বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা

মোট প্রশ্ন৪৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৪৫৪

.
নৈতিকতা কী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. আইন ও সরকার
  2. রাজনৈতিক দল
  3. বিবেক ও মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক চাহিদা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

​⇒ জোনাথান হেইট -এর মতে, “ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
​- এছাড়াও, নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন- "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণ বলতে কোন ক্রিয়াকে বুঝানো হয়?
  1. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  2. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
  3. ঐচ্ছিক ক্রিয়া ও অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সমান অধিকারকে কী বলা হয়?
  1. নাগরিক সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. আইনগত সাম্য
  4. রাজনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

- রাজনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ভোট প্রদান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সরকারি চাকরি লাভের সমান অধিকার। এটি আধুনিক গণতন্ত্রের একটি মূল ভিত্তি।

রাজনৈতিক সাম্য (Political Equality):
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
নৈতিকতা ও সততার দ্বারা পরিচালিত আচরণকে কী বলা হয়?
  1. সামাজিক দায়িত্ব
  2. শুদ্ধাচার
  3. নৈতিক চাপ
  4. ন্যায়নীতি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধাচার:
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।

উৎস: মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। [লিঙ্ক]
.
কোন ধরণের অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না?
  1. ব্যক্তিগত অধিকারের
  2. সামাজিক অধিকারের
  3. নৈতিক অধিকারের
  4. গণতান্ত্রিক অধিকার
ব্যাখ্যা
নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না।
তাই নৈতিক অধিকারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
জোনাথান হেইট-এর মতে, কী থেকে নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে?
  1. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি
  2. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং রীতিনীতি
  3. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং আদর্শ
  4. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।

জোনাথান হেইট (Jonathan Haidr) মনে করেন,
- 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ'- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
.
নিচের কোনটি নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ?
  1. ক) রাজনৈতিক শিক্ষার প্রসার
  2. খ) জনমত গঠন
  3. গ) নীতি নির্ধারণ
  4. ঘ) পরিকল্পনা প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন এবং নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় আলোচ্য বিষয়। সঠিক এবং কার্যকরী নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকগুলো পূর্বশর্তের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অন্যতম।

- নীতি নির্ধারক: নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করা।
- জনস্বার্থের অনুকূল, যুগোপযোগী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণে নেতৃত্বের দক্ষতার সাথে সুশাসনের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। 


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি আইনের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সার্বভৌম কর্তৃত্ব
  2. অন্তর্গত চিন্তার নিয়ন্ত্রক 
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

আইনের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয় - অন্তর্গত চিন্তার নিয়ন্ত্রক।

আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

⇒ আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
“নিকোমেকীয়ান এথিক্স” গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) রাসেল
  4. ঘ) অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘নিকোমেকীয়ান এথিস্' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয় ।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
নৈতিক চেতনা মানুষকে কী সম্পর্কে সচেতন করে?
  1. ধর্মীয় আচার
  2. রাজনৈতিক মতাদর্শ
  3. ঐতিহ্যগত অভ্যাস
  4. আচরণের নৈতিক গুরুত্ব
ব্যাখ্যা
নৈতিক চেতনা:
- নৈতিক চেতনা একটি মানসিক ক্রিয়া।
- মানুষ যখন তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীর ন্যায়-অন্যায় বোধ, উচিত-অনুচিত বোধ সম্পর্কে সচেতন হয় তখন ধরে নিতে হবে মানুষ নৈতিক চেতনার পরিসরে তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীকে বিবেচনা করছে।
- নৈতিক চেতনা মানুষকে তার আচরণের নৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
-মানুষকে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য বৃঝতে সহায়তা করে। মানুষকে তার কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। 
- নৈতিক চেতনা আমাদেরকে আমাদের কার্যাবলীর ন্যায়বোধ ও অন্যায়বোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
- আমাদের প্রাত্যহিক কর্মকান্ডের নৈতিকতা সম্পর্কীয় এ চেতনা ন্যায় কাজ সম্পন্ন করার ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার জন্যে আমাদের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
'Hedonism' বলতে বোঝায় -
  1. সুখবাদ
  2. আকারবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. স্বজ্ঞাবাদ
ব্যাখ্যা
সুখবাদ:
- গ্রীক 'hedone' শব্দের অর্থ 'সুখ' (pleasure)।
- কাজেই, যে মতবাদ অনুসারে সুখই জীবনের পরমার্থ, তাকে বলা হয় 'Hedonism' বা 'সুখবাদ'।
- সাধারণত সেইসব প্রত্যক্ষবাদী দার্শনিক (empiricists) সুখবাদের সমর্থক যারা মনে করেন যে, মানুষ মূলত ইন্দ্রিয়াসক্ত এবং ইন্দ্রিয়সেবার মাধ্যমে সুখলাভই তার একমাত্র লক্ষ্য।
 মানুষের জীবনে সুখই কেবল স্বতঃমূল্যবান, আর সবই পরতঃমূল্যবান।
- আমরা অর্থ, বিত্ত, স্বাস্থ্য ইত্যাদি কামনা করি ঐ সবের জন্য নয়, কামনা করি সুখের আশায়।
- সুখকে কামনা করি কেবল সুখের জনাই।
- সুখবাদীরা সুখের বিচারে কর্মের নৈতিক বিচার করেন যে কাজ দুঃখের তুলনায় অধিক পরিমাণে সুখ দেয় তা 'ভাল', আর যে কাজ সুখের তুলনায় অধিক পরিমাণে দুঃখ দেয় তা 'মন্দ'।

⇒ আত্মসুখবাদ ও সর্বজনীন সুখবাদ, স্থুল সুখবাদ ও সুক্ষ্ম সুখবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সুখবাদ রয়েছে।

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism): স্বজ্ঞা এমন একটি বৃত্তি যার সাহায্যে আমরা প্রত্যক্ষভাবে বুদ্ধি বা সংবেদনের সাহায্য ছাড়াই কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞানলাভ করতে পারি।
- আকারবাদ (IFormalism): নৈতিকতা সামাজিক ব্যাপার হলেও এর মর্যাদার কারণেই এর ভিত্তিটি মানবিক অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে বিশুদ্ধ বুদ্ধিতে প্রোথিত। ঐ উৎস থেকে নিয়ম বা আইনের আকারে এ উৎসারিত হয়।
- পূর্ণতাবাদ (Perfectionism): পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে। একে বুঝতে হলে পূর্ণতা শব্দটির অর্থ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।

উৎস: i) Sitaram Mahato Memorial College.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
নৈতিকতা ভঙ্গের শাস্তি কী?
  1. সামাজিক আইনে সাজা
  2. কোনো শাস্তি নেই
  3. রাষ্ট্রীয় আইনে সাজা
  4. আন্তর্জাতিক আইনে সাজা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো। এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৩.
চরিত্র গঠনে কোন গুণ অপরিহার্য?
  1. আত্মবিশ্বাস
  2. সাহসিকতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ, যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে এবং এতে মানসিক তৃপ্তি অনুভব করে।
- সত্যকে সত্য বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ দেওয়া নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
- অন্যদিকে, চরিত্র গঠন মানে হলো একজন মানুষের চিন্তা, মনোভাব ও আচরণকে নৈতিকভাবে বিকশিত করা।
- এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য গুণ হলো নৈতিক মূল্যবোধ।
- নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সমাজে শ্রদ্ধেয় এবং বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচিত হন।
- আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা বা সৃজনশীলতা একটি ব্যক্তির সফলতায় ভূমিকা রাখলেও, নৈতিক মূল্যবোধ ছাড়া সে সফলতা দীর্ঘস্থায়ী বা সমাজোপযোগী হয় না।
- চরিত্র গঠনের জন্য আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা বা সৃজনশীলতা সহায়ক হলেও নৈতিক মূল্যবোধই হল সেই মূল ভিত্তি, যার উপর একটি দৃঢ়, সৎ ও গঠনমূলক চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।
১৪.
“সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের জন্য সর্বোচ্চ আনন্দ” – এই নীতিটি কার সাথে জড়িত?
  1. হিউম
  2. ক্যান্ট
  3. সক্রেটিস
  4. হাটচেসন
ব্যাখ্যা
• সর্বজনীন সুখবাদ: 
- সর্বজনীন সুখবাদ আত্মসুখবাদের মতো প্রাচীন দর্শন নয়।
- নিজের সুখের চেয়ে অন্যের সুখের কথা ভাবা—এই নৈতিক ধারণা সম্ভবত ধর্মীয় চিন্তারই এক রূপ, যা পরবর্তীকালে অষ্টাদশ শতকের কিছু ব্রিটিশ দার্শনিককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
- এ ধারার অগ্রগণ্য চিন্তাবিদদের মধ্যে বাটলার, শেফটেসব্যারী এবং বিশেষভাবে হাটচেসন অন্যতম।
- হাটচেসনের প্রতিপাদিত নীতি—"সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের জন্য সর্বোচ্চ আনন্দ"—পরবর্তীকালে সর্বজনীন সুখবাদের একটি কেন্দ্রীয় মতবাদে পরিণত হয়।

- এই নীতিকে ভিত্তি করে জেরেমি বেনথাম, জেমস মিল এবং তাঁর পুত্র জন স্টুয়ার্ট মিল সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উপযোগিতার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন।
- তাদের মধ্যে বিশেষভাবে বেনথাম ও জন স্টুয়ার্ট মিল এই দর্শনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- পরবর্তীকালে হেনরি সিজউইক এ ধারায় যুক্ত হয়ে তাদের চিন্তাকে আরও যুক্তিসংগত ও দার্শনিকভাবে বলিষ্ঠ রূপ দেন।

- এই দার্শনিকরা নিজেদের "উপযোগবাদী" (Utilitarian) হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন।
- তাদের বিশ্বাস ছিল, কোনো কাজ নৈতিক কিনা তা নির্ভর করে সেই কাজ কতখানি মানুষের মধ্যে আনন্দ বা উপকার ছড়িয়ে দিতে সক্ষম তার ওপর। 

উৎস: নীতিবিদ্যা, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
“প্রিন্সিপিয়া এথিকা” পুস্তকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আর. এম. হেয়ার
  2. খ) মেরী ওয়ারনক
  3. গ) এ. জে. এয়ার
  4. ঘ) জি. ই. ম্যুর
ব্যাখ্যা
• ব্রিটিশ দার্শনিক জি. ই. ম্যূরকে পরানীতিবিদ্যা প্রবর্তক বলা হয়।
- বিগত শতাব্দীর গোড়ার দিকে ১৯০৩ সালে ‘প্রিনসিপিয়া এথিকা' শীর্ষক পুস্তকে তিনি এই ধরনের আলোচনার সূত্রপাত করেন।

• জি. ই. ম্যূর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগ হচ্ছে নৈতিকতা।'
- পরানীতিবিদ্যা মূলত যেসব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে তা হচ্ছে: যথোচিত (Right), শুভ (Good), এসব শব্দের অর্থ কি? নৈতিক অবধারণগুলোর বৈধতা কিভাবে নিরূপিত হবে? এগুলোর কি আদৌ কোন বৈধতা আছে? ইত্যাদি।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
আইন ও নৈতিকতার আলোচ্য বিষয় কী?
  1. রাষ্ট্র
  2. অর্থনীতি
  3. মানুষের আচরণ
  4. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতা:
- আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয়ের আলোচ্য বিষয় মানুষের আচরণ।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিকতা মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধন করাই উভয়ের লক্ষ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৭.
নৈতিক অবধারণের ভিত্তি -
  1. পারিবারিক
  2. সামাজিক
  3. রাষ্ট্রিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
নৈতিক অবধারণের ভিত্তি সামাজিক।

নৈতিকতা অবধারণ:

- নৈতিকতা কতগুলো নৈতিক অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- একে অনেকে মূল্যবোধক অবধারণ, আদর্শমূলক অবধারণও বলে থাকেন।
- নৈতিক অবধারণে আমরা নৈতিক আচরণ বা আচরণকারীর ওপর কোন নৈতিক গুণ, বাধ্যবাধকতা, দায়িত্ব ইত্যাদি অথবা ইত্যাদির অভাব আরোপ করি।
- নৈতিক অবধারণের আর একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, এ কিছু নীতি, আদর্শ বা সদ্গুণের সঙ্গে যুক্ত।

⇒ নৈতিক অবধারণের ভিত্তি সামাজিক হলেও এর ব্যক্তিবাদী দিকটি কিন্তু গুরুত্বহীন নয়।
- আচরণের ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ততা তথা স্বাধীনতাকে অন্যতম শর্ত হিসেবে নেয়ায় নৈতিকতা ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্তণ তথা আত্ম-নির্দেশনাকে তার এক মৌলিক নীতি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য। 

• নৈতিক অবধারণের প্রকার:
- নৈতিক অবধারণ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।
- নৈতিক নীতিগুলো সাধারণ নৈতিক অবধারণ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- গুরুত্বপূর্ণ যে দু'ধরনের নৈতিক অবধারণ রয়েছে তাদেরকে বলা যেতে পারে: (১) বাধ্যতামূলক নৈতিক অবধারণ ও (২) মূল্যবোধক নৈতিক অবধারণ।

⇒ বাধ্যতামূলক অবধারণ বলতে বুঝায়, ঐসব অবধারণ যাতে কোন বিশেষ কাজকে আমরা নৈতিকভাবে যথোচিত, অযথোচিত, বাধ্যতামূলক, কর্তব্য ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করি; অথবা তা করা উচিত কি অনুচিত তা বলি।
⇒ নৈতিক মূল্যবোধক অবধারণে আমরা কোন কাজ সম্পর্কে কথা বলি না, বরং কোন ব্যক্তি অথবা তার প্রেষণা, অভিপ্রায়, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে কথা বলি এবং আমরা যা বলি তাতে যে শব্দগুলি ব্যবহার করি তা হচ্ছে নৈতিকভাবে ভাল-মন্দ, সৎ বা অসৎ গুণ সম্পন্ন, দায়িত্বপূর্ণ, নিন্দাহ, সাধুসুলভ, ঘৃণ্য ইত্যাদি।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য স্বাধীনতা প্রয়োজন, কারন- 
  1. আইন অমান্য করার সুযোগ পাওয়া
  2. অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা
  3. ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভা ও গুণের প্রকাশ ঘটানো
  4. কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করা
ব্যাখ্যা

- ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য স্বাধীনতা প্রয়োজন, কারন- ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভা ও গুণের প্রকাশ ঘটানো যায়।
- স্বাধীনতা ব্যক্তিকে তার নিজস্ব পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ দেয়, যা ব্যক্তিত্ব গঠনে অপরিহার্য।

স্বাধীনতা: 
- সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো কাজ করাকে বোঝায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা বলতে এ ধরনের অবাধ স্বাধীনতাকে বোঝায় না।
- কারণ, সীমাহীন স্বাধীনতা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
- উদাহরণস্বরূপ, কাউকে ইচ্ছামত সবকিছু করার স্বাধীনতা দিলে সমাজে অন্যদের ক্ষতি হতে পারে যা এক অশান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
- তাই পৌরনীতিতে স্বাধীনতা ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করাই হলো স্বাধীনতা।
- অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো এমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ, যেখানে কেউ কারও ক্ষতি না করে সকলেই নিজের অধিকার ভোগ করে।
- স্বাধীনতা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে এবং অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বাধা অপসারণ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯.
কার মতে, “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”?
  1. আর্নেস্ট বার্কার
  2. জন লক
  3. হার্বাট
  4. এ ভি ডাইসি
ব্যাখ্যা
আইন ও স্বাধীনতা:
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও পরস্পর নির্ভরশীল।
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত দুটি পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
- এরিস্টটল, মন্টেস্কু, উইলোবি, বার্কার, লক প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- হার্বাট, এ ভি ডাইসি প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।
- জন লকের মতে, “যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতাও নেই।”
- আর্নেস্ট বার্কারের মতে, “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
নিম্নের কোনটি নৈতিকতার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সার্বজনীন
  2. ধর্ম নিরপেক্ষ
  3. বিবেকবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত
  4. শুধুমাত্র বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- 'Morality' হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ।
- এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

বৈশিষ্ট্য:

- নৈতিকতা ব্যক্তির সদ গুণ বিশেষ।
- এটি সার্বজনীন।
- নৈতিকতা ধর্ম নিরপেক্ষ।
- এটি এক ধরনের শক্তি ও আদর্শ, যা ব্যক্তির বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
• উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২১.
নৈতিকতার প্রধান উৎস কোনটি?
  1. আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. বিবেকবোধ
  3. সামাজিক প্রথা
  4. ধর্মগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার প্রধান উৎস হলো মানুষের বিবেক বা বিবেকবোধ এবং ঔচিত্যবোধ।
- এছাড়া, ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ, সামাজিক প্রথা, শিক্ষা প্রভৃতি নৈতিকতার অন্যান্য উৎস।
- নৈতিক আচরণ বা মূল্যবোধ হলো সেসব মনোভাব ও আচরণ যা মানুষ সব সময় ভালো, কল্যাণকর এবং অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তি অনুভব করে।
নৈতিক মূল্যবোধ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা
- সত্যকে সত্য বলা
- মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
- দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক এবং ব্রিটানিকা)
২২.
প্লেটো কোন সদগুণের কথা উল্লেখ করেন?
  1. মানবিকতা
  2. সততা
  3. বুদ্ধি
  4. সাহস
ব্যাখ্যা

- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- ​এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ বা মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
-  তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে - একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- ​ আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

​উৎস: দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
উইলিয়াম লিলির মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে -
  1. বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান
  2. আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান
  3. আদর্শনিষ্ঠ কলা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা: 
- নৈতিকতা সম্পর্কে দার্শনিকদের চিন্তা ভাবনাই নীতিবিদ্যা হিসোবে পরিচিত।
- উইলিয়াম লিলির মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। 
- উইলিয়াম লিলি এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"।
- উইলিয়াম লিলি নীতিবিদ্যাকে "আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান" বলে এর পরিসরকে সুনির্দিষ্ট করতে চেয়েছেন।

উৎস: দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
রাজনৈতিক গ্রন্থ 'The Prince'-এর লেখক কে?
  1. থমাস হবস
  2. জন লক
  3. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  4. কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।
⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৫.
বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে কোন ধরনের অধিকারের উৎপত্তি?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও জীবনের পূর্ণতা সাধিত হয়।
অধিকার ২ প্রকার যথা: নৈতিক অধিকার এবং আইনগত অধিকার।
এর মধ্যে নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত। এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই।
দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার, ভিক্ষুকের ভিক্ষা লাভের অধিকার প্রভৃতি নৈতিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত।
(সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
২৬.
অন্যায়বােধের উৎস হলো -
  1. ক) জ্ঞান
  2. খ) অহংবোধ
  3. গ) মিথ্যা
  4. ঘ) অজ্ঞতা
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Morality'।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Moralitas’ থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরােপ করেন।

- সক্রেটিস বলেছেন, সৎ গুণই জ্ঞান’ (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বােধের উৎস হচ্ছে ‘জ্ঞান’ (knowledge) এবং অন্যায়বােধের উৎস হচ্ছে ‘অজ্ঞতা’ (ignorance)।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৭.
সক্রেটিসের মতে ন্যায়বোধের উৎস কোনটি?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Morality'।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Moralitas’ থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরােপ করেন।

- সক্রেটিস বলেছেন, সৎগুণই জ্ঞান’ (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায়বােধের উৎস হচ্ছে ‘জ্ঞান’ (knowledge) এবং অন্যায়বােধের উৎস হচ্ছে ‘অজ্ঞতা’ (ignorance)।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৮.
মূল্যবোধের কোন উপাদান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) স্বচ্ছতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২৯.
কার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”?
  1. ফ্রাংকেনার
  2. টেইলার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. ডাইসি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
- নীতিবিদ্যাকে নীতি-দর্শনও বলা হয়।
- উইলিয়াম কে. ফ্রাংকেনার এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা” ।
- পি. ডব্লিউ. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “ নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”
- উইলিয়াম লিলি এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “ সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে”।

উৎস: নীতিবিদ্যা,বিএ /বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
'ঐচ্ছিক আচরণ' বলতে কী বোঝায়?
  1. যে আচরণ সামাজিক চাপের কারণে হয়
  2. যে আচরণ স্বপ্রণোদিত হয়ে করা হয়
  3. যে আচরণ আইন দ্বারা পরিচালিত
  4. যে আচরণ বাধ্যতামূলক
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভুত, যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।

উল্লেখ্য,
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ, যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।
- এটি সঠিক ও ভুল, ন্যায় ও অন্যায়, এবং ভালো ও খারাপ আচরণের পার্থক্য নির্ধারণে সহায়ক।
- নীতিবিদ্যার মাধ্যমে মানুষ কীভাবে নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং কীভাবে নৈতিক জীবনযাপন করবে, সেই বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
আমাদের দেশে তথ্য অধিকার আইন পাস হয় কবে?
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০০৫ সালে
  4. ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইন:
- বাংলাদেশে ২০০৯ সালে প্রণীত তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 
- ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে তথ্য অধিকার আইন পাশ করে।
- এ আইনে অধ্যায় আছে - আটটি।
- তফসিল আছে - ১ টি ও
- ধারা আছে - ৩৭টি।
- এর মূল কথা হল কয়েকটি দপ্তর ব্যতীত যেকোন কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেকন নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। 

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
‘Know Thyself’ উক্তিটি কোন দার্শনিকের?
  1. প্লেটো
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টটল 
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

• সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।

• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত
করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৩.
‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ - তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’-এটি কার উক্তি?
  1. জন লক
  2. জোনাথন সুইফট
  3. টি এইচ গ্রিন
  4. জোনাথান হেইট
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- জোনাথান হেইট এর মতে, ‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"
- Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ যা প্রত্যক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোন বিষয় থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।"   

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪.
“The Moral Landscape” - কার লেখা বই?
  1. ক) Sam Harris
  2. খ) Friedrich Nietzsche
  3. গ) Immanuel Kant
  4. ঘ) David Brooks
ব্যাখ্যা
Sam Harris - এর লেখা আরো কয়েকটি বই -
Waking Up, Lying,
Free Will,
The End of Faith ইত্যাদি।
৩৫.
নৈতিক আচরণবিধি দেশভেদে ভিন্ন কেন হয়?
  1. অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে
  2. প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে
  3. ব্যক্তিগত চাহিদার কারণে
  4. রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
ব্যাখ্যা

নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics):
- নৈতিক আচরণবিধি বলতে বুঝায় মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে।

উল্লেখ্য,
- প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা-কর্মীদের জন্য নৈতিকতার কিছু নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করেও নৈতিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
- এটি হলো এমন কতগুলো আচরণের সমষ্টি যা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে। প্রতিষ্ঠানে এধরনের নীতিমালা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি তা মেনে চলতে বাধ্য হবে। ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর কার্যপরিবেশ বিরাজ করবে। এ সকল নিয়মনীতি এক দেশ থেকে অন্য দেশে রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১৯
  3. অনুচ্ছেদ ২০
  4. অনুচ্ছেদ ২১
ব্যাখ্যা

নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ২১(১) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, "সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।"
- ২১(২) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, "সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।"

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা। 
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ: সুযোগের সমতা
- অনুচ্ছেদ ২০: অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৭.
“শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা” - উক্তিটি কার?
  1. জনাথান হেইট
  2. ম্যাকেঞ্জি
  3. জি. ম্যুর
  4. ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন - "সৎ গুণই জ্ঞান" (Virtue is knowledge) তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী -গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না  এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে জ্ঞান এবং অন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা'।
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয় মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
নীতিবিদ্যাকে "নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান" বলেছেন কে?
  1. জে.এস. ম্যাকেনজি
  2. পি. ডব্লিও. টেইলার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন,নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।
- ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।
- জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
উপযোগবাদের মতে নৈতিকতার ভিত্তি হলো—
  1. কর্তব্য
  2. সুখ
  3. ধর্ম
  4. আইন
ব্যাখ্যা

• উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৪০.
‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন’ উক্তিটি করেছেন-
  1. ক) কফি আনান
  2. খ) বিশ্ব ব্যাংক
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) হালফ্যানি
ব্যাখ্যা
[সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৪১.
ধর্ম চর্চার অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকার
  2. খ) নৈতিক অধিকার
  3. গ) অর্থনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
- সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।
বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
৪২.
উইলিয়াম লিলির মতে নীতিবিদ্যা একটি -
  1. ক) বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান
  2. খ) আদর্শনিষ্ঠ কলা
  3. গ) আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে উইলিয়াম লিলি মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে”।

• উইলিয়াম লিলি নীতিবিদ্যাকে “আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান” বলে এর পরিসরকে সুনির্দিষ্ট করতে চেয়েছেন।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
“Compassion is the basis of morality.” - কার উক্তি?
  1. ক) Georg Wilhelm Friedrich Hegel
  2. খ) Arthur Schopenhauer
  3. গ) Immanuel Kant
  4. ঘ) Karl Marx
ব্যাখ্যা
Arthur Schopenhauer - একজন জার্মান দার্শনিক।
৪৪.
নৈতিকতা বিকাশে কোনটি সবচেয়ে বেশি সহায়ক?
  1. কঠোরতা
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. আত্মবিশ্বাস
  4. ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উপাদান:
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত, সেগুলো হলো:

১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ:

- সামাজিক জীবনে ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল বিচার করার ভিত্তি হলো নীতি ও ঔচিত্যবোধ।
- সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কটুক্তি না করা এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এই নীতি ও ঔচিত্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি মানুষের মধ্যে নৈতিকতার বিকাশ ঘটায় এবং তাকে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করতে সাহায্য করে।

২. সামাজিক ন্যায়বিচার:

- ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সমান বিচার।
- সামাজিক ন্যায়বিচার মানে হলো সমাজে সকলের প্রতি আইনের চোখে সমান আচরণ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।

৩. শৃঙ্খলাবোধ:

- সমাজের নিয়ম-নীতি ও আচরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল্যবোধ।
- এটি সমাজের অগ্রগতির প্রধান সোপান এবং সমাজের কাঠামো ঠিক রাখে।

৪. সহনশীলতা:

- সহনশীলতা হচ্ছে সুনাগরিকের অন্যতম গুণ এবং গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- এটি মানুষকে একে অপরের মতামত ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সাহায্য করে।

৫. সহমর্মিতা:

- অন্যের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং সাহায্য করার ইচ্ছা। এটি সমাজে সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি করে।

৬. সৌজন্যবোধ:

- পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভদ্রতার প্রদর্শন।
- এটি সামাজিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটায় এবং একে অপরের প্রতি সদাচরণের মানদণ্ড তৈরি করে।

৭. মানবিকতা:

- মানবিকতা হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার, সম্মান ও মঙ্গলার্থে সহানুভূতির মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের প্রতি সহানুভূতির অনুভূতি তৈরি করে।

৮. শ্রমের মর্যাদা:

- কাজের প্রতি সম্মান এবং শ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন।
- এটি সমাজে শ্রমিক শ্রেণির মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং সমাজের উন্নয়ন ঘটায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
গণিকাবৃত্তি ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধ সম্পর্কিত বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ১৭নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৯নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৮নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৫নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
১৮ (২) নং দফায় বলা হয়েছে,
“গনিকাবৃত্তি এবং জুয়াখেলা নিরোধের জন্যে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”

অন্যদিকে,
১৫ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
১৭ নং অনুচ্ছেদ: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
১৯ নং অনুচ্ছেদ: সুযোগের সমতা।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
৪৬.
নিচের কোনটি ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) আমলাতন্ত্র
  2. খ) বিচার বিভাগ
  3. গ) সংসদীয় ব্যবস্থা
  4. ঘ) গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
- বিচার বিভাগ একটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
- এটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা, আইনের শাসন বজায় রাখা, সংবিধানকে সমুন্নত রাখা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৭.
নীতি বিদ্যার আলোচ্য বিষয় কি?
  1. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন
  2. মানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান
  3. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ ব্যাখ্যা
  4. মানুষের জীবনের সফলতার দিকগুলো আলোচনা
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যা বা Ethics শব্দটি গ্রিক ভাষার Ethica থেকে উদ্ভূত, যা আবার Ethos থেকে এসেছে।
- Ethos-এর অর্থ হলো চরিত্র, রীতিনীতি বা অভ্যাস।
- নীতিবিদ্যাকে Moral Philosophy বা নীতি দর্শনও বলা হয়।
- নীতি বিদ্যার আলোচ্য বিষয়- সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ আলোচনা ও মূল্যায়ন। 

• উইলিয়াম লিলি (William Lillie) নীতিবিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এমনভাবে যে- 
- এটি সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যা মানুষের আচরণকে যথাযথ বা অনুচিত, ভালো বা মন্দ হিসেবে বিচার করে।

• অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি (Mackenzie) নীতিবিদ্যাকে সংক্ষেপে “আচরণের মঙ্গল বা ঔচিত্যের আলোচনা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

• সোফিস্টরা নীতি বিদ্যাকে প্রথমবার জনসম্মুখে তুলে ধরেন।
- তাদের প্রধান দার্শনিক মূলমন্ত্র ছিল- “মানুষ সব কিছুর পরিমাপক”, যা মানুষের বিচার-বিশ্লেষণ ও নৈতিকতা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

• নীতিবিদ্যার মূল চারটি ধারা হলো:
- পরানীতিবিদ্যা (Normative Ethics),
- আদর্শনিষ্ঠ নীতিবিদ্যা (Deontological Ethics),
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা (Descriptive Ethics),
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা (Applied Ethics).

• নীতিবিদ্যার আদর্শ বা মূল প্রবণতাগুলো হলো:
- সুখবাদ (Hedonism),
- বিচারবাদ (Justice-centered Ethics),
- সম্পূর্ণবাদ (Perfectionism),
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism).

উৎস:
নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ব্রিটানিকা।

৪৮.
মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে বিকাশ ঘটে -
  1. ক) মূল্যবোধের
  2. খ) নীতিবোধের
  3. গ) আইনের শাসনের
  4. ঘ) স্বাধীতার
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি ।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত ।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৯.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. আইনসভার প্রাধান্য বৃদ্ধি
  3. কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থার সৃষ্টি
  4. নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি হলো সরকারের তিনটি বিভাগ যথা: শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতা ও কাজকে পৃথক বা স্বতন্ত্র করে দেওয়া।
- সরকারের যেকোন একটি বিভাগের স্বেচ্ছাচারি হওয়ার প্রবণতা রোধ করে নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করাই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল উদ্দেশ্য
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।
- তিনি ১৭৪৮ সালে সর্বপ্রথম তার The Spirit of Laws বইয়ে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৫০.
সততা হলো মানুষের -
  1. স্বভাবজাত প্রবণতা
  2. স্বভাবজাত প্রবৃত্তি
  3. অর্জিত প্রবণতা
  4. সার্বিক বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
 সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- তাই দেখা যায় নৈতিক আদর্শ অনুসারে ভাল কাজ নির্বাচন ও সম্পাদনের মাধ্যমেই যে অভ্যাস গড়ে উঠে তাই সততা।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
‘নিয়মিত কর প্রদান করা‘ কোন ধরণের কর্তব্য?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) রাজনৈতিক
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) নৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক কর্তব্য (Economic Duties):
- নাগরিকের বেশকিছু অর্থনৈতিক দায়িত্বও রয়েছে।
যেমন:
 → কর্মক্ষম সকল নাগরিকের রাষ্ট্রীয় উৎপাদন ও উন্নয়নে অংশগ্রহণ করা,
 → নিয়মিত খাজনা ও কর প্রদান করা প্রভৃতি হলো একজন মানুষের অর্থনৈতিক কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫২.
আইন নিষ্প্রয়োজন হয় কখন?
  1. শাসক ন্যায়বান হলে
  2. শাসক দুর্নীতিপরায়ণ হলে
  3. শাসক চরিত্রহীন হলে
  4. শাসক স্বৈরাচারী হলে
ব্যাখ্যা
আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।

⇒ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩.
‘Meta-ethics’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. পরানীতিবিদ্যা
  2. ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
  3. সামাজিক নীতিবিদ্যা
  4. আদর্শ নীতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা

পরানীতিবিদ্যা (Meta-ethics):
- ‘Meta Ethics’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে পরানীতিবিদ্যা।
- পরানীতিবিদ্যা হলো নীতিশাস্ত্রের একটি শাখা, যা নৈতিক বিচার, নৈতিক ভাষা, নৈতিক সত্য এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রকৃতি নিয়ে দর্শনচিন্তা করে।
- এটি আমাদের শেখায়, কোনো কাজ সঠিক না ভুল- সেটা নির্ধারণ করার আগে, আমাদের জানা দরকার "সঠিক" বা "ভুল" শব্দগুলোর মানে কী এবং সেগুলো কীভাবে কাজ করে।
- পরানীতিবিদ্যা আমাদের নৈতিক ধারণাগুলোর গভীর ব্যাখ্যা দেয় - এগুলোর ভাষাগত, যুক্তিভিত্তিক ও অস্তিত্বগত বিশ্লেষণ করে।
- এটি সঠিক ও ভুলের বিচার না করে, বরং এই বিচারগুলোর ভিত্তি কী, সেটি বুঝতে সাহায্য করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
নীতিবিদ্যার মূল ধারা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার মূল ধারা চারটি। যথা:
১. বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা: নীতিবিদ্যা যদি নৈতিকতাকে বুঝার দার্শনিক প্রচেষ্টা হয় তাহলে পরানীতিবিদ্যাকে আমরা নৈতিকতার ভাষা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একে বুঝার প্রচেষ্টা বলতে পারি।
২. আদর্শনিষ্ঠ (মানমূলক) নীতিবিদ্যা: এতে কোন একটা বিশেষ মান বা আদর্শের (Norm) আলোকে মানুষের আচরণের ভালমন্দ বিচার করা হয়।
৩. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা: এই নীতিবিদ্যার আওতায় নৈতিকতা সম্পর্কে যেসব আলোচনা করা হয় তা প্রকৃতিগত দিক থেকে অভিজ্ঞতানির্ভর।
৪. ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা: বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।

তথ্যসূত্র - দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা কে?
  1. ক) ইমানুয়েল কান্ট
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) জেরেমি বেন্থাম
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম Greatest Happines Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা। এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে। অর্থাৎ কোন কিছু ভালো কি মন্দ তা ফলাফলের উপর নির্ভরশীল। (সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৫৬.
নিম্নের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়?
  1. নৈতিকতা
  2. পরিবার
  3. মূল্যবোধ
  4. হস্তশিল্প
ব্যাখ্যা

পরিবার সংস্কৃতির উপাদান নয়।

সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।

⇒ সংস্কৃতির উপাদান হলো:
- ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭.
"সংগঠন করার স্বাধীনতা" কোন ধরনের সাম্য?
  1. আইনগত সাম্য
  2. অর্থনৈতিক সাম্য
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. সামাজিক সাম্য
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সাম্য:
- রাজনৈতিক সাম্য প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই সব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।
- প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
"পেশা পরিবর্তনের সুযোগ" কোন ধরনের সাম্য?
  1. ব্যক্তিগত সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য:
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরি লাভের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্য।
- সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য অত্যন্ত জরুরি।
- অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশও বাধাগ্রস্থ হয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য থাকলে রাষ্ট্র ও দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
জেরেমি বেন্থাম কোন মতবাদের প্রবক্তা ছিলেন?
  1. সামাজিক চুক্তি
  2. ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. সাম্যবাদ নীতি
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদের

জেরেমি বেন্থাম:

- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'। 
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন।
- যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

নৈতিকতা ও উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

অন্যদিকে,
- ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা জন মিল।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।
- সাম্যবাদ নীতি তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

উৎস: i) Britannica.
         ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
কোন অধিকার নীতি এবং বিবেক দ্বারা জাগ্রত?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. নৈতিক অধিকার
  4. অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত। ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন-ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার।
- ভিক্ষারীকে ভিক্ষা না দিলেও সে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
- তবে নৈতিক অধিকার সমাজ স্বীকৃত। নৈতিক অধিকার সমাজের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এর ফলে নাগরিকের সুকুমার মনোবৃত্তির বিকাশ ঘটে।
- এই নৈতিক অধিকার সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১.
প্লেটো কোন সদ্গুণকে রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন?
  1. ন্যায়
  2. মিতাচার
  3. সাহস
  4. প্রজ্ঞা
ব্যাখ্যা
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
কোন তত্ত্ব অনুযায়ী 'মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল'?
  1. উপযোগবাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. ভাববাদ
  4. উদারতাবাদ
ব্যাখ্যা
বাস্তববাদ:
- বাস্তববাদ (Realism) অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।

⇒ মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
- অর্থাৎ, নৈরাজ্য বাস্তববাদ তত্ত্বের মূল উপাদান।

অন্যদিকে,
ভাববাদ (Idealism):
- যে দার্শনিক মতবাদ ভাব, চৈতন্য বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে তাকে ভাববাদ বলে।
- এ মতানুসারে, বাইরের বস্তু প্রকৃত সত্তা নয়, ভাবের প্রতিচ্ছবিমাত্র।

উদারতাবাদ (Liberalism):
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে।
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।

উৎস: জ্ঞানতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩.
সমাজের ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) ঐক্য
  2. খ) কর্তব্যবোধ
  3. গ) শিষ্টাচার
  4. ঘ) ন্যায়বোধ
ব্যাখ্যা
- একদল মানুষ যখন কোনো সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একত্রিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করে তখন তাকে
সমাজ বলে।
- অন্যভাবে বলা যায়, পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠা জনসমষ্টিকে সমাজ বলে।
- সমাজের ভিত্তি হলো ঐক্য

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৬৪.
'ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও' ও 'বাঁচার জন্য মরো' মূলত কার নৈতিক মতবাদ?
  1. হেগেল
  2. জেরেমি বেন্থাম 
  3. রুশো
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে।
- হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
(১) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সৃষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়। মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতৃপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে। কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মাৎসর্গও করে। হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়।
 
২) বাঁচার জন্য মরো (Die to live): মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক। কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বৃত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকৃত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না। অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববৃত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকৃতপক্ষে সে বেঁচে যাবে। প্রত্যেকটি স্বার্থপর আবেগকে অবশ্যই অস্বীকার করতে হবে অথবা সম্পূর্ণ যৌক্তিক সত্তাময় জীবনের আওতায় আনতে হবে মিথ্যা, অযোগ্য, বিশেষ, স্বতন্ত্র, আলাদা সত্তাকে অবশ্যই লুপ্ত হতে হবে, যদি সত্যিকারের বৌদ্ধিক ব্যক্তিকে বেঁচে থাকতে হয়"।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৬৫.
আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য স্পষ্ট করেন কে? 
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. জন অস্টিন
  3. ম্যাকাইভার
  4. হ্যান্স কোহন
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য স্পষ্ট নির্ণয় করেন ম্যাকিয়াভেলি।

• নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো।
- এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৬.
নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে কোনটি থেকে?
  1. ধর্ম
  2. ঐতিহ্য
  3. মানব আচরণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
-  নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো। এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৭.
সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো-
  1. ক) গণতন্ত্র
  2. খ) বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) সংবিধান
  4. ঘ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
যথার্থ আইনের শাসন গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। যে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে, জনসাধারণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সমাজের সকল মানুষ সমান আইনগত ও বিচারিক সুবিধা পেয়ে থাকে - এমন সমাজকে বলা হয় সভ্য সমাজ। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
৬৮.
নীতিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় কী?
  1. মানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা
  2. জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার কৌশল
  3.  মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯.
নৈতিক সমস্যা কে সর্বপ্রথম তুলে ধরে-
  1. ক) আর্যরা
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) সোফিস্টরা
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
জীবনের ভালো-মন্দের নিহিতভাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে সোফিস্টরাই সর্বপ্রথম নৈতিক সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসেন। সোফিস্টদের মতে মানুষই সবকিছুর পরিমাপক অর্থাৎ নৈতিকতার কোন মানদণ্ড নেই, এটি ব্যক্তি নির্ভর৷ (সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহাম্মদ আবদুল বারী)
৭০.
নৈতিকতা কী ধরনের বিষয়?
  1. ক) আধুনিক
  2. খ) ধর্মীয়
  3. গ) মানসিক
  4. ঘ) রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৭১.
মূল্যবোধ কীসের মাধ্যমে দৃঢ় হয়? 
  1. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  2. সুশাসনের মাধ্যমে
  3. শিক্ষার মাধ্যম
  4. ধর্মের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন। জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
লর্ড ব্রাইস-এর মতে সুনাগরিকের গুণ কয়টি?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা

⇒ সুনাগরিক:
- সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

⇒ সুনাগরিকের গুণাবলি:
- লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
- লর্ড ব্রাইস-এর মতে সুনাগরিকের গুণ ৩টি।
- কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
• বুদ্ধি,
• আত্মসংযম,
• বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও পত্রিকা রিপোর্ট।

৭৩.
নৈতিকতা মূলত কোন ধরনের ব্যাপার?
  1. ব্যক্তিগত
  2. সামাজিক
  3. ব্যক্তিগত ও সামাজিক
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৪.
নীতিবিদ্যাকে "নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান" বলেছেন কে?
  1. পি. ডব্লিও. টেইলার
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. জে.এস. ম্যাকেনজি
  4. উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”
- ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।
- জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে ৷

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫.
জনমত গঠনের জন্যে অত্যাবশ্যক?
  1. ক) তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ
  2. খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. গ) রাজনৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা
ব্যাখ্যা
জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে গণমাধ্যম, সভা-সমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রধান।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৭৬.
নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে কী বলে?
  1. মূল্যবোধ
  2. শুদ্ধাচার
  3. সফলতা
  4. মানবিকতা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতার লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে।
- নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান সততা ও নিষ্ঠা।
- নীতির বিপরীত হলো দুর্নীতি।
- নীতিশাস্ত্রের বিকাশ করেন এরিস্টটল।
- নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে শুদ্ধাচার বলে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৭৭.
নিচের কোনটি মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করে?
  1. ক) সামাজিক শিক্ষা
  2. খ) পারিবারিক শিক্ষা
  3. গ) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. ঘ) নৈতিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
- নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত রেখে পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করে।
- নৈতিক শিক্ষা ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে যা মানুষকে মন্দ পরিহার করে ভালো দিকে ধাবিত করে।

তথ্যসূত্র:- নীতিবিদ্যা, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
সততা সম্পর্কে এরিষ্টটলের মতে কোনটি সঠিক?
  1. সততা কেবল আইনের মাধ্যমে অর্জিত হয়
  2. সততা শুধুমাত্র কর্তব্য পালনের ফল
  3. সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত
  4. সততা জন্মগত প্রবৃত্তি
ব্যাখ্যা
সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- তাই দেখা যায় নৈতিক আদর্শ অনুসারে ভাল কাজ নির্বাচন ও সম্পাদনের মাধ্যমেই যে অভ্যাস গড়ে উঠে তাই সততা।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
‘Morality’ - শব্দটি এসেছে ল্যাটিন -
  1. ক) Moralitas
  2. খ) Moralitis
  3. গ) Morali
  4. ঘ) Moral
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Morality’।
- ইংরেজী এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Moralitas’ থেকে।
- যার অর্থ ‘সঠিক আচরণ বা চরিত্র’।     

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮০.
নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার কোনটি?
  1. কর্মের অধিকার
  2. জীবনধারণের অধিকার
  3. চলাফেরা করার অধিকার
  4. নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার
ব্যাখ্যা

অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার। 

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮১.
‘কর্তব্যমুখী নৈতিকতা’ ধারণার প্রবর্তক বলা হয় কাকে?
  1. স্টুয়ার্ট মিল
  2. রাসেল
  3. হবস
  4. কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।

'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইঃ
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: ব্রিটানিকা
৮২.
"ঐচ্ছিক আচরণ" বলতে কী বোঝায়?
  1. যে আচরণ বাধ্যতামূলক
  2. যে আচরণ আইন দ্বারা পরিচালিত
  3. যে আচরণ স্বপ্রণোদিত হয়ে করা হয়
  4. যে আচরণ সামাজিক চাপের কারণে হয়
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।

উল্লেখ্য,
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ, যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।
- এটি সঠিক ও ভুল, ন্যায় ও অন্যায়, এবং ভালো ও খারাপ আচরণের পার্থক্য নির্ধারণে সহায়ক।
- নীতিবিদ্যার মাধ্যমে মানুষ কীভাবে নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং কীভাবে নৈতিক জীবনযাপন করবে, সেই বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
একটি জাতির সভ্যতা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক কোনটি?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) শৃংখলাবোধ
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৮৪.
"Duty for Duty's Sake" -ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. এ্যারিস্টটল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' বা "Duty for Duty's Sake"-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি, যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

→ সৎ ইচ্ছা (Good Will):
মানুষের আন্তরিক ইচ্ছা যদি সৎ হয়, তাহলেই তার কাজটি নৈতিক হবে। সুতরাং নৈতিকতার মূল উৎস হল সৎ ইচ্ছা বা সদিচ্ছা।

→ কর্তব্যের জন্য কর্তব্য (Duty for Duty's Sake):
মানুষকে কর্তব্য পালন করতে হবে কর্তব্যবোধের কারণেই, কোনো বাহ্যিক প্রলোভন বা চাপের কারণে নয়।

→ শর্তহীন আদেশ (Categorical Imperative):
শর্তহীন আদেশ হল এমন একটি নীতি যা সর্বজনীন ও অবশ্যপালনীয়, কোনো শর্তসাপেক্ষ নয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।
৮৫.
নিচের কোনটি অধিকারের রক্ষাকবচ নয়?
  1. ক) আইন
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) গনতন্ত্র
  4. ঘ) জনগণের সজাগ দৃষ্টি
ব্যাখ্যা
অধিকারের রক্ষাকবচ হলো আইন, গনতন্ত্র, সংবিধানে মৌলিক অধিকার ঘোষণা, আইনের অনুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনগণের সজাগ দৃষ্টি ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৬.
শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে -
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানব মনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা: 
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour. 
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৮৭.
মানুষের যাবতীয় কার্যাবলি এবং আচার-আচরণের ভালো-মন্দ ও ন্যায়নীতি নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে কী বলে?
  1. সমাজবিজ্ঞান
  2. নীতিশাস্ত্র
  3. ধর্মশাস্ত্র
  4. মনোবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র: 
- মানুষের যাবতীয় কার্যাবলি এবং আচার-আচরণের ভালো-মন্দ ও ন্যায়নীতি নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে নীতিশাস্ত্র বলে। 
- নাগরিকতা ও জাতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দিক নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি ও সুশাসন বলে।
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকগণ পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে নীতিশাস্ত্রের অন্যতম শাখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের লক্ষ্য হলো এক এবং তা হল আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা। 
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র একে অপরের পরিপূরক ও সহায়ক। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৮.
‘Ethics may be defined as the study of what is right or good in conduct.’ উক্তিটি কার?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা (Ethics):
-নৈতিকতা হলো এমন একটি শাস্ত্র বা দর্শন, যা মানুষের সঠিক ও ভুল, ভালো ও মন্দ, এবং ন্যায় ও অন্যায় আচরণ সম্পর্কে বিচার ও বিশ্লেষণ করে।
- এটি আমাদের শেখায়- কোন কাজ করা উচিত আর কোনটা অনুচিত, এবং কেন তা উচিত বা অনুচিত।

অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি এর মতে:
"Ethics may be defined as the study of what is right or good in conduct."
অর্থাৎ, নৈতিকতা হলো আচরণে কী সঠিক বা ভালো, তা নিয়ে অধ্যয়ন।
- তার মতে, নৈতিকতা কোনো একক বা সংকীর্ণ ধারণা নয়।
- এটি মানুষের আচরণের সর্বজনীন মানদণ্ড নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া।
- এটি কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব জীবনের আচরণগত নির্দেশনাও প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৯.
নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য- 
  1. স্বার্থরক্ষা
  2. কল্যাণ সাধন
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
  4. ধর্মীয় নিয়ম রক্ষা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
-  নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯০.
নৈতিকতা বিষয়ক দর্শন “Beyond Good and Evil” - বইটি কার লেখা?
  1. ক) Aristotle
  2. খ) Friedrich Nietzsche
  3. গ) Jonathan Haidt
  4. ঘ) Plato
ব্যাখ্যা
Friedrich Nietzsche - একজন জার্মান দার্শনিক। তার লেখা অন্যান্য বই -
On the Genealogy of Morality,
Revaluation of All Values ইত্যাদি।
তার লেখা Beyond Good and Evil বইটি ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
৯১.
'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে' এটি কার অভিমত?
  1. গার্ডনার মারফি
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জোনাথান হেইট
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা: 
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। 
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৯২.
Morality শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. স্প্যানিশ
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা (Morality):
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিক অনুশাসনের প্রভাবে মানুষ আইন মানে, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করে না এবং রাষ্ট্রের অনুশাসনকে শ্রদ্ধা করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো-
  1. ক) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
  3. গ) সামাজিক উন্নয়ন
  4. ঘ) রাজনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৯৪.
নৈতিকতা বা নীতিবোধ কোথা থেকে উৎসারিত হয়?
  1. আইন থেকে
  2. সমাজ থেকে
  3. মানুষের হৃদয়-মন থেকে
  4. রাষ্ট্র থেকে
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি, যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- এর বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট মনে করেন,
'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন,
'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'

- নৈতিকতার সংজ্ঞায় Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে,
'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour.'

- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে,
'নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৯৫.
নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্যে কোনটি অত্যাবশ্যক?
  1. ক) উচ্চশিক্ষা
  2. খ) অধিকার ভোগ
  3. গ) ধর্মীয় শিক্ষা
  4. ঘ) রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য।
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। এগুলো ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৬.
নীতিবিদ্যাকে 'নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান' বলেছেন কে?
  1. উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. পি. ডব্লিও, টেইলার
  4. জে.এস. ম্যাকেনজি
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।"
- ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।
- জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭.
প্লেটোর মতে নিচের কোনটি সদগুণ (Virtue) নয়?
  1. ক) প্রজ্ঞা
  2. খ) বিনয়
  3. গ) সাহস
  4. ঘ) মিথ্যাচার
ব্যাখ্যা
ইংরেজিতে যাকে Virtue বলা হয়, সেটাকে বাংলায় বলে - সদগুণ।
Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা। 
এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদগুণ বলা হয়।

প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।  
এগুলো হচ্ছে : 
- প্রজ্ঞা, 
- সাহস, 
- মিতাচার বা বিনয় ও 
- ন্যায়। 
এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন। তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।
=============
অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদগুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন। 
নৈতিক সদগুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে। 
তদ্‌স্বত্বেও বলা যায়, কিছু কিছু সদগুণ প্রায় সর্বকালে এবং সর্বদেশেই আদৃত, যেমন ন্যায়, সততা, সত্যবাদিতা, ইত্যাদি। 

অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘Nicomachean Ethics’ - এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদগুণের সষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে। আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়। 

উৎস: নীতিবিদ্যা, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা নং - ২০।
৯৮.
'নীতিবিদ্যা হল সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত এমন একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান'- উক্তিটি করেছেন -
  1. পি. ডব্লিও. টেইলার
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার
  4. জে.এস. ম্যাকেনজি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
⇒ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে উইলিয়াম লিলি'র মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"।

অন্যদিকে, 
⇒ উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা"।

⇒ পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, "নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।"

⇒ ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।

⇒ জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে। তাঁর ভাষায় "নীতিবিদ্যা হচ্ছে আচরণের সাধারণ মতবাদ এবং মানুষকে তাদের যথোচিত্য ও অ-যথোচিত্য এবং তাদের শুভ বা অশুভের প্রবণতার নিরিখে বিবেচনা করে"।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
‘আইনের চোখে সকলে সমান’ উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) অধ্যাপক ডাইসি
  4. ঘ) অধ্যাপক হারমান ফাইনার
ব্যাখ্যা
‘আইনের চোখে সকলে সমান’ উক্তিটি কে করেছেন অধ্যাপক ডাইসি। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
১০০.
সক্রেটিস বলেছেন -
  1. আভিজ্ঞতাই জ্ঞানের উৎস
  2. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে
  3. সৎ গুণই জ্ঞান
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।

উল্লেখ্য,
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। 
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidr) মনে করেন, ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা'।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.
- এরিস্টটলের মতে আভিজ্ঞতাই জ্ঞানের উৎস।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।