বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

মোট প্রশ্ন১,০৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ১০০ / ১,০৩৯

.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যাপদের রচনাকাল কোনটি?
  1. ৬৫০ - ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৬৫০ - ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের রচনা কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে এবং।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯০০ - ১৩৫০ সালের মধ্যে চর্যাপদ রচিত।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
উল্লিখিতদের মধ্যে কে প্রাচীন যুগের কবি নন? 
  1. কাহ্নপাদ
  2. লুইপাদ
  3. শান্তিপাদ
  4. রমনীপাদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

অপশনের কবিগণের,
রমনীপাদ - প্রাচীন যুগের কবি নন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
অবক্ষয় যুগের ব্যাপ্তি-
  1. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৯০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধিক্ষণ বা অবক্ষয়ের যুগ:
- যুগসন্ধিকালকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- এই যুগের ব্যাপ্তি ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- (১৭৬০ থেকে ১৮৩০ খ্রি.) দ্বিতীয় অন্ধকার যুগও বলা হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সালে’ মাইকেল মধুসূদন এর আগ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অবক্ষয়যুগ বা যুগ সন্ধিক্ষণ বলে।
- সৈয়দ আলী আহসান এ সময়কে ‘প্রায় শূণ্যতার যুগ’ বলেছেন।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মারা যাওয়ার পরে বাংলা সাহিত্যের কবিওয়ালা ও শায়েরদের আগমন ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
চর্যাপদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদের রচয়িতা কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. শান্তিপা
  3. সরহপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- দ্বিতীয় সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি; ২, ২০ ০ ৪৮)। তবে তাঁর রচিত ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা ভাষার প্রথম কবিতা সংকলন কোনটি?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. চর্যাপদ
  3. মনসামঙ্গল
  4. শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ / কবিতা সংকলন / গানের সংকলন।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

চর্যাপদের পদ সংখ্যা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে, চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি।
- প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন কে?
  1. সুকুমার সেন 
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন পণ্ডিতের মতে:
- পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। যদিও অনেকের ভাষায় একটু-আধটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তবুও চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে উল্লেখ করেছেন। এ অভিমতের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি উপস্থাপন করেন নি। অন্যদিকে, সব পণ্ডিত যে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করেছেন এমন নয়।

- ভাষাতাত্ত্বিক বিজয়চন্দ্র মজুমদার এ বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলা যাবে না। তাতে হিন্দি ও ওড়িয়া আছে। এটি মিশ্র ভাষা হিসেবে পরিচিত হতে পারে।

- ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতির ভাষা নিয়ে প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক বিশদ আলোচনা করেন দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রন্থে। তিনি তাতে সুস্পষ্টভাবে এ অভিমত দেন যে, চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে। যেমন: আইসন, জইসন, জিম, তিম ইত্যাদি পুরোপুরি বাংলার রূপ পাচ্ছিল না। কেননা চর্যাগীতিগুলো যখন রচিত হয় তখন বাংলা ভাষা পুরোপুরি অপভ্রংশের খোলস ত্যাগ করতে পারে নি।

- সুনীতিকুমারের মতকে সুকুমার সেন সমর্থন করে চর্যাগীতির ভাষাকে বাংলা বলেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি শৌরসেনী প্রভাবের বদলে অবহষ্ঠের প্রভাবের পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অসমিয়া ভাষীদের দাবিও অযৌক্তিক নয়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।

.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কয়টি পদ সংখ্যার উল্লেখ্য রয়েছে?
  1. সাড়ে ৪৬টি 
  2. ৫০টি 
  3. ৫১টি
  4. ৫২টি 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। আবার ড. শহীদুল্লাহ্‌ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদে পদসংখ্যা কত?
  1. ৫১টি
  2. ৪৫টি
  3. ৫০টি
  4. ৪৭টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদ রচনা হয়েছে ৬৫০ খিষ্ট্রব্দ এবং সুনীতকুমার চট্টপাধ্যায়ের মতে ৯৫০-১২০০ খিষ্ট্রাব্দের মধ্যে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের সংখ্যা ৫০ টি এবং সুনীতকুমার চট্টপাধ্যায়ের মতে ৫১ টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
.
কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন কী নামে?
  1. চর্যাগীতিকোষ
  2. আশ্চর্যচর্যাচয়
  3. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'।
- নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
- মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। 
- আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম।

১০.
চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে কে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ?
  1. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. সুকুমার সেন
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷
 
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
 
•  ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১.
চর্যাপদের ২ ও ২০ নং পদের রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. কুক্কুরীপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ২ ও ২০ নং পদের রচয়িতা- কুক্কুরীপা। 
------------------------
• কুক্কুরীপা:
- ধারনা করা হয় চর্যাপদের একমাত্র মহিলা কবি ছিলেন কুক্কুরীপা। 
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি হিসেবে ধরা হয়।
- ধারণা করা হয়, তিনি চর্যাপদের ৩টি পদ লিখেছেন—২, ২০ এবং ৪৮ নং, যদিও ৪৮ নং পদ আজ পাওয়া যায়নি।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কুক্কুরীপা ৮ম শতকের প্রথমার্ধে বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চলের লোক ছিলেন।
- এবং বৌদ্ধ তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে মহামায়ার সাধনা শুরু করেছিলেন।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল দেখা যায়।
- ধারনা করা হয়, কুক্কুরীপা ছিলেন ইন্দ্রভূতির অন্যতম গুরু। 

- রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে,
• কুক্কুরীপা দেবপালের রাজত্বকালে ছিলেন।
• তার জন্মস্থান কপিলবস্তু এবং জন্ম হয়েছিল ব্রাহ্মণ বংশে।
• তিনি একজন সিদ্ধা ছিলেন।

- তারানাথের মতে, একটি কুকুরী সর্বদা সঙ্গে রাখতেন তাই এই সিদ্ধা কুক্কুরীপা নামে পরিচিত।
- কুক্কুরীপার লেখা চর্যাপদের ভাষা সহজ, গ্রাম্য এবং লোকসঙ্গীতের মতো।
- তার পরিচিত পংক্তি হলো—“দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই রাতি ভইলে কামরু জাই।" 
-----------------
অন্যদিকে,
- লুইপা চর্যাপদের ২টি পদের রচয়িতা। এই পদ দুটি হলো চর্যাপদের ১ নম্বর পদ (প্রথম পদ) এবং ২৯ নম্বর পদ।
- কাহ্নপা হলেন চর্যাপদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক সংখ্যক পদের রচয়িতা (১৩টি পদ)। পুঁথিতে তাঁর মোট ১২টি পদ (পদ – ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫) পাওয়া যায়। 
- শবরপা চর্যাপদে ২টি (২৮, ৫০) পদ রচনা করেন।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  

১২.
মণীন্দ্রমোহন বসু চর্যাপদের কত নং পদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন?
  1. ১০নং 
  2. ৮নং 
  3. ১১নং 
  4. ২৯নং 
ব্যাখ্যা

• মণীন্দ্রমোহন বসু চর্যার ৮নং পদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন।

• কম্বলারম্বপা ( পদ নং- ৮):
চর্যার আট নং বৌদ্ধগানটি কম্বলারম্বপার রচিত। তিনি ইন্দ্রভূতি ও জালন্ধরীপার গুরু ছিলেন। ধারণা করা হয়, তিনি কানুপার পূর্ববর্তী এবং কুক্কুরীপা ও লুইপার (কারণ তিনি লুইপার একটি গ্রন্থের টীকা লিখে দিয়েছিলেন) সমকালীন কবি ছিলেন। এ ক্ষেত্রে তার সময়কাল আনুমানিক ৭৫০ শতকের দিকে। এবং জীবৎকাল ৮৪০ অবধি। বেশিরভাগ ঐতিহাসিক মনে করেন, কম্বলারম্বপা কঙ্কারামের বা কঙ্করের রাজপুত্র ছিলেন। এবং দেবপালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন। অবশ্য অন্য অনেকে মনে করেন- তিনি উড়িষ্যা কিংবা পূর্ব-ভারতবাসী (কার্দিয়ের মতে) ছিলেন। তিনি চর্যায় ভিক্ষু ও সিদ্ধা হিশেবে পরিচিত।

প্রচীন বাঙলায় তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কাব্য রচনা করেন। লোকজীবনের বিভিন্ন জীবন গাঁথা তার কাব্যের অলঙ্কারে বিশেষ শিল্পসুষমারূপ লাভ করেছে। তার রচিত ৮ নং পদটির সংক্ষিপ্ত অংশ হলো-

সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।
গেলী জাম বাহুড়ই কইসে ।
ঘুন্টি উপাড়ী মেলিলি কাচ্ছি।
বাহতু কামলি সদ্গুরু পুচ্ছি।
মাঙ্গত চড়হিলে চউদিস চাহঅ।
কেডুআল নাহি কেঁ কি বাহবকে পারঅ॥
বাম দাহিণ চাপী মিলি মিলি মাঙ্গা।
বাচত মিলিল মহাসুহ সাঙ্গা।

আধুনিক বাংলা:
'আমার করুণা-নৌকা সোনায় ভর্তি রয়েছে; তাতে রূপা রাখার ঠাঁই নেই। ওরে কম্বলি পা, গগনের (নির্বাণের) উদ্দেশ্যে তুমি বেয়ে চলো; যে জন্ম গেছে সে ফিরবে কি করে? (নৌকা বাইতে গিয়ে) খুঁটি উপড়ে ফেলো, কাছি মেলে দাও। সদগুরুকে জিজ্ঞেস করো, হে কম্বলি পা, তুমি বেয়ে যাও। পথে বেরিয়ে দুনিয়ার পাঠক এক হও! চারদিকে চেয়ে এগিয়ো; কেড়ুয়াল ছাড়া কেউ কি বাইতে পারে? বাম-ডানে চেপে পথ বেয়ে গেলে ঐ পথেই মহাসুখের সঙ্গে মিলে যাবে।'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৩.
কাহ্নপা রচিত কত নং পদটি পাওয়া যায় নি?
  1. ১২নং
  2. ২৪নং
  3. ১৮নং
  4. ৪৫নং
ব্যাখ্যা

 কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন - কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায় নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২ টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
আলি এঁ কালি এঁ বাট রুন্ধেলা। তা দেখি কাহ্ন বিমনা ভইলা।" উক্তিটি কার রচনা ?
  1. শান্তিপা 
  2. ভুসুকুপা
  3. শবরপা
  4. কাহ্নপা 
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
-
তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
তাঁর নামে প্রচলিত কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে:
-কাহ্নপাদগীতিকা,
- শ্রীহেবজ্রপঞ্জিকা যোগরত্নমালা,
- হেবজ্রসাধন তত্ত্বোদ্যোৎকর,
- বহেবজ্রপদ্ধতি মন্ডলবিধি ইত্যাদি।

কাহ্ন পা রচিত চর্যাগীতির একটি নিদর্শন:
এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ ॥
কাহ্ল বিলসঅ আসব মাতা ৷
সহজ নলিনীবণ পইসি নিবিতা ॥
জিম জিম করিণা করিণিরে রিসঅ ।
তিম তিম তথতা মঅগল বরিসঅ ॥
ছড়গই সঅল সহাবে সুধ ।
ভাবাভাব বলাগ ন ছুধা ।।
দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসে।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ ॥ 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫.
এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ ॥ - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. শান্তিপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
• এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ ॥ চরণটির রচয়িতা- কাহ্নপা। 

কাহ্নপা:

- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

কাহ্ন পা রচিত চর্যাগীতির একটি নিদর্শন:

এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ॥
কাহ বিলসঅ আসব মাতা।
সহজ নলিনীবণ পইসি নিবিতা ॥
জিম জিম করিণা করিণিরে রিসঅ।
তিম তিম তথতা মঅগল বরিসঅ॥ ছড়গই সঅল সহাবে সুধ।
ভাবাভাব বলাগ ন দুধ।
দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসে।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসে॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
বাংলা সাহিত্যের আদি গ্রন্থ চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. তারকনাথ পা 
  2. দারিক পা
  3. আর্যদেব পা
  4. মহীধর পা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি নন-  তারকনাথ পা। 
- তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বাঙালি লেখক। 

--------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের - একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদের কবিগণ হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা,  মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ  সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী? 
  1. The origin and development of the bengali language
  2. History of Ancient Benga
  3. Buddhist Mystic Songs
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫–১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট বাঙালি ভাষাবিদ, বহুভাষাবিদ পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- বাংলা ভাষা গবেষণায় তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাহসী অগ্রদূতদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত।
- তিনি চর্যাপদ বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ Buddhist Mystic Songs সম্পাদনা ও অনুবাদ করেন। 
- এটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি চর্যাপদের অনুবাদ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ মূলত বাংলা ভাষায় রচিত।
- এছাড়াও চর্যাপদ নিয়ে তিনি আরও নানা গবেষণামূলক কাজ করেন।
------------------------------------
উল্লেখ্য,
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন। 
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’, অর্থাৎ রূপক ও সংকেতধর্মী।
- এতে ধর্মীয় ভাবধারা, লৌকিক জীবনের সরল চিত্র এবং নৈতিক শিক্ষা ফুটে ওঠে। 

- চর্যাপদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষক ও প্রকাশনা:
• আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই ছিলেন যৌথভাবে প্রাচীনযুগের চর্যাপদ বিষয়ক চর্যাগীতিকা নামক সাহিত্যকর্ম সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন।
• মনীন্দ্রমোহন বসু – চর্যাপদের প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করে।
• আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই – “চর্যাগীতিকা” যৌথভাবে সম্পাদনা।
• সৈয়দ মুহম্মদ শাহেদ – “নতুন চর্যাপদ” প্রকাশ।
•“বাঙালীর ইতিহাস (আদি পর্ব)” – ড. নীহাররঞ্জন রায়। 
• “History of Ancient Bengal” – রমেশচন্দ্র মজুমদার।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা । 

১৮.
চর্যাপদের কোন পদকর্তা 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে লিখতেন?
  1. ক) কুক্কুরীপা
  2. খ) কাহ্নপা
  3. গ) কঙ্কণপা
  4. ঘ) কম্বলাম্বরপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা- 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে লিখতেন।

• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন শজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন।  
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
'চর্যাগীতি পদাবলী' চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার সেন
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ।
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
• চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
• এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন।
• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

চর্যাপদের পদসংখ্যা নিয়ে মতান্তর রয়েছে:
• সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১ নং পদের ব্যাখ্যা করেন নি।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মত বিরোধের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২০.
”চর্যাপদ” মূলত কোন ভাষার আদলে রচিত?
  1. প্রাকৃত
  2. পালি
  3. অপভ্রংশ
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন পণ্ডিতের মতে:
• পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। যদিও অনেকের ভাষায় একটু-আধটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তবুও চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে উল্লেখ করেছেন। এ অভিমতের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি উপস্থাপন করেন নি। অন্যদিকে, সব পণ্ডিত যে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করেছেন এমন নয়।

• ভাষাতাত্ত্বিক বিজয়চন্দ্র মজুমদার এ বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলা যাবে না। তাতে হিন্দি ও ওড়িয়া আছে। এটি মিশ্র ভাষা হিসেবে পরিচিত হতে পারে।

• ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতির ভাষা নিয়ে প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক বিশদ আলোচনা করেন দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রন্থে। তিনি তাতে সুস্পষ্টভাবে এ অভিমত দেন যে, চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে। যেমন: আইসন, জইসন, জিম, তিম ইত্যাদি পুরোপুরি বাংলার রূপ পাচ্ছিল না। কেননা চর্যাগীতিগুলো যখন রচিত হয় তখন বাংলা ভাষা পুরোপুরি অপভ্রংশের খোলস ত্যাগ করতে পারে নি।

• সুনীতিকুমারের মতকে সুকুমার সেন সমর্থন করে চর্যাগীতির ভাষাকে বাংলা বলেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি শৌরসেনী প্রভাবের বদলে অবহট্ঠের প্রভাবের পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অসমিয়া ভাষীদের দাবিও অযৌক্তিক নয়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক। 

২১.
চর্যাপদে তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ভুসুকুপা
  3. সরহপা
  4. বিরুপা
ব্যাখ্যা
সরহপা:
- সরহপা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন। তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তিনি চর্যাপদে তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত পদ গুলো - (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী। তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

অন্যদিকে,
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।
- বিরুপা রচিত পদ - ১টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন কী নামে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) ডাকার্ণব ও দোহাকোষ
  3. গ) বৌদ্ধগান ও দোহাকোষ
  4. ঘ) হাজার বছরের পুরাণ বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
ব্যাখ্যা
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে  চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে “হাজার বছরের পুরাণ বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে চর্যাপদসহ আরো তিনটি পুঁথি একত্রে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদ ছাড়াও ছিল, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডার্কাণব।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
-  ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৩.
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের কোন তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন?
  1. ছন্দের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের
  2. ধর্মতত্ত্বের
  3. সহজযান প্রসঙ্গে অন্তর্নিহিত তত্ত্বের
  4. তিব্বতি অনুবাদ তত্ত্বের
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৪.
সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. কীর্তিচন্দ্র
  3. মুনিদত্ত
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা:
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা যুক্ত করা হয়েছে। পুঁথিটি খণ্ডিত ছিল বলে টীকাকারের নাম পাওয়া যায় নি। পরে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী একই সংকলনের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তাতে টীকাকার হিসেবে মুনিদত্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবিষ্কৃত পুঁথিটি মুনিদত্তের মূল সংকলন গ্রন্থ নয়-এটি ছিল অনুলিপি অথবা অনুলিপির অনুলিপি।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন
চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২৫.
চর্যাগীতি-সংগ্রহের প্রথম কবি কে?
  1. সবরপা 
  2. লুইপা 
  3. কাহ্নপা 
  4. শবরপা 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি:
- চর্যাগীতি-সংগ্রহের প্রথম কবি লুই। শুধু পদসংখ্যার ক্রমানুসারেই নয়, তিব্বতী ঐতিহ্যে যে ৮৪ জন সিদ্ধাচার্যের নাম পাওয়া যায় লুই তাঁদের মধ্যেও আদিতম।

- নাথ ধর্মের ঐতিহ্যেও এই সিদ্ধগণ স্বীকৃত। সেক্ষেত্রে অবশ্য আদিসিদ্ধ মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। লুই শব্দটি সম্ভবত রোহিত শব্দ থেকে সৃষ্ট (রোহিত>রুইলুই), এই ব্যুৎপত্তি থেকে মীননাথের সঙ্গে লুইয়ের অর্থগত সঙ্গতি পাওয়া যায়। সুম্পা রচিত Pag samjon Zans (রচনাকাল ১৭৪৭ খ্রীঃ) -এ লুইকে শবরীপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মৎস্যের সঙ্গে নামের সংযোগের জন্যই বোধহয় এই সিদ্ধান্ত।

- তিব্বতী অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের তিনখানা বইয়ের নাম পাওয়া যায় 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্বঙ্গভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টি নাম'। প্রথম দুটি বই বিশুদ্ধ বৌদ্ধদর্শনের, তৃতীয়টি দোহা ও গানের কোষগ্রন্থ। অন্যান্য চর্যাকারদের মধ্যে কেউ কেউ গান ছাড়াও অন্য বই লিখেছেন, কিন্তু সেগুলি বৌদ্ধ তন্ত্রবিষয়ক, বিশুদ্ধ দর্শনের নয়। বাংলাদেশে যখন বৌদ্ধতন্ত্রধর্ম ব্যাপ্তি লাভ করেছিল তখন আচারের চেয়ে বিশুদ্ধ দর্শনচর্চা অনেকটা অপ্রচলিত হয়ে পড়েছিল। এদিক থেকেও বোঝা যায় যে লুই সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের গোড়ার দিককার লোক।

উৎস: চর্যাগীতি পরিক্রমা, ড. নির্মল দাশ। 

২৬.
কোথায় চর্যাপদ প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. সংস্কৃত কলেজ
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

২৭.
ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে প্রাচীনযুগের ব্যপ্তি ছিল-    
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৬৫০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৯৫০-১২০১ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

ড. শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- ড. শহীদুল্লাহ ধারনা করেন, বাংলা সাহিত্য সুদীর্ঘ হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস বহন করে।
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে:

• প্রাচীন যুগ (৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) – 
- এই যুগে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে এবং সাহিত্য নিদর্শন হিসেবে মূলত চর্যাপদ পাওয়া যায়।

• মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) –
- তুর্কি আক্রমণের পর থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে গণ্য।

• আধুনিক যুগ (১৮০১–বর্তমান) –
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়কাল আধুনিক যুগ হিসেবে বিবেচিত।

• ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৫০ বছর।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল ১২০১–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বা বন্ধ্যা যুগ চলেছিল ১২০১–১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- এই প্রায় ১৫০ বছরের সময়কালকে তুর্কি আক্রমণের পরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির অভাবের কারণে এই যুগকে অন্ধকার যুগ বলা হয়।
--------------------------
অন্যদিকে,
- সুনিতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল ৯৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৮.
কোথায় থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করা হয়?
  1. ক) বয়েল লাইব্রেরী
  2. খ) গোয়ালঘর
  3. গ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া
  4. ঘ) রয়েল লাইব্রেরী
ব্যাখ্যা
নেপালের রয়েল লাইব্রেরী থেকে ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
কোন শাসকদের সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়?
  1. তুর্কী
  2. মুঘল
  3. গুপ্ত
  4. পাল
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:
-  ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলাদেশ অধিকার করেন।
- পরবর্তী দেড়শ বছর রাজনৈতিক আলোড়নের জন্য কোন সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব হয়নি বলে অনেকের ধারণা।
- তাই অনেকে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়টুকুকে যুগসন্ধি বা অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- এ যুগের প্রাপ্ত নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৩শ-১৪শ শতকের রামাই পন্ডিতের গাথাজাতীয় রচনা শূন্যপুরাণ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩০.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তার কোন গ্রন্থে উল্লেখ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. ক) Buddhist Mystic Songs
  2. খ) Languages and Literatures of Modern India
  3. গ) The Origin and Development of the Bengali Language
  4. ঘ) The Origin and Development of India
ব্যাখ্যা

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত 'The Origin and Development of the Bengali Language' (বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ) নামক গ্রন্থে প্রথম প্রমাণসহ উল্লেখ করেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ 'Buddhist Mystic Songs' প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩১.
ভাষা আলোচনাক্রমে চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম স্বীকৃতি দেন-
  1. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. সুকুমার সেন
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ - বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ।অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
-  বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান - ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩২.
কোন পণ্ডিত চর্যাপদের পদগুলোকে টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন?
  1. ডাকার্ণব
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
- চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।
৩৩.
ভাষা আলোচনা করে কে প্রথম স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪.
'হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী' পদটির রচয়িতা কে?
  1. সরহপা
  2. ভুসুকুপা
  3. সরহপা
  4. ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য গুলো হলঃ
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য সংকলন (কাব্যগ্রন্থ) -
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. সেক শুভোদয়া
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
 চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের অন্য নাম কী?
  1. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  2. চর্যাগীতিকা
  3. চর্যাগীতিকোষ
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন।
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’, অর্থাৎ রূপক ও সংকেতধর্মী।
- এতে ধর্মীয় ভাবধারা, লৌকিক জীবনের সরল চিত্র এবং নৈতিক শিক্ষা ফুটে ওঠে। 

- চর্যাপদের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৮৮২ সালে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের Sanskrit Buddhist Literature in Nepal বইয়ে।
- এটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর dara আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে।
- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ১৯১৬ সালে এটি প্রকাশ করে, তখন প্রথম প্রকাশের নাম ছিল “হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা।”
- চর্যা অর্থ আচরণ।

- চর্যাপদের বিভিন্ন নাম আছে— চর্যাগীতিকা, চর্যাগীতিকোষ।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাপদের নাম "চর্যাচর্যবিনিশ্চয়"- এর অর্থ 'কোনোটি আচরণীয় কোনোটি আচরণীয় নয়'।
- সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের নাম 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়- এর অর্থ 'আশ্চর্য জীবনাচরণ'।
- আধুনিক পণ্ডিতের মতে চর্যাপদের নাম- চর্যাগীতিকোষ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩৭.
'সান্ধ্য ভাষা' কোন গ্রন্থের সাথে সম্পর্কিত?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. রামায়ণ
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮.
চর্যাপদের রচয়িতা কারা ছিলেন? 
  1. বৈষ্ণব কবিগণ
  2. ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণ
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. শাক্ত কবিগণ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন - বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৩৯.
চর্যাপদের কোন কোন পদ সম্পূর্ণরূপে পাওয়া যায়নি?
  1. ২৩, ২৫ ও ৪৮ নং পদ 
  2. ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ 
  3. ২৫, ২৬ ও ৪৮ নং পদ 
  4. ২৩, ২৪ ও ৪৮ নং পদ 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ মূলত কয়েকটি প্রাচীন কবিতা বা গানের একটি সংকলন। 
- চর্যাপদ সান্ধ্য ভাষায় রচিত।
- সান্ধ্য ভাষা বলতে সেই ভাষাকে বোঝানো হয় যার কোনো স্থির বা নির্দিষ্ট রূপ নেই এবং যার অর্থ একাধিক স্তরে ব্যাখ্যা করা যায়—ঠিক আলো ও আঁধারের সংমিশ্রণের মতো। এই দ্ব্যর্থবোধক ও রহস্যময় বৈশিষ্ট্যের কারণেই পণ্ডিতরা একে ‘সন্ধ্যা’ বা ‘সান্ধ্য’ ভাষা নামে অভিহিত করেছেন।
- চর্যাপদ বিভিন্ন নামে পরিচিত;
- যেমন- “আশ্চর্য চর্যাচয়”, “চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়”, “চর্য্যাশ্চর্য্যবিনিশ্চয়” এবং “চর্যাগীতিকোষ”

- চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা মূলত ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেন মনে করেন  চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা ৫১টি।
- বর্তমানে উদ্ধারকৃত পদসংখ্যা সাড়ে ছেচল্লিশ (৪৬.৫)।
- এবং অনুদ্ধারকৃত বা হারানো পদ সংখ্যা সাড়ে তিন (৩.৫)। 

- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের কবি সংখ্যা ২৩ জন। 
- আর ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে পদকর্তার সংখ্যা ২৪ জন।

- চর্যাপদের মধ্যে ২৪, ২৫ ও ৪৮ নম্বর পদ সম্পূর্ণরূপে পাওয়া যায়নি।
- এর মধ্যে ২৪ নম্বর পদের রচয়িতা কাহ্নপা।
- ২৫ নম্বর পদের রচয়িতা তন্ত্রীপা।
- এবং ৪৮ নম্বর পদের রচয়িতা কুক্কুরীপা।
- এছাড়া ভুসুকুপা রচিত ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া গেছে—এই পদের মোট ৬টি পঙক্তি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অবশিষ্ট ৪টি পঙক্তি আর পাওয়া যায়নি।

- চর্যাপদে বিভিন্ন কবি কতগুলি পদ রচনা করেছেন তা নিম্নরূপ:
- সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা, মোট ১৩টি (পাওয়া গেছে ১২টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেছেন ভুসুকুপা, মোট ৮টি।
- তৃতীয় স্থানে সরহপা ৪টি পদ রচনা করেছেন।
- লুইপা, শান্তিপা, এবং শবরপা প্রতিজন ২টি করে পদ রচনা করেছেন।
- অন্য বাকি পদকর্তারা প্রত্যেকে ১টি করে পদ রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪০.
সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন কে?
  1. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ (ধর্ম চর্চা)।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। অপরদিকে ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১.
''দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই।
রুখের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাঅ।।'' - পদটির রচয়িতা কে?
  1. সরহপা
  2. কুক্কুরিপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• কুক্কুরি পা ৩টি পদ রচনা করেছেন।
- তিনি ২, ২০ ও ৪৮ নং পদ রচনা করেন।
- ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদের ২নং পদের রচয়িতা কুক্কুরী পা।
পদটি হলো:
“দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই।
রুখের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাঅ।।”

অর্থ্যাৎ,
"মাদী কাছিম দোহন করে দুধ পাত্রে রাখা যাচ্ছে না।
গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।"

-------------------- 
• চর্যাপদের সর্বাধিক পদরচয়িতা কাহ্নপা
- পদ রচনার সংখ্যাধিক্যের কারণে তাকে চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়।
- তিনি রচনা করেছেন ১৩টি পদ।
- তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদরচয়িতা ভুসুকুপা
- তিনি ৮টি পদ রচনা করেছেন।

• চর্যাপদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা সরহপা
- তিনি মোট ৪টি পদ রচনা করেন - ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯ সংখ্যাক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪২.
খনার বচন এর মূলভাব কি?
  1. ক) শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
  2. খ) সামাজিক মঙ্গলবােধ
  3. গ) রাষ্ট্রপরিচালনার নীতি
  4. ঘ) লৌকিক প্রণয়সঙ্গীত
ব্যাখ্যা

খনার বচনঃ
খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি। বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

- ডাকের বচন ‘ডাকের কথা’ বা ‘ডাক পুরুষের কথা’ নামেও পরিচিত। ডাক তাঁর বচনকে ‘ডাকর কথা’ বলেছেন, চাকমা ভাষায় যা ‘দাগর কধা’ নামে পরিচিত।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- বৌদ্ধ সমাজে যেমন ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিল তেমনি হিন্দু সমাজে খনার বচনের সৃষ্টি হয়েছিল। আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

- বচন লোকসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় শাখা। এর স্বতন্ত্র একটা প্রকৃতি, কাব্যরস ও গীতিধর্মিতা আছে। ডাক ও খনার বচনে মাঝে মাঝে ভণিতা আছে, যা লোকসাহিত্যের অন্য শাখায় সচরাচর লক্ষ করা যায় না।
- বচনে প্রাত্যহিক জীবনের মূল্যবান নীতিমালা ও নির্দেশনা পাওয়া যায়। খনার বচনের বর্তমান ভাষা তার মূল ভাষা নয়, তবে লীলাবতী আর্যার ভাষা অনেকটা মূল ভাষার কাছাকাছি।
- বাংলা ও অন্যান্য ভাষার তুলনীয় বচন-প্রবচন বিশ্লেষণ করে একটি নব ভাষাতাত্ত্বিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। অন্যান্য প্রাদেশিক ভাষায় খনার বচনের অনুপ্রবেশের প্রধান কারণ কৃষিবিজ্ঞান। কৃষিপ্রধান বঙ্গদেশে ডাকের কথা ও খনার বচন প্রাচীন বাংলা ও আসামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বুনিয়াদ রচনা করেছিল।

- ডাকের কথায় নীতিকথা বেশি।
অন্যদিকে,
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যাতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ 'চর্যাপদ' এর রচনা কাল?
  1. ক) অষ্টম থেকে নবম শতক
  2. খ) নবম থেকে দশম শতক
  3. গ) দশম শতকের মধ্যভাগ থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে
  4. ঘ) দ্বাদশ শতক থেকে চতুর্দশ শতক
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ বা গ্রন্থ। 
- এটি রচিত হয়েছিল দশম শতকের মধ্যভাগ থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে। 
-
চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

[উৎস: লাল নীল দীপাবলি , হুমায়ুন আজাদ] 
৪৪.
চর্যাপদের তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কে?
  1. মুনিদত্ত
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. কীর্তিচন্দ্র
  4. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ্‌ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

উল্লেখ্য, 
- প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন ১৯৩৮ সালে।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৫.
চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?
  1. লুইপা
  2. শবর
  3. কাহ্নপা
  4. ডোম্বী
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা। তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

• কাহ্নপা:
- তিনি চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচয়িতা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন। তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪৬.
'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর অর্থ কী?
  1. কোনটি চরাচরের, আর কোনটি নয়
  2. কোনটি চর্যাগান, আর কোনটি নয়
  3. কোনটি আচার্যের, আর কোনটি নয়
  4. আচরণীয় ও অনাচরণীয় বিষয়সমূহের সিদ্ধান্ত
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের মূল নাম হল ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।

• চর্যাচর্য (বিশেষ্য),
অর্থ: আচরণীয় ও অনাচরণীয়; পালনীয় ও বর্জনীয়।

• বিনিশ্চয় বিশেষ্য),
অর্থ: স্থির সিদ্ধান্ত; সম্যক নির্ধারণ; সন্দেহাতীত বা নিশ্চয়াত্মক সিদ্ধান্ত।

• সুতরাং, সে হিসেব চর্যাচর্যবিনিশ্চয় অর্থ হয়- কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি অনাচরণীয় এটি যে গ্রন্থে বা যে সমস্ত গীতিকবিতায় স্থির করা হয়েছে।

উৎস: অভিগম্য বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭.
মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ‘চর্যাপদে’র পদ সংখ্যা-
  1. ক) ৪৬টি
  2. খ) ৪৭টি
  3. গ) ৫০টি
  4. ঘ) ৫২টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ
- চর্যাপদ হচ্ছে গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচেছ বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতাবিরোধ আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি পদ এবং মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন ৫০টি পদ। চর্যাপদ ছিন্নবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮.
চর্যার কবি ডোম্বীপা ছিলেন-
  1. ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা
  2. তাঁতি
  3. জেলে
  4. নৌকার মাঝি
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯.
চর্যাপদের আবিষ্কারক কে?
  1. সুকুমার সেন
  2. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের আবিষ্কারক হচ্ছেন ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ (ধর্ম চর্চা)।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য সংকলন কোনটি?
  1. বৈষ্ণব পদাবলি
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৫১.
বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য সংকলন 'চর্যাপদ' -এর আবিষ্কারক-
  1. ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ডক্টর সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৫২.
'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৩.
'চর্যাপদ' যে বাংলা ভাষায় রচিত এটি প্রথম কে প্রমাণ করেন?
  1. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ড. এনামুল হক 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।

- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে। চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

চর্যাপদ বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৫৪.
কত সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন?
  1. ১৯৩৮ সালে 
  2. ১৯২৭ সালে 
  3. ১৯৩৯ সালে 
  4. ১৯৩২ সালে 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৫.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল কোনটি? 
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৯৭০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১২০১-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ  
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ছিলেন শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুনীতিকুমার বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০-এর বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো Origin and Development of the Bengali Language।
- তিনি ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছিল।
- তাঁর গ্রন্থ Origin and Development of Bengali Language (ODBL)-এ এই সময়কালকে মুসলমান পূর্ব যুগ বা প্রাচীন যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এই সময়ের প্রধান সাহিত্যিক নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

- যদিও কিছু গবেষক, যেমন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে প্রাচীন যুগের বিস্তারকাল ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ হিসেবে ধরা হয়েছে। 
- তবু ড. সুনীতিকুমারের মতটি ৯৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দকে অধিক স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট মনে করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫৬.
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।" - পদটি রচনা করে কে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. মহীধরপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন। ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি:

"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭.
খনার বচনের মূল বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. ইতিহাস
  2. রাজনীতি
  3. ধর্মীয় কাহিনি
  4. কৃষি ও আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
খনার বচনের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে কৃষি ও আবহাওয়া।

• ডাক ও খনার বচন
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- বিষয় হিসেবে ডাক ও খনার বচন পুরানো এবং ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ছড়া জাতীয় এসব রচনায় এদেশের আবহাওয়া ও কৃষি সম্পর্কিত বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতার রূপায়ণ ঘটেছে।
- এসবের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে নীতিকথা ও বহুদর্শী উপদেশ।
- ডাক নামে কোন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন কিনা জানা যায় নি।
- সাধারণত প্রাচীন আমলের এক শ্রেণির বৌদ্ধতান্ত্রিক সাধককে ডাক বলা হত।
- প্রাচীন যুগের ফলিত জ্যোতিষ ও কৃষি-বিষয়ক অভিজ্ঞতা এসব বচনের মধ্যে ছড়ার আকারে প্রচলিত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসছে।
- উড়িষ্যা অঞ্চলেও কিছু ডাকের বচন রচিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
৫৮.
চর্যাপদের কত নম্বর পদ শবরপা রচনা করেছেন?
  1. ১২ ও ২০ নং পদ 
  2. ২৮ ও ৫০ নং পদ 
  3. ৪৮ ও ৫০ নং পদ 
  4. ২ ও ৫০ নং পদ  
ব্যাখ্যা

• শবরপা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের প্রাচীনতম কবি শবরপা।
- শহীদুল্লাহর মতে তিনি বাংলাদেশের লোক ছিলেন।
- শবরপা নাগর্জুনের শিষ্য ছিলেন।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ ভাষা মিলিয়ে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নম্বর পদের রচয়িতা শবরপা।
- ড. শহীদুল্লাহ শবরপাকে লুইপার গুরু হিসেবে মনে করেন।

৫৯.
'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী'- পদটি কার রচনা?
  1. ঢেগুণপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. বীণাপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তার রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের সাথে আরো কয়টি পুঁথি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে (৩য় বার) নেপালে গিয়ে রাজদরবারের 'নেপাল রয়্যাল লাইব্রেরি' থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। এ সময় তিনি চর্যাপদের সাথে 'সরহপাদের দোহা', 'কাহ্নপাদের দোহা' ও ‘ডাকার্ণব' নামে আরাে তিনটি পুঁথি আবিষ্কার করেন। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬১.
কোন ব্যক্তি সম্প্রতি ''নতুন চর্যাপদ'' আবিষ্কার করেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
  3. গ) ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
নতুন চর্যাপদ
সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ

⇒ নতুন চর্যাপদে সংকলিত মূলত বজ্রযানী দেবদেবীর আরাধনার গীত। এসব পদে তান্ত্রিক নানা দেবদেবীর রূপসৌন্দর্য, মুখ ও বাহুর বর্ণনা, তাঁদের আসন, মুদ্রা ও দেহভঙ্গি, তাঁদের আভরণ ও আয়ুধ ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য ও বর্ণনা আছে।
দীর্ঘ শ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে গবেষক এসবের ঋদ্ধ পরিচয় তুলে ধরেছেন। এ-কাজ করতে গিয়ে গবেষক লক্ষ করেন যে, বিভিন্ন পাঠে কেবল যে পাঠান্তর আছে তা নয়, অনেক পাঠে পুনরাবৃত্তিও রয়েছে।
তাছাড়া অনেক চর্যাপদের পুরোভাগে পদকর্তার নাম থাকলেও বেশকিছু পদের পদকর্তার নাম পাওয়া যায়নি।
বেশকিছু চর্যাপদের রচনাকাল নির্ণয় করতে না পারায় সেগুলোর কালানুক্রমিক বিন্যাসও সম্ভব হয়নি।
সেজন্য গবেষক ৩৩৫টি চর্যাপদের পা-লিপি তৈরি করে সেগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সন্নিবেশ করেছেন।


উৎস: নতুন চর্যাপদ।
৬২.
‘কৃষ্ণচর্য’ ছদ্মনামে পদ লিখতেন চর্যাপদের কোন কবি?
  1. শবরপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. তন্ত্রীপা
ব্যাখ্যা
⇒ কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- কাহ্নপা সর্বমোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কবি এবং সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল : ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- তাঁর রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা-
  1. ক) ব্রজবুলি
  2. খ) জগাখিচুড়ি
  3. গ) সন্ধ্যাভাষা
  4. ঘ) বঙ্গ-কামরূপী
ব্যাখ্যা
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষাকে প্রাচীন বাংলা বা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী ভাষা বলা যায়। তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ স্বীকার করেছেন চর্যাপদের ওপর অসমীয়দের দাবিও যৌক্তিক। কারণ ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলা ও অসমীয়া ভাষার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য ছিল না। তাই চর্যার ভাষাকে বঙ্গকামরূপী ভাষা বলাই সঙ্গত।
সাধারণত, চর্যাপদ এর ভাষাকে বলা হয় সন্ধ্যাভাষা বা আলো-আধাঁরী ভাষা।
৬৪.
চর্যাপদের পুঁথির সূচনায় প্রাপ্ত সংস্কৃত শ্লোকের ইঙ্গিত অনুসারে এর মূল নাম কী?
  1. বৌদ্ধগান ও দোহা
  2. চর্যাগীতিকোষ
  3. সহজিয়া গীতি
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫.
চর্যাপদের কবি ধর্মপা'র গুরু ছিলেন কে?
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. বীণাপা
  4. বিরুপা
ব্যাখ্যা
ধর্মপা:
- খ্রিষ্টীয় নবম শতকে বিক্রমশীলায় তাঁর অবস্থান ছিল।
- তাঁর গুরু ছিলেন - কাহ্নপা
- চর্যাপদের ৪৭নং পদ তাঁর রচনা।
- এই পদের বিশেষত্ব - এখানে অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকে গভীর যোগতত্ত্বের কথা আছে।
 
চর্যাপদ: 
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। 
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কত বারের চেষ্টায় চর্যাপদ আবিষ্কারে সফল হন?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) ৪র্থ
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ৩য় বারের চেষ্টায় চর্যাপদ আবিষ্কারে সফল হন। প্রথম দুইবার তিনি ব্যর্থ হন। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭.
'চর্যার ভাষাকে প্রাচীন বাংলা কিংবা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী ভাষা বলাই সঙ্গত'- চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে উক্তিটি করন-
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  4. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের ভাষা বিষয়ক আলোচনা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। চর্যাগীতির বৈয়াকরণ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে দেখালেন- চর্যাপদ বাংলা নিশ্চয়ই, বাংলার প্রায় মূর্তি অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপ।

- চর্যায় নাসিক্যধ্বনির প্রাধান্য ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে কেউ কেউ এ ভাষাকে পশ্চিমবঙ্গের মনে করেন। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র মতে- চর্যার ভাষাকে প্রাচীন বাংলা কিংবা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী ভাষা বলাই সঙ্গত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৮.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের মোট পদ সংখ্যা কতটি?
  1. ৫২টি
  2. ৪৯টি
  3. ৫১টি
  4. ৫০টি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি। তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন। ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন। চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৯.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী, হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী।'- লাইনটি কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) লোকসাহিত্য
  2. খ) ব্রজবুলি
  3. গ) চর্যাপদ
  4. ঘ) বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী, হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী।'- লাইনটি 'চর্যাপদ' অন্তর্ভুক্ত। 

'ঢেণ্ডণপা' চর্যাপদের ৩৩ নং পদে এই লাইনটি রচনা করেছেন। 
এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে ।

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাই নাঁহি নিতি আবেশী।।’

অর্থাৎ, লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভীড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০.
প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তিকাল ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ - এই মত সমর্থন করেন না কে?
  1. দীনেশ্চন্দ্র সেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. সুকুমার সেন
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তিকাল ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ নয়।

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে -
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
• মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
• আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

- দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহম্মদ এনামুল হক প্রমুখের যুগ-সম্পর্কিত অভিমত উল্লিখিত যুগবিভাগকে সমর্থন করে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মধ্য ও আধুনিক যুগের এই সময় মেনে নিলেও, তাঁর মতে, প্রাচীন যুগের সময়সীমা - ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ

• যুগের এই তিনটি ভাগের মধ্যে আবার ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে অন্ধকার যুগ বলে।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১.
'এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ। বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ।। কাহ্ণ বিলসঅ আসব মাতা। '- চর্যাগীতিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ভুসুকুপা
  2. খ) কাহ্নপা
  3. গ) কুক্কুরী পা
  4. ঘ) ডোম্বী পা
ব্যাখ্যা
চর্যাগীতিটির রচয়িতা- কাহ্নপা

কাহ্নপা রচিত চর্যাগীতির নিদর্শন:
'এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ।।
কাহ্ণ বিলসঅ আসব মাতা। 
- আধুনিক বাংলায় এর অর্থ: এবংকার দৃঢ় বন্ধনস্তম্ভ মথিত করে, বিবিধ ব্যাপক বন্ধন ভেঙে ফেলে আসবমত্ত কানু বিলাস করে। 

কাহ্ন পাদ:
- চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ রচয়িতা। 
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক,
- মোট ১৩টি। কিন্তু তার মধ্যে ১২ টি পদ পাওয়া যায়। 
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- অন্যান্য পদকর্তার মতো কাহ্নপাও সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২.
চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যের দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ভুসুকুপা 
  3. কাহ্নপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৩.
কে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন?
  1. ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
ব্যাখ্যা

 চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

৭৪.
“হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন” দ্বারা কোন অর্থ বোঝানো হয়?
  1. যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই
  2. সবসময় ধৈর্যধারণ করতে হয়
  3. পরিশ্রমের মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেলে
  4. অপরের সহায়তা ছাড়া কিছু সম্ভব নয়
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

• 'হাতের কাঙ্কন মা লোউ দাপন'- পদটির রচয়িতা সরহপা।
- এটি সরহপা-রচিত ৩২ নং পদ।
- প্রবাদটি বোঝায় যে, যেটা স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ, তার জন্য আলাদা কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
-------------------------------------
প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, যা নৈতিক শিক্ষা এবং জীবনমুখী বার্তা সমৃদ্ধ।
- এতে মোট ৬টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যা সহজবোধ্য ভাষায় জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রদান করে।
- এই প্রবাদগুলো হলো:
• আপণা মাংসে হরিণা বৈরী – নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় – একবার যা হয়েছে, তা ফেরানো যায় না।
হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন – যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী – যা নেই, তা আশা করা অর্থহীন।
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ – আমার দোষ নয়, অপরের; নিজেকে নির্দোষ ধরা।
• আন চাহন্তে আন বিনধা – অন্য কিছু চাইতে গিয়ে অন্য কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া বা ঘটে যাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭৫.
ডোম্বীপার গুরু কে ছিলেন?
  1. ভুসুকুপা
  2. বিরুপা
  3. লুইপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা।
- তার গুরু ছিলেন বিরুপা।
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৬.
চর্যাপদের কোন কবি দারিকপার শিষ্য ছিলেন বলে অনুমান করা হয়?
  1. কঙ্কণপা
  2. আর্যদেবপা
  3. চাটিল্লপা
  4. তাড়কপা
ব্যাখ্যা
কঙ্কণপা:
- বৌদ্ধধর্মে দীক্ষাগ্রহণের পূর্বে কঙ্কণপা বিষ্ণুনগরের রাজা ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের ৪৪ নং পদটির রচয়িতা।
- গবেষকদের মতে তিনি ৯৮০ থেকে ১১২০ খ্রিস্টাব্দ অবধি জীবিত ছিলেন।
- কঙ্কণপার লেখায় বাংলার সঙ্গে ব্যাকরণের কিছু অপভ্রাংশের রূপ পাওয়া যায়।
- তিনি দারিকপার শিষ্য ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৭.
খনার বচনে কী প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. বিজ্ঞান
  2. ব্যবসা
  3. আবহাওয়া
  4. প্রাচীন কৃষ্টি
ব্যাখ্যা

• ডাক ও খনার বচন:
ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়। এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।
- ডাক ও খনার বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে - "কৃষি ও আবহাওয়ার" কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

• খনার বচনের একটি উদাহরণ নিম্নরূপ - 
'খাটে খাটায় লাভের গাঁতি।
তার অর্ধেক কাঁধে ছাতি।।
ঘরে বসে পুছে বাত।
তার ভাগ্যে হাভাত।।'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

৭৮.
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৭ সালে 
  2. ১৯০৯ সালে 
  3. ১৯১৬ সালে 
  4. ১৯২৩ সালে 
ব্যাখ্যা

 • চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৯.
পদ সংখ্যা অনুসারে চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয় কাকে?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. তন্ত্রীপা
ব্যাখ্যা
⇒ কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- কাহ্নপা সর্বমোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কবি এবং সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল : ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- তাঁর রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০.
মুনিদত্ত কোন ভাষায় চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন?
  1. হিন্দি
  2. সংস্কৃত
  3. বাংলা
  4. ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
- চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

চর্যাপদের পদসংখ্যা নিয়ে মতান্তর রয়েছে:
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।

- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'। যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন। সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১ নং পদের ব্যাখ্যা করেন নি। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

-  ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫ - ১৯৬৯) সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থে - 'Buddhist Mystic Songs' (১৯৬০) চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।
৮১.
সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন —
  1. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
- ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮২.
সরহপা চর্যাপদে মোট কয়টি পদ রচনা করেছেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা

সরহপা:
- সরহপা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- সরহপা চর্যাপদে তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন। তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী। তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৩.
সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে চর্যাপদের কতজন পদকর্তার উল্লেখ করেছেন?
  1. ২৩ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২১ জন
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। 

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- অন্যদিকে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৮৪.
পউআঁ খালের উল্লেখ পাওয়া যায় চর্যার কোন কবির পদে?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পউআঁ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

৪৯নং পদ-
বাজ ণাব পাড়ী পউআঁ খালেঁ বাহিউ.
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।। 
আজি ভুসুকু ভইলী। 
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালেঁ লেল।। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৮৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কতজন কবির নাম উল্লেখ করেন?
  1. ২৩ জন
  2. ২৪ জন
  3. ২৫ জন
  4. ২৬ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৬.
চর্যাপদের কবি ভুসুকুপা কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১২টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/৪১নং/৪৩নং/৪৯নং।
-  মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁউআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৭.
মুনিদত্ত সংস্কৃত ভাষায় চর্যার কত নং পদ ব্যাখ্যা করেননি?
  1. ১৫ নং 
  2. ৩৩ নং 
  3. ১১ নং 
  4. ৯ নং 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: ‘চর্যািগীতিকা’ মুহম্মদ আবদুল হাই; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৮.
'চর্যাপদ' কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প সংকলন
  2. নৃত্যনাট্য
  3. কবিতা সংকলন
  4. রূপকথার সংকলন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ / কবিতা সংকলন / গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা' বলে উল্লেখ করেছেন। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্য শেখর।
৮৯.
‘আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী।
খনহ ন ছাড়ই ভুসুকু অহেরী।।-
ভুসুকুপা রচিত পদটি চর্যার কত নং পদ?
  1. ০৬
  2. ২৭
  3. ৪৩
  4. ৪৯
ব্যাখ্যা

'আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী
খনহ ন ছাড়ই ভুসুকু আহেরী।'
-- চর্যার ৬নং পদ।

- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচিয়তা ভুসুকুপা। 
- তিনি আটটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯ নং পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা তাঁর ছদ্মনাম, প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

'আজি ভুসুকু বাঙালি ভইলি।
নিএ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'
-- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৯০.
চর্যাপদ কোথায় সংরক্ষিত ছিল?
  1. বৌদ্ধ মহাবোধি মন্দিরে
  2. তিব্বতের রাজ গ্রন্থাগারে
  3. নেপাল রাজ দরবার গ্রন্থাগারে
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায়
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, চর্যাগীতিকা , মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।
৯১.
তারানাথের মতে লুই কোথায় বাস করতেন? 
  1. নেপালে 
  2. বাংলাদেশে 
  3. তিব্বতে 
  4. উড়িষ্যায়
ব্যাখ্যা

• লুইপা: 
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না। 
- লুইপা বাঙ্গালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ। তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। 
- লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল। সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম ‘অভিসময়বিভঙ্গ।'
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন। 

• তাঁর রচিত চর্যার প্রথম পদটি হলো-

কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৯২.
চর্যাপদের কোন কবি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন?
  1. চাটিলপা
  2. বীণাপা
  3. ভাদেপা
  4. কম্বলাম্বরপা
ব্যাখ্যা
কম্বলাম্বরপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের প্রারম্ভের কবি। তিনি জালন্ধরীপার গুরু ছিলেন।
- তিনি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন, মতান্তরে তাঁর জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- তিনি চর্যাপদের ৮নং পদটি রচনা করেন।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

অন্যদিকে,
- বীণাপা: বীণাপা'র জন্ম খ্রিষ্ট্রীয় নবম শতকে, গৌড়ে।
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো। এবং শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৩.
ভুসুকু পা রচিত কতটি পদ চর্যাপদে সংগৃহীত হয়েছে?
  1. ক) ১৩
  2. খ) ৮
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে রচিত। 
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।

তাঁর রচিত চর্যাপদের নমুনা-
"কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস।।
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।
খনহ ন ছাড়অ ভুসুকু আহেরী।।" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৯৪.
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের রচনাকাল-
  1. ক) নবম থেকে দশম শতাব্দী
  2. খ) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
  3. গ) সপ্তম থেকে দশম শতাব্দী
  4. ঘ) দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা

- ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০-১২০০ (সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর) সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০-১২০০ সালের (দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর) মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯৫.
চর্যাপদে খণ্ডিত আকারে পাওয়া পদটির রচয়িতা কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. লুইপা
  3. শবরপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদের মোট ৫১ টি পদ রয়েছে; এই পদগুলোর মধ্যে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। ২৩ নং পদের ৬টি পদ বা লাইন পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৬.
চর্যাপদের কোন কবির প্রকৃত নাম শান্তিদেব?
  1. লুই পা
  2. কাহ্ন পা
  3. শবর পা
  4. ভুসুকু পা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকু পা: 
- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন।
- "আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'--- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

• ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা: 
কাহৈরি যিনি মেলি অচ্ছহু কীস
বেটিল হাক পড়অ চৌদীস ।। 
অপণা মাংসে হরিণা বৈরী।
খনহ না ছাড়অ ভুসুঅ হেরি ।।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৯৭.
ভুসুকুপার কোন পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে?
  1. ৬নং
  2. ২১নং
  3. ২৩নং
  4. ৪৯নং
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের লেখক।
- তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো - ৬নং/২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ভুসুকুপা রচিত চর্যাপদের ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙক্তি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৮.
'বহুবিবাহ' প্রচলনের কথা চর্যাপদের কোন পদে জানা যায়-
  1. ক) ১৮ নং পদ
  2. খ) ১৯ নং পদ
  3. গ) ২০ নং পদ
  4. ঘ) ২১ নং পদ
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদের ১৯নং পদে 'বহুবিবাহ' প্রচলনের কথা বলা হয়েছে।
- তখন বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল।
- বিয়ের সুন্দর চিত্র আছে এই পদে।

 • চর্যাপদের ১৯নং পদ:
ভব নিব্বাণে পড়হ মাদলা।
মণ পবণ বেণি করগু কশালা।
জঅ জঅ দুন্দুহি সাদ উছলিআঁ।
কাহ্ন ডোম্বী বিবাহে চলিআ।
ডোম্বী বিবাহিআ অহারিউ জাম।
জউতুকে কিঅ আণুত্তর ধাম।
অহণিসি সুরঅ পসঙ্গে জাই।
জোইণি জালে রঅণি পোহাই।

অর্থাৎ
- ‘পটহ ও মাদল জোড়া ঢোল কাঁসি ইত্যাদির জয় জয় দুন্দুভি শব্দ উচ্ছলিত হল।
- কাহ্ন ডোমনিকে বিয়ে করতে চলল। বিয়েতে তার জন্ম স্বার্থক হবে– বিয়ের যৌতুক অনুত্তর ধর্ম।
- এখানে তৎকালীন বিয়ের নিখুঁত চিত্র প্রত্যক্ষ করা চলে।

সোর্স: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯.
সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয় চর্যাপদের কোন কবিকে?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদরচয়িতার গৌরবের অধিকারী কাহ্নপা। তাঁর তেরটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে। এই সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে তাঁকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।

- কাহ্নপা রচিত পদ সংখ্যা-১৩ টি, কিন্তু প্রাপ্ত পদ সংখ্যা-১২ টি। তার রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।

- কানু পা কৃষ্ণপাদ ইত্যাদি নামেও তিনি পরিচিত। বিভিন্ন পদে কাহ্ন, কাহ্ন, কাহ্নু, কাহ, কাহ্নি, কাহ্নিলা, কাহ্নিল্য প্রভৃতি ভণিতা লক্ষ করা যায়।

- খ্রিস্টিয় অষ্টম শতকে কানু পার আবির্ভাব হয়েছিল বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন। কাহ্নপার বাড়ি ছিল উড়িষ্যায়, তিনি সোমপুর বিহারে বাস করতেন। রাহুল সংকৃত্যায়ন কাহ্ন পা বা কৃষ্ণ পাদ বা কৃষ্ণাচার্য পাদ বা কৃষ্ণবজ্র পাদকে অভিন্ন ব্যক্তি মনে করেন। তিনি দেব পালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন। তাঁর জীবৎকালের ঊর্ধ্বসীমা ৮৪০ সাল তিনি বর্ণে ব্রাহ্মণ এবং ভিক্ষু ও সিদ্ধ। তিনি পণ্ডিত-ভিক্ষু নামে খ্যাত ছিলেন।

- চর্যাপদ ছাড়াও তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। বিষয়বস্তুর বিচারে বিচারে কাহ্ন পা সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের যোগী ছিলেন বলে অনুমিত হয়। ড. সুকুমার সেনের মতে, 'কাঙ্গুর চর্যাগীতির রচনারীতিতে অস্পষ্টতা নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১০০.
"আলো-আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার; খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না।” — চর্যাপদ সম্পর্কে এই মন্তব্যটি কার?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ড. সুকুমার সেন
  3. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'চর্যাপদ' এর ভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।