• স্ত্রী-প্রত্যয় বা লিঙ্গ-প্রত্যয়:
বাংলা ভাষায় স্ত্রীবাচক শব্দ বোঝানোর জন্যে পুরুষবাচক শব্দের শেষে এক ধরনের প্রতায় যুক্ত করে তার স্ত্রীলিঙ্গ-রূপ গাঁয় হয়। এগুলোকে বলে স্ত্রী-প্রত্যয়। যেমন মাতামহ মাতামহী। এখানে 'ই' মন্ত্রী-প্রত্যয়। এই প্রত্যয় যদিও শ্রেণির শব্দ-প্রত্যয়ের শ্রেণিতে পড়লেও এদের তদ্ধিত প্রত্যয় না বলে মন্ত্রী-প্রত্যয় বলাই উত্তম। যেমন।
যেমন:
• আ: অনাথ > অনাথা, নবীন > নবীনা ইত্যাদি।
• আনি : ঠাকুর > ঠাকুরানি, মেথর > মেথরানি, নাপিত > নাপিতানি, চাকর > চাকরানি ইত্যাদি।
• ই/ঈ: কুমার কুমারী, বেঙ্গমা> বেঙ্গমি ইত্যাদি।
• নি: কামার > কামারনি, জেলে> > জেলেনি, কুমার > কুমারনি, ধোপা > ধোপানি, মজুর > মজুরনি ইত্যাদি।
• ইনি: কাঙাল > কাঙালিনি, গোয়ালা > গোয়ালিনি, বাঘ > বাঘিনি ইত্যাদি।
• অক > ইকা: অধ্যাপক > অধ্যাপিকা, পরিচালক > পরিচালিকা, পাঠক > পাঠিকা ইত্যাদি।
• বান্ >বর্তী: গুণবান্ > গুণবতী, ধনবান্ > ধনবতী, ভাগ্যবান্ > ভাগ্যবতী ইত্যাদি।
• মান্ > মতী: বুদ্ধিমান্ > বুদ্ধিমতী, শক্তিমান > শক্তিমতী, শ্রীমান্ > শ্রীমতী ইত্যাদি।
• উন: ঠাকুর > ঠাকরুন।
• আইন: ঠাকুর > ঠাকুরাইন।
অন্যদিকে,
• আইত/-আত:যার আছে বা যে করে অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- ডাকু + আইত = ডাকাইত ডাকাত,
- বাজ + আইত = বাজাইত (বায়েন অর্থে) ইত্যাদি।
• উক: স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নির্দেশক বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
কর্তৃবাচ্যে:
- কম্ + উক = কামুক (কম্ কাম্ (বৃদ্ধি),
- ভূ + উক = ভাবুক,
- জাগৃ + উক = জাগরূক।
• আলা/-ওয়ালা:
পেশা বা বৃত্তি বা কাজ অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে। অধিকারী বা মালিক অর্থে বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- গো + আলা = গোয়ালা,
- ফেরি + ওয়ালা = ফেরিওয়ালা,
বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা বাড়িআলা।
এরূপ-গাড়িওয়ালা, চশমাওয়ালা ইত্যাদি।
ওয়ালা প্রত্যয়ের স্ত্রীবাচক রূপ আলি/উলি/ওয়ালি হয়। যেমন: বাড়িওয়ালি। বাড়িউলি, শাড়িওয়ালি, চশমাওয়ালি ইত্যাদি।