বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

তাপ ও তাপ গতিবিদ্যা

মোট প্রশ্ন১৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

তাপ ও তাপ গতিবিদ্যা

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১৯৬

.
তাপ পরিমাপের যন্ত্র কোনটি?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. ক্যালরিমিটার
  3. থার্মোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
সঠিক উত্তর:
ক্যালরিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালরিমিটার
ব্যাখ্যা

- ক্যালরিমিটার বস্তুর গ্রহণ করা বা বর্জন করা তাপের পরিমাণ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত ক্যালরিমিতির মূলনীতির (গৃহীত তাপ = বর্জিত তাপ) ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। 

তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপের এস.আই (S.I) একক জুল। 
- তাপের মেট্রিক পদ্ধতির একটি একক হচ্ছে ক্যালরি যা এখনো পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- হাইগ্রোমিটার: এটি বাতাসের আর্দ্রতা (বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ) পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- থার্মোমিটার: এটি বস্তুর তাপমাত্রা (বস্তু কতটা গরম বা ঠান্ডা) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়, তাপের মোট পরিমাণ নয়।
- ব্যারোমিটার: এটি বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
Among these colours, which one has the highest heat absorption capacity?
  1. Yellow
  2. Green
  3. Blue
  4. Red
  5. Black
সঠিক উত্তর:
Black
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Black
ব্যাখ্যা
• তাপ শোষণ ক্ষমতা:
- কালো রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি।  
- চায়ের কাপ কালো রঙের হলে তা থেকে অধিক পরিমাণ তাপ শোষণ করবে এবং এতে চা তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হবে। 
- সাদা রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সেজন্য গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক, কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। 
- অন্যদিকে, কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন তাপমাত্রায় পানি জমে বরফে পরিণত হয়?
  1. ক) 100 K
  2. খ) - 273 K
  3. গ) 273 K
  4. ঘ) 0 K
সঠিক উত্তর:
গ) 273 K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 273 K
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, 0 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি জমে বরফে পরিণত হয়।
সেলসিয়াস স্কেলের নিম্ন স্থিরাঙ্ক ০ ডিগ্রী, ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক ১০০ ডিগ্রী ধরে মৌলিক ব্যবধানকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়।
কেলভিন স্কেলে নিম্ন স্থিরাঙ্ক ২৭৩ এবং ঊর্ধ স্থিরাঙ্ক ৩৭৩ ধরে মৌলিক দৈর্ঘ্যকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
তাই ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর ২৭৩ কেল্ভিন একই তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে-
  1. ক) ১০ কিমি
  2. খ) ২৭ কিমি
  3. গ) ৫ কিমি
  4. ঘ) ১০ নিউটন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নিউটন
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্টে বায়ু চাপ ১০ নিউটন বা 10m/atm(m=meter, atm=atmosphere)। এবং যেহেতু পানির ঘনত্ব সমান তাই তলদেশের দিকে যেতে থাকলে চাপ একই হারে বাড়তে থাকে। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
.
পানি 100 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে তখন বায়ুমন্ডলীয় চাপ কত থাকে?
  1. ক) 1 atm
  2. খ) 2 atm
  3. গ) 3 atm
  4. ঘ) 0 atm
সঠিক উত্তর:
ক) 1 atm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 1 atm
ব্যাখ্যা
যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে তাকে স্ফুটনাংক বলে যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100 ডিগ্রী সেলসিয়াস। স্ফুটনাংক এর বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
.
প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাঙ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে-
  1. বেশি থাকে
  2. কম থাকে
  3. স্বাভাবিক থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বেশি থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি থাকে
ব্যাখ্যা
• স্ফুটনাঙ্ক:
- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রদানের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উত্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্যে তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়।
- প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।
- স্থির আয়তনে প্রেসার কুকারে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে পানির স্ফুটনাংক বেড়ে যায়।
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না।
- ফলে উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। এতে বাড়তি তাপ সৃষ্টি হয়ে রান্না হয় তাড়াতাড়ি।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'তামা'-এর আপেক্ষিক তাপ কত?
  1. 130 Jkg-1K-1
  2. 230 Jkg-1K-1
  3. 400 Jkg-1K-1
  4. 420 Jkg-1K-1
সঠিক উত্তর:
400 Jkg-1K-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
400 Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা
- তামা'র আপেক্ষিক তাপ হচ্ছে- 400 Jkg-1K-1

আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat): 
- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়। 
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি। 
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়। 
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। 
- তাই 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। 
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-1K-1
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন।  
নিচের তালিকায় কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক তাপ উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
জড়তার ধারণা পাওয়া যায় নিউটনের কোন সূত্র থেকে?
  1. ক) প্রথম সূত্র
  2. খ) দ্বিতীয় সূত্র
  3. গ) তৃতীয় সূত্র
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) প্রথম সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রথম সূত্র
ব্যাখ্যা
বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তুর স্থির এবং গতিশীল বস্তু সম গতিতে চলতে থাকবে। অন্যদিকে স্থির বস্তু স্থির এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার প্রবণতাকে জড়তা বলে।
.
আকাশ মেঘলা থাকলে গরম বেশি লাগে কেন?
  1. মেঘ উত্তম তাপ পরিবাহক
  2. সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মেঘ তাপ উৎপন্ন করে
  3. বজ্রপাতের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় বলে
  4. মেঘ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
সঠিক উত্তর:
মেঘ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
ব্যাখ্যা
- দিনের বেলায় সূর্য থেকে যে আলোকরশ্মি (তাপ ও আলো) বিকিরণ আকারে আসে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য হয় বেশ ছোট, এ কারণে তা খুব সহজেই বর্ষার মেঘ ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে চলে আসতে পারে। 
- এই বিকিরণ ভূপৃষ্ঠে সহজে আসতে পারলেও প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে চলে যেতে পারে না, কারণ প্রতিফলন হবার সময়ে এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশ বড় হয়ে যায় ফলে তখন আর সহজে মেঘ ভেদ করতে পারে না। 
- সেগুলি মেঘের গায়ে ধাক্কা খেয়ে মাটির দিকে ফিরে আসে, এ কারণে মেঘলা দিনে/রাতে ভূপৃষ্ট থেকে বির্কীর্ণ তাপের একটা অংশ মেঘ ও মাটির মধ্যেকার বায়ুমন্ডলে আটকে পড়ার ফলে মাটি এবং তার লাগোয়া বাতাসের স্তর ঠান্ডা তো হয়ই না, বরং বেশ গরম হয়েই থাকে। এতে আবহাওয়ার উষ্ণতা বেড়ে যায় বলেই গরমটা বেশি লাগে। 
- ফলে আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি এর অর্থ বাতাসে পানির পরিমাণ বেশি। 
- বাতাস আর্দ্র থাকার কারণে আমাদের গরম লাগে যেটাকে সাধারণ ভ্যাপসা গরম বলা হয়ে থাকে। 
১০.
তাপ সঞ্চালনের সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি কোনটি?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. আবেশ
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন-
- উচ্চ তাপমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন তাপমাত্রার স্থানে তাপের প্রবাহকে তাপ সঞ্চালন বলা হয়।

• তাপ সাধারনত ৩ টি উপায়ে সঞ্চালিত হয়। যথা- 
- পরিবহন
- পরিচলন
-  বিকিরন

• বিকিরন-
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।

• বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলা হয়।
- বিকীর্ণ তাপের শক্তি সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, বা জড় মাধ্যম থাকলেও তাকে উত্তপ্ত করে না।
-  বিকীর্ণ তাপশক্তি আলোর বেগে সঞ্চালিত হয়। শূন্যস্থানে এই তরঙ্গের বেগ 3 × 108  ms-1
অর্থাৎ তাপ সঞ্চালনের জন্য সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি হলো বিকিরন। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা -
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে বাড়ে পরে কমে
সঠিক উত্তর:
কমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে
ব্যাখ্যা
আর্দ্রতা: 
- বাতাসে ভাসমান জলীয় বাষ্পই হচ্ছে আর্দ্রতা। 
- নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ, চাপ ও আয়তনের বায়ুতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত অবস্থা বলা হয়। 
- জলীয়বাষ্পজনিত বায়ুচাপ জলীয়বাষ্প চাপ নামে পরিচিত। 
- বায়ুতে উপস্থিত এই জলীয়বাষ্প নানা কারণে হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। 
যেমন- 
১। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প বৃদ্ধি পায়। 
২। চাপবৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প হ্রাস পায়। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায়। 

- ঠাণ্ডা বাতাসের তুলনায় গরম বাতাস বেশি পানির কণা ধরে রাখতে পারে। 
- গবেষকেরা বলেন, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (শূন্য দশমিক ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বাড়লে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বাড়ে ৪ শতাংশ। 
- এ কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ একই থাকলেও শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে আমাদের অনেক বেশি অস্বস্তি লাগে। 
- শীতকালে আর্দ্রতা কম থাকে বলেই ভেজা কাপড় বর্ষাকালের চেয়ে তাড়াতাড়ি শুকায়। 
- আর বায়ুর উষ্ণতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক। 
অর্থাৎ, বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে এবং বায়ুর উষ্ণতা কমলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বাড়ে। 
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা একটি অনুপাত। 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প আছে এবং ঐ একই তাপমাত্রায় ঐ আয়তনের বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পের প্রয়োজন তার অনুপাতকে ঐ স্থানের বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
নিচের কোনটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীতমুখী হয়ে কাজ করে?
  1. জেনারেটর
  2. সৌর প্যানেল
  3. তাপীয় পাম্প
  4. থার্মোস্ট্যাট
সঠিক উত্তর:
তাপীয় পাম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপীয় পাম্প
ব্যাখ্যা

একটি তাপ ইঞ্জিন উচ্চ তাপমাত্রা থেকে তাপ গ্রহণ করে কাজ সম্পাদন করে, কিন্তু তাপীয় পাম্প তার বিপরীত কাজ করে। এটি বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো শক্তির সাহায্যে কাজ সম্পাদন করে তাপকে নিম্ন তাপমাত্রা থেকে উচ্চ তাপমাত্রার দিকে স্থানান্তর করে।
-
রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনারও একই মূলনীতিতে কাজ করে।

তাপীয় ইঞ্জিন:
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। যথা:
১. বাষ্পীয় ইঞ্জিন,
২. পেট্রোল ইঞ্জিন,
৩. ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি।
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে।
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে।
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে।
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে।
- অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে।
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে।

অন্যদিকে,
• তাপীয় পাম্প:
- তাপীয় পাম্প (Heat Pump) হলো এমন একটি যন্ত্র যা তাপগতিবিদ্যার নীতির ওপর ভিত্তি করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে। এটি রেফ্রিজারেটর বা এয়ার কন্ডিশনারের মতোই কাজ করে।
- একটি তাপীয় পাম্প যান্ত্রিক কাজ (বিদ্যুৎ) ব্যবহার করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে, যা তাপ ইঞ্জিনের কাজের সম্পূর্ণ বিপরীত।
- অর্থাৎ, তাপ ইঞ্জিন তাপকে কাজে পরিণত করে, আর তাপীয় পাম্প কাজকে তাপ স্থানান্তরে পরিণত করে।

উল্লেখ্য,
- জেনারেটর কোনো তাপীয় যন্ত্র নয়, বরং এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- সৌর প্যানেল আলোক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীত নয়।
- থার্মোস্ট্যাট হলো একটি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু নিজে তাপ স্থানান্তর করে না।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
মানব দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
  2. খ) ৩৬.৯° ফারেনহাইট
  3. গ) ৩৯.৯° ফারেনহাইট
  4. ঘ) ৯৪.৯° ফারেনহাইট
সঠিক উত্তর:
ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৩৬.৯° সেলসিয়াস অর্থাৎ ৯৮.৪° ফারেনহাইট।
মানবদেহের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১৪.
সাধারণ জ্বর মাপার থার্মোমিটারে কোন তরল ব্যবহৃত হয়?
  1. পানি
  2. পারদ
  3. তেল
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ
ব্যাখ্যা
• সাধারণ জ্বর মাপার থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহৃত হয়।

• থার্মোমিটার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুর তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায় তাকে থার্মোমিটার বা তাপমান যন্ত্র বলা হয়।

• থার্মোমিটার বা তাপমান যন্ত্র নির্মাণে এমন পদার্থ ব্যবহার করা হয়, তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে যার কোনো না কোনো ধর্মের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়।
- কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের নানা প্রকার ভৌত গুণাবলীর (Physical properties) উপর নির্ভর করে বিভিন্ন প্রকার থার্মোমিটার তৈরি করা হয়। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তন হয়, তরলের এ ধর্মকে অবলম্বন করে পারদ থার্মোমিটার, অ্যালকোহল থার্মোমিটার প্রভৃতি তরল থার্মোমিটার (Liquid Thermometers) তৈরি হয়েছে।

• জ্বর মাপার জন্য আমরা সাধারণ যে থার্মোমিটার ব্যবহার করি সেটি হলো পারদ থার্মোমিটার।
- এখানে পারদ হচ্ছে তাপমাত্রিক তরল পদার্থ এবং পারদের আয়তনের প্রসারণ হচ্ছে তার তাপমাত্রিক ধর্ম।
- তাপ দেওয়া হলে পারদের আয়তন বেড়ে যায় এবং একটি সরু নল বেয়ে উঠতে থাকে। কতদুর উঠেছে সেটাই হলো তাপমাত্রার পরিমাপ।
- থার্মোমিটারের গায়ে দাগ কাঁটা থাকে যার মাধ্যমে আমরা শরীরের তাপমাত্রার পরিমাণ বুঝতে পারি।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৫.
তাপের এস. আই. একক কোনটি? 
  1. ওয়াট
  2. কেলভিন
  3. জুল
  4. নিউটন
সঠিক উত্তর:
জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুল
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি বা SI পদ্ধতিতে তাপের একক হলো জুল (J)।

• তাপ:
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- তাপের অন্য একটি ব্যবহারিক একক ক্যালরি। 
- এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

• তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা SI একক কেলভিন। 
- এ ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক হল সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
দুটি বস্তুর মধ্যে তাপের আদান-প্রদান নির্ভর করে-
  1. ক) বস্তু দুটির তাপমাত্রার উপর
  2. খ) বস্তু দুটির প্রকৃতির উপর
  3. গ) মধ্যবর্তী মাধ্যমের প্রকৃতির উপর
  4. ঘ) বস্তু দুটির অন্তর্নিহিত তাপ শক্তির উপর
সঠিক উত্তর:
ক) বস্তু দুটির তাপমাত্রার উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বস্তু দুটির তাপমাত্রার উপর
ব্যাখ্যা

ভিন্ন তাপমাত্রার দুটি বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে তাদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে।
যে বস্তুটির তাপমাত্রা বেশি সেটি তাপ ছেড়ে দেয় বা বর্জন করে, আর যে বস্তুটির তাপমাত্রা কম সেটি তাপ নেয় বা গ্রহণ করে। দুটি বস্তুর তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের এই আদান প্রদান বা গ্রহণ- বর্জন চলতে থাকে।
যদি তাপের এই আদান প্রদানের সময় অন্য কোনো ভাবে তাপ নষ্ট না হয়, তবে বেশি তাপমাত্রার বস্তুটি যে পরিমাণ তাপ বর্জন করবে কম তাপমাত্রার বস্তুটি ঠিক সেই পরিমাণ তাপ গ্রহণ করবে। অর্থাৎ মোট বর্জিত তাপ = মোট গৃহীত তাপ।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৭.
তাপের এস আই একক কী? 
  1. ক্যালভিন
  2. জুল
  3. ক্যালরি
  4. কিলো-ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুল
ব্যাখ্যা
তাপের একক: 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস আই একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে ১ ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- ৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি ১ ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
- তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
উচ্চ তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য কোনটি ব্যাবহার করা হয়?
  1. ক্যালরিমিটার
  2. প্লাটিনাম রোধ থার্মোমিটার
  3. পাইরোমিটার
  4. গ্যাস থার্মোমিটার
সঠিক উত্তর:
পাইরোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাইরোমিটার
ব্যাখ্যা
পাইরোমিটার: পাইরোমিটার একটি বিশেষ ধরনের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র, যা অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা( 700°C - 3000°C পর্যন্ত))  নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণ থার্মোমিটার বা গ্যাস থার্মোমিটার এত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না।

• পাইরোমিটার দুই ধরনের হতে পারে:

⇒  অপটিক্যাল পাইরোমিটার (Optical Pyrometer:-
→ আলো বা দীপ্তির তীব্রতা নির্ভর করে তাপমাত্রা মাপা হয়।

ইনফ্রারেড পাইরোমিটার (Infrared Pyrometer):-
→   বস্তু থেকে নির্গত ইনফ্রারেড বিকিরণ দ্বারা তাপমাত্রা নির্ধারণ করে।

অন্যদিকে, 
ক্যালরিমিটার: ক্যালরিমিটার তাপমাত্রা নয়,  বস্তুতে তাপ পরিবর্তন পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়, উচ্চ তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য নয়। 

প্লাটিনাম রোধ থার্মোমিটার: এটি নির্ভুল, কিন্তু মাঝারি তাপমাত্রা (≈ -200°C থেকে 650°C) পর্যন্ত পরিমাপ করতে পারে।

গ্যাস থার্মোমিটার: এটি খুব নিচু তাপমাত্রা বা গবেষণাগার তাপমাত্রা পরিমাপে ব্যবহার হয়।


তথ্যসূত্র: 
-  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান, ১১-১২ শ্রেণী। 
-  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান (২য় পত্র)।
-  "Fundamentals of Physics" by Halliday, Resnick & Walker
১৯.
রেফ্রিজারেটরে প্রধানত কোন উদ্বায়ী পদার্থটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ফ্রেয়ন
  2. কর্পূর
  3. হাইড্রোজেন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ফ্রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রেয়ন
ব্যাখ্যা
• রেফ্রিজারেটর:
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী, একে বাষ্পীভবন কুন্ডলী বলে।
- এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়।
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন।
- এই নলের সাথে একটি সংকোচন পাম্প সংযুক্ত থাকে।
- পাম্প চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়।
- এজন্য যে সুপ্ততাপ প্রয়ােজন তার খানিকটা ফ্রেয়ন নিজে সরবরাহ করে আর বাকীটা আসে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে, ফলে শীতলীকরণ ঘটে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আকাশে পানির কনা জমে যায় এবং শিলা আকারে পৃথিবীতে নেমে আসে?
  1. -8° C
  2. -20° C
  3. -50° C
  4. -60° C
সঠিক উত্তর:
-20° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-20° C
ব্যাখ্যা

• আকাশে পানি কণার জমে যাওয়ার তাপমাত্রা নির্ভর করে মূলত বাতাসের তাপমাত্রা এবং পানির অবস্থা (তরল বা বাষ্প) এর উপর। সাধারণত, তাপমাত্রা -8°C থেকে -10°C-এর মধ্যে হলে ছোট ছোট পানি কণাগুলো বরফে পরিণত হতে শুরু করে। তবে, যখন শিলা বা বরফের আকারে পৃথিবীতে বৃষ্টি বা তুষার নামে নেমে আসে, তখন এটি অনেক কম তাপমাত্রায় ঘটে। সাধারণ আবহাওয়াগত গবেষণায় দেখা যায়, বৃষ্টির পানি বা ধূলিকণার চারপাশে বরফ গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় -20°C তাপমাত্রা। তাই আকাশে পানি কণা জমে শিলা বা বরফ আকারে পৃথিবীতে নেমে আসার জন্য সবচেয়ে সঠিক তাপমাত্রা হলো খ) -20° C। এটি মূলত বরফবীজণ প্রক্রিয়ার কারণে ঘটে।
 
• আকাশে পানির কনা জমে শিলা আকারে পৃথিবীতে পড়া (Hail Formation):
- যখন মেঘের ভেতরে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামে, তখন পানির কণা জমে কণা আকারে বরফে পরিণত হয়।
- সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় পানি খুব দ্রুত জমে এবং বড় বড় বরফের টুকরা (শিলা) তৈরি হয়।
- বরফের এই শিলাগুলি মেঘের ভেতরের বাতাসের প্রবাহের কারণে উপরের দিকে ওঠানামা করতে থাকে এবং আরও বরফ জমতে থাকে।
- যেহেতু এই প্রক্রিয়ার জন্য তাপমাত্রা খুব নিম্নে (-20° C) থাকা প্রয়োজন, তাই শিলা আকারে বরফ পৃথিবীতে পড়ে।
- বরফের শিলার আকার এবং ওজন মেঘের ভেতরের তাপমাত্রা ও বাতাসের গতির উপর নির্ভর করে।

সুতরাং, আকাশে পানির কনা জমে শিলা আকারে পৃথিবীতে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা হলো -20° C।  
সঠিক উত্তর: খ) -20° C

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

২১.
যে তাপ বিকিরণ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. বিক্ষিপ্ত তাপ 
  2. বিকীর্ণ তাপ 
  3. পরিবাহী তাপ 
  4. তাপমাত্রিক তাপ 
সঠিক উত্তর:
বিকীর্ণ তাপ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকীর্ণ তাপ 
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে। 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
মেঘাচ্ছন্ন রাতে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কেন বেশি থাকে?
  1. মেঘ বিকিরণ বন্ধ করে রাখে
  2. বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকে না
  3.  ভূ-পৃষ্ঠ তাপ সৃষ্টি করে না
  4. রাতে সূর্য বিকিরণ বেশি থাকে
সঠিক উত্তর:
মেঘ বিকিরণ বন্ধ করে রাখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘ বিকিরণ বন্ধ করে রাখে
ব্যাখ্যা

- মেঘাচ্ছন্ন রাতে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেশি থাকে কারণ মেঘ বিকিরণ বন্ধ করে রাখে (বা আটকে রাখে); মেঘ একটি কম্বলের মতো কাজ করে, যা পৃথিবী থেকে নির্গত তাপকে মহাকাশে চলে যেতে বাধা দেয় এবং সেই তাপকে পুনরায় ভূপৃষ্ঠের দিকে প্রতিফলিত করে, ফলে রাত পরিষ্কার আকাশের চেয়ে উষ্ণ থাকে। 

মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমার কারণ: 
- সব সময়ই বিভিন্ন জলাশয়ের পানির বাষ্পায়ন ঘটছে। এই বাষ্পায়নের ফলে জলীয় বাষ্প সৃষ্টি হয় এবং তা বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। 
- বায়ুমণ্ডল সৃষ্ট জলীয় বাষ্প ধারণ করে। 
- দিনের বেলায় সূর্য তাপে বাতাস গরম থাকায় ঐ জলীয় বাষ্প দ্বারা বায়ুমণ্ডল সম্পৃক্ত হয় না। 
- রাতে ভূ-পৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে শীতল হয় অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমে যায়। তখন বাতাস ধারণকৃত জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয় এবং তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নিচে নেমে যায়, ফলে শিশির জমে। 
- রাতের আকাশে মেঘ থাকলে, মেঘমুক্ত রাতের থেকে তাপ বিকিরণ কম হয়। 
- তাপ বিকিরণ কম হওয়ায ভূ-পৃষ্ঠের বাতাসও তুলনামূলকভাবে কম ঠান্ডা হয়। 
- বাতাসে তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের খুব নিচে যেতে পারে না, তাই কম শিশির জমে। 
অর্থাৎ, মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
নিচের কোন প্রক্রিয়ায় তাপ তরঙ্গ আকারে সঞ্চালিত হয়?
  1. বিকিরণ পদ্ধতি
  2. পরিচলন পদ্ধতি
  3. পরিবহন পদ্ধতি
  4. সংবহন পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। যথা:
১. পরিবহন,
২. পরিচলন ও
৩. বিকিরণ।

• বিকিরণ পদ্ধতি:
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- সূর্য থেকে আমরা তাপ পাই।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গাকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5 × 108 কি.মি।
- এর প্রায় পুরোটাই শূন্য, কোনো জড় মাধ্যম নেই।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।

• পরিচলন পদ্ধতি:
- কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• পরিবহন পদ্ধতি:
- যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
দুটি ভিন্ন তাপমাত্রার বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে কি ঘটবে?
  1. ক) বেশি তাপমাত্রার বস্তু থেকে কম তাপমাত্রার বস্তুতে তাপমাত্রা প্রবাহিত হবে
  2. খ) কম তাপমাত্রায় বস্তু তাপ বর্জন করবে
  3. গ) বেশি তাপমাত্রার বস্তু তাপ গ্রহণ করবে
  4. ঘ) বস্তু দুটির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বস্তু দুটির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বস্তু দুটির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে
ব্যাখ্যা

ভিন্ন তাপমাত্রার দুটি বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে তাদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। যে বস্তুটির তাপমাত্রা বেশি সেটি তাপ ছেড়ে দেয় বা বর্জন করে, আর যে বস্তুটির তাপমাত্রা কম সেটি তাপ নেয় বা গ্রহণ করে। দুটি বস্তুর তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের এই আদান প্রদান বা গ্রহণ- বর্জন চলতে থাকে।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২৫.
বর্ষাকালে কাপড় দেরিতে শুকায়, এর প্রধান কারণ কী?
  1. বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে
  2. আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
  3. বায়ুর তাপমাত্রা কম থাকে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
ব্যাখ্যা
- বর্ষাকাল অপেক্ষা শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় ভিজা কাপড় শুকানো অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া।
- বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে।
- ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়।
- অন্য দিকে শীত কালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে অর্থাৎ বাতাস শুকনো থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
কোন তাপমাত্রায় ফারেনহাট ও সেলসিয়াস স্কেল সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে? 
  1. ০ ডিগ্রি 
  2. ৪ ডিগ্রি 
  3. - ৪০ ডিগ্রি
  4. ৪০ ডিগ্রি 
সঠিক উত্তর:
- ৪০ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
- ৪০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা

- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো- 
• C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা] 

এখন, 
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/৫ = (x - ৩২)/৯
Or, ৯x = ৫x - ১৬০
Or, ৪x = - ১৬০
Or, x = - ৪০
অর্থাৎ, - ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফারেনহাট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭.
কোন প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না? 
  1. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া 
  2. রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  3. সমচাপ প্রক্রিয়া 
  4. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া 
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে।
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়।
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে।
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি।
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

২৮.
তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) পরিবহন
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) বিকিরণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
গ) বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিকিরণ
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন হয় তিন প্রক্রিয়ায়।
১) পরিবহন,
২) পরিচলন,
৩) বিকিরণ।
পরিবহন এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, এবং এই দুই পদ্ধতিতে মাধ্যমকে উত্তপ্ত করে তাপ সঞ্চালন করতে হয়।
কিন্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে এভাবেই আসে।
তাই বলা যায় তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া হচ্ছে বিকিরণ।
২৯.
তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ টি
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। 
যথা- 
১। পরিবহন, 
২। পরিচলন ও 
৩। বিকিরণ। 

• বিকিরণ পদ্ধতি: 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। 
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গাকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

• পরিচলন পদ্ধতি: 
-কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়। 
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 

• পরিবহন পদ্ধতি: 
-যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়। 
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
কোন তাপমাত্রায় অণুর মলিকিউলার মুভমেন্ট থেমে যায়?
  1.  - 273°C
  2. 0°C
  3. 116°C
  4. 298 K
সঠিক উত্তর:
 - 273°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 - 273°C
ব্যাখ্যা

• অণুর মলিকিউলার মুভমেন্ট বা অণুগুলোর চলাচল তাপের উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা যত বেশি, অণুগুলোর গতিশীলতা তত বেশি হয়। কিন্তু তাপমাত্রা অনেক কমে গেলে, অণুগুলোর চলাচল কমে আসে। তাপমাত্রার এমন একটি সীমা আছে যেখানে অণুগুলোর গতি প্রায় সম্পূর্ণ থেমে যায়। এই তাপমাত্রাকে শূন্যতম তাপমাত্রা বা অভিসম শূন্য (absolute zero) বলা হয়। অভিসম শূন্য হল -273°C বা 0 K, যা তাপমাত্রার তাত্ত্বিক ন্যূনতম সীমা। এ সময় অণুগুলোতে কোনো শক্তি থাকে না এবং তারা অচল থাকে। সুতরাং, অণুর মলিকিউলার মুভমেন্ট থেমে যায় -273°C তাপমাত্রায়।

- সঠিক উত্তর: ক) -273°C
 
 • পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে।
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - 273°C.
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

• অণুর মলিকিউলার মুভমেন্ট থামা (Absolute Zero):
- অণুর সমস্ত অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা বা মলিকিউলার মুভমেন্ট থেমে যায় অত্যন্ত কম তাপমাত্রায়।
- এই তাপমাত্রাকে বলা হয় - অ্যাবসলিউট জিরো (Absolute Zero)।
- এটি তাত্ত্বিকভাবে -273°C বা 0 K তাপমাত্রায় ঘটে।
- এমন অবস্থায় অণুগুলি পুরোপুরি স্থির হয়ে যায়, এবং তাদের কাইনেটিক শক্তি শূন্যের সমান হয়।
- প্রকৃতপক্ষে, প্রাকৃতিকভাবে এই তাপমাত্রা পৌঁছানো সম্ভব নয়, তবে ল্যাবরেটরিতে খুব কাছাকাছি পৌঁছানো যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

৩১.
আমাদের হাতের দুটি তালু পরস্পরের সাথে ঘর্ষণের ফলে তাপ উৎপন্ন হয়, এটি কোন ধরণের প্রক্রিয়া?
  1. ক) সমোষ্ণ প্রক্রিয়া
  2. খ) প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
  3. গ) রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  4. ঘ) অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
দুটি বস্তুর মধ্যে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ সৃষ্টি হয় তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।
কারণ ঘর্ষণের বিরুদ্ধে যে কাজ হয় তাই তাপে রূপান্তরিত হয় এবং এ উৎপাদিত তাপকে কোনো প্রকারেই কাজে রূপান্তরিত করা যায় না।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩২.
SATP তে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0°C
  2. 25°C
  3. 4°C
  4. 100°C
সঠিক উত্তর:
25°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
25°C
ব্যাখ্যা
SATP: 
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3। 

STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
কোন প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না? 
  1. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া
  2. রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  3. সমচাপ প্রক্রিয়া
  4. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৩৪.
যে তাপ সঞ্চালন পদ্ধতিতে কোনো জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, সেটি হলো- 
  1. পরিবাহীতা
  2. পরিবহন
  3. বিকিরণ
  4. পরিচলন 
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা

- বিকিরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে তাপ কোনো জড় মাধ্যম (কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) ছাড়াই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হতে পারে। এই পদ্ধতিতে তাপ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের আকারে প্রবাহিত হয়, যা শূন্যস্থানের মধ্য দিয়েও ভ্রমণ করতে পারে। যেমন— সূর্য থেকে তাপ বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে আসে। 

তাপ সঞ্চালন: 
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে, তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে। 
- তাপ সঞ্চালন তিন ভাবে হয়। 
যথা- পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ। 

তাপ বিকিরণ: 
- পৃথিবীতে সূর্যই তাপের মূল উৎস। 
- সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে প্রায় সবটুকুই ফাঁকা, কোনো বায়বীয় পদার্থও নেই। 
- সূর্য থেকে তাপ আসে বিকিরণের মাধ্যমে, যেখানে কোনো জড় মাধ্যম নেই, সেখানে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- আলো এক রকমের তরঙ্গ, যা কোনো মাধ্যম ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। 
- বিকিরণের সময় তাপ আলো বা বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়। আসলে মাধ্যম থাকুক বা না থাকুক, উত্তপ্ত বস্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ নির্গত করে।
- কোনো পদার্থ তাপ বিকিরণ করলে তাকে বিকিরক বলে। আবার কোনো পদার্থ তাপ শোষণ করলে তাকে বলে শোষক। 
- কোনো পদার্থ তার তাপমাত্রার জন্য তাপ বিকিরণ বা শোষণ করলে তাকে তাপীয় বিকিরণ (Thermal radiation) বা তাপীয় শোষণ বলে। 
- বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, কোনো পদার্থ ভালো তাপ বিকিরক হলে সেটি ভালো তাপ শোষকও হয়। তা না হলে একটি বিকিরক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ বিকিরণ কার ক্রমশ শীতল হতে থাকবে এবং একটি শোষক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ শোষণ করে ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৩৫.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন কেমন হয়?
  1. শূন্য
  2. কম
  3. সর্বাধিক
  4. পরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - 273°C.
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

৩৬.
4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি কত ক্যালরি তাপের সমতুল্য? 
  1. 1 ক্যালরি
  2. 2 ক্যালরি
  3. 3 ক্যালরি
  4. 4 ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
1 ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 

উষ্ণতা বা তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রার S.I একক কেলভিন। 
- তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট একক আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
কোন তাপমাত্রাকে পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. 212 K
  2. 373.15 K
  3. 0 K
  4. 273.16 K
সঠিক উত্তর:
273.16 K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
273.16 K
ব্যাখ্যা
• পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা হলো ২৭৩.১৬ K। ত্রৈধ বিন্দু বলতে বুঝায় সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা যেখানে পানি ত্রৈধ অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ বরফ, তরল পানি এবং বাষ্প একসঙ্গে সমতা অবস্থায় থাকে। এটি এক ধরনের স্থির বিন্দু, যেখানে তিনটি অবস্থা একই সাথে বিদ্যমান থাকে এবং চাপ ১ বাতাস। এই তাপমাত্রাটি ০.০১°C বা ২৭৩.১৬ K হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য  অপশনগুলো যেমন ২১২ K বা ৩৭৩.১৫ K পানির অন্য কোন ফেজ বা অবস্থার তাপমাত্রা নির্দেশ করে না, তাই সঠিক উত্তর হলো ২৭৩.১৬ K।

পানির ত্রৈধ বিন্দু:

- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে পরম শূন্য তাপমাত্রা 0 K, বরফ বিন্দু 273.15 K এবং স্টিম বিন্দু 373.15 K ধরা হয়।
- তাপমাত্রা পরিমাপের কেলভিন স্কেলে বরফ বিন্দুকে 273.15 K এবং স্টিম বিন্দুকে 373.15 K ধরে মৌলিক ব্যবধানকে 100 ভাগে ভাগ করা হয়।
- এক একটি ভাগকে এক কেলভিন (1 K) বলা হয়।
- সেলসিয়াস এবং কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে-
K = C + 273.15

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
দিনের গড় তাপমাত্রা 86°F হলে সেন্টিগ্রেড স্কেলে তা কত ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হবে?
  1. 30°
  2. 25°
  3. 35°
  4. 36°
সঠিক উত্তর:
30°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
30°
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দিনের গড় তাপমাত্রা 86°F হলে সেন্টিগ্রেড স্কেলে তা কত ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হবে?

সমাধান:
ফারেনহাইট স্কেল থেকে সেন্টিগ্রেড স্কেলে তাপমাত্রা রূপান্তরের সূত্র: 
C = (F - 32) × 5/9
এখানে, F = 86
C = (86 - 32) × 5/9
C = 54 × 5/9
C = 270/9
C = 30

সুতরাং, 86°F তাপমাত্রা সেন্টিগ্রেড স্কেলে 30°C হবে।

৩৯.
কোন রঙের কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়?
  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. সাদা
  4. কালো
সঠিক উত্তর:
কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো
ব্যাখ্যা
• পদার্থের তাপশোষণ ক্ষমতা:
- কালো রঙের কাপে চা দ্রুত ঠাণ্ডা হয়।

- কারণ কালো রং তাপ শোষণ করতে পারে।
- তাপ সব সময় উচ্চ তাপীয় অবস্থা থেকে নিম্ন তাপীয় অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়।
- এক্ষেত্রে চা এর কালো কাপটি হচ্ছে নিম্ন তাপীয় অবস্থা তাই তা দ্রুত তাপ শোষণ করে নেবে এবং চা তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয়ে যাবে।
- সাদা রঙের কাপে চা বেশি সময় গরম থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
STP তে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0° C 
  2. 25° C 
  3. 373° K 
  4. 100° C 
সঠিক উত্তর:
0° C 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0° C 
ব্যাখ্যা

SATP: 
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- SATP এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25° C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3। 

STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- STP এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0° C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি? 
  1. ২৪° সেলসিয়াস
  2. ১০০° সেলসিয়াস
  3. ৪° সেলসিয়াস
  4. ০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৪° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

• পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বরফের ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়ে কম, তাই বরফ পানিতে ভাসে।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান (পদার্থবিজ্ঞান অংশ)।
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২.
একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 40°C হলে ফারেনহাইট স্কেলে তা কত হবে?
  1. ক) 40°F
  2. খ) 104°F
  3. গ) 102°F
  4. ঘ) 72°F
সঠিক উত্তর:
খ) 104°F
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 104°F
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, 
C/5 = (F-32)/9
বা, 40/5 = (F-32)/9
বা, (F-32)/9 = 8
বা, (F-32) = 72
বা, F = 72+32
∴ F = 104
৪৩.
একই পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারণ- 
  1. তাপের প্রভাব
  2. অণুর বিন্যাস
  3. পরমাণুর বিন্যাস
  4. রায়ায়নিক পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
ব্যাখ্যা
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ। 
- এদের ভর ও আয়তন আছে। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- কক্ষ তাপমাতায় বেশির ভাগ পদার্থ কঠিন হলেও তরল ও বায়বীয় অবস্থাতেও পদার্থ অবস্থান করে। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন অর্থাৎ তাপের প্রভাব পদার্থের এই তিন অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
কোন তাপমাত্রায় ১ লিটার পানির ওজন সবচেয়ে বেশি হয়?
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. - ২৭৩° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৪° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫.
​তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রকে বলা হয়- 
  1. প্ল্যাঙ্কের সূত্র
  2. আর্নল্ড সূত্র 
  3. হ্যাজেন সূত্র 
  4. জুলের সূত্র
সঠিক উত্তর:
জুলের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলের সূত্র
ব্যাখ্যা

তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 
- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে।
সুতরাং, W ∝ H.
বা, W = JH
এখানে, W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়।
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন।
- এ সূত্রকে জুলের সূত্র আবার তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
কোন প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না? 
  1. সমচাপ প্রক্রিয়া
  2. রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  3. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া
  4. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৪৭.
বাষ্পায়নের উপর বায়ুর আর্দ্রতার প্রভাব কী? 
  1. আর্দ্রতা বেশি হলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়
  2. আর্দ্রতা কম হলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায় 
  3. আর্দ্রতা কম হলে বাষ্পায়ন কম হয় 
  4. আর্দ্রতার কোনো প্রভাব নেই
সঠিক উত্তর:
আর্দ্রতা কম হলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্দ্রতা কম হলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায় 
ব্যাখ্যা

বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: 
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন। 
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। 
- এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা, এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়। 
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। 
যেমন- 
তরলের প্রকৃতি: বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 
বায়ু প্রবাহ: তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
তরলের উপর চাপ: তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 
তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 
তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে তাকে কী বলে?
  1. নিম্ন স্থির বিন্দু
  2. পানির ত্রৈধ বিন্দু
  3. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
ব্যাখ্যা
• ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

• পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯.
নিচের কোনটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীতমুখী হয়ে কাজ করে?
  1. জেনারেটর
  2. সৌর প্যানেল
  3. তাপীয় পাম্প
  4. থার্মোস্ট্যাট
সঠিক উত্তর:
তাপীয় পাম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপীয় পাম্প
ব্যাখ্যা

- একটি তাপ ইঞ্জিন উচ্চ তাপমাত্রা থেকে তাপ গ্রহণ করে কাজ সম্পাদন করে, কিন্তু তাপীয় পাম্প তার বিপরীত কাজ করে। এটি বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো শক্তির সাহায্যে কাজ সম্পাদন করে তাপকে নিম্ন তাপমাত্রা থেকে উচ্চ তাপমাত্রার দিকে স্থানান্তর করে ৷
- রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনারও একই মূলনীতিতে কাজ করে।

• তাপীয় ইঞ্জিন:

- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। যথা:
১. বাষ্পীয় ইঞ্জিন,
২. পেট্রোল ইঞ্জিন,
৩. ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি।
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে ।
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে।
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ
করবে।
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে।
- অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে।
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে ।

অন্যদিকে,
• তাপীয় পাম্প:
- তাপীয় পাম্প (Heat Pump) হলো এমন একটি যন্ত্র যা তাপগতিবিদ্যার নীতির ওপর ভিত্তি করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে। এটি রেফ্রিজারেটর বা এয়ার কন্ডিশনারের মতোই কাজ করে।
- একটি তাপীয় পাম্প যান্ত্রিক কাজ (বিদ্যুৎ) ব্যবহার করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে, যা তাপ ইঞ্জিনের কাজের সম্পূর্ণ বিপরীত।
- অর্থাৎ, তাপ ইঞ্জিন তাপকে কাজে পরিণত করে, আর তাপীয় পাম্প কাজকে তাপ স্থানান্তরে পরিণত করে।

উল্লেখ্য,
- জেনারেটর কোনো তাপীয় যন্ত্র নয়, বরং এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- সৌর প্যানেল আলোক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীত নয় ।
- থার্মোস্ট্যাট হলো একটি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, যা তাপমাত্ৰা নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু নিজে তাপ স্থানান্তর করে না ।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০.
তাপীয় ইঞ্জিনের মূল কাজ কোনটি? 
  1. তাপ শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর
  2. বৈদ্যুতিক শক্তিকে তাপ শক্তিকে রূপান্তর
  3. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর
  4. যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর
ব্যাখ্যা

- তাপীয় ইঞ্জিন (heat engine) হলো এমন একটি যন্ত্র যা তাপগতিবিদ্যার নীতি অনুসারে তাপ শক্তিকে (thermal energy) যান্ত্রিক কাজে (mechanical work) রূপান্তর করে। 

তাপীয় ইঞ্জিন: 
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। 
যেমন- বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি। 
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে। 
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে। তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে। 
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। 
অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১.
তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে গবেষণার সময় কোন বিজ্ঞানী এনট্রপি ধারণা প্রদান করেন?
  1. নিউটন
  2. জুল
  3. ক্লসিয়াস
  4. বোল্টজম্যান
সঠিক উত্তর:
ক্লসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লসিয়াস
ব্যাখ্যা

- তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে গবেষণার সময় ক্লসিয়াস (Rudolf Clausius) এনট্রপির ধারণা প্রদান করেন, যিনি ১৮৬৫ সালে 'এনট্রপি' শব্দটি চালু করেন এবং এটি তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্রের মূল ভিত্তি স্থাপন করে, যা কোনো বিচ্ছিন্ন সিস্টেমের বিশৃঙ্খলার পরিমাণকে বোঝায়। 

এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এনট্রপি বলে।
- কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয় যার ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে যার ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৫২.
To measure the potential difference between two points, which instrument is used?
  1. Ammeter
  2. Hygrometer
  3. Voltmeter
  4. Barometer
  5. Thermometer
সঠিক উত্তর:
Voltmeter
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Voltmeter
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎ প্রবাহ হলো মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
- এ প্রবাহ আবার দু'রকম। 
যথা- 
১। এসি প্রবাহ এবং 
২। ডিসি প্রবাহ। 

- কোনো বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের জন্য দরকার এর দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য। 
- এই বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহকে শ্রেণি ও সমান্তরাল সংযোগ যুক্ত করা যায়। 
- এছাড়া বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ মাপার জন্য দরকার অ্যামিটার। 
- যেকোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫৩.
তাপ উৎসের তাপমাত্রা কেমন হতে হবে? 
  1. তাপগ্রাহকের চেয়ে বেশি 
  2. তাপগ্রাহকের চেয়ে কম
  3. তাপগ্রাহকের চেয়ে সমান
  4. তাপগ্রাহকের চেয়ে প্রায় সমান 
সঠিক উত্তর:
তাপগ্রাহকের চেয়ে বেশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপগ্রাহকের চেয়ে বেশি 
ব্যাখ্যা

তাপীয় ইঞ্জিন: 
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। 
যেমন- বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি। 
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে। 
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে। 
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে। 
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। 
অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। 
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
ক্রান্তি তাপমাত্রায় নিচের কোন অবস্থা পরিলক্ষিত হয়?
  1. গ্যাস কখনো তরলে পরিণত হয় না
  2. গ্যাসকে তরল করতে খুব বেশি চাপ লাগে
  3. গ্যাসকে তরল করা যায়
  4. গ্যাস কঠিনে পরিণত হয়
সঠিক উত্তর:
গ্যাসকে তরল করা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যাসকে তরল করা যায়
ব্যাখ্যা

- প্রতিটি গ্যাসের ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা আছে যে তাপমাত্রার নিচে গ্যাস কে চাপ প্রয়োগে তরলে পরিণত করা যায়।
- এই তাপমাত্রা কে বলা হয় গ্যাসের সংকট বা ক্রান্তি তাপমাত্রা (Critical Temperature)।
- যেমন: কারবন-ডাই-অক্সাইড (CO2) এর ক্রান্তি তাপমাত্রা 31.1°C।

- ক্রান্তি তাপমাত্রার নিচে থাকলে গ্যাসকে যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করে সহজেই তরলে পরিণত করা যায়।

- ক্রান্তি তাপমাত্রার উপরে পদার্থের বায়বীয় অবস্থাকে গ্যাস বলে।

উৎস: Britannica. [লিংক]।

৫৫.
ব্রহ্মাণ্ডে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা কত হতে পারে?
  1. 0 Kelvin
  2. -273.15 Kelvin
  3. 0°C
  4. -100°C
সঠিক উত্তর:
0 Kelvin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0 Kelvin
ব্যাখ্যা
• পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - ২৭৩°C ।
- অর্থাৎ - ২৭৩°C বা ০ কেলভিন তাপমাত্রায় যে কোনো গ্যাসের আয়তন তত্ত্বীয়ভাবে শূন্য হয়।
- ব্রহ্মাণ্ডে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ০ কেলভিন।

- আমরা জানি, - ২৭৩°C = ০ কেলভিন।
 - তাপমাত্রাকে শুরু বা শূন্য ধরে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার ব্যবধানকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান ধরে যে তাপমাত্রার স্কেল উদ্ভাবন করা হয়েছে তাকে তাপমাত্রার পরম স্কেল বা কেলভিন স্কেল বলে।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে তাপকে অণুগুলোর গতির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. কাউন্ট রামফোর্ড
  2. জে. জে. থমসন
  3. হেনরি বেকেরেল
  4. মাদাম কুরি
সঠিক উত্তর:
কাউন্ট রামফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাউন্ট রামফোর্ড
ব্যাখ্যা

• কাউন্ট রামফোর্ড ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রমাণ করেন যে তাপ পদার্থের অণুগুলোর গতির ফল।

• তাপ ও তাপমাত্রা:
- এক খণ্ড বরফ হাতে নিলে ঠান্ডা এবং ফুটন্ত পানিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়।
- এই অনুভূতির কারণই তাপ।
- তাপ এক প্রকার শক্তি যার অভাবে ঠান্ডা এবং যার প্রভাবে বস্তু গরম হয়।
- এক সময় ধারণা ছিল তাপ ক্যালরিক নামে সূক্ষ্ম তরল বা বায়বীয় পদার্থ।
- কোনো বস্তুতে ক্যালরিক কম হলে বস্তু ঠান্ডা এবং বেশি হলে বস্তু গরম হয় বলে মনে করা হতো।
- ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে কাউন্ট রামফোর্ড আবিষ্কার করেন, পদার্থের অণুসমূহের গতির ফলই তাপ।

• অণুর গতি ও তাপ:
- পদার্থের অণুগুলো সর্বদা গতিশীল অবস্থায় থাকে।
- বাইরে থেকে শক্তি প্রয়োগ করলে অণুর গতি বৃদ্ধি পায়।
- অণুর গতি বৃদ্ধি পেলে বস্তু গরম হয়।
- তাপ হলো বস্তুর অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি।
- তাপ শক্তি দ্বারা কাজ সম্পাদন হয়।
- তাপ শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় এবং অন্য শক্তিকেও তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে এবং তাপ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপমাত্রা:
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার গরমের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- গরমের মাত্রা প্রকাশ করতে উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
- দুইটি বস্তুকে তাপীয় সংস্পর্শে আনলে তাপের আদান প্রদান ঘটে।
- তাপের আদান প্রদান তাপের পরিমাণের উপর নির্ভর করে না।
- এটি বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর নির্ভর করে।
- বস্তুর তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ গরম বস্তু থেকে ঠান্ডা বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়।
- বস্তুর এই তাপীয় অবস্থাকেই উষ্ণতা বা তাপমাত্রা বলে।

• অন্যান্য অপশন:
- জে. জে. থমসন → ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
- হেনরি বেকেরেল → তেজস্ক্রিয় রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- মাদাম কুরি → তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?  
  1. - 100°C
  2. 0°C
  3. - 273°C
  4. 273°K
সঠিক উত্তর:
- 273°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
- 273°C
ব্যাখ্যা
পরমশূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C । 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
৫৮.
বরফের আপেক্ষিক তাপ কত?
  1. 130 Jkg- 1K- 1
  2. 400 Jkg- 1K- 1
  3. 4200 Jkg- 1K- 1
  4. 2100 Jkg- 1K- 1
সঠিক উত্তর:
2100 Jkg- 1K- 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2100 Jkg- 1K- 1
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ঘ) 2100 Jkg- 1K- 1

• আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat):

- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়।
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।
- তাই 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে।
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg- 1K- 1.
- বরফের আপেক্ষিক তাপ 2100 Jkg- 1K- 1 বলতে বুঝায় 1kg বরফের তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 2100 J তাপের প্রয়োজন।
- কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক তাপ: 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সুপ্ততাপ পদার্থের তাপমাত্রার পরিবর্তন না করে শুধু অবস্থার পরিবর্তন করে
  2. খ) সুপ্ততাপ পদার্থের আন্তঃআণবিক বন্ধন শিথিল করে
  3. গ) পদার্থের অবস্থা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা

আমরা জেনেছি তাপ প্রয়োগ করলে পদার্থের তাপমাত্রা বাড়ে একথা সব সময় সত্য নয়। তাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলেও বরফ গলা শুরু হয়ে সম্পূর্ণ বরফ পানি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়ে না, গলনাঙ্কে (0°C) স্থির থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত তাপ বরফের অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয় তাই তাপমাত্রা বাড়ে না।

আবার একইভাবে পানির তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে (১০০°C) পৌঁছার পর সম্পূর্ণ পানি বাষ্পে রূপান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে স্থির থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত তাপ পানির অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয় তাই তাপমাত্রা বাড়ে না।

যে তাপ পদার্থের তাপমাত্রার পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেবল অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় তাকে ঐ পদার্থের অবস্থা পরিবর্তনের সুপ্ত তাপ বলে। এই সুপ্ত তাপ দুই পর্যায়ের : গলনের সুপ্ত তাপ এবং বাষ্পীভবনে সুপ্ত তাপ।

এই তাপ শক্তি পদার্থের তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না, কিন্তু আন্তঃআণবিক বন্ধন শিথিল করে। এ কারণে কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল বা বন্ধন শিথিল হয়ে তরলে রূপান্তরিত হয়। আবার তরল অণুগুলোর আন্তঃআণবিক বন্ধন ছিন্ন করে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। আসলে এই তাপ শক্তি বস্তুর অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয়।
এখানে কঠিন থেকে তরলে এবং তরল থেকে বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তর হয়।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬০.
১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° C বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপ কত ক্যালরি?
  1. ১.০ ক্যালরি
  2. ২.৪ ক্যালরি
  3. ০.১ ক্যালরি
  4. ১০ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
১.০ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা

তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস.আই (S.I) একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১.
পরমশূন্য তাপমাত্রার মান কোনটি?
  1. -২৭৩° সেলসিয়াস
  2. -৪৯৫.৪° ফারেনহাইট
  3. ০ কেলভিন
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
স্থির চাপে একটি নির্দিষ্ট ভরের আদর্শ গ্যাসের তাপমাত্রা ক্রমাগত কমাতে থাকলে যে তাপমাত্রায় পৌছালে তার আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলা হয়।
পরমশূন্য তাপমাত্রার মান -২৭৩° সেলসিয়াস, -৪৯৫.৪° ফারেনহাইট বা ০ কেলভিন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. P ∝ T
  2. V ∝ T
  3. PV = K
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ঘ) উপরের সবগুলো

• চার্লসের সূত্র:

- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
গাণিতিকভাবে, V ∝ T.

• বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, PV = K.

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

৬৩.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে তাকে কী বলে?
  1. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  2. স্টিম বিন্দু
  3. পানির ত্রৈধ বিন্দু
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

• পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪.
ক্যালরিমিতির মূলনীতি কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত?
  1. ভরের সংরক্ষণ
  2. শক্তির সংরক্ষণ
  3. তাপমাত্রার সংরক্ষণ
  4. আয়তনের সংরক্ষণ
সঠিক উত্তর:
শক্তির সংরক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তির সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি শক্তির সংরক্ষণ নীতির উপর ভিত্তি করে, যেখানে তাপ আদান–প্রদানের সময় শক্তি নষ্ট হয় না, কেবল এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয়।

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি (Fundamental Principles of Calorimetry):
- শীতকালে গোসলের সময় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গরম পানির সঙ্গে ঠান্ডা পানি মেশালে কিছু সময় পর উভয় পানি একই তাপমাত্রায় পৌঁছে যায়।
- গরম পানি ঠান্ডা পানিকে তাপ প্রদান করে, ফলে গরম পানির তাপমাত্রা কমে এবং ঠান্ডা পানির তাপমাত্রা বাড়ে।
- এই তাপ আদান–প্রদানের ফলে একটি সমতাবস্থার তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।
- এই ঘটনাই ক্যালোরিমিতির মূল ধারণার ভিত্তি।
 
• ক্যালরিমিতির মূলনীতি:
- তাপ আদান–প্রদানের সময় একটি বন্ধ সিস্টেমে—
- উষ্ণ বস্তুর ত্যাগকৃত তাপ = শীতল বস্তুর গৃহীত তাপ।
 
• মূল শর্তসমূহ:
- বেশি তাপমাত্রার বস্তু কম তাপমাত্রার বস্তুকে তাপ দিতে পারে, কিন্তু উল্টোটি সম্ভব নয়।
- উষ্ণ বস্তু যতটুকু তাপ ত্যাগ করে, শীতল বস্তু ঠিক ততটুকু তাপ গ্রহণ করে।
- এই প্রক্রিয়ায় সিস্টেমের বাইরে কোনো তাপ ক্ষয় বা গ্রহণ হয় না বলে ধরা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

• Other Options:
ক) ভরের সংরক্ষণ
→ এটি ভরের পরিবর্তন সম্পর্কিত।

গ) তাপমাত্রার সংরক্ষণ
→ তাপমাত্রা সংরক্ষিত থাকে না; বরং পরিবর্তিত হয়ে সমতাবস্থায় পৌঁছে।

ঘ) আয়তনের সংরক্ষণ
→ এটি জ্যামিতিক ধারণা।

৬৫.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন কত?
  1. ক) শূন্য
  2. খ) অসীম
  3. গ) ১০০০ সিসি
  4. ঘ) ২৭৩ সিসি
সঠিক উত্তর:
ক) শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শূন্য
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা: যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -২৭৩°C ।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 

৬৬.
If 25.2 joules of energy is converted, how many calories does it amount to?
  1. 3.0 calories
  2. 4.0 calories
  3. 5.0 calories
  4. 6.0 calories
  5. 2.0 calories
সঠিক উত্তর:
6.0 calories
উত্তর
সঠিক উত্তর:
6.0 calories
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 

তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
∴ ২৫.২ জুল = ২৫.২/৪.২ = ৬ ক্যালরির সমতুল্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি? 
  1. সেলসিয়াস 
  2. ফারেনহাইট 
  3. ক্যালরি 
  4. কেলভিন 
সঠিক উত্তর:
কেলভিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেলভিন 
ব্যাখ্যা

তাপমাত্রা (Temperature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের S.I বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮.
1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা 1.0 K বাড়ালে যে সম্প্রসারণজনিত কাজ হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. আয়তনজনিত ভ্যান্ডারওয়াল ধ্রুবক (a)
  2. আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)
  3. সংকোচনশীল ধ্রুবক (Z)
  4. গ্যাসের তাপ প্রসারাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)
ব্যাখ্যা

• 1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা যদি 1.0 K বাড়ানো হয়, তখন গ্যাসটি যখন স্থির চাপে প্রসারিত হয়, তখন যা কাজ করে তাকে আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এটি মূলত তাপ এবং চাপের সম্পর্ককে বোঝায়। আদর্শ গ্যাস সূত্র PV = nRT অনুযায়ী, এক মোল গ্যাসের জন্য তাপমাত্রা 1 K বাড়ালে গ্যাসের চাপ বা আয়তনের পরিবর্তন ঘটালে যে কাজ হয়, তা W = nRΔT হিসাবে প্রকাশ করা যায়। এখানে R হল সেই ধ্রুবক যা তাপ এবং আয়তনের পরিবর্তনকে সম্পর্কিত করে। তাই এটি কোনো ভ্যান্ডারওয়াল ধ্রুবক বা সংকোচনশীল ধ্রুবক নয়, বরং আদর্শ গ্যাসের ধ্রুবক। R এর মান, R = 8.314Jmol-1K-1

- উত্তর: খ) আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)। 

• 1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা 1.0 K বাড়ালে যে সম্প্রসারণজনিত কাজ হয় (Gas Constant):
- গ্যাসের তাপমাত্রা বাড়লে তার অণুগুলো দ্রুতগতিতে কম্পিত হয় এবং গ্যাসের আয়তন বৃদ্ধি পায়।
- এই সম্প্রসারণজনিত কাজকে আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
- অর্থাৎ, 1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা 1.0 K বাড়ালে যে কাজ হয় তা মূলত আদর্শ গ্যাস ধ্রুবকের মানের সাথে সম্পর্কিত।
- এটি গ্যাসের তাপগতিবিদ্যা এবং থার্মোডাইনামিক্সে গুরুত্বপূর্ণ।
- সম্প্রসারণজনিত কাজকে নির্ণয় করতে মূলত R মান ব্যবহার করা হয়, না কোনো ভ্যান্ডারওয়াল ধ্রুবক বা সংকোচনশীল ধ্রুবক।  

সুতরাং, 1.0 মোল গ্যাসের তাপমাত্রা 1.0 K বাড়ালে যে সম্প্রসারণজনিত কাজ হয়, তা নির্দেশ করে - আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)।  
- সঠিক উত্তর: খ) আদর্শ গ্যাস ধ্রুবক (R)।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৬৯.
কোন ধরনের প্রসারণকে তরল পদার্থের প্রসারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. দৈর্ঘ্য প্রসারণ
  2. ক্ষেত্র প্রসারণ
  3. তলীয় প্রসারণ
  4. আয়তন প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রসারণ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের মতো তরল পদার্থেরও প্রসারণ ঘটে।
- কঠিন পদার্থের সুনির্দিষ্ট আকার থাকায় এর বিভিন্ন প্রসারণ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। এর দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের প্রসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সহজ হয়।
- কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার বা দৈর্ঘ্য নেই। যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।
- তাপের প্রভাবে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনই কেবল প্রতীয়মান হয়। তাই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে এর আয়তনের প্রসারণকেই বুঝায়
- একই পরিমাণ তাপ প্রয়োগে সম আয়তনের কঠিন পদার্থের তুলনায় তরল পদার্থের আয়তনের প্রসারণ বেশি হয়। আবার একই পরিমাণ তাপে বিভিন্ন প্রকার তরলের প্রসারণের পরিমাণও সমান হয় না।
- তাপে পদার্থের প্রসারণ পর্যবেক্ষণের জন্য ঐ পদার্থকে তাপ দিতে হয়।
- তরল পদার্থকে তাপ দিতে হলে কোনো না কোনো পাত্রে নিয়ে তাপ দিতে হয়। পাত্রগুলো একটু বিশেষ আকারের হলে প্রসারণ সুষ্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাত্রগুলো সরু লম্বা গলা বিশিষ্ট এবং নিচের দিকে বাল্ব বা গোলকাকৃতির হলে উত্তম হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
মাঝখানে ছিদ্র বিশিষ্ট একটি প্লেটকে উত্তপ্ত করলে, ছিদ্রটির ব্যাস-
  1. বাড়বে
  2. কমবে
  3. অপরিবর্তীত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাড়বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়বে
ব্যাখ্যা
• তাপীয় প্রসারণ (Thermal Expansion):
- তাপ দিলে পদার্থের কণাগুলো আরও বেশি কাঁপে এবং পারস্পরিক দূরত্ব বাড়ে। ফলে পদার্থের আকার ও আয়তন বাড়ে।

• যখন কোনো ধাতব প্লেট উত্তপ্ত হয়, তখন তাপীয় প্রসারণ ঘটে  অর্থাৎ প্লেটের প্রতিটি অংশের কণিকা দূরে সরে যায়।
• প্লেটের চারদিকে বিস্তারের মতো ছিদ্রও বাইরের দিকে প্রসারিত হয়, ফলে ছিদ্রের ব্যাস বাড়ে।

উৎস: Physicsexperiments.eu।
৭১.
বরফ বিন্দু বলতে বুঝায়-
  1. স্টিম বিন্দু
  2. নিম্ন স্থির বিন্দু
  3. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  4. পানির ত্রৈধ বিন্দু
সঠিক উত্তর:
নিম্ন স্থির বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্ন স্থির বিন্দু
ব্যাখ্যা

- তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে পদার্থের যে বিশেষ ধর্মের পরিবর্তন হয় এবং যে ধর্মের পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে সহজ ও নির্ভুল ভাবে তাপমাত্রা নির্ণয় করা যায়, পদার্থের ঐ ধর্মগুলিকে উষ্ণতামিতি ধর্ম বলে। 
- যে সকল পদার্থের উষ্ণতামিতি ধর্মকে ব্যবহার করে থার্মোমিটার তৈরি করা হয় তাদেরকে উষ্ণতামিতি পদার্থ বলে। 
- সাধারণত উষ্ণতামিতি পদার্থের বা তার ধর্মের নাম অনুসারে থার্মোমিটারের নামকরণ করা হয়। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মোমিটারের নলে একটি দাগ কাটা স্কেল প্রয়োজন হয়। 
- দাগ কাটার জন্য দুটি বিশেষ তাপমাত্রাকে নির্দিষ্ট করা হয়, এ দুটি বিশেষ তাপমাত্রাকে থার্মোমিটারের স্থিরাংক (Fixed point) বলে। 
- পারদ থার্মোমিটারের ক্ষেত্রে বরফের গলনাংককে নিম্ন স্থিরাংক (Lower Fixed point) এবং পানির স্ফুটাঙ্ককে ঊর্ধ্ব স্থিরাংক (Upper Fixed point) ধরা হয়। 
- নলের যে দুটি বিন্দুতে নিম্ন স্থিরাংক এবং ঊর্ধ্ব স্থিরাংক দাগ কাটা হয় তাদের নিম্ন স্থির বিন্দু এবং ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বলে। 

নিম্ন স্থির বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে। 

ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে। 

- থার্মোমিটারের ঊর্ধ্ব এবং নিম্ন স্থির বিন্দুর মধ্যবর্তী তাপমাত্রার ব্যবধানকে মৌলিক অন্তর বা মৌলিক ব্যবধান (Fundamental Interval) বলে। 
- এ মৌলিক ব্যবধানকে সমানভাবে ভাগ করে বিভিন্ন তাপমাত্রার স্কেল তৈরি করা হয়।

.............................................
.............................................................

• বরফ বিন্দু হলো সেই তাপমাত্রা যেখানে তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। পানির ক্ষেত্রে এটি 0°C বা 32°F তাপমাত্রায় হয়। এটি নিম্ন স্থির বিন্দু হিসেবে পরিচিত কারণ এটি পানির জমাট বাঁধার বিন্দু।অন্যান্য বিকল্পগুলি:

- স্টিম বিন্দু: পানির স্ফুটনাঙ্ক (100°C)।
- ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু: পানির স্ফুটনাঙ্ক।
- পানির ত্রৈধ বিন্দু: সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে যেখানে পানির তিনটি অবস্থা (কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়) একসাথে সাম্যাবস্থায় থাকে (0.01°C এবং 611.73 Pa চাপে)।

- এটি বরফ বিন্দুর তুলনায় সামান্য বেশি তাপমাত্রা কিন্তু একেবারে 0°C নয়।
- তাই, সঠিক উত্তর - বরফ বিন্দু । 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২.
নিম্নের কোনটি একটি সিস্টেমের বিশৃঙ্খলার পরিমাপক?
  1. চাপ
  2. আয়তন
  3. এন্ট্রপি
  4. তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
এন্ট্রপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্ট্রপি
ব্যাখ্যা
এন্ট্রপি: 
- কোনো সিস্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। 
- অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে, ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এন্ট্রপি। 
- কোনো বস্তুর এন্ট্রপির মান আজো জানা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো বস্তু যদি তাপ গ্রহণ বা বর্জন করে, তাহলে বস্তুর এন্ট্রপির পরিবর্তন হয়। 
- কোনো বস্তুর তাপমাত্রার সাপেক্ষে গৃহীত বা বর্জিত তাপ পরিবর্তনের হার দ্বারা এন্ট্রপির পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় বস্তুর যে তাপীয় ধর্ম স্থির থাকে, তাকে এন্ট্রপি বলে। এন্ট্রপিরকে s দ্বারা সূচিত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩.
নিম্নলিখিত কোন পদার্থটি কনভেকশনের মাধ্যমে তাপ স্থানান্তর করতে পারে?
  1. কঠিন ও তরল
  2. বায়বীয় ও কঠিন
  3. তরল ও বায়বীয়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
তরল ও বায়বীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল ও বায়বীয়
ব্যাখ্যা
তাপ পরিচলন (convection): 
- তরল ও বায়বীয় পদার্থে পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়। 
- একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলার উপরে বসিয়ে তাপ দিলে পুরো পাত্রের পানিই গরম হতে থাকে। 
- এক্ষেত্রে পানির কণাগুলো তাপ গ্রহণ করে শক্তি অর্জন করে। 
- শক্তি অর্জন করে গরম পানিকণা হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। 
- উপরের ঠাণ্ডা পানির কণাগুলো নিচে নেমে এসে তাপ গ্রহণ করে। 
- এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল কণা তাপ গ্রহণ করে উত্তপ্ত হয়, তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়। 
- এভাবে কণাদের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়ার নাম পরিচলন। 
- তরল পদার্থের কণার মতো বায়বীয় পদার্থের কণারাও উত্তপ্ত হয়ে সহজেই স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৭৪.
তাপ সঞ্চালনের সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি কোনটি?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. আবেশ
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা

• তাপ সঞ্চালন:
- উচ্চ তাপমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন তাপমাত্রার স্থানে তাপের প্রবাহকে তাপ সঞ্চালন বলা হয় ।

• তাপ সাধারনত ৩ টি উপায়ে সঞ্চালিত হয়। যথা-
- পরিবহন
- পরিচলন
- বিকিরন

• বিকিরন:
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলা হয় ।
- বিকীর্ণ তাপের শক্তি সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, বা জড় মাধ্যম থাকলেও তাকে উত্তপ্ত করে না।
- অর্থাৎ তাপ সঞ্চালনের জন্য সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি হলো বিকিরন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫.
পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ করা হয়েছে - 
  1. ২৭০.০০ K
  2. ২৭৩.১৬ K
  3. ১০০.০০ K
  4. ৩৭৩.১৬ K
সঠিক উত্তর:
২৭৩.১৬ K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭৩.১৬ K
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) ২৭৩.১৬ K 

• তাপমাত্রা:

- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হল বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।

• ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

• পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৬.
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ৫০° সেলসিয়াস থেকে ৫১° সেলসিয়াস বৃদ্ধি করার জন্য কত তাপের প্রয়োজন? 
  1. ১ ক্যালরি 
  2. ২ ক্যালরি 
  3. ৩ ক্যালরি 
  4. ৪ ক্যালরি 
সঠিক উত্তর:
১ ক্যালরি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ ক্যালরি 
ব্যাখ্যা
• ক্যালরি:
- পদার্থের অণুগুলোর কম্পন বা গতির কারণে যে শক্তি পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে তাপ।
- যেহেতু এটা শক্তি তাই স্বাভাবিকভাবে অন্য শক্তির মতোই তার একক হচ্ছে জুল (J)।
- তাপের আরো একটি একক আছে, তার নাম ক্যালরি (cal)।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1°C বাড়াতে হলে যে পরিমাণ তাপের দরকার সেটা হচ্ছে ক্যালরি।
- 1 ক্যালরি হচ্ছে 4.2J এর সমান।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭.
সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে কোন প্রক্রিয়ায় আসে? 
  1. প্রতিফলন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. পরিবহন
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে। 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। 
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে-
  1. বেশি থাকে
  2. কম থাকে
  3. সমান থাকে
  4. অপরিবর্তনীয় থাকে
সঠিক উত্তর:
বেশি থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি থাকে
ব্যাখ্যা
প্রেসার কুকার: 
- প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। 
- সাধারণত, পানির স্ফুটনাংক ১০০°C এ থাকে, কিন্তু প্রেসার কুকারে ভেতরের চাপ বাড়ানোর কারণে পানি ১০০°C এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে। 
- স্থির আয়তনে প্রেসার কুকারে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে পানির স্ফুটনাংক বেড়ে যায়। 
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না। 
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯.
বাতাসের প্রবাহ বাষ্পায়নের উপর কী প্রভাব ফেলে? 
  1. বাতাসের প্রবাহ কম হলে বাষ্পায়ন বেশি হয় 
  2. বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয় 
  3. বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন কম হয় 
  4. বাতাসের প্রবাহের কোনো প্রভাব নেই 
সঠিক উত্তর:
বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয় 
ব্যাখ্যা

বাষ্পায়নের নির্ভরশীলতা: 
- বর্ষাকালের বৃষ্টিভেজা দিনগুলোতে ভেজা কাপড় কিছুতেই শুকাতে চায় না। আবার শীতকালে ঘরের ভেতর ছায়াতেও কাপড় ধুয়ে শুকাতে দিলে দ্রুত শুকিয়ে যায়। 
- ভেজা কাপড় শুকানোর বিষয়টি পানির বাষ্পায়ন ছাড়া আর কিছুই না, কাজেই পানির বাষ্পায়ন বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
- একটা তরলের বাষ্পায়ন কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে তা নিম্নে দেওয়া হলো- 
১। বাতাসের প্রবাহ: বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 
২। তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল: তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। 
৩। তরলের প্রকৃতি: তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন বেশি। উদ্বায়ী তরলের বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি। 
৪। বাতাসের চাপ: বাতাসের চাপ যত কম হবে বাষ্পায়নের হার তত বেশি। শূন্যস্থানে বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি, তাই খাদ্য সংরক্ষণের জন্য খাবারকে শুকাতে পাম্প দিয়ে বাতাস বের করে নেওয়া হয়। 
৫। উষ্ণতা: তরল এবং তরলের কাছাকাছি বাতাসের উষ্ণতা বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 
৬। বায়ুর শুষ্কতা: বাতাস যত শুষ্ক হবে তরল তত তাড়াতাড়ি বাষ্পায়ন হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০.
একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104°F । সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?
  1. - 40° C
  2. 38° C
  3. 40° C
  4. 48° C
সঠিক উত্তর:
40° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
40° C
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104°F । সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা, F = 104°F
সেলসিয়াস তাপমাত্রা, C = ?

আমরা জানি,
C/5 = (F - 32)/9
বা, C/5 = (104 - 32)/9
বা, C/5= 72/9
বা, C = 8 × 5
∴ C = 40
উত্তর: 40° C
৮১.
কঠিন পদার্থে তাপ প্রধানত কোন প্রক্রিয়ায় সঞ্চালিত হয়?
  1. পরিচলন
  2. পরিবহন
  3. বাষ্পীভবন
  4. বিকিরণ
সঠিক উত্তর:
পরিবহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবহন
ব্যাখ্যা

• কঠিন পদার্থে তাপ প্রধানত পরিবহন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়।

• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে গমন করে।
- তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়, পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ।

• পরিবহন পদ্ধতি:
- এ পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না।
- অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে।
- উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত হয়।
- কঠিন পদার্থে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

• পরিচলন পদ্ধতি:
- অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে স্থান পরিবর্তন করে।
- তরল ও বাষ্পীয় পদার্থে তাপ পরিচলনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• বিকিরণ পদ্ধতি:
- কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই তাপ সঞ্চালিত হয়।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে আসে।
- এ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত তাপকে বিকীর্ণ তাপ বলে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
2) পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২.
পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা কোনটি?
  1. ক) ২৭০.২৬ কেলভিন
  2. খ) ২৭২.১৬ কেলভিন
  3. গ) ২৭৩.১৬ কেলভিন
  4. ঘ) ২৭৩.০০ কেলভিন
সঠিক উত্তর:
গ) ২৭৩.১৬ কেলভিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৭৩.১৬ কেলভিন
ব্যাখ্যা
- ৪.৫ মি.মি পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে। 
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা ২৭৩.১৬ কেলভিন। 
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে:- 
- পরম শূন্য তাপমাত্রা ০ কেলভিন,
- বরফ বিন্দু ২৭৩.১৫ কেলভিন এবং
-  স্টিম বিন্দু ৩৭৩.১৫ কেলভিন ধরা হয়।
-তাপমাত্রা পরিমাপের কেলভিন স্কেলে বরফ বিন্দুকে ২৭৩.১৫ কেলভিন এবং স্টিম বিন্দুকে ৩৭৩.১৫ কেলভিন ধরে মৌলিক ব্যবধানকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়। এক একটি ভাগকে এক কেলভিন (১ কেলভিন) বলা হয়।  

উৎস- এইচ.এস. সি পদার্থ বিজ্ঞান- ২য় পত্র (বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
৮৩.
নিচের কোন প্রক্রিয়াটির জন্য তাপ বর্জন বা সরিয়ে নিতে হয়?
  1. স্ফুটন
  2. ঘনীভবন
  3. বাষ্পীভবন 
  4. গলন
সঠিক উত্তর:
ঘনীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনীভবন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) ঘনীভবন

• স্ফুটনাঙ্ক:

- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রদানের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্যে তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়

• ঘনীভবন: 
- তাপমাত্রা কমিয়ে কোনো বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থকে তার তরল অবস্থায় রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঘনীভবন।
- কোনো বায়বীয় পদার্থের তাপ হ্রাস করে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এলে ঐ পদার্থের ঘনীভবন শুরু হয়। ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রাটি মূলত ঐ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।
- তাপ হ্রাস করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে অপরিবর্তিত থেকে ঘনীভবন চলতে থাকে। ঘনীভবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তরলের বা বায়বীয় পদার্থের তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে স্থির থাকে।

• গলন ও গলনাঙ্ক: 
- কোনো বস্তুর কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
- এক বায়ু মন্ডলীয় চাপে বরফের গলনাংক 0°C। সমস্ত পদার্থ না গলা পর্যন্ত তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকে।

• বাস্পীভবন: 
- কোনো বস্তুর তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।
- বাষ্পীভবন দু ভাবে সংঘটিত হয়। (১) স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন এবং (২) স্ফুটন।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪.
মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকার কারণ কী?
  1. মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
  2. মাটির কলসি তাপ বিকিরণ করে
  3. মাটির পাত্র ভাল তাপ পরিবাহী
  4. মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
সঠিক উত্তর:
মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
ব্যাখ্যা
• বাষ্পীভবন:
- বাষ্পীভবন এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা নদী, হ্রদ, জলাশয় বা সমুদ্রের পানি সূর্যের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং তা বায়ুমন্ডলের মিশে যায়।
- বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকে।
- গরমের দিনে মাটির কলসীতে পানি রেখে পানি ঠান্ডা করা হয়।
- মাটির কলসীর গায়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র পথে সর্বদা পানি চুঁইয়ে বাইরে আসে।
- ফলে কলসীর বাইরের গাটি সবসময়ই ভেজা থাকে।
- এই পানির কণা কলসীর গা এবং সংলগ্ন বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় সুপ্ত তাপ সংগ্ৰহ করে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।
- কলসীর গা ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকে, ফলে কলসীর ভেতরের পানিও ঠান্ডা হয়।
- এছাড়া বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণের নীতিকে কাজে লাগিয়ে রিফ্রিজারেটর তৈরি করা হয়।

উৎস : পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয় কোন তাপমাত্রায়?
  1. 0° C
  2. 0° K
  3. 4° C
  4. 100° C
সঠিক উত্তর:
4° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4° C
ব্যাখ্যা

- সাধারণত তাপমাত্রা কমলে যেকোনো তরলের ঘনত্ব বাড়ে, কিন্তু পানির ক্ষেত্রে 4° C (সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়। এই তাপমাত্রায় পানির অণুগুলো সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকে, যে কারণে আয়তন সর্বনিম্ন হয় এবং ঘনত্ব সর্বাধিক হয় 

ঘনত্ব: 

- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3 .
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1 gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬.
তাপ প্রদানে কোনটির প্রসারণ সবচেয়ে বেশি হয়?
  1. ক) তরল পদার্থ
  2. খ) কঠিন পদার্থ
  3. গ) বায়বীয় পদার্থ
  4. ঘ) কঠিন ও বায়বীয় পদার্থ
সঠিক উত্তর:
গ) বায়বীয় পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বায়বীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থ কঠিন পদার্থের চেয়ে বেশি প্রসারিত হয়। কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় বায়বীয় পদার্থের প্রসারণ অনেক বেশি হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭.
সুউচ্চ পর্বত‌ এ রান্না করা কঠিন কেন?
  1. ক) বায়ুর চাপ বেশি ও পানির স্ফুটনাঙ্ক কম
  2. খ) বায়ুর চাপ কম ও পানির স্ফুটনাঙ্ক কম
  3. গ) বায়ুর চাপ কম ও পানির স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  4. ঘ) বায়ুর চাপ বেশি ও পানির স্ফুটনাঙ্ক বেশি
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুর চাপ কম ও পানির স্ফুটনাঙ্ক কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুর চাপ কম ও পানির স্ফুটনাঙ্ক কম
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর পৃষ্ঠে বায়ুর চাপ সবচেয়ে বেশি। তাই পৃথিবীর পৃষ্ঠে পানির স্ফুটনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১০০° সেলসিয়াস।
কিন্তু পৃথিবী হতে যত উপরে উঠা যায় তত বায়ুর চাপ কমে যায়, ফলে স্ফুটনাঙ্ক হ্রাস পায়।
সুউচ্চ পর্বতে বায়ুর চাপ পৃথিবীর বায়ুর চাপ অপেক্ষা কম বিধায় পর্বতের উপর পানির স্ফুটনাঙ্ক কম। তাই পর্বতের উপর পানি কম তামপাত্রায় ফুটতে থাকে।
হিসাব করে দেখা গেছে এভারেস্ট পর্বত শৃঙ্গে মাত্র ৭০° সেলসিয়াতাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে, কিন্তু মাছ, মাংস, ডিম প্রভৃতি দ্রুত সিদ্ধ হয় না।

৮৮.
বাতাসের চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক- 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তীত থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে
ব্যাখ্যা
• চাপ ও স্ফুটনাঙ্কের সম্পর্ক:
- চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়।
- চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়।
- এজন্য যারা পর্বতারোহণ করে অনেক উচ্চতায় যায় তাদের রান্না করতে সময় বেশি নেয়।
- বাতাসের চাপ কম বলে সেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে, তাই তাপমাত্রা বাড়ানো যায় না, সেজন্য রান্না করতে সময় বেশি লাগে।
- একই কারণে প্রেশার কুকার তৈরি হয়েছে, এটি আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র, তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে।
- তাপমাত্রা বেশি বলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি। -

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯.
তাপ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক? 
  1. উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে কম হয়
  2. উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে বেশি হয়
  3. সবটুকু তাপ কাজে রূপান্তরিত হয়
  4. কোনো তাপ বর্জিত হয় না
সঠিক উত্তর:
উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে বেশি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে বেশি হয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে বেশি হয়

• তাপীয় ইঞ্জিন:

- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। যথা:
১. বাষ্পীয় ইঞ্জিন,
২. পেট্রোল ইঞ্জিন,
৩. ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি।
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে।
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে।
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে।
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে
- অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে।
- বাসাবাড়ির রেফ্রিজারেটর তাপীয় পাম্পের একটি উদাহরণ যা আসলে একটি তাপ ইঞ্জিনের ঠিক বিপরীত।
- তাপ ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা হলো ইঞ্জিন দ্বারা কৃত কার্যকর কাজ এবং উৎস থেকে শোষিত তাপশক্তির অনুপাত। এটি শতাংশে প্রকাশ করা হয় এবং নির্দেশ করে যে ইনপুট তাপের কত অংশ কাজের রূপান্তর হয়েছে।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?  
  1. 0°C
  2. - 1000°C
  3. 273°K
  4. - 273°C
সঠিক উত্তর:
- 273°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
- 273°C
ব্যাখ্যা

• পরমশূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C । 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

৯১.
নিচের কোনটিতে সম পরিমাণ পানি রেখে দিলে বাষ্পায়ন দ্রুত হবে?
  1. ক) গ্লাসে
  2. খ) চায়ের কাপে
  3. গ) বড় থালায়
  4. ঘ) একই থাকবে
সঠিক উত্তর:
গ) বড় থালায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বড় থালায়
ব্যাখ্যা
- তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে।
- এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, পদার্থ বিজ্ঞান।
৯২.
আপেক্ষিক তাপের একক কী?
  1. Jkg- 1K- 2
  2. JkgK- 1
  3. Jkg- 2K- 1
  4. Jkg- 1K- 1
সঠিক উত্তর:
Jkg- 1K- 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Jkg- 1K- 1
ব্যাখ্যা
•  আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-  1K-  1.

• আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat):

- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়।
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।
- তাই 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে।
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg- 1K- 1.
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg- 1K- 1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
কোন তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়? 
  1. 25°
  2. 100°
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V.
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়।
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4°C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়।
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়
- তাই পানির ঘনত্ব 1000kg m-3 অথবা 1gm/cc.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
কোন রাতে শিশির বেশি জমে? 
  1. বৃষ্টিভেজা রাতে
  2. মেঘাচ্ছন্ন রাতে
  3. কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে
  4. মেঘশূন্য রাতে
সঠিক উত্তর:
মেঘশূন্য রাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘশূন্য রাতে
ব্যাখ্যা
মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমার কারণ: 
- সব সময়ই বিভিন্ন জলাশয়ের পানির বাষ্পায়ন ঘটছে। এই বাষ্পায়নের ফলে জলীয় বাষ্প সৃষ্টি হয় এবং তা বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। 
- বায়ুমণ্ডল সৃষ্ট জলীয় বাষ্প ধারণ করে। 
- দিনের বেলায় সূর্য তাপে বাতাস গরম থাকায় ঐ জলীয় বাষ্প দ্বারা বায়ুমণ্ডল সম্পৃক্ত হয় না। 
- রাতে ভূ-পৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে শীতল হয় অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমে যায়। তখন বাতাস ধারণকৃত জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয় এবং তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নিচে নেমে যায়, ফলে শিশির জমে। 
- রাতের আকাশে মেঘ থাকলে, মেঘমুক্ত রাতের থেকে তাপ বিকিরণ কম হয়। 
- তাপ বিকিরণ কম হওয়ায ভূ-পৃষ্ঠের বাতাসও তুলনামূলকভাবে কম ঠান্ডা হয়। 
- বাতাসে তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের খুব নিচে যেতে পারে না, তাই কম শিশির জমে। 
অর্থাৎ, মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫.
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 
  1. ৯০.৪ ডিগ্রি
  2. ৯৮.৪ ডিগ্রি
  3. ১০০.৪ ডিগ্রি
  4. ১০২.৪ ডিগ্রি
সঠিক উত্তর:
১০০.৪ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০.৪ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি
C/5 = (F - 32)/9   [এখানে C = 38]
∴ 38/5 = (F - 32)/9
বা, 5(F - 32) = 9 × 38
বা, F - 32 = 342/5
বা, F = 68.4 + 32
∴ F = 100.4
অর্থাৎ, ফারেহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৯৬.
শীতকালে কাপড় দ্রুত শুকায়, এর প্রধান কারণ কী? 
  1. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে
  2. বায়ুর তাপমাত্রা কম থাকে
  3. বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে
  4. সূর্যের আলো তীব্র থাকে
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে
ব্যাখ্যা

শীতকালে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় বাতাস দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে, ফলে কাপড় দ্রুত শুকায়।

বাষ্পীভবন ও আর্দ্রতা:
- কাপড় শুকানো একটি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়া।
- বাষ্পীভবনের হার নির্ভর করে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতার উপর।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকলে বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বেশি থাকে।

• শীতকাল:
- শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক প্রকৃতির কারণে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে।
-  এই কারণে শীতকালে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে।
- ফলে বাতাস দ্রুত কাপড় থেকে পানি শোষণ করতে পারে।
- এজন্য কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭.
তাপ সঞ্চালনের কোন প্রক্রিয়ার জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. শোষণ
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন: 
- বিভিন্ন কাজে তাপশক্তিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে হয় কিংবা সঞ্চালন করতে হয়।
- তিনটি উপায়ে তাপ সঞ্চালন করা হয়। 
যেমন- পরিবহণ, পরিচলন এবং বিকিরণ। 
১। পরিবহণ (conduction): 
- কঠিন পদার্থের বেলায় তাপ হচ্ছে অণুগুলোর কম্পন তাই যখন কঠিন পদার্থের এক প্রান্ত উত্তপ্ত করা হয়, তখন সেই প্রান্তের অণুগুলো নিজের জায়গা থেকেই কাঁপতে থাকে।
- একটা অণু কাঁপতে থাকলে সেটি তার পাশের অন্য অণুকেও কাঁপাতে শুরু করে।
- সেই অণুটি তখন তার পাশের অণুকে কাঁপায়, এভাবে কম্পনটি কঠিন পদার্থের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরিবাহিত হয় যা তাপ পরিবহণ নামে পরিচিত। 

২। পরিচলন (Convection): 
- তরল কিংবা গ্যাসকে উত্তপ্ত করা হলে তার ঘনত্ব কমে সেটি হালকা হয়ে যায়, কারণ তখন তাদের অণুগুলোকে বেশি বেগে ছোটাছুটি করতে হয় বলে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। 
- একই পরিমাণ তরল বা গ্যাস একটু বেশি জায়গায় নিয়ে থাকলে তার ঘনত্ব কমে যায় বা সেটি হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়, তখন পাশের শীতল তরল বা গ্যাস সেখানে উপস্থিত হয়, এভাবে তরল বা গ্যাসের ভেতর একটা অভ্যন্তরীণ পরিচলন শুরু হয়। 

৩। বিকিরণ (Radiation): 
- আমরা যখন রোদে দাঁড়াই, তখন যে তাপ অনুভব করি, সেই তাপ যে পদ্ধতিতে আমাদের কাছে পৌঁছায় তার নাম বিকিরণ। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ার জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না, সেজন্য সূর্য আর পৃথিবীর ভেতরে মহাশূন্য থাকার পরেও দৃশ্যমান আলোর সঙ্গে অদৃশ্য অবলোহিত রশ্মি এবং অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে চলে আসতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ), নবম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৯৮.
শূন্য কেলভিন তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতি শক্তির মান -
  1. ক) অসীম
  2. খ) শূন্য
  3. গ) অতি ক্ষুদ্র
  4. ঘ) অনেক বড়
সঠিক উত্তর:
খ) শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শূন্য
ব্যাখ্যা
- পরমশূন্য তাপমাত্রা ব্যতীত যে কোন তাপমাত্রায় সকল পদার্থের অণুসমূহে তিন ধরণের গতি বিরাজ করে।

যথা: (i) চলমান গতি (translational motion),
(ii) ঘূর্ণায়মান গতি (rotational motion) এবং
(iii) কম্পন গতি (vibrational motion)।
- অণুসমূহ এ সকল গতিবেগের কারনে যে শক্তি লাভ করে তাকে গতিশক্তি বলে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গতি শক্তির মান বেড়ে যায়
- শূন্য কেলভিন তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতি শক্তির মান শূন্য হয়।

সূত্র: ৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি?
  1. কেলভিন
  2. ফারেনহাইট
  3. সেলসিয়াস
  4. ডিগ্রী সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
কেলভিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেলভিন
ব্যাখ্যা
তাপ (Heat): 
- তাপ এক প্রকার শক্তি যার অভাবে ঠান্ডা এবং যার প্রভাবে বস্তু গরম হয়। 
- এক সময় বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল তাপ ক্যালরিক নামে এক প্রকার সূক্ষ্ম তরল বা বায়বীয় পদার্থ, কোনো বস্তুতে ক্যালরিক কম হলে বস্তু ঠান্ডা এবং বেশি হলে বস্তু গরম হয়। 
- ১৭৭৮ খ্রি: বিজ্ঞানী কাউন্ট রামফোর্ড আবিষ্কার করেন, পদার্থের মধ্যে অণুসমূহের গতির ফলই তাপ। 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তি দ্বারা কাজ সম্পাদন হয়, এই শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় আবার অন্য শক্তিও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
যেমন- বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে এবং তাপ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- তাপের S.I একক জুল (J), এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো, 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

তাপমাত্রা (Temparature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের S.I বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট । 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০০.
কোন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না?
  1. পরিবহন
  2. বিকিরণ
  3. পরিচলন
  4. বাষ্পীভবন
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা

• বিকিরণ প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য কোনো জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, যেমন সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসা।

• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে, তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
তাপ সঞ্চালন তিনভাবে হয়।
- যথা—পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ।

• তাপ বিকিরণ:
- পৃথিবীতে সূর্যই তাপের মূল উৎস।
- সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে প্রায় সবটুকুই ফাঁকা, কোনো বায়বীয় পদার্থও নেই।
- সূর্য থেকে তাপ আসে বিকিরণের মাধ্যমে, যেখানে কোনো জড় মাধ্যম নেই, সেখানে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।
- আলো এক রকমের তরঙ্গ, যা কোনো মাধ্যম ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে।
- বিকিরণের সময় তাপ আলো বা বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়।
- মাধ্যম থাকুক বা না থাকুক, উত্তপ্ত বস্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ নির্গত করে।

• বিকিরক ও শোষক:
- কোনো পদার্থ তাপ বিকিরণ করলে তাকে বিকিরক বলে।
- কোনো পদার্থ তাপ শোষণ করলে তাকে শোষক বলে।
- কোনো পদার্থ তার তাপমাত্রার জন্য তাপ বিকিরণ বা শোষণ করলে তাকে তাপীয় বিকিরণ (Thermal radiation) বা তাপীয় শোষণ বলে।
- বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কোনো পদার্থ ভালো তাপ বিকিরক হলে সেটি ভালো তাপ শোষকও হয়।
- তা না হলে একটি বিকিরক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ বিকিরণ করে ক্রমশ শীতল হবে এবং একটি শোষক ক্রমাগত বেশি তাপ শোষণ করে ক্রমশ উত্তপ্ত হবে।

• অন্যান্য অপশন:
- পরিবহন → কঠিন পদার্থে অণুর কম্পনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন হয়।
- পরিচলন → তরল বা বায়বীয় মাধ্যমে কণার সঞ্চালনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হয়।
- বাষ্পীভবন → তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়া, এটি তাপ সঞ্চালনের পদ্ধতি নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।