বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধাতু ও প্রত্যয়

মোট প্রশ্ন১,৯২৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধাতু ও প্রত্যয়

PrepBank · পাতা / ২০ · ১০১২০০ / ১,৯২৬

১০১.
কোনটি বিদেশি ধাতু?
  1. খাদ্
  2. অঙ্ক
  3. আঁট
  4. আক্
সঠিক উত্তর:
আঁট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁট
ব্যাখ্যা
⇒ মৌলিক ধাতু: 
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু: 
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, গঠ্, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু: 
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
- আঁট (শক্ত করে বাঁধা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- খাট্ (মেহনত করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- চেঁচ্ (চিৎকার করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ঝুল্ (দোলা ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- টান্ (আকর্ষণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ডর্ (ভীত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০২.
প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
  2. খ) প্রত্যয় যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন হয়।
  3. গ) শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়।
  4. ঘ) শব্দের পরে প্রত্যয় যুক্ত হলে তাকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) শব্দের পরে প্রত্যয় যুক্ত হলে তাকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শব্দের পরে প্রত্যয় যুক্ত হলে তাকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
- নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন হয়। 
- শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়। 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
- যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

কৃৎ প্রত্যয়: 
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে। 
-------------------------------
তাই বলা যায় যে, 'শব্দের পরে প্রত্যয় যুক্ত হলে তাকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।' বাক্যটি সঠিক নয়। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)। 
১০৩.
শুদ্ধ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. জগা + আই = জগাই
  2. কানা + আই = কানাই
  3. পুষ্টি + আই = পোস্টাই
  4. মোগল + আই = মোগলাই
সঠিক উত্তর:
মোগল + আই = মোগলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোগল + আই = মোগলাই
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- মোগল + আই = মোগলাই। 

আই-বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:

ক. ভাব অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন- পুষ্ট + আই = পোস্টাই; ধরতা + আই = ধরতাই; বামন + আই = বামনাই।
খ. আদরে ব্যক্তিনামের সংক্ষেপণ- কান (কৃষ্ণ) + আই = কানাই; নিম + আই = নিমাই; জগৎ > জগ + আই = জগাই ইত্যাদি।
গ. তার স্বামী অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে। যেমন: ননদ + আই = ননদাই > নন্দাই; বোন + আই = বোনাই ইত্যাদি।
ঘ. সম্পর্ক, উৎস বা জাত অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে। যেমন: চোর + আই = চোরাই; মিঠা + আই = মিঠাই; (বস্তুবাচক বিশেষ্য) ঢাকা + আই = ঢাকাই; মোগল + আই = মোগলাই; পাটনা + আই = পাটনাই ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৪.
মৌলিক ধাতু কোনটি?
  1. পড়া
  2. দেখা
  3. রাখ
  4. বলা
সঠিক উত্তর:
রাখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখ
ব্যাখ্যা

• মৌলিক ধাতু:
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা, দেখ, রাখ ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়: (ক) বাংলা, (খ) সংস্কৃত এবং (গ) বিদেশি ধাতু।

অন্যদিকে, 
--------------
• সাধিত ধাতু:
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে। যেমন- দেখ + আ = দেখা, পড় + আ = পড়া, বল + আ = বলা। সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন- মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' দেখায়)। এরূপ- শোনায়, বসায় ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০৫.
নিচের কোন শব্দটি 'ইমন' প্রত্যয়যোগে গঠিত ?
  1. সর্বজনীন
  2. নীলিমা
  3. তেজস্বী
  4. কুসুমিত
সঠিক উত্তর:
নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা
ব্যাখ্যা

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা (ইমন্‌  প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১০৬.
‘আই’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. চড়াই
  2. কানাই
  3. বোনাই
  4. ঢাকাই
সঠিক উত্তর:
চড়াই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চড়াই
ব্যাখ্যা

• কৃৎ ‘আই’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ‘আই’ প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- √চড়ু + আই = চড়াই;
- √সিল + আই = সিলাই > সেলাই।

অন্যদিকে,
তদ্ধিত ‘আই’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
• স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বোঝাতে: বোন + আই = বোনাই।
• জাত অর্থে: ঢাকা + আই = ঢাকাই।
• আদরার্থে: কানু + আই = কানাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০৭.
নিচের কোন প্রকৃতি- প্রত্যয় সঠিক নয়?
  1. √ পূজি + ণক = পূজক
  2. √ চল + ণক = চালক
  3. √ জনি + ণক = জনক;
  4. সত্য + √ বদ + ইন্‌ = সত্যবাদী
সঠিক উত্তর:
√ চল + ণক = চালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ চল + ণক = চালক
ব্যাখ্যা
• চালক এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: √ চালি + ণক/অক = চালক। 

• ণক প্রত্যয় পরে থাকলে ণিজন্ত ধাতুর ই- কারের লোপ হয়।
যেমন-
√ জনি + ণক = জনক; 
√ পূজি + ণক = পূজক;
√ চালি + ণক/অক = চালক;

• সত্য + √ বদ + ইন্‌ = সত্যবাদী কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০৮.
'গৌরব' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় নিচের কোনটি?
  1. গৌর + অব
  2. গুরু + অব
  3. গুরু + ঞ্চ
  4. গুরু + ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
গুরু + ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• 'গৌরব' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - গুরু + ষ্ণ।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্ৰভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

• যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ও-কারে পরিণত হয়।
- ও +অ সন্ধিতে ‘অব’ হয়।
যথা:
- গুরু + ষ্ণ = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- মধু + ষ্ণ = মাধব,
- মনু + ষ্ণ=মানব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

১০৯.
'গন্তব্য' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ গম্‌ + অব্য
  2. √ গন্‌ + তব্য
  3. √ গম্ + তব্য
  4. √ গন্ত + অ
সঠিক উত্তর:
√ গম্ + তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ গম্ + তব্য
ব্যাখ্যা

• 'গন্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - √ গম্ + তব্য।

এখানে,
- '√ গম্‌' সংস্কৃত ক্রিয়াপ্রকৃতি এবং 'তব্য' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
- শব্দের অর্থ: গমনের লক্ষ্য।

- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।

- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১১০.
'কৃষ্টি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কী হবে?
  1. কৃষ্‌ +তি
  2. কৃ + ষ্টি
  3. কৃষ্‌ + টি
  4. কৃ + তি
সঠিক উত্তর:
কৃষ্‌ +তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্‌ +তি
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্টি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কৃষ্‌ +তি।
• কৃষ্টি (বিশেষ্য পদ):
-এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: হালচাষ; কর্ষণ; কৃষিকার্য।
• নিয়ম:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে বিশেষ নিয়ম সাধিত কৃৎ- 'তি' প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- √বৃষ + তি = বৃষ্টি;
- √স্মৃ + তি = স্মৃতি;
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি;
- √বাড় + তি = বাড়তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১১.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. দৈনিক
  2. বাঘা
  3. দোলনা
  4. ক ও খ উভয়ই
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন,
- বাঘ + আ = বাঘা;
- দিন + ইক = দৈনিক

অন্যদিকে,
কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। কৃৎ প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন:
দুল্‌ + অনা = দোলনা
কৃ + তব্য = কর্তব্য।
এখানে 'অনা', 'তব্য' হলো কৃৎ প্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

১১২.
কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ইক
  2. আনা
  3. ইত
সঠিক উত্তর:
আনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনা
ব্যাখ্যা

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মুসাফির + খানা  = মুসাফিরখানা;
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় - অণু + ইক = আণবিক, পুষ্প + ইত= পুষ্পিত।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - থাল + = থালা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১৩.
'শ্রান্তি' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. কি প্রত্যয়
  2. ক্রি প্রত্যয়
  3. ক্তি প্রত্যয়
  4. ক্তী প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
ক্তি প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্তি প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
কৃৎপ্রত্যয়: 
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন, √দুল্‌ + অনা = দোলনা, √কৃ + তব্য = কর্তব্য। 
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়:
- ক্তি - প্রত্যয় [‘ক' ইৎ(লোপ) ‘তি' থাকে]: √গম্ + ক্তি = √গম্ + তি = গতি (এখানে 'ম' লোপ হয়েছে)।

বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্তি - প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়।
যথা -
√মন্ + ক্তি = মতি,
√রম্ + ক্তি = রতি।

(খ) কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন -
√শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম > ন), ('ক' লোপ পেয়ে সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: √শ্রম্‌ + তি)।
√শম্ + ক্তি = শান্তি; ('ক' লোপ পেয়ে সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: √শম্ + তি)।

(গ) 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন -
√বচ্‌ + ক্তি = উক্তি,
√মুচ্ + ক্তি = মুক্তি,
√ভজ্‌ + ক্তি = ভক্তি।

(ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ: 
√গৈ + ক্তি = গীতি,
√সিধ্‌ + ক্তি = সিদ্ধি,
√বুধ্‌ + ক্তি = বুদ্ধি,
√শক্‌ + ক্তি = শক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১১৪.
কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. মানানসই
  2. পোয়াত
  3. পেটুক
  4. লতানো
সঠিক উত্তর:
মানানসই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানানসই
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

------------------------------
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:

সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই।
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৫.
যে ধাতু বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে কী বলে?
  1. সাধিত ধাতু
  2. মৌলিক ধাতু
  3. যৌগিক ধাতু
  4. সংযোগমূলক ধাতু
সঠিক উত্তর:
মৌলিক ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক ধাতু
ব্যাখ্যা
• যে ধাতু বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক ধাতু বলে।

• মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন:
- বল + আ = বলা,
- দেখ + আ = দেখা,
- পড় + আ = পড়া,
- হাট্‌ + আ  = হাটা।

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাই যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু)।
- সাবধান (বিশেষ্য) +হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)।
- বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১৬.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মাধুর্য
  2. কেষ্ট
  3. বড়াই
  4. দারোয়ান
সঠিক উত্তর:
মাধুর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধুর্য
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:

যেমন:
- মধু + ষ্ণ= মাধব, 
- মনু + ষ্ণ =মানব,
- মধুর+ ষ্ণ = মাধুর্য,
- পঞ্চভূত + ফিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'দারোয়ান' বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'বড়াই' ও 'কেষ্ট' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১১৭.
উপসর্গ এবং প্রত্যয়ের মধ্যে পার্থক্য কোনটি?
  1. উপসর্গ শব্দের পরে, প্রত্যয় শব্দের আগে বসে।
  2. উপসর্গ শব্দের আগে, প্রত্যয় শব্দের পরে বসে।
  3. ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
  4. নতুন শব্দ গঠন করে।
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ শব্দের আগে, প্রত্যয় শব্দের পরে বসে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ শব্দের আগে, প্রত্যয় শব্দের পরে বসে।
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ শব্দের আগে বসে আর প্রত্যয় শব্দের পরে বসে—এইটাই উপসর্গ ও প্রত্যয়ের মূল পার্থক্য।

পার্থক্য:
- উপসর্গ হলো বাংলা ভাষার এমন কিছু অব্যয়সূচক বর্ণ বা শব্দাংশ, যা স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয় না।
- কিন্তু কোনো ধাতু বা শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- উপসর্গ যুক্ত হলে মূল শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে, কখনো সংকুচিত হয় আবার কখনো বিস্তৃত হয়।
- যেমন—‘প্র’, ‘অ’, ‘সু’, ‘বি’, ‘পরি’ ইত্যাদি উপসর্গ শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ প্রকাশ করে।
• প্র + গতি = প্রগতি;
- মূল শব্দ গতি মানে সাধারণভাবে “চলাফেরা” বা “গমন”।
- যখন প্র উপসর্গটি যুক্ত হয় তখন প্রগতি মানে শুধু চলা নয়, বরং উন্নতি, অগ্রগতি বা অগ্রসর হওয়া বোঝায়।
• আবার, অ + জ্ঞান = অজ্ঞান;
- মূল শব্দ জ্ঞান মানে “জানা বা বোধ”।
- কিন্তু, উপসর্গ অ যুক্ত হলে অজ্ঞান মানে জ্ঞানের অভাব বোঝায়।

অন্যদিকে,
- প্রত্যয় হলো এমন বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যা কোনো ধাতু (ক্রিয়াপদের মূল) বা নাম শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে মূল শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদ (বিশেষ্য, বিশেষণ ইত্যাদি) গঠিত হয়।
- প্রত্যয় অব্যয়সূচক শব্দাংশ হলেও তা শব্দের পরে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১১৮.
নিচের কোনটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ?
  1. কহ্
  2. আক্
  3. টান্
  4. দৃশ্
সঠিক উত্তর:
টান্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টান্
ব্যাখ্যা
⇒ মৌলিক ধাতু: 
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু: 
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, গঠ্, দৃশ্  ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু: 
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
- আঁট (শক্ত করে বাঁধা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- খাট্ (মেহনত করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- চেঁচ্ (চিৎকার করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ঝুল্ (দোলা ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- টান্ (আকর্ষণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ডর্ (ভীত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৯.
'তরঙ্গিত' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
কয়েকটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
• ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত,
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।

• ইমন্-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে-
- নীল + ইমন = নীলিমা।
- মহৎ + ইমন = মহিমা।

৩. ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- পঙ্ক + ইল্প = ঙ্কিল,
- ঊর্মি + ইল্ = ঊর্মিল,
- ফেন + ইল্ = ফেনিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১২০.
জীবিকা অর্থে কোন তদ্ধিত প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়নি?
  1. ক) ঠক + আমো = ঠকামো
  2. খ) ঘর + আমি = ঘরামি
  3. গ) ডাক্তার + ই = ডাক্তারি
  4. ঘ) চোর + আমি = চোরামি
সঠিক উত্তর:
ঘ) চোর + আমি = চোরামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চোর + আমি = চোরামি
ব্যাখ্যা
আমি / আম / আমো / মি - প্রত্যয়যোগে বাংলা ভাষায় বৃত্তি বা জীবিকা অর্থে - ঠকামো, ঘরামি এবং ডাক্তারি তদ্ধিত প্রত্যয় এবং
ভাব অর্থে - ইতরামি, পাগলামি, চোরামি, বাহাদুরি তদ্ধিত প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
১২১.
সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √শো + অন = শয়ন
  2. √নন্দ্‌  + অন = নন্দন
  3. √ভূ + অন = ভুবন
  4. √বর্ধ + অন = বর্ধন
সঠিক উত্তর:
√ভূ + অন = ভুবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ভূ + অন = ভুবন
ব্যাখ্যা
• সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - √ভূ + অন = ভুবন। 

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় -অন (< অনট্):

কর্তৃবাচ্যে-
- √নিন্দ্‌  + অন = নন্দন,
- √সাধ্‌ + অন = সাধন,
- √তপ্ + অন = তপন,
- √বৃধ্‌ + অন = বর্ধন ইত্যাদি।

ভাববাচ্যে-
- √গম + অন = গমন,
- √শী + অন = শয়ন,

এরূপ-  √কৃ+ অন = করণ, উদ্‌ + গৃ + অন = উদ্গিরণ ইত্যাদি।

করণবাচ্যে-
- √নী + অন = নয়ন,
- √চর্ + অন = চরণ ইত্যাদি।

অধিকরণবাচ্যে-
- √শী + অন = শয়ন,
- √স্থা + অন = স্থান,
- √ভূ + অন = ভুবন,
- √উদ্‌ + যা + অন = উদ্যান ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২২.
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) চামার
  2. খ) ধারালো
  3. গ) মোড়ক
  4. ঘ) পোষ্টাই
সঠিক উত্তর:
গ) মোড়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোড়ক
ব্যাখ্যা
• অক প্রত্যয়:
- √মুড় + অক = মোড়ক,
- √ঝল্‌ + অক = ঝলক,

• শব্দগুলো বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

এছাড়া, 
'চামার' তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯)।
১২৩.
সংস্কৃত ‘কৃৎ’ ধাতুযোগে সাধিত পদ কোনটি?
  1. কর্তন
  2. ক্রয়
  3. কথ্য
  4. ক্রীত
সঠিক উত্তর:
কর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তন
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ‘কৃৎ’ ধাতুযোগে সাধিত পদ- কর্তন।

--------------------------------
• সংস্কৃত মূল ধাতু:

যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু - সাধিত পদ:
কৃ - কুত, কর্তব্য।
কৃৎ - কর্তন, কর্তিত।
কথ্ - কথ্য, কথিত।
অঙ্ক্ - অঙ্কন, অঙ্কিত।
ক্রী - ক্রয়, ক্রীত।
কিন্ - কেনা, কেনাকাটা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৪.
'জ্বালানি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) √জ্বাল্‌+ইনি
  2. খ) √জেলে+আনি
  3. গ) √জ্বাল্‌+আনি
  4. ঘ) √জেলে+ইনি
সঠিক উত্তর:
গ) √জ্বাল্‌+আনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √জ্বাল্‌+আনি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- √জ্বাল্‌+আনি।

• প্রদত্ত শব্দ -- প্রকৃতি ও প্রত্যয়
- জ্বালানি --- √জ্বাল্‌+আনি।
- ঝাঁকানি --- √ঝাঁক+আনি।
- ছট্‌ফটানি ---√ছট্‌ফট্‌+আনি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৫.
নিম্নের কোনটি প্রকৃতি প্রত্যয়ের 'গুণ' সম্পর্কিত সূত্র?
  1. ক) অ-স্থলে আ
  2. খ) ই/ঈ-স্থলে ঐ
  3. গ) উ/ঊ-স্থলে ঔ
  4. ঘ) ঋ-স্থলে অর্‌
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঋ-স্থলে অর্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঋ-স্থলে অর্‌
ব্যাখ্যা
কখনও কখনও লক্ষ করা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি অংশের আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে।
এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়মদ্বয়কেই যথাক্রমে গুণ ও বৃদ্ধি নামে অভিহিত করা হয়।
নিচে গুণ ও বৃদ্ধি ঘটার সূত্র উল্লেখ করা হলাে :

গুণ
ই/ঈ-স্থলে এ - √চিন্+আ= চেনা, নী+আ= নেওয়া
উ/ঊ-স্থলে ও - √ধু+আ= ধােয়া
ঋ-স্থলে অর্‌ -  √কৃ+তা = কর্‌তা > কর্তা >ক্রেতা   

বৃদ্ধি
অ-স্থলে আ - √পচ্+ণক(অক) = পাচক 
ই/ঈ-স্থলে ঐ - √শিশু+ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ - √যুব্‌+অন= যৌবন
ঋ-স্থলে আর - √কৃ+ঘ্যণ(য-ফলা)= কার্য

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৬.
বাংলা ব্যাকরণে ধাতু চিহ্নিত প্রতীক কোনটি?
  1. ক) ≥
  2. খ) ∨
  3. গ) √
  4. ঘ) ∧
সঠিক উত্তর:
গ) √
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার মূল বা ধাতু বোঝাতে (√) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

ধাতু:  ক্রিয়ার মূল অংশকে বলা হয় ধাতু। ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়: একটি ধাতু বা ক্রিয়ামূল অপরটি ক্রিয়াবিভক্তি। ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়াবিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তা-ই হলো ধাতু।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৭.
নিচের কোনটি লগ্নক নয়?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বচন
  4. ঘ) প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের:
১. বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

২. নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

৩. বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো পদের 'রা' বা 'গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

৪. বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৮.
'মেয়েটি বড় লাজুক।' বাক্যে 'লাজুক' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত-প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত-প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• 'মেয়েটি বড় লাজুক।' বাক্যে 'লাজুক' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 
- লাজ + উক = লাজুক।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়। বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
যেমন:
- লাজ + উক = লাজুক,
- বড় + আই = বড়াই,
- ঘর + আমি = ঘরামি।

বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
১. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
২. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
৩. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১২৯.
'কৃৎ, দৃশ্, স্থা' কোন ধরনের ধাতুর উদাহরণ?
  1. নাম ধাতু
  2. প্রযোজক ধাতু
  3. সংস্কৃত ধাতু
  4. বাংলা ধাতু
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত ধাতু
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন: চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন:
- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
- অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
- খাট্, আঁট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩০.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. তেজস্বী
  2. মেধাবী
  3. দারোয়ান
  4. চড়াই
সঠিক উত্তর:
দারোয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারোয়ান
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়: 
- তেজঃ + বিন্‌ = তেজস্বী,
- মেধা + বিন্‌ = মেধাবী।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় এর নিয়ম:
• আই-প্রত্যয়: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে 'আই' প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- চড়্‌ + আই = চড়াই।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩১.
'কানাই' শব্দের শুদ্ধ প্রত্যয় কোনটি?
  1. কানা + আই
  2. কান + আই
  3. কানু + আই
  4. কানো + আই
সঠিক উত্তর:
কানু + আই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানু + আই
ব্যাখ্যা
আই- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়-
(ক) ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে: বড় + আই = বড়াই, চড়া + আই = চড়াই।
(খ) আদরার্থে: কানু + আই = কানাই, নিম + আই = নিমাই।
(গ) স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বোঝাতে: বোন + আই = বোনাই, ননদ + আই = নন্দাই, জেঠা + আই = জেঠাই (মা)।
(ঘ) সমগুণবাচক বিশেষ্য গঠনে: মিঠা + আই = মিঠাই।
(ঙ) জাত অর্থে: ঢাকা + আই = ঢাকাই (জামদানি), পাবনা + আই = পাবনাই (শাড়ি)।
(চ) বিশেষণ গঠনে: চোর + আই = চোরাই (মাল), মোগল + আই = মোগলাই (পরোটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ - সংস্করণ)।
১৩২.
'উক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়-
  1. √উক্‌ + তি
  2. √উচ্ + ক্তি
  3. √বচ্ + ক্তি
  4. √উঃ + ক্তি
সঠিক উত্তর:
√বচ্ + ক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√বচ্ + ক্তি
ব্যাখ্যা
'উক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √বচ্ + ক্তি।

• 'ক্তি'-প্রত্যয় ('ক' ইৎ 'তি' থাকে):
• বিশেষ নিয়ম:
- 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন-
- √বচ্+ক্তি = উক্তি,
- √মুচ্+ক্তি = মুক্তি,
- √ভজ্+ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩৩.
প্রকৃতি প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে সঠিক কোনটি?
  1. √দীপ্য্‌ + মান = দীপ্যমান
  2. √ নন্দ + অন = নন্দন
  3. √ শ্রম্‌ + ইন্‌ = শ্রমী
  4. প্রাচি+য = প্রাচ্য
সঠিক উত্তর:
√ শ্রম্‌ + ইন্‌ = শ্রমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ শ্রম্‌ + ইন্‌ = শ্রমী
ব্যাখ্যা
• 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '। 
'শ্রমী' শব্দের অর্থ- পরিশ্রমদ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে এমন, পরিশ্রমী।  

অন্যদিকে, 
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন। 
- 'দীপ্যমান' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হচ্ছে - √ দীপ্‌ + মান (শানচ)।
- 'প্রাচ্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাচ্‌+য।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩৪.
ক্রিয়ার মূল অংশকে কী বলে?
  1. ক) ধাতু
  2. খ) ক্রিয়া-প্রকৃতি
  3. গ) প্রাতিপদিক
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলা হয়। একে ক্রিয়া-প্রকৃতিও বলা হয়৷
অন্যদিকে বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷
প্রাতিপদিক হলো তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। এবং ধাতু হলো কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১৩৫.
ক্রিয়া পদকে বিশ্লেষণ করলে কয়টি অংশ পাওয়া যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
ধাতু:
- ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলে।
- ক্রিয়া পদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:

১.ধাতু বা ক্রিয়ামূল: কর্, যা, খা, পা, বল্, দেখ, খেল্, দে ইত্যাদি।
২. ক্রিয়াবিভক্তি: আ, ই, ছি, ছে, বে, তে, লে, লাম ইত্যাদি।

ধাতু তিন প্রকার।
যথা:
১. মৌলিক ধাতু
২. সাধিত ধাতু ও ৩.
যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩৬.
'যোগী' - এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √যুগ্‌ + ইক
  2. √যুজ্ + ইন
  3. √যুগ্‌+ ইন
  4. √যুজ্ + ইক
সঠিক উত্তর:
√যুজ্ + ইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√যুজ্ + ইন
ব্যাখ্যা

• ইন্‌' কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়):

যেমন:
- √শ্রম্ + ইন = শ্রমী;
- √দুষ্‌+ ইন = দোষী;
- √মন্ত্র + ইন = মন্ত্রী;
- √যুজ্ + ইন = যোগী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩৭.
নিচের কোনটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ান্ত শব্দ?
  1. ক) ডুবুরী
  2. খ) পূজারী
  3. গ) বর্ধমান
  4. ঘ) উড়ুয়া
সঠিক উত্তর:
গ) বর্ধমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বর্ধমান
ব্যাখ্যা

'শানচ্‌' একটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়। এই প্রত্যয় যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দঃ
√দীপ্‌ + শানচ্‌ = দীপ্যমান;  √চল্‌ + শানচ্‌ = চলমান
√বৃধ্‌ + শানচ্‌ = বর্ধমান।

ডুবুরী, পূজারী ও উড়ুয়া - বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১৩৮.
‘তিরস্কার’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) তিরস্+√কৃ+অন
  2. খ) তিরস্+√কৃ+অ
  3. গ) তিরস্+√কৃ+ইন
  4. ঘ) তিরস্+√কৃ+ত
সঠিক উত্তর:
খ) তিরস্+√কৃ+অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিরস্+√কৃ+অ
ব্যাখ্যা
• তিরস্কার (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃত প্রত্যয় = [তিরস্+√কৃ+অ]
অর্থ: ভর্ৎসনা, অবজ্ঞা, অনাদর, কুৎসা ও নিন্দা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩৯.
'সংশ্লিষ্ট' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. টেকো
  2. ধেনো
  3. নেয়ে
  4. মেঠো
সঠিক উত্তর:
মেঠো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঠো
ব্যাখ্যা
• 'সংশ্লিষ্ট' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ: মাঠ → মেঠো

অন্যদিকে,
টাক → টেকো = যুক্ত অর্থে।
ধান → ধেনো = জাত অর্থে।
না → নেয়ে = নৈপুণ্য অর্থে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৪০.
নিচের কোনটি মৌলিক ধাতু?
  1. বলা
  2. হারা 
  3. দেখা
  4. পড়
সঠিক উত্তর:
পড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পড়
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

অন্যদিকে, 
• সাধিত ধাতু:
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম - শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে। যেমন দেখ্ + আ = দেখা, পড় + আ = পড়া, বল + আ = বলা। সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' দেখায়)।

এরূপ-শোনায়, বসায়, হারা ইত্যাদি।

- গঠনরীতি ও অর্থের দিক থেকে সাধিত ধাতু তিন শ্রেণিতে বিভক্ত: ক. নাম ধাতু, খ. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতু, (গ) কর্মবাচ্যের ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ - সংস্করণ)।
১৪১.
কোনটি বিদেশি ধাতু?
  1. টুট্
  2. হস্
  3. খাদ্‌
  4. শ্রু
সঠিক উত্তর:
টুট্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুট্
ব্যাখ্যা
বিদেশি ধাতু:
- তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।

যেমন:
- খাট্, আঁট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।

যেমন:
- অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪২.
'জাগরূক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ জাগ্‌ + রূক 
  2. √ জাগ্‌ + উক
  3. √ জাগৃ + ঊক 
  4. √ জাগর + উক
সঠিক উত্তর:
√ জাগৃ + ঊক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ জাগৃ + ঊক 
ব্যাখ্যা
জাগরূক (বিশেষণ): 
- (তৎসম বা সংস্কৃত) শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: √জাগৃ + ঊক।

'জাগরূক' শব্দের অর্থ:
১. জাগ্রত; জাগরণশীল; সজাগ।
২. সাবধান; সতর্ক; হুঁশিয়ার।
৩. অবিস্মৃত বা জাজ্বল্যমান বা স্পষ্টরূপে অঙ্কিত (তোমার স্মৃতি আমার হৃদয়ে জাগরূক আছে)।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৪৩.
'বৃহৎ' অর্থে কোন প্রত্যয়জাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বেতো
  2. খ) ডিঙা
  3. গ) বাঘা
  4. ঘ) টেকো
সঠিক উত্তর:
খ) ডিঙা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডিঙা
ব্যাখ্যা
'বৃহৎ' অর্থে ব্যবহৃত প্রত্যয়জাত শব্দ = 'ডিঙা'।

প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪৪.
'জনতা' শব্দটি ব্যাকরণের কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. সন্ধিযোগে
  4. সমাসযোগে
  5. বচনের সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
ব্যাখ্যা

জনতা (বিশেষ্য):
অর্থঃ
১. অনেক লোকের সমাবেশ।
২. জনসাধারণ (জনতার সংগ্রাম)।
- (তৎসম বা সংস্কৃত) জন+তা (তল্‌)

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

১৪৫.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গেঁজেল
  2. কারিগর
  3. ঘটকালি
  4. ভিখারি
সঠিক উত্তর:
কারিগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারিগর
ব্যাখ্যা

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় গঠিত কিছু শব্দ:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

অন্যদিকে,
-------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন
• আরি/আরী/আবু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ + আরি = ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: দাঁত-দাঁতাল, লাঠি-লাঠিয়াল> লেঠেল, তেজ-তেজাল, ধার-ধারাল, শাঁস-শাঁসাল, জমক-জমকালো, দুধ-দুধাল দুধেল, হিম-হিমেল, চতুর- চতুরালি, ঘটক + আলি = ঘটকালি, সিঁদ-সিঁদেল, গাঁজা + এল = গেঁজেল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৪৬.
'প্রকৃতি' কোনটির অপর নাম?
  1. ক) ধাতু
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) শব্দমূল
সঠিক উত্তর:
ঘ) শব্দমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শব্দমূল
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি।
- প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি।
- ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৭.
‘পাকড়াও’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ পাক্ + ড়াও
  2. √ পাকড় + আও
  3. √ পাক্ + আও
  4. √ পাকড় + অও
সঠিক উত্তর:
√ পাকড় + আও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ পাকড় + আও
ব্যাখ্যা
• সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: '√ পাকড় + আও'।
- 'পাকড়াও' শব্দটি 'কৃৎ' প্রত্যয়ের উদাহরণ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৮.
তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ছাত্রী
  2. নারী
  3. প্রাণী
  4. স্থায়ী
সঠিক উত্তর:
স্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থায়ী
ব্যাখ্যা
- তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ নয় - স্থায়ী (√স্থা + ঈ)
- এটি কৃদন্ত শব্দ।

তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

তদ্ধিতান্ত শব্দের গঠন:
- ছাত্রী = ছাত্র + ঈ,
- নারী = নর + ঈ,
- প্রাণী = প্রাণ + ঈ।
উপরের '-ঈ', '-ঈ', '-ঈ' হলো তদ্ধিত প্রত্যয় এবং ছাত্রী, নারী ও প্রাণী হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত
  2. √বাড়ু + অন্ত = বাড়ন্ত
  3. √জিব্‌ + অন্ত = জীবন্ত
  4. √উঠ্‌ + আন্তি = উঠন্তি
সঠিক উত্তর:
√ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত
ব্যাখ্যা

অন্ত >-অন্তি -উন্তি(প্রত্যয়)

যেমন:
- √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত;
- √বাড়্‌ + অন্ত = বাড়ন্ত;
- √জীব্‌ + অন্ত = জীবন্ত;
- √উঠ্‌ + অন্তি = উঠন্তি;
এ রকম- উড়ন্ত, চলন্ত, পড়ন্ত, ঝুলন্ত, ডুবন্ত, বাড়ন্ত, ফুটন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৫০.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. নীল + ইলিমা = নীলিমা
  2. দুধ + অয়ালা = দুধওয়ালা
  3. পাগল + আমি = পাগলামি
  4. বাত + ওয়া = বাতুয়া
সঠিক উত্তর:
পাগল + আমি = পাগলামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাগল + আমি = পাগলামি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- পাগল + আমি = পাগলামি।

---------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে।
যথা:
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- বাত + উয়া = বাতুয়া; 
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫১.
কোনটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়?
  1. √জি + অ = জয়
  2. √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়
  3. √মিশ্ + উক = মিশুক
  4. √কৃত্ + তি = কীর্তি
সঠিক উত্তর:
√মিশ্ + উক = মিশুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√মিশ্ + উক = মিশুক
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

উক, উকা:
- √মিশ্ + উক = মিশুক,
- √খা + উকা = খাউকা > খেকো।

অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন - √জি + অ = জয়, √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়, √কৃত্ + তি = কীর্তি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৫২.
'ধোঁকাবাজ' শব্দটিতে কোন প্রত্যয় রয়েছে?
  1. বজ
  2. বাজ
  3. আজ
সঠিক উত্তর:
বাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাজ
ব্যাখ্যা
'ধোঁকাবাজি' শব্দটিতে 'বাজ' প্রত্যয় রয়েছে। 

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৩.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) সাৎ
  2. খ) ইম্
  3. গ) ইত্
  4. ঘ) গর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গর
ব্যাখ্যা
কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
আনা (গরিবানা), আনি (বাবুয়ানি), ওয়ান (গাড়োয়ান), খানা (ছাপাখানা), গর (কারিগর), দার (চৌকিদার), বাজ (চালবাজ), সই (মানানসই) ইত্যাদি৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
১৫৪.
'মাধব' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) মধু + অ
  2. খ) মধু + অব
  3. গ) মা +অব
  4. ঘ) মাধ + অব
সঠিক উত্তর:
ক) মধু + অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মধু + অ
ব্যাখ্যা
'মাধব' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় - মধু + অ।
এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য:
১. কৃষ্ণ; হিন্দুদেবতা বিষ্ণু (মাধব হাম পরিণাম নিরাশা-বিদ্যাপতি)।
২. বসন্তকাল। 
৩. বৈশাখ মাস।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫৫.
বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়ামূল কয় প্রকার?
  1. পাঁচ 
  2. চার 
  3. তিন 
  4. দুই
সঠিক উত্তর:
তিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন 
ব্যাখ্যা

• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল। ধাতু ৩ প্রকার।
যথা:
১. মৌলিক ধাতু,
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন:
- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

• সাধিত ধাতু: 
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে সাধিত ধাতু গঠিত হয়। আবার যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকেও সাধিত ধাতু বলা হয়।

যেমন:
- দেখ্‌ + আ = দেখা।
- পড়+আ = পড়া।
- বল+আ =বলা।

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাকে যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু বলা হয়।
- যেমন: কর্‌, হ, দে, পা, খা, কাট্‌, ধর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫৬.
'চলিষ্ণু' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ চলি + ষ্ণু
  2. √ চল্‌ + ইষ্ণু
  3. √ চলি + ইষ্ণু
  4. √ চলন্‌ + ইষ্ণু
সঠিক উত্তর:
√ চল্‌ + ইষ্ণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ চল্‌ + ইষ্ণু
ব্যাখ্যা
• 'চলিষ্ণু': 
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় - √চল্‌ + ইষ্ণু। 

• 'চলিষ্ণু' শব্দের অর্থ: 
- সচল, গতিশীল। 
- চঞ্চল, অস্থির। 
- প্রস্থান করতে উদ্যত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫৭.
কোনটি বিদেশাগত ধাতু?
  1. কাট্
  2. মাগ্‌
  3. গম্
  4. কৃ
সঠিক উত্তর:
মাগ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগ্‌
ব্যাখ্যা

বিদেশাগত ধাতু:
- প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
- যেমন- ভিক্ষে মেগে খায়।
- এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মাঙ' থেকে আগত।

অন্যদিকে,
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন- কাট্, কাঁদ, জানু, নাচ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫৮.
ধাতু চিহ্ন বোঝাতে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) >
  2. খ) <
  3. গ) =>
  4. ঘ) √
সঠিক উত্তর:
ঘ) √
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) √
ব্যাখ্যা
ধাতু তিন প্রকার। যথাঃ
১. মৌলিক ধাতু
২. সাধিত ধাতু
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু
√- ধাতু চিহ্ন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৫৯.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ইক
  2. আই
  3. আনা
  4. উক
সঠিক উত্তর:
আনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনা
ব্যাখ্যা

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা;
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় - অণু + ইক = আণবিক।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - চোর + আই = চোরাই, পেট + উক = পেটুক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬০.
কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত পদটিকে বলা হয়-
  1. ক) তদ্ধিত পদ
  2. খ) প্রাতিপদিক
  3. গ) কৃদন্ত পদ
  4. ঘ) তদ্ধিতান্ত পদ
সঠিক উত্তর:
গ) কৃদন্ত পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃদন্ত পদ
ব্যাখ্যা

- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয় সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে তদ্ধিতান্ত শব্দ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬১.
'মি’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) চোরামি
  2. খ) জেঠামি
  3. গ) ইতরামি
  4. ঘ) পাগলামি
সঠিক উত্তর:
খ) জেঠামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জেঠামি
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'মি' প্রত্যয় যোগে 'জেঠামি' শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- অপশনের অন্যগুলো 'আমি' প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠিত হয়েছে।

• 'আমি' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- ইতর+আমি = ইতরামি।
- পাগল+আমি = পাগলামি।
- চোর+আমি = চোরামি।
- বাঁদর+আমি = বাঁদরামি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬২.
'কানাই' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. রোগগ্রস্ত
  2. সংশ্লিষ্ট
  3. আদর
  4. অবজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
আদর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ বদলে যায়।

অবজ্ঞা অর্থে: চোর - চোরা।
আদর অর্থে: কানু - কানাই
সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ - গেঁয়ো।
রোগগ্রস্ত অর্থে: বাত - বেতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৩.
কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. আণবিক
  2. দোলনা
  3. দৈনিক
  4. বাঘা
সঠিক উত্তর:
দোলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলনা
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা,
→ দিন + ইক = দৈনিক,
→ দুল্ + অনা = দোলনা,
→ অণু + ইক = আণবিক, 

→ কৃ + তব্য = কর্তব্য।

- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে,
'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক', আণবিক হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।

উপরের উদাহরণে,
'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৪.
কৃষ্টি শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়-
  1. কৃ্ষ্ + তি
  2. কৃষ্ + টি
  3. কৃ + ইষ্টি
  4. কৃষ্ + ইষ্টি
সঠিক উত্তর:
কৃ্ষ্ + তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃ্ষ্ + তি
ব্যাখ্যা

• কৃষ্টি (বিশেষ্য) ১ হালচাষ; কর্ষণ; কৃষিকার্য।
২ সংস্কৃতি।
{(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) √কৃষ্‌+ত(ক্তি)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান 

• কৃষ্টি এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কৃষ্ + তি।
- ষ-এর পরে ত্ বা থ্ থাকলে, যথাক্রমে ত্ ও থ্ এর স্থানে ট ও ঠ হয়।
- এরূপ - বৃষ্টি - বৃষ্‌ + তি, ষষ্ঠ - ষষ্‌ + থ। 

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণীর ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১৬৫.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু কোনটি?
  1. ভিজ
  2. গম্
  3. ঠেল
  4. ডাক
সঠিক উত্তর:
গম্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গম্
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন- কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ভিজ, ঠেল, ডাক বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৬৬.
'কর্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. কম্‌
  2. কহ্‌
  3. কাঁদ্‌
  4. তুল্‌
সঠিক উত্তর:
কম্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্‌
ব্যাখ্যা
• 'কর্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কম্‌

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ উঠ্‌ - আদিগণ,
→ কর্‌ - আদিগণ,
→ কহ্‌ - আদিগণ,
→ কাট্‌ - আদিগণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'কহ্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কহ্‌।
• 'কাট্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কাঁদ্‌।
• 'উঠ্‌' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - তুল্‌।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৭.
প্রকৃতি কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতি দুই প্রকার।
যথা:
(ক) ক্রিয়া-প্রকৃতি বা ধাতু, 
(খ) নাম-প্রকৃতি বা সংজ্ঞা-প্রকৃতি।

ক্রিয়া-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি অবস্থান, গতি বা অন্য কোনো প্রকারের ক্রিয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলে।
যেমন: চল্, √পড়, রাখ, দৃশ্, √ক্ প্রভৃতি ক্রিয়া-প্রকৃতি।

নাম-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি কোনো দ্রব্য, জাতি, গুণ বা কোনো পদার্থকে বোঝায়, তাকে নাম-প্রকৃতি বলে।
যেমন: মা, চাঁদ, গাছ, প্রভৃতি নাম-প্রকৃতি।
- হাতল = হাত (নাম-প্রকৃতি) + অল (প্রত্যয়)]

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৬৮.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) হামলা
  2. খ) মেঘলা
  3. গ) পানসে
  4. ঘ) ফ্যাকাসে
সঠিক উত্তর:
ক) হামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হামলা
ব্যাখ্যা
- 'হামলা' হচ্ছে কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ। এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- হাম্‌ + লা

অন্যান্য অপশন:
'মেঘলা' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- মেঘ + লা (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।
'পানসে' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- পানি + সে (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।
'ফ্যাকাসে' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- ফিকা + সে (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬৯.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কৃর্‌ + অনীয় = করণীয়
  2. √শোচ্ + অনীয় = শোচনীয়
  3. √পাল + অনীয় = পালনীয়
  4. √বর্‌ + অনীয় = বরণীয়
সঠিক উত্তর:
√পাল + অনীয় = পালনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√পাল + অনীয় = পালনীয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয়: √পাল + অনীয় = পালনীয়।  

• কৃৎ প্রত্যয় -অনীয় (অনীয়র্):
যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কৃ+ অনীয় = করণীয়,
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ্ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
- √পালি + অনীয় = পালনীয়,
- √বৃ + অনীয় = বরণীয়। 

এরূপ- মাননীয়, পূজনীয়, পানীয়, গ্রহণীয়, রমণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭০.
'বড় + আই = বড়াই' কোন প্রকার প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. কৃৎ-প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭১.
নিচের কোনটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. মাতা
  2. নয়ন
  3. চলন
  4. দাতব্য
সঠিক উত্তর:
চলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলন
ব্যাখ্যা
চলন = √চল্‌ + অন ; বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'চলন' শব্দে  √চল্‌  ধাতুর সাথে 'অন' বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- মাতা = √মা + তৃচ; শব্দে 'তৃচ' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
- নয়ন = √নী + অন; শব্দে 'অন' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
- দাতব্য = √দা +তব্য; শব্দে 'তব্য' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৭২.
‘নাচন’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ নাচ + অনা
  2. √ নাচ্ + অন
  3. √ নাচি + অন
  4. √ নাচুন + অ
সঠিক উত্তর:
√ নাচ্ + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ নাচ্ + অন
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ প্রত্যয় (অন):
- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- √ নাচ্ + অন = নাচন
- √ কাঁদ্ + অন = কাঁদন, 
- √ বাঁধ + অন = বাঁধন, 
- √ চল্ + অন = চলন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭৩.
উক্তি-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বচ্ + উক্তি
  2. খ) বচ্ + ক্ত
  3. গ) √বচ্ + ক্তি
  4. ঘ) বচ্ + তি
সঠিক উত্তর:
গ) √বচ্ + ক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √বচ্ + ক্তি
ব্যাখ্যা
উক্তি - এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: √বচ্+ ক্তি।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ‘ক্তি' যোগে শব্দ গঠনে চ এবং জ এর স্থলে 'ক' হয়।

যেমন:
- বচ+ক্তি = উক্তি,
- মুচ+ক্তি = মুক্তি,
- ভজ+ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৪.
প্রত্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় কোনটি?
  1. ক) ইৎ
  2. খ) টি
  3. গ) উপধা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ইৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইৎ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত নিয়ম অনুসারে কখনও কখনও প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার কালে প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পায়।
- এই লােপ পাওয়া অংশটিকে ‘ইৎ' নামে অভিহিত করা হয়।
- এছাড়া, প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনিকে ‘উপধা' বলা হয়ে থাকে এবং প্রকৃতির আদ্যধ্বনির পরবর্তী সকল ধ্বনিকে ‘টি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- অর্থাৎ, ‘ইৎ' প্রত্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং 'উপধা’ ও ‘টি' প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, পাঠক’ শব্দটির গঠন হলাে : √পঠ্‌ (প্‌+অ+ঠ) + ণক (ণ্‌+অ+ক্‌)।
- এখানে প্রকৃতি অংশের উপধা হলাে ‘পৃ+অ', টি হলাে ‘অ+ক্‌’ এবং চূড়ান্তভাবে শব্দ গঠনের কালে প্রকৃতি অংশে নির্দেশিত ‘অ’-এর বৃদ্ধি ঘটে ‘আ’ হয়েছে।
- অপরদিকে, প্রত্যয় অংশে ‘ণ’-এর ইৎ ঘটেছে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৫.
'কারিগর' শব্দের 'গর' কোন দেশি প্রত্যয়?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
ব্যাখ্যা
'কারিগর' শব্দের 'গর' ফারসি প্রত্যয়। 
কারি+গর = কারিগর 
অনুরূপভাবে, বাজি+গর = বাজিগর>বাজিকর 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৬.
প্রত্যয় যোগে সাধিত কোন শব্দটি 'পেশা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ডাক্তারি
  2. খ) বাহাদুরি
  3. গ) জমিদারি
  4. ঘ) কানাই
সঠিক উত্তর:
ক) ডাক্তারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডাক্তারি
ব্যাখ্যা
- প্রত্যয় যোগে সাধিত 'ডাক্তারি' শব্দটি 'পেশা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত করলে অনেক সময় শব্দের অর্থ বদলে যায়।
যেমন:
অবজ্ঞা অর্থে: চোর → চোরা।
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
আদর অর্থে: কানু → কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই।
পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে।
রোগগ্রস্ত অর্থে: বাত → বেতো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১৭৭.
'ঢাকাই' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) সন্ধিযোগে
  2. খ) প্রত্যয়যোগে
  3. গ) সমাসযোগে
  4. ঘ) উপসর্গযোগে
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যয়যোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যয়যোগে
ব্যাখ্যা
'ঢাকাই' শব্দটি প্রত্যয়যোগে সাধিত শব্দ। 
ঢাকা+আই = ঢাকাই। 

'আই' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত শব্দ। 
- ঢাকা → ঢাকাই; 'জাত' অর্থে প্রকাশিত শব্দ। 

 আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে - ঢাকাই বাংলা শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭৮.
কোনটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ?
  1. আক্
  2. খাদ্
  3. চেঁচ্
  4. কথ্
সঠিক উত্তর:
চেঁচ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেঁচ্
ব্যাখ্যা
• ‘চেঁচ্’ - বিদেশি ধাতুর উদাহরণ।
---------------------
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: আঁট, খাট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, ঠেল্।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৯.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মানব
  2. বড়াই
  3. নিমাই
  4. দাতা
সঠিক উত্তর:
মানব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানব
ব্যাখ্যা
• মানব (মনু +ষ্ণ) সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধু + ষ্ণ = মাধব;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- মায়া + বিন = মায়াবী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বড়াই (বড় + আই), নিমাই (নিম+আই)  'আই' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
- দাতা (√দা +তৃ ) 'তৃ'  সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৮০.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতু কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতু তিন প্রকার
যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন
- কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, কথ্‌, গঠ্‌, পঠ্‌ ইত্যাদি।

বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮১.
নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয়সাধিত?
  1. ক) প্রলয়
  2. খ) খণ্ডিত
  3. গ) নিঃশ্বাস
  4. ঘ) অনুপম
সঠিক উত্তর:
খ) খণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খণ্ডিত
ব্যাখ্যা
খন্ডিত শব্দটি সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় সাধিত।
খন্ডিত {√খণ্ড্‌ + ত} - খণ্ডন করা হয়েছে এমন।
অনুপম শব্দটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
১৮২.
'যোদ্ধা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √যুদ্ধ + তৃচ
  2. √ যুধ্‌ + আল
  3. √ যুধ্‌ + তৃচ
  4. √ জিত + আল
সঠিক উত্তর:
√ যুধ্‌ + তৃচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ যুধ্‌ + তৃচ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
• তৃচ্‌-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে):
- প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন -
- √দা + তৃচ্ = √দা + তৃ = √দা + তা = দাতা,
- √মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ্‌ = ক্রেতা।

• বিশেষ নিয়মে: √যুধ্‌ + তৃচ = √যুধ্‌ + তা = যোদ্ধা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৮৩.
'পাক' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √প + আঁক
  2. পাক + √অ
  3. √পচ্‌ + ঘঞ্‌
  4. পাক্‌ + অ
সঠিক উত্তর:
√পচ্‌ + ঘঞ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√পচ্‌ + ঘঞ্‌
ব্যাখ্যা
⇒ ঘঞ-প্রত্যয় [(কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে), ঘৃ এবং ঞ ইৎ, ‘অ' থাকে]।
যেমন:
- √বস্ + ঘঞ = বাস,
- √ক্রুধ + য = ক্রোধ,
- √যুজ্ + ঘঞ = যোগ, 
- √খুদ্ + ঘঞ = খেদ, 
- √ভিদ্ + ঘঞ = ভেদ। 

বিশেষ নিয়ম:
√পচ্ +ঘঞ্‌ = পাক,
√শুচ্+ঘঞ্‌ = শোক। 
কিন্তু, √নন্দি + অন = নন্দন। এক্ষেত্রে আ যোগে ‘নন্দনা’ হয় না। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯)।
১৮৪.
‘জবাব দে’- এখানে ‘দে’ কোন ধাতুর দৃষ্টান্ত?
  1. সাধিত ধাতু
  2. সংযোগমূলক ধাতু
  3. মৌলিক ধাতু
  4. প্রযোজক ধাতু
সঠিক উত্তর:
সংযোগমূলক ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগমূলক ধাতু
ব্যাখ্যা
• সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয় তাই সংযোগমূলোক ধাতু।
যেমন: যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌(ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু।
বাক্য: তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ করো।

এরূপ-
• হ-ধাতু যোগে : রড় হ, ভালো হ, রাজি হ, সুখী হ।
• দে-ধাতু যোগে: উত্তর দে, টাকা দে, জবাব দে।
• পা-ধাতু যোগে: ভয় পা, দুঃখ পা, লজ্জা পা।
• ছাড়-ধাতু যোগে: হাল ছাড়, গলা ছাড়, গলা ছাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৫.
সংস্কৃত ধাতু কোনটি?
  1. কাঁদ্‌
  2. কিন্‌
  3. বুঝ্‌
  4. হস্‌
সঠিক উত্তর:
হস্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হস্‌
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু - হস্‌

• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ্‌, জান্‌, নাচ্, বুঝ্‌, কিন্‌ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন - কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, খাদ্‌, পঠ্‌, হস্‌ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৬.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত শব্দ?
  1. মিশুক
  2. গৌরব
  3. নিন্দক
  4. বাঁধনি
সঠিক উত্তর:
গৌরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌরব
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়।

যথা:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- নীলিমা + নীল = ইমন,
- গুরু + অ = গৌরব ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।

যেমন:
→ √বাঁধ + অনি = বাঁধনি
→ √নিন্দ্ + অক = নিন্দক
→ √মিশ + উক = মিশুক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮৭.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. হাত + ল = হাতল
  2. চল্ + অন্ত = চলন্ত
  3. রাধ্‌ + না = রান্না
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হাত + ল = হাতল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত + ল = হাতল
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন,
মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 
----------------- 
ল-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ : 
বিশেষ্য গঠনে,
হাত + ল = হাতল,
শীত + ল = শীতল,
বৎস + ল = বৎসল।
----------------
অন্যদিকে,
চল্ + অন্ত = চলন্ত, রাধ্‌ + না = রান্না; কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৮.
’মোড়ক’ শব্দের সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মুড় + অক
  2. √মুড় + ওক
  3. √মোড় + অক
  4. √মূড় + অক
সঠিক উত্তর:
√মুড় + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√মুড় + অক
ব্যাখ্যা
• ”অক” - কৃৎ প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন: 
যেমন-
√মুড় + অক = মোড়ক।
√ঝল্ + অক = ঝলক।

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
১৮৯.
কোনটি তৎসম শব্দ নয়?
  1. ক) হস্ত
  2. খ) মিথ্যা
  3. গ) হিন্দু
  4. ঘ) বধূ
সঠিক উত্তর:
গ) হিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিন্দু
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
হস্ত, মিথ্যা, বধূ = তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ
অন্যদিকে, 
হিন্দু = ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং আধুনিক একাডেমি বাংলা অভিধান।
১৯০.
নিচের কোনটি সংস্কৃত ধাতু?
  1. শ্রু
  2. কাট্
  3. কাঁদ
  4. নাচ্
সঠিক উত্তর:
শ্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রু
ব্যাখ্যা
• 'শ্রু' একটি সংস্কৃত ধাতু।
• 'শ্রু' ধাতুযোগে গঠিত শব্দ- শ্রবণ, শ্রুত

• বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন: কাট্, কাঁদ, জানু, নাচ্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:

- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন- কৃ, গম্, ধৃ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৯১.
বিকৃত শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর।
  1. বি + কৃত
  2. বি - কৃ + ত
  3. বিকৃ + ইত
  4. বি + √কৃ + ত
সঠিক উত্তর:
বি + √কৃ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বি + √কৃ + ত
ব্যাখ্যা
‘বিকৃত’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় - বি + √কৃ + ত(ক্ত)।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৯২.
'কর্ম' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কৃ+ম
  2. খ) কৃ+মন্‌
  3. গ) √কৃ+ম
  4. ঘ) √কৃ+মন্‌
সঠিক উত্তর:
ঘ) √কৃ+মন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) √কৃ+মন্‌
ব্যাখ্যা
কর্ম (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √কৃ+মন্‌ 
অর্থ: 
- যা করা হয়, কাজ, ক্রিয়া, অনুষ্ঠান।
- সার্থকতা, উপযোগিতা। 
- জীবিকা, বৃত্তি।
- কারকবিশেষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৯৩.
প্রত্যয় দিয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. গ্রামীণ
  2. তৃষ্ণার্ত
  3. প্রণাম
  4. লালপেড়ে
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণ
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় দিয়ে গঠিত শব্দ - গ্রামীণ
- এটি '-ঈন' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = গ্রাম + ঈন।

আরো কিছু তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সর্বজনীন = সর্বজন + ঈন।
- রাষ্ট্রীয় = রাষ্ট্র + ঈয়।
- মিশিরীয় = মিশর + ঈয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৪.
'মাধ্যমিক' - শব্দটির সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. মাধ্য + মিক
  2. মধ্যম + ইক
  3. মাধ্যমিক + অ
  4. মধ্যম + অ
সঠিক উত্তর:
মধ্যম + ইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যম + ইক
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'মাধ্যমিক' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'মধ্যম + ইক'।

• মাধ্যমিক (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধ্যম + ইক।
অর্থ: 
- মধ্যবর্তী,
- মধ্যস্থ, 
- মধ্যম সম্পর্কিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯৫.
'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দৃশ্ + আনীয়
  2. √দৃশ্ + নীয়
  3. √দর্শ + নীয়
  4. √দৃশ্ + অনীয়
সঠিক উত্তর:
√দৃশ্ + অনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√দৃশ্ + অনীয়
ব্যাখ্যা

'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'পাকড়াও' শব্দটি সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: '√ পাকড় + আও'।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১৯৬.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. লাজুক
  2. ইতরামি
  3. বড়াই
  4. মুনশিয়ানা
সঠিক উত্তর:
মুনশিয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনশিয়ানা
ব্যাখ্যা

• আনা > আনি (হিন্দি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:
- মুনশি + আনা - মুনশিয়ানা,
- বিবি + আনা - বিবিয়ানা,
- হিন্দু + আনি -হিন্দুয়ানি।

অন্যদিকে, 
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- উক-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে-  লাজ + উক - লাজুক
- আরু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: বোমা + আরু - বোমারু।
- আলো-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: জমক + আলো -জমকালো। 
- আমি-প্রত্যয়: ইতর + আমি = ইতরামি
- ই-প্রত্যয়: জমিদার + ই = জমিদারি।
- আই-প্রত্যয়: বড় + আই = বড়াই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৯৭.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) দাপট
  2. খ) কপট
  3. গ) পাঠক
  4. ঘ) মিশুক
সঠিক উত্তর:
ক) দাপট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দাপট
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - দাপট।

অপশনের বাকি শব্দ গুলো -কপট, পাঠক, মিশুক হচ্ছে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৮.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মিশুক
  2. ঈশ্বর
  3. দিশারু
  4. হিংস্র
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দিশারু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিশারু
ব্যাখ্যা
• '-আবু' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন:
যে করে- এই অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- দুধ + আরু = দুধারু,
- দিশা + আরু = দিশারু,
- বাক্ + আরু = বাগারু (বাচাল),
- খোঁজ + আরু = খোঁজারু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• '-উক' বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- √মিশ্ + উক্ = মিশুক। 
• '-বর' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- √ঈশ্ + বর = ঈশ্বর। 
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- '-র' হিস্ +র = হিংস্র। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৯.
তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ডাকু
  2. কলু
  3. ঝাড়ু
  4. উড়ু
সঠিক উত্তর:
কলু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলু
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত 'উ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো:
- ঢাল + উ = ঢালু;
- কল + উ = কলু।

অন্যদিকে,
• 'উ' কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- √ডাক্ + উ = ডাকু;
- √ঝাড় + উ = ঝাড়ু;
- √উড় + উ = উড়ু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০০.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. ক) পঞ্চায়েত
  2. খ) চিরন্তন
  3. গ) সে
  4. ঘ) এবং
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) পঞ্চায়েত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পঞ্চায়েত
ব্যাখ্যা
• পঞ্চায়েত (বিশেষ্য)
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: গ্রামোন্নয়নের লক্ষ্যে পাঁচ বা ততোধিক নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা গঠিত সভা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।