বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধাতু ও প্রত্যয়

মোট প্রশ্ন১,৯২৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধাতু ও প্রত্যয়

PrepBank · পাতা ১২ / ২০ · ১,১০১১,২০০ / ১,৯২৬

১,১০১.
প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) সফল
  2. খ) সুশ্রী
  3. গ) মহাত্মা
  4. ঘ) জেলে
ব্যাখ্যা
ইয়া> এ-প্রত্যয়:
(ক) তৎকালীনতা বােঝাতে:
সেকাল + এ=সেকেলে,
একাল+এ=একেলে,
ভাদর +ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে (কইমাছ)।

(খ) উপকরণ বােঝাতে ;
পাথর পাথরিয়া> পাথুরে,
মাটি -মেটে, বালি- বেলে।

(গ) উপজীবিকা অর্থে:
জাল-জালিয়া>জেলে,
মােট-মুটে।

(ঘ) নৈপুণ্য বােঝাতে:
খুন-খুনিয়া > খুনে,
দেমাক-দেমাকে,
না (নৌকা) - নাইয়া> নেয়ে।

(ঙ) অব্যয়জাত বিশেষণ গঠনে:
টনটন - টনটনে (জ্ঞান),
কনকন - কনকনে (শীত),
গনগন - গনগনে (আগুন),
চকচক - চকচকে (জুতা)।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
১,১০২.
‘ইন্’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) কুলীন
  2. খ) গুণী
  3. গ) নবীন
  4. ঘ) সর্বজনীন
ব্যাখ্যা
ইন্ (ঈ)- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
• গুণী।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [গুণ + ইন্]
অর্থ: গুণ আছে এমন, কালাবিদ, মন্ত্রদ্বারা বশ করতে পারে এমন।

অন্যদিকে,
নীন (ঈন্)- প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-

• কুল + ঈন্ = কুলীন।
• নব + ঈন্ = নবীন।
• সর্বজ + ঈন্ = সর্বজনীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০৩.
"√ নম্ + র = নম্র" - এখানে, 'নম্‌' হলো - 
  1. প্রকৃতি
  2. ধাতু
  3. কৃৎ প্রত্যয় 
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

• র-প্রত্যয়:
- √নম্ + র = নম্র;
- √ক্ষুদ্ + র = ক্ষুদ্র;
- √হিন্স্ + র = হিংস্র।
-----------------
শব্দ গঠন বিশ্লেষণ:
√নম্ + র = নম্র।

এখানে √নম্ একাধারে:
- প্রকৃতি (মূল অংশ);
- ধাতু (ক্রিয়ামূল)।
- যখন ধাতুর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন সেই ধাতুকে প্রকৃতি বলা হয়

সঠিক উত্তর: ঘ) ক এবং খ উভয়ই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১০৪.
'সর্বাঙ্গীন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. সর্বঙ্গ+ঈন
  2. সর্ব+অঙ্গীন
  3. সর্ব+ঈন
  4. সর্বাঙ্গ+ঈন
ব্যাখ্যা
• 'সর্বাঙ্গী্ণ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'সর্বাঙ্গ + ঈন'। 
-  'সর্বাঙ্গীণ' শব্দের অর্থ- সর্বাঙ্গব্যাপী।
----------------------------- 
• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন
- বাঘ+আ=বাঘা;
- দিন+ইক = দৈনিক;
- দুল্+অনা = দোলনা;
- কৃ+তব্য = কর্তব্য।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
- উপরের উদাহরণে ‘আ’ ও ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং ‘বাঘা’ ও দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• কৃৎপ্রত্যয় বলে: 
- অন্যদিকে ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
- উপরের উদাহরণে, ‘অনা’ ও ‘তব্য’ হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং ‘দোলনা’ ও ‘কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,১০৫.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ঘরামি
  2. দর্শন
  3. মানব
  4. ধড়িবাজ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব,
- লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় -  ঘর + আমি = ঘরামি।
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় -  ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় - √দৃশ্ + অন = দর্শন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,১০৬.
'ডিঙা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে কী অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. অবজ্ঞা
  2. সাদৃশ্য
  3. সামীপ্য
  4. বৃহদার্থ
ব্যাখ্যা
আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
এরূপ - কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
এরূপ - রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা > লোনা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে।
(চ) স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ-চোখা, চাক-চাকা।
(ছ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির-হাজিরা, চাষ-চাষা।
(জ) জাত ও আগত অর্থে: মহিষ > ভইস-ভয়সা (ঘি), দখিন-দখিনা > দখনে (হাওয়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০৭.
'মাধব' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. মনু + ষ্ণ
  2. মধু + অব
  3. মা + অব
  4. মধু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ও-কারে পরিণত হয়। ও + অ সন্ধিতে 'অব' হয়।
যথা:
- গুরু + ষ্ণ (অ) = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- মধু + ষ্ণ = মাধব,
- মনু + ষ্ণ = মানব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,১০৮.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ভাজ + ই = ভাজি
  2. পঠ্ + ইত = পঠিত
  3. পঙ্ক + ইল = পঙ্কিল
  4. সহ্ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - পঙ্কিল (পঙ্ক + ইল)।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: চোর+আ = চোরা, কেষ্ট+আ = কেষ্টা, ডিঙি+আ = ডিঙা, বাঘ্+আ = বাঘা, হাত্+আ = হাতা
বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়

অন্যদিকে,
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
- ভাজ্‌ + ই = ভাজি,
- পঠ্ + ইত = পঠিত,
- সহ্‌ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,১০৯.
'নবীন' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. নব + নীন
  2. নী + ঈন
  3. ন + ঈন
  4. নী + ইন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'নবীন' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - নব + নীন।

• নীন (ঈন)- প্রত্যয়:

- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন
- কুল + নীন = কুলীন
- নব + নীন = নবীন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১১০.
'ভাব' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ইতরামি
  2. ডিঙা
  3. বেতো
  4. ডাক্তারি
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অর্থে প্রত্যয় সাধিত কিছু শব্দ:
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা।
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,১১১.
'চরিত্র' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় -
  1. √ চরি্ + ইত
  2. √ চর্‌ + ত্র
  3. √ চ্ + রিত্র
  4. √ চর্‌ + ইত্র
ব্যাখ্যা
• 'চরিত্র'
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ চর্‌ + ইত্র
অর্থ:
- কোনো ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যসূচক গুণাবলি; চালচলন। 
- উপন্যাস নাটক প্রভৃতি গ্রন্থের পাত্রপাত্রী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১১২.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. প্রাণী
  2. দাতব্য
  3. বাহাদুরি
  4. পোদ্দারি
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- √ চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত,
- √ দা + তব্য = দাতব্য,
- √ কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

অন্যদিকে,
'ই'/'ঈ' প্রত্যয় যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- প্রাণী = প্রাণ + ঈ'
- বাহাদুরি = বাহাদুরি + ই,
- পোদ্দারি = পোদ্দার+ ই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১,১১৩.
'দোলনা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয় করুন-
  1. দোল্‌ + অনা
  2. দুল্‌ + অনা
  3. দুল্‌ + না
  4. দোলন + আ
ব্যাখ্যা

• দোলনা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো- দুল্‌ + অনা।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: 
- বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
- যেমন:
• ‘অনা’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √দুল্ + অনা = দুলনা > দোলনা।
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

এরূপ ‘আ’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √খা্ + অন = খাওন;
- √দে্ + অন = দেওন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১১৪.
‘কুলীন’- শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কুল + ইন
  2. খ) কুল + ঈন
  3. গ) কুল + নিন
  4. ঘ) কুল + নীন
ব্যাখ্যা
নীন (ঈন) – প্রত্যয়ে গঠিত শব্দঃ সর্বজন + নীন = সর্বজনীন, কুল + নীন = কুলীন, নব + নীন = নবীন ইত্যাদ।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১,১১৫.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতুর উদাহরণ?
  1. কথ
  2. কৃৎ
  3. বন্ধ
  4. কহ্
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন- কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ,কথ, কৃৎ, বন্ধ ইত্যাদি।

• বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জান্, নাচ্ কর, কাট্,  কহ্, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি। (২০১৯ সালের সংস্করণ)

১,১১৬.
‘ছিন্ন’ এর ধাতু অংশ হলো -
  1. √ছিত্‌
  2. √ছিদ্‌
  3. √ছিৎ
  4. √ছিধ্‌
ব্যাখ্যা
• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।

যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত=ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৭.
'বুদ্ধ' শব্দটিতে যে ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে -
  1. বুঝ্‌
  2. বুদ্‌
  3. বুধ্‌
  4. বন্ধ্‌
ব্যাখ্যা
• 'বুদ্ধ' শব্দটিতে যে ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে - বুধ্‌

সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন - কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু ⇒ ♣ সাধিত পদ
- দৃশ্‌ ⇒ দৃশ্য, দর্শন।
- ধৃ ⇒ ধৃত, ধারণ।
- বন্ধ্‌ ⇒ বন্ধন।
- বুধ্‌বুদ্ধ, বোধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৮.
‘খরগোশ’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) আরবি
  3. গ) বাংলা
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• ফারসি : অন্দর, কানুন, আবহাওয়া, দরবার, আমদানি-রপ্তানি, আমল, আমির, আমেজ, শরবত, হুজুর, জমিদার, সুর্মা, হাজার,
জাফরান, বরফ, চশমা, সবজি, শহর, গ্রেপ্তার, খবর, শখ, গোলাপ, খরগোশ ইত্যাদি।

• আরবি : আজান, আল্লাহ্, আদম, কোরান, ফকির, খাতা, খারাপ, নগদ, তবলা, আসামি, আসবাব, ইজ্জত, দৌলত, গজল, শহিদ, শুরু,  কাবাব, খারিজ ইত্যাদি।

• তুর্কি : উজবুক, উর্দু, কঞ্চি, কুলি, কোর্মা, কাঁচি, খাতুন, বাবা, চকমকি, বাহাদুর, বেগম, বোঁচকা, সওগাত, চুকলি, তালাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১,১১৯.
'জলীয়' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. জল + ইয়
  2. জল + এয়
  3. জল + ঈয়
  4. জলী + অ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় '-ঈয়' (ষ্ণীয়, ছ):
জাত সম্পর্কিত 'ব্যাপ্তি' অর্থে- একই বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- জল + ঈয় = জলীয়,
- বংশ + ঈয় = বংশীয়;
- দেশ + ঈয় = দেশীয়,
- ভারত + ঈয় = ভারতীয়,
- ইউরোপ + ঈয় = ইউরোপীয় ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় '-এয়' (ষ্ণেয়, ঢক্):
জাত বা উৎপন্ন এবং পরায়ণ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- ভগিনী + এয় = ভাগিনেয়,
- অগ্নি + এয় = গাঙ্গেয়,
- রাধা + এয় = রাধেয়,
- অতিথি + এয় = আতিথেয় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১২০.
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় সেগুলােকে বলে-
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. পদ
  4. বচন
ব্যাখ্যা
⇒ শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।

⇒ শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
• তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন:
- মনু + অ = মানব।

⇒ অন্যদিকে, ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। 
• কৃৎ প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। 
যেমন:
- √নাচ + অন = নাচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,১২১.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চিরু + উনি = চিরনি
  2. √মোড় + অক = মোড়ক
  3. √ডুব্ + ওরি = ডুবুরী
  4. √জানা + আন = জানানো
ব্যাখ্যা
• আ-কারান্ত প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতুর পরে 'আন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'আনো' হয়৷
যেমন:
- √জানা + আন = জানানো।
এরূপ- শোনানো, ভাসানো ইত্যাদি৷

অন্যদিকে,
‘অনি’ (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √বাঁধ + অনি = বাাঁধনি;
• √চির + অনি = চিরনি;

 ‘অন্ত’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
• √ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

 ‘অক’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √মুড় + অক = মোড়ক;
• √ঝল্ + অক = ঝলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১২২.
'হারামখোর' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

আনা, আনি:
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা।
- সাহেবি + আনা = সাহেবিয়ানা।
- নজর + আনা = নজরানা।

খানা:
- মুদি + খানা = মুদিখানা।
- ছাপা + খানা = ছাপাখানা।

খোর:
- ঘুষ + খোর = ঘুষখোর।
- নেশা + খোর = নেশাখোর।
- হারাম + খোর = হারামখোর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১২৩.
‘নিষ্ঠুর’ শব্দের সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) নি + √ষ্ঠুর
  2. খ) নিষ্ + √ঠুর
  3. গ) নি + √স্থা + উর
  4. ঘ) নিষ্ + √উর
ব্যাখ্যা
• নিষ্ঠুর।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [নি + √স্থা + উর]
অর্থ: নৃশংস, কঠোর, ক্রূর, নিষ্ঠুরতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১২৪.
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ‘তৃচ্’ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) বিক্রেতা
  2. খ) ফিরতা
  3. গ) বহতা
  4. ঘ) ফিরতা
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়: উৎস অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কৃৎ প্রত্যয়সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো:
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও
- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। 

• সংস্কৃৃৃত তৃচ্‌-প্রত্যয়: প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' থলে 'তা' হয়।
যেমন-
√দা+তৃচ = √দা+তা = দাতা।
√মা+তৃচ = √মা+তা = মাতা।

এরূপ- বিক্রেতা (বিশেষ্যণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = [বি+√ক্রী+তৃ] 
অর্থ: বিক্রয়কারী।

অন্যদিকে,
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ‘তা’ যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে-
√ফির্+তা = ফিরতা।
√পড়+তা = পড়তা।
√বহ্+তা = বহতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ।
১,১২৫.
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. ণক
  2. অন
  3. ওয়া
  4. উক
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় নয়- ণক। 
- 'ণক' সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ। 

সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় - ণক:
ণক-প্রত্যয়ে 'ণ' ইৎ 'অক' থাকে।
যেমন:
পট্ + ণক = পট্ + অক = পাঠক।

মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।
যেমন:
- √নী + ণক = (নৈ + অক-প্রথম স্বরের বৃদ্ধি) নায়ক,
- √গৈ + ণক = গায়ক,
- √লিখ্ + ণক = লেখক ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
অন, ওয়া ও ওয়া বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ।
১,১২৬.
কোনটি সংস্কৃত ধাতুজাত শব্দ?
  1. বুঝা
  2. খাদক
  3. হাসি
  4. রাখা
ব্যাখ্যা
• 'খাদক' সংস্কৃত ধাতুজাত শব্দ।
- খাদক = খাদ্‌ + অক 'খাদ্‌' শব্দটি সংস্কৃত ধাতু।

• সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, খাদ্‌, স্থা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বুঝা = বুঝ্‌ + আ,
- করা = কর্‌ + আ, 
- রাখা = রাখ্‌ + আ।
- বাংলা ধাতুযোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১২৭.
কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
  1. ধার্মিক
  2. আগ্নেয়
  3. শৈব
  4. নম্র
ব্যাখ্যা
√নম্ + র = নম্র ; 'র' কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েছে।
সূত্র:
• র-প্রত্যয়: হিন+স্+র = হিংস্র, নম্ + র = নম্র।

অন্যদিকে,
- শিব্‌ + ষ্ণ = শৈব;
- ধর্ম + ষ্ণিক = ধার্মিক।
- অগ্নি + ষ্ণেয় = আগ্নেয়।
- এগুলো তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১২৮.
প্রত্যয়যোগে গঠিত কোন শব্দটি 'নিন্দা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. চোরা
  2. জেঠামি
  3. টেকো
  4. কানাই
ব্যাখ্যা
- প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়। 
যেমন - 
অবজ্ঞা অর্থে: চোর → চোরা। 
• বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা। 
• সদৃশ  অর্থে: বাঘ → বাঘা। 
• আগত অর্থে: দখিন → দখিনা। 
আদর অর্থে: কানু → কানাই। 
• জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
• ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি। 
নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি। 
• পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি। 
• মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি। 
• উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে। 
• নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে। 
• রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো। 
যুক্ত অর্থে: টাক → টেকো। 
• সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১২৯.
'ভয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √ভী্ + অল
  2. খ) √ভ্ + অল
  3. গ) √ভি্ + অল
  4. ঘ) √ভৃ + অল
ব্যাখ্যা

'অল' প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে) যোগে গঠিত শব্দঃ
- √ভি্ + অল = ভয়,
- √ক্ষি্ + অল = ক্ষয়,
- √জি্ + অল = জয় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩০.
প্রকৃত - প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে সঠিক নয় কোনটি?
  1. দা + অপট = দাপট
  2. √ নন্দি + অন = নন্দন
  3. √ দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়
  4. দিন + ইক = দৈনিক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়: 'দা + অপট = দাপট'।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = দাপ + অট। 
- 'দাপট' শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি + অন। 
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'দৈনিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = দিন + ইক। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৩১.
কৃৎপ্রত্যয়ে সাধিত শব্দকে বলে-
  1. ক) ক্রিয়াপদ
  2. খ) ক্রিয়া প্রকৃতি
  3. গ) প্রকৃতি
  4. ঘ) কৃদন্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
শব্দের পরে যে সব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
'শিক্ষক' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।
'- দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১সংস্করণ]
১,১৩২.
‘শোক’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় -
  1. √শোক্‌ + শানচ্‌
  2. √শুচ + ঘঞ্‌
  3. √শোক্‌ + ঘঞ্‌
  4. √শুচ্‌ + ঘঞ্‌
ব্যাখ্যা

ঘঞ্‌ - প্রত্যয়ঃ (কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে)
√বস্‌ + ঘঞ্‌ = বাস
√ক্রুধ্‌ + ঘঞ্‌ = ক্রোধ
বিশেষ নিয়মঃ 
√ত্যজ্‌ + ঘঞ্‌ = ত্যাগ
√শুচ্‌ + ঘঞ্‌ = শোক

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ।

বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে,
শোক (বিশেষ্য) = প্রিয়জনের মৃত্যু ইত্যাদির ফলে দুঃখ।
(তৎসম বা সংস্কৃত) √শুচ্‌ + অ(ঘঞ্‌)।

১,১৩৩.
'ইতিবৃত্ত' শব্দটির প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) ইতি + √ বৃৎ + ত
  2. খ) ইতঃ + বৃত্ত
  3. গ) ইতি + বৃত্ত
  4. ঘ) ইতঃ + বৃত + অ
ব্যাখ্যা
√• ইতিবৃত্ত (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: ইতি + √ বৃৎ + ত। 

• ইতিবৃত্ত অর্থ:
- ইতিহাস,
- পুরাবৃত্ত।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি , আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৩৪.
কোনটি শূন্য প্রত্যয়ের শব্দ?
  1. জয়
  2. হত
  3. ভয়
  4. দূর
ব্যাখ্যা
শূন্য প্রত্যয়:
- কোনো প্রকার প্রত্যয়-চিহ্ন ব্যতিরেকেই কিছু ক্রিয়া-প্রকৃতি বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ রূপে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। এরূপ স্থলে (০) শূন্য প্রত্যয় ধরা হয়।
যেমন:
এ মোকদ্দমায় তোমার জিত্ হবে না, হার্-ই হবে। গ্রামে খুব ধর্ পাকড় চলছে। দূর্‌ থেকে ভেসে আসে। 

অন্যদিকে,
- ‘জয়’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √জি + অল।
- হত = √হন্ + ত/ক্ত।
- - √ভি্ + অল = ভয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৩৫.
বিদেশী প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) জমিদারি
  2. খ) চৌকিদার
  3. গ) মেঘলা
  4. ঘ) চতুরালি
ব্যাখ্যা
জমিদারি (জমিদার+ই), মেঘলা (মেঘ+লা) এবং চতুরালি (চতুর + আলি) বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। অন্যদিকে চৌকাদার ফারসি দার প্রত্যয়যোগে গঠিত। এরূপ- পাহারাদার, দেনাদার, খবরদার, তাঁবেদার, রুটিদার ইত্যাদি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৩৬.
‘ধারণ’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ধারি + অন
  2. √ ধার + অন
  3. √ ধারি + ওন
  4. √ ধারী + অন
ব্যাখ্যা
• ধারণ (বিশেষ্য),
- এট সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = (√ ধারি + অন),
অর্থ: অবলম্বন, সংকুলান, বিধৃতকরণ, গ্রহণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৩৭.
‘অ’ এর স্থানে ‘আ’ হলে তাকে কী বলে?
  1. ক) গুণ
  2. খ) বৃদ্ধি
  3. গ) সম্প্রসারণ
  4. ঘ) ইৎ
ব্যাখ্যা
- ‘ই’, ‘ঈ’ এর স্থানে ‘ঐ’ হয়। যেমন : শিশু + অ (ষ্ণ) = শৈশব, নিশা + অ = নৈশ।
- উ, ঊ এর স্থানে ‘ঔ’ হয়। যেমন : যুব + অন = যৌবন, ভূত + ইক = ভৌতিক।
- ‘ঋ’ এর স্থানে ‘আর’ হয়। যেমন : স্মৃতি + অক = স্মারক, √ধৃ + অক = ধারক।
- ‘অ’ এর স্থানে ‘আ’ হয়। যেমন : √পচ্ + অক (ণক) = পাচক।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,১৩৮.
কোন ভাষা থেকে 'খ্রিষ্টান' শব্দটি এসেছে?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
 খ্রিষ্টান (বিশেষ্য) 
অর্থ : খ্রিস্টধর্মাবলম্বী; Christian
'খ্রিষ্টান' ইংরেজি ভাষা থেকে আগত শব্দ। এটি মিশ্র শব্দ নয়।
'খ্রিস্টাব্দ' শব্দটি ইংরেজি + তৎসম শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
 
উৎস : আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
১,১৩৯.
'যোদ্ধা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় -
  1. √যুঝ্‌ + তৃচ
  2. √যুধ্‌ + তৃচ
  3. √যুদ্‌ + তৃচ
  4. √যুৎ + তৃচ
ব্যাখ্যা
• 'যোদ্ধা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √যুধ্‌ + তৃচ

সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
• তৃচ্‌-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে):
- প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন -
→ √দা + তৃচ্ = √দা + তৃ = √দা + তা = দাতা,
→ মা + তৃচ্ = মাতা,
→ √ক্রী + তৃচ্‌ = ক্রেতা।

• বিশেষ নিয়মে: √যুধ্‌ + তৃচ = √যুধ্‌ + তা = যোদ্ধা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪০.
‘হিংস্র’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √হিংস + র্‌
  2. √হিন + স্‌ + র
  3. √হিং + স্‌ + র
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা

কৃদন্ত বিশেষণ গঠণে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয়ঃ
র - প্রত্যয়ান্ত শব্দঃ
√হিন + স্‌ + র = হিংস্র; √নম্‌ + র = নম্র।
(বাংলা একাডেমি অনুসারে, √হিংস্ ‌+ র)

ইষ্ণু - প্রত্যয়ান্ত শব্দঃ
√চল্‌ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু। এরূপ - ক্ষয়িষ্ণু, বর্ধিষ্ণু।

বর - প্রত্যয়ান্ত শব্দঃ
√ঈশ্‌ + বর = ঈশ্বর, √ভাস্‌ + বর = ভাস্বর।

উক/ঊক - প্রত্যয়ান্ত শব্দঃ
√ভু + উক = ভাবুক। এরূপ - জাগরূক।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১,১৪১.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কারিগর
  2. ধারাল
  3. শাঁখারি
  4. চতুরালি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
১. ওয়ালা > আলা (হিন্দি): বাড়ি-বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি-দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ-মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ-দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।
২. ওয়ান>আন (হিন্দি): গাড়ি-গাড়োয়ান, দার-দারোয়ান।
৩. আনা>আনি (হিন্দি): মুনশি-মুনশিয়ানা, বিবি-বিবিআনা, হিন্দু-হিন্দুয়ানি।
8. সা (হিন্দি): পানি-পানসা> পানসে, এক-একসা, কাল (কাল)-কালসা>কালসে।
. গর> কর (ফারসি) কারিগর, বাজিকর, সওদাগর।
৬. দার (ফারসি): তাঁবেদার, খবরদার, বুটিদার, দেনাদার, চৌকিদার, পাহারাদার।
৭. বাজ (দক্ষ অর্থে-ফারসি) কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ, গলাবাজ-ই-গলাবাজি (বিশেষ্য)।
৮. বন্দি (কদ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
৯. সই: মতো অর্থে: জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।
১০. পনা: মতো অর্থে গিন্নীপনা, বেহায়াপনা।

অন্যদিকে, 
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• আরি/আরী/আরু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ-ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।

• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: ধার-ধারাল, শাঁস-শাঁসাল, জমক-জমকালো, দুধ-দুধাল> দুধেল, হিম-হিমেল, চতুর- চতুরালি, ঘটক- ঘটকালি, সিঁদ-সিঁদেল, গাঁজা-গেঁজেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,১৪২.
'মুক্তি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ মুক + তি
  2. √ মুক্ + ক্তি
  3. √ মুচ্ + ক্তি
  4. √মুহ্‌ + ক্তি
ব্যাখ্যা

ক্তি- প্রত্যয় ( ক ইৎ তি থাকে):
কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন- √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি সন্ধিসূত্রে ম> ন √শম্ + ক্তি = শান্তি 

চ এবং জ স্থলে ক হয়।
যেমন-
√ বচ্ + ক্তি = উক্তি;
√ মুচ্ + ক্তি = মুক্তি;
√ ভজ্ + ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০১৯।

১,১৪৩.
কৃৎ প্রত্যয় কী?
  1. অনুসর্গের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যয়
  2. উপসর্গের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যয়
  3. শব্দের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যয়
  4. ধাতুর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
বাঘ + আ = বাঘা,
দিন + ইক = দৈনিক,
দুল্ + অনা = দোলনা,
কৃ + তব্য = কর্তব্য।
• প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

কৃৎ প্রত্যয়: 
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৪৪.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. বৃধ + ইষ্ণু = বর্ধিষ্ণু
  2. সহি + ইষ্ণু = সহিষ্ণু
  3. ক্ষয় + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু
  4. চলি + ইষ্ণু = চলিষ্ণু
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয়- ক্ষয় + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় -ইষ্ণু:

স্বভাব বৈশিষ্ট্য বোঝাতে বিশেষণ
যেমন:
- সহ্ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু,
- √বৃধ্‌ + ইষ্ণু = বর্ধিষ্ণু।

- চল্ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু,
- বৃধ + ইষ্ণু = বর্ধিষ্ণু ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৪৫.
কোনটি ‘মূল্যায়ন’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. √মূল্য + অন
  2. √মূল্য + আয়ন
  3. √মূল্যায়্‌ + অন
  4. √মূল্যায়্‌ + আয়ন
ব্যাখ্যা
মূল্যায়ন:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = √মূল্যায়্‌ + অন
- অর্থ:
⇒ মূল্য নির্ধারণ,
⇒ গুণাগুণ বিচার,
⇒ মর্যাদা বা গুরুত্ব প্রদান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৪৬.
কেবল ভাববাচ্যে যুক্ত হয় -
  1. অ-প্রত্যয়
  2. অন্ত-প্রত্যয়
  3. আনি-প্রত্যয়
  4. ই-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অ-প্রত্যয়:
- কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়
যেমন -
→ √ধর্ + অ = ধর,
→ √মার + অ = মার।
- আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন -
→ √হার্ + অ = হার,
→ √জিত্ + অ = জিত।
- কোনো কোনো সময় অ-প্রত্যয়যুক্ত কৃদন্ত শব্দের দ্বিত্ব প্রয়োগ হয়।
যেমন -
 → (আসন্ন সম্ভাব্যতা অর্থে দ্বিত্বপ্রাপ্ত) √কাঁদ্ + অ = কাঁদকাঁদ (চেহারা)।
এরূপ - √পড় + অ = পড়পড়, √মর্ + অ = মরমর (অবস্থা) ইত্যাদি।
- কখনো কখনো দ্বিত্বপ্রাপ্ত কৃদন্ত পদে উ-প্রত্যয় হয়।
যেমন -
→ √ডুব্‌ + উ = ডুবুডুবু।
→ √উড় + উ = উড়ুউড়ু।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ গঠনে ব্যবহৃত হয় = অন্ত-প্রত্যয়।
• বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত হয় = আনি-প্রত্যয়, ই-প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৭.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ- 
  1. ঘরামি
  2. থালা
  3. ডাক্তারখানা
  4. বাঘা
ব্যাখ্যা

• "ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা" - বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

---------------------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই; বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা; ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১,১৪৮.
ভাব অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. বাহাদুরি
  2. রেশমি
  3. জমিদারি
  4. ডাক্তারি
ব্যাখ্যা
ই/ঈ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:
ক) ভাব অর্থে: বাহাদুর + ই = বাহাদুরি, উমেদার- উমেদারি।
খ) বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।
গ) মালিক অর্থে: জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।
ঘ) জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে: ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মাদ্রাজ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৯.
‘ঝলক’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ঝল্ + ওক
  2. √ঝল্ + উক
  3. √ঝল্ + অক
  4. √ঝল্ + আক
ব্যাখ্যা
‘অক’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √মুড় + অক = মোড়ক;
• √ঝল্ + অক = ঝলক।

---------------------
• কৃৎ-প্রত্যয়:

- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন;
- (১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি, আর;
- (২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন:
• চল্‌ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
• চল্‌ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
• ‘প্রকৃতি’ কথাটি বোঝানোর জন্য প্রকৃতির আগে √ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৫০.
'প্রত্যয়' যুক্ত হয় -
  1. শব্দের পরে
  2. ধাতুর পরে
  3. বিভক্তির পরে
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়:
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা,
→ দিন + ইক = দৈনিক,
→ দুল্ + অনা = দোলনা,
→ কৃ + তব্য = কর্তব্য।

- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

- অন্যদিকে ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৫১.
'বিবি' কোন ভাষা উৎস থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) হিন্দি
  2. খ) উর্দু
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বিবি (বিশেষ্য) 
- ফারসি শব্দ। 
অর্থ: 
- পত্নী, স্ত্রী। 
- ইউরোপীয় মহিলা 
- তাসের রানি। 


উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,১৫২.
বাংলা ধাতু কোনটি?
  1. কৃ
  2. মাগ্
  3. কাট্
  4. গম্
ব্যাখ্যা
- কাট্ বাংলা ধাতুর উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- কৃ, গম্ সংস্কৃত ধাতু।

----------------
• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। 
যেমন: আঁট, খাট্, চেঁচ্, ঝুল্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৫৩.
‘মরিয়া’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মরি্ + আ
  2. √মরি্ + ইয়া
  3. √মর্ + ঈয়া
  4. √মর্ + ইয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ইয়া > ইয়ে-প্রত্যয়:
বিশেষণ গঠনে ইয়া/ইয়ে প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: 
- √মর্ + ইয়া = মরিয়া।
- √বল্ + ইয়ে = বলিয়ে।

এরূপ- নাচিয়ে, গাইয়ে, লিখিয়ে, বাজিয়ে, কইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৫৪.
প্রত্যয়যোগে সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) নাচন
  2. খ) অবেলা
  3. গ) সুখের
  4. ঘ) বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় অর্থাৎ যেসব শব্দ প্রত্যয়, উপসর্গ, বিভক্তি, সন্ধি, সমাস ইত্যাদি নিয়মে গঠিত হয় তাদের সাধিত শব্দ বলে। 
যেমন -
প্রত্যয়যোগে:

• ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয়যোগে -
রাঁধ + না = রান্না,
নাচ্‌ + অন = নাচন।

• শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে-
ঢাকা + আই = ঢাকাই,
মোঘল + আই = মোঘলাই,
ছেলে + আমি = ছেলেমি।

উপসর্গে:
অ + বেলা = অবেলা,
আ + হার = আহার,
প্র + হার = প্রহার,
বি + হার = বিহার,
সু + নজর = সুনজর।

বিভক্তিযোগে:
মানুষ + কে = মানুষকে,
সুখ + এর = সুখের,
কলাম + এ = কলামে।

সন্ধিযোগে:
বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
সিংহ + আসন = সিংহাসন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,১৫৫.
কোনটি বিদেশি প্রত্যয়যুক্ত শব্দ নয়?
  1. দারোয়ান
  2. জমিদারি
  3. কারিগর
  4. গিন্নিপনা
ব্যাখ্যা

জমিদারি বিদেশি প্রত্যয়যুক্ত শব্দ নয়।

- কারিগর ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে।
ফারসি প্রত্যয় গুলো হল:
অট>ট, তর, গিরি, গর, দান, দানি, খানা,।
যেমনঃ চালবাজ, জমিদার।

দারোয়ান, গিন্নিপনা হিন্দি প্রত্যয়যুক্ত শব্দ।
হিন্দি প্রত্যয় গুলো হলঃ সা, সে, আনা, আনি, আন আলা, পনা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা (হায়াৎ মামুদ)

১,১৫৬.
'ছিন্ন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ছিন্‌ + ক্ত
  2. √ছিৎ + ক্ত
  3. √ছিদ্‌ + ক্ত
  4. √ছিধ্‌ + ক্ত
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।

যেমন:
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৫৭.
কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মিশাল
  2. ঢাকাই
  3. পাগলামি
  4. উমেদারি
ব্যাখ্যা
আল-কৃৎ প্রত্যয়:
- মাত্ + আল = মাতাল,
- মিশ্ + আল = মিশাল।

অন্যদিকে, 
তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
• ঢাকা+আই = ঢাকাই। 
• পাগল+আমি = পাগলামি। 
• উমেদার + ই = উমেদারি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,১৫৮.
‘গ্রাহী’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি হবে?
  1. ক) √গ্রহ + ণিন
  2. খ) √গ্রা + হী
  3. গ) √গ্রাহ + ইন
  4. ঘ) √গ্রা + ণিন
ব্যাখ্যা
‘গ্রাহী’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় √গ্রহ + ণিন।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,১৫৯.
‘জ্ঞানবান’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) জ্ঞান + বৎ
  2. খ) জ্ঞান + বত
  3. গ) জ্ঞান + বদ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• জ্ঞানবান।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [জ্ঞান+বৎ]
অর্থ: জ্ঞানী, অভিজ্ঞ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৬০.
মৌলিক ধাতু কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন: চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন:
- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
- অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
- খাট্, আঁট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬১.
"হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?"- এখানে, 'হের' কোন ধরনের ধাতু?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. তৎসম 
  3. হিন্দি
  4. অজ্ঞাতমূল
ব্যাখ্যা

• অজ্ঞাতমূল ধাতু: 
- কতগুলো ক্রিয়ামূল বা ধাতু রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন।
- এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।

যেমন: 
'হের' ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?
- উপরোক্ত বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় নি।
- তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 

১,১৬২.
'গত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়- 
  1. গত্‌ + অ
  2. √গৃ + ক্ত
  3. √গম্ + ক্ত
  4. √গৃ + অত 
ব্যাখ্যা

• 'গত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় √গম্+ক্ত।
সূত্র:
- ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- √গম্+ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ+ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্+ক্ত = চূর্ণ,
- √দা+ক্ত = দত্ত,
- √দহ্+ক্ত = দগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,১৬৩.
কোনটি 'ইনী' প্রত্যয়যুক্ত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. কামারনী
  2. নাপিতানী
  3. ধোপানী
  4. গোয়ালিনী
ব্যাখ্যা
নী-প্রত্যয়:
কামার - কামারনী
জেলে - জেলেনী
কুমার কুমারনী
ধোপা- ধোপানী
মজুর - মজুরনী ইত্যাদি

আনী- প্রত্যয়:
ঠাকুর - ঠাকুরানী
নাপিত- নাপিতানী
মেথর- মেথরানী
চাকর- চাকরানী ইত্যাদি

ইনী- প্রত্যয়:
কাঙাল- কাঙালিনী
গোয়ালা - গোয়ালিনী
বাঘ - বাঘিনী

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
১,১৬৪.
'মেছো' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কী?
  1. মাছ + ও
  2. মেছ + ও
  3. মাছি + উয়া > ও
  4. মাছ + উয়া > ও
ব্যাখ্যা
• মাছ + উয়া > ও = মাছুয়া > মেছো।

• তদ্ধিত প্রত্যয়ের নিয়ম:
(উয়া > ও) তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো:
- গাছ + উয়া = গাছুয়া > গেছো;
- গাঁ + উয়া = গাঁউয়া > গেঁয়ো;
- ঝড় + উয়া = ঝড়ুয়া > ঝড়ো;
- বন + উয়া = বনুয়া > বউন্যা > বুনো;
-  টাক + উয়া = টাকুয়া > টেকো;
- মাছ + উয়া = মাছুয়া > মেছো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৬৫.
'বেগম' শব্দটি কোন ভাষা উৎস থেকে আগত?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) আরবি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
 বেগম
- উৎসগত দিক দিয়ে এটি তুর্কি শব্দ। 
- বিশেষ্য পদ। 
অর্থ 
- সম্ভ্রান্ত মুসলমান নারী
- মুসলমান শাসনকর্তার পত্নী, রানি। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,১৬৬.
বাংলা ব্যাকরণে 'গুণ ও বৃদ্ধি' কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) বানান শুদ্ধ করণ
  2. খ) সন্ধি বিচ্ছেদ
  3. গ) সমাসবদ্ধ পদ গঠনে
  4. ঘ) প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দে
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দের গুণ ও বৃদ্ধি:
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের ধারণা রূপতত্ত্বের বিষয় হলেও কখনও কখনও তা শব্দ গঠনে ধ্বনিতত্ত্বকে সংশ্লিষ্ট করে।
- মূলত, সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দের ক্ষেত্রেই এরূপ দেখা যায়।
- কখনও কখনও লক্ষ করা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি অংশের আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে।
- এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে।
- এই নিয়মদ্বয়কেই যথাক্রমে গুণ ও বৃদ্ধি নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৭.
'কাব্য' - শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. য্য
  2. ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত 'য' প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রাতিপদিকের অন্তে স্থিত অ, আ, ই, ঈ ইত্যাদি লোপ পায়।
যেমন -
- সম্‌ + য = সাম্য;
- কবি + য = কাব্য;
- মধুর + য = মাধুর্য;
- প্রাচী + য = প্রাচ্য;
- প্রচুর + য = প্রাচুর্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬৮.
নিচের কোন শব্দদ্বয় ওলন্দাজ ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) হরতন, তুফান
  2. খ) টেক্কা, তুরুপ
  3. গ) কুপন, ইস্কাপন
  4. ঘ) কার্তুজ, হরতন
ব্যাখ্যা
• রুশ শব্দ: বলশেভিক, সোভিয়েত, স্পুৎনিক ইত্যাদি।

• গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ভাষার শব্দ: 
চীনা শব্দ : চা, চিনি, কাগজ, এলাচি, তুফান, লিচু, টাইফুন, হোয়াংহো, নানচি ইত্যাদি।
ওলন্দাজ শব্দ : ইস্কাপন, টেক্কা, রুইতন, হরতন, তুরুপ ইত্যাদি। 
ফরাসি শব্দ : আঁশ, ইংরেজ, কুপন, কার্তুজ, ক্যাফে, ওলন্দাজ, বিস্কুট, বুর্জোয়া, রেস্তোরা, শেমিজ ইত্যাদি। 
জাপানি শব্দ : রিকসা, হারিকিরি, প্যাগোডা, সাম্পান, হাস্নাহেনা, নিপ্পন, টোকিও ইত্যাদি। 
বর্মী শব্দ : লুঙ্গি, ফুঙ্গি, কিয়াং, আরাকান, ইয়াঙ্গুন ইত্যাদি। 
ইতালিয় শব্দ : রোম, ম্যাজেটা । 
গ্রিক শব্দ : দাৰ্থমে— দাম, গোনোস- কোণ, কেন্টর— কেন্দ্র ইত্যাদি।
মিশরীয় শব্দ : মিসরি-মিছরি।

তথ্যসূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৬৯.
'মানবীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. মনু + ঈয়
  2. মানব + ঈয়
  3. মানুষ্য + ইয়
  4. মান + ইয়
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:
ঈয় (ষ্ণীয়, ছ): 
- জল + ঈয় = জলীয়, 
- আত্মন্ + ঈয় = আত্মীয়, 
- মানব + ঈয় = মানবীয়, 
- রাষ্ট্র + ঈয় = রাষ্ট্রীয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,১৭০.
'সাম্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) সম+য
  2. খ) সাম+য
  3. গ) স+য
  4. ঘ) সা+য
ব্যাখ্যা
সাম্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সম+য
অর্থ: 
- সমদর্শিতা।
- সমতা, একতা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,১৭১.
কোন শব্দটিতে বিদেশি প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পানসে
  2. বাইশে
  3. বিশা
  4. ভয়সা
ব্যাখ্যা
• 'পানসে' শব্দটিতে বিদেশি প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি 'সা' (হিন্দি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

অন্যদিকে,
• 'আ' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - বাইশে।
• 'আ' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - বিশা।
• 'আ' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - ভয়সা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭২.
নিচের কোনটি নাম ধাতুর উদাহরণ?
  1. পড়
  2. বাঁধ
  3. বেতা
  4. রাখ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'বেতা' নাম ধাতু।

অন্যদিকে,  
পড়, বাঁধ, রাখ মৌলিক ধাতু।

• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
যেমন-সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম্' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'। 'ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'। যেমন আমাকে ধমকিও না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,১৭৩.
বিদেশি ধাতুর উদহারণ কোনটি?
  1. গম্
  2. নাচ্
  3. চাহ্‌
  4. কর্
ব্যাখ্যা
• ' চাহ্‌'- বিদেশি ধাতুর উদহারণ। 

• বাংলা ভাষার মৌলিক ধাতুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে
১) খাটি বাংলা ধাতু
২) সংস্কৃত মূল ধাতু ও
৩) বিদেশি ধাতু

সংস্কৃত ধাতু:
কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা ইত্যাদি।

বাংলা ধাতু: 
কাট্, আঁক্, কাঁদ্, নাচ্, কর্ ইত্যাদি৷

বিদেশি ধাতু: 
মাগ্‌, হের্‌, ভিজ্্‌ বিগড়্‌, ঠেল্‌ ডাক্‌ ডর্‌ জম্‌ ফির্‌ চাহ্‌ ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭৪.
'তাণ্ডব'- শব্দের সঠিক প্রকৃতি - প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) তান্ড + অব
  2. খ) তন্ডু + অ
  3. গ) তণ্ডু + অ
  4. ঘ) তান্ড + অ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
তাণ্ডব (বিশেষ্য):

শব্দের উৎস: সংস্কৃত ভাষা।
প্রকৃতি - প্রত্যয়: তণ্ডু + অ।

অর্থ:
- তণ্ডুমুনি-উদ্ভাবিত নৃত্য,
- উদ্যাম নৃত্য,
- শিবের নৃত্য।
আলংকারিক অর্থ: প্রলয়ংকর ব্যাপার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৭৫.
’পেয়ারা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ ?
  1. ক) হিন্দি
  2. খ) উর্দু
  3. গ) পোর্তুগিজ
  4. ঘ) গ্রিক
ব্যাখ্যা
• পোর্তুগীজ শব্দ - পেয়ারা

• পর্তুগীজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
- আনারস,  আতা, র্গীজা, পেঁপে, পেয়ারা, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি , পাদ্রি, বালতি, কামরা, বোতল জানালা, বোতাম, গামলা , সাবান, সালোয়ার, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৭৬.
কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. আঁক্
  2. অক্
  3. জম্
  4. খাট্
ব্যাখ্যা
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বাংলা ধাতু বা খাঁটি বাংলা ধাতু বলে।
যেমন:
- আঁক্ + আ = আঁকা: কী সব আঁকাআঁকি করছ?
- দেখ্ + আ = দেখা: জাদুঘর আমার কয়েকবার দেখা।
- কর্ + অ = কর: তুমি কী কর?
- হাস্ + ই = হাসি: তোমার হাসিটি খুব সুন্দর।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন:
- অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
- দৃশ্ + য = দৃশ্য : দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
- হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

বিদেশাগত ধাতু:
- বিদেশি ভাষা থেকে আগত যেসব ধাতু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিদেশাগত ধাতু বা বিদেশি ধাতু বলে।
যেমন:
- খাট্ + বে = খাটবে: যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে।
- বিগডু + আনো: তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই।
- টান্ + আ: আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না, আমি যাব না।
- জম্ + আট = জমাট: অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,১৭৭.
নিচের কোন প্রকৃত-প্রত্যয়টি সঠিক নয়?
  1. √দা + অ = দায়
  2. √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়
  3. √দৈন + ইক = দৈনিক
  4. √নন্দি + অন = নন্দন
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দিন + ইক = দৈনিক।
- 'দৈনিক' শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন। 
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √দা + অ = দায়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৭৮.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √যজো + মান = যজমান
  2. √বিদ্‌ + মান = বিদ্যমান
  3. √দীপ্য + মান =  দীপ্যমান
  4. √বৃত + মান = বর্তমান
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় -মান (শানচ্)
ঘটমান অর্থে-
- √বৃৎ + মান = বর্তমান,
- √যজ্ + মান = যজমান,
- √বিদ্‌ + মান = বিদ্যমান,
- √দীপ্ + মান =  দীপ্যমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১৭৯.
'জাত' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জন্‌ + ক্ত
  2. √জা্‌ + ক্ত
  3. √জন + ত
  4. √জা + ত
ব্যাখ্যা
• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৮০.
কোন ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া-বিশেষণ যুক্ত হয়ে সংযোগমূলক ধাতু তৈরি হয়?
  1. কর
  2. দে
  3. খা 
  4. হ 
ব্যাখ্যা

'কর' ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া-বিশেষণ যুক্ত হয়ে সংযোগমূলক ধাতু তৈরি হয়। 
----------------------------
• সংযোগমূলক ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, ছাড়, ধর ইত্যাদি মৌলিক ধাতু যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তা সংযোগমূলক ধাতু।
- উদাহরণ বাক্য: তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ কর।
- সংযোগমূলক ধাতু সকর্মক ও অকর্মক দুই-ই হতে পারে।
---------------------------------
• কর-ধাতু যোগে ক্রিয়া-বিশেষণের সঙ্গে তৈরি সংযোগমূলক ধাতু:
- ক্রিয়া-বিশেষণ হল এমন শব্দ যা ক্রিয়ার গুণ, অবস্থার বা মাত্রার তথ্য দেয়।
- যেমন— দ্রুত, আস্তে, সুন্দরভাবে, সাবধানে।
- যখন এই ক্রিয়া-বিশেষণের সঙ্গে কর ধাতু যুক্ত হয়, তখন নতুন একটি ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
- অর্থাৎ, ক্রিয়া-বিশেষণ + কর = সংযোগমূলক ধাতুযুক্ত ক্রিয়াপদ।

• প্রকৃত উদাহরণ:
- দ্রুত কর → “তুমি দ্রুত কর।”
- আস্তে কর → “বাবা, আস্তে কর।”
- সাবধানে কর → “সাবধানে কর, যাতে কিছু না ভাঙে।”
- ধীরে কর → “ধীরে কর, যেন ভুল না হয়।”
------------------------- 
অন্যদিকে,
• 'দে'-ধাতু যোগে সংযোগমূলক ধাতু:
- উত্তর দে, টাকা দে, দাগা দে, জবাব দে, কান দে, দৃষ্টি দে। 

• খা-ধাতু যোগে সংযোগমূলক ধাতু: 
- মার খা, হিমশিম খা, সুদ খা, ঘুষ খা।

• 'হ'-ধাতু যোগে সংযোগমূলক ধাতু: 
- বড় হ, ছোট হ, ভালো হ, রাজি হ, সুখী হ 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

১,১৮১.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতু কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন
- কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, কথ্‌, গঠ্‌, পঠ্‌ ইত্যাদি।

বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৮২.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দ?
  1. স্থায়ী
  2. রাষ্ট্রীয়
  3. চাষি
  4. চারিত্রিক
ব্যাখ্যা
• '' প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ, স্থায়ী = স্থা + ঈ

কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন,
- √ দুল্+অনা = দোলনা;
- √ চল্‌ + অন্ত = চলন্ত;
- √ লিখ +ত=লিখিত;
- √ কৃ+তব্য = কর্তব্য।

অন্যদিকে,
- 'ঈয়' প্রত্যয়যোগে তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ 'রাষ্ট্রীয় = রাষ্ট্র + ঈয়'।
- তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - চাষি = চাষ + ই।
- তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - চারিত্রিক = চরিত্র + ইক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯সংস্করণ)।
১,১৮৩.
ক্রিয়াপদ ও কর্ম একই ধাতু থেকে গঠিত হলে তাকে কী বলে?
  1. ক) সমধাতুজ কর্ম
  2. খ) সমধাতুজ ক্রিয়া
  3. গ) ব্যতিহার কর্ম
  4. ঘ) ব্যতিহার ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া পদ ও কর্মপদ যদি একই ধাতুকে উৎপন্ন হয় তবে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে।
যেমন : খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
এখানে ঘুম ও ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্ থেকে জন্ম হয়েছে। তাই ঘুমকে সমধাতুজ কর্ম বলা হবে।


উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
১,১৮৪.
'কর্তব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √কৃ+তব্য
  2. খ) কৃত+ব
  3. গ) ক্রি+তব্য
  4. ঘ) কৃত+তব্য
ব্যাখ্যা
কর্তব্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √কৃ+তব্য 
অর্থ: 
- করণীয়। 
- উচিত।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,১৮৫.
‘স্থান’ শব্দটিতে কোন প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অন
  2. ক্ত
  3. অনট
  4. তব্য
ব্যাখ্যা

• 'অনট': ('ট' ইৎ (বিলুপ্ত) হয়, 'অন' থাকে) প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:

যেমন:
- √নন্দি + অনট = নন্দন।
- √ভুজ্‌ + অনট = ভোজন।  
- √শ্রু + অনট = শ্রবণ।
- √স্থা + অনট = স্থান।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৮৬.
'জাত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জাত্‌ + ক্ত
  2. √জন্‌ + ক্ত
  3. √জান্‌ + ই
  4. √জন্‌ + স্থ
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।

যেমন: 
- √গম্ + ক্ত = গত, 
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, 
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত=ছিন্ন, 
- √জন্‌ + ক্ত = জাত
- √দা + ক্ত = দত্ত, 
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৮৭.
'ঘর + আমি = ঘরামি' কোন প্রকার প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।

যেমন:
লাজ + উক = লাজুক,
বড় + আই = বড়াই,
ঘর + আমি = ঘরামি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৮৮.
'লাজুক' কোন প্রত্যয়?
  1. তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৮৯.
নিম্নের কোনটি 'মহত্ত্ব' -এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়?
  1. ক) মহৎ+ত্ব
  2. খ) মহৎ+ত
  3. গ) মহৎ+ত্ত
  4. ঘ) মহৎ+ত্ত্ব
ব্যাখ্যা
'মহত্ত্ব' শব্দটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ- 

মহত্ত্ব (বিশেষ্য) 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = মহৎ+ত্ব 
অর্থ: মহতের ভাব, উদারতা, প্রকর্ষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,১৯০.
'দর্শন' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) √দৃশ্+অনট
  2. খ) √দৃশ্+অন
  3. গ) √দিশ্+অনট
  4. ঘ) √দিশ্+অন
ব্যাখ্যা
- 'দর্শন' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে √দৃশ্+অন
- এটি একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

'অন' প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- √নী+অনট ˃ নে+অন = নয়ন।
- √নৃত+অন = নর্তন।
- √দৃশ্+অন = দর্শন।

• 'অনট' প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- √নন্দি+অনট = নন্দন।
- √ভোজ+অনট = ভোজন।
- √শ্রু”+অনট = শ্রবণ।
- √স্থা+অনট = স্থান।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯১.
‘ষ্ণ’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
  1. ক) মনুষ্য
  2. খ) উষ্ণ
  3. গ) দানব
  4. ঘ) সৌভাগ্য
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দের শেষে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ও-কারে পরিণত হয়। যেমন - মনু + ষ্ণ = মানব, দনু + ষ্ণ = দানব, গুরু + ষ্ণ = গৌরব।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
১,১৯২.
'কণ্টক + ইত = কণ্টকিত' কোন প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা  কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: 
ষ্ণ, ফি, ফ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। এ প্রত্যয় যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

• ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে:
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত,
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত

• ইমন্-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে
- নীল + ইমন = নীলিমা।
- মহৎ + ইমন = মহিমা।

• ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
- ঊর্মি + ইল = ঊর্মিল
- ফেন + ইল্ = ফেনিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,১৯৩.
নিচের কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. সলিল 
  2. দৈনিক
  3. চারিত্রিক
  4. প্রাণী
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ- সলিল (সল্ + ইল)।
উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়। যেমন-
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)-চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
- দিন + ইক= দৈনিক।
- চরিত্র + ইক =  চারিত্রিক।
- প্রাণ + ঈ =  প্রাণী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

১,১৯৪.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পুষ্ট + আই = পোষ্টাই
  2. চড়া + আও = চড়াও
  3. চিরু + অনি = চিরনি
  4. ঝল্ + ওক = ঝলক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয়: পুষ্ট + আই = পোষ্টাই।
- ‘পোস্টাই’ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

আই-তদ্ধিত প্রত্যয়টি ভাব অর্থে বিশেষ্য পদ গঠন করে। যেমন-
• পুষ্ট + আই = পোষ্টাই;
• বামন + আই = বামনাই;
• ধরতা + আই = ধরতাই।

--------------------
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ:
আ-কারান্ত প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতুর পরে 'আন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'আনো' হয়৷
যেমন:
• √জানা + আন (আনো) = জানানো।
এরূপ- শোনানো, ভাসানো ইত্যাদি৷

আও-প্রত্যয়: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে 'আও' প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
• √পাকড় + আও = পাকড়াও;
• √চড়্ + আও = চড়াও।

‘অনি’ (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √বাঁধ + অনি = বাাঁধনি;
• √চির + অনি = চিরনি।

‘অন্ত’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
• √ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

‘অক’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √মুড় + অক = মোড়ক;
• √ঝল্ + অক = ঝলক।

আল-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
• √মাত্‌ + আল = মাতাল;
• √মিশ্‌ + আল = মিশাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৯৫.
প্রত্যয়ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের দৃষ্টান্ত হলো-
  1. ক) পুরস্কার
  2. খ) অর্ধরাত্রি
  3. গ) প্রতিদ্বন্দ্বীতা
  4. ঘ) স্টেডিয়াম
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ইন প্রত্যয় সাধিত শব্দ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এর গঠন প্রতিদ্বন্দ্ব + ইন + তা = প্রতিদ্বন্দ্বিতা। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,১৯৬.
নিচের কোনটি সংস্কৃত শব্দ?
  1. ক) টোপর
  2. খ) আকাশ
  3. গ) চাঁদ
  4. ঘ) কুলা
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত শব্দ - জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, কৃষ্ণ, গৃহিণী, চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, হস্ত, মস্তক, চক্ষু, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।
• দেশি শব্দ- ডাব, ছুলা, কুলা, টোপর, ঢেকিঁ, প্রভৃতি দেশি শ্বব্দ।
• তদ্ভব শব্দ- চাঁদ, হাত, মাছ, দুধ, পা, নাক, কান প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
১,১৯৭.
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে কী যুক্ত হয়ে ক্রিয়া পদ গঠিত হয়?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) বিভক্তি
  4. ঘ) উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয় তাঁকে নির্দেশ করে যে পদ তাকে ক্রিয়া পদ বলে। 
যেমন: 
রাজীব খেলছে। 
বৃষ্টি হতে পারে

ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া পদ গঠিত হয়। 

যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,১৯৮.
'কাষ্ঠ' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ কাশ্‌ + থ
  2. √ কাষ্‌ + থ
  3. √ কাস্‌ + ঠ
  4. √ কাশ্‌ + ঠ
ব্যাখ্যা
কাষ্ঠ:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = √ কাশ্‌ + থ।
- অর্থ: কাঠ; জ্বালানি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৯৯.
“আনারস” কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) পোর্তুগীজ
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
• পোর্তুগীজ শব্দ - আনারস

পোর্তগীজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
- আনারস, গির্জা, পেঁপে, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি , পাদরি, কামরা,  জানালা, বোতাল, গামলা , সাবান, পিরিচ, তোয়ালে, সাগু,  আলপিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১,২০০.
'নর্তক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নর্ত + অক
  2. √নৃত্‌ + অক
  3. √নীর + তক
  4. √নর + অক
ব্যাখ্যা

• নর্তক = নৃত্‌ + অক।

• অক (ণক্):

- √নী + অক = নায়ক,
- √কৃ + অক = কারক,
- √বহ + অক = বাহক,
- √রুধ+ অক = রোধক;
- √নিন্দ + অক = নিন্দক;
- √হিনস + অক = হিংসক;

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।