বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Civil Procedure, 1908

মোট প্রশ্ন২,৯৯৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Civil Procedure, 1908

PrepBank · পাতা / ৩০ · ১০০ / ২,৯৯৩

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা কখন প্রয়োগ করতে পারে?
  1. আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে
  2. আদালতের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করতে
  3. ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে
  4. দেওয়ানি আদালতের যেকোন বিচার করতে
ব্যাখ্যা
⇒  দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা-
আদালতের সহজাত ক্ষমতা বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) ন্যায় বিচারের স্বার্থে দেওয়ানী আদালতের একটি অলিখিত ক্ষমতা যা প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়। কোন বিচারপ্রার্থী ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যেক্ষেত্রে আইনের কোন সুস্পষ্ট বিধান নেই বা আইনের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সেক্ষেত্রে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। একেই বলা হয় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা সহজাত ক্ষমতা।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারামতে, দেওয়ানি আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।
---------- 
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section 151- Saving of inherent powers of Court:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ২ অনুসারে, জিজ্ঞাসাবলী প্রদানের আবেদনের বিষয়ে আদালত আবেদন দাখিলের কত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে?
  1. ৭ দিনের মধ্যে
  2. ১০ দিনের মধ্যে
  3. ১৪ দিনের মধ্যে
  4. ৩০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ২ (Order XI Rule 2) এর দ্বিতীয় প্রোভিজন:
"the particular interrogatories proposed to be delivered shall be submitted to the Court and that Court shall decide within fourteen days from the date of filing of the said application."

অর্থাৎ, জিজ্ঞাসাবলী (Interrogatories) প্রদানের জন্য আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে আদালতকে আবেদনটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 11 Rule-2. Particular interrogatories to be submitted: 
- On an application for leave to deliver interrogatories, the particular interrogatories proposed to be delivered shall be submitted to the Court and that Court shall decide within fourteen days from the date of filing of the said application. In deciding upon such application, the Court shall take into account any offer, which may be made by the party sought to be interrogated to deliver particulars, or to make admissions, or to produce documents relating to the matters in question, or any of them, and leave shall be given as to such only of the interrogatories submitted as the Court shall consider necessary either for disposing fairly of the suit or for saving costs.

.
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন প্রতীয়মান হয় যে পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কিংবা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় নেই, সেক্ষেত্রে আদালত-
  1. এক-তরফা ডিক্রি দিবে
  2. রায় ঘোষণা করতে পারে
  3. মোকদ্দমা অবৈধ ঘোষণা করবে
  4. মোকদ্দমা স্থগিত করবে
ব্যাখ্যা
• সাধারণত মোকদ্দমার শুনানী শেষ হওয়ার পর তৎক্ষনাৎ বা ৭ দিন পর আদালত রায় প্রদান করে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিনে রায় ঘোষনা করতে পারে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ নং আদেশ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিনে রায় ঘোষনা করতে পারে (DISPOSAL OF THE SUIT AT THE FIRST HEARING)।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ নং আদেশের ১নং বিধিমতে-
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন প্রতীয়মান হয় যে, পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কিংবা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় নেই আদালত তখনই রায় ঘোষণা করতে পারে।
[Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.]

⇒ যদি মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিনই আদালতের নিকট এটা প্রতীয়মান হয় যে পক্ষগণের মধ্যে আইনগত বা ঘটনাগত কোনো বিচার্য বিষয় নেই, তাহলে আদালত সেই দিনই রায় ঘোষণা করতে পারে। এটি সম্ভব নিম্নোক্ত কারণসমূহের কোনো একটি বা একাধিক থাকলে:

(১) বিবাদীর কোনো দাবি/প্রতিবাদ নেই: মোকদ্দমার প্রাথমিক পর্যায়েই যদি বিবাদী পক্ষ তাদের কোনো দাবি বা প্রতিবাদ উপস্থাপন না করে, তাহলে আদালতের নিকট বিচার্য বিষয় থাকবে না।
(২) দাবি স্বীকার করা: বিবাদী পক্ষ যদি বাদী পক্ষের দাবি স্বীকার করে নেয়, সেক্ষেত্রে আইনগত বা ঘটনাগত কোনো বিচার্য বিষয় থাকবে না।
(৩) অপ্রয়োজনীয় মামলা: প্রাথমিক পর্যালোচনায় যদি দেখা যায় মোকদ্দমাটি অপ্রয়োজনীয়/অগ্রহণযোগ্য, তাহলে আদালত রায় দিয়ে মোকদ্দমাটি খারিজ করতে পারে।
(৪) বিগত বিষয়: মোকদ্দমা দায়েরের সময় যদি দেখা যায় বিষয়টি ইতোমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে, তাহলে আদালত মোকদ্দমাটি নাকচ করে দিয়ে রায় দিতে পারে।

সুতরাং প্রথম শুনানিতেই যদি উপরোক্ত অবস্থাগুলির কোনো একটি দেখা যায়, আদালত পরবর্তী সময় অপচয় না করে সরাসরি রায় ঘোষণা করতে পারে। এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
.
বর্তমানের দেওয়ানি কার্যবিধি কত সালে কার্যকর হয়?
  1. ১৮৫৯ সালে
  2. ১৯০৮ সালে
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৮৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Civil Procedure Code) একটি পদ্ধতিগত আইন, যা দেওয়ানি মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির নিয়মকানুন নির্ধারণ করে।
- সর্ব প্রথম ১৮৫৯ সালে সিভিল কোড সংক্রান্ত পদ্ধতিগত আইন বিধিবদ্ধ [codified] করা হয়।
- বর্তমানের দেওয়ানি কার্যবিধি পাশ হয় ১৯০৮ সালের ২১ মার্চ ।
- ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

- দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের ৫ নং আইন।
- The Code of Civil Procedure,1908 (ACT NO. V OF 1908)
- এই আইনে দেওয়ানি আদালত এবং মামলার পক্ষগুলোর জন্য যে-সব নিয়ম মানতে হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে জানা যায়:
- কীভাবে মামলা দায়ের করতে হয়।
- মামলার আবেদন বা জবাব কীভাবে দিতে হয়।
- কীভাবে সমন (জবানবন্দি বা উপস্থিতির আদেশ) জারি করতে হয়।
- কীভাবে আদালতে শুনানি হয়।
- রায় এবং ডিক্রি (আদালতের আদেশ) কীভাবে ঘোষণা এবং কার্যকর করা হয়।
- আপিল, রিভিশন এবং রিভিউ করার নিয়ম।
- অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধি মামলার প্রতিটি ধাপে আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য দিকনির্দেশনা দেয়।
.
সমনে নির্ধারিত তারিখে আদালতে বিবাদী হাজির হতে পারে-
  1. নিজে
  2. নিজ উকিলের মাধ্যমে
  3. ক বা খ
  4. প্রতিনিধির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯ বিধি-১ঃ 
বিবাদির উপস্থিতির এবং জবাব দানের জন্য সমনে নির্ধারিত তারিখে পক্ষগণ স্বয়ং কিংবা তাদের নিজ নিজ উকিলের মাধ্যমে বিচারালয়ে হাজিরা দিবেন এবং অতঃপর আদালত কর্তৃক ভবিষ্যতের কোন দিন পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মূলতবী না হলে ঐ দিন মোকদ্দমার শুনানি সংগঠিত হবে।

Rule 1-
On the day fixed in the summons for the defendant to appear and answer, the parties shall be in attendance at the Court-house in person or by their respective pleaders and the suit shall then be heard unless the hearing is adjourned to a future day fixed by the Court.
.
পক্ষসমূহের অপসংযোগ সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি আদালতে কখন উত্থাপন করতে হবে?
  1. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  2. বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময়
  3. বিচার্য বিষয় নির্ধারনের পূর্বে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ (Non-Joinder and Mis-Joinder of Parties)-
মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে পক্ষাভাব বা Non-Joinder of parties বলে। অন্যদিকে কোন ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে তাকে অপসংযোগ বা Mis-Joinder of Parties বলে। ভুল ব্যক্তির নামে মোকদ্দমা হলে বা ভুল ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা হলে, আদালত তাকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে কর্তন (strike out) বা বাদ অথবা স্থলাভিষিক্ত বা সংযোজিত (Add/Substitute) করতে পারে দিতে পারে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ১৩নং বিধিমতে,
পক্ষসমূহের অপসংযোগ (Mis-Joinder of Parties) বা অসংযোগ (Non-Joinder) সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি সম্ভাব্য ১ম সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে।

Order 1 Rule 13: Objections as to nonjoinder or misjoinder-
All objections on the ground of nonjoinder or misjoinder of parties shall be taken at the earliest possible opportunity and, in all cases where issues are settle, at or before such settlement, unless the ground of objection has subsequently arisen, and any such objection not so taken shall be deemed to have been waived.
.
মোকদ্দমা খারিজ আদেশ প্রত্যাহার করা হলে, মোকদ্দমাটি-
  1. উভয় পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে চালু হবে
  2. খারিজ আদেশ দেয়ার পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, সেই অবস্থা থেকে চালু হবে
  3. বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে চালু হবে
  4. বিবাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিত থাকবে
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমা খারিজ আদেশ প্রত্যাহার করা হলে- মোকদ্দমাটি খারিজ আদেশ দেয়ার পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, সেই অবস্থা থেকে চালু হবে।

• আদেশ ৯ বিধি-১৫ঃ
যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমার খারিজ সংক্রান্ত আদেশ ৪ কিংবা ৯নং বিধির অধীনে কিংবা ৩১নং বিধির অধীনে কোন ডিক্রি রদ করা হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি পুনর্বহাল করার পরিপ্রেক্ষিতে, খারিজ করার আদেশ দান কিংবা ডিক্রি দেয়ার অব্যবহিত পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, উক্ত পর্যায় হতে মোকদ্দমাটি চালু করা হবে।

[Where the dismissal of a suit is set aside under rule 4 or rule 9, or a decree is set aside under rule 13, the suit shall, on restoration, proceed from the stage where it was immediately before the making of the order of dismissal or passing of the decree.]
.
আদেশ ১৩ বিধি ১০ এর অধীনে শপথনামায় কোন বিষয় উল্লেখ করা আবশ্যক?
  1. মামলা বাতিলের কারণ
  2. তলবকৃত রেকর্ডের প্রয়োজনীয়তা
  3. মামলাটি চলমান রাখার কারণ
  4. তলবকৃত রেকর্ড সাক্ষ্য আইনের অধীনে অগ্রহণযোগ্য
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৩ বিধি ১০: আদালতের নিজ নথি বা অন্যান্য আদালত থেকে নথি তলবের ক্ষমতা:
(১) আদালত নিজের উদ্যোগে (suo motu), অথবা মামলার যে কোনো পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিবেচনায়— নিজেদের রেকর্ড থেকে বা অন্য কোনো আদালত থেকে অন্য কোনো মামলা বা কার্যধারার রেকর্ড তলব করতে পারে এবং সেই রেকর্ড পরিদর্শন করতে পারে।

(২) এই বিধির অধীনে করা প্রতিটি আবেদনকে (যদি না আদালত ভিন্ন নির্দেশ দেয়) শপথনামা দ্বারা সমর্থিত হতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে- তলবকৃত রেকর্ডটি কীভাবে বর্তমান মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বা প্রয়োজনীয়, এবং আবেদনকারী যুক্তিসঙ্গত সময় বা ব্যয় ছাড়া ঐ রেকর্ড কিংবা তার প্রয়োজনীয় অংশের প্রামাণিক নকল কপি সংগ্রহ করতে সক্ষম নয়, অথবা ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসল নথি উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

(৩) এই বিধির কোনোকিছুই এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যাতে আদালত এমন কোনো নথিকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে
যা সাক্ষ্য আইনের অধীনে অগ্রহণযোগ্য (inadmissible)।

.
দেওয়ানি মোকদ্দমার ক্ষেত্রে রিভিশন আদালতের বিবেচ্য বিষয় কোনটি?
  1. দ্বিপক্ষীয় ভুল
  2. তথ্যগত ভুল
  3. পদ্ধতিগত ভুল
  4. আইনগত ভুল
ব্যাখ্যা
⇒ কোন ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য না হলে, কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান না থাকলে অথবা কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান থাকার পরও উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা না হলে সেক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা করা যায়।
⇒ কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে একবার আপিল করা হলে উক্ত আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায়, কেননা দেওয়ানী কার্যবিধিতে ২য় আপিলের বিধান নেই।
⇒ ১১৫ ধারার বর্তমান বিধান অনুযায়ী কেবলমাত্র ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ যে কোন পক্ষ রিভিশন দায়ের করতে পারে, কিন্তু আগের মত আদালত কর্তৃক স্বেচ্ছাপ্রণোদিত (suo moto) হওয়ার বিধান নেই।
⇒ রিভিশন হল সম্পূর্ণ বিবেচনামূলক প্রতিকার এবং রিভিশনকে অধিকার হিসাবে দাবি করা যায় না।  আপিলের ন্যায় রিভিশন বিচারকার্যের চলমান অবস্থা নয়।
⇒ রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
⇒ দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের শর্ত- ২০০৩ সালে দেওয়ানী কার্যবিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে দেওয়ানী রিভিশনের বিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়। বর্তমানে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রিভিশন করা যায়-
⇒ সাধারণত রিভিশন এখতিয়ারে আদালত ঘটনার প্রশ্ন (question of fact) বিবেচনা করে না। যেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে (question of law) ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
অর্থাৎ শুধুমাত্র আইনগত ভুলের কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটলেই আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-১১৫ এর বিধান রিভিশন।
-১) কোন মোকদ্দমায় কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় জেলা জজ আদালত বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হলে, বা যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক ডিক্রি প্রদত্ত হলে, যার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা চলে না; সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশন তার নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা সমাপণ করিয়ে এই ডিক্রি বা আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃশ্যমান হলে হাইকোর্ট ডিভিশন এই ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা তা যে-রূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
-২) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কোন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত এই মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করিয়ে এই আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃশ্যমান হলে জেলা জজ আদালত উক্ত আদেশ সংশোধন করতে পারবে এবং তা যে-রূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
-৩) জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা হস্তান্তর করলে উপধারা (২) এর অধীনে জেলা জজের সকল সর্বময় ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে থাকবে।
-৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার অবসান করিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত প্রদান করলে প্রয়োজনীয় আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন রিভিশনের অনুমতির অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে উপধারা (২) বা (৩) এর অধীনে প্রদানকৃত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা চলবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশন তা যে-রূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
-৫) এই ধারাটির প্রতিস্থাপনে যেটাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ঐরূপ প্রতিস্থাপনের পূর্বে ১১৫নং ধারার অধীনে আরম্ভ হওয়া বা ঝুলন্ত থাকা কর্মপ্রক্রিয়া যেরূপে নিষ্পত্তি হবে যেন ১১৫নং ধারা প্রতিস্থাপিত হয়নি।
১০.
আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে কোন দলিলের বিষয়বস্তু বিবেচনায় নিতে পারে?
  1. কেবল আদালতের নিজস্ব নথি
  2. যে কোনো পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল
  3. কেবল বাদীর দাখিলকৃত দলিল
  4. কেবল সাক্ষী কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৪ বিধি-৩: যে সকল বিষয় হতে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করা যায়:
আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সকল কিংবা যে কোনটি থেকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে পারেন-
ক) পক্ষগণ কর্তৃক কিংবা তাদের পক্ষে উপস্থিত কোন ব্যক্তিগণ কর্তৃক কিংবা উক্তরূপ ব্যক্তিসমূহের উকিলগণ কর্তৃক শপথের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ;
খ) আরজি জবাবে কিংবা মোকদ্দমায় প্রদত্ত প্রশ্নমালার উত্তরে রচিত অভিযোগসমূহ;
গ) কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল পত্রের বিষয়বস্তু।

১১.
আদেশ ১৮ বিধি ৪ এর অধীনে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. আদালতের বাইরে
  2. সাক্ষীর ইচ্ছামত স্থানে
  3. উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত স্থানে
  4. নির্ধারিত প্রকাশ্য আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ (প্রকাশ্য আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি)-
হাজির হওয়া সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে, ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

[Witnesses to be examined in open Court-
The evidence of the witnesses in attendance shall be taken orally in open Court in the presence and under the personal direction and superintendence of the Judge.]
১২.
পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ এর বিধান কোন বিধিতে উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ৬ বিধি ৬
  2. আদেশ ৭ বিধি ৬
  3. আদেশ ৮ বিধি ৬
  4. আদেশ ৯ বিধি ৬
ব্যাখ্যা

• আদেশ ৮ বিধি ৬: লিখিত বর্ণনায় পারস্পরিক দায় শোধের বিবরণ-
১) যেক্ষেত্রে টাকা প্রদায় করার দাবীতে দায়ের করা মামলায় বাদীর নিকট থেকে বিবাদীর প্রাপ্য টাকা বাদীর দাবী পরিশোধ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, এবং উক্ত প্রাপ্য টাকার পরিমাণ আদালতের এখতিয়ারের বাইরে না হয়, এবং বাদীর মামলা অনুযায়ী বিবাদীর দাবীর ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একই বৈশিষ্ট্যে পড়ে, তখন মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখে, আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে পরবর্তী সময়ে নয়, বিবাদী তার পাওনা টাকার বিস্তারিত সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবেন।

২) পারস্পরিক দাবী শোধের তাৎপর্য:
- এই লিখিত বিবৃতি ক্রস-মামলার আরজির সমতুল্য কার্যকরী হবে।
- আদালত এতে মূল দাবি এবং পারস্পরিক দাবী একত্রিত করে চূড়ান্ত রায় দিতে সক্ষম হবে।

তবে, ডিক্রির টাকার উপর ডিক্রির অধীনে উকিলের খরচের দাবী থাকলে, এটি এই প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত হবে না।

৩) পারস্পরিক দাবী সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিবাদীর লিখিত বিবরণের জন্য প্রযোজ্য নিয়মাবলী, প্রদত্ত লিখিত বিবৃতির উত্তর দানেও প্রযোজ্য হবে।

১৩.
আদেশ ২১ বিধি-১ অনুসারে, ডিক্রির টাকা কীভাবে পরিশোধযোগ্য?
  1. আদালতে টাকা জমা দিয়ে
  2. ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে
  3. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে
  4. ক, খ বা গ
ব্যাখ্যা
আদেশ-২১, বিধি-১: ডিক্রির টাকা পরিশোধ:
১ নং বিধিমতে ডিক্রির টাকা ৩ ভাবে পরিশোধ করা যায়। যথা-
ⅰ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
ii) ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে; এবং
iii) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা যায়।

Order-21 Rule-1: Modes of paying money under decree:
(1) All money payable under a decree shall be paid as follows, namely:−
(a) into the Court whose duty it is to execute the decree; or
(b) out of Court to the decree-holder; or
(c) otherwise as the Court which made the decree directs.
১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির অনুযায়ী কোনো নিঃস্ব ব্যক্তি (Pauper) গণ্য হবেন যদি মামলার সম্পত্তি ও প্রয়োজনীয় পোষাক পরিচ্ছদ ব্যতীত তার ______ টাকা না হয়।
  1. ৫০০
  2. ১০০০০
  3. ৫০০০
  4. ২০০০০
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতেঃ  নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।
- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
-------------
⇒ CPC Order-33 Rule-1. Suits may be instituted in forma pauperis:
Subject to the following provisions, any suit may be instituted by a pauper.

Explanation−A person is a "pauper" when he is not possessed of sufficient means to enable him to pay the fee prescribed by law for the plaint in such suit, or, where no such fee is prescribed, when he is not entitled to property worth five thousand Taka other than his necessary wearing-apparel and the subject-matter of the suit.
১৫.
আদালত কোন ক্ষেত্রে প্লিডিংস Strike out করতে বা সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন?
  1. প্লিডিংস অপ্রয়োজনীয় হলে
  2. প্লিডিংস এ মানহানিকর কথা থাকলে
  3. প্লিডিংস এ বিব্রতকর কথা থাকলে
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৬ বিধি অনুসারে, আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে প্রিন্ডিংসের (আরজি বা লিখিত জবাবের) যে কোন বিষয় কর্তন বা সংশোধন করতে আদেশ দিতে পারে যদি উল্লেখিত বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় হয় [Unnecessary) বা কুৎসাজনক হয় (Scandalous) বা মোকদ্দমার সুষ্ঠ বিচার বাধাগ্রস্থ, বা বিলম্বিত করতে পারে। [Tend to prejudice, embarrass or delay the fair trial of the suit]
১৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৭৫ ধারা অনুযায়ী কয়টি ক্ষেত্রে কমিশন নিয়োগের আদেশ দেওয়া যায়?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৪ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি 1908 সালের আইন এর ৭৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪টি ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে,
(১) স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
(২) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(৩) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করার জন্য
(৪) বাটোয়ারা করার জন্য।
১৭.
The Code of Civil Procedure,1908 এর আদেশ ২৬ এর বিধি ৪ এ কোন বিধান আলোচনা করা হয়েছে?
  1. স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারার
  2. স্থানীয় তদন্ত সম্পর্কিত
  3. যাদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারে না
  4. যাদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশনের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

আদেশ ২৬ বিধি ৪ অনুসারে,
নিম্নোক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারেন [Persons for whose examination commission my issue]:
i) এমন ব্যক্তি যে আদালতের অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে বসবাস করে;
ii) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বে সে ব্যক্তি অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে চলে যাবে;
iii) প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি; যার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হলে জনস্বার্থের ক্ষতি হতে পারে।
১৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় সরেজমিনে তদন্ত (Local Investigation) এর বিধান আছে?
  1. ১৭ আদেশের ৩ নিয়মে
  2. ১৮ আদেশের ৫ নিয়মে
  3. ১৯ আদেশের ১ নিয়মে
  4. ২৬ আদেশের ৯ নিয়মে
ব্যাখ্যা
- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ আদেশের ৯ বিধির অধীন আদালত সরেজমিনে তদন্তের [Local Investigation] কমিশন ইস্যু করাতে পারে মামলার বিরোধীয় কোন বিষয় ব্যাখ্যা করার জন্য বা কোন সম্পত্তির বাজার দর, মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profit] ক্ষতিপূরণের টাকা, বাৎসরিক প্রকৃত মুনাফা নির্ণয় করার জন্য ।
- আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অনধিক ৩ মাসের মধ্যে স্থানীয় তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
-------------
CPC Order-26 Rule-9.Commissions to make local investigations:
- In any suit in which the Court deems a local investigation to be requisite or proper for the purpose of elucidating any matter in dispute, or of ascertaining the market-value of any property, or the amount or any mesne profits or damages or annual net profits, the Court may issue a commission to such person as it thinks fit directing him to make such investigation and to report thereon to the Court within such time not exceeding three months as may be fixed by the Court.
Provided that the Court may, on the prayer of the Commissioner and on sufficient cause being shown, extend the time.
১৯.
রায় ঘোষণার পর কিন্তু ডিক্রিতে স্বাক্ষর করার আগে বিচারকের পদ খালি হলে-
  1. রায় বাতিল হয়ে যায়
  2. মামলাটি নতুন করে শুনানি করতে হয়
  3. ডিক্রি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যায়
  4. পরবর্তী বিচারক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করতে পারেন
ব্যাখ্যা

Order 20, Rule 8- Procedure where Judge has vacated office before signing decree:
যদি কোনো বিচারক রায় ঘোষণা করার পর কিন্তু ডিক্রিতে স্বাক্ষর করার আগেই পদত্যাগ করেন, অবসর নেন বা তার পদ খালি হয়ে যায়, তাহলে সেই রায় অনুযায়ী প্রস্তুত করা ডিক্রিতে পরবর্তী বিচারক (successor judge) স্বাক্ষর করতে পারবেন।

আর যদি সেই আদালতই আর অস্তিত্ব না থাকে, তাহলে যে আদালতের অধীন (subordinate) ছিল সেই আদালত, সেই আদালতের বিচারক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করতে পারবেন।

অর্থাৎ, বিচারক বদল হলেও রায় অনুযায়ী ডিক্রি দেওয়া বাধাগ্রস্ত হয় না।

২০.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করার প্রয়োজন নেই?
  1. বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন করলে
  2. বিবাদি আবেদন করলে
  3. বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে
  4. উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমার প্রথম শুনানির সময় বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করবে না।

• আদেশ ১৪ বিধি-১ (বিচার্য বিষয় প্রণয়ন) —

১) ঘটনা কিংবা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক পক্ষ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে এবং অপরপক্ষ অস্বীকার করে, তখনই বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।

২) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী আইন কিংবা ঘটনার সে সমস্ত বিষয়াবলী যা বাদিকে তার মোকদ্দমা করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই নালিশ করতে হয় কিংবা বিবাদিতে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করতে অবশ্যই প্রতিবাদ করতে হয়।

৩) একপক্ষ কর্তৃক দৃঢ়ভাবে ঘোষিত এবং অপর পক্ষ কর্তৃক অস্বীকৃত প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটি আলাদা বিচার্য বিষয়ের সৃষ্টি করবে।

৪) বিচার্য বিষয় দুই প্রকারেরঃ ক) ঘটনা সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়, খ) আইন সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়।

৫) মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন আদালত বাদির আরজি এবং লিখিত বর্ণনা, (যদি কোন), পাঠ করার পর এবং প্রয়োজনমত পক্ষগণের এরূপ পরীক্ষা করার পর ঘটনা কিংবা আইনের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতির উপর পক্ষগণ এর বিরোধ তা নির্ধারণ করবে এবং ইহার পর যে সকল বিচার্য বিষয়ের উপর মোকদ্দমার সঠিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করে বলে প্রতীয়মান হয়, সে সমস্ত বিচার্য বিষয় প্রণয়নে অগ্রসরমান হবে এবং তা লিপিবদ্ধ করবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ৪ এবং ৫ বিধির বিধানাবলী সাপেক্ষে যে কোন ক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির কিংবা লিখিত বর্ণনা দাখিলের পনের দিনের মধ্যে যেটাই পরে ঘটে তখন বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৬) মোকদ্দমার প্রথম শুনানির সময় বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে এই বিধির কোন বিধানেই আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করবে না।
২১.
মোকদ্দমার কোনো পক্ষ দলিল প্রকাশ ও নিরীক্ষণের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে-
  1. উক্ত পক্ষ বিবাদী হলে মামলা খারিজ হবে
  2. উক্ত পক্ষ বাদী হলে মামলা খারিজ হবে
  3. উক্ত পক্ষ বাদী হলে একতরফা নিষ্পত্তি হবে
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• যদি কোনো পক্ষ যাকে মামলা সম্পর্কিত কোন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার (to answer Interrogatories) বা কোন দলিল প্রকাশ (discovery of documents) বা দলিল নিরীক্ষণের (inspection of documents) আদেশ দেয়া হয়েছে, যদি সে বাদী হয় এবং সে যদি উক্ত আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত তার মামলা খারিজ (Dismissed the suit) করে দিবে এবং যদি সে বিবাদী হয় তাহলে তার আত্মপক্ষ সমর্থন (Right to defence) বাতিল করবে।

আদেশ ১১ বিধি ২১ (আদেশ অমান্যকরণ)-
যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রশ্নমালার উত্তর দানের বা দলিলসমূহের উদ্ঘাটন বা পরিদর্শনের জন্য কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তদক্ষেত্রে সে বাদী হয় তবে পরিচালনার অভাবে তার মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার জন্য সে দায়ী হবে এবং যদি বিবাদী হয় তবে তার যদি কোন জবাব থাকে, উহা কর্তন হওয়ার নিমিত্তে সে দায়ী হবে এবং সে যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি এরূপ পরিস্থিতিতে স্থিত হবে এবং প্রশ্নকারী পক্ষ কিংবা উদঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী উক্ত মর্মে আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করবে এবং তদনুযায়ী আদালত আদেশ প্রদান করতে পারবে।

Order 11 Rule-21: Non-compliance with order for discovery-
Where any party fails to comply with any order to answer interrogatories or for discovery or inspection of documents, he shall if a plaintiff be liable to have his suit dismissed for want of prosecution and if a defendant to have his defence, if any, struck out, and to be placed in the same position as if he had not defended, and the party interrogating or seeking discovery or inspection may apply to the Court for an order to that effect, and an order may be made accordingly.
২২.
আরজিতে বিবৃত অভিযোগসমূহ বিবাদীর লিখিত জবাবে সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা না হলে, তা হবে বিবাদীর-
  1. স্বীকারোক্তি
  2. উপস্থাপন
  3. স্বীকৃতি
  4. বর্জন
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৮ বিধি-৫ এর বিধান সুনির্দিষ্ট অস্বীকার (Specific denial): আরজিতে উল্লেখিত তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের প্রত্যেকটি যদি সুনির্দিষ্ট বা প্রয়োজনীয় নিহিতার্থে (by necessary implication) বা বিবাদীর আরজি জবাবে তা স্বীকৃত হয়নি বলে যদি উল্লেখ করা না হয়, তবে অক্ষম ব্যক্তি ব্যতিত অপর সকলের বিরুদ্ধে তা স্বীকার হয়েছে বলে গণ্য হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ স্বীকৃত কোন তথ্য আদালত ইচ্ছা করলে এরূপ স্বীকারোক্তি ছাড়া অন্য কোনভাবে প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন।

♦ অর্থাৎ আরজিতে বর্ণিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদীকে তার লিখিত জবাবে স্পষ্টভাবে বা সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করতে হবে, নয়তো তা বিবাদী স্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে। তবে বিবাদী অক্ষম হলে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।
২৩.
বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করলে, তার বিরুদ্ধে সমন কে জারি করবে?
  1. যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে
  2. উক্ত এলাকার এখতিয়ারাধীন আদালত
  3. উভয় আদালতকে জারি করতে হবে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫নং আদেশে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সমন জারির বিশেষ পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।যেমনঃ

(বিধি ২১) যেক্ষেত্রে বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করে সেই ক্ষেত্রে বিবাদী যে এলাকায় বসবাস করে, সেই এলাকার এখতিয়ারাধীন যেকোন সমন জারিকারী আদালত সমনটি পাঠাতে পারে এবং উক্ত আদালত তখন সমন জারি করবে।

(বিধি ২৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সমন পাঠাতে হবে।

(বিধি ২৫,২৬) যেক্ষেত্রে বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করে এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোন এজেন্ট নেই, সেই ক্ষেত্রে বিবাদী দেশের বাইরে যেখানে বসবাস করে সেখানে পাঠাতে হবে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা এমন সমন জারির জন্য প্রতিষ্ঠিত কোন আদালত কর্তৃক সমনটি জারি করা যেতে পারে। 

(বিধি ২৭) সরকারী কর্মকর্তা বা রেলওয়ে বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার প্রতি সমন জারির জন্য উক্ত অফিসের প্রধানের বরাবর সমন পাঠাতে হবে।

(বিধি ২৮) যেক্ষেত্রে বিবাদী একজন সৈনিক, নাবিক, বা বৈমানিক, সেই ক্ষেত্রে সমন জারি করতে উক্ত বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের নিকট সমন পাঠাতে হবে।
২৪.
Interpleader Suit-এর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বিরোধ থাকে,
  2. বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বিরোধ থাকে না,
  3. বিবাদীদের পরস্পরের মধ্যে বিরোধ থাকে,
  4. বাদীর মামলার খরচ ব্যতীত কোন স্বার্থ থাকে না,
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits ) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।  স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবী ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।
 বিবাদীগণ পৃথক পৃথক ভাবে তাদের দাবী উলে­খ করে, বাদী ও বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ ষড়যন্ত্র থাকবেনা (ধারা-৮৮)
 
⇒ তবে কার নিকট পরিশোধ বা অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এরূপ দাবিদারদের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ অর্থাৎ আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits বিবদাী থাকবে কমপক্ষে ২ জন।

⇒ আদেশ ৩৫ বিধি-১। ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় আরজি (Plaint in interpleader-suits): ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় প্রত্যেকটি মোকদ্দমার আরজিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি বিবৃত করতে হবে - বাদী মোকদ্দমার খরচের জন্য ব্যয়িত দাবি ব্যতীত অন্য কোন স্বার্থ দাবী করে না; বিবাদীগণ কর্তৃক দাবিসমূহ পৃথকভাবে প্রণীত হয়েছে; এবং বাদী ও কোন বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ যোগসাজস বা ষড়যন্ত্র নেই।

⇒ আদেশ ৩৫ বিধি-৫। প্রতিনিধি বা প্রজাগণ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে না।

⇒ উদাহরণ:
A-তার প্রতিনিধি B-এর নিকট এক বাক্স সোনার গহনা জমা রাখে। C-অভিযোগ করে যে A-তার নিকট হতে অন্যায়ভাবে সোনার গহনাগুলি লাভ করেছে এবং B-এর নিকট হতে এইগুলি দাবী করে। B. A এবং C-এর বিরুে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে না।
২৫.
দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ার অনুযায়ী ১৪ লক্ষ টাকার একটি মোকদ্দমা কোন আদালতে দায়ের করতে হয়?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারি জজ আদালত
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালত
  4. সিনিয়র সহকারি জজ আদালত
ব্যাখ্যা
• কোন দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হবে সেটা ২টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়-১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং ২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ থেকে ২৩ ধারায় দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং আর্থিক এখতিয়ার সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুসারে নির্ধারিত হয়।

• The Civil Courts Act, 1887 আইনের ১৯ ধারার বিধান অনুযায়ী-
⇒ সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা;
⇒ সিনিয়র সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার ১৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা;
⇒ যুগ্ম জেলা জজ ২৫ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যমানের; মোকদ্দমার বিচার করতে পারে।
২৬.
বিকল্পভাবে সমন জারি করা হয়-
  1. বিবাদীর গৃহের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে
  2. বিবাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে
  3. দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশের মাধ্যমে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশে, ২১ নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬ নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ২০ বিধিতে বিকল্প বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারির (Substituted Service of Summon) বিধান রয়েছে। ২০ নং বিধি অনুযায়ী-
যেক্ষেত্রে বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেছে অথবা অন্য কোন কারণে সাধারনভাবে সমন জারি করা যায়না, সেক্ষেত্রে বিবাদীর গৃহের বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে জারি করার জন্য আদালত আদেশ দিবেন অথবা বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশ দিবে যা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি Substituted Service নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির মতই কার্যকর হবে। 

Order 5 Rule 20: Substituted service-
(1) Where the Court is satisfied that there is reason to believe that the defendant is keeping out of the way for the purpose of avoiding service, or that for any other reason the summons cannot be served in the ordinary way, the Court shall order the summons to be served by affixing a copy thereof in some conspicuous place in the Court-house, and also upon some conspicuous part of the house (if any) in which the defendant is known to have last resided or carried on business or personally worked for gain, or in such other manner as the Court thinks fit.

(1A) Where the Court under sub-rule (1) pass an order to service the summons by an advertisement in a newspaper, the newspaper shall be a daily newspaper which has circulation in the locality in which the defendant is last known to have actually and voluntarily resided, carried on business or personally worked for gain.

Effect of substituted service-
(2) Service substituted by order of the Court shall be as effectual as if it had been made on the defendant personally.

Where service substituted, time for appearance to be fixed-
(3) Where service is substituted by order of the Court, the Court shall fix such time for the appearance of the defendant as the case may require. 
২৭.
'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে দলিল বাতিলের মামলা করে। আদালত উক্ত মোকদ্দমায় 'ক' এর পক্ষে রায় দেন। ঐ একই বিষয়ে দলিল বাতিল নিয়ে 'খ' যদি পুনরায় 'ক' এর  বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করে, তাহলে আদালত পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা-
  1. স্থগিত করবে
  2. খারিজ করবে
  3. ক বা খ
  4. চালিয়ে যাবে
ব্যাখ্যা
• পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলা খারিজ করে দিবে। 

• রেস জুডিকাটা (Res Judicata)-
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দেওয়ানী মামলায় রেস জুডিকাটার রয়েছে। ১১ ধারা মতে, এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিম্পন্ন কোন মোকদ্দমা পরবর্তীতে যদি পুনরায় দায়ের করা তাহলে আদালত মোকদ্দমাটির বিচার করবে না যদি নিষ্পন্নকৃত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় ও পক্ষসমূহ এবং পরবর্তীতে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় ও পক্ষসমূহ একই হয়।

• রেস জুডিকাটা নীতির শর্ত সমূহ: 
i) ২টি মামলা অর্থাৎ পূর্বে নিষ্পত্তিকৃত একটি মামলা ও পরবর্তীতে দায়েরকৃত আরেকটি মামলা থাকতে হবে।
ii) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার পক্ষসমূহ এবং বিচার্য বিষয় একই হবে এবং একই স্বত্বের অধীন (Under same title) হবে।
iii) পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটি যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত হবে।
iv) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার বিচার্য বিষয় সমূহ প্রত্যক্ষভাবে না হয় মূলত (directly or substantially) একই হয়ে যায়। অর্থাৎ উভয় মামলার বিষয়বস্তু অভিন্ন হতে হবে।

যেমন- উল্লেখিত মোকদ্দমায়  'খ' ঐ একই বিষয়ে দলিল বাতিল নিয়ে পুনরায় 'ক' এর  বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করে। তাই আদালত পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলা খারিজ করে দিবে। কেননা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মোকদ্দমা একই বিচার্য বিষয় নিয়ে ও একই পক্ষদ্বয়ের মাঝে দায়ের করা হয়েছে।
২৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় হলফনামা শপথ পরিচালনা হওয়ার বিধান আছে?
  1. ১৩৭ ধারা
  2. ১৩৯ ধারা
  3. ১৪৪ ধারা
  4. ১৪২ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১৩৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন আদালত বা ম্যাজিষ্ট্রেট বা কোন ব্যক্তি বা অফিসার বা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি হলফনামা শপথ করবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৯ ধারার বিধান হলফনামার শপথ যার দ্বারা পরিচালিত হবে: এই আইন মোতাবেক কোন এফিডেভিটের ক্ষেত্রে-
ক) যে কোন আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট; অথবা
খ) যে কোন অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি যাকে সুপ্রিমকোর্ট এতদুদ্দেশ্যে নিয়োগ করতে পারেন; অথবা
গ) সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন আদালতে যে ব্যক্তিকে এই কার্যের জন্য নিযুক্ত করতে পারেন, তিনি শপথ গ্রহণকারীর প্রতি শপথ পরিচালনা করতে পারবেন।
------------
⇒ CPC Section: 139. Oath on affidavit by whom to be administered:
 In the case of any affidavit under this Code- 
(a) any Court or Magistrate, or 
(b) any officer or other person whom 107[the Supreme Court] may appoint in this behalf, or 
(c) any officer appointed by any other Court which the Government has generally or specially empowered in this behalf,
may administer the oath to the deponent.
২৯.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোথায় প্লিডিংস সংশোধনের বিধান আছে?
  1. আদেশ ৬ বিধি ৪
  2. আদেশ ৬ বিধি ১৭
  3. আদেশ ৬ বিধি ১৬
  4. আদেশ ৬ বিধি ১৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী প্লিডিংস সংশোধনের বিধান আছে।
আদেশর ৬ বিধি ১ অনুযায়ী প্রিডিং বলতে আরজি বা লিখিত জৰাৰ বুঝাবে। 
⇒ মামর্লা যে কোন পর্যায়ে প্লিডিংস সংশোধণ হতে পারে।
⇒  প্লিডিংস সংশোধন করা বা না করা আদালতের বিবেচনা মূলক ক্ষমতা।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী আরজি জবাব সংশোধন বা প্লিডিংস সংশোধন বলতে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে ন্যায় সঙ্গত পদ্ধতিতে ও শর্তে তার আরজি জবাবে পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন এবং উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এরূপ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যাবে।
⇒ তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর , সংশোধনের কোন আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
⇒ যদি  আদালত অভিমত পোষণ করেন যে, পরিশ্রম করা সত্ত্বেও পার্টি  বিচারকার্য শুরু হওয়ার পূর্বে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেননি সেক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে।
⇒ আরো শর্ত থাকে যে, বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর যদি সংশোধনের আবেদন করা হয় এবং আদালত এই মত পোষণ করেন যে, বিচারকার্য পরিচালনাকে বিলম্ব করার জন্য এটি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত আপত্তিকারীকে যেরূপ উপযুক্ত মনে তদ্রুপ ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধ করতে আদেশ দিবেন।
⇒ আদেশের বিরুদ্ধে ১১৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশন করা যাবে।
৩০.
‘ক’ চট্টগ্রামে বসবাস করে। ঢাকাতে ‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে মানহানির বক্তব্য পেশ করেছে। ‘খ’ ‘ক’ এর বিরুদ্ধে কোথায় মোকদ্দমা দায়ের করবে?
  1. শুধু চট্টগ্রামে
  2. শুধু ঢাকাতে
  3. একই সাথে উভয় জেলার আদালতে
  4. চট্টগ্রামের আদালতে আথবা ঢাকার আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, ক্ষতিপূরন সম্পর্কে মামলা কোন আদালতে দায়ের করতে হবে তা বলা আছে।

• ‘ক’ চট্টগ্রামে বসবাস করে কিন্তু ‘খ’ এর বিরুদ্ধে ঢাকায় মানহানির বক্তব্য দেয় তাই ‘ক’ এর বিরুদ্ধে ঢাকা বা চট্টগ্রামের যে কোন একটি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
৩১.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধিতে হিসাব (Accounts) পরীক্ষা বা সমন্বয়ের জন্য কমিশন ইস্যুর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. আদেশ ২৬, বিধি ৯
  2. আদেশ ২৬, বিধি ১০
  3. আদেশ ২৬, বিধি ১১
  4. আদেশ ২৬, বিধি ১২
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ১১-এ স্পষ্ট লেখা আছে: যদি কোনো মামলায় হিসাব পরীক্ষা বা হিসাব মিলানো (examination or adjustment of accounts) দরকার হয়, তাহলে আদালত যাকে উপযুক্ত মনে করবে (যেমন: চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কমিশনার ইত্যাদি) তার কাছে কমিশন জারি করে হিসাব পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিতে পারবে।
- অর্থাৎ, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ১১ অনুসারে যে কোনো মামলায় হিসাব নিরীক্ষণ বা সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে আদালত কমিশন (commission) জারি করতে পারবেন।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Order-26 Rule-11. Commission to examine or adjust accounts: 
- In any suit in which an examination or adjustment of accounts is necessary, the Court may issue a commission to such person as it thinks fit directing him to make such examination or adjustment. 

৩২.
বিবাদী বা বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি না থাকলে,কার উপর সমন জারি করা যাবে?
  1. পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্য
  2. পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্য
  3. বিবাদীর স্বামী বা স্ত্রীর
  4. বিবাদীর সন্তানের উপর
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৫নং আদেশের ১৫নং বিধিমতে বিবাদীকে যদি পাওয়া না যায় এবং বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি না থাকে, তখন বিবাদীর পরিবারের যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক লোক (নারী বা পুরুষ) এর উপর সমন জারি করা যাবে।

• সমন জারির বিভিন্ন পদ্ধতি (Various modes of service of Summons)- দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ১ থেকে ৩০ বিধিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিবাদীর উপর নিম্নলিখিত ৩ ভাবে সমন জারি হতে পারে-
i) ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি
ii) বিবাদীর অনুপস্থিতিতে বিকল্প বা ঝুলিয়ে বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি; এবং
iii) ডাকযোগে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে সমন জারি।

• আদেশ-৫, বিধি-১৫: যখন কোন মোকদ্দমায় যদি সমন জারির সময় বিবাদী তার বসবাসের স্থানে অনুপস্থিত থাকে, এবং সমন গ্রহণের ক্ষমতা প্রাপ্ত তার কোনো প্রতিনিধি না থাকে, তাহলে বিবাদীর সাথে বসবাস করে, তার পরিবারের এইরুপ যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের উপর সমন জারি করা যাবে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২০১২ সালের সংশোধনী দ্বারা প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্য এর পরিবর্তে প্রাপ্ত বয়স্ক শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ এখন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষ উভয়ের নিকট দেয়া যাবে।

Order 5 Rule 15: Where service may be on adult member of defendant's family-
Where in any suit the defendant cannot be found and has no agent empowered to accept service of the summons on his behalf, service may be made on any adult member of the family of the defendant who is residing with him. 

৩৩.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৪৮ অনুসারে, আদালত সর্বোচ্চ কতবার সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারে?
  1. একবার
  2. দুইবার
  3. তিনবার
  4. নির্ধারিত নয়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৪৮ - সময়সীমা বর্ধিতকরণ (Enlargement of Time):
যেখানে এই বিধিতে নির্ধারিত বা অনুমোদিত কোনো কাজ করার জন্য আদালত কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে বা দেয়, সেই ক্ষেত্রে আদালত তার বিবেচনায়, সময় শেষ হয়ে গেলেও, সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৪৮ অনুযায়ী,
আদালত তার বিবেচনায় যেকোনো সময়, এমনকি নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করেও, সময়সীমা একাধিকবার বৃদ্ধি করতে পারে। ধারায় এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এটি সম্পূর্ণরূপে আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।
৩৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলে উল্লেখিত আদেশ ও বিধি সমূহ সংশোধন করতে পারে কে?
  1. পার্লামেন্ট
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. সুপ্রীম কোর্ট
  4. পার্লামেন্ট ও সুগ্রীম কোর্ট
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাসমূহ শুধুমাত্র জাতীয় সংসদ সংশোধন করতে পারে।
⇒ প্রথম তফসিলে উল্লেখিত আদেশ এবং বিধিসমূহ সংসদ এবং সুপ্রীম কোর্ট উভয় সংশোধন করতে পারে।
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সকল আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষমতা রাখে।
⇒ অন্যদিকে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারা অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়নসহ বিধিসমূহ বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারে।
⇒১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও, সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি।
⇒কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন। জাতীয় সংসদ যে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদেশ ও বিধিসমূহ সংশোধন করতে পারে তার বড় উদাহরণ হলো ২০১২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধির সংশোধন।
⇒ The Code of Civil Procedure (Amendment) Act, 2012 এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫ এর ১(১) বিধি, ৯ বিধি ও ৯ক বিধি প্রতিস্থাপন করে।
⇒আবার আদেশ ৮ এর ১(১) বিধি সংশোধন করে লিখিত জবাব দাখিলের মেয়াদ সমন জারি হতে ৩০ কার্যদিবস নির্ধারণ করে।
⇒ আবার ৯ আদেশের ৫ বিধি সংশোধন করে ৩ মাসের পরিবর্তে ১ মাস নির্ধারণ করে।
⇒দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর প্রথম তফসীলে উল্লেখিত আদেশ এবং বিধিসমূহ সুপ্রিম কোর্ট সংশোধন করতে পারলেও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কখনো এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি।
৩৫.
দেওয়ানি আপিল আদালত নিম্নের কোন ক্ষমতাটি প্রয়োগ করতে পারে?
  1. অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ
  2. বিচার্য বিষয় গঠন
  3. পুনর্বিচারের জন্য মোকদ্দমা প্রেরণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো (কারণ সবগুলোই আদালতের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে)।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৭ ধারা: আপিল আদালতের ক্ষমতা:

১) যে সকল শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ বিধি দ্বারা হতে পারে, তৎসাপেক্ষে আদালতের নিম্নলিখিত ক্ষমতাবলী থাকবে-
ক) কোন মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার;
খ) কোন মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ করার;
গ) বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেগুলো বিচারার্থে প্রেরণ করার;
ঘ) অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ বা অনুরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য তলব করতে ক্ষমতা।

২) এই আইনে কোন মৌলিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের উপর তথাকার মোকদ্দমার ব্যাপারে যেরূপ ক্ষমতা প্রদত্ত এবং কর্তব্য আরোপিত হয়ে থাকে, উল্লেখিত শর্তসাপেক্ষে আপিল আদালতের উপরও এরূপ ক্ষমতা এবং প্রায় একইরূপ কর্তব্য বর্তাবে।

Section 107- Powers of Appellate Court:
(1) Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, an Appellate Court shall have power-
(a) to determine a case finally;
(b) to remand a case;
(c) to frame issues and refer them for trial;
(d) to take additional evidence or to require such evidence to be taken.

(2) Subject as aforesaid, the appellate Court shall have the same powers and shall perform as nearly as may be the same duties as are conferred and imposed by this Code on Courts of original jurisdiction in respect of suits instituted therein.
৩৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুযায়ী প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালত অনুমতি দিলে এবং আদেশে কোনো সময় নির্ধারণ না থাকলে, কত দিনের মধ্যে সংশোধন দাখিল করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুযায়ী: যদি কোনো পক্ষ প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি (order for leave to amend) পায়, এবং আদালত সংশোধনের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ না করে, তাহলে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধিত প্লিডিংস আদালতে দাখিল করতে হবে।
- যদি নির্ধারিত এই ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধন না করা হয়, তাহলে সংশোধনের অনুমতি বাতিল হয়ে যাবে যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৬, বিধি ১৮: আদেশ প্রাপ্তির পর সংশোধনে ব্যর্থতা:
যদি কোন পক্ষ তার প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি আদেশের মাধ্যমে পায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন না করে, অথবা আদেশে যদি কোন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা না থাকে, তবে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে সংশোধন না করে, তাহা হইলে উক্ত নির্ধারিত সময় বা উক্ত চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হইলে সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হইবে না; যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করিয়া দেয়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order VI, Rule 18: Failure to Amend After Order: 
If a party who has obtained an order for leave to amend does not amend accordingly within the time limited for that purpose by the order, or if no time is thereby limited, then within fourteen days from the date of the order, he shall not be permitted to amend after the expiration of such limited time as aforesaid or of such fourteen days, as the case may be, unless the time is extended by the Court.

৩৭.
'খ', 'গ' এর বিরুদ্ধে জমি বিক্রয় চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মোকাদ্দমা দায়ের করতে চায়। বিরোধীয় জমিগুলো যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকাতে অবস্থিত। 'খ' কোথায় মোকাদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. বাংলাদেশের যেকোনো আদালতে
  2. 'খ' এর ইচ্ছাধীন যেকোনো আদালতে
  3. নারায়ণঞ্জ বা ঢাকার যেকোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে
  4. নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার মধ্যবর্তী যেকোন জায়গার এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে
ব্যাখ্যা
• স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত কোন মোকদ্দমার ক্ষেত্রে ঐ সম্পত্তির অংশ বিশেষ যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত, সেরূপ যে কোন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাতে পারে। তাই উল্লেখিত মোকদ্দমা নারায়ণঞ্জ বা ঢাকার যেকোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দায়ের করতে পারে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৬ থেকে ১৮ পর্যন্ত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা কোথায় দায়ের করা যায় তা উল্লেখ করা আছে।

• ধারা ১৭ঃ বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা-
স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত কোন মোকদ্দমা বা এতে কোন ক্ষতির কারণে আনীত মোকদ্দমার সম্পত্তি যদি বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে থাকে, তাহলে ঐ সম্পত্তির অংশ বিশেষ যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত, সেরূপ যে কোন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাতে পারে।
তবে শর্ত থাকে যে, এই প্রকার মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য সম্পর্কে সমগ্র দাবিটিই ঐরূপ আদালত বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারে।

Section 17: Suits for immovable property situate within jurisdiction of different Courts-
Where a suit is to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property situate within the jurisdiction of different Courts, the suit may be instituted in any Court within the local limits of whose jurisdiction any portion of the property is situate:
Provided that, in respect of the value of the subject-matter of the suit, the entire claim is cognizable by such Court.

উল্লেখ্য যে, দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ এবং ১৮ ধারার মধ্যে মূল পার্থক্য হলো- বিরোধীয় সম্পত্তি ভিন্ন ভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত কিন্তু আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নিশ্চিত হলে ১৭ ধারা প্রযোজ্য হবে। কিন্তু যদি আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার অনিশ্চিত হয় তখন ১৮ ধারা প্রযোজ্য হবে।
৩৮.
আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষ কোনো দরখাস্ত বা আবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, আদালত-
  1. উক্ত পক্ষকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা খরচের আদেশ দিতে পারে
  2. উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক রায় ঘোষণা করবে
  3. নির্ধারিত খরচ প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত দরখাস্ত বা আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করবে না
  4. মোকদ্দমার সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫খ ধারায় বিলম্বের জন্য খরচ প্রদানের বিধান রয়েছে। মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন পক্ষ কোন দরখাস্ত বা আবেদন অথবা লিখিত আপত্তি দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, আদালত সর্বোচ্চ ২০০০ (দুই হাজার) টাকা খরচের আদেশ দিতে পারে এবং নির্ধারিত খরচ প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত দরখাস্ত বা আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করবে না।

• ধারা-৩৫খঃ
১) কোন মোকদ্দমা বা কার্যপ্রক্রিয়ার যে কোন স্তরে আদালত কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দরখাস্ত কিংবা লিখিতভাবে কোন আপত্তি যদি পেশ করা না হয়, তাহলে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত উক্ত পক্ষ অন্য পক্ষকে খরচা প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত দরখাস্ত বা লিখিত আপত্তি শুনানির নিমিত্তে গ্রহণকৃত হবে না।

২) লিখিত জবাব পেশের পর মোকদ্দমার কোন পক্ষ যদি এমন কোন বিষয়ে দরখাস্ত পেশ করেন, যা আদালতের মতানুযায়ী পূর্বেই পেশ করতে পারতেন বা পেশ করা সমীচীন ছিল এবং তাতে মূল মোকদ্দমার কার্যক্রমে দেরী হওয়ার সম্ভাবনা আছে তদকারণে আদালত দরখাস্ত নিবে কিন্তু তা শুনানি এবং নিষ্পত্তি করবে না, যদি না ঐ পক্ষ আদালত যেরূপে নির্দিষ্ট এবং নির্দেশ করবে এবং সেরূপে অপরপক্ষকে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা খরচা দিবে এবং উক্ত খরচা দিতে না পারলে দরখাস্ত তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

Section 35B: Cost for delay in making applications, etc., in respect of interlocutory matters-
(1) If at any stage of a suit or proceeding, an application or written objection is not filed within the time fixed by the Court, such application or written objection, as the case may be, shall not be admitted for hearing without payment by that party of such cost to the other party not exceeding two thousand taka. 

(2) If after filing of written statement, any party to the suit makes an application in respect of any matter which, in the opinion of the Court, could and ought to have been made earlier, and is likely to delay the main proceeding of the suit, the Court may admit, but shall not hear and dispose of the application, without payment by that party of such cost to the other party not exceeding three thousand taka, as it shall determine and direct, and upon failure to pay the cost, the application shall stand rejected.
৩৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশে দরিদ্র ব্যক্তির আপিল (Pauper Appeals) করার বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ XL
  2. আদেশ XLI
  3. আদেশ XLIV
  4. আদেশ XXXIII
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-XLIV (Order 44) এ দরিদ্র ব্যক্তির আপিল (Pauper Appeals)–এর বিধানাবলী উল্লেখ আছে।
- এই আদেশ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি আপিল করার অধিকার রাখেন কিন্তু আবশ্যকীয় কোর্ট ফি প্রদান করতে অক্ষম, তিনি দরখাস্তের মাধ্যমে pauper হিসেবে আপিল করতে পারেন।
- এ ক্ষেত্রে, আদেশ-৪৪ বলেছে যে আদেশ-৩৩ (Order XXXIII) এর দরিদ্র বাদীর মামলা সংক্রান্ত বিধানাবলীও প্রযোজ্য হবে।

- অতএব, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-XLIV (Order 44) = Pauper Appeals এর করার বিধান রয়েছে।
- সঠিক উত্তর: গ) আদেশ XLIV.
৪০.
ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের ৪৭৬ ধারার অধীন Complaint দায়েরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ-
  1. আপিলযোগ্য
  2. রিভিশনযোগ্য
  3. রিভিউযোগ্য
  4. উপরের কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৭৬-খ ধারার বিধান আপিল (Appeals): যে ব্যক্তির আবেদনক্রমে কোন দেওয়ানী, রাজস্ব বা ফৌজদারী আদালত ৪৭৬ ধারা বা ৪৭৬ক ধারার অধীন নালিশ করতে অস্বীকার করেছেন সেই ব্যক্তি অথবা যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এরূপ অভিযোগ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি ১৯৫ ধারার (৩) উপধারার অর্থানুসারে উক্ত আদালতের উর্ধতন আদালতে আপীল করতে পারেন, এবং অতঃপর উর্ধতন আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে নোটিশ দিয়া নালিশ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে পারেন, অথবা ক্ষেত্ৰ বিশেষে নিজেই সেই নালিশ করতে পারেন যা অধস্তন আদালত ৪৭৬ ধারার অধীন করতে পারতেন, এবং উর্ধতন আদালতে যদি এই নালিশ করেন তাহলে উক্ত ধারার বিধানসমূহ অনুরূপভাবে প্রযোজ্য হবে।

♦যে ব্যক্তির আবেদনক্রমে আদালত ৪৭৬ ধারা বা ৪৭৬ক ধারার অধীন নালিশ করতে অস্বীকার করেছেন সেই ব্যক্তি বা যার বিরুদ্ধে এরূপ অভিযোগ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি উক্ত আদালতের উর্ধ্বতন আদালতে আপিল করতে পারেন।
৪১.
অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায় দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর কত ধারা মতে?
  1. ১৫৩
  2. ১৫০
  3. ১৫১
  4. ১৫২
ব্যাখ্যা
♦ ১৫১ ধারার ক্ষমতা বলে দেওয়ানী আদালত অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা inherent power প্রয়োগ করতে পারেন।

♦ এই ধারা আদালতকে একটি বিপুল ক্ষমতা দিয়েছে। ন্যায়বিচার করার জন্য বা আদালতের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করার জন্য আদালত তার সহজাত ক্ষমতাবলে যেকোন আদেশ দেওয়ার অধিকার রাখেন। আইন সমস্ত পরিস্থিতির মোকবেলা করার পূর্ণ বিধান দিতে পারে না। আইন যে সময় প্রণীত হয় সেই সময়ের পরিস্থিতি আইন প্রযুক্ত হওয়ার সময় বদলে যেতে পারে; আইন প্রযুক্ত হওয়ার সময় এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে, যা আইনপ্রণেতাগণ আইন প্রণয়নের সময় ভাবতেও পারেন নাই; এই সমস্ত কারণে এই ধারায় বলা হয়েছে, আদালত তার নিজস্ব বিবেচনায় সবিচারের জন্য যেকোন আদেশ দিতে পারেন।
৪২.
নিম্নের কোন আদেশটি ডিক্রি হিসাবে গণ্য হবে?
  1. আরজি ফেরত আদেশ
  2. আরজি গ্রহণ আদেশ
  3. আরজি সংশোধন আদেশ
  4. আরজি প্রত্যাখ্যান আদেশ
ব্যাখ্যা
• ধারা ২(২) অনুসারে-

ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক  আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য যে-
আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন আরজি প্রত্যাখান এবং
১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও ডিক্রি বলে গণ্য হবে।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ থেকে ১১২ ধারা পর্যন্ত দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপীলের বিধান উল্লেখ রয়েছে।

দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬ ধরার অধীন মূল ডিক্রি হতে আপিল:
(১) এই আইনের কোন কোন অংশে অথবা বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে স্পষ্টতঃ অন্যরূপ বিধান না থাকলে, আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেক ডিক্রি হতে আপিল শ্রবণের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।

যেহেতু আরজি প্রত্যাখান এর সিদ্ধান্ত মূলত একটি ডিক্রি, তার বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
৪৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির __________ অনুসারে, চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ হওয়ার পর আদালত ১২০ দিনের মধ্যে মোকদ্দমার শুনানি শেষ করবেন।
  1. আদেশ ১৮, বিধি-১৮
  2. আদেশ ১৮, বিধি-১৯
  3. আদেশ ১৮, বিধি-২০
  4. আদেশ ১৮, বিধি-১৭
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৮, বিধি-১৯-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারিত হওয়ার পর আদালত ১২০ দিনের মধ্যে মোকদ্দমার শুনানি সম্পন্ন করবেন। এই সময় গণনায় শুধুমাত্র কার্য দিবস (working days) গণনা করা হবে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১৮ বিধি-১৯: শুনানি সমাপ্ত করার সময়:
১) চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ হওয়ার একশত বিশ দিনের মধ্যে আদালত মোকদ্দমার শুনানি শেষ করবে।
২) এই বিধি অনুযায়ী সময় নির্দিষ্টকরণের নিমিত্তে শুধুমাত্র কার্য দিবসগুলো গণনায় করতে হবে।
---------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-18 Rule-19: Time for completion of hearing:
1) The Court shall complete the hearing of a suit within one hundred and twenty days from the date fixed for its final hearing.
2) In this rule, in determining the time, only the workings days shall be counted.

৪৪.
বিচারক যদি মোকদ্দমার কোন পক্ষ বা স্বার্থ সংশ্লিষতা থাকে তাহলে নিম্নোক্ত কোন ধারা অনুযায়ী উক্ত বিচারকের এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও, তিনি ঐ মোকদ্দমা বা আপিলের শুনানী করতে পারবেন না?
  1. Civil Courts Act,1887 এর ৩৬ ধারা
  2. Code of Civil Procedure ৩৮ ধারা
  3. Civil Courts Act,1887 এর ৩৮ ধারা
  4. Civil Courts Act,1887 এর ৩৯ ধারা
ব্যাখ্যা
• Civil Courts Act,1887 এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী-
কোন বিচারক যদি মোকদ্দমার কোন পক্ষ হন বা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকে, অথবা কোন আপিল এমন ডিক্রি থেকে হয় যা ঐ বিচারক ঘোষণা করেছিলেন; তাহলে উক্ত বিচারকের শুনানী করে এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও তিনি ঐ মামলা বা আপীলের শুনানী করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে জেলা জজ তাঁর স্থানীয় সীমার মধ্যে মামলা বা আপিল এক আদালত থেকে অন্য আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।

• Section 38: Judges not to try suits in which they are interested-

(1) The presiding officer of a Civil Court shall not try Judges not to any suit or other proceeding to which he is a party or in which which they are he is personally interested. 
(2) The presiding officer of an appellate Civil Court under this Act shall not try an appeal against a decree or order passed by himself in another capacity.
(3) When any such suit, proceeding or appeal as is referred to in sub-section (1) or sub-section (2) comes before any such officer, the officer shall forthwith transmit the record of the case to the Court to which he is immediately subordinate, with a report of the circumstances attending the reference.
(4) The superior Court shall thereupon dispose of the case under [section 24 of the Code of Civil Procedure. 1908].
(5) Nothing in this section shall be deemed to affect the extraordinary original civil jurisdiction of the High Court Division.
৪৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি আনুসারে "নালিশের কারণ (Cause of Action)" বলতে কি বোঝায়?
  1. অপরাধের কারণ
  2. যে কারণে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়
  3. যে কোন অভিযোগ
  4. মামলার ধরন
ব্যাখ্যা
• যে সমস্ত বিষয়ের উপর নির্ভর করে বাদী একটি মামলায় তার পক্ষে আদালতের প্রতিকার প্রার্থনা করে, সেসব বিষয়ের সমষ্টিকে নালিশের কারণ বা কজ অব এ্যাকশন বলা হয়।
• অন্যভাবে বলা যায়, কজ অব এ্যাকশন হচ্ছে কোন পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ যা থেকে মামলার উদ্ভব হয়েছে।
• অর্থাৎ কোন বিরোধ সৃষ্টির কারন যার জন্য মামলা করা হয় তাকেই কজ অব এ্যাকশন বলে বা মোকদ্দমার কারণ বলে।
• মামলায় ডিক্রি লাভ করার জন্য বাদীকে প্রমাণ করতে হয় এ রকম প্রতিটি তথ্যই কজ অব এ্যাকশন এর অন্তর্ভুক্ত।
• তবে দাবির সমর্থনে মূল বিষয়গুলো প্রমান করতে যে সব সাক্ষ্যের প্রয়োজন সেগুলো কজ অব এ্যাকশন নয়।
৪৬.
সোলে ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না, বিধানটি দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ৯৭
  2. ৯৬(১)
  3. ৯৬(২)
  4. ৯৬(৩)
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ (৩) ধারা অনুযায়ী পক্ষগণের সম্মতিতে আদালত কোন ডিক্রি প্রদান করে থাকলে তার হতে কোন আপীল চলবে না।
⇒   অর্থাৎ পক্ষগণের সম্মতিতে (Compromise Decree) আদালত কোন ডিক্রি দান করলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলে না। যেহেতু আপীল চলবে না তাই রিভিশেন করা যাবে।
⇒  আদেশ ২৩ (৩) বিধির অধীন সোলে বা আপস ডিক্রি [compromise] বা সম্মতিসূচক [consent decree] ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না তবে রিভিশন করা যায়। কিন্তু ৮৯ক ধারার অধীন মধ্যস্থতার [Mediation] মাধ্যমে পক্ষগণের মধ্যে মীমাংসা অনুযায়ী আদালত যে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করে, উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিশন কোনটি করা যায় না। যা ৮৯ক(১২) ধারায় উল্লেখ করা আছে।

⇒  দেওয়ানি মোকদ্দমার আপিল আদালত দুটি। ১) জেলা জজ আদালত ২) হাইকোর্ট বিভাগ।
--------------
- দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬ ধরার অধীন মূল ডিক্রি হতে আপিল:
(১) এই আইনের কোন কোন অংশে অথবা বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে স্পষ্টতঃ অন্যরূপ বিধান না থাকলে, আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেক ডিক্রি হতে আপিল শ্রবণের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।
(২) একতরফা মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে।
(৩) পক্ষগণের সম্মতিতে আদালত কোন ডিক্রি দান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল চলবে না।
------------
⇒ CPC Section-96. Appeal from original decree:
- (1) Save where otherwise expressly provided in the body of this Code or by any other law for the time being in force, an appeal shall lie from every decree passed by any Court exercising original jurisdiction to the Court authorised to hear appeals from the decisions of such Court. 
- (2) An appeal may lie from an original decree passed ex parte. 
- (3) No appeal shall lie from a decree passed by the Court with the consent of parties.
৪৭.
‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে একটি বিক্রয় চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করে। আদালত বিচার শেষে সিদ্ধান্ত দেয় যে, ‘খ’ ‘ক’ কে বিক্রয় চুক্তি অনুযায়ী জমিটি অর্পন করবে। যেহেতু আদালতের এই সিদ্ধান্ত পক্ষসমূহের বিরোধ নির্ণয় করেছে। এটি একটি?
  1. ডিক্রী
  2. রায়
  3. আদেশ
  4. খ ও গ উভয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইনের ধারা ২ (২) অনুযায়ী ডিক্রী হলো আদালতের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যেটা চূড়ান্তভাবে মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যে কোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষ সমূহের অধিকার নির্ধারন করে।
• যেহেতু উক্ত প্রশ্নে ‘ক’ ও ‘খ’ এর বিরোধীয় বিষয়টি নির্ধারিন করা হয়েছে তাই এটি ডিক্রী।
• ধারা ২(৯) রায় এবং ২ (১৪) আদেশ বিষয়ে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
৪৮.
ধারা ১৩৩(১) অনুযায়ী কীসের ভিত্তিতে একজন ব্যক্তিকে আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়?
  1. ব্যক্তির বয়স
  2. ব্যক্তির পদমর্যাদা
  3. ব্যক্তির মামলা সংশ্লিষ্টতা
  4. ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা
ব্যাখ্যা

ধারা ১৩৩- অন্যান্য ব্যক্তির অব্যাহতি:
(১) সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিতে পারে-যাদের পদমর্যাদা সরকারের মতে এ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।

(২) এভাবে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা সরকার সময় সময় হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করবে। হাইকোর্ট বিভাগে এদের একটি তালিকা সংরক্ষণ করা হবে। এবং যারা হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ কোনো আদালতের বিচারিক এলাকার মধ্যে বাস করেন, তাদের একটি তালিকা সেই অধীনস্থ আদালতেও সংরক্ষিত থাকবে।

(৩) কোনো অব্যাহতি–প্রাপ্ত ব্যক্তি যদি আদালতে হাজিরা না দিয়ে এ সুবিধা দাবি করেন, এবং তাকে কমিশনের মাধ্যমে জবানবন্দি বা সাক্ষ্য নিতে হয়—তাহলে সেই কমিশনের ব্যয় তিনি নিজেই বহন করবেন, যদি না যিনি তার সাক্ষ্য চাইছেন সেই পক্ষ ব্যয়টি বহন করতে রাজি হন।

৪৯.
সুনির্দিষ্ট চুক্তির মামলায় আদালতের ডিক্রি ইচ্ছাকৃতভাবে না মানলে, তা কার্যকর করার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়?
  1. শুধু সম্পত্তি ক্রোক
  2. শুধু দেওয়ানি কারাগারে আটক
  3. শুধুমাত্র জরিমানা
  4. দেওয়ানি কারাগারে আটক বা সম্পত্তি ক্রোক বা উভয়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩২: সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার অথবা নিষেধাজ্ঞার জন্য ডিক্রি:
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সম্পত্তি ক্রোক, অথবা চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা সম্পত্তি ক্রোক করে বা উভয় প্রকারেই কার্যকর করা যাবে।

যদি কোন কর্পোরেশন হয়, তবে কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্রোক করে অথবা পরিচালকগণকে বা অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তাগণকে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা ক্রোক এবং আটক উভয় প্রকারেই ডিক্রিটি জারি করা যাবে। কোন ক্রোক ১ বছর যাবৎ বলবৎ থাকলে যদি ডিক্রি দায়িক ডিক্রিটি মান্য না করে থাকে এবং ডিক্রিদার ক্রোককৃত সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের জন্য আবেদন করে থাকে, তবে অনুরূপ সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত ডিক্রিদারকে অর্থ প্রদান করতে পারেন।
৫০.
২০২৩ সালের মার্চ মাসে 'ক' মাসিক ৮০০০ টাকা ভাড়ায় 'খ'-কে বাড়ি ভাড়া দেয়। 'খ' মার্চ,এপ্রিল এবং মে মাসের সম্পূর্ণ ভাড়া বাকি রাখে। ২০২৩ সালের জুন মাসে 'ক' শুধুমাত্র এপ্রিল মাসের ভাড়ার দাবীতে 'খ'-এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করে। মার্চ এবং মে মাসের বাকি ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে 'ক'-
  1. পরবর্তীতে যেকোনো সময়ে 'খ'-এর বিরুদ্ধে উক্ত বিষয়ে প্রতিকার দাবি করতে পারবে
  2. পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে খ'-এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দাখিল করলে প্রতিকার পাবে
  3. পরবর্তীতে 'খ'-এর বিরুদ্ধে উক্ত বিষয়ে মোকদ্দমা দাখিল করতে পারবে না
  4. ক্ষতিপূরণ সহ পরবর্তীতে যেকোনো সময়ে 'খ'-এর বিরুদ্ধে উক্ত বিষয়ে প্রতিকার দাবি করতে পারবে
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত দুই মাসের বাকি ভাড়া আদায়ের জন্য 'ক' পরবর্তীতে 'খ'-এর বিরুদ্ধে কোনো মোকদ্দমা দাখিল করতে পারবে না। কারণ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২ এর বিধি ২ অনুসারে, মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্বন্ধে বাদী যে পরিমাণ দাবী করার অধিকার রাখে, তা সম্পূর্ণ দাবী করতে হবে। কোন ক্ষেত্রে বাদী মোকদ্দমার একই বিষয়বস্তু সম্পর্কে বহু সংখ্যক প্রতিকার দাবী করার অধিকারী হলে সে সমস্ত বা তন্মধ্যে যে কোন প্রতিকার দাবী করে মোকদ্দমা দাখিল করতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত ধরণের প্রতিকারগুলোর মধ্যে কোন দাবী না করে থাকলে, পরে সেরূপ কোন প্রতিকার দাবী করা চলবে না।

আদেশ ২ বিধি ২- 
১) সমগ্র দাবী মোকদ্দমার অন্তর্ভুক্ত করতে হবেঃ 
যেকোন মোকদ্দমার সারবস্তু সম্বন্ধে বাদি যে পরিমাণ দাবী করার অধিকার রাখে, তা সম্পূর্ণ দাবী করতে হবে। অবশ্য মোকদ্দমাটি কোন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে তার দাবী আংশিকভাবে বর্জন করার যদি দরকার হয় তাহলে তা করতে পারবে।

২) দাবীর অংশ পরিত্যাগঃ
 বাদী যদি তার দাবীর কোন অংশ উল্লেখ না করে মোকদ্দমা করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে দাবী আংশিক বর্জন করে, তবে পরে ঐ দাবী বা দাবীর সে অংশের জন্য মোকদ্দমা করা চলবে না।

৩) একাধিক প্রতিকারের মধ্যে কোন একটির জন্য মোকদ্দমা করতে বর্জনঃ
কোন ক্ষেত্রে বাদী মোকদ্দমার একই বিষয়বস্তু সম্পর্কে বহু সংখ্যক প্রতিকার দাবী করার অধিকারী হলে সে সমস্ত বা তন্মধ্যে যে কোন প্রতিকার দাবী করে মোকদ্দমা দাখিল করতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত ধরণের প্রতিকারগুলোর মধ্যে কোন দাবী না করে থাকলে পরে সেরূপ কোন প্রতিকার দাবী করা চলবে না।

ব্যাখা- উক্ত বিধির উদ্দেশ্যে কোন বাধ্যবাধকতা এবং তা সম্পাদন করার নিমিত্তে প্রদত্ত আনুষঙ্গিক জামানত এবং উক্ত বাধ্যবাধকতা হতে উদ্ভূত আনুক্রমিক দাবীসমূহ ক্রমান্বয়ে একটি মোকদ্দমার কারণই সৃষ্টি করবে।

উদাহরণ-
'ক' বার্ষিক ১২০০ টাকা ভাড়ায় 'খ'-কে একটি বাড়ী ভাড়া দেয়। ১৯০৫, ১৯০৬ এবং ১৯০৭ সালে সম্পূর্ণ ভাড়া বাকি পড়ে। ১৯০৮ সালে 'ক' শুধুমাত্র ১৯০৬ সালে ভাড়ার দাবীতে 'খ'-এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করে। ১৯০৫ ও ১৯০৭ সালে ভাড়ার জন্য 'ক' পরে 'খ'-এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দাখিল করতে পারবে না।
৫১.
আদালত কমিশন কার্যকর করার জন্য Order 26 Rule 3-এর অধীনে কার বরাবর কমিশন প্রেরণ করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র মামলার বাদীকে
  2. শুধুমাত্র যেকোন সরকারি কর্মকর্তাকে
  3. সাক্ষীর নিকটবর্তী থানার কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে
  4. যেকোনো ব্যক্তিকে আদালত উপযুক্ত মনে করলে
ব্যাখ্যা
আদেশ ২৬ বিধি-৩: আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে সাক্ষী বসবাস করলে:
আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় এখতিয়ারের সীমার মধ্যে বসবাসকারী কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন প্রেরণ করতে হলে আদালত যাকে কমিশন সম্পাদন করতে উপযুক্ত মনে করেন, সেরূপ কোন ব্যক্তি বরাবর তা প্রেরণ করা যাতে পারে।

Order 26 Rule-3: Where witness resides within Court's jurisdiction-
A commission for the examination of a person who resides within the local limits of the jurisdiction of the Court issuing the same may be issued to any person whom the Court thinks fit to execute it.
৫২.
ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত (Court of Small Causes) কর্তৃক কোন উদ্দেশ্যে সমন প্রদান করা হবে?
  1. শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য
  2. শুধুমাত্র মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য
  3. বিচার্য বিষয় নির্ধারণকরণ অথবা মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য
  4. পক্ষদ্বয়ের ইচ্ছানুযায়ী উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়
ব্যাখ্যা
আদেশ ৫ বিধি-৫: বিচার্য বিষয় স্থিরকরণ অথবা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন:
আদালত সমন প্রদানকালীন সময়েই স্থির করবে যে, শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় নির্ধারণকরণ অথবা মোকদ্দমার চূড়ান্ত সমাধানের জন্য দেয়া হচ্ছে এবং ঐ মোতাবেক সমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করা হবে। অবশ্য শর্ত থাকে যে, ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত কর্তৃক শ্রুত প্রত্যেকটি মোকদ্দমার চূড়ান্ত সমাধানের জন্য সমন প্রদান করা হবে।

Rule-5: Summons to be either to settle issues orfor final disposal:
The Court shall determine, at the time of issuing the summons, whether it shall be for the settlement of issues only, or for the final disposal ofthe suit; and the summons shall contain a direction accordingly: Provided that, in every suit heard by a Court of Small Causes, the summons shall be for the final disposal of the suit.
৫৩.
The Civil Courts Act, 1887 এর কোন ধারা অনুযায়ী, জেলা জজ আপিল স্থানান্তরের ক্ষমতা রাখেন?
  1. ২২ ধারা
  2. ২৩ ধারা
  3. ২৪ ধারা
  4. ২৫ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ২২ অনুসারে, জেলা জজ তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন যুগ্ম জেলা জজের কাছে সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশ থেকে উদ্ভূত আপিল স্থানান্তর করতে পারেন। এছাড়া, স্থানান্তরিত আপিল প্রত্যাহার করে নিজে নিষ্পত্তি করতে বা অন্য উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করতে পারেন।

⇒ The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ২২: জেলা জজের আপিল স্থানান্তরের ক্ষমতা:
(১) জেলা জজ, তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন যে কোনো যুগ্ম জেলা জজের নিকট, তার নিকটে মুলতুবি থাকা এবং সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশ থেকে উদ্ভূত যে কোনো আপিল স্থানান্তর করতে পারবেন।
(২) জেলা জজ, এভাবে স্থানান্তরিত কোনো আপিল প্রত্যাহার করে তা নিজে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে পারবেন অথবা তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কোনো উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার অধীনে স্থানান্তরিত আপিলসমূহ সেই নিয়ম অনুসারে নিষ্পত্তি করা হবে, যেভাবে জেলা জজ কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত অনুরূপ আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

⇒ The Civil Courts Act, 1887, Section-22: Power of District Judge to transfer appeals:
(1) A District Judge may transfer to any Joint District Judge under his administrative control any appeals pending before him from the decrees or orders of Senior Assistant Judges or Assistant Judges.
(2) The District Judge may withdraw any appeal so transferred, and either hear and depose of it himself or transfer it to a Court under his administrative control competent to dispose of it.
(3) Appeals transferred under this section shall be disposed of subject to the rules applicable to like appeals when disposed of by the District Judge.

৫৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় প্রত্যর্পণ দরখাস্তের বিধান আছে?
  1. ১৪০
  2. ১৪৪
  3. ১৪৫
  4. ১৪৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ধারার বিধান: প্রত্যর্পণের দরখাস্ত: 
(১) যে ক্ষেত্রে কোন - ডিক্রির পরিবর্তন বা রদ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, প্রাথমিক আদালত -(ডিক্রি প্রদানকারী আদালত) এরূপ প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা - করবেন, যাতে উক্ত ডিক্রি আদৌ প্রদত্ত না হলে পক্ষগণ যে অবস্থায় থাকতেন তাদেরকে সেই অবস্থায় স্থাপন করবেন এবং এই উদ্দেশ্যে আদালত ডিক্রি রদবদলের দরুন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রার্থীকে তার প্রাপ্য মোকদ্দমার খরচ, সুদ, ক্ষতিপূরণ ও অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা পরিশোধসহ আদালত যথোপযুক্ত আদেশ দান করতে পারেন।

(২) উপধারা (১) অনুসারে আবেদন করে প্রত্যর্পণ বা অন্য কোন প্রতিকার পাওয়া গেলে, এই উদ্দেশ্যে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা চলবে না।
-----------------------
⇒ CPC Section: 144. Application for restitution.
(1) Where and in so far as a decree is varied or reversed, the Court of first instance shall, on the application of any party entitled to any benefit by way of restitution or otherwise, cause such restitution to be made as will, so far as may be, place the parties in the position which they would have occupied but for such decree or such part thereof as has been varied or reversed; and, for this purpose, the Court may make any orders, including orders for the refund of costs and for the payment of interest, damages, compensation and mesne profits, which are properly consequential on such variation or reversal. 
(2) No suit shall be instituted for the purpose of obtaining any restitution or other relief which could be obtained by application under sub-section (1).
৫৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৩(২) অনুসারে, যদি এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত ভিন্ন ভিন্ন আপিল আদালতের অধীনস্থ হয়, তাহলে স্থানান্তর আবেদন করতে হবে –
  1. জেলা জজের নিকট
  2. হাইকোর্ট বিভাগের নিকট
  3. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিকট
  4. সংশ্লিষ্ট যেকোনো আপিল আদালতের নিকট
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২২ থেকে ২৪ পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৩(২) স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, যখন এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত ভিন্ন ভিন্ন আপিল আদালতের অধীনস্থ হয় (subordinate to different Appellate Courts), সেক্ষেত্রে স্থানান্তর আবেদন করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগের (High Court Division) নিকট।
- সুতরাং, জেলা জজ, সংশ্লিষ্ট আপিল আদালত বা আপিল বিভাগের নিকট নয়, বরং সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগের কাছেই এই আবেদন করতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৩: কোন আদালতে আবেদন করতে হবে:-
১) যখন এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত একই আপিল আদালতের অধীন হয়, তখন উক্ত আপিল আদালতে ২২ ধারানুযায়ী আবেদন পেশ করতে হবে।
২) যখন অনুরূপ আদালতসমূহ বিভিন্ন আপিল আদালতের আওতাধীনে হয় তখন হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন পেশ করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-23: To what Court application lies-
1) Where the several Courts having jurisdiction are subordinate to the same Appellate Court, an application under section 22 shall be made to the Appellate Court.
2) Where such Courts are subordinate to different Appellate Courts the application shall be made to the High Court Division.

৫৬.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order VII rule 11 অনুসারে কয়টি কারণে আরজি প্রত্যাখ্যান করা যায়?
ব্যাখ্যা
- দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১১ নং বিধি অনুযায়ী আদালত ৪ (চার) টি কারণে আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

- আদেশ ৭ বিধি- ১১ এর বিধান আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান:  নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আরজি প্রত্যাখ্যান করা হবে-
ক) যেক্ষেত্রে এটা মোকদ্দমার কারণ প্রকাশ করেনি;
খ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকার কম মূল্যায়িত হয় এবং আদালতের নির্দেশ মত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছে:
গ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকারের যথার্থই মূল্যায়ন করা হয়েছে; কিন্তু প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশমত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ঘ) যেক্ষেত্রে আরজির বিবৃতি অনুযায়ী উক্ত মোকদ্দমা কোন আইন দ্বারা বারিত বলে প্রতীয়মান হয়;

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার মূল্যমান বা আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সংশোধন করার জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় কোনক্রমেই ২১ দিনের অধিক হবে না।
- ধারা-২ (২) এর বিধান মতে আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ ডিক্রি হিসেবে গণ্য হবে।

আরজি নাকচ / প্রত্যাখ্যানের কারণ ৪টি
১) মোকদ্দমার কারণ উল্লেখ না করলে (Cause of action)
২) দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেয়া হলে (undervalued)
৩) অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প পেপারে লিখা হলে (insufficiency stamped)
৪) মোকদ্দমাটি আইন/তামাদিতে বারিত হলে (Barred by law)

-দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেখালে বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে আদালত তা সংশোধনের জন্য অনধিক ২১ দিন সময় দিতে পারে।

- প্রতিকার
১) বিধি: ১৩ অনুযায়ী পুনরায় একই বিষয়ে নতুন আরজি দাখিল।
২) আপিল করা যাবে

- বিবাদীর আবেদনক্রমে বা আদালত নিজ উদ্যোগে আরজি প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
- বিবাদী কর্তৃক আরজি প্রত্যাখ্যানের আবেদন নামঞ্জুর হলে রিভিশন করা যাবে।
৫৭.
প্লিডিংস সত্যাখ্যান [Verification of Pleadings] এর বিধান আছে-
  1. Order-6 Rule-5
  2. Order-6 Rule-15
  3. Order-7 Rule 6
  4. Order 6 Rule 13
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১ নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে।
 
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৫ তে প্লিডিংস সত্যাখ্যান [Verification of Pleadings] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:-
সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে,তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সন্তুষ্ট হলে,অন্য কোনো ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে,সে আরজি বা লিখিত জবাবে সত্যাখ্যান করতে পারে।
যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন,যে স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।
---------------------------
CPC Order 6 Rule 15: Verification of pleadings:-
1) Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.
2) The person verifying shall specify, by reference to the numbered paragraphs of the pleading, what he verifies of his own knowledge and what he verifies upon information received and believed to be true.
3) The verification shall be signed by the person making it and shall state the date on which and the place at which it was signed.]
৫৮.
নিম্নলিখিত কোনটি Res Judicata প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত নয়?
  1. উভয় মামলার বিষয়বস্তু অভিন্ন
  2. পূর্ববর্তী মামলা আপিলাধীন রয়েছে 
  3. পূর্ববর্তী মামলা এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে
  4. পরবর্তী মামলার পক্ষ ও বিষয় এক
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ. পূর্ববর্তী মামলা আপিলাধীন রয়েছে।

Res Judicata (ধারা ১১, দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮) নীতি প্রযোজ্য হতে হলে- পূর্ববর্তী মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি (finally decided) হতে হবে। কিন্তু যদি পূর্ববর্তী মামলা এখনও আপিলাধীন (pending in appeal) থাকে, তবে সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয় না, এবং সেই কারণে Res Judicata নীতি প্রযোজ্য হবে না।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি [Res Judicata] আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবেনা। এই নীতির মূল কথা হলো, একবার নিষ্পত্তিকৃত কোন মোকদ্দমা, পুনরায় বিচারযোগ্য নয়। ১১ ধারার নিয়ম অনুসরণ করা আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

শর্তসমূহ:
⇒ দুইটি মোকদ্দমা থাকতে হবে। একটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত মোকদ্দমা এবং অন্যটি পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা;
⇒ উভয় মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় একই;
⇒ পরবর্তী মোকদ্দমাটি যারা দায়ের করেছে, পূর্ববর্তী চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত মোকদ্দমাটি সেই একই পক্ষগণের মধ্যে ছিল বা সেই পক্ষগণের মধ্যে ছিল যাদের মাধ্যমে তারা বা তাদের কোন একজন প্রতিকার দাবী করে;
⇒ উক্ত পক্ষগণ পূর্ববর্তী মোকদ্দমায় একই বিষয়বস্তু নিয়ে মোকদ্দমা দায়ের করেছে;
⇒ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তি করেছে।

৫৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির Res Judicata নীতির মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত করা
  2. আদালতের একই বিষয়ে পুনরায় বিচার নিষিদ্ধ করা
  3. পক্ষগণকে পুনরায় মামলা করার অধিকার দেওয়া
  4. একাধিক আদালতে একই মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Res Judicata নীতির মূল উদ্দেশ্য আদালতের একই বিষয়ে পুনরায় বিচার নিষিদ্ধ করা।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি [Res Judicata] আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবেনা। এই নীতির মূল কথা হলো, একবার নিষ্পত্তিকৃত কোন মোকদ্দমা, পুনরায় বিচারযোগ্য নয়।
→ Res Judicata নীতি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক, এটি মানা আদালতের দায়িত্ব।

Res Judicata (দোবারা দোষ) কার্যকর হওয়ার শর্তসমূহ:
→ দুইটি মামলা থাকতে হবে:
একটি মামলা আগে নিষ্পত্তি হয়ে থাকতে হবে।
অন্যটি পরবর্তীতে দায়েরকৃত হতে হবে।
→ উভয় মামলার বিষয়বস্তু একই হতে হবে:
আগের মামলায় যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন মামলাতেও সেই একই বিষয় থাকতে হবে।
→ পক্ষগণ একই হতে হবে:
পরবর্তী মামলা যারা করেছে, তারা আগের মামলার পক্ষ হতে হবে।
অথবা তারা তাদের পক্ষের হয়ে মামলা করেছে।
→একই বিষয়ে পূর্বেও মামলা করা হয়েছে:
পূর্ববর্তী মামলার পক্ষগণ একই বিষয় নিয়ে মামলা করেছিল।
→ আগের মামলাটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত নিষ্পত্তি করেছে:
যে আদালত আগের মামলা নিষ্পত্তি করেছে, তার বিচার করার ক্ষমতা (এখতিয়ার) থাকতে হবে।

৬০.
ব্যক্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে-
  1. যে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় কার্য সম্পাদন হয়েছে
  2. যে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বাদী বাস করে
  3. যে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বিবাদী বাস করে
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৬ থেকে ১৮ পর্যন্ত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা কোথায় দায়ের করা যায় তা উল্লেখ করা আছে। তবে ধারা ১৯ এ ব্যক্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রে  ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা কোথায় দায়ের করতে হবে তা বলা হয়েছে-

ধারা ১৯-
কোন ব্যক্তি বা কোন অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি এক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে ক্ষতিসাধন করা হলে এবং বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা করলে বা লাভজনক কাজ করলে, বাদী দুই আদালতের যে কোন একটিতে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

উদাহরণঃ
ক) 'এ'-চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং সে 'বি'-কে ঢাকায় মারধর করে। 'বি' ঢাকায় বা চট্টগ্রামে 'এ' এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করতে পারে।
খ) চট্টগ্রামে বসবাসকারী 'এ' ঢাকায় 'বি' সম্পর্কে মানহানিকর বিবৃতি প্রকাশ করে। 'বি' ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে 'এ' এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করতে পারে।
৬১.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর কোন ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি/মধ্যস্থতা (Mediation) এর বিধান রয়েছে?
  1. ৮৮ ধারা
  2. ৭৭ ধারা
  3. ৭৯ (ক) ধারা
  4. ৮৯ (ক) ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৮৯ (ক) ধারায় বলা হয়েছে যে, লিখিত জবাব দাখিলের পর যদি মোকদ্দমার উভয় পক্ষ নিজে / আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয় তাহলে আদালত শুনানী মুলতবী রেখে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবেন।
•মধ্যস্থতার ১০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যর্থ হইলে আদালত পরবর্তীতে ৭ দিনের মধ্যে সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করিবেন।
• মধ্যস্থতার সময় হবে ৬০ দিন তবে সর্বাধিক ৯০ দিনের বেশি নয়।
৬২.
আদেশ ৩২ বিধি-১৪ অনুযায়ী, নাবালক বাদী যদি সাবালক হয়ে যায়, তাহলে কী করতে পারে?
  1. মামলাটি মুলতবি করতে পারে
  2. মামলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে
  3. মামলার খারিজ চেয়ে আবেদন করতে পারে
  4. মামলার পুনঃশুনানি চেয়ে আবেদন করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২, বিধি ১৪ (Order 32, Rule 14 of the Code of Civil Procedure, 1908) অনুযায়ী, যখন নাবালক বাদী সাবালক হয়ে যায়, তখন যদি সে মনে করে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক দায়ের করা মামলা অযৌক্তিক বা অসংগত ছিল, তাহলে সে মামলাটি খারিজ চেয়ে আদালতে আবেদন করতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২ বিধি-১৪: অযৌক্তিক বা অনুচিত মোকদ্দমা:
১) কোন নাবালক একমাত্র বাদি হলে সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয়ে এ মর্মে আবেদন করতে পারে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক তার নামে রুজুকৃত মোকদ্দমা অযৌক্তিক বা অসংগত হওয়ার কারণে খারিজ হবে।
২) সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উপর আবেদনের নোটিশ জারি করতে হবে এবং উক্ত অসংগত কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়ে আদালত আবেদন মঞ্জুর করতে পারে এবং আবেদনপত্র ও মোকদ্দমার ব্যাপারে কোন কিছু সম্পর্কে সকল পক্ষ বরাবর খরচাদি পরিশোধের জন্য নেক্সট ফ্রেন্ডকে আদেশ দিতে পারে বা আদালত উপযুক্ত মনে করে অন্য কোন উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-32 Rule-14:
(1)A minor, upon attaining majority, may, if he is the sole plaintiff, apply for the dismissal of a suit instituted in his name by his next friend on the grounds that it was unreasonable or improper.
(2)Notice of the application shall be served on all the parties concerned. Upon being satisfied of the unreasonableness or impropriety of the suit, the Court may grant the application and order the next friend to pay the costs of all parties regarding the application and anything done in the suit, or make such other order as it deems appropriate.
৬৩.
নেক্সট ফ্রেন্ড যদি তার কর্তব্য সম্পাদন না করেন, তবে আদেশ ৩২ বিধি-৯ এর অধীন তার অপসারণের আবেদন করতে পারে-
  1. আদালত
  2. বিবাদি
  3. নাবালক
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩২ বিধি-৯: নেক্সট ফ্রেন্ডের অপসারণ:
(১) যেক্ষেত্রে কোন নাবালকের নেক্সট ফ্রেন্ডের স্বার্থ ঐ নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থী হয় কিংবা যেক্ষেত্রে সে এমন বিবাদির সাথে এমনভাবে জড়িত যে যার স্বার্থ ঐ নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থী যদরুন তার দ্বারা উক্ত নাবালকের স্বার্থ সঠিক সংরক্ষণ অসম্ভব বা যেক্ষেত্রে সে তার কর্তব্য সম্পাদন করে না বা মোকদ্দমার বিচার চলাকালে বাংলাদেশে বসবাস করা হতে বিরত থাকে অথবা অন্য কোন পর্যাপ্ত কারণে নাবালকের তরফ হতে বা বিবাদি কর্তৃক তার অপসারণের জন্য আবেদন করা যাবে এবং আদালত যদি প্রদর্শিত কারণের যথার্থতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হন, তবে নেক্সট ফ্রেন্ডকে তদানুসারে অপসারণ করতে নির্দেশ দিতে পারেন এবং খরচাদি সম্পর্কে অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ দিতে পারেন।

২) যেক্ষেত্রে কোন নেক্সট ফ্রেন্ড বা অভিভাবক এতদুদ্দেশ্যে কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিযুক্ত বা ঘোষিত হয়নি এবং অনুরূপ নিযুক্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবক নেক্সট ফ্রেন্ডের স্থলে স্বয়ং নিযুক্ত হতে ইচ্ছা পোষণ করে আবেদন লিপিবদ্ধ করে মনে করেন যে, উক্ত অভিভাবককে নাবালকের নেক্সট ফ্রেন্ডরূপে নিযুক্ত করা উচিত নয় এবং আবেদনকারীকে তার স্থলে আদালতের বিবেচনা মত মোকদ্দমায় ব্যয়িত যেরূপ খরচাদি হয়েছে তৎসম্পর্কে শর্তাবলী সাপেক্ষে নেক্সট ফ্রেন্ডরূপে নিযুক্ত করবে।
৬৪.
আদেশ ৯ বিধি-১৩ক এর অধীন একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ জারি হলে, আদালত কাকে নোটিশ প্রদান করবে?
  1. বাদীকে
  2. বিবাদীকে
  3. সাক্ষীদের
  4. ক ও খ উভয় পক্ষকে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৯ বিধি-১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল:
(১) বিধি-১৩ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানোর এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে বিবাদীকে বিধি-১৩ অনুযায়ী যথেষ্ট কারণ প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি ডিক্রি রদ করতে পারবে, তবে আদালত বিবাদীকে অনধিক তিন হাজার টাকা খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে:
শর্ত থাকে যে, আদালত এই বিধির অধীনে ডিক্রি রদ করবে না, যদি না বিবাদী, যিনি আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করেছেন, ডিক্রি জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ডিক্রি রদের জন্য একটি আবেদনপত্র, অফিডেভিট সহ, আদালতে জমা দেন।
আরও শর্ত থাকে যে, একই বিবাদীর পক্ষ থেকে এই বিধির অধীনে একাধিকবার ডিক্রি রদ করা যাবে না।

(২) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ জারি হওয়ার সাথে সাথে আদালত বাদীকে এ বিষয়ে নোটিশ প্রদান করবে, এবং এর খরচ বিবাদী বহন করবে।
৬৫.
দেওয়ানি আদালতের ডিক্রি জারির প্রথম দরখাস্তের/আবেদনের তামাদির মেয়াদ কত দিন?
  1. ০১ বছর
  2. ০২ বছর
  3. ০৩ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ডিক্রি জারির জন্য প্রথম দরখাস্ত/আবেদন ৩ বছরের মধ্যে করতে হয়। ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়।
⇒ তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদমতে যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি সংশোধন করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে উক্ত সংশোধিত ডিক্রি জারির দরখাস্ত সংশোধনের তারিখ হতে ৩ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
⇒ তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রেজিস্ট্রিকৃত/নিবন্ধিত ডিক্রি বা আদেশের ক্ষেত্রে জারি বা কার্যকর করার জন্য আবেদনের সময়সীমা ৬ বছর।

⇒ সাধারনত নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্যান্য ডিক্রির ক্ষেত্রে জারির জন্য আবেদনের সময়সীমা সর্বোচ্চ ১২ বছর। তবে প্রতারণা, প্রবঞ্চনা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে ১২ বছরের পরও ডিক্রি জারির আবেদন করা যায়।

⇒ তামাদি আইনের ১৮৩ অনুচ্ছেদমতে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক সাধারণ আদি দেওয়ানী এখতিয়ার বলে প্রদত্ত রায়, ডিক্রি বা আদেশ অথবা সুপ্রীম কোর্টের কোন আদেশ কার্যকর করার জন্য ১২ বছরের মধ্যে দরখাস্ত/আবেদন দাখিল করতে হবে।
⇒ তামাদি আইনের ১৮৩ অনুচ্ছেদে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারায় কোন বিধান না থাকলে সে সকল ডিক্রি জারির জন্য আবেদনের সময়সীমা ৩ বছর।
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908  ধারা- ৪৮ এর বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত (Execution barred in certain cases): নিম্নলিখিত তারিখ থেকে ১২ বছর পর কোন ডিক্রি জারির আবেদন করা হলে উক্ত ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ, অথবা
খ) যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশ দ্বারা কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ বা কোন সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এরূপ পরিশোধ বা প্রদানের তারিখ হতে যে ডিক্রি জারির প্রার্থনা করা হয়েছে।
দেনাদার প্রতারণা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জারির আবেদনে বাধা দিলে ১২ বছরের পরেও জারির আবেদন করা যায়।
৬৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৭৯ ধারা অনুযায়ী সরকার বাদী/বিবাদী হলে কোন কর্তৃত্বের ব্যবহার হবে?
  1. রাষ্ট্র্র
  2. বাংলাদেশ
  3. সরকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৭৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, সরকার বাদী বা বিবাদী হলে কর্তৃত্ব হিসাবে নাম হবে বাংলাদেশ।

•তবে ফৌজদারী মোকদ্দমায় কর্তৃত্ব হিসাবে নাম হবে রাষ্ট্র।
৬৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ৯ অনুসারে আদালত কখন অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি দাখিলের আদেশ দিতে পারে?
  1. যে কোনো সময়
  2. মোকদ্দমার শুরুতে
  3. শুধুমাত্র বাদীর অনুরোধে
  4. বিচার্য বিষয় (বা ইস্যু) গঠনের আগে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ৯ অনুসারে, আদালত যে কোনো সময় (at any time) প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি (written statement or additional written statement) পেশের আদেশ দিতে পারেন এবং তার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিতে পারেন। আদালতের এই ক্ষমতা মামলার যেকোনো পর্যায়ে প্রযোজ্য, শুধুমাত্র শুরুতে বা বিচার্য বিষয় গঠনের আগে সীমাবদ্ধ নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী- আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৮ বিধি-৯: পরবর্তী আরজি জবাব (Subsequent pleadings):
বিবাদির লিখিত জবাব দাখিলের পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি-সমন্বয়ের দাবি ব্যতীত অন্য কোন আরজি জবাব আদালতের অনুমতি ব্যতীত উপস্থাপন করা যাবে না, কিন্তু আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় যে কোন পক্ষের নিকট লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব তলব করতে পারবেন এবং তা দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত করে দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-8 Rule-9: Subsequent pleadings:
No pleading subsequent to the written statement of a defendant other than by way of defence to a set-off shall be presented except by the leave of the Court and upon such terms as the Court thinks fit, but the Court may at any time require a written statement or additional written statement from any of the parties and fix a time for presenting the same.

৬৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৩ আদেশে নিচে বর্ণিত কোন তালিকা দেওয়া আছে?
  1. আপিলযোগ্য ডিক্রির তালিকা
  2. আপিলযোগ্য আদেশের তালিকা
  3. আপিলঅযোগ্য আদেশের তালিকা
  4. আপিলঅযোগ্য ডিক্রির তালিকা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধান হলো- আদেশের বিরুদ্ধে আপিল। আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপিলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) এর তালিকা রয়েছে।

আদেশ ৪৩:
আদেশ ৪৩ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশের তালিকা উল্লেখ করেছে যেগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা যায়। যেমন - অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, স্থগিতাদেশ, মোকদ্দমা বাতিল করা, জামিন প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ১০৪ আপীলযোগ্য আদেশগুলোর সামগ্রিক বর্ণনা দিয়েছে। এই ধারা বলছে যে, যদি কোনো আদালত এমন কোনো আদেশ প্রদান করে যা চূড়ান্ত না হয়ে একটি বিষয়ের বিরাট অংশ নিষ্পত্তি করে দেয়, তাহলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যেতে পারে।
৬৯.
নিম্ম আদালত কোনো বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স পাঠাতে পারে কত ধারা অনুযায়ী?
  1. ১১৩
  2. ১১৪
  3. ১১৫
  4. ১৫৩
ব্যাখ্যা
♦হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স: অধস্তন কোন আদালত মোকদ্দমার বিষয়ে মতামতের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করে অভিমত চাইলে তাকে রেফারেন্স (Reference) বলে।
♦আদেশ ৪৬ এবং ধারা ১১৩ রেফারেন্স (Reference) সম্পর্কিত বিধান উল্লেখ আছে।

♦ ১১৩ ধারার বিধান হাইকোর্ট বিভাগে অভিমতের জন্য প্রেরণ: নির্ধারিত শর্ত ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে কোন আদালত কারণ উল্লেখপূর্বক কোন মোকদ্দমা হাইকোর্ট বিভাগের মতামত চেয়ে প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মোকদ্দমা সম্পর্কে যথোপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারে।
৭০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১০, বিধি-২ কী সম্পর্কিত?
  1. সাক্ষী তলব
  2. দলিল উপস্থাপন
  3. লিখিত জবাব দাখিল
  4. মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC) ১৯০৮-এর আদেশ ১০, বিধি ২-এ পক্ষ বা তার সঙ্গী ব্যক্তির মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের (Oral examination of party or companion of party) বিধান রয়েছে। এই বিধি অনুসারে, প্রথম শুনানি বা পরবর্তী শুনানিতে আদালত মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পেতে পক্ষ বা তার সঙ্গীকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, এবং চাইলে পক্ষের সুপারিশকৃত প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করতে পারে (আদালতের বিবেচনাধীন)।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০, বিধি ২ অনুযায়ী, আদালত প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোনো শুনানিতে যদি কোনো পক্ষ বা তার সাথে থাকা ব্যক্তি মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হন, তবে আদালত তাকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Order-10 Rule-2: Oral examination or party of companion of party:-
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.

৭১.
যে পক্ষের খরচ প্রদানের ব্যর্থতায় আপিল খারিজ হয়েছে, সে পক্ষ উক্ত আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করতে সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ প্রদান করবে?
  1. ২০০ টাকা
  2. ১০০০ টাকা
  3. ৩০০০ টাকা
  4. ২০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১২ক- আপিল মুলতুবি (Adjournment in appeal):

⇒ আপিলের ক্ষেত্রে কোন পক্ষের অনুরোধে আপিল আদালত ৩ বারের অধিক সময় মঞ্জুর করবেন না ।
⇒ ৩ বারের বেশি মুলতবি করলে আদালত সর্বনিম্ন ২০০ টাকা ও অনধিক ১০০০ টাকা খরচ অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দিবেন।
⇒ আপিলকারী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হলে- আপিল খারিজ হবে;
প্রতিবাদী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হলে- একতরফা নিষ্পত্তি হবে।

⇒ একতরফাভাবে কোন আপিল খারিজ বা নিষ্পত্তি করা হলে তা শুনানির জন্য পুনরুজ্জীবিত করতে হলে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে এবং নূন্যতম ২০০ এবং অনধিক ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে। তবে খরচ সহ কয়টি মুলতুবি মঞ্জুর করা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
⇒ কোন পক্ষ আপিল পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ একবারই পাবেন।

অর্থাৎ,
যে পক্ষের খরচ প্রদানের ব্যর্থতায় আপিল খারিজ হয়েছে বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়েছে, সে পক্ষ উক্ত আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করতে পারে খারিজ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে। আদালত সর্বনিম্ন ২০০ এবং অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদানের শর্তে প্রত্যেক পক্ষে সর্বোচ্চ একবার এরকম আবেদন মঞ্জুর করে থাকেন।
৭২.
ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা রুজু করা যাবে না যদি-
  1. সকল পক্ষ সম্মতি দেয়
  2. কোনো পক্ষ মামলা করতে অস্বীকার করে
  3. সম্পত্তির বাজার মূল্য বৃদ্ধি পায়
  4. সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিষয়ে অন্য কোনো মামলা বিচারাধীন থাকে
ব্যাখ্যা
ধারা ৮৮: ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা কখন রুজু করা যেতে পারে:
যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি, অন্য কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয়, উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি- দাওয়া না থাকে এবং যদি তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন, তবে ঐ সম্পত্তি বা অর্থ কার নিকট অর্পণ করতে হবে, সে বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ঐরূপ দাবিদারগণের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সকল পক্ষের অধিকার যা দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে, এমন কোন মোকদ্দমা যদি বিচারাধীন থাকে তাহলে, ঐরূপ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা রুজু করা যাবে না।

Sec.-88: Where interpleader suit may be instituted:
Where two or more persons claim adversely to one another the same debt, sum of money or other property, movable or immovable, from another person, who claims no interest therein other than for charges or costs and who is ready to pay or deliver it to the rightful claimant, such other person may institute a suit of interpleader against all the claimants for the purpose of obtaining a decision as to the person to whom the payment or delivery shall be made and of obtaining indemnity for himself:

Provided that where any suit is pending in which the rights of all parties can properly be decided, no such suit of interpleader shall be instituted.
৭৩.
নিম্নের কোন ধরনের মোকদ্দমায় দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা দিতে হবে?
  1. নিঃস্ব ব্যক্তি কর্তৃক আনীত
  2. ইন্টারপ্লিডার
  3. ফোরক্লোজার
  4. হস্তান্তরযোগ্য দলিল সংক্রান্ত
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits ) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।  স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবি ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।

⇒ তবে কার নিকট পরিশোধ বা অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এরূপ দাবিদারদের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ অর্থাৎ আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits বিবাদি থাকবে কমপক্ষে ২ জন।

⇒ আদেশ ৩৫ বিধি-১। ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় আর্জি (Plaint in interpleader-suits): ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় প্রত্যেকটি মোকদ্দমার আরজিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি বিবৃত করতে হবে - বাদী মোকদ্দমার খরচের জন্য ব্যয়িত দাবি ব্যতীত অন্য কোন স্বার্থ দাবি করে না; বিবাদীগণ কর্তৃক দাবিসমূহ পৃথকভাবে প্রণীত হয়েছে; এবং বাদী ও কোন বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ যোগসাজশ বা ষড়যন্ত্র নেই।

⇒আদেশ-৩৫, বিধি-২: দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদান- যেক্ষেত্রে দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদানের বা আদালতের হেফাজতে রাখার যোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে মামলায় বাদী কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার পূর্বে বাদীকে তা অনুরূপভাবে আদালতে প্রদান করতে তলব করা যেতে পারে। 

অর্থাৎ  ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা দিতে হবে।
--------------------------------
⇒CPC Order-35 Rule-1: Plaint in interpleader suits:
 In every suit of interpleader the plaint shall, in addition to other statements necessary for plaints, state-
(a) that the plaintiff claims no interest in the subject-matter in dispute other than for charges or costs; 
(b) the claims made by the defendants severally; and
(c) that there is no collusion between the plaintiff and any of the defendants. 

⇒ CPC Order-35 Rule-2: Payment of thing claimed into Court:
 Where the thing claimed is capable of being paid into Court or placed in the custody of the Court, the plaintiff may be required to so pay or place it before he can be entitled to any order in the suit. 
৭৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২৭ অনুসারে জারি স্থগিত হলেও কী করা যায়?
  1. ডিক্রি বাতিল করা
  2. মামলা পুনরায় শুরু করা
  3. দায়িকের সম্পত্তি পুনরায় ক্রোক করা
  4. দায়িকের সম্পত্তি ফেরত দেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২৭ অনুযায়ী, যদি কার্যকরী আদেশ (execution) স্থগিত করা হয় এবং তাতে দায়িকের ব্যক্তি বা সম্পত্তি মুক্ত করে দেওয়া হয় (restitution/discharge), তবুও যদি পরে কার্যকরী আবার শুরু হয়, তাহলে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার বা তার সম্পত্তি পুনরায় ক্রোক করা যাবে।
“No order of restitution or discharge under rule 26 shall prevent the property or person of a judgment-debtor from being retaken in execution of the decree sent for execution.”
অর্থাৎ, স্থগিতাদেশ সাময়িক, কিন্তু ডিক্রির কার্যকরিতা সম্পূর্ণভাবে নাকচ হয় না। পরবর্তীতে প্রয়োজনে পুনরায় কার্যকর করা যেতে পারে।

Stay of Execution

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-26.When Court may stay execution:
(1) The Court to which a decree has been sent for execution shall, upon sufficient cause being shown, stay the execution of such decree for a reasonable time, to enable the judgment-debtor to apply to the Court by which the decree was passed, or to any Court having appellate jurisdiction in respect of the decree or the execution thereof, for an order to stay execution, or for any other order relating to the decree or execution which might have been made by such Court of first instance or appellate Court if execution had been issued thereby, or if application for execution had been made thereto.
(2) Where the property or person of the judgment-debtor has been seized under an execution the Court which issued the execution may order the restitution of such property or the discharge of such person pending the result of the application.
- Power to require security from, or impose conditions upon, judgment-debtor
(3) Before making an order to stay execution or for the restitution of property or the discharge of the judgment-debtor, the Court may require such security from, or impose such conditions upon, the judgment-debtor as it thinks fit.

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-27. Liability of judgment-debtor discharged:
 No order of restitution or discharge under rule 26 shall prevent the property or person of a judgment-debtor from being retaken in execution of the decree sent for execution.
৭৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ৪ অনুযায়ী, কে নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিল বা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারে?
  1. যেকোন পক্ষ
  2. আদালত নিজে
  3. শুধুমাত্র বাদী
  4. যেই পক্ষ আদেশে অসন্তুষ্ট
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৪: নিষেধাজ্ঞার আদেশ মুক্ত, পরিবর্তন বা বাতিল হতে পারে:
নিষেধাজ্ঞার কোন আদেশ অনুরূপ আদেশে কোন পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে সে পক্ষের আবেদনক্রমে আদালত কর্তৃক উক্ত নিষেধাজ্ঞার আদেশ মুক্ত বা পরিবর্তন বা বাতিল হতে পারে।

Rule.-4: Order for injunction may be discharged, varied or set aside:
Any order for an injunction may be discharged, or varied, or set aside by the Court, on application made thereto by any party dissatisfied with such order.
৭৬.
একটি আদালত খরচার উপর সুদ প্রদান করতে পারে বার্ষিক অনধিক-
  1. ৬%
  2. ১০%
  3. ১২%
  4. ১৩%
ব্যাখ্যা
 ♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান মোকদ্দমার খরচ (Cost ); মোকদ্দমার খরচ ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি আদালতের সুবিবেচনার উপর নির্ভর করবে। মোকদ্দমার খরচ কে দিবে, কিভাবে এবং কার থেকে নেওয়া হবে এগুলো আদালত বলে দিবে। খরচ এবং খরচের উপর সর্বোচ্চ ৬% হারে বার্ষিক সুদ প্রদানের আদেশ দিতে পারবেন। এই সুদ খরচের সাথে যোগ হবে।
৭৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার রয়েছে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. আপিল বিভাগ
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
আইন প্রণয়নের একমাত্র ক্ষমতা সংসদের:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫(১) ধারা অনুসারে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেবল জাতীয় সংসদের রয়েছে।
- দেওয়ানী কার্যবিধি একটি প্রক্রিয়াগত আইন (Procedural Law) যা সংসদ কর্তৃক প্রণীত ও সংশোধিত হয়।
- হাইকোর্ট বিভাগ বা আপিল বিভাগ আইন সংশোধন করতে পারেন না; তারা কেবল আইনটির ব্যাখ্যা দিতে পারেন (সংবিধানের ১০২ ও ১০৩ ধারা)। তাদের কাজ হচ্ছে আইন প্রয়োগ এবং ব্যাখ্যা করা, কিন্তু আইন পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই।
- আদালত শুধুমাত্র নিয়ম (Rules) প্রণয়ন করতে পারেন (যেমন: CPC-এর First Schedule-এর আদেশসমূহ), তবে মূল ধারা সংশোধন বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই।
-দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারা অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়নসহ বিধিসমূহ বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারে।
- ১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও, সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি। কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন।
- জাতীয় সংসদ যে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদেশ ও বিধিসমূহ সংশোধন করতে পারে তার বড় উদাহরণ হলো ২০১২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধির সংশোধন।
৭৮.
আদালত আরজি সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে কি নিশ্চিত করবে?
  1. মামলা খুব জটিল কিনা
  2. আদালতের সময়সীমা
  3. পক্ষগণের মধ্যে সমস্যা আছে কিনা
  4. সংশোধনী অপরিহার্য কিনা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৭ বিধি অনুসারে,
মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে প্লিডিংস সংশোধন করার আবেদন করা যায়। অর্থাৎ মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে বাদী তার আরজি বা বিবাদী তার লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন করতে পারে। বিচার কার্য শুরুর পর আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের জন্য দাখিলকৃত কোন আবেদন আদালত অনুমোদন করবে না যদি না আদালত অভিমত পোষণ করে যে, 'যথাযথ নিষ্ঠার’ সত্ত্বেও পক্ষগণ বিচারকার্য শুরুর পূর্বে সংশোধনের আবেদন করতে পারেনি। সুতরাং, বিচার কার্য শুরুর পরও আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন করা যায়।

আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন মঞ্জুরের কারণ:
দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৭ বিধি অনুসারে- আদালত মোকদ্দমার উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করতে পারে। আরজি সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবে যে, মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার বিরোধীয় প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে এমন সংশোধনী অপরিহার্য।
৭৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-৫ অনুযায়ী একই জেলায় অবস্থিত আদালতের মধ্যে ডিক্রি স্থানান্তর করতে হলে কীভাবে পাঠানো হয়?
  1. রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে
  2. সরাসরি সংশ্লিষ্ট আদালতে
  3. জেলা আদালতের মাধ্যমে
  4. হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-২১, বিধি-৫ (Order-XXI, Rule-5) অনুযায়ী "ডিক্রি জারির জন্য এক আদালত থেকে অন্য আদালতে পাঠানোর নিয়ম (Mode of Transfer)" নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই বিধির অধীনে বলা হয়েছে: যদি ডিক্রি জারির জন্য যেই আদালতে পাঠানো হবে, সেই আদালত ডিক্রি প্রদানের আদালতের সঙ্গে একই জেলায় অবস্থিত হয়, তাহলে ডিক্রি সরাসরি সেই আদালতে পাঠানো যাবে। এতে কোনো মধ্যবর্তী আদালত (যেমন জেলা জজ আদালত বা হাইকোর্ট) যুক্ত থাকে না।
- অর্থাৎ Order XXI, Rule 5 অনুযায়ী, একই জেলায় অবস্থিত আদালতের মধ্যে ডিক্রি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে, "সরাসরি সংশ্লিষ্ট আদালতে" ডিক্রি পাঠানো যাবে।
তাই সঠিক উত্তর: খ) সরাসরি সংশ্লিষ্ট আদালতে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-৫: স্থানান্তরের পদ্ধতি (Mode of transfer): ডিক্রিদানকারী আদালত এবং ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরিত হবে সে আদালত যদি একই জেলায় অবস্থিত হয় তবে ডিক্রি সরাসরি শেষোক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন কিন্তু ভিন্ন জেলায় অবস্থিত হলে, ডিক্রিদানকারী আদালত তা সেই জেলার জেলা আদালতে প্রেরণ করবেন।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Order-21 Rule-5.(Mode of transfer):  Where the Court to which a decree is to be sent for execution is situate within the same district as the Court which passed such decree, such Court shall send the same directly to the former Court. But, where the Court to which the decree is to be sent for execution is situate in a different district, the Court which passed it shall send it to the District Court of the district in which the decree is to be executed.
৮০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১৭, বিধি-১(৩) অনুসারে, মোকদ্দমার একটি পক্ষ সর্বোচ্চ কতবার খরচ ছাড়া মোকদ্দমা মুলতবি করতে পারে?
  1. ৩ বার
  2. ৬ বার
  3. ২ বার
  4. ৪ বার
ব্যাখ্যা

⇒দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order XVII, Rule 1-এর sub-rule (3) অনুসারে, ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে একটি পক্ষ সর্বোচ্চ চারবার খরচ ছাড়া মোকদ্দমা মুলতবির আবেদন করতে পারে। 

- দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order XVII, Rule 1 এর সংশোধন অনুসারে, যা Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) এর মাধ্যমে সংশোধিত হয়েছে, স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, sub-rule (3)-তে "six" শব্দটির পরিবর্তে "four" শব্দটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এর অর্থ হলো, কোনো পক্ষ একটি মোকদ্দমা সর্বোচ্চ চারবার খরচ ছাড়া মোকদ্দমা মুলতবি করতে পারে।

- এই সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো মোকদ্দমার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব রোধ করা। পূর্বে এই বিধানে একটি পক্ষ সর্বোচ্চ ছয়বার মুলতবির আবেদন করতে পারত, কিন্তু ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এই সংখ্যা কমিয়ে চারবার করা হয়েছে।

৮১.
আদেশ ৩৫ বিধি-২ অনুসারে, আদালত কখন বাদীকে দাবীকৃত বস্তু জমা দিতে বা হেফাজতে রাখতে বলতে পারে?
  1. বাদী মামলায় হেরে গেলে
  2. মামলা শেষ হওয়ার পর
  3. বাদী মামলা নাকচ করলে
  4. দাবীকৃত বস্তু আদালতে বা হেফাজতে রাখার যোগ্য হলে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৩৫ বিধি-২: দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা প্রদান:
যেক্ষেত্রে দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা দেওয়া বা বাদীর হেফাজতে রাখার যোগ্য, সেক্ষেত্রে কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার পূর্বে বাদীকে সেই বস্তু আদালতে জমা দিতে বা হেফাজতে রাখতে বলা যেতে পারে।

Rule.-2: Payment of thing claimed into Court:
Where the thing claimed is capable of being paid into Court or placed in the custody of the the plaintiff may be required to so pay or place it before he can be entitled to any order in the suit.

৮২.
অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আরজিতে-
  1. অমিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে
  2. মিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে
  3. অর্থের পরিমাণ না লিখলেও চলে
  4. অমিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিমান (precise amount) লিখতে হবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরজিতে যে যে বিষয়গুলো সাধারণত উল্লেখ থাকে-

> যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার নাম
> বাদী ও বিবাদীর নাম, পরিচয়, বাসস্থান
> বাদী বা বিবাদী নাবালক অথবা মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে, সেই মর্মে বিবৃতি
> মোকদ্দমার মূল্যমান উল্লেখ করতে হবে
> কারণ (Cause of action) এবং কারণ উদ্ভবের সময়।
> প্রার্থিত প্রতিকার (relief claimed) ও দাবির কোন অংশ বর্জন করা হলে সেই মর্মে বিবৃতি ইত্যাদি।

• বিধি-২: অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে-
৭ নং আদেশের ২ নং বিধিমতে অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আরজিতে দাবিকৃত অর্থের যথাযথ পরিমান (precise amount) কিন্তু অমিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে।

[In money suits-Where the plaintiff seeks the recovery of money, the plaint shall state the precise amount claimed: But where the plaintiff sues for mesne profits, or for an amount which will be found due to him on taking unsettled accounts between him and the defendant, the plaint shall state approximately the amount sued for.]
৮৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৫খ অনুসারে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আবেদন বা লিখিত আপত্তি দাখিল না করা হয়, তবে শুনানির জন্য কত টাকা পর্যন্ত বিলম্ব ফি দিতে হতে পারে?
  1. ৩,০০০ টাকা
  2. ২,০০০ টাকা
  3. ১,০০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫খ (Cost for delay in making applications, etc., in respect of interlocutory matters) ধারায় বলা হয়েছে—
→ যদি কোনো পক্ষ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো আবেদন বা লিখিত আপত্তি দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে
- উক্ত আবেদন বা লিখিত আপত্তি শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না সংশ্লিষ্ট পক্ষ অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা প্রদান করে।
→ এই বিধানটি মূলত আদালতের কার্যক্রমে দেরি রোধ করার জন্য প্রণীত হয়েছে, যাতে পক্ষগণ সময়মতো তাদের আবেদন বা আপত্তি দাখিল করে।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো (খ) ২,০০০ টাকা।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section- 35B. Cost for delay in making applications, etc., in respect of interlocutory matters.
(1) If at any stage of a suit or proceeding, an application or written objection is not filed within the time fixed by the Court, such application or written objection, as the case may be, shall not be admitted for hearing without payment by that party of such cost to the other party not exceeding two thousand taka.
(2) If after filing of written statement, any party to the suit makes an application in respect of any matter which, in the opinion of the Court, could and ought to have been made earlier, and is likely to delay the main proceeding of the suit, the Court may admit, but shall not hear and dispose of the application, without payment by that party of such cost to the other party not exceeding three thousand taka, as it shall determine and direct, and upon failure to pay the cost, the application shall stand rejected.
৮৪.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে কোনো প্রসেস (Process) জারি হলে তার খরচ কে বহন করবে?
  1. সরকার
  2. বিবাদী পক্ষ
  3. আদালত স্বয়ং
  4. প্রসেস প্রেরণকারী পক্ষ
ব্যাখ্যা

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ORDER XLVIII (Miscellaneous), Rule 1(1) অনুযায়ী: কোনো প্রসেস (যেমন সমন, নোটিশ, আদেশ ইত্যাদি) জারি করা হলে তার খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে, যার পক্ষে প্রসেসটি জারি করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রসেস প্রেরণকারী পক্ষ।

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার XLVIII, বিধি ১(১) অনুযায়ী স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
"Every process issued under this Code shall be served at the expense of the party on whose behalf it is issued, unless the Court otherwise directs."
অর্থাৎ, যে পক্ষের পক্ষে প্রসেস (যেমন সমন, নোটিশ, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি) জারি করা হয়, সেই পক্ষই প্রসেস পরিবেশনের খরচ বহন করবে।
তবে আদালত বিশেষ ক্ষেত্রে অন্যথায় নির্দেশ দিতে পারে (যেমন দরিদ্র পক্ষের জন্য খরচ মওকুফ করা)।

⇒ ​দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার XLVIII, বিধি ১(১) অনুসারে, কোনো প্রসেস (Process) জারি করা হলে তার খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে যার পক্ষে প্রসেসটি জারি করা হয়েছে, যদি না আদালত অন্যথা নির্দেশ দেয়। এর মানে হলো, যে পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) প্রসেস জারির আবেদন করে, তাকে সাধারণত প্রসেস পরিবেশনের খরচ বহন করতে হবে। তবে, আদালতের বিশেষ নির্দেশ থাকলে এই খরচের দায়িত্ব অন্য কোনো পক্ষের উপর অর্পিত হতে পারে।
অধিকন্তু, অর্ডার XLVIII, বিধি ১(২) অনুসারে, প্রসেস পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি প্রসেস জারির আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এটি নিশ্চিত করে যে প্রসেস জারির প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং আদালতের কার্যক্রমে কোনো বিলম্ব না হয়।

৮৫.
'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে। মোকদ্দমার মূল্যমান অনুযায়ী মোকদ্দমাটি সহকারী জজ আদালতে দায়ের করতে হবে। সিনিয়র সহকারী জজ আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত পাঠায়। এক্ষেত্রে 'ক' এর প্রতিকার কী?
  1. কোনো প্রতিকার নেই
  2. শুধুমাত্র ফেরতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারে
  3. শুধুমাত্র এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজি পুনরায় দাখিল করতে পারে
  4. সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল বা এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজি পুনরায় দাখিল করতে পারে
ব্যাখ্যা
• এই ক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি পুনরায় দাখিল করতে পারেন বা আরজি ফেরতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারেন।

আরজি ফেরত:

দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশের বিধি-১০ অনুযায়ী, আরজি ফেরত অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেওয়া। যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতের উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার হলো-
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২. আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ আদেশের ১ (ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
৮৬.
আপোষমূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া যায়
  1. আপিলে
  2. রিভিউ-এ
  3. রিভিশনে
  4. রেফারেন্সে
ব্যাখ্যা
♦Order 23, Rule 3 -তে আপোষমূলক ডিক্রি (Compromise of Suit) বা সোলে ডিক্রি (Compromise of Decree)-এর বিধান আছে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬(৩) ধারা অনুযায়ী- আপোষমূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় বলা আছে- যেসব ডিক্রি বা অর্ডারের বিরুদ্ধে আপিল চলে না (no appeal lies), সেসব ডিক্রি বা অর্ডারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন করা যায়। অর্থাৎ, আপোষমূলক ডিক্রি যেহেতু আপিল-অযোগ্য, তাই এর বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে।
৮৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় আদালত কোন পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণমূলক খরচের আদেশ দিতে পারে?
  1. যখন কোনো পক্ষ সত্য দাবি করে
  2. যখন কোনো পক্ষ মিথ্যা বা বিরক্তিকর দাবি করে
  3. যখন কোনো পক্ষ আপিল করে
  4. যখন কোনো পক্ষ আদালতে উপস্থিত হয় না
ব্যাখ্যা
• প্রত্যেক মোকদ্দমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিছু খরচ/ব্যয় থাকে। দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫,৩৫ক এবং ৩৫খ ধারায় খরচের বিষয়ে বিধান রয়েছে। খরচ প্রদানের আদেশ আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। দেওয়ানি কার্যবিধির আওতায় তিন (৩) ধরনের খরচ প্রদান করা হয়ে থাকে। যথা-
i) সাধারণ খরচ;
ii) ক্ষতিপূরণমূলক খরচ; এবং
iii) বিলম্বের জন্য খরচ।

• ধারা ৩৫ক: ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (Compensatory cost)-
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় ক্ষতিপূরণমূলক খরচের বিধান রয়েছে। মূল মোকদ্দমায় বা ডিক্রি জারিতে কোনো পক্ষ আরজি বা লিখিত জবাবে মিথ্যা বা বিরক্তিকর (false or vexatious) বিষয় দাবি করলে, আদালত মিথ্যা বা বিরক্তিকর দাবি উত্থাপনকারীকে সর্বোচ্চ ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ স্বরূপ খরচের আদেশ দিতে পারে।
৮৮.
সম্পত্তি বাটোয়ারা অথবা বিভাজন সম্পর্কত কোন ডিক্রি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব কার?
  1. কালেক্টর
  2. কালেক্টরের অধীনস্থ গেজেটেড কর্মচারীর
  3. আদালত
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৫৪ ধারার বিধান সম্পত্তি বাটোয়ারা বা অংশ পৃথকীকরণ (Partition of estate or separation of share): সরকারি রাজস্ব প্রদানের প্রয়োজনে কোন অবিভক্ত সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য বা সম্পত্তির কোন অংশের পৃথক দখলের জন্য ডিক্রি প্রদত্ত হলে, কালেক্টর বা মনোনীত কর্মকর্তা বাটোয়ারা বা অংশ পৃথকীকরণ সম্পন্ন করবেন।
৮৯.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কত ধারা অনুযায়ী আপিল আদালত মোকদ্দমা remand এ প্রেরণ করেন?
  1. ৯৬
  2. ১০৫
  3. ১০৭
  4. ১০৯
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১০৭ মতে আপিল আদালতের ক্ষমতা: (১) যে সকল শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ বিধি দ্বারা হতে পারে, সে সাপেক্ষে কোন আপিল আদালতের নিম্নোক্ত ক্ষমতাগুলো থাকবে-
ক. মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা;
খ. মোকদ্দমা পুনর্বিচারের জন্য পাঠানো; (remand )
গ. বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেগুলি বিচারের জন্য প্রেরণ করা এবং
ঘ. অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করা বা গ্রহণের নির্দেশ দান করা।
৯০.
দেওয়ানী কার্যবিধির Order 11 rule 21 অনুসারে আদালত কোনো আদেশ প্রচার করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতিকার-
  1. Order 9 অনুসারে ছানি মামলা করা
  2. Order 43 rule 1 অনুসারে বিবিধ আপীল করা
  3. Section 96 এর বিধান অনুসারে আপীল দায়ের করা
  4. Section 115 এর বিধান অনুসারে রিভিশন দায়ের করা
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী,
প্রশ্নকারীপক্ষ অথবা দলিলসমূহ উদ্‌ঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী আদালতে আবেদন করলে, আদালত অপরপক্ষকে নিম্নোক্ত আদেশ দিবেন-
- প্রশ্নমালার উত্তরদান (answer to interrogatories)- এর আদেশ, বা
- দলিলসমূহ প্রকাশ/উদঘাটন [discovery of documents]- এর আদেশ, বা
- দলিলসমূহ পরিদর্শন [inspection of documents]- এর আদেশ।

সংশ্লিষ্ট পক্ষ উপরিউক্ত আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হলে বা অমান্য করলে (তার ফলাফল)-
- বাদীর ব্যর্থ হলে- বাদীর মোকদ্দমা খারিজ আদেশ দিবে এবং
- বিবাদী ব্যর্থ হলে- আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিল (To strike out defence) আদেশ দিবে।

প্রতিকার: The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৪৩ আদেশে যেসকল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে, সে সম্পর্কে বলা আছে। আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী, আদালত কোনো আদেশ দিলে তা আপিলযোগ্য আদেশ বলে গণ্য হবে।
- Order 43 rule 1(f) এর অধীন এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারবে।
৯১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক অনুযায়ী, Examination-in-chief কীভাবে নেওয়া হয়?
  1. আদালতের প্রশ্নের মাধ্যমে
  2. হলফনামার মাধ্যমে
  3. লিখিত জবাবের মাধ্যমে
  4. মৌখিকভাবে উন্মুক্ত আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (4A), যা দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (অধ্যাদেশ নং XVIII, ২০২৫) এর মাধ্যমে যোগ করা হয়েছে, অনুসারে, বাদী বা বিবাদীর জবানবন্ধি গ্রহণ (Examination-in-chief) হলফনামার (Affidavit) মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। এরপর তাকে জেরা (Cross-examination) এবং প্রয়োজনে পুনঃপরীক্ষা (Re-examination) করা যাবে। এই বিধানে আরও উল্লেখ আছে যে:
- হলফনামার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগে অন্য পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে।
- হলফনামার সাথে দাখিলকৃত দলিলের প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্যতা আদালতের আদেশের অধীন হবে।
-------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-18, Rule-4A. Examination-inchief on affidavit and admissibility of documents:
Notwithstanding anything contained in this Code or the Evidence Act, 1872 (Act No. 1 of 1872), the facts stated in the plaint or written statement shall not be required to be orally stated or denied by the plaintiff or the defendant, as the case may be, and in every case, the examination-in-chief of the plaintiff or the defendant, as the case may be, shall be on affidavit and he may then be cross-examined and, if necessary, re-examined:
Provided that a copy of such affidavit shall be supplied to the other party before being furnished to the Court:
Provided further that where documents are filed along with the affidavit and the parties rely upon such documents, the proof and admissibility of those documents shall be subject to the orders of the Court.

৯২.
আদালত রায়ের পূর্বে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিতে পারে যদি বিবাদী-
  1. তার সম্পত্তির সমগ্র বা কোন অংশ হস্তান্তর করার উপক্রম করে
  2. আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানাহতে তার সমগ্র সম্পত্তি বা উহার কোন অংশ অপসারণের উপক্রম করে
  3. আদালতের অনুমতি ব্যতীত দেশ ছাড়ার উপক্রম করে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি ৫ অনুযায়ী  যেক্ষেত্রে বিবাদীকে সম্পত্তি উপস্থিত করার জন্য জামানত প্রদানের নির্দেশ দেয়া যায়:
(১) যেক্ষেত্রে শপথনামা দ্বারা বা অন্য কোনভাবে মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, বিবাদী তার বিরুদ্ধে কোন ডিক্রি প্রদত্ত হলে তা জারীকরণে বাধাদান বা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে-
ক) তার সম্পত্তির সমগ্র বা কোন অংশ হস্তান্তর করার উপক্রম করেছে, বা
খ) আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানাহতে তার সমগ্র সম্পত্তি বা উহার কোন অংশ অপসারণের উপক্রম করেছে,
সেক্ষেত্রে আদালত ইহার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদেশের উল্লেখিত পরিমাণ অংকের টাকা জামানত হিসাবে দাখিল করতে বা উক্ত সম্পত্তি বা উহার মূল্য বা ডিক্রি পরিতুষ্ট হওয়ার মত উহার যথেষ্ট অংশ আবশ্যক হলে আদালতের এখতিয়ারে ন্যস্ত করার জন্য অথবা সে কেন জামানত প্রদান করবে না তার কারণ দর্শাইতে হাজির হবার জন্য বিবাদীর প্রতি নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) আদালত অন্যরূপ নির্দেশ না দিলে, যে সম্পত্তি ক্রোক করা আবশ্যক বাদীকে উহ এবং উহার আনুমানিক মূল্য নির্দিষ্ট সম্পত্তির সমগ্র বা উহার কোন অংশ শর্ত সাপেক্ষে ক্রোকের ও নির্দেশ দিতে পারেন।

- অর্থাৎ আদেশ-৩৮, বিধি- ৫ থেকে ১৩: রায় ঘোষণার পূর্বে ক্রোক: বাদী এফিডেভিট দ্বারা বা অন্য কোন উপায়ে আদালতকে যদি সন্তুষ্ট করতে পারে যে, বিবাদী তার বিরুদ্ধে ডিক্রি হতে পারে মনে করে তার সম্পত্তি হস্তান্তর করার চেষ্টা করছে, তাহলে আদালত রায় ঘোষণার পূর্বে উক্ত সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিতে পারেন।
৯৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক অনুসারে মামলার পক্ষের সাক্ষীর Examination-in-chief কীভাবে নেওয়া হয়?
  1. হলফনামার মাধ্যমে
  2. লিখিত জবাবের মাধ্যমে
  3. আদালতের প্রশ্নের মাধ্যমে
  4. মৌখিকভাবে উন্মুক্ত আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮, বিধি ৪ক এর বিধান অনুযায়ী, বাদী বা বিবাদীর জবানবন্দি (Examination-in-chief) হলফনামা (Affidavit) এর মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ, সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত হয়ে সরাসরি মৌখিকভাবে তার বক্তব্য প্রদান করতে হবে না; বরং সে তার বক্তব্য একটি হলফনামা আকারে লিখিতভাবে জমা দিবে। এরপর অন্যান্য পক্ষ তাকে জেরা (Cross-examination) করতে পারবে এবং প্রয়োজনে পুনঃপরীক্ষা (Re-examination) করা যাবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (4A), যা দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (অধ্যাদেশ নং XVIII, ২০২৫) এর মাধ্যমে যোগ করা হয়েছে, অনুসারে, বাদী বা বিবাদীর জবানবন্ধি গ্রহণ (Examination-in-chief) হলফনামার (Affidavit) মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। এরপর তাকে জেরা (Cross-examination) এবং প্রয়োজনে পুনঃপরীক্ষা (Re-examination) করা যাবে। এই বিধানে আরও উল্লেখ আছে যে:
- হলফনামার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগে অন্য পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে।
- হলফনামার সাথে দাখিলকৃত দলিলের প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্যতা আদালতের আদেশের অধীন হবে।
-------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-18, Rule-4A. Examination-inchief on affidavit and admissibility of documents:
Notwithstanding anything contained in this Code or the Evidence Act, 1872 (Act No. 1 of 1872), the facts stated in the plaint or written statement shall not be required to be orally stated or denied by the plaintiff or the defendant, as the case may be, and in every case, the examination-in-chief of the plaintiff or the defendant, as the case may be, shall be on affidavit and he may then be cross-examined and, if necessary, re-examined:
Provided that a copy of such affidavit shall be supplied to the other party before being furnished to the Court:
Provided further that where documents are filed along with the affidavit and the parties rely upon such documents, the proof and admissibility of those documents shall be subject to the orders of the Court.

৯৪.
ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে দেনাদারকে নোটিশ প্রদানের বিধান কোন আদেশ ও বিধিতে উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ-২০, বিধি-২১
  2. আদেশ-২১, বিধি-২২
  3. আদেশ-২২, বিধি-২১
  4. আদেশ-২৩, বিধি-২০
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-২২ তে ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে নোটিশ প্রদানের বিধান রয়েছে- সাধারণত নোটিশ ব্যতীত ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়, তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। যথ‍া:
- ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়।
- পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিগণের বিপক্ষে ডিক্রি জারি করলে। তবে নোটিশ দিতে গিয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব বা ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হলে নোটিশ না দিলেও হবে।
- এছাড়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন করলে নোটিশ দিতে হয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ৫০(১) ধারা অনুযায়ী, দেনাদারের (Judgement debtor) মৃত্যু হলে তার বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করা যাবে। এক্ষেত্রে বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন হলে নোটিশ দিতে হয়। অর্থাৎ দেনাদারের বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জারির আবেদন করতে হলে নোটিশ দিতে হয়।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-22. Notice to show cause against execution in certain cases:
(1) Where an application for execution is made-
(a) more than two years after the date of the decree, or
(b) against the legal representative of a party to the decree,
or where an application is made for execution of a decree filed under the provisions of section 44A, the Court executing the decree shall issue a notice to the person against whom execution is applied for, requiring him to show cause, on a date to be fixed, why the decree should not be executed against him:
Provided that no such notice shall be necessary in consequence of more than two years having elapsed between the date of the decree and the application for execution if the application is made within two years from the date of the last order against the party against whom execution is applied for, made on any previous application for execution, or in consequence of the application being made against the legal representative of the judgment-debtor, if upon a previous application for execution against the same person the Court has ordered execution to issue against him.

৯৫.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে “Pleading” বলতে কী বোঝায়?
  1. Plaint
  2. Written statement
  3. Plaint or written statement
  4. Plaint and written statement
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order VI, Rule 1-এ "Pleading" এর সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে: "Pleading" shall mean plaint or written statement.
- "প্লীডিং" বলতে প্লেইন্ট বা লিখিত জবাব (written statement) বোঝায়।
- প্লেইন্ট (Plaint): বাদী তার দাবি উপস্থাপনের জন্য যে দলিল দাখিল করে।
- লিখিত জবাব (Written Statement): বিবাদী তার প্রতিরক্ষা উপস্থাপনের জন্য যে দলিল দাখিল করে।
 “or” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, অর্থাৎ Pleading বলতে হয় প্লেইন্ট (মামলার আরজি), নয়তো রিটেন স্টেটমেন্ট (লিখিত জবাব) — এই দুটির যেকোনো একটিকে বোঝায়।
অর্থাৎ প্লীডিং বলতে হয় প্লেইন্ট বা লিখিত জবাব বোঝায় - উভয়ই একসাথে নয়। তাই অপশন 'গ' সঠিক।
সুতরাং, দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী "Pleading" বলতে প্লেইন্ট বা লিখিত জবাব (Plaint or written statement) বোঝায়।

৯৬.
কিভাবে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি জারি করা যায়?
  1. সম্পত্তি ক্রোক
  2. কারাগারে আটক
  3. ক ও খ উভয়
  4. স্পেশাল ডিক্রি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩২ এর বিধান সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার অথবা নিষেধাজ্ঞার জন্য ডিক্রি (Decree for specific performance, for restitution of conjugal rights, or for an injunction): দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সম্পত্তি ক্রোক, অথবা  চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা সম্পত্তি ক্রোক করে বা উভয় প্রকারেই কার্যকর করা যাবে।

যদি কোন কর্পোরেশন হয়, তবে কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্রোক করে অথবা পরিচালকগণকে বা অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তাগণকে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা ক্রোক এবং আটক উভয় প্রকারেই ডিক্রিটি জারি করা যাবে। কোন ক্রোক ১ বছর যাবৎ বলবৎ থাকলে যদি ডিক্রি দায়িক ডিক্রিটি মান্য না করে থাকে এবং ডিক্রিদার ক্রোককৃত সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের জন্য আবেদন করে থাকে, তবে অনুরূপ সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত ডিক্রিদারকে অর্থ প্রদান করতে পারেন।
৯৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৭৫ এর অধীনে নিম্নের কোনটি কমিশনের উদ্দেশ্য নয়?
  1. স্থানীয় তদন্ত
  2. হিসাব পরীক্ষণ
  3. মামলা খারিজ
  4. অংশীদারদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৭৫ অনুযায়ী, আদালত নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে কমিশন জারি করতে পারেন—
(ক) কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয়ার জন্য
(খ) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(গ) হিসাব পরীক্ষণের জন্য
(ঘ) অংশীদারদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য
- তবে "মামলা খারিজ" কমিশনের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা: ৭৫ এর বিধান কমিশন প্রেরণের জন্য আদালতের ক্ষমতা:
- নির্ধারিত শর্তাবলি ও সীমা সাপেক্ষে আদালত নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে কমিশন ইস্যু করতে পারবেন-
ক) কোন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করতে;
খ) স্থানীয় তদন্ত পরিচালনার জন্য;
গ) হিসাব পরীক্ষা বা সমন্বয় করার জন্য;
ঘ) সম্পত্তি বাটোয়ারা করার জন্য।
------------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section-75: Power of Court to issue commissions.
- Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may issue a commission-
(a) to examine any person;
(b) to make a local investigation;
(c) to examine or adjust accounts;
(d) to make a partition.
৯৮.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৮৯গ ধারা কী বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ডিক্রি বাস্তবায়ন
  2. আরবিট্রেশন
  3. মামলায় মধ্যস্থতা
  4. আপিলে মধ্যস্থতা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৮৯গ ধারার শিরোনামই হল "আপিলে মধ্যস্থতা" (Mediation in Appeal)। এই ধারার বিধান অনুযায়ী, আদেশ ৪১-এর অধীনে মূল ডিক্রি থেকে দায়েরকৃত আপিলের বিরোধ যদি একই মূল পক্ষ বা তাদের স্থলাভিষিক্ত পক্ষের মধ্যে থাকে, তাহলে আপিল আদালত সেই বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে বা মধ্যস্থতার জন্য প্রেরণ করবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার বিধান আপিলে মধ্যস্থতা (Mediation in Appeal): যদি আদেশ ৪১ এর অধীনে মূল ডিক্রি হতে কোন আপিল দায়ের হয় এবং যদি একই পক্ষগণের বা মূল পক্ষগণের স্থলাভিষিক্ত পক্ষগণের মধ্যে উক্ত আপিল দায়ের হয়ে থাকে, তাহলে আপিল আদালত উক্ত আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে অথবা আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করবে। এরূপ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আপিল আদালত প্রয়োজনীয় মনে করলে যতদূর সম্ভব ৮৯ক ধারার বিধানসমূহকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন (Mutatis Mutandis) সাপেক্ষে অনুসরণ করবে।
----------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section 89C- Mediation in Appeal:
(1) An Appellate Court shall mediate in an appeal or refer the appeal for mediation in order to settle the dispute or disputes in that appeal, if the appeal is an appeal from original decree under Order XLI, and is between the same parties who contested in the original suit or the parties who have been substituted for the original contesting parties. 
(2) In mediation under sub-section (1), the provisions of section 89A shall be followed with necessary changes (mutatis mutandis) as may be expedient.

৯৯.
লিখিত জবাবে ‘অস্বীকার সুনির্দিষ্ট হবে’- এর ব্যতিক্রম নিচের কোনটি?
  1. বাটোয়ারার ক্ষেত্রে
  2. ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে 
  3. ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি-৩: অস্বীকার সুনির্দিষ্ট হবে:
বিবাদীকে তার লিখিত বিবৃতিতে বাদীর অভিযোগের কারণসমূহ সাধারণভাবে অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না, বরং যে সকল তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা বিবাদী স্বীকার করে না, সেগুলোর প্রত্যেকটি বিবাদীকে অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তবে ক্ষতিপূরণের বিষয় ব্যতীত।

Order 8 Rule 3- Denial to be specific:
It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.

১০০.
'An appeal may lie from an original decree passed ex parte.' এটি দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় বর্ণিত?
  1. ৯০ ধারা
  2. ৯৫ ধারা
  3. ৯৬ ধারা
  4. ৯৭ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ৯৬- মূল ডিক্রি হতে আপিল:
(১) এই আইনের কোন কোন অংশে অথবা বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে স্পষ্টতঃ অন্যরূপ বিধান না থাকলে, আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেক ডিক্রি হতে আপিল শ্রবণের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।
(২) একতরফা মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে।
(৩) পক্ষগণের সম্মতিতে আদালত কোন ডিক্রি দান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল চলবে না।

Appeal from original decree:
(1) Save where otherwise expressly provided in the body of this Code or by any other law for the time being in force, an appeal shall lie from every decree passed by any Court exercising original jurisdiction to the Court authorised to hear appeals from the decisions of such Court.
(2) An appeal may lie from an original decree passed ex parte.
(3) No appeal shall lie from a decree passed by the Court with the consent of parties.