উত্তর
ব্যাখ্যা
• অন্যদিকে,
'প্রাচ্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাচ্ + য।
'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
'দৈনিক' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়: দিন + ইক।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫ / ৭ · ৪০১–৫০০ / ৬৩৪
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
- তৃচ্-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন:
-√দা +তৃচ্ =√দা + তৃ =√দা + তা = দাতা;
- মা + তৃচ্ = মাতা,
- ক্রী+ তৃচ্ = ক্রেতা।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
√গৈ+ণক = গায়ক, √কৃ+অনীয় = করণীয়, √রক্ষ+অনীয় = রক্ষণীয়।
অন্যদিকে,
- 'কেষ্টা',
- 'নিমাই' ইত্যাদি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• 'আল' বাংলা কৃৎ- প্রত্যয়: √মাত্ + আল = মাতাল, √মিশ্ + আল = মিশাল।
অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
- পাগল + আমি = পাগলামি।
- শাঁখ + আরি = শাঁখারি।
- ঘটক + আলি = ঘটকালি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• ইন্ (ণিন্<ণিনি):
- √স্থা + ইন্ = স্থায়িন্ > স্বায়ী,
- √বদ + ইন = বাদিন > বাদী,
এরূপ- পায়ী (স্তন্যপায়ী), গামী (অনুগামী), সন্ন্যাসী (সম্-নি + √অস্ + ইন) ইত্যাদি।
- ইন্ (ঘিণুন্): প্র-√বস্ + ইন্ = প্রবাসিন্ > প্রবাসী,
- √যুজ্ + ইন্ = যোগিন্> যোগী, এরূপ- অনুরাগী, বিবেকী ইত্যাদি।
- ঈন (শানচ্): √আস্ + ঈন = আসীন।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
তৃচ্-প্রত্যয় (‘চ’ লোপ পেয়ে ‘তৃ’ অবশিষ্ট থাকে): প্রথমা একবচনে ‘তৃ’ স্থলে ‘তা’ হয়।
যেমন:
- √দা + তৃচ্ = √দা + তা = দাতা;
- √ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা।
অন্যদিকে,
- ‘বাড়িওয়ালা’ বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো 'নীলিমা' ও 'মহিমা'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
√দুহ্ + ত (ক্ত) = দুগ্ধ হলো সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ৷
এরূপ- √কৃ + ত = কৃত, √জন + ত = জাত, √সৃজ্ + ত = সৃষ্ট, √বচ্ + ত = উক্ত৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- √ চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত,
- √ কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
অন্যদিকে,
• 'ঈ' প্রত্যয় যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- প্রাণী = প্রাণ + ঈ'
- ছাত্রী = ছাত্র + ঈ।
• 'উ' প্রত্যয় যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- কলু = কল + উ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
• ইন্’ কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়) :
যেমন:
- √শ্রম্ + ইন = শ্রমী;
- √দুষ্ + ইন = দোষী;
- √মন্ত্র্ + ইন = মন্ত্রী;
- √যুজ্ + ইন = যোগী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'খেলনা' - শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়- √ খেল্ + অনা।
----------------------
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √ কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √ নাচ্ + অন = নাচন,
- √ দুল্ + অনা = দোলনা,
- √ ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা,
-√ খেল্ + অনা = খেলনা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০১৯)
• কৃৎপ্রত্যয়:
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
যেমন -
দুল্ + অনা = দোলনা,
কৃ + তব্য = কর্তব্য।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।
• বাংলা কৃৎপ্রত্যয়:
- অক - প্রত্যয়: √মুড় + অক = মোড়ক, √ঝল্ + অক = ঝলক।
• সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়:
- ণক - প্রত্যয়: ণক - প্রত্যয় পরে থাকলে ণিজন্ত ধাতুর 'ই' কারের লোপ হয়।
যেমন -
√পূঁজি + ণক = পূজক,
√জন + ণক = জনক,
√চাল + ণক = চালক।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 'অল'( ল (ইৎ/লোপ পেয়ে), অ থাকে) এই প্রত্যয়ে। যেমন-
• √ভি্ + অল = ভয়
• √ক্ষি্ + অল = ক্ষয়,
• √জি্ + অল = জয়,
• বি + √নী + অ = বিনয়
• √ভিদ্ + অ = ভেদ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
বাংলা ‘ই’ কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে
√বেড়ি + ই = বেড়ি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• অক (ণক্) প্রত্যয়:
- √নী + অক = নায়ক,
- √কৃ + অক = কারক,
- √বহ + অক = বাহক,
- √রুধ+ অক = রোধক;
- √নিন্দ + অক = নিন্দক;
- √হিনস্ + অক = হিংসক;
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• কয়েকটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণঃ
- √কৃ + য = কার্য,
- অম্ + ল = অম্ল,
- কাদ্ + না = কান্না,
• কয়েকটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণঃ
- পেট + উক = পেটুক,
- ঢাল + উ = ঢালু,
- মাছ + উয়া = মাছুয়া,
- মানান + সই = মানানসই ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
√দুল + অনা = দোলনা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত।
অন্যদিকে, সুভগ+ষ্ণ্য > অ=সৌভাগ্য, নীল+ইমন > ইমা = নীলিমা এবং বাচ্ + মিন = বাগ্মী 'তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে' গঠিত শব্দ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী।
ক্তি- প্রত্যয় ( ক ইৎ তি থাকে):
- কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন- √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি সন্ধিসূত্রে ম> ন √শম্ + ক্তি = শান্তি
চ এবং জ স্থলে ক হয়।
যেমন-
- √ বচ্ + ক্তি = উক্তি;
- √ মুচ্ + ক্তি = মুক্তি;
- √ ভজ্ + ক্তি = ভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০১৯।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - কাটতি (√কাট্ + তি)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জ্ঞাত (√জ্ঞা + ত)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - সহিষ্ণু (√সহ্ + ইষ্ণু)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• প্রকৃতি-প্রত্যয়:
- ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর (√) শেষে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলা হয়।
- এবং এভাবে গঠিত শব্দকে কৃদন্ত পদ বা কৃৎ-প্রত্যয়ান্ত শব্দ বলা হয়।
- ‘বৃষ্টি’ কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- এর সঠিক প্রকৃতি–প্রত্যয় হলো √বৃষ্ + তি।
- এখানে √বৃষ্ একটি ধাতু এবং ‘তি’ একটি কৃৎ প্রত্যয়।
- √বৃষ্ ধাতুর মূল অর্থ হলো- বর্ষণ করা, সেচন করা বা পাবিত করা।
- তাই ‘বৃষ্টি’ শব্দের অর্থ দাঁড়ায়- আকাশ থেকে পতিত জলকণা, বর্ষণ, বা ধারা।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ এবং সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
- ভাষাগত নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ধাতুর শেষে শ্ বা ষ্ ধ্বনি থাকে, সেসব ধাতুর সঙ্গে ত, তি ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধ্বনিগত পরিবর্তনের ফলে যথাক্রমে ষ্ট, ষ্টি ইত্যাদি রূপ হয়।
- সেই কারণেই √বৃষ্ + তি যুক্ত হয়ে ‘বৃষতি’ না হয়ে বৃষ্টি হয়েছে।
- কিছু উদাহরণ—
- √স্মৃ + তি → স্মৃতি;
- √সৃজ + তি → সৃষ্টি;
- কৃ্ষ্ + তি = কৃষ্টি;
- √দৃশ + তি → দৃষ্টি।
উৎস:
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'রজক' = √রন্জ্ + অক।
• অক (ণক্):
- √নী + অক = নায়ক,
- √কৃ + অক = কারক,
- √বহ + অক = বাহক,
- √রুধ+ অক = রোধক;
- √নিন্দ + অক = নিন্দক;
- √হিনস + অক = হিংসক;
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ-প্রত্যয়:
- √গৈ + ক্তি = গীতি,
- √সিধ + ক্তি = সিদ্ধি,
- √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
- √শক্ + ক্তি = শক্তি।
অন্যদিকে,
-----------------------
বিশেষ নিয়ম:
• ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। যথা- মন্+ক্তি = মতি, √রম্+ক্তি = রতি।
• নিয়ম: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে বিশেষ নিয়ম সাধিত কৃৎ- তি প্রত্যয় হয়। যেমন: √বৃষ্ + তি = বৃষ্টি; √স্মৃ + তি = স্মৃতি; √ঘাট্ + তি = ঘাটতি;
√বাড় + তি = বাড়তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
কৃৎ-প্রত্যয়:
- ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্ + ক্ত=ছিন্ন,
- √জন্ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় (অন):
- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:-
- √ নাচ্ + অন = নাচন,
- √ বাঁধ + অন = বাঁধন,
- √ চল্ + অন = চলন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।