ব্যাখ্যা
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
এসব শব্দের উদাহরণ হলাে-
- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১ / ৮ · ১–১০০ / ৭১০
ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথাঃ
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ ও
- নাম পুরুষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
• 'গীতিকা' - ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ।
অন্যদিকে,
বালিকা, নায়িকা, অধ্যাপিকা- ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক নয়।
• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
- নাটক - নাটিকা;
- মালা - মালিকা;
- গীত - গীতিকা;
- পুস্তক - পুস্তিকা।
(এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দঃ
যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমনঃ কর্তা - কর্ত্রী, শ্রোতা - শ্রোত্রী ইত্যাদি।
পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথাঃ সৎ - সতী, মহৎ - মহতী ইত্যাদি।
কোন কোন পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমনঃ রাজা - রানী, নর - নারী ইত্যাদি।
সংস্কৃত স্ত্রী প্রত্যয়ঃ
ঈ - প্রত্যয় যোগে জাতি বা শ্রেণীবাচক উদাহরঃ সিংহ - সিংহী, ময়ুর - ময়ুরী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- শিল্পী।
- শিল্পী -মহিলা বা নারী শিল্পী।
• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই। যেমন- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।
অন্যদিকে।
• কতগুলো পুরুষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন- কবি- মহিলা কবি, ডাক্তার-মহিলা ডাক্তার, সভ্য-মহিলা সভ্য, কর্মী-মহিলা কর্মী, শিল্পী-মহিলা বা নারী শিল্পী, সৈন্য-নারী / মহিলা সৈন্য, পুলিশ - মহিলা পুলিশ ইত্যাদি৷
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• আ- প্রত্যয়যোগ সাধারণ অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ হচ্ছে - [মলিন - মলিনা]।
অন্যদিকে,
‘ইকা’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ হচ্ছে:
- গায়ক-গায়িকা,
- সেবক-সেবিকা,
- নায়ক-নায়িকা,
- বালক-বালিকা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
মায়াবী-মায়াবিনী,
কুহক-কুহকিনী,
যোগী-যোগিনী,
দুঃখী-দুঃখিনী শব্দগুলো হলো ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত শব্দ।
বৈষ্ণব (বিশেষ্য) বিষ্ণুর উপাসক; ধর্মসম্প্রদায়বিশেষ।
- বৈষ্ণবী (বিশেষ্য) (বিশেষণ) (স্ত্রীলিঙ্গ)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী এবং বাংলা একাডেমি অভিধান
'-অক' প্রত্যয়যুক্ত নরবাচক শব্দের নারীবাচক রূপ হচ্ছে - ইকা।
• প্রত্যয় যোগে
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
'-অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে 'অক'-এর জায়গায় '-ইকা' হয়।
যেমন
- পাঠক-পাঠিকা,
- লেখক-লেখিকা,
- গায়ক-গায়িকা।
উল্লেখ্য ,
- আনী প্রত্যয় যোগ করে: ইন্দ্র-ইন্দ্রাণী, শূদ্র-শূদ্রাণী।
- নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
- মতী: আয়ুম্মান-আয়ুষ্মতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী।
অন্যদিকে, অকা, প্রত্যয় নারীবাচক রূপ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন:
- ভাই - বােন,
- পিতা - মাতা,
- ছেলে - মেয়ে,
- বর - কনে,
- বাদশা - বেগম।
অন্যদিকে,
• ‘আ’ প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রিয় - প্রিয়া।
• 'অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে '- অক' এর জায়গায় 'ইকা' হয়।
যেমন:
• পাঠক - পাঠিকা।
• লেখক - লেখিকা।
• গায়ক - গায়িকা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
• 'ঈ-' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
- মানব-মানবী,
- ময়ূর-ময়ূরী,
- রাক্ষস-রাক্ষসী।
অন্যদিকে,
'আনী-' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ঠাকুর - ঠাকুরানী,
- নাপিত - নাপিতানী,
- মেথর - মেথরানী,
- চাকর - চাকরানী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
বন - বনানী;
মাতুল - মাতুলানী;
অরণ্য - অরণ্যানি;
চৌধুরী - চৌধুরানী;
শেতাঙ্গ - শেতাঙ্গিনী;
বেদে - বেদেনী।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।
অন্যদিকে:
- শিষ্য-শিষ্যা,
- শূদ্র-শূদ্রা।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় - সুলতান।
- এর স্ত্রীবাচক শব্দ হলো - সুলতানা।
• বাংলা ভাষায় বহু বিশেষ্য পদ রয়েছে যাদের কোনটিতে পুরুষ ও কোনটিতে স্ত্রী বোঝায়। যে শব্দে পুরুষ বোঝায় তাকে পুরুষবাচক শব্দ বলে আর যে শব্দে স্ত্রী বোঝায় তাকে স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দে কেবল পুরুষ বোঝায় সেগুলোকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
কিছু নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- যোদ্ধা,
- সেনাপতি,
- দলপতি,
- ঢাকী,
- কৃতদার,
- রাষ্ট্রপতি,
- বিচারপতি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দগুলো হলো:
যেমন:
- ঠাকুর - ঠাকুরানী,
- নাপিত - নাপিতানী,
- মেথর- মেথরানী,
- চাকর- চাকরানী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক বোঝায়, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন- সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
-----------------
• ঈনী, নী প্রত্যয় যোগে:
মায়াবী-মায়াবিনী, কুহক-কুহকিনী, যোগী-যোগিনী, মেধাবী-মেধাবিনী, দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
পত্নীবাচক:
- স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন – পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
অপত্নীবাচক:
- স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। যেমন: খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- দুলহা-দুলাইন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন:
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
ধাতা - ধাত্রী।
গোয়ালা - গোয়ালিনি।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - ঢাকী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ, অষ্টম শ্রেণি।
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- পূজনীয়- পূজনীয়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।
• 'গরীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - 'গরীয়সী'।
• 'গরীয়ান' অর্থ:
১) মর্যাদা পূর্ণ, মহান।
২) গুরুতর; বৃহত্তর।
৩) মহার্ঘ।
৪) বিত্তশালী।
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'অত', 'বান', 'মান', 'ঈয়ান' থাকলে 'অতী', 'বতী', 'মতী', 'ঈয়সী' হয়:
যেমন:
- সৎ-সতী,
- গুণবান-গুণবতী,
- শ্রীমান-শ্রীমতী,
- গরীয়ান-গরীয়সী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
• নারী-নির্দেশক শব্দ যোগে নারীবাচক শব্দ:
লোক - স্ত্রীলোক;
শ্রমিক- নারী শ্রমিক;
ছেলে- ছেলে বউ।
-------------------
• 'মতী প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ::
বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী,
শ্রীমান-শ্রীমতী।
• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিশোর-কিশোরী,
- নর-নারী,
- বেঙ্গামা-বেঙ্গামী।
বতী প্রত্যয়:
- গুণবান-গুণবতী,
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
• 'কোকিল' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ 'কোকিলা'। 'কোকিলারা' - সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ নয়।
অন্যদিকে,
- 'কাঙাল' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- কাঙালিনি।
- 'যোগী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- 'যোগিনী'।
- 'ঠাকুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- 'ঠাকুরানি'।
উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
লিঙ্গান্তরের নিয়ম ও উদাহরণ:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি সত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, সত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
• লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
• কতগুলো বাংলা শব্দে পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়। যেমন- জন, পাখি, শিশু, সন্তান, শিক্ষিত, গুরু ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন: সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
⇒ কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে। যথা-
• দেবর - ননদ (দেবরের বোন)/জা (দেবরের স্ত্রী),
• ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী),
• শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) (পেশা অর্থে) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী),
• বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বন্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী),
• দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী)।
অন্যদিকে,
⇒ নী/নি-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ হলো:
• কামার - কামারনী/কামারন,
• জেলে - জেলেনী/জেলেন,
• ধোপা - ধোপানী/ধোপানি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা স্ত্রী প্রত্যয়:
পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে কতগুলো প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। এগুলো হলো : ঈ, নি, নী, আনী, ইনী, ন ।
• ঈ-প্রত্যয়: বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, ভাগনা/ভাগনে—ভাগনী ৷
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে ঈ থাকলে স্ত্রীবাচক শব্দে নী হয় এবং আগের ঈ ই হয়। যেমন: ভিখারি- ভিখারিনী, অভিসারী-অভিসারিণী ।
• আনী-প্রত্যয়: ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
• ইনী-প্রত্যয়: কাঙাল - কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি ।
• উন-প্রত্যয়: ঠাকুর-ঠাকরুন / ঠাকুরানী।
• আইন-প্রত্যয়: নতুন নতুন প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখা যায়। যেমন : ঠাকুর-ঠাকুরাইন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• সূত্র:
• আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ঠাকুর-ঠাকুরানী,
- নাপিত-নাপিতানী,
- মেথর-মেথরানী,
- চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ - কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা।
মরদ - জেনানা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'গরীয়ান' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ- 'গরীয়সী'।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'গরীয়ান' - এর অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, মহান, গুরুতর, বৃহত্তর, বিত্তশালী, মহার্ঘ।
- এর স্ত্রী লিঙ্গ- গরীয়সী।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
নী-প্রত্যয় যোগে বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দঃ
- ধোপা - ধোপানী,
- মজুর - মজুরনী,
- কামার - কামারনী,
- জেলে - জেলেনী,
- কুমার - কুমারনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• 'বন্ধু' এর স্ত্রীবাচক শব্দ -বন্ধুপত্নী, বান্ধবী।
• সূত্র:
- কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যথা-
- দেবর - ননদ (দেবরের বোন)/জা (দেবরের সত্রী),
- ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের সত্রী),
- শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) (পেশা অর্থে) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী),
- বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বন্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী),
- দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার সত্রী)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের:
- পত্নীবাচক,
- অপত্নীবাচক।
• পত্নীবাচক: স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন: পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি।
• অপত্নীবাচক: স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দে অর্থের পরিবর্তন ঘটে। যেমন -
- অরণ্য -- অরণ্যানী (বৃহদার্থে)
- হিম -- হিমানী (জমানো অর্থে)
অন্যদিকে,
- নাটক -- নাটিকা (ক্ষুদ্র অর্থে)
উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন-
- দেবর - ননদ (দেবরের বোন) এবং জা (দেবরের স্ত্রী)।
- ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী)।
- শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী)।
- বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বনব্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী)।
- দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী) ইত্যাদি।
এছাড়া,
•'কবিরাজ' ও ঢাকী শব্দের কোন স্ত্রীবাচক শব্দ নেই। এরা নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
• 'মরদ' শব্দের স্ত্রীবাচক - জেনানা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।