বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ফসল উৎপাদন সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৯৬এই পাতা৯৫প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ফসল উৎপাদন সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / · ৯৫ / ৯৬

.
কোনটি উদ্যান ফসলের উদাহরণ নয়?
  1. লাউ
  2. ধান
  3. সিম
  4. টমেটো
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- মাঠ ফসল সাধারণত সমষ্টিগতভাবে চাষ করা হয়।
- মাঠ ফসলে সাধারণত বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না।
- মাঠ ফসল সাধারণত এক সাথে পরিপক্ক হয় বিধায় এক সাথেই সংগ্রহ করা হয়।
- মাঠ ফসল সাধারণত শুকিয়ে ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
- ধান,
- গম,
- ভূট্টা,
- তুলা ইত্যাদি

অন্যদিকে,
উদ্যান ফসল:
- সাধারণত প্রতিটি গাছকে এককভাবে যত্ন নেয়া হয়, যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি।
- উদ্যান ফসলে বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয়। 
- উদ্যান ফসল পর্যায়ক্রমে পরিপক্ক হয় বিধায় ধাপে ধাপে সংগ্রহ করা হয়, যেমন- টমেটো, বেগুন ইত্যাদি।
- উদ্যান ফসল সাধারণত তাজা অবস্থায় ব্যবহার করা হয়, যেমন-বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল।

উদাহরণস্বরূপ:
- লাউ, 
- সিম, 
- ফুলকপি, 
- টমেটো,
- আলু ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল নয়?
  1. তুলা
  2. আখ
  3. পাট
  4. ভুট্টা
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
ব্যাখ্যা
 ভুট্টা: 
- ভুট্টা দানাদার ফসল।
- ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশী।
- এতে প্রায় ১১% আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে।
- আমিষে প্রয়োজনীয় এ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমানে আছে।
• অর্থকরী ফসল:  তুলা, পান, পাট, আখ, চা।

উল্লেখ্য,
- আঁশ ফসলের জন্য চার ধরনের পাট রয়েছে।
- দেশী পাট, তোষা পাট, কেনাফ ও মেস্তা পাট।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস সেন্টার।
.
’প্রভাতী’ কোন ফসলের জাত?
  1. বেগুন
  2. আলু
  3. বাধাঁকপি
  4. পেয়াজ
সঠিক উত্তর:
বাধাঁকপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাধাঁকপি
ব্যাখ্যা
• উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস,
- ড্রামহেড,
- গোল্ডেন ক্রস,
- প্রভাতী,
- অগ্রদূত, 
- এটলাস ৭০,
- টোকিও প্রাইড,
- লিও ৮০ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:- কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
.
'কাঞ্চন’ ও ’গৌরভ' কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. গম
  2. টমেটো
  3. বেগুন
  4. বাধাঁকপি
সঠিক উত্তর:
গম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গম
ব্যাখ্যা
• গম:
- গমের উন্নত জাত: কাঞ্চন, আকবর, আঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরভ, বলাকা, দোয়েল ইত্যাদি।
এছাড়াও - 
- বেগুনের উন্নত জাত: শুকতারা, তারাপুরী, ইওরা ,ইসলামপুর্‌, খটখটিয়া, শিংনাথ, ঝুমকো, মুক্তকেশী, কাজলা, নয়নতারা, বিজয়, চমক এফ১।
- টমেটোর উন্নত জাত: বাহার, মানিক, রতন, মিন্টো, ঝুমকা। 
- আলুর উন্নত জাত: ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, সিন্দুরী। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।
.
কোনটি মৎস্য শিল্পে 'সাদা সোনা' নামে পরিচিত?
  1. ইলিশ
  2. সাদাপাথর
  3. চিংড়ি
  4. চিনামাটি
সঠিক উত্তর:
চিংড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিংড়ি
ব্যাখ্যা
হোয়াইট গোল্ড:
- বাংলাদেশ বিদেশে চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
- তাই চিংড়িকে ‘সাদা সোনা’ বা ‘হোয়াইট গোল্ড’ বলা হয়।
- বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের মোট চিংড়ির একটা উল্লেখযোগ্য অংশ উৎপাদিত হচ্ছে.
- তবে বছরভেদে এর পরিমান ওঠানামা করে।
- চিংড়ি খাত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাতে পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ১৬ আগস্ট ২০২৩, প্রথম আলো।
.
কতদিন বয়সের ধানের চারা রোপণ করা ভালো?
  1. ৬৫-৭৫ দিন
  2. ৫০-৬৫ দিন
  3. ২৫-৪৫ দিন
  4. ১০-২০ দিন
সঠিক উত্তর:
২৫-৪৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫-৪৫ দিন
ব্যাখ্যা
ধানের চারা তৈরি:
- ধানের চারা তৈরির জন্য সাধারণত চার ধরনের বীজতলা তৈরি করা হয়:
১। শুকনা বীজতলা;
২। ভিজা বীজতলা;
৩। ভাসমান বীজতলা;
৪। দাপোগ বীজতলা।
- জাত ও মৌসুম ভেদে ২৫-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করা ভালো।
- চারা তোলার পূর্বে বীজতলাতে পানি সেচ দিয়ে মাটি ভিজিয়ে নেয়া ভালো।
- এতে চারা তুলতে সুবিধা হয়।
- চারা তোলার পর তা ছোট ছোট আঁটি আকারে বেঁধে নিতে হয়।

⇒ চারা রোপণ পদ্ধতি:
- সমান জমিতে ছিপছিপে পানি থাকা অবস্থায় চারা রোপণ করতে হয়।
- লম্বা রশির সাহায্যে সোজা সারি করে চারা রোপণ করা উত্তম।
- এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ২০-২৫ সে.মি. এবং সারিতে গুছি থেকে গুছির দূরত্ব হবে ১৫-২০ সে.মি.।
- প্রতিটি গুছিতে ২-৩টি চারা দিতে হয়।
- দেরিতে রোপণ করলে চারার সংখ্যা বেশি ও ঘন করে লাগাতে হয়।

উল্লেখ্য,
- জমি সমান হলে মুক্ত প্লাবন পদ্ধতিতে এবং ঢালু হলে আইলবদ্ধ মুক্ত প্লাবন পদ্ধতিতে পানি সেচ দিতে হয়।
- দেশী জাতের ধানে পানি সেচ অবশ্যই প্রয়োজন।
- চারা রোপণ করার পর ৬-৭ দিন পর্যন্ত ৩-৫ সে.মি. সেচ দিতে হয়।
- এতে আগাছা দমন হয়।
- এরপর কুশি উৎপাদন পর্যায়ে ২-৩ সে.মি. এবং চারার বয়স ৫০-৬০ দিন হলে ৭-১০ সে.মি. পরিমাণ পানি সেচ দেয়া উত্তম।
- থোড় আসার সময় পানি সেচ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- দানাপুষ্ট হতে শুরু করলে আর সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন পোকা ধানের টুংরো ভাইরাস ছড়ায়?
  1. সবুজ পাতা ফড়িং
  2. বাদামি গাছ ফড়িং
  3. গান্ধী পোকা
  4. পামরি পোকা
সঠিক উত্তর:
সবুজ পাতা ফড়িং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ পাতা ফড়িং
ব্যাখ্যা
ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড়:
- প্রায় ৩৩টি প্রজাতির পোকাকে ধানের প্রধান ক্ষতিকর পোকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- তিন মৌসুমেই প্রায় একই ধরনের পোকা আক্রমন করে যদিও আক্রমনের মাত্রা ভিন্ন।
- আউশ ও আমন মৌসুমে পোকার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। 

উল্লেখ্য,
⇒ সবুজ পাতা ফড়িং (Green leaf hopper):
- ক্ষতির লক্ষণ:
১) পূর্ণবয়স্ক ও বাচ্চা উভয় অবস্থায় এ পোকা ধানের পাতার রস শুষে খায়।
২) গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও গাছ খাটো হয়।
৩) এ পোকা টুংরো ভাইরাস ছড়ায়।

- দমন ব্যবস্থা:
১) আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
২) হাতজাল ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
৩) প্রতিরোধী জাত যেমন বিআর-১, বিআর-২, বিআর-৫, বিআর-৬, বিআর-১০, বিআর-১২ জাতের ধান চাষ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশে আউশ ধান উত্তোলনের সময় -
  1. ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু
  2. জুনের শেষ–সেপ্টেম্বরের শুরু
  3. মধ্য নভেম্বর–মধ্য জানুয়ারি
  4. মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু
সঠিক উত্তর:
মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু
ব্যাখ্যা
• ধান উৎপাদন:
- আউশ ধান রোপনের সময়=মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল।
- আউশ ধান উত্তোলনের সময় =মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু

- আমন ধান রোপনের সময়=জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু।
- আমন ধান উত্তোলনের সময়= ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু।

- বোরো ধান রোপনের সময়= মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি।
- বোরো ধান উত্তোলনের সময় = এপ্রিল – মে।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০২২।
.
পাট উৎপাদনের জন্য উপযোগী আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ -
  1. ৪০-৫০%
  2. ৫৫-৭০%
  3. ৬০-৭৫%
  4. ৮০-৯০%
সঠিক উত্তর:
৮০-৯০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮০-৯০%
ব্যাখ্যা
পাট চাষ:
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
- এদেশের প্রায় সব জেলায় পাটের চাষ হয়।
- গত কয়েক বছরে পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য যেমন, ব্যাগ, বস্তা, জুতা এমনকি শাড়ী বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিদেশের বাজারে এসব পণ্য রপ্তানীর সুযোগ সৃষ্টি উৎপাদনের জন্য এর আধুনিক চাষপদ্ধতি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ জলবায়ু:
- পাট উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার ফসল, পাট উৎপাদনের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা হল ২৫-৩৫° সে. এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০-৯০%।
- পাট চাষের সময় সুষমভাবে বর্ণিত ১২৫-২০০ সে. মি. বৃষ্টিপাত উপকারী, চাষ অবস্থায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ক্ষতিকর।

⇒ মাটি:
- পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব পদার্থযুক্ত দোঁআশ মাটি পাটের জন্য ভাল।
- বেলে দোআশ বা এটেল দোঁআশ মাটিতে পাট চাষ করলেও ভাল ফসল পাওয়া যায়।
- এঁটেল মাটিতে পানি জন্মে থাকে বলে তা পাট চাষের জন্য উপযোগী নয়।

⇒ জমি নির্বাচন:
- উঁচু, মাঝারি নিচু এবং মাঝারি নিচু জমি অর্থাৎ যে জমিতে বৃষ্টির পানি দাঁড়ায় না বা জমে গেলেও নিষ্কাশন করা সম্ভব তেমন জমিই পাট চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।

⇒ পাটের জাত:
- পাটের প্রধান প্রজাতি ২টি:
১। দেশী পাট: Corchorus capsularis
- ডি-১৫৪-২' সিভিএল-১ (সবুজ পাট), সিভিই-৩ (আশু পাট), সিসি-৪৫ (জো পাট); এটম পাট-৩৮, বিজেআরআই দেশিী পাট-৫; বিজেআরআই দেশি-৬, বিজেআরআই দেশি পাট-৭, বিজেআরআই দেশি
২। তোষা পাট: Corchorus olitorius
- ফাল্গুনী তোষা (ও-৯৮৯৭), ওএম-১, ৩-৪, ৩-৭২, বিজেআরআই তোষা পাট-৪, বিজেআর আই তোষা পাট-৫, ৩-৭৯৫, বিজেআরআই তোষা পাট-৬ (ও-৩৮২০)।

⇒ বীজ বপনের সময়:
- বাংলাদেশের কৃষি ঋতুর ভিত্তিতে পাট উৎপাদনের জন্য খরিপ-১ ঋতু হল উপযুক্ত সময় (মার্চ-এপ্রিল থেকে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত)।
- দেশি পাট সাধারণত ১৫ই মার্চ থেকে ১৫ই মে এই সময়ের মধ্যে বুনতে হয়।
- তবে কোন জমিতে যদি জুলাই আগষ্টের দিকে বর্ষার পানি জমার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সে জমিতে কিছুটা আগাম বীজ বোনা উচিত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
আলু উৎপাদনে বাংলাদেশের শীর্ষ জেলা কোনটি? (মার্চ-২০২৬)
  1. রংপুর
  2. বগুড়া
  3. জয়পুরহাট
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা

 • কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪:
- ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - দিনাজপুর জেলা
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা- ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা- ঠাকুরগাঁও।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা- ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা- মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা- কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা- ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা- রংপুর।

তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪।

১১.
কোন মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী নয়?
  1. বেলে মাটি
  2. দোঁআশ মাটি
  3. এঁটেল মাটি
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
এঁটেল মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এঁটেল মাটি
ব্যাখ্যা
পাট চাষ:
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
- এদেশের প্রায় সব জেলায় পাটের চাষ হয়।
- গত কয়েক বছরে পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য যেমন, ব্যাগ, বস্তা, জুতা এমনকি শাড়ী বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিদেশের বাজারে এসব পণ্য রপ্তানীর সুযোগ সৃষ্টি উৎপাদনের জন্য এর আধুনিক চাষপদ্ধতি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ জলবায়ু:
- পাট উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার ফসল, পাট উৎপাদনের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা হল ২৫-৩৫° সে. এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০-৯০%।
- পাট চাষের সময় সুষমভাবে বর্ণিত ১২৫-২০০ সে. মি. বৃষ্টিপাত উপকারী, চাষ অবস্থায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ক্ষতিকর।

⇒ মাটি:
- পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব পদার্থযুক্ত দোঁআশ মাটি পাটের জন্য ভাল।
- বেলে দোআশ বা এটেল দোঁআশ মাটিতে পাট চাষ করলেও ভাল ফসল পাওয়া যায়।
- এঁটেল মাটিতে পানি জন্মে থাকে বলে তা পাট চাষের জন্য উপযোগী নয়।

⇒ জমি নির্বাচন:
- উঁচু, মাঝারি নিচু এবং মাঝারি নিচু জমি অর্থাৎ যে জমিতে বৃষ্টির পানি দাঁড়ায় না বা জমে গেলেও নিষ্কাশন করা সম্ভব তেমন জমিই পাট চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।

⇒ পাটের জাত:
- পাটের প্রধান প্রজাতি ২টি:
১। দেশী পাট: Corchorus capsularis
- ডি-১৫৪-২' সিভিএল-১ (সবুজ পাট), সিভিই-৩ (আশু পাট), সিসি-৪৫ (জো পাট); এটম পাট-৩৮, বিজেআরআই দেশিী পাট-৫; বিজেআরআই দেশি-৬, বিজেআরআই দেশি পাট-৭, বিজেআরআই দেশি
২। তোষা পাট: Corchorus olitorius
- ফাল্গুনী তোষা (ও-৯৮৯৭), ওএম-১, ৩-৪, ৩-৭২, বিজেআরআই তোষা পাট-৪, বিজেআর আই তোষা পাট-৫, ৩-৭৯৫, বিজেআরআই তোষা পাট-৬ (ও-৩৮২০)।

⇒ বীজ বপনের সময়:
- বাংলাদেশের কৃষি ঋতুর ভিত্তিতে পাট উৎপাদনের জন্য খরিপ-১ ঋতু হল উপযুক্ত সময় (মার্চ-এপ্রিল থেকে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত)।
- দেশি পাট সাধারণত ১৫ই মার্চ থেকে ১৫ই মে এই সময়ের মধ্যে বুনতে হয়।
- তবে কোন জমিতে যদি জুলাই আগষ্টের দিকে বর্ষার পানি জমার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সে জমিতে কিছুটা আগাম বীজ বোনা উচিত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
কোন জেলা তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী?
  1. রাজশাহী
  2. ফরিদপুর
  3. রংপুর
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোর
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
--------------- 
তুলা চাষ:

- ১৯৭৩-৭৪ সনে বাংলাদেশে সমভূমির তুলাচাষ শুরু হওয়ার পর থেকে তুলা চাষ এলাকা ও উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।
- বর্তমানে সমতল এলাকার ৩৪টি জেলায় সমভূমির জাতের তুলার আবাদ হচ্ছে এবং অতি সম্প্রতি ৩টি পার্বত্য জেলাতেও পাহাড়ি জাতের পাশাপাশি সমভূমির জাতের তুলার চাষাবাদ হচ্ছে। 
- ঝিনাইদহ জেলা তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। 
- পাহাড়ি তুলা এপ্রিল-মে মাসে এবং সমভূমির তুলা জুলাই-আগস্ট মাসে বপন করা হয়।
- পাহাড়ি তুলা ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে এবং সমভূমির তুলা জানুয়ারি-মার্চ মাসে উত্তোলন করা হয়।
- বর্তমানে তুলা উন্নয়ন বোর্ড তুলা গবেষণা, এর সম্প্রসারণ, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ, প্রশিক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও জিনিং এবং ঋণ বিতরণ প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।
- ১৯৭৬-৭৭ সালে আমেরিকা হতে নতুন তুলার জাত প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশে ব্যপক পরিমানে তুলা চাষ শুরু হয়।
- ১৯৯১ সালে তুলা গবেষণার দায়িত্ব বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিকট স্থানান্তর করা হয়।

তুলার চাষকৃত জাতগুলো:
- সমতল এলাকায় বর্তমানে, সিবি-৫, সিবি-৯ সিবি-১০ ও সিবি-১১ প্রভৃতি উচ্চফলনশীল জাতের তুলা এবং
- হাইব্রিড জাতের মধ্যে হীরা ও রূপালী-১ ও ডিএম-১ জাতের তুলা চাষ হচ্ছে।
- এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড়ি তুলা-১ ও পাহাড়ি তুলা-২ নামে উচ্চফলনশীল জাতের তুলা চাষ হয়। 

২০২২-২৩ মৌসুমে আশতুলা উৎপাদন:
কুষ্টিয়া- ৩০৭৪৫, 
চুয়াডাংগা- ৩০১৯৬, 
ঝিনাইদহ- ২৯০৭৭, 
যশোর - ২১৭৩২। 

২০২২-২৩ মৌসুমে বীজতুলা উৎপাদন:
কুষ্টিয়া-১৩৯৮৯, 
চুয়াডাংগা- ১৩৭৩৯, 
ঝিনাইদহ- ১৩২৩০, 
যশোর - ৯৮৮৮।

বাংলাদেশের এই চারটি জেলায় সবচেয়ে বেশি তুলা চাষ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। 
অর্থ্যাৎ- যশোর অঞ্চল তুলা চাষের জন্য বিখ্যাত।
সে হিসেবে উত্তর - যশোর গ্রহণ করা হয়েছে। 

উৎস- বাংলাপিডিয়া, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২-২৩।
১৩.
ভারত উপমহাদেশে ‘গোল আলু’ প্রথম কোন দেশ থেকে আনা হয়েছিল?
  1. ইতালি
  2. জার্মানি
  3. নিউজিল্যান্ডস
  4. নেদারল্যান্ডস
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ডস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা
আলু:
- বাংলাদেশের আলুর আদি জাত হচ্ছে মিষ্টি আলু।
- আর গোল আলুর আদি জাত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে।
- আলুকে ভারতবর্ষের সর্বত্র ছড়াতে কাজ করেছিল ইংরেজরা।
- সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে পর্তুগিজ নাবিকরা ভারতবর্ষে প্রথম আলু নিয়ে আসে বলে ধারণা করা হয়।
- ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষ তথা বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- ওয়ারেন হেস্টিংস-এর মাধ্যমে উপমহাদেশে আলু চাষের বিস্তার হয়।
- তিনি প্রথম আলু এনেছিলেন হল্যান্ড থেকে।
- ১৮৪৭ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত ‘দ্য গার্ডেনিং মান্থলি’ ম্যাগাজিনের একটি সংখ্যায় ভারতে আলু চাষ সম্পর্কে প্রথম তথ্য পাওয়া যায়।

⇒ ক্যামব্রিজ ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি অব ফুডের তথ্যমতে, আজ থেকে আট হাজার বছর পূর্বে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে প্রথম আলু পাওয়া যায়।
- লিমা থেকে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে টিটিকাকা হ্রদের কাছে প্রথমে আলু চাষ শুরু হয়েছিল।
- ১৫৬৫ সালের দিকে আলু প্রথমবারের মতো পেরু থেকে ইউরোপের দেশ স্পেনে পৌঁছায়।
- ইউরোপে আসার পরেই কামাটা বা বাটাটা নাম বদলে হয় পটেটো।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আলু উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
- বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে বারি ১ থেকে ৯১সহ আরও বিভিন্ন জাতের আবাদ হয় যার বেশিরভাগের উৎপত্তিস্থল দেশ নেদারল্যান্ডস।
- এরমধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত জাত হলো ডায়মন্ড (ডিম্বাকার), কার্ডিনাল (লালচে আলু), গ্রেনুলা (গোল আলু)।
- বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা ছাড়া দেশের সব স্থানেই আলুর চাষ হচ্ছে।
- সবচেয়ে বেশি আলু ফলে মুন্সিগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুর জেলায়।
- কৃষি গবেষকদের মতে আলু প্রথম চাষ হতে পারে মুন্সিগঞ্জে।
- তবে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপন্ন হয় রংপুর জেলায়।

উৎস: i) বাংলা পিডিয়া।
ii) ৩০ মে ২০২৪, BBC।
১৪.
বাংলাদেশে রোপা আমন ধান কাটা হয় কোন মাসে?
  1. চৈত্র-বৈশাখ মাসে
  2. ফালগুন-চৈত্র মাসে
  3. অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে
  4. বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাসে
সঠিক উত্তর:
অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে
ব্যাখ্যা
রোপা আমন ধান:
- আমন ধান মূলত দুই প্রকার।
- রোপা আমন ও বোনা আমন।
- রোপা আমন আষাঢ় মাসে  বীজতলায় বীজ বোনা হয়।
- শ্রবণ ভাদ্র মাসে  মূল জমিতে রোপণ করা হয়।
- অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে রোপা-আমন ধান কাটা হয়।

কয়েকটি জাতের নাম :
- লবণাক্ততা  সহিষ্ণু  জাত: ব্রি ধান৪০,  ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৫৩, ব্রি ধান৫৪, ব্রি ধান৭৩।
- বন্যা: ব্রি  ধান৫১, ব্রি ধান৫২, ব্রি ধান৭৯ ।
- খরা: ব্রি ধান৫৬,  ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১) ।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।
১৫.
উচ্চ ফলনশীল কলার জাত কোনটি?
  1. অগ্নিশ্বর
  2. চমক
  3. অগ্রদূত
  4. মালা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিশ্বর
ব্যাখ্যা
উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
- সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার জাত:
- বর্ণালি, শুভ্রা, খই, মোহর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
১৬.
বোরো ধানের ক্ষেত্রে কত দিনের চারা রোপন করতে হয়?
  1. ১৫-২০ দিন
  2. ২০-২৫ দিন
  3. ৪০-৪৫ দিন
  4. ৪৫-৫০ দিন
সঠিক উত্তর:
৪০-৪৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০-৪৫ দিন
ব্যাখ্যা
ধান চাষ:
- ধান বাংলাদেশের প্রধান দানা জাতীয় ফসল এবং প্রধান খাদ্য।
- বিশ্বের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯২ শতাংশ ধান এশিয়া দেশ গুলোতে উৎপন্ন হয়।

⇒ চাষাবাদের মৌসুম অনুযায়ী ধানের ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:
১। আউশ ধান: মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।
২। আমন ধান: জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।
৩। বোরো ধান: নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।

⇒ বীজ শোধন ও জাগ দেওয়া:
- বাছাইকৃত বীজ দাগমুক্ত ও পরিপুষ্ট হলে সাধারণভাবে শোধন না করলেও চলে।
- তবে শোধনের জন্য ৫২-৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরম পানিতে ১৫ মিনিট বীজ ডুবিয়ে রাখলে জীবানুমুক্ত হয়।
- বীজ শোধনের জন্য ২-৩ গ্রাম ছত্রাকনাশক ১ লিটার পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে এক কেজি পরিমান বীজ ডুবিয়ে ১২ ঘন্টা রেখে দিতে হয়।
- এরপর বীজ পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হয়।
- আউশ ও আমন মৌসুমের জন্য ৪৮ ঘন্টা বা দুই দিন ও বোরো মৌসুমে ৭২ ঘন্টা বা তিন দিনের বীজের অংকুর বের হয় এবং তা বীজতলায় বপনের উপযুক্ত হয়।

⇒ চারা রোপন:
- রোপা আউশ ও আমনের চারা ২০-২৫ দিন বয়সে লাগাতে হয়।
- কিন্তু বোরোর ক্ষেত্রে একটু বেশি বয়সের ৪০-৪৫ দিনের চারা রোপন করতে হয়।
- সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সে.মি ও গুছি থেকে গুছির দূরত্ব ১৫-২০ সে.মি।
- চারা মাটির ২-৩ সে.মি. গভীরে রোপন করতে হয়।
- এর চেয়ে বেশি গভীরতা হলে গাছে কুশি উৎপাদন কমে যায়।
- সারি করে চারা লাগালে নিড়ানি যন্ত্র ব্যবহার করা সহজ হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
বাংলাদেশে বোরো ধান উত্তোলনের সময় -
  1. জুনের শেষ–সেপ্টেম্বরের শুরু
  2. মধ্য মার্চ–মধ্য এপ্রিল
  3. এপ্রিল – মে
  4. ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল – মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল – মে
ব্যাখ্যা
• ধান উৎপাদন:
- আউশ ধান রোপনের সময় - মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল।
- আউশ ধান উত্তোলনের সময় - মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু।
- আমন ধান রোপনের সময় - জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু।
- আমন ধান উত্তোলনের সময় - ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু।
- বোরো ধান রোপনের সময় - মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি।
- বোরো ধান উত্তোলনের সময় - এপ্রিল – মে।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০২২।
১৮.
আউশ ধান রোপনের উপযুক্ত সময় কোনটি?
  1. মধ্য জানুয়ারি – ফেব্রুয়ারি
  2. মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
  3. জুনের শেষ – জুলাই শুরু
  4. নভেম্বর – ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
ব্যাখ্যা

• ফসল রোপন ও উত্তোলনের সময়সূচি:

• রোপনের সময়:
-------------------
- আউশ ধান = মধ্য মার্চ মধ্য এপ্রিল।
- আমন ধান =  জুনের শেষ সেপ্টেম্বরের শুরু।
- বোরো ধান = মধ্য নভেম্বর মধ্য জানুয়ারি।

• উত্তোলনের সময়:
-----------------------
- আউশ ধান = মধ্য জুলাই আগস্টের শুরু।
- আমন ধান = ডিসেম্বর - জানুয়ারির শুরু।
- বোরো ধান =  এপ্রিল - মে।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ– ২০২৪ (বিবিএস)।

১৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয়? [কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩]
  1. সাতক্ষীরা
  2. রাজশাহী
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. নওগাঁ
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

উৎপাদনে শীর্ষ জেলা:

- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ময়মনসিংহ।
- আউশ ধান উৎপাদনের শীর্ষ জেলা: কুমিল্লা।
- আমন ধান উৎপাদনের শীর্ষ জেলা: দিনাজপুর।
- বোরো ধান উৎপাদনের শীর্ষ জেলা: ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ঠাকুরগাঁও।
- ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: দিনাজপুর।
- আখ উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ: নাটোর।
- মাছ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ময়মনসিংহ।
- চিংড়ি উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: সাতক্ষীরা।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: রংপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: কুষ্টিয়া।
- আম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: নওগাঁ।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
২০.
মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের পরিমাণ শতকরা কত? [কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪]
  1. ১০.৫৫%
  2. ৯.৬২%
  3. ১১.২৫%
  4. ৮.৯৫%
সঠিক উত্তর:
১০.৫৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০.৫৫%
ব্যাখ্যা

মৎস্য উৎপাদন:
- মোট মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৫০,১৮,৪৮৩ মে.টন।
- মিঠা পানিতে মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৪৩,৮৯,৮৬০ মে.টন।
- লোনা মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৪,২৮,৬২৩ মে.টন।

• ইলিশ - ১০.৫৫%।
• চিংড়ি - ৫.১৯%।
• মেজরকার্প (রুই, কাতলা, মৃগেল) - ২২.৬৪%।
• এক্সটিককার্প (সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, ইত্যাদি) - ১১.০৯%।
• অন্যান্যকার্প (কালিবাউস, বাটা, ঘনিয়া) - ৩.১৩%।
• তেলাপিয়া - ৮.৭৬%।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

২১.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২ অনুযায়ী, কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয়?
  1. ঝিনাইদহ
  2. ফরিদপুর
  3. বগুড়া
  4. নওগাঁ
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
ব্যাখ্যা
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২ অনুযায়ী,

- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ - খুলনা।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - ঝিনাইদহ।

- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - ঠাকুরগাঁও।
- মাছ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - ময়মনসিংহ।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - বগুড়া।

তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২।
২২.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের জেলাগুলো গম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী?
  1. দক্ষিণাঞ্চল
  2. উত্তরাঞ্চল
  3. মধ্যাঞ্চল
  4. পাহাড়ি অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তরাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরাঞ্চল
ব্যাখ্যা

গম (Wheat):
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো গম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
- এছাড়া দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর, বগুড়া প্রভৃতি অঞ্চলে গম চাষ ভালো হয়।
- গম উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি তাই প্রতিবছর গম আমদানি করতে হয়।

গম চাষের নিয়ামক:
তাপমাত্রা: গম চাষের জন্য সাধারণত ১৬° থেকে ২২° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।
বৃষ্টিপাত : গম চাষে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হলেও চলে। সাধারণত গম চাষের জন্য প্রয়োজন ৫০-৭৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত। এ কারণে বাংলাদেশে বৃষ্টিহীন শীত মৌসুমে পানি সেচের মাধ্যমেও গম চাষ করা হয়।
মৃত্তিকা: বাংলাদেশের উর্বর দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
কীসের মাধ্যমে কুলকে মিষ্টি জাতে রূপান্তরিত করা যায়?
  1. বীজের মাধ্যমে
  2. কুড়ি সংযোজন
  3. কাটিং
  4. লেয়ার গ্রাফটিং
সঠিক উত্তর:
কুড়ি সংযোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়ি সংযোজন
ব্যাখ্যা
কুল চাষ:
- কুলকে ইংরেজিতে Ber বা Jujube বলে।
- বর্তমানে কুল চাষ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের উৎকৃষ্ট জাত উদ্ভাবনের ফলে বাণিজ্যিকভাবে কুলের চাষ বেড়েছে।
- কুলে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও খণিজ লবণ আছে।

⇒ কুলের ফুল পেটের গ্যাস ও রুচি বর্ধকের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- কুল ও পাতা উভয়েই ক্ষত রোগের জন্য উপকারী।
- কুল কাচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া হয়।
- বাংলাদেশে বিশেষ করে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহে উৎকৃষ্ট জাতের চাষ হয়ে থাকে। 

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- কুল জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া প্রয়োজন।
- কুল আর্দ্র আবহাওয়ায় চাষ অনুপোযোগী।
- উঁচু বা মাঝারি জমি, দোআশ মাটিতে কুলের চাষ ভালো হয়, তবে সব মাটিতেই চাষ করা যায়।

⇒ বংশবিস্তার:
- কুল বীজ ও কলম উভয় মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যায়।
- কুঁড়ি সংযোজন করে যেকোন কুল গাছকে মিষ্টি জাতে বা উন্নত জাতে রূপান্তরিত করা যায়।
- সেজন্য কুড়ি সংযোজনই সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি।
- বীজের মাধ্যমে চারা গাছে মাতৃগুণ থাকে না এবং ফল আসতে সময় বেশি লাগে।
- সাধারণত কুলে রিং বা টি বাডিং করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
শিমের গ্রীষ্মকালীন জাতের বীজ কখন বপন করা হয়?
  1. গ্রীষ্মকালে
  2. বর্ষাকালে
  3. শীতকালে
  4. সারাবছর
সঠিক উত্তর:
সারাবছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারাবছর
ব্যাখ্যা
শিম চাষ:
- শিম আমিষ সমৃদ্ধ একটি সবজি।
- শিম এবং এর বীজ উভয়ই জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি।
- এটি উচ্চ আঁশযুক্ত, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ যা মানুষের জন্য খুবই উপকারী।
- এর মূলে নডিউল জাত আছে তা বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করে নাইট্রোজেন মাটিতে যুক্ত করতে পারে।

⇒ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি শিম-১, বারি শিম-২, বারি শিম-৩, বারি শিম-৪, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত ইপসা শিম, এছাড়া কার্তিকা, বারমাসি জনপ্রিয় জাতের মধ্যে অন্যতম।
- এছাড়াও বিভিন্ন বীজ কোম্পানি থেকে নিত্য নতুন জাত বাজারজাত করছে।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- শিম শীতকালীন এবং খরা সহিষ্ণু সবজি।
- দোআঁশ মাটি শিমের জন্য ভালো তবে সার ও পানি ব্যবস্থাপার মাধ্যমে যেকোন মাটিতে ভালো জন্মে।
- মাটির pH ৬.৫-৮.৫ হলে ভালো।
- ফসলের অঙ্গজবৃদ্ধি ও পুষ্পায়ন জন্য তাপমাত্রা ও দিবস দৈর্ঘ্য যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।
- এ সবজি গাছের অঙ্গজ বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু এবং দীর্ঘ দিবস প্রয়োজন।
- কিন্তু প্রজননের জন্য নিম্ন তাপমাত্রা ও কম দিবস দৈর্ঘ্য প্রয়োজন।
- শীতকালীন জাতগুলোতে কেবল শীতের প্রভাবেই পুষ্পায়ন ঘটে.
- গ্রীষ্মকালীন জাতগুলো দিবস নিরপেক্ষ হওয়ায় বছরের যে কোনো সময় বীজ বপন বা চারা রোপন করা হউক না কেন যথাসময়ে পুষ্পায়ন ঘটে থাকে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
‘বর্ষাকাল’ কৃষির কোন মৌসুমের অন্তর্গত?
  1. খরিপ-১
  2. খরিপ-২
  3. রবি মৌসুম
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
খরিপ-২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরিপ-২
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।
- যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।
- কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়।

ii) খরিপ মৌসুম:
- চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ মৌসুম বলে।
- খরিপ মৌসুমকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- যথা: খরিপ-১ বা গ্রীষ্মকাল এবং খরিপ- ২ বা বর্ষাকাল।

⇒ খরিফ-১ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।
- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

⇒ খরিফ-২ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।
- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
২৬.
পিঁয়াজ উত্তোলনের কমপক্ষে কত দিন পূর্বে সেচ বন্ধ করা উচিত?
  1. ২ সপ্তাহ
  2. ৩ সপ্তাহ
  3. ৪ সপ্তাহ
  4. ৫ সপ্তাহ
সঠিক উত্তর:
৩ সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজ চাষ:
- পিঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত মসলা জাতীয় ফসল।
- সবজি ও সালাদ হিসেবে এবং আচার, কেচাপ ও সস তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।
- এর অনেক ওষধি গুণ রয়েছে।
- উদ্ভিদতাত্ত্বিক পরিচিতি পিঁয়াজ একটি দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
- তবে আমাদের দেশে এর একবর্ষজীবী জাতও দেখা যায়।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম Allium cepa.

⇒ পিঁয়াজের রূপান্তরিত কান্ড সংলগ্ন পাতার গোড়ায় খাদ্য জমাটের ফলে স্ফীত হয় এবং কান্ডের সাথে একটির পর একটি সংযোজিত হয়ে শল্ককন্দ উৎপাদন করে।
- এ শল্ককন্দ পিঁয়াজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এ থেকে নতুন গাছ জন্মে থাকে।

⇒ বংশবিস্তার:
- বীজতলায় চারা উৎপাদন করে জমিতে রোপণ, সরাসরি ক্ষেতে বীজ বপন বা ছোট ছোট কন্দ রোপণ সাধারণত এ তিনটি পদ্ধতিতে পিঁয়াজের চাষ করা হয়।
- এদের মধ্যে চারা রোপণ পদ্ধতিতে পিঁয়াজের ফলন বেশী হয়।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- সহনশীল তাপমাত্রা, পর্যাপ্ত দিনের আলো ও মাটিতে রস থাকলে পিঁয়াজের ভাল ফলন পাওয়া যায়।
- এঁটেল মাটি ছাড়া অন্য যে কোন মাটিতে পিঁয়াজের চাষ করা যায়।
- তবে দোঁআশ ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হালকা দোআঁশ বা পলিযুক্ত মাটি পিঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম।
- মাটির অম্লত্ব বা pH ৫.৮-৬.৫ পিঁয়াজ উৎপাদনের জন্য উত্তম, অধিক ক্ষার বা অম্ল মাটিতে পিঁয়াজের আকার ছোট হয় ও পুষ্ট হতে বেশী সময় লাগে।

⇒ উৎপাদন মৌসুম:
- বাংলাদেশে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুতে অর্থাৎ সারা বছরই পিঁয়াজ চাষ করা সম্ভব।
- জীবনকাল চারা রোপণের ৯০ থেকে ১০৫ দিন পর পিঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়।

⇒ সেচ:
- মাটির রস স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলে পিঁয়াজের ফলন কমতে থাকে।
- এজন্য পিঁয়াজের জমিতে যথেষ্ট পরিমাণ আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন।
- চারা মাটিতে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ৩ দিন অন্তর সেচ দেওয়া প্রয়োজন।
- পিঁয়াজ উত্তোলনের ৩ সপ্তাহ পূর্ব থেকে সেচ বন্ধ রাখতে হয়।
- নতুবা পিঁয়াজের গুণাগুণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
- পিঁয়াজের সম্পূর্ণ জীবন চক্রে ৮-১০ বার সেচের প্রয়োজন হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
চা বোর্ডের তথ্যানুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে চা উৎপাদনের পরিমাণ কত?
  1. ১০২.৯২ মিলিয়ন কেজি
  2. ৯৯.১২ মিলিয়ন কেজি
  3. ১০০.৬৬ মিলিয়ন কেজি
  4. ১০৫.৭৮ মিলিয়ন কেজি
সঠিক উত্তর:
১০০.৬৬ মিলিয়ন কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০.৬৬ মিলিয়ন কেজি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

চা শিল্প:

- চা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল।
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, আমদানি বিকল্প পণ্য উ‌‌ৎপাদন এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসকরণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে চা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- বাংলাদেশে প্রথম চা চাষ শুরু হয়েছিল ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের পাইওনিয়ার বাগানে।
- সিলেটের মালনীছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সালে।

⇒ বাংলাদেশ চা বোর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চা উৎপাদনের অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করে ২০২৩ সালে মোট ১০২ দশমিক ৯২ মিলিয়ন কেজি (১ লক্ষ টনের কিছু বেশি) চা উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদিত চা থেকে এক মিলিয়ন কেজির কিছুটা বেশি পরিমাণ চা রপ্তানি করা হয়েছে। রপ্তানিকৃত চায়ের মূল্য ২৭২ মিলিয়ন টাকার চেয়ে সামান্য বেশি।

উল্লেখ্য,
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে চা উৎপাদনের পরিমাণ ১০০.৬৬ মিলিয়ন কেজি।

এছাড়াও,
- ২০২৫ সালে চা'য়ের সম্ভাব্য উৎপাদনের পরিমাণ ১৪০.০ মি. কেজি এবং অভ্যন্তরীণ ভোগের পরিমাণ হবে ১২৯.৪৩ মি. কেজি। ফলে অভ্যন্তরীণ ভোগ মিটিয়েও অবশিষ্ট প্রায় ১০.৫৭ মি. কেজি চা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। 

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট। [link]
২৮.
ধান চাষের জন্য উপযোগি তাপমাত্রা কত?
  1. ২০-২৫° সে
  2. ২২-২৮° সে
  3. ২৩-২৮° সে
  4. ২৫-৩০° সে
সঠিক উত্তর:
২০-২৫° সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০-২৫° সে
ব্যাখ্যা
ধান চাষ: 
- ধান বাংলাদেশের প্রধান দানা জাতীয় ফসল এবং প্রধান খাদ্য।
- বিশ্বের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯২ শতাংশ ধান এশিয়া দেশ গুলোতে উৎপন্ন হয়।

⇒ চাষাবাদের মৌসুম অনুযায়ী ধানের ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:
১। আউশ ধান: মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।
২। আমন ধান: জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।
৩। বোরো ধান: নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।

⇒ জলবায়ু:
- ব্যাপক ও বিস্তৃত জলবায়ুতে ধান চাষ করা যায়।
- ধান চাষের জন্য উপযোগি তাপমাত্রা হলো ২০-২৫° সে.।
- বৃষ্টিপাত কম হলে সেচ দিতে হবে।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৪০% এর কম ও ৯৫% এর বেশি হলে পুষ্পায়ন ব্যাহত হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
বোরো ধান উত্তোলনের সময় কখন?
  1. ডিসেম্বর – জানুয়ারি
  2. এপ্রিল – মে
  3. জুলাই – আগস্ট
  4. জুন – সেপ্টেম্বর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল – মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল – মে
ব্যাখ্যা

• ফসল রোপন ও উত্তোলনের সময়সূচি:

• রোপনের সময়:
-------------------
আউশ ধান = মধ্য মার্চ - মধ্য এপ্রিল।
আমন ধান =  জুনের শেষ  -সেপ্টেম্বরের শুরু।
বোরো ধান = মধ্য নভেম্বর - মধ্য জানুয়ারি।

• উত্তোলনের সময়:
-----------------------
আউশ ধান = মধ্য জুলাই - আগস্টের শুরু।
আমন ধান = ডিসেম্বর - জানুয়ারির শুরু।
বোরো ধান =  এপ্রিল - মে।

উৎস: বিবিএস ( কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ– ২০২৪)।

৩০.
কোনটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মাটি ?
  1. পলি মাটি
  2. দো-আঁশ মাটি
  3. বেলে মাটি
  4. এঁটেল মাটি
সঠিক উত্তর:
দো-আঁশ মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দো-আঁশ মাটি
ব্যাখ্যা
পাট চাষ:
- উর্বর দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- তবে বেলে ও এঁটেল মাটি ছাড়া সব জমিতেই পাট চাষ করা যায়।
- তবে যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম।
- তোষা পাট উঁচু জমিতে এবং দেশী পাট উঁচু ও নিচু দু'ধরনের জমিতেই চাষ করা যায়।

উল্লেখ্য, 
- ১৫ মার্চ-১৫ এপ্রিল পাটের বীজ বপনের সময়।
- সময় সঠিক সময়ের আগে বা পরে বীজ বুনলে আলোক সংবেদনশীলতার কারণে পাট গাছ সুষ্ঠুভাবে বাড়তে পারে না,
- অসময়ে ফুল দেখা দেয় এবং পাটের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়।

তথ্যসূত্র - কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৩১.
গম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা কত ডিগ্রী?
  1. ১২° থেকে ২২° সেলসিয়াস
  2. ১৫° থেকে ২০° সেলসিয়াস
  3. ১৩° থেকে ১৮° সেলসিয়াস
  4. ১৬° থেকে ৩২° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
১৫° থেকে ২০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫° থেকে ২০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• গম (Wheat):
- গম মাঝারি তাপমাত্রায় এবং কম আর্দ্র  থেকে আধা-শুষ্ক অবস্থায় ভালো জন্মে।
 - ইহার চারা গজানো, বৃদ্ধি,দানা গঠন,পরিপক্কতা এবং পুষ্টিগুণের ব্যপকতা পরিবেশগত অবস্থার উপর নির্ভর করে।
- গম  একটি  নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার ফসল। ইহা  নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে  গ্রীষ্মকালে এবং অব-উষ্ণঅঞ্চলে শীতকালে বা রবি মৌসুমে জন্মে।
 - ইহার  বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য  দৈনিক পরিমিত গড় তাপমাত্রা ১৫° - ২০° সেন্টিগ্রেড।
- ৩০-৩৫° সে. থেকে অধিক  তাপমাত্রা ফসলের  সাধারণ কার্যক্রমে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ইহা  তীব্র ঠান্ডা অবস্থা সহ্য করতে পারে।  গমের বীজ অংকুরোদগমের সময় ঠান্ডা সহ্য করতে পারে, তবে  অংগজ বৃদ্ধির জন্য ১৫-২০° সেন্টিগ্রেড  তাপমাত্রা সর্বোত্তম  ।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা (বামিস) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ। [লিংক]
৩২.
’এটলাস ৭০’ কোন ফসলের উচ্চ ফলনশীল জাত?
  1. বেগুন
  2. আলু
  3. বাধাঁকপি
  4. পেয়াজ
সঠিক উত্তর:
বাধাঁকপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাধাঁকপি
ব্যাখ্যা
• উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাতঃ
- গ্রীন এক্সপ্রেস,
- ড্রামহেড,
- গোল্ডেন ক্রস,
- প্রভাতী,
- অগ্রদূত, 
এটলাস ৭০,
টোকিও প্রাইড,
লিও ৮০ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:- কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
৩৩.
দেশের কৃষিতে এককভাবে কোন সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি?
  1. ইউরিয়া সার
  2. টিএসপি সার
  3. ডিএপি সার
  4. ডিএসপি সার
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া সার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে উৎপাদিত রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া সার প্রধান।
- এছাড়া অন্যান্য সারের মধ্যে টিএসপি ও ডিএপি উল্লেখযোগ্য।
- বিসিআইসি’র উৎপাদিত পণ্যের ৮০ শতাংশই বিভিন্ন রাসায়নিক সার, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ ইউরিয়া সার এবং ১০ শতাংশ 
- কৃষি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবহৃত সার - ইউরিয়া সার; পরিমাণ - ২,৪৫০ হাজার/২৪.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবহৃত সার - ডিএপি (DAP); পরিমাণ – ১,৩০০.০০ হাজার/১৩.০০ লক্ষ মেট্রিক টন।

উৎস: বিসিআইসি ওয়েবসাইট।
৩৪.
বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল কোনটি?
  1. ধান
  2. পাট
  3. চা
  4. ইলিশ
সঠিক উত্তর:
পাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাট
ব্যাখ্যা
অর্থকরী ফসল:
- যেসব কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা হয়, সেগুলোকে অর্থকরী ফসল বলে।
- বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী কৃষিপণ্য হচ্ছে পাট, চা ও তামাক।
- বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসলসমূহ: পাট, চা, আখ বা ইক্ষু, তামাক, তুলা, রাবার, ফুল প্রভৃতি।

⇒ পাট:
- পাট এক ধরনের কৃষিপণ্য।
- পাট একটি বর্ষাকালীন ফসল।
- এর জীবনকাল ১০০ থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত।
- বাংলাদেশে পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়ে থাকে।
- পাট বাংলার শত বর্ষের ঐতিহ্য।
- দুই ধরনের পাট বাংলাদেশে দেখতে পাওয়া যায়: সাদা পাট ও তোষা পাট।
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।

উল্লেখ্য,
- পাট রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম।
- বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৬ লক্ষ মে. টন পাট উৎপাদিত হয় যা বিশ্বে দ্বিতীয়।
- পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে পাট এবং পাট শিল্পের সাথে জড়িত।
- পাট দিয়ে তৈরি হচ্ছে ব্যাগ, শাড়ি, জুতা, স্যান্ডেল, বিছানার চাদর, পর্দা সোফার কভার,কার্পেট এবং আরো নানা ধরনের পণ্য।
- দেশের ভেতরে পলিথিন বা প্লাস্টিকের ব্যাগ নিষিদ্ধ করে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করা হলে পাটের বিপুল চাহিদা তৈরি হবে।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
ii) পাট অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩৫.
কোন দশক থেকে চাষীরা সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শুরু করে?
  1. পঞ্চাশ দশক
  2. ষাট দশক
  3. সত্তর দশক
  4. আশির দশক
সঠিক উত্তর:
সত্তর দশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্তর দশক
ব্যাখ্যা
বাগদা চিংড়ি:
- বাগদা চিংড়ির বৈজ্ঞানিক নাম Penaeus monodon।
- লোনা পানিতে উৎপাদিত চিংড়িকে Shrimp এবং স্বাদু পানিতে উৎপাদিত চিংড়িকে Prawn বলা হয়'।
- বাগদা লোনা পানির চিংড়ি (Shrimp)।
- রপ্তানি বাজারে এটি Black Tigar Shrimp নামে পরিচিত।
- বাগদা চিংড়ি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উপকূল ও সামুদ্রিক অঞ্চলে উদ্ভুত একটি মৎস্য প্রজাতি।

উল্লেখ্য,
- চিংড়ি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী রপ্তানি পণ্য।
- দেশের মোট উৎপাদিত চিংড়ির বেশীরভাগই উৎপাদিত হয় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ করে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায়।
- সত্তর দশকের শুরু থেকেই মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের চাষীরা সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শুরু করে।
- আশির দশক থেকে দেশে বাণিজ্যিকভাবে বাগদা চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি হচ্ছে।
- আশির দশকের শুরুতে আধা-লোনা পানিতে মৎস্য খামার স্থাপন প্রকল্পের উদ্যোগে খুলনা অঞ্চলে পোল্ডারের মধ্যে এবং কক্সবাজার অঞ্চলে লবণের সাথে চিংড়ি চাষ শুরু করা হয়।
- আশির দশকের মাঝামাঝি চিংড়ি চাষ প্রকল্পে মৎস্য অধিদপ্তর হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনে সাফল্য অর্জন করে এবং বেসরকারি পর্যায়ে চিংড়ি হ্যাচারি স্থাপনে সহায়তা প্রদান করে।

উৎস: i) পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) মৎস্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
iii) ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
৩৬.
স্বর্ণা সারের আবিষ্কারক কে?
  1. ড. মকবুল আহমেদ
  2. ড. মোবারক আহমেদ
  3. ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ
  4. ড. সৈয়দ আব্দুল খালেক 
সঠিক উত্তর:
ড. সৈয়দ আব্দুল খালেক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সৈয়দ আব্দুল খালেক 
ব্যাখ্যা
স্বর্ণা সার:
• স্বর্ণা সারের আবিষ্কারক- ড. সৈয়দ আব্দুল খালেক।
- তিনি ১৯৮৭ সালে এই জৈব সার আবিষ্কার করেন।
- যার বৈজ্ঞানিক নাম ফাইটা হারমোন ইনডিউসার'।
- স্বর্ণা সারের ব্যবহারে মাটির প্রাকৃতিক গুণাবলি রক্ষা পায়,
- এবং উদ্ভিদের সুস্থ বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়, যা রাসায়নিক সারের তুলনায় অধিক কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব।  

⇒ অপরদিকে,
- জুটন আবিষ্কার করেন: মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ।
- পাট থেকে ঢেউটিন তৈরি করেন: ড. মোবারক আহমেদ।
- এক ধানে দুই চাল তৈরি করেন: ড. মকবুল আহমেদ।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
৩৭.
দেশের প্রথম অর্গানিক চা বাগান কোথায় অবস্থিত?
  1. সিলেট
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. পঞ্চগড়
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
অর্গানিক চা:
- অর্গানিক বা ভেষজ চা হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কোনোরকম ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কৃত্রিম উপাদান ছাড়া উৎপাদন প্রক্রিয়া।
- অর্গানিক চা চাষে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলাদেশে পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়ায় সর্বপ্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়।
- ২০০০ সালে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে চায়ের আবাদ শুরু হয়।
- উৎপাদন শুরু হয় ২০০৪ সালে।
- বর্তমানে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলায় ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে অর্গানিক চায়ের চাষ হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- জৈব চাষের প্রথাগত নিয়ম মেনেই তৈরি হয় অর্গ্যানিক চা।
- এক্ষেত্রে চা পাতায় কোনও রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না।
- সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই চাষ করা হয় এই চা।
- এই ধরনের চা পাতার গন্ধ ও গুণ আলাদা হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৩৮.
পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয় জনগোষ্ঠী যে বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. কুম
  2. জুম
  3. রুম
  4. কুমি
সঠিক উত্তর:
জুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুম
ব্যাখ্যা

জুম চাষ:
- জুম চাষ (Jhum) বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি।
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- মূলত পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করাই হলো জুম।
- এক্ষেত্রে সাধারণত পাহাড়ের গায়ে কিছু স্থানে চাষ করার পর কয়েক বছর সেই স্থানের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য রেখে দিয়ে আবার পাহাড়ের অন্য স্থানে গিয়ে চাষ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- জুম চাষিদের জুমিয়া বলা হয়।
- জুম চাষ পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
- বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ভূমি এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়।
- সাধারণভাবে জন্মানো প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভুট্টা, কাউন, তিল, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ, বরবটি, তুলা, কলা, আদা, হলুদ প্রভৃতি।
- বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) জুম চাষ হয়।
- জুম চাষের বিকল্প পদ্ধতি হচ্ছে সল্ট।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৯.
'আউশ ধান' উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. ময়মনসিংহ
  2. দিনাজপুর
  3. কুমিল্লা
  4. ঠাকুরগাঁও
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
উৎপাদনে শীর্ষ জেলা:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ময়মনসিংহ।
- আউশ ধান উৎপাদনের শীর্ষ জেলা: কুমিল্লা।
- আমন ধান উৎপাদনের শীর্ষ জেলা: দিনাজপুর।
- বোরো ধান উৎপাদনের শীর্ষ জেলা: ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ঠাকুরগাঁও।
- ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: দিনাজপুর।
- আখ উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ: নাটোর।
- মাছ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ময়মনসিংহ।
- চিংড়ি উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: সাতক্ষীরা।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: রংপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: কুষ্টিয়া।
- আম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা: নওগাঁ।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
৪০.
আমন ধান উত্তোলনের সময় কোনটি?
  1. এপ্রিল – মে
  2. মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
  3. মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু
  4. ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু
সঠিক উত্তর:
ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু
ব্যাখ্যা

আমন ধান:
- আমন ধান মূলত দুই প্রকার:
- রোপা আমন ও বোনা আমন।
- রোপা আমন বলতে বুঝায় অন্য জমিতে চারা প্রস্তুত করে, সেই চারা ক্ষেতে রোপণ করে ধান উৎপন্ন হয়।
- রোপা আমন আষাঢ় মাসে বীজতলায় বীজ বোনা হয়।
- শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে রোপণ করা হয়।
- অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে রোপা-আমন ধান কাটা হয়।

উল্লেখ্য,
• আউশ ধান রোপনের সময়= মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল।
- আউশ ধান উত্তোলনের সময়= মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু।

• আমন ধান রোপনের সময়= জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু।
- আমন ধান উত্তোলনের সময়= ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু।

• বোরো ধান রোপনের সময়= মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি।
- বোরো ধান উত্তোলনের সময় = এপ্রিল – মে।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।
ii) কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০২৪।

৪১.
’রবিশস্য’ বলতে কী বুঝায়?
  1. গ্রীষ্মকালীন শস্যকে
  2. বর্ষাকালীন শস্যকে
  3. হেমন্তকালীন শস্যকে
  4. শীতকালীন শস্যকে
সঠিক উত্তর:
শীতকালীন শস্যকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতকালীন শস্যকে
ব্যাখ্যা

রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবিশস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।
- অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে কম তাপমাত্রায় রবি শস্য বপন করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গমমসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

৪২.
আউশ ধান সাধারণত কোন সময়ে রোপণ করা হয়?
  1. জানুয়ারি শেষ – ফেব্রুয়ারি শুরু
  2. মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
  3. জুন শেষ – জুলাই শেষ
  4. সেপ্টেম্বর মধ্য – অক্টোবর শেষ
সঠিক উত্তর:
মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
ব্যাখ্যা

• ফসল রোপন ও উত্তোলনের সময়সূচি:

• রোপনের সময়:
-------------------
আউশ ধান = মধ্য মার্চ মধ্য এপ্রিল।
আমন ধান =  জুনের শেষ সেপ্টেম্বরের শুরু।
বোরো ধান = মধ্য নভেম্বর মধ্য জানুয়ারি।

• উত্তোলনের সময়:
-----------------------
আউশ ধান = মধ্য জুলাই আগস্টের শুরু।
আমন ধান = ডিসেম্বর - জানুয়ারির শুরু।
বোরো ধান =  এপ্রিল - মে।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ– ২০২৪ (বিবিএস)।

৪৩.
ধান উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য়
ব্যাখ্যা
ধান উৎপাদন:
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এর হিসাব মতে, ধান উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ দেশ চীন।
- বিশ্বের মোট ধান উৎপাদনের ৩০% ধান উৎপাদন করে থাকে চীন, যে উৎপাদন প্রায় ১৪.৮৫ কোটি টন।
- ধান উৎপাদনে ৩য় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

⇒ ধান উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ দেশ:
1. চীন।
2. ভারত।
3. বাংলাদেশ।

অন্যদিকে -
- ধান আমদানিতে শীর্ষ দেশ চীন।
- ধান রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ ভারত।

এছাড়াও বাংলাদেশ -
- সবজি উৎপাদনে ৩য় অবস্থানে,
- আম উৎপাদনে ৮ম অবস্থানে,
- কাঁঠাল উৎপাদনে ২য় অবস্থানে,
- আলু উৎপাদনে ৬ষ্ঠ অবস্থানে,
- পেঁয়াজ উৎপাদনে ৮ম অবস্থানে,
- ইলিশ উৎপাদনে ১ম স্থানে,
- পাট উৎপাদনে ২য় স্থানে,
- মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে ৩য় অবস্থানে,

উৎস: FAO ওয়েবসাইট।
৪৪.
মাটির প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে কতটি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২৭টি 
  2. ৩০টি 
  3. ১৫টি 
  4. ২১টি 
সঠিক উত্তর:
৩০টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি 
ব্যাখ্যা

• মৃত্তিকা ভিত্তিক পরিবেশ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফসল নির্বাচন:
- মাটির বৈশিষ্ট্য বলতে মাটির শ্রেণি, জৈব পদার্থের মাত্রা, পটাশজাত খনিজের মাত্রা, PH মাত্রা এবং মাটির বন্ধুরতাকে বোঝায়। 
- মাটির প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। 
- কোনো একটি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল প্রকৃতপক্ষে সে অঞ্চলের মাটির প্রতিনিধিত্ব করে। 
- এক একটি কৃষি অঞ্চল এক একটি প্রযুক্তিও বটে। 
- কৃষি কর্মকাণ্ডের জন্য সবচেয়ে বড় কাজ হলো মাটির বৈশিষ্ট্য ও বন্ধুরতা অনুযায়ী ফসল নির্বাচন করা।
- মাটির বৈশিষ্ট্যভিত্তিক ফসল নির্বাচন কৃষি কর্মের একটি অত্যাবশ্যক প্রযুক্তি। 
- এই প্রযুক্তি যত নিখুঁতভাবে ব্যবহার করা যাবে কৃষিকাজের ফলাফলও তত বেশি লাভজনক হবে। 

• মাটির গঠন ও প্রকৃতি অনুযায়ী ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলকে নিম্নোক্ত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়। 
- এই অঞ্চলগুলোর মাটির বৈশিষ্ট্যভিত্তিক ফসল নির্বাচন দেখানো হলো।
১। দোআঁশ ও পলি দোআঁশ মাটি অঞ্চল।
২। কাদা মাটি অঞ্চল।
৩। বরেন্দ্র অঞ্চল ও মধুপুর অঞ্চল।
৪। পাহাড়ি ও পাদভূমি অঞ্চল।
৫। উপকূলীয় অঞ্চল।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৪৫.
কলার চারা পরপর কত দূরত্বে লাগানো উচিত?
  1. ৩ মি. × ৩ মি.
  2. ২ মি. × ২ মি.
  3. ২ মি. × ৩ মি.
  4. ৩ মি. × ৪ মি.
সঠিক উত্তর:
২ মি. × ২ মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মি. × ২ মি.
ব্যাখ্যা
কলা চাষ:
- কলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল।
- কলা জনপ্রিয়, সস্তা ও সুস্বাদু ফল।
- এতে মানবদেহের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
- কলার অনেক জাত সেগুলো সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- কলা গাছের গুড়ি কন্দ মাটির নীচে থাকে এটিই আসল কান্ড।
- পাতার পাতাগুলি শক্ত ও ঘনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভুয়াকান্ডে পরিণত হয়।

⇒ কলার জমি নির্বাচন:
- কলার জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এমন জমি নির্বাচন করতে হবে।
- সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন জমি কলা চাষের জন্য উপযোগী।
- তবে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা আছে এমন জমি উত্তম।

⇒ জাত নির্বাচন:
- পৃথিবীতে অনেক চাষযোগ্য জাত রয়েছে।
- বাংলাদেশে কলার জাত সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১. পাকা অবস্থায় খাওয়ার উপযোগী কলা: অমৃত সাগর, সবরী, অগ্নীসর, মেহের সাগর, চাম্পা, চিনি চাম্পা, কবরী, এঁটে কলা।
২. আনাজী বা সবজি কলা: ভেড়ারভোগ, চোয়াল পউশ, বেহুলা, মন্দিরা ইত্যাদি।

⇒ জমি তৈরি:
- কলার মূল ততটা গভীর না হলেও বিস্তারশীল।
- মাটিতে শিকড় যাতে ভালোভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে সেজন্য ভালো করে তৈরি করে নিতে হবে।
- এরপর ২ মি. × ২ মি. দূরত্বে কাঠি পুঁতে রোপণের অবস্থান ঠিক করে নিতে হবে।
- কাঠিকে কেন্দ্র করে ৫০ সে.মি.× ৫০ সে.মি. গভীর করে গর্ত খুঁড়তে হয়।
- ১০-১৫ দিন গর্ত উম্মুক্ত রাখতে হবে।
- উপরের মাটির সাথে জৈব সার মিশিয়ে গর্তে দিতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
কোনটি মাঠ ফসল?
  1. ধান, গম, ভুট্টা
  2. সরিষা, সয়াবিন, তিল
  3. চা, কফি, কোকো
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- বিভিন্ন ধরনের মাঠ ফসলের কৃষিতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ:
১। তন্ডুল বা দানাজাতীয় শস্য:
- এরা গ্রামিনী পরিবারের অন্তর্গত।
- এ পরিবারের খাবার উপযোগী দানা জাতীয় শস্যগুলোকেই তন্ডুল ফসল বলে।
- যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, যব, চীনা, কাওন ইত্যাদি।

২। ডাল ফসল:
- লিগুমিনোসি পরিবারের প্যাপিলিওনেসি উপ-পরিবারের যে সমস্ত দানাজাতীয় ফসল ডালের জন্য চাষ করা হয়, সেগুলোকে ডাল ফসল বলা হয়।
- যেমন- মসুর, খেসারি, মুগ, ছোলা, মাসকালাই ইত্যাদি।

৩। তৈল ফসল:
- যে সমস্ত ফসলের বীজ থেকে তেল সংগ্রহ করা হয়।
- সেগুলোকে তৈল ফসল বলা হয়।
- যেমন- সরিষা, সয়াবিন, তিল, তিসি, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

৪। চিনি ফসল:
- যে সমস্ত ফসলের রস থেকে মিষ্টিজাতীয় পদার্থ যেমন- চিনি, গুড়, মিছরি ইত্যাদি তৈরি করা হয়, সেগুলোকে চিনি ফসল বলে।
- যেমন- আখ, বিট, খেজুর, তাল ইত্যাদি।

৫। আঁশ ফসল:
- আঁশ পাওয়ার জন্য যে সমস্ত ফসল চাষ করা হয়, সেগুলোকে আঁশ ফসল বলা হয়।
- যেমন- পাট, তুলা, শনপাট, কেনাফ, রামী ইত্যাদি।

৬। নেশা ফসল:
- নেশাজাতীয় দ্রব্য উৎপাদানের জন্য যে সমস্ত ফসল চাষ করা হয়, সেগুলোকে নেশা ফসল বলে।
- যেমন- তামাক, গাঁজা, আফিম, কুম্ভি, হেনবেন ইত্যাদি।

৭। পানীয় ফসল: যে সকল ফসল পানীয় দ্রব্য উৎপাদনের জন্য চাষ করা হয়, সেগুলোকে পানীয় ফসল বলে।
- যেমন- চা, কফি, কোকো ইত্যাদি।

৮। পশুখাদ্য ফসল:
- পশুর খাদ্যের জন্য যে সমস্ত ফসল চাষ করা হয়।
- সেগুলোকে পশুখাদ্য ফসল বলে।
- যেমন- প্যারা ঘাস, নেপিয়ার ঘাস, ভুট্টা, জোয়ার, খেসারি, মাসকালাই ইত্যাদি।

৯। সবুজ সার ফসল:
- যে সমস্ত সবুজ ফসল জন্মানোর একটা নির্দিষ্ট সময় পর মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে জৈব সার তৈরির জন্য চাষ করা হয়, সেগুলোকে সবুজ সার ফসল বলে।
- যেমন- ধইঞ্চা, শনপাট ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
চৈত্র মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত কোন মৌসুম?
  1. রবি মৌসুম
  2. খরিপ-১ মৌসুম
  3. খরিপ-২ মৌসুম
  4. বর্ষা মৌসুম
সঠিক উত্তর:
খরিপ-১ মৌসুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরিপ-১ মৌসুম
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ফসল উৎপাদন:

- বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনের জন্য জলবায়ুর ভিত্তিতে সারা বছরকে প্রধানত দুটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।
যথা:- রবি বা শীতকালীন মৌসুম এবং খরিপ বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম।
- রবি মৌসুম সাধারণত কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে।
- রবি শস্য মূলত শীতকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ শস্য মূলত গ্রীষ্মকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ মৌসুমকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।
- খরিপ-১: চৈত্র মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকাল বলা হয়।
- খরিপ-২: আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ মৌসুম বা বর্ষাকাল বলা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ৭ম শ্রেণি।

৪৮.
"AWD" এর পূর্ণরূপ কি?
  1. Alternative Weather Design
  2. Alternate Wetting and Drying
  3. Awareness on Wetting and Drying
  4. Alternative Wetting and Drying
সঠিক উত্তর:
Alternate Wetting and Drying
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Alternate Wetting and Drying
ব্যাখ্যা
AWD:
- ধান উৎপাদনে সেচের পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি (AWD).
- 'AWD' এর পূর্ণরূপ Alternate Wetting and Drying.
- ধান উৎপাদনে পানি বা সেচ প্রদান আবশ্যক।
- সেচের পানির আধিক্যে ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং রোগ পোকার আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।
- জলাবদ্ধ জমিতে বাদামি গাছ ফড়িং, চুঙ্গি পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
- জমিতে পানি আটকে থাকলে ধান গাছে কুশি উৎপাদন ব্যাহত হয়।
- সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এডব্লিউডি খুবই লাগসই পানিসাশ্রয়ী একটি প্রযুক্তি।
- 'AWD' প্রযুক্তি হলো জমিকে পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানোর মাধ্যমে ধানক্ষেতে প্রয়োজনমত নিয়ন্ত্রিত সেচ দেয়া।
- এ পদ্ধতিতে সেচ দিলে ধানক্ষেতে ২৮% পানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
- সেচের পানি সাশ্রয়ী পাইপ পদ্ধতি ধানক্ষেতে একটি ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক  বা বাঁশের পাইপ বসিয়ে মাটির ভেতরের পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনমতো সেচ দেয়াই হলো এ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য।

তথ্যসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।
৪৯.
পুঁইশাক কীসের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে থাকে?
  1. বীজ
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
পুঁইশাক:
- পুঁইশাকের ইংরেজি নাম হল Indian Spinach।
- পুঁইশাক গ্রীষ্মকালীন পাতা জাতীয় সবজির মধ্যে অন্যতম।
- পুঁইশাক যদিও গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত পরিমাণে জন্মে তবে সারা বছর ধরেই পাওয়া যায়।

⇒ জলমায়ু ও মাটি:
- পুঁইশাক উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভালো জন্মে।
- এটি যে কোন জায়গায় জন্মাতে পারে।
- জাত স্থানীয় সবুজ ও লাল সাধারণত দুটি জাত দেখা যায়।
- লাল জাতের তুলনায় সবুজ জাত দ্রুত বাড়ে এবং ফলন বেশি।
- তবে লাল জাতের স্বাদ ও পুষ্টিমান বেশি।

⇒ বংশ বিস্তার:
- বীজ বা কান্ডের সাহায্যে বংশবিস্তার করে থাকে।
- বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করার জন্য বীজের মাধ্যমে চাষাবাদ করে থাকে।
- বীজের পরিমাণ সারিতে বীজ বপনের জন্য প্রতি হেক্টরে ১.৫-৩ কেজি বীজ প্রয়োজন।
- বীজ লাগানোর সময় পুঁইশাক সাধারণত এপ্রিল মে পর্যন্ত চাষাবাদ করা হয়।
- সেচের ব্যবস্থা করা গেলে রবি মৌসুমেও করা যায়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
আদা কোন মাসে লাগানো হয়?
  1. জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি
  2. মার্চ-মে
  3. জুন-জুলাই
  4. ডিসেম্বর-জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
মার্চ-মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্চ-মে
ব্যাখ্যা
আদা চাষ:
- আদা একটি প্রয়োজনীয় মসলা ফসল যা খাবারকে সুস্বাদু করে।
-- আদা বাড়ির পাশে পতিত জমি, পাহাড়ে চাষাবাদ করা যায়।
- বিভিন্ন ফসলের সাথে আন্তঃফসল হিসেবে চাষ করা যায়। 
- কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় জাত চাষ করে থাকে।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- আদার কন্দসহ গাছ আদার বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া উপযোগী।
- আদার জন্য সুনিষ্কাশিত বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হয়।
- তবে এটেল দোআঁশ মাটিতেও চাষ করা যায়।

⇒ জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ:
- আদার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে জমি গভীরভাবে ৫-৬ টি চাষ দিতে হবে।
- জমি তৈরি সময় গোবর সার, টিএসপি, অর্ধেক এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে।
- বাকি অর্ধেক এমপি সার দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।

⇒ রোপন পদ্ধতি:
- আদার ১-২ কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ মার্চ থেকে মে মাসে রোপন করতে হবে।
- সাধারণত ১৫-২০ গ্রাম ওজনের কন্দ প্রতি গর্তে ১টি করে ৪০-৫০ সে.মি. সারি থেকে সারি, গাছ থেকে গাছে ২৫ সে.মি. দূরত্বে ৫ সে.মি. গভীরে রোপন করতে হবে।
- আদা রোপনের পর গাছ ও শিকড় বৃদ্ধি প্রাপ্ত হলে মাতৃ আদা তুলে নিলে গাছের কোন ক্ষতি হয় না বরং আর্থিক লাভবান হওয়া যায়।
- এই পদ্ধতিকে পিলাই তোলা বলে।

⇒ ফসল সংগ্রহ:
- আদা লাগানোর ৭-১০ মাস পর পাতা ও গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেলে ফসল তোলার উপযোগী হয়।
- সাধারণত: ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে আদা তোলা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী কৃষিপণ্য কোনটি?
  1. ইক্ষু
  2. চা
  3. পাট
  4. তামাক
সঠিক উত্তর:
পাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাট
ব্যাখ্যা

অর্থকরী ফসল:
- যেসব কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা হয়, সেগুলোকে অর্থকরী ফসল বলে।
- বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী কৃষিপণ্য হচ্ছে পাট, চা ও তামাক।
- বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসলসমূহ: পাট, চা, আখ বা ইক্ষু, তামাক, তুলা, রাবার প্রভৃতি।

⇒ পাট:
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী কৃষিপণ্য।
- পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন কটামা
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪ অনুসারে, মোট পাট উৎপাদন হয় ৯৫,৮১,৫৮০ বেল এবং সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয় ফরিদপুুর জেলায়।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
ii) পাট অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৫২.
খরিপ শস্য মূলত কোন ধরনের ফসল?
  1. গ্রীষ্মকালীন ফসল
  2. শীতকালীন ফসল
  3. শরৎকালীন ফসল
  4. বসন্তকালীন ফসল
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্মকালীন ফসল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীষ্মকালীন ফসল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ফসল উৎপাদন:

- বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনের জন্য জলবায়ুর ভিত্তিতে সারা বছরকে প্রধানত দুটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:- রবি বা শীতকালীন মৌসুম এবং খরিপ বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম।
- রবি মৌসুম সাধারণত কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে।
- রবি শস্য মূলত শীতকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ শস্য মূলত গ্রীষ্মকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ মৌসুমকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।
- খরিপ-১: চৈত্র মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকাল বলা হয়।
- খরিপ-২: আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ মৌসুম বা বর্ষাকাল বলা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ৭ম শ্রেণি।

৫৩.
আলু চাষের জন্য কোন মাটি সবচেয়ে উপযোগী?
  1. এঁটেল
  2. বেলে
  3. বেলে দো-আঁশ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বেলে দো-আঁশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলে দো-আঁশ
ব্যাখ্যা
আলু:
- আলু বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফসল।
- উৎপাদনের দিক থেকে ধান, গম ও ভুট্টার পরেই চতুর্থ স্থানে আছে আলু।
- আলু একটি স্টার্চ প্রধান খাদ্য এবং ভাতের বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।
- আলু চাষের জন্য বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে আলু চাষের মোট জমির শতকরা ৬৫ ভাগ জমিতে উন্নত জাতের আলু এবং ৩৫ ভাগ জমিতে দেশি জাতের আলুর চাষ হয়ে থাকে।
- ১৯৬০ সাল থেকে এ পর্যন্ত যেসব উন্নত জাতের আলুর চাষ হচ্ছে তার মধ্যে হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ড, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা জাতটি সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে।
- এগুলো সবই উচ্চফলনশীল জাত।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৫৪.
'খরিপ' মৌসুমের সময়কাল কোনটি?
  1. চৈত্র - ভাদ্র 
  2. মাঘ- ভাদ্র
  3. শ্রাবণ - অগ্রাহয়ণ
  4. আশ্বিন - ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
চৈত্র - ভাদ্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈত্র - ভাদ্র 
ব্যাখ্যা

কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- আশ্বিন থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।
- মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত, মতান্তরে মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে।
- গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিপ মৌসুম:
- চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ মৌসুম বলে। খরিপ মৌসুমে বিশেষ করে আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসের মধ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। খরিপ মৌসুমে তাপমাত্রা ও বায়ুর আর্দ্রতা বেশি পরিলক্ষিত হয়। খরিপ মৌসুমকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: খরিপ-১ বা গ্রীষ্মকাল এবং খরিপ- ২ বা বর্ষাকাল।

⇒ খরিপ-১ মৌসুম:
- চৈত্র মাস থেকে আষাঢ় মাস (মধ্য মার্চ হতে মধ্য জুলাই) পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ বলা হয়। এইসময়কে গ্রীষ্মকালও বলা হয়।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিপ-১ শস্য বলে। যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি।

⇒ খরিপ-২ মৌসুম:
- শ্রাবণ মাস থেকে আশ্বিন মাস (মধ্য জুলাই হতে মধ্য অক্টোবর) পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ বলে। এই সময় বর্ষাকাল।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিপ-২ শস্য বলে। যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

এছাড়াও,
- কিছু ফসল ও শাক-সবজি আছে যেগুলো উভয় মৌসুমেই বা সারা বছর চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। এদেরকে বারোমাসী ফসল বলে। যেমন- কলা, পেঁপে ইত্যাদি।

উৎস:
i) কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৫.
একটি কাঁচা পাটের গাইটের ওজন-
  1. ৩.৫ মণ
  2. ৪ মণ
  3. ৪.৫ মণ
  4. ৫ মণ
সঠিক উত্তর:
৪.৫ মণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪.৫ মণ
ব্যাখ্যা
কাঁচা পাটের গাইট:
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে পাট এবং পাট শিল্পের সাথে জড়িত।
- জাতীয় রপ্তানি আয়ে পাট খাতের অবস্থান দ্বিতীয়।
- পাটজাত পণ্যকে ২০২৩ সালের ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ বা বর্ষপণ্য এবং পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- পাট উৎপাদনের পর থেকে পচনের আগ পর্যন্ত একে কাঁচা পাট নামে অভিহিত করা হয়।
- পাট অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বছরে দেশে ৮৫ থেকে ৯০ লাখ বেল কাঁচাপাট উৎপাদিত হয়।
- একটি কাঁচা পাটের গাঁইটের ওজন ৪.৫ মণ।

উল্লেখ্য,
- পাটের ওজন হিসেব করা হয় বেল দিয়ে।
- বেল অর্থ গাঁট বাধা।
- গাঁট থেকেই গাঁইট এসেছে বলা যায়।
- ১ বেল = ১৮২.২৫ কেজি।
- ১ মণ = ৩৭.৩২ কেজি
- ১৮২.২৫ কেজি= প্রায় ৪.৫ মণ।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস। 
         ii) বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে জুম চাষ প্রচলিত?
  1. সমতল ভূমি
  2. পাহাড়ি অঞ্চল
  3. নদী বিধৌত অঞ্চল
  4. উপকূলীয় অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
পাহাড়ি অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাহাড়ি অঞ্চল
ব্যাখ্যা
জুম চাষ:
- জুম চাষ (Jhum) বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি।
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- মূলত পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করাই হলো জুম।
- বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) জুম চাষ হয়।
- এক্ষেত্রে সাধারণত পাহাড়ের গায়ে কিছু স্থানে চাষ করার পর কয়েক বছর সেই স্থানের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য রেখে দিয়ে আবার পাহাড়ের অন্য স্থানে গিয়ে চাষ করা হয়।
- জুম চাষিদের 'জুমিয়া' বলা হয়।
- সাধারণভাবে জন্মানো প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভুট্টা, কাউন, তিল, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ, বরবটি, তুলা, কলা, আদা, হলুদ প্রভৃতি। 

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৬ এপ্রিল, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৫৭.
বাংলাদেশে বেশি উৎপাদিত হয়- (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)
  1. আমন ধান
  2. ইরি ধান
  3. আউশ ধান
  4. বোরো ধান
সঠিক উত্তর:
বোরো ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরো ধান
ব্যাখ্যা

• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে বিভিন্ন ধানের উৎপাদনের পরিমান।

- ধানের  মোট উৎপাদন = ৪০৬.৯৭ লক্ষ
- ধানের মোট আবাদকৃত জমির পরিমান= ২৮৮.২০ লক্ষ(একর)

• আউশ ধান (স্থানীয় + অন্যান্য) = ২৯.৭৩ লক্ষ।
• আমন ধান (স্থানীয় + অন্যান্য) = ১৬৬.৫৬ লক্ষ।
• বোরো ধান (স্থানীয় অন্যান্য) = ২১০.৬৮ লক্ষ।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪।

৫৮.
‘খটখটিয়া‘ কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. ধান
  2. বেগুন
  3. সরিষা
  4. গম
সঠিক উত্তর:
বেগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুন
ব্যাখ্যা
• বেগুনের জাত:
- বাংলাদেশে বেগুনের বহু জাত রয়েছে। এক জাত থেকে অন্যজাতে গাছের প্রকৃতি, ফলের রং, আকার, আকৃতি প্রভৃতি বিষয়ে বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
- বাংলাদেশে প্রধানতঃ লম্বা ফল, গোলাকর ফল ও গোলাকার এই তিন ধরণের বেগুনের চাষ বেশী হয়ে থাকে।

• কিছু বেগুনের উন্নত জাত হলো:
- খটখটিয়া, ইসলামপুরী, নয়ন কাজল, কেজি বেগুন, শিংনাথ, ঝুমকো, মুক্তকেশী, শুকতারা, তারাপুরী (বারি বেগুন ২), কাজলা, নয়নতারা, বিজয়, চমক এফ১, লাফাফা,  

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৫৯.
'পেঁয়াজ' উৎপাদনে শীর্ষ জেলা-
  1. ফরিদপুর
  2. পাবনা
  3. রাজবাড়ী
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
পাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাবনা
ব্যাখ্যা

• ‘পেঁয়াজ’ উৎপাদন: 
- ‘পেঁয়াজ’ উৎপাদনে বাংলাদেশের শীর্ষ জেলা হলো পাবনা জেলা।
- পাবনা জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ সর্বোচ্চ, প্রায় ৭ লাখ টনের বেশি।  
- এটি দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে।   
- দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফরিদপুর। 
- অন্যান্য শীর্ষ জেলা: রাজবাড়ী, মেহেরপুর, নাটোর ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ – ২০২৪। 

৬০.
আদা লাগানোর কত দিন পর ফসল তোলার উপযোগী হয়?
  1. ২০- ২৫ দিন
  2. ৩০- ৪৫ দিন
  3. ২- ৩ মাস
  4. ৭-১০ মাস
সঠিক উত্তর:
৭-১০ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭-১০ মাস
ব্যাখ্যা
আদা চাষ:
- আদা একটি প্রয়োজনীয় মসলা ফসল যা খাবারকে সুস্বাদু করে।
- আদা বাড়ির পাশে পতিত জমি, পাহাড়ে চাষাবাদ করা যায়।
- বিভিন্ন ফসলের সাথে আন্তঃফসল হিসেবে চাষ করা যায়।
- কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় জাত চাষ করে থাকে।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- আদার কন্দসহ গাছ আদার বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া উপযোগী।
- আদার জন্য সুনিষ্কাশিত বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হয়।
- তবে এটেল দোআঁশ মাটিতেও চাষ করা যায়।

⇒ জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ:
- আদার জন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে জমি গভীরভাবে ৫-৬ টি চাষ দিতে হবে।
- জমি তৈরি সময় গোবর সার, টিএসপি, অর্ধেক এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে।
- বাকি অর্ধেক এমপি সার দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।

⇒ রোপন পদ্ধতি:
- আদার ১-২ কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ মার্চ থেকে মে মাসে রোপন করতে হবে।
- সাধারণত ১৫-২০ গ্রাম ওজনের কন্দ প্রতি গর্তে ১টি করে ৪০-৫০ সে.মি. সারি থেকে সারি, গাছ থেকে গাছে ২৫ সে.মি. দূরত্বে ৫ সে.মি. গভীরে রোপন করতে হবে।
- আদা রোপনের পর গাছ ও শিকড় বৃদ্ধি প্রাপ্ত হলে মাতৃ আদা তুলে নিলে গাছের কোন ক্ষতি হয় না বরং আর্থিক লাভবান হওয়া যায়।
- এই পদ্ধতিকে পিলাই তোলা বলে।

⇒ ফসল সংগ্রহ:
- আদা লাগানোর ৭-১০ মাস পর পাতা ও গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেলে ফসল তোলার উপযোগী হয়।
- সাধারণত: ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে আদা তোলা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১.
ধান চাষের জমি অনুর্বর হলে জমিতে প্রতি বর্গমিটারে কত কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে?
  1. ০.৫ কেজি
  2. ১ কেজি
  3. ১.৫ কেজি
  4. ২ কেজি
সঠিক উত্তর:
২ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ কেজি
ব্যাখ্যা
ধানের আধুনিক চাষ পদ্ধতি:
- বাংলাদেশে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে ধানের চাষ করা হয়।
- এর মধ্যে ধানের জমি শতকরা ১১ ভাগ আউশ, ৪৮ ভাগ আমন ও ৪১ ভাগ বোরো ধান চাষ করা হয়।
- কিন্তু উৎপাদনের দিক থেকে বোরো শতকরা ৪৮ ভাগ, আমন ৪২ ভাগ ও আউশ ১০ ভাগ।
- বোরো মৌসুমে ধান চাষ হয় সবচেয়ে বেশি এবং আউশে সবচেয়ে কম।
- তিন মৌসুমে ধান চাষ প্রায় একই রকম।

⇒ ধানের জাত বাংলাদেশে প্রধানত দু'জাতের ধান দেখা যায়।
১. স্থানীয় জাত এবং,
২. উচ্চ ফলনশীল জাত (উফশী জাত)।

⇒ বীজতলা তৈরি:
- দোআঁশ ও এটেল মাটি যেখানে প্রচুর আলো বাতাস আছে এমন জমি বীজতলার জন্য উপযোগী।
- বীজতলার জমি উর্বর হওয়া প্রয়োজন।
- তবে অনুর্বর জমি হলে প্রতি বর্গমিটার ২ কেজি হারে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।
- এর পর জমিতে ৫- ৬ সে.মি. পানি দিয়ে দু-তিনটি চাষ ও মই দিয়ে ৭-১০ দিন পানি বদ্ধ অবস্থায় রেখে দিতে হবে।
- জমিতে ব্যবহৃত জৈব সার পচে গেলে পুনরায় চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে।
- একটি আদর্শ বীজতলায় ৪টি বেড থাকবে।
- প্রতিটি জমির দৈর্ঘ্য বরাবর এক মিটার চওড়া বেড তৈরি করতে হবে এবং দু-বেডের মাঝে ২৫-৩০ সে.মি. ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে।
- বেডের উপরের মাটি কাঠ বা বাঁশ দিয়ে সমান করে নিতে হয়।
- বেডের মধ্যবর্তী নালা সেচ ও নিস্কাশন এবং চারার পরিচর্যার জন্য ব্যবহৃত হয়।

• মৌসুম ভেদে ধানের চারা উৎপাদনের জন্য চার ধরনের বীজতলা তৈরি করা যায়। যেমন:
(১) শুকনো বীজতলা,
(২) কাদাময় বীজতলা,
(৩) ভাসমান বীজতলা ও,
(৪) ডাপোগ বীজতলা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬২.
কোন ধরনের মাটিতে গমের উৎপাদন বেশি হয়?
  1. এটেল মাটিতে
  2. দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে
  3. পলি মাটিতে
  4. বেলে ও এটেল দোআঁশ মাটিতে
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে
ব্যাখ্যা

• গম চাষোপযোগী মাটির বৈশিষ্ট্য:
- উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি গম চাষের জন্য উপযোগী। মাঝারি নিচু জমিতেও গম চাষ করা হয়।
-দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য ভালো। এঁটেল দোআঁশ মাটিতেও গমের চাষ হয়।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে গমের চাষ ভালো হয়। এছাড়া ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুরেও গমের আবাদ হয়।
- বাংলাদেশের সব কৃষি অঞ্চলে গমের চাষ হয় না। বিশেষ করে হাওর বাঁওড় ও বিল -অঞ্চলে গমের আবাদ করা হয় না।
- যে মাটিতে PH (অম্লাত্মক-ক্ষারত্মক)। মাত্রা ৬.০ থেকে ৭.০ সেসব মাটিতে গম ভালো হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬৩.
নিম্নের কোন উদ্ভিদটির উপর দিনের আলোর দৈর্ঘ্য কোন প্রভাব ফেলে না?
  1. সয়াবিন
  2. ফুলকপি
  3. গাজর
  4. টমেটো
সঠিক উত্তর:
টমেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমেটো
ব্যাখ্যা
দিবাদৈর্ঘ্য:
- অনেকগুলো পারিপার্শ্বিক কারণ দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রভাবিত হয়।
- এই কারণ সমূহের কয়েকটি নিয়ন্ত্রিত হয় মানুষ দ্বারা।
- সর্বশেষ আবিষ্কৃত বাহ্যিক প্রভাবক সমূহের একটি হচ্ছে দিনের দৈর্ঘ্য প্রযুক্তিগতভাবে ইহা পরিচিত ফটোপিরিয়ড নামে।
- আলোককাল বা ফটোপিরিয়ডের প্রতি উদ্ভিদের সাড়া প্রদানকে বলে ফটোপিরিয়ডিজম।
- দিনের দৈর্ঘ্য যদিও একটি উদ্ভিদের কোন একটি বা সমস্ত অঙ্গকে রূপান্তরিত করতে পারে।
- তবুও এই পদ্ধতি আবিষ্কৃত হওয়ার পর হতে আজ পর্যন্ত প্রথমিক ভাবে ধারনা করা হয় এর দ্বারা উদ্ভিদের পুষ্পপ্রদান এবং ফলের উন্নয়ন প্রভাবিত হয়।
- দিনের দৈর্ঘ্য কম বেশী হওয়ার কারণে সালোকসংশ্লেষনের জন্য প্রাপ্ত মোট সময়ের ভিন্নতা ঘটে।
- ফলে সালোকসংশ্লেষন কম বেশি হয়।
- দিনের দৈর্ঘ্য বা আলোর হ্রাস বৃদ্ধির উপর অনেক উদ্ভিদের পুষ্পায়ন সম্পূনরূপে নির্ভর করে।
- এসকল উদ্ভিদ ক্রান্তীয় দিবা দৈর্ঘ্যর নিচে বা উপরে ফুল ধারন করে।
- আলো ও তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে দিনের দৈর্ঘ্য।

⇒ দিনের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে উদ্ভিদকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. স্বল্প দিবালোক:
- প্রাপ্ত উদ্ভিদ যে সকল উদ্ভিদ ক্রান্তীয় দিবা দৈর্ঘ্যর নিচে ফুল দেয় তাদেরকে স্বল্প দিবালোক প্রাপ্ত উদ্ভিদ বলে।
- যেমন: সয়াবিন, ফুলকপি, চন্দ্রমল্লিকা।
২. দীর্ঘ দিবালোক প্রাপ্ত উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদ ক্রান্তীয় দিবা দৈর্ঘ্যর উপর ফুল দেয় তাদেরকে দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ বলে।
- যেমন:- চিনাবাদাম, লেটুস, গাজর ইত্যাদি।
৩. দিবালোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ:
- যে কোন দৈর্ঘ্যের দিনে এসব ফসলের ফুল-ফল উৎপাদিত হয়ে থাকে, যেমন: টমেটো, তুলা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪.
রবি শস্য বপন করা হয় কখন?
  1. জুন ও জুলাই
  2. অক্টোবর ও নভেম্বর
  3. নভেম্বর ও ডিসেম্বর
  4. ডিসেম্বর ও জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর ও নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর ও নভেম্বর
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।
- যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।
- অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রবি শস্য বপন করা হয়।
- কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিপ মৌসুম:
- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিপ শস্য।
- চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম।
- খরিপ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়।
- যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

খরিফ-১ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।
- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

খরিফ-২ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।
- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

তথ্যসূত্র - কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৬৫.
সাধারণত জুম চাষ করা হয় যে এলাকায় -
  1. সিলেট
  2. কুমিল্লা
  3. খাগড়াছড়ি
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
জুম চাষ:
- জুম চাষ (Jhum) বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি।
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- মূলত পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করাই হলো জুম।
- এক্ষেত্রে সাধারণত পাহাড়ের গায়ে কিছু স্থানে চাষ করার পর কয়েক বছর সেই স্থানের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য রেখে দিয়ে আবার পাহাড়ের অন্য স্থানে গিয়ে চাষ করা হয়।
- জুম চাষিদের জুমিয়া বলা হয়।
- জুম চাষ পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
- বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ভূমি এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়।
- সাধারণভাবে জন্মানো প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভুট্টা, কাউন, তিল, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ, বরবটি, তুলা, কলা, আদা, হলুদ প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) জুম চাষ হয়।
- জুম চাষের বিকল্প পদ্ধতি হচ্ছে সল্ট।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) কালের কন্ঠ।
৬৬.
কোন ধরনের বল তুলা সংগ্রহের জন্য উত্তম?
  1. অতিরিক্ত পরিপক্ক বল
  2. পরিপক্ক বল
  3. আধা-পরিপক্ক বল
  4. কচি বল
সঠিক উত্তর:
পরিপক্ক বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপক্ক বল
ব্যাখ্যা
তুলা চাষ:
- তুলা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঁশ জাতীয় ফসল।
- বস্ত্রখাতে ব্যবহৃত আঁশের ৭০-৭৫% আসে তুলা থেকে।
- বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে বর্তমানে ৫৪ লাখ বেল তুলার প্রয়োজন যার মাত্র ৩% দেশে উৎপন্ন হয়। এ

⇒ মাটি ও জলবায়ু:
- তুলা উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া পছন্দ করে।
- চারাগাছের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য ২৪-৩৩° সে. তাপমাত্রা উপযোগী তুলাগাছ অতিবৃষ্টি সহ্য করতে পারে না।
- বার্ষিক ১০০ সে.মি. বৃষ্টি তুলার জন্য উত্তম।
- সবধরনের মাটিতেই তুলাগাছ জন্মে।
- দোঁআশ ও বেলে দোঁআশ মাটি তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। 

⇒  বীজ বপনের সময়:
- রবি মৌসুম: মধ্য শ্রাবণ-ভাদ্র মাস।
- খরিফ মৌসুম: জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাস।

⇒ তুলা সংগ্রহ:
- শুধুমাত্র পরিপক্ক বল থেকে তুলা সংগ্রহ করতে হবে।
- বল ফেটে তুলা বের হলেই বল পরিপক্ক হয়েছে বুঝতে হবে।
- সাধারণ বীজ বপনের ৫-৬ মাস পর তুলা সংগ্রহ করা যায়।
- তুলা সংগ্রহের সময় রৌদ্র উজ্জ্বল দিন তুলা সংগ্রহ করতে হয়।
- সাধারণত রবি মৌসুমে তুলা কার্তিক-অগ্রাহায়ণ মাসে এবং খরিফ মৌসুমের তুলা ফাল্গুন-চৈত্র মাসে সংগ্রহ করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭.
ডালিয়া সাধারণত কী থেকে চারা করা হয়?
  1. বীজ
  2. মূল
  3. পাতা
  4. কন্দমূল
সঠিক উত্তর:
কন্দমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্দমূল
ব্যাখ্যা
ডালিয়া চাষ:
- ডালিয়ার রং আকারের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি শীতকালীন মৌসুমি ফুল টবে, গৃহে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণের শোভা বর্ধনের জন্য চাষ হয়ে থাকে।
- ডালিয়া বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে।
- বংশবিস্তার সাধারণত কন্দমূলের মাধ্যমে অথবা শাখা কলমের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। 
- সময়মত স্টপিং, টাইমিং ও থিনিং করা প্রয়োজন।
- ফুল বড় করার জন্য ডিজবাডিং করা হয়ে থাকে।
- ফুল ফোটা শেষ হলে কন্দমুল তুলে সংরক্ষণ করতে হবে।

⇒ মাটি ও জলবায়ু:
- প্রচুর সূর্যালোক সম্পন্ন ঠান্ডা আবহাওয়া ডালিয়া চাষের জন্য উপযোগী।
- উর্বর ও সুনিষ্কাশিত দোঁআশ মাটি উত্তম।

⇒ বংশ বিস্তার:
- সাধারণত অঙ্গজ বংশ বিস্তারের মাধ্যমে চারা তৈরি করা হয়।
- কন্দমুল ও শাখা কলম থেকে চারা করা হয়।
- কন্দমুলকে সরাসরি টবে বা জামিতে রোপন করা যায়।
- কন্দমুল থেকে গাছ জন্মালে দুই তিনটি পাতাসহ ৭-৮ সে.মি. কেটে মে থেকে জুন মাসে শাখা কলম করে চারা রোপন করা যায়।

⇒ মাটি বা জমি তৈরি:
- ডালিয়া ফুল বেড ও টবে দুইভাবে চাষ করা যায়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
নিচের কোনটি রবি মৌসুমের ফসল নয়?
  1. ফুলকপি
  2. মুলা
  3. কচু
  4. টমেটো
সঠিক উত্তর:
কচু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কচু
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।
- যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম
- অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রবি শস্য বপন করা হয়।
- কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিপ মৌসুম:
- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিপ শস্য।
- চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম।
- খরিপ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়।
- যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

খরিফ-১ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।
- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

খরিফ-২ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।
- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

এছাড়া
- কিছু ফসল ও শাক-সবজি আছে যেগুলো উভয় মৌসুমেই বা সারা বছর চাষাবাদ করা হয়ে থাকে।
- এদেরকে বারোমাসী ফসল বলে। যেমন- কলা, পেঁপে ইত্যাদি।
- আধুনিক চাষাবাদ কলাকৌশলের মাধ্যমে বর্তমানে সারাবছর সবধরনের ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে।


উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৬৯.
'জুম' চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশের কোন জেলাসমূহে দেখা যায়?
  1. সাতক্ষীরা, যশোহর, কুষ্টিয়া
  2. নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ
  3. বগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম
  4. চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহ
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহ
ব্যাখ্যা
• 'জুম' চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশের 'চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের' জেলাসমূহে দেখা যায়। 

• জুমচাষ (Jhum): 
- বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি।
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- এ ধরনের চাষাবাদে শুষ্ক মৌসুমে বনভূমি কেটে বা পুড়িয়ে স্বল্পসময়ের জন্য (১-৩ বছর) ফসল চাষাবাদের পর প্রাকৃতিক বনভূমির পুনর্জন্ম ও মৃত্তিকার উর্বরতার ক্ষয়পূরণের জন্য দীর্ঘসময় (১০-৪০ বছর) পতিত রাখা হয়।
- জুম বা স্থানান্তর চাষাবাদ সাধারণভাবে ‘সুইডেন চাষাবাদ’ বা জঙ্গল পরিষ্কার ও পোড়ানো চাষাবাদ হিসেবে পরিচিত।

- ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে জুমচাষ হয়।
- বাংলাদেশ শুধু তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে এ জুমচাষ করা হয়।
- মূলত চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতীয়দের জীবন ও সংস্কৃতি বহুলাংশে জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল।
- এছাড়া সিলেটের পাহাড়িয়া অঞ্চলেও কিছু কিছু জুমচাষ হয়।

• জুমচাষের ক্ষতিকর প্রভাব: 
- এর মধ্যে রয়েছে মাটির উর্বরতা হ্রাস, ভূমিক্ষয়, বন উজাড়, বন্য পশুপাখির আবাসস্থল ধ্বংস এবং নদী ও হ্রদসমূহ ভরাট হওয়া। 
খাড়া পাহাড়ি ঢালে ঝুম চাষ এবং অন্যান্য চাষাবাদ পদ্ধতির প্রভাব ভূমিধ্বস সংঘটনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী।
৭০.
কোন মাটিতে শিম সবচেয়ে ভাল জন্মে?
  1. এঁটেল মাটি
  2. বেলে মাটি
  3. দোআঁশ মাটি
  4. বেলে-দোআঁশ মাটি
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ মাটি
ব্যাখ্যা
শিম চাষ:
- শিম আমিষ সমৃদ্ধ একটি সবজি।
- শিম এবং এর বীজ উভয়ই জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি।
- এটি উচ্চ আঁশযুক্ত, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ যা মানুষের জন্য খুবই উপকারী।
- এর মূলে নডিউল জাত আছে তা বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করে নাইট্রোজেন মাটিতে যুক্ত করতে পারে।

⇒ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি শিম-১, বারি শিম-২, বারি শিম-৩, বারি শিম-৪, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত ইপসা শিম, এছাড়া কার্তিকা, বারমাসি জনপ্রিয় জাতের মধ্যে অন্যতম।
- এছাড়াও বিভিন্ন বীজ কোম্পানি থেকে নিত্য নতুন জাত বাজারজাত করছে।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- শিম শীতকালীন এবং খরা সহিষ্ণু সবজি।
- দোআঁশ মাটি শিমের জন্য ভালো তবে সার ও পানি ব্যবস্থাপার মাধ্যমে যেকোন মাটিতে ভালো জন্মে।
- মাটির pH ৬.৫-৮.৫ হলে ভালো।
- ফসলের অঙ্গজবৃদ্ধি ও পুষ্পায়ন জন্য তাপমাত্রা ও দিবস দৈর্ঘ্য যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।
- এ সবজি গাছের অঙ্গজ বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু এবং দীর্ঘ দিবস প্রয়োজন।
- কিন্তু প্রজননের জন্য নিম্ন তাপমাত্রা ও কম দিবস দৈর্ঘ্য প্রয়োজন।
- শীতকালীন জাতগুলোতে কেবল শীতের প্রভাবেই পুষ্পায়ন ঘটে.
- গ্রীষ্মকালীন জাতগুলো দিবস নিরপেক্ষ হওয়ায় বছরের যে কোনো সময় বীজ বপন বা চারা রোপন করা হউক না কেন যথাসময়ে পুষ্পায়ন ঘটে থাকে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কত?
  1. ৫১৩.৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন
  2. ২২৬.০২২ লক্ষ মেট্রিক টন
  3. ২২২.৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন
  4. ৩৯০.৭৭ লক্ষ মেট্রিক টন
সঠিক উত্তর:
২২৬.০২২ লক্ষ মেট্রিক টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৬.০২২ লক্ষ মেট্রিক টন
ব্যাখ্যা
খাদ্যশস্য উৎপাদন:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এর সমন্বিত হিসাব অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন হয়েছে ৪৬৭.০৪ লক্ষ মেট্রিক টন।
- এর মধ্যে আউশ ২৯.০১ লক্ষ মেট্রিক টন, আমন ১৫৪.৩৩ লক্ষ মেট্রিক টন, বোরো ২০৭.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টন এবং গম ১১.৭০ লক্ষ মেট্রিক টন।
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন এর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১৩.৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন, যার মধ্যে আউশ ৩৯.৭৭ লক্ষ মেট্রিক টন, আমন ১৭১.৭৯ লক্ষ মেট্রিক টন, বোরো ২২২.৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন ও গম ১২.২৯ লক্ষ মেট্রিক টন।

নিবিড় বার্ষিক ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: 
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বোরো ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: ২২৬.০২২ লক্ষ মেট্রিক টন

উৎস: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৭২.
’তারাপুরি’ কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. মরিচ
  2. বেগুন
  3. তামাক
  4. তরমুজ
সঠিক উত্তর:
বেগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুন
ব্যাখ্যা

- ’তারাপুরি’ বেগুন ফসলের উন্নত জাত।

• বেগুনের উন্নত জাত:
-  বারি বেগুন-১(উত্তরা),
- বারি বেগুন-২(তারাপুরি),
- বারি বেগুন-৪(কাজল),
- বারি বেগুন-৫(নয়নতারা)।

• তামাক:
- তামাক সুমাত্রা ও ম্যানিলা; -

• মরিচের জাত:
- ঝাল ও মিষ্টি এ ধরনের মরিচ দেখা যায়।
- ঝাল মরিচের মধ্যে বগুড়া, চাঁদপুরী, ফরিদপুরী উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়া কামরাংগা, আকালী ও কালো মরিচ খুব ঝাল।

• তরমুজ এর জাত:
- পদ্ম
- বারি তরমুজ-১
- বারি তরমুজ-২

উৎস কৃষি তথ্য সার্ভিস।

৭৩.
বাংলাদেশে কোন ধানের উৎপাদন সর্বাধিক হয়?  
  1. ইরি 
  2. বোরো 
  3. আউশ
  4. আমন 
সঠিক উত্তর:
বোরো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরো 
ব্যাখ্যা

• ধান:
- ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য শস্য।
- বাংলাদেশে ধানের হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৪.২ টন।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করে দেশের ধান উৎপাদনের তিনটি মৌসুম লক্ষ্য করা যায়। যথা: আউশ, আমন ও বোরো।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ধান হলো বোরো ধান।
- উৎপাদনের পরিমাণ বিচারে বোরো ধান শীর্ষে এবং তারপরই রয়েছে আমন ও আউশ।
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুসারে, বাংলাদেশের ১২০.৫৩ লক্ষ একর জমিতে মোট ২১০.৬৮ লক্ষ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপন্ন হয়।

অন্যদিকে -
- আউশ ধান ২৫.৫৭ লক্ষ একর জমিতে মোট উৎপন্ন হয় ২৯.৭৩ লক্ষ মেট্রিক টন।
- আমন ধান ১৪২.১০ লক্ষ একর জমিতে মোট উৎপন্ন হয় ১৬৬.৫৬ লক্ষ মেট্রিক টন।

তথ্যসূত্র: 
i) কৃষি মন্ত্রণালয়।
ii) কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৭৪.
কোন জেলায় সর্বপ্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. মৌলভীবাজার
  3. সিলেট
  4. পঞ্চগড়
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
অর্গানিক চা:
- অর্গানিক বা ভেষজ চা হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কোনোরকম ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কৃত্রিম উপাদান ছাড়া উৎপাদন প্রক্রিয়া।
- অর্গানিক চা চাষে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলাদেশে পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়ায় সর্বপ্রথম অর্গানিক চায়ের চাষ শুরু হয়
- ২০০০ সালে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে চায়ের আবাদ শুরু হয়।
- উৎপাদন শুরু হয় ২০০৪ সালে।
- বর্তমানে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলায় ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে অর্গানিক চায়ের চাষ হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- জৈব চাষের প্রথাগত নিয়ম মেনেই তৈরি হয় অর্গ্যানিক চা।
- এক্ষেত্রে চা পাতায় কোনও রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না।
- সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই চাষ করা হয় এই চা।
- এই ধরনের চা পাতার গন্ধ ও গুণ আলাদা হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৭৫.
বাংলাদেশের কোন জেলা 'সয়াল্যান্ড' নামে পরিচিত? 
  1. বরিশাল 
  2. দিনাজপুর
  3. লক্ষ্মীপুর
  4. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মীপুর
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে 'সয়াবিন' উৎপাদনে শীর্ষ জেলা- লক্ষ্মীপুর জেলা।
- এটি দেশের মোট সয়াবিন উৎপাদনের প্রায় ৮০% সরবরাহ করে, যার কারণে লক্ষ্মীপুরকে "সয়াল্যান্ড" (Soyaland) বলে ডাকা হয়।
-  জেলায় এবার ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে এর চেয়ে আরও ১ হাজার ৬৬০ হেক্টর বেশি জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪ অনুসারে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে শীর্ষ জেলা সমূহ:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ এবং প্রথম আলো। (Link) 

৭৬.
বোরো ধান রোপনের সময়কাল হলো—
  1. মার্চ শুরু – মধ্য এপ্রিল
  2. জুলাইয়ের শেষ – সেপ্টেম্বর
  3. মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি 
  4. ফেব্রুয়ারি –  মার্চ
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি 
ব্যাখ্যা

• ফসল রোপন ও উত্তোলনের সময়সূচি:

• রোপনের সময়:
- আউশ ধান = মধ্য মার্চ - মধ্য এপ্রিল।
- আমন ধান =  জুনের শেষ  -সেপ্টেম্বরের শুরু।
- বোরো ধান = মধ্য নভেম্বর - মধ্য জানুয়ারি।

• উত্তোলনের সময়:
- আউশ ধান = মধ্য জুলাই - আগস্টের শুরু।
- আমন ধান = ডিসেম্বর - জানুয়ারির শুরু।
- বোরো ধান =  এপ্রিল - মে।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ– ২০২৪ (বিবিএস)।

৭৭.
শীতকালীন উদ্যান ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮°- ২০° সেলসিয়াস
  2. ১৮°- ২২° সেলসিয়াস
  3. ১৮°- ২৫° সেলসিয়াস
  4. ২০°- ৩০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
২০°- ৩০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০°- ৩০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
উদ্যান ও মাঠ ফসলের উপর তাপমাত্রার প্রভাব:
- ফলের উৎপাদন তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
- ফুল ও ফল ধারণের সময় উপযোগী তাপমাত্রা না হলে ফুল ও ফল কম ধরে।
- তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শস্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
i) গ্রীষ্মকালীন বা খরিফ শস্য এবং,
ii) শীতকালীন বা রবি শস্য।

⇒  গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন উদ্যান ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ৩০°-৩৫° সেলসিয়াস।
- অতিরিক্ত তাপে লেটুস ও পালংশাক দ্রুত ফুল উৎপন্ন করে।
- গোল আলু, মিষ্টি আলু, গাজর, মূলা, শাল গম ইত্যাদিতে অতিরিক্ত তাপে শর্করার সঞ্চয়ের পরিমান কম হয় বলে ফলন কম হয়।
- তাপমাত্রা কম বা বেশী হলে ক্যারোটিন কমে গাজরের রং হালকা হয়।
- বেশী তাপমাত্রায় ফুলকপি, বাধাকপি, মুলার স্বাদ কম হয়।
- আউশ ধান, পাট, সয়াবিন, জোয়ার ইত্যাদি গ্রীষ্মকালীন ফসল শস্যের জন্য অধিক তাপমাত্রার প্রয়োজন।
- বেশী তাপমাত্রায় অনেক ফল গাছের ফল ধারণ ব্যাহত হয়।

⇒ শীতকালীন উদ্যান ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ২০°- ৩০° সেলসিয়াস।
- আমন ধান, বোরো ধান, গম, যব, সরিষা, ছোলা, মটর, মসুর, তামাক ইত্যাদি শীতকালীন ফসল।
- আম, লিচু প্রভৃতি ফল গাছের ফুল বিকাশের জন্য কম তাপামাত্রার প্রয়োজন।
- আমের পুষ্পমঞ্জুরী গঠনের সময় তাপমাত্রা কম থাকলে পুরুষ ফুল বেশি হয়।

⇒ কিছু সংখ্যক ফসল যেমন তিল, চীনাবাদাম, তুলা, ভুট্টা প্রভৃতি উভয় মৌসুমেই চাষ করা যায়।
- আখ, রবি ও খরিফ উভয় মৌসুমের অন্তর্গত। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
বাংলাদেশে কৃষি শুমারি পরিচালনার দায়িত্ব কোন সংস্থার?
  1. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
  2. কৃষি মন্ত্রণালয়
  3. বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল
  4. খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে। 

• কৃষি শুমারি:
- কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় ৩ টি। যথা- শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ।
- স্বাধীন বাংলাদেশে মোট কৃষিশুমারি হয় ৫ টি।
- স্বাধীনতার পর প্রথম কৃষি শুমারি হয় ১৯৭৭ সালে।
- তার আগে বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্ব প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ কৃষি শুমারিতে পল্লি এবং শহর উভয় এলাকার সকল খানার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
- এই শুমারিতে প্রথম বারের মতো মৎস্য চাষে জমির ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি (FAO) সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে। 

তথ্যসূত্র:  কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং বিবিএস।

৭৯.
রিবণ রেটিং কোন ফসলের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ধান
  2. আঁখ
  3. তামাক
  4. পাট
সঠিক উত্তর:
পাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাট
ব্যাখ্যা

• রিবণ রেটিং:
- পানির অভাবে যে সব এলাকায় উৎপাদিত পাট পচনো সমস্যা হয়।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার চাষীদের জন্য বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট রিবণ রেটিং বা পাটের ছালকরণ ও পচন পদ্ধতি উদ্ভাবন করে।
- ছাল পচানোর জন্য পানি, জায়গা ও সময় কম লাগে।
- আঁশে কাটিংস হয় না।
- আঁশের মান ভালো হয়।
- এ গ্রেডের আঁশ পাওয়া যায়।
- মূল্য বেশি পাওয়া যায়।
- পরিবহন খরচ কম লাগে।
- স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা।
- পদ্ধতিটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।
- পাট খড়ি শক্ত থাকে, ফলে জ্বালানি ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহারে টেকসই এবং সুবিধাজনক।
- বাঁশের হুকের দীর্ঘস্থায়ী লোহার সিঙ্গেল রিবনার এবং ডাবল রোলার রিবনারের মাধ্যমে ছালকরণ যন্ত্র বা রিবনারের সাহায্যে সহজেই কাঁচা পাট গাছ থেকে ছাল ছাড়ানো যায়।

উৎস: কৃষি তথ্য বাতায়ন।

৮০.
কৃষিক্ষেত্রে রবি মৌসুম কোনটি?
  1. কার্তিক-ফাল্গুন
  2. চৈত্র-বৈশাখ
  3. ভাদ্র-অগ্রহায়ণ
  4. শ্রাবণ-আশ্বিন
সঠিক উত্তর:
কার্তিক-ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্তিক-ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ফসল উৎপাদন:

- বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনের জন্য জলবায়ুর ভিত্তিতে সারা বছরকে প্রধানত দুটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:- রবি বা শীতকালীন মৌসুম এবং খরিপ বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম।
- রবি মৌসুম সাধারণত কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে।
- রবি শস্য মূলত শীতকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ শস্য মূলত গ্রীষ্মকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ মৌসুমকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।
- খরিপ-১: চৈত্র মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকাল বলা হয়।
- খরিপ-২: আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ মৌসুম বা বর্ষাকাল বলা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ৭ম শ্রেণি।

৮১.
কৃষিক্ষেত্রে রবি মৌসুম কোনটি?
  1. কার্তিক - ফাল্গুন
  2. চৈত্র - বৈশাখ
  3. ভাদ্র - অগ্রহায়ণ
  4. শ্রাবণ - আশ্বিন
সঠিক উত্তর:
কার্তিক - ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্তিক - ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
• কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।
যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।

ii) খরিপ মৌসুম:
- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিপ শস্য।
- চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৮২.
বাংলাদেশের কৃষি কোন প্রকার?
  1. ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
  2. ধান-প্রধান বাণিজ্যিক
  3. স্বয়ংভোগী মিশ্র
  4. স্বয়ংভোগী শষ্য চাষ ও পশুপালন
সঠিক উত্তর:
ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের কৃষি ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী ধরনের।

• ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী:
- শুধুমাত্র মানুষ নিজ নিজ প্রয়োজন মেটানোর জন্য যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে তাকে স্বয়ংভোগী চাষাবাদ বলে।
- আদ্র মৌসুমী ভাবাপন্ন ঘনবসিতপূর্ণ এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীন, জাপানে ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী কৃষি ব্যবস্থা চালু আছে। 

• বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ক্ষুদ্রায়তন জমি।
- নিবিড় চাষাবাদ।
- ধানের প্রাধান্য।
- কায়িক শ্রম নির্ভর।
- একাদিক্রমে চাষাবাদ।
- চাষাবাদ প্রকৃতির উপর বেশী নির্ভরশীল।

• বাংলাদেশের কৃষি ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী বলার কারণ: 
- আমাদের দেশের কৃষির প্রধান উপখাত হলো- শস্য (ধান) উৎপাদন।
- বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাবার ভাত, আর তাই এই দেশের প্রায় ৮০ ভাগ কৃষি জমিতেই ধান উৎপাদন হয়। 
- এছাড়াও গম, ভুট্টা, সহ শাকসবজি উৎপাদন প্রচুর পরিমানে হয়।
- এজন্যই বাংলাদেশকে কৃষি ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী বলা হয়। 
--------------------- 
• বাংলাদেশের জাতীয় কৃ‌ষি:
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এক সোনালি অধ্যায়ের নাম কৃষি।
- উৎপাদনশীলতা, আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধির জন্য কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রতি বছর ১লা অগ্রহায়ণ 'জাতীয় কৃ‌ষি দিবস ও নবান্ন উৎসব' পালিত হয়।
- কৃষিই সমৃদ্ধি এ শ্লোগানকে ধারণ করে ২০০৮ সালের ১৫ নভেম্বর বা '১লা অগ্রহায়ণ, ১৪১৫' সালে প্রথম জাতীয় কৃষি দিবস পালন করা হয়। 
- সেই থেকে প্রতিবছর কৃষি দিবস পালিত হয়ে আসছে।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অর্থনীতি (২য় পত্র) -মোস্তাফিজুর রহমান,  একাদশ শ্রেণির ভূগোল- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
কৃষিক্ষেত্রে কোন সময়কালকে রবি মৌসুম বলে?
  1. ফাল্গুন থেকে বৈশাখ
  2. আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ
  3. কার্তিক থেকে ফাল্গুন
  4. শ্রাবণ থেকে আশ্বিন
সঠিক উত্তর:
কার্তিক থেকে ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্তিক থেকে ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ফসল উৎপাদন:

- বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনের জন্য জলবায়ুর ভিত্তিতে সারা বছরকে প্রধানত দুটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:- রবি বা শীতকালীন মৌসুম এবং খরিপ বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম।
- রবি মৌসুম সাধারণত কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে।
- রবি শস্য মূলত শীতকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ শস্য মূলত গ্রীষ্মকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।
- খরিপ মৌসুমকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।
- খরিপ-১: চৈত্র মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকাল বলা হয়।
- খরিপ-২: আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ মৌসুম বা বর্ষাকাল বলা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ৭ম শ্রেণি।

৮৪.
পাটের জীবন রহস্য উদ্ভাবন করেন কে?
  1. ড. আব্দুল আলিম
  2. ড. রেজা ইলাহি
  3. ড. মাকসুদুল আলম
  4. ড. মিনহাজুল করিম
সঠিক উত্তর:
ড. মাকসুদুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা

- ড. মাকসুদুল আলম ছিলেন একজন বাংলাদেশী জিনতত্ত্ববিদ।
- তিনি ২০১০ সালে পাটের জীবন রহস্য উদ্ভাবন করেন।
- তার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফটের একদল উদ্যমী গবেষকের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সফলভাবে উন্মোচিত হয় পাটের জিন নকশা ।

এছাড়া
- তিনি পেঁপে, রাবার ও এক ধরনের ছত্রাকেরও জীবন রহস্য উদঘাটন করেন।
- ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মারা যান।

উৎস: বিবিসি বাংলা এবং প্রথম আলো,

৮৫.
নিম্নের কোনটি খরিফ মৌসুমের ফসল?
  1. গম
  2. মসুর ডাল
  3. বোরো ধান
  4. আউশ ধান
সঠিক উত্তর:
আউশ ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউশ ধান
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:

i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য। কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রবি শস্য বপন করা হয়। কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিফ মৌসুম:
- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিফ শস্য। চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিফ মৌসুম। খরিফ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

⇒ খরিফ-১ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে। এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।
- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

⇒ খরিফ-২ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।
- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৮৬.
নিম্নের কোন জেলায় 'আগর' চাষ হয়?
  1. দিনাজপুর
  2. কুমিল্লা
  3. পাবনা
  4. মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
'আগর' গাছ:
- আগর মূলত একটি গাছের নাম।
- আগর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উৎকৃষ্ট বা সুগন্ধি বিশিষ্ট কাঠ।
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রেইন ফরেস্টই আগর গাছের আদিস্থান হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।
- আগর গাছ থেকে বিশেষ কালো রঙের কাঠ পাওয়া যায়, যা আগর কাঠ নামে পরিচিত।
- আগর কাঠকে ঈশ্বরের কাঠ বলা হয়।
- আতর বাংলাদেশে তরল সোনা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে বর্তমানে সিলেট তথা মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আগর চাষ করার উপযোগী জায়গা রয়েছে।
- বড়লেখা উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ৩০০টি আগর আতর ফ্যাক্টরি রয়েছে।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) ওয়েবসাইট।
৮৭.
বায়োফ্লক পদ্ধতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কোন ক্ষেত্রে?
  1. মুরগী পালন
  2. মাছ চাষ
  3. মধু চাষ
  4. মাশরুম চাষ
সঠিক উত্তর:
মাছ চাষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ চাষ
ব্যাখ্যা
- বায়োফ্লক হলো বর্তমান সময়ের মাছ চাষের একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি।
- বায়োফ্লক এমন একটি পদ্ধতি যেখানে জৈব বর্জ্যের পুষ্টি থেকে পুনঃব্যবহারযোগ্য খাবার তৈরি করা হয়।
- যে ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল তৈরি হয় তা পানিতে উৎপন্ন হওয়া নাইট্রোজেন গঠিত জৈব বর্জ্যকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হতে না দিয়ে নিজেদের বংশ বাড়ায় এবং এটিকেই ফ্লক বলে।
- এসব ফ্লকে প্রচুর উপাদান থাকে, যা মাছের পুষ্টির যোগান দেয়।
- বায়োফ্লক পদ্ধতিতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অল্প জায়গায় বিপুল পরিমান মাছ চাষ করা হয়।
- বায়োফ্লক পদ্ধতিটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।
৮৮.
বাংলাদেশে বোরো ধান রোপনের সময় -
  1. মধ্য মার্চ–মধ্য এপ্রিল
  2. মধ্য নভেম্বর–মধ্য জানুয়ারি
  3. জুনের শেষ–সেপ্টেম্বরের শুরু
  4. ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর–মধ্য জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর–মধ্য জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ধান উৎপাদন:
- আউশ ধান রোপনের সময়=মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল।
- আউশ ধান উত্তোলনের সময় =মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু।

- আমন ধান রোপনের সময়=জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু।
- আমন ধান উত্তোলনের সময়= ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু।

- বোরো ধান রোপনের সময়= মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি।
- বোরো ধান উত্তোলনের সময় = এপ্রিল – মে।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০২২।
৮৯.
কোন মাটি গোলাপ চাষের জন্য উত্তম?
  1. দোআঁশ মাটি
  2. এঁটেল মাটি
  3. বেলে মাটি
  4. বেলে-এঁটেল মাটি
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ মাটি
ব্যাখ্যা
গোলাপ:
- গোলাপ ফুলকে ফুলের রাণী বলা হয়ে থাকে।
- এর কোমলতা, বর্ণ, সুগন্ধ এমন কেউ নেই যাকে আকৃষ্ট করে না।
- সাজ সজ্জায় কাটা ফুল হিসেবে কদর রয়েছে।
- এছাড়া সুগন্ধি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
- পৃথিবী জুড়ে গোলাপের অসংখ্য জাত রয়েছে।
- জাতগুলোর কোনোটির গাছ বড়, কোনোটি ঝোপালো, কোনোটি লতানো।
- শাখা কলম, দাবা কলম এবং চোখ কলম এর মাধ্যমে গোলাপের বংশ বিস্তার করা হয়।

⇒ মাটি, জলবায়ু ও জমি নির্বাচন:
- গোলাপের জন্য রৌদ্যজ্জল, সুনিষ্কশিত ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি গোলাপ চাষের জন্য উত্তম।
- মাটির পিএইচ ৬.০-৭.৫ এর মধ্যে হওয়া উচিত।
- পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে এ ধরনের স্থান পরিত্যাগ করা উচিত।

⇒ গোলাপের বংশ বিস্তার:
- বীজ, শাখা কলম, দাবা কলম এবং চোখ কলম-এর মাধ্যমে গোলাপের বংশ বিস্তার করা হয়।
- তবে সংকর জাত উদ্ভাবনের জন্য বীজ মাধ্যমে বেছে নেয়া হয়।
- সাধারণত: উন্নত জাতের গোলাপ এর মাধ্যমে চোখ কলম বংশ বিস্তার করানো হয়।
- বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময় এ চোখ কলম করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল-
  1. অপরিশোধিত তেল
  2. ক্লিংকার
  3. এমোনিয়া
  4. মিথেন গ্যাস
সঠিক উত্তর:
মিথেন গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন গ্যাস
ব্যাখ্যা
• ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো মিথেন গ্যাস বা প্রাকৃতিক গ্যাস।
------------------- 
ইউরিয়া সার:
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া প্রধান। 
- নাইট্রোজেনজাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে।
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ নাইট্রোজেন প্রধানত লাভ করে।
- এই সারে ৪০-৪৭ শতাংশ নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে।
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে।
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র - রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে।
- ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বিসিআইসি ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৯১.
বাংলাদেশে শীতকালে নিম্নের কোন ফসলের চাষ বেশি হয়?
  1. পাট
  2. ভুট্টা
  3. গম
  4. তিল
সঠিক উত্তর:
গম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে শীতকালে গমের চাষ বেশি হয়।

কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:

- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:
i) রবি মৌসুম,
ii) খরিপ মৌসুম।

⇒ রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রবি শস্য বপন করা হয়। কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

⇒ খরিপ মৌসুম:
- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিপ শস্য। চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম।
- খরিপ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়।
- যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

খরিফ-১ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে। এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।
- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

খরিফ-২ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।
- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

এছাড়া
- কিছু ফসল ও শাক-সবজি আছে যেগুলো উভয় মৌসুমেই বা সারা বছর চাষাবাদ করা হয়ে থাকে।
- এদেরকে বারোমাসী ফসল বলে। যেমন- কলা, পেঁপে ইত্যাদি।
- আধুনিক চাষাবাদ কলাকৌশলের মাধ্যমে বর্তমানে সারাবছর সবধরনের ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৯২.
রবি মৌসুমে সূর্যমুখী বীজ বপনের সময় কোনটি?
  1. মধ্য সেপ্টেম্বর-মধ্য অক্টোবর
  2. মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর
  3. মধ্য জুলাই-মধ্য আগস্ট
  4. মধ্য মে-মধ্য জুন
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
সূর্যমুখী চাষ:
- যে সমস্ত মাঠ ফসলের বীজ থেকে ভোজ্য তেল পাওয়া যায় তাদেরকে তেলজাতীয় ফসল (Oil seed crops) বলা হয়।
- সূর্যমুখীর ইংরেজি নাম Sunflower এবং Helianthus annus হলো এর বৈজ্ঞানিক নাম। 

⇒ জলবায়ু:
- সূর্যমুখী আলো নিরপেক্ষ ফসল হওয়ায় সারা বছর এর চাষ করা যায়।
- এ ফসলে তাপমাত্রার প্রভাব অনেকটা কম।

⇒ মাটি বা জমি নির্বাচন:
- সূর্যমুখী সাধারণত সব ধরনের মাটিতেই জন্মানো যায়।
- তবে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি উত্তম।
- বৃষ্টি বা সেচের পানি জমে থাকে না এমন জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য ভালো।

⇒ বপন সময়:
- সব মৌসুমেই সূর্যমুখী চাষ করা যায়।
- রবি মৌসুমে অগ্রহায়ন মাসে (মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর), খরিফ ১ মৌসুমে বৈশাখ মাসে (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে) এবং খরিফ ২ মৌসুমে ভাদ্র মাসে (মধ্য আগস্ট- মধ্য সেপ্টেম্বর) বীজ বপন করা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
কীসের মাধ্যমে সাধারণত গোলাপের বংশবিস্তার করা হয়ে থাকে?
  1. মূল
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. কলম
সঠিক উত্তর:
কলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলম
ব্যাখ্যা
গোলাপ:
- গোলাপ ফুলকে ফুলের রাণী বলা হয়ে থাকে।
- এর কোমলতা, বর্ণ, সুগন্ধ এমন কেউ নেই যাকে আকৃষ্ট করে না।
- সাজ সজ্জায় কাটা ফুল হিসেবে কদর রয়েছে।
- এছাড়া সুগন্ধি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
- পৃথিবী জুড়ে গোলাপের অসংখ্য জাত রয়েছে।
- জাতগুলোর কোনোটির গাছ বড়, কোনোটি ঝোপালো, কোনোটি লতানো।
- শাখা কলম, দাবা কলম এবং চোখ কলম এর মাধ্যমে গোলাপের বংশ বিস্তার করা হয়।

⇒ মাটি, জলবায়ু ও জমি নির্বাচন:
- গোলাপের জন্য রৌদ্যজ্জল, সুনিষ্কশিত ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি গোলাপ চাষের জন্য উত্তম।
- মাটির পিএইচ ৬.০-৭.৫ এর মধ্যে হওয়া উচিত।
- পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে এ ধরনের স্থান পরিত্যাগ করা উচিত।

⇒ গোলাপের বংশ বিস্তার:
- বীজ, শাখা কলম, দাবা কলম এবং চোখ কলম-এর মাধ্যমে গোলাপের বংশ বিস্তার করা হয়।
- তবে সংকর জাত উদ্ভাবনের জন্য বীজ মাধ্যমে বেছে নেয়া হয়।
- সাধারণত: উন্নত জাতের গোলাপ এর মাধ্যমে চোখ কলম বংশ বিস্তার করানো হয়।
- বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময় এ চোখ কলম করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
ছায়া প্রেমী (shadow loving) অর্থনৈতিক ফসল কোনটি?
  1. আখ
  2. তামাক
  3. ধান
  4. চা
সঠিক উত্তর:
চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চা
ব্যাখ্যা

⇒ 'ছায়া প্রেমী' অর্থনৈতিক ফসল বলতে চা গাছকে বোঝানো হয়। চা গাছের জন্য অতিরিক্ত তাপ ও সরাসরি সূর্যালোক থেকে রক্ষা পেতে ছায়াযুক্ত পরিবেশে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। এ কারণে চা গাছকে ছায়া প্রেমী ফসল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

♦ চা চাষ:
→ চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিশেষ উপযোগী।
→ সাধারণত যেসব স্থানে ২৬০-২৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে সেসব স্থান চা চাষের উপযুক্ত।
→ গাছের বৃদ্ধিকালীন সময়ে ২০° সেলসিয়াস এর অধিক তাপমাত্রা প্রয়োজন।
→ চা চাষের জন্য ১৭৫ - ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৭০-৯০% আবশ্যক।
→ বাংলাদেশে চা চাষের একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো ছায়া গাছ।
→ চা বাস্তুতন্ত্রের পরিবেশ পরিবর্তন, মাটির উর্বরতা সমৃদ্ধকরণ, তাপমাত্রা এবং বাষ্পীভবন ক্ষমতা হ্রাস, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং কিছু পোকামাকড় ও রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য ছায়া গাছ অপরিহার্য, যা ইতিবাচকভাবে তাপীয়ভাবে প্রভাবিত করে।
→ ছায়া গাছ চা গাছগুলিকে আংশিক ছায়া প্রদান করে, যা চা পাতার মান উন্নত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
→ সঠিক ধরণের ছায়া গাছ এবং তাদের সঠিক ব্যবস্থাপনা সফল চা ফসল চাষের পূর্বশর্ত।
→ অতিবৃষ্টি এবং অনাবৃষ্টি বা খরা কোনোটিই চা গাছের জন্য উপযুক্ত নয়।
→ চা গাছের জন্য যেমন প্রচুর পানি প্রয়োজন তেমনি উপযুক্ত নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও থাকতে হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাপিডিয়া ও ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫.
আমন ধান রোপণের উপযুক্ত সময় কোনটি?
  1. মধ্য মে – মধ্য জুন
  2. ডিসেম্বর শেষ – জানুয়ারির শুরু
  3. অক্টোবর শেষ – নভেম্বর শুরু
  4. জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু
সঠিক উত্তর:
জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু
ব্যাখ্যা

• ফসল রোপন ও উত্তোলনের সময়সূচি:

• রোপনের সময়:
-------------------
আউশ ধান = মধ্য মার্চ - মধ্য এপ্রিল।
আমন ধান =  জুনের শেষ  -সেপ্টেম্বরের শুরু।
বোরো ধান = মধ্য নভেম্বর - মধ্য জানুয়ারি।

• উত্তোলনের সময়:
-----------------------
আউশ ধান = মধ্য জুলাই - আগস্টের শুরু।
আমন ধান = ডিসেম্বর - জানুয়ারির শুরু।
বোরো ধান =  এপ্রিল - মে।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ– ২০২৪ (বিবিএস)।