বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন৮৯৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৮৯৯

১০১.
রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) পাবনা
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে।
Source: bbc.com
১০২.
আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থ চারদিকে সঞ্চিত হয়ে কিসের সৃষ্টি করে?
  1. ক) সমভূমির
  2. খ) মালভূমির
  3. গ) অগ্ন্যুৎপাতের
  4. ঘ) সমুদ্রের
ব্যাখ্যা
অনেক সময় আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থ চারদিকে সঞ্চিত হয়ে মালভূমির সৃষ্টি করে। ভারতের দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণমৃত্তিকাময় মালভূমি এরূপ নির্গত লাভা দিয়ে গঠিত। (রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
১০৩.
'ময়নামতি' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) লালমাই
  2. খ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) চাঁদপুর
ব্যাখ্যা
ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান। এ যাবৎ আবিষ্কৃত লালমাই অঞ্চলের প্রাচীনতম সভ্যতার নিদর্শন হল ময়নামতি প্রত্নস্থল। বর্তমানে ময়নামতি অঞ্চলে যে ধ্বংশস্তুপ দেখা যায় তা প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাচীন নগরী ও বৌদ্ধ বিহারের অবশিষ্টাংশ । Source: parjatan.gov.bd
১০৪.
কালাহারি মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. বতসোয়ানা
  2. নামিবিয়া
  3. দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

কালাহারি মরুভূমি: 
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আফ্রিকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অঞ্চল মরুভূমি দ্বারা আবৃত।
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম।
- এবং বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ বৃহত্তম মরুভূমি।
- এটি তিনটি দেশে বিস্তৃত।
- বতসোয়ানা,নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা।
- এর আয়তন প্রায় ৯,৩২,০০০ বর্গ কিমি।
- এটি বতসোয়ানার ৭০% অঞ্চল,
- নামিবিয়ার পূর্ব অংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর অংশ জুড়ে বিস্তৃত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১০৫.
'চন্দ্রদ্বীপ' কোন জেলার পূর্বনাম?
  1. ক) যশোর
  2. খ) নোয়াখালি
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
ক্ষিণ ভারতীয় লেখনী এবং আইন-ই-আকবরীর সাক্ষ্য হতে মনে হয়, চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চলের অন্য নাম ছিল ‘বঙ্গালদেশ’। আইন-ই-আকবরী গ্রন্থের বাকলা সরকার (বর্তমান বরিশাল, পূর্বের বাখরগঞ্জ জেলা) এবং চন্দ্রদ্বীপ একই স্থান বলে স্বীকৃত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১০৬.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ক) ২৮
  2. খ) ৩০
  3. গ) ৩২
  4. ঘ) ৩৩
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
- একটি ভারত এবং অপরটি মিয়ানমার।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ওয়েবসাইট।
১০৭.
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের জৈবিক উপাদানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-
  1. গড় আয়ু ও জীবনযাত্রার মান
  2. অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি
  3. নদী ভাঙন ও টর্নেডো
  4. জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন:
- বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন নির্ভর করে নানা উপাদানের উপর, যেমন-
- আর্থসামাজিক, প্রাকৃতিক, জৈবিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং শিল্পায়ন-নগরায়ণ।

 
• প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ
১) জলবায়ু পরিবর্তন
২) বৈশ্বিক উষ্ণতা
৩) ভৌগোলিক পরিবর্তন
৪) নদী ভাঙন
৫) অতিবৃষ্টি
৬) অনাবৃষ্টি
৭) টর্নেডো ইত্যাদি
 
• জৈবিক উপাদানসমূহ
জন্ম ও মৃত্যুহার
জনসংখ্যার ঘনত্ব
গড় আয়ু
জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।

১০৮.
নিচের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ক) মার্বেল
  2. খ) গ্রানাইট
  3. গ) চুনাপাথর
  4. ঘ) নিস
ব্যাখ্যা
• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- এ শিলার পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রাথমিক শিলাগুলো যুগ যুগ ধরে রৌদ্র, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি নানা প্রকার ঘাত- প্রতিঘাত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খন্ড-বিখন্ড ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে বালি, কাঁকর, কাঁদা প্রভৃতিতে পরিণত হয়।
- ক্ষয়িত শিলাকণা জলস্রোত, বায়ু এবং হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে পলল বা তলানিরূপে কোনো নিম্নভূমি, হ্রদ এবং সাগরগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে। পরবর্তীতে ঐসব পদার্থ ভূ-গর্ভের উত্তাপে ও উপরের শিলাস্তরের চাপে জমাট বেঁধে কঠিন শিলায় পরিণত হয়।
- পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ।
- তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে।
- স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে।
⇒ চুনাপাথর, বেলেপাথর, পাথুরিয়া কয়লা, সৈন্ধব লবণ, খড়িমাটি প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
- ভূ-পৃষ্ঠের ক্রিয়ারত বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াই পাললিক শিলার উৎপত্তির জন্য কাজ করে।
- তবে, বিচুর্ণীভবন, পরিবহন, সঞ্চায়ন, সুদৃঢ়করণ ও জোড়ন ইত্যাদি প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি - বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৯.
রূপসা নদীর উপর নির্মিত সেতু নিচের কোনটি?
  1. ক) দপদপিয়া সেতু
  2. খ) খানজাহান আলী সেতু
  3. গ) লালন শাহ সেতু
  4. ঘ) বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু
ব্যাখ্যা
- রূপচাঁদ সাহার কাটা খালটি আজ বিশাল রূপসা নদী।
- যা দেখে জীবনানন্দ দাশ মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন:
- ‘‘রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেড়া পালে  ডিঙ্গা  বায়;  রাঙা   মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে ’’
- সেই রূপসা নদীর ওপর একটি সেতু  হয়েছে  লোকে  বলে  রূপসা  সেতু। পোশাকি  নাম খানজাহান আলী সেতু।

উৎস: খুলনা জেলা ওয়েবসাইট।
১১০.
বাংলাদেশে আবিষ্কৃত প্রথম কয়লা ক্ষেত্র কোনটি?
  1. জামালগঞ্জ
  2. বড় পুকুরিয়া
  3. দিঘীপাড়া
  4. খালাসপীর
ব্যাখ্যা

কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।

⇒ দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট। 

১১১.
নিম্মের কোনটি হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ?
  1. গ্রাবরেখা
  2. এসকার
  3. কেম
  4. সবগুলা
ব্যাখ্যা

হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ:
- হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ হলো সেই বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতি, যা হিমবাহের সঙ্গে বাহিত শিলাখণ্ড, বালি, কাদা ও নুড়ি-পাথরের স্তূপাকারে হিমবাহের প্রবাহপথে বা শেষপ্রান্তে জমে তৈরি হয়।
- হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত প্রধান ভূমিরূপগুলো হলো-
- গ্রাবরেখা (Moraine),
- কেম (Kame),
- ড্রামলিন (Drumlin),
- এসকার (Esker),
- বহিঃধৌত সমভূমি (Outwash Plain)
- এবং কেটল (Kettle)।
- এই ভূমিরূপগুলো সাধারণত কাদা, বালি, নুড়ি ও পাথরের স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে তৈরি হয়।

- প্রধান ভূমিরূপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
গ্রাবরেখা (Moraine):
- হিমবাহের সাথে বাহিত শিলাখণ্ড, নুড়ি ও বালি সঞ্চিত হয়ে গঠিত।
- এটি অবস্থান অনুসারে ভূমি গ্রাবরেখা (হিমবাহের নিচে) এবং প্রান্ত গ্রাবরেখা (হিমবাহের সামনের দিকে) হতে পারে।

এসকার (Esker): 
- হিমবাহের ভেতর বা নিচে নদী দ্বারা সঞ্চিত বালি ও নুড়ি দীর্ঘ, আঁকাবাঁকা ও সরু শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ তৈরি করে।

কেম (Kame):
- হিমবাহের শেষপ্রান্তে বরফ গলে কাদা, বালি ও নুড়ি স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণাকার বা দ্বীপাকার ছোট টিলা তৈরি করে।

• ড্রামলিন (Drumlin):
- হিমবাহের সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত উল্টানো নৌকা বা অর্ধেক ডিমের মতো টিলা।

• বহিঃধৌত সমভূমি (Outwash Plain):
- হিমবাহের প্রান্তে গলিত জলের মাধ্যমে বাহিত পলি, বালি ও কাঁকর জমে গঠিত সমভূমি।

• কেটল (Kettle):
- হিমবাহের সঞ্চিত বালি ও পাথরের মধ্যে বরফের টুকরো গলে গর্ত বা ছোট হ্রদ তৈরি করে।

উৎস: BBC News ও Antarctic Glaciers Website. 

১১২.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. ধূলিকণা ও কনিকা
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যার পরিমাণ প্রায় ৭৮.০২%।
- দ্বিতীয় প্রধান উপাদান হিসাবে সবচেয়ে বেশী রয়েছে অক্সিজেন। যার পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ।
- এ দুটি গ্যাসবায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যার পরিমাণ প্রায় ০.০১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ উপাদান কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. আর্গন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত। 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%)  
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
১. নাইট্রোজেন (N2) - ৭৮.০২%, 
২. অক্সিজেন (O2) - ২০.৭১%, 
৩. আর্গন (Ar) - o.৮০%, 
৪. কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) - ০.০৩%, 
৫. ওজোন (O3) - ০.০০০১%, 
৬. অন্যান্য গ্যাস - ০.০১৯৯%, 
৭. জলীয়বাষ্প - ০.৪১% এবং 
৮. ধূলিকণা - ০.০১%। 

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১৪.
অশ্বমণ্ডল প্রধানত কোন উপাদানগুলো দিয়ে গঠিত?
  1. নিকেল ও ম্যাগনেসিয়াম
  2. সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম
  3. আর্গন ও নাইট্রোজেন
  4. আর্গন ও নিকেল 
ব্যাখ্যা

অশ্বমণ্ডল (Lithosphere): 
- গুরুমণ্ডলের উপরাংশকে অশ্বমণ্ডল বা শিলামণ্ডল বলা হয়।
- এটি নানা রকম শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত।
- মহাদেশের নিচে অশ্বমণ্ডলের গভীরতা সর্বোচ্চ, আর মহাসাগরের নিচে সর্বনিম্ন।

- লিথোস্ফিয়ারের উপরের অংশকে ভূ-ত্বক বলে।
- এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ কিমি গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত।
- অশ্বমণ্ডল নিচের দিকে প্রতি কিমি গভীরতায় প্রায় ৩০°C তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

• উপাদান ও শিলা গঠন:
- অশ্বমণ্ডলের প্রধান উপাদান হলো-
- অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম।
------------------ 
উল্লেখ্য,
• লিথোস্ফিয়ারের শিলার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ভূ-ত্বককে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:

১. পৃষ্ঠের হালকা ঘন শিলাস্তর (Sial / গ্রানাইট স্তর):
- মানুষ, জীবকূল, গাছপালা ও তৃণগাছ এখানে বাস করে।
- প্রধান উপাদান: সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম, তাই একে সিয়াল স্তর বলা হয়।
- স্থলভাগ বা মহাদেশ এই শিলায় গঠিত।

২. মধ্যম ঘন শিলাস্তর (Sima / ব্যাসল্ট স্তর): 
- এটি সিয়াল স্তরের ঠিক নিচে অবস্থিত মধ্যম শিলাস্তর।
- এই স্তরের প্রধান উপাদান: সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম।
- মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক এই শিলায় তৈরি হয়।
- সমুদ্র তলের নিচে গ্রানাইট শিলার পর এই স্তর শুরু হয়।
- সিয়াল ও সিমা স্তরের মিলনের সীমাকে কনরাড বিযুক্তি বলা হয়।

৩. নিম্ন স্তর – অলিভিন জাতীয় শিলা: 
- লিথোস্ফিয়ারের সবচেয়ে নিচের স্তর, যেখানে অলিভিন জাতীয় শিলা বেশি।
- শিলার প্রধান উপাদান: ম্যাগনেসিয়াম ও লৌহের সিলিকেট।
- ভূ-কম্পনের তরঙ্গ এখানে প্রতি সেকেন্ডে ৮ কিমি বেগে চলে।
- আপেক্ষিক গুরুত্ব: ৩.৩।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১৫.
The most abundant element in the Earth's crust is
  1. ক) Oxygen
  2. খ) Hydrogen
  3. গ) Carbon Dioxide
  4. ঘ) Silicon
ব্যাখ্যা
• ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৬.
'সোনোরান' মরুভূমি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. ক) আফ্রিকা
  2. খ) অস্ট্রেলিয়া
  3. গ) এশিয়া
  4. ঘ) আমেরিকা
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি সাহারা মরুভূমি। সাহারা মরুভূমিকে আফ্রিকার দুঃখ বলা হয়।
পাটাগোনিয়ান মরুভূমি অবস্থিত আর্জেন্টিনা ও চিলিতে।
কালাহারি মরুভূমিও আফ্রিকায় অবস্থিত।।
সোনোরান মরুভূমি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে অবস্থিত।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।
১১৭.
রায়োলাইট ও অ্যান্ডিসাইট কী জাতীয় শিলা?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. নমনীয় শিলা
ব্যাখ্যা

রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট - আগ্নেয় শিলা।

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks):
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিন্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই। তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অন্তরীভূত শিলা। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই।

- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা ও
(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।

(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম, রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসন্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি।

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্কুল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।

১১৮.
বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় -
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৮৬ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
হরিপুর খনিজ তেলক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের দুটি খনিজ তেলক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র হলো হরিপুর তেলক্ষেত্র।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।

এছাড়াও,
⇒ হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৫৫ সালে সর্বপ্রথম এখানে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- ১৯৫৭ সালে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
- হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৭ ও ৯ নম্বর কূপ থেকে বর্তমানে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
১১৯.
সেইন নদীর তীরবর্তী শহর -
  1. ক) প্যারিস
  2. খ) নিউইয়র্ক
  3. গ) লন্ডন
  4. ঘ) টরেন্টো
ব্যাখ্যা
• প্যারিস শহর ফ্রান্সের রাজধানী।
- এটি দেশের উত্তর-মধ্য অংশে অবস্থিত।
- প্রায় ৭৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইংলিশ চ্যানেল নদীর মুখ থেকে ২৩৩ মাইল (৩৭৫ কিমি) উজানে সেইন নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১২০.
তালিবাবাদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) মুন্সিগঞ্জ
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। বেতবুনিয়া (রাঙ্গামাটি), ১৯৭৫; তালিবাবাদ (গাজীপুর), ১৯৮২; মহাখালী (ঢাকা), ১৯৯৫ এবং সিলেট, ১৯৯৭।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ]
১২১.
নিচের কোনটি লালমাই পাহাড়ের গড় উচ্চতা?
  1. ২১ মিটার
  2. ২৫ মিটার
  3. ৩০ মিটার
  4. ৩৫ মিটার
ব্যাখ্যা

• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর আয়তন ৩৪ বর্গকিমি।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এটি প্লাইস্টোসিনকালের বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২২.
বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী দেশ নয়-
  1. হাঙ্গেরি
  2. এস্তোনিয়া
  3. ফিনল্যান্ড
  4. লাটভিয়া
ব্যাখ্যা
- হাঙ্গেরি বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত নয়।

• বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী দেশ সমূহ:
- ডেনমার্ক,
- এস্তোনিয়া,
- ফিনল্যান্ড,
- জার্মানি,
- লাটভিয়া,
- লিথুয়ানিয়া,
- পোল্যান্ড,
- রাশিয়া (কালিনিনগ্রাদ ও সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলের মাধ্যমে),
- সুইডেন।

উল্লেখ্য,
- মোট ৯টি দেশ বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী।
- এর মধ্যে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, ও লিথুয়ানিয়া-কে একত্রে বাল্টিক রাষ্ট্র বলা হয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১২৩.
ক্যাম্পস (campos) তৃণভূমি পাওয়া যায় -
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. দক্ষিণ আমেরিকা
  3. তুরস্ক
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
ক্যাম্পস:
- ক্যাম্পস (Campos) তৃণভূমি প্রধানত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনাতে পাওয়া যায়।
- এটি একটি উষ্ণমণ্ডলীয় তৃণভূমি অঞ্চল, যা পাম্পাস তৃণভূমির অংশ হিসেবেও পরিচিত।
- এই অঞ্চলে বিস্তীর্ণ ঘাসের মাঠ, গুল্ম এবং কিছু গাছপালা দেখা যায়, যা বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল।
- ক্যাম্পস তৃণভূমি কৃষি ও পশুচারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: Britannica.
১২৪.
কোন দুটি প্লেটের সংযোগস্থল বরাবর মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত?
  1. ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান
  2. ইন্ডিয়ান ও বার্মিজ
  3. ইন্ডিয়ান ও আফ্রিকান
  4. বার্মিজ ও ইউরেশিয়ান
ব্যাখ্যা
◉ ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল বরাবর মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত। 

• এভারেস্ট পর্বত: 
- মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার গ্রেট হিমালয়ের চূড়ায় অবস্থিত পর্বত যা চীন ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
- তিব্বত এবং নেপালের সীমান্তে উত্থিত, লক্ষ লক্ষ বছর আগে ইন্ডিয়ান এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে একটি টেকটোনিক সংঘর্ষ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট তৈরি হয়েছিল।
- মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয়ের মাঝের অংশে অবস্থিত।
- এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট। 

বাংলাদেশী এভারেস্ট জয়ী:
- এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি এভারেস্ট জয় করেছেন।
- প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২৩ মে ২০১০ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহিম।
- নারীদের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি এভারেস্টজয়ী হচ্ছেন নিশাত মজুমদার।
- তাঁরা হলেন মুসা ইব্রাহীম, এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীন ও মো. খালেদ হোসাইন।

উৎস: Britannica & National Geographic.
১২৫.
'বালিশিরা ভেলী' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) মৌলভীবাজার 
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভেলী বা উপত্যকাসমূহ:
- বালিশিরা ভেলী: মৌলভীবাজার 
- হালদা ভেলী: খাগড়াছড়ি
- ভেঙ্গী ভেলী: রাঙামাটি
- সাজেক ভেলী: রাঙামাটি 

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২৬.
'শ্লেট' কোন ধরনের শিলা?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. মিশ্র শিলা
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।

কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
→ চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
→ বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, 
→ কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
→ গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
→ কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৭.
লালমাই পাহাড়ের গড় উচ্চতা কত মিটার?
  1. ১০ মিটার
  2. ১৫ মিটার
  3. ২১ মিটার
  4. ৩০ মিটার
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
দেশের বৃষ্টিজনিত বন্যাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল
  2. বৃহত্তর খুলনা ও যশোর
  3. বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল
  4. নদী তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা সংঘটিত হয়।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট ও চট্টগ্রাম) আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা
উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।

(তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
১২৯.
নিচের কোন অঞ্চলে বরেন্দ্রভূমি আছে?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি (Barind Tract):
- বঙ্গ অববাহিকার বৃহত্তম প্লাইসটোসিন ভূ-প্রাকৃতিক একক।
- অবস্থান- বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা জুড়ে বরেন্দ্রভূমির অবস্থান।
- বরেন্দ্রভূমির নামকরণের পেছনে একাধিক পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। ‘বর’ শব্দের অর্থ হচ্ছে আশীর্বাদ এবং ‘ইন্দ্র’ শব্দের অর্থ দেবতাদের রাজা। অর্থাৎ ইন্দ্রের বর বা ইন্দ্রের আশীর্বাদ থেকে সাধারণভাবে বরেন্দ্র শব্দটির উৎপত্তি।
- বরেন্দ্রভূমির অবস্থান গ্রীষ্মপ্রধান মৌসুমিমন্ডলে। কর্কটক্রান্তি এই ভূমির দক্ষিণে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণভাবে উষ্ণ ও আর্দ্র।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৩০.
বাংলাদেশের কোন জেলায় লোহার মজুদ রয়েছে?
  1. নওগাঁ
  2. দিনাজপুর
  3. শেরপুর
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে দেশের প্রথম লোহা খনি আবিষ্কার করে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। ২০১৯ সালে এই খনি আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এখানে উন্নত মানের ম্যাগনেটাইট রয়েছে বলে জিএসবি জানায়।

(তথ্যসূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)
১৩১.
সুন্দরবনের পূর্বে যে নদী অবস্থিত -
  1. রায়মঙ্গল
  2. মাতামুহুরী
  3. বলেশ্বর
  4. রূপসা
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:
- বাংলাদেশ এবং ভারত জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনের বৃহত্তর অংশটি (৬২%) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। 
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে বলেশ্বর নদী আর উত্তরে বেশি চাষ ঘনত্বের জমি বরাবর সীমানা। 
- উঁচু এলাকায় নদীর প্রধান শাখাগুলো ছাড়া অন্যান্য জলধারাগুলো সর্বত্রই বেড়িবাঁধ ও নিচু জমি দ্বারা বহুলাংশে বাঁধাপ্রাপ্ত।
- এটি সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশে। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে সুন্দরবন অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: খুলনা জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১৩২.
পাললিক শিলায় -
  1. স্তর নেই, জীবাশ্ম আছে 
  2. স্তর আছে, জীবাশ্ম নেই 
  3. স্তর ও জীবাশ্ম আছে
  4. স্তর ও জীবাশ্ম কোনটিই নেই।
ব্যাখ্যা

• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
১। পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়;
২। পাললিক শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়;
৩। পাললিক শিলা স্ফটিকাকার নয়;
৪। পাললিকা শিলা হালকা, ভঙ্গুর ও তরঙ্গ বিশিষ্ট।

অন্যদিকে -
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৩.
সমূদ্র উপকূল রেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে কী বলে?
  1. ক) মহীসোপান
  2. খ) মহীঢাল
  3. গ) নিমজ্জিত শৈলশিলা
  4. ঘ) সমুদ্রখাত
ব্যাখ্যা
• মহীসোপান:
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারিদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের মধ্যে নেমে গেছে এরূপ সমূদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে ‘মহীসোপান’ বলে।
- মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার।
- মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। 
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৪.
বাংলাদেশের তামাবিল সীমান্তের সাথে ভারতের কোন শহরটি অবস্থিত?
  1. ক) ডাউকি
  2. খ) করিমগঞ্জ
  3. গ) জাফলং
  4. ঘ) চেরাপুঞ্জি
ব্যাখ্যা
গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা - তামাবিল।
- তামাবিল স্থল শুল্ক বন্দর দিয়েই ভারত থেকে কয়লা আমদানী করা হয়।
- তামাবিলের অপর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের - ডাউকি বাজার।
- তামাবিল থেকে মেঘালয় রাজ্যের শিলং পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সিলেট থেকে তামাবিলের দূরত্ব ৫৫ কি.মি.।

উৎস: গোয়াইনঘাট উপজেলা ওয়েবসাইট
১৩৫.
জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত 'মাউন্ট ফুজি' কোন দ্বীপে অবস্থিত?
  1. হোক্কাইডো
  2. কিউসু
  3. শিকোকু
  4. হনসু
ব্যাখ্যা
• জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো:
→ শিকোকু,
→ কিউসু, 
→ হনসু ও
→ হোক্কাইডো।

- আয়তনে বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ এই দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica & world Atlas.
১৩৬.
বন অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় -
  1. ১৫.৫৮  ভাগ
  2. ১৬.৫৮  ভাগ
  3. ১৭.৫৮  ভাগ
  4. ১৮.৫৮  ভাগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রত বনভূমির পামিাণ প্রায় ১৬ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪।
- বাংলাদেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পারিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭%।
- ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- যেমন: পাহাড়ী বন, প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন, সৃজিত উপকূলীয় বন, শালবন, জলাভূমির বন ইত্যাদি।

উৎস:  i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
          ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
রংপুর জেলার রানীপুকুর ও পীরগঞ্জে কোন খনিজ আবিষ্কৃত হয়েছে?
  1. চুনাপাথর
  2. তামা
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. চীনামাটি
ব্যাখ্যা
তামা (Copper):
- তামা একটি অধাতব খনিজ।
- তামার তৈজসপত্র এক সময় বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে খুবই জনপ্রিয় ছিল এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি বড় ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত।
- বিভিন্ন প্রকার তৈজসপত্র, বৈদ্যুতিক তার, ক্রু-নাট, ডেকোরেশন সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কাজে তামা ব্যবহার করা হয়। 
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও পীরগঞ্জ এবং দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার সঙ্গে তামার সন্ধান পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য,
⇒ কঠিন শিলা বা পাথর (Hard Rock or Stone):
- ১৯৬৬ সালে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার রানীপুকুর নামক স্থানে প্রায় ১৮২ মিটার মাটির নিচে প্রথম কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া যায়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার মধ্যপাড়ায় ১২১ মিটার মাটির নিচে কঠিন শিলা রয়েছে যা ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়।
- মধ্যপাড়ায় গ্রানোডায়োরাইট, কোয়ার্টজ, ডায়োরাইট, নিস্ ইত্যাদি কঠিন শিলা পাওয়া যায়।
- এছাড়া নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ এবং পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় কঠিন শিলা পাওয়া গেছে।
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, নদীর বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ভূগোল ও সংখ্যাতাত্ত্বিক ভূগোল, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩৮.
আমেরিকার 'চিহুয়ান' কোন ধরনের মরুভূমি?
  1. ক) শুষ্ক প্রায় মরুভূমি
  2. খ) উপকূলীয় মরুভূমি
  3. গ) শীতল মরুভূমি
  4. ঘ) উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি
ব্যাখ্যা
মরুভূমি
মরুভূমি বলতে বুঝায় অত্যন্ত শুষ্ক, বৃষ্টিবিরল ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বালি দ্বারা আবৃত অঞ্চল। কোনো একটি বৃহৎ এলাকা যে প্রক্রিয়ায় শুষ্কতায় পরিবর্তিত হয় সে প্রক্রিয়াকে মরুকরণ বলে। মরুভূমি বসবাসের জন্য অত্যন্ত অনুপযোগী। মরুভূমির দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি। দিনে তাপমাত্রা অনেক বৃদ্ধি পায় এবং রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যায়।

মরুভূমির শ্রেণিবিভাগ
মরুভূমি প্রধানত চার প্রকার। যথা - 
১. উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি
২. শুষ্ক প্রায় মরুভূমি
৩. উপকূলীয় মরুভূমি এবং
৪. শীতল মরুভূমি।

উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি
• আমেরিকার চিহুয়ান, সোনোরান, মোজাভি ও মূলত এই প্রকারের মরুভূমি।
• এসব মরুভূমি সারা বছরই খুব উষ্ণ ও শুষ্ক থাকে। গ্রীষ্মকালে খুব গরম হয় এবং শীতকালে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
• এখানে গড় তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সবোর্চ্চ ৪৩-৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কখনো সর্বনিম্ন ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ নেমে আসে।
• এ ধরনের মরুভূমিতে সবোর্চ্চ ২৮ সেমি বৃষ্টিপাত হয়। মাটি সাধারণত পাথুরে হয়ে থাকে। এ মরুভূমিতে গাছপালা খুব কম। • প্রাণিকূলের মধ্যে ক্যাঙ্গারু, ইঁদুর, পোকামাকড়, সরীসৃপ জাতীয় কিছু প্রাণি দেখতে পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছর কোন ধরনের বৃষ্টিপাত হয়-
  1. ক) ঘূর্ণি বৃষ্টি
  2. খ) পরিচলন বৃষ্টি
  3. গ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. ঘ) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে প্রচুর জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়। এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজা নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টি। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এই সব এলাকার উর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। নিরক্ষীয় এলাকায় স্থলভাগের থেকে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হয়। এই অঞ্চলে হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন এই রকম পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারাবছরই সন্ধ্যা ও বিকালে এইরূপ বৃষ্টি হয়। নাতিশীতোষ্ণমন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৪০.
হরিপুর তেলক্ষেত্র কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৮৬ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা

হরিপুর খনিজ তেলক্ষেত্র:
- হরিপুর তেলক্ষেত্র বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র। 
- এটি ১৯৮৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৭ নম্বর কূপে আবিষ্কৃত হয়। 
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- প্রাথমিক জরিপের হিসাব অনুযায়ী, হরিপুর তেলক্ষেত্রে অন্তত ১ কোটি (বা ১০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে।
- ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এই সাত বছরে তেলক্ষেত্রটি থেকে মোট প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ তেলক্ষেত্রে যে মজুত, তার মাত্র ৫ শতাংশ তেল উত্তোলন করা হয়। মাটির নিচে রয়ে যায় বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।

১৪১.
শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম কোন শহরে অবস্থিত?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- শহীদ চান্দু” স্টেডিয়াম বগুড়া শহরে অবস্থিত।
- এই স্টেডিয়ামে প্রথম ২০০৬ সালে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মধ্যে টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
- এই স্টেডিয়াম এর ধারন ক্ষমতা ২০, ০০০জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট
১৪২.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের ভুমি উচু?
  1. ক) দক্ষিণ অঞ্চল
  2. খ) উত্তর অঞ্চল
  3. গ) পূর্ব অঞ্চল
  4. ঘ) পশ্চিম অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূমি উত্তর অংশ থেকে দক্ষিণের দিকে ক্রমশ নিম্ন।
১৪৩.
বাংলাদেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হচ্ছে?
  1. ক) পাবনা
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে।
উৎসঃ বিবিসি।

১৪৪.
কোনটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান?
  1. দুর্যোগ প্রশমন
  2. দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি
  3. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
 - দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৫.
বিশ্বের সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ লেক আসাল কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) নাইজেরিয়া
  3. গ) বলিভিয়া
  4. ঘ) জিবুতি
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ হলো জিবুতিতে অবস্থিত লেক আসাল।

অন্যদিকে,
- বৈকাল হ্রদ : পৃথিবীর গভীরতম (১,৬২০ মিটার) এবং প্রাচীনতম হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগর: পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ
- টিটিকাকা হ্রদ (বলিভিয়া): পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ
- সুপিরিয়র হ্রদ (যুক্তরাষ্ট্র): বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা
১৪৬.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে?
  1. ক) কুতুবদিয়া
  2. খ) মহেশখালী
  3. গ) সন্দ্বীপ
  4. ঘ) সেন্ট মার্টিনস
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হলো মহেশখালী
- এই দ্বীপে আদিনাথ পাহাড় রয়েছে।
- এছাড়া এখানে আদিনাথ মন্দির রয়েছে।
- মহেশখালী দ্বীপেই মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে।
- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো সেন্টমার্টিন বা নারিকেল জিঞ্জিরা।
- কুতুবদিয়া দ্বীপে বাতিঘর রয়েছে।
- সন্দ্বীপে প্রাচীনকালে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ হতো।

সূত্র:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪৭.
বাংলাবান্ধা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ঠাকুরগাঁও
  2. খ) শেরপুর
  3. গ) পঞ্চগড়
  4. ঘ) জয়পুরহাট
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা বা জায়গীরজোত।
এটি পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

১৪৮.
হাইল হাওর কোথায় অবস্থিত?
  1. সিলেট ও সুনামগঞ্জ
  2. সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ
  3. সিলেট ও হবিগঞ্জ
  4. মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
হাইল হাওর:
- মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত ‘হাইল হাওর’।
- এই বিশাল জলাধারে রয়েছে ১৪টি বিল এবং পানি নিষ্কাশনের ১৩টি নালা।
- মোট আয়তন ১০ হাজার হেক্টর।
- প্রচুর লতা ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ থাকায় স্থানীয়দের কাছে এটি লতাপাতার হাওর নামেও পরিচিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪৯.
ইলিশের বাড়ি কোন জেলাকে বলা হয়?
  1. ক) ভোলা
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) চাঁদপুর
  4. ঘ) রাজবাড়ী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারের জেলা ব্রান্ডিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে 'চাঁদপুর: সিটি অব হিলসা' নামকরণ করে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়। শিল্পী হাশেম খান এর লোগো তৈরি করে দেন এবং লোগোর লেখাটি বাংলায় অনুবাদ করে লেখা হয় 'ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর'।
উৎসঃ চাঁদপুর জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
১৫০.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সিলিকা বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) নওগাঁ
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা
সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু : 
সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু প্রধানত কাচ প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রং, অগ্নিচুল্লির ইপ্টক এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরিতে সিলিকা বালু ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের যে সকল জেলায় সিলিকা বালু পাওয়া যায় সেগুলো হলো:
কুমিল্লা : বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার বাতাসিয়া গ্রামে সিলিকা বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে সঞ্চিত বালুর পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ টন।
শেরপুর : শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ের নিকটবর্তী বালিজুরিতে সিলিকা বালু পাওয়া যায়। এখানে সঞ্চিত সিলিকা
বালুর পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ টন
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের শাহজীবাজার ও নয়াপাড়ায় সিলিকা বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে সঞ্চিত বালুর পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ টন। এই বালিতে সিলিকার পরিমাণ প্রায় ৯৭.৯৯-৯৮.৬২% বলে কাঁচ শিল্পে এই অঞ্চলের বালু ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
 
হবিগঞ্জ ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার কুলাইড়া ও সুনামগঞ্জ জেলার টাকেরঘাট অঞ্চলে প্রচুর সিলিকাবালু পাওয়া যায়। 
 
দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানায় কয়লার উপরিভাগে কাঁচবালু পাওয়া গেছে।
 
উৎস: ভূগোল ২য়  পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৫১.
নিম্নের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. কোয়ার্টজাইট
  2. কয়লা
  3. গ্রানাইট
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

- কয়লা পাললিক শিলা। 
• ভুত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার।
- যথাঃ আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা।
• পাললিক শিলাঃ
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম ও স্তর লক্ষ্য করা যায়।
- পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
- আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না।

• রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

• অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা: 
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী। 

১৫২.
ইউরোপের ক্যালিডোনিয়ান পর্বতশ্রেণি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কোন মালভূমি সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ফিজেন্ড মালভূমি
  2. মেসেটা মালভূমি
  3. তিব্বত মালভূমি
  4. দাক্ষিণাত্য মালভূমি
ব্যাখ্যা

ইউরোপের ক্যালিডোনিয়ান পর্বতশ্রেণি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ফিজেন্ড মালভূমি সৃষ্টি হয়েছে। 
- এটি ক্ষয়জাত মালভূমির উদাহরণ। 
-----------------
• ক্ষয়জাত মালভূমি:
- কোনো পার্বত্য অঞ্চল বা উঁচু ভূ-খন্ড নদী, হিমবাহ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ভূমির উচ্চতা হ্রাস পেয়ে প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হলে তাকে ক্ষয়জাত মালভূমি বলে।  
- মূলত এই মালভূমি পুরাতন উঁচু ভূ-ভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টির ফলে শিলার প্রকৃতি এর বন্ধুরতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইউরোপের ক্যালিডোনিয়ান পর্বতশ্রেণি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ফিজেন্ড মালভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
----------- 
অন্যদিকে,
• চ্যুতি মালভূমি:
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠে কোনো বিস্তৃত স্থান চ্যুতির সৃষ্টি হয়ে কোনো এলাকার বিরাট অংশ অসমানভাবে উপরে উঠে গিয়ে যে ভূমির সৃষ্টি করে তাকে চ্যুতি মালভূমি বলে। 
- মূলত ভূ-আন্দোলনজনিত এবং পাত সঞ্চালনজনিত কারণে এই ধরনের মালভূমি সৃষ্টি হয় যা চ্যুতি সৃষ্টির কারণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- যেমন-স্পেনের মেসেটা।

• পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি:
- সংকোচনজনিত চাপের কারণে ভঙ্গিল পর্বতের মাঝে এ ধরনের মালভূমি সৃষ্টি হয়।
- যেহেতু ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হওয়ার সময় পবর্তদ্বারা বেষ্টিত নিম্নস্থানসমূহ উঁচু হয়ে এই মালভূমি সৃষ্টি করে সেহেতু এ ধরনের মালভূমিকে পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি বলে।
- এ ধরনের মালভূমির উচ্চতা সাধারণত ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- যেমন- তিব্বতের মালভূমি।

• 
আগ্নেয় মালভূমি:
- অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূ-ত্বকের কোনো ফাটল বা আগ্নেয়গিরির ছিদ্র পথে ভূ-গর্ভ হতে লাভা প্রবাহ ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় ঠান্ডা হয়ে কঠিন অবস্থা ধারণ করে যে ভূমির সৃষ্টি হয় তাকে আগ্নেয়জাত মালভূমি বলে। 
- যেমন- ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫৩.
'ইরাটম-২৪' কী?
  1. ক) উন্নত জাতের ধান
  2. খ) উন্নত জাতের গম
  3. গ) উন্নত জাতের ভুট্টা
  4. ঘ) উন্নত জাতের ইক্ষু
ব্যাখ্যা
ইরাটম-২৪ হলাে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল একটি ধানের জাত।
বােরাে ও আউশ উভয় মৌসুমে এটি চাষ করা যায়।
ধানের অন্যান্য জাতের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ব্রি, ইরি ও বিনা ধান, ময়না, কালিজিরা ইত্যাদি উল্লেখযােগ্য।

সূত্র: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট ও কৃষিশিক্ষা বাের্ডবই
১৫৪.
দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
  1. জামালপুর
  2. জয়পুরহাট
  3. দিনাজপুর
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
কয়লাক্ষেত্র:
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- এটিতে কয়লার আনুমানিক মজুদের পরিমাণ ১০৫৪ মেট্রিক টন।
- গভীরতা: ৬৪০-১১৫৮ মিটার।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।

⇒ দেশের কয়লা খনিসমূহ:
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ, জয়পুরহাট: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট। 
১৫৫.
ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বাংলাদেশে কোথায় অবস্থিত?
  1. ময়মনসিংহ
  2. টাঙ্গাইল
  3. গাজীপুর
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলগাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ)দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত। শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি। 

১৫৬.
দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া থেকে কোন ধরনের খনিজ উত্তোলন করা হয়?
  1. খনিজ তৈল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কঠিন শিলা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।

কঠিন শিলা (Hard Rock):

- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।
আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪ সালে।
- গভীরতা: ১২৮ মিটার। মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৬ সালে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার রানীপুকুর নামক স্থানে প্রায় ১৮২ মিটার মাটির নিচে প্রথম কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া যায়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার মধ্যপাড়ায় ১২৮ মিটার মাটির নিচে কঠিন শিলা রয়েছে যা ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়।
- মধ্যপাড়ায় গ্রানোডায়োরাইট, কোয়ার্টজ, ডায়োরাইট, নিস্ ইত্যাদি কঠিন শিলা পাওয়া যায়।
- এছাড়া নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ এবং পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় কঠিন শিলা পাওয়া গেছে।
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, নদীর বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।  

উৎস: ¡)খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]
        ¡¡)  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।[লিঙ্ক]

১৫৭.
কেন্দ্রমণ্ডল প্রধানত কোন কোন পদার্থ দ্বারা গঠিত?
  1. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  2. লৌহ ও নিকেল
  3. সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম
  4. ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রমণ্ডল:
- গোলাকার পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৩৭১ কি.মি.।
- পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে প্রায় ৩৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের যে গোলক রয়েছে, সেই গোলকটির নাম কেন্দ্রমন্ডল।
- বৈজ্ঞানিকদের মতে, কেন্দ্রমণ্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী গদার্থ দ্বারা গঠিত।
- এ স্তরে নিকেল (Nickel) ও লৌহের (Ferus) পরিমাণ বেশি থাকায় এ স্তরটি সংক্ষেপে নাইফ (Nife) নামে পরিচিত।
- এটি পানি অপেক্ষা ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন।
- কিন্তু প্রচণ্ড তাপ ও চাপে এটি সম্ভবত কঠিন অবস্থায় নেই।

উল্লেখ্য,
- ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে বুঝা যায় যে, কেন্দ্রমণ্ডল দুটি অংশে বিভক্ত: বাইরের অংশ এবং ভিতরের অংশ।
- বাইরের অংশ তরল এবং ভিতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে বলে অনুমান করা হয়।
- কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশের বিস্তৃতি প্রায় ২২৭০ কি.মি.।
- কেন্দ্রমন্ডলের ভিতরের অংশটি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,২১৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের মধ্যে কঠিন অবস্থায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র – বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; নবম দশম শ্রেণি।

১৫৮.
বাংলাদেশের একমাত্র গন্ধক খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. দিনাজপুর
  3. সুনামগঞ্জ
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা
গন্ধকের খনি:
- বাংলাদেশের একমাত্র গন্ধক খনি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে অবস্থিত।
- গন্ধক বা সালফারকে সালফিউরিক এসিড, বারুদ ও কীটনাশক তৈরিতে বহুলভাবে ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও,
- দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ গ্রানাইট পাথরের খনি।
- এই খনিতে পাওয়া গ্রানাইট দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- আরেকটি উল্লেখযোগ্য খনিজ সম্পদ হলো ইউরেনিয়াম, যার সন্ধান পাওয়া গেছে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া পাহাড়ে।
- ইউরেনিয়াম মূলত পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্ভাবনাময় একটি উৎস।

উৎস: i) ভূগোল ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
১৫৯.
বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদের কাঁচামাল কোনটি?
  1. তামা
  2. আকরিক লোহা
  3. মিথেন
  4. কয়লা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ:
- খনি হতে প্রাপ্ত সম্পদকে খনিজ সম্পদ বলে।
- বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নয়। শিল্পোন্নয়ন তথা অর্থনেতিক উন্নয়নে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যেসব খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে খনিজদ্রব্যের চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদেরকে বিদেশের উপর নির্ভর করতে হয়।
 
⇒ প্রাকৃতিক গ্যাস: বাংলাদেশে প্রাপ্ত খনিজ সম্পদগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধান। গ্যাস সম্পদে আমরা সমৃদ্ধ।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ।
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
১৮০° দ্রাঘিমারেখার অপর নাম কী?
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা
  4. নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা:
→ ভূ-পৃষ্ঠে কোনো একটি স্থানের সঠিক অবস্থান ও সময় নির্ণয়ের উদ্দেশে পৃথিবী পৃষ্ঠে পূর্ব-পশ্চিমে ও উত্তর-দক্ষিণে কতিপয় রেখা
কল্পনা করা হয়।
 → পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টনকারী রেখাসমূহ একেকটি পূর্ণবৃত্ত এবং নিরক্ষরেখাটি সর্ববৃহৎ পূর্ণবৃত্ত।
→ নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু বরাবর অক্ষরেখাসমূহের ব্যাস ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পেতে উভয় মেরুদ্বয়ে বিন্দুতে পরিনত হয়।
→ উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাগুলো একেকটি অর্ধবৃত্ত।
→ লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর মূল মধ্যরেখার মান ০° ও আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা মান ১৮০°।
→ ২৩.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখা যথাক্রমে কর্কটক্রান্তি ও মকর ক্রান্তি নামে পরিচিত।
→ ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখা যথাক্রমে সুমেরু ও কুমেরু বৃত্ত নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬১.
সুন্দরবনের মোট আয়তনের কতটুকু বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানায় অন্তর্ভুক্ত?
  1. ৫৪২৭ বর্গ কিলোমিটার
  2. ৫৮৩৭ বর্গ কিলোমিটার
  3. ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার
  4. ৬২১৭ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- এ বনের অধিকাংশ এলাকা জোয়ার ভাটার কারণে দিনে দু'বার লোনা পানি দ্বারা বিধৌত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।
- ম্যানগ্রোভ বন হলো উপকূলীয় বন।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার।
- এর অন্য নাম বাদাবন।

⇒ সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।

⇒ সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- বন্যপ্রাণীসমূহের মধ্যে: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি।

⇒ ১৮৭৮ সালে সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।
⇒ ১৮৭৮ সালে সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।
- ইউনেস্কো ৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে ৭৯৮তম 'World Heritage site' বা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের বৃহত্তম বনাঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনভূমি।
- আবার একক বন হিসাবে বৃহত্তম বন সুন্দরবন সুন্দরবন বনাঞ্চল।

উৎস: i) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৬২.
নিচের কোন জেলায় কঠিন শিলার খনি রয়েছে?
  1. সিলেট
  2. জামালগঞ্জ
  3. রংপুর
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।
- আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪।
- গভীরতা: ১২৮ মিটার।
- মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
১৬৩.
কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত শৃঙ্গ অবস্থিত-
  1. ক) ভারত ও ভুটানে
  2. খ) নেপাল ও ভুটানে
  3. গ) চীন ও নেপালে
  4. ঘ) নেপাল ও ভারতে
ব্যাখ্যা

- কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত শৃঙ্গটি নেপাল ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত একটি পর্বত শৃঙ্গ।
- এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ।
- মাউন্ট এভারেস্ট আবিষ্কারের পূর্বে এটিকে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বিবেচনা করা হতো।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।

১৬৪.
পর্নমোচী বৃক্ষের বনভূমিতে নিম্নের কোন উদ্ভিদ দেখা যায়?
  1. পাইন
  2. শাল
  3. সুন্দরী
  4. আবলুস
ব্যাখ্যা

পর্ণমোচী বন (Deciduous Forest) এক ধরনের বনাঞ্চল যেখানে শীতের শুরুতে বা শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ গাছের পাতা ঝরে যায়।
- গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, টাঙ্গাইলের মধুপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত শালবন একটি পর্ণমোচী বা পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
- এই বনের প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারী

(তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)

১৬৫.
অলিভ পর্বত কোথায় অবস্থিত?
  1. কাবুল
  2. দামেস্ক
  3. তেল আবিব
  4. জেরুজালেম
ব্যাখ্যা
অলিভ পর্বত:
- অলিভ পর্বত জেরুজালেমের ওল্ড সিটির ঠিক পূর্বে অবস্থিত একটি বহু-শিখর চুনাপাথরের শৈলশিরা।
- এটি কিদ্রোন উপত্যকা দ্বারা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন।
- ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের কাছে এটি একটি পবিত্র স্থান।
- অলিভ পর্বতের তিনটি প্রধান শৃঙ্গ রয়েছে।
- সাধারণত জলপাই পর্বত হিসেবে বিবেচিত চূড়াটি হল দক্ষিণ চূড়া, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৬৫২ ফুট (৮০৮ মিটার) উঁচু ।
- উত্তরে সর্বোচ্চ চূড়াটি (২,৬৯৪ ফুট বা ৮২০ মিটার) রয়েছে, যাকে সাধারণত মাউন্ট স্কোপাস বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
১৬৬.
কোন দেশকে ‘সূর্যোদয়ের দেশ’ দেশ বলা হয়?
  1. ভুটান
  2. জাপান
  3. মিয়ানমার
  4. তাইওয়ান
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভৌগলিক উপনাম: 

• বজ্রপাতের দেশ, বজ্র ড্রাগনের দেশ: ভুটান।
• সূর্যোদয়ের দেশ: জাপান।
• নিষিদ্ধ দেশ: তিব্বত।
• সাদা হাতির দেশ: থাইল্যান্ড।
• সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
• হাজার হ্রদের দেশ: ফিনল্যান্ড।
• নীল নদের দেশ: মিশর।
• মরুভুমির দেশ: আফ্রিকা।
• চীর সবুজের দেশ: নাটাল (দ: আফ্রিকা)।
• ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
• পিরামিডের দেশ: মিশর।
• প্রাচীরের দেশ: চীন।
• ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।
• ম্যাপল পাতার দেশ: কানাডা।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
১৬৭.
'GMT' দ্বারা কী বোঝায়?
  1. Greenwich Main Time
  2. Global Mean Time
  3. Greenwich Mean Time
  4. General Measurement Time
ব্যাখ্যা

গ্রিনিচ মান:
- GMT-এর পূর্ণরূপ: Greenwich Mean Time.
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে ।
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৮.
বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. উত্তর আমেরিকা মহাদেশে
  2. দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে
  3. আফ্রিকা মহাদেশে
  4. এশিয়া মহাদেশে
ব্যাখ্যা
সাহারা মরুভূমি:
- সাহারা মরুভূমির নামটি এসেছে আরবি শব্দ ‘সাহরা’ থেকে যার অর্থ ‘মরুভূমি’।
- এটি আফ্রিকার প্রায় এক তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।
- সাহারা হল বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি, যার আয়তন ৩.৫ মিলিয়ন বর্গ মাইল (৯ মিলিয়ন বর্গ কিমি)।
- মরুভূমিটি আলজেরিয়া, মিশর, মালি, মরক্কো, পশ্চিম সাহারা, তিউনিসিয়া, চাদ, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, নাইজার এবং সুদান সহ ১১টি উত্তর আফ্রিকার দেশের বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে।
- ১৮৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু পাহাড়ী বালির টিলাগুলির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- এই মরুভূমিতে জলের উৎস বিরল, তবে সাহারায় দুটি নদী এবং বিশটি মৌসুমী হ্রদ রয়েছে।
- সাহারা পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর দ্বারা , উত্তরে আটলাস পর্বতমালা এবং ভূমধ্যসাগর দ্বারা , পূর্বে লোহিত সাগর দ্বারা এবং দক্ষিণে সাহেল দ্বারা সীমাবদ্ধ। 

সূত্র: Worldatlas.com
১৬৯.
কয়টি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত। আশির দশকের প্রথম দিকে দেশব্যাপী প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি স্বতন্ত্র জেলায় বিভক্ত করা হয়। এগুলো হচ্ছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৭০.
বাংলাদেশের কোন স্থানে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) সিলেটের লালাখালে
  2. খ) নাটোরের লালপুরে
  3. গ) মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ডে
  4. ঘ) রাজশাহীর তানোরে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।
- জুন থেকে অক্টোবর মাসে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় ৭০ থেকে ৮০%
‌- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭১.
আগ্নেয়গিরিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায় । 
১) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি - সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেসব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনো অগ্ন্যুৎপাত হয়। উদাহরণঃ ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি
২) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি - সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। উদাহরণঃ জাপানের ফুজিয়ামা
৩) মৃত আগ্নেয়গিরি - মৃত আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা নেই। উদাহরণঃ পোপো আগ্নেয়গিরি

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭২.
দক্ষিণ গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হয়-
  1. ক) ২৩ মার্চ
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ১ জুলাই
  4. ঘ) ১ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হয় - ২১ জুন। 

• ২১জুন:
→ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন।
→ পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন।
→ পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
১৭৩.
'ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল' বলতে কী বোঝায়?
  1. মরুভূমির শুষ্ক বনাঞ্চল
  2. উপকূলীয় স্রোতজ বনভূমি
  3. চিরসবুজ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন
  4. পাহাড়ি অঞ্চলের বনভূমি
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল:
- ম্যানগ্রোভ বলতে সমুদ্র উপকূলে জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত বিস্তীর্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- এই বন মূলত জোয়ার-ভাটায় বিধৌত লবণাক্ত সমতলভূমি।
- গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও উপউষ্ণ (Tropical and Sub-tropical) উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বনাঞ্চল দেখা যায়।
- ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান বৈশিষ্ট্য এটি লবণ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সহনশীল।
- তথ্যমতে, বর্তমানে পৃথিবীতে এ বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ১,৫০,০০০ বর্গ কিমি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে অবস্থিত সুন্দরবন পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৭৪.
কান্তজীউ মন্দির কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) জয়পুরহাট
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) রাঙ্গামটি
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
কান্তজীর মন্দির ইটের তৈরী অষ্টাদশ শতাব্দীর মন্দির। দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ১২ মাইল উত্তরে এবং দিনাজপুর-তেতঁলিয়া সড়কের প্রায় এক মাইল পশ্চিমে ঢেপা নদীর পারে এক শান্ত নিভৃতগ্রাম কান্তনগরে এ মন্দিরটি স্থাপিত।
Source: dinajpur.gov.bd
১৭৫.
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ স্থানীয়ভাবে কী নামে পরিচিত?
  1. ক) পাহাড়
  2. খ) টিলা
  3. গ) উঁচু ভূমি
  4. ঘ) ঢিবি
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়। এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
• বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ 
• ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
• উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
• এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
• এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।  

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৭৬.
কোন নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে? 
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. পদ্মা
  3. তিস্তা 
  4. মেঘনা
ব্যাখ্যা

পদ্মা নদী:
- পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী এবং দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে। 
- এটি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গার প্রধান শাখা।
- বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত।
- বাংলাদেশে পদ্মা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মানাকোসা ও দুর্লভপুর দিয়ে প্রবেশ করে। 
- পরে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়;
- এবং চাঁদপুরে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।

- পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা ১,৫৭১ ফুট (৪৭৯ মিটার);
- এবং গড় গভীরতা ৯৬৮ ফুট (২৯৫ মিটার)।
- এর দৈর্ঘ্য ৩৬৬ কিলোমিটার।
- পদ্মা নদী সর্পিলাকার এবং ভাঙনপ্রবণ হওয়ায় এটি ‘কীর্তিনাশা’ নামেও পরিচিত। 
-------------------
অন্যদিকে, 
• নদীর উৎপত্তি:
- ব্রহ্মপুত্র নদী: হিমালয় পর্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন।
- তিস্তা নদী: ভারতের পর্বত্য অঙ্গরাজ্য সিকিম থেকে উৎপন্ন।
- মেঘনা নদী: ভারতের আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৭৭.
'ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি' বাংলাদেশের কোথায় প্রধানত দেখতে পাওয়া যায়?
  1. ক) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ে
  2. খ) সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিতে
  3. গ) প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি : ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো শীতকালে গাছের
পাতা ঝরে যাওয়া। তবে গ্রীষ্মকালে গাছগুলোতে আবার নতুন কচি পাতা গজায়।
প্লাইস্টোসিনকালের  সোপানসমূহে এ বনভূমির অবস্থান দেখতে পাওয়া যায়। 
পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমিকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায় ।
যথা- মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি এবং রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি ।

ক. মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি : ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
 এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গজারী হওয়ায় এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত। এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার।

খ. রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি : রংপুর ও দিনাজপুর জেলার প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি অবস্থিত। এখানকার প্রধান বৃক্ষ শাল। এজন্য এটি শাল বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত। এ বনভূমির আয়তন প্রায় ৩৯ বর্গকিলোমিটার।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১৭৮.
নিচের কোনটিকে প্রাথমিক শিলা বলা হয়? 
  1. পাললিক শিলা 
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

আগ্নেয় শিলা: 
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিন্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই। তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অন্তরীভূত শিলা।
- এই  শিলার বৈশিষ্ট্য হলো-
- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অন্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী।
- ব্যাসন্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট , গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ,নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৯.
“অলিভ টারটল” বাংলাদেশের কোন দ্বীপে পাওয়া যায়?
  1. ক) সেন্টমার্টিন
  2. খ) রাঙাবালি
  3. গ) চর আলেকজান্ডার
  4. ঘ) ছেড়াদ্বীপ
ব্যাখ্যা
বিশ্বের দুর্লভ জলপাইরঙা কাছিম বা অলিভ রিডলে টার্টল পাওয়া যায় বাংলাদেশের সেন্টমার্টিনে৷
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর
১৮০.
কোন দুটি দেশের মধ্যে 'নায়াগ্রা জলপ্রপাত' অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা
  2. ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা
  3. নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া
  4. মেক্সিকো এবং কিউবা
ব্যাখ্যা
- 'নায়াগ্রা জলপ্রপাত' যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা এর মধ্যে অবস্থিত। 

নায়াগ্রা জলপ্রপাত:

- নায়াগ্রা জলপ্রপাত উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত জলপ্রপাত।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিওর সীমান্তে অবস্থিত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের তিন ভাগের এক ভাগ আমেরিকায়। বাকি দুই ভাগ কানাডায়।
- নায়াগ্রা নদী এই জলপ্রপাতটির মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবাহিত হয়।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৫১ মিটার (১৬৭ ফুট) এবং এটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২,৮০০ ঘনমিটার পানি পতিত হয়।

উৎস: Britannica.
১৮১.
পৃথিবীর প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম খাল কোনটি?
  1. ক) কিয়েল খাল
  2. খ) পানামা খাল
  3. গ) সুয়েজ খাল
  4. ঘ) গ্রান্ড খাল
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম খাল হচ্ছে চীনের গ্রান্ড খাল

অন্যদিকে,
কিয়েল খাল – জার্মানি।
প্রিন্সেস জুলিয়ানা খাল – হল্যান্ড।
গোটা খাল – সুইডেন।
সুয়েজ খাল- মিশর।
পানামা খাল- পানামা।

সূত্র: Britannica
১৮২.
'নাইনটি ইস্ট রিজ' কোথায় অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
মহাসাগর:
- নাইনটি ইস্ট রিজ হলো বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণে ভারত মহাসাগরে নিমজ্জিত একটি শৈলশিরা।
- উত্তর-দক্ষিণে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বরাবর বেঙ্গল ফ্যান (উপদ্বীপ) ও নিকোবর ফ্যানের মধ্যবর্তী স্থানে সুন্দা ট্রেঞ্চের নিকটে এটি অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগর গঠিত হওয়ার প্রাথমিক কালেই নাইনটি ইস্ট রিজ অস্তিত্ব লাভ করে।
- এই শৈলশিরাটি একটি নির্দিষ্ট উষ্ণস্থানের চিহ্ন।
- এটি ভারতীয় প্লেট এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক ভূত্বকের উভয় দিকে মহীসঞ্চারের (drift) সময় গঠিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]
১৮৩.
পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী-
  1. ক) আমাজন
  2. খ) সেন্ট লরেন্স
  3. গ) মিসিসিপি
  4. ঘ) নীল
ব্যাখ্যা
নীল নদ হলো বিশ্বের দীর্ঘতম নদী, যাকে আফ্রিকান নদীর জনক বলা হয়। 
এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,১৩২ মাইল (৬,৬৫০ কিলোমিটার) । 
নীলনদ অববাহিকায় অবস্থিত দেশসমূহ হলো - তানজানিয়া, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, সুদান এবং মিশর।

অপরদিকে, আমাজন হলো বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২,০৯,১০৩ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয় বলে একে বিশ্বের বৃহত্তম (largest) নদী বলা হয়।

বিশ্বের শীর্ষ দীর্ঘতম নদীসমূহের তালিকা নিম্নরূপ  :
১) নীল নদী - ৬,৬৫০ কিমি
২) আমাজন নদী - ৬,৪০০ কিমি
৩) ইয়াংজি নদী -৬,৩০০ কিমি
৪) মিসিসিপি/মিসৌরি নদী - ৬,২৭৫কিমি
৫) ইয়েনিসে-আঙ্গারা-সেলেঙ্গা নদী - ৫,৫৩৯কিমি
৬) ইয়েলো নদী ৫,৪৬৪কিমি
৭) ওব-ইরটিশ নদী - ৫,৪১০ কিমি
৮) রিও ডি লা প্লাটা-পারানা-রিও গ্র্যান্ডে নদী - ৪,৮৮০কিমি
৯) কঙ্গো-চাম্বেশি নদী ব্যবস্থা - 4,700 কিমি
১০) আমুর নদী - ৪,৪৪৪ কিমি

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১৮৪.
বাংলাদেশে প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. ক) বেতবুনিয়া
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) মহাখালী
  4. ঘ) তালিবাবাদ
ব্যাখ্যা
• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা-
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী
- সিলেট
- বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১৮৫.
কোনটিকে "পৃথিবীর ফুসফুস" বলে হয়?
  1. সুন্দরবন
  2. আমাজন
  3. কঙ্গো বেসিন
  4. বোরিয়াল ফরেস্ট
ব্যাখ্যা
আমাজান:
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান।
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত।
- আমাজনকে “পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয়।
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।
- আমাজান বন আমাজন নদী এবং তার উপনদীগুলোর নদী অববাহিকা জুড়ে বিস্তৃত।
- বৃষ্টির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি এবং গরম আবহাওয়া এই বনের বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে,
- তাইগা (Taiga) বা বোরিয়াল ফরেস্ট হলো পৃথিবীর বৃহত্তম বনভূমি, যা শীতল অঞ্চলে বিস্তৃত।
- এটি উত্তর গোলার্ধের অনেক অংশে, বিশেষ করে কানাডা, রাশিয়া, আলাস্কা এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় বিস্তৃত। 

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১৮৬.
বাংলাদেশের কোন পাহাড় ‘পাহাড়ের রানী’ নামে খ্যাত?
  1. লালমাই পাহাড়
  2. চিম্বুক পাহাড়
  3. কেওক্রাডাং পাহাড়
  4. তাজিনডং পাহাড়
ব্যাখ্যা

• চিম্বুক পাহাড়:
অবস্থান: বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিমি দূরে।
উচ্চতা: সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০০ ফুট।
পরিচিতি: বাংলাদেশের পাহাড়ের রানী নামে পরিচিত।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়।
খ্যাতি: “বাংলার দার্জিলিং” নামেও পরিচিত।
অন্যান্য নাম: কালাপাহাড় নামেও ডাকা হয়।
অবস্থান জেলা: বান্দরবান।

তথ্যসূত্র: বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৮৭.
বাংলাদেশে প্রথম কোথায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. বিজয়পুর, নেত্রকোনা
  2. নালিতাবাড়ী, শেরপুর 
  3. হাইদগাঁও, চট্টগ্রাম 
  4. মধ্যপাড়া, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

চীনামাটি:
- চীনামাটি বা কেওলিন (Kaolin) হলো একধরণের উন্নতমানের সাদা কর্দম খনিজ, যা মূলত সিরামিক, টাইলস এবং তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে তৈরি করা হয়, ফলে এটি অত্যন্ত শক্ত, অভেদ্য এবং স্বচ্ছ প্রকৃতির হয়। 
- একে সাদা মাটিও বলা হয়। 
- এটি সিরামিক শিল্প, টেবিলওয়্যার (চায়ের সেট), স্যানিটারি ওয়্যার (টয়লেট), এবং কাগজ শিল্পে ফিলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রথম ১৯৫৭ সালে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়।
- এটি দেশের সবচেয়ে বড় চীনামাটি বা সাদামাটির খনি অবস্থিত।
- এছাড়া শেরপুরের নালিতাবাড়ী, চট্টগ্রামের হাইদগাঁও ও সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জত এবং দিনাজপুরের মধ্যপাড়া, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা ও ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।

১৮৮.
নিউমাটোফোরের পৃষ্ঠে ছোট ছোট ছিদ্রকে কী বলা হয়?
  1. স্টোমাটা
  2. রাইজোম
  3. ভ্যাকুয়োল
  4. লেন্টিসেল
ব্যাখ্যা

• নিউমাটোফোর:
- নিউমাটোফোর হলো জলজ বা হাইড্রোফাইট উদ্ভিদের একটি বিশেষ ধরনের মূল।
- এটি হলো মূলত “শ্বাস নেওয়ার মূল,” যা জলজ উদ্ভিদের জন্য জীবনরক্ষাকারী। 
- এ ধরনের মূলকে শ্বাসমূল বা বায়বীয় মূলও বলা হয়। 
- এই মূলগুলো জলের পৃষ্ঠের উপরে উঠে আসে, কারণ মাটির নিচে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম থাকে।
- নিউমাটোফোরের মাধ্যমে উদ্ভিদ বাতাস থেকে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে।
- যা শিকড়কে সুস্থ রাখে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি বজায় রাখে।
- নিউমাটোফোরের পৃষ্ঠে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, যেগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়। 
- লেন্টিসেল গ্যাসের আদান-প্রদান সহজ করে।
- এই মূলগুলো প্রধানত সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত বা কাদা মাটিতে বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়াও, নিউমাটোফোর নাইট্রোজেনের মতো গ্যাস এবং লোহার মতো পুষ্টি শোষণে সহায়ক।

উৎস: Britannica. 

১৮৯.
ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, কোন দেশে সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. রাশিয়া
  2. কানাডা
  3. ব্রাজিল
  4. নাইজেরিয়া
ব্যাখ্যা

বনভূমি:
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন হেক্টর এলাকায় বনভূমি রয়েছে। 
- পৃথিবীর মোট বনভূমির বেশির ভাগ নির্দিষ্ট কিছু দেশে অবস্থিত। 
- ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে।
- দেশটিতে ৮১ কোটি ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর বনভূমি রয়েছে।
- বিশ্বের মোট বনভূমির ২০ দশমিক ৪১ শতাংশই রাশিয়ায়।
- দেশটির বনভূমির বড় অংশ রয়েছে ফার ইস্টার্ন ফেডারেল অঞ্চলে।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সাইবেরিয়ান ফেডারেল অঞ্চল।
- এসব এলাকার বেশির ভাগ গাছই লার্চ, পাইন ও স্প্রুস জাতের।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [Link]

১৯০.
'সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান' কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর
  2. টাঙ্গাইল
  3. হবিগঞ্জ
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান:
- এই উদ্যান হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থিত।
- উদ্যানের কাছাকাছি ৯টি চা বাগান আছে। উদ্যানের পশ্চিম দিকে সাতছড়ি চা বাগান এবং পূর্ব দিকে চাকলাপুঞ্জি চা বাগান অবস্থিত।
- এই ক্রান্তীয় ও মিশ্র চিরহরিৎ পাহাড়ী বনভূমি ভারতীয় উপমহাদেশ এবং উন্দো-চীন অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থিত।সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রয়েছে প্রায় ২০০’রও বেশি গাছপালা।
- এর মধ্যে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, সিধাজারুল, আওয়াল, মালেকাস, ইউক্যালিপটাস,আকাশমনি, বাঁশ, বেত-গাছ ইত্যাদির বিশেষ নাম করা যায়।
- সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভিতর সাতটি ছড়া বা ঝর্না আছে যেখান থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি। 

জীববৈচিত্র্য:
- এ উদ্যানে ১৯৭ প্রজাতির জীব-জন্তু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরিসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর। আরো আছে প্রায় ১৫০-২০০প্রজাতির পাখি। এটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পাখিদের একটি অভয়াশ্রম। বনে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক (Gibbon), চশমা পরা হনুমান (Langur), কুলু বানর (Macaque), মেছো বাঘ, মায়া হরিণ (Barking Deer) ইত্যাদি; সরিসৃপের মধ্যে সাপ; পাখির মধ্যে কাও ধনেশ, বনমোরগ, লালমাথা ট্রগন, কাঠঠোকরার, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলুদ পাখি, টিয়া প্রভৃতির আবাস রয়েছে। এছাড়া গাছে গাছে আশ্রয় নিয়েছে অগণিত পোকামাকড়, ঝিঁঝিঁ পোকা তাদের অন্যতম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৯১.
বাংলাদেশের কোথায় প্লায়িস্টোসিন কালের সােপান দেখা যায়?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) কুষ্টিয়া
  3. গ) বগুড়া
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো:
- রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলায় অবস্থিত মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
- কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়।
- দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১৯২.
কোন শিলাকে প্রাথমিক শিলা বলা হয়?
  1. আগ্নেয় শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. রুপান্তরিত শিলা
  4. স্তরীভূত শিলা
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় শিলা:
- পৃ্থিবীর শুরু থেকে যে সব শিলা উত্তপ্ত গলিত অবস্থা হতে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কঠিন হয়েছে তাই আগ্নেয় শিলা।
- অগ্নিময় অবস্থা হতে এ শিলার সৃষ্টি হয়েছিল বলে একে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলার অন্য নাম প্রাথমিক শিলা বা অস্তরীভূত শিলা।
- আগ্নেয় শিলা স্ফটিকার, অপেক্ষাকৃত ভারী, কঠিন ও কম ভঙ্গুর।
- এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না।
- আগ্নেয় শিলার উদাহরণ- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, সায়েনাইট, ডায়োরাইট, পরফাইরি, টাফ, ব্রেসিয়া, রায়োলাইট, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডেসাইট, ব্যাথোলিথ, ল্যাকোলিথ, ডাইক, সিল ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৩.
কোনটি ভঙ্গিল পর্বত?
  1. আল্পস পর্বত
  2. ফুজিয়ামা পর্বত
  3. বিন্ধ্যা পর্বত
  4. কিলিমানজারো পর্বত
ব্যাখ্যা
আল্পস পর্বত:
- আল্পস পর্বত ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি একটি বিস্তৃত পর্বতমালা যা দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে অবস্থিত।
- অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, লিচেনস্টাইন, মোনাকো, স্লোভেনিয়া এবং সুইজারল্যান্ড নামে আটটি আল্পাইন দেশ জুড়ে রয়েছে এই পর্বতমালা।

উল্লেখ্য,
- আল্পস এক ধরনের ভঙ্গিল পর্বত।
- আল্পস পর্বতমালাকে তিনটি বিস্তৃত ভাগে ভাগ করা যায়: পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম আল্পস।
- এটি একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণী এবং বিভিন্ন উচ্চতা এবং গভীরতার অসংখ্য চূড়া এবং উপত্যকা নিয়ে গঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনে অবস্থিত ২২.৬ কিমি দীর্ঘ আলেচ হিমবাহটি আল্পসের বৃহত্তম হিমবাহ।
- এই পর্বতমালা দক্ষিণ ফ্রান্সের মোনাকোর কাছে ভূমধ্যসাগরের উত্তর থেকে সুইজারল্যান্ড, তারপর উত্তর ইতালি হয়ে দক্ষিণ জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
- আল্পস পর্বতশ্রেণি আলবেনিয়ায় রুক্ষ অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে শেষ হয়েছে।

⇒ ভঙ্গিল পর্বত:
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
-যেমন: এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

অন্যদিকে,
- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যূতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।
- আগ্নেয় পর্বত- জাপানের ফুজিয়ামা, হাওয়াই দ্বীপের মওনালোয়া, ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো ইত্যাদি।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৪.
'জাদিপাই' জলপ্রপাত অবস্থিত-
  1. ক) রাঙামাটিতে
  2. খ) কক্সবাজারে
  3. গ) খাগড়াছড়িতে
  4. ঘ) বান্দরবানে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রশস্ততম জলপ্রপাতগুলোর একটি হলো জাদিপাই। এটি বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত।
- বাংলদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে নাফাখুম অন্যতম। থানচি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা রেমাক্রিতে পাহাড় ও বনের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা সাঙ্গু নদীতে অবস্থান নাফাখুমের।
- শৈলপ্রপাত জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
- খাগড়াছড়ির অন্যতম সৌন্দর্য ‘রিছাং ঝর্ণা’।
- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- হিমছড়ি জলপ্রপাত কক্সবাজারে অবস্থিত।
- হামহাম, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।

উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
১৯৫.
পৃথিবীর উপরের কঠিন আবরণকে বলে -
  1. ক) শিলা
  2. খ) ভূ-ত্বক
  3. গ) খনিজ
  4. ঘ) তলদেশ
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর উপরের কঠিন আবরণকে ভূ-ত্বক বলে।
- এটি অশ্মমন্ডলের উপরিভাগ।
- এ স্তরের গড় পুরুত্ব ২০ কি. মি. হলেও মহাদেশের তলদেশে এর পুরত্ব সবচেয়ে বেশি।
- গড়ে ৩৫ কি.মি এবং সমুদ্র তলদেশে তা সর্বনিন্মে গড়ে ৫ কি.মি. (চিত্র : ২.২.১)।
- ভূ-ত্বকের ঘনত্ব হলো ২.৯ থেকে ৩.৩ গ্রাম সে.মি.।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের ওপরে ভূ-ত্বকের যে অংশ অবস্থিত তাকে স্থলভাগ বলে।
- স্থল ভাগের অনেক নিচে এবং সমুদ্র তলদেশেরও কিছুদূর পর্যন্ত ভূ-ত্বক বিস্তৃত।
- ভূ-ত্বক নানা প্রকার শিলা ও খনিজ উপাদানে গঠিত।

সূত্র: ভূমিরূপ বিদ্যা, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৯৬.
আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. সাভানা
  2. তুন্দ্রা
  3. প্রেইরি
  4. সাহেল
ব্যাখ্যা
সাহেল: 

• সাহেল অঞ্চলটি আফ্রিকার একটি বিশাল এলাকা যা আটলান্টিক উপকূল থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত।
• আফ্রিকার দক্ষিণে সাভানা তৃণভূমি অঞ্চল এবং উত্তরে সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী অঞ্চল সাহেল নামে পরিচিত।
• এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত দেশ হলো ১০টি। যথা:
- সেনেগাল
- মৌরিতানিয়া
- নাইজার
- মালি
- শাদ
- সুদান
- ইরিত্রিয়া
- নাইজেরিয়া
- বুরকিনা ফাসো

অপরদিকে,
- উত্তর আমেরিকার মধ্য অক্ষাংশের অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত তৃণভূমিকে প্রেইরি বলে।
- আর সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তের মধ্যবর্তী অঞ্চল যা প্রায় সারা বছর বরফাচ্ছন্ন থাকে তাকে তুন্দ্রা অঞ্চল বলে। 
- সাভানা হলো আফ্রিকার ঘানা, সুদান ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের তৃণভূমি অঞ্চল। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস। 
১৯৭.
নিম্নের কোথায় ল্যানোস ও প্যাম্পাস তৃণভূমি দেখা যায়?
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. পূর্ব ইউরোপ 
  3. দক্ষিণ আমেরিকা
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা

তৃণভূমি:
- ল্যানোস ও প্যাম্পাস হলো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত দুটো তৃণভূমির নাম।
- তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি। সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।

পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:
- প্রেইরি উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- সাভানা আফ্রিকায় অবস্থিত।
- স্টেপ পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

১৯৮.
ম্যাগমা বা গলিত শিলা ভূ-পৃষ্ঠে অথবা ভূগর্ভে ঠান্ডা হয়ে কঠিন রূপ লাভ করলে তাকে বলা হয়-
  1. ক) স্তরীভূত শিলা
  2. খ) আগ্নেয় শিলা
  3. গ) পাললিক শিলা
  4. ঘ) রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
ম্যাগমা বা গলিত শিলা ভূ-পৃষ্ঠে অথবা ভূগর্ভে ঠান্ডা হয়ে কঠিন রূপ লাভ করলে তাকে আগ্নেয় শিলা বলা হয়। গ্রানাইট, পেগমাটাইট, গ্রানোডায়োরাইট, টোনালাইট, ডায়োরাইট, ডলেরাইট, গ্যাব্রো প্রভৃতি বাংলাদেশের কয়েকটি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯৯.
ভূ-অভ্যন্তরস্থ কোন স্তরটি অত্যধিক তাপ ও চাপে আঠালো অবস্থায় রয়েছে?
  1. গুরুমণ্ডল
  2. অন্তঃস্থ কেন্দ্রমণ্ডল
  3. বহিঃ কেন্দ্রমণ্ডল
  4. অশ্মমণ্ডল
ব্যাখ্যা
• গুরুমণ্ডল (Mantle):
- অশ্মমণ্ডলের অব্যবহিত পর থেকে ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ২,৮৮৫ কি.মি. পর্যন্ত পুরুত্ব বিশিষ্ট স্তরটিকে গুরুমণ্ডল বলে।
- এই স্তরটির গাঠনিক উপাদানগুলো হলো-সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ।
- অত্যধিক তাপ ও চাপে গুরুমণ্ডলের উপাদানগুলো কঠিন ও তরলের মাঝামাঝি আঠালো অবস্থায় রয়েছে।

- গুরুমণ্ডলের প্রধান স্তর দুইটি হলো-
→ (ক) লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা তৈরি উর্ধ্ব গুরুমণ্ডল (৭০০ কি.মি. বিস্তৃত) এবং
→ (খ) আয়রন অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ও সিলিকন অক্সাইড সমৃদ্ধ নিম্ন গুরুমন্ডল। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০.
খাইবার গিরিপথ কোন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সামরিক সংযোগের জন্য প্রাচীনকাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ?
  1. পাকিস্তান ও ভারত
  2. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  3. সুইজারল্যান্ড ও বুলগেরিয়া
  4. সুইজারল্যান্ড ও ইতালি
ব্যাখ্যা

খাইবার গিরিপথ:
- গিরিপথ হলো পাহাড়ি অঞ্চলে পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী সংকীর্ণ ও অনুচ্চ পথ।
- খাইবার গিরিপথ অবস্থিত পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে।
- এটি উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র মহাসড়ক সালান গিরিপথ দ্বারা সংযুক্ত। 
- খাইবার গিরিপথ হিন্দু কুশ পর্বতমালার অংশ এবং একসময় সিল্ক রোডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
- এটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ারকে আফগানিস্তানের কাবুলের সঙ্গে যুক্ত করে। 
- খাইবার গিরিপথ হাজার বছরের মধ্যে পারস্য, চীন ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যিক রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এবং আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, চেঙ্গিস খান ও বিভিন্ন মুঘল শাসকের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত ছিল।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে গিরিপথটি সামরিক চোক পয়েন্ট ও খাইবার রেলওয়ের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
- বর্তমানেও এটি পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের অন্যতম প্রধান ক্রসিং, যেখানে তোর্খাম (Torkham) পয়েন্ট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- পর্যটকদের জন্য এখানে বাব-ই-খাইবার (খাইবার গেট) একটি সুপরিচিত দর্শনীয় স্থান।
--------------------------
• অন্যান্য পরিচিত কিছু গিরিপথ-
- গ্রেট সেন্ট বার্নার্ড (সুইজারল্যান্ড),
- সিম্পলন (সুইজারল্যান্ড ও ইতালি),
- সেন্ট গোথার্ড (সুইজারল্যান্ড),
- ব্রেনার (সুইজারল্যান্ড),
- শিপকা (বুলগেরিয়া)। 

উৎস: Britannica.