বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Muslim Law

মোট প্রশ্ন৪৮৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Muslim Law

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৪৮৬

৩০১.
যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে সে মোট সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/২
  2. ২/৩
  3. ১/৪
  4. ১/৬
সঠিক উত্তর:
১/২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/২
ব্যাখ্যা
⇒ ছেলে-কন্যা: স্বামী/স্ত্রী এবং বা-মার অংশ দেওয়ার পর যা থাকবে তা সম্পূর্ণ মৃত ব্যক্তির ছেলে বা ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে যত নিচেই হোক তারা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবে।
- ছেলের সঙ্গে মেয়ে থাকলে প্রত্যেক কন্যা প্রত্যেক ছেলের (১/২) অর্ধেক হারে পাবে।
- যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির (১/২) অর্ধেক পাবে।
- আর যদি একাধিক কন্যা থাকে তবে সবাই মিলে (২/৩) দুই তৃতীয়াংশ পাবে। 

অর্থাৎ যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবেন।
৩০২.
মুসলিম আইন অনুসারে হেবা কখন কার্যকর হয়?
  1. হেবা নিবন্ধনের সাথে সাথে
  2. হেবাকারীর মৃত্যুর পর
  3. দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
  4. দখল হস্তান্তরের ৩ মাসের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
ব্যাখ্যা
⇒ দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় হিবা নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব)
খ. Acceptance (গ্রহণ)
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)

⇒ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়, আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।
৩০৩.
একজন মুসলিম নারী কার সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেন?
  1. যে কোন পুরুষ
  2. কেবল মুসলিম পুরুষ
  3. মুসলিম এবং কিতাবীয় পুরুষ
  4. মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মের পুরুষ
সঠিক উত্তর:
কেবল মুসলিম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেবল মুসলিম পুরুষ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih)
২) বাতিল (Void or Batil )
৩)  অনিয়মিত (Irregular or fasid)

বৈধ (Valid or Sahih)
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্য কোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে না। 

বাতিল (Void or Batil)
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid)
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।

৩০৪.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন অনুসারে, নিকাহ রেজিস্ট্রারকে তার সংরক্ষিত রেজিস্টার কতদিন পর্যন্ত তার হেফাজতে রাখতে বাধ্য?
  1. চিরকাল
  2. ৫ বছর
  3. ১০ বছর
  4. রেজিস্টার পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
রেজিস্টার পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেজিস্টার পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১২ অনুসারে, নিকাহ রেজিস্ট্রারকে তার সংরক্ষিত রেজিস্টার যতদিন পূর্ণ না হয়, ততদিন তা নিজের হেফাজতে রাখতে হবে।
যখন রেজিস্টার সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তিনি তা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের (Registrar) কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য।
এছাড়া, যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার তার দায়িত্ব ছেড়ে দেন, অন্যত্র চলে যান বা তার লাইসেন্স বাতিল হয়, তাহলে তিনি তার কাছে থাকা অপূর্ণ রেজিস্টারও সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিতে বাধ্য।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১২ এর বিধান রেজিস্টারের হেফাজত:
প্রত্যেক নিকাহ রেজিস্ট্রার ধারা ৮ অনুযায়ী তাহার দ্বারা সংরক্ষিত প্রত্যেক রেজিস্টার নিরাপদে রাখিবেন এবং উক্ত রেজিস্টার পূর্ণ হইলে বা তিনি জেলা ত্যাগ করিলে বা লাইসেন্স হারাইলে, উহা রেজিস্ট্রারের নিকট হেফাজতের জন্য প্রদান করিবেন। 
---------------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section-12. Custody of registers:
Every Nikah Registrar shall keep safely each register maintained by him under section 8 until the same is filled, and shall then or earlier if he leaves the district or ceases to hold a licence, make over the same to the Registrar for safe custody.
৩০৫.
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ এ বর্ণিত আদালত বলতে বুঝায়-
  1. সহকারী জজ
  2. পারিবারিক আদালত
  3. জুডিসিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
সঠিক উত্তর:
জুডিসিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুডিসিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০

ধারা ২১- বিচার

(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন দাখিলকৃত আবেদন বা অপরাধের বিচার বা কার্যধারার নিষ্পত্তি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে। 
 
(২) ক্ষতিপূরণ আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কোন নির্দিষ্ট সীমা থাকিবে না।
৩০৬.
নিম্নের কোনটি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়?
  1. দেনমোহর
  2. সম্পত্তি বিরোধ
  3. বিবাহ বিচ্ছেদ
  4. শিশুর তত্ত্বাবধান
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি বিরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি বিরোধ
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫- পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা :-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

কিন্তু "সম্পত্তি বিরোধ" একটি দেওয়ানি বিষয়, যা সাধারণ দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন হয়, পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়।
৩০৭.
মুসলিম আইনের কোন মতবাদে মদিনার অধিবাসীদের প্রথা ও রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়?
  1. হানাফি মতবাদ
  2. মালিকি মতবাদ
  3. শাফেয়ি মতবাদ
  4. হাম্বলি মতবাদ
সঠিক উত্তর:
মালিকি মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালিকি মতবাদ
ব্যাখ্যা

⇒ ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.) প্রতিষ্ঠিত মালিকি মতবাদ-এর একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো মদিনার অধিবাসীদের প্রথা ও রীতিনীতি (‘আমলু আহলিল মদীনা)-কে ইসলামী আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা। ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে, মদিনাবাসীদের ঐকমত্য্যপূর্ণ চর্চা নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহর ধারাবাহিক প্রকাশ, তাই এটি কুরআন ও হাদিসের পরই প্রামাণ্য। অন্যান্য মাযহাব এই বিশেষ উৎসকে এতটা গুরুত্ব দেয়নি।
অর্থাৎ মালিকি মতবাদে কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতি আইনের মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

⇒ মুসলিম আইনের চার প্রধান মতবাদ (Schools of Islamic Law):
মুসলিম আইনকে চারটি প্রধান সুন্নি মতবাদে বিভক্ত করা হয়েছে। এই মতবাদগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এবং প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ইমামের অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

হানাফি মতবাদ (Hanafi School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু হানিফা (৭০২–৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি ইজতিহাদ (ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ) এবং রায় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
- হানাফি মতবাদ মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার ও সহনশীল।
- স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

মালিকি মতবাদ (Maliki School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৭১১–৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কুরআন ও হাদিস প্রধান উৎস, তবে মদিনার ঐতিহ্য এবং ইজমাও বিবেচ্য।

শাফেয়ি মতবাদ (Shafi'i School)
- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (৭৬৭–৮২০ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসকে প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- ইজমা (মুসলিম সমাজের ঐক্যমত) এবং কিয়াস (যুক্তিগত বিশ্লেষণ) ব্যবহারের উপর জোর দেয়।

হাম্বলি মতবাদ (Hanbali School)
- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (৭৮০–৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- এটি সবচেয়ে রক্ষণশীল সুন্নি মতবাদ।
- কুরআন ও হাদিস ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে খুব কম গ্রহণ করে।

৩০৮.
নিম্নের কোনটি হেবার শর্ত নয়?
  1. দাতা কর্তৃক দানের প্রস্তাব দিতে হবে
  2. হেবা গ্রহীতা মুসলিম হতে হবে
  3. মরজ-উল-মউত এর ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশের বেশি দান অকার্যকর
  4. দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে
সঠিক উত্তর:
হেবা গ্রহীতা মুসলিম হতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেবা গ্রহীতা মুসলিম হতে হবে
ব্যাখ্যা
দান বা হেবা:
আইনের সরল ভাষায়, এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির কাছে স্বেচ্ছায় এবং বিনা প্রতিদানে কতিপয় বিদ্যমান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরকে দান বলে। মুসলিম আইনে একে 'হেবা' বলা হয়।

কোনো হেবা আইনানুগ হতে হলে অবশ্যই সেখানে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলো হলো-
(১) দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা বা প্রস্তাব (Offer);
(২) দানগ্রহীতা কর্তৃক উহা গ্রহণ (Acceptance);
(৩) দাতা কর্তৃক দানগ্রহীতাকে দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে। এই শর্তগুলো যদি পালন করা হয়, তাহলে হেবাটি আইনানুগভাবে সিদ্ধ হবে ।

হেবা করার যোগ্যতা-
নাবালক নয় এমন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।
 
কে হেবা গ্রহণ করতে পারে-
একজন মুসলিম তার সমগ্র ভূ-সম্পত্তি যেকোনো ব্যক্তি, হোক সে অমুসলিম বরাবর দান করতে পারেন। অর্থাৎ গ্রহীতার ক্ষেত্রে সাবালক, নাবালক, পুত্র, অপুত্র, স্বামী কিংবা স্ত্রী, ধনী-নির্ধন বালাই নেই, যে কাউকে দান করা যায় এবং তিনি বা তারা নির্বিবাদে দান গ্রহণ করতে পারেন।
 
সীমারেখা-
মুসলিম আইন মোতাবেক একজন মুসলমান জীবদ্দশায় তার সমগ্র সম্পত্তি দান করে দিতে পারে। এমনকি তার উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করলেও এই দান অবৈধ হবে না। তবে শুধু মরজ-উল-মউতের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। মরজ-উল-মউত হলো মরণ অসুখ যাতে মৃত্যুর খুবই সম্ভাবনা থাকে এবং যার ফলে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। মুসলিম আইন অনুযায়ী হেবা বা দানের বৈধতার জন্য দখল দানসহ যেসব শর্ত আছে, মরজ-উল-মউতের জন্যও একই শর্তাবলি প্রযোজ্য।
 
মরজ-উল-মউত বা মরণ অসুখের সময় একজন মুসলমানের প্রদত্ত দানটি দাতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা সম্মতি প্রদান না করলে দাফন-কাফন ও অন্যান্য দেনা পরিশোধের পর মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের অধিক কার্যকর হবে না। প্রাসঙ্গিক বিধায় উল্লেখ্য যে দাতার ক্ষমতার এই সীমারেখাটি উইল বা ওসিয়তের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের সীমারেখার অনুরূপ।
৩০৯.
একজন হানাফি মুসলিম মা, বাবা ও দুই বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। এই পরিস্থিতিতে কে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. মা
  2. বাবা
  3. দুই বোন
  4. কেউ বঞ্চিত হবে না
সঠিক উত্তর:
দুই বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই বোন
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লিখিত ক্ষেত্রে,
⇒ দুই বোন কোনো অংশ পাবে না; (বাবা জীবিত থাকায়, বোনেরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে)।
⇒ মা ১/৬ অংশ পাবে ( যেহেতু দুই বা ততোধিক বোন রয়েছে); এবং
⇒ বাবা বাকি ৫/৬ অংশ পাবে (আসাবা হিসেবে)।

• মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বোনের অংশ :
মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকলে এবং পিতা, দাদা বা ভাই না থাকলে,
⇒ বোন একজন হলে ১/২ অংশ এবং একাধিক হলে ২/৩ অংশ পায়।
⇒ আপন ভাই থাকলে বোনেরা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবে ২:১ আনুপাতিক হারে।
⇒ মৃত ব্যক্তির কন্যা অথবা পুত্রর কন্যা থাকলে বোন অবশিষ্টভোগী হিসেবে অংশ পাবে।
৩১০.
মুসলিম আইনে, বিবাহ হলো -
  1. একটি পবিত্র চুক্তি
  2. একটি দেওয়ানি চুক্তি
  3. ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান
  4. একটি স্বর্গীয় কার্য
সঠিক উত্তর:
একটি দেওয়ানি চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি দেওয়ানি চুক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ ইসলামি আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। ইসলামী আইনে বিয়ে হলো একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে পবিত্র বন্ধন। ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্দেশ্য ছাড়াও এ বন্ধন সৃষ্টি হয় একটা আইনগত চুক্তির মাধ্যমে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও বৈধ সন্তান জন্মদানের অধিকার লাভ করে। এ ছাড়াও বিয়ের মাধ্যমে তাদের একে অন্যের ওপর যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য জন্মায়।

Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।
৩১১.
হানাফী মতবাদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কখনও অবশিষ্টভোগী হতে পারে না?
  1. পিতা
  2. স্বামী
  3. ভ্রাতা
  4. পুত্র বা কন্যা
সঠিক উত্তর:
স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বামী
ব্যাখ্যা
অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ (Residuaries):
মৃত ব্যক্তির যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এবং যারা অংশীদারদের নির্দিষ্ট অংশ নেবার পর কোন সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে তা অথবা কোন অংশীদার না থাকলে সমস্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে, এমন সমস্ত নিকটবর্তী আত্নীয়রা তালিকায় উল্লেখিত ক্রমানুসারে লাভ করে থাকে। মৃত ব্যক্তির এ সকল নিকটত্নীয়দেরকে অবশিষ্টাংশভোগী বলা হয়। এই অবশিষ্টংশ ভোগীদের কোন নির্দিষ্ট অংশ নাই। অংশীদারদের দেওয়ার পরেই কেবল অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবেন, কিন্তু এই অবশিষ্টাংশের পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি কোন অংশীদার না থাকেন, তবে সমস্ত সম্পত্তিই আসাবা বা অংশীদারগণ পাবেন। এ সকল আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণকে এগনেটিক ওয়ারিশ ও বলা হয়। কারণ এরা পুরুষ আত্নীয়ের মাধ্যমেই ওয়ারিশ হয়ে থাকে।

অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে পিতা-
যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পায় এবং কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। 
আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই পিতা পাবেন।
অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে পুত্র-কন্যা-
যেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে রয়েছে সেই ক্ষেত্রে ছেলে বা ছেলেরা, মেয়ে বা মেয়েদের চেয়ে দ্বিগুন সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে মাতাপিতা ও স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে বা ছেলেরাই পাবে।

অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে ভাই-
যেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে যত নিচেই হোক কেউ থাকলে অথবা বাবা, দাদা বা এভাবে ঊর্ধ্ব পুরুষ কেউ থাকলে তখন ভাই-বোন কেউ অংশ পাবেন না। তবে যদি স্বামী/স্ত্রী, কন্যা বা মা থাকে তবে তাদের অংশ দেওয়ার পর বাকি অংশ ভাই-বোন নিজেদের অংশ (১/২) হিসেবে পাবে। ঊর্ধ্ব পুরুষ বা উত্তর পুরুষে কেউ না থাকলে সহোদর ভাই-বোন ছেলে-মেয়ের মতো হারে অংশ পাবে।

অপর দিকে, স্বামীর অংশ : স্বামী ২ ভাবে মৃত স্ত্রীর সম্পত্তির ভাগ পেয়ে থাকে।
- মৃত স্ত্রীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে, স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। 
- মৃত স্ত্রীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান কেউই না থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে।

অর্থাৎ পিতা, ভাই/ ভ্রাতা এবং পুত্র বা কন্যা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পেতে পারে কিন্তু স্বামী পায় না।
৩১২.
তালাক-ই-হাসানের ক্ষেত্রে মোট কয় বার 'তালাক' উচ্চারণ করতে হয়?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. নির্দিষ্ট নয়
সঠিক উত্তর:
৩ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ বার
ব্যাখ্যা
তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক):
তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] দুই প্রকার হতে পারে;

ক. তালাক আহসান [Ahsan] (সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক)
খ. তালাক হাসান [Hasan] (অনুমোদিত তালাক)

- তালাক-ই-আহসান (Ahsan): স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক।

- তালাক-ই-হাসান (Hasan): স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।
৩১৩.
'মুশাহ' (Musha) হলো কোনো সম্পত্তির ________ অংশ।
  1. অর্ধেক
  2. বিভক্ত
  3. অবিভাজ্য
  4. পরিত্যক্ত
সঠিক উত্তর:
অবিভাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিভাজ্য
ব্যাখ্যা
⇒ 'মুশাহ' বা 'Musha' হলো কোনো সম্পত্তির অবিভাজ্য বা অবিভক্ত অংশ।
-হানাফি আইন অনুসারে অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তি যা বিভক্ত করা যায় এমন সম্পত্তি দান করলে দানটি বৈধ হবে না।
-কিন্তু পরবর্তীতে এটি বিভক্ত করা হলে দানটি বৈধ হয়ে যাবে।

কিন্তু চারটি বিশেষ ক্ষেত্র আছে যেসব ক্ষেত্রে দানের বিষয়বস্তু বিভক্ত করা না হলেও দানটি বৈধ হবে।
- যদি সম্পত্তিটি অবিভাজ্য হয় অথবা যদি সম্পত্তিটি এমন হয় যে, অবিভক্ত অবস্থায় সম্পত্তিটি ব্যবহারের জন্য বেশি উপযোগী;
- যদি দুই বা ততোধিক অংশীদারদের যেকোনো একজন তার অংশটি অপর কোনো অংশীদারকে দান করে;
- কোনো অবিভক্ত ভূমির ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট অংশ আলাদাভাবে গ্রহণ এবং উত্তোলন করার অধিকার থাকলে সেটিকে অবিভক্ত জমি ধরা হবে না এবং এটি দান করলে দানটি অবৈধ হবে না;
- দানকারী যদি কোনো হোল্ডিংয়ে দান গ্রহীতাকে যৌথ মালকানার স্বীকৃতি দেয় এবং সেরকম দখলের 'স্বীকৃতি দিলে সেটি বৈধ দান হবে।
৩১৪.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারার অধীন পারিবারিক আপিল আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করতে পারে?
  1. ধারা ২১
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ২৩
  4. ধারা ২৪
সঠিক উত্তর:
ধারা ২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২১
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২১: পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান:
যদি মোকদ্দমা বা আপিলের যেকোনো পর্যায়ে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত হলফনামা বা অন্য কিছু দ্বারা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, মোকদ্দমা বা আপিলের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করা হইতে কোনো পক্ষকে বিরত রাখিবার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, সেইক্ষেত্রে আদালত উহার নিকট যেরূপ উপযুক্ত প্রতীয়মান হইবে সেইরূপ অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

৩১৫.
মুসলিম আইন অনুসারে 'ক' তার ৪ জন স্ত্রী থাকা অবস্থায়, ৫ম স্ত্রী গ্রহণ করলে বিবাহটি কী ধরনের হবে?
  1. বৈধ বিবাহ
  2. বাতিল বিবাহ
  3. হারাম বিবাহ
  4. অনিয়মিত বিবাহ
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইন (শরীয়া) অনুসারে, একজন পুরুষ সর্বোচ্চ ৪ জন স্ত্রী একই সময়ে রাখতে পারে। ৪ জন স্ত্রী থাকা অবস্থায় ৫ম স্ত্রী গ্রহণ করলে বিবাহটি বৈধ বা বাতিল নয়, বরং অনিয়মিত (Irregular বা Fasid) বিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। এটি ত্রুটিপূর্ণ কিন্তু সম্পূর্ণ বাতিল নয়, কারণ স্বামী অন্য স্ত্রীদের মধ্যে যেকোনো একজনকে তালাক দিয়ে এই বিবাহকে বৈধ করতে পারেন।

⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ। 
- একজন মুলমানের একই সময়ে চারজন স্ত্রী থাকতে পারে, কিন্তু তার বেশি নয়। চারজন স্ত্রী থাকাকালে ঐ ব্যক্তি পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করলে পঞ্চম বিবাহটি বাতিল হবে না, তবে এ বিয়েটি ফাসিদ বা অবৈধ বিবাহ হবে। এটি বাতিল বিবাহ নয়, কারণ, স্বামী অন্য স্ত্রীদের যেকোনো একজনকে তালাক দিয়ে পঞ্চম বিবাহকে বৈধ করতে পারে।

৩১৬.
মুসলিম হানাফী আইন অনুসারে সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক কোন শ্রেণীর অগ্রক্রয়ের অধিকারী?
  1. শাফি-ই-শরিক
  2. শাফি-ই-খালিত
  3. শাফি-ই-জার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শাফি-ই-জার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাফি-ই-জার
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের (শুফা) তিন শ্রেণির অধিকারী হলেন:
১. শাফি-ই-শরিক → সহ-মালিক (co-sharer)
২. শাফি-ই-খালিত → রাস্তা/নালা/সেচ ইত্যাদি সুবিধার অংশীদার
৩. শাফি-ই-জার → সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী জমির মালিক (vicinal owner / neighbouring owner) 

অর্থাৎ পাশের জমির মালিক হলেন শাফি-ই-জার। তিন শ্রেণির মধ্যে এই শ্রেণিটির অগ্রাধিকার সবচেয়ে কম।

⇒  Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

- অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তর কে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে। একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে।

৩১৭.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বিধান অনুসারে Maintenance বা তালাক সংক্রান্ত Arbitration Council-এর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা যায়—
  1. পারিবারিক আদালতের কাছে
  2. সিনিয়র সহকারী জজের কাছে
  3. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে
  4. সহকারী জজের কাছে
সঠিক উত্তর:
সহকারী জজের কাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহকারী জজের কাছে
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বিধান অনুসারে, Arbitration Council-এর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার (revision) জন্য আবেদন সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ (Assistant Judge)-এর কাছে করা যায়। এটি নিম্নলিখিত ধারাগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:
- Maintenance (ভরণপোষণ) সংক্রান্ত: ধারা ৯(২)-এ উল্লেখ আছে যে, Arbitration Council কর্তৃক ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণের সার্টিফিকেট জারির পর, স্বামী বা স্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করে সহকারী জজের কাছে পুনর্বিবেচনার (revision) জন্য আবেদন করতে পারেন। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয় এবং কোনো আদালতে এর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা যায় না।
- তালাক সংক্রান্ত: ধারা ৭(৪)-এ তালাকের ক্ষেত্রে Arbitration Council-এর সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার (revision) জন্যও সহকারী জজের কাছে আবেদন করার বিধান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বহুবিবাহের অনুমতি (ধারা ৬) বা তালাকের প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে Arbitration Council-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় ও ফি প্রদান করে সহকারী জজের কাছে আবেদন করা যায়, এবং তাঁর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

অর্থাৎ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৪) এবং ৯(২) অনুসারে, Maintenance বা তালাক সংক্রান্ত Arbitration Council-এর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার (revision) জন্য আবেদন সহকারী জজের কাছে করা যায়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) সহকারী জজের কাছে।

৩১৮.
মুসলিম বিবাহ এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুসারে, যদি Nikah Registrar কোনো বিবাহ বা তালাক নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে কোথায় আপিল করা যাবে?
  1. পারিবারিক আদালতে
  2. রেজিস্ট্রার কাছে
  3. জেলা প্রশাসকের কাছে
  4. দায়রা আদালতে
সঠিক উত্তর:
রেজিস্ট্রার কাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেজিস্ট্রার কাছে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: খ) রেজিস্ট্রার কাছে।
⇒ মুসলিম বিবাহ এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ৬(৪) অনুসারে, যদি Nikah Registrar কোনো বিবাহ বা তালাক নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে উক্ত অস্বীকৃতির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রার এর কাছে আপিল করা যেতে পারে। রেজিস্ট্রার সেই আপিলের ওপর সিদ্ধান্ত দেবেন এবং তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

মুসলিম বিবাহ এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬(৪) অনুসারে:
- যদি কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে আবেদনকারী (স্বামী/স্ত্রী বা তাদের আইনানুগ প্রতিনিধি) ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে আপিল করতে পারবেন।
- রেজিস্ট্রারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
- আপিলের সময়সীমা: নিকাহ রেজিস্ট্রার কর্তৃক নিবন্ধন প্রত্যাখ্যানের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে।
- আপিলের কর্তৃপক্ষ: শুধুমাত্র রেজিস্ট্রার (স্থানীয় নিবন্ধন অফিসার), অন্য কোনো আদালত বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নয়।
- চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: রেজিস্ট্রারের রায়ের বিরুদ্ধে আর কোনো আপিলের ব্যবস্থা এই আইনে নেই।
৩১৯.
The Family Courts Ordinance,1985 এর ১৩ ধারায় পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে-
  1. বিচার্য বিষয় নির্ধারণ এর পূর্বে
  2. সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে
  3. বিচার্য বিষয় নির্ধারণের সময়
  4. পক্ষগণের আবেদনক্রমে
সঠিক উত্তর:
সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে
ব্যাখ্যা
• The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ও ১৩ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)

এই আইনে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-
১. বিচার-পূর্ব কার্যধারায়
২. বিচার-পরবর্তী কার্যধারায়

১০ ধারায় বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে এবং ১৩ ধারায় বিচার-পরবর্তী পর্যায়ে আপোষ-মীমাংসার বিধান উল্লেখ আছে। ১০(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে আদালত পক্ষগণের মধ্যেকার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করবে এবং যদি সম্ভব হয়, পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে। ১৩(১) ধারায় দেয়া আছে, সকল পক্ষের সাক্ষ্য সমাপ্তির পর পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার আরও একটি চেষ্টা করবে।
৩২০.
নিম্নের কোন ব্যক্তি মুসলিম উত্তরাধিকার অনুসারে কখনো উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না?
  1. ভাই
  2. কন্যা
  3. দাদা
  4. চাচা
সঠিক উত্তর:
কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্যা
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে সম্পদ বণ্টন একমাত্র মৃত্যুর পরেই কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারীগণের অধিকার সৃষ্টি হয়, মৃত্যুর পূর্বে নয়। একজন সুন্নি মুসলমানের বৈধ ওয়ারিশগন মূলতঃ দুই প্রকার। যথা:
১) প্রধান শ্রেণি (Principal Hairs);
২) অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Hairs)।
 
⇒ প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিরা কখনো উত্তরাধিকার বঞ্চিত হয় না:
১/ স্বামী;
২/ স্ত্রী;
৩/ পিতা;
৪/ মাতা;
৫/ পুত্র ও
৬/ কন্যা- এই ৬ শ্রেনীর উত্তরাধিকারী কখনো বঞ্চিত হয় না।
৩২১.
রদ্দ নীতির আভিধানিক অর্থ কী?
  1. বণ্টন করা
  2. বাতিল করা
  3. সংরক্ষণ করা
  4. প্রত্যাবর্তন করা
সঠিক উত্তর:
প্রত্যাবর্তন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যাবর্তন করা
ব্যাখ্যা

⇒ রদ্দ নীতির আভিধানিক অর্থ হলো "প্রত্যাবর্তন করা" বা "ফিরিয়ে দেওয়া" (আরবি: رَدّ)। এটি ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নিয়ম, যেখানে: শর্তপূরণ সাপেক্ষে (অংশীদারদের অংশের যোগফল ১-এর কম হলে এবং কোনো আসাবা না থাকলে)
অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী/স্ত্রী বাদে অন্যান্য অংশীদারদের কাছে প্রত্যাবর্তন (ফেরত) করা হয়।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে রদ্দ নীতি প্রয়োগ হয় যখন যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশের যোগফল ১ এর চেয়ে কম হয় এবং মৃত ব্যক্তির কোনো আসাবা (যেমন পুত্র, পিতা ইত্যাদি) না থাকে।
- এই ক্ষেত্রে অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী/স্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য অংশীদারদের কাছে পুনরায় বণ্টন করা হয়, অর্থাৎ অংশীদারদের মধ্যে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া বা প্রত্যাবর্তন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, 
রদ্দ নীতি আউল নীতির বিপরীত (আউলে অংশের যোগফল ১-এর বেশি হলে অংশ কমিয়ে বণ্টন করা হয়)।
এটি যাবিল ফুরুজ (নির্দিষ্ট অংশীদার) যেমন কন্যা, মা, দাদি প্রভৃতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

উদাহরণ:
যদি মৃতের স্বামী (১/৪), কন্যা (১/২) ও মা (১/৬) থাকে, তবে অংশের যোগফল = ১১/১২ (<১)।
অবশিষ্ট ১/১২ কন্যা ও মাকে তাদের প্রাপ্ত অংশের অনুপাতে (৬:২) বণ্টন করা হবে।

৩২২.
কোন ধরনের বিয়ে মুসলিম আইনে বৈধ নয়?
  1. স্থায়ী বিয়ে
  2. সাক্ষীসহ বিয়ে
  3. অস্থায়ী বিয়ে
  4. নাবালক বিয়ে
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী বিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী বিয়ে
ব্যাখ্যা
মুতা বিয়ে (Mut'a Marriage):
মুতা বিয়ে হলো একটি অস্থায়ী বিবাহের চুক্তি, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পন্ন হয় এবং চুক্তি শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এটি শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈধ বিবাহের একটি ধরন, তবে সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ে এটি বৈধ নয়।

মুতা বিয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
মুতা বিয়ে একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। সময় শেষ হলে এই বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। মুতা বিয়েতে দেনমোহর বা মেহের নির্ধারণ করা এবং তা প্রদান করা আবশ্যক। মুতা বিয়েতে স্ত্রী বা সন্তানরা সাধারণত স্বামীর উত্তরাধিকার দাবি করতে পারে না। এই বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না। এই বিবাহে তালাকের বিধান নেই, সময়সীমা শেষ হলেই বিবাহের সমাপ্তি ঘটে।
৩২৩.
যদি পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীনে কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদান করে, তাহলে আদালত কতদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে ডিক্রির অনুলিপি পাঠাবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৯০ দিন
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২৬: মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানকে প্রভাবিত না করা:
(১) এই আইনের কোনো কিছুই মুসলিম পরিবারিক আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করিবে না।

(২) যেক্ষেত্রে কোনো পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীন সংঘটিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে আদালত ডিক্রি প্রদানের ৭(সাত) দিনের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উক্ত ডিক্রির প্রত্যয়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করিবে এবং, চেয়ারম্যান উক্ত প্রতিলিপি প্রাপ্ত হইবার পর, এইরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন তিনি উক্ত আইনের অধীন কোনো তালাকের সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছেন।

(৩) মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালত কোনো ডিক্রি প্রদান করিলে যে তারিখে চেয়ারম্যান উপধারা (২) এর অধীন উহার প্রতিলিপি গ্রহণ করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে কোনো আপোষ মীমাংসা কার্যকর হইলে উক্ত ডিক্রির কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।
৩২৪.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারা অনুযায়ী পারিবারিক আদালত অন্তর্বতীকালীন আদেশ দিতে পারে?
  1. ১৬ ধারা
  2. ১৮ ধারা
  3. ২০ ধারা
  4. ২১ ধারা
সঠিক উত্তর:
২১ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ ধারা
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২১- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান:
যদি মোকদ্দমা বা আপিলের যেকোনো পর্যায়ে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত হলফনামা বা অন্য কিছু দ্বারা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, মোকদ্দমা বা আপিলের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করা হইতে কোনো পক্ষকে বিরত রাখিবার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, সেইক্ষেত্রে আদালত উহার নিকট যেরূপ উপযুক্ত প্রতীয়মান হইবে সেইরূপ অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

প্রতিকার: এই ধারার অধীন অন্তর্বর্তী আদেশ এর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
৩২৫.
একজন মুসলিম তার স্ত্রীকে একখণ্ড জমি দান করেন এবং দখল বুঝিয়ে দেন। এমতাবস্থায় দানটি-
  1. প্রত্যাহারযোগ্য
  2. মৌখিক হলে প্রত্যাহার করতে পারেন
  3. প্রত্যাহারযোগ্য নয়
  4. রেজিস্ট্রেশন করলে প্রত্যাহার করতে পারেন
সঠিক উত্তর:
প্রত্যাহারযোগ্য নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যাহারযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা
• দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলা হয়। সাধারণত দানের মাধ্যমে একজন সম্পত্তির মালিক তাঁর ওয়ারিশ কিংবা অন্য যে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। এটি আইন স্বীকৃত। দান করতে হলে দাতার এবং গ্রহীতার সম্পূর্ণ ইচ্ছা ও সম্মতি থাকতে হয়।

দান বৈধ হতে হলে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হয় –
> দাতা কর্তৃক দানের (ইজাব) ঘোষণা প্রদান।
> গ্রহীতা তার পক্ষ হতে দান গ্রহণ করা বা স্বীকার করা।
> দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে দানকৃত সম্পত্তির দখল প্রদান।

দান বাতিল-
একবার দান করার পর এবং সম্পত্তি হস্তান্তর করার পর আদালতের ডিক্রি ছাড়া বাতিল করা যাবে না। দখল প্রদানের পর দান রদ করা যেতে পারে তবে দখল অর্পণের পর তা প্রত্যাহার করা যায় না। যেমন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দান, দানগ্রহীতা যদি মারা যায়, যখন দাতা কিছুর বিনিময়ে গ্রহণ করবে, সম্পত্তি যখন ধ্বংস হয়ে যাবে প্রভৃতি।
৩২৬.
'বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফলাফল' সংক্রান্ত বিধান নিম্নের কোন আইনে দেয়া আছে?
  1. পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩
  2. The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
  3. The Dissolution of Muslim Marriages Act,1939
  4. মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
The Dissolution of Muslim Marriages Act,1939
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Dissolution of Muslim Marriages Act,1939
ব্যাখ্যা
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ধারা ৪ এ বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফল দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে-
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে উক্ত কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না। তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্ম গ্রহণের পর সেই নারী ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেন।
তাছাড়া, অত্র ধারার ব্যবস্থাবলী ঐ নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যে কোন ধর্ম হইতে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষা গ্রহণ করেছে।

Section 4: Effect of conversion to another faith
The renunciation of Islam by a married Muslim woman or her conversion to a faith other than Islam shall not by itself operate to dissolve her marriage: Provided that after such renunciation, or conversion, the woman shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any of the grounds mentioned in section 2: 
Provided further that the provisions of this section shall not apply to a woman converted to Islam from some other faith who re-embraces her former faith.
৩২৭.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বিবাহ সম্পাদনের পর নিবন্ধনের জন্য কত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী, যদি কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার ব্যতীত অন্য কেউ মুসলিম বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহলে বর (বরপক্ষ) বিবাহের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তা রিপোর্ট করতে বাধ্য।
→ ধারা ৫(৪) অনুসারে, যদি কেউ এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করে অর্থাৎ ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট না করে, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
→ সুতরাং, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বিবাহ সম্পাদনের পর ৩০ দিনের মধ্যে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ এর বিধান বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট ও নিবন্ধন:
(১) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(২) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার অন্য কোন ব্যক্তি বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে বিবাহের বরকে উক্ত সম্পাদনের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ইহা রিপোর্ট করিতে হইবে। 
(৩) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট করা হয়, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(৪) এই ধারার কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
---------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 5. Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.
৩২৮.
মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে না রেখে মৃত্যু বরণ করলে, মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি-
  1. প্রত্যেকে ১/৪ অংশ করে পাবেন।
  2. সকলে ১/৪ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।
  3. প্রত্যেকে ১/৮ অংশ করে পাবেন।
  4. সকলে ১/৮ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।
সঠিক উত্তর:
সকলে ১/৪ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকলে ১/৪ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।
ব্যাখ্যা

স্ত্রী(Wife): স্বামীর মতো স্ত্রীও কুরআনের প্রাথমিক উত্তরাধিকারী স্ত্রী কখনোই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়না। অনুরূপ অবস্থা তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যে তার স্বামী অবশ্যই মারা যাবে বৈবাহিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকার সময় বা একটি প্রত্যাহারযোগ্য তালাকের ইদ্দত সময়কালে।ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে কিছুই পেতনা।

স্ত্রীর  দুটি অবস্থা আছে:

(ক) ১/৪

(খ) ১/৮

(ক) ১/৪ : স্ত্রী শুধুমাত্র একটি শর্ত পূরণ করলে মৃত স্বামীর সম্পত্তির ১/৪ অংশের অধিকারী: মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে না রেখে মৃত্যু বরণ করলে

(খ) ১/৮ : স্ত্রী শুধুমাত্র একটি শর্ত পূরণ করলে মৃত স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশের অধিকারী: মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে (যত নিচের হউক) রেখে মৃত্যু বরণ করলে

দুই বা ততোধিক স্ত্রী থাকলে বণ্টনের নিয়ম:

-যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে তারা একই ভগ্নাংশের অধিকারী হবে, যা তাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। তাদের সংখ্যার ভিত্তিতে ভাগ বাড়বে না
-অর্থাৎ
মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে না রেখে মৃত্যু বরণ করলে, মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি প্রত্যেকে ১/৪ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।

৩২৯.
পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত ধারায় মোট কয়টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫ অনুসারে, পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত মোট ৫টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: (ক) বিবাহ বিচ্ছেদ, (খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, (গ) দেনমোহর, (ঘ) ভরণপোষণ, এবং (ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান। এই ধারা মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে এই বিষয়গুলোর মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার ও নিষ্পত্তির এখতিয়ার প্রদান করে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

৩৩০.
এক ব্যক্তি তার পুত্রের দুই কন্যা ও তার একমাত্র আপন বোন রেখে মারা গেল। আপন বোন কী পরিমাণ সম্পত্তি পাবে?
  1. ২/৩ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. কোন অংশ পাবে না
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
⇒ দুইজন পুত্রের কন্যা সম্মিলিতভাবে ২/৩ অংশ পাবে এবং আপন বোন অবশিষ্টাংশভোগী (Residuary) হিসেবে ১/৩ অংশ পাবে।

⇒ ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, আপন বোন (Full Sister) এর সম্পত্তির অংশ:
আপন বোন সম্পত্তিতে তিনভাবে অংশ পেতে পারে:
১. নির্ধারিত অংশ (Farāidh) হিসেবে: ১/২ অথবা ২/৩ অংশ;
২. অবশিষ্টাংশভোগী (Asabah/Tasib) হিসেবে।

• আপন বোন একক নারী উত্তরাধিকারী হলে এবং নিম্নের কেউ না থাকলে, সে ১/২ অংশ পাবে। শর্তসমূহ:
- সে একজন মাত্র বোন (কোনো সহোদর বোন নেই) এবং
- নিম্নোক্ত কেউ জীবিত থাকবে না:
- মৃত ব্যক্তির সন্তান;
- মৃত ব্যক্তির পুত্রের সন্তান;
- বাবা;
- দাদা;
- আপন ভাই।

• যদি একাধিক (২ বা ততোধিক) আপন বোন থাকে এবং উপরোক্ত সবাই অনুপস্থিত থাকে, তবে তারা সম্মিলিতভাবে ২/৩ অংশ পাবে। শর্ত:
- দুই বা ততোধিক বোন থাকতে হবে;
- উপরোক্ত কেউ জীবিত থাকলে এই অংশ প্রযোজ্য হবে না।

• আপন বোন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অংশ পেতে পারে দুইটি প্রধান পরিস্থিতিতে:
১. আপন ভাইয়ের উপস্থিতিতে:
আপন ভাই থাকলে, সে পুরুষ উত্তরাধিকারী হিসেবে অবশিষ্ট অংশ পায়, আর বোন তার সাথে তাসীব হিসেবে অংশ পায়।  বোন ও ভাইয়ের অনুপাতে ভাগ হবে ১:২ হিসেবে (ছেলে:মেয়ে)

২. কন্যাদের উপস্থিতিতে (Exception Rule):
যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা বা পুত্রের কন্যা থাকে, এবং তাদের নির্ধারিত অংশ দিয়ে দেওয়ার পর সম্পত্তির কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে আপন বোন সেই অবশিষ্টাংশ পাবে।
৩৩১.
মুসলিম উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে পুত্র-কন্যার মধ্যে বন্টন কিভাবে হয়?
  1. ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমান ভাগ
  2. মেয়ে ছেলের চেয়ে দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়
  3. ছেলে মেয়ের চেয়ে দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়
  4. শুধুমাত্র ছেলে পায়
সঠিক উত্তর:
ছেলে মেয়ের চেয়ে দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলে মেয়ের চেয়ে দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়
ব্যাখ্যা

অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ (Residuaries):
মৃত ব্যক্তির যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এবং যারা অংশীদারদের নির্দিষ্ট অংশ নেবার পর কোন সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে তা অথবা কোন অংশীদার না থাকলে সমস্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে, এমন সমস্ত নিকটবর্তী আত্নীয়রা তালিকায় উল্লেখিত ক্রমানুসারে লাভ করে থাকে। মৃত ব্যক্তির এ সকল নিকটত্নীয়দেরকে অবশিষ্টাংশভোগী বলা হয়। এই অবশিষ্টংশ ভোগীদের কোন নির্দিষ্ট অংশ নাই। অংশীদারদের দেওয়ার পরেই কেবল অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবেন, কিন্তু এই অবশিষ্টাংশের পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি কোন অংশীদার না থাকেন, তবে সমস্ত সম্পত্তিই আসাবা বা অংশীদারগণ পাবেন। এ সকল আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণকে এগনেটিক ওয়ারিশ ও বলা হয়। কারণ এরা পুরুষ আত্নীয়ের মাধ্যমেই ওয়ারিশ হয়ে থাকে।

অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে পুত্র-কন্যা-
যেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে রয়েছে সেই ক্ষেত্রে ছেলে বা ছেলেরা, মেয়ে বা মেয়েদের চেয়ে দ্বিগুন সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে মাতাপিতা ও স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে বা ছেলেরাই পাবে।

৩৩২.
A gift made during death illness is known as -
  1. Hiba-bil-illness
  2. Marz-ul-maut
  3. Marz-ul-heba
  4. Hiba-bil-maut
সঠিক উত্তর:
Marz-ul-maut
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Marz-ul-maut
ব্যাখ্যা
⇒ Marz-ul-maut-
The concept of Marz-ul-Maut in Islam is actually a doctrine of death-bed gifts. The governing tenet of Muslim personal civil law is the Shariat. One of the provisions relates to Marz-ul-Maut (death bed Gifts). This can only be executed in case there is genuine apprehension that the testator will die.

মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে। অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যু আশঙ্কায় থেকে তথা মৃত্যু শয্যায় থেকে দান করাকে মরজ-উল-মউত বলে। এরূপ দানের পর দাতার মৃত্যু হলে তা উইলের ন্যায় কার্যকর হবে অর্থাৎ তখন উইলের সীমাবদ্ধতা, বিধান ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে। 

অর্থাৎ, যখন কোনো ব্যক্তি এমন অসুস্থতায়/রোগে ভোগে, যার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়, এমতাবস্থায় কোনো দান (Gift/Hiba) করলে, দানটিকে মৃত্যুশয্যায় দান (Marz-ul-Maut) বলে।

এমন দান উইল (Wasiyyat) বলে গণ্য হবে এবং উইলের বিধান প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যক্তি মরজ-উল-মউতের সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তি বরাবর তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ সম্পত্তি দান (Gift/Hiba) করতে পারেন।
৩৩৩.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান কী?
  1. পিতা বা মাতা কর্তৃক লিখিত অভিযোগ দিতে হবে
  2. আদালত স্ব-উদ্যোগে নিতে পারে
  3. পিতা বা মাতা কর্তৃক মৌখিক অভিযোগ দিতে হবে
  4. ক বা খ
সঠিক উত্তর:
পিতা বা মাতা কর্তৃক লিখিত অভিযোগ দিতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা বা মাতা কর্তৃক লিখিত অভিযোগ দিতে হবে
ব্যাখ্যা
• পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩
 
ধারা ৭- অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার
 
(১) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ ১ম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারযোগ্য হইবে। 
 
(২) কোন আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে গ্রহণ করিবে না।
৩৩৪.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩- এ আদালত অবমাননা সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির ধরন কী?
  1. কারাদণ্ড
  2. অর্থদণ্ড
  3. উভয়ই
  4. শুধুমাত্র সতর্কীকরণ
সঠিক উত্তর:
অর্থদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অর্থদণ্ড।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৩: পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,

তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডতি করিতে পারিবে।

৩৩৫.
ইসলামি আইনশাস্ত্রে, ওয়ালির প্রধান দায়িত্ব কী?
  1. নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করা
  2. নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা
  3. পারিবারিক সম্পত্তি দেখাশোনা করা
  4. উইলের সম্পত্তি দেখাশোনা করা
সঠিক উত্তর:
নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবক (Guardian of a Minor)
ইসলামী শরিয়তে, নাবালক (অর্থাৎ, যে শিশু বা কিশোর আইনগতভাবে পূর্ণবয়সে পৌঁছায়নি) তার নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয় এবং তার ব্যক্তিগত এবং সম্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করতে অভিভাবক প্রয়োজন। এই অভিভাবককে "ওয়ালি" বলা হয়।

ওয়ালি (Guardian) - এর ভূমিকা:
ওয়ালি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নাবালকের বা অনাবালকের শারীরিক, মানসিক ও আইনি স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল। ওয়ালি সেই ব্যক্তি, যিনি নাবালক বা মেয়ে বা ছেলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার পক্ষ থেকে আইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারণত, ওয়ালি হিসেবে প্রথমে বাবা বা পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিয়োগ পায়, যদি না তারা জীবিত না থাকেন। এরপর তার পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে একজন পুরুষ বা মহিলাকে নিয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে নাবালক বা নাবালিকার স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

ওয়ালি হওয়ার শর্ত:
বয়স ও পরিপক্কতা: ওয়ালি হতে হলে অভিভাবকের অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতা: অভিভাবককে সৎ, যোগ্য এবং আইনের প্রতি আনুগত্যশীল হতে হবে।
পরিবারের অভিভাবক: প্রাথমিকভাবে, নাবালকের বাবা বা তার পরিবারের পুরুষ সদস্য ওয়ালি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, যদি বাবা না থাকেন, তাহলে মায়ের পক্ষ থেকেও অভিভাবক মনোনীত হতে পারেন।

৩৩৬.
The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি কী?
  1. অনধিক ৩ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. অনধিক ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. অনধিক ৫ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• যে আইনি বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বামী ও স্ত্রীর আইনগত মর্যাদা সৃষ্টি এবং সে মর্যাদা হতে উদ্ভুত আইনগত বাধ্যবাধকতাসমূহ সৃষ্টি করে তাকে বিবাহ বলে।

মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:

⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বা ৮ এখন বাধ্যতামূলক।
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
⇒ এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)
৩৩৭.
নিম্নের কোন আইনে 'Doctrine of Representation' এর বিধান রয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩
  2. পারিবারিক আদালত বিধিমালা,২০২৩
  3. মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ,১৯৬১
  4. মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন,১৯৩৯
সঠিক উত্তর:
মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ,১৯৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ,১৯৬১
ব্যাখ্যা
• মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ উত্তরাধিকার, বিবাহ রেজিস্ট্রি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন।

এ আইনের ৪নং ধারায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সংশোধন আনা হয়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে লা-ওয়ারিশ প্রথাকে বাতিল করা হয়। এ আইনে বলা হয়-
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার পূর্বে মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র বা কন্যার মৃত্যু হলে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার সময় ঐ পুত্র বা কন্যার সন্তানাদি যদি জীবিত থাকে, তাহলে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা বণ্টনের সময় জীবিত থাকলে সে যে অংশ পেতো, তার সন্তানাদি সমষ্টিগতভাবে অনুরূপ অংশ পাবে।
যা 'Doctrine of Representation' নীতি নামে পরিচিত।

Section 4: Succession
In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.
৩৩৮.
হানাফি আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন দেনমোহর কত হতে পারে?
  1. ৩ দিরহাম
  2. ১০ দিরহাম
  3. ২০ দিরহাম
  4. কোন সর্বনিম্ন পরিমাণ নেই
সঠিক উত্তর:
১০ দিরহাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ দিরহাম
ব্যাখ্যা
- Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে। অন্য দিকে proper dower বা যথার্থ দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে না।
- কুরআনে দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। দেনমোহরের পরিমাণ কত হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মাযহাবে মতানৈক্য রয়েছে।
- হানাফি আইন অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমান ১০ দিরহাম বা সাত মিসকাল পরিমাণ রৌপ্য।
- মালিকি মতবাদ অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ৩ দিরহাম।
- শাফেয়ি এবং শিয়া আইনে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণের উল্লেখ নেই। তবে কোনো মাযহাবে। দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ নিয়ে কিছু বলা নেই।
- বিবাহের চুক্তিতে যদি এমন কোনো শর্ত থাকে যে, দেনমোহর পরিশোধ করা হবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে সে শর্তটি বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে সে কারণে বিবাহটি অবৈধ হবে না।
৩৩৯.
হানাফী মতবাদ অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে কয় শ্রেণির ব্যক্তি? 
  1. ৫ শ্রেণির
  2. ৪ শ্রেণির
  3. ২ শ্রেণির
  4. ৩ শ্রেণির
সঠিক উত্তর:
৩ শ্রেণির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ শ্রেণির
ব্যাখ্যা

⇒ হানাফী আইন অনুসারে, অগ্রক্রয়ের অধিকার (Right of Pre-emption) প্রয়োগের অধিকার মোট ৩ শ্রেণির ব্যক্তির আছে। এরা হলো: (১) শাফি-ই-শরিক (সহ-অংশীদার বা যৌথ মালিক), (২) শাফি-ই-খালিত (সুবিধাসমূহের অংশগ্রহণকারী, যেমন পথ চলাচলের অধিকারী), এবং (৩) শাফি-ই-জার (সংলগ্ন বা পার্শ্বর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক)। এই শ্রেণিগুলো অগ্রক্রয়ের অধিকারের ক্রমানুসারে প্রয়োগ হয়।

⇒ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]

- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।

- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

৩৪০.
মুসলিম আইনে দানের আবশ্যিক উপাদান কী কী?
  1. প্রস্তাব, দলিল রেজিস্ট্রেশন, সাক্ষী
  2. প্রস্তাব, গ্রহণ, দখল হস্তান্তর
  3. গ্রহণ, দলিল লেখা, আদালতের অনুমোদন
  4. ইচ্ছা প্রকাশ, দুইজন সাক্ষী, সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ
সঠিক উত্তর:
প্রস্তাব, গ্রহণ, দখল হস্তান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তাব, গ্রহণ, দখল হস্তান্তর
ব্যাখ্যা

⇒ দান আরবি ভাষায় 'হেবা' নামে পরিচিত। দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

⇒ দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।
⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়, আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।

৩৪১.
যদি মৃত ব্যক্তির যখন কোন পুত্র না থাকে তখন একমাত্র কন্যার অংশ-
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৬ অংশ
  3. ১/৮ অংশ
  4. ১/২ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
- কন্যা দুটি শর্তে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/২ অংশের উত্তরাধিকারী হবে।

• যদি মৃতব্যক্তির কোনো পুত্র না থাকে;

• যদি কন্যা শুধু একজন হয়।

অর্থাৎ যদি মৃত ব্যক্তির যখন কোন পুত্র না থাকে তখন একমাত্র কন্যা সম্পত্তির ১/২ অংশের উত্তরাধিকারী হবে।
৩৪২.
ইসলামী শরীয়তের ফারায়েয অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ওসিয়ত বাস্তবায়নের জন্য কত অংশ ব্যবহার করা যায়?
  1. পুরো সম্পত্তি
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. এক-অষ্টমাংশ
সঠিক উত্তর:
এক-তৃতীয়াংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলামী শরীয়তের ফারায়েয অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বৈধ ওসিয়ত করতে পারেন। এই সীমার বেশি ওসিয়ত করলে তা উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া কার্যকর হয় না।
অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ওসিয়ত বাস্তবায়নের জন্য সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, এবং তা উত্তরাধিকারীদের ক্ষতি না করে বৈধ হতে হবে।

⇒ ইসলামী শরীয়তের ফারায়েয বিধান অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ওসিয়ত (উইল) বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি ব্যবহার করা যায়। এটি নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে প্রযোজ্য:
সর্বোচ্চ সীমা: ওসিয়তের মাধ্যমে ১/৩ অংশের বেশি সম্পত্তি বণ্টন করা যাবে না (হাদিস দ্বারা সীমাবদ্ধ)।

⇒ নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশই অনেক। তোমার উত্তরাধিকারীদের ধনী রেখে যাওয়া, দরিদ্র রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।" (সহিহ বুখারি)।

শর্তাবলি:
- ওসিয়ত শুধুমাত্র অ-ওয়ারিসদের জন্য প্রযোজ্য (ওয়ারিসদের জন্য ওসিয়ত করা নিষিদ্ধ)।
- ঋণ পরিশোধের পরেই ওসিয়ত কার্যকর হবে।

ব্যতিক্রম:
- যদি ওয়ারিসরা সম্মতি দেয়, তবে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ওসিয়তও জায়েজ (তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়)।

৩৪৩.
একজন হানাফি মুসলিম পিতা-মাতাকে রেখে মারা যান। তার তাজ্য সম্পত্তিতে পিতার অংশ-
  1. ১/৪
  2. ১/২
  3. ২/৩
  4. ৩/৪
সঠিক উত্তর:
২/৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২/৩
ব্যাখ্যা
• মুসলিম উত্তরাধিকার আইন-

মোট সম্পত্তি = ১

মাতার অংশ = ১/৩ [যেহেতু সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক), একাধিক ভাই-বোন অনুপস্থিত]।
পিতা =  অবশিষ্টাংশভোগী [যেহেতু সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক) এরূপ কেউ নেই]।

অবশিষ্টাংশ = (১ - ১/৩) = ২/৩ অংশ।

∴ পিতার অংশ = ২/৩ অংশ। (উত্তর)
৩৪৪.
A marriage with a woman before completion of her Iddat is ______ :
  1. Void
  2. Valid
  3. Irregular
  4. None of these
সঠিক উত্তর:
Irregular
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Irregular
ব্যাখ্যা
• ইদ্দত (Iddat):
ইদ্দত শব্দের অর্থ হলো- অপেক্ষা করা। যেকোনো নারীর বিবাহ সমাপ্ত হলে, তাকে পুনরায় বিয়ে করার জন্য যে সময়কাল অবশ্যই অপেক্ষা করতে হয় তাকে ইদ্দত বলে। একজন নারীকে বিবাহ বিচ্ছেদের পর অবশ্যই ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দত পালনকালীন সময় কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না।

⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ। যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।
৩৪৫.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীনে গঠিত সালিশী কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক প্রদেয় ভরণপোষণের টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে। স্বামী উক্ত সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট। এক্ষেত্রে স্বামীর প্রতিকার কী?
  1. জেলা জজের নিকট পুর্নবিবেচনার আবেদন
  2. সহকারী জজের নিকট আপিল আবেদন
  3. জেলা জজের নিকট আপিল আবেদন
  4. সহকারী জজের নিকট পুর্নবিবেচনার আবেদন
সঠিক উত্তর:
সহকারী জজের নিকট পুর্নবিবেচনার আবেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহকারী জজের নিকট পুর্নবিবেচনার আবেদন
ব্যাখ্যা

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৯- ভরণপোষণ:
১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী দেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমিরাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

৩৪৬.
Wakf শব্দের অর্থ কী?
  1. মুক্ত করা
  2. আটক করা
  3. দান করা
  4. গ্রহণ করা
সঠিক উত্তর:
আটক করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটক করা
ব্যাখ্যা
Waqf শব্দটি আরবি শব্দ। এর অর্থ নিয়োধ বা আটক করা। ওয়াকফ হলো কোনো সম্পত্তি ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা। সাধারণত ওয়াকফ বলতে ইসলাম ধর্মাবলম্বী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইসলাম ধর্ম অনুসারে ধর্মীয়, সাধু বা দাতব্য বলে স্বীকৃত কোনো উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে সম্পত্তি উৎসর্গ করা বুঝায়। কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নামে উৎসর্গ করতে পায়ে, যে সম্পত্তির চূড়ান্ত সুবিধা পরিব ব্যক্তিগণ পাবে অথবা সম্পত্তিটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার হবে।

• ওয়াক্কের অপরিহার্য উপাদান হলো-
ক. উৎসর্গ (Dedication);
খ. উদ্দেশ্য (Purpose)।

ক. উৎসর্গ (Dedication):
সম্পত্তির মালিককে আল্লাহরনামে সম্পত্তিটি স্থায়ীভাবে এবং শর্তহীনভাবে উৎসর্গ করতে হবে। সুতরাং অস্থায়ীভাবে কোনো সম্পত্তি ওয়াকফ করা যায় না। চারজন সুন্নি ইমামের মধ্যে শুধু ইমাম মালিক (রাহঃ) অস্থায়ী ওয়াকফকে বৈধ বলেছেন। বাকী তিনজন ইমাম অস্থায়ী ওয়াকফকে অবৈধ বলেছেন।

খ. উদ্দেশ্য (Purpose):
ওয়াকফ করার উদেশ্য অবশ্যই ধর্মীয় বা দাতব্য হতে হবে। যেমন। কোনো মসজিদের জন্য অথবা গরীব, দুঃস্থ মানুষের ভরণপোষণের জন্য ওয়াকফ করা যায়।
ওয়াকফ অবশ্যই বৈধ উদ্দেশ্যে করতে হবে। যদি কেউ বেআইনি উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে তাহলে ওয়াক্‌ফটি অবৈধ হবে। যদি এমন হয় ওয়াকফকারীর কিছু উদ্দেশ্য বৈধ এবং কিছু উদ্দেশ্য অবৈধ সেক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের যতটুকু বৈধ ওয়াকফ, ততটুকু বৈধ হবে বাকী অংশ অবৈধ হবে।
৩৪৭.
মুসলিম আইনে ইজাব কি?
  1. প্রতিদান
  2. ইজমা
  3. গ্রহণ
  4. প্রস্তাব
সঠিক উত্তর:
প্রস্তাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
⇒ Marriage এর আরবি শব্দ হলো 'Nikah যার আক্ষরিক অর্থ হলো একত্রে আংশগ্রহণ Joining Together। বিবাহ হলো যৌন সহবাস এবং সন্তান উৎপাদনের বৈধতার চুক্তি।

ইসলামে বিবাহ হলো একটি চুক্তি (দেওয়ানী চুক্তি) কোন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান [Religious Sacramenti না। কারণ বিবাহের বৈধতার জন্য প্রস্তাব [Offer] এবং গ্রহণ (Acceptance) হলো বিবাহের দুইটি মৌলিক শর্ত এবং বিবাহের বৈধতার জন্য কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক না।

⇒ আইনগত উপাদান/শর্তসমূহ
১. প্রস্তাব (Offer) বা (Ijab)
২. গ্রহণ ( Acceptance) বা (Qabul)
৩. সাক্ষীদের উপস্থিতি (Presence of Witnesses)

বিবাহের এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে প্রস্তাব প্রদান এবং অপর পক্ষ কর্তৃক উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ হলো মুসলিম বিবাহের পূর্ব শর্ত। প্রস্তাব ও গ্রহণ একই বৈঠকে সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সাক্ষী (Witness) প্রাপ্ত বয়স্ক এবং যোগ্যতা সম্পন্ন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একপক্ষ কর্তৃক প্রস্তাব প্রদান করা হবে এবং অন্য পক্ষ কর্তৃক প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে।
৩৪৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, লিখিত জবাবের কত সংখ্যক অবিকল নকল আদালতে লিখিত জবাবের সাথে দাখিল করতে হবে?
  1. বিবাদীর সংখ্যার সমান
  2. বাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ
  3. বাদীর সংখ্যার তিনগুণ
  4. বাদীর সংখ্যার সমান
সঠিক উত্তর:
বাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৮(৫) অনুযায়ী, লিখিত জবাব দাখিল করার সময় বাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ অবিকল নকল আদালতে জমা দিতে হবে। 
- উদাহরণস্বরূপ, যদি মোকদ্দমায় ১ জন বাদী থাকে, তাহলে ২ কপি নকল জমা দিতে হবে। এই নকলগুলোর সাথে তপশিল, দলিল ও দলিলের তালিকা সংযুক্ত করতে হবে।

– পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ৮(৫) মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৩৪৯.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত স্বামীর সম্পত্তি বণ্টনে স্ত্রীর অংশ কত হয় যদি তাদের সন্তান থাকে?
  1. ১/৪ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/২ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৮ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৮ অংশ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের ধারা অনুযায়ী, স্ত্রীর উত্তরাধিকার নির্ভর করে মৃত স্বামীর সন্তান আছে কি নেই।
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে স্ত্রীর অংশ নিম্নলিখিতভাবে নির্ধারিত হয়:
যদি মৃত স্বামীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) থাকে: স্ত্রী পাবে ১/৮ অংশ (কোরআনের সূরা নিসা ৪:১২ অনুযায়ী)।
যদি মৃত স্বামীর কোনো সন্তান বা নাতি না থাকে: স্ত্রী পাবে ১/৪ অংশ।

অর্থাৎ যদি স্বামীর সন্তান থাকে, স্ত্রীর অংশ ১/৮ এবং যদি কোনো সন্তান না থাকে, স্ত্রীর অংশ ১/৪।
এটি কোরআন অনুযায়ী নির্ধারিত “যাওয়িল ফুরূদ” (Zawil Furud) এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অংশ।
সুতরাং, সন্তান থাকলে স্ত্রীর অংশ হবে ১/৮।

৩৫০.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর বিধান অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে, উক্ত বিবাহ-
  1. বাতিল হবে
  2. অবৈধ হবে
  3. রেজিস্ট্রিকৃত হবে না
  4. উল্লিখিত সব
সঠিক উত্তর:
রেজিস্ট্রিকৃত হবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেজিস্ট্রিকৃত হবে না
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:

১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।
 
২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।
 
৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।
 
৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
 
৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ড।
৩৫১.
The Family Courts Ordinance, 1985 এর কত ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে?
  1. ১১ ও ১৩ ধারায়
  2. ১০ ও ১৩ ধারায়
  3. ১০ ও ১১ ধারায়
  4. ১২,১৩ ধারায়
সঠিক উত্তর:
১০ ও ১৩ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ও ১৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ও ১৩ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)

এই আইনে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-
১. বিচার-পূর্ব কার্যধারায়
২. বিচার-পরবর্তী কার্যধারায়

১০ ধারায় বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে এবং ১৩ ধারায় বিচার-পরবর্তী পর্যায়ে আপোষ-মীমাংসার বিধান উল্লেখ আছে। ১০(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে আদালত পক্ষগণের মধ্যেকার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করবে এবং যদি সম্ভব হয়, পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে। ১৩(১) ধারায় দেয়া আছে, সকল পক্ষের সাক্ষ্য সমাপ্তির পর পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার আরও একটি চেষ্টা করবে।
৩৫২.
পারিবারিক আদালত কখন আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে?
  1. যদি সংশোধন ন্যায়বিচারের জন্য আবশ্যক হয়
  2. যদি সংশোধন আইনগত ভুলের কারণে প্রয়োজন হয়
  3. যদি সংশোধন বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়
  4. খ এবং গ উভয় ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
যদি সংশোধন বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি সংশোধন বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ এর ধারা ৯- আরজি ও লিখিত জবাব সংশোধন:
এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, করণিক ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো কারণে পক্ষগণের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার জন্য আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আদেশ দিতে পারিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয়, এইরূপ সংশোধনের আবেদন মোকদ্দমার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করিবার উদ্দেশ্যে আনয়ন করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে আদালত উক্তরূপ সংশোধনীর আদেশ প্রদান করিবে না।

৩৫৩.
নিম্নলিখিত কোন বিবাহটি মুসলিম আইনে অনিয়মিত বিবাহ নয়?
  1. সাক্ষী ছাড়া বিবাহ
  2. প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ
  3. ইদ্দত পালনকারী মহিলাকে বিবাহ
  4. একই সাথে দুই বোনেকে বিবাহ করা 
সঠিক উত্তর:
প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে বিবাহকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- সহিহ বিবাহ – যাবতীয় শর্ত পূরণসহ সম্পন্ন বিবাহ।
- ফাসিদ বিবাহ – অনিয়মিত বিবাহ, যাতে কিছু শর্তের অভাব বা লঙ্ঘন আছে কিন্তু বিবাহটি মূলত বে-আইনি নয়। এ ধরনের বিবাহ সংশোধনযোগ্য।
- বাতিল বিবাহ – সম্পূর্ণ অবৈধ বিবাহ, যা কোনোভাবেই বৈধ হয় না।

⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।
যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।

মুসলিম আইনে "অনিয়মিত বিবাহ" (ফাসিদ) বলতে এমন বিবাহকে বোঝায় যাতে বিবাহের কিছু আনুষ্ঠানিক শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে, কিন্তু বিবাহটি সম্পূর্ণ বাতিল নয় (সংশোধনযোগ্য)।
ক) সাক্ষী ছাড়া বিবাহ: এটি ফাসিদ, কারণ মুসলিম বিবাহের জন্য কমপক্ষে দুইজন সাক্ষী বাধ্যতামূলক।
গ) ইদ্দত পালনরত মহিলাকে বিবাহ: এটি ফাসিদ, কারণ ইদ্দতকালীন (প্রতীক্ষার সময়) মহিলাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ।
ঘ) একই সাথে দুই বোনকে বিবাহ: এটি ফাসিদ, কারণ ইসলামে একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহ করা হারাম।

খ) প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ: এটি ফাসিদ নয়, অর্থাৎ এটি অনিয়মিত বিবাহ নয়। ইসলামী আইন পুরুষকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সর্বোচ্চ চারটি বিবাহ করার অনুমতি দেয়। তাই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে বা তার অজান্তে দ্বিতীয় বিবাহ করলেও বিবাহটি সহিহ (বৈধ) হিসেবে গণ্য হয়, তবে এটি নৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে অপ্রশংসনীয় এবং স্ত্রীর হক নষ্ট করার দায়িত্ব বহন করে। এটি ফাসিদ নয়, কারণ এটি মূল নিয়মের পরিপন্থী নয়।

- সুতরাং, প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ অনিয়মিত বিবাহ নয়, বরং শরীয়তের সীমার মধ্যে একটি বৈধ বিবাহ।

৩৫৪.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৪ ধারায় প্রদত্ত 'প্রতিনিধিত্বের নীতি' নিম্নের কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. মৃত কন্যার সন্তান
  2. মৃত বোনের সন্তান
  3. মৃত ভাইয়ের সন্তান
  4. উল্লিখিত সকলের ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
মৃত কন্যার সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত কন্যার সন্তান
ব্যাখ্যা
• ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর অর্থাৎ ১৫-০৭-১৯৬১ইং তারিখ হতে দাদা/নানার মৃত্যুর পর দাদা বা নানার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুযায়ী মাতা বা পিতাহারা সন্তান বা সন্তানরা ওইটুকু সম্পত্তি পাবে যতটুকু তার/তাদের পিতা/মাতা বেঁচে থাকলে পেত।
 
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়-

‘ক’ নামক ব্যক্তি জীবিত থাকাস্থায় তার ‘খ’ নামক ছেলে ও ‘গ’ নামক মেয়ে মারা যায়। ‘খ’ মৃত্যুকালে এক ছেলে ‘ঘ’ ও এক মেয়ে ‘ঙ’ কে এবং ‘গ’ মৃত্যুকালে এক ছেলে ‘চ’ ও এক মেয়ে ‘ছ’ কে জীবিত রেখে যায়। অতঃপর ‘ক’-এর মৃত্যুর পর পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ‘খ’ ‘ক’-এর নিকট যে সম্পত্তি পেত ‘ঘ’ ও ‘ঙ’ ওই সম্পত্তি তাদের পিতা ‘খ’-এর ওয়ারিশ হিসেবে ‘ক’-এর নিকট হতে প্রাপ্ত হবে। অনুরূপভাবে ‘গ’ পিতার ওয়ারিশসূত্রে যে সম্পত্তি ‘ক’-এর নিকট থেকে পেত, ‘চ’ ও ‘ছ’ ওই সম্পত্তি তাদের মাতা ‘গ’-এর ওয়ারিশ হিসেবে ‘ক’-এর নিকট থেকে প্রাপ্ত হবে। এক্ষেত্রেও সম্পত্তির অংশ ছেলে ও মেয়ের ক্ষেত্রে ২ঃ১ অনুপাতে হবে। অর্থাৎ পুত্র কন্যার দ্বিগুণ পাবে।
 
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারা অনুযায়ী শুধু পূর্বে মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান/সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ পুত্রের পুত্র বা কন্যা এবং কন্যার পুত্র বা কন্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য কোনো ওয়ারিশের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য নয়।

Section 4- Succession: In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.
৩৫৫.
‘ইজমা’ বলতে বোঝায়-
  1. একক মতামত
  2. মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্য
  3. সকল মুসলিমদের মতামত
  4. কোরআনের অনুবাদ
সঠিক উত্তর:
মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্য
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

ইজমা:
ইজমা শব্দটি আরবি। এর আভিধানিক অর্থ- ঐকমত্য হওয়া, শক্তিশালী করা, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া, একমত হওয়া ইত্যাদি। সুতরাং কোন বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করার নামই হলো ইজমা। ইসলামি শরীআতের ভাষায়-"কোন কাজ অথবা কথার ওপর এক যুগের উম্মাতে মুহাম্মদীর ন্যায়বান মুজতাহিদগণের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তকে বলে।" ইজমা শরীআতের তৃতীয় উৎস। গুরুত্বের বিচারে কুরআন ও হাদিসের পরেই ইজমার স্থান। কোন বিশেষ যুগে আইন সংক্রান্ত কোন বিশেষ প্রশ্নের সমস্যার সমাধান কুরআন ও হাদিসকে কেন্দ্র করে মুসলিম পণ্ডিতগণ যে সম্মিলিত অভিমত পোষণ করেছেন ইসলামি শরীআতে তাই হলো ইজমা। ইজমা রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাণী দ্বারা বৈধ প্রমাণিত হয়েছে।

৩৫৬.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার কে?
  1. আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
  2. সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
  3. স্বয়ং বিবাহ সম্পাদনকারী ব্যক্তি
  4. স্থানীয় কমিটি কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, সরকার বিবাহ নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ করে। এই রেজিস্ট্রারগণ নির্দিষ্ট এলাকার জন্য সরকার কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যাদের দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করা।
সুতরাং, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুসারে, নিকাহ রেজিস্ট্রার হলেন সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি।

⇒  মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ এর বিধান নিকাহ রেজিস্ট্রার:
এই আইনের অধীন বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তিকে, যাহারা নিকাহ রেজিস্ট্রার নামে অভিহিত হইবে, তাহাদের জন্য নির্ধারিত এলাকার জন্য লাইসেন্স প্রদান করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন একটি এলাকার জন্য একাধিক নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সপ্রাপ্ত হইবেন না:
আরও শর্ত থাকে যে, সরকার যখনই উপযুক্ত মনে করিবে, তখনই নিকাহ রেজিস্ট্রারের জন্য নির্ধারিত এলাকার সীমা বৃদ্ধি, হ্রাস বা পরিবর্তন করিতে পারিবে।
---------- 
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 4. Nikah Registrars:
For the purpose of registration of marriages under this Act, the Government shall grant licenses to such number of persons, to be called Nikah Registrars, as it may deem necessary for such areas as it may specify: 
Provided that not more than one Nikah Registrar shall be licensed for any one area : 
Provided further that the Government may, whenever it deems fit so to do, extend, curtail or otherwise alter the limits of any area for which a Nikah Registrar has been licensed.
৩৫৭.
সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত ২য় বিয়ে করলে, The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুসারে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে?
  1. ৫০০০ টাকা
  2. ১০০০০ টাকা
  3. ১৫০০০ টাকা
  4. ২০০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
১০০০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ১০০০০ টাকা।

• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:

১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রী গণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩৫৮.
Abdul Kadir Vs. Salima (1886) মামলায় আদালত মুসলিম বিবাহকে কী বলে আখ্যায়িত করেছে?
  1. পবিত্র বন্ধন
  2. ধর্মীয় অনুষ্ঠান
  3. এক ধরনের চুক্তি
  4. সামাজিক অনুষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের চুক্তি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) এক ধরনের চুক্তি।

Abdul Kadir v Salima (1886):
ঘটনার বিবরণ:
Abdul Kadir ও Salima বিয়ের পর তিন মাস সুখে সংসার করেন। পরে Salima তার বাবার বাড়ি গেলে তার বাবা তাকে Abdul Kadir–এর কাছে ফিরে যেতে দেননি। তাই Abdul Kadir তার স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে বিবাহিত অধিকার পুনরুদ্ধারের (Restitution of Conjugal Rights) মামলা করেন।

প্রতিবাদীরা (স্ত্রী ও শ্বশুর) আদালতে তিনটি কারণ দেখানঃ
- বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে;
- ক্রূরতা (Cruelty);
- মোহর (Dower) প্রদান করা হয়নি।

আদালত প্রথম ও তৃতীয় কারণ (বিবাহবিচ্ছেদ ও ক্রূরতা) বাতিল করলেও মোহর প্রদান না করার যুক্তি বৈধ বলে স্বীকার করে। যদিও বিয়ের আগে মোহরের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করা হয়নি, আদালত বলে দেন – মোহর (prompt dower) আগে দিতে হবে।

Abdul Kadir পরে পুরো মোহর আদালতে জমা দেন। আদালত শর্তযুক্ত রায় দেন যে, মোহর প্রদান করলে তিনি তার স্ত্রীকে ফেরত পেতে পারেন। কিন্তু উভয় পক্ষই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

আপিল আদালত Abdul Kadir–এর আপিল খারিজ করে দেয়, কারণ মামলার শুরুতেই তিনি মোহর দেননি; তাই তার মামলার “দাঁড়ানোর অধিকার” (standing) ছিল না।

সবশেষে বিষয়টি আল্লাহাবাদ হাইকোর্টের পূর্ণ বেঞ্চে যায়, যেখানে মোহর না দেওয়া থাকলে স্বামীর দাবির গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না – সে প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যুক্তি:
আপিলকারী (Abdul Kadir): দাবী করেছিলেন যে, বিবাহিত অধিকার পুনরুদ্ধারের অধিকার মোহর প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।প্রতিবাদকারী: স্বামীর মামলা খারিজ হওয়া উচিত, কারণ মাহর প্রদান হয়নি।

রায়:
জাস্টিস সায়েদ মাহমুদ-এর মতামত (পূর্ণ বেঞ্চ দ্বারা অনুমোদিত) তিনটি মূল বিষয়ে কেন্দ্রীভূত:
১. মুসলিম বিবাহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আইনগত চুক্তি।
২. মাহরের প্রকৃতি এবং এর প্রভাব স্বামীর বিবাহিত অধিকার পুনরুদ্ধারের অধিকার-এর উপর।

৩৫৯.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীন গঠিত সালিশী কাউন্সিলের জারিকৃত সার্টিফিকেট অনুযায়ী প্রদেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করলে, বকেয়া কী হিসেবে আদায়যোগ্য হবে?
  1. জরিমানা
  2. অর্থদণ্ড
  3. ক্ষতিপূরণ
  4. ভূমি রাজস্ব
সঠিক উত্তর:
ভূমি রাজস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমি রাজস্ব
ব্যাখ্যা

• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ- ১৯৬১ এর ধারা ৯- ভরণপোষণ:
১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে  তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী প্রদেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

৩৬০.
কয়টি ক্ষেত্রে স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হয়?
  1. ৪ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ টি
ব্যাখ্যা
ইদ্দত (Iddat):

ইদ্দত শব্দের অর্থ হলো- অপেক্ষা করা। যেকোনো নারীর বিবাহ সমাপ্ত হলে, তাকে পুনরায় বিয়ে করার জন্য যে সময়কাল অবশ্যই অপেক্ষা করতে হয় তাকে ইদ্দত বলে। একজন নারীকে বিবাহ বিচ্ছেদের পর অবশ্যই ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দত পালনকালীন সময় কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না।

দুটি ক্ষেত্রে একজন নারীর ইদ্দত পালন করতে হয়-
⇒ প্রথমত স্বামী মৃত্যুবরণ করলে,
⇒ দ্বিতীয়ত তালাকপ্রাপ্ত হলে।

সময়কাল:
ক) তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী গর্ভবতী হলে, সন্তান জন্মদান পর্যন্ত। গর্ভবতী না হলে ৩ মাস/ ৩টি মাসিক সময়কাল পর্যন্ত।
খ) স্বামী মারা গেলে মৃত্যুর পর ৪ মাস ১০ দিন (গর্ভবতী না হলে), গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত বা ৪ মাস ১০ দিন, যেটা পরে ঘটে।
৩৬১.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) নিয়মাবলি কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৭৫
  2. ১৯৭৪
  3. ১৯৩৭
  4. ১৯৬১
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫
ব্যাখ্যা
Section 14. Power to make rules:
(1) The Government may, by notification in the official Gazette, make rules to carry into effect the purposes of this Act. 
(2) In particular and without prejudice to the generality of the foregoing power, such rules may provide for- 
(a) qualifications to be required from persons to whom licences under section 4 may be granted; 
(b) fees payable to a Nikah Registrar for registration of a marriage or divorce; 
(c) any other matter for which rules are required to be made.

⇒ The Muslim Marriage and Divorces (Registration) Act, 1974-এর ১৪ ধারার ক্ষমতাবলে ' মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) বিধিমালা/নিয়মাবলি ১৯৭৫'-প্রণয়ন করা হয়।

এবং এটিকে রহিত করা হয় 'মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) বিধিমালা, ২০০৯'-এর ৪১ বিধির ক্ষমতাবলে। ২০০৯ সালের বিধিমালা ২০১১ সালে পুনরায় সংশোধিত হয়। বর্তমানে এই বিধিমালার অধীনে কাবিননামা অর্থাৎ বিবাহ রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকে।
৩৬২.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারায় পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার কয়টি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার: 
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা :-

(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

অর্থাৎ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারায় পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার এই ৫টি উল্লেখ্য আছে। 
৩৬৩.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, বিবাদী লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সময় চাইলে সর্বোচ্চ কত দিন দেওয়া যেতে পারে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
সঠিক উত্তর:
২১ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী বিবাদী সমন প্রাপ্তির পর লিখিত জবাব দাখিল করবে।
- যদি সে নির্ধারিত দিনে জবাব দাখিল করতে না পারে, তবে সময় প্রার্থনা করতে পারে।
- আদালত যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখলে তাকে অতিরিক্ত সময় দিতে পারে, তবে এই অতিরিক্ত সময় সর্বাধিক ২১ দিন হতে পারবে।
- অর্থাৎ, মূল নির্ধারিত সময়ের বাইরে আদালত সর্বোচ্চ ২১ দিনের বেশি সময় দিতে পারবে না।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৩৬৪.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারা অনুযায়ী, উভয়পক্ষের অনুরোধে আদালত কি করবে?
  1. রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানি করবে
  2. শুনানি স্থগিত রাখবে
  3. উন্মুক্ত কক্ষে শুনানি করবে
  4. মোকদ্দমার কার্যধারা বাতিল করবে
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানি করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানি করবে
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারা: রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
৩৬৫.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীন বিচারের স্থান হতে পারে-
  1. যে স্থানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল
  2. যে স্থানে অভিযোগকারী বাস করে
  3. যে স্থানে আসামী বাস করে
  4. উল্লিখিত সকল স্থান
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল স্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল স্থান
ব্যাখ্যা
• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১

ধারা ১১ক- বিচারের স্থান
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.
৩৬৬.
Which two main sects exist among Muslims?
  1. Hanafi and Shafi
  2. Sunni and Shia
  3. Maliki and Hanbali
  4. None of them
সঠিক উত্তর:
Sunni and Shia
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sunni and Shia
ব্যাখ্যা
ইসলামী আইনের স্কুলসমূহ:
মুসলিমদের মধ্যে দুটি প্রধান মতবাদ রয়েছে। তারা হলো সুন্নি এবং শিয়া। বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলিম সুন্নি সম্প্রদায়ের অনুসারী।
সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে চারটি প্রধান ইমাম আছেন, যাদের মাধ্যমে চারটি ভিন্ন চিন্তাধারার সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলি হলো:
১. হানাফি ২. শাফি ৩. মালিকি ৪. হানবালি

সুন্নি এবং শিয়া মুসলিমদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল, তারা বিশ্বাস করেন কি না যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার উত্তরাধিকারী হিসাবে কাউকে নির্ধারণ করেছিলেন।
সুন্নি মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কোন উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেননি, তবে শিয়া মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার চাচাতো ভাই এবং জামাই হজরত আলী (রাঃ) কে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।
৩৬৭.
মুসলিম আইন অনুযায়ী, স্বামী কি স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করতে বাধ্য?
  1. না, এটি ইচ্ছাধীন
  2. হ্যাঁ, তবে শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব
  3. না, তবে স্ত্রীর ইচ্ছা হলে দিতে হবে
  4. হ্যাঁ, এটি তার ধর্মীয় ও আইনগত দায়িত্ব
সঠিক উত্তর:
হ্যাঁ, এটি তার ধর্মীয় ও আইনগত দায়িত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যাঁ, এটি তার ধর্মীয় ও আইনগত দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। স্বামী যদি ধনী হয়, তবে স্ত্রীর জন্য তার ভরণপোষণও বেশি হতে পারে। যদি স্বামী দরিদ্র হয়, তবে স্ত্রীর নাফাকা তার আর্থিক সামর্থ্য অনুসারে নির্ধারিত হবে। সাধারণভাবে, নাফাকা এমনভাবে নির্ধারিত হবে যেন স্ত্রীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে, এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূর্ণ হয়।

স্ত্রীর অধিকার:
যদি কোনো স্ত্রীর কাছে স্বামীর অর্থনৈতিক সহায়তা বা নাফাকা প্রদান না করা হয়, তবে সে আদালতে নাফাকা চেয়ে মামলা করতে পারে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য নাফাকা একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি নিশ্চিত করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তালাকের পর, ইদ্দতকালে স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করাটা স্বামীর কর্তব্য।
৩৬৮.
মুসলিম উত্তরাধিকার সম্পর্কে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না
  2. হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না।
  3. জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
  4. তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
সঠিক উত্তর:
তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
ব্যাখ্যা
- মুসলিম উত্তরাধিকার অনুযায়ী 'তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান ওয়ারিশ হবে না' এই কথাটি সত্য নয়।
অর্থাৎ স্ত্রীকে তালাক দিলেও ঐ স্ত্রীর সন্তানগুলো উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।)
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
৩৬৯.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কয় শ্রেণির উত্তরাধিকারীরা কখনো বঞ্চিত হয় না?
  1. ৪ শ্রেণির
  2. ৩ শ্রেণির
  3. ৫ শ্রেণির
  4. ৬ শ্রেণির
সঠিক উত্তর:
৬ শ্রেণির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ শ্রেণির
ব্যাখ্যা
উত্তরাধিকার [Inheritance]:

মুসলিম আইনে সম্পদ বণ্টন একমাত্র মৃত্যুর পরেই কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারীগণের অধিকার সৃষ্টি হয়, মৃত্যুর পূর্বে নয়। একজন সুন্নি মুসলমানের বৈধ ওয়ারিশগন মূলতঃ দুই প্রকার। যথা:

১) প্রধান শ্রেণি (Principal Hairs);
২) অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Hairs)।

⇒ প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিরা কখনো উত্তরাধিকার বঞ্চিত হয় না:

১/ স্বামী
২/ স্ত্রী
৩/ পিতা
৪/ মাতা
৫/ পুত্র ও
৬/ কন্যা- এই ৬ শ্রেনীর উত্তরাধিকারী কখনো বঞ্চিত হয় না।
৩৭০.
যখন কোন নির্দিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে একাধিক সমাধান থাকে, তখন ইসলামি আইনজ্ঞরা সর্বাধিক গ্রহণীয় সমাধান গ্রহণ করবে এটা কি নামে পরিচিত?
  1. কিয়াস
  2. ইজমা
  3. ইসতিসলাহ
  4. ইসতিহসান
সঠিক উত্তর:
ইসতিহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসতিহসান
ব্যাখ্যা
ইসতিহসান: ইসতিহসান অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন।

-কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

যে নীতির বলে আইনবিদগণ তাদের ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারেন, সে নীতিকেই হানাফীগণ ইসতিহসান বলে। তাদের মতে কিয়াসভিত্তিক আইন অভ্রান্ত নয়। এমনকি ইজমাকেও অভ্রান্ত বলা যায় না। প্রয়োজনবোধে ঐগুলোর পরিবর্তে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করাই ইসতিহসানের মূল মর্ম। হানাফীগণ বলেন যে, ইসতিহসানও এক প্রকার কিয়াস, তবে কিয়াস অপেক্ষা ইসতিহসানের এখতিয়ার ব্যাপক। ইমাম আবু হানিফা এ নীতির প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ
৩৭১.
একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর কত শতাংশ সম্পত্তি উইল করতে পারেন?
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
• উইল বা অসিয়ত:
কোনো মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষণাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয়সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছাপত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।
- উইলকারী মৃত্যুর আগে চাইলে উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।
- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয়, তবে উইলকারীর উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশি কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে আদালত নয়, উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে।
৩৭২.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য কোর্ট ফি কত?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুসারে, এই আইনের অধীনে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য ২০০ টাকা কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমে মোকদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর-২৫ ধারার বিধান: কোর্ট ফি: 
- পারিবারিক আদালতে এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার আরজি দাখিল করিতে প্রদেয় কোর্ট ফি হইবে ২০০ (দুইশত) টাকা।
৩৭৩.
Which one is chronologically correct in case of making demand for 'right to pre-emption'?
  1. talab-i-tamlik>talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat
  2. talab-i-mwasibat > talab-i- ishhad> talab-i- tamlik
  3. talab-i-mwasibat> talab-i-tamlik> talab-i-ishhad
  4. talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat> talab-i- tamlik
সঠিক উত্তর:
talab-i-mwasibat > talab-i- ishhad> talab-i- tamlik
উত্তর
সঠিক উত্তর:
talab-i-mwasibat > talab-i- ishhad> talab-i- tamlik
ব্যাখ্যা
শুফা:
কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি শরীক বা প্রতিবেশী হওয়ার কারনে উক্ত সম্পত্তি সর্বাগ্রে ক্রয়ের অধিকারী হয় কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কারো নিকট বিক্রয় করিলে উক্ত শরীক বা প্রতিবেশী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করিয়া উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করিতে পারেন। মুসিলম আইনে উক্তরূপ ক্রয় অধিকার কে হক শুফা বা শুফার অধিকার বলে।

মুসলিম আইনে নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ-শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির মাধ্যমে পথ ব্যবহার বা পানি নিষ্কাশনের অধিকারী ব্যক্তি।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করিলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারিবেন।শুফার অধিকার শুধুমাত্র বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে দাবি করা যায়, অন্য কোন ভাবে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাবি করা যায় না এবং খরিদ্দার যদি অমুসলিম হয় সেক্ষেত্রেওশুফার অধিকার দাবি করা যায় না।

• অগ্রক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা। যদি এই সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে পালন করা না হয়, তবে কোন ব্যক্তিই অগ্রক্রয়ের অধিকারী নয়। এই সকল আনুষ্ঠানিকতাগুলো হচ্ছে-

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।
৩৭৪.
পারিবারিক আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে অনধিক কত টাকা র্অথদণ্ড দেয়া যাবে?
  1. ২০০ টাকা
  2. ১০০ টাকা
  3. ৩০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩

ধারা ২৩- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা

(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।
৩৭৫.
Marz-ul-maut means-
  1. Gifts made during one's deathbed.
  2. A conditional gift.
  3. A long-standing disease.
  4. Either (A) or (B) or (C)
সঠিক উত্তর:
Gifts made during one's deathbed.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Gifts made during one's deathbed.
ব্যাখ্যা
⇒ Marz-ul-maut-
The concept of Marz-ul-Maut in Islam is actually a doctrine of death-bed gifts. The governing tenet of Muslim personal civil law is the Shariat. One of the provisions relates to Marz-ul-Maut (death bed Gifts). This can only be executed in case there is genuine apprehension that the testator will die.
৩৭৬.
মুসলিম ব্যক্তিগত আইনানুযায়ী মৃত্যুশয্যায় স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত তালাক ____।
  1. বৈধ
  2. স্ত্রীর সম্মতিতে কার্যকর
  3. অবৈধ
  4. মৃত্যু না হলে কার্যকর
সঠিক উত্তর:
বৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈধ
ব্যাখ্যা
তালাক: তালাক অর্থ হলো স্বামী কর্তৃক তার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে স্ত্রীকে প্রত্যাখ্যান করা। অন্যভাবে বলতে গেলে স্বামীর পক্ষ হতে বিবাহ-বিচ্ছেদ কার্যকর করা হলে তাকে তালাক বলা হয়। বয়ঃসন্ধিতে পদার্পণ করেছেন বা পূর্ণ যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছেন এমন সুস্থ মস্তিষ্কের যেকোন মুসলমান ব্যক্তি কোনরূপ কারণ না দর্শিয়ে ইচ্ছানুযায়ী নিজ স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে।
- তালাক মৌখিক বা লিখিত হতে পারে।
- স্ত্রীর অনুপস্থিতেও তালাক প্রদান করা যায়।

- মৃত্যুশয্যায় স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত তালাক বৈধ বলে গণ্য হবে এবং তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে; ইদ্দতকালে স্বামী মারা গেলেও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
৩৭৭.
সুন্নি মুসলিম আইনে বিবাহের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী না থাকলে বিবাহটি -
  1. বৈধ বিবাহ
  2. বাতিল বিবাহ
  3. অনিয়মিত বিবাহ
  4. মুত‘আ বিবাহ
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম সুন্নি পারিবারিক আইনে বিবাহের বৈধতা ও অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিবাহকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
১. বৈধ (সহিহ / Valid)
২. বাতিল (Void)
৩. অনিয়মিত (ফাসিদ / Irregular)

১. বৈধ বিবাহ (সহিহ / Valid)
-  এমন বিবাহ যেখানে সকল শর্ত পূরণ করা হয়েছে (যেমন: স্বাধীন সম্মতি, সাক্ষীর উপস্থিতি, মোহর নির্ধারণ ইত্যাদি)।
- এ ধরনের বিবাহ পূর্ণ আইনগত স্বীকৃতি পায় এবং এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব (যেমন দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি) সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: দু’জন মুসলিমের মধ্যে বা একজন মুসলিম পুরুষের সাথে একজন আহলে কিতাব (যেমন ইহুদি বা খ্রিস্টান) নারীর বিবাহ।
২. বাতিল বিবাহ (Void)
- এটি চিরতরে অবৈধ বিবাহ। আইনের মৌলিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে বিবাহটি বাতিল হয় (যেমন: রক্তের সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক বা দুধভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ)।
- এই বিবাহ কোনো আইনগত বৈধতা পায় না এবং এটিকে কখনোই সংশোধন করে বৈধ করা যায় না। এর কোনো আইনগত ফলাফল নেই (দেনমোহর, ভরণপোষণ বা উত্তরাধিকারের অধিকার সৃষ্টি হয় না) এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান অবৈধ বলে গণ্য হয়।
৩. অনিয়মিত বিবাহ (ফাসিদ / Irregular)
- এটি আপাতদৃষ্টিতে অবৈধ কিন্তু সংশোধনযোগ্য বিবাহ। কিছু অস্থায়ী বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে (যেমন: প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাক্ষীর অভাব, মোহর নির্ধারণ না করা, বিদ্বেষপূর্ণ অসাম্য ইত্যাদি) বিবাহটি অনিয়মিত হয়। ত্রুটি দূর করা গেলে (যেমন: সাক্ষী যোগ করা, মোহর নির্ধারণ করা) বিবাহটি বৈধ হয়ে যায় এবং তখন থেকে সব আইনগত ফলাফল প্রযোজ্য হয়।তবে ত্রুটি না দূর করা পর্যন্ত এটি অবৈধই থাকে।

উল্লেখ্য, মুত‘আ বিবাহ হলো এক ধরনের অস্থায়ী বা সাময়িক বিবাহ, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহরের বিনিময়ে নারী-পুরুষ বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সময়সীমা শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভঙ্গ হয়, তালাকের প্রয়োজন হয় না। সুন্নি ইসলামে মুত‘আ বিবাহ হারাম এবং কবীরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। শিয়া ইসলামে: বিশেষত ইরানের কিছু অঞ্চলে এখনো চুক্তিভিত্তিক মুত‘আ বিবাহ প্রচলিত আছে।

৩৭৮.
পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত ______________ পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
  4. খ বা গ
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ বা গ
ব্যাখ্যা

• পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এর ধারা ৪- পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।

(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।

(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।

৩৭৯.
'Areeat' শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত-
  1. দান
  2. বিক্রয়
  3. উইল
  4. ওয়াকফ
সঠিক উত্তর:
দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দান
ব্যাখ্যা
- আরিয়ত (Areeat): এর অর্থ সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর বুঝায় না বরং আরিয়ত হলো এমন ধরনের দান যেক্ষেত্রে দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল পর্যন্ত সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। আরিয়ত চাইলে রদ করা যায়।
অর্থাৎ আরিয়ত (Areeat) শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত হচ্ছে দান।

- দাতার ইচ্ছাধীন সময়কালে পুনঃপ্রবর্তনযোগ্য কোনো কিছু গ্রহণ ও তার আয় ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতিকে আরিয়ত (Areeat) বলে।
৩৮০.
‘তলব-ই-মৌসিবত’ বলতে কী বোঝায়?
  1. সাক্ষীর সামনে দাবী করা
  2. আদালতে মামলা করে দাবী প্রকাশ
  3. সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা
  4. বিক্রয় সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে দাবী প্রকাশ
সঠিক উত্তর:
বিক্রয় সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে দাবী প্রকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিক্রয় সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে দাবী প্রকাশ
ব্যাখ্যা
মুসলীম আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের দাবী উত্থাপনের পদ্ধতি:

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ) :
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে।এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। তলব-ই-ইশাদ ঘোষণা আকারে ও হতে পারে, লিখিত আকারেও হতে পারে। আবার মৌখিক আকারেও হতে পারে। ইতিপূর্বে প্রথম দাবী করা না হয়ে থাকলে তলব-ই-ইশাদ অকার্যকর হবে। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক) :
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।
৩৮১.
ইসতিদলাল বলতে কী বোঝায়?
  1. জনকল্যাণ
  2. ধর্মীয় অনুশীলন
  3. শরিয়া বাতিল করা
  4. যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
ব্যাখ্যা
’মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস। আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।
৩৮২.
নিম্নলিখিত কোন পরিস্থিতিতে উমরিয়াতান নীতি প্রযোজ্য নয়?
  1. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে
  2. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে
  3. পিতা ও সন্তান শুধু উত্তরাধিকারী হলে
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
পিতা ও সন্তান শুধু উত্তরাধিকারী হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা ও সন্তান শুধু উত্তরাধিকারী হলে
ব্যাখ্যা

Doctrine of Umariyatan (উমারিয়াতান নীতি):
উমারিয়াতান হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমারিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।

৩৮৩.
পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত একতরফা ডিক্রি বাতিলের জন্য কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১০(৬) অনুযায়ী,
- যদি কোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি প্রদান করা হয়, তাহলে তিনি ডিক্রি প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করে ডিক্রি বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- আবেদনকারীকে অবশ্যই আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে, তার অনুপস্থিতির যথার্থ কারণ ছিল (যেমন: অসুস্থতা, সমন না পাওয়া ইত্যাদি)।
আদালত প্রয়োজন মনে করলে শর্তসাপেক্ষে (যেমন: খরচ জমা দেওয়া) ডিক্রি বাতিল করতে পারবে।

উল্লেখ্য:
- Limitation Act, 1908 এর Section 5 অনুযায়ী, বিশেষ কারণে এই ৩০ দিনের মেয়াদ আদালত বাড়াতে পারে।
- তবে সাধারণত ৩০ দিনই স্ট্যান্ডার্ড সময়সীমা।
- একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন ডিক্রি প্রদানকারী আদালতেই করতে হয়।
- বাদীকে নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক (ধারা ১০(৬) এর শর্ত)।
অতএব, সঠিক উত্তর গ) ৩০ দিন।
৩৮৪.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুযায়ী, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা হতে পারে?
  1. ৩,০০০ টাকা
  2. ৫,০০০ টাকা
  3. ১০,০০০ টাকা
  4. ২০,০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
১০,০০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুসারে, যদি কোনো পুরুষ বিদ্যমান বিবাহ থাকা অবস্থায় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি ছাড়া নতুন বিবাহ করেন, তবে তিনি অনধিক ১ (এক) বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
- এছাড়া, এ ক্ষেত্রে তাকে তার বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ দেনমোহর (Prompt ও Deferred) অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুযায়ী জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ১০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩৮৫.
'ক' একজন মুসলিম হানাফী ব্যক্তি বাবা, স্ত্রী, দুই ভাই ও এক মেয়েকে রেখে মারা যান। এক্ষেত্রে তার সম্পত্তিতে ভাইরা কত অংশ পাবে?
  1. ৩/২৪ অংশ
  2. ৪/২৪ অংশ
  3. ৯/২৪ অংশ
  4. কোনো অংশ পাবে না
সঠিক উত্তর:
কোনো অংশ পাবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

• মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার:
উল্লিখিত প্রশ্নে,
⇒ স্ত্রী পাবে সম্পত্তির ১/৮ বা ৩/২৪ অংশ [যেহেতু সন্তান আছে];
⇒ মেয়ে পাবে সম্পত্তির ১/২ বা ১২/২৪ অংশ [যেহেতু একমাত্র কন্যা] এবং
⇒ বাবা অংশীদার হিসেবে ১/৬ বা ৪/২৪ অংশ [ যেহেতু মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান আছে];

মোট= ১/৮ + ১/২ + ১/৬ অংশ।
= ১৯/২৪ অংশ।

অবশিষ্ট= ১ - ১৯/২৪ অংশ
= ৫/২৪ অংশ।

[যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। এই ক্ষেত্রে কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই বাবা পাবেন।]

অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাবা বাকি ৫/২৪ অংশ পাবে।

উল্লেখ্য, বাবা জীবিত থাকায় এক্ষেত্রে ভাইয়েরা কোন সম্পত্তি পাবে না।

৩৮৬.
কোন পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম স্ত্রী আদালতে তালাক চাইতে পারবেন?
  1. স্বামী পাঁচ বছর কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলে
  2. তিন বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে
  3. দুই বছর স্বামী ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
দুই বছর স্বামী ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই বছর স্বামী ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে
ব্যাখ্যা

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৩৮৭.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী তালাকের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দেওয়ার পর কত দিন পর তালাক কার্যকর হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭(৩) এ বলা হয়েছে: “তালাক, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয় (স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে), তবে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ প্রদানের তারিখ থেকে নব্বই (৯০) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
অর্থাৎ স্বামী তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীর কাছেও একটি কপি পাঠাতে হবে।
- চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ (Arbitration Council) গঠন করবেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানো।
- তালাকের নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না। এই সময়টিকে এক ধরনের “Cooling-off Period” বা সমঝোতার সুযোগ বলা যায়।
- যদি স্ত্রী নোটিশ দেওয়ার সময় গর্ভবতী থাকেন, তবে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেও গর্ভকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারণ করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনোভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

৩৮৮.
"যা জনকল্যাণমূলক তাই গ্রাহ্য" এটি কীসের মূল বক্তব্য?
  1. ইসতিহসান [Istihsan]
  2. ইসতিসলাহ [Istislah]
  3. ইসতিদলাল
  4. ইজতিহাদ
সঠিক উত্তর:
ইসতিসলাহ [Istislah]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসতিসলাহ [Istislah]
ব্যাখ্যা
⇒ ইসতিসলাহ : ইমাম মালেকের মতে, যা জনকল্যাণমূলক তাই গ্রাহ্য; এটি ইসতিসলাহের মূল বক্তব্য। ইমাম মালেক এ নীতির প্রবর্তক এবং এ নীতিকেই ইসতিসলাহ বলা হয়।
 
তাঁর মতে এটি আইনের একটি উৎস। মালেকী মাযহাবের আইনবিজ্ঞানীদের অনেকের মতেই এ নীতি মোটেই জনপ্রিয় হয়নি। মালিকী মাযহাবের আইনবিজ্ঞানীদের অনেকের মতেই এ নীতি এতই অস্পষ্ট এবং অনির্দিষ্ট যে, এর ওপর ভিত্তি করে কোনো আইনগত সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। মালেকী মাযহাবের আইন-বিজ্ঞানীগণ কখনও এ উৎসের পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেননি।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ 

⇒  ইসলামিক শরীয়া আইনের মূল উৎস হল ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরীফ, যা মুসলমানদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৩৮৯.
The second important source of Islamic law is-
  1. Quran
  2. Qiyas
  3. Hadith.
  4. Ijma
সঠিক উত্তর:
Hadith.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hadith.
ব্যাখ্যা
⇒ Sunnah/Hadith as a source of law: Hadith is the second source of Islamic law. In some cases, it interprets the Qur'an, complements the Qur'an and lays down new principles and laws as well. There are mainly three types of Hadith, which include the words spoken by Prophet (sm), the works done by Prophet (sm) and the works to which the Prophet (sm) consented as valid.

⇒ Hadith has come to us through the chains of narration (sanad). Depending on the number and personal qualities of the narrators at different stages, hadith also have been graded in different categories like, mashhur, mutawatir, wahid, etc. Hadith, the narration of which could not be proved as completely reliable is known as 'weak' or 'dhaif Hadith.
৩৯০.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, দেনমোহরের ক্ষেত্রে আপিল দায়েরের জন্য ন্যূনতম কত টাকার ডিক্রি থাকা প্রয়োজন?
  1. ৪০ হাজার
  2. ৫০ হাজার
  3. ৭৫ হাজার
  4. ১ লক্ষ টাকা
সঠিক উত্তর:
৫০ হাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০ হাজার
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৯ ধারার বিধান: আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি: 
(১) পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল দায়ের করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাইবে না, যথা:-
(ক) Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 (Act No. VIII of 1939) এর section 2 এর clause (viii) এর sub-clause (d) তে বর্ণিত কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ; এবং
(খ) দেনমোহরের ক্ষেত্রে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকার ডিক্রি ।
(২) কোনো আপিল সংশ্লিষ্ট রায়, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে উহার নকল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, পারিবারিক আপিল আদালত উপযুক্ত কারণে উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(৩) যেকোনো আপিল-
(ক) লিখিত আকারে হইবে;
(খ) আপিলকারী যে কারণে রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরোধিতা করিতেছেন তাহার কারণ উল্লেখ করিতে হইবে;
(গ) পক্ষগণের নাম, বর্ণনা ও ঠিকানা উল্লেখ করিতে হইবে; এবং
(ঘ) আপিলকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।
(৪) আদালতের যে রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইয়াছে উহার একটি প্রত্যয়িত অনুলিপি আপিলের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে।
(৫) পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ, যথাশীঘ্র সম্ভব, পারিবারিক আদালতকে অবহিত করিতে হইবে এবং উক্ত আদালত তদনুসারে রায়, ডিক্রি বা আদেশ পরিবর্তন বা সংশোধন করিবে এবং ডিক্রি রেজিস্টারের যথাযথ কলামে সেই মর্মে প্রয়োজনীয় অন্তর্ভুক্তির কার্য সম্পাদন করিবে।
(৬) ধারা ১৮ অধীন জেলা জজ আদালত পারিবারিক আপিল আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন কোনো আপিল অতিরিক্ত জেলা জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ আদালত হইতে স্থানান্তরকৃত কোনো আপিল প্রত্যাহার করিতে পারিবে।

৩৯১.
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে-
  1. তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে
  2. ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের অধীন মামলা করতে পারবে না
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ধারা ৪ এ বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফল দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে-
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে উক্ত কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না। তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্ম গ্রহণের পর সেই নারী ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেন।
তাছাড়া, অত্র ধারার ব্যবস্থাবলী ঐ নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যে কোন ধর্ম হইতে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষা গ্রহণ করেছে।

Section 4: Effect of conversion to another faith
The renunciation of Islam by a married Muslim woman or her conversion to a faith other than Islam shall not by itself operate to dissolve her marriage: Provided that after such renunciation, or conversion, the woman shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any of the grounds mentioned in section 2: 
Provided further that the provisions of this section shall not apply to a woman converted to Islam from some other faith who re-embraces her former faith.
৩৯২.
"ইজতিহাদ" শব্দটির আভিধানিক অর্থ কী?
  1. আনুগত্য করা
  2. আইন প্রণয়ন করা
  3. কুরআনের ব্যাখ্যা করা 
  4. পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে চেষ্টা করা
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে চেষ্টা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে চেষ্টা করা
ব্যাখ্যা

⇒ "ইজতিহাদ" শব্দটি আরবি মূল "জেহেদা (جهد)" থেকে উদ্ভূত, যার আভিধানিক অর্থ হলো "পূর্ণ প্রচেষ্টা বা কঠোর পরিশ্রম করা।" আল্লামা আব্দুল আলীম সিদ্দিকীর লেখা অনুসারে, এটি ইসলামী আইনের পরিভাষায় বোঝায় কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ভিন্ন ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যার মধ্যে সঠিকটি নির্বাচন করার চেষ্টা এবং নতুন পরিস্থিতির জন্য নতুন রায় প্রণয়নের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় একজন মুজতাহিদ কুরআন, হাদিস, এবং অন্যান্য ইসলামী বিজ্ঞানের গভীর জ্ঞানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) আনুগত্য করা: এটি তাকলিদের ধারণার সাথে সম্পর্কিত, যা ইজতিহাদের বিপরীত। তাকলিদ মানে কোনো ইমাম বা আইনি কর্তৃপক্ষের অনুসরণ করা, যেখানে ইজতিহাদ স্বাধীনভাবে চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া।
খ) আইন প্রণয়ন করা: ইজতিহাদ আইন প্রণয়ন নয়, বরং বিদ্যমান কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আইনের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ। নতুন আইন তৈরি করা ইসলামী শরিয়াহর পরিপন্থী।
গ) কুরআনের ব্যাখ্যা করা: ইজতিহাদ শুধু কুরআনের ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি কুরআন, হাদিস এবং অন্যান্য ইসলামী বিজ্ঞানের সমন্বয়ে নতুন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া।

অর্থাৎ "ইজতিহাদ" এর আভিধানিক অর্থ হলো "পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে চেষ্টা করা," যা ইসলামী আইনের প্রেক্ষাপটে গভীর জ্ঞান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে নির্দেশ করে।

[The word 'Ijtihad' has been derived from the root JHD, and literally means "striving with full exertion." In Islamic legal terminology, it denotes an attempt to choose, in the light of the Qur'an and the Sunnah, between two or more differing legal interpretations and to deduce, from the Qur'an and the Sunnah, any new rulings in order to address new legal situations. One who performs "Ijtihad" is called "Mujtahid"]

তথ্যসূত্র: IJTIHAD AND MUJTAHID by Allama Abdul Aleem Siddiqui. [লিঙ্ক]

৩৯৩.
Doctrine of Cy-près প্রয়োগের শর্ত কী?
  1. রাষ্ট্র ওয়াকফের আয় ব্যবহার করতে চাইলে
  2. ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতা মৃত্যুর আগে নির্দেশ না দিলে
  3. ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন সম্পত্তি প্রয়োজন হলে
  4. ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জন সম্ভব না হলে
সঠিক উত্তর:
ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জন সম্ভব না হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জন সম্ভব না হলে
ব্যাখ্যা

Doctrine of Cy-pres শব্দটি ফরাসি থেকে এসেছে, যার অর্থ "as near as possible"। এটি ইসলামী আইন এবং বিশেষত ওয়াকফের (Waqf) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুসলিম আইনে এই নীতি ব্যবহৃত হয় যখন ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্দেশ্য কোনো কারণে অর্জন করা সম্ভব হয় না। তখন সেই উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শরিয়াহ সম্মত একটি বিকল্প উদ্দেশ্য পূরণ করা হয়।

Doctrine of Cy-pres-এর মূল বৈশিষ্ট্য
মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে নিকটবর্তী উদ্দেশ্য:
ওয়াকফের উদ্দেশ্য যদি কার্যকর করা সম্ভব না হয়, তবে এই নীতির মাধ্যমে ওয়াকফের আয়ের ব্যবহার এমন কোনো উদ্দেশ্যে করা হয় যা মূল উদ্দেশ্যের খুব কাছাকাছি।

শরিয়াহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
বিকল্প উদ্দেশ্য অবশ্যই ইসলামী শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী হতে হবে। কোনো অশরিয়াহ কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

নিরপেক্ষ এবং সুবিবেচনা:
এই নীতির প্রয়োগ তখনই হয় যখন ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতার ইচ্ছা পূরণ করা পুরোপুরি সম্ভব নয় এবং সেই ইচ্ছার পরিবর্তে অন্য একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প খুঁজে বের করতে হয়।

৩৯৪.
A testator-
  1. Cannot revoke a bequest.
  2. Can revoke a bequest either expressly or impliedly.
  3. Can revoke a bequest expressly only.
  4. Can revoke a bequest impliedly.
সঠিক উত্তর:
Can revoke a bequest either expressly or impliedly.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Can revoke a bequest either expressly or impliedly.
ব্যাখ্যা
⇒ All Will can be revoked, either impliedly or expressly, either by conduct or by a specific document. By conduct, the Will can be presented to be revoked by the testator. A testator Can revoke a bequest either expressly or impliedly.

⇒ For example , a testator may make bequest of property in his Will to a person, but he may dispose of the said property even during his life time.

⇒ This is called implied revocation. Suppose, the testator makes a bequest of a vacant land in his Will, but subsequently the testator himself constructs a dwelling house therein, in such circumstance, the Will can be deemed to have been expressly revoked by the testator.

⇒ It has been experienced that when there is a Will, painful litigation in the family of the testator is prevented. Only in a very few cases, litigation crops up questioning the genuineness of the Will.
৩৯৫.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে তালাকের পর কত দিন পর তা কার্যকর হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, তালাকের পর ৯০ দিন পর তা কার্যকর হবে।
- এটি ধারা ৭ (তালাক) এর অধীনে বলা হয়েছে যে, একজন পুরুষ যদি তার স্ত্রীর প্রতি তালাক প্রদান করেন, তবে তালাকের ঘোষণার পর ৯০ দিন পর্যন্ত তা কার্যকর হবে না, যদি না স্ত্রীর গর্ভাবস্থা থাকে। যদি স্ত্রীর গর্ভাবস্থা থাকে, তবে তালাক কার্যকর হবে গর্ভাবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭(৩) অনুযায়ী:
- কোনো স্বামী তালাক দিলে তালাক কার্যকর হতে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
- এই সময়ের মধ্যে আরবিট্রেশন কাউন্সিল (চেয়ারম্যান ও উভয় পক্ষের প্রতিনিধি) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলনের চেষ্টা করবে।
- ৯০ দিন পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয় (যদি মধ্যবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার না করা হয়)।
- নোটিশ বাধ্যতামূলক: স্বামীকে তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে দিতে হবে (ধারা ৭(১))।
- জরিমানা: নোটিশ না দিলে ১ বছর কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ৭(২))।
- গর্ভবতী স্ত্রীর ক্ষেত্রে: গর্ভাবস্থা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না (ধারা ৭(৫))।
অতএব, সঠিক উত্তর গ) ৯০ দিন।
৩৯৬.
Musha Doctrine কোন ধরনের Hiba-তে প্রযোজ্য?
  1. Hiba-bil-Iwaz
  2. Hiba-bil-will
  3. Hiba-ba-Shartul-Iwaz
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Hiba-ba-Shartul-Iwaz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hiba-ba-Shartul-Iwaz
ব্যাখ্যা

⇒ Musha Doctrine (মুশা নীতি) মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রযোজ্য, যা অবিভক্ত সম্পত্তির (undivided share) হিবা বা দানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই নীতি অনুসারে, অবিভক্ত সম্পত্তির একটি অংশ দান করা সাধারণত অবৈধ, যদি না সম্পত্তিটি ভাগ করা যায় এবং দখল হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। Hiba-ba-Shartul-Iwaz একটি হিবা হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে দখল হস্তান্তর প্রয়োজন এবং Musha Doctrine প্রযোজ্য।
অন্যদিকে, Hiba-bil-Iwaz বিক্রয় বা বিনিময় হিসেবে গণ্য হয়, তাই এতে Musha Doctrine প্রযোজ্য নয়। Hiba-bil-will বলে কোনো স্বীকৃত Hiba এর শ্রেণি নেই।

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) Hiba-bil-Iwaz: এটি ভুল, কারণ Hiba-bil-Iwaz বিক্রয় বা বিনিময় হিসেবে গণ্য হয় এবং Musha Doctrine এর প্রযোজ্যতা নেই।
খ) Hiba-bil-will: এটি ভুল, কারণ Hiba-bil-will বলে কোনো স্বীকৃত Hiba ধরন মুসলিম আইনে নেই।
গ) Hiba-ba-Shartul-Iwaz: এটি সঠিক, কারণ এটি হিবা হিসেবে গণ্য এবং Musha Doctrine প্রযোজ্য।
ঘ) কোনোটিই নয়: এটি ভুল, কারণ Hiba-ba-Shartul-Iwaz এর ক্ষেত্রে Musha Doctrine প্রযোজ্য।

অর্থাৎ Musha Doctrine Hiba-ba-Shartul-Iwaz এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) Hiba-ba-Shartul-Iwaz।

৩৯৭.
Under Muslim law, what is the status of a gift made to an unborn person?
  1. Valid
  2. Void
  3. Voidable
  4. None of these
সঠিক উত্তর:
Void
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Void
ব্যাখ্যা
• দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় 'হেবা' নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

দান বৈধ হওয়ার শর্তাবলি:
- দাতাকে সম্পূর্ণ অধিকার ও সক্ষমতার মালিক হতে হবে।
- গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত এবং বিদ্যমান (in existence) হতে হবে।
- সম্পত্তি অবশ্যই বিদ্যমান, চিহ্নিত এবং হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে।
- দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে একটি স্পষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে এবং গ্রহীতা তা গ্রহণ করতে হবে।
- সম্পত্তির দখল প্রকৃতভাবে গ্রহীতার কাছে স্থানান্তর করতে হবে।

ইসলামী আইনের শর্ত অনুযায়ী,
গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত থাকতে হবে। অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তাকে কিছু প্রদান করা সম্ভব নয়। যেহেতু অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তার পক্ষে দখল গ্রহণ বা তা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। অনাগত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে কোনো অধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। একারণে ইসলামী আইনে অনাগত ব্যক্তিকে দেওয়া উপহার বাতিল (void) হিসেবে গণ্য হয়। এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি বৈধতা নেই।
৩৯৮.
কোনো মুসলিম লোকের যদি একাধিক স্ত্রী থাকে এবং কোনো সন্তান না থাকে, তবে তার মৃত্যুর পর স্ত্রীরা সম্পত্তির কত অংশ পাবেন?
  1. প্রত্যেকে এক-চতুর্থাংশ
  2. সবাই মিলে এক-চতুর্থাংশ
  3. প্রত্যেকে এক-অষ্টমাংশ
  4. সবাই মিলে এক-অষ্টমাংশ
সঠিক উত্তর:
সবাই মিলে এক-চতুর্থাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবাই মিলে এক-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা

মুসলিম স্ত্রীর অংশ:
বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা। এ ছয়জনকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না বলে এদেরকে বলা হয় প্রাথমিক বা মৌলিক উত্তরাধিকারী। আর এ ছয় জনের মধ্যে স্ত্রী একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

কোন মুসলিম নারীর স্বামীর মৃত্যু হলে, আর তাদের কোনো সন্তান না থাকলে, তিনি তার স্বামীর সমুদয় সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পাবেন। যদি এক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী থাকেন তাহলে সবাই মিলেই এক চতুর্থাংশ বা ১/৪ অংশ পাবেন। আর যদি তাদের সন্তান থাকে তাহলে স্ত্রী পাবেন এক-অষ্টমাংশ (১/৮ অংশ বা আট ভাগের এক ভাগ)। এক্ষেত্রেও যদি একাধিক স্ত্রী থাকেন, তাহলে প্রত্যেকে মিলেই এক অষ্টমাংশ পাবেন, এর বেশি নয়।

৩৯৯.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তান যদি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ দিতে ব্যর্থ হন, তবে অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বাধিক কারাদণ্ড কী হতে পারে?
  1. ২ মাসের কারাদণ্ড
  2. ৩ মাসের কারাদণ্ড
  3. ৪ মাসের কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
৩ মাসের কারাদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা ৫(১) অনুসারে, যদি কোনো সন্তান এই আইনের অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সে অনূর্ধ্ব ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ড হতে পারে।

অর্থাৎ: প্রথম শাস্তি: অর্থদণ্ড (সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা)।
অর্থদণ্ড না দিলে বিকল্প শাস্তি: কারাদণ্ড (সর্বোচ্চ ৩ মাস)।
সুতরাং, এই আইনে সর্বাধিক কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ মাস।

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা-৫: পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করিবার দণ্ড:
(১) কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে। 
(২) কোন সন্তানের স্ত্রী, বা ক্ষেত্রমত, স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোন নিকট আত্নীয় ব্যক্তি— 
 (ক) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধা প্রদান করিলে; বা 
(খ) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে অসহযোগিতা করিলে— 
 তিনি উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করিয়াছে গণ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

৪০০.
'ক', একজন হানাফি মুসলিম, তাঁর পিতা, এক ছেলে ও এক আপন বোন রেখে মারা যান। মৃত্যুর আগে বোন বরাবর সমুদয় সম্পত্তির ১/৩ অংশ উইল করে যান। কিন্তু ছেলে এই উইলে সম্মতি দেয়নি। এক্ষেত্রে-
  1. উইলটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে
  2. উইলটি সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হবে
  3. ছেলের অংশ বাদ দিয়ে বাকি অংশের ১/৩ অংশ কার্যকর হবে
  4. উইলের সম্পত্তি পিতার অংশ থেকে দেওয়া হবে
সঠিক উত্তর:
উইলটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে
ব্যাখ্যা
• কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।
আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চুড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

- উইলকারী মৃত্যুর আগে চাইলে উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।

- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিযোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না। অর্থাৎ সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে।

এক্ষেত্রে, সম্মতি লাগবে না এবং উইলটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে।