বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পরিবেশ বিষয়ক চুক্তি ও সম্মেলন

মোট প্রশ্ন৯২০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পরিবেশ বিষয়ক চুক্তি ও সম্মেলন

PrepBank · পাতা / ১০ · ৬০১৭০০ / ৯২০

৬০১.
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্য ফলাফল-
  1. ক) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি
  2. খ) উপকূলবর্তী নিম্নভূমি নিমজ্জিত হওয়া
  3. গ) সমুদ্র স্তরের উচ্চতা হ্রাস
  4. ঘ) মেরু অঞ্চলে বরফের সঞ্চিতি বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে। যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৬০২.
গ্রিনহাউস গ্যাস (GHG) নির্গমন সীমিত এবং হ্রাস সংক্রান্ত চুক্তি কোনটি?
  1. কিয়োটো প্রটোকল
  2. কার্টাগেনা প্রটোকল
  3. মনট্রিল প্রটোকল
  4. প্যারিস চুক্তি
ব্যাখ্যা
• কিয়োটো প্রটোকল:
- পূর্ণরূপ: Kyoto Protocol to the United Nations Framework Convention on Climate Change.
- কিয়োটো প্রোটোকলটি ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর গৃহীত হয়।
- এটি ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- বর্তমানে, কিয়োটো প্রোটোকলের ১৯২টি পক্ষ রয়েছে।
- স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- উদ্দেশ্য: গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ১৯৯০ সালের স্তরের তুলনায় ৫.২% কমানো।
- বৈশিষ্ট্য: ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (CDM) এবং ইমিশন ট্রেডিং অন্তর্ভুক্ত।
- চ্যালেঞ্জ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটি অনুমোদন করেনি এবং চীন বাধ্যতামূলক লক্ষ্য থেকে অব্যাহতি পেয়েছে।
-  দ্য অভিযোজন তহবিল কিয়োটো প্রোটোকলের পক্ষভুক্ত উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অভিযোজন প্রকল্প এবং কর্মসূচির অর্থায়নের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- প্রথম প্রতিশ্রুতিকালীন সময়ে, তহবিলটি মূলত সিডিএম প্রকল্প কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ দিয়ে অর্থায়ন করা হয়েছিল।
- ২০১২ সালে দোহায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতিকালীন সময়ে, আন্তর্জাতিক নির্গমন বাণিজ্য এবং যৌথ বাস্তবায়নও অভিযোজন তহবিলকে আয়ের ২ শতাংশ অংশ প্রদান করবে।

উৎস: UNFCCC.
৬০৩.
নাগোয়া প্রোটোকল কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ২০০২ সাল
  2. ২০০৮ সাল
  3. ২০১০ সাল
  4. ২০১২ সাল
ব্যাখ্যা
নাগোয়া প্রোটোকল (২০১০):
- পূর্ণনাম: Nagoya Protocol on Access to Genetic Resources and the Fair and Equitable Sharing of Benefits Arising from their Utilization.
- চুক্তির স্থান: নাগোয়া, জাপান।
- গৃহীত হয়: ২৯ অক্টোবর, ২০১০ সাল।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১২ অক্টোবর, ২০১৪।
- এর উদ্দেশ্য: জৈবসম্পদ ব্যবহার থেকে প্রাপ্ত সুবিধা ন্যায্যভাবে ভাগ করে নেওয়া এবং এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১৩৮টি দেশ (২০২৪ সাল পর্যন্ত)।
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণের ক্ষমতায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রটোকল।

উৎস: CBD (Convention on Biological Diversity) Official Website.
৬০৪.
মন্ট্রিল প্রটোকলের বিষয়বস্তু নিচের কোনটি?
  1. ওজোন স্তরের সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি
  2. গ্রীনহাউজ নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত চুক্তি
  3. টেকসই বন ব্যবস্থাপনা চুক্তি
  4. টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা চুক্তি
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই প্রটোকল কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত হয়।
- ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি মন্ট্রিল প্রটোকল কার্যকর হয়।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৬০৫.
'মন্ট্রিল প্রটোকল' কোন সমস্যার সমাধানের জন্য গৃহীত হয়?
  1. গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস
  2. ক্ষতিকর বর্জ্য চলাচল নিয়ন্ত্রণ
  3. ওজোন স্তর ক্ষয়কারী রাসায়নিক পদার্থ সীমিতকরণ
  4. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
• মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকলে হচ্ছে ওজোন স্তরের ক্ষতিকর রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থ সীমিতকরণ সম্পর্কিত প্রটোকল।
- গৃহীত হয়: ১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে।
- কার্যকর হয়: ১৯৮৯ সালে।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯৬টি + ইউরোপীয় ইউনিয়ন। 
- বাংলাদেশ অনুসমর্থন করে ১৯৯০ সালে।

অন্যদিকে,
- ভিয়েনা কনভেনশন - জাতিসংঘের ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ক কনভেশন। 
- কিয়েটো প্রটোকল -গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ।
- বাসেল কনভেনশন - ক্ষতিকর বর্জ্য চলাচল বিষয়ক।

উৎস: UNEP Website.
৬০৬.
মন্ট্রিল প্রটোকলের কিগালি সংশোধনীর প্রধান লক্ষ্য কোন গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা?
  1. হাইড্রোফ্লুরোকার্বন
  2. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
  3. মিথেন
  4. নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটোকল হল ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) ব্যবহার এবং উৎপাদন বন্ধ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।

- চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

• কিগালি সংশোধনী:
- মন্ট্রিল প্রটোকলের সর্বশেষ সংশোধনী হলো কিগালি সংশোধনী।
- কিগালি সংশোধনী গৃহীত হয়: ১৫ অক্টোবর, ২০১৬। 
- কিগালি সংশোধনী কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারি, ২০১৯।
- এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা রুয়ান্ডার কিগালিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গৃহীত হয়ছিল।
- এর লক্ষ্য হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFCs)-এর ব্যবহার কমিয়ে পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমানো এবং পৃথিবীকে আরও পরিবেশবান্ধব, টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে, বিভিন্ন দেশ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে HFCs এর উৎপাদন এবং ব্যবহার ৮০%-৮৫% কমিয়ে আনবে।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
ii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)।

৬০৭.
কোন চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে আনোয়ার সাদাত শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন?
  1. ক) ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
  2. খ) বেলফাস্ট চুক্তি
  3. গ) ডেটন চুক্তি
  4. ঘ) উই রিভার চুক্তি
ব্যাখ্যা
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আল সাদাত ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাচিম বেগিন এর সাথে ১৯৭৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্প ডেভিডে প্রায় বারো দিনের গোপন আলোচনার মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় হোয়াইট হাউস এবং এতে মধ্যস্ততা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।
- প্রথম চুক্তিটি প্যালেস্টাইন সংক্রান্ত হলেও এতে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় জাতিসংঘ এর সমালোচনা করে।
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি মূলত এক জোড়া শান্তি চুক্তি।
- এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে আনোয়ার সাদাত ১৯৭৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

উৎস: Live MCQ Lecture ও ব্রিটানিকা।
৬০৮.
কোন্ জলবায়ু চুক্তির অধীনে 'সবুজ জলবায়ু তহবিল' বা Green Climate Fund প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল?
  1. ক্যানকুন চুক্তি
  2. প্যারিস চুক্তি
  3. কিয়োটো প্রোটোকল
  4. কোপেনহেগেন চুক্তি
ব্যাখ্যা

● সবুজ জলবায়ু তহবিল (Green Climate Fund – GCF) ২০১০ সালে মেক্সিকোর ক্যানকুনে অনুষ্ঠিত COP-16–এ গৃহীত ক্যানকুন চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়।

Green Climate Fund:  
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF) হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবায়ু তহবিল।
- এটি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) কর্তৃক গঠিত একটি গঠিত তহবিল যা মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। 
- শিল্পোন্নত দেশ সমূহের প্রদত্ত চাঁদা থেকে এই তহবিল গঠিত হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: কানকুন, মেক্সিকো।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১০ সাল।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: কপ-১৬।
- সদর দপ্তর: ইয়েনচিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া।
- এই ফান্ডের মূল লক্ষ্য হলো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

উল্লেখ্য,
- ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত ১৫তম কপ সমেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের প্রস্তাব রাখা হয় এবং ২০১০ সালে কানকুনে ১৬তম কপ সম্মেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্যোগে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
- সম্মেলনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস মধ্যে সীমিত রাখতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ একমত প্রকাশ করে।
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে,
- কোপেনহেগেন চুক্তি: কোপেনহেগেন চুক্তিতে GCF-এর ধারণা প্রথম উত্থাপিত হয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয় ক্যানকুনে।
- প্যারিস চুক্তি (২০১৫): প্যারিস চুক্তি পরবর্তীতে GCF-কে তার আর্থিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে সেবা প্রদানের দায়িত্ব দেয়, কিন্তু এর অধীনে GCF প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
- কিয়োটো প্রোটোকলের সাথে GCF-এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

উৎস: Green Climate Fund ওয়েবসাইট। [Link]

৬০৯.
কত তম কপ সম্মেলনে ভুটানের উদ্যোগে 'জি জিরো' ফোরাম গঠিত হয়?
  1. কপ-২৭
  2. কপ-২৮
  3. কপ-২৯
  4. কপ-৩০
ব্যাখ্যা

‘জি-জিরো’ ফোরাম:
- বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ–২৯) নভেম্বর ১১-২২, ২০১৪ তারিখে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত হয়।
- কপ-২৯ সম্মেলনে ভুটানের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে 'জি জিরো' ফোরাম।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে যুদ্ধ করছে তখন চারটি ছোট কার্বন-নেতিবাচক দেশ এক হয়ে গঠন করলো 'জি জিরো' ফোরাম।
- চারটি দেশ হলো: ভুটান, মাদাগাস্কার, পানামা এবং সুরিনাম।
- ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, সুরিনামের প্রেসিডেন্ট চান সানতোখি, মাদাগাস্কারের প্রধানমন্ত্রী ও পানামার বিশেষ দূত এই যৌথ ঘোষণায় সই করেন।
- এই ফোরামের দেশগুলো জলবায়ু সুরক্ষার যুদ্ধকে এগিয়ে নিতে একসাথে কাজ করতে যৌথ ঘোষণাও দিয়েছে।
- এই গোষ্ঠী গঠনে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

৬১০.
UNEP (United Nations Environment Programme) এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বার্লিন, জার্মানি
  2. খ) মাদ্রিদ, স্পেন
  3. গ) নাইরোবি, কেনিয়া
  4. ঘ) কানকুন, মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
UNEP (United Nations Environment Programme)
-এর সদরদপ্তর কেনিয়ার নাইরােবিতে অবস্থিত।
-UNEP ১৯৭২ সালের ৫ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়।
-সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার তারিখ ৫ জুনন প্রতিবছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালিত হয়।
-UNEP এবং WMO এর যৌথ উদ্যোগে ১৯৮৮ সালে IPCC (Inter-governmental Panel on Climate Change) প্রতিষ্ঠিত হয়।
উৎসঃ UNEP এর ওয়েবসাইট।
৬১১.
কোন জলবায়ু সম্মেলনে 'কিয়োটো প্রটোকল' সংশোধিত হয়?
  1. কপ - ১২
  2. কপ - ১৩
  3. কপ - ১৬
  4. কপ - ১৮
ব্যাখ্যা
দোহা সংশোধনী:
- ২০১২ সালে কাতারের রাজধানী দোহাতে অনুষ্ঠিত হয় কপ - ১৮ সম্মেলন।
- এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য ছিল কিয়োটো প্রটোকলের দ্বিতীয় পর্ব (২০১৩-২০২০) এবং কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার জন্য গৃহীত হয়েছিল।
- একে বলা হয় দোহা সংশোধনী।

উল্লেখ্য,
- কিয়োটো প্রটোকল হল United Nations Framworks Convention on Climate Change (UNFCCC) একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যার আওতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। কার্বনের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গিয়ে পৃথিবীকে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেওয়া থেকে উদ্ধার করার জন্যেই মূলত এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।‍
- প্রথম পর্বের পর কিয়োটো প্রটোকলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য দ্বিতীয় পর্বের জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, এবং সেগুলোই দোহা সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৬১২.
UNCCD-এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা
  2. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  3. ওজোন স্তর সুরক্ষা
  4. মরুকরণ প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

UNCCD-এর মূল উদ্দেশ্য হলো মরুকরণ, ভূমি অবক্ষয় এবং খরা মোকাবিলা করা। 

UNCCD:
- UNCCD-এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention to Combat Desertification.
- UNCCD হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা মরুকরণ, ভূমি অবক্ষয় এবং খরার প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
- এটি গৃহীত হয়: ১৭ জুন, ১৯৯৪ সালে, প্যারিস।
- কার্যকর হয়: ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ সালে।
- UNCCD একমাত্র আইনি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি যা পরিবেশ ও উন্নয়নকে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংযুক্ত করে।

উৎস: UNCCD ওয়েবসাইট।

৬১৩.
High Seas Treaty-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে মহাসাগরের কত শতাংশ এলাকা সুরক্ষার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে?
  1. ২০%
  2. ২৫%
  3. ৩০%
  4. ৩৫%
ব্যাখ্যা

High Seas Treaty:
- High Seas Treaty-এর আনুষ্ঠানিক নাম: Agreement under the United Nations Convention on the Law of the Sea on the Conservation and Sustainable Use of Marine Biological Diversity of Areas Beyond National Jurisdiction.
- এটি জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সম্পর্কিত সনদের (UNCLOS) অধীনে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা জাতীয় এখতিয়ারের বাইরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করে। 
- High Seas Treaty স্বাক্ষরিত হয়: ১৯ জুন, ২০২৩।
- স্বাক্ষরের স্থান: জাতিসংঘের সদরদপ্তর নিউইয়র্কে।
- স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয়: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩।
- কার্যকর হয়: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬।
- High Seas Treaty লক্ষ্য: জাতিসংঘের এই চুক্তিটি দেশের জন্য অতিরিক্ত মাছ ধরাসহ নানা হুমকি মোকাবিলার জন্য একটি আইনগত কাঠামো প্রবর্তন করবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মহাসাগরের ৩০ শতাংশ এলাকা সুরক্ষার লক্ষ্যে ভূমিকা রাখবে। 

উল্লেখ্য,
- High Seas হচ্ছে আন্তর্জাতিক জলসীমা, যেখানে সব দেশের অধিকার, জাহাজ চালানো ও গবেষণার অধিকার রয়েছে।
- পৃথিবীর মোট পৃষ্ঠভাগের অর্ধেকের বেশি ও সমুদ্রের ৬০ শতাংশের বেশি এই হাই সির অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: i) High Seas Alliance ওয়েবসাইট।
ii) UN  ওয়েবসাইট।

৬১৪.
'আন্তর্জাতিক কর চুক্তি' কাঠামো কোন সংস্থার সম্মেলনে গৃহীত হয়?
  1. ক) WTO
  2. খ) OECD
  3. গ) UNCTAD
  4. ঘ) UNIDO
ব্যাখ্যা
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রস্তাবে বিশ্বব্যাপী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উপর ন্যূনতম হারে কর আরোপের বিষয়ে ১৩১ টি দেশ 'আন্তর্জাতিক কর চুক্তি' কাঠামো গ্রহণে  সম্মত হয়। 
- অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) এর সম্মেলনে  'আন্তর্জাতিক কর চুক্তি' ঘোষিত হয় ১ জুলাই ২০২১ সালে।

উৎস: OECD Website
৬১৫.
কোন সম্মেলন থেকে ‘ব্লু ইকোনমি’ ধারণাটি গুরুত্ব লাভ করে?
  1. প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন
  2. জোহানেসবার্গ সম্মেলন
  3. রিও+২০ সম্মেলন
  4. কোপেনহেগেন সম্মেলন
ব্যাখ্যা
- ২০১২ সালের ২০-২২ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরিও শহরে অনুষ্ঠিত জতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন বা রিও+২০ সম্মেলনে ‘ব্লু ইকোনমি’ ধারণাটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- ব্লু ইকোনমি সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও মানব উন্নয়নে এর যথাযথ ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত।
- ‘ব্ল ইকোনমি’ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন বেলজিয়ামের অর্থনীতিবিদ গুন্টার পাউলি। তিনি ১৯৯৪ সালে প্রথম এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।
(তথ্যসূত্র: এসডিজি এবং এলটি-ইকোনমি ওয়েবসাইট)
৬১৬.
বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ব্রাসিলিয়া
  2. রিও-ডি-জেনিরো
  3. বুয়েন্স আয়ার্স
  4. অটোয়া
ব্যাখ্যা
ধরিত্রী সম্মেলন:

- ধরিত্রী সম্মেলন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা।
- ১৯৯২ সালে পরিবেশ ও উন্নয়নের উপর জাতিসংঘের সম্মেলন (UNCED), ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত হয়।
- ধরিত্রী সম্মেলন ছিল ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বিশ্ব নেতাদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। 
- এই সম্মেলনে ১১৭ জন রাষ্ট্রপ্রধান এবং ১৭৮টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
- সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তি এবং অন্যান্য নথিপত্রের মাধ্যমে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ নামমাত্রভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নিজেদেরকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে এমন উপায়ে যা পৃথিবীর পরিবেশ এবং অ-নবায়নযোগ্য সম্পদ রক্ষা করবে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬১৭.
"মন্ট্রিল প্রটোকল" কোথায় গৃহীত হয়েছে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. কানাডা
  4. মেক্সিকো
ব্যাখ্যা

• মন্ট্রিল প্রটোকল ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত হয়। এটি পরিবেশ রক্ষায় ওজোন স্তর ক্ষয়কারী রাসায়নিক পদার্থ সীমিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল এবং ১ জানুয়ারি ১৯৮৯ সালে কার্যকর হয়।

সঠিক উত্তর: গ) কানাডা। 

পরিবেশ বিষয়ক চুক্তি মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ১৬ সেপ্টেম্বর,১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত হয়।
- ১ জনুয়ারি ১৯৮৯ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়।
- ১৯৮৯ সালে স্বাক্ষরিত মন্ট্রিল প্রটোকলের বিষয়বস্তু ছিল পরিবেশ রক্ষা করা।
- মন্ট্রিল প্রটোকলে ওজোন স্তরের ক্ষতিকর রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থ সীমিতকরণ।

উৎস: UNEP website & Britannica.com

৬১৮.
কিয়োটো প্রটোকল কোথায় গৃহীত হয়?
  1. কানাডা
  2. উজবেকিস্তান
  3. রাশিয়া
  4. জাপান
ব্যাখ্যা

• কিয়োটো প্রটোকল:
- পূর্ণরূপ: Kyoto Protocol to the United Nations Framework Convention on Climate Change.
- কিয়োটো প্রোটোকলটি ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর গৃহীত হয়।
- এটি ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- বর্তমানে, কিয়োটো প্রোটোকলের ১৯২টি পক্ষ রয়েছে।
- স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- উদ্দেশ্য: গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ১৯৯০ সালের স্তরের তুলনায় ৫.২% কমানো।
- বৈশিষ্ট্য: ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (CDM) এবং ইমিশন ট্রেডিং অন্তর্ভুক্ত।
- চ্যালেঞ্জ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটি অনুমোদন করেনি এবং চীন বাধ্যতামূলক লক্ষ্য থেকে অব্যাহতি পেয়েছে।
- দ্য অভিযোজন তহবিল কিয়োটো প্রোটোকলের পক্ষভুক্ত উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অভিযোজন প্রকল্প এবং কর্মসূচির অর্থায়নের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- প্রথম প্রতিশ্রুতিকালীন সময়ে, তহবিলটি মূলত সিডিএম প্রকল্প কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ দিয়ে অর্থায়ন করা হয়েছিল।
- ২০১২ সালে দোহায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতিকালীন সময়ে, আন্তর্জাতিক নির্গমন বাণিজ্য এবং যৌথ বাস্তবায়নও অভিযোজন তহবিলকে আয়ের ২ শতাংশ অংশ প্রদান করবে।

উৎস: UNFCCC.

৬১৯.
UNFCCC এর উদ্যোগে ২৫তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) প্যারিস
  2. খ) গ্লাসগো
  3. গ) মাদ্রিদ
  4. ঘ) মিউনিখ
ব্যাখ্যা
UNFCCC এর উদ্যোগে ২৫তম জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (CoP-25) ২০১৯ সালের ২-১৩ ডিসেম্বর স্পেনের মাদ্রিদ শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তী ২৬তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন ২০২১ সালের ১-১২ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত হবে।
UNFCCC এর উদ্যোগে প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালে বার্লিনে।
(সূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট)
৬২০.
COP-31 জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবে কোন দেশ? 
  1. অষ্ট্রেলিয়া 
  2. তুরস্ক
  3. মালদ্বীপ 
  4. ইন্দোনেশিয়া 
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১:
- ২০২৬ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ আয়োজন করতে যাচ্ছে তুরস্ক।
- তুরস্কের পর্যটননগরী অ্যান্টালিয়া কপ-৩১-এর আয়োজক শহর হবে এবং তুরস্কই আনুষ্ঠানিকভাবে কপ-৩১-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে।
- অস্ট্রেলিয়া চাইছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অ্যাডিলেডে সম্মেলন আয়োজন করতে। 
- অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে এ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তুরস্ক এ দায়িত্ব পেয়েছে।
- তবে এ সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে দর–কষাকষির নেতৃত্ব দেবে অস্ট্রেলিয়া।
- কিন্তু কোনো পক্ষই আপস না করলে সম্মেলনটি জার্মানির বন শহরে অনুষ্ঠিত হতো।
- সমঝোতা অনুযায়ী প্রাক-কপ একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে হবে।
 - মূল সম্মেলন হবে তুরস্কের আন্তালিয়া শহরে। সভাপতি থাকবেন ক্রিস বোয়েন (অষ্ট্রেলিয়া)। 
- ব্রাজিলে আয়োজিত কপ৩০-এ সমঝোতার মধ্য দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- ২০২২ সালে দুই দেশই সম্মেলনটি আয়োজনের আবেদন করেছিল।

উল্লেখ্য,
- COP এর পূর্ণরূপ Conference of the parties. 
- ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা। 
- ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  
- ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর আয়োজন করেছে ব্রাজিল।

তথ্যসূত্র: UN-Habitat অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বনিক বার্তা ও UNFCCC. (Link)

৬২১.
নিচের কোনটি জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি?
  1. কিয়েটো প্রটোকল
  2. কার্টাগেনা প্রটোকল
  3. নাগোয়া প্রটোকল
  4. বাসেল কনভেনশন
ব্যাখ্যা

কার্টাগেনা প্রটোকল:
• Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity
- এটি জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- গৃহীত: ২৯ জানুয়ারী, ২০০০ সাল।
- কার্যকর: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা: ১৭৩টি

অন্যদিকে.
- কিয়েটো প্রটোকল-গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ।
- বাসেল কনভেনশন ক্ষতিকর বর্জ্য চলাচল বিষয়ক।
- নাগোয়া প্রটোকল বন্য প্রাণী সংরক্ষণ প্রটোকল।

উৎস: UN Treaty Collection ওয়েবসাইট।

৬২২.
'Loss and Damage Fund' চালু প্রস্তাব গৃহীত হয় কোন COP সম্মেলনে?
  1. COP-25
  2. COP-26
  3. COP-27
  4. COP-28
ব্যাখ্যা

⇒ Loss and Damage Fund:
- 'Loss and Damage Fund' চালু প্রস্তাব গৃহীত হয় ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে (COP-27)।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্ষতি হয়, তার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্বের উন্নত দেশগুলো।
- ২০০৯ সালে উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
- শেষ পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত তহবিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০২২ সালে মিশরের শার্ম এল-শেখ-এ অনুষ্ঠিত কপ-২৭ শীর্ষ সম্মেলনে একটি চুক্তি হয়।
- এটিই হচ্ছে Loss and Damage Fund (লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল)।
- Loss and Damage Fund-এর লক্ষ্য: উন্নয়নশীল ও দুর্বল দেশগুলোকে জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

তথ্যসূত্র - UNFCCC ওয়েবসাইট।

৬২৩.
ওজোন গ্যাসের রং কী?
  1. ক) গাঢ় সবুজ
  2. খ) গাঢ় নীল
  3. গ) বেগুনী
  4. ঘ) ধবধবে সাদা
ব্যাখ্যা

ওজোন গ্যাসের রং গাঢ় নীল ।
- ওজোন স্তর (Ozone layer) হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে।
- এই স্তর থাকে প্রধানতঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে কম বেশি ২০-৩০ কিমি উপরে অবস্থিত।
- এই স্তরের পুরুত্ব স্থানভেদে এবং মৌসুমী কম বেশি হয়।
- বায়ুমণ্ডলে ওজোনের প্রায় ৯০ শতাংশ স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ওজোন কেন্দ্রীকরণ প্রায় ২০ এবং ৪০ কিলোমিটার (৬৬,০০০ এবং ১৩১,০০০ ফুট), তারা যেখানে মিলিয়ন প্রতি প্রায় ২ থেকে ৮ অংশ থেকে পরিসীমার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়।

সূত্র: Britannica.com

৬২৪.
ভিয়েনা কনভেনশনের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. সমুদ্র দূষণ প্রতিরোধ
  2. ওজোন স্তর সুরক্ষা
  3. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  4. গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন রোধ
ব্যাখ্যা
ভিয়েনা কনভেনশন:
• জাতিসংঘের ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ক চুক্তি।
• স্বাক্ষর ও গৃহীত - ১৯৮৫ সালের ২২ মার্চ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়।
• কার্যকর: ১৯৮৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর।
• স্বাক্ষরকারী পক্ষ ২৮টি।
• অনুমোদনকারী পক্ষ - ১৯৮টি।

- অন্যদিকে,
• কিয়েটো প্রটোকল: গ্রিণ হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ।
• কার্টাগেনা প্রটোকল: জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা বিষয়ক।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
৬২৫.
নিচের কোনটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা?
  1. ক) Green Peace
  2. খ) Sierra Club
  3. গ) Lions Club
  4. ঘ) US Aid
ব্যাখ্যা
Sierra club যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা। এটি ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎস: ব্রিটানিয়া এনসাইক্লোপিডিয়া।
৬২৬.
কোন প্রোটোকলের সাথে 'কার্বন ক্রেডিট' জড়িত?
  1. কিয়োটো প্রোটোকল
  2. নাগোয়া প্রোটোকল
  3. মন্ট্রিল প্রোটোকল
  4. জেনেভা প্রোটোকল
ব্যাখ্যা

- 'কার্বন ক্রেডিট' প্রোটোকলের সাথে জড়িত কিয়োটো প্রটোকল।

কিয়োটো প্রটোকল: 

- কিয়োটো প্রটোকল ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত হয়,
- কার্বন ক্রেডিট বা কার্বন বাণিজ্য কিয়োটো প্রটোকলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- কিয়োটো প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয় জাপানের কিয়োটোতে।
- কিয়োটো প্রটোকল কার্যকর হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে। 

অন্যদিকে: 
- নাগোয়া প্রোটোকল কী উদ্দেশ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার। 
- মন্ট্রিল প্রোটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।

সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। 

৬২৭.
UNFCCC- এর অধীনে কোন দুটি চুক্তি গৃহীত হয়?
  1. কিয়োটো প্রটোকল ও প্যারিস চুক্তি
  2. কিয়োটো প্রটোকল ও মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. মন্ট্রিল প্রটোকল ও প্যারিস চুক্তি
  4. কার্টাগোনা প্রটোকল ও নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা
UNFCCC: 
- এর পূর্ণরূপ: United Nations Framework Convention on Climate Change.
- জাতিসংঘের উদ্যোগে এটি ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
- এটি কার্যকর হয়: ১৯৯৪ সালে।
- এর মূল কাজ: জলবায়ু সম্মেলন আয়োজন করা।
- সদর দপ্তর: বন, জার্মানি।
- UNFCCC- এর অধীনে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়: 
- কিয়োটো প্রটোকল ও প্যারিস চুক্তি।

কিয়োটো প্রটোকল:
- জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- উদ্দেশ্যে: কার্বন ডাইঅক্সাইড ও গ্রিন হাউস গ্যাস উদ্‌গিরণ কমানো।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সাউথ সুদান এ প্রটোকল অনুসমর্থন করে নি।
- ২০১২ সালে কানাডা নিজেকে প্রত্যাহার করে।

প্যারিস চুক্তি:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তি।
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর - ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ-২১ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে ১৯৫টি দেশ।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
          ii) UNTC ওয়েবসাইট।
৬২৮.
ঘূর্ণিঝড় 'আম্ফান' এর নামকরণ করে কোন দেশ?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) ভারত
  3. গ) শ্রীলঙ্কা
  4. ঘ) থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
২০ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এর নামকরণ করে থাইল্যান্ড। আম্ফান অর্থ দৃঢ়তা। ২০০৪ সাল থেকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার উদ্যোগে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্টি ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ চালু হয়। তখন সাগর দুটির উপকূলে অবস্থিত ৮ টি দেশ থেকে মোট ৬৪টি নামের একটি তালিকা করা হয় যার মধ্যে সর্বশেষ ছিলো আম্ফান। পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে নিসর্গ (বাংলাদেশ)। (সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস)
৬২৯.
The "Green Climate Fund" was established to- 
  1. Support fossil fuel industries during transition
  2. Provide financial aid to developing countries for climate adaptation and mitigation
  3. Monitor CO₂ emissions
  4. Pay carbon taxes for developed nations
ব্যাখ্যা

⇒ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করার জন্য তহবিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

Green Climate Fund:
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF) জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) কর্তৃক গঠিত একটি গঠিত তহবিল।
- GCF এর পূর্ণরূপ Green Climate Fund।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২০১০ সাল।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: কানকুন, মেক্সিকো।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেল: COP-16.
- সদর দপ্তর: সোংডো, ইনচেন সিটি, দক্ষিণ কোরিয়া।

তথ্যসূত্র - গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ওয়েবসাইট।

৬৩০.
কিয়োটো প্রটোকল কীসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. অর্থনীতি
  2. পরিবেশ
  3. সংস্কৃতি
  4. নিরাপত্তা
ব্যাখ্যা

• কিয়োটো প্রটোকল পরিবেশ এর সাথে সম্পৃক্ত।

• কিয়োটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাধ্যতামূলকভাবে হ্রাসকরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি হচ্ছে কিয়োটো প্রটোকল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- সেই সময় সুদান জাতিসংঘের সদস্য ছিলো না, তাই স্বাক্ষর করেনি।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৮৩টি।
- প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৬৩১.
বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি প্রথম স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ক) ৬ মে, ১৯৭২ সালে
  2. খ) ৭ মে, ২০১৫ সালে
  3. গ) ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে
  4. ঘ) ১ আগস্ট, ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি (ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি) প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে।
- বাংলাদেশ অনুমোদন করে ১৯৭৪ সালে কিন্তু ভারত তখন অনুমোদন করেনি‌।
- ৬ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয় এবং ৭ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় সংসদের লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১ আগস্ট ২০১৫ সালে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিট মহল বিনিময় হয়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬৩২.
কোন পরিকল্পনার ভিত্তিতে "Vulnerable - 20" প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) Climate Change Action Plan
  2. খ) Costa Rica Action Plan
  3. গ) Sendai Framework for Action
  4. ঘ) Climate Emergency Action Plan
ব্যাখ্যা
V-20 বা Vulnerable - 20 হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি দেশের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত একটি ফোরাম।

প্রতিষ্ঠাকাল: ৮ অক্টোবর, ২০১৫ সাল
প্রতিষ্ঠার স্থান: লিমা, পেরুতে অনুষ্ঠিত Climate Vulnerable Forum - এর বৈঠকে
সদস্য সংখ্যা: ৫৫ টি

V20 প্রতিষ্ঠার ধারণাটি মূলত কোস্টা রিকা অ্যাকশন প্ল্যান (2013-2015) থেকে এসেছে।
 
উৎস: V-20 ওয়েবসাইট
৬৩৩.
কিয়োটো প্রোটোকলের মূল লক্ষ্য কোনটি?
  1. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  2. বনাঞ্চল সংরক্ষণ
  3. গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস
  4. মহাসাগর দূষণ নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

• কিয়োটো প্রোটোকল (Kyoto Protocol):
- এটি একটি বহুরাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা পরিবেশ সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে গৃহীত।
- এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো গ্রিনহাউজ গ্যাস (Greenhouse Gas) নিঃসরণ হ্রাস করা।
- এই প্রোটোকল ‘কার্বন ক্রেডিট’ (Carbon Credit) ধারণা প্রবর্তন করে।
- এর দ্বারা দেশগুলিকে নির্দিষ্ট হারে কার্বন নিঃসরণ কমাতে উৎসাহিত করে।
- প্রথম গৃহীত: ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৭, কিয়োটো, জাপান।
- কার্যকর: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৬৩৪.
'Bali Action Plan' কোন জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত হয়?
  1. ক) COP15
  2. খ) COP13
  3. গ) COP16
  4. ঘ) COP21
ব্যাখ্যা
- ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বালিতে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ আয়োজিত ১৩তম বিশ্ব জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন যা COP13 নামে পরিচিত। 
- এই সম্মেলনে Bali Action Plan গৃহীত হয়। 
- বালি অ্যাকশন প্ল্যান মূলত একটি নিরাপদ জলবায়ু ভবিষ্যত অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ চিহ্নিত করে।
 
The 13th Conference of Parties to the UN Frame work Convention on Climate Change (UNFCCC), held in Bali in December 2007, launched the Bali Action Plan, which identified a set of actions essential to achieve a secure climate future. Bangladesh, in its subsequent submission on the Bali Action Plan, made it explicit that development and poverty eradication is the priority for the country. The country opposes any action that may jeopardize the attainment of secure access to food, water, energy and livelihoods.
 
উৎস: nda.erd.gov.bd
৬৩৫.
পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক পুরস্কার কোনটি?
  1. ক) ইদান পুরস্কার
  2. খ) চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ
  3. গ) কলিঙ্গ পুরস্কার
  4. ঘ) সাউথ সাউথ এ্যাওয়ার্ড
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ২০০৫ সাল থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার প্রদান করে আসছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সরকারি বেসরকারি পর্যায় থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে পলিসি লিডারশীপ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার লাভ করেন। ইদান পুরস্কার শিক্ষাক্ষেত্রে এবং কলিঙ্গ পুরস্কার বিজ্ঞানের প্রসারের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। মানবকল্যাণে অবদানের জন্যে সাউথ সাউথ পুরস্কার দেওয়া হয়। (সূত্রঃ চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ প্রাইজ ওয়েবসাইট, দৈনিক প্রথম আলো এবং এনসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৬৩৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তিতে কোন চুক্তি সাক্ষরিত হয়?
  1. ক) জেনেভা চুক্তি
  2. খ) দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি
  3. গ) প্যারিস প্যাক্ট
  4. ঘ) প্রথম ভার্সাই চুক্তি
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান এবং জার্মানিকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি সাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি প্রণয়ন করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ইতালি। প্রথম ভার্সাই চুক্তি’র (৩ সেপ্টেম্বর ১৭৮৩) বিষয় ছিলো ব্রিটেন কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধকরণকল্পে প্যারিস প্যাক্ট (২৭ আগস্ট ১৯২৮) সাক্ষরিত হয় এবং ভিয়েতনামকে দুটি অংশে বিভক্তকরণে ফ্রান্স ও ভিয়েতনামের মধ্যে জেনেভা চুক্তি (২০ জুলাই ১৯৫৪) সাক্ষরিত হয়। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৬৩৭.
রামসার কনভেনশনের উদ্দেশ্য কী?
  1. জলাভূমি সংরক্ষণ
  2. মরুভূমি সংরক্ষণ
  3. মহাসাগর সংরক্ষণ
  4. বিপন্ন প্রাণি সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• রামসার কনভেনশন (১৯৭১):
- পূর্ণনাম Ramsar Convention on Wetlands.
- এই কনভেনশনটি ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে গৃহীত হয় এবং ১৯৭৫ সালে কার্যকর হয়।
- তারপর থেকে, বিশ্বের সমস্ত ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে প্রায় ৯০% জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র "চুক্তিকারী পক্ষ" হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 
• এর উদ্দেশ্য: আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সংরক্ষণ করা।
- সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি (Wetlands) তালিকাভুক্ত করতে বলা হয়, যা রামসার সাইট নামে পরিচিত।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১৭৩টি দেশ (২০২৪ সাল পর্যন্ত)।
- ২রা এপ্রিল ২০২৫ তারিখে, সৌদি আরব ইউনেস্কোর মহাপরিচালকের কাছে কনভেনশনে তাদের যোগদানের দলিল জমা দেয়।
- এই কনভেনশনটি দেশের জন্য ২রা আগস্ট ২০২৫ তারিখে কার্যকর হবে, যা এটিকে জলাভূমি সংরক্ষণ এবং বিজ্ঞতার সাথে ব্যবহারের জন্য নিবেদিত চুক্তির ১৭৩তম চুক্তিকারী পক্ষ করে তুলবে।

উৎস: Ramsar Convention Official Website.

৬৩৮.
ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের বর্তমান সভাপতি দেশ কোনটি?
  1. ক) মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
  2. খ) ইন্দোনেশিয়া
  3. গ) বাংলাদেশ
  4. ঘ) নাউরু
ব্যাখ্যা
ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের বর্তমান সভাপতি দেশ - বাংলাদেশ। ২০২০-২০২২ মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম - হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জোট। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের প্রাক্কালে মালদ্বীপের উদ্যোগে এই জোট গঠিত হয়। এই জোটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৪৮টি।
(সূত্র: Climate Vulnerable Forum ওয়েবসাইট)
৬৩৯.
ওজোন স্তর রক্ষার জন্য নিচের কোন চুক্তিটি সবচেয়ে সফল হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. অটোয়া চুক্তি
  2. বাসেল কনভেনশন 
  3. মন্ট্রিল প্রোটোকল
  4. প্যারিস চুক্তি
ব্যাখ্যা

- ওজোন স্তর রক্ষার জন্য মন্ট্রিল প্রোটোকল  চুক্তিটি সবচেয়ে সফল হিসেবে বিবেচিত হয়।

মন্ট্রিল প্রটোকল:

- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই প্রটোকল কানাডার মন্ট্রিয়াল শহরে গৃহীত হয়।
- ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি এটি কার্যকর হয়।
- ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চল চুক্তিটির অংশীদার। চুক্তি গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজনস্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

অন্যদিকে,
• বাসেল কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয় ২২ মার্চ ১৯৮৯ সালে।
- যা  বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃরাষ্ট্রীয় চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক একটি চুক্তি।

• অটোয়া চুক্তি স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি।
- লক্ষ্য: এই চুক্তির মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলো অ্যান্টি-পার্সোনেল ল্যান্ডমাইন ব্যবহার, মজুদ, উৎপাদন এবং হস্তান্তর সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৬৪০.
'Loss and Damage Fund'-এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. বনায়ন প্রকল্প
  2. জীবাশ্ম জ্বালানির উন্নয়ন
  3. জলবায়ু গবেষণা
  4. জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পূরণ
ব্যাখ্যা
Loss and Damage Fund:
- 'Loss and Damage Fund' চালু প্রস্তাব গৃহীত হয় ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে (COP-27)।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্ষতি হয়, তার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

⇒ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্বের উন্নত দেশগুলো।
- ২০০৯ সালে উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
- শেষ পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত তহবিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০২২ সালে মিশরের শার্ম এল-শেখ-এ অনুষ্ঠিত কপ-২৭ শীর্ষ সম্মেলনে একটি চুক্তি হয়।
- আর এটিই হচ্ছে Loss and Damage Fund (লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল)।
- Loss and Damage Fund-এর লক্ষ্য: উন্নয়নশীল ও দুর্বল দেশগুলোকে জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৬৪১.
১ম ধরিত্রী সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. কানাডা
  2. ফ্রান্সে
  3. ব্রাজিলে
  4. যুক্তরাষ্ট্রে
ব্যাখ্যা

১ম ধরিত্রী সম্মেলন:
- ধরিত্রী সম্মেলন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা।
- ১৯৯২ সালে পরিবেশ ও উন্নয়নের উপর জাতিসংঘের সম্মেলন (UNCED), ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত।
- ধরিত্রী সম্মেলন ছিল ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বিশ্ব নেতাদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। 
- এই সম্মেলনে ১১৭ জন রাষ্ট্রপ্রধান এবং ১৭৮টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। 
- সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তি এবং অন্যান্য নথিপত্রের মাধ্যমে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ নামমাত্রভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নিজেদেরকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে এমন উপায়ে যা পৃথিবীর পরিবেশ এবং অ-নবায়নযোগ্য সম্পদ রক্ষা করবে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৬৪২.
২৯তম জলবায়ু সম্মেলন ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর কত বিলিয়ন ডলার সহায়তার অঙ্গীকার করা হয়েছে?
  1. ১০০ বিলিয়ন ডলার
  2. ১৫০ বিলিয়ন ডলার
  3. ২০০ বিলিয়ন ডলার
  4. ৩০০ বিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা
২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29):
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
- তাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশনের (ইউনএফসিসিসি) আওতায় ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর Conference of Parties (COP) অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

⇒ ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জলবায়ু সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফাইন্যান্স কপ’ বা ‘জলবায়ুর আর্থিক সম্মেলন’। জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৯–এর সভাপতিত্ব করেন মুখতার বাবায়েভ (Mukhtar Babayev)। এই সম্মেলনে রাষ্ট্রপ্রধান, বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

উল্লেখ্য,
- এ জলবায়ু চুক্তিতে ঐকমত্যে আসে প্রায় ২০০টি সদস্য দেশ।
- চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর ৩০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার অঙ্গীকার করেছে।
- পাশাপাশি, দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের জন্য ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে সম্মত হয়েছে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৬৪৩.
Convention on Biological Diversity (CBD) কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা

Convention on Biological Diversity (CBD):
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রধান ও সবচেয়ে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক চুক্তিটি হলো Convention on Biological Diversity।
- গৃহীত হয়: ১৯৯২ সালে ব্রাজিলে রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত 'আর্থ সামিট' বা ধরিত্রী সম্মেলনে।
- কার্যকর হয়: ১৯৯৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৬টি। 
- সম্পর্কিত প্রটোকল: কার্টাগেনা প্রটোকল (জৈব নিরাপত্তা) এবং নাগোয়া প্রটোকল (জেনেটিক সম্পদের সুফল বন্টন) এর আওতাভুক্ত।

• মূল উদ্দেশ্য:
- জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ,
- জীববৈচিত্র্যের টেকসই ব্যবহার,
- জেনেটিক সম্পদের ব্যবহার থেকে উদ্ভূত সুবিধার ন্যায্য ও সমতামূলক ভাগাভাগি।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৬৪৪.
বর্তমানে মন্ট্রিল প্রটোকল অনুমোদনকারী দেশ কয়টি? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ১৯৭টি
  2. ১৯৮টি
  3. ১৯৯টি
  4. ২০০টি
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।
- এই প্রটোকলে ওজোন স্তরের ক্ষতিকর পদার্থ নিঃসরণ বন্ধ বা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- প্রটোকল গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- প্রটোকল কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- প্রটোকল স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- প্রটোকল স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- প্রটোকল অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট। [link]
ii) Ozone Secretariat।
৬৪৫.
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও কীটনাশকের ব্যবহার দূর করতে কোন কনভেনশন গৃহীত হয়?
  1. রটারডাম কনভেনশন
  2. ভিয়েনা কনভেনশন
  3. জেনেভা কনভেনশন
  4. বাসেল কনভেনশন
ব্যাখ্যা
রটারডাম কনভেনশন:
- রটারডাম কনভেনশন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বৈশ্বিক চুক্তি গৃহীত হয়েছিল।
- কনভেনশনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও কীটনাশকের ব্যবহার দূর করতে। 
- গৃহীত হয়েছিল: ১০ ​​সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে নেদারল্যান্ডের রটারডামে।
- কার্যকর হয়: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে।
- কনভেনশনের উদ্দেশ্য হল মানব স্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পক্ষগুলির মধ্যে ভাগ করা দায়িত্ব এবং সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার প্রচার করা।
- এটি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৬-এ বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে -
- ভিয়েনা কনভেনশন -এর আলোচ্য বিষয় ওজোন স্তরের সুরক্ষা। 
- জেনেভা কনভেনশন সম্পাদিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও এর ফলাফল হিসেবে।
- UNEP বিপজ্জনক বা বিষাক্ত বর্জ্য এবং এটির আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য বাসেল কনভেনশন নামে একটি কনভেনশন গ্রহণ করে।

উৎস: Rotterdam Convention ওয়েবসাইট। 
৬৪৬.
জলাভূমি (Wetlands) সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত আন্তর্জাতিক কনভেনশনটির নাম কী?
  1. মন্ট্রিল কনভেনশন
  2. বন কনভেনশন
  3. রামসার কনভেনশন 
  4. রটারড্যাম কনভেনশন
ব্যাখ্যা

- জলাভূমি (Wetlands) সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত আন্তর্জাতিক কনভেনশনটির নাম রামসার কনভেনশন।

• রামসার কনভেনশন (১৯৭১):

- পূর্ণনাম Ramsar Convention on Wetlands.
- চুক্তির স্থান: রামসার, ইরান।
- গৃহীত হয়: ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সাল।
কার্যকর হওয়ার তারিখ: ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ সাল।
- এর উদ্দেশ্য: আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সংরক্ষণ করা।
- সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি (Wetlands) তালিকাভুক্ত করতে বলা হয়, যা রামসার সাইট নামে পরিচিত।
- বর্তমান সদস্য: ১৭২টি দেশ।
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে টেকসই উন্নয়ন প্রচারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি।

উৎস:Ramsar Convention Official Website

৬৪৭.
কোথায় জীব বৈচিত্র সংক্রান্ত কনভেনশন (CBD) স্বাক্ষরিত হয়?
  1. জেনেভায় 
  2. অটোয়া
  3. নিউইয়র্ক
  4. রিও ডি জেনিরো
ব্যাখ্যা

- জীব বৈচিত্র কনভেনশন (CBD) এর পূর্ণরূপ Convention On Biological Diversity 

⇒ ১৯৯২ সালে রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত আর্থ সামিটে, বিশ্ব নেতারা "টেকসই উন্নয়নের" জন্য একটি বিস্তৃত কৌশলের উপর একমত হন - যা আমাদের চাহিদা পূরণ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও কার্যকর পৃথিবী রেখে যাবে তা নিশ্চিত করবে।

 ⇒ রিওতে গৃহীত মূল চুক্তিগুলির মধ্যে একটি ছিল জৈবিক বৈচিত্র্য সংক্রান্ত কনভেনশন।

⇒  বিশ্বের বেশিরভাগ সরকারের মধ্যে এই চুক্তিটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বের পরিবেশগত ভিত্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি নির্ধারণ করে।

⇒ এই কনভেনশনটি তিনটি প্রধান লক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করে: জৈবিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, এর উপাদানগুলির টেকসই ব্যবহার এবং জেনেটিক সম্পদের ব্যবহার থেকে প্রাপ্ত সুবিধার ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত বন্টন।

উৎস: The Convention on Biological Diversity.

৬৪৮.
কপ-২৬ সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা কত ডিগ্রির মধ্যে রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে?
  1. ১.০
  2. ১.৫
  3. ১.৭
  4. ১.৬৭
ব্যাখ্যা
কপ-২৬ সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে।
- কপ ২৬ সম্মেলন থেকে তারা বলেছে যে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য অর্জনে একসাথে কাজ করবে।
- কিন্তু ২০২১ সালে উন্নত দেশগুলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা ১.৭ থেকে ২.৭ ডিগ্রী পর্যন্ত।
- বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনকারী দেশ হলো চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য,
২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে ২৬তম কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: ukcop26.org
৬৪৯.
কিয়োটো প্রটোকল প্রত্যাহার করে প্রথম কোন দেশ?
  1. কানাডা
  2. জাপান
  3. ফ্রান্স
  4. আমেরিকা
ব্যাখ্যা
• কিয়োটো প্রটোকল: 
- কিয়োটো প্রটোকল (Kyoto Protocol) হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে জাপানের কিয়োটো স্বাক্ষর হয়।
- লক্ষ্য: গ্যাস নির্গমন কমানো যা পরিবেশ দূষণে অবদান রাখেবিশ্ব উষ্ণায়ন।
- ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হয়।
- কানাডা প্রথম দেশ হিসেবে কিয়োটো প্রটোকল প্রত্যাহার করে।

→মূল উদ্দেশ্য:

- কিয়োটো প্রটোকলের প্রধান লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের (GHG) ঘনত্ব এমন মাত্রায় স্থিতিশীল করা।
- যা জলবায়ু ব্যবস্থায় বিপজ্জনক মানবসৃষ্ট হস্তক্ষেপ রোধ করবে।
- এটি ১৯৯০ সালের স্তরের তুলনায় ২০০৮–২০১২ সালের মধ্যে GHG নির্গমন ৫.২% কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে।​

উল্লেখ্য,
- কিয়োটো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কার্বন নির্গমনকারী দেশটির প্রতিশ্রুতি অর্জন করতে পারেনি।
- ২০১১ সালে কানাডা, রাশিয়া এবং জাপান ঘোষণা করে যে তারা কিয়োটোর নতুন লক্ষ্য গ্রহণ করবে না।
- ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে।
 
- কিয়োটো প্রটোকল একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়।
- বাংলাদেশ ২০০১ সালের ২২ অক্টোবর কিয়োটো প্রটোকল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে চুক্তিটি অনুমোদন দেয়।

উৎস: Britannica.
৬৫০.
কত সাল থেকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে?
  1. ১৯৬৪ সাল
  2. ১৯৬৩ সাল
  3. ১৯৬২ সাল
  4. ১৯৬১ সাল
ব্যাখ্যা
• মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন:
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী, একাডেমিশিয়ান, বিশেষজ্ঞ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
- সম্মেলনে বৈশ্বিক নিরাপত্তাগত পলিসি, চ্যালেঞ্জ ও সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা হয়।
- ১৯৬৩ সাল থেকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
- স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রধান দুই উদ্যোক্তা এভাল্ড ভন ক্লাইস্ট ও হোর্স্ট টেল্টশিক এই সম্মেলনকে বিশ্বজনীন রূপ দেওয়ার প্রয়াসে নতুন রূপরেখা তৈরি করেন। 

উৎস: সিকিউরিটি কনফারেন্স সংস্থা ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো  পত্রিকা রিপোর্ট।
৬৫১.
’নাগোয়া প্রটোকল’ কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৭ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০১০ সালে
ব্যাখ্যা

 নাগোয়া প্রটোকল:
- পূর্ণ নাম: The Nagoya Protocol on Access and Benefit-sharing
- নাগোয়া প্রোটোকল হল জৈবিক বৈচিত্র্য কনভেনশনের একটি পরিপূরক চুক্তি। 
- ABS সংক্রান্ত নাগোয়া প্রোটোকলটি ২৯ অক্টোবর ২০১০ তারিখে জাপানের নাগোয়ায় গৃহীত হয়।
- প্রটোকলটি ১২ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে কার্যকর হয়।
- এর উদ্দেশ্য হল জিনগত সম্পদের ব্যবহার থেকে উদ্ভূত সুবিধাগুলির ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত বন্টন, যার ফলে জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহারে অবদান রাখা যায়।
- স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।

উৎস: Convention on Biological Diversity ওয়েবসাইট।

৬৫২.
'দোহা সংশোধনী' পরিবেশ বিষয়ক কোন প্রটোকলের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. কার্টাগেনা প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা
'দোহা সংশোধনী' পরিবেশ বিষয়ক কিয়োটো প্রটোকলের সাথে সম্পর্কিত।

দোহা সংশোধনী:
- ২০১২ সালে কাতারের রাজধানী দোহাতে অনুষ্ঠিত হয় কপ - ১৮ সম্মেলন।
- এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য ছিল কিয়োটো প্রটোকলের দ্বিতীয় পর্ব (২০১৩-২০২০) এবং কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার জন্য গৃহীত হয়েছিল।
- একে বলা হয় দোহা সংশোধনী।

উল্লেখ্য,
- কিয়োটো প্রটোকল হল United Nations Framworks Convention on Climate Change (UNFCCC) একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যার আওতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। কার্বনের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গিয়ে পৃথিবীকে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেওয়া থেকে উদ্ধার করার জন্যেই মূলত এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।‍
- প্রথম পর্বের পর কিয়োটো প্রটোকলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য দ্বিতীয় পর্বের জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, এবং সেগুলোই দোহা সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৬৫৩.
বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে গৃহীত আন্তর্জাতিক চুক্তি কিয়োটো প্রটোকল এর মেয়াদ কত সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিলো?
  1. ক) ২০১৩
  2. খ) ২০১৬
  3. গ) ২০২০
  4. ঘ) ২০২৫
ব্যাখ্যা
কিয়ােটো প্রটোকল:
- ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে জাপানের কিয়োটো শহরে অনুষ্ঠেয় ৩য় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন বা Conference of Parties (CoP)-3 এ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কিয়োটো প্রটোকল গৃহীত হয়।
- এর অংশীদার মােট ১৯২টি দেশ ও সংস্থা।
- ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি কার্যকর হয়।
- ২০১২ সালে এর মেয়াদ শেষ হলে দোহা সংশোধনীর মাধ্যমে এটির মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

- বাংলাদেশ কিয়োটো প্রটোকল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয় ২০০১ সালের ২২ অক্টোবর এবং কার্যকর হয় ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।
- স্বাক্ষর করেছে কিন্তু অনুমোদন করেনি - আমেরিকা।
- কিয়োটো প্রত্যাহার কারী একমাত্র দেশ - কানাডা।

তথ্যসূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
৬৫৪.
'গ্লাসগো জলবায়ু চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ক) COP 23
  2. খ) COP 24
  3. গ) COP 25
  4. ঘ) COP 26
ব্যাখ্যা
COP26: Together for our planet

- স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ৩১ অক্টোবর ২০২১ থেকে শুরু হয় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৬)। 
- গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP26) 120 বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এবং 40,000 এরও বেশি নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে এসেছে, যার মধ্যে 22,274 দলীয় প্রতিনিধি, 14.124 পর্যবেক্ষক এবং 3.886 মিডিয়া প্রতিনিধি রয়েছে।
- দুই সপ্তাহ ধরে, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্ত দিক নিয়ে আলোড়িত ছিল এই সম্মেলন।
- COP26 এর ফলাফল-গ্লাসগো জলবায়ু চুক্তি
- দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রায় 200 টি দেশের মধ্যে তীব্র আলোচনার ফসল।

উৎস: un.org
৬৫৫.
'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন, কপ- ২৮' কোন শহরে অনুষ্ঠিত হবে?
  1. শারম্ এল-শেখ
  2. দুবাই
  3. সিডনি
  4. রিয়াদ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP): 
• ১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) গৃহীত হয়।
• UNFCCC means United Nations Framework Convention on Climate Change.  
• এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা।  

• ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   
• ২০২২ সালের নভেম্বরে মিশরের শারম্ এল-শেখ এলাকায় 'কপ-২৭' অনুষ্ঠিত হয়। 
• আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে 'কপ-২৮' আয়োজিত হবে। 

• 'কপ-২৯' আয়োজিত হবে আজারবাইজানে। 
• 'কপ-৩০' ব্রাজিলের বেলেম শহরে।   

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট, জাতিসংঘ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট এবং সময়নিউজ (২৭ মে ২০২৩)।
৬৫৬.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কত শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল?
  1. ২৫%
  2. ৩৫%
  3. ৪৩%
  4. ৪৮%
ব্যাখ্যা

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ৪৩ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি-২০১৫:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০১৫ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে: ১৯৫টি দেশ।

⇒ বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) কাজ করে।
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর - ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ-২১ সম্মেলনে এই চুক্তি গৃহীত হয়।
- এই চুক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDCs) দিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য অঙ্গীকার করে।

⇒ চুক্তির মূল লক্ষ্য:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন প্রায় ৪৩ শতাংশ কমানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।

উল্লেখ্য,
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে ২২ এপ্রিল, ২০১৬ তারিখে এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুমোদন করেছে ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে।

উল্লেখ্য,
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায়, উন্নত দেশগুলো ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিলে জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই অর্থ উন্নয়নশীল ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে ব্যয় করার কথা ছিল। ​
- তবে, কপ-২৯ সম্মেলনে (নভেম্বর, ২০২৪) এই প্রতিশ্রুতি বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।

৬৫৭.
Green Climate Fund গঠন করা হয় কোন সম্মেলনের মাধ্যমে?
  1. COP-19
  2. COP-10
  3. COP-16
  4. COP-14
ব্যাখ্যা

Green Climate Fund:
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (Green Climate Fund) জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) কর্তৃক গঠিত একটি তহবিল।
- ২০১০ সালে মেক্সিকোর কানকুনে অনুষ্ঠিত COP-16 সম্মেলনে এই তহবিল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সদরদপ্তর দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়েনচিয়নে অবস্থিত।
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তার জন্য এই তহবিল গঠিত হয়েছে, এর লক্ষ্যমাত্রা বছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা।

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP) হলো "Conference of the Parties"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- ১৯৯২ সালে এই ফ্রেমওয়ার্ক গৃহীত হয়, এর মূল লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করা।
- ১৯৯৫ সাল থেকে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
- ২০২৫ সালের COP-30 ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র: গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও UNFCCC ওয়েবসাইট।

৬৫৮.
নিচের কোন প্রোটোকল কার্বন ক্রেডিটের ধারণা দেয়?
  1. ভিয়েনা প্রোটোকল
  2. নাগোয়া প্রোটোকল
  3. কিয়োটা প্রোটোকল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ কিয়োটা প্রোটোকল কার্বন ক্রেডিটের ধারণা দেয়।

কিয়োটা প্রোটোকল:
- কিয়োটা প্রোটোকল একটি বহুরাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত।
- এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলিকে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য দায়বদ্ধ করে।
- গৃহীত হয়: ১১ই ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ সালে।
- স্থান: কিয়োটো, জাপান।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৬৫৯.
UNFCCC-এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. United Nations Framework for Climate Control
  2. United Nations Framework Convention on Climate Change
  3. United Nations Federation on Climate Change
  4. Universal Nations Framework Convention on Climate
ব্যাখ্যা

UNFCCC:
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন UNFCCC.
- UNFCCC এর পূর্ণরূপ হল United Nations Framework Convention on Climate Change.
- জাতিসংঘ সদর দপ্তরে United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) গৃহীত হয়।
- একই বছরের ৪ থেকে ১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে এটি স্বাক্ষরের জন্যে উন্মুক্ত করা হয় যা ২১ মার্চ ১৯৯৪ কার্যকর হয়।
- UNFCCC স্বাক্ষরিত হয়: ১৯৯২ সালে।
- সদর দপ্তর: বন, জার্মানি।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৮টি।

তথ্যসূত্র - UNFCCC ওয়েবসাইট।

৬৬০.
মন্ট্রিল প্রোটোকলের অধীনে এইচএফসি নিয়ন্ত্রণে ২১০০ সালের মধ্যে কত ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এড়ানো যাবে?
  1. ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

• মন্ট্রিল প্রটোকল:
- প্রটোকলটি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ সালে।
- উদ্দেশ্য: ওজোন স্তরের ক্ষতিকর রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থ সীমিতকরণ।
- চুক্তির স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১ জানুয়ারি, ১৯৮৯।
- এটি ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে।
- মন্ট্রিল প্রটোকল চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বর্তমানে সিএফসি গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

- প্রোটোকলের পক্ষগুলি ১৯৯০ সালের স্তরের তুলনায় বিশ্বব্যাপী ৯৮% ODS পর্যায়ক্রমে বাদ দিয়েছে।
- ১৯৯০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত, চুক্তির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে ১৩৫ গিগাটন CO2 এর সমতুল্য হ্রাস করেছে বলে অনুমান করা হয়, যা বছরে ১১ গিগাটনের সমতুল্য।

⇒ কিগালি সংশোধনীর অধীনে, মন্ট্রিল প্রোটোকলের অধীনে এইচএফসি-এর ব্যবহার সীমিত করার পদক্ষেপগুলি গ্রিনহাউস গ্যাসের সমতুল্য ১০৫ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন রোধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২১০০ সালের মধ্যে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এড়াতে সাহায্য করবে।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট এবং Britannica.

৬৬১.
স্টোকহোম সম্মেলন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলন:

- ১৯৭২ সালে স্টকহোমে জাতিসংঘের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয়।
- স্টকহোম সম্মেলনের  ফলাফল হিসেবে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) তৈরী হয়।
- স্টকহোম ঘোষণাপত্রে ২৬টি নীতি রয়েছে।
- অ্যাকশন প্ল্যানে তিনটি প্রধান বিভাগ ছিল,
• গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম (ওয়াচ প্ল্যান)।
• পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম।
• জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পাদিত মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা।
- এই বিভাগগুলিকে ১০৯টি সুপারিশে বিভক্ত করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬৬২.
নিম্নের কোন চুক্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া নীতির অংশ?
  1. ক) ACSA
  2. খ) GSOMIA
  3. গ) IPEF
  4. ঘ) RCEP
ব্যাখ্যা
IPEF:
IPEF এর পূর্ণরুপ Indo-Pacific Economic Framework.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এশিয়া নীতির অংশ হিসাবে ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্কে ভারতসহ ১৩ দেশ যোগদান করবে। এ অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী প্রভাবের পালটা হিসাবে নতুন এই বাণিজ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য বাইডেনের এ উদ্যোগ থেকে শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছে। 
২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন এই উদ্যোগ শুরুর সময়ে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে কূটনৈতিক পর্যায়ে ব্রিফ করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের হোমওয়ার্ক সম্পন্ন না হওয়ায় ঢাকার ধীরে চলো নীতি ছিল। ফলে চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিবর্তে ব্রুনাইকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করে।
আইপিইএফ চারটি প্রধান ক্ষেত্র ডিজিটাল অর্থনীতি, সরবরাহ চেইন, ক্লিন এনার্জি অবকাঠামো এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে পারস্পরিক সম্মতিতে মানদণ্ড নির্ধারণ করবে।
আইপিইএফে যে ১৩টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেগুলো হলো - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম।
 
ACSA: 
ACSA এর পূর্ণরূপ Acquisition and Cross-Servicing Agreement.
আকসা চুক্তির অধীনে মার্কিন বাহিনী খাদ্য, জ্বালানি, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামাদি বিনিময় হয়ে থাকে। 
এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ন্যাটো কিংবা তার কোয়ালিশন পার্টনারদের সঙ্গে করে থাকে। এই চুক্তি কোনো দেশের সামরিক অভিযান পরিচালনার কোনো অঙ্গীকার নয়। তৃতীয় দেশের মধ্যেও আকসা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য অনেক দেশের সঙ্গে আকসা করেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

GSOMIA:
GSOMIA'র পূর্ণরূপ General Security of Military Information Agreement। 
জিসোমিয়া চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের বিনিময় করে থাকে।
 
উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, মে - জুন 
৬৬৩.
গ্রীন হাউস গ্যাসসমূহ নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত চুক্তি “The Kyoto Protocol” জাতিসংঘ কর্তৃক কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৯৭
  2. ১৯৯৯
  3. ২০০৩
  4. ২০০৪
ব্যাখ্যা
কিয়োটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাধ্যতামূলকভাবে হ্রাসকরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি হচ্ছে কিয়োটো প্রটোকল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৮৩টি।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯২টি।
- প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালে।

উল্লেখ্য,
- এই সম্মেলনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ ১৯২টি দেশের মধ্যে কানাডা, দক্ষিণ সুদান ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত ১৯১টি দেশ উপস্থিত ছিল।
- কিয়োটো চুক্তির ভিত্তিতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ২০১২ সালের মধ্যে ৫.২ শতাংশ কমানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- চুক্তি বাস্তবায়নের শর্ত অনুযায়ী বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাসের ৫৫ শতাংশ উৎপাদনকারী দেশগুলোর স্বাক্ষরের প্রয়োজন ছিল।
- প্রাথমিক পর্যায়ে নিজ নিজ দেশে উৎপন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
- ক্তিভুক্ত দেশগুলো যে ছয়টি গ্যাস নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নেয় সেগুলো হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, হাইড্রোফ্লোরোকার্বন, পারফ্লোরোকার্বন ও সালফার।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৬৬৪.
বাসেল কনভেনশন কোথায় স্বাক্ষরিত হয়? 
  1. ডেনমার্ক 
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. জাপান 
ব্যাখ্যা

• বাসেল কনভেনশন: 
- বাসেল কনভেনশন হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি ।
- যা বিপজ্জনক বর্জ্য এবং অন্যান্য ধরনের বর্জ্যের এক দেশ থেকে অন্য দেশে, বিশেষ করে উন্নত দেশ থেকে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে, স্থানান্তর ও ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- সম্পূর্ণ নাম: Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and Their Disposal
- চুক্তি তারিখ: ২২ মার্চ ১৯৮৯ সালে।
- কার্যকর হয়: ৫ মে ১৯৯২ সালে।
- স্থান: বাসেল, সুইজারল্যান্ড ।

• উদ্দেশ্য:
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তর্জাতিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা।
- বিপজ্জনক বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
- পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশ ১৯৯৩ সালে বাসেল কনভেনশনে যোগ দেয়।

তথ্যসূত্র: Basel Convention ওয়েবসাইট। 

৬৬৫.
মন্ট্রিল প্রটোকল কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ২৭ এপ্রিল, ১৯৯৮
  2. ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭
  3. ২৫ আগস্ট, ১৯৮৯
  4. ২৭ মে,  ১৯৯৮
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল:
 ধরিত্রীকে রক্ষার লক্ষ্যে ওজোনস্তর রক্ষায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে 'ভিয়েনা কনভেনশন' গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে "মন্ট্রিল প্রটোকল" নামে এক যুগান্তকারী চুক্তি গৃহীত হয়।
- এটি ওজনস্তর ক্ষয়কারী বস্তু সামগ্রী উৎপাদন, বিপণন এবং ব্যবহার বন্ধ বিষয়ক প্রটোকল।
- প্রটকলটি- কানাডার মন্ট্রিলে স্বাক্ষরিত হয়।
- গৃহীত হয় - ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭।
- কার্যকর -  ০১ জানুয়ারি ১৯৮৯।
- জনগণের মধ্যে ওজোনস্তর রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৯৪ সালে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস পালিত হচ্ছে।
- এ পর্যন্ত প্রটোকলে ১৯৯০ হতে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৬ বার  সংশোধনীর মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়।

উৎস:
1. Britannica
2. তথ্য অধিদফতর [ লিংক]
৬৬৬.
’কিয়োটো প্রটোকল’ এর সাথে সম্পর্কিত বিষয় কী? 
  1. ওজোন স্তর সুরক্ষা
  2. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  3. বানিজ্য চুক্তি
  4. গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস 
ব্যাখ্যা

কিয়োটো প্রটোকল:
- চুক্তির নাম: কিয়োটো প্রটোকল,
- স্থান: কিয়োটো, জাপান,
- স্বাক্ষরিত হয়েছিল: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- আয়োজক সংস্থা: UNFCCC (United Nations Framework Convention on Climate Change)
- জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- উদ্দেশ্যে: কার্বন ডাইঅক্সাইড ও গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করা।
- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সাউথ সুদান এ প্রটোকল অনুসমর্থন করে নি।
- ২০১২ সালে কানাডা নিজেকে প্রত্যাহার করে।

অপরদিকে,
• কার্টাগেনা প্রটোকল:
- এটি জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল।
- এর উদ্দেশ্য হলো জৈব জ্বালানি সংরক্ষণ।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সালে।
- কার্যকর হয়: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সালে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৬৬৭.
কোন দুটি আরব রাষ্ট্র ক্যাম্প ডেভিড (Camp David) চুক্তি স্বাক্ষরের ফলশ্রুতিতে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে?
  1. ক) লিবিয়া ও ওমান
  2. খ) কুয়েত ও বাহরাইন
  3. গ) জর্ডান ও মিশর
  4. ঘ) তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া
ব্যাখ্যা
• ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি:
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রথম কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৭৮ সালে। 
- দ্বিতীয় রাষ্ট্র হিসেবে জর্ডান ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি, মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আল সাদাত ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Menachem দ্বারা ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে ক্যাম্প ডেভিডে প্রায় ১২ দিনের গোপন আলোচনার মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়। 
- চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় হোয়াইট হাউসে এবং এতে মধ্যস্থতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। 
- এই চুক্তির জন্যে সাদাত ও Menachem ১৯৭৮ সালে যৌথ ভাবে নোবেল শান্তি পুরষ্কার লাভ করেন।

উৎস:  লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬৬৮.
কোন সম্মেলনে "Loss and Damage Fund" তহবিল গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়?
  1. COP-21
  2. COP-25
  3. COP-27
  4. COP-29
ব্যাখ্যা
Loss and Damage Fund:
- 'Loss and Damage Fund' চালু প্রস্তাব গৃহীত হয় ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে (COP-27)।
- Loss and Damage Fund-এর লক্ষ্য: উন্নয়নশীল ও দুর্বল দেশগুলোকে জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

⇒ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্বের উন্নত দেশগুলো।
- ২০০৯ সালে উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
- শেষ পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত তহবিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০২২ সালে মিশরের শার্ম এল-শেখ-এ অনুষ্ঠিত কপ-২৭ শীর্ষ সম্মেলনে একটি চুক্তি হয়।
- আর এটিই হচ্ছে Loss and Damage Fund (লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল)।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৬৬৯.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে মূল বিষয়বস্তু ছিল-
  1. 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' তহবিল গঠন
  2. উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা
  3. উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা
  4. 'গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড' তহবিল গঠন
ব্যাখ্যা
→ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম করা।

• প্যারিস জলবায়ু চুক্তি-২০১৫:

- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: (৩০ নভেম্বর -১২ ডিসেম্বর) ২০১৫ সালে, ফ্রান্সে।
- কপ-২১ তম সম্মেলনে।
- কার্যকর : ৪ নভেম্বর ২০১৬। 

→ চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম করা।
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে,।
- ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা। 
- ধনী দেশগুলোর 'জলবায়ু তহবিল' দিয়ে সাহায্য করা।

উল্লেখ্য,
• কপ-২৯ সম্মেলন:
- ২০২৪ সালের ১১-২২ নভেম্বর আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
- এবং জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন আলোচনা করেন ।​

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৬৭০.
COP সম্মেলন কোন সংস্থার অধীনে আয়োজিত হয়?
  1. IPCC
  2. UNESCO
  3. UNFCCC
  4. UNEP
ব্যাখ্যা
- COP সম্মেলন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC)-এর অধীনে অনুষ্ঠিত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP):
- জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP), এর পূর্ণরূপ Conference of the Parties,
- ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষরিত হয়।
- এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা করা।
- COP সম্মেলন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়, এবং এর প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালে।

উল্লেখ্য, 
- কপ-২৯ আজারবাইজানে হয়েছে, এবং ২০২৫ সালের কপ-৩০ সম্মেলনটি আয়োজন করবে ব্রাজিল।

সূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট, জাতিসংঘ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট এবং ব্রাজিলের সরকারি ওয়েবসাইট।
৬৭১.
রামসার কনভেনশন কোন দেশে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. কেনিয়া
  2. ইরাক
  3. সুদান
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রামসার কনভেনশন:
- রামসার কনভেনশন (Ramsar Convention) হলো বিশ্বব্যাপী জৈবপরিবেশ রক্ষার একটি সম্মিলিত প্রয়াস।
- ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ইরানের রামসারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসমূহ 'কনভেনশন অন ওয়েটল্যান্ডস' নামক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- এটি কার্যকর হয় ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ সালে।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৭২টি।
- রামসার কনভেনশন ইরানের রামসারে অনুষ্ঠিত হয়। [এখানে উত্তর 'কোনটি নয়'] 
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট (Ramsar sites) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।

উৎস: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।
৬৭২.
মন্ট্রিল প্রটোকলের প্রধান লক্ষ্য ছিল কোনটি?
  1. গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ
  2. ওজোন স্তরের ক্ষয় রোধ
  3. পানি দূষণ প্রতিরোধ
  4. বন উজাড় নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই প্রটোকল কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত হয়।
- ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি মন্ট্রিল প্রটোকল কার্যকর হয়।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৬৭৩.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মূল উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. জলবায়ু পরিবর্তনকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা
  2. গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা
  3. উন্নত দেশগুলোর গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো
  4. বৈশ্বিক তাপমাত্রার বৃদ্ধিকে ১.৫°C এর নিচে সীমাবদ্ধ রাখা
ব্যাখ্যা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০১৫ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে: ১৯৫টি দেশ।

⇒ বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) কাজ করে।
- এই চুক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDCs) দিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য অঙ্গীকার করে।

⇒ চুক্তির মূল লক্ষ্য:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন প্রায় ৪৩ শতাংশ কমানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
৬৭৪.
কিয়োটো প্রটোকল কার্যকর হয় কবে?
  1. ০৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৫
  2. ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৫
  3. ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৫
  4. ২৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৫
ব্যাখ্যা
কিয়োটো প্রটোকল:
- কিয়োটো প্রটোকল একটি বহুরাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত।
- এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলিকে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য দায়বদ্ধ করে।
- ‘কার্বন ক্রেডিট’ এর ধারণা দেয় কিয়োটা প্রোটোকল।
- চুক্তির স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- চুক্তি গৃহীত হয়: ১১ই ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সাল।
- কার্যকর হয়: ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ সাল।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৬৭৫.
সম্প্রতি বেলেমে অনুষ্ঠিত হওয়া জলবায়ু সম্মেলন কোনটি? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. COP-30
  2. UNFCCC Climate Summit
  3. Earth Summit (Rio de Janeiro)
  4. UNEP Global Environment Assembly
ব্যাখ্যা

• আমাজনের বুকে কপ-৩০ সম্মেলন:
- এশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশ আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে গত বছর অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে তেল ও জ্বালানির গন্ধ ছিল।

- এবার ব্রাজিলের বেলেম এলাকার আমাজন বনে ৫০ হাজার অংশগ্রহণকারীকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র বাতাসের মুখোমুখি হতে হবে। 
- যেখানে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সহযোগিতাকে টিকিয়ে রাখার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো।
- ৩০তম জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ ৩০) বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট ব্রাজিলের আমাজনের একটি শহর বেলেমে ১০-২১ নভেম্বর, ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 
- এটি আমাজন রেইনফরেস্টে প্রথম জলবায়ু সম্মেলন।

- আমাজন রেইনফরেস্টের প্রাণকেন্দ্র বেলেমে আয়োজিত এই সম্মেলনকে বলা হচ্ছে “COP of Truth” বা সত্যের সম্মেলন।
- প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা হোটেল কক্ষের সংকট সত্ত্বেও এই সম্মেলন বেলেম এলাকায় আয়োজনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
- তার লক্ষ্য আমাজন বনই যাতে সম্মেলনে যোগ দেওয়া আলোচক, পর্যবেক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের চোখ খুলে দেয়।
 - এটি এমন এক শহর, যেখানে স্থানীয়রা সকালে রোদ ও বিকেলে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ছাতা বহন করে।
- গত আগস্টে লুলা বলেন, কপ-সম্মেলন ধনী দেশে আয়োজন করা সহজ হত।
 - কিন্তু আমরা চাই মানুষ বন, নদী এবং সেখানে বসবাসরত মানুষের বাস্তব অবস্থা দেখুক।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। 

৬৭৬.
জাতিসংঘ গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আটলান্টিক সনদ কবে সাক্ষরিত হয়?
  1. ক) ১২ জুন ১৯৪১
  2. খ) ১ জুলাই ১৯৪১
  3. গ) ১৪ আগস্ট ১৯৪১
  4. ঘ) ১ সেপ্টেম্বরব ১৯৪৩
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট আটলান্টিক মহাসাগরে ব্রিটিশ রণতরী প্রিন্স অব ওয়েলসে বসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন যা আটলান্টিক সনদ নামে পরিচিত। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যে কাজ করা। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৬৭৭.
কোন দেশ প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে?
  1. ক) অস্ট্রেলিয়া
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) জার্মানি
  4. ঘ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF- Bangladesh Climate Change Trust Fund) একটি স্বতন্ত্র তহবিল এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ ধরনের একটি তহবিল গঠন করেছে। ফান্ডটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য 'জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০' প্রণয়ন করা হয়েছে। উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
৬৭৮.
'High Seas Treaty' কবে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১ মার্চ, ২০২২
  2. ২ জুন, ২০২৩
  3. ২০ জুন, ২০২৩
  4. ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
ব্যাখ্যা
High Seas Treaty:
- High Seas Treaty বা UN Treaty on the High Seas হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা পৃথিবীর সমুদ্রের ৬০% অংশকে সুরক্ষা দেয় এবং সেখানে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য নতুন নীতি ও কৌশল প্রবর্তন করে।
- ‘High Seas Treaty’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২০ জুন, ২০২৩, জাতিসংঘের সদরদপ্তর নিউইয়র্কে।
- চুক্তিটির লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী "হাই সিজ" (High Seas) বা আন্তর্জাতিক জলসীমায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সেখানে মানুষের কার্যক্রমের প্রভাব কমানো।

⇒ ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রেজোলিউশন ৭২/২৪৯ গৃহীত হয়, যা একটি সম্মেলন আহ্বান করে সমুদ্রের বাইরের অঞ্চলে (High Seas) জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি (ILBI) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে। এই চুক্তি সমুদ্রের বাইরের অঞ্চলে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। রেজোলিউশনটি ১৪১টি দেশ সমর্থন করে, যা পৃথিবীর সমুদ্রের এই অবহেলিত অর্ধেকের সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

⇒ ২০১৮ থেকে, রাষ্ট্রগুলি High Seas Treaty-এর জন্য জাতিসংঘে তিনটি আলোচনায় অংশ নিয়েছে। চতুর্থ অধিবেশন ২০২০ সালে হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯-এর কারণে তা স্থগিত হয়ে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম অধিবেশনও ২০২২ সালে নিউ ইয়র্কে হয়। যদিও চুক্তি গৃহীত হয়নি, তবুও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

⇒ ৫ মার্চ, ২০২৩-এ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ High Seas Treaty-এর মূল বিষয়গুলিতে চুক্তিতে পৌঁছায়।
- নতুন চুক্তিটি উচ্চ সমুদ্রে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য স্পষ্ট উপায় নির্ধারণ করে এবং গভর্ন্যান্স ফাঁকগুলো সমাধান করে।

⇒ "High Seas" বলতে পৃথিবীর জলসীমার সেই সব অংশকে বোঝায়, যেগুলো কোনো একক দেশের সার্বভৌমত্বের আওতায় নেই এবং এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদের নিঃসরণ বা শিকার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- চুক্তির প্রধান দিকগুলো: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, এডুকেশন এবং গবেষণা, সমুদ্রের সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সতর্কতা এবং প্রভাব মূল্যায়ন, নিরাপত্তা এবং নজরদারি।
- এই চুক্তিতে সমুদ্রের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০৩০ সালের মধ্যে সাগর-মহাসাগরের ৩০ শতাংশ এলাকা সংরক্ষিত ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- ২০২৫ সালের জুনে পরবর্তী জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনের মাধ্যমে High Seas Treaty কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বের নজর এখন সরকারের দিকে, যাতে এটি দ্রুত অনুমোদিত হয়।

উৎস: i) High Seas Alliance. [link]
ii) chathamhouse.org.
৬৭৯.
WWF এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. ক) World Wide Fund for Nature
  2. খ) World Wide Fund
  3. গ) World Wide Fund for Forest
  4. ঘ) World Wildlife Fund
ব্যাখ্যা
WWF (World Wide Fund for Nature) ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংগঠন। শুরুতে এর নাম ছিলো World Wildlife Fund. ১৯৮৫ সালের এর নামকরণ করা হয় World Wide Fund for Nature। সুইজারল্যান্ডের গ্লান্ড শহরে WWF এর সদরদপ্তর অবস্থিত। (সূত্রঃ WWF ওয়েবসাইট)
৬৮০.
কোন সম্মেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?
  1. প্যারিস সম্মেলন
  2. জেনেভা সম্মেলন
  3. কোপেনহেগেন সম্মেলন
  4. বার্লিন সম্মেলন
ব্যাখ্যা
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড:
- ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্যোগে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
- এর মূল লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে সহায়তা করা ও কার্বন নির্গমন কমানো।
- ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় COP-15 সম্মেলন।
- সম্মেলনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস মধ্যে সীমিত রাখতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ একমত প্রকাশ করে।
- কোপেনহেগেন সম্মেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
- এর সদর দপ্তর: ইনচন, দক্ষিণ কোরিয়া।

উৎস: Green Climate Fund ওয়েবসাইট। 
৬৮১.
কার্টাগোনা প্রোটোকল হলো-
  1. শিশু অধিকার চুক্তি
  2. ইরাক পুনর্গঠন চুক্তি
  3. যুক্তরাষ্ট্র ম্যাক্সিকো চুক্তি
  4. জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা চুক্তি
ব্যাখ্যা
কার্টাগেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol):
- কার্টাগেনা প্রোটকলের পূর্ণনাম - The Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity.
- কার্টাগেনা প্রটোকল জৈব-নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এই চুক্তিটি কলম্বিয়ার কার্টাগেনাতে আলোচিত হয়।
- চুক্তি অনুমোদন - ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সাল।
- চুক্তি কার্যকর - ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সাল।

তথ্যসূত্র - কনভেনশন অন বায়ো-ডাইভার্সিটি (CBD) ওয়েবসাইট।
৬৮২.
২৬তম জলবায়ু সম্মেলনে কয়টি দেশ 'বন উজাড় রোধ' চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে?
  1. ক) ১১০
  2. খ) ১১৫
  3. গ) ১১৪
  4. ঘ) ১১৬
ব্যাখ্যা
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ ২৬) চলতি দশকের মধ্যে বিশ্বে বন উজাড়করণ বন্ধের বিষয়ে এক সমঝোতার কথা ঘোষণা করা হয়। কপ ২৬ প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে জানানো হয়, যে ১১৪টি দেশের নেতারা বন উজাড় রোধে চুক্তিতে সই করেছেন, সেই তালিকায় নেই বাংলাদেশ।
উৎস : প্রথম আলো
৬৮৩.
কাসাব্লাংকা সম্মেলন (Casablanca Conference) কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি, জাপান ও ইতালিকে বিনা শর্তে আত্মসমর্পনের প্রস্তাব
  2. আণবিক অস্ত্র মজুদ ধ্বংসের প্রক্রিয়া
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি, জাপান ও ইতালিকে বিনা শর্তে আত্মসমর্পনের প্রস্তাব
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কাসাব্লাংকা সম্মেলন (Casablanca Conference):
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মরোক্কোর কাসাব্লাংকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন - যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল।
- সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্টালিনের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দ্রুত শেষ করে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসাবে সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সম্মেলনে জার্মানি, জাপান ও ইতালিকে বিনা শর্তে আত্মসমর্পনের প্রস্তাব করা হয়।
- পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
 
উৎস: ব্রিটানিকা.কম[লিঙ্ক]
৬৮৪.
কার্টাগেনা প্রটোকল এর চূড়ান্ত অনুমোদন হয় কোথায়?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) কলম্বিয়া
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) ইতালি
ব্যাখ্যা
কার্টাগেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol)
কার্টাগেনা প্রোটকলের পূর্ণনাম - The Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity।
- জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত এই চুক্তিটি কলম্বিয়ার কার্টাগেনাতে আলোচিত হয়।
- ১৩৫টি দেশ কর্তৃক চূড়ান্ত চুক্তি অনুমোদন হয় কানাডার মন্ট্রিলে।

এক নজরে কার্টাগেনা প্রটোকল:
চুক্তি অনুমোদন -- ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সাল
চুক্তি কার্যকর -- ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সাল
চুক্তির পক্ষ -- স্বাক্ষরকারী - ১০৩টি
অনুমোদনকারী -- ১৭৩টি

বাংলাদেশ ও কার্টাগেনা প্রটোকল:
চুক্তি স্বাক্ষর -- ২৪ মে, ২০০০ সাল
চুক্তি অনুমোদন -- ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ সাল
চুক্তি কার্যকর -- ৫ মে, ২০০৪ সাল

উৎস: কনভেনশন অন বায়ো-ডাইভার্সিটি (CBD) ওয়েবসাইট
৬৮৫.
নির্দিষ্ট বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে কোন কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়?
  1. কাতার কনভেনশন
  2. রটারড্যাম কনভেনশন
  3.  বাসেল কনভেনশন
  4. স্টকহোম কনভেনশন
ব্যাখ্যা

• রটারড্যাম কনভেনশন:
- রটারড্যাম কনভেনশন (Rotterdam Convention) হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিক এবং কীটনাশকের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে, বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এসব পদার্থ আমদানির পূর্বে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সম্মতি দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এটি PIC (Prior Informed Consent) পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে।

- গৃহীত হয়: ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮, রটারড্যাম, নেদারল্যান্ডসে।
- কার্যকর হয়: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৪।

• মূল উদ্দেশ্য:
- নির্দিষ্ট বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করা।
- দেশগুলিকে আগাম অবগতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত (Prior Informed Consent - PIC) গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া।

• FAO এবং UNEP যৌথভাবে এর সচিবালয় পরিচালনা করে।

অন্যদিকে,
• বাসেল কনভেনশনের মূল উদ্দেশ্য- বিপজ্জনক বর্জ্যের পরিবহন নিয়ন্ত্রন।
• স্টকহোম কনভেনশন-২০০১ এর মূল উদ্দেশ্য- পরিবেশকে স্থায়ী জৈব দূষণকারী পদার্থ থেকে রক্ষা করা

উৎস: UNEP - UN Environment Programme.

৬৮৬.
কত সালে, কোথায় পরিবেশ বিষয়ক প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭০ সালে, লন্ডন
  2. ১৯৭২ সালে, স্টকহাম
  3. ১৯৭২ সালে, জেনেভা
  4. ১৯৬৬ সালে, ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
প্রথম পরিবেশ সম্মেলন:
- জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ৫-১৬ জুন সুইডেনের স্টকহোম শহরে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের প্রথম পরিবেশ সম্মেলন।
- জাতিসংঘের মানব পরিবেশ সম্মেলন (United Nations Conference on the Human Environment) স্টকহোম সম্মেলন নামে পরিচিত।

⇒ স্টকহোম সম্মেলনে জাতিসংঘ পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচী বা United Nations Environment Programme (UNEP) গঠিত হয়।
- এই সম্মেলনটি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছিল এবং এতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের সূচনা হয়েছিল।
- এই সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয় এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।
৬৮৭.
'কিগালি সংশোধনী' নিম্নের কোন প্রটোকলের সাথে সম্পর্কিত?
  1. কার্টাগেনা প্রোটোকল
  2. কিয়োটো প্রোটোকল
  3. নাগোয়া প্রোটোকলে
  4. মন্ট্রিল প্রোটোকল
ব্যাখ্যা
কিগালি সংশোধনী:
- মন্ট্রিল প্রোটোকলের সর্বশেষ সংশোধনী হলো কিগালি সংশোধনী।
- কিগালি সংশোধনী হলো হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFCs)-এর ব্যবহার এবং উৎপাদন ধীরে ধীরে হ্রাস করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর রুয়ান্ডার কিগালিতে মন্ট্রিল প্রটোকলের ২৮তম সভায় শক্তিশালী গ্রিন হাউজ গ্যাস-হাইড্রোফ্লোরো কার্বনের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে মন্ট্রিল প্রটোকল সংশোধিত হয়।
- সংশোধনীটি বাস্তবায়িত হলে এই শতাব্দীর শেষে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রায় শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড কমানো সম্ভব হবে।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
৬৮৮.
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ১৭টি গোলের মধ্যে কয়টি লক্ষ্য সরাসরি পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
SDG - এর ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৩টি লক্ষ্য সরাসরি পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত। এই গোলের ১৩, ১৪ ও ১৫ তম লক্ষ্য যথাক্রমে, Climate Action, Life Below Water, Life On Land যা সরাসরি পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত। উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯ ও sdg.gov.bd
৬৮৯.
ভিয়েনা কনভেনশন সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
  2. চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ ২৮টি
  3. চুক্তি গৃহীত ১৯৮৮ সালে
  4. ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ক চুক্তি
ব্যাখ্যা
ভিয়েনা কনভেনশন:
- Vienna Convention-এর পূর্ণরূপ: The Vienna Convention for the Protection of the Ozone Layer.
- এটি জাতিসংঘের 'ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ' বিষয়ক চুক্তি।
- জাতিসংঘ কর্তৃক চুক্তি গৃহীত হয়: ২২ মার্চ, ১৯৮৫।
- চুক্তি কার্যকর হয়: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২৮টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।
- বৈশ্বিক অনুমোদন লাভ: ২০০৯ সাল।
- চুক্তি সংশ্লিষ্ট পক্ষ সমূহ ৩ বছর পর পর চুক্তির অগ্রগতি ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসে থাকে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অনুমোদন: ২ আগস্ট, ১৯৯০ সাল।

উৎস: UN ওয়েবসাইট। [link]
৬৯০.
মন্ট্রিল প্রোটোকল কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৮৫  সালে
  2. ১৯৮৭  সালে
  3. ১৯৮৯  সালে
  4. ১৯৯২  সালে
ব্যাখ্যা

• মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।
- বায়ুমন্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত ওজোন স্তর।
- এই প্রটোকলে ওজোন স্তরের ক্ষতিকর পদার্থ নিঃসরণ বন্ধ বা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

• চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।

৬৯১.
সম্প্রতি 'IUCN' এর শীর্ষ নেতারা কোথায় বৈঠকে মিলিত হয়?
  1. ক) বার্লিন, জার্মানি
  2. খ) জেজু, দক্ষিণ কোরিয়া
  3. গ) জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
  4. ঘ) লন্ডন, যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
▪ IUCN (The International Union for Conservation of Nature) হলো একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা যেটি প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে কাজ করে।
▪ IUCN ১৯৪৮ সালের ৫ অক্টোবর ফ্রান্সের ফনটেনব্লু শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
▪ এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের গ্ল্যান্ড শহরে অবস্থিত।
▪ বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ১,৪০০ এবং বিশেষজ্ঞ সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০। এটি বিশ্বের ১৬০টির অধিক দেশে কাজ করছে।
▪ ১৩-১৫ অক্টোবর IUCN এর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় জেজু, দক্ষিণ কোরিয়ায়

তথ্যসূত্র:- IUCN ওয়েবসাইট।
৬৯২.
জেনেভা কনভেনশনে কয়টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন - ১৯৪৯ (Geneva Convention):

১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় 'জেনেভা কনভেনশন' স্বাক্ষর হয়।
এর আওতায় স্বাক্ষরিত চুক্তির সংখ্যা - ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল (যুদ্ধকালীন সামরিক, বেসামরিক ও স্বেচ্ছাসেবীদের রক্ষার জন্য এতে চারটি রক্ষাকবচ/চুক্তি থাকায় এই চুক্তিকে “চারটি রেডক্রস কনভেনশন” বলা হয়।)

স্বাক্ষরিত চারটি চুক্তি হচ্ছে-
১. প্রথম জেনেভা কনভেনশন চুক্তি - জেনেভা কনভেনশনের প্রথম চুক্তিটি যুদ্ধকালীন সময়ে ভূমি ও স্থল যুদ্ধে আহত ও অসুস্থ সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত।
২. দ্বিতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি - দ্বিতীয় চুক্তিটি সমুদ্রে বা জলের যুদ্ধে আহত, অসুস্থ ও জাহাজডুবির স্বীকার সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালের "হেগ চুক্তি" সংশােধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।
৩. তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি – জেনেভা কনভেনশনের তৃতীয় চুক্তিটি হচ্ছে যুদ্ধ-বন্দিদের প্রতি আচরণ সংক্রান্ত।
৪. চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন চুক্তি - চতুর্থ চুক্তিটি যুদ্ধক্ষেত্র বা অবরুদ্ধ অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং history.com।
৬৯৩.
'লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড' নীতিগতভাবে অনুমোদন পায় কততম জলবায়ু সম্মেলনে?
  1. কপ-২১
  2. কপ-২৫
  3. কপ-২৭
  4. কপ-২৮
ব্যাখ্যা
লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড:
- জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্বের উন্নত দেশগুলো।
- উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছে।
- উন্নত দেশগুলো এতদিন ধরে এ বিষয়ে টালবাহানা করলেও ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার জন্য শেষ পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- তবে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করে আসছে ধনী দেশগুলো।
- ২০০৯ সালে উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
- কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়।
- শেষ পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত তহবিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মিশরের শার্ম এল-শেখ-এ অনুষ্ঠিত কপ-২৭ শীর্ষ সম্মেলনে একটি চুক্তি হয়।
- এটিই হচ্ছে লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল।
- চুক্তি অনুযায়ী, ধনী দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।

উল্লেখ্য,
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৬৯৪.
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি কোনটি?
  1. নাগোয়া প্রটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. প্যারিস চুক্তি
  4. কিয়োটো প্রোটোকল
ব্যাখ্যা

• নাগোয়া প্রটোকল:
- পূর্ণ নাম: The Nagoya Protocol on Access and Benefit-sharing
- নাগোয়া প্রোটোকল হল জৈবিক বৈচিত্র্য কনভেনশনের একটি পরিপূরক চুক্তি। 
- ABS সংক্রান্ত নাগোয়া প্রোটোকলটি ২৯ অক্টোবর ২০১০ তারিখে জাপানের নাগোয়ায় গৃহীত হয়।
- প্রটোকলটি ১২ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে কার্যকর হয়।
- এর উদ্দেশ্য হল জিনগত সম্পদের ব্যবহার থেকে উদ্ভূত সুবিধাগুলির ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত বন্টন, যার ফলে জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহারে অবদান রাখা যায়।
- স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।

অন্যদিকে,
- কিয়োটো প্রোটোকল হলো ১৯৯৭ সালে গৃহীত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।​
​- জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি কার্টাগেনা প্রটোকল।
​- প্যারিস চুক্তি হলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ​মন্ট্রিল প্রটোকল: ওজোন স্তর সুরক্ষা বিষয়ক প্রোটোকল।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট এবং Britannica. Convention on Biological Diversity ওয়েবসাইট।

৬৯৫.
বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল এবং তাদের নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কনভেনশন কোনটি?
  1. দোহা কনভেনশন
  2. অটোয়া কনভেনশন
  3. রটারডাম কনভেনশন
  4.  বাসেল কনভেনশন
ব্যাখ্যা

• বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল এবং তাদের নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বাসেল কনভেনশন।

• বাসেল কনভেনশন :
⇒ ১৯৮০-এর দশকে আফ্রিকা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য অংশে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিষাক্ত বর্জ্যের মজুদ আবিষ্কারের পর জনসাধারণের প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়ায়, সুইজারল্যান্ডের বাসেলে অনুষ্ঠিত প্লেনিপোটেনশিয়ারিদের সম্মেলন।
- ২২ মার্চ ১৯৮৯ সালে বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল এবং তাদের নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বাসেল কনভেনশন গৃহীত হয়।
- কনভেনশনটি ১৯৯২ সালে কার্যকর হয়।

• মূল উদ্দেশ্য:
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তর্জাতিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ।
- বর্জ্যের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
- উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে অবৈধ বর্জ্য রপ্তানি প্রতিরোধ।

• বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট:
- বাংলাদেশ ১৯৯৩ সালে বাসেল কনভেনশনে যোগ দেয়।
- দেশে বিপজ্জনক বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কনভেনশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিক এবং কীটনাশকের জন্য পূর্ব-জ্ঞাত সম্মতি পদ্ধতি সম্পর্কিত রটারডাম কনভেনশন।
- অটোয়া কনভনশন হলো-  স্থলমাইন নিষিদ্ধ করার জন্য চুক্তি।


উৎস: Basel Convention Official Website.

৬৯৬.
‘Warsaw Pact‘ চুক্তির বিলুপ্তি ঘটে -
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
Warsaw Pact:
- ন্যাটো জোটের বিপরীত জোট হিসেবে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো ১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ওয়ারশ প্যাক্ট নামে সামরিক জোট গঠন করে।
- এই জোটের উদ্দেশ্য ছিলো পুঁজিবাদী দেশগুলোর আগ্রাসন প্রতিহত করা।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে ১৯৯১ সালের ১ জুলাই ওয়ারশ প্যাক্ট বিলুপ্ত ঘটে।

উৎস:- ব্রিটানিকা।
৬৯৭.
সম্প্রতি বিশ্ব নেতৃবৃন্দ পৃথিবীর তাপমাত্রা কত ডিগ্রির মধ্যে ধরে রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন?
  1. ৩.১° সেলসিয়াস
  2. ৩.১° ফারেনহাইট
  3. ১.৫° সেলসিয়াস
  4. ৫.১° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
প্যারিস চুক্তি:

- বিশ্বের তাপমাত্রা কমাতে উদ্যোগী হতে প্রথমবারের মত সব দেশ একমত হয়ে প্যারিস চুক্তি করেছিল।
- আন্ত:দেশীয় এই বিশেষজ্ঞ প্যানেল জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সর্বশেষ সমস্ত গবেষণা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।
- বিশ্ব নেতৃবৃন্দ পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে ধরে রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
- বিজ্ঞানীরা বলেন শিল্প-বিপ্লব পূর্ববর্তী বিশ্বের তাপমাত্রার তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর প্রভাব থেকে বাঁচা যাবে।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ৯ অক্টোবর, ২০২১।
৬৯৮.
জি-জিরো গঠনের উদ্যোক্তা হলো -
  1. থাইল্যান্ড
  2. মায়ানমার
  3. ভুটান
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
‘জি-জিরো’:
- জি-জিরো গঠনের উদ্যোক্তা হলো ভুটান।

⇒ গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা ও প্রকোপ কমাতে পৃথিবীর উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর যখন হিমশিম অবস্থা, ঠিক সেই সময় ভুটানের নেতৃত্বে চার কার্বন নিরপেক্ষ দেশ নতুন এক গোষ্ঠী তৈরি করল।
- চারটি দেশ হলো: ভুটান, মাদাগাস্কার, পানামা এবং সুরিনাম।
- ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, সুরিনামের প্রেসিডেন্ট চান সানতোখি, মাদাগাস্কারের প্রধানমন্ত্রী ও পানামার বিশেষ দূত এই যৌথ ঘোষণায় সই করেন।
- এই চার দেশে যতটুকু কার্বন নিঃসরণ হয়, তা হয় দূষণমাত্রার চেয়ে কম নতুবা সেই দূষণ শুষে নেওয়ার মতো পরিবেশব্যবস্থা তারা তৈরি করতে পেরেছে। কাজেই এসব দেশ থেকে নিঃসরিত কার্বন উষ্ণায়নের কারণ হয় না।

উল্লেখ্য,
- আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৯।
- এ সম্মেলনে ভুটানের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে 'জি জিরো' ফোরাম।

উৎস: Carbon Pulse.
৬৯৯.
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ২৬তম Conference of Parties এর সভাপতি কে?
  1. মুনীর আকরাম
  2. জন কেরি
  3. মায়া গুইতো
  4. অলক শর্মা
ব্যাখ্যা
- ২০২১ সালে ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ২৬তম UNFCCC Conference of Parties (CoP-26)।
- যুক্তরাজ্য ও ইতালির যৌথ আয়োজনে সম্মেলনেটি অনুষ্ঠিত হবে।
- CoP-26 সম্মেলনে ব্রিটিশ এমপি অলক শর্মা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সফর করেন।
(তথ্যসূত্র: ukcop26.org ওয়েবসাইট)
৭০০.
গ্রিনপিস (Green Peace) কোন দেশের পরিবেশবাদী গ্রুপ?
  1. ক) হল্যান্ড
  2. খ) পোল্যান্ড
  3. গ) ফিনল্যান্ড
  4. ঘ) নিউজল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- গ্রিনপিস হল্যান্ডে বা নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি বেসরকারি পরিবেশবাদী সংস্থা। ১৯৭১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমুদ্রে গ্রিন পিস্ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। সংস্থাটি পারমাণিবক পরীক্ষা এবং তেজস্ক্রিয় ও রাসায়নিক বর্জ্য নিক্ষেপের বিরুদ্ধে সফল আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
- “ডোন্ট মেইক অ্যা ওয়েইভ” গ্রুপ তাদের নাম পরিবর্তন  করে নতুন দেয় ‘গ্রিন পিস’।
- গ্রিন পিসের জন্ম ক্যানাডার ভ্যানকুভারে এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডস এর আমস্টারডাম শহরে। 

(উৎস:গ্রিনপিস ওয়েব সাইট)