বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদের প্রজনন ও পরাগায়ণ

মোট প্রশ্ন১০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদের প্রজনন ও পরাগায়ণ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১০৮

.
পানি পরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. পানি পরাগী ফুল সহজেই পানিতে ভাসতে পারে।
  2. পানি পরাগী ফুল আকারে বড়।
  3. পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র।
  4. পানি পরাগী ফুলের সুগন্ধ নেই।
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত হয়। 
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। 
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। 
- এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা
- এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

 প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ?
  1. চন্দ্রমল্লিকা
  2. শসা
  3. ডালিয়া
  4. লেটুস
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে করা হয়:
• আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ (Day Neutral Plant):
- পুষ্পায়নে দিনের আলো কোনো প্রভাব ফেলে না। যেমন: শসা, সূর্যমুখী।
• ছোটদিনের উদ্ভিদ (Short Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 8-12 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। যেমন: চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া।
• বড়দিনের উদ্ভিদ (Long Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 12-16 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন।যেমন: লেটুস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
নিম্নের কোনটি স্বভোজী জীব?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) মাশরুম
  3. গ) ফার্ণ
  4. ঘ) পেনিসিলিয়াম
ব্যাখ্যা

ফানজাই বা ছত্রাক- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই এরা পরভোজী। উদাহরণঃ ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি।

ফার্ন প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এরা স্বভোজী এবং এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান ষষ্ঠ শ্রেণি]

.
কোনটি স্ব-পরাগী ফুল?
  1. ক) শিমুল
  2. খ) পেঁপে
  3. গ) ধান
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা
স্ব-পরাগায়ন : একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।

পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে কোন প্রক্রিয়ায় অযৌন জনন ঘটে? 
  1. খণ্ডায়নের মাধ্যমে
  2. দেহ অঙ্গের মাধ্যমে
  3. স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে
  4. কুঁড়ি বা বাড উৎপাদনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
অযৌন জনন: 
- দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। 
- পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে।  
- অযৌন জনন বিভিন্নভাবে হতে পারে। 
যথা - 
১। দ্বিভাজন প্রক্রিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া ও কয়েক প্রকার এককোষী শৈবালের ক্ষেত্রে মাতৃকোষটি সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। 
- প্রতিটি অপত্য কোষ বৃদ্ধি পেয়ে পুর্ণাঙ্গ কোষে পরিণত হয়। 

২। কুঁড়ি বা বাড (Bud) উৎপাদনের মাধ্যমে: 
- এককোষী ছত্রাকের মাতৃকোষ হতে এক বা একাধিক কুঁড়ি বা বাড় উৎপন্ন হয়। 
- কুঁড়িগুলো মাতৃকোষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য কোষে পরিণত হয়। 

৩। অযৌন রেণু বা স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে: 
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে। 
যেমন- শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 
- কিছু কিছু শৈবালে চলরেণু বা জুস্পোর (Zoospore) সৃষ্টির মাধমে মাতৃ উদ্ভিদের অনুরূপ উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- Trentepohlia, Oedogonium, Vaucheria, Chaetophora, Ulothrix ইত্যাদি। 

৪। খণ্ডায়নের মাধ্যমে: 
- কিছু কিছু সূত্রাকর শৈবাল স্রোত বা আঘাতজনিত কারণে অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত হয়। 
- পরে প্রতিটি খণ্ড বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য উদ্ভিদদেহে পরিণত হয়। 
উদাহরণ- Spirogyra, Oscillatoria ইত্যাদি শৈবাল। 

৫। দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। যথা - 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং 
(খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পানি পরাগী ফুল -
  1. ক) কদম
  2. খ) পাতাশেওলা
  3. গ) কচু
  4. ঘ) শিমুল
ব্যাখ্যা
পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে৷
যেমনঃ পাতাশেওলা।
প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়৷ তবে ছোটো হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সাজানো থাকে৷
যেমনঃ কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস কোন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়?
  1. মিয়োসিস
  2. অ্যামাইটোসিস
  3. মাইটোসিস
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• পরাগরেণু হচ্ছে পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ।
• পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
• এদের বড়টিকে বলা হয় নালিকা পরাগধানীর প্রাচীর ফেঁটে গেলে সাধারণত এ দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে।
• এ পরাগরেণু বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় এবং পরাগায়ন ঘটায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
.
পরাগায়ন কী? 
  1. পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর
  2. গর্ভমুণ্ড থেকে ডিম্বাণুর গঠন
  3. পরাগরেণু থেকে বীজ উৎপন্ন হওয়া
  4. পরাগরেণুর গর্ভাশয়ে পরিণত হওয়া
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন (pollination): 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফুল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই ধরনের। 
যথা- 
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। 
- স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনো পরিবর্তন আসে না এবং কোনো একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। 
- তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। 
- এই বীজের থেকে জন্ম নেওয়া নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। 

২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে, তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 
- পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অংকুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। 
- দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। 
- তবে এটি বাহকনির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওযার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ?
  1. ক) ক্লোরেলা
  2. খ) ধান
  3. গ) পাইনাস
  4. ঘ) ফার্ণ
ব্যাখ্যা

সাইকাস, পাইনাস নগ্নবীজী উদ্ভিদ। এদের ফুলে ডিম্বাশয় না থাকায় ডিম্বকগুলাে নগ্ন থাকে।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বাের্ড বই

১০.
অপুষ্পক উদ্ভিদ নিচের কোনটি?
  1. ফার্ণ
  2. ধান
  3. আম
  4. নারিকেল
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদজগৎ: 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
- এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। 
- এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। 
- উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 
- সুবিশাল উদ্ভিদজগৎকে তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার নানা ভাগে বিভক্ত করা যায়। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ, 
২। মসবর্গীয় উদ্ভিদ এবং 
৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদে ফুলের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে উদ্ভিদকে সপুষ্পক ও অপুষ্পক এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার নগ্নবীজী এবং আবৃতবীজী এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না, তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 
- আর আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১১.
কোনটি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ?
  1. আম
  2. মটর
  3. শিম
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• একবীজপত্রী উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
- যেমন: ধান, গম, যব, খেজুর, বরই ইত্যাদি।
• দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
- যেমন: আম, ছোলা, মটর, শিম ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২.
ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়? 
  1. ফলধারণ
  2. নিষেক
  3. পরাগায়ন
  4. অঙ্কুরোদগম
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগসংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফল ও বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- একটি ফুলের পুংস্তবকের পরাগধানীতে আঙুলের ডগা ঘষে দেখা যায় হাতে হলুদ বা কমলা রঙের গুঁড়ো লেগেছে, এই গুঁড়ো বস্তুই পরাগরেণু। 
- ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই প্রকার। 
যথা- স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন। 

১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে। 

২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৩.
পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ফল হয় কোন উদ্ভিদের?
  1. আম
  2. কাঁঠাল
  3. লেবু
  4. আনারস
ব্যাখ্যা
কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেক ছাড়াই গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস বলা হয়।
যেমন- পেঁপে, আনারস, আঙ্গুর ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৪.
উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ কোনটি?
  1. মূল
  2. ফুল
  3. পাতা
  4. কাণ্ড
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ হলো ফুল। 

• আবৃতবীজী উদ্ভিদে ডিম্বাণু সৃষ্টি হয় ডিম্বকে, ডিম্বক সৃষ্টি হয় ফুলের স্ত্রীকেশরের গর্ভাশয়ে।
- শুক্রাণু সৃষ্টি হয় পরাগরেণুতে, পরাগরেণু সৃষ্টি হয় ফুলের পুংকেশরের পরাগধানীতে।
- কাজেই ফুলই আবৃতবীজী উদ্ভিদে জননাঙ্গ ধারণ করে।
• ফুল হলো উদ্ভিদের বংশবিস্তারের (প্রজননের) জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপ (shoot)।
- অর্থাৎ উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ হলো ফুল। 

• ফুল প্রধানত চারটি মূল অংশে বিভক্ত। যথা-
- বৃতি (Calyx) – ফুলকে রক্ষা করে। 
- পত্রমন্ডল (Corolla) – পোকামাকড় আকৃষ্ট করে। 
- পুংকেশর (Androecium) – পুরুষ প্রজনন অঙ্গ (পরাগ উৎপন্ন করে)। 
- স্ত্রীকেশর (Gynoecium) – স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ (ডিম্বাণু বহন করে)। 

• পরাগায়ন ও নিষেকের মাধ্যমে ফুলে ফল ও বীজ তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১৫.
স্টোলন দ্বারা অঙ্গজ জনন ঘটে কোন উদ্ভিদে?
  1. পেঁয়াজ
  2. কচু
  3. আলু
  4. আদা
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যম: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা নিশ্চয়ই সবাই জানে তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। 
- বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 
- এদের বিভিন্ন রূপ নিম্নে দেওয়া হলো- 
(ক) কন্দ (বাল্ব): 
- এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। 
- এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন- পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি। 

(খ) স্টোলন: 
- কচুর লতি হচ্ছে কচুর শাখা কাণ্ড, এগুলো জননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। 
- স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। 
- এভাবে স্টোলন উদ্ভিদের জননে সাহায্য করে, যেমন- কচু, পুদিনা। 

(গ) রাইজোম: 
- এরা মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে। 
- কাণ্ডের মতো এদের পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট, পর্বসন্ধিতে শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। 
- এরাও খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসাল হয়। 
- অনুকূল পরিবেশে এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, যেমন- আদা। 

(ঘ) টিউবার: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। 
- ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। 
- কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে, এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। 
- একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে, আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। 
- প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু। 

(ঙ) বুলবিল: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে, এদের বুলবিল বলে। 
- এসব বুলবিল কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়, যেমন- চুপড়ি আলু। 

(চ) অফসেট: 
- কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদে শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। 
- কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়, যেমন- কচুরিপানা।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৬.
কোনটির পুষ্পায়নে আলোর প্রভাব নেই?
  1. ভুট্টা
  2. সয়াবিন
  3. টমেটো
  4. শিম
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে কী বলে?
  1. স্পারমাটোফাইটা
  2. টেরিডোফাইট
  3. ব্রায়োফাইট
  4. থ্যালোফাইট
ব্যাখ্যা
• স্পারমাটোফাইটা:
- বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে স্পারমাটোফাইটা (Spermatophyta) বলা হয়।
- এরা উদ্ভিদ জগতের উপজগত ফ্যানেরোগ্যামিয়ার (Phanerogamia) অন্তর্ভুক্ত। Phanerogamia শব্দের প্রকৃত অর্থ-দৃশ্যমান জনন অঙ্গধারী উদ্ভিদ।
- বর্তমান পৃথিবীতে স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি।
- স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের জীবন চক্রের প্রধান অংশ স্পোরোফাইট।
- উদ্ভিদের স্পোরোফাইটিক অংশ দীর্ঘস্থায়ী এবং গ্যামিটোফাইট অতি সংক্ষিপ্ত।
• বীজ উৎপাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে স্পারমাটোফাইটাকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১. নগ্নবীজী এবং
২. আবৃতবীজী উদ্ভিদ।

১. নগ্নবীজী উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়।
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে।
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ।

২. আবৃতবীজী উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে।
- আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়।
- Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে।
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়।
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
কচুরিপানা কেন পানিতে ভাসে?
  1. ক) কাণ্ড ফাঁপা বলে
  2. খ) শিকড় বেশি বলে
  3. গ) পাতা হালকা বলে
  4. ঘ) পানির ঘনত্ব বেশি বলে
ব্যাখ্যা

জলজ উদ্ভিদ যেমন কচুরীপানা সহজে ভাসতে পারে কারণ এরা আকারে অনেক ছোট হয়, এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে বলে কাণ্ড ফাপা থাকে, এদের পাতা অনেক কম থাকে।

উৎসঃ জীব বিজ্ঞান-নবম দশম শ্রেণী

১৯.
নিচের কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ? 
  1. Chara
  2. Spirogyra
  3. Pteris
  4. Agaricus
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
Pteris
• Psilotum, 
• Lycopodium, 
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কোনটি কৃত্রিম অঙ্গজ জনন?
  1. ক) দেহের খন্ডায়ন
  2. খ) মূলের মাধ্যমে
  3. গ) রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক অঙ্গজ জননঃ
দেহের খন্ডায়ন
মূলের মাধ্যমে
রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে
পাতার মাধ্যমে

কৃত্রিম অঙ্গজ জননঃ
কলম
শাখা কলম

উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
২১.
কোন হরমোন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে?
  1. অক্সিন
  2. সাইটোকাইনিন
  3. ফ্লোরিজেন
  4. ভার্নালিন
ব্যাখ্যা
ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২.
অযৌন জনন কয় প্রকার?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
নিম্নশ্রেণীর জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি৷ অযৌন জনন প্রধানত দুই প্রকার৷
যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
২৩.
কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ নয়?
  1. ক) নারিকেল
  2. খ) আম
  3. গ) গম
  4. ঘ) ভুট্টা
ব্যাখ্যা
যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল।
যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, নারিকেল, খেজুর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২৪.
বায়ুপরাগী ফুলের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) শিমুল
  2. খ) কদম
  3. গ) ধান
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা



সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী।

২৫.
গম, ভূট্টা, ইক্ষু এদের পরাগায়ন ঘটে -
  1. কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  2. বাতাসের সাহায্যে
  3. প্রাণীর সাহায্যে
  4. মৌমাছির সাহায্যে
ব্যাখ্যা
যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় কোনটিতে পরিবর্তিত হয়?
  1. ফল
  2. বীজ
  3. ভ্রূণ
  4. সস্য
ব্যাখ্যা

- নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিবর্তিত হয়।

• নিষেকক্রিয়া:
 
- আকার, আকৃতি ও প্রকৃতিগত পার্থক্যমন্ডিত একটি পুংগ্যামিট ও স্ত্রীগ্যামিট এর মধ্যকার মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেকক্রিয়া বলা হয়।
- একে নিষেক বা গর্ভাধানও বলে।
- সকল আবৃতবীজী উদ্ভিদ, ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ, টেরিডোফাইটস্, ব্রায়োফাইটস্, শৈবাল প্রভৃতি উদ্ভিদে নিষেক ক্রিয়া ঘটে।
- নিষেক ক্রিয়ার ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট উৎপন্ন হয়।

• বীজ সৃষ্টি:
- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয়। নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়।
- জাইগোট বিভাজন ও পরিস্ফুটনের মাধ্যমে একটি ভূণ গঠন করে। একটি ভ্রূণে থাকে বীজপত্র, ভূণকান্ড, ভূণমূল ও সস্য বা এন্ডোস্পার্ম।

• নিষেকক্রিয়ার পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন:



উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
নিম্নলিখিত কোন ফুলে বায়ু দ্বারা পরাগায়ন হয়?
  1. গোলাপ
  2. ভুট্টা
  3. সূর্যমুখী
  4. জুঁই
ব্যাখ্যা

◉ ভুট্টা (Maize) একটি বায়ুপরাগী উদ্ভিদ। এর পুরুষ ফুল (Tassel) বাতাসে পরাগ ছড়িয়ে দেয় এবং স্ত্রী ফুল (Silk) সেই পরাগ গ্রহণ করে।

বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন:
- যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগী ফুল সাধারণত আকর্ষণহীন হয়। এ সমস্ত ফুল আকারে ছোট, ফলে এদের পরাগরেণু ক্ষুদ্র ও হালকা হয়।
- এদের পরাগরেণু হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে।
- এ জাতীয় উদ্ভিদের ফুলে অসংখ্য পরাগরেণু সৃষ্টি হয়, কেননা বায়ুর মাধ্যমে পরাগরেণু স্থানান্তরের সময় অনেক পরাগরেণু নষ্ট হয়ে যায়।
- বাতাসে ভেসে আসা পরাগরেণু ধরার জন্য এসকল উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ড পাখির পালকের মত রোমশ হয়।
- পাইনাস, ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু, ঘাস জাতীয় উদ্ভিদে এ প্রক্রিয়ায় পরাগায়ন ঘটে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
গোলাপ, সূর্যমুখী ও জুঁই হচ্ছে পতঙ্গ পরাগী ফুল। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৮.
হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. মাইক্রোপ্রোপাইগেশন
  2. পার্থেনোকার্পি
  3. গর্ভাধান
  4. সিনগ্যামি
ব্যাখ্যা
পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) বা অপুংজনি:
- উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদে সাধারণত ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণুর মিলন তথা নিষেকের ফলে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিম্বাণু নিষিক্ত না হয়ে সরাসরি ভ্রূণ সৃষ্টি করে থকে।
- যে প্রজনন প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণুটি নিষেক ছাড়াই ভ্রূণ সৃষ্টি করে এবং ডিম্বক স্বাভাবিক বীজে পরিণত হয় তাকে পার্থেনোজেনেসিস বা অপুংজনি বলে।

• পার্থেনোকার্পি: 
হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি (parthenocarny) বলে।
 উদাহরণ- লেবু, কমলালেবু প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
• অতি ক্ষুদ্র একটু টিস্যু থেকে অসংখ্য চারা সৃষ্টি করার পদ্ধতি কে বলা হয় মাইক্রোপ্রোপাগেইশন।

• পরাগনালিকা হতে ভ্রূণথলিতে  নিক্ষিপ্ত দুটি পুংগ্যামিটের মধ্যে একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত ও একীভূত হয়ে যায় অর্থাৎ নিষেকক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ প্রকার মিলনকে সিনগ্যামি (syngamy) বলে। 

• অপেক্ষাকৃত বড় ও নিশ্চল স্ত্রীগ্যামিটের (ডিম্বাণুর) সাথে ছোট ও সচল পুংগ্যামিটের শুক্রাণুর) যৌন মিলনকে ফার্টিলাইজেশন (fertilization) তথা নিষেকক্রিয়া, নিষেক বা গর্ভাধান বলে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২৯.
ম্যান্ডেলের ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্রানুযায়ী ফিনোটাইপের অনুপাত কত?
  1. ৯:৩:৩:১
  2. ৩:১
  3. ১:২:১
  4. ৭:৫:৩:১
ব্যাখ্যা
জিনোটাইপ (Genotype): 
- জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে। যেমন: লম্বা হওয়ার জিন, খাটো হওয়ার জিন।
- জিনোটাইপ বাহ্যিক ভাবে দেখা যায় না।

ফিনোটাইপ (Phenotype): 
- জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। যেমন: লম্বা, সুন্দর, খাটো, কালো।
- ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ। 

মেন্ডেলের সূত্র: 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩ : ১ এবং জিনোটাইপের অনুপাত ১ : ২ : .১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ফিনোটাইপের অনুপাত ৯:৩:৩:১ ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
একই ফুলে বা একই গাছের অন্য ফুলে পরাগরেণু স্থানান্তর হলে তাকে কী বলে? 
  1. স্ব-পরাগায়ন 
  2. প্রাকৃতিক পরাগায়ন 
  3. কৃত্রিম পরাগায়ন 
  4. পর-পরাগায়ন 
ব্যাখ্যা

পরাগায়ন (pollination): 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফুল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই ধরনের। 
যথা- 
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। 
- স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনো পরিবর্তন আসে না এবং কোনো একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। 
- তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। 
- এই বীজের থেকে জন্ম নেওয়া নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। 

২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে, তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 
- পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অংকুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। 
- দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। 
- তবে এটি বাহকনির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওযার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১.
কোন উদ্ভিদের পুষ্পায়নে আলো কোনো প্রভাব ফেলে না?
  1. তামাক
  2. আফিম
  3. টমেটো
  4. সয়াবিন
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ বিকাশের ক্ষেত্রে আলো ও উষ্ণতার প্রভাব বেশ লক্ষণীয়। 
- এ সকল উদ্দীপনার ফলে বিভিন্ন সংশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন উপাদান উৎপন্ন হয়ে নতুন অঙ্গের সৃষ্টি করে এবং কোষের উপাদানগুলো নিচের দিকে স্থানান্তরিত হয়। 
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
ফল ও বীজ উৎপাদনের পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. অঙ্কুরোদগম
  2. পরাগায়ন 
  3. শ্বাসক্রিয়া
  4. আলোক সংশ্লেষণ 
ব্যাখ্যা

পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন হচ্ছে ফল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই প্রকার। 
যথা-
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়। 
যেমন- ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে। 
 
২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
যেমন- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছে পর-পরাগায়ন ঘটে। 

উল্লেখ্য যে, 
- সরিষা ও কুমড়ায় স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন দুইভাবেই পরাগ সংযোগ ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩৩.
Cycas উদ্ভিদের পরাগায়ন কিসের মাধ্যমে ঘটে? 
  1. দেহ-অঙ্গের মাধ্যমে
  2. বাতাসের মাধ্যমে
  3. স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে
  4. কীট-পতঙ্গের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। 
- এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা-ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
- বাংলাদেশে প্রায় ৪০০০ প্রজাতির আবৃতবীজী উদ্ভিদ থাকলেও মাত্র কয়েক প্রজাতির নগ্নবীজী উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে। 
যেমন- 
• Cycas pectinata যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়; 
• Podocarpus neriifolius, বাংলাদেশে এটি বাঁশপাতা নামে পরিচিত এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট বনাঞ্চলে এখনো পাওয়া যায় এবং 
• Gnetum নামক একটি কাষ্ঠল লতানো উদ্ভিদ যা সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন বনে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে Gnetum (নিটাম) এর ২/৩টি প্রজাতি আছে বলে ধারণা করা হয়। 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৩৪.
নিচের কোন উদ্ভিদ শাখা কলমের মাধ্যমে চাষ করা যায়?
  1. পটল
  2. ডালিয়া
  3. গোলাপ
  4. মিষ্টি আলু
ব্যাখ্যা
গোলাপ শাখা কলমের মাধ্যমে চাষ করা যায়।

• দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়।

• এটা আবার দু'ভাবে হয়।
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং
(খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন।

(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন:
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি।
- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি।
- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যথা- পাঁথরকুচি।

(খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন: এটি বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে। যথা-
১। শাখা কলম দ্বারা - কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে স্বাভাবিকভাবে নতুন উদ্ভিদ জন্মায় না কিন্তু উদ্ভিদের শাখা কেঁটে ভেজা মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- গোলাপ, চাঁপা, জবা ইত্যাদি।

২। গুটি কলমের মাধ্যমে - অনেক উদ্ভিদের শাখার চারপাশের বাকল ছাড়িয়ে নিয়ে তার চারদিকে সার ও গোবর মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপরে খড় বা চটের বস্তা বেঁধে রাখলে, উক্ত স্থানে শিকড় গজায় তখন শিকড়সহ শাখাটি মাতৃ উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে অন্যত্র রোপন করা হয়।
যেমন- গোলাপ, আম, লেবু, লিচু ইত্যাদি।

৩। দাবা কলমের দ্বারা - এক্ষেত্রে গাছের একটি শাখাকে মাটির সাথে আবদ্ধ করে প্রত্যেক দিন উক্ত স্থানে পানি দেয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মাটিতে আবদ্ধ শাখার পর্ব থেকে মূল গজায়। পরে মূলসহ শাখাটিকে কেটে অন্যত্র রোপন করা হয়।
যেমন- চন্দ্রমল্লিকা, পুদিনা, লেবু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. তামাক
  2. সয়াবিন
  3. আফিম
  4. টমেটো
ব্যাখ্যা
দিবালোকের দীর্ঘতা ভিত্তিক পুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ: 
- সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান থাকে না, কখনও দিন ছোট ও রাত বড় আবার কখনও দিন বড় ও রাত ছোট থাকে। 
- দিবাকালের দীর্ঘতার উপর ভিত্তি করে পুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
যথা- 
ছোট দিনের উদ্ভিদ: 
- দিনের দৈর্ঘ্য কম হলে যেসব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় ছোট দিনের উদ্ভিদ। 
- দিন ছোট হলে রাত বড় হয় তথা অন্ধকার কাল বেশি থাকে। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, তামাক, শিম, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি ছোট দিনের উদ্ভিদ।

বড় দিনের উদ্ভিদ: 
- রাতের অন্ধকারের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে যে সব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় বড়দিনের উদ্ভিদ। 
- উদ্ভিদের বিভিন্নতায় দিনের এ দৈর্ঘ্যকাল ১৪-১৮ ঘন্টা হতে পারে। 
যেমন- পালংশাক, লেটুস, আফিম, ভুট্টা, যব, ঝিঙা ইত্যাদি বড় দিনের উদ্ভিদ। 

নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিন রাতের তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের কোন প্রভাব নাই এরাই নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ। 
- প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই এদের ফুল ধরে। 
- এদেরকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জন্মানো যায়। 
যেমন- টমেটো, শশা, কার্পাস, সূর্যমুখী, আউশ ধান ইত্যাদি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
পাতার মাধ্যমে প্রজনন ঘটে থাকে-
  1. পাথরকুচি
  2. আম
  3. আদা
  4. কাঁকরোল
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রজনন:

• যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে। প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা- অযৌন ও যৌন জনন ।

• যৌন প্রজনন: 
- বীজের মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন হয়।
- সপুষ্পক উদ্ভিদ যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
- উদাহরণ: ধান, আম, জাম, গম ইত্যাদি।  

• অযৌন জনন: যে প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই জনন সম্পন্ন হয় তাই অযৌন জনন। নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। অযৌন জনন প্রধানত দুই ধরনের, যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন।

১. স্পোর/ অনুবীজ উৎপাদন: নিম্ন শ্রেণির অপুষ্পক উদ্ভিদ স্পোর বা অনুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করে। উদাহরণ: শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ণ ইত্যাদি।
২. অঙ্গজ প্রজনন: দেহ অঙ্গের মাধ্যমে (মূল, কান্ড, পাতা প্রভৃতি) প্রজনন হয়।
- মূলের মাধ্যমে: মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল প্রভৃতি।
- পাতার মাধ্যমে: পাথরকুচি (পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে তার থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়)। 
- রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে: আলু, আদা, হলুদ, পিঁয়াজ, রসুন , আনারস, কলা ইত্যাদি।


উৎস: উচ্চ-মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
৩৭.
পাতা শ্যাওলা পরাগায়নের জন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করে?
  1. পানি
  2. পতঙ্গ
  3. বায়ু
  4. প্রাণী
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
গুটি কলমের মাধ্যমে জন্মানো উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. জবা 
  2. পুদিনা 
  3. চন্দ্রমল্লিকা 
  4. আম 
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম অঙ্গজ জনন: 
- কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে। 
যথা- 
১। শাখা কলম দ্বারা: 
- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে স্বাভাবিকভাবে নতুন উদ্ভিদ জন্মায় না কিন্তু উদ্ভিদের শাখা কেঁটে ভেজা মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- গোলাপ, চাঁপা, জবা ইত্যাদি। 

২। গুটি কলমের মাধ্যমে: 
- অনেক উদ্ভিদের শাখার চারপাশের বাকল ছাড়িয়ে নিয়ে তার চারদিকে সার ও গোবর মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপরে খড় বা চটের বস্তা বেঁধে রাখলে, উক্ত স্থানে শিকড় গজায় তখন শিকড়সহ শাখাটি মাতৃ উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে অন্যত্র রোপন করা হয়। 
যেমন- গোলাপ, আম, লেবু, লিচু ইত্যাদি। 

৩। দাবা কলমের মাধ্যমে: 
- এক্ষেত্রে গাছের একটি শাখাকে মাটির সাথে আবদ্ধ করে প্রত্যেক দিন উক্ত স্থানে পানি দেয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মাটিতে আবদ্ধ শাখার পর্ব থেকে মূল গজায়। পরে মূলসহ শাখাটিকে কেটে অন্যত্র রোপন করা হয়। 
যেমন- চন্দ্রমল্লিকা, পুদিনা, লেবু ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
কোন রাসায়নিকের প্রভাবে ফলের রং হলুদ হয়? 
  1. লাইকোপেন
  2. ক্যারোটিন
  3. জ্যান্থোফিল
  4. ক্লোরোফিল 
ব্যাখ্যা
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন (কমলা বর্ণ কণিকা) ও জ্যান্থোফিল (হলুদ বর্ণ কণিকা) বেশি পরিমাণে থাকে এবং ক্লোরোফিল (সবুজ বর্ণ কণিক) অল্প পরিমাণে থাকে। 
- ফুলের পাপড়িতেও ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে, এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। 
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রজাপতি ও পাখি পরাগায়নে ও বংশবিস্তারে সাহায্য করে। 
- টমেটোর পাকলে যে লাল টকটকে রং হয় তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪০.
একটি আদর্শ ফুলের কয়টি স্তবক থাকে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা

• ফুল:
- প্রজননের রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ হলো ফুল।
- ফুল উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।
- একটি আদর্শ ফুলের ৫ টি স্তবক থাকে। যথা:

১। পুষ্পাক্ষ:

- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
- সাধারণত গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে।
- পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে।

২। বৃতি:

-  ফুলের বাইরের স্তবককে বৃতি বলে।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যাংশ বলে।
- প্রধান কাজ ফুলের ভেতরের অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, এবং পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা করা।
- সবুজ বৃতি খাদ্য প্রস্তুত কাজে অংশ নেয়।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে।

৩। দলমন্ডল:

- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল।
- এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।
- সাধারণত রঙ্গিন হয়।
- উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমন্ডল পোকামাকড় ও পশু-পাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।
- অনেক সময় ফুলের পাপড়ি কোন কোন পোকামাকড়কে বসে মধু খেতে সাহায্য করে।

৪। পুংস্তবক:

- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়।
- স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়।
- একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে।

৫। স্ত্রীস্তবক:

- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা: গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।
২) জীব বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
নিচের কোন উদ্ভিদের বীজে এরিল নামক স্তর পাওয়া যায় না? 
  1. লিচু
  2. শাপলা
  3. সফেদা
  4. জায়ফল
ব্যাখ্যা
বীজ সৃষ্টি: 
- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উভয় প্রকার উদ্ভিদে ডিম্বক থেকে বীজ সৃষ্টি হয়। 
- নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়। 
- ডিম্বকের ভেতরে এ ধরনের পরিবর্তনের সাথে সাথে ডিম্বকের ত্বকের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং অপেক্ষাকৃত কঠিন ও শুষ্ক হয়ে বীজত্বকে পরিণত হয়। 
- রসালো ডিম্বকটি পর্যায়ক্রমে পানি হারিয়ে শুষ্ক ও কঠিন বীজে পরিণত হয়। 
- এ ধরনের পরিবর্তনকালে অনেক ক্ষেত্রে বীজের একটি তৃতীয় স্তর সৃষ্টি হয়, একে এরিল বলে। 
- লিচু ও জায়ফলে এরিল পাওয়া যায়। 
- শাপলা বীজেও এরিল থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
পাথরকুচি কিসের মাধ্যমে জনন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে?
  1. ক) যৌন জনন
  2. খ) কলম
  3. গ) পাতা
  4. ঘ) রাইজোম
ব্যাখ্যা
পাতার মাধ্যমে অঙ্গজ জননঃ
কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়৷
যেমন- পাথরকুচি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৪৩.
একটি আদর্শ ফুলের অংশ কোনটি?
  1. বৃতি
  2. পুংস্তবক
  3. পুষ্পাক্ষ
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের ফুল: 

• একটি সম্পূর্ণ ফুলের ৫ টি অংশ থাকে। যথা: 
- পুষ্পাক্ষ,
- বৃতি,
- দল,
- পুংস্তবক এবং 
- স্ত্রীস্তবক।



উৎস:  উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৪.
বায়ু পরাগী ফুল কোনটি? 
  1. ধান 
  2. কদম 
  3. জবা 
  4. পাতা শ্যাওলা 
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 
বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 
পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 
প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
ভুট্টায় কোন ধরনের পরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) বায়ু পরাগায়ন
  2. খ) পতঙ্গ পরাগায়ন
  3. গ) প্রাণী পরাগায়ন
  4. ঘ) পানি পরাগায়ন
ব্যাখ্যা
ধান, ভুট্টা, গম, ইক্ষু ইত্যাদিতে বায়ু পরাগায়ন ঘটে।
সূত্রঃ ১১তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৪৬.
পাখির দ্বারা পুষ্পরেণু বহন করাকে কী বলে? 
  1. Ornithophily
  2. Anemophily
  3. Entomophily
  4. Hydrophily
ব্যাখ্যা
• অর্নিথোফিলি (Ornithophily):
- যখন কোনো উদ্ভিদের পরাগ (pollen) পাখির মাধ্যমে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে স্থানান্তরিত হয়, তখন সেই পরাগসংস্থান প্রক্রিয়াকে অর্নিথোফিলি বলে।
- এই ধরনের ফুলগুলো সাধারণত উজ্জ্বল রঙের ও মিষ্টি ঘ্রাণযুক্ত হয়, যাতে পাখিরা আকৃষ্ট হয়। যেমন: হিবিসকাস, বাবলা, কৃষ্ণচূড়া প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
- এনেমোফিলি (Anemophily): বাতাসের মাধ্যমে পরাগ স্থানান্তর। যেমন: ধান, গম।
- এন্টোমোফিলি (Entomophily): কীটপতঙ্গের মাধ্যমে পরাগসংস্থান। যেমন: মৌমাছি, প্রজাপতি, পিপঁড়ে।
- হাইড্রোফিলি (Hydrophily):  পানির মাধ্যমে পরাগ স্থানান্তর। যেমন: জলজ উদ্ভিদ যেমন ভালিসনেড়িয়া।

উৎস: Collins Dictionary ও ব্রিটানিকা।
৪৭.
পর-পরাগায়নের সুবিধা কোনটি?
  1. প্রজাতির বিশুদ্ধতা রক্ষিত হয়
  2. পরাগরেণুর অপচয় কম হয়
  3. বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।
পর-পরাগায়নের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়,
বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়,
বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।

দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
এ কারণে এ সব গাছের নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়।
তবে এটি বাহক নির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
কোন উদ্ভিদের ফুলের পরাগায়ন বায়ু দ্বারা হয়? 
  1. শিমুল
  2. কুমড়া
  3. ধান
  4. কদম
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- পরাগরেণু স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে, যে বাহক পরাগরেণু বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। 
- বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক, এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। 
- মধু খেতে অথবা সুন্দর রঙের আকর্ষণে পতঙ্গ বা পাখি ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়, এ সময়ে পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। 
- এই বাহকটি যখন একই প্রজাতির অন্য ফুলে গিয়ে বসে তখন পরাগরেণু ঐ ফুলের গর্ভমুণ্ডে লেগে যায়, এভাবে তাদের অজান্তে পরাগায়নের কাজটি হয়ে যায়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, একে অভিযোজন বলা হয়।
- বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য অভিযোজনগুলোও আলাদা যা নিম্নরূপ: 
১। পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত। 
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

২। বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। 
- পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র। 
- এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন- ধান। 

৩। পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য। 
- এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। 
-  স্ত্রীফুলের বৃত্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃত্ত ছোট। 
- পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন- পাতাশ্যাওলা। 

৪। প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। 
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪৯.
কোন উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম‌ ঘটে?
  1. ক) পেঁয়াজ
  2. খ) তেঁতুল
  3. গ) কেওড়া
  4. ঘ) গর্জন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে বলা হয় জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
- উদাহরণ: সুন্দরী, পশুর, গোলপাতা, কেওড়া, হারগোজা ইত্যাদি উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫০.
নিচের কোনটি ছোট দিনের উদ্ভিদ?
  1. ক) লেটুস
  2. খ) পালংশাক
  3. গ) ঝিঙা
  4. ঘ) সয়াবিন
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা -
• বড় দিনের উদ্ভিদ:
- আফিম,
- যব,
- মূলা,
- পালংশাক,
- লেটুস
- ঝিঙা,
- মটরশুটি ইত্যাদি।

• ছোট দিনের উদ্ভিদ:
- শিম
- আলু
- ডালিয়া
- সাজিনা
- ইক্ষু
- সয়াবিন
- পাট
- আম
- সূর্যমুখী
- চন্দ্রমল্লিকা,

• নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ:
- আউশ ধান
- কার্পাস
- শসা
- টমেটো
- সূর্যমুখী

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

৫১.
ধানের পরাগরেণু স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম কোনটি?
  1. বায়ু
  2. প্রাণি
  3. পানি
  4. পতঙ্গ
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- পরাগরেণু স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে, যে বাহক পরাগরেণু বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। 
- বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক, এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, একে অভিযোজন বলা হয়।
- বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য অভিযোজনগুলোও আলাদা যা নিম্নে বর্ণনা করা হলো: 
১। বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। 
- পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র। 
- এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন- ধান। 

২। পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত। 
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

৩। প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। 
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

৪। পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য।  
- এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। 
-  স্ত্রীফুলের বৃত্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃত্ত ছোট। 
- পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন- পাতাশ্যাওলা। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫২.
ধান উদ্ভিদে কোন ধরনের পরাগায়ন হয়?
  1. বায়ু পরাগী
  2. পানি পরাগী 
  3. পতঙ্গ পরাগী 
  4. প্রাণী পরাগী 
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায় নিচের কোনটির জন্য?  
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) লিউকোপ্লাস্ট
  3. গ) সেন্ট্রোসোম
  4. ঘ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড- সাইটোপ্লাজমের মধ্যে যে সকল ক্ষুদ্র, দানাদার বিভিন্ন আকারের বস্তু দেখা যায় তাদেরকে বলা হয় প্লাস্টিড।

এর উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়।
উদ্ভিদ কোষে সাধারণত তিন প্রকার প্লাস্টিড থাকে।
যথাঃ  ক্রোমোপ্লাস্ট, ক্লোরোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।


 ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়।

ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি

পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪.
গুচ্ছ ফল কোনটি? 
  1. কাঁঠাল
  2. জাম
  3. আনারস
  4. আতা
ব্যাখ্যা
ফল: 
- নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে। 
- শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আম, কাঁঠাল। 
- গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি। 
- প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- সরল ফল, গুচ্ছফল ও যৌগিক ফল। 
১) সরল ফল: 
- ফুলের একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে যে ফলের উৎপত্তি তাকে সরল ফল বলে। যেমন- আম। এরা রসাল বা শুষ্ক হতে পারে। 
- আবার সরল ফল দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) রসাল ফল: যে ফলের ফলত্বক পুরু এবং রসাল তাকে রসাল ফল বলে। এ ধরনের ফল পাকলে ফলত্বক ফেটে যায় না। 
যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি। 

খ) নীরস ফল: যে ফলের ফলত্বক পাতলা এবং পরিপক্ক হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায় তাকে নীরস ফল বলে। 
যেমন- শিম, ঢেঁড়স, সরিষা ইত্যাদি। 

২) গুচ্ছ ফল: 
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। 
যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি। 

৩) যৌগিক ফল: 
- একটি মজুরির সম্পূর্ণ অংশ যখন একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যেমন- আনারস, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৫.
গমে কিভাবে পরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) মৌমাছির সাহায্যে
  2. খ) বাতাসের সাহায্যে
  3. গ) কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  4. ঘ) বৃষ্টির সাহায্যে
ব্যাখ্যা

• যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমনঃ
- ধান,
- গম,
- ভুট্টা,
- ইক্ষু ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬.
Cycas উদ্ভিদে পরাগায়ন ঘটে কোন মাধ্যমে? 
  1. পানি 
  2. পোকা 
  3. বাতাস 
  4. পাখি 
ব্যাখ্যা

নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা-ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ।
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন- Cycas pectinata একটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়। 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৫৭.
পতঙ্গ পরাগায়ন ঘটে কোনটিতে?
  1. কলা
  2. কদম
  3. গোলাপ
  4. তুলা
ব্যাখ্যা
পরাগায়ণ:
• ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর ঐ ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

• পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা:
১. স্ব-পরাগায়ন: একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্বপরাগায়ন বলে।
- উদাহরণ: ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া, শিম, টমেটো, তুলা ইত্যাদি।

২. পর পরাগায়ন: একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগায়ন: ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।
- পতঙ্গ পরাগায়ন: সূর্যমুখী, জুঁই, সরিষা, গোলাপ ইত্যাদি।
- প্রাণীপরাগায়ন: কদম, কলা, কচু, শিমুল ইত্যাদি।
- পানি পরাগায়ন: পাতা শ্যাওলা, কাঁটা শ্যাওলা ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮.
নিচের কোনটি স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন করে?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ফার্ন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• অযৌন প্রজনন:
- পুং ও স্ত্রীগ্যামেটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদের যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন প্রজনন বলে।
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে অযৌন স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন হয়ে থাকে এবং আবৃতবীজী উদ্ভিদে সাধারণত দেহ অঙ্গের মাধ্যমে অযৌন জনন হয়ে থাকে।   

• অযৌন স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন:
- নিম্নশ্রেণির বেশকিছু উদ্ভিদে বিভিন্ন ধরনের রেণু বা স্পোর তৈরি হয়। এসব স্পোর অঙ্কুরিত হলে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। যেমন-

ক) শৈবাল - জুওস্পোর, আপ্লানোস্পোর এবং স্থিররেণু বা অ্যাকাইনেটি।
খ) ছত্রাক - কনিডিয়া বা কনিডিয়স্পোর, বেসিডিওস্পোর এবং স্পোরানজিওস্পোর।
গ) ফার্ন -  রেণু বা স্পোর সম-আকৃতির অর্থাৎ হোমোস্পোরাস।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৫৯.
উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদসমূহকে কয়টি শ্রেণি ভাগ করেন?
  1. ক) ৩ ভাগে
  2. খ) ৪ ভাগে
  3. গ) ৫ ভাগে
  4. ঘ) ৬ ভাগে
ব্যাখ্যা
থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক। তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ট্রি বা বৃক্ষ, শ্রাব বা গুল্ম, আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং হার্ব বা বীরুৎ।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬০.
কোনটি প্রাণীপরাগী উদ্ভিদের উদাহরণ? 
  1. কদম 
  2. ধান 
  3. জবা 
  4. সরিষা 
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- পরাগ স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে। 
- যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। 
- বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। 
- মধু খেতে অথবা সুন্দর রঙের আকর্ষণে পতঙ্গ বা প্রাণী ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। এ সময়ে ঐ ফুলের পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। এই বাহকটি যখন অন্য ফুলে গিয়ে বসে তখন পরাগ পরবর্তী ফুলের গর্ভমুণ্ডে লেগে যায়, এভাবে পরাগায়ন ঘটে। 

প্রাণীর মাধ্যমে পরাগায়ন: 
- প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সাজানো থাকে। 
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। 
যেমন: কদম, শিমুল, কচু ইতাদি। 

অন্যদিকে, 
- ধান বায়ুপরাগী উদ্ভিদের উদাহরণ। 
- জবা ও সরিষা পতঙ্গপরাগী উদ্ভিদের উদাহরণ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১.
নিচের কোন উদ্ভিদটি পতঙ্গ পরাগী ফুলের উদাহরণ? 
  1. কুমড়া
  2. ধান
  3. পাতা শ্যাওলা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
• পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

• বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

• পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

• প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
স্পোর উৎপাদন কিসে সাহায্য করে? 
  1. জীবাণুদের বৃদ্ধিতে
  2. খাদ্য উৎপাদনে
  3. উদ্ভিদের বংশ রক্ষায়
  4. জনন কোষের সৃষ্টিতে
ব্যাখ্যা
প্রজনন বা জনন: 
- যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে। 
- প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার। যথা-অযৌন ও যৌন জনন। 

অযৌন জনন: 
- যে প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই জনন সম্পন্ন হয় তাই অযৌন জনন। 
- নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। 
- অযৌন জনন প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন। 

ক) স্পোর উৎপাদন: 
- প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। 
- উদ্ভিদের দেহকোষ পরিবর্তিত হয়ে অণুবীজবাহী একটি অঙ্গের সৃষ্টি করে, এদের অণুবীজথলি বলে। 
- একটি অণুবীজথলিতে সাধারণত অসংখ্য অণুবীজ থাকে, তবে কখনো কখনো একটি খলিতে একটি অণুবীজ থাকতে পারে। 
- থলির বাইরেও অণুবীজ উৎপন্ন হয়, এদের বহিঃঅণুবীজ বলে। বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে। 
- Mucor এ থলির মধ্যে অসংখ্য অণুবীজ উৎপন্ন হয়। 
- Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে। 

খ) অঙ্গজ জনন: 
- কোনো ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খন্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে, তাকে অঙ্গজ জনন বলে। 
- এ ধরনের জনন প্রাকৃতিক নিয়মে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বলা হয়। 
- যখন কৃত্রিমভাবে অঙ্গজ জনন ঘটানো হয় তখন তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬৩.
উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে কোনটি?
  1. ক) কোষগহবর
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) লাইসোজম
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে থাকে।

উদ্ভিদ কোষে অবস্থিত দুটি পর্দা পরিবেষ্টিত এবং বিশেষ বিপাকীয় কাজে লিপ্ত (রঞ্জক যুক্ত বা রঞ্জক বিহীন) অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড বলে।
প্লাস্টিডের কাজ (Function of Plastid)-
১. খাদ্য প্রস্তুত করা
২. খাদ্য সঞ্চয় করা এবং
৩. উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৬৪.
নিচের কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ?
  1. Pteris
  2. Psilotum
  3. Lycopodium
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
Pteris
Psilotum
Lycopodium
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. লাইকেন
  2. ফার্ন
  3. জিমনোস্পার্ম
  4. অ্যানজিওস্পার্ম
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা: 
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় তুন্দ্রা অঞ্চলে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- এখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- এখানে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬.
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস কোন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়? 
  1. মিয়োসিস
  2. মাইটোসিস
  3. অ্যামাইটোসিস
  4. মেটামরফোসিস
ব্যাখ্যা

• পরাগরেণু একটি হ্যাপ্লয়েড কোষ। হ্যাপ্লয়েড কোষের নিউক্লিয়াস যখন সংখ্যাবৃদ্ধি করে বা বিভাজিত হয়, তখন তা মাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটে। এই বিভাজনের ফলে পরাগরেণুর ভেতরে জনন নিউক্লিয়াস ও নালী নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।

- পরাগরেণু হচ্ছে পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ।
-  পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
-  এদের বড়টিকে বলা হয় নালিকা পরাগধানীর প্রাচীর ফেঁটে গেলে সাধারণত এ দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে।
- এ পরাগরেণু বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় এবং পরাগায়ন ঘটায়। 

অন্যান্য অপশন:
- মিয়োসিস: পরাগরেণু নিজে হ্যাপ্লয়েড হওয়ায় এতে পুনরায় হ্রাসমূলক বিভাজন ঘটা সম্ভব নয়।
- অ্যামাইটোসিস: এটি মূলত অতি নিম্নশ্রেণির এককোষী জীবের সরাসরি বিভাজন পদ্ধতি যা উন্নত উদ্ভিদে দেখা যায় না।
- মেটামরফোসিস: এটি প্রাণীর দৈহিক রূপান্তর প্রক্রিয়া যা কোষ বিভাজনের কোনো পদ্ধতি নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬৭.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য নয় কোনটি? 
  1. এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের। 
  2. এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক। 
  3. এদের মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়।
  4. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
নিচের কোনটি স্ত্রীস্তবকের অংশ?
  1. ক) পুংদন্ড
  2. খ) পরাগদন্ড
  3. গ) পরাগধানী
  4. ঘ) গর্ভদন্ড
ব্যাখ্যা
স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে গঠিত হতে পারে৷ একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ।
যথাঃ গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড, গর্ভমুণ্ড।
পুংদণ্ড বা পরাগদণ্ড এবং পরাগধানী বা পরাগথলি হচ্ছে পুংকেশরের অংশ।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) পরাশ্রয়ী
  2. খ) মৃতজীবী
  3. গ) স্বভোজী
  4. ঘ) পরভোজী
ব্যাখ্যা

- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে তাই এরা স্বভোজী উদ্ভিদ।
- এদের দেহে ক্লোরোফিল আছে।
- এরা এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭০.
ধানের ফুলে পরাগ সংযোগ ঘটে-
  1. বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝড়ে পড়ে
  2. পাতা দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে
  3. কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  4. ফুলে ফুলে সংস্পর্শে
ব্যাখ্যা
- ধানের ফুলে পরাগ সংযোগ ঘটে- বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝরে পড়ে। 

বায়ুর সাহায্যে পরাগায়ন: 
- অনেক উদ্ভিদের ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে হয়ে থাকে। 
- যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে। 
- বায়ু পরাগী ফুল সাধারণত আকর্ষণহীন হয়। 
- এ সমস্ত ফুল আকারে ছোট তাই এদের পরাগরেণু ক্ষুদ্র ও হালকা হয়। 
- এদের পরাগরেণু হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে। 
- বাতাসে ভেসে আসা পরাগরেণু ধরার জন্য এসকল উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ড পাখির পালকের মত রোমশ হয়। 
- পাইনাস, ধান, ভূট্টা, ইক্ষু, গম ইত্যাদি উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটে বাতাসের সাহায্যে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
কচুরীপানা সহজে পানিতে ভাসতে পারে, কারণ-
  1. ক) শিকড় লম্বা বলে
  2. খ) কান্ডে বায়ু কুঠুরী থাকে
  3. গ) এরা পানিতে জন্মে বলে
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
জলজ উদ্ভিদ যেমন কচুরীপানা সহজে ভাসতে পারে কারন এরা আকারে অনেক ছোট হয়, এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে, এদের পাতা অনেক কম থাকে।
সূত্রঃ ১০তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৭২.
নিষেকক্রিয়ার পরে গর্ভাশয় কীসে রূপান্তরিত হয়?
  1. ফল
  2. বীজ 
  3. ফলত্বক
  4. টেস্টা
ব্যাখ্যা

নিষেকক্রিয়ার পরে গর্ভাশয় ফল এ রূপান্তরিত হয়। 

• নিষেকক্রিয়ার পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন
নিষেকক্রিয়ার পূর্বে --- নিষেকক্রিয়ার পরে
গর্ভাশয় --------------- ফল,
গর্ভাশয় ত্বক ----------- ফলত্বক,
ডিম্বক ---------------- বীজ,
এক্সাইন -------------- টেস্টা,
ইন্টাইন -------------- টেগমেন,
ভ্রূণপোষক টিস্যু ------- নিঃশেষ হয়ে যায়,
ডিম্বাণু (নিষিক্ত) ------ ভ্রূণ,
সস্য মাতৃকোষ -------- সস্য,
সাহায্যকারী কোষ ----- নষ্ট হয়ে যায়,
প্রতিপাদ কোষ -------- নষ্ট হয়ে যায়,
মাইক্রোপাইল -------- মাইক্রোপাইল,
হাইলাম ------------- হাইলাম,
ডিম্বকনাড়ী ---------- বীজবৃন্ত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
ধান কোন প্রকার পরাগী ফুলের উদাহরণ?
  1. বায়ু পরাগী
  2. প্রাণী পরাগী
  3. পতঙ্গ পরাগী
  4. পানি পরাগী
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যাদের মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন।
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
- এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪.
নিচের কোন উদ্ভিদ দেহের খণ্ডায়নের মাধ্যমে জনন করে? 
  1. পটল
  2. সেগুন
  3. মিউকর
  4. মিষ্টি আলু
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন: 
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়। 
যেমন- 
১. দেহের খণ্ডায়ন: 
- সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। 
- Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে। 

২. মূলের মাধ্যমে: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। 
যেমন- পটল, সেগুন ইত্যাদি। 
- কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়, এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়। 
যেমন- মিষ্টি আলু। 

৩. রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা নিশ্চয়ই সবাই জানে তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। 
- বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭৫.
বায়ু পরাগী ফুল কোনটি? 
  1. কদম
  2. জবা
  3. ধান
  4. পাতা শ্যাওলা
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
নিচের কোনটি পতঙ্গ পরাগী ফুল?
  1. ক) ধান
  2. খ) কুমড়া
  3. গ) পাতা শ্যাওলা
  4. ঘ) কদম
ব্যাখ্যা
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
এদের গর্ভমুন্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমন্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে।
ফলে বাতাস থেকে পরাগরেণু সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারে, যেমন- ধান।

পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃন্ত ছোট। পরিণত পুংপুষ্প বৃন্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে এবং স্ত্রী পুষ্পের কাছে পৌঁছালে সেখানেই পরাগায়ন ঘটে, যেমন- পাতা শ্যাওলা।

প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
নিচের কোনটি বায়ু পরাগী ফুলের উদাহরণ?
  1. ধান 
  2. জবা 
  3. কদম 
  4. শিমুল 
ব্যাখ্যা

- বায়ু পরাগী ফুলের উদাহরণ হচ্ছে ধান। 

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮.
টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়?
  1. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে না।
  2. এরা অবীজী উদ্ভিদ।
  3. এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক।
  4. এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা:  
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।  
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
Cycas-এর পাতায় বিশেষ কোন টিস্যু পাওয়া যায়?
  1. কোলেনকাইমা টিস্যু
  2. প্যারেনকাইমা টিস্যু 
  3. ট্রান্সফিউশন টিস্যু 
  4. এয়ারেনকাইমা টিস্যু
ব্যাখ্যা

নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। 
- এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা- ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 
- গ্রিক Gymnos অর্থ হলো naked = নগ্ন এবং spermos অর্থ হলো seed = বীজ। 
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
- বাংলাদেশে প্রায় ৪০০০ প্রজাতির আবৃতবীজী উদ্ভিদ থাকলেও মাত্র কয়েক প্রজাতির নগ্নবীজী উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে। 
যেমন- Cycas pectinata যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়; 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। Cycas-এর পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৮০.
নিচের কোনটি বায়ু পরাগায়িত উদ্ভিদ? 
  1. কদম 
  2. জবা 
  3. ধান 
  4. শিমুল 
ব্যাখ্যা

- বায়ু পরাগী উদ্ভিদ হচ্ছে ধান। 

পরাগায়নের মাধ্যম: 

- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১.
নিচের উদ্ভিদগুলোর মধ্যে কোনটির অঙ্গজ প্রজনন পাতার মাধ্যমে হয়? 
  1. পিঁয়াজ
  2. আদা
  3. কচুরিপানা
  4. পাথরকুচি
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন: 
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়। 
যেমন- 
১. দেহের খণ্ডায়ন: 
- সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে। 

২. মূলের মাধ্যমে: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। যেমন-পটল, সেগুন ইত্যাদি। 
- কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়। যেমন- মিষ্টি আলু। 

৩. রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা দেখলে বুঝা যায়, তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 
- এদের বিভিন্ন রূপ নিম্নে দেওয়া হলো- 
(ক) টিউবার: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে। এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে। আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু। 
(খ) রাইজোম: 
- এরা মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে। কাণ্ডের মতো এদের পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট। পর্বসন্ধিতে শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। এরাও খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসাল হয়। অনুকূল পরিবেশে এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, যেমন- আদা। 
(গ) কন্দ (বাল্ব): 
- এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি। 
(ঘ) স্টোলন: 
- কচুর লতি হলো কচুর শাখা কাণ্ড। এগুলো জননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। এভাবে স্টোলন উদ্ভিদের জননে সাহায্য করে, যেমন- কচু, পুদিনা। 
(ঙ) অফসেট: 
- কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদে শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়, যেমন- কচুরিপানা। 
(চ) বুলবিল: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিন্ডের মতো আকার ধারণ করে। এদের বুলবিল বলে। এসব বুলবিল কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়, যেমন- চুপড়ি আলু। 

৪. পাতার মাধ্যমে: 
- কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যেমন- পাথরকুচি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮২.
স্ব-পরাগায়নের সুবিধা কোনটি?
  1. ক) বীজ অধিক জীবনী শক্তি সম্পন্ন হয়
  2. খ) প্রজাতির গুনাগুন অক্ষুন্ন থাকে
  3. গ) বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বেশি হয়
  4. ঘ) নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
স্ব-পরাগায়ন : স্ব- পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়।
এর ফলে উৎপন্ন নতুন উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না। ফলে প্রজাতির গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।

পর-পরাগায়ন : পর-পরাগায়নের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এ সব গাছের নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়। 

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
কোন উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না? 
  1. সুপারি
  2. সাইকাস
  3. আম
  4. জাম
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না। তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 

২। আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮৪.
কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ? 
  1. Chara
  2. Spirogyra
  3. Psilotum
  4. Agaricus
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
• Pteris, 
Psilotum
• Lycopodium, 
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়নের বৈশিষ্ট্য হলো—
  1. নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়
  2. জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়
  3. প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে
  4. প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে
ব্যাখ্যা

◉ স্ব-পরাগায়নে একই ফুল বা একই গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে। ফলে বাহকের প্রয়োজন হয় না, পরাগরেণুর অপচয়ও তুলনামূলকভাবে কম হয়। এর ফলে যে নতুন উদ্ভিদ জন্মে, তার বৈশিষ্ট্য প্রায় একই থাকে, অর্থাৎ প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। তবে অসুবিধা হলো—এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে অভিযোজন ক্ষমতা হ্রাস পায়।

পরাগায়ন (pollination): 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফুল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুধরনের, স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন। 

স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। 
- স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনো পরিবর্তন আসে না এবং কোনো একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। 
- তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। 
- এই বীজের থেকে জন্ম নেওয়া নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। 

পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে, তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 
- পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অংকুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। 
- দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। 
- তবে এটি বাহকনির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওযার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬.
ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করে কোনটি? 
  1. ক্রোমোপ্লাস্ট
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. ফ্লোরোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে।

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭.
পরাগায়ন কত ধরনের হয়ে থাকে? 
  1. দুই ধরনের 
  2. তিন ধরনের 
  3. চার ধরনের 
  4. পাঁচ ধরনের 
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়।
- পরাগায়ন ফল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত।
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।
- পরাগায়ন দুই ধরনের হয়ে থাকে
যথা: স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন।

১. স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
যেমন- ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।

২. পর-পরাগায়ন:
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
যেমন- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছে পর-পরাগায়ন ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮.
কোন উদ্ভিদের দেহে ক্লোরোফিল নেই?
  1. মস
  2. টেরিস
  3. স্পাইরোগাইরা
  4. এগারিকাস
ব্যাখ্যা
- সুবিশাল উদ্ভিদজগৎকে তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার নানা ভাগে বিভক্ত করা যায়। 
- জর্জ বেনথাম ও ডাল্টন হুকার এর প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী উদ্ভিদ জগৎকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
• উদ্ভিদজগৎ: অপুষ্পক উদ্ভিদ [সমাঙ্গবর্গীয় (শৈবাল, ছত্রাক), মসবর্গীয়, ফার্নবর্গীয়] + সপুষ্পক উদ্ভিদ [নগ্নবীজী, আবৃতবীজী (একবীজপত্রী, দ্বিবীজপত্রী)]। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে তারা শৈবাল। যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। যেমন: এগারিকাস। 

২। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু এদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮৯.
কোনটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) গম
  2. খ) দাঁতমর্দন
  3. গ) ধান
  4. ঘ) গোলাপ
ব্যাখ্যা
একক গুঁড়িবিহীন ঝোপজাতীয় মাঝারি ধরনের কাষ্ঠল উদ্ভিদকে গুল্ম বলে। যেমন- জবা, গোলাপ, রঙ্গন। গুল্ম বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। গুল্মের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির উদ্ভিদকে উপগুল্ম বলে। যেমন- কালকাসুন্দা, দাঁতমর্দন। ছোট ও নরম কাণ্ড বিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদকে বীরুৎ বলে। যেমন- ধান, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯০.
বড় দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. কার্পাস
  2. আলু
  3. ভুট্টা
  4. ডালিয়া
ব্যাখ্যা
দিবালোকের দীর্ঘতা ভিত্তিক পুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ: 
- সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান থাকে না, কখনও দিন ছোট ও রাত বড় আবার কখনও দিন বড় ও রাত ছোট থাকে। 
- দিবাকালের দীর্ঘতার উপর ভিত্তি করে পুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
যথা- 
১। ছোট দিনের উদ্ভিদ: 
- দিনের দৈর্ঘ্য কম হলে যেসব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় ছোট দিনের উদ্ভিদ। 
- দিন ছোট হলে রাত বড় হয় তথা অন্ধকার কাল বেশি থাকে। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, তামাক, শিম, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি ছোট দিনের উদ্ভিদ। 

২। বড় দিনের উদ্ভিদ: 
- রাতের অন্ধকারের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে যে সব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় বড়দিনের উদ্ভিদ। 
- উদ্ভিদের বিভিন্নতায় দিনের এ দৈর্ঘ্যকাল ১৪-১৮ ঘন্টা হতে পারে। 
যেমন- পালংশাক, লেটুস, আফিম, ভুট্টা, যব, ঝিঙা ইত্যাদি বড় দিনের উদ্ভিদ। 

৩। নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিন রাতের তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের কোন প্রভাব নাই এরাই নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ। 
- প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই এদের ফুল ধরে। 
- এদেরকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জন্মানো যায়। 
যেমন- টমেটো, শশা, কার্পাস, সূর্যমুখী, আউশ ধান ইত্যাদি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
কোন উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না? 
  1. টেরিস
  2. নারিকেল
  3. ব্রায়াম
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা

- 'স্পাইরোগাইরা' উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 

- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৯২.
শৈত্য প্রবাহের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) ভার্নালাইজেশন
  2. খ) ইথিলিন
  3. গ) ফ্লোরিজেন
  4. ঘ) অক্সিন
ব্যাখ্যা

- শৈত্য প্রবাহের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।
- অকালে ফলের ঝরা পড়া বন্ধ করে অক্সিন।
- কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয় ইথিলিন।
- পসটুলেটেড হরমোনের উদাহরণ ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন।
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৯৩.
নিষেকক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘটিত প্রজনন কোনটি?
  1. অ্যাগামোস্পার্মি
  2. পার্থেনোজেনেসিস
  3. অযৌন জনন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপুংজনি (Parthenogenesis)- নিষেক ছাড়া একটি গ্যামিট হতে ভ্রূণ সৃষ্টি তথা নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস বলে। পার্থেনোজেনেসিস দু’ধরনের হতে পারে। যথা- হ্যাপ্লয়েড এবং ডিপ্লয়েড ।

অ্যাগামোস্পার্মি : নিষেক ছাড়া কার্যক্ষম বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অ্যাগামোস্পার্মি বলে। ইহা এক ধরনের অযৌন জনন প্রক্রিয়া।

অযৌন জনন : দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে।

সূত্রঃ উদ্ভি্দবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
কোন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষ সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয়? 
  1. খণ্ডায়ন 
  2. দ্বিভাজন প্রক্রিয়া 
  3. কুঁড়ি বা বাড উৎপাদন 
  4. অযৌন রেণু সৃষ্টি 
ব্যাখ্যা

অযৌন জনন: 
- দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। 
- পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে।  
- অযৌন জনন বিভিন্নভাবে হতে পারে। 
যথা - 
১। দ্বিভাজন প্রক্রিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া ও কয়েক প্রকার এককোষী শৈবালের ক্ষেত্রে মাতৃকোষটি সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। 
- প্রতিটি অপত্য কোষ বৃদ্ধি পেয়ে পুর্ণাঙ্গ কোষে পরিণত হয়। 

২। কুঁড়ি বা বাড (Bud) উৎপাদনের মাধ্যমে: 
- এককোষী ছত্রাকের মাতৃকোষ হতে এক বা একাধিক কুঁড়ি বা বাড় উৎপন্ন হয়। 
- কুঁড়িগুলো মাতৃকোষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য কোষে পরিণত হয়। 

৩। অযৌন রেণু বা স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে: 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে। 
যেমন- শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 
- কিছু কিছু শৈবালে চলরেণু বা জুস্পোর (Zoospore) সৃষ্টির মাধমে মাতৃ উদ্ভিদের অনুরূপ উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- Trentepohlia, Oedogonium, Vaucheria, Chaetophora, Ulothrix ইত্যাদি। 

৪। খণ্ডায়নের মাধ্যমে: 
- কিছু কিছু সূত্রাকর শৈবাল স্রোত বা আঘাতজনিত কারণে অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত হয়। 
- পরে প্রতিটি খণ্ড বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য উদ্ভিদদেহে পরিণত হয়। 
উদাহরণ- Spirogyra, Oscillatoria ইত্যাদি শৈবাল। 

৫। দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫.
ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সহায়তা করা কোনটির প্রধান কাজ?
  1. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬.
বায়ু পরাগী ফুলের একটি উদাহরণ কোনটি? 
  1. সরিষা
  2. ধান
  3. শিমুল
  4. পাতাশ্যাওলা
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে বলা হয়-
  1. ক) মৃৎগত অঙ্কুরোদগম‌
  2. খ) জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম‌
  3. গ) মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম‌
  4. ঘ) লবণাক্ততা অঙ্কুরোদগম‌
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে বলা হয় জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম। বাংলাদেশের সুন্দরবনে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়। যেমন- সুন্দরী, পশুর, গোলপাতা, কেওড়া, হারগোজা ইত্যাদি উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৮.
কোনটির মাধ্যমে ধানের ফুলে পরাগায়ন সংগঠিত হয়?
  1. ক) বাতাসের সাহায্যে
  2. খ) পতঙ্গের সাহায্যে
  3. গ) ফুলে ফুলে সংস্পর্শের মাধ্যমে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- যে প্রক্রিয়ায় পরাগধানী হতে পরাগরেণু কোনো মাধ্যম বা বাহক দ্বারা একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয় তাকে পর-পরাগায়ন বলে। আর যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুন্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। উদাহরণ- বাতাস, পোকামাকড়, পাখি ইত্যাদি।
- যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৯.
রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে প্রজনন ঘটে-
  1. মস
  2. মিষ্টি আলু
  3. রসুন
  4. গম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রজনন:
- যে জটিল প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে।
- উদ্ভিদের প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা- অযৌন ও যৌন জনন। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
১০০.
নিম্নের কোন উদ্ভিদটি অপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জবা
  2. আম
  3. কাঁঠাল
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।