বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩৯৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৩৯৪

.
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা -
  1. ৬ ঘণ্টা অগ্রগামী
  2. ৬ ঘণ্টা পশ্চাৎগামী
  3. ৪ ঘণ্টা অগ্রগামী
  4. ৪ ঘণ্টা পশ্চাৎগামী
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা অগ্রগামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা অগ্রগামী
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান:
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

⇒ বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা।
- অর্থাৎ, ৬ ঘণ্টা অগ্রগামী।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে, তাদের কী বলা হয়?
  1. গ্রহ
  2. উপগ্রহ
  3. নক্ষত্র
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star):
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
​- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই।
​- এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
​- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 

​উল্লেখ্য,
​​- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। 
​- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
​- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
​- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

​​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।

.
On which planet in our solar system is the Great Red Spot visible?
  1. Mercury
  2. Jupiter
  3. Venus
  4. Saturn
  5. Uranus
সঠিক উত্তর:
Jupiter
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Jupiter
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি: 
- বৃহস্পতি সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। 
- বৃহস্পতি গ্রহকে গ্রহরাজ বলা হয়। 
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই। 
- সৌরজগতে বৃহস্পতির দ্বিতীয় সর্বাধিক উপগ্রহ রয়েছে। 
- বৃহস্পতি গ্রহে বৃহৎ লাল বিন্দু (Great Red Spot) দেখা যায়। 
- সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ।
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ এবং ইউরেনাস সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ। 
- মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মঙ্গল গ্রহের ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় -
  1. অর্ধেক
  2. সমান
  3. দ্বিগুণ
  4. তিনগুণ
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
ব্লাক হোল সম্পর্কিত ভুল তথ্য কোনটি?
  1. ক) এর ভর অনেক কম
  2. খ) এর মহাকর্ষীয় শক্তি অনেক বেশি
  3. গ) এটির আবিষ্কারক বিজ্ঞানী জন হুইলার
  4. ঘ) এটি মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি ধারণা
সঠিক উত্তর:
ক) এর ভর অনেক কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এর ভর অনেক কম
ব্যাখ্যা
ব্লাক হোল বা কৃষ্ণবিবর মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত ধারণা। এই ধারণা অনুযায়ী কৃষ্ণ বিবর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তাড়িত চৌম্বক বিকিরণকেও (যেমন: আলো) নয়। প্রকৃতপক্ষে এই স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশী হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্য সকল বলকে অতিক্রম করে। ফলে এ থেকে কোন কিছুই বের হতে পারে না। মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার ১৯৬৯ সালে ব্লাক হোল আবিষ্কার করেন।
.
এক্সোপ্ল্যানেট বলতে কী বোঝায়?
  1. সৌরজগতের গ্রহসমূহ
  2. পৃথিবীর উপগ্রহ (চাঁদ)
  3. মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো ছোট পাথুরে বস্তু (গ্রহাণু)
  4. সূর্য ছাড়া অন্য নক্ষত্রের চারপাশে আবর্তনকারী গ্রহ
সঠিক উত্তর:
সূর্য ছাড়া অন্য নক্ষত্রের চারপাশে আবর্তনকারী গ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য ছাড়া অন্য নক্ষত্রের চারপাশে আবর্তনকারী গ্রহ
ব্যাখ্যা

◉ যেসব গ্রহ আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্য কোনো তারাকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে, তাদের বলা হয় এক্সোপ্ল্যানেট

এক্সোপ্ল্যানেট (Exoplanet):
- Exoplanet হলো যেকোনো গ্রহ যা আমাদের সৌরজগতের বাইরে অবস্থান করে।
- বেশিরভাগ Exoplanet অন্য কোনো তারাকে কেন্দ্র করে ঘোরে।
- কিছু Exoplanet তারার সাথে যুক্ত নয়, এগুলোকে বলা হয় Rogue Planet.
- এখন পর্যন্ত প্রায় ৬,০০০টি Exoplanet নিশ্চিতভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে। ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বে গ্রহের সংখ্যা তারার সংখ্যার চেয়েও বেশি।
- আবিষ্কৃত Exoplanet গুলোর বেশিরভাগই আমাদের গ্যালাক্সি Milky Way-এর একটি ছোট অঞ্চলে পাওয়া গেছে।
- পৃথিবীর নিকটতম Exoplanet হলো Proxima Centauri b, যা প্রায় ৪ আলোকবর্ষ দূরে।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে এমন এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজছেন যেগুলো “হ্যাবিটেবল জোনে” (তারার চারপাশে এমন অঞ্চলে যেখানে তরল পানি থাকতে পারে), কারণ এগুলোতে জীবনের সম্ভাবনা থাকতে পারে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। 

.
নিচের কোন গ্রহকে পৃথিবীর evil twin বলা হয়?
  1. শনি
  2. শুক্র
  3. মঙ্গল
  4. বৃহস্পতি
সঠিক উত্তর:
শুক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুক্র
ব্যাখ্যা

• শুক্রকে পৃথিবীর দুষ্ট যমজ বলার কারণ:

⇒ শুক্র এবং পৃথিবীকে মাঝে মাঝে যমজ বলা হয় কারণ তারা প্রায় একই আকারের। শুক্র গ্রহ প্রায় পৃথিবীর মতোই বড়। তারা সৌরজগতের একই অভ্যন্তরীণ অংশে গঠিত হয়েছিল। শুক্র আসলে পৃথিবীর আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। তাই তারা সৌরজগতের একই অংশে গঠিত হয়েছিল, একই উপকরণ দিয়ে তৈরি। তারা প্রায় একই আকারের।

• শুক্র গ্রহ:
- শুক্র সূর্য থেকে দ্বিতীয় গ্রহ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী গ্রহ।
- এটি সূর্য ও চাঁদের পর আকাশের তৃতীয় উজ্জ্বল বস্তু।
- শুক্র ধীরে এবং অধিকাংশ গ্রহের বিপরীত দিকে ঘূর্ণন করে।
- এর গঠন ও আকার পৃথিবীর অনুরূপ, তাই একে কখনও পৃথিবীর দুষ্ট যমজ (evil twin) বলা হয়।
- শুক্রের ঘন বায়ুমণ্ডল তাপ ধরে রাখে, যা গ্রীনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রহ, যেখানে তাপমাত্রা সীসা গলানোর মতো বেশি।
- ঘন মেঘের নিচে এর পৃষ্ঠে আগ্নেয়গিরি এবং বিকৃত পর্বত রয়েছে।

উৎস: NASA. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

.
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, নাসার সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. পেনসিলভেনিয়া
  2. কেপ কেনেডি
  3. ফ্লোরিডা
  4. ওয়াশিংটন ডি.সি
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিংটন ডি.সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিংটন ডি.সি
ব্যাখ্যা

NASA:
- NASA মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
- NASA-এর পূর্ণরূপ হলো: National Aeronautics and Space Administration.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৯ জুলাই, ১৯৫৮।
- বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু: ১ অক্টোবর, ১৯৫৮।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা হিসেবে মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি উন্নয়ন, এবং মহাকাশ অনুসন্ধানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।

.
এক আলোক বর্ষ বলতে কী বোঝায়? 
  1. এক বছরে উৎপন্ন আলোর পরিমাণ
  2. পৃথিবী এক বছরে যত আলো পায়
  3. সূর্য এক বছরে যতটা ঘোরে
  4. আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে
সঠিক উত্তর:
আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে
ব্যাখ্যা
নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। 
- খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। 
- এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। 

- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। 
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। 
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
'জে ০৪১০-০১৩৯' কী?
  1. গ্রহ
  2. উপগ্রহ
  3. কৃষ্ণগহ্বর
  4. মহাকাশযান
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর (Black hole):
 - সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণগহ্বর (Black hole)।
- ১৯৬৯ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর শব্দটি ব্যবহার করেন।
- পৃথিবী থেকে ১ হাজার ২৯০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে থাকা এক সুপার ম্যাসিভ বা বড় আকারের কৃষ্ণগহ্বর হচ্ছে জে০৪১০-০১৩৯।
- কৃষ্ণগহ্বরটির ভর প্রায় ৭০ কোটি সূর্যের সমান।

সম্প্রতি,
- এই কৃষ্ণগহ্বর (ব্ল্যাকহোল) থেকে অতি শক্তিশালী রশ্মি সরাসরি আমাদের পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
- বিগ ব্যাং বিস্ফোরণের প্রায় ১০ কোটি বছর পর এই রশ্মি নির্গত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- বড় আকারের কৃষ্ণগহ্বরটি মহাবিশ্বের প্রথম সময়কার তথ্যাদি জানতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
১১.
স্পুটনিক-১ মহাকাশযান কোন দেশ তৈরি করেছে?
  1. চীন
  2. রাশিয়া
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
ব্যাখ্যা
- স্পুটনিক ছিল একাধিক কৃত্রিম উপগ্রহের একটি সিরিজ, যার প্রথমটি ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়ন(রাশিয়া) থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমেই শুরু হয় মহাকাশ যুগ।
- স্পুটনিক ১ ছিল বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ।
- এটি একটি ৮৩.৬ কেজি (১৮৪ পাউন্ড) ওজনের ধাতব ক্যাপসুল ছিল।
- এটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকে—যার সর্বোচ্চ দূরত্ব (অ্যাপোজি) ছিল ৯৪০ কিমি এবং সর্বনিম্ন দূরত্ব (পেরিজি) ছিল ২৩০ কিমি।
- প্রতি ৯৬ মিনিটে এটি একবার করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করত।
- স্পুটনিক ১ প্রায় তিন মাস কক্ষপথে ঘুরে ১৯৫৮ সালের ৪ জানুয়ারি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যায়।
- এই উৎক্ষেপণ আমেরিকানদের মাঝে প্রবল আলোড়ন তোলে—কারণ তারা ভাবত, যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের চেয়ে এগিয়ে।
- এই ঘটনার পর শুরু হয় মহাকাশ প্রতিযোগিতা, যা ঠান্ডা যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

উৎস: Britannica.
১২.
বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্ব শুরুতে যা ছিল তাকে কী বলা হয়? 
  1. অনন্যতা
  2. হ্যাড্রন
  3. ডার্ক ম্যাটার 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
অনন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্যতা
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হতে পারা যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 

- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদূর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাং তত্ত্ব। 
- বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুর করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংয়ের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংয়ের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- বিগ ব্যাং-এর পর 10-43 s পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা কেউ জানতে পারেনি, কিছুটা ধারণা পেয়েছে মাত্র। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে যাকে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
পালসার কী? 
  1. ঘূর্ণায়মান নিউট্রন স্টার
  2. ব্ল্যাক হোলের প্রকার
  3. গ্যালাক্সির কেন্দ্র
  4. সাদা বামন তারকা
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান নিউট্রন স্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান নিউট্রন স্টার
ব্যাখ্যা

◉ পালসার (Pulsar) হলো একটি দ্রুত ঘূর্ণায়মান নিউট্রন স্টার, যা সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর তৈরি হয়। এরা অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র বহন করে এবং ঘূর্ণনের সময় থেকে রেডিও, এক্স-রে, গামা রে তরঙ্গ আকারে বিকিরণ নির্গত করে। এই বিকিরণ ঘূর্ণনের সাথে সাথে পৃথিবীর দিকে নিয়মিত বিরতিতে পৌঁছে, ফলে আমরা একে পালস (pulse) আকারে পাই। তাই নাম হয়েছে Pulsar.

​কৃষ্ণবিবর বা কৃষ্ণগহ্বর:
- একটি তারকায় যদি যথেষ্ট ভর ও ঘনত্ব থাকে তাহলে তার মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র এত শক্তিশালী হবে যে, আলো সেখান থেকে নির্গত হতে পারবে না। সেই তারকার পৃষ্ঠ হতে নির্গত আলো বেশি দূরে যাওয়ার আগেই তারকাটির মহাকর্ষীয় আকর্ষণ তাকে পেছনে টেনে নিয়ে আসবে। ঐ সব তারকা থেকে আলো আসতে পারে না বলে আমরা এদের দেখতে পাই না। তবে এদের মহাকর্ষ আকর্ষণ আমাদের বোধগম্য হবে, এই সমস্ত বস্তুপিণ্ডকে কৃষ্ণবিবর বা কৃষ্ণগহ্বর বলে।

​ডার্ক ম্যাটার বা অদৃশ্য বস্তু:
- গ্যালাক্সিতে বিপুল পরিমাণ ভর রয়েছে যা মহাকর্ষ বল সরবরাহ করে কিন্তু কোনো তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ নিঃসরণ না করায় তা' দৃশ্যমান হয় না, এদেরকেই অদৃশ্য ভর বা ডার্ক ম্যাটার বলে। ধারণা করা হয় গ্যালাক্সিতে অদৃশ্য ভরের পরিমাণ দৃশ্যমান ভরের প্রায় দশগুণ।

​ডার্ক এনার্জি বা অদৃশ্য শক্তি:
- মহাবিশ্বে মহাকর্ষের বিপরীতে একটি বল ক্রিয়াশীল রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যা মহাবিশ্বের প্রসারণকে ত্বরান্বিত করছে। একে অদৃশ্য শক্তি বা ডার্ক এনার্জি বলা হয় ।

​নিউট্রন নক্ষত্র বা পালসার:
- কোনো নক্ষত্র যখন সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়, তখন এর কোর বা মূলবস্তুর চাপ এত বেশি হয় যে, প্রোটন ও ইলেকট্রন একত্রিত হয়ে নিউট্রন গঠন করে। তাই একে নিউট্রন নক্ষত্র বলা হয়। নিউট্রন নক্ষত্রের সাথে জড়িত থাকে অতি উচ্চ চৌম্বক ক্ষেত্র। এটি তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর রেডিওপাল্‌স বা বেতার স্পন্দন নির্গমন করে, তাই একে পালসার বলা হয়।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)

১৪.
বৃহস্পতি আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে কত গুণ বড়?
  1. ১৩ গুণ
  2. ১৩০ গুণ
  3. ১৩০০ গুণ
  4. ১৩০০০ গুণ
সঠিক উত্তর:
১৩০০ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০০ গুণ
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ।
- একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- বৃহস্পতি আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৭৯টি (নাসার তথ্য অনুসারে ৯৫টি)।
- এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৫.
নিচের কোন গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই?
  1. বুধ
  2. বৃহস্পতি
  3. মঙ্গল
  4. পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
বুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুধ
ব্যাখ্যা
গ্রহ: 
- গ্রহসমূহ সাধারণত গোলাকৃতির, গ্রহগুলোতে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ রয়েছে। 
- কিন্তু গ্রহগুলো নিজেরা শক্তি উৎপাদন করে না, তাই কোনো গ্রহ নিজে আলো বা তাপ নিঃসরণ করে না। 
- পৃথিবী থেকে সূর্যের অন্যান্য গ্রহকে উজ্জ্বল দেখালেও এগুলো আসলে সূর্যের আলোতে আলোকিত। 
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ। 
যেমন- 
বুধ: 
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। 
- বুধ গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। 

শুরু: 
- পৃথিবী থেকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরবেলায় শুকতারা রূপে যে তারাটি দেখা যায়, সেটি কোনো নক্ষত্র নয়। এটি আসলে সূর্যের একটি গ্রহ, যার নাম শুক্র। 
- সূর্যের আলো এ গ্রহের উপরে পড়ে, তাই একে আলোকিত দেখা যায়। 

পৃথিবী: 
- কেবল পৃথিবীতেই জীবনের জন্য উপযোগী উপকরণ ও পরিবেশ রয়েছে। 
- পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় গ্রহ। 

মঙ্গল: 
- মঙ্গলকে কখনো কখনো লাল গ্রহ বলা হয় কারণ এর পৃষ্ঠ লাল রঙের। এর পৃষ্ঠ ধূলিময় এবং খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। 
- মঙ্গলের মাটির নিচে পানি থাকার সম্ভাবনা আছে বলে বিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন। 

বৃহস্পতি: 
- বৃহস্পতি সূর্যের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ। 
- এটিতে শুধু গ্যাসই রয়েছে, কোনো কঠিন পৃষ্ঠ নেই। 

শনি: 
- শনি গ্রহটিও কেবল গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটিকে ঘিরে কতগুলো রিং বা আংটা রয়েছে। 

ইউরেনাস: 
- ইউরেনাস গ্যাস ও বরফ দিয়ে গঠিত। 

নেপচুন: 
- নেপচুনও অনেকটা ইউরেনাসের মতো একটি গ্রহ। 
- এছাড়া প্লুটো নামক একটি জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলা হতো। কিন্তু ২০০৬ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে, এটি একটি ক্ষুদ্র অসম্পূর্ণ গ্রহাণু। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৬.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি? 
  1. কোয়াসার
  2. নিউট্রন স্টার
  3. কৃষ্ণবিবর
  4. বোসন কণা
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার
ব্যাখ্যা
কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
ধূমকেতু কীভাবে ছুটে চলে?
  1. গ্রহসমূহের আবর্তন পথের সোজাদিকে
  2. গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে
  3. বৃত্তাকার কক্ষপথে
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু (Halley's Comet):
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক।
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ।
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।

⇒ হ্যালির ধূমকেতু ৭৬ বছর পরপর দেখা যায়। 
- ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধুমকেতু সর্বশেষ দেখা গেছে।
- হ্যালির ধূমকেতু আবার দেখা যাবে ২০৬১ সালে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA ওয়েবসাইট।
১৮.
কোন দ্রাঘিমা রেখাটি 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা' হিসেবে পরিচিত?
  1. ০° দ্রাঘিমা রেখা
  2. ৯০° দ্রাঘিমা রেখা
  3. ১২০° দ্রাঘিমা রেখা
  4. ১৮০° দ্রাঘিমা রেখা
সঠিক উত্তর:
১৮০° দ্রাঘিমা রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০° দ্রাঘিমা রেখা
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

⇒ ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারনের এই সমস্যা সমাধানের উদেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
- আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালিতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে যে গ্যাসীয় পদার্থসমূহের বলয় রয়েছে তা হল -
  1. ধূমকেতু
  2. নক্ষত্র
  3. গ্রহাণুপুঞ্জ
  4. উল্কা
সঠিক উত্তর:
গ্রহাণুপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহাণুপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ সৌরজগতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
- সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত সূর্যের প্রবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বিভিন্ন আকারের গ্রহ (Planet) একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে, ডিম্বাকৃতির একটি পথে ক্রমাগত আবর্তিত হচ্ছে।
- এই পথটি কক্ষপথ নামে পরিচিত।
- আবার গ্রহসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকারের কিছু গোলাকার বস্তু, যা উপগ্রহ (Satellite) পরিচিত।
- যেমন: পৃথিবী নামক গ্রহটিকে ঘিরে আবর্তিত হয় চাঁদ নামক উপগ্রহ।

⇒ প্রায় এক কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট গ্রহাণু সংখ্যা প্রায় ১৭০০টি।
- বুধ সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- মঙ্গল ও বৃহস্পতি নামক গ্রহ দুইটির কক্ষপথের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে এক কিলোমিটার বা তার চেয়ে ক্ষুদ্রায়তনের হাজার হাজার গ্রহাণু (Asteroids), লক্ষ লক্ষ ধূমকেতু (Comet), উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteoroids), সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিভিন্ন ধরনের গ্যাসীয় পদার্থসমূহের এক বলয়, যা গ্রহানুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে' কোন বিজ্ঞানী প্রথম ধারণা করেছিলেন? 
  1. আইজ্যাক নিউটন 
  2. জোহান কেল্লার 
  3. নিকোলাস কোপার্নিকাস 
  4. গ্যালিলিও গ্যালিলি
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কোপার্নিকাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কোপার্নিকাস 
ব্যাখ্যা

নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেল্লার (১৫৭১-১৬৩০) গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি: 
- গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। 
- পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

আইজ্যাক নিউটন: 
- আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে শনির সময় লাগে -
  1. ১ বছর
  2. ১১ বছর
  3. ২২ বছর
  4. ২৯ বছর
সঠিক উত্তর:
২৯ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯ বছর
ব্যাখ্যা
শনি (Saturn):
- সূর্য থেকে শনির গড় দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে শনির সময় লাগে ২৯ বছর।
- এর ব্যাস প্রায় ১,২০,০০০ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
"Pillars of Creation" বলা হয় কোনটিকে?
  1. পৃথিবী
  2. নীহারিকা
  3. বৃহস্পতি
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
নীহারিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীহারিকা
ব্যাখ্যা
নীহারিকা (Nebula):
- সৃষ্টি জগতের সকল উপাদানকে একত্রে মহাবিশ্ব বলা হয়।
- মহাকাশে বিরাজমান সকল নক্ষত্র, গ্রহ-উপগ্রহ, গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, উল্কা, ধূমকেতু এবং জৈব ও অজৈব জগতের সকল মহাজাগতিক পদার্থসমূহকে ব্যাপক মহাবিশ্ব ও জ্যোতিষ্কমন্ডলী অর্থে 'জ্যোতিষ্ক' বলে।

⇒ নীহারিকা বা নেবুলা (Nebula) হলো ধুলা, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও আয়নিত গ্যাসের আন্তর্মহাকাশীয় মেঘ।
- নীহারিকা হলো নক্ষত্রের জন্মস্থান।
- মহাকর্ষের টানে গ্যাসীয় কণাগুলো একত্র হয়ে ধীরে ধীরে নক্ষত্র গঠন করে।
- নীহারিকা প্রধানত গ্যাস, ধুলা ও প্লাজমা দ্বারা গঠিত।
- নীহারিকাগুলো মূলত অবস্থিত আন্ত নাক্ষত্রিক শূন্যস্থান বা interstellar medium (ISM)-এ।
- নীহারিকার মেঘস্তম্ভকে নক্ষত্র সৃষ্টির আধার হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- তাই নাসার বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন "Pillars of Creation"।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
হিগস কণা (Higgs Boson) আবিষ্কারের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার
  2. স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ
  3. হাবল স্পেস টেলিস্কোপ
  4. কেপলার স্পেস অবজারভেটরি
সঠিক উত্তর:
লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার
ব্যাখ্যা
◉ লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার (LHC) বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী পার্টিকল অ্যাক্সিলারেটর, যা সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত CERN-এ স্থাপন করা হয়েছে। ২০১২ সালে এখানেই হিগস বোসনের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়, যা পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেল এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হিগস বোসন: 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। 
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। 
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্ডরিত হয়। 
এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা ( God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 
২৪.
'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. টলেমি
  4. জি ল্যামেটার
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
• 'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।

- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল, হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটি বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।

• স্টিফেন হকিং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time।
- তাই বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design.

উৎস: ব্রিটানিকা
২৫.
সূর্যের পৃষ্ঠের আনুমানিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৪৫০০° সেলসিয়াস
  2. ৪৮০০° সেলসিয়াস
  3. ৬০০০° সেলসিয়াস
  4. ৭৫০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮.৩২ মিনিট বা ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৬.
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. আর্লিবার্ড হল
  2. এস্ট্রোলার হল
  3. ওবেরী হল
  4. কসমস
সঠিক উত্তর:
আর্লিবার্ড হল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্লিবার্ড হল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ হলো ইনটেলসেট-1 যার আরেক নাম আর্লি বার্ড ( Early Bird)। 
- এই কৃত্রিম উপগ্রহটি ৬ এপ্রিল ১৯৬৫ সালে মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। 

- On April 6, 1965, NASA launched the world’s first commercial communications satellite Intelsat I (a.k.a. Early Bird) into a geosynchronous orbit above earth. 

উৎস: নাসার ওয়েবসাইট।
২৭.
সূর্যের শক্তির উৎস কী?
  1. দহন
  2. নিউক্লিয়ার ফিশন
  3. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  4. রেডিওঅ্যাকটিভিটি
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়ার ফিউশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়ার ফিউশন
ব্যাখ্যা
ফিউশন বিক্রিয়া (Fusion Reaction):
- ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্য শক্তি উৎপন্ন করে।
- ফিউশন বিক্রিয়া হলো নক্ষত্রগুলোর প্রধান শক্তি উৎস এবং হালকা মৌলগুলোর নিউক্লোসিনথেসিসের (নিউক্লিয়ার সংশ্লেষণ) প্রধান প্রক্রিয়া।
- ১৯৩০-এর দশকে হান্স বেতে প্রথম হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসের ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ডিউটেরিয়াম গঠনের ফলে বিশাল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় বলে চিন্তাধারা উপস্থাপন করেন।
- এই বিক্রিয়ার ক্রমাগত সংঘটনের ফলে হিলিয়াম তৈরি হয়, যা সাধারণ নক্ষত্রগুলোর (যেমন সূর্য) মূল শক্তির উৎস।
- ফিউশন বিক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে নক্ষত্রের কেন্দ্রীয় প্লাজমার তাপমাত্রা ১৫,০০০,০০০ কে (কেলভিন) বা তার কম হতে হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো একত্রে মিশে হিলিয়ামে রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি উৎপন্ন করে।
- ফিউশন বিক্রিয়া বিশ্বের শক্তি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

উৎস: Britannica.
২৮.
ঢাকার দ্রাঘিমা ৯০° পূর্ব এবং রিয়াদের দ্রাঘিমা ৪৫° পূর্ব। ঢাকার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা হলে সেই সময় রিয়াদের স্থানীয় সময় কত? 
  1. সকাল ১১ টা
  2. রাত ১২ টা
  3. রাত ১১ টা
  4. সকাল ১০ টা
সঠিক উত্তর:
সকাল ১১ টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকাল ১১ টা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ঢাকার দ্রাঘিমা ৯০° পূর্ব এবং রিয়াদের দ্রাঘিমা ৪৫° পূর্ব। ঢাকার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা হলে সেই সময় রিয়াদের স্থানীয় সময় কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি,
প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য = ৪ মিনিট
ঢাকা ও রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য = (৯০ - ৪৫)° = ৪৫°
সুতরাং, সময়ের পার্থক্য হবে = (৪৫ × ৪) মিনিট = ১৮০ মিনিট = ৩ ঘণ্টা 

প্রশ্নে উল্লিখিত ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা দেখে বুঝা যায়, রিয়াদ ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত। তাই ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে এই ৩ ঘণ্টা বাদ যাবে।
সুতরাং, রিয়াদের স্থানীয় সময় হবে, 
= দুপুর ২ টা - ৩ ঘণ্টা। এখানে দুপুর ২টা বলতে ১৪টা হবে।
= ১৪ টা – ৩ ঘণ্টা
= ১১ টা 
∴ রিয়াদের স্থানীয় সময় হবে সকাল ১১ টা ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় কত ডিগ্রি সেলসিয়াস? 
  1. ৭৫০০° সেলসিয়াস
  2. ৬০০০° সেলসিয়াস
  3. ৩০০০° সেলসিয়াস
  4. ৪৫০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০.
বৃহস্পতি কোন ধরনের গ্রহ হিসেবে পরিচিত? 
  1. লাল গ্রহ 
  2. গ্রহরাজ 
  3. সূর্যের নিকটতম গ্রহ 
  4. ক্ষুদ্রতম গ্রহ 
সঠিক উত্তর:
গ্রহরাজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহরাজ 
ব্যাখ্যা

বৃহস্পতি: 
- বৃহস্পতি সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। 
- বৃহস্পতি গ্রহকে গ্রহরাজ বলা হয়। 
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই। 
- সৌরজগতে বৃহস্পতির দ্বিতীয় সর্বাধিক উপগ্রহ রয়েছে। 
- বৃহস্পতি গ্রহে বৃহৎ লাল বিন্দু (Great Red Spot) দেখা যায়। 

অন্যদিকে,
- সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ।
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ এবং ইউরেনাস সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ। 
- মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১.
General relativity বইতে মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন কে?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. জন হুইলার
  4. স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণবিবর (Black hole):
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অবস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না।
- তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না।
- নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)।
- ১৯৬৭ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।

উল্লেখ্য,
- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন আলবার্ট আইনস্টাইন।
- ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর General relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন।
- আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন।
- তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয় Event Horizon Telescope (EHT).

⇒ Black hole এর বৈশিষ্ট্য:
- এতে মহাকর্ষ এতো বেশি থাকে যে আলোও এর থেকে বের হতে পারে না।
- Black Hole ছোট বা বড় যেকোনো আকারের হতে পারে
- Black Hole দেখা যায় না।

উৎস: i) Space.com
ii) পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
 কৃষ্ণগহবর হতে এমনকি আলোও বের হতে পারে না, কারণ -
  1. মহাকর্ষ শক্তি খুবই বেশি
  2. মহাকর্ষ শক্তি খুবই কম
  3. ভাসমান ধূলিকণা খুবই বেশি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ শক্তি খুবই বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ শক্তি খুবই বেশি
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণবিবর (Black hole):
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অবস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না, তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না।
- নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)।
- ১৯৬৭ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য,
- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর General relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন।
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয় Event Horizon Telescope (EHT).

⇒ কৃষ্ণবিবর (Black hole)- এর বৈশিষ্ট্য:
- এতে মহাকর্ষ  শক্তি এত বেশি থাকে যে আলোও এর থেকে বের হতে পারে না।
- Black Hole ছোট বা বড় যেকোনো আকারের হতে পারে।
- Black Hole দেখা যায় না।

উৎস: i) Space.com
ii) পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
২১ জুন সূর্য কোন রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. মকরক্রান্তি
  2. বিষুবরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি
ব্যাখ্যা
২১ জুন:
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত।
- ২১ জুন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ঠিক উপরে লম্বভাবে ৯০ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে।

উল্লেখ্য,
- কর্কটক্রান্তি রেখা বা অক্ষাংশ বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- সূর্য উত্তরায়নের শেষ সীমাও এই দিনে সংঘটিত হয়।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই দিনটি কর্কটক্রান্তি দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
  1. ৬ মিনিট
  2. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৭ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• সূর্য:
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড বা ৮.৩২ মিনিট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫.
'The Grand Design' বইটির লেখক কে?
  1. জামাল নজরুল ইসলাম
  2. জি. লেমেটার
  3. টমাস মুর
  4. স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং:
- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ স্টিফেন হকিং।
- তিনি মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ:
A brief history of time,
The Universe in a Nutshell,
The grand design.

উৎস: Physics today &  Encyclopaedia Britannica.
৩৬.
ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কী বলা হয়?
  1. কসমিক ইয়ার
  2. সৌর বছর
  3. আলোক বর্ষ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কসমিক ইয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কসমিক ইয়ার
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ:
- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে।
- এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
- ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।

তথ্যসুত্র - Britannica.com
৩৭.
নিচের কোনটি ব্ল্যাক হোলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) ভর অসীম
  2. খ) আয়তন অসীম
  3. গ) ঘনত্ব অসীম
  4. ঘ) মুক্তিবেগ অসীম
সঠিক উত্তর:
খ) আয়তন অসীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আয়তন অসীম
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
৩৮.
হিগস বোসন কণা কী নামে পরিচিত?
  1. লিনিয়ার কণা
  2. অন্ধকার কণা
  3. আলোক কণা
  4. ঈশ্বর কণা
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর কণা
ব্যাখ্যা
• হিগস বোসন কণা ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত। 

• হিগস কণা:
- ১৯৬৪ সালে পিটার হিগস এবং তাঁর পাঁচ সহযোগী মিলে সর্বপ্রথম এই কণা সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রদান করেন।
- এই কণা পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেলে উল্লিখিত ১৭ টি মৌলিক কণার একটি।
- সুইজারল্যান্ডের  সার্ন (European Organization for Nuclear Research, CERN) এর লার্জ হ্যাডরন কোলাইডার (Large Hadron Collider) বা LHC যন্ত্রে ২০১৩ সালে এ কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
- এ বছরই পিটার হিগস (Peter Higgs) ও ফ্রানকোসিস এঙ্গলার্ট (Francosis Englert) এ কাজের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান (Leon Lederman) ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা বা God particle নামে অভিহিত করেন। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; ড. শাহজাহান তপন।
৩৯.
সৌরজগতের দূরতম গ্রহ কোনটি?
  1. ইউরেনাস 
  2. নেপচুন
  3. শনি 
  4. বুধ 
সঠিক উত্তর:
নেপচুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেপচুন
ব্যাখ্যা
নেপচুন: 
- নেপচুন হলো সূর্য থেকে অষ্টম এবং সবচেয়ে দূরের গ্রহ।
- এটি আকারে চতুর্থ বৃহৎ এবং এটি ছিল প্রথম গ্রহ যা গণিতের সাহায্যে আবিষ্কৃত হয়।
- অন্ধকার, ঠান্ডা এবং অতিরিক্ত গতির বাতাসে ঘেরা নেপচুনে প্রাণধারণ সম্ভব নয়।
- নেপচুন সূর্য থেকে গড়ে ২.৮ বিলিয়ন মাইল (৪.৫ বিলিয়ন কিমি) দূরে, অর্থাৎ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ গুণ দূরে।
- সূর্য থেকে নেপচুনে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা।
- নেপচুনে একটি দিন (নিজ অক্ষে ঘোরার সময়) হয় ১৬ ঘণ্টায়।
- নেপচুনে একটি বছর (সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে যত সময় লাগে) হয় ১৬৫ পৃথিবী বছর, অর্থাৎ ৬০,১৯০ দিন।
- নেপচুনের এখন পর্যন্ত ১৬টি উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে (ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই অনুসারে, ১৪টি) ।
- সবচেয়ে বড় চাঁদ ট্রাইটন—আবিষ্কার হয় ১৮৪৬ সালের ১০ অক্টোবর, নেপচুন গ্রহ আবিষ্কারের মাত্র ১৭ দিন পরেই।
- নেপচুন এবং ইউরেনাসকে বলা হয় "বরফের দৈত্য" (Ice Giants)।
- নেপচুনের বায়ুমণ্ডলে প্রধানত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম, আর সামান্য পরিমাণে মিথেন রয়েছে।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট। 
৪০.
গ্রহাণুপুঞ্জের অবস্থান -
  1. পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মাঝখানে
  2. মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে
  3. বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের মাঝখানে
  4. বুধ ও শুক্র গ্রহের মাঝখানে
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে
ব্যাখ্যা
গ্রহাণুপুঞ্জ : সৌরজগতে মঙ্গল ও বৃহস্পতি এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ (১.৬-৮০৫ বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট) একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।
সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
পৃথিবীর evil twin বলা হয় কোন গ্রহকে?
  1. শনি
  2. শুক্র
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
সঠিক উত্তর:
শুক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুক্র
ব্যাখ্যা

• শুক্র গ্রহ:
- শুক্র সূর্য থেকে দ্বিতীয় গ্রহ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী গ্রহ।
- এটি সূর্য ও চাঁদের পর আকাশের তৃতীয় উজ্জ্বল বস্তু।
- শুক্র ধীরে এবং অধিকাংশ গ্রহের বিপরীত দিকে ঘূর্ণন করে।
- এর গঠন ও আকার পৃথিবীর অনুরূপ, তাই একে কখনও পৃথিবীর দুষ্ট যমজ (evil twin) বলা হয়।
- শুক্রের ঘন বায়ুমণ্ডল তাপ ধরে রাখে, যা গ্রীনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রহ, যেখানে তাপমাত্রা সীসা গলানোর মতো বেশি।
- ঘন মেঘের নিচে এর পৃষ্ঠে আগ্নেয়গিরি এবং বিকৃত পর্বত রয়েছে।

উল্লেখ্য,
• শুক্রকে পৃথিবীর দুষ্ট যমজ বলার কারণ:

⇒ শুক্র এবং পৃথিবীকে মাঝে মাঝে যমজ বলা হয় কারণ তারা প্রায় একই আকারের। শুক্র গ্রহ প্রায় পৃথিবীর মতোই বড়। তারা সৌরজগতের একই অভ্যন্তরীণ অংশে গঠিত হয়েছিল। শুক্র আসলে পৃথিবীর আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। তাই তারা সৌরজগতের একই অংশে গঠিত হয়েছিল, একই উপকরণ দিয়ে তৈরি। তারা প্রায় একই আকারের।

উৎস: NASA. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৪২.
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে যে সময় লাগে তাকে কি বলে?
  1. সৌর বছর
  2. কসমিক ইয়ার
  3. আলোক বর্ষ
  4. পলিসার
সঠিক উত্তর:
কসমিক ইয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কসমিক ইয়ার
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ: 
- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। 
- এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে। 
- এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে। 
- ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে। 

উৎস: Britannica.com
৪৩.
"Cosmic ray"- এর আবিষ্কারক কে?
  1. Albert Einstein
  2. Marie Curie
  3. Enrico Fermi
  4. Victor Hess
সঠিক উত্তর:
Victor Hess
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Victor Hess
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস (Victor Hess)।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৪৪.
বিজ্ঞানীরা Black Hole এর ছবি প্রথম কত সালে তুলতে সক্ষম হয়?
  1. ২০২০
  2. ২০১৯
  3. ২০১৫
  4. ১৯১৫
সঠিক উত্তর:
২০১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৯
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহব্বর (Black Hole): 
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল। 
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম। ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম। 
- একটি মিল্কীওয়েতে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে। 
- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন - আলবার্ট আইনস্টাইন। 
- ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর general theory of relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন। 
- আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন, তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক। 
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয়  Event Horizon Telescope (EHT).

উৎস: নাসা ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪৫.
মঙ্গলগ্রহে প্রেরিত নভোযান কোনটি?
  1. সযুজ
  2. এপোলো
  3. ভয়েজার
  4. ভাইকিং
সঠিক উত্তর:
ভাইকিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইকিং
ব্যাখ্যা
- মার্কিন মহাকাশযান সফলভাবে মঙ্গল গ্রহে উড়েছে (মেরিনার্স 4, 6 এবং 7), 
- গ্রহকে প্রদক্ষিণ করেছে (মেরিনার 9 এবং ভাইকিংস 1 এবং 2), এবং 
- এর পৃষ্ঠে ল্যান্ডে মডিউল স্থাপন করেছে (ভাইকিংস 1 এবং 2)। 

U.S. spacecraft successfully flew by Mars (Mariners 4, 6, and 7), orbited the planet (Mariner 9 and Vikings 1 and 2), and placed lander modules on its surface (Vikings 1 and 2).

উৎস: Britannica Encyclopedia. 
৪৬.
সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কত?
  1. প্রায় ১৫,০০০,০০০ K
  2. প্রায় ১,৫০০,০০০ K
  3. প্রায় ৬,০০০০ K
  4. প্রায় ৬,০০০ K
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৬,০০০ K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৬,০০০ K
ব্যাখ্যা
সূর্য: সৌরজগতের কেন্দ্রীয় নক্ষত্র
- সূর্যের বয়স প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর।
- এটি সৌরজগতের প্রধান ও বৃহত্তম জ্যোতিষ্ক, যার ভর সমগ্র সৌরজগতের ৯৯% এরও বেশি।
- সূর্য প্রতি সেকেন্ডে ৪.৫ মিলিয়ন টন পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তর করে।
- নিউক্লিয়ার সংযোজন (Nuclear Fusion) প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম গঠনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- ব্যাস: ১,৩৯২,০০০ কিমি (৮৬৪,৯৫০ মাইল)
- ভর: পৃথিবীর তুলনায় ৩৩০,০০০ গুণ বেশি
- কেন্দ্রের তাপমাত্রা: প্রায় ১৫,০০০,০০০ K (২৭,০০০,০০০ °F)
- পৃষ্ঠের তাপমাত্রা: প্রায় ৬,০০০ K (১০,০০০ °F)
- সূর্য থেকে নির্গত সৌর বিকিরণ ও নিউট্রিনো পৃথিবীতে আলো ও তাপ সরবরাহ করে, যা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।
 
উৎস: Britannica.
৪৭.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জি. ল্যামেটার
  3. এডুইন হাবল
  4. আলবার্ট আইন্সটাইন
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার
ব্যাখ্যা
জর্জ লেমিটার: বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা:
- তিনি ১৯২৭ সালে বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory) প্রথম প্রস্তাব করেন।
- ল্যামেটার "অ্যাটমিক হিপোথিসিস" নামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি নতুন তত্ত্ব দেন।
- তিনি পরামর্শ দেন যে, মহাবিশ্ব এক সময়ে একক বিন্দু বা "প্রাইমল আটম" থেকে বিস্ফোরিত হয়েছিল, এবং সেই বিস্ফোরণ থেকেই মহাবিশ্বের বিস্তার শুরু হয়।
- এটি পরবর্তীতে বিগ ব্যাং তত্ত্ব নামে পরিচিতি পায়। ল্যামেটার মহাবিশ্বের বিস্তারকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ধারণা দেন।
- পরে, এডউইন হাবল (Edwin Hubble) তার পর্যবেক্ষণ দিয়ে ল্যামেটারের তত্ত্বের সমর্থন দেন।
- হাবল তার গবেষণায় দেখেন যে, দূরের গ্যালাক্সিগুলো পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা মহাবিশ্বের বিস্তারকে প্রমাণ করে।

অন্যদিকে, 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 

উৎস: American Museum of Natural History.
৪৮.
সূর্য কী?
  1. একটি গ্রহ
  2. একটি উপগ্রহ
  3. একটি নক্ষত্র
  4. একটি ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
একটি নক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯.
আলোকবর্ষ (Light Year) ব্যবহার করে কী পরিমাপ সম্ভব?
  1. সময়
  2. দূরত্ব
  3. ভর 
  4. শক্তি 
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
ব্যাখ্যা

আলোকবর্ষ হলো দূরত্বের একক। এর মানে হলো, আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে সেটাই ১ আলোকবর্ষ।

​নক্ষত্র (Stars):
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়।
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না।
- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে।

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্‌টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০.
সৌরজগতে কতটি গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে?
  1. ৭টি 
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এটি একটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের নক্ষত্র।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার এবং ভর প্রায় ১.৯৯×১০১৩ কিলোগ্রাম।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষ্ক।
- পৃথিবী, অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহের তাপ ও আলোর মূল উৎস সূর্য।
- সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবী চির অন্ধকারে থাকত এবং পৃথিবীতে জীবজগৎ ও উদ্ভিদজগতের কিছুই বাঁচত না।
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ।
- সূর্য থেকে গ্রহগুলো দূরত্ব অনুযায়ী পর পর যেভাবে রয়েছে তা হলো বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)।
- গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং ছোট বুধ।
- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি বেশ উজ্জ্বল এবং কোনো যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই দেখা যায়।
- ইউরেনাস ও নেপচুন এতটা কম উজ্জ্বল যে দূরবীক্ষণ ছাড়া এদের দেখা যায় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১.
বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ কোথায় ঘটেছিল?
  1. সর্বত্র
  2. মহাকাশে
  3. পৃথিবীতে
  4. সৌরজগতে
সঠিক উত্তর:
সর্বত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বত্র
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ঘটেনি, বরং এটি সর্বত্র ঘটেছিল। বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সূচনা একটি বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে হয়েছিল, যা থেকে সময়, স্থান, পদার্থ এবং শক্তি সবই সৃষ্টি হয়। এই বিস্ফোরণ কোন নির্দিষ্ট ‘স্থান’ থেকে নয়, বরং সময় ও স্থান উভয়ের সাথে সঙ্গে শুরু হয়েছিল। তাই বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণকে মহাকাশের কোনও নির্দিষ্ট বিন্দুতে বা পৃথিবীতে বা সৌরজগতে ঘটানো যায় না। এটি মহাবিশ্বের প্রতিটি স্থানে একই সাথে বিস্তৃত হয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ক) সর্বত্র।


• বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 

- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হতে পারা যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 

- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদূর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুর করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- বিগ ব্যাগ-এর পর 10-43 s পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা কেউ জানতে পারেনি, কিছুটা ধারণা পেয়েছে মাত্র। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে। একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
কোন গ্রহের ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের অর্ধেক?
  1. বুধ
  2. মঙ্গল
  3. শনি
  4. নেপচুন
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৩.
কসমিক রে মূলত কী?
  1. মহাকাশ থেকে আগত উচ্চশক্তির কণা
  2. সূর্য থেকে নির্গত আলোক রশ্মি
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. এক ধরনের গামা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
মহাকাশ থেকে আগত উচ্চশক্তির কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকাশ থেকে আগত উচ্চশক্তির কণা
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে হলো মহাকাশ (আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম) থেকে আগত উচ্চ-শক্তির আধানযুক্ত কণা। 

• মহাজাগতিক রশ্মি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী ভিকটর হেস।
- এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ প্রোটন, প্রায় ৯ ভাগ বিকিরণ এবং বাকি অংশে থাকে কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারি নিউক্লিয়াস।
- এগুলোই হলো প্রাইমারি মহাজাগতিক রশ্মি। এসব রশ্মি  প্রায় আলোর বেগে ছুটে চলে।

• সেকেন্ডারি মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে প্রধানত পজিট্রন, নিউট্রন, মেসন, নিউট্রিনো ইত্যাদি। এ সব কণাদের বলা হয় প্রাথমিক বা মৌলিক কণা।

অন্যদিকে,
সূর্য থেকে নির্গত আলোকরশ্মি, রেডিও তরঙ্গ, গামা রশ্মি হলো আধানশূন্য । 

তথ্যসূত্র: 
- ব্রিটানিকা।
৫৪.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি?
  1. টাইটান
  2. চন্দ্র
  3. ডিমোস
  4. গ্যানিমেড
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র
ব্যাখ্যা
পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো 'পৃথিবী'। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র (Moon): 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। 
- এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- ডিমোস মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- টাইটান শনি গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- গ্যানিমেড বৃহস্পতি গ্রহের একটি উপগ্রহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
নিচের কোন গ্রহটিকে 'Red Planet' বলা হয়?
  1. শনি
  2. মঙ্গল
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল
ব্যাখ্যা
মঙ্গল গ্রহকে 'Red Planet' বলা হয়।

মঙ্গল গ্রহ:
- সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ মঙ্গল।
- বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২৮ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- এটি একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় নেয়।
- এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৩৯০ কিলোমিটার (২১০৬ মাইল)।
- এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১৩ মিনিট।
- নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘন্টা।
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি: ফোবোস ও ডিমোস।

উল্লেখ্য,
- এই গ্রহটিকে ‘লাল গ্রহ’ নামে অভিহিত করা হয়।
- মঙ্গলের লালাভ হওয়ার পেছনে মূল কারণ এর পৃষ্ঠে প্রচুর আয়রন অক্সাইড আছে।
- নাসার বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলের কেন্দ্রেও লোহা আছে, তবে পরিমাণে অঢেল হওয়ায় গ্রহটির পৃষ্ঠেও লোহার একটি আবরণ তৈরি হয়েছে। সে কারণেই লাল দেখায়।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. Sirius
  2. Crab Nebula
  3. J0529-4351
  4. Sun
সঠিক উত্তর:
J0529-4351
উত্তর
সঠিক উত্তর:
J0529-4351
ব্যাখ্যা
• J0529-4351 একটি কোয়াসার, অথবা একটি গ্যালাক্সির উজ্জ্বল কেন্দ্র, যা এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু।

• কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 

- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
আমাদের সৌরজগৎ কোন গ্যালাক্সিতে অবস্থিত?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা
  2. প্রক্সিমা সেন্টোরি
  3. সোমব্রেরো গ্যালাক্সি
  4. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
ব্যাখ্যা

• আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে অবস্থিত। মিল্কিওয়ে একটি বিশাল স্পাইরাল আকারের গ্যালাক্সি, যার ব্যাস প্রায় ১,০০,০০০ আলোকবর্ষ এবং এতে কয়েকশ কোটি তারা রয়েছে। আমাদের সৌরজগৎ এই গ্যালাক্সির এক বাহ্যিক কক্ষপথে অবস্থান করছে, যা কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল থেকে প্রায় ২৭,০০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে। মিল্কিওয়ে ছায়াপথ হিসেবে পরিচিত, কারণ প্রাচীন মানুষ আকাশে এর আলোকিত রেখার মতো চিহ্ন দেখতে পেত। গ্যালাক্সিটি বিভিন্ন ধরনের তারা, গ্যাস ও ধূলিকণার সমন্বয়ে গঠিত। তাই সৌরজগৎ কোন অনন্য বা ছোট গ্যালাক্সির অংশ নয়, বরং এই বিশাল মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অন্তর্গত। উত্তর: ঘ) মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
 
• মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

• অন্যান্য অপশন:
- সোমব্রেরো গ্যালাক্সি: এটি একটি বিখ্যাত সর্পিলাকার গ্যালাক্সি, যা আমাদের মিল্কিওয়ে থেকে প্রায় ২৮ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অ্যান্ড্রোমিডা: এটি আমাদের নিকটতম বৃহৎ প্রতিবেশী গ্যালাক্সি।
- প্রক্সিমা সেন্টোরি: এটি কোনো গ্যালাক্সি নয়, বরং আমাদের নিকটতম নক্ষত্র (সূর্য ছাড়া)।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৫৮.
কসমিক-রে এর আবিষ্কারক -
  1. উইলিয়াম রাদারফোর্ড
  2. ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
  3. রন্টজেন
  4. স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):

• বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
• ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
কসমিক-রে  বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক-  ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
• মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
• ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
• বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৫৯.
প্রথম মহাকাশচারী ব্যক্তি কে?
  1. নীল আর্মস্ট্রং
  2. ইউরি গ্যাগারিন
  3. ভেলেন্টিনা তেরেসকোভা
  4. স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
ইউরি গ্যাগারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরি গ্যাগারিন
ব্যাখ্যা
ইউরি গ্যাগারিন:
- মহাকাশে প্রথম ভ্রমণকারী ইউরি গ্যাগারিন
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ অভিযাত্রী ইউরি গ্যাগারিন। 
- মহাকাশে তিনিই হলেন প্রথম মানব অভিযাত্রী।
- ১৯৬১ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিভ্রমণ করেন। 
- ভস্টক–১ নভোযানে তিনি মহাকাশে যান।
- গ্যাগারিন মহাকাশে ছিলেন ১০৮ মিনিট।
- মাত্র দেড় ঘণ্টার মতো সময়ে তিনি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।

উৎস: Britannica.
৬০.
কোন বিজ্ঞান শাখা মহাবিশ্বের সৃষ্টি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করে?
  1. কসমোলজি 
  2. জিওলজি 
  3. অ্যাস্ট্রোফিজিক্স 
  4. অ্যাস্ট্রোনমি 
সঠিক উত্তর:
কসমোলজি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কসমোলজি 
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 
- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যায়। 
- রাতের আকাশে আমরা অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখা যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র। তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। 
- বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এ মহাবিশ্ব। 
- আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011  । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুর হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এ সব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে।
- পরীক্ষা দুটি হলো- ১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. সুপারনোভা
  2. হোয়াইট ডোয়ার্ক
  3. নিউট্রন তারা 
  4. কোয়াসার 
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার 
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি, অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি এই সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন, কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। সুতরাং, কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- 
• কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, 
• কোয়াসারের রং নীলাভ, 
• কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস এবং 
• কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২.
ধূমকেতু কী দিয়ে তৈরী?
  1. গ্যাস, ধূলিকণা ও শিলা
  2. গ্যাস, পাথর ও পানি
  3. পাথর, আগুন ও ধূলিকণা
  4. পাথর, বরফ ও ধূলিকণা
সঠিক উত্তর:
পাথর, বরফ ও ধূলিকণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথর, বরফ ও ধূলিকণা
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু:

- ধূমকেতু হলো পাথর, বরফ ও ধূলিকণা তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু।
- এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩টি।
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু।
- ২০৬১ সালের ২৮  জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ,১৫ জানুয়ারী ২০২২।
৬৩.
পৃথিবী যেই গ্যালাক্সির মধ্যে অবস্থিত, তার নাম কী?
  1. Sombrero
  2. Milkyway
  3. Andromeda
  4. Whirlpool
সঠিক উত্তর:
Milkyway
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Milkyway
ব্যাখ্যা
• মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- সুদূর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বল্পালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয়।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।

- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সির নাম ‘আন্ড্রোমিডা’ (Andromeda).

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৬৪.
দৈর্ঘ্য পরিমাপের সবচেয়ে বড় একক কোনটি?
  1. নটিক্যাল মাইল
  2. আলোকবর্ষ
  3. পারসেক
  4. অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট
সঠিক উত্তর:
পারসেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারসেক
ব্যাখ্যা
পারসেক:
- মহাকাশের বিশাল পরিসরে দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য আমরা বিভিন্ন একক ব্যবহার করি। এর মধ্যে পারসেক (Parsec) হলো সবচেয়ে বড় একক।
- মহাকাশে দূরত্ব পরিমাপের জন্য পারসেক (Parsec) ব্যবহৃত হয়।
- ১ পারসেক (Parsec) = ৩.২৬ আলোকবর্ষ। 

অন্যদিকে, 
• নটিক্যাল মাইল:
- সাধারণত সমুদ্র বা আকাশপথে নটিক্যাল মাইল ব্যবহৃত হয়।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

• আলোকবর্ষ (Light Year):
- আলোকবর্ষ দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক। আলো ১ বছরে যে দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে তাই আলোকবর্ষ।
- এক আলোকবর্ষ (Light Year) = প্রায় ৯.৪ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার (9.46073 × 1012 কিমি)। 

• অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU):
- সূর্য এবং পৃথিবীর গড় দূরত্ব হলো অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU)।
- ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (Astronomical Unit - AU) = ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার।

উৎস: Britannica.
৬৫.
সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর নিকটতম ব্ল্যাকহোল খুজে পেয়েছে কোনটি?
  1. ক) ইউনিকর্ণ
  2. খ) টন ৬১৮
  3. গ) হোল্মবার্গ ১৫এ
  4. ঘ) এনজিসি ১২৭০
সঠিক উত্তর:
ক) ইউনিকর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইউনিকর্ণ
ব্যাখ্যা
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পৃথিবীর নিকটতম যে ব্ল্যাকহোল খুঁজে পেয়েছেন, তার নাম ইউনিকর্ণ। এটি পৃথিবী থেকে মাত্র 1,500 আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং সূর্যের চেয়ে তিনগুণ বেশি বিশাল।
উৎস: www.space.com
৬৬.
বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচ মান মন্দিরের সময়ের পার্থক্য কত? 
  1. - ৬ ঘণ্টা
  2. + ৬ ঘণ্টা
  3. + ৪ ঘণ্টা
  4. - ৪ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
+ ৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+ ৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান: 
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত। 
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে। 
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷ 
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়। 
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মান মন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘণ্টা অর্থাৎ, ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘণ্টা। 
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭.
সৌরজগতের গ্রহ কয়টি?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
- সৌরজগতে মোট গ্রহের সংখ্যা ৮টি
যেমন:
- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি। 
- সবচেয়ে ছোট ও সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ। 
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই। 
- শুক্র গ্রহের বায়ুমন্ডল নেই।
- প্লুটো বর্তমানে সৌরজগতের গ্রহ নয়। এটি বামন গ্রহের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৮.
মহাবিশ্বের বয়স কত?
  1. প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর
  2. প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর
  3. প্রায় ৮ বিলিয়ন বছর
  4. প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
- মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। 
- আমাদের সৌরজগৎ ৪.৬ বিলিয়ন বছর, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে, এবং মানুষ মাত্র কয়েক লক্ষ বছর ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।
- অন্য কথায়, মহাবিশ্ব আমাদের প্রজাতির চেয়ে প্রায় ৫৬,০০০ গুণ বেশি সময় ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
৬৯.
সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থান করছে-
  1. গ্রহ
  2. ধূমকেতু
  3. সূর্য
  4. উল্কা
সঠিক উত্তর:
সূর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য
ব্যাখ্যা
• সৌরজগৎ (Solar System):
- সূর্য এবং তার গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, অসংখ্য ধূমকেতু ও অগণিত উল্কা নিয়ে সৌরজগৎ গঠিত।
- সূর্য সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

- গ্রহগুলো মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে।
- সৌরজগতের যাবতীয় গ্রহ-উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক হলো সূর্য।
- সূর্যকে ভিত্তি করে সৌরজগতের যাবতীয় কাজ-কর্ম চলে।
- এই মহাবিশ্বের বিশালতার মধ্যে সৌরজগৎ নিতান্তই ছোট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭০.
পৃথিবীর একপাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে কখন?
  1. ক) অমাবস্যা তিথি
  2. খ) পূর্নিমা তিথি
  3. গ) সপ্তমী তিথি
  4. ঘ) অষ্টমী তিথি
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্নিমা তিথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্নিমা তিথি
ব্যাখ্যা
অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।
৭১.
চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?
  1. বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
  2. আলোর বিচ্ছুরণে
  3. অপাবর্তনে
  4. দৃষ্টিভ্রমে
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
ব্যাখ্যা
- চাঁদ থেকে আলোক রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠে আসার সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণ ঘটে অর্থাৎ আলোক রশ্মি বেঁকে যায়। 
- চাঁদ যখন দিগন্তের কাছে থাকে তখন আলোক রশ্মি তুলনামূলকভাবে অধিক পরিমাণে বেঁকে যায়।
- বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের কারণে দিগন্তের নিকটে চাঁদ ও সূর্যকে ডিম্বাকৃতি এবং তুলনামূলকভাবে বড় দেখা যায়। 

উৎস: scientificamerican.com
৭২.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি? 
  1. চাঁদ
  2. শুক্র
  3. প্লুটো
  4. ইউরেনাস
সঠিক উত্তর:
চাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্রহ ও উপগ্রহ: 
- যে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথে বাস করা হয় তার নাম আকাশ গঙ্গাঁ (Milky Way), এই ছায়াপথে রয়েছে সূর্য ও এর পরিবার, যাকে সৌরজগৎ বলা হয়। 
- সৌরজগতে রয়েছে সূর্য ও একে ঘিরে আবর্তনশীল ৮টি গ্রহ। 
- যেসব বৃহৎ বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাদের বলা হয় গ্রহ। 
- সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন। 
- কোনো কোনো গ্রহের রয়েছে একাধিক উপগ্রহ, যারা গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে এদের বলা হয় উপগ্রহ। 
যেমন- পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে চাঁদ, তাই চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। সুতরাং, পৃথিবী সূর্যের একটি গ্রহ এবং চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। 

- জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রহের জন্মের সময় কোনো নক্ষত্রকে ঘিরে কয়েকটি মহাজাগতিক মেঘ আবর্তিত হতো। এরা মহাকর্ষ বলের কারণে ঘনীভূত হয়ে অবশেষে জমাট বেঁধে গ্রহে রূপান্তরিত হয়। এভাবেই আবার গ্রহের চারপাশে জমা হয়ে উপগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, এসব উপগ্রহ হলো প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 
- গ্রহ ও উপগ্রহের কোনো আলো ও উত্তাপ নেই, এদের উপর সূর্যের যে আলো পড়ে তা প্রতিফলিত হয়। 
- উপগ্রহগুলো এদের গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে গ্রহের চারদিকে ঘুরে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৭৩.
মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. সবুজ গ্রহ নামে অভিহিত
  2. উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি
  3. এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সবুজ গ্রহ নামে অভিহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ গ্রহ নামে অভিহিত
ব্যাখ্যা
মঙ্গল গ্রহ:
- মঙ্গল হলো সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ।
- বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
- এই গ্রহটিকে ‘লাল গ্রহ’ নামে অভিহিত করা হয়।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২৮ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- এটি একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় নেয়।
- এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৩৯০ কিলোমিটার (২১০৬ মাইল)। 
- এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১৩ মিনিট।
- নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘন্টা।

⇒ মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি: ফোবোস ও ডিমোস।

অন্যদিকে,
- ইউরেনাসকে সবুজ গ্রহ বলা হয়।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি আপেক্ষিক নয়?
  1. আলোর দ্রুতি
  2. সময়
  3. ভর
  4. স্থান
সঠিক উত্তর:
আলোর দ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর দ্রুতি
ব্যাখ্যা
• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- আইনস্টাইনের তত্ত্ব অনুসারে,
- স্থান,
- ভর ও
- সময় হলো আপেক্ষিক।

- আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে, আলোর দ্রুতি আপেক্ষিক নয় অর্থাৎ এটি ধ্রুব।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়।
- কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।

- উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়।
- আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫.
কেপলারের প্রথম সূত্র অনুসারে, গ্রহগুলো সূর্যের চারপাশে কীভাবে ঘোরে?
  1. একটি বৃত্তাকার কক্ষপথে
  2. একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে
  3. একটি পরাবৃত্তাকার কক্ষপথে
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে
ব্যাখ্যা
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র (Kepler's Law of Planetary Motion):
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এ সম্পর্কে তিনি কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 

• ১ম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।

• ২য় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।

• ৩য় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের' (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
নিচের কোনটি নক্ষত্রমণ্ডলী?
  1. সপ্তর্ষিমন্ডল
  2. কালপুরুষ
  3. ক্যাসিওপিয়া
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নক্ষত্রমণ্ডলী (Constellation):
- মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতে আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় কয়েকটি নক্ষত্র বিশেষ আকৃতিতে মিলে জোট বেঁধেছে।
- এভাবে আমাদের পরিচিত আকৃতিতে দেখা নক্ষত্রদলকে নক্ষত্রমণ্ডলী বলে।
- প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক একটি নক্ষত্রদলকেকাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করেবিভিন্ন আকৃতি কল্পনা করে বিভিন্ন নামদিয়েছেন।
- এদের কোনোটা দেখতে ভল্লুকের মতো, কোনোটা শিকারির মতো।
- এদের মধ্যে সপ্তর্ষিমন্ডল (GreatBear), কালপুরুষ (Orion), ক্যাসিওপিয়া (Cassiopeia), লঘুসপ্তর্ষি (Little Bear), বৃহৎ কুকুরমণ্ডল (Canis Major) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৭.
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে শনি গ্রহের কতদিন সময় লাগে?
  1. ৭ মাস
  2. ১২ বছর
  3. ১৮ বছর
  4. ২৯.৪ বছর
সঠিক উত্তর:
২৯.৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯.৪ বছর
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ১৪৬টি।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে দূরত্ব কোন এককে মাপা হয়?
  1. কিলোমিটার
  2. নটিক্যাল মাইল
  3. আলোক বর্ষ
  4. আলোক মাইল
সঠিক উত্তর:
আলোক বর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোক বর্ষ
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৯.
কোন বিজ্ঞান শাখা মহাবিশ্বের সৃষ্টি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করে? 
  1. Astronomy
  2. Cosmology
  3. Geology
  4. Meteorology
সঠিক উত্তর:
Cosmology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cosmology
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 
- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা হয়েছে। 
- রাতের আকাশে অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখতে পাওয়া যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র। তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। 
- বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। 
- এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এ মহাবিশ্ব। 
- ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011 । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুরু হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এসব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে। পরীক্ষা দুটি হলো- 
১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং 
২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
নিম্নের কোনটির সাহায্যে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়?
  1. স্ফিগমোমিটার
  2. হাইগ্রোমিটার
  3. সেক্সট্যান্ট
  4. ক্রনোমিটার
সঠিক উত্তর:
ক্রনোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রনোমিটার
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
- এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

২। যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
- ক্রনোমিটার নামক ঘড়ি গ্রীনিচ সময় অনুসারে চলে।
- তাই এই ঘড়ি দেখে কোনো স্থানের স্থানীয় সময়ের সাথে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১.
কোয়াসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি নয়? 
  1. সৌরজগতের চেয়ে ছোট 
  2. দেখতে নক্ষত্রের মতো 
  3. লোহিত সরণ খুব বেশি 
  4. তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস
সঠিক উত্তর:
সৌরজগতের চেয়ে ছোট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌরজগতের চেয়ে ছোট 
ব্যাখ্যা

- কোয়াসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়- সৌরজগতের চেয়ে ছোট। 

কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২.
NASA-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. National Aeronautics and Space Agency
  2. North American Space Administration
  3. National Aeronautics and Space Administration
  4. National Aerospace Space Agency
সঠিক উত্তর:
National Aeronautics and Space Administration
উত্তর
সঠিক উত্তর:
National Aeronautics and Space Administration
ব্যাখ্যা

NASA:
- NASA মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
- NASA-এর পূর্ণরূপ হলো: National Aeronautics and Space Administration.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৯ জুলাই, ১৯৫৮।
- বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু: ১ অক্টোবর, ১৯৫৮।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা হিসেবে মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি উন্নয়ন, এবং মহাকাশ অনুসন্ধানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।

৮৩.
প্রক্সিমা সেন্টারাই হচ্ছে সূর্যের নিকটতম -
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. ধূমকেতু
  4. কৃষ্ণগহ্বর
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৪.
বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের অস্তিত্ব নেই?
  1. হাইড্রোজেন
  2. মিথেন
  3. হিলিয়াম
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
⇒ বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের অস্তিত্ব নেই।

বৃহস্পতি (Jupiter):
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বলে একে গ্রহরাজ বলা হয়।
- পৃথিবীর তুলনায় বৃহস্পতি প্রায় ১৩০০ জন বড়।
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৭৭ কোটি কিলোমিটার।
- বৃহস্পতির সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হিলিয়াম রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের অবস্থান থেকে পৃথিবীর দূরত্ব কত?
  1. ২৬,০০০ আলোকবর্ষ
  2. ৩১,০০০ আলোকবর্ষ
  3. ৩৯,০০০ আলোকবর্ষ
  4. ৪৩,০০০ আলোকবর্ষ
সঠিক উত্তর:
২৬,০০০ আলোকবর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬,০০০ আলোকবর্ষ
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লক্ষ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি একটি স্পাইরাল বা সর্পিল গ্যালাক্সি।
- আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অর্থাৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৬ হাজার বছর।
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বল। এর বেশির ভাগ অংশই ঢাকা পড়ে আছে হাইড্রোজেন গ্যাসে।

তথ্যসূত্র - Space.com & NASA (.gov).
৮৬.
পৃথিবীর কতটি উপগ্রহ আছে? 
  1. ২ টি 
  2. ১ টি 
  3. ৩ টি 
  4. ৪ টি 
সঠিক উত্তর:
১ টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ টি 
ব্যাখ্যা

পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো পৃথিবী। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর এক (১) টি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭.
সৌরজগতের কোন গ্রহটি  খালি চোখে দেখা যায় না?
  1. প্লুটো
  2. শুক্র
  3. বুধ
  4. নেপচুন
সঠিক উত্তর:
নেপচুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেপচুন
ব্যাখ্যা

• নেপচুনের তথ্য:
- নেপচুন আমাদের সৌরজগতের অষ্টম এবং সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ।
- নেপচুনই আমাদের সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যা খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৬১২ এবং ১৬১৩ সালে গ্যালিলিও তার ছোট টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণের সময় নেপচুনকে একটি স্থির নক্ষত্র হিসেবে রেকর্ড করেছিলেন। 
- নিরক্ষীয় ব্যাস ৩০,৭৭৫ মাইল (৪৯,৫২৮ কিলোমিটার) হওয়ায়, নেপচুন পৃথিবীর চেয়ে প্রায় চারগুণ প্রশস্ত।
- সূর্য থেকে নেপচুনের গড় দূরত্ব ৪.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার।
- নেপচুনের এক দিনে প্রায় ১৬ ঘন্টা সময় লাগে (নেপচুনের একবার আবর্তন বা ঘূর্ণন করতে যে সময় লাগে)।
- নেপচুন সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে (নেপচুনিয়ান সময়ে এক বছর) প্রায় ১৬৫ পৃথিবী বছরে (৬০,১৯০ পৃথিবী দিন)।
- নেপচুনের নামকরণ করা হয়েছিল রোমান সমুদ্র দেবতার নামে।
- নেপচুনের ১৬টি উপগ্রহ আছে। 
- নেপচুনের বৃহত্তম উপগ্রহ ট্রাইটন আবিষ্কার করেন ১০ অক্টোবর, ১৮৪৬ সালে, জোহান গটফ্রাইড গ্যাল গ্রহটি আবিষ্কার করার মাত্র ১৭ দিন পরে।

উৎস: NASA.

৮৮.
কৃষ্ণবিবরের গঠন বা মহাকর্ষিক প্রভাবের কারণে মূলত কোন কণা মুক্ত হতে পারে না? 
  1. প্রোটন 
  2. ফোটন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. নিউট্রন 
সঠিক উত্তর:
ফোটন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন 
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। 
- সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না, তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, এমনটি ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জীবভূগোল
  2. জলবায়ুবিদ্যা
  3. ভূমিরূপবিদ্যা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical geography):
- ভুগোলের যে শাখায় ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
- পৃথিবীর ভূমিরূপ, এর গঠন প্রক্রিয়া, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, জলবায়ু ইত্যাদি প্রাকৃতিক ভুগোলের আলোচ্য বিষয়।
১। ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology)।
২। জলবায়ুবিদ্যা (Climatology)।
৩। জীবভূগোল (Biogeography)।
৪। মৃত্তিকা ভূগোল (Soil geography)।
৫। সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography)।

তথ্যসূত্র - ভুগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯০.
কোন ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়?
  1. লেক্সেল
  2. কোহুটেক
  3. হেইল-বপ
  4. হ্যালির ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
হ্যালির ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যালির ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু (Comet): 
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক। 
- ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। 
যেমন: মস্তক (Head) বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ (Tail)। 
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে। 
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ। 
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে। 
- হ্যালির ধূমকেতু (Hally's Comet) প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারপাশে একবার ঘুরতে যে সময় লাগে তাকে কী বলে?
  1. কসমিক বছর
  2. সৌর বছর
  3. চন্দ্র বছর
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কসমিক বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কসমিক বছর
ব্যাখ্যা
কসমিক বছর (Cosmic Year):
- সময়কাল: প্রায় ২২৫ মিলিয়ন বছর।
- এটি হলো সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারপাশে একবার ঘুরতে যে সময় লাগে।

চন্দ্র বছর (Lunar Year):
- সময়কাল: প্রায় ৩৫৪ দিন।
- এটি ১২টি সিনোডিক মাস বা ১২টি চন্দ্র চক্র নিয়ে গঠিত, যা কিছু ক্যালেন্ডারে ব্যবহৃত হয়।

সৌর বছর (Solar Year):
- সময়কাল: ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- এটি পরপর দুটি বসন্ত বিষুবের (Vernal Equinox) মধ্যে সময় ব্যবধান।

নাক্ষত্রিক বছর (Sidereal Year):
- সময়কাল: ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা ৯ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
- এটি হলো সূর্যের বার্ষিক আপাত গতিপথ অনুযায়ী নির্দিষ্ট এক স্থানে ফিরে আসার সময়।

অ্যানোমালিস্টিক বছর (Anomalistic Year):
- সময়কাল: ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড।
- এটি হলো পৃথিবীর কক্ষপথে সূর্যের নিকটতম বিন্দু (perihelion) থেকে পরবর্তী একই অবস্থানে ফিরে আসার সময়কাল।

উৎস: Britannica.
৯২.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌ কে? 
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জি. লেমেটার
  3. জন হুইলার
  4. আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা

• স্টিফেন হকিং: 
- স্টিফেন হকিং একজন পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ। 
- স্টিফেন হকিং মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌। 
- তাঁর রচিত বইসমূহ- 
• A Brief History of Time, 
• The Universe in a Nutshell এবং 
• The Grand Design ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি. লেমেটার। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩.
'মহাবিশ্বের সব বস্তুপিণ্ড একসময় একত্রিত অবস্থায় ছিল'-এই ধারণাটি কোন তত্ত্বের মূল বক্তব্য? 
  1. স্টেডি স্টেট তত্ত্ব 
  2. স্থির মহাবিশ্ব তত্ত্ব 
  3. নীহারিকা তত্ত্ব 
  4. বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব 
সঠিক উত্তর:
বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হতে পারা যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে।
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদূর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 

- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুর করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে অর্থাৎ সর্বত্র ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- বিগ ব্যাগ-এর পর 10-43 s পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা কেউ জানতে পারেনি, কিছুটা ধারণা পেয়েছে মাত্র। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে। একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪.
'A Brief History of Time' গ্রন্থটির লেখক -
  1. Jamal Nazrul Islam
  2. George Lemaitre
  3. Kepler
  4. Stephen Hawking
সঠিক উত্তর:
Stephen Hawking
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Stephen Hawking
ব্যাখ্যা
• 'A Brief History of Time' গ্রন্থটির লেখক হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী Stephen Hawking. এই বইটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি মহাবিশ্বের গঠন, সময়ের প্রকৃতি, কৃষ্ণগহ্বর (black holes), বিগ ব্যাং (Big Bang), আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মতো জটিল ধারণাগুলো সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে। স্টিফেন হকিং বইটিতে মূলত মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি বিজ্ঞানের জনপ্রিয়ীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। এই গ্রন্থই তাকে সাধারণ মানুষের মাঝে বিজ্ঞানী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।

তাঁর রচিত বইসমূহ-
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design, ইত্যাদি।

- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং ছিলেন একজন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।
- পৃথিবীর মানুষের কাছে “The Scientist on a Wheelchair” হিসেবে পরিচিত।
- স্টিফেন হকিং এর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র- ‘Theory of Everything.’

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯৫.
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদের সমষ্টিকে বলে -
  1. ক) গামা রশ্মি
  2. খ) অবলোহিত রশ্মি
  3. গ) মহাজাগতিক রশ্মি
  4. ঘ) অতি বেগুনী রশ্মি
সঠিক উত্তর:
গ) মহাজাগতিক রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাজাগতিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদের সমষ্টিকে মহাজগতিক রশ্মি বলে।
বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৬.
'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে' ধারণাটি প্রথম প্রমাণ করেন কে? 
  1. বিজ্ঞানী গ্যালিলিও
  2. নিকোলাস কোপার্নিকাস
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. জোহান কেল্লার
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কোপার্নিকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
- বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘােরে। 
- বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমী জোরালােভাবে বলেন যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। 
- কোপার্নিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ ব্যাক্ত করেন, তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। 
- তার সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের মূল কথা ছিল 'পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘােরে'। 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- নিকোলাস কোপার্নিকাসই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী গ্যলিলিও প্রথম কোপার্নিকাসের মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
মেরুজ্যোতি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে দেখা যায় ?
  1. এক্সোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমণ্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই স্তরের বাতাস অত্যন্ত হালকা ও ক্ষীণ।
- তাপমণ্ডল নিচের দিক থেকে আয়নোস্ফিয়ার, এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ার নামক তিনটি স্তরে বিভক্ত।
- তাপমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে মেরুজ্যোতি(Aurora) তৈরি হয়।
- পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায় রাতের আকাশে মেরুজ্যোতি দেখা যায়।
- আয়নোস্ফিয়ারে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়।

উল্লেখ্য,
বায়ুমন্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটানিকা।
৯৮.
নেপচুনের কয়টি উপগ্রহ রয়েছে?
  1. ১৩টি 
  2. ১৬টি
  3. ১৪টি
  4. ১৮টি
সঠিক উত্তর:
১৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬টি
ব্যাখ্যা

• নেপচুনের তথ্য:
- নেপচুন আমাদের সৌরজগতের অষ্টম এবং সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ।
- নেপচুনই আমাদের সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যা খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৬১২ এবং ১৬১৩ সালে গ্যালিলিও তার ছোট টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণের সময় নেপচুনকে একটি স্থির নক্ষত্র হিসেবে রেকর্ড করেছিলেন। 
- নিরক্ষীয় ব্যাস ৩০,৭৭৫ মাইল (৪৯,৫২৮ কিলোমিটার) হওয়ায়, নেপচুন পৃথিবীর চেয়ে প্রায় চারগুণ প্রশস্ত।
- সূর্য থেকে নেপচুনের গড় দূরত্ব ৪.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার।
- নেপচুনের এক দিনে প্রায় ১৬ ঘন্টা সময় লাগে (নেপচুনের একবার আবর্তন বা ঘূর্ণন করতে যে সময় লাগে)।
- নেপচুন সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে (নেপচুনিয়ান সময়ে এক বছর) প্রায় ১৬৫ পৃথিবী বছরে (৬০,১৯০ পৃথিবী দিন)।
- নেপচুনের নামকরণ করা হয়েছিল রোমান সমুদ্র দেবতার নামে।
- নেপচুনের ১৬টি উপগ্রহ আছে।
- নেপচুনের বৃহত্তম উপগ্রহ ট্রাইটন আবিষ্কার করেন ১০ অক্টোবর, ১৮৪৬ সালে, জোহান গটফ্রাইড গ্যাল গ্রহটি আবিষ্কার করার মাত্র ১৭ দিন পরে।

উৎস: NASA.

৯৯.
কিসের প্রভাবে শুক্র সৌরজগৎ এর উষ্ণতম গ্রহ?
  1. শুক্রের আকাশে বছরে দুইবার সূর্য উদিত ও অস্ত যায় বলে
  2. শুক্রের কোন উপগ্রহ নেই বলে
  3. এই গ্রহে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘন বায়ুমণ্ডল আছে বলে
  4. এসিড বৃষ্টি হয় বলে
সঠিক উত্তর:
এই গ্রহে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘন বায়ুমণ্ডল আছে বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই গ্রহে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘন বায়ুমণ্ডল আছে বলে
ব্যাখ্যা
শুক্র গ্রহ: 
• সৌরজগতে মোট আটটি গ্রহের মধ্যে শুক্র সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম ও পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ। 
• শুক্র গ্রহকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরে পূর্ব আকাশে শুকতারা হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়।
• শুক্রের আকাশে বছরে দুইবার সূর্য উদিত ও অস্ত যায়।

• শুক্র সৌরজগৎ এর উষ্ণতম গ্রহ।
• এই গ্রহে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘন বায়ুমণ্ডল থাকায় এটি তাপ ধরে রাখে।
• বুধ সূর্যের নিকটতম গ্রহ। কিন্তু বুধে কোন বায়ুমণ্ডল নেই বলে তাপ ধরে রাখতে পারে না। 

• শুক্রের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের আধিক্যের কারণে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে।
• বুধ গ্রহের ন্যায় শুক্রেরও কোন উপগ্রহ নেই।

- আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির গড় তাপমাত্রা হল:
• বুধ: ১৬৭° সেলসিয়াস।
• শুক্র: ৪৬৪° সেলসিয়াস।
• পৃথিবী: ১৫° সেলসিয়াস।
• মঙ্গল: -৬৫° সেলসিয়াস।
• বৃহস্পতি: -১১০° সেলসিয়াস।
• শনি: -১৪০°C
• ইউরেনাস: -১৯৫° সেলসিয়াস।
• নেপচুন: -২০০° সেলসিয়াস।
• বামন গ্রহ প্লুটো: -২২৫° সেলসিয়াস।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
১০০.
বিগ ব্যাং তত্ত্ব প্রথম প্রবর্তন করেন কে?
  1. জর্জ লেমিটার
  2. আলবার্ট আইন্সটাইন
  3. স্টিফেন হকিং
  4. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমিটার
ব্যাখ্যা

• জর্জ লেমিটার: বিগ ব্যাং তত্ত্বের জনক
- ১৯৩১ সালে বেলজিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ক্যাথলিক পাদ্রী জর্জ লেমিটার প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে বিগ ব্যাং তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- এই তত্ত্ব ১৯৩০-এর দশকে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণা থেকে একটি বিপ্লবাত্মক বিচ্যুতি ছিল, যা আজ প্রায় সব জ্যোতির্বিজ্ঞানীর দ্বারা গৃহীত,।
- সেই সময়ে অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এখনও মহাবিশ্বের প্রসারণশীল ধারণা মেনে নিতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন।
- সমগ্র দৃশ্যমান মহাবিশ্ব গ্যালাক্সি সমূহের বিস্ফোরণ দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।
- এই তত্ত্বের আধুনিকতম ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) তাঁর 'A Brief History of Time' বইয়ে।

উৎস: American Museum of Natural History.