বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সমাস

মোট প্রশ্ন২,৫০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সমাস

PrepBank · পাতা / ২৫ · ৭০১৮০০ / ২,৫০১

৭০১.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. সন্ধ্যাপ্রদীপ
  2. সিংহপুরুষ
  3. সংবাদপত্র
  4. সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
সিংহপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিংহপুরুষ
ব্যাখ্যা

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- চাঁদের মতো মুখ/চাঁদের ন্যায় মুখ = চাঁদমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।

অন্যদিকে, 
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
মমতা মিশ্রিত রস = মতারস;
মৌ (মধু) আশ্রিত মাছি = মৌমাছি; 
রক্ত বর্ণের কমল = রক্তকমল;
সন্ধ্যা বেলায় জ্বালানো প্রদীপ = সন্ধ্যাপ্রদীপ;
সংবাদ যুক্ত পত্র = সংবাদপত্র;
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২-সংস্করণ)।

৭০২.
'হাতাহাতি' কোন সমাস?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
  3. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস:
ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বুঝাতে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস। এ সমাসে পূর্বপদে আ এবং পরপদে ই যুক্ত হয়।
যেমন-
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি,
- চুলে চুলে যে লড়াই = চুলাচুলি ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে, 
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন-
- হত হয়েছে যার শ্রী = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ, 
- পীত অম্বর যার = পীতাম্বর,
- নীল বসন যার = নীলবসনা (স্ত্রী),
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী,
- পুণ্য আত্মা যার = পুণ্যাত্মা,
- হত ভাগ্য যার = হতভাগ্য,
- গৌর অঙ্গ যার = গৌরাঙ্গ ইত্যাদি।

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার= আশীবিষ। 
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্ত পদে লোপ পায়, তবে তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- বিড়ালের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী।
- হাতে খড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০৩.
কোন কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হয়?
  1. রূপক
  2. উপমান
  3. মধ্যপদলোপী
  4. উপমেয়
সঠিক উত্তর:
রূপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক
ব্যাখ্যা

রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।

যেমন-
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি- মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

৭০৪.
'রক্তশোক' যে সমাসের উদাহরণ -
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বন্দ
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেস্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়। তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- মহান যে নবি = মহানবি ইত্যাদি।
তেমনিভাবে,
-  রক্তিম যে শোক = রক্তশোক। 

সূত্র: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৭০৫.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গােলাভরা
  2. খ) গরুরগাড়ি
  3. গ) অকালমৃত্যু
  4. ঘ) দুঃখপ্রাপ্ত
সঠিক উত্তর:
খ) গরুরগাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গরুরগাড়ি
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ,
যেমন –
গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭০৬.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. সিংহাসন
  2. পাপমতি
  3. টাকাকড়ি
  4. কলারাজ্য
সঠিক উত্তর:
টাকাকড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাকাকড়ি
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

যেমন:
- ভাইবোন,
- তাল-তমাল,
- ভালোমন্দ,
- মাতাপিতা,
- যাকে-তাকে,
- টাকাকড়ি ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• 'কলারাজ্য' (কলার রাজ্য) ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
• 'পাপমতি' (পাপে মতি) ৭মী তৎপুরুষ সমাস।
• 'সিংহাসন' (সিংহ চিহ্নিত আসন) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭০৭.
'চোখেমুখে' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে,
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে
- বনে ও বাদাড়ে = বনেবাদাড়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭০৮.
‘দম্পতি’ কোন ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• একশেষ দ্বন্দ্ব:
যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব। অন্যভাবে, যে দ্বন্দ্ব সমাসে প্রধান পদটি অবশিষ্ট থেকে অন্য পদের লোপ হয় এবং শেষ পদ অনুসারে শব্দের রূপ নির্ধারিত হয় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ,
- দিন ও রাত = দিনরাত,
- টক ও মিষ্টি = টকমিষ্টি,
- দেশে ও বিদেশে = দেশেবিদেশে,
- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়,
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ,
- লাভ ও লোকসান = লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন:
- ভাই ও বোন = ভাই-বোন,
- মা ও বাপ = মা-বাপ,
- মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি,
- চা ও বিস্কুট = চা-বিস্কুট,
- মাছ ও ভাত = মাছ-ভাত ইত্যাদি।

• বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেল, নুন ও লাকড়ি = তেল-নুন-লাকড়ি।
- সাহেব, গোলাম এবং বিবি = সাহেব-গোলাম-বিবি।
- স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৯.
'লাঠালাঠি' শব্দটির সমাস -
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) কর্মধারায়
  4. ঘ) তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন -
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ= লাঠালাঠি
এরূপ আরো উদাহরণ -
- হাতাহাতি, কানাকানি, চুলাচুলি, গালাগালি, কোলাকুলি, হাসাহাসি, দেখাদেখি।

সোর্স: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৭১০.
’ভ্রমরকৃষ্ণকেশ’ কোন প্রকার সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয়: 
⇒ উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। 

-  যেমন – ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। 

• তুষারের ন্যায় শুভ্র =  তুষারশুভ্র, 
• অরুণের ন্যায় রাঙা  = অরুণরাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২০ সংস্করণ)।

৭১১.
'ক্রোড়পত্র' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।
 
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১২.
'নীলপদ্ম' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) দ্বন্দ
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যাক্তি বা বস্তুকে বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়। যেমনঃ নীলপদ্ম = নীল যে পদ্ম, জজ সাহেব = যিনি জজ তিনিই সাহেব।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৭১৩.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. গায়েপড়া
  2. গোলাভরা
  3. পদ্মআঁখি
  4. টাকমাথা
সঠিক উত্তর:
গোলাভরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাভরা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷
যেমন:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- পথের রাজা = রাজপথ,
- গোলায় ভরা = গোলাভরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
- 'গায়েপড়া (গায়ে এসে পড়ে যে)' হচ্ছে অলুক বহুব্রীহি সমাস।
- 'পদ্মআঁখি (আঁখি পদ্মের ন্যায়)' হচ্ছে উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- 'টাকমাথা (টাক যে মাথা)' হচ্ছে কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৭১৪.
'সাহিত্যচর্চা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• 'সাহিত্যের চর্চা' = 'সাহিত্যচর্চা'- ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
-----------------
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

- পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন,
পুষ্পের সৌরভ =পুষ্পসৌরভ।
 
আরও কিছু ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: 
• ছাগীর দুগ্ধ - ছাগদুগ্ধ, 
• গৃহের কর্তা - গৃহকর্তা, 
• অশ্বের পদ - অশ্বপদ, 
• চায়ের বাগান = চাবাগান, 
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র, 
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট। 
-------------------
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন,
বইকে পড়া = বইপড়া।

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস :
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- বাকে পটু = বাকপটু।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত। 

সুত্র: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৭১৫.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সাধিত শব্দ?
  1. ভক্তিসুধা
  2. বনভোজন
  3. দশমণি
  4. হতশ্রী
সঠিক উত্তর:
ভক্তিসুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভক্তিসুধা
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- ভক্তি রূপ সুধা = ভক্তিসুধা;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
• বনে ভোজন = বনভোজন (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)।
• হত হয়েছে যার শ্রী = হতশ্রী (বহুব্রীহি সমাস)।
• দশ মণ পরিমাণ যা = দশমণি (নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৭১৬.
'দর্শনমাত্র' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. নিত্য সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন -
• অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
• কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
• অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
• (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
• তুমি আমি ও সে = আমরা,
• দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭১৭.
'প্রতিদান' কোন সমাস?
  1. প্রাদি সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।
- তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস।
- এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

• অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭১৮.
বহুব্রীহি সমাসবদ্ধ পদ কোনটি?
  1. ক) জনশ্রুতি
  2. খ) অনমনীয়
  3. গ) খাসমহল
  4. ঘ) তপোবন
সঠিক উত্তর:
ক) জনশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জনশ্রুতি
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার - দশানন।

[এখানে ‘দশ’ বা ‘আনন’ (অর্থাৎ মুখ) পদের অর্থ বোঝানো হয়নি। লঙ্কার রাজা রাবণের দশটি মাথা থাকায় তার নাম দশানন, এখানে মূলত ‘দশ আনন যার’ বলতে লঙ্কার রাজা রাবণকে বোঝানো হয়েছে।]

এরূপকিছু উদাহরণ হলো:
• জনের মুখ হতে শ্রুত যা - জনশ্রুতি।
• দশহজ পরিমাণ যার - দশগজি।
• ধর্মে বুদ্ধি যার - ধর্মবুদ্ধি।
• নীল কণ্ঠ যার - নীলকণ্ঠ।
• চার পদ আছে যার - চতুষ্পদী।

অন্যদিকে,
• ব্যাসবাক্য অনুসারে ‘অনমনীয়’ শব্দটি নঞ্ বহুব্রীহি ও নঞ্ তৎপুরুষ উভয় সমাসই হয়।
যেমন:
- নয় নমনীয় যা - অনমনীয় (নঞ্ বহুব্রীহি সমাস)।
- নয় নমনীয় - অনমনীয় (নঞ্ তৎপুরুষ) সমাস।

• খাস যে মহল - খাসমহল; কর্মধারয় সমাস।
• তপের নিমিত্ত বন - তপোবন; এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• ব্যাসবাক্য বিবেচনায় বহুব্রীহি সমাসবদ্ধ পদ হচ্ছে ‘জনশ্রুতি’। সুতরাং সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর অপশন ‘ক’ জনশ্রুতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭১৯.
'অহোরাত্র' শব্দের সঠিক ব্যাসব্যাক্য কোনটি? 
  1. অহো ও রাত্রি 
  2. অহ ও রাত্রি 
  3. অহন ও রাত  
  4. অহন ও রাত্রি
সঠিক উত্তর:
অহন ও রাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহন ও রাত্রি
ব্যাখ্যা
• 'অহোরাত্র' শব্দের সঠিক ব্যাসব্যাক্য অহন ও রাত্রি। 
- এটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,
- জন ও মানব = জনমানব,
- টীকা ও ভাষ্য = টীকাভাষ্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭২০.
'জ্ঞানশূন্য' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা।

- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
- এক দ্বারা উন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

- উপকরণবাচক বিশেষ্য পদ পূর্বপদে বসলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
- স্বর্ণ দ্বারা মণ্ডিত = স্বর্ণমণ্ডিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
৭২১.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. বিষাদসিন্ধু
  2. মামাবাড়ি
  3. বিদ্যাধন
  4. কালচক্র
সঠিক উত্তর:
মামাবাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামাবাড়ি
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
কিছু তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি।
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়ে পাগলা।
- পথের রাজা = রাজপথ।
- জীবনে আনন্দ = জীবনানন্দ।

• অলুক তৎপুরুষ সমাস: কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি 

অন্যদিকে,
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৩)।
৭২২.
'অর্থবছর' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব 
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• 'অর্থবছর' = অর্থ হিসাবের বছর; একটি কর্মধারয় সমাস।

• 'অর্থবছর' এর প্রকৃত অর্থ: সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক হিসাব-নিকাশের জন্য নির্ধারিত ১২ মাসের সময়কাল, যা সাধারণত ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৭২৩.
'ত্রিকাল' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সংখ্যাবাচক অব্যয়ীভাব
  2. খ) দ্বিগু কর্মধারয় সমাস
  3. গ) অলুক বহুব্রীহি
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন -
• তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
• চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
• তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
• শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

[পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]

৭২৪.
কোনটি সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. উপবন
  2. উপশহর
  3. উপগ্রহ
  4. উপকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
উপকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকণ্ঠ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস: 
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর

ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস: 
- উপনদী,
- উপগ্রহ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৭২৫.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ধীরগতি
  2. খ) গণপতি
  3. গ) চিড়িয়াখানা
  4. ঘ) খেলার মাঠ
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেলার মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেলার মাঠ
ব্যাখ্যা
খেলার মাঠ অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ ।

অলুক তৎপুরুষ:
অলুক শব্দের অর্থ অলোপ বা লোপ না পাওয়া । পুর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ।

গণপতি - পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
চিড়িয়াখানা - চতুর্থী তৎপুরুষ।
ধীরগতি - উপপদ তৎপুরুষ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭২৬.
নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি কী হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন -
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
এরকম - নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, বেপরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭২৭.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. মনমাঝি
  2. চন্দ্রমুখ
  3. স্মৃতিসৌধ
  4. অরুণরাঙা
সঠিক উত্তর:
অরুণরাঙা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরুণরাঙা
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয়: 
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
যেমন
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ =  ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
- তুষারের ন্যায় শুভ্র  = তুষারশুভ্র,
- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

অন্যদিকে,
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, 
- সাহিত্য বিষয়ক সভা =  সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

• উপমিত কর্মধারয়:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (
যেমন
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ। 
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

• রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন-
- ক্রোধ রূপ অনল= ক্রোধানল, 
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, 
- মন রূপ মাঝি  = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি। (২০১৯ সালের সংস্করণ)

৭২৮.
কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. দর্শনমাত্র
  2. গ্রামান্তর
  3. বিরানব্বই
  4. অনুতাপ
সঠিক উত্তর:
অনুতাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুতাপ
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অনুতাপ = অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭২৯.
"একোন" শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাস?
  1. পঞ্চমী
  2. তৃতীয়া
  3. চতুর্থী
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।  ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৩০.
'যুগান্তর' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. নিত্য সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস 
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৭৩১.
'চির কাল ব্যাপিয়া স্থায়ী' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন : চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। এরকম : গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

ব্যাসবাক্য - সমস্তপদ:
- চির কাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। 
- চির কাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = চিরস্থায়ী।  
- চির কাল ব্যাপিয়া স্মরণীয় = চিরস্মরণীয়। 
- চির কাল ব্যাপিয়া শত্রু = চিরশত্রু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৩২.
‘জ্ঞানবৃক্ষ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- শোক রূপ অনল = শোকানল;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩৩.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. দোনলা
  2. একোন
  3. দ্বীপ
  4. চৌচালা
সঠিক উত্তর:
একোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একোন
ব্যাখ্যা

• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
- এক দ্বারা উন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়। যথা-  দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি; চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা; তিন পায়া যার = তেপায়া; দুই নল যার = দোনলা; দুই দিকে অপ্‌ যার = দ্বীপ। 

 এরকম: দশহাতি, একগুঁয়ে, দ্বিচক্র, একতারা, দশানন, দ্বিমাত্রিক, দ্বীপ, একরোখা, দুমুখো, পঞ্চানন, চতুর্ভুজ, পাঁচহাতি, চতুষ্কোণ, দোতলা, চতুষ্পদী, সেতার, দোপেয়ে, চারপেয়ে, চৌপায়া, তেতলা, ত্রিলোচন, ত্রিশূল, সাতনরি, শতমূলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৩৪.
'দুঃশাসন' শব্দের শুদ্ধ ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. দুঃ শাসন সে
  2. দুঃ শাসন যার
  3. দুঃ যে শাসন
  4. যা দুঃ শাসন
সঠিক উত্তর:
দুঃ যে শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ যে শাসন
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য)
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩৫.
অভাব অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. প্রতিকূল
  2. যথাসাধ্য
  3. নিরামিষ
  4. উচ্ছৃঙ্খল
সঠিক উত্তর:
নিরামিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরামিষ
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:

• অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে:
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

• অভাব (নিঃ = নির) অর্থে:
- আমিষের অভাব = নিরামিষ,
- ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা,
- জলের অভাব- = নির্জল, 
- উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ।

• অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য

• সাদৃশ্য অর্থে:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

• পশ্চাৎ অর্থে:
- পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

• বিরোধ (প্রতি) অর্থে:
- বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ,
- বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

৭৩৬.
'শান্তশিষ্ট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন-
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি,
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩৭.
ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পেয়ে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস কোনটি?
  1. ক) অনুগমন
  2. খ) গজানন
  3. গ) প্রতিমুখ
  4. ঘ) আরক্তিম
সঠিক উত্তর:
খ) গজানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গজানন
ব্যাখ্যা
⇒ মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী। এখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদটি লুপ্ত হয়ে বহুব্রীহি সমাস সৃষ্টি হয়েছে।

কিছু উদাহরণ হলো:
- একদিকে চোখ যার = একচোখা,
- গজের মতো আনন = গজানন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অনুগমন, প্রতিমুখ ও আরক্তিম অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩৮.
সমাসের প্রতীতি বা জ্ঞান বা উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) পরপদ
  2. খ) উত্তরপদ
  3. গ) পূর্বপদ
  4. ঘ) অন্যপদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্যপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্যপদ
ব্যাখ্যা

সমাসের প্রতীতি বা জ্ঞান বা উপাদান ৫ টি। 
যথা : 
১. সমস্তপদ/সমাসবদ্ধপদ/সমাসনিষ্পন্ন পদ 
২. ব্যাসবাক্য/বিগ্রহ বাক্য/সমাস বাক্য 
৩. পূর্বপদ 
৪. পরপদ/উত্তরপদ 
৫. সমস্যমান পদ।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৭৩৯.
'আশীবিষ' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৭৪০.
'শান্তশিষ্ট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন-
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি,
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪১.
‘জন্মান্ধ’ কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. দ্বিগু
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হইতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পেয়ে যে সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন-
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত
তেমনিভাবে,
- জন্ম থেকে অন্ধ = জন্মান্ধ

উৎস : মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)

৭৪২.
"জলচর" - শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. অলুক দ্বন্দ্ব 
  3. কর্মধারয়
  4. প্রাদি
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পক্ষে জন্মে যা = পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৭৪৩.
'প্রাণভয়' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বহুব্রীহি
  3. অব্যয়ীভাব
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: 
- যে কর্মধারয় সমাসে মধ্য পদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। 

• মধ্য পদলোপী কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- বৌ ভাত = বৌ পরিবেশন করা ভাত, 
- একাদশ = এক অধিক দশ, 
- ভিক্ষান্ন = ভিক্ষা লব্ধ অন্ন, 
- প্রাণভয় = প্রাণ যাওয়ার তরে ভয়।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৪.
'পলান্ন' শব্দটি কোন সমাস?
  1. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয়:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।
যেমন:
মুখ চন্দ্রের ন্যায় - চন্দ্রমুখ।

রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা ‘ই’ যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
যেমন:
ক্রোধ রূপ অনল - ক্রোধানল।

উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ কস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ - ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৫.
'অনুতে যে তাপ' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. কর্মধারায় সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
• প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
• প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

প্রাদি সমাসে-
• 'প্র'থাকলে 'প্রকৃষ্ট' হবে। যেমন: প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত।
• 'পরি' থাকলে 'চতুর্দিকে' হবে। যেমন: পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ।
• 'অনু' থাকলে 'পশ্চাত' হবে। যেমন: অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৪৬.
'হাসিমুখ' শব্দটি কোন কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী
  2. উপমান
  3. উপমিত
  4. রূপক
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৪৭.
বিভক্তিযুক্ত একটি পদের সাথে অন্য এক বিভক্তিযুক্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে কী বলে?
  1. নিত্য সমাস
  2. সুপসুপা সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
সুপসুপা সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপসুপা সমাস
ব্যাখ্যা
সুপসুপা সমাস: 
- বিভক্তিযুক্ত একটি পদের সাথে অন্য এক বিভক্তিযুক্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে সুপসুপা সমাস বলে।

সুপসুপা সমাসের উদাহরণ:
রাত্রির মধ্য = মধ্যরাত, 
রাত্রির পূর্ব = পূর্বরাত, 
পর রাত্র = পররাত্র, 
পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৪৮.
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে বলা হয় -
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) উপমিত কর্মধারয়
  3. গ) রূপক কর্মধারয়
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
খ) উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
- প্রত্যক্ষ কেনো বস্তুও সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুও তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে - তাকে বলে উপমান।
- উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
যেমন: ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
- এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন:
কমল রূপ মুখ = কমলমুখ,
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ

• মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা:
সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ, ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৭৪৯.
কোন সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায়?
  1. নিত্য সমাস 
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
 
যেমন:
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক, 
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৫০.
'কাজলকালো' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. কাজলের ন্যায় কালো
  2. কাজল ও কালো
  3. কাজল রূপ কালো
  4. কালো ও কাজল
সঠিক উত্তর:
কাজলের ন্যায় কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলের ন্যায় কালো
ব্যাখ্যা

• 'কাজলকালো'- উপমান কর্মধারয় সমাস। এর সঠিক ব্যাসবাক্য: কাজলের ন্যায় কালো

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
 
যেমন:
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৫১.
কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) চতুরঙ্গ
  2. খ) কলাভবন
  3. গ) উদ্বেল
  4. ঘ) পাণ্ডুলিপি
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাণ্ডুলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
পাণ্ডু (চলনসই) যে লিপি = পাণ্ডুলিপি হলো কর্মধারয় সমাস। এরূপঃ আগে ধোয়া পরো মোছা = ধোয়ামোছা। মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি। চলৎ যে চিত্র = চলচ্চিত্র ইত্যাদি। বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের যে সমাস তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে পর পদের অর্থই প্রদান থাকে। চতুরঙ্গ = চার অঙ্গের সমাহার হলো দিগু সমাস। কলাভবন = কলার ভবন হলো ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। উদ্বেল = বেলাকে অতিক্রান্ত হলো অব্যয়ীভাব সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৭৫২.
কোনটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. নবান্ন
  2. বেহিসাবি
  3. অকালপক্ব
  4. আয়কর
সঠিক উত্তর:
বেহিসাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহিসাবি
ব্যাখ্যা
⇒ বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে ‘বহুব্রীহি’ সমাস বলে।
যেমন:
- দশ হাত যার = দশহাতি; এখানে দশহাতি বলতে দশ হাত বিশিষ্ট কাউকে বোঝায় না। বরং ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন দেবীকে বোঝায়।

⇒ নঞ্ বহুব্রীহি:
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নেই হিসাব যার = বেহিসাবি;
- নয় সামাল যে = বেসামাল;
- নেই দোষ যার = নির্দোষ;
- নেই হিংসা যার = অহিংস;
- নেই যার হায়া = বেহায়া;
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল।

অন্যদিকে,
- নব যে অন্ন = নবান্ন।
- আয়ের ওপর কর আয়কর। ( কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।)
- অকালে পক্ব = অকালপক্ব। (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।)

উৎস ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৫৩.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ ?
  1. ক) সিংহাসন
  2. খ) ভাই-বোন
  3. গ) কানাকানি
  4. ঘ) গাছপাকা
সঠিক উত্তর:
খ) ভাই-বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাই-বোন
ব্যাখ্যা

উল্লেখ্য, ভাই-বোন একটি মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎসঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বোর্ড বই।
৭৫৪.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাস?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।
এরূপ-ছাত্রাবাস, ডাকমাশুল, চোষকাগজ, শিশুমঙ্গল, মুসাফিরখানা, হজ্বযাত্রা, মাল গুদাম, রান্নাঘর, মাপকাঠি, বালিকা-বিদ্যালয়, পাগলাগারদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৫৫.
‘পর্যন্ত’ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. ক) সম্পূর্ণ
  2. খ) যথারীতি
  3. গ) আমূল
  4. ঘ) পরাজয়
সঠিক উত্তর:
গ) আমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমূল
ব্যাখ্যা
পর্যন্ত অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হচ্ছে: মূল পর্যন্ত = অমূল

• অব্যয়ীভাব সমাস:

‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে।
যেমন:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি) : প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

অন্যদিকে,
- দূরবর্তী অর্থে: জয় থেকে দূর = পরাজয়।
- অনতিক্রম্যতা অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি।
- পূর্ণ বা সমগ্র অর্থে: সম্পূর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫৬.
দ্বন্দ্ব সমাস কোন পদের প্রাধান্য থাকে?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয়পদ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উভয়পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়পদ
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।  
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা। 

অন্যদিকে: 
- দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।
- বহুব্রীহি সমাসে কোন পদেরই প্রাধান্য পায় না। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫৭.
সমাসবদ্ধ পদের পরবর্তী অংশকে কী বলা হয়?
  1. ব্যাসবাক্য
  2. উত্তরপদ
  3. সমাস
  4. পূর্বপদ
সঠিক উত্তর:
উত্তরপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরপদ
ব্যাখ্যা
সমাস:
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
যেমন -
দেশের সেবা = দেশসেবা, বই ও পুস্তক = বইপুস্তক, নেই পরোয়া যার = বেপরোয়া।
- সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। তবে খাঁটি বাংলা সমাসের দৃষ্টান্তও প্রচুর পাওয়া যায়। সেগুলোতে সংস্কৃতের নিয়ম খাটে না।
- সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ।
- সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে ।
- সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় উত্তরপদ বা পরপদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৫৮.
কোনটি তৎপুরুষ সমাস সাধিত?
  1. অল্পপ্রাণ
  2. মধুমাখা
  3. পদ্মআঁখি
  4. উপগ্রহ
সঠিক উত্তর:
মধুমাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুমাখা
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
- যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

অন্যদিকে,
- বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ - অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ।
- 'আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি' উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ - অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৫৯.
"সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন" - এখানে উত্তরপদ কোনটি?
  1. ক) সিংহ
  2. খ) চিহ্নিত
  3. গ) আসন
  4. ঘ) সিংহ চিহ্নিত আসন
সঠিক উত্তর:
গ) আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আসন
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা

- সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
- এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

- সমস্ত পদ: সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
- একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়।
- যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
- এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

- ব্যাসবাক্য: সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে।
- ব্যাস’ শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।
- উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন' হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

- পূর্বপদ ও পরপদ: সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
- সিংহাসন শব্দের সিংহ হলাে পূর্বপদ, আর আসন হলাে পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬০.
'শ্রমলব্ধ' কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।

উল্লেখ্য,
উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
এক দ্বারা উন = একোন,
বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৬১.
অব্যয় পদ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ: 
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
- অব্যয় পদ প্রধানত চার প্রকার।
যথা- 
- সমুচ্চয়ী, 
- অনন্বয়ী, 
- অনুসর্গ এবং 
- অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭৬২.
কোনটি 'উপপদ তৎপুরুষের' উদাহরণ?
  1. ছেলেধরা
  2. প্রতিবাদ
  3. বিলাতফেরত
  4. উপগ্রহ
সঠিক উত্তর:
ছেলেধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেধরা
ব্যাখ্যা
• 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।
 
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর,
- মানুষ খায় যে = মানুষখেকো ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৩.
কোনটি নিত্য সমাস?
  1. ক) কলেছাঁটা
  2. খ) ভবনদী
  3. গ) জয়ধ্বনি
  4. ঘ) জলমাত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) জলমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জলমাত্র
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- শব্দের শেষে ‘মাত্র’ ‘অন্তর’ যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়।
যেমন :
- গৃহান্তর
- গ্রামান্তর
- দেশান্তর
- দর্শনমাত্র
- জলমাত্র

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)।
৭৬৪.
‘জল দ্বারা ভেজা’ ব্যাসবাক্যের সমস্তপদ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. গ) তৃতীয় তৎপুরুষ
  4. ঘ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) অলুক সপ্তমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অলুক সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের বিভক্তি ব্যাসবাক্যে লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
অলুক তৃতীয়া, অলুক চতুর্থী, অলুক পঞ্চম নাম পাওয়া গেলেও অলুক তৎপুরুষ সমাস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা :
- অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ,
- অলুক সপ্তমী তৎপুরুষ। 


উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৭৬৫.
'চৌচালা' - কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. দিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- দশ আনন যার = দশানন,
- সমান বর্ণ যার = সমবর্ণ,
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি।

সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য, সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা,
- দুটি নল যার = দোনলা,
- চার চাল যে ঘরের = চৌচালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৬.
‘দ্রুতগামী’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ:
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়  তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে।
যেমন:
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী;
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য;
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৬৭.
'প্রগতি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) নিত্য সমাস
  3. গ) প্রাদি সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
গ) প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন: কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ; 
এছাড়াও উপকূল, উপশহর, উপগ্রহ এসব অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• নিত্য সমাস: 
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- শব্দের শেষে ‘মাত্র’ ‘অন্তর’ যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়।
যেমন : গৃহান্তর, গ্রামান্তর

• দ্বন্দ্ব সমাস: 
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন-
'সোনা-রূপা' সমস্ত পদের ব্যাসবাক্য সোনা ও রূপা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৬৮.
মনের মানুষ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হুয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
মনের মানুষ অলীক ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
অলীক ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসঃ
ঘোড়ার ডিম, মাটির মানুষ, হাতের পাঁচ, মামার বাড়ি, সাপের পা, মনের মানুষ, কলের গান ইত্যাদি।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি

৭৬৯.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সাধিত শব্দ?
  1. উপকণ্ঠ
  2. বিদ্যাধন
  3. খোশমেজাজ
  4. রাজপথ
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-
- ভক্তি রূপ সুধা = ভক্তিসুধা;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
• কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ (অব্যয়ীভাব সমাস)।
• খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ (বহুব্রীহি সমাস)।
• পথের রাজা = রাজপথ (তৎপুরুষ সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৭০.
'অসুখ' শব্দটি -
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. নঞ তৎপুরুষ
  4. নঞ বহুবীহি
সঠিক উত্তর:
নঞ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
নঞ তৎপুরুষ সমাস:
নাবাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
নয় এক = অনেক, 
নয় সুখ = অসুখ,
নয় উচিত = অনুচিত,
নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস,
নাই হায়া = বেহায়া প্রভৃতি।

• এছাড়া সংস্কৃত নঞ অব্যয়ের বাংলা প্রতিরূপ রূপে অ, অন, আনা, গর, বে, বি, ন, না, নি ইত্যাদি এসেছে।
যেমন -
নাই আহার = অনাহার,
নয় জোড় = বিজোড়,
নয় অতি দূর = নাতিদূর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭১.
'হাতে-কলমে' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে-ভাতে,
- জলে-স্থলে,
- দেশে-বিদেশে,
- হাতে-কলমে।

অন্যদিকে,
একশেষ দ্বন্দ্ব:
- একশেষ শব্দের অর্থ চূড়ান্ত।
- একশেষ শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- কিছু সমস্ত পদ আছে যেগুলোর সমস্যমান পদগুলো চূড়ান্তভাবে সমস্তপদে মিশে আছে সেসব সমস্তপদকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন :
- তুমি, সে ও আমি = আমরা।

সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
- হাট ও বাজার = হাটবাজার।

বিরোধার্থক শব্দযোগে:
- দা-কুমড়া,
- অহি-নকুল।

উৎস:
১)বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৭২.
অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) সমাস
  4. ঘ) ধাতু
সঠিক উত্তর:
গ) সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমাস
ব্যাখ্যা
সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।

যেমন : দেশের সেবা = দেশসেবা, বই ও পুস্তক = বইপুস্তক, নেই পরােয়া যার = বেপরােয়া। বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সমাসের সৃষ্টি। সমাস দ্বারা দুই বা ততােধিক শব্দের সমন্বয়ে নতুন অর্থবােধক পদ সৃষ্টি হয়। এটি শব্দ তৈরি ও প্রয়ােগের একটি বিশেষ রীতি। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। তবে খাঁটি বাংলা সমাসের দৃষ্টান্তও প্রচুর পাওয়া যায়। সেগুলােতে সংস্কৃতের নিয়ম খাটে না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
৭৭৩.
"চিরুনদাঁতি" শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
- ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি
[ বাক্যে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লুপ্ত হয়ে বহুব্রীহি সমাস সৃষ্টি হয়েছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৭৪.
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস নয় কোনটি?
  1. খোশমেজাজ
  2. নীলকণ্ঠ
  3. হৃতসর্বস্ব
  4. পদ্মনাভ
সঠিক উত্তর:
পদ্মনাভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মনাভ
ব্যাখ্যা
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস নয় - পদ্মনাভ
- এটি ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- হৃতসর্বস্ব = হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার,
- খোশমেজাজ = খোশ মেজাজ যার,
- হতশ্রী = হত হয়েছে শ্রী যার,
- নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার,
- পক্বকেশ = পক্ব কেশ যার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭৫.
বহুব্রীহি সমাস-
  1. ক) পূর্বপদ প্রধান
  2. খ) পরপদ প্রধান
  3. গ) উভয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস সংজ্ঞা:
- বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি।
- এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত।
- বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস।
যেমন- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল।
এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৬.
“শশাঙ্ক” শব্দের ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. ক) শশের অঙ্ক
  2. খ) অঙ্কের শশ
  3. গ) অঙ্কে শশ যার
  4. ঘ) শশ অঙ্ক যার
সঠিক উত্তর:
ঘ) শশ অঙ্ক যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শশ অঙ্ক যার
ব্যাখ্যা

যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
শশাঙ্ক একটি বহুব্রীহি সমাস। যার ব্যাসবাক্য হলো - শশ অঙ্ক যার।

সোর্সঃ ভাষা-শিক্ষা, ডক্টর হায়াৎ মামুদ।

৭৭৭.
নিচের যেটি বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত নয় -
  1. ক) অন্তরীপ
  2. খ) দ্বীপ
  3. গ) অপয়া
  4. ঘ) অনুতাপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুতাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুতাপ
ব্যাখ্যা

অনুতাপ, প্রবচন, পরিভ্রমন ইত্যাদি প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
অপয়া, অন্তরীপ, দ্বীপ এগুলো বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমী অভিধান।
৭৭৮.
কোন সমাসের ব্যাস বাক্য হয় না?
  1. ক) নিত্য সমাস
  2. খ) দ্বন্দ সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন, অন্য দেশ = দেশান্তর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৭৭৯.
দ্বিগু কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. মনমাঝি
  2. শশব্যস্ত
  3. ত্রিফলা
  4. পদ্মআঁখি
সঠিক উত্তর:
ত্রিফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিফলা
ব্যাখ্যা

• দ্বিগু কর্মধারয় সমাস:
- কিছু  কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যা বাচক হয় তাকে দ্বিগু কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা।
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

অন্যদিকে,

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয় তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয় এগুলকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ।
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমান পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু।
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭৮০.
অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. অনন্ত
  2. অন্তরীপ
  3. অনুক্ষণ
  4. অনুতাপ
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস - অনুক্ষণ

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ বহুব্রীহি - অনন্ত।
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - অন্তরীপ।
• প্রাদি সমাস - অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮১.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. নরপশু
  2. নাহক
  3. নামঞ্জুর
  4. নাবালক
সঠিক উত্তর:
নরপশু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরপশু
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
কোনো নিয়মের অধীন নয়, অথচ বহুব্রীহি সমাস বলে গণ্য।
যেমন -
- অন্তরীপ = অন্তর্গত অপ যার,
- জীবন্মৃত = জীবিত থেকেও যে মৃত,
- দ্বীপ = দুই দিকে অপ যার,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ।

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ বহুব্রীহি = নাহক।
• নঞ্‌ তৎপুরুষ = নামঞ্জুর, নাবালক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮২.
পরপদের অর্থ প্রধান থাকে কোন সমাসে?
  1. কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসে
  2. কর্মধারয় ও দ্বন্দ্ব সমাসে
  3. তৎপুরুষ ও দ্বন্দ্ব সমাসে
  4. তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি সমাসে
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসে
ব্যাখ্যা
• পরপদের অর্থ প্রধান থাকে - কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসে।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।
- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার: দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, নঞ, উপপদ ও অলুক তৎপুরুষ সমাস।
 
অন্যদিকে, 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ, উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
- বহুব্রীহি সমাসে কোন পদেরই প্রাধান্য পায় না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮৩.
'পকেট মারে যে' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. নিত্য সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. অলুক তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭৮৪.
‘মিঠাকড়া’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে।
কর্মধারয় সমাসে প্রথম পদটি দ্বিতীয় সমাসের বিশেষণরূপে অবস্থান করে ( এমনকি বিশেষণ পদ না হয়েও) এবং সমস্তপদে দ্বিতীয় বা পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। ব্যাসবাক্যের মাঝে ‘যে’ থাকবে।
যেমন:
- ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা
- যা মিঠা তা-ই কড়া = মিঠাকড়া
[ যে, সে, যেই, সেই, যিনি, তিনি, যা, তা, ইত্যাদি ব্যাসবাক্য কর্মধারয় সমাসে ব্যবহৃত হয়]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮৫.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. দুই এবং নব্বই
  2. জায়া ও পতি
  3. শান্ত অথচ শিষ্ট
  4. কাঁচা অথচ মিঠা
সঠিক উত্তর:
জায়া ও পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জায়া ও পতি
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি =  দম্পতি।

অন্যদিকে,
নিত্য সমাস: দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
কর্মধারয় সমাস - শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৭৮৬.
'বজ্জাত' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. পঞ্চমী
  4. সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- উত্তর থেকে উত্তর = উত্তরোত্তর, 
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত,
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮৭.
‘বঙ্গভঙ্গ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ধানের খেত = ধানখেত;
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা;
- বঙ্গকে ভঙ্গ = বঙ্গভঙ্গ;
- গাকে ঢাকা = গা-ঢাকা;
- জ্ঞানকে অর্জন = জ্ঞানার্জন;
- মনকে পাওয়া = মনপাওয়া  ইত্যাদি।

------------------------------
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮৮.
'পুত্রবধূ' - কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. চতুর্থী
  2. পঞ্চমী
  3. যষ্ঠী
  4. তৃতীয়া
সঠিক উত্তর:
যষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যষ্ঠী
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।

যেমন:
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮৯.
‘শান্তশিষ্ট’ শব্দটির ব্যাসবাক্য কি হবে?
  1. ক) শান্ত এবং শিষ্ট
  2. খ) শান্ত অথচ শিষ্ট
  3. গ) যে শান্ত সেই শিষ্ট
  4. ঘ) শান্ত ও শিষ্ট
সঠিক উত্তর:
খ) শান্ত অথচ শিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শান্ত অথচ শিষ্ট
ব্যাখ্যা
‘শান্তশিষ্ট’ শব্দটির ব্যাসবাক্য- শান্ত অথচ শিষ্ট। এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণী]
৭৯০.
নতুন শব্দ গঠন করে-
  1. ক) সন্ধি ও সমাস
  2. খ) সন্ধি ও কারক
  3. গ) সমাস ও পদ
  4. ঘ) প্রত্যয় ও পুরুষ
সঠিক উত্তর:
ক) সন্ধি ও সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সন্ধি ও সমাস
ব্যাখ্যা
সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

• অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৯১.
'চাঁদমুখ'-এর ব্যাসবাক্য হলো-
  1. চাঁদমুখের ন্যায়
  2. চাঁদের মত মুখ
  3. চাঁদ মুখ যার
  4. চাঁদরূপ মুখ
সঠিক উত্তর:
চাঁদের মত মুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের মত মুখ
ব্যাখ্যা
• ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ অনুসারে,

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
- চাঁদের মতো মুখ = চাঁদমুখ।

• অভিগম্য অভিধান অনুসারে,
চাঁদমুখ = চাঁদের ন্যায় সুন্দর মুখ বা মুখবিশিষ্ট; চাঁদবদন।

• সংসদ বাংলা অভিধান অনুসারে,
- চাঁদের মতো মুখবিশিষ্ট = চাঁদমুখ।

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

[সুতরাং ‘চাঁদমুখ’ শব্দের অধিক গ্রহণযোগ্য ব্যাসবাক্য হলো ‘চাঁদের মত মুখ’/‘চাঁদের ন্যায় মুখ’।]
৭৯২.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. আগাগোড়া
  2. অনুক্ষণ
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. ধামাচাপা
সঠিক উত্তর:
বিষাদসিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
‘অনুক্ষণ’ অব্যয়ীভাব সমাস। এর ব্যাসকাব্য হচ্ছে - ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।
‘আগাগোড়া’ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
‘ধামাচাপা’ তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৭৯৩.
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) বেঈমান
  2. খ) দ্বীপ
  3. গ) ঘরমুখাে
  4. ঘ) চৌচালা
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বীপ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ ইত্যাদি।

- নঞ বহুব্রীহি সমাস - বে (নাই) ঈমান যার = বেঈমান 
- প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস - ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখাে,
- সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস - চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৪.
সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ঘরবাড়ি
  2. খ) দা-কুমড়া
  3. গ) মাতাপিতা
  4. ঘ) দুধেভাতে
সঠিক উত্তর:
ক) ঘরবাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঘরবাড়ি
ব্যাখ্যা
ঘর ও বাড়ি= ঘরবাড়ি , ইহা সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ। 

- দ্বন্দ্ব' শব্দের অর্থ দুটি। একটি সংঘাত, অন্যটি মিলন।
- জোড়া শব্দই দ্বন্দ্ব সমাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন: ভালোমন্দ, ভাইবোন ইত্যাদি।
- পূর্বপদ ও পরপদ একই বিভক্তিযুক্ত হয়। যেমন: দেখাশুনা (আ বিভক্তি যুক্ত)। 
- দুটি জোড়া সর্বনাম দিয়েও দ্বন্দ্ব সমাস হয়। যেমন: তুমি-আমি ইত্যাদি।
- সংখ্যাবাচক শব্দ থাকলেও দ্বন্দ্ব সমাস হয়। যেমন: সাত-পাঁচ। 
- দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। যথা-
১. সাধারণ দ্বন্দ্ব 
২. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
৩. সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব 
৪. সমার্থক দ্বন্দ্ব 
৫. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব 
৬. একশেষ দ্বন্দ্ব 
৭. অলুক দ্বন্দ্ব 
৮. বহুপদী দ্বন্দ্ব 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৭৯৫.
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-   
  1. জ্ঞানবৃক্ষ
  2. কালরাত্রি
  3. মনমাঝি
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
কালরাত্রি = কাল রূপ রাত্রি,
• জ্ঞানবৃক্ষ = জ্ঞান রূপ বৃক্ষ, 
• মনমাঝি = মন রূপ মাঝি। 

- রূপক কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ:
• বিষাদসিন্ধু,
• কালরাত্রি ,
• কালসর্প ,
• কথামৃত,
• কালচক্র,
• কালস্রোত,
• জীবনতরী, 
• দেহপিঞ্জর, 
• জ্ঞানবৃক্ষ, 
• দেশমাতৃকা, 
• প্রাণবায়ু, 
• বিদ্যারত্ন, 
• শোকসিন্ধু, 
• সংসারসমুদ্র, 
• হৃদয়পিঞ্জর। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৯৬.
কোনটি ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস?
  1. বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা
  2. খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ
  3. হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।

যথা:
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা

অন্যদিকে,
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ
- এরকম: হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদবত, কমবত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৯৭.
‘বিজ্ঞান’ শব্দের বি উপসর্গ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ
  2. খ) অভাব
  3. গ) সাধারণ
  4. ঘ) গতি
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ
ব্যাখ্যা
খেলার মাঠ অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

অলুক তৎপুরুষ:
অলুক শব্দের অর্থ অলোপ বা লোপ না পাওয়া। পুর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
খেলার মাঠ = খেলারমাঠ।

গণপতি - পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
চিড়িয়াখানা - চতুর্থী তৎপুরুষ।
ধীরগতি - উপপদ তৎপুরুষ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৯৮.
‘নরপশু’ এর ব্যাসবাক্য কি হবে?
  1. ক) নর ও পশু
  2. খ) যে নর সেই পশু
  3. গ) নরাকারের পশু যে
  4. ঘ) পশু যে নর
সঠিক উত্তর:
গ) নরাকারের পশু যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নরাকারের পশু যে
ব্যাখ্যা
‘নরপশু’ এর ব্যাসবাক্য নরাকারের পশু যে। এটি নিপাতনে সিদ্ধ (কোন নিয়মের অধীন নয়) বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৭৯৯.
“চিরসুখ"- শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস 
ব্যাখ্যা

“চিরসুখ" - শব্দটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত।
------------------
• তৎপুরুষ সমাস:
- তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি হারিয়ে যায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
- এটি দ্বিতীয় থেকে সপ্তম বিভক্তি পর্যন্ত যেকোনো বিভক্তি লোপের মাধ্যমে গঠিত হতে পারে।
- বিভক্তি অনুযায়ী তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদের নামকরণ করা হয়। 

- তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকারের-
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ, 
- তৃতীয়া তৎপুরুষ,
- চতুর্থী তৎপুরুষ, 
- পঞ্চমী তৎপুরুষ, 
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ,
- সপ্তমী তৎপুরুষ,
- নঞ তৎপুরুষ (না-বাচক),
- উপপদ তৎপুরুষ,
- অলুক তৎপুরুষ (বিভক্তি লোপ পায় না)। 
----------------------------
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়; 
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।

- উদাহরণ:
- 'চিরকাল ধরে সুখ' → 'চিরসুখ'; (ব্যাপ্তি অর্থে কালবাচক পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়)।
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
- 'আত্মকে রক্ষা' → 'আত্মরক্ষা'; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।

- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের আরও কিছু উদাহরণ:
- সাহায্যপ্রাপ্ত = সাহায্যকে প্রাপ্ত, 
- দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী - দীর্ঘস্থায়ী, 
- শরনিক্ষেপ = শরকে নিক্ষেপ,
- ছেলে-ভুলানো = ছেলেকে ভুলানো,
- সাহায্যপ্রাপ্ত = সাহায্যকে প্রাপ্ত,
- গা-ঢাকা = গা-কে ঢাকা,
- তিমিরবিদায়ী = তিমিরকে বিদায়ী,
- দেশভঙ্গ = দেশকে ভঙ্গ,
- বইপড়া = বইকে পড়া,
- দেশত্যাগ = দেশকে ত্যাগ
- দুঃখপ্রাপ্ত = দুঃখকে প্রাপ্ত,
- আমকুড়ানো = আমকে কুড়ানো,
- রথচালান = রথকে চালান,
- দেশবিভাগ = দেশকে বিভাগ,
- বিস্ময়াপন্ন = বিস্ময়কে আপন্ন,
- পুত্রলাভ = পুত্রকে লাভ,
- দুঃখাতীত = দুঃখকে অতীত,
- শরণাগত = শরণকে আগত,
- পরলোকগত = পরলোকে গত,
- চরণাশ্রিত = চরণকে আশ্রিত,
- স্বর্গপ্রাপ্ত = স্বর্গকে প্রাপ্ত। 

টেকনিক:
- পূর্বপদে 'চির' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
- পরপদে 'স্থায়ী' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
- পরপদে 'প্রাপ্ত', 'পন্ন', 'গত', 'আশ্রিত', 'অতীত' থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
------------------------------ 
অন্যদিকে,

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ:
- নদী মাতা যার = নদীমাতৃক,
- বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব,
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নীল বসন যার = নীলবসনা। 

• নিত্য সমাস:  
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে- ‘অন্য’ বা ‘কেবল' শব্দটি বসে।
- যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর।
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র।

- আবার, নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে অনেক সময় ‘তুল্য’ শব্দটি থাকে।
- যেমন- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ।
- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- কালসাপ, আমরা, গ্রামান্তর, বিরানব্বই, উপায়ান্তর, দিগন্তর, ধর্মান্তর, লোকান্তর, দেখামাত্র, নামমাত্র ইত্যাদি। 

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- নীল চোখ একটি সাধারন কর্মধারয় সমাস।
- এখানে নীল একটি বিশেষণ এবং চোখ একটি বিশেষ্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৮০০.
কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস?
  1. শোকাতীত
  2. মধুমাখা
  3. জেলমুক্ত
  4. গৃহকর্তা
সঠিক উত্তর:
গৃহকর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহকর্তা
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
• ছাগীর দুগ্ধ - ছাগদুগ্ধ;
• গৃহের কর্তা - গৃহকর্তা;
• অশ্বের পদ - অশ্বপদ;
• চায়ের বাগান = চাবাগান;
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

এরূপ- জনগণ, ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, বিড়ালছানা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শোককে অতীত = শোকাতীত; ২য় তৎপুরুষ সমাস। 
• জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত; পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। 
• মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা; ৩য় তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।