বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক চাষ ও পশুপালন পদ্ধতি এবং কৃষি ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন১৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক চাষ ও পশুপালন পদ্ধতি এবং কৃষি ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১৭৯

.
সেরিকালচার বলতে কী বোঝায়? 
  1. মৎস্য চাষ
  2. পাখিপালন
  3. রেশম চাষ
  4. মৌমাছি পালন
ব্যাখ্যা
সেরিকালচার (Sericulture): 
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

এভিকালচার (Aviculture):

- পাখি পালন বিষয়াদি বিদ্যাকে এভিকালচার বলে।
- যে বিদ্যায় পাখিদের সমস্ত শ্রেণী ও বাসস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে এভিকালচার বলে।

এপিকালচার (Apiculture):

- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে।
- বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি পালনের তথা এপিকালচার ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

পিসিকালচার (Pisciculture):

- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
- মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
.
সবুজ বিপ্লব বলতে কী বুঝায়?
  1. হাইব্রিডের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন
  2. সবুজ সারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন
  3. পতিত জমির সবুজায়ন
  4. ফলন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা
ব্যাখ্যা
সবুজ বিপ্লব:

- বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, জলসেচ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় যার ফলস্বরূপ ফসলের উৎপাদন অত্যাধিক পরিমানে বৃদ্ধি পায়, যাকে সবুজ বিপ্লব বলে।
- সবুজ বিপ্ল­বের সূচনা হয় ১৯৪৪ সালে, মেক্সিকোয়।
- সবুজ বিপ্লবের প্রধান ফসল হল গম ও ধান।
- এর নেতৃত্ব দেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কৃষি বিজ্ঞানী ড. নরম্যান বোরলগ।
- তাই তাকে সবুজ বিপ্লবের জনক বলা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ৮ই মার্চ USAID-এর পরিচালক উইলয়াম, এস. গাউড একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার সময় দ্রুত ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশলকে ‘সবুজ বিপ্ল­ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

উৎস: Britannica.
.
'স্ল্যাশ-এন্ড-বার্ন' চাষাবাদ হলো -
  1. জমিতে সার দেওয়া হয়
  2. জমিতে পানি দেওয়া হয়
  3. জল-চাষ মৃত্তিকাবিহীন কৃষি
  4. পাহাড়ী চাষাবাদ (জুম)
ব্যাখ্যা
• স্ল্যাশ-এন্ড-বার্ন:
- এটি একটি পাহাড়ী চাষাবাদ (জুম) পদ্ধতি।

- স্ল্যাশ-এন্ড-বার্ন কৃষি এমন একটি চাষ পদ্ধতি, যেখানে বনভূমিকে প্রথমে কেটে ফেলা হয় এবং পরে পুড়িয়ে ফেলে জমিকে চাষের উপযোগী করা হয়।
- এই পদ্ধতি সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে দেখা যায়, যেখানে মূলত ছোট কৃষকরা এটি ব্যবহার করেন।
- দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় এটি পশু চরানোর জন্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে শুকনো ধান চাষের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- পুড়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট ছাই কিছু পরিমাণে সার হিসেবে কাজ করে এবং চাষের জমিকে আগাছামুক্ত রাখতে সহায়তা করে।
- তবে কয়েক বছর চাষের পর মাটির উর্বরতা কমে আসে এবং জমিতে আগাছার বৃদ্ধি ঘটে, ফলে সেই জমি কিছু সময়ের জন্য পরিত্যক্ত রাখা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা, বাংলাপিডিয়া।
.
সেরিকালচার কী?
  1. রেশম পোকার চাষ বিদ্যা
  2. মাছ চাষ বিদ্যা
  3. পাখি পালন বিদ্যা
  4. চিংড়ি চাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা

 • সেরিকালচার:
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- রেশম পকার ইংরেজি নাম Silk Worm.
- বৈজ্ঞানিক নাম: Bombyx Mori.
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- মৎস্য চাষ বিদ্যা - পিসিকালচার.।
- পাখিপালন বিদ্যা- এভিকালচার।
- চিংড়ি পালনবিদ্যা- প্রনকালচার।

উৎস: ব্রিটানিকা

.
'আকবর' ও 'সোনালিকা' কোন উন্নত জাতের ফসল?
  1. ক) আলু
  2. খ) টমেটো
  3. গ) গম
  4. ঘ) বেগুন
ব্যাখ্যা
• গম:
- গমের উন্নত জাত
: বলাকা, দোয়েল, সোনালিকা, আকবর, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী। 

এছাড়াও - 
- বেগুনের উন্নত জাত
: শুকতারা, তারাপুরী, ইওরা ,ইসলামপুর্‌, খটখটিয়া, শিংনাথ, ঝুমকো, মুক্তকেশী, কাজলা, নয়নতারা, বিজয়, চমক এফ১।
- টমেটোর উন্নত জাত: বাহার, মানিক, রতন, মিন্টো, ঝুমকা। 
- আলুর উন্নত জাত: ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, সিন্দুরী। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।
.
সেরিকালচার দিয়ে কী বুঝায়? 
  1. মৎস্য চাষ 
  2. রেশম চাষ
  3. চিংড়ি চাষ 
  4. মৌমাছি চাষ 
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ: 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - পিসিকালচার; 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - প্রণকালচার; 
- মৌমাছির চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - এপিকালচার; 
- রেশমের চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - সেরিকালচার
- উদ্যানবিদ্যা বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - হর্টিকালচার; 
- পাখিপালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - এভিকালচার; 
- সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যাকে বলে - মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

.
কোনটি দ্বারা শাকসবজির চাষ বোঝায়?
  1. এপিকালচার
  2. সেরিকালচার
  3. হর্টিকালচার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোনটি দ্বারা শাকসবজির চাষ বোঝায়?

সমাধান:
শাকসবজি, ফুল ও ফলের বাণিজ্যিক চাষকে উদ্যান তত্ত্ব (Horticulture) বলা হয়।

[অপশনে - olericulture এবং horticulture থাকলে শাকসবজির চাষের ক্ষেত্রে অবশ্যই olericulture দাগাতে হবে,

তবে অপশনে olericulture না থাকলে - horticulture-ই সঠিক উত্তর।]

হর্টিকালচার (Horticulture):
হর্টিকালচার বা উদ্যানপালন পুষ্টি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ফল, সবজি, ফুল, মশলা এবং শোভাবর্ধক গাছপালা চাষের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, মানুষের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয়ের একটি বড় উৎস। 

অন্যান্য অপসনসমূহ, 
এপিকালচার (Apiculture) — মৌমাছি পালন।
সেরিকালচার (Sericulture) — রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট পালন।

উৎস:
১. কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

.
Apiculture হলো -
  1. ক) রেশম চাষ বিদ্যা
  2. খ) মৌমাছি চাষ বিদ্যা
  3. গ) মৎস্য চাষ বিদ্যা
  4. ঘ) পাখি পালন বিদ্যা
ব্যাখ্যা
• এপিকালচার (Apiculture):
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে। বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি পালনের তথা এপিকালচার ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

• সেরিকালচার (Sericulture):
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার। তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

• পিসিকালচার (Pisciculture):
বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে। মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

• এভিকালচার (Aviculture):
পাখি পালন বিষয়াদি বিদ্যাকে এভিকালচার বলে। যে বিদ্যায় পাখিদের সমস্ত শ্রেণী ও বাসস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে এভিকালচার বলে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
.
এপিকালচার কী?
  1. রেশমচাষ বিদ্যা
  2. মৌমাছিপালন বিদ্যা
  3. পাখিপালন বিদ্যা
  4. মৎস্যচাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ পদ্ধতি:
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার।
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার
• উদ্যান পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১০.
'সেরিকালচার' শব্দটি দ্বারা কী বুঝায়?
  1. সামুদ্রিক মৎস্য চাষ
  2. মৎস্য চাষ
  3. রেশম চাষ
  4. চিংড়ি চাষ
ব্যাখ্যা
আধুনিক কৃষি ও চাষ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি: 
• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
• উদ্যান পালন (ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষ) বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 
• সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
১১.
ফুল উৎপাদনের বিজ্ঞানকে কী বলা হয়? 
  1. হর্টিকালচার
  2. অর্গানিক ফার্মিং
  3. সেরিকালচার
  4. ফ্লোরিকালচার
ব্যাখ্যা
ফুল: 
- ফুল বা সুদৃশ্য গাছপালা উৎপাদনের জ্ঞান ফ্লোরিকালচার বা পুষ্পোদ্যান বিদ্যা নামে পরিচিত। 
- ফুল মানসিক আনন্দ দানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- কতগুলো ফুলের সৌন্দর্য মানুষ আকৃষ্ট করে। আবার কতগুলো ফুলের গন্ধ খুবই মনোমুগ্ধকর। 
- ফুল গৃহ, স্কুল কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শোভা বর্ধনের জন্য খুবই প্রয়োজন। 
- ফুল শুধু মানুষের মনতুষ্টির জন্যও নয় এর অর্থনৈতিক অবদান অপরিসীম। 
- বর্তমানে বাংলাদেশে ফুল ও সুদৃশ্য গাছ বাণিজ্যিক উৎপাদন বিশেষ ভাবে গোলাপ চোখে পড়ছে। 
- এছাড়াও বিভিন্ন সুগন্ধি প্রস্তুতি ফুলের নির্যাস ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 
- গোলাপ ফুলকে ফুলের রাণী বলা হয়ে থাকে। এর কোমলতা, বর্ণ, সুগন্ধ এমন কেউ নেই যাকে আকৃষ্ট করে না। সাজ সজ্জায় কাটা ফুল হিসেবে কদর রয়েছে। এছাড়া সুগন্ধি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। 

গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- চিংডি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
- সামদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
- উদ্যান পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১২.
কোন পোকা সরিষা ফসলের প্রধান শত্রু?
  1. ড্যামসেল ফ্লাই
  2. কাটুই পোকা
  3. লেডিবার্ড বিটল
  4. জাব পোকা
ব্যাখ্যা
সরিষা:
- সরিষা এদেশের বিভিন্ন তৈল জাতীয় ফসলের মধ্যে অন্যতম।
- সরিষার বীজ থেকে তৈল ও খৈল পাওয়া যায়।
- তৈলে ক্ষতিকর ইরোসিক এসিড বিদ্যমান।
- আর খৈল ভালো জৈব সার ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- সুনিষ্কাশিত বেলে দো-আঁশ মাটি সরিষা চাষের জন্য উপযুক্ত।
- সরিষা বীজ প্রধানত মধ্য অক্টোবর থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত বোনা যায়।
- সরিষা ফসলের ক্ষতিকর পোকা হলো জাব পোকা, পরগাছা হলো অরোবাংকি এবং ও রোগ হলো পাতায় দাগ পড়া রোগ।

⇒ রোগ ও পরগাছা দমন:
- সরিষা গাছে পাতায় দাগ পড়া বা অলটারনেরিয়া ব্লাইট রোগ হয়।
- এ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে পাতায় বাদামী বা গাঢ় বাদামী দাগ পড়ে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পাতা, কা-, শুঁটি ও বীজেও এই দাগ পড়ে।
- এ রোগ দমনের জন্য ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ বা রোভরাল ডব্লিউপি ১ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১২ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
- এছাড়া সরিষা ক্ষেতে অরোবাংকি নামক এক প্রকার পরগাছা জন্মে যা সরিষার মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।
- অরোবাংকি দেখা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নিড়ানি দিয়ে জমি থেকে উঠিয়ে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
একটি আদর্শ মৃত্তিকায় শতকরা কত ভাগ খনিজ পদার্থ থাকে?
  1. ৫০ ভাগ
  2. ২৫ ভাগ
  3. ৩৫ ভাগ
  4. ৪৫ ভাগ
ব্যাখ্যা

- মৃত্তিকা ৪টি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত।
- এগুলো হচ্ছে-খনিজ বা অজৈব পদার্থ, জৈব পদার্থ, পানি ও বায়ু। 
- একটি আদর্শ মৃত্তিকায় সাধারণত শতকরা ৪৫ ভাগ খনিজ পদার্থ, ২৫ ভাগ পানি, ২৫ ভাগ বায়ু এবং ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকে ।
- তবে মৌসুম পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রধানত পানি এবং বায়ুর অনুপাতের পরিবর্তন ঘটে। 
- মৃত্তিকা উপাদানের এই অনুপাত মৃত্তিকার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করে থাকে। 

উৎস: মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা, সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

১৪.
জুম চাষকে আর কী নামে ডাকা হয়?
  1. সেচনির্ভর কৃষি
  2. সুইডেন চাষাবাদ
  3. বনায়ন চাষাবাদ
  4. প্রাচীন চাষ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

• জুম চাষ:
- জুমচাষ (Shifting cultivation) পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীদের মধ্যে অতি পরিচিত একটি পাহাড়ী মিশ্র কৃষি চাষ পদ্ধতি।
- জুম বা স্থানান্তর চাষাবাদ সাধারণভাবে ‘সুইডেন চাষাবাদ’ বা জঙ্গল পরিষ্কার ও পোড়ানো চাষাবাদ হিসেবে পরিচিত।
- এমন একটা সময় ছিল যখন এখানকার জনগোষ্ঠীদের মধ্যে এই জুম চাষই ছিল জীবিকা অর্জনের একমাত্র উপায়। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এখানকার মানুষ সমতলের মত চাষাবাদ করার পদ্ধতি আয়ত্ব করেছে জুমচাষের অনেক পরে।
- মূলত চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতীয়দের জীবন ও সংস্কৃতি বহুলাংশে জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল।
- এছাড়া সিলেটের পাহাড়িয়া অঞ্চলেও কিছু কিছু জুমচাষ হয়।
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, জুম চাষ হয়।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলির প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি।
- জুম চাষকে স্থানান্তর কৃষি ব্যবস্থাও বলা হয়ে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

১৫.
'বাংলামতি' কৃষিতে কিসের জাত?
  1. ধান
  2. গম
  3. পাট
  4. ইক্ষু
ব্যাখ্যা

বাংলামতি:
- 'বাংলামতি' কৃষিতে এক প্রকার ধান।
- এটি ধানের উন্নত জাত।
- ব্রি ধান-৫০ যার জনপ্রিয় নাম বাংলামতি (বাসমতীর ন্যায়) ধানের জাত অনুকূল বোরো মওসুমের জন্য উপযোগী।
- অবমূক্তকারী প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 
- জীবনকাল: ১৫৫ দিন দিন
- উৎপাদন ( সেচ সহ ) / প্রতি হেক্টর: ৬.০ টন কেজি

• এই জাতের বৈশিষ্ট্য:
১। গাছের উচ্চতা ৮২ সেন্টিমিটার।
২। গাছ হেলে পড়ে না।
৩। চাল লম্বা, চিকন, সুগন্ধি ও সাদা।
৪। ভাত ঝরঝরে।
৫। চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৮.২%।

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ধান: 
- ইরাটম, 
- ব্রি হাইব্রিড - ১, 
- চান্দিনা, 
- হীরা,
- মালা, 
- বিপ্লব, 
- দুলাভোগ, 
- মোহিনী, 
- সুফলা, 
- আশা, 
- প্রগতি।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

১৬.
রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট মূলত কোন গাছের পাতায় পালন করা হয়?
  1. আম
  2. তুঁত
  3. রাবার
  4. নিম
ব্যাখ্যা

◉ রেশমকীট (Silkworm) মূলত তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বেড়ে ওঠে এবং কোকুন তৈরি করে, যা থেকে রেশম সুতা সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে সেরিকালচার (Sericulture) বলা হয়।

সেরিকালচার (Sericulture):
- রেশম পোকার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে Bombyx mori রেশম চাষে বেশি ব্যবহার করা হয়। 
- এ পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে বিধায় রেশম চাষীকে তুঁত গাছ চাষ করতে হয়।
- রেশম চাষ এর ইংরেজি হলো Sericulture। ল্যাটিন শব্দ 'Serio' থেকে Sericulture শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 'Serio' শব্দের অর্থ Silk বা রেশম।
- রেশম পোকার খাদ্যের জন্য তুঁত গাছ চাষ করে এই পোকার লার্ভা পালন করে তাদের সৃষ্ট গুটি বা কোকুন থেকে রেশম সুতা আহরণ করার পদ্ধতিকে রেশম চাষ বলা হয়।
- তুঁত গাছ চাষ ও রেশম পোকার লার্ভা পালন ছাড়াও এ পোকার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল রেশম পোকা উদ্ভাবন করা আধুনিক রেশম চাষের অন্তর্ভুক্ত।
- এ দেশের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু রেশম চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
বাংলাদেশের পানি সম্পদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি কোন খাতে?
  1. আবাসিক
  2. কৃষি
  3. পরিবহন
  4. শিল্প
ব্যাখ্যা
• কৃষিখাত: 
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়।
- জিডিপির সর্ববৃহৎ খাত: সেবাখাত (১৩টি খাত নিয়ে গঠিত) এবং ছোট খাত: কৃষিখাত।
- আবার, কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত: কৃষিখাত।
- কৃষি বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত এবং পানি সম্পদের প্রধান ব্যবহারকারী।
- কৃষিখাত ছাড়া পানির আবাসিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারও ব্যাপক।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪, বাংলাপিডিয়া।
১৮.
মদ তৈরীর জন্য আঙ্গুর চাষ করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. Viticulture
  2. Herpetoculture
  3. Sericulture
  4. Cuniculture
ব্যাখ্যা
• Viticulture:
- ভিটিকালচার বা ওয়াইনগ্রোয়িং (ওয়াইন গ্রোয়িং) হল মদ তৈরীর জন্য আঙ্গুর চাষ করার প্রক্রিয়া।
- এটি হর্টিকালচার একটি শাখা।

অপশন আলোচনা:
• Herpetoculture:
- হার্পেটোকালচার হল জীবন্ত সরীসৃপ এবং উভচর প্রাণীদের বাণিজ্যিক প্রজনন প্রক্রিয়া।

• Sericulture:
- রেশম বা সিল্ক চাষের বিজ্ঞানসম্মত এবং আধুনিক প্রক্রিয়াকে সেরিকালচার বলে। 

• Cuniculture:
- কুনিকালচার হল প্রজনন এবং গৃহপালিত খরগোশকে তাদের মাংস, পশম বা উলের জন্য পশুসম্পদ হিসাবে লালন-পালন প্রক্রিয়া।

সূত্র: sciencedirect.
১৯.
Entomology হলো-
  1. ক) বাস্তুবিদ্যা
  2. খ) ভ্রূনবিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) কীটতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
কিটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং দমন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে Entomolgy বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
২০.
উদ্যানতাত্ত্বিক চাষাবাদ বিষয়ক বিদ্যার নাম কী? 
  1. এপিকালচার
  2. হর্টিকালচার
  3. সেরিকালচার
  4. প্রণকালচার
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যাবিষয়ক নামসমূহ: 
- চিংড়ি চাষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলে প্রণকালচার (Prawn Culture)। 
- সামুদ্রিক মাছ চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে মেরিকালচার (Mariculture)। 
- সাধারণ মাছ চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার (Pisciculture)। 
- মৌমাছি পালন সংক্রান্ত বিদ্যাকে বলে এপিকালচার (Apiculture)। 
- রেশম উৎপাদনের জন্য রেশম গুটি ও গুটি পোকা পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে সেরিকালচার (Sericulture)। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার (Aviculture)। 
- বাগান বা উদ্যানতাত্ত্বিক চাষাবাদ (যেমন: ফল, ফুল, শাকসবজি) সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার (Horticulture)। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২১.
ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. অলটিমিটার
  2. ক্যালরিমিটার
  3. অ্যামিটার
  4. ইনকিউবিটর
ব্যাখ্যা
কৃত্রিমভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর পদ্ধতি: 
 -বাণিজ্যিকভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য কৃত্রিম পদ্ধতি সবচেয়ে উপযুক্ত। 
- কৃত্রিমভাবে ডিম ফোটানোর যন্ত্র বা ইনকিউবেটরের সাহায্যে ডিম ফোটানো যায়। 
- ১৮৪৪ সালে সর্বপ্রথম আমেরিকাতে ডিম ফোটানো যন্ত্র বা ইনকিউবেটর আবিষ্কৃত হয়েছিল। 
- বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের ইনকিউবেটর তৈরি করেছে। 
- তবে, কোনো হ্যাচারিতে কী ধরনের ইনকিউবেটর ব্যবহার করা হবে তা নির্ভর করে ঐ হ্যাচারির আকার, হ্যাচারি মালিকের ক্ষমতা এবং যেখানে হ্যাচারি স্থাপন করা হবে সেখানে বিদ্যুতের সরবরাহ রয়েছে কি-না তার ওপর। 

উৎস: গৃহপালিত পাখি পালন ও হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, বিএজিএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (IPNS) এ ব্যবহৃত হয় –
  1. রাসায়নিক সার ও হরমোন
  2. রাসায়নিক সার
  3. জৈব সার
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System- IPNS):
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System- IPNS) হলো একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কৃষকদের তাদের ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির উপাদানগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করা হয়।
- এটি মূলত জৈব এবং রাসায়নিক উভয় ধরনের পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে একটি সুসমন্বিত পদ্ধতি।

⇒ সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য:
- পুষ্টির সমতা: পুষ্টি উপাদানের সঠিক ভারসাম্য স্থাপন করা যাতে ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানো যায়।
- মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন: মাটির উর্বরতা বাড়ানো এবং তার স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
- ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি: ফসলের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়কেই বাড়ানো।
- পরিবেশ সুরক্ষা: রাসায়নিক সার ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো।
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মূল উপাদান:
- জৈব সার: কম্পোস্ট, পশুর বর্জ্য, সবজি পচা ইত্যাদি।
- রাসায়নিক সার: নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: Integrated Plant Nutrition System (IPNS) - A Practice for Sustainable Agriculture Resource management. Indian Journal of Environment and Ecoplanning
২৩.
নিচের কোন মৌমাছিটি প্রজননে সক্ষম?
  1. ক) স্ত্রী মৌমাছি
  2. খ) কর্মী মৌমাছি
  3. গ) রাণী মৌমাছি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
একটি মৌচাকে বা পরিবারে তিন শ্রেণীর মৌমাছি থাকে। যথা: (১) রাণী, (২) পুরুষ ও (৩) শ্রমিক মৌমাছি। রাণী মৌমাছি সবচেয়ে বড় প্রকৃতির। একটি চাকে একটি মাত্র রাণী মৌমাছি থাকে। এর একমাত্র কাজ ডিম পাড়া। এটি প্রজননে সক্ষম। একটি রাণী মৌমাছির আয়ুষ্কাল প্রায় ২/৩ বছর।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
২৪.
সেরিকালচার কী?
  1. রেশম পোকার চাষ বিদ্যা
  2. মাছ চাষ বিদ্যা
  3. পাখি পালন বিদ্যা
  4. চিংড়ি চাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা

• সেরিকালচার:
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- রেশম পকার ইংরেজি নাম Silk Worm.
- বৈজ্ঞানিক নাম: Bombyx Mori.
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- মৎস্য চাষ বিদ্যা - পিসিকালচার.।
- পাখিপালন বিদ্যা- এভিকালচার।
- চিংড়ি পালনবিদ্যা- প্রনকালচার।

উৎস: ব্রিটানিকা

২৫.
নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার কোনটি?
  1. হাড়ের গুড়া
  2. সরিষার খৈল
  3. গৃহস্থালির ছাই
  4. মাছের কাঁটা
ব্যাখ্যা
সরিষার খৈল: 
- সরিষার খৈল একটি চমৎকার নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার। 
- এটি সরিষার বীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের পর যে খোসা ও অন্যান্য উপাদান বাকি থাকে, তা থেকেই তৈরি হয়। 
- সরিষার খৈল ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও জীবাণু কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। 
- এটি উদ্ভিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহকারী সার হিসেবে কাজ করে। 
- সরিষার খৈলে প্রচুর নাইট্রোজেন থাকে, যা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক। নাইট্রোজেন গাছের পাতা ও কাণ্ডের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং সবুজ রং বজায় রাখে। 
- সরিষার খৈল মাটির গঠনকে উন্নত করে, যা পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির বায়ু চলাচল সহজ করে। 
- সরিষার খৈল গাছের শিকড়ের ক্ষতিকারক জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- হাড়ের গুড়াতে মূলত ফসফরাস থাকে, যা শিকড়ের বৃদ্ধির জন্য ভালো, তবে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ নয়। 
- গৃহস্থালির ছাইতে সাধারণত পটাশিয়াম থাকে, যা গাছের ফুল ও ফল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, তবে নাইট্রোজেনের উপস্থিতি কম। 
- মাছের কাঁটাতে কিছু পরিমাণ নাইট্রোজেন থাকতে পারে, তবে এটি সরিষার খৈলের মতো সমৃদ্ধ নয়। 
২৬.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. ইউরিয়া
  2. টিএসপি
  3. পটাশ
  4. জিংক
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।
- নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় রুপান্তরিত করা হয়।
- অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন হয় ।
- এতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৪৬%।
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওইয়েবসাইট।

২৭.
টেকসই কৃষির মূলনীতি কোনটি?
  1. পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি
  2. উচ্চ ফলনশীল বীজ
  3. রাসায়নিক সারের ব্যবহার
  4. একফসলী চাষ
ব্যাখ্যা
• টেকসই কৃষির অন্যতম মূলনীতি হলো পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি। 

• টেকসই কৃষি:

- টেকসই কৃষি (Sustainable agriculture) হল এমন একটি কৃষি পদ্ধতি যা বর্তমান খাদ্য ও বস্ত্রের চাহিদা পূরণ করে, কিন্তু একই সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
- এটি পরিবেশের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব কমিয়ে, প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করে এবং টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করে। 

• টেকসই কৃষির মূলনীতি :- 
→ পরিবেশবান্ধব চাষপদ্ধতি যেমন:
- জৈব সার ও কম্পোস্ট ব্যবহার। 
- কীটনাশকের ব্যবহার  কমানো বা বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল। 
- জলসঞ্চয় ও মাটির উর্বরতা রক্ষা। 

→ বৈচিত্র্যময় চাষ (Crop diversification)। 

→ স্থানীয় সম্পদ ও জ্ঞানকে কাজে লাগানো। 

→ নবায়নযোগ্য সম্পদের ব্যবহার।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
২৮.
নিচের কোনটির কারণে আমের এন্থ্র্যাকনোজ রোগ হয়ে থাকে?
  1. নেমাটোড
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ভাইরাস
ব্যাখ্যা
এন্থ্র্যাকনোজ রোগ:
- আমের এন্থ্র্যাকনোজ রোগের কারণ Colletotrichum gloeosporioides নামক এক ধরনের ছত্রাক।

⇒ লক্ষণ -
- আমের এনথ্রাকনোজ হলে কচি পাতায় অনিয়মিত দাগ দেখা যায় ।
- আমের মুকুল কালো হয়ে যায়, আমের গুটি ঝড়ে যায় ।
- বড় আম আক্রান্ত হলে আক্রান্ত স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়।

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
২৯.
তুলার উন্নত জাত কোনটি?
  1. ম্যানিলা
  2. কার্ডিনাল
  3. ডেলফোজ
  4. পেট্রোনিস
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফসল:
- গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।
- ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি। 
- তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
- ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ।
- আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, ক্ষীরসাপাতি ও মােহনভােগ।
- টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
- মরিচ: যমুনা।
- বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
- আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
- তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৩০.
বাণিজ্যিকভাবে ফুল, ফল ও শাকসবজি চাষকে বলে-
  1. হর্টিকালচার
  2. প্রণকালচার
  3. পিসিকালচার
  4. সেরিকালচার
ব্যাখ্যা

Horticulture শব্দটি ল্যাটিন hortus (garden/উদ্যান) এবং cultura (চাষাবাদ) থেকে এসেছে। এটি ফুল, ফল, শাকসবজি ও অলঙ্কারিক উদ্ভিদ চাষের বিদ্যা।

আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি:
• মৎস্য চাষ - পিসিকালচার।
• চিংড়ি পালনবিদ্যা- প্রণকালচার।
উদ্যানবিদ্যা - হর্টিকালচার
• রেশমের (পোকার) চাষ - সেরিকালচার।
• মৌমাছির চাষ - এপিকালচার।
• পাখিপালন বিদ্যা- এভিকালচার।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩১.
জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি কোথায় অবস্থিত?
  1. সাভার, ঢাকা
  2. ঈশ্বরদী, পাবনা
  3. নশিপুর, দিনাজপুর
  4. জয়দেবপুর, গাজীপুর
ব্যাখ্যা
• জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি:
→ অবস্থান: জয়দেবপুর, গাজীপুর, বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট  এর পার্শে মনোরম পরিবেশে পূর্বতন সার্ডির অবকাঠামো ও জমিতে জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (এনএটিএ) আত্মপ্রকাশ করেছে।
→ ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ জাইকার সহায়তা প্রকল্প হিসাবে  কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সার্ডি) প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ  কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট(সার্ডি) ডিএইর অন্তর্ভুক্ত হয়।
→ ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ০৩ এপ্রিল  কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট(সার্ডি) বিলুপ্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা  হিসাবে জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি(নাটা) এর সরকারী আদেশ জারী করা হয়।
→ ২০১৪ এর জুন মাসে মহাপরিচালক নিয়োগের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি।
৩২.
কৃষিতে ’স্বর্ণা সার’ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ড. মাকসুদুল আলম
  2. ড. আব্দুল খালেক
  3. ড. আব্দুল জমির উদ্দিন
  4. ড. মোবারক আহমেদ খান
ব্যাখ্যা

স্বর্ণা সার:
- স্বর্ণা এক প্রকার জৈব সার।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম ফাইটা হারমোন ইনডিউসার।
- ১৯৮৭ সালে ড. সৈয়দ আব্দুল খালেক এই সার আবিষ্কার করেন।

উল্লেখ্য,
-'স্বর্ণা' নামের বহুল পরিচিত এই 'জৈবসার'-টি পেটেন্ট করা হয় ১৯৯৩ সালে।
- ড. মোবারক আহমেদ খান ২০০৮ সালে পাট থেকে ঢেউটিন তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
- পাটের জিনোম আবিষ্কার করেন ড. মাকসুদুল আলম।

উৎস: মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৩৩.
রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে কি নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) Sericulture
  2. খ) Pisciculture
  3. গ) Horticulture
  4. ঘ) Fishiculture
ব্যাখ্যা
মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা - পিসিকালচার;
মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যা - এপিকালচার;
চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা - প্রণকালচার;
মৌমাছির চাষ - এপিকালচার;
রেশমের চাষ - সেরিকালচার;
উদ্যানবিদ্যা - হর্টিকালচার;
পাখি পালন বিদ্যা - এভিকালচার;
সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যা - মেরিকালচার
৩৪.
পাখিপালন বিদ্যাকে কী বলে?
  1. সেরিকালচার
  2. এভিকালচার
  3. অর্থিনোলজি
  4. হর্টিকালচার
ব্যাখ্যা
- পাখিপালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার।

এছাড়াও
- মৎস্যচাষ বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার
- মৌমাছি পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার।
- রেশম চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
- উদ্যান পালন বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার।
- চিংড়ি চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার।
- সামদ্রিক মৎস্য চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার।
- পাখি সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ornithology বলে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩৫.
উপকূলীয় বনের বৃক্ষ কোনটি?
  1. জারুল
  2. গর্জন
  3. শাল
  4. গরান
ব্যাখ্যা

উপকূলীয় বন:
- সমুদ্র উপকূলে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা বনকে উপকূলীয় বন বলা হয়।
- এ ছাড়া পরিকল্পিত উপায়ে সমুদ্র উপকূলে সামাজিক বন গড়ে তোলা হলেও তাকে উপকূলীয় বন বলে।
- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় উপকূলীয় বন অবস্থিত।
- খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীর উপকূলীয় বন সুন্দরবন নামে পরিচিত।
- প্রতিনিয়ত সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বনও বলা হয়।
- সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন।
- এ বনের মোট আয়তন ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার।
- এ বন পৃথিবীর বৃহত্তম উপকূলীয় প্রাকৃতিক বন।
- এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি। এ ছাড়া পশুর, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতা প্রভৃতি এ বনের উল্লেখযোগ্য বৃক্ষ।
- এ বনের প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। চিত্রা হরিণ, চিতাবাঘ, বন্য শূকর, বানর, কুমির, ঘড়িয়াল, অজগর এবং নানা প্রজাতির পাখি, কীটপতঙ্গ এ বনে বাস করে।
- এ বনের বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত কাঠ গৃহনির্মাণ, নিউজপ্রিন্ট তৈরি ও জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র - কৃষি শিক্ষা, ৭ম শ্রেণি বোর্ড বই।

৩৬.
পিঁয়াজের গোড়াপঁচা রোগ দমনে কোন স্প্রে করা হয়?
  1. ম্যালথিয়ন ৫৭ টসি
  2. রোভরাল ৫০ ডব্লিউ পি
  3. ডাইথেন এম ৪৫
  4. সাবান পানি
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজ:
- পিঁয়াজ একদিকে একটি মসলা এবং অপরদিকে একটি সবজিও বটে।
- পিঁয়াজের পাতা ও ডাঁটা ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ।
- সাধারণত রবি মৌসুমে পিঁয়াজ চাষ করা হয়।
- এর জন্য উপর্যুক্ত তাপমাত্রা হলো ১৫-২০° সে.।
- পিঁয়াজের ফুল ধারনের জন্য নিম্ন তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- পিঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য কন্দ বা বাল্ব উৎপাদন করা হয়।
- সাধারণত কন্দ থেকে উৎপাদিত পিঁয়াজ পরবর্তী বছর বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালেও পিঁয়াজের আবাদ শুরু হয়েছে।

⇒ পিঁয়াজের রোগবালাই দমন:
- পিঁয়াজের রোগের মধ্যে গোড়াপঁচা ও অলটারনারিয়া লিফ ব্লাইট (পার্পল ব্লচ) প্রধান।
- গোড়াপঁচা রোগে গাছের গোড়া পচে যায়।
- এক্ষেত্রে ডাইথেন এম-৪৫ ২০ গ্রাম/১০লিটার প্রতি হেক্টরে স্প্রে করে ভাল ফল পাওয়া যায়।
- অলটারনারিয়া লিফ ব্লাইট হলে পাতায় লালচে রং এর ঠোসা দেখা যায়।
- পরে পাতা কালো হয়ে পুড়ে যায়।
- এ রোগ দমনের জন্য রোভরাল ৫০ ডব্লিউপি (২০ গ্রাম/ ১০ লিটার, প্রতি হেক্টরে) স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
পিসি কালচার হলো-
  1. মৎস্য চাষ
  2. রেশম চাষ
  3. মৌমাছি চাষ
  4. পাখি পালন বিদ্যা
ব্যাখ্যা
• পিসিকালচার (Pisciculture):
- এটি মাছ, শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক মূল্য সম্পন্ন জলজ প্রাণী চাষের বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি।
- মাছের চাষে ব্যবহৃত আধুনিক পদ্ধতিগুলির মধ্যে পরিবেশগত দিক বজায় রাখার প্রতি জোর দেওয়া হয়।

• সেরিকালচার (Sericulture):
- রেশম পোকার চাষের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি, যেখানে তুঁতজাত রেশম মথের পালন করা হয় এবং এর গুটির থেকে রেশম সংগ্রহ করা হয়।
- এই প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে রেশম পরিশোধন ও প্রস্তুতির কাজে ব্যবহৃত হয়।

• এপিকালচার (Apiculture):
- মৌমাছি পালন এবং তাদের মধু সংগ্রহ করার পদ্ধতি, যা অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি ব্যবস্থা।
- এতে মৌমাছি বিভিন্ন গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তা পরবর্তীতে মানুষের ব্যবহার জন্য প্রক্রিয়া করা হয়।

• এভিকালচার (Aviculture):
- পাখি পালনের বিদ্যা।
- এটি পাখির বিভিন্ন প্রজাতির পালন, তাদের জীবনের মানোন্নয়ন, পাখিদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং গবেষণা করা ইত্যাদির উপর আলোচনা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩৮.
'এভিকালচার' শব্দ দ্বারা কী বুঝায়? 
  1. পাখি পালন
  2. মৌমাছি পালন
  3. মৎস্য চাষ
  4. রেশম চাষ
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- পাখিপালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার। 
- মৎস্যচাষ বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার। 
- রেশম চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার। 
- উদ্যান পালন বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩৯.
শামুক পালন বিষয়ক বিদ্যাকে কী বলা হয়?
  1. Heliciculture
  2. Oenology
  3. Pomology
  4. Vermiculture
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষ: 
• শামুক পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- Heliciculture. 

অন্যদিকে, 
- Oenology - মদ উৎপাদন বিষয়ক বিদ্যা।
- Pomology - ফল চাষ বিষয়ক বিদ্যা।
- Vermiculture - কেঁচো চাষ বিষয়ক বিদ্যা।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৪০.
পরাগরেণু বিশ্লেষণ বিদ্যাকে বলা হয়-
  1. ক) অস্টিওলজি
  2. খ) সাইটোলজি
  3. গ) এমব্রায়োলজি
  4. ঘ) প্যালিনলজি
ব্যাখ্যা
পরাগরেণু বিশ্লেষণ বিদ্যাকে বলা হয় প্যালিনলজি।
৪১.
গ্রিনহাউজ কি?
  1. কাঁচের তৈরি ঘর
  2. সবুজ আলোর আলোকিত ঘর
  3. সবুজ ভবনের নাম
  4. সবুজ গাছপালা
ব্যাখ্যা
- গ্রিনহাউস অত্যধিক ঠান্ডা বা তাপের বিরুদ্ধে কোমল বা ঋতু-বহির্ভূত উদ্ভিদের সুরক্ষার জন্য ডিজাইন করা ভবন। 
- গ্রিনহাউসটি একটি ন্যূনতম কাঠের বা ধাতব কঙ্কাল সহ কাঁচের তৈরি একটি ছাদযুক্ত এবং প্রাচীরযুক্ত কাঠামোতে বিকশিত হয়। 
- আধুনিক গ্রিনহাউস সাধারণত একটি গ্লাস বা প্লাস্টিক-ঘেরা ফ্রেমযুক্ত কাঠামো যা ফল, শাকসবজি, ফুল এবং অন্য যেকোনো উদ্ভিদের উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং যার জন্য তাপমাত্রার বিশেষ প্রয়োজন হয়। 


উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৪২.
রেশমের মূল গাঠনিক পদার্থ-
  1. ক) এপিসিন
  2. খ) ব্রাসিসিন
  3. গ) সেরিসিন
  4. ঘ) এরিসিন
ব্যাখ্যা
রেশম সুতা উৎপাদনের লক্ষ্যে রেশমপোকা প্রতিপালনকে রেশম চাষ বলে। এটি ফলিত প্রাণিবিজ্ঞান এর অন্যতম একটি শাখা। রেশম চাষের ইংরেজি শব্দ Sericulture - এর আভিধানিক অর্থ Culture of Sericine বা সেরিসিন নামক এক ধরনের প্রোটিন এর লালন। এই সেরিসিন হলো রেশমের ‍মূল গাঠনিক পদার্থ।
৪৩.
বাংলাদেশে কয় ধরনের পাট চাষাবাদ করা হয়?
  1. তিন প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

• পাট চাষ ব্যবস্থাপনা:
• মৌসুম: পাট উৎপাদন মৌসুম (বপন থেকে পাট কাটা) হচ্ছে ফাল্গুনের শেষ থেকে আষাঢ়ের শেষ পর্যন্ত।
• জাত : আঁশ ফসলের জন্য চার ধরনের পাট রয়েছে। দেশী পাট, তোষা পাট, কেনাফ ও মেস্তা পাট। 

• জমি তৈরিকরণঃ
- উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি যেখানে বৃষ্টির পানি বেশি সময় দাঁড়ায় না এবং দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
- বৃষ্টিপাতের পরপরই আড়াআড়ি ৫-৭ টি চাষ দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে।
- ঢেলা গুড়ো করতে হবে এবং জমি আগাছামুক্ত করতে হবে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৪.
উচ্চ তাপমাত্রা (প্রায় ৩৫° সেলসিয়াস) মাছের ক্ষেত্রে কী ঘটায়?
  1. মাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়
  2. রোগজীবাণুর জন্ম বৃদ্ধি পায়
  3. মাছের খাদ্য বাড়ে
  4. পানির লবণাক্ততা কমে
ব্যাখ্যা

• উচ্চ তাপমাত্রা (প্রায় ৩৫° সেলসিয়াস) মাছের ক্ষেত্রে রোগজীবাণুর জন্ম বৃদ্ধি ঘটায়।

• মৎস্যসম্পদ ও পানির তাপমাত্রার সম্পর্ক:
- মাছ শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী হওয়ায় পানির তাপমাত্রা তাদের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে।
- পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়ে গেলে মাছের শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

• উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব:
- প্রায় ৩৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রোগজীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
- রোগজীবাণু বৃদ্ধির ফলে মাছের রোগ সংক্রমণ বেড়ে যায়।
- রোগ সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মৃত্যুহার বাড়ে।

• মৎস্যসম্পদ হ্রাসে ভূমিকা:
- উচ্চ তাপমাত্রাজনিত রোগ সংক্রমণ মৎস্যসম্পদ হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকলে ব্যাপক হারে মাছ মারা যেতে পারে।

• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- মাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয় → ৩৫° সেলসিয়াসে বৃদ্ধি দ্রুত হয় না; বরং অক্সিজেন কমে যাওয়ায় খাদ্য গ্রহণ ও বৃদ্ধি কমে যায়। আদর্শ তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হলে বৃদ্ধি মন্থর হয়।
- মাছের খাদ্য বাড়ে → উচ্চ তাপমাত্রায় মাছের খাদ্য গ্রহণ কমে যায় (অ্যাপেটাইট কমে), কারণ মেটাবলিজম বেড়ে যায় কিন্তু অক্সিজেন কম থাকে।
- পানির লবণাক্ততা কমে → লবণাক্ততা বাষ্পীভবন বা পানি যোগ/বিয়োগের উপর নির্ভর করে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৪৫.
কোনটি আলুর ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে?
  1. মড়ক রোগ
  2. ঢলে পড়া রোগ
  3. দাঁদ রোগ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলু:
- বাংলাদেশে গমের পরেই আলুর স্থান।
- বীজ আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
- পরিমিত ও সময়মতো সার প্রয়োগ, আন্তঃপরিচর্যা রোগ বালাই দমন ইত্যাদি সঠিকভাবে করলে ভাল আলু বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

⇒ আলুর রোগ:
- আলুর রোগসমূহের মধ্যে মড়ক রোগ, ঢলে পড়া রোগ, দাদ রোগ, কান্ড পচা রোগ ও ভাইরাসজনিত রোগ অন্যতম।
- নিম্নতাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও মেঘলা আকাশ আলুর চাষের জন্য ক্ষতিকর।
- এতে আলুর মড়ক রোগের (লেট ব্লাইট) আক্রমণ বেশি দেখা যায়।
- এ অবস্থা থেকে ফসলকে রক্ষা করার জন্য ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

⇒ আলুর পোকা:
- আলুতে আক্রমণকারী পোকার মধ্যে কাটুই পোকা, আলু গাছ কেটে দেয় এবং আলু আক্রমণ করে।
- কাটুই পোকার উপদ্রব বেশি না হলে গাছের আশে পাশের মাটি খুঁড়ে কীড়া খুঁজে মেরে ফেলতে হবে।
- জাব পোকা আলু গাছের রস খায় এবং ভাইরাস রোগ ছড়ায়।
- গাছের পাতা গজানোর ৭-১০ দিন পর কীটনাশক প্রয়োগ করে এ পোকা দমন করা যায়।
- সুতলী পোকা আলুর মধ্যে সুড়ঙ্গ তৈরি করে আলুর ক্ষতি সাধন করে।
- এজন্য বীজ আলুতে সুতলী পোকা আক্রান্ত আলু বেছে আলু বপন করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
মধু চাষের সাথে সম্পর্কিত শাখা কোনটি?
  1. পিসিকালচার
  2. সেরিকালচার
  3. এপিকালচার
  4. হর্টিকালচার
ব্যাখ্যা
• এপিকালচার: 
- যে পদ্ধতিতে কৃত্রিম ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন করে মৌচাক থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়, তাকে এপিকালচার বলা হয়।
- এটি কৃষির একটি বিশেষায়িত শাখা যেখানে মৌমাছির প্রজনন, পরিচর্যা এবং মধু, মোম, পরাগরেণু, রয়্যাল জেলি ও প্রোপোলিসের মতো মূল্যবান পণ্য উৎপাদন সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়। 
- মধু উৎপাদন বা মধু চাষের সাথে সম্পর্কিত শাখা হলো এপিকালচার। 
- এটি কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মৌমাছি পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

• এপিকালচারের গুরুত্ব:
→ অর্থনৈতিক উপকারিতা:
- মধু ও মৌমাছির অন্যান্য উপজাত দ্রব্য (যেমন মোম, প্রোপোলিস) বিক্রি করে আয় করা যায়।
- বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষকদের জন্য এটি একটি লাভজনক পেশা।

→ পরাগায়নে ভূমিকা:
- মৌমাছি ফসলের পরাগায়নে সাহায্য করে, যা কৃষি উৎপাদন ২০-৩০% পর্যন্ত বাড়াতে পারে।

→ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা:
- মৌমাছি বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
• পিসিকালচার- এটি হলো আধুনিক কৃষির একটি বিশেষ শাখা যেখানে মাছ চাষ, ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।

• সেরিকালচার- এ শাখায় রেশমকীট পালন ও রেশম উৎপাদন অর্থাৎ রেশম চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়। 

• হর্টিকালচার- আধুনিক কৃষির এ শাখায় ফলমূল, শাকসবজি ও ফুলের চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- FAO (Food and Agriculture Organization).
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)।
৪৭.
টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য সাধারণত কী ব্যবহার করা হয়?
  1. শুধু শিকড়
  2. শুধু বীজ
  3. পূর্ণাঙ্গ গাছ
  4. গাছের অংশবিশেষ 
ব্যাখ্যা

◉ টিস্যু কালচার (Tissue Culture) হলো একটি উদ্ভিদ প্রজনন পদ্ধতি, যেখানে গাছের যেকোনো অংশ (পাতা, কাণ্ড, শিকড়, কলি ইত্যাদি) জীবাণুমুক্ত পরিবেশে পুষ্টি মাধ্যমের মধ্যে রেখে নতুন উদ্ভিদ উৎপাদন করা হয়।

টিস্যু কালচার:
- উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে টোটিপোটেন্ট (totipotent) স্টেম কোষ থাকায় এর প্রায় যেকোনো অংশ থেকে হুবহু আরেকটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব, এটিই টিস্যু কালচারের মূলনীতি।
- পূর্ণাঙ্গ গাছ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, বরং ছোট অংশ থেকেই নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়।
- সাধারণত এক বা একাধিক ধরনের এক গুচ্ছ কোষসমষ্টিকে টিস্যু (Tissue) বা কলা বলা হয়।
- এই এক গুচ্ছ কোষ উৎপত্তিগতভাবে অভিন্ন এবং সম্মিলিতভাবে একই কাজ করে।
- একটি টিস্যুকে জীবাণুমুক্ত পুষ্টিবর্ধক কোনো মিডিয়ামে (Nutrient medium) বর্ধিতকরণ প্রক্রিয়াই হলো টিস্যু কালচার।
- টিস্যু কালচার উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি অপেক্ষাকৃত নতুন শাখা।
- উদ্ভিদ টিস্যু কালচারে উদ্ভিদের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ বা অঙ্গবিশেষ (যেমন পরাগরেণু, শীর্ষ বা পার্শ্বমুকুল, পর্ব, মূলাংশ ইত্যাদি) কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টিবর্ধক মিডিয়ামে জীবাণুমুক্ত অবস্থায় কালচার করা হয়।
- মিডিয়ামগুলোতে পুষ্টি এবং বর্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সরবরাহ করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম - ১০ শ্রেণি।

৪৮.
‘এভিকালচার’ কী?
  1. মৎস্য চাষ
  2. রেশম চাষ
  3. মৌমাছি চাষ
  4. পাখিপালন বিদ্যা
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ পদ্ধতি:
​- পাখি পালন বিদ্যা- এভিকালচার।
​- চিংড়ি চাষ বিদ্যা- প্রনকালচার।
​- মৎস্য চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
​- মৌমাছি পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার।
​- রেশম চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
​- উদ্যান পালন বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার।

​​​উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৯.
কৃষি জমিতে প্রধানত চুন ব্যবহার করা হয়-
  1. মাটির ক্ষয় রোধের জন্য
  2. মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  3. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধির জন্য
ব্যাখ্যা
• কৃষি জমিতে চুন ব্যবহার:
- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
৫০.
ডালজাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার কয় ভাগে জমিতে প্রয়োগ করা হয়?
  1. ১ ভাগে
  2. ২ ভাগে
  3. ৩ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
ডালজাতীয় ফসল:
- যে সমস্ত মাঠ ফসল খেলে আমিষজাতীয় খাবারের অভাব দূর হয়, তাদেরকে ডালজাতীয় ফসল বলা হয়।
- যেমন-মসুর, মুগ, মাষকালাই, খেসারী, ছোলা, মটর ইত্যাদি।
- এরা লিগুমিনোসী পরিবারের ফসল বিধায় এদেরকে লিগিউমজাতীয় ফসল বলা হয়।
- রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করে এজাতীয় ফসলের মুলে নডিউল সৃষ্টি করে।
- এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

⇒ মসুর ও মুগের ইংরেজি নাম যথাক্রমে Lentil ও Greengram এবং বৈজ্ঞানিক নাম যথাক্রমে Lens culinaris Vigna radiata মসুর সাধারণত কম তাপমাত্রা ও শুষ্ক জলবায়ু পছন্দ করে।
- এরা খরা সহিষ্ণু এবং বেশি বৃষ্টিপাত সহ্য করতে পারে না।
- বাংলাদেশে বিনা মসুর ১ থেকে ৭ বারি মসুর ১ থেকে ৭, মুকদিয়া ও জামালপুর ২ জাত উল্লেখযোগ্য।
- ফলে হেক্টরপ্রতি ১.৮-২.২ টন হয়ে থাকে।
- অপরদিকে মুগ ২৫-৩০ সে. তাপমাত্রায় ভালো জন্মায়।
- হালকা বৃষ্টিপাত ও উজ্জ্বল সূর্যালোকে মুগ চাষের জন্য বেশ ভালো।
- এদেশে বারিমুগ ১ থেকে ৬, বিনা মুগ ১ থেকে ৮ চাষ হয়ে থাকে।
- বেশির ভাগ জাতই সারা বছর চাষ করা যায়। ফল প্রতি হেক্টরে ০.৯-২.০ টন হয়ে থাকে।

⇒ সার প্রয়োগ:
- মসুর চাষে হেক্টর প্রতি ৪৫ কেজি ইউরিয়া, ৮৫ কেজি টিএসপি বা ডিএপি এবং ৩৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়।
- জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ইউরিয়া ছাড়া সব সার ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।
- ইউরিয়া সার তিনভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ১৫-২০ দিন পর, দ্বিতীয় ভাগ ৩০-৪০ দিন পর এবং ৩য় ভাগ ৫০-৬০ দিন পর ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হয়।
- তবে পচা গোবর, কম্পোস্ট, খামারজাত সার ও জীবাণু সার এদের যে কোন একটি প্রয়োগ করলে ইউরিয়া সার লাগবে না।
- জীবানু সার প্রয়োগের পূর্বে এক কেজি মসুর বীজের সাথে ৫০ গ্রাম জীবাণু সার ও ৫০ গ্রাম চিটাগুড় মিশাতে হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
পেয়ারার এ্যানথ্রাকনোজ কী জাতীয় রোগ?
  1. ছত্রাক
  2. ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পেয়ারা:
- পেয়ারা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি সুস্বাদু ফল।
- পেয়ারার জন্য ২৩০-২৮০ সে. তাপমাত্রা উত্তম।
- সুনিষ্কাশিত উঁচু দোআঁশ মাটি উপযোগী।
- পেয়ারা সাধারণত: গুটি কলমের মাধ্যমে চারা তৈরি করা হয়।
- পেয়ারার এ্যানথ্রাকনোজ, ঢলে পড়া, ডাইব্যাক রোগে আক্রান্ত হয়।
- ফলের মাছি পোকা, মিলি বাগ পোকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ফল হলদে সবুজ রং ধারণ করলে সংগ্রহ করতে হবে।

⇒ রোগ ও পোকা মাকড় দমন:
এনথ্রাকনোজ রোগ:
- ইহা একটি ছত্রাকজনিত রোগ।
- পেয়ারার পাতা, কান্ড, শাখা ও ফল আক্রান্ত হয়।
- প্রথম দিকে পেয়ারার গায়ে ছোট ছোট বাদামি দাগ হয় তা ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে।
- ফলের শাঁস শক্ত হয় এবং ফল ফেটে যায়।
- গাছের নিচে আক্রান্ত পাতা ও ফল পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
- আক্রমণ বেশি হলে টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. অনুপাতে মিশিয়ে ১৫দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
Sericulture শব্দের 'Serio' অর্থ কী? 
  1. রেশম 
  2. তন্তু 
  3. মৌমাছি
  4. মৎস্য
ব্যাখ্যা

সেরিকালচার (Sericulture): 
- রেশম পোকার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। 
- এদের মধ্যে Bombyx mori রেশম চাষে বেশি ব্যবহার করা হয়। এ পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে বিধায় রেশম চাষীকে তুঁত গাছ চাষ করতে হয়। 
- রেশম চাষ এর ইংরেজি হলো Sericulture। ল্যাটিন শব্দ 'Serio' থেকে Sericulture শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 'Serio' শব্দের অর্থ Silk বা রেশম। 
- রেশম পোকার খাদ্যের জন্য তুঁত গাছ চাষ করে এই পোকার লার্ভা পালন করে তাদের সৃষ্ট গুটি বা কোকুন থেকে রেশম সুতা আহরণ করার পদ্ধতিকে রেশম চাষ বলা হয়। 
- তুঁত গাছ চাষ ও রেশম পোকার লার্ভা পালন ছাড়াও এ পোকার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল রেশম পোকা উদ্ভাবন করা আধুনিক রেশম চাষের অন্তর্ভুক্ত। 
- এই দেশের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু রেশম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
‘এপিকালচার’ কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে?
  1. গুটিপোকা এবং রেশম
  2. মৌমাছি এবং মধু
  3. মৎস চাষ
  4. তামাক চাষ
ব্যাখ্যা

♦ কালচার:
- কালচার মানে হল চাষ, পালন, লালন-পালন বা বিজ্ঞানসম্মত উৎপাদন পদ্ধতি।

♦ এপিকালচার:
- এপিকালচারে মৌমাছি এবং মধু নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে।
- মৌমাছি পালন প্রাণি পালনের সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতিগুলোর একটি।
- বর্তমানে কৃতিম উপায়ে মৌমাছি পালনের তথা এপিকালচার ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।
- প্রথমদিকে মধু সংগ্রহ করতে হলে মৌমাছির বাসা ধ্বংস করতে হতো।
- কিন্তু আধুনিক মৌমাছি পালকরা এক্সট্র্যাক্টর ব্যবহার করেন, যা মধুমাখা কোষগুলো থেকে মধু বের করে, কিন্তু কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

♣ মধু সংগ্রহের জন্য মৌমাছি পালকদের প্রয়োজন হয়:
• নেট বা পর্দাযুক্ত হেলমেট, যা কামড় থেকে রক্ষা করে।
• কোষ কাটা যন্ত্র।
• স্মোকার, যা মৌমাছিকে শান্ত করে।

♦ উল্লেখ্য:
- সেরিকালচার: রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যা।
- পিসিকালচার: মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা।
- প্রণকালচার: চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা।
- হর্টিকালচার: উদ্যান বিষয়ক বিদ্যা।
- এভিকালচার: পাখীপালন বিষয়ক বিদ্যা।
- মেরিকালচার: সামুদ্রিক মৎস পালন বিষয়ক বিদ্যা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৫৪.
পাতা ঝলসানো রোগ কী দ্বারা সংক্রমণ হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. নেমাটোড
ব্যাখ্যা
পাতা পোড়া বা পাতা ঝলসানো রোগ:
⇒ কারণ:
- ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনে হয়।

⇒ লক্ষণ:
১) চারা অবস্থায় এ রোগ হলে আক্রান্ত গাছের গোড়া পত্রফলক, বাইরের পাতা হলদে হয়ে আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়।
২) বয়স্ক গাছে থোড় অবস্থা থেকে পাতা পোড়া রোগের লক্ষণ দেখা যায়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করা। যেমন- বিআর-২, বিআর-৪, ব্রিধান-২৭, ব্রিধান- ২৮, ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৩১ ইত্যাদি।
২) আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা।
৩) সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা।
৪) আক্রান্ত জমির পানি শুকিয়ে আবার সেচ দেয়া।
৫) ফসল কাটার পর নাড়া পুড়িয়ে ফেলা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
পাটের মোজাইক রোগের প্রতিকার কোনটি?
  1. সাদা মাছি দমন করতে হবে
  2. রোগমুক্ত সুস্থ বীজ বপন করতে হবে
  3. আক্রান্ত গাছ জমি থেকে উঠিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
পাট:
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- পাট ও পাট জাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
- পাট সাধারণত: দেশি পাট ও তোষা পাট প্রজাতির হয়ে থাকে।
- পাটের ক্ষতিকর পোকার মধ্যে বিছাপোকা উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়াও উড়চুঙ্গা, পাটের ঘোড়া পোকা, চলে পোকা, মাকড় ইত্যাদি।
- রোগের মধ্যে গোড়াপঁচা রোগ, কান্ড পঁচা রোগ, কালো পট্টি রোগ, ঢলে পড়া রোগ, মোজাইক রোগ প্রধান।
- রিবন রেটিং পদ্ধতি পাটের ছাল পৃথক করা হয় পরে পাত্রের পানির মধ্যে পঁচানো হয়।

⇒ মোজাইক রোগ:
• লক্ষণ:
- ভাইরাসের আক্রমণে পাতার হলদে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে।
- পাতার শিরাত হলদে হয়ে যায়।

• প্রতিকার:
ক) আক্রান্ত গাছ জমি থেকে উঠিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে।
খ) সাদা মাছি এ রোগ ছড়ায়, তাই এই মাছি দমন করতে হবে।
গ) রোগমুক্ত সুস্থ বীজ বপন করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
ফলগাছ চাষাবাদ সংক্রান্ত বিদ্যাকে বলা হয় -
  1. ক) Horticulture
  2. খ) Pomology
  3. গ) Phycology
  4. ঘ) Olericulture
ব্যাখ্যা

Horticulture - উদ্যান পালন বিদ্যা।
Pomology - ফলগাছ চাষাবাদ সম্বন্ধীয় বিদ্যা।
Phycology - শৈবাল সম্পর্কিত বিদ্যা।
Olericulture - সবজি পালন বিষয়ক বিদ্যা।
সূত্রঃ ব্রিটানিকা

৫৭.
সেরিকালচার কী?
  1. রেশম পোকার চাষ বিদ্যা
  2. মাছ চাষ বিদ্যা
  3. পাখি পালন বিদ্যা
  4. চিংড়ি চাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা
• সেরিকালচার:
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- রেশম পকার ইংরেজি নাম Silk Worm.
- বৈজ্ঞানিক নাম: Bombyx Mori.
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- মৎস্য চাষ বিদ্যা - পিসিকালচার.।
- পাখিপালন বিদ্যা- এভিকালচার।
- চিংড়ি পালনবিদ্যা- প্রনকালচার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫৮.
কাঠ উৎপাদনের জন্য বন ও বনজ সম্পদের চাষাবাদ ও ব্যবস্থাপনাকে কী বলে?
  1. Myciculture
  2. Olericulture
  3. Silviculture
  4. Viticulture
ব্যাখ্যা
• Silviculture: কাঠ উৎপাদনের জন্য বন ও বনজ সম্পদের চাষাবাদ ও ব্যবস্থাপনা।

অপশন আলোচনা:
→ Myciculture - খাদ্য, ঔষধ, বা শিল্পে ব্যবহারের জন্য ছত্রাক চাষ বিষয়ক বিজ্ঞান। (একে Fungiculture- ও বলা হয়)।
→ Olericulture- সবজি চাষ বিষয়ক বিজ্ঞান।
→ Viticulture - মদ বা ওয়াইন তৈরির জন্য আঙ্গুর চাষ বিষয়ক বিজ্ঞান।

সূত্র: The Food and Agriculture Organization of the United Nations (FAO).
৫৯.
সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে কী বলা হয়? 
  1. প্রণকালচার 
  2. সেরিকালচার 
  3. পিসিকালচার 
  4. মেরিকালচার
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ বিদ্যা: 
- সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে মেরিকালচার বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- সাধারণ মৎস্য চাষবিদ্যাকে পিসিকালচার বলা হয়। 
- রেশম কীট পালন ও রেশম উৎপাদনের বিদ্যাকে সেরিকালচার বলা হয়। 
- চিংড়ি ও অন্যান্য শেলফিশ চাষবিদ্যাকে প্রণকালচার বলা হয়। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৬০.
সবজি চাষ বিদ্যাকে কী বলে?
  1. Horticulture
  2. Aroboriculture
  3. Floriculture
  4. Vegiculture
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষ: 
- সবজি চাষ পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- অলেরিকালচার  (Olericulture)। 
- অলেরিকালচার হলো হর্টিকালচারের একটি শাখা যা শাকসবজি উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারজাতকরণের সাথে সম্পর্কিত। যেহেতু অপশনে অলেরিকালচার নেই, তাই অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে হর্টিকালচার নেওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে, 
- বৃক্ষবিদ্যার ইংরেজি আর্বোরিকালচার (Arboriculture) শব্দটি ইংরেজি "Arbor" শব্দ থেকে এসেছে। 
- Arbor শব্দের অর্থ "নিকুঞ্জ" (অর্থাৎ, বৃক্ষছায়ায় ঘাস আচ্ছাদিত স্থান)। 
- বৃক্ষবিদ্যায় মূলত সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন উদ্ভিদ চাষ ও ব্যবস্থাপনা (অর্থাৎ, নিকুঞ্জ তৈরি) সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে বলে এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 
[Aroboriculture ও Vegiculture বানান দুইটি মূল পরীক্ষার অপশনে ভুল রয়েছে যার সঠিক বানান হবে Arboriculture ও Vegeculture]
- ফুল ও ফুলগাছের চাষাবাদকে বলা হয়- ফ্লোরিকালচার (Floriculture)। 
- Vegeculture মূলত কন্দাল ফসল যেমন আলু, মিষ্টিআলু, কচু, মেটেআলু, কাসাভা ইত্যাদি চাষকে বুঝায়।


অন্যান্য আধুনিক চাষ: 
- রেশম চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার। 
- পাখি পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার। 
- চিংডি চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার। 
- উদ্যান পালন বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৬১.
মৌচাকে কয় ধরনের মৌমাছি থাকে? 
  1. এক ধরনের 
  2. দুই ধরনের 
  3. তিন ধরনের 
  4. চার ধরনের 
ব্যাখ্যা

মৌমাছির জাত: 
- মৌমাছির কলোনিতে তিন জাতের মৌমাছি থাকে। 
যেমন- একটি রাণী, কয়েক হাজার কর্মী ও কয়েকশত পুরুষ। 
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন লক্ষ করা যায়। 
- তিন ধরনের মৌমাছির দৈহিক গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়, এদের এরূপ অবস্থাকে বহুরূপতা বলে। 

রাণী মৌমাছি গঠন: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে অনেক বড়। 
- এদের উদর বেশ প্রশস্ত। 
- এদের ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্ত ক্রমশ সরু। 
- এ সরু প্রান্তে বাঁকানো হুল থাকে যা রূপান্তরিত ওভিপজিটর। 
- এদের প্রোবোসিস ও রেণুখলি থাকে না, পদ ক্ষুদ্রাকৃতির, ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ, মোম ও মধু সৃষ্টি করতে পারে না, লালাগ্রন্থি নেই। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২.
আধুনিক চাষে “হাইড্রোপনিক্স” বলতে কী বোঝায়?
  1. পানির নিচে চাষ
  2. মাটি ছাড়া চাষ
  3. সূর্যালোক ছাড়া চাষ
  4. রোবট দ্বারা চাষ
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোপনিক্স (Hydroponics) হলো একটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, যেখানে মাটি ব্যবহার না করে উদ্ভিদকে পুষ্টিকর তরল দ্রবণে জন্মানো হয়। 

- এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদ সরাসরি প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ ও পুষ্টি গ্রহণ করে, ফলে বৃদ্ধি হয় দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে।
 
মূল ধারণা:
- হাইড্রোপনিক্স শব্দটি এসেছে “Hydro” (পানি) এবং “Ponos” (পরিশ্রম) শব্দ থেকে।
- এটি এমন এক চাষপদ্ধতি যেখানে পানি ও পুষ্টি মিশ্রণই উদ্ভিদের প্রধান মাধ্যম।

চাষ পদ্ধতি:
- উদ্ভিদ মাটির পরিবর্তে পানি, বালু, কঙ্কর, পারলাইট, বা কোকোপিট ইত্যাদির ওপর জন্মায়।
- এই মাধ্যমে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, আয়রন, জিংক, বোরন ইত্যাদি খনিজ দ্রবীভূত করে দেওয়া হয়।

অবশ্যক শর্ত:
সূর্যালোক, পানি, পুষ্টি দ্রবণ, অক্সিজেন ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা।

সুবিধা:
- মাটির রোগ ও কীটনাশকের সমস্যা থাকে না।
- পানি খরচ কম (প্রায় ৮০–৯০% পর্যন্ত সাশ্রয়)।
- শহুরে ছাদ বা নিয়ন্ত্রিত গ্রীনহাউসে সহজে চাষ সম্ভব।
- উৎপাদন বেশি ও সময় কম লাগে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৬৩.
রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট মূলত কোন গাছের পাতায় পালন করা হয়?
  1. অর্জুন
  2. আম
  3. বহেরা
  4. তুঁত
ব্যাখ্যা

• সেরিকালচার (Sericulture):
- রেশমকীট মূলত তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বেড়ে ওঠে এবং কোকুন তৈরি করে, যা থেকে রেশম সুতা সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে সেরিকালচার (Sericulture) বলা হয়।
- রেশম পোকার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে Bombyx mori রেশম চাষে বেশি ব্যবহার করা হয়।
- এ পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে বিধায় রেশম চাষীকে তুঁত গাছ চাষ করতে হয়।
- রেশম চাষ এর ইংরেজি হলো Sericulture। ল্যাটিন শব্দ 'Serio' থেকে Sericulture শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 'Serio' শব্দের অর্থ Silk বা রেশম।
- রেশম পোকার খাদ্যের জন্য তুঁত গাছ চাষ করে এই পোকার লার্ভা পালন করে তাদের সৃষ্ট গুটি বা কোকুন থেকে রেশম সুতা আহরণ করার পদ্ধতিকে রেশম চাষ বলা হয়।
- তুঁত গাছ চাষ ও রেশম পোকার লার্ভা পালন ছাড়াও এ পোকার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল রেশম পোকা উদ্ভাবন করা আধুনিক রেশম চাষের অন্তর্ভুক্ত।
- এ দেশের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু রেশম চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪.
ফসল উৎপাদনের জন্য কোন ধরনের মাটি উত্তম?
  1. এঁটেল মাটি
  2. পলি মাটি
  3. বেলে মাটি
  4. দো-আঁশ মাটি
ব্যাখ্যা
দো-আঁশ মাটি: 

- ফসল উৎপাদনের জন্য দো-আঁশ মাটি উত্তম।
- কারণ, দো-আঁশ মাটিতে বালি, পলি, কর্দমকণা প্রায় সমান অনুপাতে বিদ্যমান থাকে।
- এ মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে তাই চাষের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী।
- এ মাটির পানি ধারণ ও শোষণ ক্ষমতা উভয় বেশি।
- বাংলাদেশের অধিকাংশ মাটি দো-আঁশ মাটি।
- কৃষিক্ষেত্রে দো-আঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয়। 
 
উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
৬৫.
রেশম পোকা থেকে তৈরি গুটিকে কী বলা হয়?
  1. ক) ফাইব্রেয়ন
  2. খ) বোরাক্স
  3. গ) কোকুন
  4. ঘ) কেরাটিন
ব্যাখ্যা
রেশম:
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়।
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে।
- রেশম তন্তু ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি।
- রেশম পোকা থেকে তৈরি গুটিকে কোকুন (Cocoon) বলা হয়।

--------------------------------
- মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন নামক প্রোটিন থাকে।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬.
'ফ্লোরিকালচার' কী?
  1. সবজিচাষ সংক্রান্ত বিদ্যা
  2. ফলচাষ সংক্রান্ত বিদ্যা
  3. ফুলচাষ সংক্রান্ত বিদ্যা
  4. শস্যচাষ সংক্রান্ত বিদ্যা
ব্যাখ্যা
- ফ্লোরিকালচার বা ফুল চাষ হল উদ্যানপালনের একটি শাখা যা ফুল শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। 
- উদ্ভিদ প্রজননের মাধ্যমে নতুন জাত উদ্ভাবন ফুল চাষীদের একটি প্রধান পেশা। 

অন্যদিকে, 
- ফলচাষ বিষয়ক বিদ্যাকে পোমোলজি বলা হয়। 
- মাঠ ফসল উৎপাদন এবং মাটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা বিদ্যাকে এগ্রোনমি বলা হয়। 
- হর্টিকালচার হল উন্নয়ন, টেকসই উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং উচ্চ-মূল্যের, নিবিড়ভাবে চাষ করা খাদ্য এবং শোভাময় উদ্ভিদের বিজ্ঞান ও শিল্প। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার। 
- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার। 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার। 
- পাখী পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার এবং 
- সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৬৭.
কোনটি ফসলের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ক্যালসিয়াম
  3. পটাশিয়াম
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয়/অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান:
– গাছ যে সকল খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে তারমধ্যে ১৬ টি উপাদানকে অত্যাবশ্যকীয়/অপরিহার্য মনে করা হয়।
– কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন ব্যতিত অন্যান্য ১৩ টি উপাদান গাছ মাটি হতে সংগ্রহ করে থাকে এবং এই ১৩ টি উপাদান কে বলা হয় খনিজ পুষ্টি (Mineral Nutrients)। গাছ কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকে বাতাস এবং পানি হতে।

– গাছের পুষ্টি গ্রহনের পরিমাণের উপরে নির্ভর করে এ সকল পুষ্টি উপাদান কে মোট ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
(১) মূখ্য উপাদান (Macro nutrient)- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার,
(২) গৌন উপাদান (Micro nutrient) - আয়রণ, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, কপার, মলিবডেনাম, বোরণ ও ক্লোরিন।

এ পুষ্টি উপাদানসমূহ এর অভাবে গাছ এর স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।

উপকারী/প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান:
– সোডিয়াম, সিলিকন, এলুমিনিয়াম, কোবাল্ট, সেলেনিয়াম প্রভৃতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
এগুলো সব গাছের জন্য অত্যাবশ্যকীয় নয় তবে সুনির্দিষ্ট গাছের জন্য দরকারি বলে ধরা হয়।
যেমন: নারিকেল গাছের জন্য সোডিয়াম।

উৎস: i) উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, Bachelor of Agriculture Education, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Texus A&M Agrilife Extension ওয়েবসাইট
৬৮.
মাছ চাষের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন মাত্রা কত? 
  1. ২ পিপিএম
  2. ৫ পিপিএম
  3. ১০ পিপিএম
  4. ১২ পিপিএম
ব্যাখ্যা
মাছ চাষের পুকুরের পানির গুণাগুণ: 
- মাছের বেঁচে থাকা, খাদ্যগ্রহণ ও আশানুরূপ বৃদ্ধির জন্য পুকুরের পানির গুণাগুণ অনুকূল মাত্রায় থাকা দরকার। 
- পুকুরে পানির গুণাগুণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১) ভৌত গুণাগুণ: 
ক) গভীরতা: 
- পুকুর বেশি গভীর হলে সূর্যের আলো পুকুরের অধিক গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে অধিক গভীর অঞ্চলে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য প্লাংকটন তৈরি হয় না। আবার সেখানে অক্সিজেনের অভাব হতে পারে। অন্যদিকে পুকুর অগভীর হলে গ্রীষ্মকালে পুকুরের পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এসব কারণে মাছের ক্ষতি হতে পারে ও উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। 

খ) তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধির উপর মাছের বৃদ্ধি নির্ভর করে। যেমন- শীতকালে মাছ খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেয় ফলে মাছের বৃদ্ধি কমে যায়। এ কারণে শীতকালে পুকুরে সার ও খাদ্য প্রয়োগের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়। রুই জাতীয় মাছের বৃদ্ধি ২৫-৩০° সে. তাপমাত্রা সবচেয়ে ভালো হয়। 

গ) ঘোলাত্ব: 
- কাদা কণার কারণে পুকুরের পানি ঘোলা হলে পানিতে সূর্যালোক প্রবেশে বাধা পায়। এতে করে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। 

ঘ) সূর্যালোক: 
- যে পুকুরে সূর্যালোক বেশি পড়ে সেখানে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। ফলে সেখানে ফাইটোপ্লাংটন বেশি উৎপাদিত হয় ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। 

২। রাসায়নিক গুণাগুণ: 
ক ) দ্রবীভূত অক্সিজেন: 
- পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন মাছ চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানত ফাইটোপ্লাংকটন ও জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন তৈরি করে পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত হয়। বায়ুমণ্ডল হতে সরাসরি পানির উপরিভাগেও কিছু অক্সিজেন মিশ্রিত হয়। পুকুরে বসবাসকারী মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণী এ অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসকার্য চালায়। রাতে সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণ হয় না বলে পানিতে কোনো অক্সিজেন তৈরি হয় না। এজন্য সকালে পুকুরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় ও বিকেলে বেশি থাকে। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমপক্ষে ৫ মিলি গ্রাম/লিটার (৫ পিপিএম বা ১ মিলিয়ন ভাগের পাঁচ ভাগ) থাকা প্রয়োজন। 

খ ) দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড: 
- পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ফাইটোপ্লাংকটনের উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকা প্রয়োজন। তবে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড মাছের জন্য ক্ষতিকর। পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ১২ মিলি গ্রাম/লিটারের (১২ পিপিএম) নিচে থাকলে তা মাছ ও চিংড়ির জন্য বিষাক্ত নয়। মাছের ভালো উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরের পানিতে ১-২ পিপিএম কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকা প্রয়োজন। 

গ) পিএইচ (pH): 
- পুকুরের পানির pH মান নির্ণয় করে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাত্রা বোঝা যায়। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানির pH ৬.৫-৮.৫ এর মধ্যে হলে ভালো হয়। pH ৪ এর নিচে বা ১১ এর উপরে হলে মাছ মারা যায়। পানির pH কমে অম্লীয় হয়ে গেলে পুকুরে চুন (১-২ কেজি/শতক) প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে pH বেড়ে ক্ষারীয় অবস্থা বেশি বেড়ে গেলে অ্যামোনিয়াম সালফেট বা তেঁতুল পানিতে গুলে পুকুরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। 

ঘ) ফসফরাস: 
- প্রাকৃতিক পানিতে অতি অল্প পরিমাণ ফসফরাস থাকে। এই ফসফরাস ফসফেটে রূপান্তরিত হয়। পরিমিত ফসফেটের উপস্থিতিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইটোপ্লাংটন জন্মায়। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯.
সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে কী বলা হয়?
  1. সেরিকালচার
  2. প্রণকালচার
  3. মেরিকালচার
  4. পিসিকালচার
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষবিদ্যা: 
- সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে মেরিকালচার বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- সাধারণ মৎস্য চাষবিদ্যাকে পিসিকালচার বলা হয়। 
- রেশম কীট পালন ও রেশম উৎপাদনের বিদ্যাকে সেরিকালচার বলা হয়। 
- চিংড়ি ও অন্যান্য শেলফিশ চাষবিদ্যাকে প্রণকালচার বলা হয়। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৭০.
কোন পানি গাছ সহজে গ্রহণ করতে পারে?
  1. মহাকর্ষীয় পানি
  2. জলাকর্ষী পানি
  3. কৈশিক পানি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মাটিতে রন্ধ্র:
- মাটিতে দুই প্রকার রন্ধ্র থাকে:
• সূক্ষ্ম রন্ধ্র ও
• স্থূল রন্ধ্র। 

⇒ মাটির রন্ধ্র পরিসরে যে পানি থাকে তাকে মৃত্তিকা পানি বলে।
- পানি একটি সার্বজনীন দ্রাবক যাতে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান দ্রবীভূত থাকে।
- পানি মাটি থেকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের বাহক হিসেবে কাজ করে।

⇒ মৃত্তিকা পানি প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
• মহাকর্ষীয় পানি,
• কৈশিক পানি ও,
• জলাকর্ষী বা আদ্রিক পানি।
- কৈশিক পানি গাছের গ্রহণ উপযোগী পানি।

⇒ ফসলের বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য জমি বা মাটির কোন ক্ষতি সাধন না করে কৃত্রিম উপায়ে প্রয়োজনীয় পরিমান পানি ফসলের জমিতে সরবরাহ করাকে পানি সেচ বলে।
- সেচের পানি মাটির খাদ্য উপাদান দ্রবীভূত করে এবং গাছের জন্য সহজলভ্য করে।
- জমির জো অবস্থা আনতে, জমির লবনাক্ততা, ক্ষারত্ব দূর করতে, অনুজীবের কার্যাবলি বাড়াতে, সারের কার্যকারিতা বাড়াতে সেচ প্রয়োজন।
⇒ সেচের পানির দুইটি উৎস রয়েছে:
• ভূ-পৃষ্ঠস্থ ও,
• ভূ-গর্ভস্থ পানি।
- মাটির উর্বরতা ও ফসল উৎপাদন সেচের পানির গুণাগুণের উপর অনেকটা নির্ভরশীল।
- ফসলের পানির ন্যূনতম চাহিদা হল যে পরিমাণ পানি গ্রহণ করতে না পারলে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
- আবার ফসলের যে বৃদ্ধি পর্যায় পানির অভাব হলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায় তাকে ফসলের পানির ক্রান্তিকাল বলে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
জুম চাষ হয়-
  1. বরিশালে
  2. ময়মনসিংহে
  3. খাগড়াছড়িতে
  4. দিনাজপুরে
ব্যাখ্যা
• জুম চাষ:
- জুম চাষ (Jhum) বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি।
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- মূলত পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করাই হলো জুম।
- এক্ষেত্রে সাধারণত পাহাড়ের গায়ে কিছু স্থানে চাষ করার পর কয়েক বছর সেই স্থানের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য রেখে দিয়ে আবার পাহাড়ের অন্য স্থানে গিয়ে চাষ করা হয়।

- জুম চাষিদের জুমিয়া বলা হয়।
- জুম চাষ পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
- বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ভূমি এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়।
- সাধারণভাবে জন্মানো প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভুট্টা, কাউন, তিল, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ, বরবটি, তুলা, কলা, আদা, হলুদ প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) জুম চাষ হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৬ এপ্রিল, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৭২.
বাংলাদেশে উৎপাদিত নিম্নলিখিত কোন রাসায়নিকটি কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. নাইট্রিক অ্যাসিড
  2. অ্যামোনিয়াম সালফেট
  3. পটাসিয়াম ক্লোরাইড
  4. ইথানল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে মূলত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সার বেশি ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর সাড়ে ২৬ লক্ষ টন ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয়।
- কিন্তু বাংলাদেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লক্ষ টন। 
- টিএসপি সার প্রয়োজন হয় সাড়ে সাত লক্ষ মেট্রিকটন।
- কিন্তু দেশে উৎপাদন হয় এক লক্ষ মেট্রিকটন। 
- ডিএপি সারের প্রয়োজন হয় সাড়ে ১৬ লাখ। তার মধ্যে সাড়ে ১৫ লাখ মেট্রিকটন সার বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। 
- এমওপি সারের চাহিদা রয়েছে আট লক্ষ, যার পুরোটাই বেলারুশ, রাশিয়া, কানাডা থেকে আমদানি করা হয়।
- বাংলাদেশে উৎপাদিত অ্যামোনিয়াম সালফেট রাসায়নিকটি কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। 

বাংলাদেশে অ্যামোনিয়াম সালফেট সার নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার, এটি সাধারণত কৃষিতে ব্যবহৃত হয়। এতে ২১% নাইট্রোজেন এবং ২৪% সালফার থাকে। এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এবং ফসলের ফলন বাড়াতে সহায়ক।
পটশিয়াম ক্লোরাইড বা মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত একটি সার। কিন্তু এটি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না, প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়।
৭৩.
জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলা হয় -
  1. ক) ভাইরাসকে
  2. খ) ব্যাকটেরিয়াকে
  3. গ) DNA কে
  4. ঘ) RNA কে
ব্যাখ্যা

ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলা হয়।
জীব জগতে ভাইরাসের অবস্থান সম্পর্কে ফ্রান্সের বিজ্ঞানী নোবেল জয়ী ও লুই পাস্তুরের গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক A. Lowff 1952 সালে মন্তব্য করেন “A virus is a virus” অর্থাৎ ভাইরাস ভাইরাসই । এরা জীবও নয় জড়ও নয়।
[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ২০।]

৭৪.
এক মাসে মোট কতবার ভরা কটাল ও মরা কটাল হয়?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে। এক মাসে দু’বার ভরা কটাল এবং দু’বার মরা কটাল হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।

৭৫.
'Aquaculture' শব্দটি দ্বারা কী বুঝায়?
  1. মাছ চাষ
  2. মৌমাছি চাষ
  3. রেশম চাষ
  4. পাখি পালন
ব্যাখ্যা
মৎস্যবিজ্ঞান: 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের বিভিন্ন দিক যেমন- শ্রেনীবিন্যাস, মাছ চাষ ও ব্যবস্থাপনা, মাছের প্রজনন, প্রতিপালন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন, রোগতত্ত্ব তথা মাছ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মৎস্যবিজ্ঞান বলে। 
- বর্তমানে মাছ চাষের সাথে অন্যান্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন জলজ প্রাণি যেমন- চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপ, ব্যাঙ ইত্যাদি চাষ করা হয়। 
- বিজ্ঞানের ভাষায় মাছ চাষকে বলা হয় একোয়াকালচার (Aquaculture)। 
- Aquaculture শব্দটি Latin শব্দ 'Aqua' যার অর্থ “পানি” এবং English শব্দ 'Culture' যার অর্থ "চাষ” নামক দু'টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। 
অর্থাৎ, Aquaculture অর্থ পানিতে চাষ অথবা মাছ চাষ। 
- অন্যভাবে, নিয়ন্ত্রিত বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলজ জীবের চাষকে একোয়াকালচার বলে। 
- একে Aquafarming ও বলা হয়। 
যেমন- মাছ চাষ (Fish farming/culture), চিংড়ি চাষ (Shrimp farming/culture), ওয়েস্টার চাষ (Oyster farming/culture), সীউঈড চাষ (Seaweed farming/culture) ইত্যাদি। 

কিছু আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- চিংডি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
- সামদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৭৬.
'Meteorology' কী সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান ?
  1. ক) বিষ সম্পর্কিত বিদ্যা
  2. খ) পরিবেশের সাথে জীবের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান
  3. গ) উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞান
  4. ঘ) আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয় Meteorology।
বিষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় টক্সিকোলজি (Toxicology)।
পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলে ইকোলজি (Ecology)।
উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয় হর্টিকালচার (Horticulture)।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৭.
বিশ্ববাজারে ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া কী নামে পরিচিত?
  1. কুষ্টিয়া গ্রেড
  2. চুয়াডাঙ্গা গ্রেড
  3. পাবনা গ্রেড
  4. যশোর গ্রেড
ব্যাখ্যা
কুষ্টিয়া গ্রেড:

- বাংলাদেশে পালিত ছাগলের প্রায় নব্বই ভাগই হলো ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল।
- এই জাতের ছাগলের চামড়া অত্যন্ত উন্নত মানের এবং মাংস অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ব্যতীত ছাগলের অন্যান্য জাতের মধ্যে যমুনাপারি বা রামছাগল, কাশ্মিরী, বারবারি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- দেশের সর্বত্রই এই জাতের ছাগল দেখা যায়। তবে কৃষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে এই ছাগলের পালন সর্বাধিক হয়।
- যার কারণে বিশ্ববাজারে ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৭৮.
আধুনিক চাষ বিষয়ক নিচের কোন জোড়াটি সঠিক? 
  1. হর্টিকালচার — মাছ চাষ
  2. এভিকালচার — রেশম চাষ
  3. প্রণকালচার — চিংড়ি চাষ
  4. সেরিকালচার — মৌমাছি পালন
ব্যাখ্যা

- আধুনিক চাষ বিষয়ক সঠিক জোড়াটি হচ্ছে প্রণকালচার — চিংড়ি চাষ । 

আধুনিক কৃষি ও চাষ বিষয়ক বিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি: 

• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
• উদ্যান পালন (ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষ) বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 
• সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। 

৭৯.
Which specific branch of agriculture is associated with honey production?
  1. Sericulture
  2. Apiculture
  3. Pisciculture
  4. Horticulture
  5. Aquaculture
ব্যাখ্যা

• এপিকালচার বা মৌচাষ হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে মধু এবং মোম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালন করা হয়। মৌমাছিরা ফুল থেকে নেক্টার সংগ্রহ করে তা মধুতে রূপান্তর করে, যা এপিকালচারিস্টরা সংগ্রহ করেন।

• এপিকালচার:
- যে পদ্ধতিতে কৃত্রিম ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন করে মৌচাক থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়, তাকে এপিকালচার বলা হয়।

• এটি কৃষির একটি বিশেষায়িত শাখা যেখানে মৌমাছির প্রজনন, পরিচর্যা এবং মধু, মোম, পরাগরেণু, রয়‍্যাল জেলি ও প্রোপোলিসের মতো মূল্যবান পণ্য উৎপাদন সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
- মধু উৎপাদন বা মধু চাষের সাথে সম্পর্কিত শাখা হলো এপিকালচার।
- এটি কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মৌমাছি পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

• এপিকালচারের গুরুত্ব:
→ অর্থনৈতিক উপকারিতা:
- মধু ও মৌমাছির অন্যান্য উপজাত দ্রব্য (যেমন মোম, প্রোপোলিস) বিক্রি করে আয় করা যায়।
- বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষকদের জন্য এটি একটি লাভজনক পেশা।
→ পরাগায়নে ভূমিকা:
- মৌমাছি ফসলের পরাগায়নে সাহায্য করে, যা কৃষি উৎপাদন ২০-৩০% পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
→ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা:
- মৌমাছি বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
• পিসিকালচার- এটি হলো আধুনিক কৃষির একটি বিশেষ শাখা যেখানে মাছ চাষ, ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• সেরিকালচার- এ শাখায় রেশমকীট পালন ও রেশম উৎপাদন অর্থাৎ রেশম চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• হর্টিকালচার- আধুনিক কৃষির এ শাখায় ফলমূল, শাকসবজি ও ফুলের চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• অ্যাকুয়াকালচার- এ শাখায় মাছ, শেলফিশ, জলজ উদ্ভিদ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- FAO (Food and Agriculture Organization).
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)।

৮০.
পিসিকালচার কী উদ্দেশ্য বা বিষয় নির্দেশ করে?
  1. পাখি পালন
  2. মৌমাছি পালন
  3. রেশম পালন
  4. মৎস্য পালন
ব্যাখ্যা

• পিসিকালচার বলতে মূলত মৎস্য পালনকে বোঝায়, অর্থাৎ পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাছ চাষ করা। এই প্রক্রিয়ায় পুকুর, দিঘি, হ্রদ বা নিয়ন্ত্রিত জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা হয় মানুষের খাদ্য ও বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণের জন্য। পিসিকালচারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক পরিমাণ মাছ উৎপাদন সম্ভব হয়, যা প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে পিসিকালচার সঠিকভাবে মৎস্য পালনকেই নির্দেশ করে (ঘ)।

• পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
- মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

• অপশন আলোচনা:
• সেরিকালচার (Sericulture):
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

• এভিকালচার (Aviculture):
- পাখি পালন বিষয়াদি বিদ্যাকে এভিকালচার বলে।
- যে বিদ্যায় পাখিদের সমস্ত শ্রেণী ও বাসস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে এভিকালচার বলে।

• এপিকালচার (Apiculture):
- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে।
- বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি পালনের তথা এপিকালচার ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

• এছাড়াও
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা - প্রণকালচার,
- উদ্যান বিদ্যা - হর্টিকালচার,
- সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যা - মেরিকালচার।

উৎস:
১. কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

৮১.
পিসিকালচার বলতে কী বুঝায়?
  1. পাখি পালন বিদ্যা
  2. মাছ চাষ বিদ্যা
  3. রেশম পোকার চাষ বিদ্যা
  4. মৌমাছি চাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা
• পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

অন্যদিকে,
• সেরিকালচার (Sericulture):
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।

• এভিকালচার (Aviculture):
- পাখি পালন বিষয়াদি বিদ্যাকে এভিকালচার বলে।

• এপিকালচার (Apiculture):
- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮২.
সাধারণভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট ভূমির কত ভাগ বনাঞ্চল প্রয়োজন?
  1. ২০
  2. ৩০
  3. ২৫
  4. ৪০
ব্যাখ্যা
- যে সকল স্থানে বিভিন্ন প্রকারের প্রচুর পরিমানে গাছপালা দেখা যায় তাকে বন ভূমি বলা হয়ে থাকে। 
- এক সময় পৃথিবীর স্থল ভাগের প্রায় ৪০ ভাগ বনভূমি দ্বারা আবৃত ছিল। 
- কিন্তু মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বনভূমি থেকে গাছপালা কেটে ফেলে বর্তমানে তা প্রায় ২৪ ভাগে এসে দাঁড়িয়েছে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের তাপ, মাটি, আলো, জলবায়ু প্রভৃতির কারণে বনভূমির তারতম্য হয়ে থাকে। 
- দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমি অপরিহার্য। 
- একটি দেশের জন্য অন্তত ২৫% বনভূমির প্রয়োজন। 

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ। 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
মৎস্য চাষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে কী বলা হয়? 
  1. এপিকালচার 
  2. প্রণকালচার 
  3. এভিকালচার 
  4. পিসিকালচার 
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
- সামদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
- উদ্যান পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৮৪.
তুলার সাদা মাছি পোকার দমনে কোনটি স্প্রে করা হয়?
  1. ফেনডেলারেট ২০
  2. ক্লোরোপাইরিফস ২০
  3. কার্বোসালফান ২০
  4. সাকসেস
ব্যাখ্যা

তুলার ক্ষতিকর পোকা ও তার দমন ব্যবস্থাপনা:
• জ্যাসিড পোকা:
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
- চারা গজানোর ২-৩ সপ্তাহ পর থেকেই এদের আক্রমণ শুরু হয়।
- নিম্ফ ও পূর্ণবয়স্ক উভয় পোকাই পাতার রস শোষণ করে যায় এবং ফলে পাতা হলদে এবং পরে লালচে হয়ে যায়।
⇒ প্রতিকার:
- সাকসেস ১.৫ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত জমিতে স্প্রে করতে হবে।

• বোল ওয়ার্ম:
⇒ লক্ষণ:
- ৫-৬ সপ্তাহ বয়সী তুলাগাছের এই পোকার লার্ভা গাছের ডগা, কুড়ি, ফুল বা বোলছিদ্র করে দেয়।
- এতে গাছের ডগা ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে যায়।
- ফুল, কুড়ি বা কচি বোল মাটিতে ঝরে পড়ে ও ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
⇒ দমন ব্যবস্থা:
ক) জমি গভীর চাষ দিয়ে রোদে শুকাতে হবে। এতে পোকা, লার্ভা বা শুককীট মরে যায় ও পাখিতে খেয়ে ফেলে।
খ) জমির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে হবে।
গ) ঝরে পড়া কুড়ি, ফুল ও বোল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ঘ) আলোর ফাঁদ দিয়ে বোল ওয়ার্ম পোকার মথ ধরতে হবে।
ঙ) ফেনডেলারেট ২০ তরল ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

• লাল গান্ধি পোকা:
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
- পূর্ণবয়স্ক পোকা গাছের পাতা, কুড়ি, ফুল ও বল থেকে রস চুষে খায়।
- ফলে বোলের বৃদ্ধি ব্যহত হয়, তুলার আঁশ হলদে হয়ে যায় এবং বীজ নষ্ট হয়।
⇒ প্রতিকার:
ক) ডিমের গাদা ও লার্ভা/ক্রীড়া সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে।
খ) পাখি যেন পোকা খেতে পারে তাই জমির পাশে ডাল পুঁতে দিতে হবে।
গ) কার্বোসালফান ২০ তরল ২ মি.লি. ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

• তুলার সাদা মাছি:
⇒ ক্ষতির ধরণ:
- সাদা মাছি পাতার রস শোষণ করে, এরা পাতার উপর এক ধরনর মধুকণা নিঃসরণ করে, ফলে সেখানে সুটি মোল্ড ছত্রাক জন্মায়।
- এর আঠালো পদার্থ তুলার লিন্টের সাথে লেগে লিন্টের গুণগত মান নষ্ট হয়।
⇒ প্রতিকার:
- ক্লোরোপাইরিফস ২০ তরল ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫.
কৃষিক্ষেত্রে রবি মৌসুমের সময়কাল কোনটি?
  1. জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র
  2. কার্তিক থেকে ফাল্গুন
  3. শ্রাবণ থেকে আশ্বিন
  4. চৈত্র থেকে আষাঢ়
ব্যাখ্যা

ফসলের মৌসুম:
- একটি ফসল বীজ বপন থেকে শুরু করে তার শারীরিক বৃদ্ধি ও ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য যে সময় নেয় তাকে ঐ ফসলের মৌসুম বলে।
- অর্থাৎ কোনো ফসলের বীজ বপন থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময়কে সে ফসলের মৌসুম বলে।
- বাংলাদেশের জলবায়ুর উপর নির্ভর করে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল জন্মে।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারা বছরকে প্রধানত দুটি মৌসুমে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
ক. রবি মৌসুম
খ. খরিপ মৌসুম

⇒ রবি মৌসুম:
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কে রবি মৌসুম বলে।
- রবি মৌসুমের প্রথম দিকে কিছু বৃষ্টিপাত হয়, তবে তা খুবই কম হয়ে থাকে।
- এ মৌসুমে তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত সবই কম হয়ে থাকে।

⇒ খরিপ মৌসুম:
- চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম। 
- খরিপ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

তথ্যসূত্র - কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৮৬.
মৎস্যচাষ বিষয়ক বিদ্যাকে কি নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) Sericulture
  2. খ) Pisciculture
  3. গ) Horticulture
  4. ঘ) Fishiculture
ব্যাখ্যা

মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা - পিসিকালচার;
মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যা - এপিকালচার;
চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা - প্রণকালচার;
মৌমাছির চাষ - এপিকালচার;
রেশমের চাষ - সেরিকালচার;
উদ্যানবিদ্যা - হর্টিকালচার;
পাখি পালন বিদ্যা - এভিকালচার;
সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যা - মেরিকালচার;

৮৭.
একটি কর্মী মৌমাছির জীবনকাল-
  1. ক) ১০ দিন
  2. খ) ৩০ দিন
  3. গ) ৫০ দিন
  4. ঘ) ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
একটি কর্মী মৌমাছির আয়ুষ্কাল প্রায় ৫০ দিন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৮৮.
তুলার অধিক ফলন পেতে হলে হেক্টর প্রতি কী পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে?
  1. ৫-৬ টন
  2. ২-৩ টন
  3. ৬০০-৭০০ কেজি
  4. ২৫০-৩০০ কেজি
ব্যাখ্যা
তুলা:
- তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ আঁশ জাতীয় ফসল।
- উন্নতমানের আঁশ পেতে হলে তুলা সংগ্রহ ও তুলা প্রক্রিয়াজাতকরণ খুবই সতর্কতার সাথে সঠিক পদ্ধতিতে করতে হবে।
- সংগৃহীত তুলা সংরক্ষণও যথাযথভাবে করতে হবে।
- আমাদের বস্ত্রশিল্পের অন্যতম কাঁচামাল এই তুলার বহুবিধ ব্যবহারের জন্য এর উৎপাদন বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

⇒ সার প্রয়োগ:
- সার প্রয়োগের অধিক ফলন পেতে হলে এবং উন্নত মানের আঁশ এর জন্য সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। 
- জৈব সার/গোবর/জৈবসার: হেক্টর প্রতি ৫-৬ টন।

⇒ সার প্রয়োগ পদ্ধতি:
- জমিতে শেষ চাষ দেয়ার পর এক-চতুর্থাংশ ইউরিয়া অর্ধেক এমপি সার এবং অন্যন্য সারসমূহ সম্পূর্ণ অংশই জমিতে প্রয়োগ করতে হবে; বাকী ইউরিয়া ও এমপি সার সমান তিনভাগে ভাগ করে তুলাগাছের বয়স ২০-২৫ দিন হলে প্রথম বার, ৪০-৫০ দিন হলে দ্বিতীয় বার এবং ৬০-৭০ দিন হলে তৃতীয় বার পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
নিচের কোনটি ধানের ব্লাস্ট রোগের কারন?
  1. ভাইরাস
  2. কৃমি
  3. ছত্রাক
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্লাস্ট রোগ:
⇒ কারন:
- ছত্রাক সংক্রমনে হয়।

⇒ লক্ষণ:
১) পাতায় ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে।
২) দাগের চারিদিকে গাঢ় বাদামী এবং মাঝের অংশ সাদা ছাই বর্ণের হয়।
৩) কান্ডের গিঁটে, খোল ও পাতার সংযোগস্থান কালো দাগ সৃষ্টি করে।
৪) শিষের গোড়ায় কালো দাগের সৃষ্টি করে এবং গোড়া পচে যায় এতে চিটা ও অপুষ্ট দানা হয়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) জমিতে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করতে হবে।
২) রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন- বিআর-৩, বিআর-১৪, বিআর-১৫, বিআর-১৬, বিআর-২৪ ইত্যাদি চাষ করা।
৩) রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা ও বীজ শোধন করা।
৪) পটাশ জাতীয় সার উপরি প্রয়োগ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০.
‘বিছা পোকা’র ডিম পাট গাছের কোন অংশে থাকে?
  1. পাতার উপরে
  2. পাতার নিচে
  3. গাছের ডগায়
  4. গাছের কাণ্ডে
ব্যাখ্যা
পাটের বিছা পোকা:
– স্ত্রী মথ পাটের পাতার নিচের/উল্টো দিকে গুচ্ছাকারে ডিম পাড়ে।

⇒ ক্ষতির ধরণ :
ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার পর থেকে এরা পাতার নিচে থাকে ও পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পর্দার মতো করে ফেলে।
– দলবদ্ধভাবে ৬-৭ দিন থাকার পর এরা গাছের সব পাতায় ছড়িয়ে পড়ে ও সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এ অবস্থায় আক্রান্ত পাতা অনেক দূর থেকে সহজেই চেনা যায়।
– বড় হবার সাথে সাথে এরা সারা মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো পাতা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
– আক্রমণ বেশি হলে এরা কচি ডগা পর্যন্ত খেয়ে গাছকে পাতাশূন্য বা ডাটাসার করে ফেলে ।ফলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও আঁশের ফলন কম হয়।

⇒ দমন পদ্ধতি:
– ফসলের জমির দুই প্রান্ত থেকে কেরোসিন তেলে ভিজানো দড়ি পাট গাছের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে হবে।
– পাটের বিছা পোকা দমনের জন্য ডায়াজিনন ৬০% ইসি, নূভাক্রন ৪০% ইসি ১.৫ মিলি ঔষধ ১ লিটার পানিতে বা ১৮ মিলি ঔষধ ১২ লিটার পানিতে মিশিয়ে অথবা রিপকর্ড ১০% বা সিমবুশ ১০% ইসি অথবা কারাতে ১.৫ ইসি ৬ মিলি ঔষধ ১২ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
– পাট কাটার পর গভীরভাবে চাষ করলে পুত্তলীগুলো (লার্ভা) উপরে উঠে আসে এবং প্রাকৃতিক শত্রু (যেমন: পাখি) দ্বারা ধ্বংস হয়।

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
৯১.
কোন খাদ্যে পচন ধরে না?
  1. ক) ফল
  2. খ) মধু
  3. গ) দুধ
  4. ঘ) চা
ব্যাখ্যা
মধুতে পচন ধরে না।
- এটি সহজে নষ্ট হয় না কারন মধুতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না।
- ব্যাকটেরিয়া মধু অন্যান্য পদার্থে বৃদ্ধি পায় না কারণ এই পদার্থগুলোতে পানির পরিমাণ খুব কম থাকে এবং বস্তুতে থাকা যে কোনও ব্যাকটেরিয়াকে ডিহাইড্রেট করে।

উৎস: Physicsforums website.
৯২.
দেশের প্রথম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প
  2. ডিএনডি প্রকল্প
  3. তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প
  4. কর্ণফুলী বহুমুখী প্রকল্প
ব্যাখ্যা
গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প: 
- দেশের প্রথম সেচ প্রকল্প গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প। 
- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প অবস্থিত।
- দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ জি কে সেচ প্রকল্প।
- ১৯৫৪ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পদ্মা নদীর তীরে গঙ্গা কপোতাক্ষ (জি কে) নামের দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।
- ১৯৬৯ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৩.
নিম্নের কোনটি মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সমষ্টিগতভাবে চাষ করা হয়
  2. এক সাথে সংগ্রহ করা হয়
  3. বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয়
  4. শুকিয়ে ব্যবহার করা হয়
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- মাঠ ফসল সাধারণত সমষ্টিগতভাবে চাষ করা হয়।
- মাঠ ফসলে সাধারণত বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না।
- মাঠ ফসল সাধারণত এক সাথে পরিপক্ক হয় বিধায় এক সাথেই সংগ্রহ করা হয়।
- মাঠ ফসল সাধারণত শুকিয়ে ব্যবহার করা হয়, যেমন- ধান, পাট, ডাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• উদ্যান ফসল:
- সাধারণত প্রতিটি গাছকে এককভাবে যত্ন নেয়া হয়, যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি।
- উদ্যান ফসলে বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয়। 
- উদ্যান ফসল পর্যায়ক্রমে পরিপক্ক হয় বিধায় ধাপে ধাপে সংগ্রহ করা হয়, যেমন- টমেটো, বেগুন ইত্যাদি।
- উদ্যান ফসল সাধারণত তাজা অবস্থায় ব্যবহার করা হয়, যেমন-বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
কোনটি দ্বারা মাছ চাষ বোঝায়?
  1. এপিকালচার
  2. সেরিকালচার
  3. পিসিকালচার
  4. হর্টিকালচার
ব্যাখ্যা

◉ পিসিকালচার (Pisciculture) — মাছের চাষ বা উৎপাদনকে বোঝায়। এটি মৎস্যচাষের বৈজ্ঞানিক নাম।

পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
- মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

অন্যান্য অপসনসমূহ, 
এপিকালচার (Apiculture) — মৌমাছি পালন।
সেরিকালচার (Sericulture) — রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট পালন।
হর্টিকালচার (Horticulture) — ফল, ফুল, শাকসবজির চাষ।

উৎস:
১. কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

৯৫.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. ক) প্লাটিপাস
  2. খ) লিমুলাস
  3. গ) ইকুইজিটাম
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম:
কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
যেমন - লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।
অন্যদিকে,
- ইকুইজিটাম, নিটামপিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

সুত্র: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম।
৯৬.
'হলদে মোজাইক ভাইরাস' রোগের প্রতিকারের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়?
  1. রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে
  2. শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে
  3. ম্যালাথিয়ন স্প্রে করতে হবে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
হলদে মোজাইক ভাইরাস:
- প্রথমে কচি পাতা আক্রান্ত হয়।
- আক্রান্ত পাতার উপর হলদে সবুজ দাগ পড়ে।
- এতে দূর থেকে আক্রান্ত ফসল হলদে মনে হয়।
- মোজাইক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ হয়।
- আক্রান্ত বীজ ও বায়ুর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।
- সাদা মাছি এ রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে থাকে।

⇒ এ রোগ প্রতিকারের জন্য-
i) রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে,
ii) আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে,
iii) শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে,
iv) রোগ প্রতিরোধী জাতের মাসকালাই চাষ করতে হবে ও,
ⅴ) সাদা মাছি দমনের জন্য ম্যালাথিয়ন স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
এপিকালচার বলতে বুঝায়-
  1. রেশম পালন
  2. পাখি পালন
  3. মৌমাছি পালন
  4. উদ্যান পালন
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষ: 
- মৌমাছি পালন বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার

উল্লেখ্য, 
- পাখি পালন বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
- মৎস্যচাষ বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- রেশম চাষ বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- উদ্যান পালন বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৯৮.
রিবন রেটিং কোন ফসলের সাথে সম্পর্কিত?
  1. আখ
  2. তুলা
  3. তামাক
  4. পাট
ব্যাখ্যা
রিবন রেটিং:
- রিবন রেটিং পদ্ধতি স্বল্প পানি এলাকায় পাট পচানোর জন্য লাগসই প্রযুক্তি। 
- পাট আঁশের গুণগত মান নির্ভর করে এর পচন প্রক্রিয়ার উপর।
- বাংলাদেশের যে সমস্ত অঞ্চলে প্রচুর পাটের আবাদ হয় অথচ পাট জাগ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পাওয়া যায় না সে সমস্ত অঞ্চলের জন্য রিবন রেটিং পদ্ধতিই পাট পচানোর জন্য উত্তম ও লাগসই প্রযুক্তি।
- স্বল্প পানি এলাকায় পাট পচন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট স্বল্প পানি এলাকার পাট চাষিদের জন্য রিবন রেটিং (পাটের ছালকরণ ও পচন) প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।
- এ পদ্ধতিতে পুরো পাট গাছ না পচিয়ে কাঁচা গাছ হতে প্রথমে ছাল বা বাকল ছাড়িয়ে নেয়া হয়।
- সেই ছাল আগে থেকে তৈরি করা মাটির গর্তে বা চাড়িতে রক্ষিত পানিতে পচানো হয়।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)
৯৯.
পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয়-
  1. ক) Ecology
  2. খ) Toxicology
  3. গ) Horticulture
  4. ঘ) Meteorology
ব্যাখ্যা
- আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয় Meteorology।
- বিষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Toxicology। 
- পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলে Ecology
- উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয় Horticulture।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১০০.
বীজ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া কখন শুরু হয়? 
  1. রোপণের সময়
  2. ফসল কাটার পর
  3. চারা রোপণের সময়
  4. বীজ উৎপাদনের সময় থেকে
ব্যাখ্যা

বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া: 
- বীজ উৎপাদন থেকেই বীজ সংরক্ষণের শুরু এবং জমিতে এর বপন বা রোপণের মাধ্যমে বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ। 
- বীজ সংরক্ষণ বলতে বীজের উৎপাদন, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, বিপণন যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাকেই বোঝায়। 
- বীজ শস্য উৎপাদনের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার- 
১) কেবল বীজের জন্যই ফসলের চাষ করা; 
২) নির্বাচিত জমির আশপাশের জমিতে ঐ নির্দিষ্ট বীজ ফসলের অন্য জাতের আবাদ না করা; 
৩) বীজ উৎপাদনের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ সংগ্রহ করা; 
৪) বীজের চারা বৃদ্ধিকালে জমি থেকে ভিন্ন জাতের গাছ তুলে ফেলা; 
৫) বীজের ক্ষেত ঘন ঘন পরিদর্শন করা যাতে (ক) আগাছা দমন (খ) ভিন্ন জাতের গাছ তোলা ও (গ) রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রব ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়; 
৬) ফসলের পরিপক্বতার দিকে দৃষ্টি রাখা; 
৭) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ফসল কাটা, মাড়াই করা ও ঝাড়া ইত্যাদি। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।