বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

মোট প্রশ্ন১,০৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৭০১৮০০ / ১,০৩৯

৭০১.
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।। - পদটি রচয়িতা কে?
  1. সরহপা
  2. মহীধরপা
  3. ভাদেপা
  4. ডোম্বীপা
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
ব্যাখ্যা
• এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে। 
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।
(অর্থাৎ এতকাল আমি স্বমোহে ছিলাম, এখন সদগুরু বুঝলাম । ) - পদটি রচয়িতা- ভাদেপা
- এটি চর্যাপদের ৩৫ নম্বর পদ।

ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো।
- তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০২.
নিচের কোন লেখক চর্যার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. শশীভূষণ দাশ গুপ্ত
  3. মণীন্দ্রমোহন বসু
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
মণীন্দ্রমোহন বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণীন্দ্রমোহন বসু
ব্যাখ্যা
- 'আমার করুণা-নৌকা সোনায় ভর্তি রয়েছে; তাতে রূপা রাখার ঠাঁই নেই। ওরে কম্বলি পা, গগনের (নির্বাণের) উদ্দেশ্যে তুমি বেয়ে চলো; যে জন্ম গেছে সে ফিরবে কি করে? (নৌকা বাইতে গিয়ে) খুঁটি উপড়ে ফেলো, কাছি মেলে দাও। সদগুরুকে জিজ্ঞেস করো, হে কম্বলি পা, তুমি বেয়ে যাও। পথে বেরিয়ে চারদিকে চেয়ে এগিয়ো; কেড়ুয়াল ছাড়া কেউ কি বাইতে পারে? বাম-ডানে চেপে পথ বেয়ে গেলে ঐ পথেই মহাসুখের সঙ্গে মিলে যাবে।'

• মণীন্দ্রমোহন বসু এই চর্যার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ৫১ টি পদের মধ্যে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০৩.
“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই।।” — এটি চর্যাপদের কত নম্বর পদ? 
  1. ২নং
  2. ৪৮নং
  3. ২০নং
  4. ৪৬নং
সঠিক উত্তর:
২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং
ব্যাখ্যা

কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কুক্কুরীপা রচিত পদ:
“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।” - চর্যাপদের ২নং পদ।
- এর অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭০৪.
তারানাথের মতে, চর্যার কোন কবি বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন?
  1. ডোম্বীপা
  2. শান্তিপা
  3. লুইপা
  4. কঙ্কণপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা
• লুইপা:
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না।
- লুইপা বাঙালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি প্রথম জীবনে উদ্যানের (সোয়াতের) রাজার কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ।
- তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল।
- সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম 'অভিসময়বিভঙ্গ।'
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭০৫.
চর্যাপদের কোন কবি পাপ ও পূণ্যকে দুটি শিকলের সাথে তুলনা করে তা ছিন্ন করে মহারস পান করার কথা বলেছেন?
  1. ক) সরহপা
  2. খ) শবরপা
  3. গ) কাহ্নপা
  4. ঘ) মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহীধরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহীধরপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ১৬ নং পদ রচয়িতা হলেন মহীধরপা।
তিনি ছিলেন মগধ অঞ্চলের।
১৬ নং পদে পাপ ও পূণ্যকে দুটি শিকলের সাথে তুলনা করে তা ছিন্ন করে মহারস পান করার কথা বলা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭০৬.
ডোম্বীপা'র ১৪নং পদে নারীদের কী ধরনের কাজের কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. কৃষিকাজ
  2. নৌকা চালনা
  3. শিক্ষাদান
  4. গৃহস্থালি কাজ
সঠিক উত্তর:
নৌকা চালনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকা চালনা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে যুগে নারীদের স্থান ও ভূমিকা:

- চর্যাপদের যুগে নারীরা খুবই স্বাধীন ছিল। তারা স্বেচ্ছায় পেশা ও সঙ্গী নির্বাচনের অধিকার রাখত।

- কুক্কুরীপা একটি পদে (২নং) লিখেছেন, গৃহবধূটি বেশ ছল জানে। সে দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনেই ভয় পায়, কিন্তু রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।

- কাহ্নপা একটি পদে (১০নং) জানিয়েছেন, এক ডোমিনী নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে।

- কাহ্নপার অন্য একটি পদে (১৮নং) ডোমনীর 'ছিনালী' করার কথা আছে।

• ডোম্বীপাদের ১৪নং পদে,
নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাছাড়া নারীরা গুরুর স্থানও অধিকার করেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০৭.
'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে? 
  1. ২২ জন 
  2. ২৩ জন 
  3. ২৪ জন 
  4. ২৫ জন 
সঠিক উত্তর:
২৩ জন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জন 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭০৮.
চর্যাপদের কোন কবির রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. ক) শান্তিপা
  2. খ) সরহপা
  3. গ) ডোম্বীপা
  4. ঘ) কম্বলারপা
সঠিক উত্তর:
গ) ডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

ডোম্বীপা ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন বলে মনে করা হয়।
পরে তিনি বিভিন্ন দেশ পরিভ্রমণ করেন।
তার গুরু ছিলেন বিরুপা।
তিনি ১৪ নং পদ রচনা করেন।
তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।
কড়ি ছাড়াই এখানে নদী পার হওয়া যেত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭০৯.
“হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” গ্রন্থে কয়টি পুঁথি একত্রে সংকলিত হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 
 
• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭১০.
চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
  1. ক) ব্রজবুলি
  2. খ) মৈথিলী
  3. গ) আলালী ভাষা
  4. ঘ) সন্ধ্যা ভাষা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্ধ্যা ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্ধ্যা ভাষা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন। 
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো-আঁধারি ভাষা, কতক আল কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' -এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭১১.
নিচের কোন চর্যাকার বাঙালি কবি হিসেবে পরিচিত নন?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
সরহপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরহপা
ব্যাখ্যা
• সরহ পা: 
- সরহ পা ছিলেন ব্রাহ্মণ।
- তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী ।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা।
- তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

অন্যদিকে,
• শবর পা ছিলেন বাঙালি এবং তিনি ছিলেন ব্যাধ।
• ভুসুকুপা- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ অনুমান করে বলেছেন তিনি পূর্ববঙ্গের। তাঁর পদসমূহে বাঙালি জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।
• লুইপা- বাঙালি বলে অনুমিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম। 
৭১২.
প্রথম পদ ছাড়া লুইপা চর্যাপদের আর কত নং পদ রচনা করেছেন?
  1. ১৮নং
  2. ২৯নং
  3. ৩২নং
  4. ৩৮নং
সঠিক উত্তর:
২৯নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯নং
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের প্রথম পদটি লুইপার।
- সে হিসেবে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি লুই পা।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন
- পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১৩.
চর্যাপদের কোন কবি ত্রিপুরা’র রাজা ছিলেন?
  1. ভুসুকুপা
  2. সরহপা
  3. ডোম্বীপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা।
- তার গুরু ছিলেন বিরুপা।
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭১৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ভুসুকুপা কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. ৬ষ্ঠ শতক
  2. ৭ম শতক
  3. ৯ম শতক
  4. ১১শ শতক
সঠিক উত্তর:
৭ম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম শতক
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭১৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মতে বাংলাদেশের লোক ছিলেন -
  1. কঙ্কণপা
  2. কুক্কুরী পা
  3. আর্যদেবপা
  4. মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরী পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরী পা
ব্যাখ্যা
কুক্কুরী পা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মতে, কুকুরী পা বাংলাদেশের লোক। তিনি ইন্দ্রভূতির অন্যতম গুরু।
- তিনি আট শতকের প্রথম পাদে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে, কুকুরী পা দেবপালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন।
- জীবৎকালের উচ্চতম সীমা ৮৪০ সাল। তাঁর জন্মস্থান কপিলাবস্তু। তাঁর জন্ম হয়েছিল ব্রাহ্মণ বংশে। তিনি ছিলেন অন্যতম সিদ্ধা।
- তারানাথের মতে একটি কুকুরী সর্বদা সঙ্গে রাখতেন বলেই এই সিদ্ধা কুকুরী পা নামে পরিচিত হয়েছিলেন।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙক্তি হলো:
“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।” - চর্যাপদের ২নং পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১৬.
ডাক ও খনার বচন কোন যুগের সাহিত্য?
  1. অন্ধকার যুগের
  2. আধুনিক যুগের
  3. প্রাচীন যুগের
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগের
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ড. দীনেশ্চন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনাকাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেন। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ এর কতকগুলোকে বৌদ্ধযুগের রচনা বলে মনে করেন। 
- ড. নীহাররঞ্জন রায় এগুলোকে প্রাক তুর্কি আমলের রচনা বলে মনে করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭১৭.
চর্যাপদের কোন কবির কোনো পদ পাওয়া যায়নি?
  1. তন্ত্রীপা
  2. বীণাপা
  3. ধর্মপা
  4. মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
তন্ত্রীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তন্ত্রীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে তন্ত্রীপা রচিত ২৫ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
 
তন্ত্রীপা:
- তন্ত্রীপা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ তাঁর বাংলা সাহিত্যের কথা'য় (১৯৬৩) তন্ত্রীপা সম্পর্কে এক বাক্যে লিখেছেন: 'তন্ত্রীপা পদটি বৌদ্ধগানের খণ্ডিত অংশ থাকায় তাহা আমরা পাই নাই।
- তিনি buddist Mystic Songs' গ্রন্থে লিখেছেন এইটুকু: 
- Tantripa is the author of the song no. 25. He was a disciple of jalandharia and afterwards of Kanhapa. In the ms. he is missing.

অন্যদিকে,
- ধর্মপা রচিত পদ - ৪৭ং পদ।
- বীণাপা রচিত পদ -১৭ং পদ।
- মহীধরপা রচিত পদ - ১৬ং পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১৮.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যে প্রাচীন যুগের সূচনা ঘটে কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
• মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
• আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।
- মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১৯.
চর্যাপদের ভাষায় কোন ভাষার প্রভাব রয়ে গেছে?
  1. অর্ধ-মাগধী অপভ্রংশ
  2. গৌড় অপভ্রংশ
  3. শৌরসেনী অপভ্রংশ
  4. মাগধী অপভ্রংশ
সঠিক উত্তর:
গৌড় অপভ্রংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড় অপভ্রংশ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষা:
- চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা বলে তখনকার ভাষার প্রাচীনত্বের দরুন গৌড় অপভ্রংশের প্রভাব এতে রয়ে গেছে
- ফলে কেউ কেউ অপভ্রংশ, প্রাচীন হিন্দি, মৈথিলি, উড়িয়া বা আসামি ভাষা বলে দাবি করেন। একই গোষ্ঠীজাত বলে এ সব নব্য ভারতীয় আর্যভাষার সঙ্গে চর্যাপদের ভাষার মিল আছে।
- চর্যাকারেরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে সকলের ভাষা একরূপ হতে পারে না। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আর্যদেবের ভাষা উড়িয়া, শান্তি পাদের ভাষা মৈথিলি এবং কাহ্ন সরহ ভুসুকু প্রমুখের ভাষা প্রাচীন বাংলা বঙ্গকামরূপী বলে সিদ্ধান্ত করেছেন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে ধ্বনিতত্ত্ব ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত করেছেন যে, চর্যার পদসংকলনটি আদিতম বাংলা ভাষায় রচিত।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ড. সুকুমার সেন ও ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী মনে করেন চর্যাপদ বার শতকের মধ্যে রচিত হয়েছিল। এ সময় পর্যন্ত বাংলা ভাষা তার স্বকীয় মর্যাদা লাভ করেনি। তের শতকের পরে উড়িয়া ভাষা এবং ষোল শতকের পরে আসামি ভাষা বাংলা ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭২০.
চর্যার ২৩নং খণ্ডিত পদের কয়টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
  5. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা
র্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২১.
প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে প্রত্যেক অধ্যায়ের শুরুতে নির্দিষ্ট সুর-তাল-লয় বিশিষ্ট একটি পদ থাকত। সেটিকে কি বলা হয়?
  1. ক) ধূয়া
  2. খ) টীকা
  3. গ) ছন্দ
  4. ঘ) বৃত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) ধূয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধূয়া
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে প্রত্যেক অধ্যায়ের শুরুতে যে নির্দিষ্ট সুর-তাল-লয় বিশিষ্ট একটি পদ থাকত, সেটিকে কি বলা হয় ধূয়া।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৭২২.
প্রাচীন যুগের সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য কি?
  1. ক) আত্মচেতনা
  2. খ) জাতীয়তাবোধ
  3. গ) গোষ্ঠীকেন্দ্রিকতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) গোষ্ঠীকেন্দ্রিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোষ্ঠীকেন্দ্রিকতা
ব্যাখ্যা
প্রাচীন যুগের সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য গোষ্ঠীকেন্দ্রিকতা ও ধর্মনির্ভরতা। মধ্যযুগের কাব্যের প্রধান গুন ধর্ম নির্ভরতা এবং আধুনিক যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য মানবের জয়জয়কার এবং আধুনিক যুগের প্রধান লক্ষণ- আত্মচেতনা জাতীয়তাবোধ। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৩.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' এটি চর্যার কত নং পদ?
  1. ৩৩নং 
  2. ৪৩নং 
  3. ২৩নং 
  4. ৩৬নং 
সঠিক উত্তর:
৩৩নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩নং 
ব্যাখ্যা

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেগুণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা চর্যাকার ঢেগুণপা।

অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৭২৪.
চর্যাপদের কাকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয়?
  1. লুইপা 
  2. ভুসুকুপা 
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা 
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• 'কাহ্নপা':
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদরচয়িতার গৌরবের অধিকারী কাহ্ন পাদ। তাঁর তেরটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে। এই সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে তাঁকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।

- কানু পা কৃষ্ণপাদ ইত্যাদি নামেও তিনি পরিচিত । বিভিন্ন পদে কাহ্ন, কাহ্নু, কাহ্নু, কাহ্, কাহ্নি, কাহ্নিলা, কাহিল প্রভৃতি ভণিতা লক্ষ করা যায়। - খ্রিস্টিয় অষ্টম শতকে কানু পার আবির্ভাব হয়েছিল বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন। কানু পার বাড়ি ছিল উড়িষ্যায়, তিনি সোমপুর বিহারে বাস করতেন।

- রাহুল সংকৃত্যায়ন কাহ্ন পা বা কৃষ্ণ পাদ বা কৃষ্ণাচার্য পাদ বা কৃষ্ণবজ্র পাদকে অভিন্ন ব্যক্তি মনে করেন। তিনি দেব পালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন। তাঁর জীবৎকালের ঊর্ধ্বসীমা ৮৪০ সাল সিদ্ধ।

- তিনি পণ্ডিত-ভিক্ষু নামে খ্যাত ছিলেন। চর্যাপদ ছাড়াও তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। বিষয়বস্তুর বিচারে কাহ্ন পা সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের যোগী ছিলেন বলে অনুমিত হয়। ড সুকুমার সেনের মতে, 'কাহ্নপা চর্যাগীতির রচনারীতিতে অস্পষ্টতা নাই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৭২৫.
'দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।' বাক্যে 'কাউহি' শব্দের অর্থ কী?
  1. শাশুড়ি
  2. কুম্ভীর
  3. দারিদ্য
  4. কাক
সঠিক উত্তর:
কাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাক
ব্যাখ্যা

• "দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- চর্যাপদের ২নং পদ।

• এর বাংলা অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

বাক্যে ব্যবহৃত শব্দের অর্থ:
'দিবসহি' অর্থ: দিনে। দিবস + হি।
'বহুড়ী' অর্থ: বধূটিকা > বধূটি > বহুড়ি।
'কাউহি' অর্থ: কাক থেকে। কাক > কাঅ, কাউ+ হি।
'ভাই' অর্থ: ভীত হয়। ভাবযতি > ভাঅই > ভাই।
'কামরু' অর্থ: কামরূপ > কামরু।
'ভইলে' অর্থ: ভূত + ইল্ল > ভইল + এ।
'জাই' অর্থ: যায়। যাই > জাই।

--------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল]।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুক্কুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

৭২৬.
চর্যাপদের পদগুলো মূলত একধরনের-
  1. ক) ছড়া
  2. খ) প্রাচীন মন্ত্র
  3. গ) গান
  4. ঘ) ধাঁধা
সঠিক উত্তর:
গ) গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গান
ব্যাখ্যা
•চর্যাপদের পদগুলো কে মূলত এক ধরণের গান হিসেবে পন্ডিতগণ আখ্যায়িত করেছেন।
- এই গানগুলো সাধারণত বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধনসংগীত হিসেবে বিবেচিত হতো।
- চর্যাতে মোট একান্নটি গান ছিল,তারমধ্যে ১১ নং পদটি টীকাকার কর্তৃক ব্যাখ্যা করা হয়নি।

•আবার
- পুঁথির কয়েকটি পাতা নষ্ট হওয়ায় তিনটি সম্পূর্ণ (২৪,২৫, ও ৪৮ সংখ্যক) পদ এবং ২৩ সংখ্যক পদের শেষাংশ পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিটির লিপিকাল ১২ বা ১৪ থেকে ১৬শতকের মধ্যে বলে অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৭২৭.
চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা কে?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা। তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন। ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৮.
অনুদ্ধারকৃত পদের মধ্যে কোনটি তন্ত্রীপা রচিত?
  1. ২৩নং 
  2. ২৪নং  
  3. ২৫নং
  4. ৪৮নং 
সঠিক উত্তর:
২৫নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫নং
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্ৰ। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার
করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭২৯.
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।"- পদটির রচয়িতা কে?
  1. দারিকপা
  2. শবরপা
  3. তন্ত্রীপা
  4. আর্যদেবপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
• শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

• 'শবরপা' রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি - 
 "উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

• আধুনিক বাংলায় রূপান্তর:
উঁচু পর্বতে শবরী বালিকা বাস করে।
তার পরিধানে ময়ূরের পুচ্ছ, গলায় গুঞ্জার মালা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই।
৭৩০.
"ডাক ও খনার বচন" কোন যুগের সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত?
  1. আধুনিক যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. প্রাচীন যুগ
  4. অন্ধকার যুগ 
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) প্রাচীন যুগ।

• ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- বিষয় হিসেবে ডাক ও খনার বচন পুরানো এবং ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ছড়া জাতীয় এসব রচনায় এদেশের আবহাওয়া ও কৃষি সম্পর্কিত বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতার রূপায়ণ ঘটেছে।
- এসবের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে নীতিকথা ও বহুদর্শী উপদেশ।
- ডাক নামে কোন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন কিনা জানা যায় নি।
- সাধারণত প্রাচীন আমলের এক শ্রেণির বৌদ্ধতান্ত্রিক সাধককে ডাক বলা হত।
- প্রাচীন যুগের ফলিত জ্যোতিষ ও কৃষি-বিষয়ক অভিজ্ঞতা এসব বচনের মধ্যে ছড়ার আকারে প্রচলিত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসছে।
- উড়িষ্যা অঞ্চলেও কিছু ডাকের বচন রচিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।

৭৩১.
চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কে আলোচনা করেছেন?
  1. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মুনিদত্ত
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে প্রথম আলোচনা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯২৭ সাল)।
- বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ তাঁদের ধর্মীয় রীতিনীতির নিগূঢ় রহস্য চর্যাপদের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।
- চর্যাপদের মাধ্যমে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা গোপন তত্ত্বদর্শন ও ধর্মচর্চাকে বাহ্যিক প্রতীকের সাহায্যে ব্যক্ত করেছেন।
- বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখা কালক্রমে যেসব উপশাখায় বিভক্ত হয়েছিল তারই বজ্রযানের সাধারণ প্রণালি ও তত্ত্ব চর্যাপদে বিধৃত।
- মহাসুখরূপ নির্বাণলাভ'ই হলো চর্যার প্রধান সাধনাতত্ত্ব বা ধর্মমত।

• চর্যাপদের প্রধান আলোচকগণ:

- চর্যাপদের আবিষ্কারক ও সম্পাদনা ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭ সাল)
- চর্যাপদের ভাষা নিয়ে প্রথম আলোচনা বিজয়চন্দ্র মজুমদার (১৯২০ সাল)
- চর্যাপদের ভাষা বাংলা এটা নিয়ে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও প্রমান উপস্থাপন ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৯২৬ সাল)
- চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ - কীর্তিচন্দ্র
- চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী (১৯৩৮ সাল)
- চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৪২ সাল)
- চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ- ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৪৬ সাল)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৩২.
চর্যাপদের অনুদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা কয়টি?
  1. সাড়ে তিনটি
  2. দুইটি
  3. সাড়ে চারটি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাড়ে তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়ে তিনটি
ব্যাখ্যা
⇒ চর্যাপদ: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।

• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 

• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। 
প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায় নি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭৩৩.
গৃহবধূর দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনে ভয় পাওয়ার উল্লেখ রয়েছে, কুক্কুরীপা রচিত কোন পদে?
  1. ১৪নং
  2. ২নং
  3. ৩৩নং
  4. ১০নং
সঠিক উত্তর:
২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং
ব্যাখ্যা
• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙ্‌ক্তি হলো:

“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।” - চর্যাপদের ২নং পদ।

• কুক্কুরীপা একটি পদে (২নং) লিখেছেন, গৃহবধূটি বেশ ছল জানে। সে দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনেই ভয় পায়, কিন্তু রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।

অন্যদিকে,
• কাহ্নপা একটি পদে (১০নং) জানিয়েছেন, এক ডোমিনী নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে। কাহ্নপার অন্য একটি পদে (১৮নং) ডোমনীর 'ছিনালী' করার কথা আছে।
• ডোম্বীপাদের ১৪নং পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাছাড়া নারীরা গুরুর স্থানও অধিকার করেছিল।
• চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে বলে উল্লেখ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৩৪.
"চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত" এটি প্রথম স্বীকৃতি দেন কে?
  1. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন। • ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৩৫.
চর্যাপদে কোন কবির পদে পঁউয়া খালের(পদ্মা খাল) নাম আছে?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. ডোম্বীপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের বাঙালি কবি ভুসুকুপা রচিত পদে 'পউয়া খাল' এর কথা বলা আছে।
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- বাজ ণাব পাড়ী পঁউআ খালে বাহিউ।
- অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।
-'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭৩৬.
'আলো-আঁধারি' ভাষা বলা হয় কোন গ্রন্থের ভাষাকে?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. চর্যাপদ
  3. শূন্যপুরাণ
  4. সেক শুভোদয়া
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৩৭.
“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।” - পদটি রচনা করেন  কে?
  1. লুইপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কুক্কুরীপা রচিত পঙক্তি হলো:
“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।”

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৩৮.
চর্যাপদের টীকাকার কে?
  1. কীর্তিচন্দ্র
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. মুনিদত্ত
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার 
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।

- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের টীকাকার - মুনিদত্ত।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন - কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

৭৩৯.
"কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।" - চর্যাপদের এই পঙ্‌ক্তিটিতে “পাঞ্চ বি ডাল” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
  1. পঞ্চতত্ত্ব
  2. পঞ্চ প্রাণ
  3. পঞ্চশর
  4. পঞ্চ ইন্দ্রিয়
সঠিক উত্তর:
পঞ্চ ইন্দ্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চ ইন্দ্রিয়
ব্যাখ্যা

• ''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল
চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' — পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: লুইপা।
 — এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

• পদটির আধুনিক বাংলায় রূপান্তর এরকম — 
''কায়া তরুর মত, পাঁচটি তার ডাল
চঞ্চল চিত্তে কাল প্রবেশ করেছে।।''

অন্তর্নিহিত ভাব:
মানুষের দেহকে একটি গাছের সাথে তুলনা করা হয়েছে , যার পাঁচটি শাখা হল পঞ্চ ইন্দ্রিয়। শরীরের পাঁচ ইন্দ্রিয় পাঁচটি ডালস্বরূপ। এই পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা বাইরের বস্তুজগতের সঙ্গে মানুষের নিত্য জানাশোনার পালা চলছে।য় (চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, ত্বক)।
অর্থ্যাৎ, 
চর্যাপদের গূঢ়/রহস্যমূলক ভাষায় “তরু”= দেহ, “ডাল/শাখা”= ইন্দ্রিয়। “পাঞ্চ বি ডাল” বলতে দেহ-তরুর — পাঁচটি ইন্দ্রিয় (চক্ষু, কর্ণ, ঘ্রাণ, জিহ্বা, ত্বক) বোঝানো হয়েছে।
--------------------
'লুইপা' সম্পর্কিত তথ্য:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদে — দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের — ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, চর্যাগীতিকা, মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।

৭৪০.
'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি কে?
  1. কাহ্নপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা
• চর্যার কবি লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত
- ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।

- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪১.
চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান কোথায়?
  1. ভুটানের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার
  2. চীনের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার
  3. নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার
  4. উড়িষ্যার রাজ দরবারের গ্রন্থাগার
সঠিক উত্তর:
নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। 
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৪২.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীনযুগের সময়কাল - 
  1. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০ - ১২৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৭০০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

- মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল (৯৫০ - ১২০০) সুতরাং ২৫০ বছর।
- এবং বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যপ্তি ছিল (১২০১-১৮০০) সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭৪৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চার্যাপদের রচনাকাল কত?
  1. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬৫০ - ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৬৫০-১২৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের রচনাকাল
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্‌র মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ এবং
- ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৪.
‘বুদ্ধোদয়’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) জয় দেব
  4. ঘ) লুইপা
সঠিক উত্তর:
ঘ) লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লুইপা
ব্যাখ্যা

লুইপা চর্যাপদের প্রথম পদ রচিয়তা। তিনি দুইটি পদ রচনা করেন।
এছাড়াও তিনি কয়েকটি সংস্কৃত গ্রন্ত্র রচনা করেন। যেমন-
-অভিসময়,
-বিভঙ্গ,
- ব্রজস্বত্ব সাধণ,
-বুদ্ধোদয়,
-ভগবদাভসার,
-তত্ত্ব সভাব।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৪৫.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে ধর্মই মুখ্য ছিল?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. খ + গ
সঠিক উত্তর:
খ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ + গ
ব্যাখ্যা
• কালবিচারে বাংলা সাহিত্যকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায। যথা:
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০০ - ১৮০০) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০০ - বর্তমান)।

• মধ্যযুগ আবার তিনভাগে বিভক্ত। যথা:
১. আদি-মধ্যযুগ বা অন্ধকার যুগ (১২০১ - ১৩৫০),
২. মধ্য-মধ্যযুগ (১৩৫১ - ১৭০০) ও
৩. অন্ত্য-মধ্যযুগ (১৭০১ - ১৮০০)।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল, ধর্ম প্রধান ছিল না।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতাই একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে, সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৪৬.
'চর্যাপদে' কার পদ সবচেয়ে বেশি?
  1. সরহপা
  2. শবরপা
  3. কাহ্নপা
  4. কুক্করীপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• 'কাহ্নপা' সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- কাহ্নপা  ১৩ টি পদ রচনা করেন।  
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- তাঁর চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু  নাম পাওয়া যায়।  

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদ গ্রন্থে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৪৭.
"চর্যাপদ" - আবিষ্কার করেন কে?
  1. বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. শশীভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন
- ১৯১৬ সালে কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪৮.
সবচেয়ে বেশি চর্যাপদ রচনা করেন-
  1. ভুসুকুপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নাপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নাপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নাপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাছিল পা ইত্যাদি।
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বাধিক পদরচিতা।
- তার রচিত পদের সংখ্যা- মোট ১৩টি।
- তার রচিত পদগুলো হলো: ৭,৯,১০,১১,১২,১৩,১৮,১৯,৩৬,৪০,৪২,৪৫,
 - কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে,
• লুইপা
- চর্যাপদের আদি কবি- লুইপা
- তার রচিত পদের সংখ্যা দুইটি- ১ ও ২৯নং।

• ভুসুকুপা:
- দ্বিতীয় সর্বাধিক পদরচিতা।
- তার রচিত পদের সংখ্যা- মোট ৮টি।
- তার রচিত পদগুলো হলো: ৬,২১,২৩,২৭,৩০,৪১,৪৩,৪৯নং।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৯.
ডাকের বচনে কোন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. ধর্মতত্ত্ব 
  2. প্রেম ও রোমান্স
  3. যুদ্ধ ও বীরত্ব 
  4. জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্র
সঠিক উত্তর:
জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্র
ব্যাখ্যা

ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তবে এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। 
- ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।

- ডাক ও খনার বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে — জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৫০.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম শ্রেণীসংগ্রামের সূচনা হয়েছিলো কোন সাহিত্যের মাধ্যমে?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. চর্যাপদ
  3. মঙ্গলকাব্য 
  4. মর্সিয়া সাহিত্য 
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে শ্রেণীসংগ্রামের প্রথম সুস্পষ্ট প্রকাশ দেখা যায় চর্যাপদ-এ। চর্যাগীতিতে তৎকালীন সমাজের শ্রেণিভেদ, ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রথার সমালোচনা এবং নিম্নবর্গের জীবনচিত্র প্রতীকী ভাষায় ফুটে উঠেছে।

কবি বলেছেন,
টিলার ওপরে আমার ঘর, আমার কোনো প্রতিবেশী নেই। হাঁড়িতে আমার ভাত নেই, আমি প্রতিদিন উপোস থাকি।
বেঙের মতো প্রতিদিন সংসার আমার বেড়ে চলছে, যে-দুধ দোহানো হয়েছে তা আবার ফিরে যাচ্ছে গাভীর বাঁটে। বেশ করুণ দুঃখের ছবি এটি। কবি যে খুব দরিদ্র শুধু তাই নয়, তাঁর ভাগ্যটি বেশ খারাপ। তাই বলেছেন, দোহানো দুধ ফিরে যাচ্ছে আবার গাভীর বাঁটে। এরকম বেদনার কথা অনেক আছে চর্যাপদ-এ, আছে সমাজের উঁচুশ্রেণীর লোকের অত্যাচারের ছবি। তাই কবিরা সুযোগ পেলেই উপহাস করেছেন ওই সব লোকদের। আজকাল শ্রেণীসংগ্রামের কথা বেশ বলা হয়; শ্রেণীসংগ্রামের জন্যে রচিত হয় সাহিত্য। বাঙলা সাহিত্যে শ্রেণীসংগ্রামের সূচনা হয়েছিলো প্রথম কবিতাগুচ্ছেই।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৭৫১.
চর্যার ২৩নং খণ্ডিত পদের বিলুপ্ত পঙ্‌ক্তি সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
র্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫২.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কি?
  1. চর্যাপদ
  2. বৈষ্ণব পদাবলী
  3. বাউল সঙ্গীত
  4. পাঁচালী সঙ্গীত
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৭৫৩.
চর্যাপদ কতটি পদ নিয়ে গঠিত?
  1. ৪১টি
  2. ৪৫টি
  3. ৫০টি
  4. ৪৮টি
সঠিক উত্তর:
৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০টি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

• চর্যাপদের পদ সংখ্যা:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে, চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। 
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৫৪.
চর্যাপদের ৪৮নং বিলুপ্ত পুথির রচয়িতা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. কাহ্নপা
  3. তন্ত্রীপা
  4. কঙ্কণপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙক্তি হলো:
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই।।" - চর্যাপদের ২নং পদ।

উল্লেখ্য, 
চর্যাপদের ২৪, ২৫ ও ৪৮ সংখ্যক পদগুলির পুথি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে না থাকলেও ডক্টর প্রবোধচন্দ্র বাগচী আবিষ্কৃত তিব্বতি অনুবাদে এগুলির রচয়িতার নাম উল্লিখিত হয়েছে যথাক্রমে কাহ্নপা, তন্ত্রীপা ও কুক্কুরীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৫৫.
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থ অনুসারে, চর্যাপদে কত জন কবির পদ রয়েছে?
  1. ২২ জন
  2. ৪৮ জন
  3. ২৫ জন
  4. ২৪ জন
সঠিক উত্তর:
২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ জন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে কত জন কবির পদ রয়েছে তা নিয়ে মতান্তর আছে।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' (১৯৬০) গ্রন্থে ২৩ জন কবির নাম আছে। 
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে ২৪ জন কবির নাম আছে।
তাই চর্যাপদের কবি ২৩ জন মতান্তরে ২৪ জন। 

চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়।

চর্যাপদের কবিরা হলেন- সরহপা, কুক্কুরীপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা, বিরুআ, গুণ্ডরী, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস'।
৭৫৬.
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।। - পদটির রচয়িতা কে?
  1. ভাদেপা
  2. কাহ্নপা
  3. শবরপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
ব্যাখ্যা
ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো।
- তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

ভাদেপা রচিত পদ:
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৭.
কোন রাজ বংশের শাসনামলে চর্যাপদ রচিত হয়?
  1. পাঠান
  2. তুর্কি
  3. পাল
  4. মৌর্য
সঠিক উত্তর:
পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- পাল বংশের শাসন আমলে চর্যাপদ রচিত হয়।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭৫৮.
চর্যাপদের উদ্ধারকৃত পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ৫০টি
  2. সাড়ে ৪৫টি
  3. ৫১টি
  4. সাড়ে ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬টি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• চর্যাপদের মোট পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

• চর্যাপদের টিকা ও অনুবাদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের পুথিটি যে রুপে পাওয়া যা তাতে বোঝা যায় এটি বিভিন্ন সময়ে আবর্তিত বিভিন্ন কবির রচিত কবিতার সমষ্টি সংকলন।
- কবিতাগুলোর বক্তব্য ও প্রকাশভঙ্গিতে যে দুর্বোধ্যতা ছিলো তা দূর করার জন্য মুনিদত্ত পদগুলোকে একত্রিত করে সংস্কৃত ভাষায় পদগুলোর সহজবোধ্য টিকা রচনা করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টিকা যুক্ত আছে।
- ড. প্রবোধচন্দ্র এর তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ করেছেন কীর্তিচন্দ্র।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৫৯.
লুইপা কতটি পদ রচনা করেন?
  1. ২টি
  2. ১০টি
  3. ১৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদের দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কাকে চর্যাপদের প্রাচীনতম চর্যাকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন?
  1. লুইপা
  2. সরহপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীনতম চর্যাকার শবরপা, আর আধুনিকতম সরহপা বা ভুসুকুপা। 
- ড. শহীদুল্লাহর মতে ভুসুকুপা বাংলাদেশের মানুষ ছিলেন। 

• শবরপা: 
- তাঁর জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। 
- সেই সূত্রে শবরপা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম টিকাকার লুইপা এর গুরু ছিলেন।
- শবরপা নিজে নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নং পদ তাঁর রচনা।

অন্যদিকে,
- চর্যাপদের আদি চর্যাকার/বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবি/চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা - লুইপা।
- তিনি চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেছেন।

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা- ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৭৬১.
চর্যাপদের কোন কবির পদসংখ্যা সর্বাধিক?
  1. ডোম্বীপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক।

• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬২.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. বিরুপা
  2. কুগুরীপা
  3. ডোম্বীপা
  4. মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
কুগুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুগুরীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন কুগুরীপা।

⇒ চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

⇒ চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

এর হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৬৩.
চর্যাগীতিকা কোন রাজবংশের আমলে বিকশিত হয়?
  1. সেন বংশ
  2. মৌর্য বংশ
  3. পাল বংশ
  4. গুপ্ত বংশ
সঠিক উত্তর:
পাল বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল বংশ
ব্যাখ্যা
চর্যাগীতিকা পাল রাজবংশের আমলে বিকশিত হয়।

• পাল আমলে চর্যাপদের বিকাশ:
- বাংলার পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন।
- তাঁদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল।
- পাল বংশের পরে পরেই বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতার পৌরাণিক হিন্দুধর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাইরে নেপালে পাওয়া গেছে।
- বৌদ্ধধর্মের উদ্ভব ঘটেছিল ভারতবর্ষে এবং বিস্তার লাভ করেছে বিশ্বজুড়ে।
- বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি একদিন এদেশকে বহির্বিশ্বে পরিচিত করেছিল। কিন্তু এদেশ থেকে বৌদ্ধ বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সারা ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধশাস্ত্র, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের অবসান ঘটেছে। 
- তিব্বতি, চীনা ও মঙ্গোলীয় ভাষায় অনূদিত হয়ে বৌদ্ধশাস্ত্র ও ধর্মীয় সাহিত্য রক্ষিত হয়েছে।
- আধুনিক যুগে এ সবের আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৬৪.
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে বাংলা ভাষায় কয়টি পুঁথি সংকলিত হয়েছে?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
একটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি
ব্যাখ্যা
• 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে বাংলা ভাষায় ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ পুঁথিটি সংকলিত হয়েছে।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 
 
• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৬৫.
কাহ্নপা রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ৩৯নং
  2. ৮নং
  3. ২৪নং
  4. ১৩নং
সঠিক উত্তর:
২৪নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪নং
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি। কাহ্নপা রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭৬৬.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. কঙ্কণপা
  2. ধর্মদেবপা 
  3. জয়নন্দীপা
  4. মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
ধর্মদেবপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মদেবপা 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি নন- ধর্মদেবপা। 

চর্যাপদের কবিগণ:

- চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে:
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৬৭.
“সেক্‌ শুভোদয়া” গ্রন্থটি কোন ধরনের রচনাশৈলীতে লেখা হয়েছে?
  1. নাট্যশৈলী
  2. শুধু গদ্যশৈলী 
  3. গদ্য-পদ্যশৈলী 
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
গদ্য-পদ্যশৈলী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গদ্য-পদ্যশৈলী 
ব্যাখ্যা

• "অন্ধকার যুগ ও নিদর্শন": 
- বাংলা সাহিত্যের “অন্ধকার যুগ” বলতে ১২০১–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালকে বোঝানো হয়।
- এ যুগকে “সন্ধ্যাযুগ” বা “বন্ধ্যাযুগ” ও বলা হয়।
- বখতিয়ার খলজির বঙ্গবিজয়ের (১২০৪ খ্রিঃ) পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাহিত্যচর্চা প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
- তবুও এই সময়ের কিছু উল্লেখযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায়।
- যার মধ্যে ‘সেক্‌শুভদয়া' ও “শূন্যপুরাণ” অন্যতম। 
---------------------------
• ‘সেক্‌ শুভোদয়া':
- এই গ্রন্থটির রচয়িতা হচ্ছে হোলায়ুধ মিশ্র।
- তিনি রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি ছিলেন।
- লক্ষ্মণ সেনের দরবারে মুসলিম পীর জালালউদ্দিন তাবরেজী আগমন করলে তাকে কেন্দ্র করেই এই গ্রন্থটি রচিত হয়। 
- পীর জালালউদ্দিন তাবরেজীর প্রজ্ঞা ও মানবতাবোধের ছাপ সেক্‌ সুভোদয়া -এ প্রতিফলিত হয়েছে।

- “শূন্যপুরাণ” ও “সেক্‌শুভদয়া”—উভয়ই সংস্কৃত ভাষায় রচিত. 
- দুইটি গ্রন্থই গদ্য-পদ্য মিশ্র রচনাশৈলীতে লেখা হয়েছে। 
- গদ্য-পদ্য মিশ্র রচনাশৈলীতে লেখার কারণে এদের বলা হয় “চম্পু কাব্য”।
----------------------- 
উল্লেখ্য,
• “শূন্যপুরাণ': 
- এছাড়া, এই যুগে রামাই পণ্ডিত রচিত “শূন্যপুরাণ” ও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- এই গ্রন্থটি প্রাকৃত-অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।
- এটি পূজা-প্রচারমূলক ধর্মগ্রন্থ।
- রামাই পণ্ডিত এখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সমন্বয়ে এক নতুন মতবাদ-“শূন্যধর্ম” প্রচারের চেষ্টা করেছেন।
- “শূন্যপুরাণ” গ্রন্থটির অন্তর্গত টীকা হলো “নিরঞ্জনের রুষ্মা”।

উৎস:  
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক;
বাংলাপিডিয়া।

৭৬৮.
'ডাকার্ণব', 'সরোজবজ্রের দোহাকোষ' কোন যুগের সাহিত্যের নিদর্শন?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অন্ধকার যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগ
ব্যাখ্যা
• 'ডাকার্ণব', 'সরোজবজ্রের দোহাকোষ' - প্রাচীন যুগের নিদর্শন।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৬৯.
চর্যাপদের কোন পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়?
  1. ৪৮ নং পদ
  2. ২৩ নং পদ
  3. ৩১ নং পদ
  4. ৩৩ নং পদ
সঠিক উত্তর:
২৩ নং পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ নং পদ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া যায়।

চর্যাপদ:
 - বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ৫১ টি পদের মধ্যে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। 
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৭০.
কাহ্নপা কতটি পদ রচনা করেছেন?
  1. ০৭টি
  2. ১৩টি
  3. ১০টি
  4. ০৯টি
সঠিক উত্তর:
১৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩টি
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন। 
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭১.
আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
  1.  স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. পয়ার ছন্দে
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩ মতান্ত্বরে ২৪ জন। 
- এটি মূলত গানের সংকলন। 
- এর পদগুলো কোন ছন্দে রচিত তা নির্ধারন করা কঠিন।
- তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য। 

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে এ  ছন্দ “তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক ও
- ভাষা শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।

৭৭২.
বৌদ্ধ সহজিয়াগণ কর্তৃক রচিত গ্রন্থ-
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. শূন্যপুরাণ
  3. চর্যাপদ
  4. সেক শুভোদয়া
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ (ধর্ম চর্চা)।

- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। অপরদিকে ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

অন্যদিকে, 
• অন্ধকার যুগের সাহিত্য 'শূন্যপুরাণ' এর রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।
• 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ুধ মিশ্র।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭৩.
ডাক ও খনার বচন কোন যুগের সাহিত্যধারা হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. ক) প্রাচীন যুগের
  2. খ) মধ্য যুগের
  3. গ) আধুনিক যুগের
  4. ঘ) (ক) এবং (খ) উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাচীন যুগের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাচীন যুগের
ব্যাখ্যা

ডাক ও খনার বচন প্রাচীনযুগের একটি সাহিত্যধারা। বৌদ্ধ সমাজের ডাকের বচন এবং হিন্দু সমাজে খনার বচনের উৎপত্তি হয়েছিল।
ডাকের বচনে জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া।

৭৭৪.
চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন-
  1. কীর্তিচন্দ্র
  2. মুনিদত্ত
  3. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  4. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্র বাগচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্র বাগচী
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন
- বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন হলো চর্যাপদ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকু পা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদ গ্রন্থে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে,
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- মুনিদত্ত চর্যাপদের পদগুলি টীকার মাধ্যমে ব্যাখা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৭৫.
হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক কী প্রকাশিত হয়?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. চর্যাপদ
  3. রামায়ণ
  4. মহাভারত
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় চর্যাপদ ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৭৭৬.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- চর্যার কত নং পদ?
  1. ২ নং 
  2. ৩৩ নং 
  3. ১ নং 
  4. ২৯ নং 
সঠিক উত্তর:
২ নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং 
ব্যাখ্যা

"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- এটি কুক্কুরীপা রচিত চর্যাপদের ২নং পদ।

• এর বাংলা অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুক্কুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

৭৭৭.
'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২২ জন
  2. ২৩ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৫ জন
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৭৮.
চর্যাগীতির ও তিব্বতী ঐতিহ্যের সিদ্ধাচার্যের আদিতম কবি কে?
  1. শবরপা 
  2. কাহ্নপা 
  3. লুইপা 
  4. ভুসুকুপা 
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি:
- চর্যাগীতি-সংগ্রহের প্রথম কবি লুই। শুধু পদসংখ্যার ক্রমানুসারেই নয়, তিব্বতী ঐতিহ্যে যে ৮৪ জন সিদ্ধাচার্যের নাম পাওয়া যায় লুই তাঁদের মধ্যেও আদিতম।

- নাথ ধর্মের ঐতিহ্যেও এই সিদ্ধগণ স্বীকৃত। সেক্ষেত্রে অবশ্য আদিসিদ্ধ মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। লুই শব্দটি সম্ভবত রোহিত শব্দ থেকে সৃষ্ট (রোহিত>রুইলুই), এই ব্যুৎপত্তি থেকে মীননাথের সঙ্গে লুইয়ের অর্থগত সঙ্গতি পাওয়া যায়। সুম্পা রচিত Pag samjon Zans (রচনাকাল ১৭৪৭ খ্রীঃ) -এ লুইকে শবরীপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মৎস্যের সঙ্গে নামের সংযোগের জন্যই বোধহয় এই সিদ্ধান্ত।

- তিব্বতী অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের তিনখানা বইয়ের নাম পাওয়া যায় 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্বঙ্গভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টি নাম'। প্রথম দুটি বই বিশুদ্ধ বৌদ্ধদর্শনের, তৃতীয়টি দোহা ও গানের কোষগ্রন্থ। অন্যান্য চর্যাকারদের মধ্যে কেউ কেউ গান ছাড়াও অন্য বই লিখেছেন, কিন্তু সেগুলি বৌদ্ধ তন্ত্রবিষয়ক, বিশুদ্ধ দর্শনের নয়। বাংলাদেশে যখন বৌদ্ধতন্ত্রধর্ম ব্যাপ্তি লাভ করেছিল তখন আচারের চেয়ে বিশুদ্ধ দর্শনচর্চা অনেকটা অপ্রচলিত হয়ে পড়েছিল। এদিক থেকেও বোঝা যায় যে লুই সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের গোড়ার দিককার লোক।

উৎস: চর্যাগীতি পরিক্রমা, ড. নির্মল দাশ। 

৭৭৯.
‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’-পদটির রচয়িতা কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. সরহপা
  4. কঙ্কণপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা চর্যাকার ঢেণ্ডণপা।

- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। 
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। 
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

উল্লেখ্য,
- চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি।
এগুলো হল-
১. আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা, ৬ নং পদ)।
২. দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।
৩. হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২ নং পদ)।
৪. হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।
৫. বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা, ৩৯ নং পদ)।
৬. আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা, ৪৪ নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৮০.
নিচের কোনটি চর্যাপদের প্রধান সুর বা রাগ নয়?
  1. রাগ পটমঞ্জরী
  2. রাগ অরু
  3. রাগ ভৈরবী
  4. রাগ কুরু
সঠিক উত্তর:
রাগ কুরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাগ কুরু
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের সবগুলো কবিতা ছন্দে রচিত, পংক্তির শেষে মিল রয়েছে।
- এগুলো আসলে গান, তাই কবিরা প্রতিটি কবিতার শুরুতে কোন সুরে কবিতাটি গাওয়া হবে তার উল্লেখ করেছেন।
- এমন কয়েকটি সুর/রাগ হচ্ছে - রাগ পটমঞ্জুরী, রাগ অরু, রাগ ভৈরবী
- চর্যাপদের কবিতাগুলো গাওয়া হতো, তাই এগুলো একই সাথে গান ও কবিতা।
- বাংলা কবিতায় ১৮০০ সালের আগে যা কিছু রচিত হয়েছে, সবই গাওয়ার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে।
- মাইকেল মধুসূধন দত্ত যেদিন বাংলা কবিতা লিখলেন, সেদিন থেকে কবিতা হয়ে উঠলো পড়ার বস্তু, গাওয়ার নয়।

উৎস : লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।

৭৮১.
চর্যাপদের পদকর্তা কতজন?
  1. ক) ১১ জন
  2. খ) ১৩ জন
  3. গ) ১৫ জন
  4. ঘ) ২৪ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৪ জন
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৭৮২.
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল কোনটি? 
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৯৭০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১২০১-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ 
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শহীদুল্লাহ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করেছেন—
প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ),
• মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং
• আধুনিক যুগ (১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান)।
- তিনি মীননাথকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম কবি হিসেবে গণ্য করেছেন।
- কারন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা সাহিত্যের সূচনাকে চর্যাপদ রচনার আগের সময়কাল থেকে ধরেছেন। 

অন্যদিকে,
- সুনীতিকুমারের মতে প্রাচীন যুগের সময়কাল ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- তবে শহীদুল্লাহর মত অনুযায়ী এটি ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ ধরে ধরা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৭৮৩.
মুনিদত্ত চর্যাপদ কোন ভাষায় ব্যাখ্যা করেন?
  1. সংস্কৃত 
  2. তিব্বতি 
  3. হিন্দি 
  4. বাংলা 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র  মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

- চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন। তান্ত্রিক যোগসাধনা তাঁদের ধর্মমতের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৮৪.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে চর্যাপদের রচনাকাল-
  1. অষ্টম থেকে চতুর্দশ শতাব্দীতে
  2. সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে
  3. দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে
  4. দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দীতে
সঠিক উত্তর:
দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা

- ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০-১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০-১২০০ সালের (দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর) মধ্যে রচিত। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭৮৫.
চর্যাপদের কবি ঢেণ্ডণপা পেশায় কী ছিলেন?
  1. নৌকা চালক 
  2. জেলে 
  3. তাঁতি
  4. কৃষক 
সঠিক উত্তর:
তাঁতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁতি
ব্যাখ্যা

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেগুণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা চর্যাকার ঢেগুণপা।

- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৮৬.
”কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল। চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।” - এই পদটির লেখক কে?
  1. শান্তিপা
  2. লুইপা 
  3. ভুসুকুপা 
  4. ভাদেপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম পদটি লুইপার রচনা।
পদ - ১
”কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লুই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।”

• লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল" পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৮৭.
"বাংলা নিশ্চয়ই, বাংলার প্রায় মূর্তি-অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপ" - চর্যাপদ সম্পর্কে উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
  2. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের প্রধান আলোচকগণ:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- চর্যাগীতির বৈয়াকরণ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে দেখালেন চর্যাপদ 'বাংলা নিশ্চয়ই, বাংলার প্রায় মূর্তি-অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপ।'
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার এবং ১৯৩৮ সালে তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯২৭ সালে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন এবং ১৯৪২ সালে চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় করে আলোচনার পথ আরও সহজ করেন।
- ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন। বিহারের প্রখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৮৮.
লুইপা কতটি পদ রচনা করেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৪টি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদের দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৮৯.
প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দের বিচার বিশ্লেষণ করে কে?
  1. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  3. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৯০.
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল কোন প্রতিষ্ঠান থেকে?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. শ্রীরামপুর মিশন
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. এশিয়াটিক সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। 'চর্যাপদ' মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা।

চর্যাপদের কবিরা হলেন:
- সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৯১.
চর্যাপদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ পাওয়া যায় কোন কবির?
  1. ভুসুকু পা
  2. শবর পা
  3. কাহ্ন পা
  4. লুই পা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকু পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকু পা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকু পা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদ গ্রন্থে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৭৯২.
‘চর্যাপদ’ - বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের সাধন সঙ্গীত। “সহজিয়া মত” -এর প্রবর্তক কে?
  1. কৃষ্ণাচার্য
  2. মীননাথ
  3. দীননাথ
  4. আর্যদেব
সঠিক উত্তর:
মীননাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীননাথ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সঙ্গীত। সহজিয়া মতের প্রবর্তক - মীননাথ।
আর্যদেবপা ও জয়নন্দীপা - চর্যাপদের কবি ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৯৩.
চর্যাপদের পূর্ণ কয়টি পদ পাওয়া যায় নি?
  1. দুইটি 
  2. তিনটি 
  3. চারটি 
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি 
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপাল থেকে আবিষ্কৃত চর্যাপদের পাণ্ডুলিপিতে মোট ৩টি পূর্ণ পদ (২৪, ২৫, ৪৮ নং) এবং একটি পদের শেষাংশ (২৩ নং) পাওয়া যায়নি। 

চর্যাপদ:

• চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে একান্নটি গান ছিল। তার মধ্যে একটি (১১ সংখ্যক) পদ টীকাকার কর্তৃক ব্যাখ্যাত হয় নি। আবার কয়েকটি পাতা নষ্ট হওয়ায় তিনটি সম্পূর্ণ (২৪, ২৫ ও ৪৮ সংখ্যক ) পদ এবং একটি (২৩ সংখ্যক) পদের শেষাংশ পাওয়া যায় নি। তাই পুঁথিতে সর্বসমেত সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।

• চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিটির লিপিকাল বার বা চৌদ্দ থেকে ষোল শতকের মধ্যে বলে অনুমান করা হয়। তবে ১১৯৯ সালে লিপিকৃত 'পঞ্চাকার' নামের পুঁথির লিপির সঙ্গে চর্যাপদের লিপির সাদৃশ্য বিবেচনা করে কেউ কেউ এর লিপিকাল বার শতক বলে মনে করেন। চর্যার পুঁথিটি বাংলা অক্ষরে লিপিকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৭৯৪.
চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দের প্রথম বিচার বিশ্লেষণ করেন কে?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. সুকুমার সেন
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ্‌ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৯৫.
প্রাচীন বাংলা সাহিত্য চর্যাপদে বর্ণিত ‘কামালি’ বলতে কোন পেশার মানুষকে বুঝানো হয়েছে?
  1. কামার
  2. শিকারী
  3. কুমোর
  4. মাঝি
সঠিক উত্তর:
মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাঝি
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ প্রাচীন বাংলার সামাজিক রুপের বিশ্বস্ত দলিল।
- এখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কথা বলা হয়েছে।
- কাপালিক (কাপালি)
- ব্রাহ্মন (বাহমন)
- যোগী (জোই)
- ডোম্বী ইত্যাদী নানা বর্ণের মানুষের কথা বর্ণিত হয়েছে

এসকল মানুষেরা নানা পেশায় যুক্ত থাকিতেন, যেমন-
- মাঝি (কামালি)
- বেশ্যা (দারী)
- শিকারী (অহেরী)
- নেয়ে (নৌবাহী) ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

৭৯৬.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালর রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে কতটি পুঁথি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালে যান মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- নেপালর রাজদরবারের গ্রন্থশালায় তিনি আবিষ্কার করেন ৪টি পুঁথি।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো- 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ
- কাহ্ন পাদের দোহাকোষ 
- ডাকার্ণব 

এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭৯৭.
কুক্কুরীপা মোট কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. ৫টি
  2. ৮টি
  3. ২টি
  4. ৪টি
  5. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙক্তি হলো:
“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।” - চর্যাপদের ২নং পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯৮.
চর্যাপদ কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. বিশ্বভারতী
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৯৯.
প্রাচীন বাংলা গানের নিদর্শন কোনটি?
  1. শূ্ন্যপুরাণ
  2. চর্যাপদ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. চৈতন্য-ভাগবত
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ   বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।
- প্রতিটি পদের শুরুতে রাগ-তাল ও প্রতি জোড়-পদে ‘ধ্রুব’ শব্দের উল্লেখ থাকায় নিশ্চিত প্রমাণিত হয় যে, এগুলি তখন গাওয়া হতো।
- এ ছাড়া পদগুলি থেকে তৎকালীন বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ ও সমাজের বাস্তবঘন পরিচয়ও পাওয়া যায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৮০০.
১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন কে?
  1. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
  4.  ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।