ব্যাখ্যা
Source: bbc.com
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২ / ৯ · ১০১–২০০ / ৮৯৯
কালাহারি মরুভূমি:
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আফ্রিকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অঞ্চল মরুভূমি দ্বারা আবৃত।
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম।
- এবং বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ বৃহত্তম মরুভূমি।
- এটি তিনটি দেশে বিস্তৃত।
- বতসোয়ানা,নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা।
- এর আয়তন প্রায় ৯,৩২,০০০ বর্গ কিমি।
- এটি বতসোয়ানার ৭০% অঞ্চল,
- নামিবিয়ার পূর্ব অংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর অংশ জুড়ে বিস্তৃত।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
• বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন:
- বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন নির্ভর করে নানা উপাদানের উপর, যেমন-
- আর্থসামাজিক, প্রাকৃতিক, জৈবিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং শিল্পায়ন-নগরায়ণ।
• প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ
১) জলবায়ু পরিবর্তন
২) বৈশ্বিক উষ্ণতা
৩) ভৌগোলিক পরিবর্তন
৪) নদী ভাঙন
৫) অতিবৃষ্টি
৬) অনাবৃষ্টি
৭) টর্নেডো ইত্যাদি
• জৈবিক উপাদানসমূহ
জন্ম ও মৃত্যুহার
জনসংখ্যার ঘনত্ব
গড় আয়ু
জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।
কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।
⇒ দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২।
উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
• হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ:
- হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ হলো সেই বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতি, যা হিমবাহের সঙ্গে বাহিত শিলাখণ্ড, বালি, কাদা ও নুড়ি-পাথরের স্তূপাকারে হিমবাহের প্রবাহপথে বা শেষপ্রান্তে জমে তৈরি হয়।
- হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত প্রধান ভূমিরূপগুলো হলো-
- গ্রাবরেখা (Moraine),
- কেম (Kame),
- ড্রামলিন (Drumlin),
- এসকার (Esker),
- বহিঃধৌত সমভূমি (Outwash Plain)
- এবং কেটল (Kettle)।
- এই ভূমিরূপগুলো সাধারণত কাদা, বালি, নুড়ি ও পাথরের স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে তৈরি হয়।
- প্রধান ভূমিরূপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
• গ্রাবরেখা (Moraine):
- হিমবাহের সাথে বাহিত শিলাখণ্ড, নুড়ি ও বালি সঞ্চিত হয়ে গঠিত।
- এটি অবস্থান অনুসারে ভূমি গ্রাবরেখা (হিমবাহের নিচে) এবং প্রান্ত গ্রাবরেখা (হিমবাহের সামনের দিকে) হতে পারে।
• এসকার (Esker):
- হিমবাহের ভেতর বা নিচে নদী দ্বারা সঞ্চিত বালি ও নুড়ি দীর্ঘ, আঁকাবাঁকা ও সরু শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ তৈরি করে।
• কেম (Kame):
- হিমবাহের শেষপ্রান্তে বরফ গলে কাদা, বালি ও নুড়ি স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণাকার বা দ্বীপাকার ছোট টিলা তৈরি করে।
• ড্রামলিন (Drumlin):
- হিমবাহের সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত উল্টানো নৌকা বা অর্ধেক ডিমের মতো টিলা।
• বহিঃধৌত সমভূমি (Outwash Plain):
- হিমবাহের প্রান্তে গলিত জলের মাধ্যমে বাহিত পলি, বালি ও কাঁকর জমে গঠিত সমভূমি।
• কেটল (Kettle):
- হিমবাহের সঞ্চিত বালি ও পাথরের মধ্যে বরফের টুকরো গলে গর্ত বা ছোট হ্রদ তৈরি করে।
উৎস: BBC News ও Antarctic Glaciers Website.
বায়ুমণ্ডল:
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যার পরিমাণ প্রায় ৭৮.০২%।
- দ্বিতীয় প্রধান উপাদান হিসাবে সবচেয়ে বেশী রয়েছে অক্সিজেন। যার পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ।
- এ দুটি গ্যাসবায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যার পরিমাণ প্রায় ০.০১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বায়ুমণ্ডলের উপাদান:
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%)
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত।
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে।
বায়ুমণ্ডলের উপাদান:
১. নাইট্রোজেন (N2) - ৭৮.০২%,
২. অক্সিজেন (O2) - ২০.৭১%,
৩. আর্গন (Ar) - o.৮০%,
৪. কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) - ০.০৩%,
৫. ওজোন (O3) - ০.০০০১%,
৬. অন্যান্য গ্যাস - ০.০১৯৯%,
৭. জলীয়বাষ্প - ০.৪১% এবং
৮. ধূলিকণা - ০.০১%।
সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• অশ্বমণ্ডল (Lithosphere):
- গুরুমণ্ডলের উপরাংশকে অশ্বমণ্ডল বা শিলামণ্ডল বলা হয়।
- এটি নানা রকম শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত।
- মহাদেশের নিচে অশ্বমণ্ডলের গভীরতা সর্বোচ্চ, আর মহাসাগরের নিচে সর্বনিম্ন।
- লিথোস্ফিয়ারের উপরের অংশকে ভূ-ত্বক বলে।
- এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ কিমি গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত।
- অশ্বমণ্ডল নিচের দিকে প্রতি কিমি গভীরতায় প্রায় ৩০°C তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
• উপাদান ও শিলা গঠন:
- অশ্বমণ্ডলের প্রধান উপাদান হলো-
- অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম।
------------------
উল্লেখ্য,
• লিথোস্ফিয়ারের শিলার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ভূ-ত্বককে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
১. পৃষ্ঠের হালকা ঘন শিলাস্তর (Sial / গ্রানাইট স্তর):
- মানুষ, জীবকূল, গাছপালা ও তৃণগাছ এখানে বাস করে।
- প্রধান উপাদান: সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম, তাই একে সিয়াল স্তর বলা হয়।
- স্থলভাগ বা মহাদেশ এই শিলায় গঠিত।
২. মধ্যম ঘন শিলাস্তর (Sima / ব্যাসল্ট স্তর):
- এটি সিয়াল স্তরের ঠিক নিচে অবস্থিত মধ্যম শিলাস্তর।
- এই স্তরের প্রধান উপাদান: সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম।
- মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক এই শিলায় তৈরি হয়।
- সমুদ্র তলের নিচে গ্রানাইট শিলার পর এই স্তর শুরু হয়।
- সিয়াল ও সিমা স্তরের মিলনের সীমাকে কনরাড বিযুক্তি বলা হয়।
৩. নিম্ন স্তর – অলিভিন জাতীয় শিলা:
- লিথোস্ফিয়ারের সবচেয়ে নিচের স্তর, যেখানে অলিভিন জাতীয় শিলা বেশি।
- শিলার প্রধান উপাদান: ম্যাগনেসিয়াম ও লৌহের সিলিকেট।
- ভূ-কম্পনের তরঙ্গ এখানে প্রতি সেকেন্ডে ৮ কিমি বেগে চলে।
- আপেক্ষিক গুরুত্ব: ৩.৩।
উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট - আগ্নেয় শিলা।
আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks):
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিন্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই। তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অন্তরীভূত শিলা। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই।
- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা ও
(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম, রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসন্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি।
(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্কুল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।
সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর আয়তন ৩৪ বর্গকিমি।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এটি প্লাইস্টোসিনকালের বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• সুন্দরবন:
- বাংলাদেশ এবং ভারত জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনের বৃহত্তর অংশটি (৬২%) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত।
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে বলেশ্বর নদী আর উত্তরে বেশি চাষ ঘনত্বের জমি বরাবর সীমানা।
- উঁচু এলাকায় নদীর প্রধান শাখাগুলো ছাড়া অন্যান্য জলধারাগুলো সর্বত্রই বেড়িবাঁধ ও নিচু জমি দ্বারা বহুলাংশে বাঁধাপ্রাপ্ত।
- এটি সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে সুন্দরবন অবস্থিত।
তথ্যসূত্র: খুলনা জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।
পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
১। পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়;
২। পাললিক শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়;
৩। পাললিক শিলা স্ফটিকাকার নয়;
৪। পাললিকা শিলা হালকা, ভঙ্গুর ও তরঙ্গ বিশিষ্ট।
অন্যদিকে -
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
হরিপুর খনিজ তেলক্ষেত্র:
- হরিপুর তেলক্ষেত্র বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র।
- এটি ১৯৮৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৭ নম্বর কূপে আবিষ্কৃত হয়।
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- প্রাথমিক জরিপের হিসাব অনুযায়ী, হরিপুর তেলক্ষেত্রে অন্তত ১ কোটি (বা ১০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে।
- ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এই সাত বছরে তেলক্ষেত্রটি থেকে মোট প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ তেলক্ষেত্রে যে মজুত, তার মাত্র ৫ শতাংশ তেল উত্তোলন করা হয়। মাটির নিচে রয়ে যায় বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।
উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
বাংলাদেশে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে।
উৎসঃ বিবিসি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা বা জায়গীরজোত।
এটি পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
- কয়লা পাললিক শিলা।
• ভুত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার।
- যথাঃ আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা।
• পাললিক শিলাঃ
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম ও স্তর লক্ষ্য করা যায়।
- পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
- আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না।
• রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
• অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী।
• ইউরোপের ক্যালিডোনিয়ান পর্বতশ্রেণি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ফিজেন্ড মালভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এটি ক্ষয়জাত মালভূমির উদাহরণ।
-----------------
• ক্ষয়জাত মালভূমি:
- কোনো পার্বত্য অঞ্চল বা উঁচু ভূ-খন্ড নদী, হিমবাহ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ভূমির উচ্চতা হ্রাস পেয়ে প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হলে তাকে ক্ষয়জাত মালভূমি বলে।
- মূলত এই মালভূমি পুরাতন উঁচু ভূ-ভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টির ফলে শিলার প্রকৃতি এর বন্ধুরতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইউরোপের ক্যালিডোনিয়ান পর্বতশ্রেণি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ফিজেন্ড মালভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
-----------
অন্যদিকে,
• চ্যুতি মালভূমি:
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠে কোনো বিস্তৃত স্থান চ্যুতির সৃষ্টি হয়ে কোনো এলাকার বিরাট অংশ অসমানভাবে উপরে উঠে গিয়ে যে ভূমির সৃষ্টি করে তাকে চ্যুতি মালভূমি বলে।
- মূলত ভূ-আন্দোলনজনিত এবং পাত সঞ্চালনজনিত কারণে এই ধরনের মালভূমি সৃষ্টি হয় যা চ্যুতি সৃষ্টির কারণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- যেমন-স্পেনের মেসেটা।
• পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি:
- সংকোচনজনিত চাপের কারণে ভঙ্গিল পর্বতের মাঝে এ ধরনের মালভূমি সৃষ্টি হয়।
- যেহেতু ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হওয়ার সময় পবর্তদ্বারা বেষ্টিত নিম্নস্থানসমূহ উঁচু হয়ে এই মালভূমি সৃষ্টি করে সেহেতু এ ধরনের মালভূমিকে পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি বলে।
- এ ধরনের মালভূমির উচ্চতা সাধারণত ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- যেমন- তিব্বতের মালভূমি।
• আগ্নেয় মালভূমি:
- অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূ-ত্বকের কোনো ফাটল বা আগ্নেয়গিরির ছিদ্র পথে ভূ-গর্ভ হতে লাভা প্রবাহ ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় ঠান্ডা হয়ে কঠিন অবস্থা ধারণ করে যে ভূমির সৃষ্টি হয় তাকে আগ্নেয়জাত মালভূমি বলে।
- যেমন- ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ)দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত। শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।
সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।
কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।
আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪ সালে।
- গভীরতা: ১২৮ মিটার। মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৬ সালে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার রানীপুকুর নামক স্থানে প্রায় ১৮২ মিটার মাটির নিচে প্রথম কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া যায়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার মধ্যপাড়ায় ১২৮ মিটার মাটির নিচে কঠিন শিলা রয়েছে যা ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়।
- মধ্যপাড়ায় গ্রানোডায়োরাইট, কোয়ার্টজ, ডায়োরাইট, নিস্ ইত্যাদি কঠিন শিলা পাওয়া যায়।
- এছাড়া নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ এবং পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় কঠিন শিলা পাওয়া গেছে।
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, নদীর বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।
উৎস: ¡)খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]
¡¡) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।[লিঙ্ক]
কেন্দ্রমণ্ডল:
- গোলাকার পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৩৭১ কি.মি.।
- পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে প্রায় ৩৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের যে গোলক রয়েছে, সেই গোলকটির নাম কেন্দ্রমন্ডল।
- বৈজ্ঞানিকদের মতে, কেন্দ্রমণ্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী গদার্থ দ্বারা গঠিত।
- এ স্তরে নিকেল (Nickel) ও লৌহের (Ferus) পরিমাণ বেশি থাকায় এ স্তরটি সংক্ষেপে নাইফ (Nife) নামে পরিচিত।
- এটি পানি অপেক্ষা ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন।
- কিন্তু প্রচণ্ড তাপ ও চাপে এটি সম্ভবত কঠিন অবস্থায় নেই।
উল্লেখ্য,
- ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে বুঝা যায় যে, কেন্দ্রমণ্ডল দুটি অংশে বিভক্ত: বাইরের অংশ এবং ভিতরের অংশ।
- বাইরের অংশ তরল এবং ভিতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে বলে অনুমান করা হয়।
- কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশের বিস্তৃতি প্রায় ২২৭০ কি.মি.।
- কেন্দ্রমন্ডলের ভিতরের অংশটি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,২১৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের মধ্যে কঠিন অবস্থায় রয়েছে।
তথ্যসূত্র – বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; নবম দশম শ্রেণি।
বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ:
- খনি হতে প্রাপ্ত সম্পদকে খনিজ সম্পদ বলে।
- বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নয়। শিল্পোন্নয়ন তথা অর্থনেতিক উন্নয়নে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যেসব খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে খনিজদ্রব্যের চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদেরকে বিদেশের উপর নির্ভর করতে হয়।
⇒ প্রাকৃতিক গ্যাস: বাংলাদেশে প্রাপ্ত খনিজ সম্পদগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধান। গ্যাস সম্পদে আমরা সমৃদ্ধ।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ।
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত শৃঙ্গটি নেপাল ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত একটি পর্বত শৃঙ্গ।
- এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ।
- মাউন্ট এভারেস্ট আবিষ্কারের পূর্বে এটিকে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বিবেচনা করা হতো।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।
পর্ণমোচী বন (Deciduous Forest) এক ধরনের বনাঞ্চল যেখানে শীতের শুরুতে বা শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ গাছের পাতা ঝরে যায়।
- গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, টাঙ্গাইলের মধুপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত শালবন একটি পর্ণমোচী বা পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
- এই বনের প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারী।
(তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
গ্রিনিচ মান:
- GMT-এর পূর্ণরূপ: Greenwich Mean Time.
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
উল্লেখ্য,
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে ।
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত। আশির দশকের প্রথম দিকে দেশব্যাপী প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি স্বতন্ত্র জেলায় বিভক্ত করা হয়। এগুলো হচ্ছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
• পদ্মা নদী:
- পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী এবং দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে।
- এটি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গার প্রধান শাখা।
- বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত।
- বাংলাদেশে পদ্মা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মানাকোসা ও দুর্লভপুর দিয়ে প্রবেশ করে।
- পরে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়;
- এবং চাঁদপুরে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা ১,৫৭১ ফুট (৪৭৯ মিটার);
- এবং গড় গভীরতা ৯৬৮ ফুট (২৯৫ মিটার)।
- এর দৈর্ঘ্য ৩৬৬ কিলোমিটার।
- পদ্মা নদী সর্পিলাকার এবং ভাঙনপ্রবণ হওয়ায় এটি ‘কীর্তিনাশা’ নামেও পরিচিত।
-------------------
অন্যদিকে,
• নদীর উৎপত্তি:
- ব্রহ্মপুত্র নদী: হিমালয় পর্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন।
- তিস্তা নদী: ভারতের পর্বত্য অঙ্গরাজ্য সিকিম থেকে উৎপন্ন।
- মেঘনা নদী: ভারতের আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
আগ্নেয় শিলা:
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিন্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই। তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অন্তরীভূত শিলা।
- এই শিলার বৈশিষ্ট্য হলো-
- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অন্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী।
- ব্যাসন্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট , গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ,নবম-দশম শ্রেণি।
• চিম্বুক পাহাড়:
অবস্থান: বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিমি দূরে।
উচ্চতা: সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০০ ফুট।
পরিচিতি: বাংলাদেশের পাহাড়ের রানী নামে পরিচিত।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়।
খ্যাতি: “বাংলার দার্জিলিং” নামেও পরিচিত।
অন্যান্য নাম: কালাপাহাড় নামেও ডাকা হয়।
অবস্থান জেলা: বান্দরবান।
তথ্যসূত্র: বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
চীনামাটি:
- চীনামাটি বা কেওলিন (Kaolin) হলো একধরণের উন্নতমানের সাদা কর্দম খনিজ, যা মূলত সিরামিক, টাইলস এবং তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে তৈরি করা হয়, ফলে এটি অত্যন্ত শক্ত, অভেদ্য এবং স্বচ্ছ প্রকৃতির হয়।
- একে সাদা মাটিও বলা হয়।
- এটি সিরামিক শিল্প, টেবিলওয়্যার (চায়ের সেট), স্যানিটারি ওয়্যার (টয়লেট), এবং কাগজ শিল্পে ফিলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রথম ১৯৫৭ সালে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়।
- এটি দেশের সবচেয়ে বড় চীনামাটি বা সাদামাটির খনি অবস্থিত।
- এছাড়া শেরপুরের নালিতাবাড়ী, চট্টগ্রামের হাইদগাঁও ও সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জত এবং দিনাজপুরের মধ্যপাড়া, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা ও ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
• নিউমাটোফোর:
- নিউমাটোফোর হলো জলজ বা হাইড্রোফাইট উদ্ভিদের একটি বিশেষ ধরনের মূল।
- এটি হলো মূলত “শ্বাস নেওয়ার মূল,” যা জলজ উদ্ভিদের জন্য জীবনরক্ষাকারী।
- এ ধরনের মূলকে শ্বাসমূল বা বায়বীয় মূলও বলা হয়।
- এই মূলগুলো জলের পৃষ্ঠের উপরে উঠে আসে, কারণ মাটির নিচে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম থাকে।
- নিউমাটোফোরের মাধ্যমে উদ্ভিদ বাতাস থেকে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে।
- যা শিকড়কে সুস্থ রাখে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি বজায় রাখে।
- নিউমাটোফোরের পৃষ্ঠে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, যেগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়।
- লেন্টিসেল গ্যাসের আদান-প্রদান সহজ করে।
- এই মূলগুলো প্রধানত সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত বা কাদা মাটিতে বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়াও, নিউমাটোফোর নাইট্রোজেনের মতো গ্যাস এবং লোহার মতো পুষ্টি শোষণে সহায়ক।
উৎস: Britannica.
বনভূমি:
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন হেক্টর এলাকায় বনভূমি রয়েছে।
- পৃথিবীর মোট বনভূমির বেশির ভাগ নির্দিষ্ট কিছু দেশে অবস্থিত।
- ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে।
- দেশটিতে ৮১ কোটি ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর বনভূমি রয়েছে।
- বিশ্বের মোট বনভূমির ২০ দশমিক ৪১ শতাংশই রাশিয়ায়।
- দেশটির বনভূমির বড় অংশ রয়েছে ফার ইস্টার্ন ফেডারেল অঞ্চলে।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সাইবেরিয়ান ফেডারেল অঞ্চল।
- এসব এলাকার বেশির ভাগ গাছই লার্চ, পাইন ও স্প্রুস জাতের।
তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [Link]
তৃণভূমি:
- ল্যানোস ও প্যাম্পাস হলো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত দুটো তৃণভূমির নাম।
- তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি। সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।
পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:
- প্রেইরি উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- সাভানা আফ্রিকায় অবস্থিত।
- স্টেপ পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
• খাইবার গিরিপথ:
- গিরিপথ হলো পাহাড়ি অঞ্চলে পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী সংকীর্ণ ও অনুচ্চ পথ।
- খাইবার গিরিপথ অবস্থিত পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে।
- এটি উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র মহাসড়ক সালান গিরিপথ দ্বারা সংযুক্ত।
- খাইবার গিরিপথ হিন্দু কুশ পর্বতমালার অংশ এবং একসময় সিল্ক রোডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
- এটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ারকে আফগানিস্তানের কাবুলের সঙ্গে যুক্ত করে।
- খাইবার গিরিপথ হাজার বছরের মধ্যে পারস্য, চীন ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যিক রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এবং আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, চেঙ্গিস খান ও বিভিন্ন মুঘল শাসকের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত ছিল।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে গিরিপথটি সামরিক চোক পয়েন্ট ও খাইবার রেলওয়ের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
- বর্তমানেও এটি পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের অন্যতম প্রধান ক্রসিং, যেখানে তোর্খাম (Torkham) পয়েন্ট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- পর্যটকদের জন্য এখানে বাব-ই-খাইবার (খাইবার গেট) একটি সুপরিচিত দর্শনীয় স্থান।
--------------------------
• অন্যান্য পরিচিত কিছু গিরিপথ-
- গ্রেট সেন্ট বার্নার্ড (সুইজারল্যান্ড),
- সিম্পলন (সুইজারল্যান্ড ও ইতালি),
- সেন্ট গোথার্ড (সুইজারল্যান্ড),
- ব্রেনার (সুইজারল্যান্ড),
- শিপকা (বুলগেরিয়া)।
উৎস: Britannica.