বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ

মোট প্রশ্ন৭১০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৭১০

১০১.
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. খানম
  2. সম্রাজ্ঞী
  3. জেনানা
  4. মালেকা
ব্যাখ্যা

• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- সম্রাজ্ঞী। 
- 'সম্রাজ্ঞী' সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ। 

• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
খান - খানম,
মরদ - জেনানা,
মালেক - মালেকা,
মুহতারিম-  মুহতারিমা,
সুলতান - সুলতানা।

অন্যদিকে,
------------------
• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর-শ্বশ্রু, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক- শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০২.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. মহতী
  2. শ্বশ্রূ
  3. গরীয়সী
  4. অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা

• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- মহৎ - মহতী,
- শ্বশুর - শ্বশ্রূ,
- গরীয়ান - গরীয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৩.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. সতীন
  2. বিধবা
  3. দুঃখিনী
  4. সধবা
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই। যেমন- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।
নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ- সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
 • ঈনী, নী প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-  মায়াবী-মায়াবিনী, কুহক-কুহকিনী, যোগী-যোগিনী, মেধাবী-মেধাবিনী, দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৪.
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ধাতা-ধাত্রী
  2. গরীয়ান-গরিয়সী
  3. সুলতান- সুলতানা
  4. বন্ধু-বান্ধবী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
- খান-খানম, মরদ-জেনানা, মালেক-মালেকা, মুহতারিম-মুহতারিমা, সুলতান- সুলতানা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৫.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে কোনটিতে?
  1. ষষ্ঠী
  2. ষোলো
  3. উনিশতম
  4. দোসরা
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন -
- প্রথমা, দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, ত্রয়োদশী, ষোড়শী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দোসরা' তারিখ পূরণবাচক শব্দ।
- সাধারণ পূরণবাচক যোগে - উনিশতম।
- 'ষোলো' ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০৬.
আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মাতুলানী
  2. মায়াবিনী
  3. কুহকিনী
  4. মেধাবিনী
ব্যাখ্যা

আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ইন্দ্র-ইন্দ্রানী,
- মাতুল-মাতুলানী,
- শূদ্র-শূদ্রানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী-মায়াবিনী,
- কুহক-কুহকিনী,
- যোগী-যোগিনী,
- মেধাবী-মেধাবিনী,
- দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১০৭.
কোনটি 'আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. কুহকিনী
  2. ইন্দ্রানী
  3. যোগিনী
  4. দুঃখিনী
ব্যাখ্যা

'আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
যেমন:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী,
- মেধাবী - মেধাবিনী,
- দুঃখী - দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১০৮.
'কুলটা' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. পুংলিঙ্গবাচক
  2. স্ত্রীলিঙ্গবাচক
  3. ক্লীবলিঙ্গবাচক
  4. উভলিঙ্গবাচক
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
এসব শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই।
যেমন,
- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পোয়াতী, লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, গর্ভিনী, ডাইনী, পেত্নী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৯.
'ডাক্তার' - শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুং লিঙ্গ
  2. স্ত্রী লিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'ডাক্তার' - উভয় লিঙ্গবাচক শব্দ ।

• লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো - লিঙ্গ + অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. পুং লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি।

২. স্ত্রী লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

৩. ক্লীব লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
যেমন- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
'হিম' শব্দের বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. হিমান
  2. হিমাদ্রি
  3. হিমানী
  4. হিমসী
ব্যাখ্যা

• 'হিম' শব্দের বিপরীত লিঙ্গ - হিমানী।

লিঙ্গান্তরের নিয়ম:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি সত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
- তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, সত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।

• শব্দের শেষে '-আনি'/ 'আনী' প্রত্যয় যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়:
যেমন:
• মেথর - মেথরানি,
• নাপিত - নাপিতানি,
• হিম - হিমানী,
• শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১১১.
'ইনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) বিজয়িনী
  2. খ) যোগিনী
  3. গ) বুদ্ধিমতী
  4. ঘ) তেজস্বিনী
ব্যাখ্যা
'বুদ্ধিমতী'- 'ইনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ নয়।
'বুদ্ধিমতী'- 'মতী; প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ।  

'ইনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ
যেমন:
বিজয়- বিজয়িনী
যোগী- যোগিনী 
তেজস্বী- তেজস্বিনী 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১১২.
'শিষ্য' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শিষয়ী
  2. শিষ্যানি
  3. শিষ্যা
  4. শিষ্যাণী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ প্রিয়-প্রিয়া,
→ প্রবীণ-প্রবীণা,
→ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
→ মাননীয়-মাননীয়া,
শিষ্য-শিষ্যা,
→ সরল-সরলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১১৩.
’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বাহিকা 
  2. গায়িকা
  3. পূজনীয়া 
  4. শিক্ষিকা
ব্যাখ্যা

- ’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ পূজনীয়া।

’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক:
- পুংবাচক শব্দের শেষে ‘আ’’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
- যেমন:
∗ পুরুষবাচক – স্ত্রীবাচক:
- পূজনীয় – পূজনীয়া ;
- চপল – চপলা;
- অগ্রজ – অগ্রজা;
- বৃদ্ধ – বৃদ্ধা;
- অনাথ – অনাথা;
- মহাশয় – মহাশয়া;
- কুটিল – কুটিলা;
- শিষ্য – শিষ্যা;
- মনোহর – মনোহরা;
- মূর্খ – মূর্খা;
- কৃপণ – কৃপণা;
- জীবিত – জীবিতা;
- কোকিল – কোকিলা;
- প্রিয় – প্রিয়া;
- সুনয়ন – সুনয়না;
- জটিল – জটিলা;
- বীর – বীরাঙ্গনা;
- প্রবীণ  – প্রবীণা;
- সেবক  –  সেবিকা;
- সুনীল – সুনীলা, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'ক' বা 'অক' থাকলে 'ইকা' যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়, যেমন:
- বাহক - বাহিকা;
- গায়ক - গায়িকা;
- শিক্ষক - শিক্ষিকা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১১৪.
দুটি পুরুষবাচক শব্দ রয়েছে কোনটির?
  1. ননদ
  2. প্রিয়া
  3. শিষ্যা
  4. আয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ননদ’ স্ত্রীবাচক শব্দের দুটি পুরুষবাচক শব্দ রয়েছে।
যথা: দেবর ও ননদাই।

কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন:
- দেবর - ননদ (দেবরের বোন) এবং জা (দেবরের স্ত্রী)।
- ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী)।
- শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী)
- বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বনব্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী)
- দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রিয় - প্রিয়া।
• শিষ্য - শিষ্যা।
• খানসামা - আয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-১৯ সংস্করণ)।
১১৫.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কুলটা
  2. শূদ্র
  3. সেনাপতি
  4. শিষ্য
ব্যাখ্যা
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ - কুলটা।
- শিষ্য-শিষ্যা,
- শূদ্র-শূদ্রা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৬.
নিচের কোনটি পুরুষবাচক শব্দ?
  1. সুনয়না
  2. সুকণ্ঠী
  3. দয়াবতী
  4. তেজস্বী
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) তেজস্বী। এর স্ত্রীবাচক শব্দ - তেজস্বিনী।

অন্য অপশনে,
ক) সুনয়না – স্ত্রীবাচক শব্দ(নয়ন সুন্দর যে নারী);
খ) সুকণ্ঠী – স্ত্রীবাচক (সুন্দর কণ্ঠস্বরবিশিষ্ট নারী);
গ) দয়াবতী – স্ত্রীবাচক (দয়ালু নারী)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৭.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. প্রিয়া
  2. ললনা
  3. কনিষ্ঠা
  4. তেজস্বিনী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:

যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন: রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।

----------------------
‘আ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• প্রিয় - প্রিয়া;
• কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা।

‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১৮.
নিচের কোন জোড়াটি "পতী-পত্নীবাচক" শব্দের উদাহরণ?
  1. শিক্ষক–শিক্ষিকা
  2. খোকা–খুকি
  3. পিতা–মাতা
  4. নেতা–নেত্রী
ব্যাখ্যা
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের।
যথা- 
• পত্নীবাচক:
- স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন – পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

• অপত্নীবাচক:
- স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। যেমন: খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১৯.
কোনটির লিঙ্গান্তর হয় না?
  1. বেঙ্গমা
  2. শ্রোতা
  3. কৃতদার
  4. শ্রীমান
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ - কৃতদার।

- কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না। 
যেমন, 
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বেঙ্গমা - বেঙ্গমী,
- শ্রোতা- শ্রোত্রী,
- শ্রীমান - শ্রীমতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২০.
'শিক্ষিত' কোন ধরণের শব্দ?
  1. ক) পুং লিঙ্গ বাচক
  2. খ) উভয় লিঙ্গ বাচক
  3. গ) স্ত্রী লিঙ্গ বাচক
  4. ঘ) ক্লীব লিঙ্গ বাচক
ব্যাখ্যা
কতগুলো বাংলা শব্দ পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়।
যেমন-
- জন,
- পাখি,
- শিশু,
- সন্তান,
- শিক্ষিত,
- গুরু ইত্যাদি

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
১২১.
'বঁধু'  কোন লিঙ্গ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. উভয় লিঙ্গ
  4. ক্লীব লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• বঁধু ও বধূ বিভ্রাট:
- ‘বঁধু‘ আর ‘বধূ’ দুটি ভিন্ন শব্দ। যেমন: বানানে তেমন উচ্চারণে। নাসিক্য-ধ্বনি বাদ দিলে উভয় শব্দের উচ্চারণে কোনো পার্থক্য থাকে না। তাই অনেকে শব্দদ্বয়ের অর্থ ও ব্যবহার গুলিয়ে ফেলেন।
- বঁধু: সংস্কৃত বন্ধু থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ বন্ধু, প্রণয়ী, প্রিয়। এটি পুরুষ স্ত্রী উভয়কেই বোঝায় তাই এটি উভয়লিঙ্গ।

- বধূ: তৎসম শব্দ। বধূ অর্থ: পত্নী, নতুন বউ, কনে, নববিবাহিতা পত্নী, কুলবালা (কুলবধূ), পুত্রবধূ, পুত্রবধূস্থানীয়া নারী, নারী। 

• উভয়লিঙ্গ:
- কতগুলো বাংলা শব্দে পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়। যেমন- জন, পাখি, শিশু, সন্তান, শিক্ষিত, গুরু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২২.
কোনটি পত্নীবাচক অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. তেজস্বিনী
  2. পাগলি
  3. নেত্রী
  4. জেঠী
ব্যাখ্যা
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক;
- অপত্নীবাচক।

⇒ পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা - মাতা, চাচা - চাচি, দাদা - দাদি, জেলে - জেলেনি, গুরু - গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ, জেঠা-জেঠী ইত্যাদি। 

⇒ অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৩.
'মহীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মহিয়সি
  2. মহিয়সী
  3. মহীয়সি
  4. মহীয়সী
ব্যাখ্যা
• 'মহীয়ান' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ- 'মহীয়সী'। 

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মহীয়ান': 
- সংস্কৃত শব্দ,
- বিশেষণ পদ।
অর্থ: অতি মহান, মহত্তর।
- এর স্ত্রী লিঙ্গ- মহীয়সী।

• পুরুষবাচক শব্দের ‘য়ান’-এর জায়গায় ‘য়সী' যোগ করে স্ত্রীবাচক হয়।
- যেমন:
• বর্ষীয়ান - বর্ষিয়সী,
• গরিয়ান - গরিয়সী,
• ভূয়ান - ভূয়সী, 
• মহীয়ান - মহীয়সী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)। 
১২৪.
কোনটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয়?
  1. ঢাকী
  2. কৃতদার
  3. সেনাপতি
  4. শ্বশ্রূ
ব্যাখ্যা

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- শ্বশুর- শ্বশ্রূ

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৫.
'বিদুষী' শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. উভয়লিঙ্গ
  4. ক্লীবলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গ:
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 
লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা :
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- অষ্টম শ্রেণি।
১২৬.
কোন ধরনের শব্দের নরবাচক অথবা নারীবাচক রূপ হয়?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. আবেগ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
লিঙ্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু বিশেষ্য শব্দ ও কিছু বিশেষণ শব্দ রয়েছে যা নরবাচক অথবা নারীবাচক বলে ধরা হয়।
- আবার এমন কিছু বিশেষ্য-বিশেষণ শব্দ রয়েছে যা দিয়ে নর বা নারী উভয়কে বোঝায়।
বিশেষ্য ও বিশেষণের এই নর-নারীভেদের নাম লিঙ্গ।
যেমন: পিতা, মাতা, সন্তান, ঘর ইত্যাদি।

• বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চারভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. পুংলিঙ্গ,
২. স্ত্রীলিঙ্গ,
৩. উভয়লিঙ্গ এবং
৪. ক্লীবলিঙ্গ।

• নরবাচক ও নারীবাচক উভয়কে বোঝায় এমন সজীব বিশেষ্য শব্দকে উভয়লিঙ্গ বলে।
যেমন - সন্তান, শিশু ,মন্ত্রী, পাখি ইত্যাদি।
- 'পাখি' দ্বারা নরবাচক ও নারীবাচক উভয়কে বোঝায় , তাই 'পাখি' উভয়লিঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১২৭.
ক্লীব লিঙ্গ শব্দ কোনটি?
  1. মানুষ
  2. মা
  3. বই
  4. সুন্দর
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গ:
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 

লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা :
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, মানুষ, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- অষ্টম শ্রেণি।
১২৮.
‘ধোপা’ কোন লিঙ্গ?
  1. উভয় লিঙ্গ
  2. পুংলিঙ্গ
  3. স্ত্রীলিঙ্গ
  4. ক্লীবলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ - ধোপা।

• ‘নি’ প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ হলো:
- জেলে - জেলেনি,
- বেদে - বেদেনি,
- ধোপা - ধোপানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
১২৯.
"আনী" প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দুঃখিনী
  2. মায়াবিনী
  3. যোগিনী
  4. শূদ্রানী
ব্যাখ্যা

"আনী" প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র-ইন্দ্রানী,
- মাতুল-মাতুলানী,
- শূদ্র-শূদ্রানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী-মায়াবিনী,
- কুহক-কুহকিনী,
- যোগী-যোগিনী,
- মেধাবী-মেধাবিনী,
- দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩০.
'গরীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কী?
  1. গরীয়সী
  2. মহান
  3. গরিয়সী
  4. মহিয়সী
ব্যাখ্যা
• গরীয়ান অর্থ
- মর্যাদা-পূর্ণ, মহান।
- গুরুতর; বৃহত্তর।
- মহার্ঘ।
- বিত্তশালী। 
স্ত্রীবাচক শব্দ = গরীয়সী/গোরিয়োশি/।

উল্লেখ্য,
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মানু, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
সৎ= সতী,
মহৎ = মহতী,
গুণবান = গুণবতী,
রূপবান = রূপবতী,
শ্রীমান = শ্রীমতী,
বুদ্ধিমান = বুদ্ধিমতী,
গরীয়ান = গরীয়সী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি ২০১৮ সালের সংস্করণ।
১৩১.
‘জেলেনি’ শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত হয়েছে?
  1. নি
  2. ইনী
  3. ইনি
ব্যাখ্যা
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। যেমন:
⇒ ‘নি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• জেলে - জেলেনি;
• বেদে - বেদেনি;
• ধোপা - ধোপানি।

⇒ ‘ইনি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কাঙাল - কাঙালিনি;
• বাঘ - বাঘিনি।

⇒ ‘ই’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• দাদা - দাদি;
• জেঠা - জেঠি।

⇒ ‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৩২.
'ঘোষজায়া' শব্দটি কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বন্ধুর স্ত্রী অর্থে
  2. কন্যা অর্থে
  3. পত্নী অর্থে
  4. পেশা অর্থে
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষার বহু বিশেষ্য পদ রয়েছে যাদের কোনটিতে পুরুষ ও কোনটিতে স্ত্রী বোঝায়।
- যে শব্দের পুরুষ বোঝায় তাকে পুরুষবাচক শব্দ আর যে শব্দ স্ত্রী বোঝায় তাকে স্ত্রী বাচক শব্দ বলে।

কুল উপাধির ও স্ত্রীবাচকতা রয়েছে।
যেমন: 
- ঘোষ (পুরুষ),
- ঘোষজা (কন্যা অর্থে), 
- ঘোষজায়া (পত্নী অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১৩৩.
পুরুষবাচক 'কুহকী' - এর সুনির্দিষ্ট স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?  
  1. কুহুকিনী
  2. কুহকিনী
  3. কুহকীনী
  4. কুহুকীনি
ব্যাখ্যা

পুরুষবাচক 'কুহকী' শব্দের সুনির্দিষ্ট স্ত্রীবাচক শব্দ  -'কুহকিনী'।

এখানে,
কুহক - মায়া, ছলনা, ইন্দ্রজাল।
কুহকী- মায়াবী, জাদুকর।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন:
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি। 

নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন:
- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২) ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩৪.
'আ' প্রত্যয়ান্ত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বিবাহিতা
  2. অধ্যাপিকা
  3. সাধিকা
  4. গায়িকা
ব্যাখ্যা
সাধারণ অর্থে 'আ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- প্রথম- প্রথমা;
- বিবাহিত- বিবাহিতা;
- মাননীয়- মাননীয়া ইত্যাদি।

এখানে,
- ইকা-প্রত্যয় যোগে শব্দ - অধ্যাপক-অধ্যাপিকা; গায়ক - গায়িকা।
- পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘ক্’ বা ‘অক’ থাকলে তা ‘ইকা’ যোগ করে স্ত্রীবাচক হয় - সাধক-সাধিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৫.
‘ঠাকুর' শব্দের লিঙ্গান্তর কোনটি?
  1. ঠাকুরাইন
  2. ঠাকুরানি
  3. ঠাকুরণী
  4. ঠাকুরণি
ব্যাখ্যা
‘ঠাকুর' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ- 'ঠাকুরানি'।  
'ঠাকুর' শব্দটির 'আনী/ আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ- ' 'ঠাকুরানী/ ঠাকুরানি'। 

• ‘আনী/ আনি’ প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো: 
- ঠাকুর-ঠাকুরানী/ ঠাকুরানি, 
- নাপিত-নাপিতান্‌ 
- মেথর-মেথরানী,
- চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৩৬.
নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঠাকুরানী
  2. নাপিতানী
  3. মেথরানী
  4. কুমারনী
ব্যাখ্যা
নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ:
• কামার - কামারনী,
• জেলে - জেলেনী,
• কুমার - কুমারনী,
• ধোপা - ধোপানী,
• মজুর - মজুরনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• আনী-প্রত্যয়:
ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩৭.
‘ইনী’ - প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. বিহঙ্গিনী
  2. অরণ্যানী
  3. কাঙালিনী
  4. রজকিনী
ব্যাখ্যা

• ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়।

যেমন:
গোয়ালা - গোয়ালিনী।
বিহঙ্গ - বিহঙ্গিনী
সন্ন্যাস - সন্ন্যাসিনী।
রজক - রজকিনী
কাঙাল - কাঙালিনী

অন্যদিকে,
শব্দের শেষে '-আনি'- 'আনী' প্রত্যয় যোগ করে: অরণ্য - অরণ্যানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩৮.
'শিল্পী' শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীবলিঙ্গ
  4. উভয়লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'শিল্পী' দ্বারা নারী বা পুরুষ উভয়ই বোঝায় তাই শিল্পী উভয়লিঙ্গ।

- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
- উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলো: শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

• বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. পুংলিঙ্গ,
২. স্ত্রীলিঙ্গ,
৩. ক্লীবলিঙ্গ ও
৪. উভয়লিঙ্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. প্রিয়
  2. বিজয়ী
  3. কুস্তিগির
  4. কনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন: রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

----------------------
‘আ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• প্রিয় - প্রিয়া;
• কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা

‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪০.
'খানসামা' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক কোনটি?
  1. বাঁদী
  2. কামিন
  3. আয়া
  4. সাধবী
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়। যেমন:
কুলি - কামিন,
খানসামা - আয়া,
চাকর - ঝি,
শুক - শারি,
গোলাম - বাঁদী,
সাধু - সাধবী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪১.
'গুণবান' এর শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গুণী 
  2. গুণবতী
  3. গুনমতি 
  4. গুনীন 
ব্যাখ্যা

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যেমন:
সৎ-সতী,
মহৎ-মহতী,
গুণবান-গুণবতী,
রূপবান-রূপবতী,
শ্রীমান-শ্রীমতী,
বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী,
গরীয়ান-গরীয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪২.
কোন নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. নারী
  2. মেয়ে
  3. শ্রীমতী
  4. বেদেনি
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন-
• ভাই - বোন,
• পিতা - মাতা,
• ছেলে - মেয়ে,
• বর - কনে,
• বাদশা - বেগম।

অন্যদিকে, 
• ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
• নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
• মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।
১৪৩.
'নাপিত' শব্দের বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. নাপতানি
  2. নাপিতানি
  3. নাপিতী
  4. নাপিতনি
ব্যাখ্যা
লিঙ্গান্তরের নিয়ম:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি সত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
- তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, সত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।

• শব্দের শেষে '-আনি'/ 'আনী' প্রত্যয় যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়:
যেমন:
• মেথর - মেথরানি,
• নাপিত - নাপিতানি,
• হিম - হিমানী,
• শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪৪.
'বঁধু' হচ্ছে-
  1. ক) পুংলিঙ্গ
  2. খ) নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ
  3. গ) স্ত্রী লিঙ্গ
  4. ঘ) উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
বঁধু অর্থ বন্ধু। এটি উভয় লিঙ্গ। উল্লেখ্য বঁধু এবং বধু বানানগত দিক থেকে দুটোই ঠিক। আর বধু অর্থ বউ। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৪৫.
উভয়লিঙ্গ কোনটি?
  1. জন
  2. জামাই
  3. জেঠা
  4. জেলে
ব্যাখ্যা
• উভয়লিঙ্গ - জন

উভয়লিঙ্গ:
যে শব্দ দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ। 
যেমন - জন, সন্তান, পাখি, শিশু, মন্ত্রী, শিক্ষিত, কবি ইত্যাদি। 

• 'জন' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়। তাই 'জন' শব্দটি উভয়লিঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৬.
'অরণ্য - অরণ্যানী' স্ত্রীবাচক শব্দ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বৃহৎ
  2. খ) কঠিন
  3. গ) ক্ষুদ্র
  4. ঘ) জমানো
ব্যাখ্যা
• আনী প্রত্যয় যোগে কখনো কখনো পুরুষবাচক থেকে স্ত্রীবাচকে রূপান্তর করলে অর্থের পার্থক্য ঘটে।
যেমন :
- অরণ্য - অরণ্যানী (বৃহৎ অর্থে)
- হিম- হিমানী (জমানো অর্থে)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
১৪৭.
কোনটি 'ইনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. ক) মায়াবিনী
  2. খ) গৃহিণী
  3. গ) সুকেশিনী
  4. ঘ) তরুনী
ব্যাখ্যা
তরুনী - ইনী প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয়।

- এটি ঈ- প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ।
তরুণ - তরুণী
হরিণ - হরিনী
নর্তক - নর্তকী

ইনী-প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:

মায়াবী - মায়াবিনী
সুকেশ - সুকেশিনী
গৃহী - গৃহিণী

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৪৮.
বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ গঠিত হয় না কোন উপায়ে?
  1. ক) সমাস
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) লিঙ্গ পরিবর্তন
  4. ঘ) সকল উপায়েই হয়
ব্যাখ্যা

বাংলা শব্দ গঠনের কয়েকটি উপায় হলাে সন্ধির মাধ্যমে, সমাসের মাধ্যমে, বহুবচনের মাধ্যমে, উপসর্গ যােগে, প্রত্যয় সহযােগে ইত্যাদি।
লিঙ্গ পরিবর্তন এর মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪৯.
'শ্বেতাঙ্গ' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শ্বেতাঙ্গী
  2. শ্বেতাঙ্গিনী
  3. শ্বেতা
  4. শ্বেতাঙ্গীনি
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ কাঙাল-কাঙালিনী,
→ অনাথ-অনাথিনী,
→ নাগ-নাগিনী,
→ মানী-মানিনী,
→ তপস্বী-তপস্বিনী,
→ শ্বেতাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গিনী ইত্যাদি।

লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫০.
‘কবি’ কোন লিঙ্গ?
  1. ক) পুংলিঙ্গ
  2. খ) স্ত্রীলিঙ্গ
  3. গ) উভয়লিঙ্গ
  4. ঘ) ক্লীব লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় লিঙ্গ চার প্রকার:
- পুংলিঙ্গ: যে শব্দ দ্বারা পুরুষ জাতি বোঝায় । যেমন - পিতা , পুত্র , রাজা ইত্যাদি 
- স্ত্রীলিঙ্গ:  যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী জাতি বোঝায় । যেমন - মা , মেয়ে , রানি ইত্যাদি ।
- উভয়লিঙ্গ: যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী পুরুষ উভয় বোঝায় । যেমন - সন্তান , কবি ইত্যাদি।
- ক্লীব লিঙ্গ: যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী বা পুরুষ কিছুই বোঝায় না । যেমন - কল্ম , চেয়ার , হাত , গাছ ইত্যাদি।

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই ও ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ বই আনুসারে 'কবি' উভয় লিঙ্গ।

 উৎস : ভাষা শিক্ষা -ড. হায়াৎ মামুদ ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ।
১৫১.
ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয় কোন পুরুষবাচক শব্দের?
  1. নেতা
  2. বালক
  3. গোলাম
  4. জেলে
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়। যেমন:
কুলি - কামিন,
খানসামা - আয়া,
চাকর - ঝি,
শুক - শারি,
গোলাম - বাঁদী,
সাধু - সাধবী ইত্যাদি।

------------------------
অন্যদিকে, 
• জেলে - জেলেনি,
• নেতা - নেত্রী,
• বালক - বালিকা ইত্যাদি।

[শব্দগুলোতে শুধু প্রত্যয় পরিবর্তীত হয়ে নর থেকে নারীবাচক শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫২.
‘নি’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. পাগলি
  2. বাঘিনি
  3. কাঙালিনি
  4. ধোপানি
ব্যাখ্যা
• ‘নি’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- জেলে - ঝেলেনি।
- বেদে - বেদেনি।
- ধোপা - ধোপানি।

অন্যদিকে, 
• ‘ইনি’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কাঙাল - কাঙালিনি।
- বাঘ - বাঘিনি।

• ‘ইনি’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- পাগল - পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৫৩.
"অরণ্য" শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অরণ্যানি
  2. অরণ্যা
  3. অরণ্যানী
  4. অরণী
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে '-আনি'/'আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ চাকর - চাকরানি, 
→ মেথর - মেথরানি, 
→ ঠাকুর - ঠাকুরানি, 
→ নাপিত - নাপিতানি, 
→ অরণ্য - অরণ্যানী, 
→ হিম - হিমানী ইত্যাদি।

লিঙ্গ:
- লিঙ্গান্তরের নিয়ম ও উদাহরণ লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি সত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
- তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫৪.
পত্নী অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. জেলেনি
  2. শিক্ষিকা
  3. পাগলি
  4. তেজস্বিনী
ব্যাখ্যা

 সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক, 
- অপত্নীবাচক। 

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

• অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫৫.
'নবীন' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ কী?
  1. নবিতা
  2. নবিকা
  3. নবীনী
  4. নবীনা
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক করা হয়:
→ অজ-অজা,
→ আধুনিক-আধুনিকা,
→ কোকিল-কোকিলা,
→ চতুর-চতুরা,
→ চঞ্চল-চঞ্চলা,
→ নবীন-নবীনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫৬.
'গরিয়সী' কোন নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সাধারণ নিয়মে
  2. নিত্য স্ত্রীবাচক
  3. বিশেষ নিয়মে
  4. স-বর্ণ যোগে
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ - গরীয়ান-গরিয়সী

বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী।

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৭.
নিচের কোনটি পত্নীবাচক শব্দ?
  1. খুকি
  2. মাতা
  3. নেত্রী
  4. পাগলি
ব্যাখ্যা

• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।
• স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন:
- পিতা-মাতা,
- চাচা-চাচি,
- দাদা-দাদি,
- জেলে-জেলেনি,
- গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

• অন্যদিকে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন:
- খোকা-খুকি,
- ছাত্র-ছাত্রী,
- শিক্ষক-শিক্ষিকা,
- নেতা-নেত্রী,
- পাগল-পাগলি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৫৮.
লিঙ্গান্তর হয় না কোন শব্দটির?
  1. শূদ্রা
  2. অকৃতদার
  3. রূপবতী
  4. ধাত্রী
ব্যাখ্যা

• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না। 

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
-  শূদ্র - শূদ্রা।
- রূপবান - রূপবতী।
- ধাতা - ধাত্রী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫৯.
অর্থগত দিক থেকে পুরুষবাচক ও নারীবাচক শব্দ কে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) দুই
  2. খ) চার
  3. গ) তিন
  4. ঘ) পাঁচ 
ব্যাখ্যা
অর্থগত দিক থেকে পুরুষবাচক ও নারীবাচক শব্দ কে দু- ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। 
-        পতি ও পত্নীবাচক : কাকা -কাকি , চাচা -চাচি , ভাই - ভাবি , মামা - মামি ইত্যাদি ।
-        সাধারণভাবে পুরুষ ও নারী অর্থে  : পাগল - পাগলি , বালক - বালিকা, ভাই - বোন ইত্যাদি ।
এ দুটি দিক থেকে কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে নারীবাচক শব্দ পাওয়া যায় -  দাদা - দিদি ( বড় বোন ) , বউদি ( দাদার স্ত্রী ) , দেবর - ননদ ।

 উৎস : ভাষা শিক্ষা -ড. হায়াৎ মামুদ ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি । 
১৬০.
‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ নয় কোনটি?
  1. সন্ন্যাসিনী
  2. বিহঙ্গিনী
  3. অরণ্যানী
  4. রজকিনী
ব্যাখ্যা
• কতগুলো পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়।
যেমন:
গোয়ালা - গোয়ালিনী।
বিহঙ্গ - বিহঙ্গিনী
সন্ন্যাস - সন্ন্যাসিনী
রজক - রজকিনী
কাঙাল - কাঙালিনী।

অন্যদিকে,
• 'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ হলো: অরণ্য-অরণ্যানী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬১.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. সাহেব
  2. বিয়াই
  3. সঙ্গী
  4. কবিরাজ
ব্যাখ্যা

• লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ -  কবিরাজ।

• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'সঙ্গী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - সঙ্গিনী।
'সাহেব' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - বিবি।
'বেয়াই' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - বেয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬২.
কোন শব্দটির লিঙ্গান্তর হয় না? 
  1. শূদ্র 
  2. বৈশ্যা
  3. জামাতা
  4. মুদি
ব্যাখ্যা

- 'জামাতা' শব্দটির লিঙ্গান্তর হয় না।
- 'জামাতা' একটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ হওয়ায় এর লিঙ্গান্তর হয় না। 
-------------
লিঙ্গান্তর:
- যেসব শব্দে পুরুষ বা স্ত্রীবাচক কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না, বরং পুরুষ ও নারী উভয়কে বোঝায়, অথবা যা জড় পদার্থ বা ধারণা নির্দেশ করে, তাদের লিঙ্গান্তর হয় না।
- এগুলো নিত্য উভয়লিঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
- এর মধ্যে রয়েছে এমন পেশা, পদবী, সাধারণ নাম বা জড় বস্তু যা পুরুষ ও নারী উভয়েই বোঝাতে পারে।
- প্রথাগত ব্যাকরণে এর কোনো আলাদা স্ত্রীবাচক রূপ নেই, তাই এটি নিত্য উভয়লিঙ্গ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- লিঙ্গান্তরহীন কিছু নির্দিষ্ট পদবী ও সম্পর্ক নিম্মরুপ, যেমন:
জামাতা, কবিরাজ, যোদ্ধা,  ডাক্তার, শিক্ষক, পুলিশ, মন্ত্রী, কবি, শিল্পী, বিচারপতি, মহকুমাশাসক, কর্মচারী, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার, পুরোহিত, কেরানি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকার, পীর, দরবেশ, মওলানা, সেনাপতি, দলপতি, জ্বীন ইত্যাদি।
-----------------
অন্যদিকে,
- 'শূদ্র' এর স্ত্রীবাচক শব্দ-শূদ্রাণী ,
- ‘বৈশ্যা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ-বৈশ্যানী,
- 'মুদি' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- মুদিবউ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা,ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৬৩.
কোনটি অপত্নীবাচক শব্দ?
  1. জেলেনি
  2. গুরুপত্নী
  3. নেত্রী
  4. চাচি
ব্যাখ্যা

নেত্রী অপত্নীবাচক শব্দ। 

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।
স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন
- পিতা-মাতা,
- চাচা-চাচি,
- দাদা-দাদি,
- জেলে-জেলেনি,
- গুরু-গুরুপত্নী, ইত্যাদি।

অন্যদিকে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন
- খোকা-খুকি,
- ছাত্র-ছাত্রী,
- শিক্ষক-শিক্ষিকা,
- নেতা-নেত্রী,
- পাগল-পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৬৪.
নিচের কোনটি স্ত্রী-প্রত্যয়?
  1. আইত
  2. ইকা
  3. উক
  4. ওয়ালা
ব্যাখ্যা

• স্ত্রী-প্রত্যয় বা লিঙ্গ-প্রত্যয়:
বাংলা ভাষায় স্ত্রীবাচক শব্দ বোঝানোর জন্যে পুরুষবাচক শব্দের শেষে এক ধরনের প্রতায় যুক্ত করে তার স্ত্রীলিঙ্গ-রূপ গাঁয় হয়। এগুলোকে বলে স্ত্রী-প্রত্যয়। যেমন মাতামহ মাতামহী। এখানে 'ই' মন্ত্রী-প্রত্যয়। এই প্রত্যয় যদিও শ্রেণির শব্দ-প্রত্যয়ের শ্রেণিতে পড়লেও এদের তদ্ধিত প্রত্যয় না বলে মন্ত্রী-প্রত্যয় বলাই উত্তম। যেমন।
যেমন:
• আ: অনাথ > অনাথা, নবীন > নবীনা ইত্যাদি। 
• আনি : ঠাকুর > ঠাকুরানি, মেথর > মেথরানি, নাপিত > নাপিতানি, চাকর > চাকরানি ইত্যাদি। 
• ই/ঈ: কুমার কুমারী, বেঙ্গমা> বেঙ্গমি ইত্যাদি।
• নি: কামার > কামারনি, জেলে> > জেলেনি, কুমার > কুমারনি, ধোপা  > ধোপানি, মজুর  > মজুরনি ইত্যাদি।
• ইনি: কাঙাল > কাঙালিনি, গোয়ালা > গোয়ালিনি, বাঘ > বাঘিনি ইত্যাদি। 
• অক > ইকা: অধ্যাপক > অধ্যাপিকা, পরিচালক > পরিচালিকা, পাঠক > পাঠিকা ইত্যাদি।
• বান্ >বর্তী: গুণবান্ > গুণবতী, ধনবান্ > ধনবতী, ভাগ্যবান্ > ভাগ্যবতী ইত্যাদি।
• মান্ > মতী: বুদ্ধিমান্ > বুদ্ধিমতী, শক্তিমান > শক্তিমতী, শ্রীমান্ > শ্রীমতী ইত্যাদি।
• উন: ঠাকুর > ঠাকরুন। 
• আইন: ঠাকুর > ঠাকুরাইন।

অন্যদিকে, 
• আইত/-আত:যার আছে বা যে করে অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
 - ডাকু + আইত = ডাকাইত ডাকাত,
- বাজ + আইত =  বাজাইত (বায়েন অর্থে) ইত্যাদি।

• উক: স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নির্দেশক বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
কর্তৃবাচ্যে:
- কম্ + উক = কামুক (কম্ কাম্ (বৃদ্ধি),
- ভূ + উক =  ভাবুক, 
- জাগৃ + উক = জাগরূক।

• আলা/-ওয়ালা:
পেশা বা বৃত্তি বা কাজ অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে। অধিকারী বা মালিক অর্থে বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- গো + আলা = গোয়ালা,
- ফেরি + ওয়ালা = ফেরিওয়ালা,
বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা বাড়িআলা।
এরূপ-গাড়িওয়ালা, চশমাওয়ালা ইত্যাদি।

ওয়ালা প্রত্যয়ের স্ত্রীবাচক রূপ আলি/উলি/ওয়ালি হয়। যেমন: বাড়িওয়ালি। বাড়িউলি, শাড়িওয়ালি, চশমাওয়ালি ইত্যাদি।

১৬৫.
'বাদশা' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ কোনটি?
  1. ক) মালেকা
  2. খ) রানী
  3. গ) খানম
  4. ঘ) বেগম
ব্যাখ্যা
কয়েকটি বিদেশী নারী বাচক শব্দ:
খান-খানম,
মরদ-জেনানা,
মালেক-মালেকা,
মুহতারিম-মুহতারিমা,
সুলতান-সুলতানা,
বাদশা-বেগম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৬.
নিম্নের কোনটিতে কুল-উপাধি ক্ষেত্রে স্ত্রীবাচকতা রয়েছে?
  1. ধাত্রী
  2. ঘোষজা
  3. নর্তকী
  4. কুহকিনী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার বহু বিশেষ্য পদ রয়েছে যাদের কোনটিতে পুরুষ ও কোনটিতে স্ত্রী বোঝায়।
- যে শব্দের পুরুষ বোঝায় তাকে পুরুষবাচক শব্দ আর যে শব্দ স্ত্রী বোঝায় তাকে স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।

• কুল উপাধির ও স্ত্রীবাচকতা রয়েছে।
যেমন:
- ঘোষ (পুরুষ)
- ঘোষজা (কন্যা অর্থে)
- ঘোষজায়া(পত্নী অর্থে)।

অন্যদিকে,
• যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে তা রয়েছে, স্ত্রীবাচক বােঝাতে সেসব শব্দে ত্রী হয়। যেমন: নেতা-নেত্রী, কর্তা| কত্রী, শ্রোতা- শ্রোত্রী, ধাতা- ধাত্রী ইত্যাদি।

• ইকা-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ - নর্তক—নর্তকী।

• নী প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ - কুহক-কুহকিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১৬৭.
কোন শব্দের আগে মহিলা/নারী শব্দ যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়?
  1. ক) পুরোহিত
  2. খ) মোল্লা
  3. গ) কবি
  4. ঘ) গুন্ডা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় লিঙ্গ চার প্রকার। যথা:
১. পুরুষবাচক শব্দ
২. স্ত্রীবাচক শব্দ
৩. ক্লীববাচক শব্দ
৪. উভয়বাচক শব্দ

• কিছু শব্দের আগে বা পরে নারীবাচক শব্দ যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যেমন:
কবি - মহিলা কবি
মুদি - মুদিবউ
দাবাড়ু - মহিলা দাবাড়ু
সৈন্য - নারী সৈন্য
পুলিশ - মহিলা পুরুষ
গোয়েন্দা - মেয়ে গোয়েন্দা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৮.
'মহৎ' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মহতনী
  2. মহতিনী
  3. মহঈয়সী
  4. মহতী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মানু, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতী, ঈয়সী হয়।
যথা:
• সৎ - সতী,
• মহৎ - মহতী,
• গুণবান - গুণবতী,
• রূপবান - রূপবতী,
• শ্রীমান - শ্রীমতী,
• বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী,
• গরীয়ান - গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৬৯.
'মালী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) মালা
  2. খ) মালিকা
  3. গ) মালিনী
  4. ঘ) মালিনি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মালী (-লিন্‌) [মালি] (বিশেষ্য)
১) মাল্যরচনাকারী; মালাকর।
২) বেতনের বিনিময়ে বাগানের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি; উদ্যানরক্ষক; উদ্যানপালক।
৩) একটি হিন্দু জাতি।
(বিশেষণ) মালাধারী; মাল্যবিশিষ্ট।
মালিনী (২) (স্ত্রীলিঙ্গ)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) মাল্য+ইন্‌(ইন)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

১৭০.
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. খান-খানম
  2. মুহতারিম-মুহতারিমা
  3. মরদ-জেনানা
  4. কর্তা-কর্ত্রী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী।

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
- খান-খানম, মরদ-জেনানা, মালেক-মালেকা, মুহতারিম-মুহতারিমা, সুলতান- সুলতানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭১.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. ক) বালিকাটি সুন্দর
  2. খ) নারীটি সুন্দর
  3. গ) মেয়েটি বিদ্বান
  4. ঘ) সুন্দর নারী
ব্যাখ্যা
বিধেয় বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না, পুরুষবাচক হয়।
যেমন : 
‘মেয়েটি সুন্দরী’ বলা যাবে না। বলতে হবে :
- মেয়েটি সুন্দর।
- সুন্দরী নারী।
- বালিকাটি সুন্দর।
- নারীটি সুন্দর। 
- মেয়েটি বিদ্বান। 
- মেয়েটি পাগল। 
- বালিকাটি অস্থির।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই।
১৭২.
'মরদ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সুন্দরী
  2. ষোড়শী
  3. জেনানা
  4. খানম
ব্যাখ্যা
• 'মরদ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ — 'জেনানা'।

এখানে,
'মরদ' শব্দের অর্থ - পুরুষ, পতি। 
'জেনানা' শব্দের অর্থ - পত্নী, নারী।

• যেসব স্ত্রীবাচক শব্দ বিদেশি ভাষা থেকে আগত তাদেরকে বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন-
- খান-খানম, 
- মরদ-জেনানা,
- মালেক-মালেকা, 

অন্যদিকে,
• সুন্দর - সুন্দরী,
• ষোড়শ - ষোড়শী
• খান - খানম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৩.
"নাটিকা" শব্দটি কোন অর্থে স্ত্রী বাচক?
  1. সমার্থে
  2. বিপরীত অর্থে
  3. ক্ষুদ্রার্থে
  4. বৃহদার্থে
ব্যাখ্যা
'নাটিকা’ শব্দটি 'ক্ষুদ্রার্থে' স্ত্রীবাচক শব্দ।

• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ-
নাটক - নাটিকা;
মালা - মালিকা; 
গীত - গীতিকা;
পুস্তক - পুস্তিকা।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৪.
নিচের কোনটির পুরুষবাচক শব্দ আছে?
  1. এয়ো
  2. দুলহা
  3. দাই
  4. সধবা
ব্যাখ্যা
• 'দুলহা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - দুলাইন/দুলহিন

তাছাড়া, 
উল্লিখিত অপশনগুলোর মধ্যে এয়ো, দাই, সধবা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।

• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।
 যেমন:
- সতীন,
- সৎমা,
- এয়ো,
- দাই এবং
- সধবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৫.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. সতীন
  2. দাই
  3. সারী
  4. সধবা
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দের পুরুষবাচক শব্দ নেই।
উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে সতীন, দাই, সধবা-নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
শারি -এর পুরুষবাচক শব্দ শুক।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

১৭৬.
কোনটি নিত্য নারীবাচক শব্দ নয়?
  1. কনিষ্ঠা 
  2. অসতী
  3. রজঃস্বলা
  4. গর্ভবতী
ব্যাখ্যা

কনিষ্ঠা নিত্য নারীবাচক শব্দ নয়। 
- কনিষ্ঠা হচ্ছে আ প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ।

• কিছু শব্দ রয়েছে যা নিত্য নারীবাচক।
নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ যেমন:
- অসতী,
- কুলটা,
- গর্ভবতী,
- সতীন,
- বিধবা,
- বারবানিয়া (অন্যান্য প্রতিশব্দ),
- রজঃস্বলা, ইত্যাদি।

উৎস: ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭৭.
নিচের কোন নরবাচক শব্দের সঙ্গে নারীবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. প্রিয়
  2. বাদশা
  3. গায়ক
  4. পাঠক
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন:
- ভাই - বােন,
- পিতা - মাতা,
- ছেলে - মেয়ে,
- বর - কনে,
- বাদশা - বেগম।

অন্যদিকে,
• ‘আ’ প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রিয় - প্রিয়া।
• 'অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে '- অক' এর জায়গায় 'ইকা' হয়।
যেমন:
• পাঠক - পাঠিকা।
• লেখক - লেখিকা।
• গায়ক - গায়িকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৭৮.
'গায়ক-গায়িকা' কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) -আ
  2. খ) -কা
  3. গ) -য়িকা
  4. ঘ) -ইকা
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যােগে নরবাচক শব্দ থেকে নারীবাচক শব্দগঠন।

- নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যােগ করতে হয়।
• ‘-অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে অক’-এর জায়গায় ‘ইকা হয়।
যেমন -
পাঠক-পাঠিকা,
লেখক-লেখিকা,
গায়ক-গায়িকা।

অন্যদিকে, 
• আ প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নারীবাচক শব্দ:
- বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
- প্রিয়-প্রিয়া,
- কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭৯.
'আয়া' এর পুংলিঙ্গ কোনটি?
  1. ক) ঝি
  2. খ) চাকর
  3. গ) দিনমজুর
  4. ঘ) খানসামা
ব্যাখ্যা
'খানসামা' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - 'আয়া'।

অন্যদিকে, 
চাকর - ঝি
বাদী - বিবাদী 
এঁড়ে - বকনা 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮০.
'শ্রীমান' - শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শ্রীমতি
  2. শ্রীমতী
  3. শ্রীময়নি
  4. শ্রীমাতি
ব্যাখ্যা

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'অত', 'বান', 'মান', 'ঈয়ান' থাকলে 'অতী', 'বতী', 'মতী', 'ঈয়সী' হয়:

যেমন:
→ সৎ-সতী, 
→ গুণবান-গুণবতী, 
শ্রীমান-শ্রীমতী
→ গরীয়ান-গরীয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৮১.
নিম্নের কোনটি ক্লীব লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. ক) শিল্পী
  2. খ) শিশু
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) পাহাড়
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে -
১. পুংলিঙ্গ
২. স্ত্রীলিঙ্গ
৩. ক্লীবলিঙ্গ ও
৪. উভয়লিঙ্গ

পুংলিঙ্গ : যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।

স্ত্রীলিঙ্গ : যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

ক্লীবলিঙ্গ : যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

উভয় লিঙ্গ : যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. বিচারপতি
  2. বিপত্নীক
  3. কুলি
  4. সুনয়ন
ব্যাখ্যা
• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না। 

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- বিচারপতি ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• সুনয়ন - সুনয়নী,
• বিপত্নীক - বিধবা,
• কুলি - কামিন। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৩.
নিচের কোন পুরুষবাচক শব্দটির দুটি স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে?
  1. গুপ্ত
  2. যশস্বী
  3. দেবর
  4. মাননীয়
ব্যাখ্যা
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন -
- দেবর - ননদ (দেবরের বোন) এবং জা (দেবরের স্ত্রী)।
- ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী)।
- শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী)
- বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বন্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী)
- দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গুপ্ত - গুপ্তা;
• যশস্বী - যশস্বিনী।
• মাননীয় - মাননীয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৪.
কোন শব্দটি উভয় লিঙ্গ? 
  1. সন্তান 
  2. কবি 
  3. ডাক্তার 
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

বাংলায় ‘লিঙ্গ’ শব্দের সঠিক অর্থ- চিহ্ন/ প্রতীক/ বৈশিষ্ট্য।

লিঙ্গ:
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গ বলতে সেই সকল শব্দকে বোঝায়, যার দ্বারা পুরুষ, স্ত্রী বা অচেতন বস্তুকে চিহ্নিত করা যায়।
- ‘লিঙ্গ’ পুরুষ, স্ত্রী বা অচেতন বস্তুকে চিহ্নিত করে বলে লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। 
- লিঙ্গকে চার প্রকারে ভাগ করা হয়—পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ, ক্লীবলিঙ্গ এবং উভয়লিঙ্গ।
-  শুধুমাত্র প্রাণীবাচক শব্দই পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গের পর্যায়ে পড়ে;
- আর অপ্রাণীবাচক শব্দ সবসময় ক্লীবলিঙ্গের অন্তর্গত হয়।
• যেসব শব্দ পুরুষ জাতিকে বোঝায়, সেগুলোকে পুংলিঙ্গ বলা হয়।
- যেমন- মানুষ, শিক্ষক, ছাত্র, গোয়ালা, সিংহ ইত্যাদি।

• যেসব শব্দ স্ত্রী জাতিকে বোঝায়, সেগুলোকে স্ত্রীলিঙ্গ বলা হয়।
- যেমন- মা, ছাত্রী, শিক্ষিকা, সিংহী ইত্যাদি।

• কিছু শব্দ আছে যেগুলো পুরুষ ও স্ত্রী উভয়কে বোঝায়, সেগুলোকে উভয়লিঙ্গ বলা হয়।
- যেমন- সন্তান, ডাক্তার, শিশু, বহু কবি, শিল্পী ইত্যাদি। 

• আবার, কিছু শব্দ আছে যেগুলো পুরুষ বা স্ত্রী নয়, বরং অচেতন বা জড় বস্তুকে বোঝায়, সেগুলোকে ক্লীবলিঙ্গ বলা হয়।
- যেমন- গাছ, ফুল, জামা, বাড়ি, পর্বত, বৃক্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)। 

১৮৫.
নিচের কোনটি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ভবানী
  2. ব্যঙ্গমা
  3. শিশু
  4. সম্রাট
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ভবানী’ স্ত্রীবাচক শব্দ এর পুংলিঙ্গ হলো: ভব - ভবানী।

অন্যদিকে,
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী।
ব্যঙ্গমা - ব্যঙ্গমী।
শিশু উভয় লিঙ্গ।

===========
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে -
ক) পুংলিঙ্গ
খ) স্ত্রীলিঙ্গ
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ

⇒ পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।

⇒ স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

⇒ ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

⇒ উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৬.
কোনটির লিঙ্গান্তর হয় না?
  1. ক) বৌদি
  2. খ) শিক্ষয়িত্রী
  3. গ) শাকচুন্নী
  4. ঘ) বান্ধবী
ব্যাখ্যা
'শাকচুন্নী' শব্দের  লিঙ্গান্তর হয় না কারণ এটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ :
এসব শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই।
যেমন- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পােয়াতী, লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, গর্ভিনী, ডাইনী, পেত্নী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৮৭.
"মাননীয়া" - শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. '-অ'
  2. '-আ'
  3. '-ই'
  4. '-ঈ'
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
→ প্রিয়-প্রিয়া,
→ প্রবীণ-প্রবীণা,
→ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
মাননীয়-মাননীয়া,
→ শিষ্য-শিষ্যা,
→ সরল-সরলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৮৮.
'শূদ্রানী' কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) নী-প্রত্যয়
  2. খ) আনী-প্রত্যয়
  3. গ) ঈ-প্রত্যয়
  4. ঘ) ঈনী-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ হলো
- ভাগনে-ভাগনী,
- বেঙ্গমা-বেঙ্গমী ইত্যাদি।

• ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৯.
কোনটি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বিজয়ী
  2. বিজয়নী
  3. বিজয়িনা
  4. বিজয়িনী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।

যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
১৯০.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অসূর্যম্পশ্যা
  2. অর্ধাঙ্গিনী
  3. অরক্ষণীয়া
  4. মায়াবিনী
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- মায়াবিনী। 

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই। যেমন- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।
নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ- সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
 • ঈনী, নী প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-  মায়াবী-মায়াবিনী, কুহক-কুহকিনী, যোগী-যোগিনী, মেধাবী-মেধাবিনী, দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯১.
'জমিদার' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ কোনটি?
  1. ক) জমিদারিনি
  2. খ) জমিদারনি
  3. গ) জমিদারনী
  4. ঘ) জমিদারের পত্নী
ব্যাখ্যা
- আনি,- ইনি,- নি প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করা যায়।
- নি প্রত্যয়:
- কামার - কামারনি
- কুমার - কুমারনি
- গয়লা - গয়লানি
- জমিদার - জমিদারনি
- জেলে - জেলেনি

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ ]
১৯২.
নিচের কোন নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. কনে
  2. চাচি
  3. তেজস্বিনী
  4. বালিকা
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন:
- ভাই - বােন,
- পিতা - মাতা,
- ছেলে - মেয়ে,
- বর - কনে,
- বাদশা - বেগম।

--------------------------
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের।
যথা, 
- পত্নীবাচক;
- অপত্নীবাচক।

পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন: পিতা - মাতা, চাচা - চাচি, দাদা - দাদি, জেলে - জেলেনি, গুরু - গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি।

• অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৩.
'কাঙাল' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দে পরিবর্তিত হবে?
  1. ক) ঈ
  2. খ) ঈনি
  3. গ) ইনি
  4. ঘ) ইনী
ব্যাখ্যা
• 'কাঙাল' শব্দটি 'ইনি' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দে পরিবর্তিত হবে।

• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি
প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখানো হলো:
- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা
- ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি৷
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্ৰীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৪.
'মরদ'-এর বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. ক) মর্দ
  2. খ) জেনানা
  3. গ) জেনানী
  4. ঘ) মরদী
ব্যাখ্যা
কয়েকটি বিদেশী নারী বাচক শব্দ:
খান-খানম,
মরদ-জেনানা,
মালেক-মালেকা,
মুহতারিম-মুহতারিমা,
সুলতান-সুলতানা,
বাদশা-বেগম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৫.
স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. যোগী
  2. বৈষ্ণবী
  3. কোকিল
  4. মেধাবী
ব্যাখ্যা
• স্ত্রীবাচক শব্দ- বৈষ্ণবী। 

• 'বৈষ্ণব' বিশেষ্য পদ, যার অর্থ-  বিষ্ণুর উপাসক; ধর্মসম্প্রদায়বিশেষ।
-'বৈষ্ণব' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - বৈষ্ণবী।

অন্যদিকে,
• কোকিল-কোকিলা। 
• ঈনী, নী প্রত্যয় যোগে-  মায়াবী-মায়াবিনী, কুহক-কুহকিনী, যোগী-যোগিনী, মেধাবী-মেধাবিনী, দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯৬.
কোনটি পত্নীবাচক নয়?
  1. নেতা - নেত্রী
  2. দাদা - দাদি
  3. গুরু - গুরুপত্নী
  4. চাচা - চাচি
ব্যাখ্যা
পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।

যেমন:
- পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।

যেমন:
- খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৭.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) শাকচুন্নী
  2. খ) শ্রীমতি
  3. গ) সুন্দরী
  4. ঘ) কাঙ্গালিনি
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: এসব শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই।
যেমন- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পােয়াতী, লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, গর্ভিনী, ডাইনী, পেত্নী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
শ্রীমান - শ্রীমতি, 
সুন্দর - সুন্দরী,
কাঙাল - কাঙ্গালিনি,

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বিবি
  2. গুণবতী
  3. দাই
  4. ননদ
ব্যাখ্যা
'দাই'  নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
সতিন, ডাইনি, বাইজি, শাঁখচুন্নী, সৎমা , দাই, এয়ো, কুলতা, অরক্ষণীয়া, সধবা, সজনী, অন্ত:সত্ত্বা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বিবি - সাহেব,
- গুণবতী - গুণবান,
- ননদ -দেবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৯৯.
'ইন্দ্র' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ-
  1. ইন্দ্রবতী
  2. ইন্দ্রী
  3. ইন্দ্রাণী
  4. ইন্দানী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ইন্দ্র' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ- ইন্দ্রাণী। 
--------------------- 
• বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে -
১. পুংলিঙ্গ,
২. স্ত্রীলিঙ্গ,
৩. ক্লীবলিঙ্গ ও
৪. উভয়লিঙ্গ।

পুংলিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
- এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে-
- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।

স্ত্রীলিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
- এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে-
- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

ক্লীবলিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
- এসব শব্দের উদাহরণ হলাে-
- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

 উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
- উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে-
- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০.
'গুরু' কোন ধরণের শব্দ?
  1. ক) পুং লিঙ্গ বাচক
  2. খ) উভয় লিঙ্গ বাচক
  3. গ) স্ত্রী লিঙ্গ বাচক
  4. ঘ) ক্লীব লিঙ্গ বাচক
ব্যাখ্যা
কতগুলো বাংলা শব্দ পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়।
যেমন-
- জন,
- পাখি,
- শিশু,
- সন্তান,
- শিক্ষিত,
- গুরু ইত্যাদি

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]