বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়

মোট প্রশ্ন৫৮এই পাতা৫৮প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়

PrepBank · পাতা / · ৫৮ / ৫৮

.
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি? 
  1. শব্দ
  2. বর্গ
  3. অক্ষর
  4. রূপমূল
ব্যাখ্যা

শব্দ ও রূপমূল:
শব্দকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করলে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা অর্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করে। ভাষার এই ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয় রূপমূল। অর্থাৎ, রূপমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের সুস্পষ্ট অর্থ থাকবে বা অন্ততপক্ষে অর্থের কোনো যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে।

আমরা জানি, ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।

উদাহরণ:
• শব্দ: অবোধ।
• রূপমূল বিশ্লেষণ: অ + বোধ,

এখানে,
• ‘অ’ → উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত, স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও অভাব বোঝায়।
• ‘বোধ’ → স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

রূপমূলের শ্রেণীবিন্যাস:
- মুক্ত রূপমূল (Free Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
উদাহরণ: বোধ, গান, মাটি।
- বদ্ধ রূপমূল (Bound Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, অন্য রূপমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ বোঝায়।
উদাহরণ: ‘অ’ (অবোধে), ‘উৎ’ (উৎক্ষেপণে)।
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলা অভিধানের বর্ণানুক্রমে কোন শব্দটি সবার আগে বসবে?
  1. কোকনদ
  2. কোকেন
  3. কোঁদল
  4. কোঙর
ব্যাখ্যা
• বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে আগে বসবে - 'কোঁদল' শব্দটি।

বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ, 
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড,  ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ। 
---------------
সে অনুসারে সঠিক শব্দক্রম হবে,
কোঁদল → কোকনদ → কোকেন → কোঙর। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'সংযতবাক' অর্থে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. বাগ্মী
  2. স্পষ্টভাষী
  3. প্রগলভ
  4. মিতভাষী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সংযতবাক' একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দটির অর্থ: স্বল্পভাষী, মিতভাষী।

অন্যদিকে,
’বাগ্মী’ শব্দের অর্থ: বানিপুণ, বাকপটু, সুবক্তা।
’স্পষ্টভাষী’ শব্দের অর্থ: স্পষ্টবক্তা।
’প্রগলভ’ শব্দের অর্থ: বাচাল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'জিজীবিষা' শব্দটি দিয়ে কী নির্দেশ করে?
  1. জীবন-জীবিকার পথ
  2. জয়ের ইচ্ছা
  3. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
  4. যুদ্ধ করার ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

• জিজীবিষা (বিশেষ্য):
অর্থ -
১. বেঁচে থাকার ইচ্ছা;
২. জীবনের আকাঙ্খা (তখনকার মরণাতঙ্ক নিরুপম জিজীবিষার উত্তরসাক্ষ্য নয়-সুধীন্দ্রনাথ দত্ত)।

জিজীবিষু (বিশেষণ): বেঁচে থাকতে ইচ্ছুক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
কোনটি প্রাতিপদিকের উদাহরণ?
  1. গাছে
  2. ঘর
  3. পদ্মর 
  4. ঘোড়ায়
ব্যাখ্যা

• প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।

প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

অন্যদিকে,
গাছে ও ঘোড়ায় সপ্তমী এবং পদ্মর শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অশিক্ষিত' শব্দের গঠন কোনটি?
  1. উপসর্গ + মূল শব্দ
  2. ধাতু + প্রত্যয়
  3. ধাতু + উপসর্গ
  4. অব্যয় + অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) উপসর্গ + মূল শব্দ।

বিশ্লেষণ:
'অশিক্ষিত' শব্দের গঠন:

- অ (উপসর্গ) + শিক্ষিত (মূল শব্দ)।

এখানে:
- 'অ' একটি নেতিবাচক উপসর্গ যা 'না' বা 'নয়' অর্থ প্রকাশ করে
- 'শিক্ষিত' হলো মূল শব্দ যার অর্থ 'যে শিক্ষা লাভ করেছে'
- 'অ' উপসর্গ যোগে 'শিক্ষিত' শব্দের বিপরীত অর্থ তৈরি হয়েছে - 'যে শিক্ষা লাভ করেনি'।

অনুরূপ উদাহরণ:
- অসুস্থ = অ + সুস্থ;
- অযোগ্য = অ + যোগ্য;
- অপরিচিত = অ + পরিচিত।

সুতরাং 'অশিক্ষিত' শব্দটি উপসর্গ + মূল শব্দ দিয়ে গঠিত।
 
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'তুমি খেতেই পারো না।' এই বাক্যে 'খেতে' শব্দের সঙ্গে যুক্ত 'ই' এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. যোজক
  2. নির্দেশক
  3. বলক
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• তুমি খেতেই পারো না। 
এখানে "খেতে" ক্রিয়ার সঙ্গে "ই" যুক্ত হয়ে "খেতেই" হয়েছে। এই "ই" হলো একটি বলক (বা নিযুক্তি বলক), যা ক্রিয়ার ওপর জোর বা অনিবার্যতা বোঝায়।
যেমন:
- সে করতেই হবে।

------------------
• শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের।
যথা
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
যেমন- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা 'টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

.
‘পদ্ম’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. পদ্‌দো
  2. পদ্‌মোঁ
  3. পদ্‌দোঁ
  4. পদো্মঁ
ব্যাখ্যা
• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
‘চেহারা’ শব্দের উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. আরবি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফরাসি 
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

‘চেহারা’ শব্দের উৎপত্তি ফারসি ভাষা থেকে। 

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

• পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ:
আনারস, কামরা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তোয়ালে, পাউরুটি, পাদরি, পেয়ারা, বালতি, বোতল, বোতাম ইত্যাদি।

• ‘তুর্কি’ ভাষার শব্দ:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বন্দুক, তোশক, বেগম, বাবা, বিবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০.
‘সাংবাদিক’ শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. দ্বিত্ব ব্যবহার করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন,
'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।
সুতরাং বলা যায়, 'সাংবাদিক' শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
শব্দ গঠন প্রক্রিয়া নয় কোনটি?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. সমাস
  4. কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শব্দ গঠন প্রক্রিয়া নয়- কারক।  

--------------------
শব্দ গঠনের কিছু প্রক্রিয়া হলো- 

• উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• সমাস: শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: 'হাট' ও 'বাজার' শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় 'হাটবাজার'।

• শব্দদ্বিত্ব: এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১২.
বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি শব্দ গঠন হয় কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে?
  1. স্বরসন্ধি
  2. প্রত্যয়
  3. কারক
  4. ব্যঞ্জনসন্ধি
  5. সমাস
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি শব্দ গঠন হয় উপসর্গ ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে।


• এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে। শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি। ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু। নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়। নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: কর্, যা, চল্, ধূ ইত্যাদি।

নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোর নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়:

উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।
উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়।

-------------------------
উপসর্গ ও প্রত্যয় ছাড়া শব্দ গঠনের আরো কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস।
• সমাস:
শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: ‘হাট’ ও ‘বাজার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় ‘হাটবাজার’।

• শব্দদ্বিত্ব:
এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

• পদ:
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'ত বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'অশীতিপর' শব্দের অর্থ কী?
  1. শীত সহ্য করতে অক্ষম ব্যক্তি
  2. আশি বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তি
  3. শীতে কাতর নয় এমন ব্যক্তি
  4. প্রাচীন ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসী ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• 'অশীতিপর' শব্দের অর্থ -

আশি বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তি।
১৪.
অভিধানের বর্ণানুক্রমে কোনটি আগে বসবে?
  1. জনতন্ত্র
  2. জনতা
  3. জনগোষ্ঠী
  4. জননী
ব্যাখ্যা
• বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে আগে বসবে - জনগোষ্ঠী শব্দটি।

• জনগোষ্ঠী (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: জনসমাজ। 

অন্যান্য অপশন গুলোর ক্ষেত্রে বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে আগে বসবে-
• জনতন্ত্র (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: জনসাধারণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন-ব্যবস্থা, গণতন্ত্র।

• জনতা (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সাধারণ মানুষ, জনসাধারণ, অনেক লোকের একত্রসমাবেশ।

• জননী (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: মাতা, মা, আম্মা, জন্মদাত্রী, গর্ভধারিণী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলে-
  1. উপসর্গ
  2. বলক
  3. প্রত্যয়
  4. ক্রিয়ামূল
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক।
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
যেমন-
'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অজানা), অভিযোগ (অভিযোগ), বেতার (বে-তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
 শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন-
- বাঘ + আ = বাঘা।
- দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: 'লিখ্‌ + আ = লিখা; এখানে, লিখ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৬.
’দাওয়া’ শব্দের অর্থ কী?
  1. নিমন্ত্রণ
  2. জানালার শিক
  3. আহ্বান
  4. বারান্দা
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
’দাওয়া’ একটি দেশি শব্দ।
শব্দটির অর্থ- বারান্দা, রোয়াক।

এছাড়া ও ,
’দাওয়া’ অর্থ- অধিকার; স্বত্ব; পাওনা।

অন্যদিকে,
- ’নিমন্ত্রণ’ অর্থ- আমন্ত্রণ; ভোজে আহ্বান।
- ’দাওয়াই’ অর্থ-. ওষুধ।
- ’দাওয়াখানা’ অর্থ- ঔষধালয়।
- ’দাওয়াত’ অর্থ- নিমন্ত্রণ, আমন্ত্রণ।
- গরাদ অর্থ- জানালার শিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।

১৭.
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বলে?
  1. নির্দেশক
  2. বচন
  3. বলক
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

• বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৮.
ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়েছে কোন শব্দে?
  1. যুগ্ম
  2. গুল্ম
  3. জন্ম
  4. শ্মশান
ব্যাখ্যা
• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
নিচের কোনটি লগ্নক নয়?
  1. এর
  2. লাম
  3. টি
  4. উপ
ব্যাখ্যা

• 'উপ' লগ্নন নয়। এটি একটি  উপসর্গ।

• লগ্নক:

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

• বিভক্তি:

- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫ সংস্করণ)

২০.
শব্দ গঠন প্রক্রিয়াসমূহের কোনটি শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে?
  1. প্রত্যয়
  2. বচন
  3. উপসর্গ
  4. বলক
  5. গ ও ঘ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি শব্দ গঠন হয় উপসর্গ ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে।

• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। যেমন- 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। যেমন- 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়। উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়।

• বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। যেমন- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। যেমন- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১.
অভিধানের বর্ণানুক্রমে কোনটি আগে বসবে?
  1. চাঁদা
  2. চাকরি
  3. চাঁপা
  4. চাকা
ব্যাখ্যা
• বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ,
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ।

তাই, • বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে বসবে: 
চাঁদা → চাঁপা → চাকরি → চাকা  এই হলো সঠিক বর্ণানুক্রম।

সঠিক উত্তর: ক) চাঁদা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২.
'এখনও এই  চাকুরীতে আছো?' বাক্যে এখনও শব্দের সাথে যুক্ত 'ও' কে কী বলে? 
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. বলক
ব্যাখ্যা

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৩.
'তোমাকে কাজটি করতেই হবে।'- বাক্যে 'করতে' শব্দের সঙ্গে যুক্ত ই-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. বলক
  2. বিভক্তি
  3. যোজক
  4. নির্দেশক
ব্যাখ্যা

• বাক্যটিতে "করতে" ক্রিয়ার সঙ্গে "ই" যুক্ত হয়ে "করতেই" হয়েছে।
- এই "ই" হলো একটি বলক (বা নিযুক্তি বলক), যা ক্রিয়ার ওপর জোর বা অনিবার্যতা বোঝায়।

যেমন:
- "তুমি খেতেই পারো না।"
- "সে করতেই হবে।"

---------------------
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের:।
যথা- 
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন - 
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
‘লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা ‘টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

২৪.
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে কী বলা হয়?
  1. নামপদ
  2. উপপদ
  3. প্রাতিপদিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রাতিপদিক:
- ‘লাজ’, ‘বড়’, ‘ঘর’- এ শব্দগুলাের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫.
'কথিত' শব্দটির গঠন কোনটি?
  1. উপসর্গ + মূল শব্দ
  2. উপসর্গ + ধাতু + প্রত্যয়
  3. ধাতু + প্রত্যয়
  4. দুটি শব্দের সন্ধি
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর — গ) ধাতু + প্রত্যয়।

'কথিত' শব্দের গঠন বিশ্লেষণ:
— কথ্ = ধাতু (√ কথ্ = বলা);
— ইত = প্রত্যয় (কৃত প্রত্যয়);
— কথ্ + ইত = কথিত।

ব্যাখ্যা:
'কথিত' শব্দটি 'কথ্' ধাতুর সাথে 'ইত' কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। এর অর্থ 'যা বলা হয়েছে' বা 'উক্ত'।

অনুরূপ উদাহরণ:
— লিখ্ + ইত = লিখিত (যা লেখা হয়েছে)।
— পঠ্ + ইত = পঠিত (যা পড়া হয়েছে)।
— শুোন্ + ইত = শ্রুত > শোনিত (যা শোনা হয়েছে)।
— রক্ষ্‌ + ইত = রক্ষিত (যা রক্ষা হয়েছে)।

উল্লেখ্য, 
'ইত' প্রত্যয়টি ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে কৃদন্ত পদ গঠন করে এবং সাধারণত অতীত কালের ভাব বা সম্পন্ন কাজ বোঝায়।
 
 উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬.
”বাগ্মী” শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. স্বল্পভাষী
  2. সুবক্তা
  3. মিতভাষী
  4. সংযমী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'বাগ্মী' শব্দের অর্থ: বানিপুণ, বাকপটু, সুবক্তা।

অন্যদিকে,
• 'সংযতবাক'- শব্দটির অর্থ: স্বল্পভাষী, মিতভাষী।
• 'স্পষ্টভাষী' শব্দের অর্থ: স্পষ্টবক্তা।
• ‘সংযতাত্মা’ শব্দের অর্থ-  সংযমী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৭.
শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া নয় কোনটি?
  1. কারক
  2. শব্দদ্বিত্ব
  3. সমাস
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় শব্দ সাধন বা গঠন হয় না- কারকের  মাধ্যমে। 

শব্দ গঠনের কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে এগুলো হচ্ছে:
• উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• সমাস: শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: 'হাট' ও 'বাজার' শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় 'হাটবাজার'।

• শব্দদ্বিত্ব: এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।
২৮.
উপসর্গ ও প্রত্যয় ব্যতীত শব্দ গঠনের প্রধান প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. সমাস
  2. শব্দদ্বিত্ব
  3. বচন
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়। উপসর্গ ও প্রত্যয় ছাড়া শব্দ গঠনের আরো কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস, যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন 'হাট' ও 'বাজার' শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় 'হাটবাজার'। এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

• বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৯.
নিম্নে কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. হাতল
  2. পানসা
  3. ফুলেল 
  4. লাল
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ = লাল।

• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
⇒ যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
⇒ যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পানসা, ফুলেল ও হাতল ইত্যাদি সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০.
অভিধানে ব্যবহৃত 'কৈশোর' - এর পরে বর্ণানুক্রমে কোন শব্দটি প্রথমে আসবে? 
  1. কোঁদল
  2. কোঙর
  3. কোকেন
  4. কোকনদ
ব্যাখ্যা

• অভিধানে ব্যবহৃত 'কৈশোর' এর পরে অভিধানে আগে বসবে - 'কোঁদল' শব্দটি।

বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:


অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ, 
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড,  ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ। 
---------------
সে অনুসারে সঠিক শব্দক্রম হবে,
কোঁদল → কোকনদ → কোকেন → কোঙর। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩১.
বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি শব্দ গঠন হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. সমাস 
  2. শব্দদ্বিত্ব
  3. উপসর্গ
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি শব্দ গঠন হয় উপসর্গ ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে।

নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোর নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়:

• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়। উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়।

--------------------
উপসর্গ ও প্রত্যয় ছাড়া শব্দ গঠনের আরো কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস।
• সমাস:
শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: 'হাট' ও 'বাজার' শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় 'হাটবাজার'।

• শব্দদ্বিত্ব:
এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

• বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ - সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
"হারিকিরি" শব্দের অর্থ কি?
  1. রিক্সা
  2. আত্মরক্ষা
  3. আত্মহত্যা
  4. হারানো
ব্যাখ্যা

• হারিকিরি-আত্নহত্যার প্রাচীনতম একটি পদ্ধতি। 

- কেউ বলে হারিকিরি,কেউ বলে হারাকিরি।আসল শব্দটি হলো “সেপ্পুকু”-জাপানের একটি প্রাচীন-প্রথাগত আত্মঘাতী পদ্ধতি। এটা আসলে সামুরাইদের একটা পদ্ধতি।শত্রুর হাতে ধরাপড়ার অপমান থেকে রক্ষা পেতে,আবার কখনো গুরুতর অপরাধের শাস্তিস্বরুপ হারিকিরি করা হত।

৩৩.
’দুঃখিত’ শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. দু:খিতো
  2. দুক্খিত
  3. দুখ্খিত
  4. দুক্‌খিতো
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'দুঃখিত' শব্দের সঠিক উচ্চারণ- দুক্‌খিতো।
- এটি একটি বিশেষন পদ।

অর্থ- দুঃখ প্রাপ্ত, ক্ষণ,  অনুতপ্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৪.
শব্দের অংশ কোনটি?
  1. বচন
  2. নির্দেশক
  3. উপসর্গ
  4. বলক
ব্যাখ্যা
• শব্দ:
- প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব শব্দভান্ডার থাকে। সাধারণত অভিধানে তা সংকলিত হয়। অভিধানের শব্দগুলো বিচ্ছিন্ন ও পরস্পর সম্পর্কহীন।
-  শব্দের অংশ উপসর্গ ও প্রত্যয়।
- গঠনগতভাবে শব্দ দুই শ্রেণির: মূল শব্দ ও সাধিত শব্দ।
- শব্দ শুধু রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

অন্যদিকে, 
• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে স্থান পায়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
- পদের অংশ বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।
- গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের: অলগ্নক পদ ও সলগ্নক পদ।
- পদ একইসঙ্গে রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩৫.
"তারা এখনও সেখানে আছে।"- বাক্যে 'এখনও' শব্দের সঙ্গে যুক্ত ও-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. বলক
  2. বিভক্তি
  3. নির্দেশক
  4. যোজক
ব্যাখ্যা

• "তারা এখনও সেখানে আছে।"- বাক্যে 'এখনও' শব্দের সঙ্গে যুক্ত 'ও' হলো বলকের উদাহরণ। 

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের।
যথা:
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
যেমন-
'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
'লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা 'টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩৬.
'কথা' শব্দটি নিচের কোন বাক্যে প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করে?
  1. তোমার সঙ্গে একটি কথা আছে।
  2. বাজে কথা না বলে আসল কথাটি বলো।
  3. গুরুজনের কথা মেনে চলবে।
  4. প্রতিবেশীর সাথে সবসময় কথা কাটাকাটি করবে না।
ব্যাখ্যা

• 'বাজে কথা না বলে আসল কথাটি বলো।' বাক্যে 'কথা' শব্দটি প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
- তোমার সঙ্গে একটি কথা আছে।(পরামর্শ)
- গুরুজনের কথা মেনে চলবে।(মান্য করা)
- প্রতিবেশীর সাথে সবসময় কথা কাটাকাটি করবে না।(ঝগড়া)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭.
শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় -
  1. রূপ
  2. বর্ণ
  3. পদ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় - রূপ।
- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়।
- রূপ গঠন করে শব্দ।
- সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপ্ততত্ত্ব (Morphology) বলা হয়। 

শব্দমূল: 
- এক বা একাধিক শব্দ নিয়ে তৈরি হয় শব্দমূল।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। 
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সাথে উপসর্গ ও প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে। এদের বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যদিকে শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৮.
নোট অব ডিসেন্ট বলতে কি বুঝায়?
  1. চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত
  2. আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত
  3. আনুষ্ঠানিক ঐক্যমত্য
  4. সভার কার্যবিবরণী
ব্যাখ্যা

নোট অব ডিসেন্ট (Note of Dissent) বা ভিন্নমত পোষণ বলতে বোঝায় যখন কোনো আলোচনা, কমিটি, বোর্ড, বা বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের সাথে
- একমত না হয়ে তার আপত্তি বা ভিন্ন মতামত লিখিতভাবে প্রকাশ করে।

উৎস: অক্সফোর্ড ডিকশেনারি।

৩৯.
'এখনও যাওয়া হয়নি।'- বাক্যে এখন শব্দের সাথে যুক্ত 'ও' এর ব্যাকরণিক পরিচয় কোনটি? 
  1. অনুসর্গ 
  2. বলক
  3. নির্দেশক
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

'এখনও যাওয়া হয়নি।'- বাক্যে এখন শব্দের সাথে যুক্ত 'ও' একটি বলক। 

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]
বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে: প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪০.
'ব্যাং' শব্দটি 'ং' দিয়ে লিখতে হবে, কারণ-
  1. ঙ-এর হসন্ত উচ্চারণ ং হয়
  2.  ্যা-এর পর ং হয়
  3. ' ং’ বাংলা ভাষার নিজস্ব বর্ণ
  4. ব্যাং একটি একাক্ষর শব্দ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) ঙ-এর হসন্ত উচ্চারণ ং হয়।

ব্যাখ্যা: ‘ব্যাং’ শব্দটি বাংলা ভাষায় ‘ব্যাঙ’ (ব্যাঙ বা ব্যাঙা, যা ব্যাঙের উচ্চারণ) থেকে এসেছে। বাংলা বর্ণমালায় ‘ঙ’ (অনুনাসিক বর্ণ) যখন হসন্ত (অর্থাৎ, স্বরবর্ণ ছাড়া) ব্যবহৃত হয়, তখন এর উচ্চারণ ‘ং’ (অনুনাসিক ধ্বনি) হিসেবে হয়। ‘ব্যাং’-এ ‘ং’ ব্যবহৃত হয় কারণ এটি ‘ঙ’-এর হসন্ত রূপ, যা শব্দের শেষে অনুনাসিক ধ্বনি প্রকাশ করে।

"ঙ এবং ং" এর উচ্চারণ:
• শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

• তবে, অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ‘ঙ’ হবে।
যেমন: বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।
আবার, বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 'কতদূর-এগোল-বাংলা-বানান'- তারিক মনজুর।

৪১.
তপশিল শব্দের অর্থ কী?
  1. বিবরণ
  2. আইন
  3. অধ্যাদেশ
  4. বিধি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- তপশিল একটি আরবি শব্দ।
- অর্থ- জমির চৌহদ্দির বিবরণ। ২ বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রণীত তালিকা,

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪২.
নিচের কোনটি 'অস্তিত্ব' বা 'বিদ্যমানতা' অর্থে প্রযোজ্য?
  1. সত্তা
  2. স্বত্ব
  3. স্বত্তা
  4. সত্য
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, অনুসারে,

’সত্তা’ শব্দের অর্থ: অস্তিত্ব (ব্যক্তিসত্তা)।
---------------------------------------------
অন্যদিকে,
’স্বত্ব’ শব্দের অর্থ: বিষয়সম্পত্তি ব্যবসায় প্রভৃতিতে অধিকার বা মালিকানা (গ্রন্থস্বত্ব)।
স্বত্তা’ একটি ভুল শব্দ, সঠিক বানান,= সত্তা।
’সত্য’ শব্দের অর্থ: মিথ্যা নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৩.
'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ হয়নি কোন শব্দে?
  1. অতি
  2. অনাথ
  3. অদ্য
  4. অণু
ব্যাখ্যা
• 'অনাথ' শব্দে 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে।

• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• 'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৪.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বলে। 
  1. সংখ্যাবাচক শব্দ 
  2. বলক
  3. নির্দেশক
  4. বচন 
ব্যাখ্যা

• বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

• সংখ্যাবাচক শব্দ: 
যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে। আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ এগুলো এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে। দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪৫.
যে অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম ধ্বনিসমষ্টি সর্বদা অন্য ধ্বনিসমষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. জটিল রূপিম
  2. অন্যন্য সাধারণ রূপিম
  3. বদ্ধ রূপিম
  4. মুক্ত রূপিম
ব্যাখ্যা
• বদ্ধ রূপিম:
- যে অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম ধ্বনিসমষ্টি সর্বদা অন্য ধ্বনিসমষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়, কখনও স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না, তাকে বদ্ধ রূপিম বলে।
- যেমন,
ছেলেটি শব্দের 'টি' হলো বদ্ধ রূপিম।

অন্যদিকে, 
• মুক্ত রূপিম:
- যে অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম ধ্বনিসমষ্টি ভাষায় অন্য ধ্বনিসমষ্টির সঙ্গে যুক্ত না হয়েও স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন,
- আম, জাম, কলম ইত্যাদি।

• অন্যন্য সাধারণ রূপিম:
- যে রূপিম পৌনঃপুনিকভাবে ব্যবহৃত না হয়ে শুধুমাত্র একটি সমন্বয়ে সীমাবদ্ধ, তাকেই অন্যন্য সাধারণ রূপিম বলে।
যেমন,
ইংরেজিতে 'Cranberry' শব্দের 'Cran' রূপিমটি ইংরেজি ভাষায় আর কোথাও ব্যবহৃত না হয়ে শুধুমাত্র 'Cranberry' শব্দেই ব্যবহৃত হয়।

• জটিল শব্দ:
- যে শব্দ এক বা একাধিক মুক্ত রূপিমের সঙ্গে এক বা একাধিক বদ্ধ রূপিমের সংযোগে অথবা শুধুই একাধিক বদ্ধ রূপিমের সংযোগে গঠিত হয়, তাকে জটিল শব্দ বলে।
যেমন,
ছেলে + মি = ছেলেমি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬.
নতুন শব্দ গঠিত হতে পারে -
  1. উপসর্গযােগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠিত হতে পারে।
যথা- 
- সন্ধির মাধ্যমে, 
- সমাসের সাহায্যে, 
- উপসর্গযোগে, 
- প্রত্যয়যোগে, 
- অনুসর্গযোগে, 
- বিভক্তিযোগে, 
- পদ পরিবর্তন দ্বারা, 
- শব্দের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে, 
- পদাশ্রিত নির্দেশক যোগ করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭.
বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনের উপায় নয় কোনটি?
  1. সমাস
  2. বচন
  3. প্রত্যয়
  4. কারক
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় শব্দ গঠিত হওয়ার উপায় নয়- কারক।

-----------------------------
• শব্দ গঠনের কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে এগুলো হচ্ছে- সমাসের মাধ্যমে, বহুবচনের মাধ্যমে, উপসর্গ যোগে, প্রত্যয় সহযোগে ইত্যাদি।

• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• সমাস:
শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: ‘হাট’ ও ‘বাজার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় ‘হাটবাজার’।

• বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।

• শব্দদ্বিত্ব:
এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮.
অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
  1. একার্থ
  2. একার
  3. একাল
  4. একাশি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- অভিধানে 'একার' - শব্দটি আগে বসবে।

• অভিধানে শব্দগুলোর ক্রম:
- একার → একার্থ → একাল → একাশি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৯.
লগ্নক নয় কোনটি?
  1. বিভক্তি
  2. বচন
  3. নির্দেশক
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• 'প্রত্যয়' - লগ্নক নয়।

• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫০.
শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. লিঙ্গ
  2. কারক
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় শব্দ সাধন হয় বা গঠন হয় না লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা।

শব্দ গঠনের কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে এগুলো হচ্ছে:
উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• সমাস: শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: 'হাট' ও 'বাজার' শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় 'হাটবাজার'।

• শব্দদ্বিত্ব: এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৫১.
পদের অংশ-
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. ক+খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

• পদের অংশ:
- বিভক্তি,
- নির্দেশক,
- বচন,
- বলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১।
৫২.
শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া নয় কোনটি?
  1. শব্দদ্বিত্ব
  2. সমাস
  3. পদ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা

• শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া নয়- পদ। 

শব্দ গঠনের কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে এগুলো হচ্ছে:
• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• সমাস:
শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: ‘হাট’ ও ‘বাজার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় ‘হাটবাজার’।

• শব্দদ্বিত্ব:
এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৫৩.
'জন্ম থেকেই জ্বলছি মাগো'- এখানে 'থেকে' শব্দের সঙ্গে যুক্ত 'ই' শব্দটির ব্যাকরণিক পরিচয় কী
  1. ক্রিয়ামূল
  2.  উপসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. বলক
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নে দেওয়া বাক্য 'জন্ম থেকেই জ্বলছি মাগো'- এখানে 'থেকে' শব্দের সঙ্গে যুক্ত 'ই' শব্দটির ব্যাকরণিক পরিচয় হলো- বলক।

-------------------
বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক।
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
যেমন-
'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অজানা), অভিযোগ (অভিযোগ), বেতার (বে-তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন-
→ বাঘ আ বাঘা।
→ দিন ইক দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: 'লিখ আ লিখা; এখানে, লিখ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৫৪.
'বাচ্যার্থ' শব্দের কোন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মূখ্য
  2. পরোক্ষ
  3. গৌণ
  4. লক্ষ্যার্থ
ব্যাখ্যা
• 'বাচ্যার্থ' শব্দের মূখ্য অর্থ প্রকাশ করে। 
----------------------- 
• বাগর্থ: 

- ভাষা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য মনের ভাব প্রকাশ করা।
- মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে।
- এগুলাের অর্থই মূলত বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোেগ ঘটায়।
- শব্দ ও শব্দগুচ্ছের অর্থকে বাগর্থ বলে।

• অর্থের শ্রেণিবিভাগ: 
- অনুসারে শব্দের অর্থ অন্তত দুই রকমের।
-কোথাও শব্দের গাঠনিক উপাদানগুলাের অর্থ প্রাধান্য পায়, আবার কোথাও গাঠনিক অর্থ ছাপিয়ে শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়।
- এই দুই ধরনের অর্থের নাম - বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ।

• বাচ্যার্থ:
- একটি শব্দ শােনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বােধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ।
- অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
- 'মাথা' শব্দটি শােনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই ‘মাথা’ শব্দের বাচ্যার্থ।
- বাচ্যার্থ হলাে শব্দের মুখ্য অর্থ।
- এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

• লক্ষ্যার্থ:
- একটি শব্দের বাচ্যার্থের বাইরেও আলাদা অর্থ তৈরি হতে পারে।
- এই আলাদা অর্থের নাম লক্ষ্যার্থ।
- যেমন: 'তিনি গ্রামের মাথা'। 
- এখানে মাথা’ শব্দ শােনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনাে ছবি ভেসে ওঠে না, মাননীয় কোনাে ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে।
- লক্ষ্যার্থকে গৌণার্থ বা লাক্ষণিক অর্থ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৫.
'বাচ্যার্থ' শব্দের কোন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে থাকে?
  1. মূখ্য অর্থ
  2. গৌণ অর্থ
  3. পরোক্ষ অর্থ
  4. লক্ষ্যার্থ
ব্যাখ্যা

• 'বাচ্যার্থ' শব্দের মূখ্য অর্থ প্রকাশ করে। 
----------------------- 
• বাগর্থ: 
- ভাষা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য মনের ভাব প্রকাশ করা।
- মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে।
- এগুলাের অর্থই মূলত বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোেগ ঘটায়।
- শব্দ ও শব্দগুচ্ছের অর্থকে বাগর্থ বলে।

• অর্থের শ্রেণিবিভাগ: 
- অনুসারে শব্দের অর্থ অন্তত দুই রকমের।
-কোথাও শব্দের গাঠনিক উপাদানগুলাের অর্থ প্রাধান্য পায়, আবার কোথাও গাঠনিক অর্থ ছাপিয়ে শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়।
- এই দুই ধরনের অর্থের নাম - বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ।

• বাচ্যার্থ:
- একটি শব্দ শােনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বােধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ।
- অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
- 'মাথা' শব্দটি শােনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই ‘মাথা’ শব্দের বাচ্যার্থ।
- বাচ্যার্থ হলাে শব্দের মুখ্য অর্থ।
- এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

• লক্ষ্যার্থ:
- একটি শব্দের বাচ্যার্থের বাইরেও আলাদা অর্থ তৈরি হতে পারে।
- এই আলাদা অর্থের নাম লক্ষ্যার্থ।
- যেমন: 'তিনি গ্রামের মাথা'। 
- এখানে মাথা’ শব্দ শােনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনাে ছবি ভেসে ওঠে না, মাননীয় কোনাে ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে।
- লক্ষ্যার্থকে গৌণার্থ বা লাক্ষণিক অর্থ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৬.
"তন্বী" - শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত?
  1. সন্ধিযোগে 
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. বিভক্তিযোগে
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

• তন্বী শব্দটি— (প্রত্যয় ও সন্ধি) উভয় সাধিত শব্দ।

• সন্ধিসাধিত- (তনু + ঈ);
• প্রত্যয়সাধিত - তনু + ঈ; এখানে 'ঈ' একটি প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৭.
অভিধানের বর্ণানুক্রমে কোনটি আগে বসবে?
  1. তোয়া
  2. তৈয়ার
  3. তমসা
  4. তেল
  5. তরল
ব্যাখ্যা
• বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে বসবে: 
তমসা →তরল → তেল→ তৈয়ার → তোয়া।

• বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ,
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৮.
অভিধানিক ক্রম অনুযায়ী সাজানো শব্দগুচ্ছ-
  1. বোতাম, ব্রত, ব্যথা
  2. জ্ঞান, জ্যেষ্ঠ, জ্যোতি
  3. কানন, কালান্তর, কাঁকন
  4. ধ্বনি, স্বাদিত, ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: খ) জ্ঞান, জ্যেষ্ঠ, জ্যোতি।

• বাংলা অভিধানিক ক্রমানুসারে অক্ষর-অক্ষর যাচাই:

 অপশন, 
ক) বোতাম, ব্রত, ব্যথা এর সঠিক ক্রম: বোতাম, ব্যথা, ব্রত।
খ) জ্ঞান, জ্যেষ্ঠ, জ্যোতি→ ভুল। এর সঠিক ক্রম: জ্ঞান → জ্যেষ্ঠ → জ্যোতিজ্ঞ → সঠিক।
গ) কানন, কালান্তর, কাঁকন→ ভুল। এর সঠিক ক্রম: কাঁকন, কানন, কালান্তর।
ঘ) ধ্বনি, স্বাদিত, ষষ্ঠ→ ভুল। এর সঠিক ক্রম: ধ্বনি, ষষ্ঠ, স্বাদিত।

তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমি অভিধান।