'বোষ্টম' একটি অর্ধ তৎসম শব্দের উদাহরণ। - এটি মূলত সংস্কৃত বৈষ্ণব থেকে এসেছে।
• বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ তৎসম শব্দ বলে। - তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।
- জ্যোছনা, চেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-ততসম শব্দ যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।
অন্যদিকে, • চন্দ্র ও ভবন - তৎসম শব্দ। • ঢেঁকি = হিন্দি ঢেংকি শব্দ থেকে উদ্ভূত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২.
‘জবানবন্দি’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক
আরবি
খ
ফারসি
গ
ফরাসি
ঘ
পাঞ্জাবি
ব্যাখ্যা
জবানবন্দি প্রাশাসনিক ও সাংস্কৃতি সংক্রান্ত ফারসি শব্দ। আরও ফারসি শব্দ : - কারখানা - চশমা - তোশক - দফতর - দফতর - দরবার - দোকান - দস্তখত - দৌলত - নালিশ - বাদশাহ - বান্দা - মেথর - রসদ উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)
৩.
'বেটাইম' শব্দটি গঠিত হয়েছে -
ক
ক) ফারসি ও ইংরেজি শব্দে
খ
খ) ফরাসি ও ইংরেজি শব্দে
গ
গ) ফারসি ও ফরাসি শব্দে
ঘ
ঘ) ফারসি ও হিন্দি শব্দে
ব্যাখ্যা
বে ফারসি উপসর্গ এবং টাইম ইংরেজি শব্দ। অর্থাৎ ফারসি উপসর্গ এবং ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে বেটাইম শব্দটি গঠিত। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
ক
বাজার
খ
কলম
গ
গ্রহ
ঘ
কুড়ি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, গ্রহ - তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
• 'গ্রহ ' শব্দের অর্থ- সূর্যকে প্রদক্ষিণ কারী ৮টি জ্যোতিষ্ক।
অন্যদিকে, বাজার -ফারসি শব্দ। কলম - আরবি শব্দ। কুড়ি - বাংলা শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫.
'ডিঙি' কোন ভাষার শব্দ?
ক
সংস্কৃত
খ
দেশি
গ
হিন্দি
ঘ
আরবি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, - 'ডিঙি'দেশি শব্দ ।
• বেগম (বিশেষ্য): শব্দের উৎস - তুর্কি ভাষা। অর্থ - ১. সম্ভ্রান্ত মুসলমান নারী ২. মুসলমান শাসনকর্তার পত্নী/রানি
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
৭.
দেশি শব্দ নয় কোনটি?
ক
ঝিঙ্গা
খ
ঢিল
গ
মুড়কী
ঘ
মাছি
ব্যাখ্যা
দেশি শব্দ: - আর্য জাতি বাংলা দেশে আসার আগে দ্রাবিড়, অস্ট্রিক প্রভৃতি যে-সব প্রাক্-আর্য জাতি এদেশে বসবাস করত তাদের ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় রয়ে গেছে। সে-সব শব্দরাজিই ‘দেশি' শব্দ। অর্থাৎ, সংস্কৃতের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য, বাংলা দেশের আদিম অধিবাসীদের ভাষার শব্দাবলিকে ‘দেশি শব্দ’ বলা হয়। যেমন : কুড়ি (কোল ভাষা), পেট (তামিল ভাষা) , চুলা (মুণ্ডারি ভাষা)।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু দেশি শব্দ: যেমন- খুঁটি, ঝিঙ্গা, চিংড়ি, চাল, ট্যাংরা, ডিঙা, ঢিল , ঢিপি, ঝাটা, মুড়ি, মুড়কি, চেঁকি, ঢােল, ঝােল, ডাহা, ডাঙা, বঁটি, কামড়, দোয়েল, ফিঙে, খাঁচা, খড়, কুলা, গাড়ি, ঘােড়া, ঘােমটা, আঁকা, ধামা, বােঝা, চোঙ্গা, চাঙ, টোপর, ডাব ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, - মুড়কী একটি বানানজনিত ভুল যার শুদ্ধরূপ হচ্ছে মুড়কি যা একটি দেশি শব্দ। - অভিগম্য অভিধান অনুসারে - ঝিঙ্গা [(তৎসম বা সংস্কৃত) ঝিঙ্গাক>; মুণ্ডারি ঝিঙ্গা]। মুণ্ডারি দেশি শব্দের অন্তর্গত। - তবে আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ঝিঙে - বাংলা শব্দ এবং ঝিঙা - তদ্ভব শব্দ। (ঝিঙ্গা শব্দটি ভুল)
- মাছি একটি তদ্ভব শব্দ। যা সংস্কৃত মক্ষিকা থেকে আগত।
সুতরাং, সার্বিক বিবেচনায়, সঠিক উত্তর: ঘ) মাছি
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮.
কোনটি দেশি শব্দের উদাহরণ?
ক
লুঙ্গি
খ
খোকা
গ
সম্রাট
ঘ
গঞ্জ
ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী, গঞ্জ = দেশি শব্দ। কিন্তু, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, গঞ্জ = ফারসি শব্দ।
অন্যদিকে, লুঙ্গী = ফারসি শব্দ। খোকা = তুর্কি শব্দ। সম্রাট - সংস্কৃত শব্দ।
৯.
নিচের কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
ক
ক) তুলা
খ
খ) শুকনো
গ
গ) পড়িল
ঘ
ঘ) সহিত
ব্যাখ্যা
'তুলা' এর কথ্য বা চলতি রূপ হচ্ছে 'তুলো' এখানে 'তুলা' অর্থ কার্পাস বা শিমুল প্রভৃতি ফলের মধ্যকার সাদা আঁশ যা থেকে সুতা উৎপাদিত হয়।
অন্যদিকে, 'শুকনা' সংস্কৃত শব্দ, এর চলতি রীতি বা চলিত রূপ = শুকনো
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০.
'কুরবানি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
ক
ক) ফারসি
খ
খ) আরবি
গ
গ) তুর্কি
ঘ
ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, কুরবানি (বিশেষ্য) - আরবি শব্দ। অর্থ: আল্লাহর উদ্দেশে জিলহজ মাসের দশ তারিখে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পশু জবাই। - কোরবানি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১.
‘জেনানা’ কোন ভাষা থেকে আগত?
ক
আরবি
খ
তুর্কি
গ
ফারসি
ঘ
হিন্দী
ব্যাখ্যা
জেনান (বিশেষ্য): অর্থ - নারী বিশেষণ রূপের অর্থ - অন্তঃপুরবাসিনী ‘জেনানা’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত,
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
'পানি' কোন জাতীয় শব্দ?
ক
তৎসম
খ
অর্ধ-তদ্ভব
গ
দেশি
ঘ
বিদেশি
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
⇒ তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
⇒ তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
⇒ দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, চেঁকি ইত্যাদি।
⇒ বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি। উদাহরণ – - আরবি : আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি। - ফারসি : খােদা, দোজখ, নামাজ, রােজা, চশমা, তোশক, দোকান, কারখানা, আমদানি, জানােয়ার ইত্যাদি। - পর্তুগিজ : আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি। - ফরাসি : কুপন, ডিপাে, রেস্তাোরা, আঁতেল, কার্তুজ ইত্যাদি। - হিন্দি : পানি, ধােলাই, লাগাতার, সমঝােতা, হালুয়া।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০২০ সংস্করণ)।
১৩.
'কালি-কলম' কোন কোন ভাষার শব্দের মিশ্রণ?
ক
ক) আরবি + সংস্কৃত
খ
খ) ফারসি + আরবী
গ
গ) ইংরেজি + ফারসি
ঘ
ঘ) সংস্কৃত + আরবি
ব্যাখ্যা
• কতিপয় মিশ্র শব্দের উদাহরণঃ - ডাক্তার-বাবু = ইংরেজি + তৎসম, - খ্রিস্টাব্দ = ইংরেজি + তৎসম, - চৌ-হদ্দি = ফারসি + আরবী, - হাট-বাজার = বাংলা + ফারসি, - কালি-কলম = সংস্কৃত + আরবি, - পকেট-মার = ইংরেজি + বাংলা, - ডাক্তার-খানা = ইংরেজি + ফারসি, উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৪.
আরবি উৎস থেকে আত্তীকৃত এবং প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দ হলাে -
ক
ক) রায়
খ
খ) জবানবন্দি
গ
গ) নমুনা
ঘ
ঘ) দস্তখত
ব্যাখ্যা
রায় (Judgement) শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত। এর অর্থ - বিচারকের সিদ্ধান্ত; আদালতের বা বিচারকের বিচার-ফল।
- জবানবন্দি, নমুনা, দস্তখত এই শব্দগুলোর উৎস ফারসি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১৫.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ নয়?
ক
কুলা
খ
ডুলা
গ
চুলা
ঘ
মুলা
ব্যাখ্যা
মুলা, মূলা, মুলো (বিশেষ্য): এক প্রকার কন্দ; তরকারিবিশেষ; radish। {(তৎসম বা সংস্কৃত) মূলক>} অর্থ্যাৎ, মুলা শব্দটি সংস্কৃত মূল থেকে বাংলায় এসেছে।
কুলা, ডুলা, চুলা, গঞ্জ, টাপুর, টুপুর ইত্যাদি দেশি শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
১৬.
নিচের কোন শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত?
ক
ক) আলমারি
খ
খ) কার্তুজ
গ
গ) তুরুপ
ঘ
ঘ) হরতাল
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় বহু বিদেশী শব্দ অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। যেমন - - পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ - আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি পাদ্রী ইত্যাদি। - কার্তুজ - শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে। - তুরুপ - শব্দটি ওলন্দাজ ভাষা থেকে এবং হরতাল শব্দটি - গুজরাটি ভাষা থেকে আগত। উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
১৭.
‘মর্সিয়া’ শব্দটির উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
ক
আরবি
খ
ফারসি
গ
তুর্কি
ঘ
হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, মর্সিয়া (বিশেষ্য) ফারসি থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: - মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা - কারবালার যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শোকগাথা, - মহরমে গীত শোকগাথা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
'খাস কামরা' শব্দের 'খাস' কোন ভাষা থেকে এসেছে?
ক
ক) আরবি
খ
খ) হিন্দি
গ
গ) ফারসি
ঘ
ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
আম, খাস, লা, গর ইত্যাদি হলো আরবি উপসর্গ। অর্থাৎ, 'খাস কামরা' শব্দের ‘খাস', আরবি ভাষা থেকে এসেছে। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৯.
‘চাহিদা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক
গুজরাটি
খ
তদ্ভব
গ
ফরাসি
ঘ
পাঞ্জাবি
ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই অনুসারে, চাহিদা শব্দটি পাঞ্জাবি ভাষার শব্দ থেকে বাংলায় আগত হিসাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'চাহিদা' শব্দটি সরাসরি বাংলা ভাষার নিজস্ব বা তদ্ভব শব্দ হিসাবে দেখানো হয়েছে। 'চাহিদা' শব্দটি 'চাহ্' ধাতুর সঙ্গে হিন্দী ইতা<ইদা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত। অর্থ্যাৎ শব্দটি তদ্ভব শব্দের মাধ্যমে সরাসরি বাংলায় এসেছে। শব্দটির অর্থ - বাজারে প্রয়োজনীয় পরিমাণ দ্রব্যের প্রয়োজনীতা।
সুতরাং, চাহিদা শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে, ১. প্রশ্নের অপশনে যদি তদ্ভব থাকে তাহলে উত্তর নিঃসন্দেহে তদ্ভব হবে। ২. তদ্ভব না থেকে যদি 'বাংলা' থাকে তাহলে উত্তর বাংলা হবে। ৩. যদি অপশনে তদ্ভব বা বাংলা কোনটিই না থাকে এবং পাঞ্জাবি থাকে তাহলে 'পাঞ্জাবি' উত্তর করা যাবে। [যেহেতু এটা মাধ্যমিক ব্যাকরণ বইয়ে এখনো আছে, সেই সূত্র]
বাংলা ভাষায় আগত কতিপয় বিদেশি শব্দ: পাঞ্জাবি শব্দ : শিখ গুজরাটি শব্দ : খদ্দর, হরতাল তুর্কি শব্দ : চাকর, চাকু, তোপ, দারোগা ফরাসি শব্দ : কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯) ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০.
'খাজনা' কোন ভাষার শব্দ?
ক
আরবি
খ
ফারসি
গ
বাংলা
ঘ
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘খাজনা’- আরবি ভাষার শব্দ।
• ‘খাজনা’ শব্দের অর্থ: - সরকার বা ভূস্বামীকে দেয় কর; - ভূমিকর; - রাজস্ব।
• বাংলাপিডিয়া অনুসারে, খাজনা (জমা) মুঘল শাসনামলে ভারতবর্ষে রায়ত কর্তৃক সরকারকে প্রদেয় খাজনাকে ‘জমা’ বলা হতো।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১.
কোনটি দেশি শব্দ?
ক
নাতিশীতোষ্ণ
খ
বাতাসা
গ
এলাচি
ঘ
নারী
ব্যাখ্যা
• বাতাসা— দেশি শব্দ।
• 'বাতাসা' শব্দের অর্থ: - চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্ট দ্রব্যবিশেষ।
অন্যদিকে, নাতিশীতোষ্ণ, এলাচি, নারী - তৎসম বা সংস্কৃত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২.
কোনটি তৎসম শব্দ?
ক
কিংবদন্তি
খ
হাতি
গ
চাঁদ
ঘ
তেঁতুল
ব্যাখ্যা
কিংবদন্তি (বিশেষ্য) - সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = কিম্+√বদ্+অন্তি অর্থ: - লোক পরম্পরায় শ্রুত কাহিনি - গুজব
অন্যদিকে, হাতি = সংস্কৃত শব্দ হস্তী থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ। চাঁদ = সংস্কৃত শব্দ চন্দ্র থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ। তেঁতুল = সংস্কৃত শব্দ তিন্তিড়ী থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৩.
‘নমুনা’ শব্দটি কোন ভাষার?
ক
ক) আরবি
খ
খ) ফারসি
গ
গ) ফরাসি
ঘ
ঘ) গুজরাটি
ব্যাখ্যা
নমুনা - কোনো জিনিস বা কাজের সামান্য অংশ যা থেকে সমগ্রের পরিচয় পাওয়া যায়; নিদর্শন; পরিচায়ক; আদর্শ; তুলনা। এটি একটি ফারসি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
২৪.
কোনটি পর্তুগীজ শব্দ?
ক
ক) চাকু
খ
খ) ছুরি
গ
গ) চামচ
ঘ
ঘ) আলপিন
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ শব্দ : আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
২৫.
নিম্নের কোনটি তৎসম শব্দ নয়?
ক
ক) চন্দ্র
খ
খ) ধর্ম
গ
গ) আফিম
ঘ
ঘ) ভবন
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের উদাহরণ হলো - চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ক্ষুধা, পদ্ম, ক্ষমা, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।'আফিম' শব্দটি বিদেশি (ইংরেজি - Opium) শব্দ থেকে কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে। এরকম আরো শব্দের উদাহরণ - বোতল (Bottle), হাসপাতাল (Hospital) ইত্যাদি। অর্ধ-তৎসম শব্দ হলো - নেমন্তন্ন, পুরুত, মিত্তির, জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, বোষ্টম, কুচ্ছিত ইত্যাদি। কয়েকটি তদ্ভব শব্দের উদাহরণ হলো - হাত, চামার ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৬.
নিচের কোনটি অর্ধতৎসম শব্দ?
ক
ক) গর্দভ
খ
খ) গৃহস্থ
গ
গ) পরশ
ঘ
ঘ) গৃহিণী
ব্যাখ্যা
যে সকল তৎসম শব্দ কিছুটা বিকৃত বা পরিবর্তত হয়ে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে। যেমন - গৃহিনী = গিন্নী, কর্মকার = কামার, গর্দভ = গাধা, বর্তিকা = বাতি, গৃহস্থ = গেরস্থ নিমন্ত্রণ = নেমন্তন্ন, হংস = হাঁস, জ্যোৎস্না = জ্যোছনা, স্পর্শ = পরশ ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
২৭.
'মিনতি' শব্দটি যে শব্দযোগে তৈরি হয়েছে-
ক
ক) সংস্কৃত ও আরবি
খ
খ) আরবি ও ফারসি
গ
গ) সংস্কৃত ও পর্তুগিজ
ঘ
ঘ) দেশীয় ও পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
আরবি ‘মিন্নত' ও বাংলায় ‘নতি' এর অনুকরণে নিষ্পন্ন শব্দ ‘মিনতি'। - এর অর্থ = বিনীত প্রার্থনা, আবেদন, অনুরোধ।
উৎস: বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
খ্রিস্টাব্দ কোন ধরনের শব্দের সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ?
ক
ক) গ্রিক+তৎসম
খ
খ) ইংরেজি+তৎসম
গ
গ) ততসম+ফারসি
ঘ
ঘ) ইংরেজি+আরবি
ব্যাখ্যা
কয়েকটি মিশ্র শব্দঃ খ্রিস্টাব্দ, হেড-পণ্ডিত = ইংরেজি+তৎসম। ডাক্তার-খানা, হেড-মৌলভি = ইংরেজি + ফারসি। চৌ-হদ্দি = ফারসি+আরবি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৯.
ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দ-
ক
ক) চকমক
খ
খ) সওগাত
গ
গ) আঁতাত
ঘ
ঘ) মুচলেকা
ব্যাখ্যা
• তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ - বাবা, - উজবুক, - কাঁচি, - কাবু, - কুর্নিশ, - কুলি (মজুর), - কোর্মা, - খাতুন, - চকমক, - তালাশ, - তােপ, - বন্দুক, - বাবুর্চি, - বেগম, - মুচলেকা, - লাশ, - সওগাত - দারোগা, - চাকর, - চাকু, - তোপ ইত্যাদি। • ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ - কুপন, - ডিপো, - রেস্তোরাঁ, - আঁতেল, - ওলন্দাজ, - দিনেমার, - কাফে, - আঁতাত, - বুর্জোয়া, - রেনেসাঁস ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০.
নিচের কোনটি বিদেশি শব্দ?
ক
ক) কান
খ
খ) কাজ
গ
গ) কাঁচি
ঘ
ঘ) কলম
ব্যাখ্যা
'কলম' আরবি ভাষার শব্দ। ১ কোনো শক্ত দণ্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরি লেখনী; ঝরনাকলম। ২ নলখাগড়া পালক প্রভৃতির অগ্রভাগ ত্যারচা করে কেটে তৈরি লেখনী।
'কাঁচি' দেশি শব্দ। ১. কাঁচি শব্দের শব্দ কম ওজন বিশিষ্ঠ ২. ঠাসবুনন সম্পন্ন
(আবার 'কাঁচি' তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ। যার অর্থ - কাগজ বা কাপড় কাটার যন্ত্র বিশেষ)
কাজ / কাজ/ [স. কার্য >] ১. কর্ম, কার্য (কাজ করা )। ২. দরকার (রোজ গিয়ে কাজ নেই)। ৩. কৃত বিষয় (এটা নিশ্চয় ওর কাজ)। ৪. কর্তব্য (তোমার কাজ পড়াশোনা করা)। ৫. উদ্দেশ্য সিদ্ধি (ওষুধে কাজ হয়েছে)। ৬. কারুকার্য (রঙের কাজ)। ৭. সাধ্য (এ কাজ ওর আয়ত্তের বাইরে)। ৮. ব্যবহারযোগ্যতা (এটা কোনো কাজের নয়)।
কান [স. কর্ণ >] বি. ১ মানুষ ও অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রবণ এবং ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক মাথার দুইপাশে অবস্থিত স্থূল খাড়া বহিঃস্থ অঙ্গবিশেষ, কর্ণ, শ্রবণেন্দ্রিয়। ২ সেতার তানপুরা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রের সুরবাঁধার জন্য তার জড়ানো গোলাকার চাবি বিশেষ।
[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান]
৩১.
কোনটি দেশি শব্দ?
ক
ক) দেওয়াল
খ
খ) আকুল
গ
গ) চাবুক
ঘ
ঘ) আড়ং
ব্যাখ্যা
আড়ং (বিশেষ্য পদ) - দেশি শব্দ অর্থ- - হাট, গঞ্জ, ক্রয় বিক্রয়ের প্রধান স্থান। - মেলা - কারখানা, গোলাঘর
দেওয়াল = ফারসি আকুল =সংস্কৃত চাবুক = ফারসি
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩২.
‘খ্রিষ্টাব্দ’ শব্দটিতে নিচের কোন দুটি ভাষার মিশ্রণ রয়েছে?
ক
ইংরেজি + বাংলা
খ
ইংরেজি + সংস্কৃত
গ
ইংরেজি + তদ্ভব
ঘ
ইংরেজি + ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মিশ্র শব্দ: - রাজা-বাদশা (তৎসম + ফারসি), - হাট-বাজার (বাংলা + ফারসি), - হেড-মৌলভি (ইংরেজি + ফারসি), - হেড-পণ্ডিত (ইংরেজি + তৎসম), - খ্রিষ্টাব্দ (ইংরেজি + তৎসম), - ডাক্তার-খানা (ইংরেজি + ফারসি), - পকেটমার (ইংরেজি + বাংলা), - চৌহদ্দি (বাংলা + ফারসি) ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, 'চৌহদ্দি' শব্দটি নবম-দশম শ্রেণির ২০১৯ সংস্করণে ফারসি + আরবি ভাষার শব্দ দ্বারা গঠিত বলা হলে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, তা বাংলা + ফারসি ভাষার শব্দ দ্বারা গঠিত মিশ্র শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।
৩৩.
কৃষ্ণ কোন ধরণের শব্দ?
ক
ক) দেশি
খ
খ) বিদেশী
গ
গ) তৎসম
ঘ
ঘ) অর্ধতৎসম
ঙ
ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কেষ্ট [কেশ্টো] (বিশেষ্য) কৃষ্ণ। কেষ্টবিষ্টু (বিশেষ্য) (বিদ্রূপে) সন্মানিত লোক; হোমরা-চোমরা। {(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) কৃষ্ণ> কেষ্ট (অর্ধতৎসম)} উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৩৪.
'পৃথিবী' কোন জাতীয় শব্দ?
ক
তৎসম
খ
দেশি
গ
তদ্ভব
ঘ
বিদেশি
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ: যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে, সে সব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ। তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। উদাহরণ - পৃথিবী - আকাশ - গ্রহ - বৃক্ষ
[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১।]
৩৫.
'রাজা-বাদশাহ' শব্দটি গঠিত হয়েছে কোন কোন ভাষার মিশ্রণে?
ক
ক) আরবি ও তৎসম
খ
খ) তৎসম ও ফারসি
গ
গ) ফারসি ও আরবি
ঘ
ঘ) তৎসম ও বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'রাজা-বাদশাহ' শব্দটি 'তৎসম ও ফারসি' ভাষার মিশ্রণে গঠিত হয়েছে।
• কিছু মিশ্রিত শব্দের উদাহরণ- - হাট-বাজার (বাংলা ও ফারসি), - রাজা-বাদশাহ (তৎসম ও ফারসি), - হেড-মৌলবী (ইংরেজি ও ফারসি), - হেড-পন্ডিত (ইংরেজি ও তৎসম), - খ্রিস্টাব্দ (ইংরেজি + তৎসম), - ডাক্তার-খানা (ইংরেজি ও ফারসি), - পকেটমার (ইংরেজি ও বাংলা)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬.
ব্যাকরণ শব্দটি হলো--
ক
ক) তৎসম
খ
খ) অর্ধ-তৎসম
গ
গ) তদ্ভব
ঘ
ঘ) দেশী
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ শব্দটি তৎসম বা সংস্কৃত ভাষার শব্দ। সূত্রঃ বাংলা একাডেমী
৩৭.
'ব্যাকরণ' কোন ভাষায় শব্দ?
ক
ক) সংস্কৃত
খ
খ) হিন্দি
গ
গ) তৎসম
ঘ
ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ শব্দটি তৎসম বা সংস্কৃত ভাষার শব্দ। সূত্রঃ বাংলা একাডেমী।
৩৮.
'ইংরেজি' শব্দটি উৎসগত দিক দিয়ে কোন ভাষার শব্দ?
ক
ক) ইংরেজি
খ
খ) ওলন্দাজ
গ
গ) পর্তুগিজ
ঘ
ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
ইংরেজি (ইংরেজি) - বিশেষ্য - উৎসগত দিক দিয়ে পর্তুগিজ শব্দ। অর্থ = ইংরেজদের ভাষা
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৯.
'চশমা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
ক
আরবি
খ
ফারসি
গ
হিন্দি
ঘ
তুর্কী
ব্যাখ্যা
• চশমা (বিশেষ্য) - এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো: - গ্রেপ্তারি, - গ্রেফতার, - দারোগা, - খোয়াব, - চেহারা, - কাগজ, - চাকর, - চারপায়, - ছয়লাপ, - লুঙ্গি, - দারোয়ান, - সাদা, - আসমান, - কাজি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
ক
ক) পদ্ম
খ
খ) বাক্য
গ
গ) কলম
ঘ
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত: ক. মৌলিক শব্দ ও খ. সাধিত শব্দ। ক. মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন: আম, বই, কলম, বাক্য, পদ্ম, ব্রাহ্মণ, নিঃস ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷
৪১.
কোনটি দেশি শব্দ?
ক
ঘাট
খ
ঘাঁটন
গ
ঘাঁটি
ঘ
ঘায়েল
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ - ঘাঁটি।
• দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি, ঘাঁটি ইত্যাদি।
অন্যদিকে, • সংস্কৃত শব্দ - ঘাট। • বাংলা শব্দ - ঘাঁটন। • হিন্দি শব্দ - ঘায়েল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪২.
'আলকাতরা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক
ফারসি
খ
পর্তুগিজ
গ
ফরাসি
ঘ
গুজরাট
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু পর্তুগিজ ভাষার শব্দ হলো- বোতাম, আলপিন, পাউরুটি, ইংরেজ, সাবান, পাদ্রি, আলকাতরা, বারান্দা, পেয়ারা, বোতাম, আলমারি, গির্জা, চাবি, আনারস, ইস্পাত, আচার, পিস্তল, গুদাম ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩.
তৎসম শব্দ নয় কোনটি?
ক
আকাশ
খ
বৃক্ষ
গ
পাখি
ঘ
পৃথিবী
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ নয় - পাখি। - এটি তদ্ভব শব্দ।
• বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার: - উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা: ১. তৎসম, ২. তদ্ভব, ৩. দেশি ও ৪. বিদেশি। - এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
• তৎসম শব্দ: - প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি। - সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৪৪.
'মহকুমা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
ক
ক) তুর্কি
খ
খ) ফারসি
গ
গ) আরবি
ঘ
ঘ) পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
- 'মহকুমা' আরবি শব্দ। - যার বাংলা অর্থ- কয়েকটি থানার সমন্বয়ে গঠিত প্রশাসনিক অঞ্চল (বাংলাদেশে বর্তমানে জেলায় উন্নীত)।
আরবি ভাষা থেকে বাংলায় আসা আরো কিছু শব্দ: ১. ধর্ম সংক্রান্ত - আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওযু, কোরবানি, কোরআন, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, যাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।
২. প্রসাশনিক ও সাংস্কৃতিক - আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, খারিজ, গায়েব, মহকুমা, মুন্সেফ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫.
'মশগুল' কোন ভাষার শব্দ?
ক
ক) তুর্কী
খ
খ) হিন্দি
গ
গ) ফার্সি
ঘ
ঘ) আরবি
ঙ
ঙ) বাংলা
ব্যাখ্যা
- মশগুল, মসগুল (বিশেষণ) - মগ্ন; আবিষ্ট; বিভোর; বিহ্বল। - এটি একটি আরবি শব্দ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আরবি শব্দ হলোঃ - জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল, আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমী অভিধান।
৪৬.
বাংলা ভাষায় শব্দসম্ভারকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
ক
ক) দুইটি
খ
খ) তিনটি
গ
গ) চারটি
ঘ
ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২২ বোর্ড বই অনুসারে, উৎসগত দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার চার ভাগে বিভক্ত। যথা: ১. তৎসম ২. তদ্ভব ৩. দেশি ৪. বিদেশি
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'ঝিনুক'- দেশি শব্দ।
• 'ঝিনুক' এর অর্থ: - খাদ্য ও মুক্তা আহরণের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় এমন দুই ভাগে বিভক্ত কালচে সাদা প্রভৃতি রঙের শক্ত খোলসাবৃত কোমল দেহবিশিষ্ট মলাস্ক পর্বের অমেরুদণ্ডী জলজ প্রাণী। - শুক্তি; - শামুক।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৯.
'শহিদ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
ক
ক) আরবি
খ
খ) ফারসি
গ
গ) ফরাসি
ঘ
ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
শহিদ (বিশেষ্য) - আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ। অর্থ: - ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী ব্যক্তি। - দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী যোদ্ধা। - সত্য প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে নিহত।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫০.
'কাঁচি' কোন ধরনের শব্দ?
ক
ফারসি
খ
আরবি
গ
তুর্কি
ঘ
হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে, 'কাঁচি' - তুর্কি শব্দ।
'কাঁচি' (বিশেষ্য)- শব্দের অর্থ: - কাপড় কাগজ প্রভৃতি কাটার জন্য ব্যবহৃত দুটি হাতলযুক্ত ইস্পাতের ফলা একত্রে জুড়ে তৈরি ধারালো অস্ত্রবিশেষ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৫১.
নিচের কোনটি দেশী শব্দ না?
ক
ক) কোলা
খ
খ) ডাব
গ
গ) বাকি
ঘ
ঘ) ঢেঁকি
ব্যাখ্যা
দেশী শব্দ - গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, কোলা, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি। ‘বাকি’ আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫২.
‘কারিগর’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
ক
আরবি
খ
ফারসি
গ
পর্তুগিজ
ঘ
তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ফারসি শব্দসমূহ হলো- আইন, আওয়াজ, আচার, আরাম, আশমান, কারিগর, দর্জি, দালান, পোশাক, বাগান, নমুনা, জর্দা, শিরোনাম, আতশবাজি, শুমারি, ইত্যাদি। বাকি, ফায়দা, নগদ ইত্যাদি হলো আরবি শব্দ। পেয়ারা, আনারস, বালতি ইত্যাদি হলো পর্তুগিজ শব্দ। তুর্কি শব্দ - কোর্মা, বাবুর্চি, উজবুক , কাঁচি, কাবু, কুলি, চাকর, চাকু, তোপ।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা,ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩.
বাগর্থদ্যোতক ক্ষুদ্রতম একককে কী বলা হয়?
ক
ক) শব্দ
খ
খ) ধ্বনি
গ
গ) ধ্বনিমূল
ঘ
ঘ) রূপমূল
ব্যাখ্যা
শব্দ ও রূপমূল - শব্দকে বিভাজন করলে আরাে ক্ষুদ্রতর বাগর্থদ্যোতক অংশ পাওয়া যায়। ভাষার এই সব বাগর্থদ্যোতক ক্ষুদ্রতম একককে বলা হয় রূপমূল। - অর্থাৎ, রূপমূল হলাে ভাষার এমন ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের হয় সুস্পষ্ট বাগর্থ থাকবে কিংবা অন্ততপক্ষে বাগৰ্থের কোনাে যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে। - আমরা জানি ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হচ্ছে ধ্বনিমূল। - কিন্তু ধ্বনিমূলগুলাে কোনাে অর্থদ্যোতকতাকে ধারণ করে না। - অপরদিকে, রূপমূল মাত্রই কোনাে না কোনােভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, ‘অবােধ’ শব্দটিকে দুটি ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় : ‘অ’ এবং ‘বােধ'। এখানে ‘অ’ একটি রূপমূল যা উপসর্গ হিসেবে এই শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ‘বােধ’ আরেকটি রূপমূল। লক্ষণীয় যে, ‘অ’ রূপমূলটির স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশের সুযােগ না থাকলেও এর সাহায্যে কোনাে প্রকার অভাবকে বােঝানাে হচ্ছে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। অপরদিকে, ‘বােধ’ রূপমূলটি স্বাধীনভাবেই অর্থ প্রকাশ করতে পারছে। এর ওপর ভিত্তি করে রূপমূলকে দুটি ভাগে ভাগ ভাগ করা যায়। এগুলাে হলাে : - মুক্ত রূপমূল - বদ্ধ রূপমূল
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪.
‘চর্মকার’ কী ধরনের শব্দ?
ক
ক) বাংলা
খ
খ) প্রাকৃত
গ
গ) তদ্ভব
ঘ
ঘ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
- সংস্কৃতের শব্দভাণ্ডার থেকে সব সময়েই প্রয়ােজনীয় শব্দাবলি বাংলা ভাষায় গ্রহণ করা হয়। যে-সব সংস্কৃত শব্দ অপরিবর্তিত রূপে হুবহু বাংলায় এসেছে সে-সব শব্দকে ‘তৎসম শব্দ’ বলা হয়। - প্রাচীন-ব্যাকরণ রচয়িতারা ‘তৎ' অর্থাৎ ‘তা’ বলতে বােঝাতেন ‘সংস্কৃত’ (এখন বলি প্রাচীন ভারতীয় আর্য) ভাষাকে। আর ‘সম’ শব্দের অর্থ ‘সমান। তৎসম শব্দের অর্থ সংস্কৃতের সমান অর্থাৎ সংস্কৃত। - বাংলা সাধু ভাষার শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ শব্দ তৎসম। - তৎসম শব্দের উদাহরণ : চর্মকার, অঞ্চল, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য, আকাশ, স্থল, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি। উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমী অভিধান।
৫৫.
কোনটি তৎসম শব্দের উদাহরণ?
ক
মাণিক্য
খ
জোছনা
গ
দুধ
ঘ
জলপাই
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ: - তৎসম শব্দ হলো সেই সব সংস্কৃত শব্দ যা কোনো পরিবর্তন বা রূপান্তর ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে। - 'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম) [এখানে 'তার' অর্থ সংস্কৃতের]।
• তৎসম শব্দের ব্যবহার: - সাধারণত ণ-যুক্ত শব্দ তৎসম হয়, যেমন—চাণক্য, মাণিক্য, গণ, লবণ, মণ। - ষ-যুক্ত শব্দও সাধারণত তৎসম হয়, যেমন—আষাঢ়, কৃষ্ণ, বিষ্ণু, মানুষ, পাষাণ, ভাষা। - স্ব-যুক্ত শব্দ যেমন—স্বণ, স্বর্গ ইত্যাদি তৎসম হিসেবে গণ্য হয়। - এছাড়া, সংস্কৃত উপসর্গ বা প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দ যেমন—প্রতিবাদ, অভিযোগ, কর্তব্য, করণীয়- তৎসম শব্দ হয়। - সনাতন ধর্ম সংক্রান্ত শব্দ যেমন—ব্রাহ্মণ, দেবতা, দেবী, মন্দির, পুজা, সরস্বতী- তৎসম শব্দের অন্তর্ভুক্ত। - ভূ-মণ্ডল সংক্রান্ত শব্দ যেমন—চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র- তৎসম হিসেবে পরিগণিত হয়। - এছাড়া, দিক নির্দেশক শব্দ যেমন—উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ, পশ্চিম, ঈশান, নৈঋতও সাধারণত তৎসম শব্দ হিসেবে ধরা হয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ; আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫৬.
‘মহাপরিচালক’ কোন ধরণের শব্দ?
ক
তৎসম
খ
তদ্ভব
গ
দেশি
ঘ
বিদেশি
ব্যাখ্যা
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবির্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।যেমন, পৃথিবী, আকাশ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলে।যেমন, অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭.
তদ্ভব শব্দ কোনটি?
ক
মা
খ
মস্তক
গ
কুড়ি
ঘ
আকাশ
ব্যাখ্যা
• তদ্ভব শব্দ - মা।
• বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার: - উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা: ১. তৎসম, ২. তদ্ভব, ৩. দেশি ও ৪. বিদেশি। - এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
• তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। যথা: মা; হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির, মাছ ইত্যাদি।
অন্যদিকে, • তৎসম শব্দ - মস্তক, আকাশ। • দেশি শব্দ - কুড়ি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক
শরবত
খ
হরতাল
গ
চাহিদা
ঘ
ফিতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'ফিতা' পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অন্যদিকে, - 'শরবত' আরবি ভাষা হতে আগত শব্দ। - 'চাহিদা' দেশি শব্দ। - 'হরতাল' গুজরাটি ভাষা হতে আগত শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৯.
'লতাপাতা' কোন দুটি শব্দের মিশ্রনে গঠিত শব্দ?
ক
ক) তৎসম+বাংলা
খ
খ) তৎসম+ফারসি
গ
গ) বাংলা+ফারসি
ঘ
ঘ) বাংলা+তৎসম
ব্যাখ্যা
'লতাপাতা' শব্দটি তৎসম+বাংলা ( সংস্কৃত+বাংলা) শব্দের মিশ্রনে গঠিত।
লতাপাতা (বিশেষ্য) - সংস্কৃত লতা ও বাংলা পাতা শব্দ দুটি মিলে লতাপাতা শব্দটি গঠন করে। অর্থ: লতা ও পাতা।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬০.
দেশি শব্দ কোনটি?
ক
চাল
খ
চালতা
গ
চালা
ঘ
চালাক
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ - চালতা।
অন্যদিকে, • সংস্কৃত শব্দ - চাল। • বাংলা শব্দ - চালা। • ফারসি শব্দ - চালাক।
• দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬১.
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডার কত প্রকার?
ক
চার
খ
পাঁচ
গ
ছয়
ঘ
সাত
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
⇒ তৎসম শব্দ : প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
⇒ তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
⇒ দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, চেঁকি ইত্যাদি।
⇒ বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি। উদাহরণ –
আরবি : আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি। ফারসি : খােদা, দোজখ, নামাজ, রােজা, চশমা, তারিখ, তোশক, দোকান, কারখানা, আমদানি, জানােয়ার ইত্যাদি। ইংরেজি : চেয়ার, টেবিল, কলেজ, স্কুল, পেনসিল, ব্যাগ, ফুটবল, ক্রিকেট, হাসপাতাল, বাক্স,বােতল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান ওমাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬২.
নিচের কোন শব্দটি জাপানি শব্দ?
ক
সাম্পান
খ
চাকু
গ
হাস্নাহেনা
ঘ
চাকর
ব্যাখ্যা
চা, চিনি, সাম্পান - চিনা শব্দ। চাকর, দারোগা, বন্দুক, চাকু - তুর্কি শব্দ। রিক্সা, হারিকিরি, জুডো, হাস্নাহেনা ইত্যাদি জাপানি শব্দ। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬৩.
তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দ নয়-
ক
উজবুক
খ
কার্তুজ
গ
সওগাত
ঘ
কোর্মা
ব্যাখ্যা
• তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ - বাবা, - উজবুক, - কাঁচি, - কাবু, - কুর্নিশ, - কুলি (মজুর), - কোর্মা, - খাতুন, - চকমক, - তালাশ, - তােপ, - বন্দুক, - বাবুর্চি, - বেগম, - মুচলেকা, - লাশ, - সওগাত, - চাকর, - চাকু, - তোপ ইত্যাদি।
• ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ - কুপন, - ডিপো, - রেস্তোরাঁ, - আঁতেল, - কার্তুজ, - ওলন্দাজ, - দিনেমার, - কাফে, - আঁতাত, - বুর্জোয়া, - রেনেসাঁস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
দেশি ও বিদেশি কিংবা বিদেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে যে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয় তাকে মিশ্র শব্দ বলে। এখানে রাজা - বাদশা শব্দটি (তৎসম + ফারসি), হেড - মৌলভি (ইংরেজি + ফারসি), ডাক্তার - খানা (ইংরেজি + ফারসি) এবং চৌ - হদ্দি শব্দটি (ফারসি + আরবি) ভাষার শব্দ সহযোগে গঠিত। উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
৬৬.
'আঁখিজল' কোন দুটি শব্দের মিশ্রনে গঠি?
ক
ক) বাংলা+হিন্দি
খ
খ) সংস্কৃত+বাংলা
গ
গ) বাংলা+সংস্কৃত
ঘ
ঘ) হিন্দি+বাংলা
ব্যাখ্যা
'আঁখিজল' = বাংলা+সংস্কৃত যোগে গঠিত শব্দ।
আঁখিজল (বিশেষ্য) - বাংলা আঁখি+সংস্কৃত জল এর মিশ্রনে গঠিত শব্দ। অর্থ: চোখের জল, অশ্রু।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬৭.
'ওলন্দাজ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
ক
পর্তুগিজ
খ
ইংরেজ
গ
ফারসি
ঘ
ফরাসি
ব্যাখ্যা
ওলন্দাজ (বিশেষ্য/বিশেষণ) - এটি ফরাসি ভাষার শব্দ। অর্থ - হল্যান্ডের অধিবাসী - Dutch
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯.
উকিল শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে?
ক
ক) তৎসম
খ
খ) আরবি
গ
গ) হিন্দি
ঘ
ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলােকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : আল্লাহ্, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গােসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি। ২. প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ: আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মােক্তার, রায় ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৭০.
কোনটি তদ্ভব শব্দ ?
ক
ক) আকাশ
খ
খ) পেট
গ
গ) দাঁত
ঘ
ঘ) টোপর
ব্যাখ্যা
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলে। যেমন - হাত, পা, কান, দাঁত, ঘোড়া, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেনি।
৭১.
'সওগাত’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক
ফরাসি
খ
হিন্দি
গ
আরবি
ঘ
তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতিপয় তুর্কি শব্দ হলো- সওগাত, বাবা, উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুর্নিশ, কুলি (মজুর), কোর্মা, খাতুন, চকমক, চাকু, তালাশ, তােপ, বন্দুক, বাবুর্চি, বারুদ, বাহাদুর, বেগম, বোঁচকা, মুচলেকা, লাশ, সওগাত ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
তবে, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণির (২০১৯ সংস্করণ) বইয়ে 'খদ্দর' গুজরাটি শব্দ হিসেবে দেওয়া আছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮.
'চৌরাস্তা' শব্দে কোন দুটি ভাষার মিশ্রণ ঘটেছে?
ক
বাংলা + হিন্দি
খ
আরবি + ফারসি
গ
বাংলা + ফারসি
ঘ
উর্দু + ফারসি
ব্যাখ্যা
চৌরাস্তা: অর্থ - চারটি রাস্তার সংযোগস্থল/চৌমাথা। এখানে 'বাংলা' চৌ শব্দের সাথে ফারসি রাস্তা শব্দের মিশ্রণ ঘটেছে। সুতরাং, সঠিক উত্তর - বাংলা + ফারসি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৯.
উৎপত্তি অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভারকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়?
ক
ক) দুইটি
খ
খ) তিনটি
গ
গ) চারটি
ঘ
ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
অর্থ অনুসারে শব্দ তিন প্রকার- যৌগিক, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ, যােগরূঢ় শব্দ। উৎপত্তি অনুসারে শব্দ পাঁচ প্রকার - তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি। গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার- মৌলিক শব্দ, সাধিত শব্দ। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
৮০.
কোনটি তদ্ভব শব্দ-
ক
ক) চন্দ্র
খ
খ) সূর্য
গ
গ) হাত
ঘ
ঘ) নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
তদ্ভব শব্দগুলোঃ 'আখি' 'আজ' করেছে 'কাজ', 'মৌ' পরেছে 'বিয়ে' র 'সাজ'। 'বৌমা' এনেছে 'মাছ' 'ভাত'। 'মাথা' য় 'হাত' ''কান' এ 'দাত', 'চাঁদ' 'সই' করা 'তদ্ভব' এর 'কাজ'। সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৮১.
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে কী বলে?
ক
দেশি শব্দ
খ
তদ্ভব শব্দ
গ
অর্ধ-তৎসম শব্দ
ঘ
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অর্ধ-তৎসম শব্দ: - বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে। - তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত। যেমন - জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ; যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮২.
কোনটি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয়?
ক
আনারস
খ
পেয়ারা
গ
পাউরুটি
ঘ
তালাশ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তুর্কি শব্দ হলো- বাবা, উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুর্নিশ, কুলি (মজুর), কোর্মা, খাতুন, চকমক, চাকু, তালাশ, তােপ, বন্দুক, বাবুর্চি, বারুদ, বাহাদুর, বেগম, বোঁচকা, মুচলেকা, লাশ, সওগাত ইত্যাদি। • বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পর্তুগিজ শব্দ হলো- বোতাম, আলপিন, পাউরুটি, ইংরেজ, সাবান, পাদ্রি, আলকাতরা, বারান্দা, পেয়ারা, বোতাম, আলমারি, গির্জা, চাবি, আনারস, ইস্পাত, আচার, পিস্তল, গুদাম ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩.
'বদনাম' শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
ক
ক) ফরাসি
খ
খ) ফারসি
গ
গ) আরবি
ঘ
ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
বদনাম (বদ্নাম্) - ফারসি শব্দ (বদ্ ফারসি উপসর্গ) - বিশেষ্য পদ অর্থ - নিন্দা, অপবাদ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮৪.
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকে কী বলে?
ক
ক) পারিভাষিক শব্দ
খ
খ) তৎসম শব্দ
গ
গ) তদ্ভব শব্দ
ঘ
ঘ) বিদেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দেরলিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৫.
'জুডো' কোন ভাষার শব্দ?
ক
ক) চীনা ভাষা
খ
খ) ফরাসি ভাষা
গ
গ) তামিল ভাষা
ঘ
ঘ) জাপানি ভাষা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে - • 'জুডো'- জাপানি শব্দ।
'জুডো' শব্দের অর্থ- একধরনের জাপানি মল্লযুদ্ধ যাতে প্যাঁচ ও কৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা হয়।
তাছাড়া, 'জুজুতসু' জাপানি ভাষার শব্দ; যার অর্থ: ⇒ খালি হাতে আকষ্মিক আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রতিপক্ষের শক্তি ও ওজন ব্যবহার করার জাপানি কসরত বা জুডো। - এটি একটি বিশেষ্য পদ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৬.
'হেড-মৌলভী' কোন কোন ভাষার শব্দের মিশ্রণ?
ক
ইংরেজি ও বাংলা
খ
ইংরেজি ও তৎসম
গ
ইংরেজি ও ফারসি
ঘ
ইংরেজি ও আরবি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু মিশ্রিত শব্দের উদাহরণঃ - হাট-বাজার (বাংলা ও ফারসি), - রাজা-বাদশাহ (তৎসম ও ফারসি), - হেড-মৌলভী (ইংরেজি ও ফারসি), - হেড-পন্ডিত (ইংরেজি ও তৎসম), - খ্রিস্টাব্দ (ইংরেজি উত্তর সহ), - ডাক্তার-খানা (ইংরেজি ও ফারসি), - পকেটমার (ইংরেজি ও বাংলা), - চৌহদ্দি (আরবি ও ফারসি)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭.
‘সুরঙ্গ’ কোন ভাষার শব্দ?
ক
সংস্কৃত
খ
অর্ধ-তৎসম
গ
আরবি
ঘ
দেশি
ব্যাখ্যা
সুরঙ্গ সংস্কৃত বা তৎসম ভাষার শব্দ।
সুরঙ্গ (বিশেষণ): অর্থ - ১. অতি উজ্জ্বল রং বিশিষ্ট ২. সুড়ঙ্গ শব্দের উৎস: সংস্কৃত {সু + রঙ্গ}
তৎসম ভাষার আরো শব্দ হল: অঞ্চল, পাত্র, পুত্র, ফল, পঞ্চম, ভাত, মানব, রাত্রি, ধর্ম, নদী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৮.
নিচের কোন শব্দটি তৎসম শব্দ?
ক
ক) জীবন
খ
খ) গোয়ালা
গ
গ) গেট
ঘ
ঘ) ডিঙ্গি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, জীবন- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
• প্রকৃতি- প্রত্যয়- জীব + অন। • জীবন শব্দের অর্থ- প্রাণ, প্রাণধারণ, জীবৎকাল, আয়ু।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৯.
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দ ভাণ্ডার কত প্রকার?
ক
৩
খ
৪
গ
৫
ঘ
৬
ব্যাখ্যা
• শব্দের শ্রেণিবিভাগ: বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দের শ্রেণিবিভাগ সম্ভব। যেমন: শব্দগুলাে কোন উৎস থেকে এসেছে অথবা কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে, কিংবা কোন অর্থ প্রকাশ করছে। শব্দের শ্রেণিবিভাগের প্রক্রিয়া তিনটি। যেমন: • উৎস বিবেচনায় শব্দ — ৪ প্রকার। যথা: - তৎসম শব্দ; - তদ্ভব শব্দ, - দেশি শব্দ; - বিদেশি শব্দ।
উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের ২০১৯ অর্থ্যাৎ পুরাতন সংস্করণে উৎস বিবেচনায় শব্দকে ৫ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বর্তমান ব্যাকরণ থেকে অর্ধ-তৎসম শব্দশ্রেণি বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, শব্দের উৎস বিবেচনায় ৪ শ্রেণিতে বিভক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে।
• গঠন বিবেচনায় শব্দ ২ প্রকার। যথা: - মৌলিক শব্দ; - সাধিত শব্দ।
• পদ বিবেচনায় শব্দ ৮ প্রকার। যথা: - বিশেষ্য; - বিশেষণ, - সর্বনাম; - ক্রিয়া; - ক্রিয়া বিশেষণ; - যোজক; - অনুসর্গ; - আবেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২৩ সংস্করণ)।
৯০.
কোনটি আরবি ভাষার শব্দ?
ক
ক) কলম
খ
খ) রোজা
গ
গ) বোতল
ঘ
ঘ) তোশক
ব্যাখ্যা
• আরবি শব্দ: - আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি।
অন্যদিকে, রোজা ও তোশক হচ্ছে ফারসি শব্দ। বোতল হচ্ছে পর্তুগিজ শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৯১.
অর্ধ তৎসম শব্দ শনাক্ত করুন।
ক
ক) ধর্ম
খ
খ) জ্যোছনা
গ
গ) হত্থ
ঘ
ঘ) গঞ্জ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ - ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য, চন্দ্র। অর্ধ তৎসম শব্দ - কুচ্ছিত, বোষ্টম, জ্যোছনা। প্রাকৃত শব্দ - হত্থ, চম্মআর। দেশী শব্দ - গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯২.
'ইংরেজি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
ক
ক) ইংরেজি
খ
খ) ফারসি
গ
গ) জার্মান
ঘ
ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
ইংরেজি (বিশেষ্য) - পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত অর্থ: ইংরেজদের ভাষা।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯৩.
বেহেশত কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক
ক) আরবি
খ
খ) ফরাসি
গ
গ) উর্দু
ঘ
ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
ফারসি শব্দের উদাহরণ হলো- খোদা, গুনাহ, নামাজ, ফেরেশতা, চশমা, জানোয়ার, বান্দা, বেগম, জিন্দা, নমুনা ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯৪.
'চাদর' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
ক
ফারসি
খ
পুর্তগিজ
গ
হিন্দি
ঘ
গুজরাটি
ব্যাখ্যা
চাদর [চাদোর] (বিশেষ্য) - 'চাদর' শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত অর্থ : - দেহের ঊর্ধ্বংশে ব্যবহার্য এক প্রকার বস্ত্র; উড়ানি; উত্তরীয় (গলার বা গায়ের চাদর)। - আবরণ; আস্তরণ (বিছানার চাদর)। - ধাতু ইত্যাদির পাত (একটা পিতলের চাদরের ঘটী-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় )। উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান।
৯৫.
'আসমান' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত-
ক
ক) তৎসম
খ
খ) আরবি
গ
গ) ফারসি
ঘ
ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'আসমান'- ফারসি ভাষার শব্দ। - আসমান শব্দের বিশেষণ - আসমানি।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরো কতিপয় ফারসি শব্দ: - বেহেশত, দোজখ, ফেরেশতা, নামাজ, খোদা, গুনাহ, পয়গম্বর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৬.
“পাদ্রি” শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
ক
ক) ফারসি
খ
খ) আরবি
গ
গ) বার্মিজ
ঘ
ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ শব্দঃ আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি। পাঞ্জাবি শব্দ হলো চাহিদা ও শিখ ৷ উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৯৭.
উৎসমূল অনুসারে 'পৃথিবী' কোন ভাষার শব্দ?
ক
ফারসি
খ
বাংলা
গ
সংস্কৃত
ঘ
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, - উৎসমূল অনুসারে 'পৃথিবী'- 'তৎসম বা সংস্কৃত' ভাষার শব্দ।
• 'পৃথিবী' শব্দের কয়েকটি প্রতিশব্দ: - ধরণি, - অবনি, - বসুন্ধরা, - বসুমতী, - মেদিনী, - ক্ষীতি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৮.
নিম্নের কোনটি দেশি শব্দ?
ক
ক) খুশি
খ
খ) গঞ্জ
গ
গ) টুপি
ঘ
ঘ) নকশা
ব্যাখ্যা
টুপি (বিশেষ্য): - এটি একটি দেশি শব্দ অর্থ: মাথায় ধারনের আস্তরণ বিশেষ; শিরস্ত্রান।
অন্যদিকে, নকশা = আরবি শব্দ গঞ্জ = ফারসি শব্দ। খুশি = ফারসি শব্দ
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯৯.
'উজবুক' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
ক
ক) তুর্কি
খ
খ) আরবি
গ
গ) পর্তুগিজ
ঘ
ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
- 'উজবুক' শব্দটি 'তুর্কি ভাষা' থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
অন্যদিকে, - তুর্কি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ: • বাবা, • কোরমা, • খাতুন, • বিবি, • চাকর, • চাকু, • তোপ, • বাবুর্চী, • লাশ, • মুচলেকা, • কুলি, • খোকা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১০০.
'বাবুর্চি' কোন ভাষার শব্দ?
ক
ক) তুর্কি
খ
খ) আরবি
গ
গ) ফারসি
ঘ
ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'বাবুর্চি'- তুর্কি ভাষার শব্দ। 'বাবুর্চি' শব্দের অর্থ- মুসলমান পাচক, পুরুষ পাচক।
• তুর্কি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ হলো: - বাবা, - কোর্মা, - খাতুন, - বিবি, - চাকর, - চাকু, - তোপ, - দারোগা, - বাবুর্চি, - লাশ, - মুচলেখা, - কুলি, - খোকা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান