বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন৮৯৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৮৯৯

.
কন্যাকুমারী অন্তরীপ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) পর্তুগাল
  2. খ) ভারত
  3. গ) শ্রীলঙ্কা
  4. ঘ) দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
- কন্যাকুমারী অন্তরীপ ভারতের তামিলনাড়ুর নিকট ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- গার্দাফুই অন্তরীপ আরব সাগরে অবস্থিত।
- উত্তমাশা অন্তরীপ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের নিকট দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- চার্চিল অন্তরীপ কানাডার নিকট হাডসন উপসাগরে অবস্থিত।
.
‘এডেন’ সমুদ্রবন্দর কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ইরান
  2. খ) ইয়েমেন
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) ইটালি
ব্যাখ্যা
এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এডেন ইয়েমেনের প্রধান সমুদ্রবন্দর। অবস্থানগত কারণে এডেন বন্দর পরাশক্তিগুলোর নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সিংহভাগ তেলবাহী জাহাজ এই রুটেই চলাচল করে। যার কারণে ইয়েমেনে চলামান গৃহযুদ্ধের অন্যতম নিয়ামক হলো এডেন বন্দরের নিয়ন্ত্রণ।
(সূত্র: এনাসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং আল জাজিরা)
.
দিনাজপুর জেলায় বড়পুকুরিয়ায় কিসের খনি প্রকল্প কাজ চলছে?
  1. ক) কঠিন শিলা
  2. খ) কয়লা
  3. গ) চুনাপাথর
  4. ঘ) সাদামাটি
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উত্তোলনযোগ্য মজুত ৬৪ মিলিয়ন টন এবং বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ মিলিয়ন টন।

- বাংলাদেশে প্রথম ১৯৮৫ সালে দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়াতে কয়লা খনির সন্ধান পাওয়া যায়।
- ১৯৮৯ সালে রংপুর জেলার খালাশপীর নামক স্থানে এবং
- ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের দীঘিপাড়াতে পার্মিয়ান যুগের গন্ডোয়ানা কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কার করে।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
.
পৃথিবীর মোট আয়তনের শতকরা কতভাগ বনাঞ্চল?
  1. ক) ৩৭.৮০ শতাংশ
  2. খ) ৩০.৬০ শতাংশ
  3. গ) ২৫.৫০ শতাংশ
  4. ঘ) ১৯.৫০ শতাংশ
ব্যাখ্যা

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে বনভূমির পরিমাণ ৩০.৬ শতাংশ।
১৯৯০ সালে এর পরিমাণ ছিলো ৩১.৬ শতাংশ যা ২০১০ সালে ৩০.৮ শতাংশে হ্রাস পায়।
এককভাবে সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে রাশিয়ায় (প্রায় ৮১.৫ লক্ষ বর্গ কিমি)।
সূত্রঃ FAO ওয়েবসাইট।

.
বাংলাদেশের কোন জেলায় প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে?
  1. নেত্রকোনা
  2. শেরপুর
  3. কুমিল্লা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
চীনামাটি:
- চীনামাটি কেওলিন কর্দম মণিক দ্বারা গঠিত উন্নতমানের কর্দম; প্রধানত সিরামিক শিল্পে ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে গৃহস্থালি সামগ্রী হিসেবে চীনামাটির তৈরী তৈজসপত্রের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
- এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালে বর্তমান নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত ভেদিকুরা নামক স্থানে প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির পাহাড়সমূহ কোন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. প্লাইস্টোসিন যুগের পাহাড়
  3. সাম্প্রতিক কালের পাহাড়
  4. উপকূলীয় অঞ্চলের পাহাড়
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- এ অঞ্চলের পাহাড়সমূহ কৃষিকাজের জন্য উপযোগী নয়।
- তবে স্থানীয় অধিবাসীগণ সীমিত পরিসরে জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকেন।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
- এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমণ্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) আয়নমন্ডল
ব্যাখ্যা
• আয়নমন্ডল মূলত মেসোমন্ডলের ঊর্ধ্বাংশ থেকে তাপমন্ডলের নিম্নাংশ (৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
আয়নমন্ডলে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে।

অন্যদিকে, 
• বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির, কুয়াশা ইত্যাদি সকল কিছুই ট্রপোমণ্ডলে সংঘটিত হয়।
• স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
• ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে?
  1. গেওয়া
  2. গরান
  3. গর্জন
  4. কেওড়া
ব্যাখ্যা
শিল্প উন্নয়নে বনভূমির গুরুত্ব:
কাগজ শিল্প:
- রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।

নিউজপ্রিন্ট কারখানা:
- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর ভিত্তি করে খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি গড়ে উঠেছে।

দিয়াশলাই শিল্প:
- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে।
- এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

রেয়ন শিল্প:
- চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

পরিবহন শিল্প:
- বনভূমি থেকে প্রাপ্ত গর্জন, সেগুন, চাপালিশ, প্রভৃতি গাছের কাঠ রেলথের স্লিপার, রেলগাড়ির বগি, লঞ্চ, স্টিমার, নৌকা, বাস ও ট্রাকের বডি, বৈদ্যুতিক খুঁটি, রাস্তার পুল ইত্যাদি তৈরি করতে প্রয়োজন।

ভেষজ শিল্প:
- বনের গাছ-গাছড়া, লতাপাতা, মধু, প্রভৃতির উপর নির্ভর করে ভেষজ শিল্প গড়ে উঠেছে।

চামড়া শিল্প:
- সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া বাঘ, হরিণ, গুইসাপ, অজগর সাপ প্রভৃতি প্রাণীর চামড়াও শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মেক্সিকো
  2. খ) জাপান
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
- ভিসুভিয়াস পর্বত (ইতালীয়: Monte Vesuvio, লাতিন ভাষায়: Mons Vesuvius) ইতালির নেপলস উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি আগ্নেয়গিরি।
- নেপলস থেকে ৯ কিলোমিটার পূর্বে সমুদ্রউপকূলের খুব কাছে এর অবস্থান।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা
১০.
নিচের কোনটি সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা নয়?
  1. খুলনা
  2. বাগেরহাট
  3. পিরোজপুর
  4. সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত প্রশ্নে পিরোজপুর সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা নয়।

সুন্দরবন:

- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি। 
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য, 
[সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি নাকি ৫টি এই বিষয়ে মতানৈক্য আছে, সকল উৎস বিবেচনায় ৩টি জেলাকে অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তবে অপশনে ৩ না থাকলে ৫ উত্তর করবেন। বিস্তারিত জানতে তথ্যকল্পদ্রুম এর ২৩ নং পোস্ট দেখুন।] 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি ও বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
১১.
নিচের কোনটি উঁচু উচ্চতার মেঘ?
  1. ক) স্ট্রেটাস
  2. খ) সিরাস
  3. গ) কিউম্যুলাস
  4. ঘ) নিম্বাস
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
১২.
খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল কোন ধরনের প্লাবন সমভূমি?
  1. ক) পাদদেশীয় সমভূমি
  2. খ) স্রোতজ সমভূমি
  3. গ) ব-দ্বীপ সমভূমি
  4. ঘ) উপকূলীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলের বন্যা প্রবণ প্লাবন সমভূমি।
ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৩.
ষাট গম্বুজ মসজিদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) যশোর
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাগেরহাট জেলায় খান জাহান আলী বাংলাদেশের মধ্যযুগের সবচেয়ে বড় মসজিদ ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নির্মাণ করেন। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৪.
আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান -
  1. ক) খনিজ
  2. খ) লবণ
  3. গ) ম্যাগমা
  4. ঘ) আগুন
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় শিলা:
- আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান ম্যাগমা।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় উত্তপ্ত গলিত পদার্থ ভূ-অভ্যন্তরের গভীর তলদেশ থেকে (প্রায় ২০০ কি.মি.) ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরেই জমাটবদ্ধ হয় যা ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- এই ম্যাগমা যখন ভূ-ত্বকের গভীর থেকে ফাঁটল বরাবর সজোরে ভূ-পৃষ্ঠে উঠে এসে প্রবাহিত হয় তখন তাকে লাভা বলে।

• আগ্নেয় শিলা সৃষ্টির প্রথমে পৃথিবী উত্তপ্ত গ্যাসীয়পিন্ড ছিল। এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরো তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

• অভ্যন্তরে উত্তপ্ত ম্যাগমা শীতল ও কেলাসিত হয়ে আগ্নেয় শিলা গঠিত হয়।
- অগ্নিময় অবস্থা থেকে এই শিলার সৃষ্টি বলে একে আগ্নেয় শিলা বলা হয়।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ের শিলা বলে একে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই এই শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা।
- এই শিলায় কোনো জীবাশ্ম নেই।

- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূ-ত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে।
- এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
প্রেইরি কোন অঞ্চলের তৃণভূমি?
  1. ক) পূর্ব ইউরোপ
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) দক্ষিণ আমেরিকা
  4. ঘ) উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
• তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি। সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।
পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:
প্রেইরি (উত্তর আমেরিকা)
• প্যাম্পাস ও ল্যানোস (দক্ষিণ আমেরিকা)
• সাভানা (আফ্রিকা)
• স্তেপ (পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া) প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা। 
১৬.
কোন জেলাকে হাওরের মা বলা হয়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) কিশোরগঞ্জ
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি জেলা নিয়ে বাংলাদেশের হাওর বেসিন বা হাওরাঞ্চল গঠিত। এই হাওরাঞ্চল এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তম। সুনামগঞ্জ জেলাকে এই হাওরাঞ্চলের মা বলা হয়।
- সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ৯৫টি হাওর রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো টাঙ্গুয়ার হাওর।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
১৭.
প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে কোনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র? [অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪]
  1. বিবিয়ানা
  2. বাখরাবাদ
  3. হরিপুর
  4. তিতাস
ব্যাখ্যা
গ্যাসক্ষেত্র:
- উত্তোলনযোগ্য, প্রমাণিত ও সম্ভাব্য (2P) গ্যাসের মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস। এর উত্তোলনের পরিমাণ ৬৩৬৭ বিলিয়ন ঘনফুট। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত।
- দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা। এর উত্তোলনের পরিমাণ ৫৮১৮.৩ বিলিয়ন ঘনফুট। এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

⇒ প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা। প্রাথমিক মোট মজুদ পরিমাণ – ৮৩৫০.০ বিলিয়ন ঘনফুট। এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস। এর পরিমাণ ৮১৪৮.৯ বিলিয়ন ঘনফুট।

⇒ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বোচ্চ ব্যবহারের কয়েকটি খাত হচ্ছে –
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার – ৩৮৯.৪ বিলিয়ন ঘনফুট (৪২.০০%)। [ব্যবহারের দিক থেকে এই খাতে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহৃত হয়।]
- শিল্পখাতে ব্যবহার – ১৭৮.৮ বিলিয়ন ঘনফুট (১৯.০০%) [দ্বিতীয়]
- ক্যাপটিভ – ১৬৪.৩ বিলিয়ন ঘনফুট (১৮%) [তৃতীয়]
- গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার – ১০০.৬ বিলিয়ন ঘনফুট। (১১.০০%)।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১৮.
'ভেঙ্গী ভ্যালী' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) বান্দরবন
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
- কাপ্তাই থেকে প্লাবিত উপত্যকা বা ভ্যালি ভেঙ্গি ভ্যালি নামে পরিচিত। এটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- হালদা ভ্যালি : খাগড়াছড়ি
- সাজেক ভ্যালি : রাঙামাটি
- বালিশিরা ভ্যালি : মৌলভীবাজার।
- সাঙ্গু ভ্যালি - চট্টগ্রাম
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।
১৯.
বাংলাদেশে 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করেছিল - 
  1. যুক্তরাজ্য
  2. রাশিয়া
  3. ভারত
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে এবং এসময় বাংলাদেশে মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা।
২০.
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে যে দেশে -
  1. আফগানিস্তান
  2. ভুটান
  3. তাজিকিস্তান
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
সবচেয়ে বেশি পাহাড় আছে যে দেশে:
- পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি অঞ্চল ভুটানে।
- এর ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ পাহাড়ে আবৃত।
- তিব্বত ও ভারতের মধ্যে স্থলবেষ্টিত এই দেশ।
- পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশটি ‘ল্যান্ড অফ দ্য থান্ডার ড্রাগন’ নামেও পরিচিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০,৭৬০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই দেশ।
- ভুটান বিশ্বের প্রথম কার্বন-নেতিবাচক দেশ হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ২য় স্থানে রয়েছে তাজিকিস্তান (৯১.৯%)।
- ২য় স্থানে রয়েছে কিরগিজস্তান (৯০.৭%)।

উৎস: Worldatlas.
২১.
বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলোকে কতটি ভাগে ভাগ করা করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলের উপাদান:
- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।
- বায়ুমন্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%।
- অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমন্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমন্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমন্ডল (Heterosphere) বলে।

• বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা করা যায়। যথা-
ক. গ্যাসীয় উপাদান (Composition of Gases):
খ. জলীয়বাষ্প (Water Vapour):
গ. ধূলিকণা (Dust):



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্র কোন অংশে অবস্থিত?
  1. উত্তরাংশে
  2. দক্ষিণাংশে
  3. পূর্বাংশে
  4. পশ্চিমাংশে
ব্যাখ্যা
দেশে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলি হচ্ছে সিলেট, ছাতক, তিতাস, রশিদপুর, কৈলাশটিলা, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, সেমুতাং, কুতুবদিয়া, বেগমগঞ্জ, কামতা, ফেনী, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জালালাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা, শাহবাজপুর, সালদানদী, সাংগু, বিবিয়ানা ও মৌলভীবাজার।
অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের পূর্বাংশের ইন্দোবার্মা ভাঁজুসমূহের সন্নিকটস্থ স্থলভাগে অবস্থিত।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
২৩.
বাংলাদেশের লাগা উত্তরে অবস্থিত-
  1. ক) নেপাল ও ভুটান
  2. খ) পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম
  3. গ) পশ্চিমবঙ্গ ও কুচবিহার
  4. ঘ) পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম;
- পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, ও মিজোরাম এবং মায়ানমার;
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং
- পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই।
২৪.
বাংলাদেশের কোন পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়?
  1. ক) লালমাই পাহাড়
  2. খ) হাড়গাছা পাহাড়
  3. গ) ফুরমোন পাহাড়
  4. ঘ) সাকা হাফং পাহাড়
ব্যাখ্যা
- মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়।
- ইউরেনিয়াম আকরিক প্রধানত পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে জন্য ইউরেনিয়াম আকরিক কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়
- বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বির্স্তীণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয় বালু পাওয়া যায়।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, ভূগোল দ্বিতীয় পত্র; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৫.
বাংলাদেশের প্রথম EPZ কোথায় গড়ে উঠেছে?
  1. ক) নারায়ণগঞ্জ
  2. খ) খুলনা
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) সাভার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম EPZ চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়। বাংলাদেশের আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের মধ্যে প্রথম ও প্রধান এই ইপিজেডটি ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংসদে পাশ হওয়া আইনবলে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

২৬.
দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
• মকরক্রান্তি রেখা:
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• আন্তর্জাতিক তারিখরেখা:
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয়।

• নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে সমভাবে দুইভাগে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটি নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা নামে অভিহিত।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শ্রেণি-
  1. ক) আন্দিজ
  2. খ) রকি
  3. গ) হিমালয়
  4. ঘ) আল্পস
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শ্রেণি হিমালয় পর্বত। এটি এশিয়ার চীন, নেপাল, ভারত, ভুটান, পাকিস্তানে অবস্থিত।
- পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বত শ্রেণি আন্দিজ পর্বত। এটি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
- রকি পর্বত শ্রেণি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- আল্পস পর্বত শ্রেণি ইউরোপের অস্ট্রিয়া, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২৮.
‘হিমশৈল’ কী?
  1. পর্বতের চূড়ায় জমাট বাঁধা বরফ
  2. অ্যান্টার্কটিকায় জমাট বাঁধা বরফ
  3. সমুদ্রস্রোতে ভেসে আসা বিশাল বরফখণ্ড
  4. মেরু অঞ্চলে জমে থাকা স্থায়ী বরফের স্তর
ব্যাখ্যা

হিমশৈল:
- হিমশৈলকে ইংরেজিতে 'Iceberg' বলা হয়। Iceberg শব্দটি পর্তুগিজ শব্দ ‘ijsberg’ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যার অর্থ হল বরফের পর্বত।
- সমুদ্রের স্রোত ও তরঙ্গের আঘাতে মহাদেশীয় হিমবাহ থেকে বিশাল বরফের স্তুপ আলাদা হয়ে সমুদ্র জলে ভাসতে থাকে।
- সমুদ্র জলে ভাসমান এই পাহাড়ের মতো বিশাল আকৃতির বরফের স্তুপকে হিমশৈল বলে।
- শীতল সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে যেসব হিমশৈল (Iceberg) ভেসে আসে সেগুলোর কারণে জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়।
- অনেক সময় হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে।
- যেমন- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ১৯১২ সালে প্রথম যাত্রাতেই হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯.
বাংলাদেশে জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুযায়ী সম্প্রতি কোন জেলায় লোহার খনি পাওয়া গেছে?
  1. ফরিদপুর
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম লোহার খনি:
- দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান মিলেছে।
- উপজেলার ইসবপুর গ্রামে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এ খনির সন্ধান পেয়েছে।
- জিএসবি জানিয়েছে, খনিটিতে উন্নত মানের লোহার আকরিক (ম্যাগনেটাইট) রয়েছে।
- লোহার পাশাপাশি খনিটিতে মূল্যবান কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান জিএসবি কর্মকর্তারা।
- ভূগর্ভের ১ হাজার ৩০০ ফুট থেকে ১ হাজার ৬৫০ ফুটের মধ্যে লোহার একটি স্তর পাওয়া গেছে।
- খনিটির আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার।
- খনিতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন লোহাসহ মূল্যবান পদার্থ রয়েছে।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম লোহার খনি।

উৎস: ১৮ জুন ২০১৯, প্রথম আলো।
৩০.
সেন্টমার্টিন দ্বীপ এর অপর নাম কি?
  1. ক) সোনাদিয়া
  2. খ) নিঝুমদ্বীপ
  3. গ) কুতুবদিয়া
  4. ঘ) নারিকেল জিঞ্জিরা
ব্যাখ্যা

• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।

৩১.
বন অধিদপ্তর অনুযায়ী, কোনটি বাংলাদেশের রক্ষিত এলাকা?
  1. ভাউয়াল জাতীয় উদ্যান
  2. চাঁদপাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
  3. বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
রক্ষিত এলাকা:
- দেশে বর্তমানে রক্ষিত এলাকার সংখ্যা (Terrestrial & Marine) ৫৩টি এবং পরিমাণ ৮,১৭,৯৭১.৬১৩ হেক্টর।
- এর মধ্যে Terrestrial রক্ষিত এলাকার পরিমাণ ৪,৬৯,৮৭১.৬১৩ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের ৩.১৮ শতাংশ।

⇒ বন অধিদপ্তরের রক্ষিত এলাকার তালিকা:
- ভাউয়াল জাতীয় উদ্যান, মধুপুর জাতীয় উদ্যান, রামসাগর জাতীয় উদ্যান, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান, লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান, মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান, কাদিগর জাতীয় উদ্যান, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান, সিংড়া জাতীয় উদ্যান, আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান, বিরগঞ্জ জাতীয় উদ্যান, রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, চর কুকরি-মুকরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ফাসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সোনারচর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ঢাংমারী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, চাঁদপাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, দুধমুখি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, নগরবাড়ী-মোহনগঞ্জ ডলফিন অভয়ারণ্য, শিলন্দা-নাগডেমরা ডলফিন অভয়ারণ্য, নাজিরগঞ্জ ডলফিন অভয়ারণ্য, সুন্দরবন (পূর্ব) বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সুন্দরবন (পশ্চিম) বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সুন্দরবন (দক্ষিণ) বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া, চরমুগুরিয়া ইকোপার্ক, রাতারগুল বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা, আলতাদীঘি জলাশয় বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, মিরপুর,টিলাগড় ইকোপার্ক ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র, মাধবকুন্ড ইকোপার্ক, শেখ জামাল ইনানী জাতীয় উদ্যান, পানখালী বন্যপ্রাণী (ডলফিন) অভয়ারণ্য, শিবসা বন্যপ্রাণী (ডলফিন) অভয়ারণ্য, ভদ্রা বন্যপ্রাণী (ডলফিন) অভয়ারণ্য, পদ্মা সেতু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ধর্মপুর জাতীয় উদ্যান, সেন্টমার্টিন মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া, বাইশারী ব্যাংডেপা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, মধুটিলা ইকোপার্ক।

উৎস: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩২.
বাংলাদেশের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কী ধরণের বনভূমি? 
  1. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা-চিরহরিৎ জাতীয়
  2. ক্রান্তীয় আর্দ্র পত্র পতনশীল জাতীয়
  3. পত্র পতনশীল জাতীয়
  4. ম্যানগ্রোভ জাতীয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনভূমি:
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

⇔ ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ জাতীয় বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৩.
‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মেঘনার মােহনায়
  2. খ) পদ্মা এবং যমুনার সংযােগস্থলে
  3. গ) টেকনাফের দক্ষিণে
  4. ঘ) সুন্দরবনের দক্ষিণে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু দ্বীপ: 
- বঙ্গবন্ধু দ্বীপ (যা পুটুনির দ্বীপ নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার সুন্দরবনের অংশ 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
- ১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী।
- এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
- পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
- এ দ্বীপের বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটারের মতো।
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই মিটার উঁচু দ্বীপটি । 

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো।
৩৪.
'চর মানিক' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী
  2. ভোলা
  3. ফেনী
  4. রাজশাহী 
ব্যাখ্যা

চর:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে যে জেগে উঠা নতুন ভূখণ্ড, তাকে চর বলা হয়।
- চর সাধারণত নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয় এবং নতুন কৃষি, বসতি ও পরিবেশগত অঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

• ভোলা জেলায় অবস্থিত চর:
- চর ফ্যাশন।
- চর মানিক।
- চর কুকড়ি মুকড়ি।

• নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত চর:
- ভাসান চর।
- সুবর্ণ চর।

উল্লেখ্য, 
- ফেনী জেলায় অবস্থিত চর: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলায় অবস্থিত চর: নির্মল চর।
- সুন্দরবনে অবস্থিত চর: দুবলার চর ও পাটনি চর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৫.
 মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. শ্রীমঙ্গল উপজেলায়
  2. বড়লখো উপজেলায়
  3. কমলগঞ্জ উপজেলায়
  4. রাজনগর উপজেলায়
ব্যাখ্যা

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত: 
- মৌলভীবাজার জেলার বড়লখো উপজলোয় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত।
- প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝর্নার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য নয়নাভিরাম।
- প্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস।
- তাছাড়া এ মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সংলগ্ন কুন্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বারুনী স্নান হয় এবং মেলা বসে।
- হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এটি একটি তীর্থ স্থান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ান।

৩৬.
ক্যাম্পস (Campos) কোন ধরনের ভূ-প্রকৃতি?
  1. তৃণভূমি
  2. মরুভূমি
  3. বনভূমি
  4. পাহাড়ি অঞ্চল
ব্যাখ্যা

ক্যাম্পস (Campos) তৃণভূমি:
- ক্যাম্পোস হলো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের একটি ক্রান্তীয় সাভানা তৃণভূমি অঞ্চল। 
- এর অবস্থান প্রধানত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনা।
- এটি একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় বা ক্রান্তীয় সাভানা তৃণভূমি।
- এই অঞ্চলে বিস্তীর্ণ ঘাসের মাঠ, গুল্ম এবং কিছু গাছপালা দেখা যায়, যা বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল।
- ক্যাম্পস তৃণভূমি কৃষি ও পশুচারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি বন বাস্তুতন্ত্রের তুলনায় বেশি বৈচিত্র্যময় এবং প্রায়শই পাম্পাস (Pampas) তৃণভূমির সাথে সংলগ্ন।

উৎস: Britannica.

৩৭.
পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ভূ-অভ্যন্তরের দিকে পৃথিবীর স্তরগুলো যথাক্রমে-
  1. কেন্দ্রমন্ডল, গুরুমন্ডল ও অশ্মমন্ডল
  2. কেন্দ্রমন্ডল, অশ্মমন্ডল ও গুরুমন্ডল
  3. গুরুমন্ডল, অশ্মমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডল
  4. অশ্মমন্ডল, গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডল
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্তর: 
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ভূ-অভ্যন্তরের দিকে পৃথিবীকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে গঠন প্রকৃতি ও উপাদানের ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে। এগুলো হচ্ছে-ঃ
• অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বক (Earth crust)
• গুরুমন্ডল (Mantle)
• কেন্দ্রমন্ডল (Core)
যা পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ভূ-অভ্যন্তরের দিকে পৃথিবীর স্তরগুলো যথাক্রমে-অশ্মমন্ডল, গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডল।

- অশ্মমন্ডল: ভূ-ত্বক পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বাইরের আবরণ যা কঠিন এবং ভূ-পৃষ্ঠ গঠন করেছে। স্তর তিনটির মধ্যে সবচেয়ে ওপরের স্তর যেটি গুরুমন্ডলের ওপরে অবস্থিত সেটিকেই অশ্মমন্ডল বলে।
-এটাই পৃথিবীর কঠিন বহিরাবরণ।
-এটি নানা প্রকার শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত।
- গুরুমন্ডল: কেন্দ্র মন্ডলের বহিঃভাগ থেকে অশ্বমন্ডলের (ভূ-ত্বকের) নিম্ন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে গুরুমন্ডল বলে।
- কেন্দ্রন্ডল: পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৪৩৪ কি.মি.। পৃথিবীর কেন্দ্রের চারিদিকে প্রায় ৩,৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের এক গোলক অবস্থিত। এই গোলকটির নাম দেয়া হয়েছে কেন্দ্রমন্ডল। অন্তঃকেন্দ্র ও বহিঃকেন্দ্রকে একত্রে কেন্দ্রন্ডল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি গম উৎপাদনকারী দেশ -
  1. চীন
  2. ইউক্রেন
  3. রাশিয়া
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
সর্বাপেক্ষা বেশি গম উৎপাদনকারী দেশ:
- পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি গম উৎপাদনকারী দেশ চীন।
- চীন প্রতি বছর প্রায় ১৩৬ মিলিয়ন টন গম উৎপাদন করে, যা পৃথিবীর মোট গম উৎপাদনের প্রায় ১৭%।

⇒ গম উৎপাদনে শীর্ষ দেশ:
- শীর্ষ দেশ: চীন।
- ২য় দেশ: ভারত।
- ৩য় দেশ: রাশিয়া।
- ৪র্থ দেশ: যুক্তরাষ্ট্র।
- ৫ম দেশ: কানাডা।

উৎস: USDA Foreign Agricultural Service (.gov) [link]
৩৯.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ বনের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) শৃঙ্খলাবদ্ধ ইকোসিস্টেম
  2. খ) লবনাক্ত সমতলভূমি
  3. গ) জোয়ার ভাটা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ম্যানগ্রোভ (Mangrove) বলতে সাধারণভাবে জোয়ারভাটায় প্লাবিত বিস্তির্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বন (Mangrove forest), জোয়ারভাটায় বিধৌত লবনাক্ত সমতলভূমি।
- উষ্ণমন্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় অক্ষাংশের আন্তপ্লাবিত আবাসস্থলের সমন্বয়ে ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম গঠিত।
- এ আন্তপ্লাবিত জলাভূমি বিভিন্ন স্তরের পারষ্পরিক নির্ভরশীল উপাদানসমূহ যেমন- পানি প্রবাহ, পলি, পুষ্টি উপাদান, জৈব পদার্থ এবং জীবজন্তুর সমন্বয়ে গঠিত।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৪০.
সিমা (Sima) স্তর কোথায় দেখা যায়?
  1. ভূত্বক
  2. গুরুমণ্ডল
  3. কেন্দ্রমণ্ডল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভূত্বক (Earth's Crust):
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বক তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু।
- সিয়াল (Sial) স্তর: সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত।
- সিমা (Sima) স্তর: এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়। যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি।
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪১.
উপমহাদেশের একমাত্র মিঠা পানির সোয়াম ফরেস্ট কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গোয়াইনঘাট
  2. খ) বালাগঞ্জ
  3. গ) জকিগঞ্জ
  4. ঘ) কানাইঘাট
ব্যাখ্যা
রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট
• প্রকৃতির ব্যতিক্রমী সৃষ্টি রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। পানিতে অর্ধ নিমজ্জিত হিজল, করচ, বরুনা, বেত আর মুর্তার ঘন ঝোপে প্রায় দূর্ভেদ্য উপমহাদেশের একমাত্র মিঠা পানির সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুল।
• রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট - গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। 
• শীতল বাতাস, পাখির কলতান, নয়নাভিরাম দৃশ্য আর নৌকাযোগে নিঃশব্দে ঘুরে বেড়ানো- এ যেন এক স্বর্গ রাজ্য।  

তথ্যসূত্র:- গোয়াইনঘাট উপজেলা ওয়েবসাইট।
৪২.
বাংলাদেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ বনভূমি রয়েছে? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৫]
  1. ২৪.০২ শতাংশ
  2. ২২.১৮ শতাংশ
  3. ১৮.১৯ শতাংশ
  4. ১৫.৫৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮ শতাংশ বনভূমি রয়েছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বনভূমি:

- পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশে প্রায় ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত। 
- মোট বনভূমির পরিমাণ ২৩ লক্ষ হেক্টর, যা দেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮%।
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এ জলাশয়, মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দদূষণের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আইনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের ৩২টি জেলায় রাষ্ট্রীয় বনভূমি নেই।

⇒ যে ভূমির আয়তন ০.৫ হেক্টরের বেশি এবং সেখানে ৫ মিটারের বেশি গাছ রয়েছে (সেরিওপস ডিকান্ড্রা ছাড়া), এবং গাছের ছাউনি ১০% বা তার বেশি, তা বনভূমি হিসেবে গণ্য হবে।
- তবে, গ্রামীণ জনবসতি, কৃষি বা শহুরে ব্যবহৃত জমি বনভূমি নয়, এবং সেখানে গাছগুলোকে বন-বহির্ভূত গাছ বলা হবে।

⇒ বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বনসমূহ তিনটি অঞ্চলে বিস্তৃত:
১. বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেটের পাহাড়ি বনাঞ্চল;
২. কেন্দ্রীয় ও উত্তরাঞ্চলীয় অভ্যন্তরীণ বনাঞ্চল;
৩. দ্বীপ ও চরাঞ্চলীয় এবং উপকূলবর্তী বনাঞ্চল।

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
ii) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। [link]
৪৩.
হালদা ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
‘হালদা ভ্যালি’ খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত একটি উপত্যকা (Valley)। অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদ দ্বারা প্লাবিত রাঙামাটির একটি উপত্যকা হলাে ‘ভেঙ্গি ভ্যালি'। এছাড়াও বালিশিরা ভেলী অবস্থিত মৌলভীবাজারে, সাঙ্গু ভ্যালি অবস্থিত চট্টগ্রামে, নাপিত খালি ভ্যালি অবস্থিত কক্সবাজারে, মাইনমুখী ভ্যালি অবস্থিত রাঙামাটিতে। উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৪.
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কোন ধরনের বনভূমি অবস্থিত?
  1. চিরহরিৎ বনভূমি
  2. স্রোতজ বনভূমি
  3. পত্রপতনশীল বনভূমি
  4. সৃজিত বনভূমি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বনভূমি হলো স্রোতজ বনভূমি বা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট যা সুন্দরবন নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ। ‍সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী। সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে রয়েছে:
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- ধুন্দল
- গোলপাতা ইত্যাদি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
৪৫.
আয়তনে বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
  1. ক) ভারত মহাসাগর
  2. খ) উত্তর মহাসাগর
  3. গ) প্রশান্ত মহাসাগর
  4. ঘ) দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন - ১৬ কোটি ৮৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা - গড় - ৪,১৮৮ মি.; সর্বোচ্চ গভীরতা - ১০,৯২০ মি.
- এই মহাসাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট বেরিয়ার রিফ অবস্থিত।
- ২৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রবাল প্রাচীর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত‌।
- আর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগরের নাম আটলান্টিক মহাসাগর। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস
৪৬.
বাংলাদেশের কোন জেলায় প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়?
  1. ক) নরসিংদী
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) কুমিল্লা
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
নরসিংদীতে প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়। সৌরবিদ্যুতে চলছে কম্পিউটার, টিভি, ফ্রিজ—সবই। এমনকি পানি তোলা, ওয়েল্ডিং করাসহ সব ভারী যন্ত্রপাতিও চালানো হয় এই বিদ্যুতে।
উৎসঃ কালের কণ্ঠ
৪৭.
নিচের কোনটি প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অর্ন্তভুক্ত অঞ্চল নয়?
  1. ক) গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর
  2. খ) রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি
  3. গ) রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট
  4. ঘ) টাঙ্গাইল ও গাজীপুর
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ:
আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে এসব উচ্চভূমি বর্ণনা দেওয়া হলো - 

- বরেন্দ্র ভূমি:
• উত্তরবঙ্গের পদ্মা-যমুনার দোআঁশ অঞ্চলের মধ্যভাগে নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে এ সুবিশাল বরেন্দ্র ভূমি অবস্থিত।
• এর আয়তন ৩২৪ বর্গ কি.মি. এবং বঙ্গ অববাহিকায় এটি সর্ববৃহৎ প্লাইস্টোসিন যুগের উচ্চভূমি।
• এ এলাকার ভূমি অসমতল এবং মাটি লাল ও কাঁকরময়। বরেন্দ্র ভূমিতে ধান, পাট, ভুট্টা, পান প্রভৃতির চাষ হয়ে থাকে।

- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
• উত্তরে সাবেক ব্রহ্মপুত্র নদ হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ অঞ্চল বিস্তৃত। এটি প্লাইস্টোসিন যুগে দ্বিতীয় বৃহত্তর উচ্চভূমি। এ উচ্চ উত্থিত অঞ্চলটির মোট আয়তন ৪,১০৫ বর্গ কি.মি।
• টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে অবস্থিত এ অঞ্চলের উত্তরাংশ মধুপুর গড় এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত এ অঞ্চলের দক্ষিণাংশ ভাওয়ালের গড় নামে পরিচিত।
• এর মাটির রং লাল এবং কংকর মিশ্রিত। ফলে গজারী বন ছাড়া অন্যান্য কৃষি ফসলের জন্য এ মাটি অনুপযুক্ত।
• এ অঞ্চলের ভূমি সমুদ্র হতে গড়ে প্রায় ৬ হতে ৩০ মিটার (১০ হতে ১০০ ফুট) উঁচু।

 -ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়:
• কুমিল্লা শহরের ৮ কি.মি. (৫ মাইল) পশ্চিমে ময়নামতি ও লালমাই পাহাড় অবস্থিত।
• এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গ কি.মি.। গড় উচ্চতা ২১ মিটার (৭০ ফুট)। স্থানভেদে এর উচ্চতা ৪৬ মিটার (১৫০ ফুট) হয়ে থাকে।
• এর মটির রং লাল। তাই একে লালমাই পাহাড় বলা হয়। এটি হস্ট শ্রেণীভুক্ত পাহাড় এবং বালি, নুড়ি, কংকর ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

অন্যদিকে,
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত
- দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।
 
উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি?
  1. ক) লেক আসাল
  2. খ) কাস্পিয়ান সাগর
  3. গ) সুপিরিয়র
  4. ঘ) বৈকাল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর গভীরতম ও প্রাচীনতম হ্রদ হলো বৈকাল হ্রদ। এটির গভীরতা ১,৬২০ মিটার। এটি রাশিয়ায় অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- কাস্পিয়ান সাগর বিশ্বের বৃহত্তম ও বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ
- সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ
- লেক আসাল বিশ্বের সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৪৯.
'চলন বিল' কোন কোন জেলার অংশ?
  1. নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ
  2. পাবনা ও নাটোর
  3. বরিশাল ও পটুয়াখালী
  4. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

চলন বিলের অবস্থান - পাবনা ও নাটোর জেলায়।

চলন বিল:
- চলন বিল (Chalan Beel) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- এটি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৫০.
গলিত শিলা বা ম্যাগমাসমূহ ভূ-ত্বকের নিচে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে, জমাট বেঁধে ও স্ফীত হয়ে কোন ধরনের পর্বত সৃষ্টি করে?
  1. ক) ভঙ্গিল পর্বত
  2. খ) আগ্নেয় পর্বত
  3. গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  4. ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত
ব্যাখ্যা
ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন উপায়ে ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাগমাসমূহ বাঁধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে জমাট বেঁধে উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূ-ত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে। এভাবে সৃষ্ট শৃঙ্গবিহীন সামান্য খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্প অঞ্চল ব্যাপী বিস্তৃত এই পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫১.
ল্যানোস ও প্যাম্পাস তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. ক) উত্তর আমেরিকা
  2. খ) পূর্ব ইউরোপ
  3. গ) অস্ট্রেলিয়া
  4. ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
ল্যানোস ও প্যাম্পাস হলো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত দুটো তৃণভূমির নাম।

তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি। সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।

পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:
- প্রেইরি (উত্তর আমেরিকা)
- সাভানা (আফ্রিকা)
- স্তেপ (পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া) প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৫২.
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যশোর
  2. খ) গোপালগঞ্জ
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্ববধায়নে নির্মিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক যশোরে অবস্থিত।
Source:bhtpa.gov.bd
৫৩.
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের উপজেলার নাম কি?
  1. ক) শিবগঞ্জ
  2. খ) থানচি
  3. গ) টেকনাফ
  4. ঘ) তেঁতুলিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ, সর্ব পূর্বের উপজেলা থানচি, সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ এবং সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
উৎসঃ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।

৫৪.
দেশের মোট ভূমির কত শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ১৭
  2. ২৫
  3. ২৭
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু ২০১৩-২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
বড় পুকুড়িয়া কয়লা খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বিরামপুর
  2. খ) চিরিরবন্দর
  3. গ) পার্বতীপুর
  4. ঘ) নবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে।
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

তথ্যসূত্র:- পার্বতীপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
৫৬.
আতাকামা মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. চিলি
  2. ব্রাজিল
  3. উরুগুয়ে
  4. কলম্বিয়া
ব্যাখ্যা
আতাকামা মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকার চিলি দেশে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিগুলোর একটি।

আতাকামা মরুভূমি:

- আতাকামা মরুভূমি চিলির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ থেকে ৭০০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারিত নয়, তবে এটি মূলত লোয়া নদীর দক্ষিণ বাঁক এবং সালাডো-কোপিয়াপো জলাধারের মধ্যবর্তী পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত।
- উত্তরে, মরুভূমি পেরুর সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত।

কয়েকটি মরুভূমি ও এদের অবস্থান:
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি: চিলি ও আর্জেন্টিনা,
- থর মরুভূমি: ভারত ও পাকিস্তান,
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা,
- কালাহারি মরুভূমি: নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা,

সূত্র: Britannica.
৫৭.
আগ্নেয়গিরি থেকে যে পদার্থগুলো বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসে,তাকে কী বলে?
  1. ক) ভস্ম
  2. খ) ম্যাগমা
  3. গ) লাভা
  4. ঘ) ধাতু
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরি (Volcano):
- ভূ-গর্ভস্থ তাপ ও চাপের পরিবর্তনের ফলে ভূ-অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত, ও গলিত বিভিন্ন পদার্থ, যেমন: উষ্ণ বাষ্প, গলিত শিলা, কাঁদা, ধাতু, ভষ্ম ইত্যাদি প্রবলবেগে ভূ-ত্বকের নিচের অংশে চাপ প্রয়োগ করে।
- এমতাবস্থায়, ভূ-ত্বকের দুর্বল স্থান বা ফাটলসমূহের ভিতর দিয়ে উক্ত পদার্থগুলো উৎক্ষিপ্ত হয়ে বহু দুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-পৃষ্ঠের ঐ ছিদ্র পথ বা ফাটলের চারপাশে উক্ত পদার্থগুলো জমাট বেঁধে ক্রমশ উঁচু পর্বতের ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করে।
- এইরূপ পর্বতকে আগ্নেয়গিরি বলা হয়।
⇒ আগ্নেয়গিরি থেকে যে পদার্থগুলো বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসে,তাকে লাভা (Lava) বলে
- বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত এই পদার্থগুলো ম্যাগমা (Magma) নামে পরিচিত।
- আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরে বিশাল এলাকা জুড়ে ম্যাগমা অর্থাৎ উত্তপ্ত ও গলিত শিলা, কাঁদা, ভষ্ম ও বাষ্প জমাকৃত হয়ে থাকে, যাকে ম্যাগমা চেম্বার বলা হয়।
- লাভা বের হবার মুখটিকে জ্বালামুখ (Crater) বলা হয়।
- যে পথে লাভা বের হয় সেটিকে আগ্নেয় গ্রীবা (Vent) বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
আপালেশিয়ান পর্বত কোথায় অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ইতালি
  3. ফ্রান্স
  4. স্পেন
ব্যাখ্যা
আপালেশিয়ান পর্বত:
- আপালেশিয়ান পর্বতমালা উত্তর আমেরিকার পূর্ব অংশে অবস্থিত।
- এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা জুড়ে বিস্তৃত।
- আপালেশিয়ান পর্বতের দৈর্ঘ্য প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি)।
- এটি অ্যালাবামা রাজ্য থেকে শুরু হয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।
- আপালেশিয়ান পর্বত খুবই প্রাচীন, এবং এটি পৃথিবীর অন্যতম পুরনো পর্বত শ্রেণী।

উৎস: Britannica.
৫৯.
খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে কোন সমভূমি গঠিত?
  1. স্রোতজ সমভূমি
  2. বন্যাপ্রবণ সমভূমি
  3. ব-দ্বীপ সমভূমি
  4. পাদদেশীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড় এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র দেশ সাম্প্রতিককালের পলি দ্বারা গঠিত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- এই প্লাবন সমভূমির বয়স ১২,০০০ বছরের কম।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি প্রধান নদীসহ অসংখ্য উপনদী এবং শাখানদী জালের ন্যায় সমগ্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।
- নদীগুলো সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- মাঝে মাঝে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। বিস্তীর্ণ এ অঞ্চলের মাটি খুবই উর্বর এবং আবাদী।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি দেশের উত্তরাংশ থেকে ক্রমেই ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• পাদদেশীয় সমভূমি:
 হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।

• বন্যাপ্রবণ সমভূমি:
 ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।

• স্রোতজ সমভূমি:
খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

• উপকূলীয় সমভূমি:
নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি। 

• ব-দ্বীপ সমভূমি:
- ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপটি প্রবাল দ্বীপ নামে খ্যাত?
  1. কুতুবদিয়া
  2. হাতিয়া
  3. সেন্টমার্টিন
  4. নিঝুম দ্বীপ
ব্যাখ্যা
- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো- সেন্টমার্টিন।
- সেন্টমার্টিনের অপন নাম- নারিকেল জিঞ্জিরা।
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হলো মহেশখালী।
- কুতুবদিয়া দ্বীপে বাতিঘর রয়েছে।
- সন্দ্বীপে প্রাচীনকালে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ হতো।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৬১.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কী?
  1. ক) বদ্বীপ
  2. খ) প্রতিবাত ঢাল
  3. গ) গিরিখাত
  4. ঘ) নৌঘাঁটি
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো। মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে। বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা। এই উপত্যকার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মি।
- সাবমেরিন উপত্যকাটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা।
- 'বেঙ্গল ফ্যান' ভূমি রূপটি পাওয়া যায় বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৬২.
কীসের স্রোতে নদীখাত গভীর হয়?
  1. ক) সমুদ্রস্রোত
  2. খ) নদীস্রোত
  3. গ) বানের স্রোত
  4. ঘ) জোয়ার-ভাটার স্রোত
ব্যাখ্যা
নদীখাত হল প্রবাহিত পানির শক্তির ফলে গঠিত একটি সরু বা চওড়া, গভীর বা অগভীর, সোজা বা বাঁকা সুষম ঢাল বিশিষ্ট প্রাকৃতিক পথ যার মধ্য দিয়ে ধীর বা প্রবলবেগে সারা বছর বা স্বল্প সময়ে পানি প্রবাহিত হয়। জোয়ার ভাটার স্রোতে নদীখাত গভীর হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং জাগোনিউজ।
৬৩.
নিম্নের বাংলাদেশের কোন অঞ্চল শাল বৃক্ষের জন্য বিখ্যাত?
  1. সুন্দরবন
  2. পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  4. সিলেটের পাহাড়ি বনভূমি
ব্যাখ্যা
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- এই বনভূমির প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারি। শাল গাছের আধিক্যের কারণে এই বনভূমি শালবন নামে পরিচিত।
- শুষ্ক মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যায় বলে একে পত্রঝরা বনও বলা হয়।
- এ ছাড়া রয়েছে হরিতকি, বহেরা, কড়ই, শিমুল, অর্জুন ইত্যাদি প্রজাতির বৃক্ষ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪.
নিম্নের কোন মরুভূমি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত?
  1. মোজাবে মরুভূমি
  2. গোবি মরুভূমি
  3. আতাকামা মরুভূমি
  4. পাতাগোনিয়া মরুভূমি
ব্যাখ্যা
- মোজাবে মরুভূমি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাংশ জুড়ে অবস্থিত এবং কিছু অংশ নেবাদা, এরিজোনা, উটাহ অঙ্গরাজ্যে জুড়ে বিস্তৃত।  

• বিশ্বের বিখ্যাত কিছু মরুভূমি ও তাদের অবস্থান হলো:
- থর মরুভূমি: ভারত ও পাকিস্তানে অবস্থিত।
- গোবি মরুভূমি: চীন ও মঙ্গোলিয়াতে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকাতে, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উষ্ণ মরুভূমি।
- আতাকামা মরুভূমি: চিলিতে অবস্থিত। 
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি: চিলি ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিস্তৃত।

সূত্র: ব্রিটানিকা। 
৬৫.
সাহারা মরুভূমি কতটি দেশের মধ্য বিস্তৃত রয়েছে? 
  1. ১১টি
  2. ৯টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি 
ব্যাখ্যা

 - সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।

সাহারা মরুভূমি:

- প্রায় ৯,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমিকে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ (গরম) মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- আয়তনের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি,
- শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের মেরু মরুভূমির পরেই অবস্থান।
- এবং এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩১% অংশ দখল করে রেখেছে।
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, মরক্কো, তিউনিশিয়া, চাঁদ, মালি, নাইজার, মরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা।
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। [লিঙ্ক]

৬৬.
বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত? 
  1. সিলেটের বনভূমি
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি
  3. ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
  4. খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি
ব্যাখ্যা
• মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি:
- উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। 
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। 
- এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। 
- বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি শাল বা গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র।
- এজন্য এটি গজারী বা শালবৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।
- এ বনভূমি ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির অন্তর্গত।

অন্যদিকে,
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার ইত্যাদি।
- বরেন্দ্র বনভূমি হচ্ছে ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭.
'বুড়িমারী' স্থলবন্দর অবস্থিত-
  1. ক) কুড়িগ্রামে
  2. খ) ময়মনসিংহে
  3. গ) হবিগঞ্জে
  4. ঘ) লালমনিরহাটে
ব্যাখ্যা
লালমনিরহাটে 'বুড়িমারী' স্থলবন্দর অবস্থিত। পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বুড়িমারী সীমান্তে এই স্থলবন্দরটির অবস্থান। ১৯৮৮ সালে ভারত, ভুটান এবং নেপালের সঙ্গে স্থলপথে মালামাল আমদানী ও রপ্তানির সুবিধার্থে বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই বন্দরটি চালু করা হয়।
৬৮.
কোন জাতীয় আগ্নেয়গিরি দেখতে ব্যাঙের ছাতার মত বা গম্বুজাকৃতির হয়ে?
  1. শেইন্ড আগ্নেয়গিরি
  2. সিন্ডারকোন আগ্নেয়গিরি
  3. মিশ্র কোন আগ্নেয়গিরি
  4. ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- উদগিরিত লাভার ধরন এবং আগ্নেয়গিরির গঠনের উপর ভিত্তি করে শ্রেণী বিভাগ-
ক) শেইন্ড (Sheild) আগ্নেয়গিরি: এ জাতীয় আগ্নেয়গিরির লাভা বহুদূর ব্যাপী বিস্তৃত এবং দেখতে কিছুটা ব্যাঙের ছাতার মত বা গম্বুজাকৃতির
-এর ঢাল সাধারণত গোড়ার দিকে ৫ এবং ওপরের দিকে ১৫ এর বেশি হয়; প্রধানত ব্যাসল্ট দিয়ে গঠিত।
-হাওয়াই দ্বীপের মনালোয়া, কিলাউয়া এর অন্যতম উদাহরণ।

খ) সিন্ডারকোন (Cinder Cone) আগ্নেয়গিরি: সিন্ডারকোন সাধারণত খাড়া ঢাল বিশিষ্ট (প্রায় ৩০০-৪০০) এবং আকারে ছোট হয় (৩০০ মি. এর বেশি নয়)।
-প্রায়ই নিকটবর্তী বৃহৎ আগ্নেয়গিরির পাশে গঠিত হয়।
- মেক্সিকোর পেরিকোটন এর উদাহরণ। আগ্নেয়গিরির একটা অন্যতম ঘটনা হল অগ্নুৎপাত।

গ) মিশ্র কোন (Composite Cone) আগ্নেয়গিরি: জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের মাউট মেওন এ ধরনের আগ্নেয়গিরি।
- এই শ্রেণীর আগ্নেয়গিরি আকারে বড়, প্রায় সমান পুরুত্ব বিশিষ্ট লাভা শিলার খন্ডের স্তুপে গঠিত।
- প্রথমে নিঃশব্দে চটচটে আঠালো জ্যান্ডেসাইটিক লাভা, পরে কঠিন শিলা টুকরা, ধুলিকণা, উত্তপ্ত গ্যাস এবং শেষে পুনরায় আঁঠালো লাভা এর ওপর জমা হয়।
- এ জন্য একে মিশ্র কোণ আগ্নেয়গিরি বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
টেংরাগিরি বন কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বরগুনা
  2. মৌলভীবাজার
  3. বাগেরহাট
  4. শেরপুর
ব্যাখ্যা
টেংরাগিরি বন:
- টেংরাগিরি বনাঞ্চলটি সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল।
- বনটি বরগুনার তালতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই বনাঞ্চলের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর।
- দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্বাসমূলীয় বন স্থানীয়ভাবে ফাতরার বন নামে পরিচিত।
- পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী-দক্ষিণের এই তিন বড় নদ-নদী এখান থেকে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- দেশের নদ-নদীতে সাগর থেকে উঠে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ৬০ ভাগ এখান দিয়ে আসা-যাওয়া করে।
- এই বনাঞ্চলের ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দূরে গোড়াপদ্মা উপকূলীয় সবুজবেষ্টনী এবং ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে পাথরঘাটা উপজেলায় হরিণঘাটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবস্থিত।
- বনাঞ্চল থেকে বঙ্গোপসাগরের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- মাছের প্রজনন ও চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে শত শত জেলে বন বিভাগকে ম্যানেজ করে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে প্রতিদিন মাছ ধরায় একদিকে দেশের বিশাল মৎস্যভান্ডার শূন্য হচ্ছে, অপর দিকে হুমকির মুখে পড়ছে শ্বাসমূলীয় এই বনাঞ্চল।

উৎস: বন অধিদপ্তর। 
৭০.
আমাজন বনের কত শতাংশ ব্রাজিলে অবস্থিত?
  1. ৪৮%
  2. ৫২%
  3. ৫৮%
  4. ৬৪%
ব্যাখ্যা
আমাজন বন:
- দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত আমাজন বন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল।
- আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল।
- আমাজন নদী সহ অনেক নদী বনের পাশ দিয়ে গেছে।
- আমাজন রেইনফরেস্টে পাওয়া গেছে ১৬,০০০ প্রজাতি এবং ৩৯০ বিলিয়ন বিভিন্ন রকমের গাছ যারা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে রয়েছে।
- ইওসিন যুগে এই বনের বিকাশ ঘটেছিল।
- আমাজন বনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস।

⇒ আমাজন বন ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- ৯টি দেশ: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- এর মধ্যে আমাজন বনের ৬৪% রয়েছে ব্রাজিলে।

উৎস: i) World Atlas.
ii) Al Jazeera. [link]
৭১.
বিশ্বের সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ কোনটি?
  1. ক) কাস্পিয়ান সাগর
  2. খ) টিটিকাকা হ্রদ
  3. গ) লেক আসাল
  4. ঘ) বৈকাল হ্রদ
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ হলো জিবুতিতে অবস্থিত লেক আসাল

অন্যদিকে,
- বৈকাল হ্রদ : পৃথিবীর গভীরতম (১,৬২০ মিটার) এবং প্রাচীনতম হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগর: পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ
- টিটিকাকা হ্রদ  (বলিভিয়া): পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ
- সুপিরিয়র হ্রদ (যুক্তরাষ্ট্র): বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা
৭২.
চাকমা সার্কেল কোন জেলার অন্তর্গত?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি সার্কেল বা প্রথাগত প্রশাসনিক এলাকা বিদ্যমান। এগুলো হলো : চাকমা সার্কেল, বোমাং সার্কেল এবং মং সার্কেল।
চাকমা সার্কেল রাঙ্গামাটি জেলায়, বোমাং সার্কেল বান্দরবান জেলায় এবং মং সার্কেল খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। সার্কেল প্রধানরা রাজা নামে পরিচিত। বর্তমান চাকমা রাজা দেবাশ্বিস রায়। এই প্রথাগত শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশ সরকারের আইন দ্বারা স্বীকৃত।
সূত্র : ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণী এবং পার্বত্য রাঙামাটি জেলা ওয়েবসাইট।
৭৩.
আতিতলাম আগ্নেয়গিরি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) গুয়েতেমালা
  2. খ) ইতালি
  3. গ) চিলি
  4. ঘ) আর্জেন্টিনা
ব্যাখ্যা

আতিতলাম আগ্নেয়গিরিটি গুয়েতেমালায় অবস্থিত।
এটি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
সূত্র: volcanodiscovery.com

৭৪.
সাহারা মরুভূমি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. ইউরোপ মহাদেশে
  2. এশিয়া মহাদেশে
  3. আফ্রিকা মহাদেশে
  4. উত্তর আমেরিকা মহাদেশে
ব্যাখ্যা
→ সাহারা মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।

সাহারা মরুভূমি:

- সাহারা হল বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি, যার আয়তন ৩.৫ মিলিয়ন বর্গ মাইল (৯ মিলিয়ন বর্গ কিমি)।
- মরুভূমির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,৮০০ কিলোমিটার এবং সর্বাধিক প্রস্থ ১,৮০০ কিলোমিটার। 
- সাহারা মরুভূমির নামটি এসেছে আরবি শব্দ ‘সাহরা’ থেকে যার অর্থ ‘মরুভূমি’।।
- এটি আফ্রিকার প্রায় এক তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।
- মরুভূমিটি আলজেরিয়া, মিশর, মালি, মরক্কো, পশ্চিম সাহারা, তিউনিসিয়া, চাদ, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, নাইজার এবং সুদান সহ ১১টি উত্তর আফ্রিকার দেশের বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে।
- ১৮৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু পাহাড়ী বালির টিলাগুলির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- এই মরুভূমিতে জলের উত্স বিরল, তবে সাহারায় দুটি নদী এবং বিশটি মৌসুমী হ্রদ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট।
৭৫.
বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?
  1. নিস
  2. মার্বেল
  3. গ্রাফাইট
  4. কোয়ার্টজাইট
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত শিলা:
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন যে ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয়, তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।

রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
⇒ চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
⇒ বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
⇒ কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
⇒ গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
⇒ কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
কোনটি রূপান্তরিত শিলা নয়?
  1. ক) নিস
  2. খ) শেল
  3. গ) গ্রাফাইট
  4. ঘ) মার্বেল
ব্যাখ্যা
- ভূত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত
- গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার। যথা:-
১। আগ্নেয় শিলা,
২। পাললিক শিলা ও
৩। রূপান্তরিত শিলা ।

পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম ও স্তর লক্ষ্য করা যায় ।
- পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ৷
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে রূপান্তরিত শিলা গঠন করে।
- রূপান্তরিত শিলা স্ফটিকযুক্ত এবং খুব কঠিন হয়।
- এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না।
- গ্রানাইট থেকে নিস বা নাইস, কয়লা থেকে গ্রাফাইট, চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি ৷
৭৭.
'চর গজারিয়া' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মাদারগঞ্জ
  2. খ) মুন্সীগঞ্জ
  3. গ) সুন্দরবন
  4. ঘ) রামগতি
ব্যাখ্যা
চর আলেকজান্ডার ও চর গজারিয়া লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অবস্থিত। দুর্গম চর জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে অবস্থিত। উৎস: lakshmipur.gov.bd
৭৮.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অর্ন্তভূক্ত -
  1. ক) চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ 
  2. খ) রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ির পাহাড়সমূহ
  3. গ) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি
  4. ঘ) কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
▪ আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
▪ এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
▪ দেশের উত্তর - পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে এসব উচ্চভূমি বর্ণনা করা হলো।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় কত ভাগ সমভূমি?
  1. অর্ধেক
  2. দুই-তৃতীয়াংশ
  3. এক-তৃতীয়াংশ
  4. এক-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
সমভূমি:
→ সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
→ পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি।
→ সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
→ সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
→ মানুষের আবাস এবং অর্থনৈতিক কামকান্ড সমভূমিতে সংঘটিত হয়।
→ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
→ আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
→ ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
দেশের প্রথম কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. পাবনা
  4. বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- দেশের প্রথম কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে।
- এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট।
- কেন্দ্রটিতে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট (৩য় ইউনিট) রয়েছে।
- কেন্দ্রটিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার করা হয়।
- এটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

অন্যদিকে,
⇒ পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- দেশের দ্বিতীয় কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- পটুয়াখালীর জেলার কলাপাড়ায় উপজেলার ধানখালীতে অবস্থিত।
- উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৩২০ মেগাওয়াট।
- উৎপাদনের দিক থেকে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের বৃহত্তম কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

উৎস জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮১.
বাংলাদেশের প্রথম ইকোপার্কটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) রাঙ্গামাটি
  3. গ) সীতাকুন্ড
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
সীতাকুন্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ রিজার্ভ ফরেস্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত চিরসবুজ বনাঞ্চলে ১৯৯৯ সালে ৮০৮ হেক্টর জায়গা নিয়ে ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইকোপার্ক। ইকোপার্কের প্রধান গেট হতে ৫ কিমি ভিতরে চন্দ্রনাথ শিবমন্দির অবস্থিত। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৮২.
কোন অঞ্চলকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয়?
  1. সাভানা তৃণভূমি
  2. সাহারা মরুভূমি
  3. আমাজন রেইনফরেস্ট
  4. কঙ্গো রেইনফরেস্ট
ব্যাখ্যা
আমাজন রেইনফরেস্ট:
- বিশ্বের সর্ববৃহৎ রেইনফরেস্ট আমাজন বনভূমি।
- আমাজন প্রায় ২,১২৩,৫৬২ বর্গ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এই বনভূমি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আমাজন রেইনফরেস্ট ৯টি দেশে বিস্তৃত।
- পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের আনুমানিক ১০ শতাংশ রয়েছে আমাজনে।
- এখানে প্রায় ৩৯০ বিলিয়ন গাছের অস্তিত্ব রয়েছে, যা ১৬,০০০ প্রজাতিতে বিভক্ত।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর ২০ ভাগ অক্সিজেন আসে আমাজন থেকে।
- এই কারনে একে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।

তথ্যসূত্র - World Atlas.com
৮৩.
সুমাত্রা দ্বীপ কোন দেশের অংশ?
  1. ক) মালয়েশিয়া
  2. খ) ইন্দোনেশিয়া
  3. গ) দক্ষিণ কোরিয়া
  4. ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা
সুমাত্রা ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত একটি দ্বীপ। যার আয়তন ১৮৪,৯৫৪ বর্গ মাইল। এককভাবে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ হিসেবে সুমাত্রা বৃহত্তম (এ অঞ্চলে নিউগিনি আর বোর্নিও সুমাত্রার চেয়ে বড় হলেও এসব দ্বীপে অন্য দেশের অংশ রয়েছে)।
[সূত্রঃ worldatlas ওয়েবসাইট]
৮৪.
বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের কত শতাংশ? [জুন, ২০২৫]
  1. ১৩.৩৮%
  2. ১৫.৩৮%
  3. ১৩.৫৮%
  4. ১৫.৫৮%
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রত বনভূমির পামিাণ প্রায় ১৬ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪।
- বাংলাদেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পারিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭%।
- ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- যেমন: পাহাড়ী বন, প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন, সৃজিত উপকূলীয় বন, শালবন, জলাভূমির বন ইত্যাদি।

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৫.
বুড়িমারী স্থলবন্দর কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. ক) হাতিবান্ধা
  2. খ) পাটগ্রাম
  3. গ) চিলমারী
  4. ঘ) ভূরুঙ্গামারী
ব্যাখ্যা
• পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বুড়িমারী সীমান্তে এ স্থল বন্দর অবস্থিত।
• ভারত, ভূটান এবং নেপালের সঙ্গে স্থলপথে মালামাল আমদানী ও রপ্তানির সুবিধার্থে বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ বন্দরটি চালু করা হয় ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে।

সূত্র: লালমনিরহাট জেলা
৮৬.
ইন্দোচীন অঞ্চলের দেশ নয় -
  1. ক) লাওস
  2. খ) কম্বোডিয়া
  3. গ) ভিয়েতনাম
  4. ঘ) ইরাক
ব্যাখ্যা
- ইন্দোচীন হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অঞ্চল।
- ইন্দোচীন একটি ভৌগোলিক শব্দ যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে জনপ্রিয় ছিল।
- এই মহাদেশীয় অঞ্চলটি বর্তমানে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া হিসাবে অধিক পরিচিত।
- এই অঞ্চল ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়া দেশ নিয়ে গঠিত। 
- এই অঞ্চলগুলিতে ভারত ও চীন সভ্যতার প্রভাব আছে।

অন্যদিকে,
- ইরাক মধ্যপ্রাচ্যের দেশ।

উৎস: world atlas.
৮৭.
বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কোথায়?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা

- বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর।
- এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার।

উৎস: parjatan.gov.bd

৮৮.
কয়লা উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম-
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ভারত
  3. গ) অস্ত্রেলিয়া
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
- কয়লা উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম চীন। 
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইন্দোনেশিয়া, তৃতীয় অবস্থানে আছে ভারত।
 
উৎস : স্ট্যাটিস্টা ওয়েবসাইট 
৮৯.
পৃথিবীতে চাপ বলয়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে মোট চাপ বলয়ের সংখ্যা ৭টি। এর মধ্যে উচ্চচাপ বলয় চারটি এবং নিম্নচাপ বলয় তিনটি।

এগুলো হলো:
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়
- কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়
- মকরীয় উচ্চচাপ বলয়
- উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
- দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল)
৯০.
মূল মধ্যরেখা থেকে ৫° পূর্ব দিকে সরে গেলে সময়ের ব্যবধান কত মিনিট হবে?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ২০
  3. গ) ২৪
  4. ঘ) ২৮
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমারেখার নিয়মানুসারে মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতি ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয়। সুতরাং, ৫×৪=২০ মিনিট।
৯১.
টারশিয়ারি যুগের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় কোন জেলার অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজশাহী ও পাবনা
  2. নোয়াখালী ও বরিশাল
  3. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
  4. চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক শ্রেণিবিভাগ:
- অবস্থান, ভূমির গঠন ও ভূ-তাত্ত্বিক সময়কাল অনুসারে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধানত তিনটি বৃহৎ শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শ্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

২। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২.
বান্দরবানের পাহাড়সমূহ কোন যুগের পাহাড়?
  1. প্লাইস্টোসিন কালের
  2. টারশিয়ারি যুগের
  3. সাম্প্রতিক কালের
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস:
i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩.
ভেঙ্গী ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাঙামাটি
  3. বান্দরবান
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

ভেঙ্গি ভ্যালি:
- এর অবস্থান রাঙামাটি জেলা, কাপ্তাই হ্রদের কারণে প্লাবিত।
- এটি দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত প্রশস্ত, নিচু ভূমি, যা পর্যটকদের কাছে পরিচিত।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি অংশ হিসেবে এটি পরিচিত।

• অন্যান্য ভেলী বা উপত্যকাসমূহ:
- হালদা ভেলী: খাগড়াছড়ি।
- বালিশিরা ভেলী: মৌলভীবাজার।
- সাজেক ভেলী: রাঙামাটি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৪.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর ’হাকালুকি হাওর’ কোন কোন জেলায় বিস্তৃত রয়েছে? 
  1. মৌলভীবাজার এবং সুনামগঞ্জ
  2. মৌলভীবাজার এবং সিলেট
  3. হবিগঞ্জ এবং সিলেট
  4. সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ 
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওর: 
- হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর।
- মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে হাকালুকি হাওড় অবস্থিত।
- পূর্বে পাথারিয়া পাহাড়,
- এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড়,
- এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি।
- এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর, তন্মধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪,৪০০ হেক্টর।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা , কুলাউড়া এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে, গোলাপগঞ্জ  এবং বিয়ানীবাজার জুড়ে বিস্তৃত।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে এর অবস্থান, উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং পূর্বে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশ।
- হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
- টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর। 
- চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বাইক্কা বিলের অবস্থান। 
- নিকলী হাওর বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৫.
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে কোন ধরনের বস্তু রয়েছে?
  1. গ্রহাণুপুঞ্জ
  2. উল্কা
  3. ধূমকেতু
  4. নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
• গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids):
- সৌরজগতে মঙ্গল (Mars) ও বৃহস্পতি (Jupiter) এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ (১.৬-৮০৫ বর্গ কি. মি.আয়তন বিশিষ্ট) একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
- গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬.
IRRI-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর, বাংলাদেশ
  2. ম্যানিলা, ফিলিপাইন
  3. টোকিও, জাপান
  4. বন, জার্মানি
ব্যাখ্যা
IRRI:
- IRRI-এর পূর্ণরূপ: International Rice Research Institute.
- IRRI হলো একটি স্বাধীন, অলাভজনক, গবেষণা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- সদর দপ্তর: লস ব্যানোস, ম্যানিলা, ফিলিপাইন।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৬০ সাল।
- কার্যক্রম পরিচালনা করে - এশিয়া ও আফ্রিকার ১৭টি দেশে।

উৎস: IRRI ওয়েবসাইট।
৯৭.
নিচের কোন দ্বীপটি ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত? 
  1. ম্যাকাও
  2. কমোরাস
  3. মাল্টা
  4. সিচেলিস
ব্যাখ্যা

- মাল্টা দ্বীপটি ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত।

ভূমধ্যসাগর:
-
ভূমধ্যসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে জিব্রাল্টার প্রণালী দ্বারা সংযুক্ত।
- এটি পশ্চিমে জিব্রাল্টার থেকে পূর্বে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর উত্তরে ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিসের মতো দেশ থেকে দক্ষিণে মিশর, লিবিয়া এবং তিউনিসিয়ার মতো দেশ পর্যন্ত প্রসারিত।
- এর মোট আয়তন প্রায় ২.৫ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার।
- গভীরতা: ভূমধ্যসাগরের গড় গভীরতা প্রায় ১,৫০০ মিটার,
- তবে এর গভীরতম স্থান, ক্যালিপসো ডিপ, প্রায় ৫,২৬৭ মিটার গভীর।
- দ্বীপপুঞ্জ: সিসিলি, সার্ডিনিয়া, ক্রিট, মাল্টা এবং সাইপ্রাস।

অন্যদিকে,
- ভারত মহাসাগরে অবস্থিত: মাদাগাস্কার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মরিশাস,, কমোরোস, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লক্ষদ্বীপ।
- দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত:  স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ, প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ, ম্যাকাও, লুজন।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৯৮.
জাপান ও রাশিয়ার মধ্যকার বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের নাম কী?
  1. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
  2. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
  3. দিয়াগো গার্সিয়া
  4. গ্রেট বেরিয়ার রিফ
ব্যাখ্যা
• কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঠিক উত্তরে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের কাছ থেকে এই দ্বীপগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়।
- বিতর্কিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের চারটির মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় দ্বীপ কুনাশির।
- চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে এই কুড়িল দ্বীপপুঞ্জকে জাপান তাদের নর্দান টেরিটরি হিসাবে অভিহিত করে। 
- এমনকি এই বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসান ঘোষণা হওয়া শান্তিচুক্তিতেও স্বাক্ষর করেনি।

উৎস: Britannica.
৯৯.
ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার উঁচু ভূমিকে কী বলা হয় ?
  1. ক) লালমাই পাহাড়
  2. খ) ভাওয়াল গড়
  3. গ) মধুপুর গড়
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো:
- রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত - মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত ভাওয়াল গড়।
- কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়।
- দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ।

- ভাওয়াল ও মধুপুর বনাঞ্চলের আয়তন - ৪,১০৩ বর্গকিঃমিঃ।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এর মাটির রং - লালচে ও ধূসর।
- প্রধান বৃক্ষ - শাল/গজারি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১০০.
মার্বেল কোন ধরনের শিলা?
  1. আগ্নেয় শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. মিশ্র শিলা
  4. পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

⇒ রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

- রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ:
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
পাললিক শিলা: কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।
আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।