উত্তর
ব্যাখ্যা
যথা-
- পরলোক + ফিক = পারলৌকিক,
- সুভগ + ষ্ণ্য-সৌভাগ্য,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- সর্বভূমি + ষ্ণ=সার্বভৌম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪ / ২০ · ৩০১–৪০০ / ১,৯২৬
• কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ- পাঠক = (√ পঠ্ + অক)।
উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়। যেমন-
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)-চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
- দিন + ইক= দৈনিক।
- চরিত্র + ইক = চারিত্রিক।
• উমেদার + ই = উমেদারি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
• 'উত্তম' শব্দ:
- সংস্কৃত শব্দ,
- প্রকৃতি ও প্রত্যয় = উৎ + তমপ্,
- বিশেষণ পদ,
অর্থ - খুব ভালো, উৎকৃষ্ট, সর্বশ্রেষ্ঠ।
অন্যদিকে,
সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ ‘স্বল্প’ = সু + অল্প ।
সমাসযোগ গঠিত শব্দ চুতুর্ভুজ = চার ভুজ যে ক্ষেত্রের/চার ভুজের সমাহার।
দোকান ফারসি শব্দ
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ।
⇔ রান্না' শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ, কারণ 'রান্না' শব্দটি রাঁধ ধাতু এবং 'আ' প্রত্যয়ের সংযোগে গঠিত হয়েছে। এখানে রাঁধ হলো ক্রিয়ামূল বা ধাতুরূপ এবং আ হলো কৃৎ প্রত্যয়।
• কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়ামূলের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
-কিছু কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ:
- খেলনা: খেল্ (ক্রিয়ামূল) + অন/আ (কৃৎ প্রত্যয়),
- দোলনা: দুল্ (ক্রিয়ামূল) + অনা (কৃৎ প্রত্যয়),
- কর্তব্য: কৃ (ক্রিয়ামূল) + তব্য (কৃৎ প্রত্যয়),
- মিশুক: মিশ্ (ক্রিয়ামূল) + উক (কৃৎ প্রত্যয়)।
• কৃৎ প্রত্যয় দুই প্রকার: সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এবং বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয়গুলো ধাতু বা ক্রিয়াপদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- প্রত্যয় বোঝাতে ধাতুর আগে সাধারণত চিহ্ন (√) ব্যবহার করা হয়।
∗ সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: সংস্কৃত ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- উদাহরণ: √চ + অ = চয়।
∗ বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলা ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- অ, অক, অন, অনা, অনি, অন্ত, আ, আই, আও, আন, আনি, আল, ই - ইত্যাদি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ।
- উদাহরণ:
- √রাঁধ+না = রাঁধনা ˃ রান্না
- √মার+অ = মার
- √কাঁদ+অ = কাঁদকাঁদ
- √মর+অ = মরমর
- √কাঁদ+অন = কাঁদন
- √দে+অন = দেওন
- √খেল+অনা = খেলনা
- √বাঁধ+অনি = বাঁধুনি
- √আঁট+অনি = আঁটুনি
- √ডুব+অন্ত = ডুবন্ত
- √মুড়+অক = মোড়ক
- √ফুট+আ = ফোটা
- √মান+আন = মানান/মানানো
- √ধুন+আরী = ধুনারী
- √মিশ+আল = মিশাল
- √বহ+তা = বহতা
- √ঘাট+তি = ঘাটতি
-√উঠ+তি = উঠতি
- √কাঁদ+না = কাঁদনা ˃ কান্না
- √হাস + ই = হাসি।
উল্লেখ্য,
• কৃদন্ত শব্দ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলা হয়, অর্থাৎ ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাই হলো কৃদন্ত শব্দ।
- কৃদন্ত শব্দের কিছু উদাহরণ:
- দোলনা: 'দুল্' ধাতুর সাথে '-অনা' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- কর্তব্য: 'কৃ' ধাতুর সাথে '-তব্য' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- বহতা: 'বহ্' ধাতুর সাথে '-তা' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- জ্যান্ত: 'জীবিত' অর্থে এই কৃদন্ত শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
- কোটাল: 'কোটা' ধাতুর সাথে '-আল' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- ভোজন: 'ভুজ্' ধাতুর সাথে '-অন' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- বেতন: 'বেচ' ধাতুর সাথে '-তন' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- নেতা: 'নে' ধাতুর সাথে '-তা' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
ইন (ঈ) - প্রত্যয় : সাধারণ বিশেষণ গঠণে
জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানিন্,
সুখ + ইন্ = সুখিন্,
গুন + ইন্ = গুণিন্,
মান + ইন্ = মানিন্।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
যেহেতু প্রকৃতি-প্রত্যয় ও সন্ধির ক্ষেত্রে হস্ - চিহ্ন (্) খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উত্তরের অপশনগুলোতে “কোনটিই নয়” রয়েছে।
তাই, উত্তর “খ) জ্ঞান + ইন” হবে না। সঠিক উত্তর - ঘ) কোনটিই নয় হবে।
• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √শক্ + ক্তি = শক্তি।
-----------------
• ক্ত- কৃৎ প্রত্যয়('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত = খ্যাত।
বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্ + ক্ত (পঠ্ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।
(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।
(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্ + ক্ত = হত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা-
- পরলোক + ইক = পারলৌকিক।
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
- সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।
উল্লেখ্য,
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ইক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'শান্তি' শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শম্ + তি'। (এখানে, 'শম্' হলো- প্রকৃতি এবং 'তি' হলো- প্রত্যয়)
• 'শান্তি' শব্দের অর্থ:
- প্রশান্তি; উৎকণ্ঠাশূন্যতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ই-প্রত্যয়:
- বিশেষ্য গঠনে 'ই' প্রত্যয় প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- √ভাজ্ + ই = ভাজি,
- √বেড় + ই = বেড়ি।
অন্যদিকে,
তি-প্রত্যয়:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে 'তি' প্রত্যয় হয়।
যেমন
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি,
- √বাড় + তি = বাড়তি।
এরূপ – কাটতি, উঠতি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
বিশেষ নিয়ম:
(ক) ণক-প্রত্যয় পরে থাকলে ণিজন্ত ধাতুর 'ই' কারের লোপ হয়।
যেমন:
- √পূঁজি + ণক = পূজক।
এরূপ-জনক, চালক, স্তাবক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
দাপট (বিশেষ্য):
- প্রবল প্রতাপ; দুর্দান্ত; প্রভাব; তেজ (দাপটে অস্থির)।
{দাপ+ট}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়ঃ
√কাঁদ+অন = কাঁদন
√নাচ+অন = নাচন
√বাড়+অন= বাড়ন
√ঝুল+অন = ঝুলন
√দুল+অন = দোলন
ধাতুর শেষে ‘আ-কার’ থাকলে ‘ওন’ হয়। যেমন-
√খা+অন = খাওন
√ছা+অন = ছাওন
√দে+অন = দেওন
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্, দৃশ্ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
‘অনীক’ শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় = √অন্ + ঈক।
• অনীক (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √অন্+ঈক
অর্থ:
- যুদ্ধ।
- সেনাবাহিনী।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন:
- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
সংস্কৃত ধাতু - কথ্, বুধ্, গঠ্।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
• কৃৎ প্রত্যয়-অনীয় (অনীয়র): যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কৃ+ অনীয় = করণীয়,
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
- ✓ পালি + অনীয় = পালনীয়,
- √বৃ + অনীয় = বরণীয়।
এরূপ- মাননীয়, পূজনীয়, পানীয়, গ্রহণীয়, রমণীয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
- ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
• ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:
• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- ক্রিয়ার যে অংশকে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে ক্রিয়ামূল বা ধাতু বলে।
• ক্রিয়া বিভক্তি।
যেমন
'করে' একটি ক্রিয়াপদ।
এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ +এ;
এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি।
সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'। অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ শিক্ষাবর্ষ সংস্করণ)।
• কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলা হয়।
--------------------
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূলের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
- কিছু কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ:
• খেলনা: খেল্ (ক্রিয়ামূল) + অন/আ (কৃৎ প্রত্যয়),
• দোলনা: দুল্ (ক্রিয়ামূল) + অনা (কৃৎ প্রত্যয়),
• কর্তব্য: কৃ (ক্রিয়ামূল) + তব্য (কৃৎ প্রত্যয়),
• মিশুক: মিশ্ (ক্রিয়ামূল) + উক (কৃৎ প্রত্যয়)।
• কৃদন্ত শব্দ:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাই হলো কৃদন্ত শব্দ।
- কৃদন্ত শব্দের কিছু উদাহরণ:
• দোলনা: 'দুল্' ধাতুর সাথে '-অনা' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
• কর্তব্য: 'কৃ' ধাতুর সাথে '-তব্য' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
• বহতা: 'বহ্' ধাতুর সাথে '-তা' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
• আরও কিছু উদাহরণ-
- জ্যান্ত: 'জীবিত' অর্থে এই কৃদন্ত শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
- কোটাল: 'কোটা' ধাতুর সাথে '-আল' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- ভোজন: 'ভুজ্' ধাতুর সাথে '-অন' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- বেতন: 'বেচ' ধাতুর সাথে '-তন' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- নেতা: 'নে' ধাতুর সাথে '-তা' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• বর্ষ + ষ্ণিক (ইক) = বার্ষিক।
• ব্যতিক্রম: 'বর্ষ' শব্দ পরপদ হলে পূর্বপদের সংখ্যাবাচক শব্দের মূল স্বরের বৃদ্ধি হয় না। যথা- দ্বিবর্ষ + ষ্ণিক = দ্বিবার্ষিক। সংখ্যাবাচক শব্দ না থাকলেও নিয়মমতো মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়। যেমন- বর্ষ + ষ্ণিক = বার্ষিক।
উল্লেখ্য,
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
বর্ষা + ইক = বার্ষিক; শব্দের প্রত্যয় দেয়া আছে।
[তবে, অপশনে সরাসরি নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই অনুসারে সঠিক উত্তর থাকায়, অপশন (ক) সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর।]
--------------------
• ষ্ণিক (ইক) সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
(ক) দক্ষ বা বেত্তা অর্থে: সাহিত্য + ষ্ণিক (ইক) = সাহিত্যিক, বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক।
(খ) বিষয়ক অর্থে: সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক, নগর + ষ্ণিক = নাগরিক, মাস + ষ্ণিক = মাসিক, ধর্ম + ষ্ণিক = ধার্মিক, সমর + ষ্ণিক = সামরিক, সমাজ + ষ্ণিক = সামাজিক।
(গ) বিশেষণ গঠনে: হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক, অকস্মাৎ + ষ্ণিক = আকস্মিক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ছাপা + খানা = ছাপাখানা; বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়সাধিত শব্দ।
---------------------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।
উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
• 'আনা' - বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
----------------------------
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা;
বিবি + আনা = বিবিয়ানা।
অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
অণু + ইক = আণবিক;
পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
থাল + আ = থালা;
চোর + আই = চোরাই ।
উক - প্রত্যয়: লাজ - লাজুক।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
মেছো শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়ঃ
মাছ + উয়া > ও = মাছুয়া > মেছো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
মেছুয়া, মেছো (বিশেষ্য):
অর্থঃ
১. মৎসবিক্রেতা।
২. ধীরব; জেলে।
{মাছ+উয়া>}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
• নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়-
অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা।
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
সদৃশ অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
আদর অর্থে: কানু → কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই।
ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে।
নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
যুক্ত অর্থে: টাক → টেকো।
সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'নৈষ্ঠিক' শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয়।
• নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয় বলতে এমন প্রত্যয়কে বোঝায় যেগুলো সাধারণ তদ্ধিত প্রত্যয়ের নিয়মে হওয়ার কথা নয়, কিন্তু নিপাতনের বিশেষ ব্যতিক্রমী ব্যবহারের কারণে সিদ্ধ হয়ে গেছে।
প্রদত্ত অপশনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখি-
ক) নৈষ্ঠিক।
মূল শব্দ: নিষ্ঠা।
প্রত্যয়: -ইক।
সাধারণ নিয়মে “নিষ্ঠা” থেকে তদ্ধিত হলে “নৈষ্ঠ” হয়, কিন্তু এখানে “নৈষ্ঠিক” শব্দটি পাওয়া যায়। এটি নিয়মবহির্ভূত বলে নিপাতনে সিদ্ধ।
---------------------
খ) শৈশব।
মূল শব্দ: শিশু।
প্রত্যয়: ষ্ণ/অ।
শিশু + ষ্ণ = শৈশব; এটি সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক তদ্ধিতান্ত শব্দ। নিপাতনে সিদ্ধ নয়।
গ) সাহিত্যিক।
মূল শব্দ: সাহিত্য।
প্রত্যয়: -ইক।
সাহিত্য + ইক = সাহিত্যিক → এটিও সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক তদ্ধিতান্ত শব্দ।
ঘ) ঢাকাই।
মূল শব্দ: ঢাকা।
প্রত্যয়: -আই।
'আই' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত শব্দ- ঢাকা + আই = ঢাকাই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় - ণক:
- ণক-প্রত্যয়ে 'ণ' ইৎ 'অক' থাকে। যেমন:
- পট্ + ণক = পট্ + অক = পাঠক।
- মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।
যেমন:
- √নী + ণক = (নৈ + অক-প্রথম স্বরের বৃদ্ধি) নায়ক,
- √গৈ + ণক = গায়ক,
- √লিখ্ + ণক = লেখক ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- অন,
- ওয়া ও
- আই বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
- 'মোড়ক' শব্দটি বাংলা 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।
- যার সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে √মুড়্ + অক = মোড়ক।
- এরূপঃ √ঝল্ + অক = ঝলক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
ইন্’ কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়):
যেমন:
- √শ্রম্ + ইন = শ্রমী;
- √দুষ্ + ইন = দোষী;
- মন্ত্র্ + ইন = মন্ত্রী;
- যুজ্ + ইন = যোগী।
অন্যদিকে,
• ‘ইন্’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানী।
- সুখ + ইন্ = সুখী।
- গুণ + ইন্ = গুণী।
- মান + ইন্ = মানী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ইম্ (ডিমচ্)- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: পর্যায়ে অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- অগ্র + ইম্ = অগ্রিম,
- অন্ত + ইম্ = অন্তিম,
- পশ্চাৎ + ইম্ = পশ্চিম,
- আদি + ইম্ আদিম ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।