেখক ছিলেন শিল্পী আব্দুর রউফ।
- সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।
- সংবিধানের প্রচ্ছদে শীতলপাটির উপর লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- গণপরিষদের সদস্যরা হস্তলিখিত মূল সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজী লিপিতে স্বাক্ষর করে ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।

উৎস: ⅰ) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
iii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৪৮.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) অষ্টম
  2. খ) দ্বাদশ
  3. গ) চতুর্দশ
  4. ঘ) পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ সংশোধনী (১৯৯১)

- উত্থাপনকারী: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
- সংসদে পাশের তারিখ: ৬ আগস্ট, ১৯৯১।

বিষয়বস্তু:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন
- উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদগুলো বাতিল ঘোষণা।

বাংলাদেশের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই পদ্ধতিতে সকল Executive Power প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কর্তৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রী পরিষদ হলেন বাংলাদেশের Real Administrator। অর্থাৎ, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারপ্রধান। তিনি হলেন সমগ্র শাসন-ব্যবস্থার মধ্যমণি।

উল্লেখ্য,  দ্বাদশ সংশোধনীকে চতুর্থ সংশোধনীর বিপরীত সংশোধনী বলা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৯.
সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের কর্তব্য কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২১নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি করমচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে ।
নাগরিকের কর্তব্য ৪টি
আইন মান্য করা
নাগরিক দায়িত্ব পালন করা
শৃঙ্খলা রক্ষা করা
জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা

সূত্র:বাংলাদেশ সংবিধান।
৫০.
বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া প্রণয়নে কোন ব্রিটিশ আইন প্রণেতা সাহায্য করেন?
  1. আই গাথরি
  2. জন স্মিথ
  3. উইলিয়াম জোন্স
  4. থমাস ম্যাকলয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন: 
- সংবিধান রচনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘গণপরিষদ আদেশ’ জারি করা হয়।
- এরপর ১০ এপ্রিল, ১৯৭২ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- গণপরিষদে সদস্য ছিলেন ৪০৩ জন।
- মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের সভাপতিত্বে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে শাহ আবদুল হামিদ স্পিকার ও মোহাম্মদ উল্লাহ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। ২ মে, ১৯৭২ শাহ আবদুল হামিদ মারা গেলে মোহাম্মদ উল্লাহ স্পিকার নির্বাচিত হন।
- গণপরিষদ অধিবেশনের পরদিন ১১ এপ্রিল গণপরিষদে খসড়া সংবিধান-প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।

⇒  সরকারের আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৩৪ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। 
- সংবিধান প্রণয়নের সময় জনগণের মতামত সংগ্রহের জন্য মতামত আহ্বান করা হয়।
- সংগৃহীত মতামত থেকে ৯৮টি সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
- গণপরিষদ ভবনে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে সহযোগিতা করেন ব্রিটিশ আইনসভার খসড়া আইন-প্রণেতা আই গাথরি।
- সংবিধান লেখার পর এর বাংলা ভাষারূপ পর্যালোচনার জন্য ড. আনিসুজ্জামানকে আহ্বায়ক, সৈয়দ আলী আহসান এবং মযহারুল ইসলামকে ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি কমিটি গঠন করে পর্যালোচনার ভার দেওয়া হয়। 
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন।
- ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের হাতের লেখা কপির উপর সইয়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। 
- দুই দিনব্যাপী এ সই অনুষ্ঠানে একে একে ৪০৩ জন গণপরিষদ সদস্যের মধ্যে ৩৯৯ জন সই করেন। মানবেন্দ্র নারায়ণ চাকমা (পি.ই. ২৯৯), সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (পি.ই. ২২১), আজিজার রহমান (পি.ই. ২২) ও এম ইব্রাহিম (পি.ই. ৮২) সই দানে বিরত থাকেন।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) সংবিধান থেকে কার্যকর হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
২ক নং অনুচ্ছেদটি কোন সংশোধনী দ্বারা সংযুক্ত করা হয়?
  1. ক) দ্বাদশ
  2. খ) অষ্টম
  3. গ) চতুর্দশ
  4. ঘ) পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা

-সংবিধানের ২ক নং অনুচ্ছেদটি বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ছিলো না। 
-১৯৮৮ সালে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্মের বিধান সংবলিত ২ক নং অনুচ্ছেদটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়। 
-২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা এটিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। 
অন্যদিকে,
-পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ৮,৯,১০,১২ অনুচ্ছেদ পুণর্বহাল করায় বাহাত্তরের মূল সংবিধানের চেতনাকে ধারণ করা সম্ভব হয়েছে অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়। 
-চতুর্দশ
সংশোধনীর মাধ্যমে ৬৫(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ থেকে ৪৫টি করা হয়। 
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)

৫২.
ঐতিহাসিক ছয় দফা কে ঘোষণা করেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  3. গ) মাওলানা ভাসানী
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন এবং এই ছয় দফাকে আখ্যায়িত করেন ‘আমাদের (বাঙালিদের) মুক্তি সনদ’ রূপে। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৫৩.
সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৮-২৩
  2. অনুচ্ছেদ ৯-২৪
  3. অনুচ্ছেদ ৮-২৫
  4. অনুচ্ছেদ ৭-২৫
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ (৮-২৫)।
৮৷ মূলনীতিসমূহ;
৯। জাতীয়তাবাদ;
১০। সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি;
১১৷ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার;
১২। ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা;
১৩৷ মালিকানার নীতি;
১৪৷ কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি;
১৫৷ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা;
১৬৷ গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব;
১৭৷ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা;
১৮৷ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা;
১৮ক। পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন। 
১৯৷ সুযোগের সমতা।
২০৷ অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।
২১৷ নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য। 
২২৷ নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
২৩৷ জাতীয় সংস্কৃতি।
২৩ক। উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি।
২৪৷ জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
২৫৷ আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৪.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়?
  1. সপ্তম সংশোধনী
  2. অষ্টম সংশোধনী
  3. নবম সংশোধনী
  4. দশম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

অষ্টম সংশোধনী: 
- অষ্টম সংশোধনী আইন ১৯৮৮ সালের ৭ জুন এই সংশোধনী আইন পাস হয়। এর দ্বারা সংবিধানের ২, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।

এই সংশোধনী আইনবলে - 
(১) ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
(২) ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
(৩) সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে ইবহমধষর শব্দটি পরিবর্তন করে ইধহমষধ করা হয় এবং উধপপধ পরিবর্তন করে উযধশধ করা হয়;
(৪) সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পরবর্তী সময়ে সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদের সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, কারণ তার দ্বারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে।

অন্যদিকে: 
- সপ্তম সংশোধনী আইন ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর এই আইন পাস হয়। এই আইন দ্বারা সংবিধানের ৮৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়; এর দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের সংশোধন করা হয়। 

- নবম সংশোধনী আইন সংবিধান আইন, ১৯৮৯ (নবম সংশোধনী) পাস হয় ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে। এই সংশোধনী দ্বারা রাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের বিধান করা হয়; রাষ্ট্রপতির পদে একই ব্যক্তির দায়িত্ব পালন পর পর দুই মেয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয় (প্রতি মেয়াদকাল ৫ বছর)।  

- দশম সংশোধনী আইন ১৯৯০ সালের ১২ জুন দশম সংশোধনী আইন কার্যকর হয়। এর দ্বারা, অন্যান্যের মধ্যে, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে পরবর্তী ১০ বছরের জন্য জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষণের বিধান করা হয়, যেসব আসনে নারীরা নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৫৫.
অষ্টম সংশোধনীতে সংবিধানের ৩০নং অনুচ্ছেদে কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়?
  1. রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
  2. রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া রাজনৈতিক সংগঠন গঠনে নিষেধাজ্ঞা
  3. রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া বিদেশি খেতাব গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা
  4. রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা

- ৩০নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রের খেতাব, পুরস্কার, অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

অষ্টম সংশোধনী: 
অষ্টম সংশোধনী আইন ১৯৮৮ সালের ৭ জুন এই সংশোধনী আইন পাস হয়।
- এর দ্বারা সংবিধানের ২, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।

এই সংশোধনী আইনবলে
(১) ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
(২) ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
(৩) সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পরবর্তী সময়ে সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদের সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, কারণ তার দ্বারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৫৬.
সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী কে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল: [১৪৮ অনুচ্ছেদ]
- শপথ ও ঘোষণা।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
১। রাষ্ট্রপতি [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। ডেপুটি স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৫। সংসদ সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
৬। প্রধান বিচারপতি বা বিচারক [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৭.
বিশ্বের প্রথম আধুনিক লিখিত সংবিধান- 
  1. মদিনা সনদ
  2. যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান
  3. ম্যাগনাকার্টা
  4. ভারতের সংবিধান
ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান:
- জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে ১৭৮৭ সালে ফিলাডেলফিয়ায় একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
- এ সম্মেলনে আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- এ উদ্দ্যেশ্যে একটি সংবিধান প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
- এ সংবিধান রচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন জেমস ম্যাডিসন, আলেকজান্ডার হ্যামিলটন ও বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন।
- বিশ্বের প্রথম আধুনিক লিখিত সংবিধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ১৭৮৭ সালে গৃহীত হয়। 
- এটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার রূপায়ণের মূল দলিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভাগ, সরকারি শাখাগুলির ভূমিকা, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিক সংজ্ঞায়িত করে।
- সংবিধানটি গণতন্ত্রের রূপায়ণ ও মানবাধিকার বিষয়ে বিশ্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।

অন্যদিকে,
• মদিনা সনদ:
- পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান হলো মদিনা সনদ।
- মদিনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী ইহুদী, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক ও ‍মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতির জন্যে হযরত ‍মুহাম্মদ (স.) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে ‘মদিনা সনদ’ রচনা করেন।
- এতে ৪৭টি ধারা ছিলো।

• ম্যাগনা কার্টা:
- ম্যাগনা কার্টা (১২১৫) ইংল্যান্ডে রাজা জন অনুমোদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক দলিল।
- এটি রাজা ও শাসনের ক্ষমতা সীমিত করে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, যেমন সুবিচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
- এটি পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠে। 

ভারতের সংবিধান:
-  ভারতের সংবিধান ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান।
- এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রেখে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করে।

উৎস:
১. উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ১মপত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৭নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে -
  1. মন্ত্রীসভা
  2. প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ
  3. স্থানীয় শাসন
  4. মন্ত্রীদের পদের মেয়াদ
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৭ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়।
- প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ: অনুচ্ছেদ ৫৭ (১)অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হবে, যদি- 
 (ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন; অথবা 
 (খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন। 

- অনুচ্ছেদ ৫৭ (২)অনুযায়ী সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিংবা সংসদ ভেংগে দেয়ার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান করবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নন এই মর্মে সন্তুষ্ট হলে, সংসদ ভেংগে দিবেন। 

- অনুচ্ছেদ ৫৭ (৩) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করবে না।

অন্যদিকে, 
অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রীসভা।
অনুচ্ছেদ ৫৮ - মন্ত্রীদের পদের মেয়াদ। 
অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৯.
ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. ক) সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।
  2. খ) সংবিধানে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিল সংযোজন।
  3. গ) বিচারপতি অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের উপর অর্পণ।
  4. ঘ) বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি।
ব্যাখ্যা
ষোড়শ সংশোধনী 
- এই সংশোধনীর দ্বারা বিচারপতিদের অভিশংসন বা অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের অর্পণ করা হয়।
- বর্তমানে জাতীয় সংসদের সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতিদের অপসারণ করা হয়ে থাকে।

- এটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
- ৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। 
- পরে হাইকোর্ট একে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। আপিল বিভাগও ওই রায় বহাল রাখে। তবে, বর্তমানে এই রায়টি রিভিউতে রয়েছে।
 
অন্যদিকে,
সপ্তদশ সংশোধনী:  সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।
 
বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি : সপ্তম ও চতুর্দশ সংশোধনী।
১৯৮৬ সালে সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে তা ৬৫ বছরে এবং ২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনী দ্বারা অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬৭ বছরে উন্নীত করা হয়।
 
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার কর্তৃক জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের সপ্তম তফসিলে যুক্ত করা হয়।
এছাড়া একই সংশোধনীর মাধ্যমে ৫ম ও ৬ষ্ঠ তফসিল, বাহাত্তরের মূল সংবিধানের মূলনীতিসমূহ সহ আরো বেশ কিছু সংশোধনী গৃহিত হয়।

(সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
 
৬০.
'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী'-সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২৮
  2. অনুচ্ছেদ ২৭ 
  3. অনুচ্ছেদ ২৯ 
  4. অনুচ্ছেদ ২৫ 
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ - ২৭: আইনের দৃষ্টিতে সমতা- 
- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

সংবিধানে মৌলিক অধিকার: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২১ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২২ - নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- অনুচ্ছেদ ২৪ - জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ২৫ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২৬ - মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- অনুচ্ছেদ ২৮ - ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- অনুচ্ছেদ ২৯ - সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩০ - বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।
- অনুচ্ছেদে ৪৭ - কতিপয় আইনের হেফাজত বিষয়ে আইন বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১.
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রথম যুক্ত করা হয়েছিল সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. পঞ্চদশ সংশোধনী
  2. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  3. দশম সংশোধনী
  4. ষোড়শ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ সংশোধনী: 
- শিরোনাম: সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬
- পাস হয়: ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ।
- বিষয়বস্তু: একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যা অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
- সংবিধানে ৫৮(ক), ৫৮(খ), ৫৮(গ), ৫৮(ঘ), ৫৮(ঙ), এই ৫টি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়।
-  জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- গত ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও পত্রিকা।

৬২.
সংসদীয় সরকার কোন প্রকৃতির?
  1. ক) নমনীয়
  2. খ) অনমনীয়
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) স্বেচ্ছাচারী
ব্যাখ্যা

সংসদীয় সরকারের গুণাবলি : সংসদীয় সরকার আধুনিককালে জনপ্রিয় শাসন ব্যবস্থা। এ সরকারের গুণাবলি নিয়ে আলােচনা করা হলাে :
১। দায়িত্বশীলতা : মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ আইনসভার নিকট দায়ী থাকে, ফলে
সরকার দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে ।
২। নমনীয়তা : সংসদীয় সরকার নমনীয় প্রকৃতির। কেননা প্রয়ােজনবােধে যে কোন সময় সরকার মন্ত্রিসভার পরিবর্তন করতে পারে ।
৩। প্রতিনিধিত্ব মূলক শাসন ব্যবস্থা : মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার জন প্রতিনিধিত্ব মূলক শাসন ব্যবস্থা ।
নিবার্চিত প্রতিনিধিদের দ্বারা এটি গঠিত হয় । জনমতের উপর ভিত্তি করে শাসন পরিচালনা করে ।
৪। শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক : সংসদীয় সরকারের শাসন বিভাগ ও আইন
বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে । মন্ত্রিসভা অতি সহজে আইন পরিষদে আইন পাস করে নিতে
পারে। কেননা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্য ।
৫। সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা : শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযােগিতা থাকায় এ সরকার ব্যবস্থা
সুষ্ঠু শাসন প্রতিষ্ঠায় সক্ষম।
৬। স্বেচ্ছাচার বিরােধী : সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার ক্ষমতায় টিকে থাকা না থাকা নির্ভর করে আইন সভার আস্থা ও অনাস্থার ওপর। মন্ত্রীগণ সংসদের আস্থা অর্জনের জন্য শাসন কার্য পরিচালনায় মনােযােগী হয় । ফলে স্বেচ্ছাচারী সরকার প্রতিষ্ঠার আশংঙ্কা দূর হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের বিধান করা হয়?
  1. চতুর্দশ সংশোধনী
  2. পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. ষোড়শ সংশোধনী
  4. সপ্তদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চদশ সংশোধনী আইন:
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ২৫ জুন সংসদে পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল।
- সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীতকরণ করা হয়।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৪.
বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে কতজন চিকিৎসক ছিলেন?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
• খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে  আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে ২৪ জন আইনজীবী, ৪ জন প্রফেসর, ৩ জন সমাজকর্মী ও ১ জন ডাক্তার (ডা. ক্ষিতীশ চন্দ্র মণ্ডল), সাংবাদিক, কৃষিবিদ ছিলেন।
-এই কমিটিতে একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন ন্যাপ (মোজাফফর) থেকে ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত সদস্য সুরঞ্জিন সেনগুপ্ত। 
- কমিটিতে ৭ জন গণপরিষদ মহিলা সদস্য থেকে ১ (রাজিয়া বানু) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- সুরঞ্জিন সেনগুপ্ত ছাড়া বাকি সবাই ছিল আওয়ামী লীগের।
- কমিটিকে পরবর্তী ১০ জুনের মধ্যে গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া উপস্থাপন করতে বলা হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫.
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে সংরক্ষিত মহিলা আসন ছিল কতটি?
  1. ১০
  2. ১৫
  3. ৩০
  4. ৫০
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের বৈশিষ্ট্য:
- ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একটি মূল দলিল।
- এ সংবিধানটি উৎকৃষ্ট এবং বিভিন্ন দিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
- মূল সংবিধান একটি সুলিখিত দলিল।
- এতে ১টি প্রস্তাবনা, ৪টি তফসিল, ১১টি ভাগ এবং ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানে দেশের জন্য একটি এক-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার বিধান করা হয়।
- এতে ৩০০ জন নির্বাচিত আসন রাখা হয়।
- এবং ১৫ জন সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- মোট ৩১৫ জন সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে।
- পরবর্তীতে সংরক্ষিত মহিলা আসন বৃদ্ধি করে ৩০ জন।
- এবং চতুর্দশ সংশোধনীতে বৃদ্ধি করে তা ৪৫ জন এবং বর্তমানে ৫০ জন করা হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬.
বাংলাদেশ সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর
  2. ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল
  3. ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
  4. ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
 - সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
 - ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
 - ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান রচনার লক্ষ্যে ১০ এপ্রিল ৪৩০ জন সদস্য বিশিষ্ট গণ-পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
 - এদের মধ্য থেকে ৩৪ জন সদস্য নিয়ে একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
 - ১৯৭২ সালে ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান বিল গণ-পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পেশ করা হয়।
 -  বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৬৭.
Who is the President of the National Assembly of Bangladesh?
  1. ক) A Senior SP
  2. খ) Prime Minister
  3. গ) Speaker
  4. ঘ) Chief Whip
  5. ঙ) None
ব্যাখ্যা
স্পিকার:
- বাংলাদেশের জাতীয় পরিষদের সভাপতি - স্পিকার।
- সংসদের প্রধান নির্বাহী হিসেবে স্পিকারের মর্যাদা অনেক উপরে।
- সকল দেশের সংসদেই স্পিকার কে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়।
- সংসদের অভিভাবক হিসেবে তিনি সরকারী এবং বিরোধী উভয় দলের নিকট শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- সংবিধান অনুযায়ী সংসদের কাজ পরিচালনা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পিকার আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নন।
- স্পিকারকে দেয় পারিশ্রমিক সংযুক্ত তহবিলে দায়মুক্ত বলে গণ্য।

উৎসঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পৌরনীতি ২য় পত্র ।
৬৮.
কোন অনুচ্ছেদ বলে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী পরিবর্তনযোগ্য নয়?
  1. অনুচ্ছেদ ৭
  2. অনুচ্ছেল ৭(ক)
  3. অনুচ্ছেদ ৭(খ)
  4. অনুচ্ছেদ ৮
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৭খ: 
- সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

• ৭খ অনুচ্ছেদের বিস্তারিত:
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।

উল্লেখ্য,
৭নং অনুচ্ছেদে রয়েছে - সংবিধানের প্রাধান্য।
৭ক অনুচ্ছেদে রয়েছে - সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং
৮নং অনুচ্ছেদে ''রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ'' উল্লেখিত রয়েছে।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৯.
বাংলাদেশে প্রথম গণপরিষদের ডেপুটি স্পিকার কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
  2. শাহ আবদুল হামিদ
  3. মাহমুদুল্লাহ
  4. মোহাম্মদ উল্লাহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ:
- গণপরিষদ গঠন সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক বিধি-বিধানের সমষ্টি। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ গঠন করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এমন একটি গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গণরিষদ গঠনের আদেশ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- মৃত্যু এবং অন্য কোন কারণে বা আইনে অযোগ্য বলে ঘোষিত হওয়ার ফলে সর্বমোট (১৬৯+৩০০) ৪৬৯ জন সদস্যের স্থলে ৪০৩ জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়নের গুরুদায়িত্ব গণপরিষদের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের সভাপতিত্বে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে শাহ আবদুল হামিদ স্পিকার ও মোহাম্মদ উল্লাহ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন
- ২ মে, ১৯৭২ শাহ আবদুল হামিদ মারা গেলে মোহাম্মদ উল্লাহ স্পিকার নির্বাচিত হন।

• গণপরিষদের অধিবেশন:
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- সরকারের আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৩৪ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) সংবিধান থেকে কার্যকর হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
সংসদে বেসরকারি বিল উত্থাপন করেন কারা?
  1. বিরোধী দলীয় সদস্যবৃন্দ
  2. সংসদ সদস্যবৃন্দ
  3. টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীবর্গ
  4. হুইপবৃন্দ
ব্যাখ্যা
আইনের খসড়া বা আইনের পাশের জন্যে সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবকে বিল বলে।
মন্ত্রীগণ উত্থাপিত বিলকে সরকারি বিল এবং মন্ত্রী ব্যতীত সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত বিলকে বেসরকারি বিল বলে। বিল পাশ হলে তা আইনে পরিণত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৭১.
সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল -
  1. ৪০৩ জন
  2. ৪১৩ জন
  3. ৪৩৪ জন
  4. ৪৯৩ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ:
- সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- আইনের দৃষ্টিতে অযোগ্য বলে বিবেচিত এমন ব্যক্তিকে গণপরিষদের সদস্য হতে পারতেন না।
- গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন।

⇒ ৪০৩ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- গণপরিষদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মনোনীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাব অনুযায়ী গণপরিষদের প্রবীনতম সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর সভাপতিত্বে গণপরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিধানটি বর্ণিত আছে?
  1. ৬৬ নং
  2. ৬৭ নং
  3. ৭০ নং
  4. ৭৭ নং
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে বলা হয় ফ্লোর ক্রসিং৷

• ৭০ নং অনুচ্ছেদ:
- রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া -
- সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি -
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
- তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না।

অন্যদিকে,
- ৬৬ নং অনুচ্ছেদ: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা,
- ৬৭ নং অনুচ্ছেদ: সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া,
- ৭৭ নং অনুচ্ছেদ: ন্যায়পাল।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৩.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি’ বর্ণিত আছে?
  1. ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদে
  2. ২৩(ক) নং অনুচ্ছেদে
  3. ২৫ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৩৪ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে 'উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি'র বিষয়টি বর্ণিত আছে।
- এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৮ক নং: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২৫ নং: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ৩৪ নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৪.
ন্যাশনাল পে কমিশন - কবে গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) ১৯৭৩
  4. ঘ) ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে (১৯৭২-৭৫) সরকার দুটি বড় কমিটি নিয়োগ করে, প্রশাসন ও চাকুরি পুনর্গঠন কমিটি ১৯৭২ এবং ন্যাশনাল পে কমিশন ১৯৭২।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭৫.
নিম্নের বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত?
  1. অনুচ্ছেদ ৫৬
  2. অনুচ্ছেদ ৫৭
  3. অনুচ্ছেদ ৫৮
  4. অনুচ্ছেদ ৫৯
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯ এ স্থানীয় শাসন এবং ৬০- এ স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৫৯: স্থানীয় শাসন-
(১) আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।
(২) এই সংবিধান ও অন্য কোন আইন-সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা যেরূপ নির্দিষ্ট করিবেন, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় উল্লিখিত প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান যথোপযুক্ত প্রশাসনিক একাংশের মধ্যে সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন এবং অনুরূপ আইনে নিম্নলিখিত বিষয় সংক্রান্ত দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত হইতে পারিবে:
(ক) প্রশাসন ও সরকারী কর্মচারীদের কার্য;
(খ) জনশৃংখলা রক্ষা;
(ক) জনসাধারণের কার্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

অন্যদিকে, উল্লিখিত অনুচ্ছেদসমূহের বিষয়বস্তু:
অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ;
অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ;
অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৬.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন কে?
  1. ড. কামাল হোসেন
  2. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  3. মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. শাহ আবদুল হামিদ
ব্যাখ্যা
সংবিধান প্রনয়ণ কমিটি:
- সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।

⇒ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে আইন ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়।
- কমিটি প্রথম বৈঠকে করে ১৯৭২ সালে ১৭ এপ্রিল।
- ১৯৭২ সালের ১০ জুন কমিটির শেষ বৈঠকে সংবিধানের প্রাথমিক খসড়াটি অনুমোদন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ জুনের মধ্যে কমিটি বিল আকারে একটি খসড়া শাসনতন্ত্রসহ রিপোর্ট পেশ করার কথা থাকলেও কমিটির পক্ষে সভাপতি কামাল হোসেন ১২ অক্টোবর ১৯৭২ 'সংবিধান বিল' গণপরিষদে উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
EVM বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন
  2. খ) ইলেক্ট্রিক মেশিন
  3. গ) ইলাস্টিক ভোটিং মেশিন
  4. ঘ) এফেসিয়েন্ট ভোটিং মেশিন
ব্যাখ্যা
- ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম হচ্ছে আধুনিক বিশ্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোট দেওয়ার একটি ডিজিটাল যন্ত্র।
- এটি একাধারে সঠিকভাবে ভোটগ্রহণ ও দ্রুততার সঙ্গে তা গণনা করতে সক্ষম।
- ১৯৬৪ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হয়।
- বাংলাদেশে এর যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের কার্যকরী সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে।
- পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ১৪টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট নেওয়া হয়।
- অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ইভিএমের সাহায্যে ভোট নিতে দেখা যায়।
- ভোটকেন্দ্রেই মূলত ইভিএম ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যালট, কন্ট্রোল, ডিসপ্লে নামের একাধিক ইউনিট থাকে।
- ব্যালট ইউনিটের ওপর প্রতিটি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক সাজানো থাকে।
- পাশে থাকে একটি করে সুইচ।
- ভোটার তার পছন্দের প্রতীকের পাশের সুইচ চেপে ভোট দেন।
- প্রতিটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে থাকে ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট।

   উৎস:- দৈনিক ইত্তেফাক।
৭৮.
সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এর ইংরেজি নাম কী?
  1. National Assembly
  2. National Parliament
  3. Parliament
  4. House of the Nation
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫: সংসদ-প্রতিষ্ঠা:

(১) "জাতীয় সংসদ নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।

---------------
⇒ Article 65. Establishment of Parliament:
(1) There shall be a Parliament (to be known as the House of the Nation) in which, subject to the provisions of this Constitution, shall be vested the legislative powers of the Republic:
Provided that nothing in this clause shall prevent Parliament from delegating to any person or authority, by Act of Parliament, power to make orders, rules, regulations, bye laws or other instruments having legislative effect.

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান। 
৭৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে "সকল শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা" উল্লেখ করা হয়েছে-
  1. ১৮ অনুচ্ছেদ 
  2. ১৯ অনুচ্ছেদ 
  3. ১৫ অনুচ্ছেদ 
  4. ১৭ অনুচ্ছেদ 
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১০ - সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১১ - গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।
- অনুচ্ছেদ ১২ - ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ১৩ - মালিকানার নীতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪ - কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৫ - মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।
- অনুচ্ছেদ ১৬ - গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- অনুচ্ছেদ ১৭ - অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- অনুচ্ছেদ ১৮ - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- অনুচ্ছেদ ১৮(ক) - পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ১৯ - সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৮০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংসদের অধিবেশনের উল্লেখ করেছে?
  1. ৭২নং অনুচ্ছেদ
  2. ৭৩নং অনুচ্ছেদ
  3. ৭৪নং অনুচ্ছেদ
  4. ৭৫নং অনুচ্ছেদ
  5. ৭৬নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

তথযসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৮১.
জাতীয় সংসদে আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি করা হলে তার দায়িত্ব হবে -
  1. ক) সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্য তদন্ত করা
  2. খ) নিজ দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন করা
  3. গ) সংসদের বিল রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপন করা
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
ন্যায়পাল
'ন্যায়পাল' শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Ombudsman'। এর অর্থ হলো প্রতিনিধি বা মুখপাত্র। অর্থাৎ, ন্যায়পাল অন্যের জন্য কথা বলবেন। ন্যায়পাল বা Ombudsman-এর পদ সর্বপ্রথম সৃষ্টি হয় ১৮০৯ সালে, সুইডেনে। ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল পদ প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়পালের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। 

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়পাল হলো সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত কমিশনার বা কর্মকর্তা যিনি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করেন। বছর শেষে ন্যায়পাল তার দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত একটি বার্ষিক রিপোর্ট প্রদান করবেন এবং তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮২.
'অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন' সংবিধানের কোন তফসিলে বর্ণিত আছে?
  1. ২য়
  2. ৫ম
  3. ৪র্থ
  4. ১ম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি। যথা:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৮৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে মূলনীতিসমূহের উল্লেখ রয়েছে?
  1. ক) ২য়
  2. খ) ৮ম
  3. গ) ৯ম
  4. ঘ) ১১শ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২য় ভাগে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং.২য় ভাগের ৮ম অনুচ্ছেদে ৪ টি মূলনীতির উল্লেখ রয়েছে।
উৎসঃ বাংলাদেশ সংবিধান

দ্বিতীয় ভাগ - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

মূলনীতিসমূহ
৮৷ (১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।
(২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না৷

৮৪.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সাম্য
  2. মানবিক মর্যাদা
  3. বহুত্ববাদ
  4. ধর্মনিরপেক্ষতা
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয় ধর্মনিরপেক্ষতা।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ: 
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮(১) অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি চারটি। যথা: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
- সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম - ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- এই চারটি মূলনীতিকে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

• জাতীয়তাবাদ: ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি,(অনুচ্ছেদ ৯)।
• সমাজতন্ত্র: মানুষের উপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হল রাষ্ট্রের লক্ষ্য, (অনুচ্ছেদ ১০)।
• গণতন্ত্র: প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, (অনুচ্ছেদ ১১)।
• ধর্মনিরপেক্ষতা: ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা অবসান, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করা এবং কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিপীড়নের অবসান, (অনুচ্ছেদ ১২)।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার কমিশন বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতির পরিবর্তে নতুন মূলনীতি হিসেবে 'সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র'র কথা সুপারিশ করেছে।

উৎস: i) BBC.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) লিখিত দলিল
  2. খ) ন্যায়পাল
  3. গ) সংসদীয় পদ্ধতির সরকার
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
-  ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরী হয়।
- মূল সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. লিখিত দলিল।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়।
৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
৪. মৌলিক অধিকার।
৫. এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র।
৬. প্রজাতন্ত্র।
৭. এক-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
৮. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার।
৯. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
১০. ন্যায়পাল।
১১. সাংবিধানিক প্রাধান্য।

উৎস: পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।
৮৬.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার কয়টি ভাগ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৮৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে কাউকে নিজের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না?
  1. অনুচ্ছেদ - ৩২
  2. অনুচ্ছেদ - ৩৩
  3. অনুচ্ছেদ - ৩৪
  4. অনুচ্ছেদ - ৩৫
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় - গণপরিষদের মাধ্যমে।
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

৩৫।অনুচ্ছেদ অনুসারে: 

(১) কেউ যদি কোনো অপরাধ করেন, তাহলে সেই অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন কার্যকর ছিল, সে আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে। নতুন কোনো কঠোর শাস্তি তাকে দেওয়া যাবে না।
(২) একবার যদি কাউকে কোনো অপরাধের জন্য বিচার করে শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে তাকে একই অপরাধে আবার বিচার করা বা শাস্তি দেওয়া যাবে না।
(৩) ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ উঠলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে দ্রুত এবং প্রকাশ্যে বিচার পাওয়ার অধিকারী থাকবেন।
(৪) কাউকে নিজের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না।
(৫) কাউকে নির্যাতন করা যাবে না, নিষ্ঠুর বা অমানবিক শাস্তি দেওয়া যাবে না, কিংবা লজ্জাজনক আচরণ করা যাবে না।
(৬) প্রচলিত আইনে যে শাস্তি বা বিচারপদ্ধতি নির্ধারিত আছে, তা এই অনুচ্ছেদের (৩) বা (৫) দফার কোনো কিছুর দ্বারা প্রভাবিত হবে না।

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ ৩২: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ, 
- অনুচ্ছেদ ৩৩: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, 
- অনুচ্ছেদ ৩৪: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ। 

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান। 

৮৮.
সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. ক) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
  2. খ) মহাহিসাব নিরীক্ষক
  3. গ) নির্বাচন কমিশন
  4. ঘ) এটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
⇨ যেসব প্রতিষ্ঠান সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
⇨ বাংলাদেশে এ ধরণের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা সাংবিধানিক উপায়ে প্রতিষ্ঠিত। যথা:-
১। এটর্নি জেনারেল
২। নির্বাচন কমিশন
৩। মহাহিসাব নিরীক্ষক
৪। সরকারি কর্ম কমিশন

অন্যদিকে,
⇨ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, জীবন বীমা কর্পোরেশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন হলো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধান।
৮৯.
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন কয়টি?
  1. ক) ৪৫
  2. খ) ৫০
  3. গ) ৫৫
  4. ঘ) ৭৫
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আইনসভা আর বামগালদেশের আইন সভার নাম জাতীয় সংসদ। 
- এটি এক কক্ষবিশিষ্ট বিশিষ্ট যার সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন। 
- এর মধ্যে ৩০০ আসনের সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। 
- বাকি ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। 
- এলাকাভিত্তিক সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণ ৩০০ টি আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ 'নির্বাচন কমিশন' গঠনের বিধান রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১১৮
  3. অনুচ্ছেদ ১১৯
  4. অনুচ্ছেদ ১২০
ব্যাখ্যা

• নির্বাচন কমিশন:
- বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আছে।
- নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন ও অন্য নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠন কথা বলা হয়েছে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশন সমন্বয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদেরকে রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগ দান করেন।

অন্যদিকে,
- ১১৭ নং অনুচ্ছেদ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত।
- ১১৯ নং অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কিত।
- ১২০ নং অনুচ্ছেদ  নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ সম্পর্কিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৯১.
ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কোন ব্যবস্থার বিধান করা হয়?
  1. একক দলীয় সরকার
  2. জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন
  3. নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  4. স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী:
-  ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহিত হয়।
- এর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়, যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবে।

 • সংবিধানে নূতন ২ক পরিচ্ছেদের সন্নিবেশ।
- সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ২য় পরিচ্ছেদের পর নিম্নরূপ নূতন পরিচ্ছেদ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

"২ক পরিচ্ছেদ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার:

৫৮(খ)। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
(১) সংসদ ভাংগিয়া দেওয়ার পর বা মেয়াদ অবসানের কারণে ভংগ হইবার পর যে তারিখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কার্যভার গ্রহণ করেন সেই তারিখ হইতে সংসদ গঠিত হওয়ার পর নূতন প্রধানমন্ত্রী তাঁহার পদের কার্যভার গ্রহণ করার তারিখ পর্যন্ত মেয়াদে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকিবে।
(২) নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার যৌথভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকিবেন।
(৩) (১) দফায় উল্লেখিত মেয়াদে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা,

৫৮ঘ (১) অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রযুক্ত হইবে এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী তৎ-কর্তৃক উহা প্রযুক্ত হইবে। 

উৎস: সংবিধান।

৯২.
সংবিধানে সর্বশেষ স্বাক্ষরকারী ব্যক্তি কে?
  1. মইন ইউ আহমেদ
  2. সদর উদ্দীন আহমেদ
  3. সৈয়দ শাহ আবু শফি
  4. হাসেম খান
ব্যাখ্যা
সংবিধান রচনার সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ-
কে এম আব্দুল রউফ - হস্ত লিখিত মূল সংবিধানের লেখক।
ড. আনিসুজ্জামান - প্রধান ভাষা বিশেষজ্ঞ।
আই গাথরি - রচনা কমিটির বিদেশি বিশেষজ্ঞ। বৃটিশ আইনজীবী।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন - নকশ ও অঙ্গসজ্জার মূল তত্ত্বাবধায়ক।
শিল্পী হাসেম খান - নকশ ও অঙ্গসজ্জার সহযোগী।
সৈয়দ শাহ আবু শফি - সংবিধানে চামড়ার কাজ করেন।
সদর উদ্দীন আহমেদ - সংবিধানে সর্বশেষ স্বাক্ষরকারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, সরকারি তথ্য বাতায়ন।
৯৩.
সংবিধান প্রণয়নের সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন-
  1. ক) ড. কামাল হোসেন
  2. খ) আবু সাইদ চৌধুরী
  3. গ) মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- গণপরিষদের প্রথম ও শেষ অধিবেশন যথাক্রমে ১০ এপ্রিল এবং ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২
- গণপরিষদ নেতা- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- সংবিধান প্রণয়নের সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
- গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার যথাক্রমে শাহ আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ উল্লাহ

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান
৯৪.
কততম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযোজন করা হয়?
  1. ক) ত্রয়োদশ সংশোধনী
  2. খ) চতুর্দশ সংশোধনী
  3. গ) পঞ্চদশ সংশোধনী
  4. ঘ) ষোড়শ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

- ২০১১ সালের ৩রা জুলাই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা সংবিধানের সপ্তম তফসিলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযোজন করা হয়।
- পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা গৃহিত অন্যান্য বিধানাবলির মধ্যে রয়েছে:
- পঞ্চম তফসিলে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণ সংযোজন
- ষষ্ঠ তফসিলে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা সংযোজন
- বাহাত্তরের মূল সংবিধানের মূলনীতিসমূহ পুনঃস্থাপন
৪ক অনুচ্ছেদ (জাতির পিতার প্রতিকৃতি) সংযোজন
- ২ক অনুচ্ছেদে (রাষ্ট্রধর্ম) সংশোধন প্রভৃতি।

সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট
৯৫.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর ক্ষেত্রে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়?
  1. পঞ্চম সংশোধনী
  2. দ্বাদশ সংশোধনী
  3. দশম সংশোধনী
  4. ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- দ্বাদশ সংশোধনী বিষয়ে জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- গণভোটে অধিকাংশ জনগণ সংশোধনীর পক্ষে ভোট প্রদান করলে ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেন।
- এর আগে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৯৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ঠ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. নির্বাচন
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৯৭.
কোনটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) দুর্নীতি দমন কমিশন
  2. খ) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
  3. গ) জাতীয় তথ্য কমিশন
  4. ঘ) মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা
• সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান:
- যেসব প্রতিষ্ঠান সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- বাংলাদেশে এ ধরণের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা সাংবিধানিক উপায়ে প্রতিষ্ঠিত। যথা:-
১। এটর্নি জেনারেল
২। নির্বাচন কমিশন
৩। মহাহিসাব নিরীক্ষক
৪। সরকারি কর্ম কমিশন

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধান।
৯৮.
নিচের কোন দেশের সংবিধান অলিখিত সংবিধান?
  1. বাংলাদেশ
  2. ভারত
  3. সুইডেন
  4. নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- রাষ্ট্র পরিচালনার হাতিয়ার হলো সংবিধান।
- লেখার ভিত্তিতে সংবিধান দুই ধরনের। 

লিখিত সংবিধান:
- লিখিত সংবিধান বলতে সেই সংবিধানকে বুঝায় যার ধারা বা নিয়মাবলী কোন দলিলে লিপিবদ্ধ করা থাকে।
- যেমন: বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, ডেনমার্ক প্রভৃতি দেশের সংবিধান লিখিত সংবিধান।

অলিখিত সংবিধান:
- অলিখিত সংবিধান বলতে সেই সংবিধানকে বুঝায় যার ধারা বা নিয়মাবলী কোন দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না।
- যেমন: যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, সৌদি আরব ও ইসরায়েল প্রভৃতি দেশের সংবিধান অলিখিত সংবিধান।

উৎস: World Atlas.
৯৯.
‘বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ ৩১ 
  2. খ) অনুচ্ছেদ ২৯
  3. গ) অনুচ্ছেদ ২৭
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ ৩০
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৩০: বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ
রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হতে কোন উপাধি, খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করতে পারবে না।
- অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের দৃষ্টিতে সমতা
- অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।

১০০.
কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন?
  1. ক) ৪৮ (৩)
  2. খ) ৫৫ (৩)
  3. গ) ৫৬ (২)
  4. ঘ) ৫৬ (৩)
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা ও কার্যাবলি 

- বাংলাদেশ সরকারের সকল নির্বাহী কার্যক্রম রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হবে। [অনুচ্ছেদ: ৫৫(৪)]
- তিনি সরকারি কার্যাদি বণ্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ বা নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করবেন। [অনুচ্ছেদ: ৫৫(৬)]
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদেরকে নিয়োগ করবেন। [অনুচ্ছেদ: ৫৬ (২)]
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ করবেন। [অনুচ্ছেদ: ৫৬(৩)]
- রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কের্টের প্রধান বিচারপতি, কর্ম-কমিশনের সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল, - - মহা-হিসাবরক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং বিদেশে রাষ্ট্রদূতদেরকে নিয়োগ করবেন। [অনুচ্ছেদ: ৯৫]
- সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি সামরিক কর্মকর্তাদেরকে নিয়োগ করবেন এবং প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ পরিচালনা করবেন। [অনুচ্ছেদ: ৬১]

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।