বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সমাস

মোট প্রশ্ন২,৫০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সমাস

PrepBank · পাতা / ২৫ · ৩০১৪০০ / ২,৫০১

৩০১.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজলকালো
  2. বকধার্মিক
  3. ভ্রমরকৃষ্ণকেশ
  4. বাহুলতা
সঠিক উত্তর:
বাহুলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুলতা
ব্যাখ্যা

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- সোনার মতো মুখ = সোনামুখ,
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।

এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
যেমন:
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।

এরূপ-
করকমল, করপল্লব, অধরপল্লব, চরণকমল, চরণণয়, চাঁদবদন, চাঁদমুখ, নয়নপল্প, মুখগল্প, হাঁড়িমুখ ইত্যাদি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

------------------------
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণ কেশ। 
[এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।]

- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- তুষারের ন্যায় পুত্র = তুষারপুত্র,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

এরূপ-
অগ্নিশর্মা, অরুণরাঙা, কচুকাটা, কদমহাট, কাচভঙ্গুর, কুসুমকোমল, কাজলকালো, গোবেচারা, শৈলোন্নত, দুখখবল, ধনুকবাঁকা, নিমতেতো, প্রস্তরকঠিন, ফুটিফাটা, রক্তিমূর্থ, বকধার্মিক, বিড়ালভপমী, বরফসাদা, বজ্রকঠিন, লৌহকঠিন, শিশির-রিপ, সিদুররাঙা ইত্যাদি উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও  সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০২.
কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নীলাম্বর
  2. খ) নরাধম
  3. গ) ঋণমুক্ত
  4. ঘ) দম্পতি
সঠিক উত্তর:
খ) নরাধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নরাধম
ব্যাখ্যা
নরাধম = অধম যে নর; কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। 
অন্যদিকে, 
নীলাম্বর = নীল অম্বর যার - বহুব্রীহি 
ঋণমুক্ত = ঋণ থেকে মুক্ত - পঞ্চমী তৎপুরুষ 
জায়া ও পতি = দম্পতি - দ্বন্দ্ব সমাস 

• কর্মধারয় সমাস
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে যে’ যােজক থাকে, যেমন –
 
খাস যে জমি = খাসজমি
চিত যে সঁতার = চিতসাঁতার
ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ
কনক যে চাঁপা = কনকচাপা
টাক যে মাথা = টাকমাথা
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর
যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৩.
আশীবিষ কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. ঘ) সপ্তমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ কোনটিই বিশেষণ নয়, তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। কথাসর্বস্ব, ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা, বোঁটাখোসা ইত্যাদি হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩০৪.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কাঁচকলা
  2. খ) দাকুমড়া
  3. গ) আদায়-কাঁচকলায়
  4. ঘ) গাছপাকা
সঠিক উত্তর:
ক) কাঁচকলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাঁচকলা
ব্যাখ্যা
• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য)
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

অন্যদিকে,
- আদায় ও কাঁচকলায় = আদায়-কাঁচকলায় (অলুক দ্বন্দ্ব সমাস)।
- দা ও কুমড়া = দাকুমড়া ( বিপরীতার্থক বা বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস)।
- গাছে পাকা = গাছপাকা ( সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৫.
‘গ্রামান্তর’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. গ্রাম ও অন্তর
  2. অন্য গ্রাম
  3. গ্রামের অন্তর
  4. গ্রাম থেকে অন্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য গ্রাম
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৩০৬.
'কথাসর্বস্ব' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. ব্যতিহার বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩০৭.
তৎপুরুষ সমাসে কোন পদ প্রধান হয়?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয়পদ
  4. অন্যপদ
সঠিক উত্তর:
পরপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরপদ
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস: 
- পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ঠ্য:
- তৎপুরুষ সমাস অভ্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত;
- তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান;
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপে তৎপুরুষ সমাস হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৩০৮.
'বাহুলতা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ; 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ, 
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়।
- এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৯.
‘পঙ্কে জন্মে যা’ ব্যাসবাক্যটি কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- জলে চরে যা = জলচর।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ।
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা।
- পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১০.
'ক্ষুৎপিপাসা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ 
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব 
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব 
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।

যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি; 
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা;
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে;
- ধীরে ও সুত্থে = ধীরেসুতে;
- জলে ও সলে = জলেইলে;
- হাতে ও কলমে = হাতেকলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১১.
ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ, কোন প্রকার বহুব্রীহির উদাহরণ-
  1. ক) সমানাধিকরণ
  2. খ) ব্যধিকরণ
  3. গ) ব্যাতিহার
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যধিকরণ
ব্যাখ্যা
ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনােটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
পাপে মতি যার = পাপমতি,
পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,
ধর্মে মতি যার = ধর্মমতি,
দুষ্টু মতি যার = দুষ্টমতি,
নদী মাত যার = নদীমাতৃক,
ধর্মে প্রাণ আছে যার = ধর্মপ্রাণ,
ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি ইত্যাদি।
পরপদ কৃদন্ত বিশেষ্য হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন-
দুই কান কাটা যার = দুকানকাটা,
ধামা ধরে যে = ধামাধরা,
বোটা খসেছে যার = বোঁটাখসা,
পা চাটে যে = পা-চাটা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১২.
'মাস্টারসাহেব' কোন সমাস?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- যিনি মাস্টার তিনিই সাহেব = মাস্টারসাহেব।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা।
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩১৩.
'গোবরগণেশ' কোন সমাস?
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. গ) উপমিত কর্মধারয়
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যে মধ্যপদের লোভ হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- গোবরে জন্ম যে গণেশ = গোবরগণেশ, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৪.
"গায়েপড়া" শব্দটি কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
  1. সংখ্যাবাচক
  2. পদলোপী
  3. ব্যাধিকরণ
  4. অলুক
সঠিক উত্তর:
অলুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক
ব্যাখ্যা
"গায়েপড়া" শব্দটি অলুক বহুব্রীহি সমাস।

• অলুক বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন-
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

• অন্যান্য অপশন:
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন-
- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ,
- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

পদলোপী বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন-
- চিরুনির মতো দাঁত যার চিরুনদাঁতি,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে হাতেখড়ি।

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন-
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৩১৫.
"পরানপ্রিয়" শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়, 
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত,
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৬.
'গুরুভক্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারায় সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। চতুর্থী বিভক্তির চিহ্ন কে, রে। নিমিত্ত বা জন্য অর্থেও চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- দেবকে দত্ত = দেবদত্ত;
- বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল। 

এরকম- 
• গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি।
• বসতের নিমিত্ত বাড়ি - বসতবাড়ি।
• মুক্তির নিমিত্তে বা জন্য যুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৭.
"অকালমৃত্যু" - শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. সপ্তমী
  2. তৃতীয়া
  3. উপপদ
  4. চতুর্থী
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
- দানে বীর = দানবীর,
- মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

উৎস :মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৮.
‘সমান উদর যার’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত।
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে ‘সমান” শব্দের স্থানে 'স' এবং 'সহ' হয়।
যেমন:
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী।
- সমান বর্ণ যার = সবর্ণ।
- সমান উদর যার = সহোদর ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দ বলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার = কমলাক্ষ।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'জায়া' শব্দ স্থানে 'জানি' হয় এবং পূর্বপদের কিছু পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি ('যুবতী' স্থলে 'যুব' ও 'জায়া' স্থলে 'জানি' হয়েছে)।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদের ‘চূড়া' শব্দ সমস্তপদে ‘চূড়' ও 'কর্ম' শব্দ সমস্তপদে 'কর্মা' হয়।
যেমন:
- চন্দ্ৰ চূড়ায় যার = চন্দ্রচূড়।
- বিচিত্র কর্ম যার = বিচিত্রকর্মা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৯.
"সহোদর" - কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
- ​যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন,
- চার পা বিশিষ্ট প্রাণী = চতুষ্পদ,
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,
- সমান তীর্থ যাদের = সতীর্থ,
- সমান উদর যার = সহোদর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২০.
'তপোবন' - শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. চতুর্থী
  2. উপপদ
  3. তৃতীয়া
  4. পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২১.
‘পসুরি’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) পাঁচ সুরের ন্যায়
  2. খ) পাঁচ সেরের সমাহার
  3. গ) পাঁচ সুর যার
  4. ঘ) পাঁচ সের যার
সঠিক উত্তর:
খ) পাঁচ সেরের সমাহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাঁচ সেরের সমাহার
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। 
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পাঁচ সেরের সমাহার = পসুরি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২২.
‘গ্রাম থেকে ছাড়া’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমান নির্দেশ করে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

• বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত;
- ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো;
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি;
- ধানের খেত = ধানখেত;
- পথের রাজা = রাজপথ।

• সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- রান্নার জন্য ঘরে = রান্নাঘর;
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রাম ছাড়া;
- বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল।

• কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুস, যেমন-
- গরুর গাড়ি= গরুরগাড়ি;
- তেলে ভাজা - তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩২৩.
‘উচ্ছৃঙ্খল’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি।
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৩২৪.
নিচের কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. মিশকালো
  2. জয়ধ্বনি
  3. বিদ্যাধন
  4. বাহুলতা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন।

অন্যদিকে, 
---------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন। 
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি। 

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- মিশির মতো কালো = মিশকালো। 
 
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২৫.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. পোড়াকপালে
  2. একচোখা
  3. দুকানকাটা
  4. বোঁটাখসা
সঠিক উত্তর:
একচোখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একচোখা
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস: 
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখ। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা/একচোখো। 

এরকম- ক্ষুরধার, গজানন, মৃগনয়না, মীনাক্ষী, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।  

অন্যদিকে, 
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা পূর্বপদ বিশেষ্য এবং পরপদ বিশেষণ হয় তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালো বরণ যার = কালোবরণ;
- পোড়া কপাল যার = পোড়াকপালে।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন- দু কান কান কাটা যার = দুকানকাটা, বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২৬.
'সশিষ্য' কোন সমাস?
  1. সহার্থক বহুব্রীহি
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. অলুক বহুব্রীহি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সহার্থক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহার্থক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• সহার্থক বহুব্রীহি সমাস:
- সহার্থক নামে আরেক প্রকার বহুব্রীহি সমাস পাওয়া যায়।
- সহার্থক পূর্বপদের সঙ্গে বিশেষ্য পরপদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে সহার্থক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সশিষ্য = শিষ্যের সহিত বর্তমান,
- সকর্দম = কর্দমের সহিত বর্তমান,
- সবান্ধব = বান্ধবের সহিত বর্তমান,
- সক্রিয় = ক্রিয়ার সহিত বর্তমান,
- সজল = জলের সহিত বর্তমান।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৭.
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নীলবসনা
  2. খ) মাছিমারা
  3. গ) পঞ্চভূত
  4. ঘ) প্রতিকূল
সঠিক উত্তর:
ক) নীলবসনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীলবসনা
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- নীল বসন যার = নীলবসনা, আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা, চার পা বিশিষ্ট প্রাণী = চতুষ্পদ, পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ ইত্যাদি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৩২৮.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্গত?
  1. ক) লালপেড়ে
  2. খ) আগাগোড়া
  3. গ) শান্তশিষ্ট
  4. ঘ) ধীরেসুস্থে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধীরেসুস্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধীরেসুস্থে
ব্যাখ্যা
- অপশনগুলোর মধ্যে 'ধীরেসুস্থে' হলো দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্গত।

দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রতিটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্যে একটি সংযোজক অব্যয় (কখনো বিয়োজক) দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: তাল ও তমাল= তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম=দোয়াত-কলম, ধীরে ও সুস্থে=ধীরেসুস্থে।

•এছাড়া- 
- 'লালপেড়ে' হলো সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- 'আগাগোড়া' হলো সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- 'শান্তশিষ্ট' হলো কর্মধারয় সমাসের অন্তর্গত।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২৯.
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব প্রকাশ করে তাকে বলে-
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
  4. অলুক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ,
- দিন ও রাত = দিনরাত,
- টক ও মিষ্টি = টকমিষ্টি,
- দেশে ও বিদেশে = দেশেবিদেশে,
- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়,
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ,
- লাভ ও লোকসান লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
কোনটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) চৌরাস্তা
  2. খ) নবরত্ন
  3. গ) পঞ্চবট
  4. ঘ) সেতার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেতার
ব্যাখ্যা
পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, পরপদ বিশেষ্য এবং সমস্তপদ বিশেষণ বুঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলে।
যেমন : 
সমস্তপদ  --  ব্যাসবাক্য 
দশভুজ  --  দশ ভুজ যার
সপ্তবর্ণা   -- সপ্ত বর্ণ যার
তেপায়া  --  তিন পা বিশিষ্ট যা   
সেতার   -- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের

অপশনের অন্যান্যগুলো দ্বিগু সমাস।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
৩৩১.
কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ওলকপি
  2. খ) কবিগুরু
  3. গ) আটঘাট
  4. ঘ) ঊনপাঁজুরে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঊনপাঁজুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঊনপাঁজুরে
ব্যাখ্যা
ঊনপাঁজুরে- প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয়যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস।
যেমন -
- ঊন পাঁজর যার= ঊনপাঁজরে। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা (চোখ + আ)।
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ + ও)
এরকম,
- নি-খরচে, দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩৩২.
অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নদী - নালা
  2. খ) দেশে - বিদেশে
  3. গ) নানা - দাদা
  4. ঘ) বন্ধু - বান্ধব
সঠিক উত্তর:
খ) দেশে - বিদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেশে - বিদেশে
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে। 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ৷ 

• অলুক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
- যেমন: দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩৩৩.
'কায়মনােবাক্যে' কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব 
  4. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস সংজ্ঞা:
- যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন: ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি

- দ্বন্দ্ব মানে জোড়া।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বােঝানাের জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযােজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
দ্বন্দ্ব সমাস বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। এর মধ্যে বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব এক প্রকার। 

বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততােধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
- যেমন-
- কায়, মনাে এবং বাক্যে = কায়মনােবাক্যে,
- সাহেব, গােলাম এবং বিবি = সাহেব-গােলাম-বিবি,
- আমি, তুমি এবং সে = আমরা,
- স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৪.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দুঃখপ্রাপ্ত
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) ছেলে-ভুলানাে
  4. ঘ) তেলেভাজা
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩৫.
অব্যয়ীভাব সমাসে কোন পদের অর্থপ্রধান?
  1. ক) উত্তরপদ
  2. খ) পরপদ
  3. গ) পূর্বপদ
  4. ঘ) অন্যপদ
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্বপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্বপদ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন : উপকূল = কূলের সমীপে, প্রতিদিন = দিন দিন ইত্যাদি।
বৈশিষ্ঠ্য:
- অব্যয়ীভাব সমাস দ্বিগু, কর্মধারয় ও তৎপুরুষের বিপরীত;
- অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়;
- অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে উপসর্গ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে;
- উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। 

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩৩৬.
'হজযাত্রা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ৩য়া তৎপুরুষ
  2. খ) ৪র্থী তৎপুরুষ
  3. গ) ৫মী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ৭মী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) ৪র্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪র্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন- হজের জন্যে যাত্রা- হজযাত্রা।
৩৩৭.
'বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা' কোন বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. ব্যাধিকরণ
  2. সমানাধিকরণ
  3. ব্যতিহার
  4. প্রত্যয়ান্ত
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩৩৮.
নিচের কোনটি নিত্য সমাস?
  1. ভালমন্দ
  2. পঞ্চনদ
  3. দিনভর
  4. বেয়াদব
সঠিক উত্তর:
দিনভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনভর
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ,
- সারা দিন = দিনভর ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
- ভালো-মন্দ = ভালমন্দ; দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
- আদবের অভাব = বেয়াদব; অব্যয়ীভাব সমাস।
- পঞ্চ নদের সমাহার = পঞ্চনদ; দ্বিগু সমাসের উদাহরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৯.
বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) আয়তলোচনা
  3. গ) ধীরবুদ্ধি
  4. ঘ) অলৌকিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলৌকিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলৌকিক
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস: 
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা:
- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
- এখানে ‘বহু’ কিংবা ‘ব্রীহি’ কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে। 
- বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।

যথা:
- আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী),
- মহান আত্মা যার মহাত্মা,
- স্বচ্ছ সলিল যার = স্বচ্ছসলিলা,
- নীল বসন যার = নীলবসনা,
- স্থির প্রতিজ্ঞা যার = স্থিরপ্রতিজ্ঞ,
- ধীর বুদ্ধি যার = ধীরবুদ্ধি। 

⇒ অলৌকিক বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ নয়। 
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: অলৌকিক, অসাধ্য, নাতিশীতোষ্ণ ইত্যদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩৪০.
যে  সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না, তাকে বলা হয়- 
  1. প্রাদি সমাস
  2. সংখ্যা-বাচক বহুব্রীহি সমাস
  3. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস 
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস 
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:  
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে- ‘অন্য’ বা ‘কেবল' শব্দটি বসে।
- যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর।
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র। 

- আবার, নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে অনেক সময় ‘তুল্য’ শব্দটি থাকে।
- যেমন- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ। 

- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- কালসাপ, আমরা, গ্রামান্তর, বিরানব্বই, উপায়ান্তর, দিগন্তর, ধর্মান্তর, লোকান্তর, দেখামাত্র, নামমাত্র ইত্যাদি। 
------------------------ 
অন্যদিকে, 

• প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু, ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে যদি কৃদন্ত পদ বা নামপদের সমাস হয় তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
- যেমন-
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ। 

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস: 
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হয়, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
- দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা। 

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস: 
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- নীল চোখ একটি সাধারন কর্মধারয় সমাস।
- এখানে নীল একটি বিশেষণ এবং চোখ একটি বিশেষ্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩৪১.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাস?
  1. রাজপুত্র
  2. গরুরগাড়ি
  3. খেয়াঘাট
  4. চাবাগান
সঠিক উত্তর:
গরুরগাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরুরগাড়ি
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।

যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৪২.
'নাবালক' কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ তৎপুরুষ: 
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- যথা ন আচার = অনাচার
         ন কাতর = অকাতর 
- অনুরূপ, অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, বেতাল, অভাব ইত্যাদি। 
- খাঁটি বাংলায় অ, আ, না ইত্যাদি অনা হয়। 
যেমন- ন কাল = অকাল। তদ্রুপ - আধোয়া, নামঞ্জুর, অকেজো, অজানা, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৪৩.
কোনটি নিত্য সমাসের সমস্ত পদ?
  1. ক) মনমাঝি
  2. খ) উপনদী
  3. গ) নরপশু
  4. ঘ) গ্রামান্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রামান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রামান্তর
ব্যাখ্যা
- সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ বা সমাস নিকল্পপদ।

• নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর।
অর্থাৎ, নিত্য সমাসের সমস্ত পদ হলো “গ্রামান্তর”।

অন্যদিকে,
• নিপাতনে সিদ্ধ (কোনাে নিয়মের অধীনে নয়) বহুব্রীহি সমাস:
- নরাকারের পশু যে = নরপশু।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
সামীপ্য (উপ) :কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।
- ক্ষুদ্র অর্থে (উপ) : উপগ্রহ, উপনদী, উপজেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
৩৪৪.
নিচের কোনটি 'অলুক তৎপুরুষ' সমাস?
  1. মামাবাড়ি
  2. গাছপাকা
  3. ছেলে-ভুলানো
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস 
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- যেমন: 
• ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো; 
• মামার বাড়ি = মামাবাড়ি;
• ধানের খেত = ধানখেত;
• গাছে পাকা = গাছপাকা; 
• রথকে চালন = রথচালন। 
• বিয়েপাগলা, গ্রামছাড়া, আগাগোড়া, রাজপথ, দুঃখপ্রাপ্ত, অকালমৃত্যু ইত্যাদি। 

♣ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন - 
• গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি; 
• তেলে ভাজা = তেলেভাজা;  
• ঘিয়েভাজা, ঘোড়ার-ডিম, চোখের বালি, গানের-আসর, সোনার-বাংলা ইত্যাদি।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৫.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. মাতাপিতা
  2. তেলেভাজা
  3. নাজানা
  4. সাহিত্যসভা
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
 কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।

অন্যদিকে:
- 'সাহিত্যসভা' মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- 'মাতাপিতা' সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'নাজানা' নঞ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

৩৪৬.
কোন শব্দটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. নৌবহর
  2. গৃহস্থ
  3. ধানখেত
  4. পুষ্পসৌরভ
সঠিক উত্তর:
গৃহস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহস্থ
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- কল্পনায় বিলাস করে যে = কল্পনাবিলাসী,
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ,
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।

অন্যদিকে,
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস - ধানের খেত = ধানখেত, নৌয়ের বহর = নৌবহর, পুষ্পের সৌরভ = পুষ্পসৌরভ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৪৭.
'হাতঘড়ি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• 'হাতঘড়ি'- কর্মধারয় সমাস এর উদাহরণ।
- এটি মধ্যপদলােপী কর্মধারয়।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
'হাতে পরা হয় যে ঘড়ি'- 'হাতঘড়ি'। 
ঘি মাখানো ভাত- ঘিভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৩৪৮.
'গোঁফখেজুরে' - শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. অলুক তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৯.
কোন সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়,তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩৫০.
'চিরসুখী' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• 'চিরকাল ব্যাপীয় সুখী= চিরসুখী'- ২য়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

- সমস্তপদ - ব্যাসবাক্য
- চিরসুখী - চির কাল ব্যাপিয়া সুখী।
- চিরস্থায়ী - চির কাল ব্যাপিয়া স্থায়ী।
- চিরস্মরণীয় - চির কাল ব্যাপিয়া স্মরণীয়।
- চিরশত্রু - চির কাল ব্যাপিয়া শত্রু।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা : দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন : চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। এরকম : গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৫১.
'পুঁথিগত' কোন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পুঁথিগত = পুঁথি হইতে আগত, 
- এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

তৎপুরুষ সমাস- 
- পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
অনুরূপ ভাবে, পুঁথি হইতে আগত = পুঁথিগত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫২.
সমাসের 'ব্যাসবাক্য' বলতে কী বোঝায়?
  1. সমাসের পূর্বপদ
  2. যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়।
  3. সমাসের শেষ শব্দ
  4. সমাসবদ্ধ শব্দ
সঠিক উত্তর:
যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়।
ব্যাখ্যা
সমাস:
- পরস্পর অর্থ সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহুপদের একপদে পরিণত হওয়াকে বলা হয় সমাস।
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক পদের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে'। 

সমাসের কয়েকটি পরিভাষা:

ক. সমস্যমান পদ:
- যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ:
- সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
- একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়।
যেমন— সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়। 

- সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে।
- ‘ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।
উপরের বাক্যে 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ:
- সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
সিংহাসন শব্দের সিংহ হলো পূর্বপদ, আর আসন হলো পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫৩.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. হাতেখড়ি
  2. ক্ষণস্থায়ী
  3. দুধসাগু
  4. নরসিংহ
সঠিক উত্তর:
দুধসাগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধসাগু
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ক্ষণকাল ব্যপীয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী, এটি ব্যাপ্তি অর্থে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি, মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
- নর সিংহের ন্যায় = নরসিংহ, উপমিত কর্মধারয় সমাস।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৪.
'পঞ্চগড়' কোন সমাস?
  1. সংখ্যাবাচক বহব্রীহি
  2. দ্বন্দ্ব
  3. দ্বিত্ত
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বহব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক বহব্রীহি
ব্যাখ্যা

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
সংখ্যাবাচক শব্দে মিলন না বুঝিয়ে যদি তৃতীয় কোনো পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তা সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস হবে।

যথা -
• দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
• চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা।

• পঞ্চ গড় আছে যে স্থানে = পঞ্চগড়।

এখানে, ব্যাসবাক্যে - ‘পঞ্চগড়’ বলতে পাঁচটি গড় আছে এমন স্থান বোঝানো হচ্ছে। অর্থাৎ, শব্দটির অর্থ তার উপাদান শব্দের সরাসরি অর্থে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্য একটি সত্তাকে নির্দেশ করছে।

এই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি বহুব্রীহি সমাস।

আর যেহেতু এখানে সংখ্যাবাচক শব্দ (পঞ্চ) ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি— সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।

এরূপ - চারহাতি, তেপায়া ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫৫.
'গায়েপড়া' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অব্যয়ীভাব সমাস
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
'গায়েপড়া' উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- যেমন: গায়ে পড়া যে - গায়েপড়া।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: 
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী।
জাদু করে যে - জাদুকর।
শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য।
বর্ণ চুরি করে যে - বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৫৬.
'চতুষ্কোণ' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
  5. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

'চতুষ্কোণ' = চারটি কোণ আছে যার; বহুব্রীহি সমাস।

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:

- পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
- চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা,
- তিন পায়া যার = তেপায়া,
- দুই নল যার = দোনলা।
- এরকম: দশহাতি, একগুঁয়ে, দ্বিচক্র, একতারা, দশানন, দ্বিমাত্রিক, দ্বীপ, একরোখা, দুমুখো, পঞ্চানন, চতুর্ভুজ, পাঁচহাতি, চতুষ্কোণ, দোতলা, চতুষ্পদী, সেতার, দোপেয়ে, চারপেয়ে, চৌপায়া, তেতলা, ত্রিলোচন, ত্রিশূল, সাতনরি, শতমূলী ইত্যাদি।

লক্ষণীয় : সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বা পরপদের অর্থ প্রধান না হয়ে তৃতীয় কোনো অর্থ প্রধান হয়, অপরপক্ষে দ্বিগু সমাসের পূর্বপদটি সংখ্যাবাচক শব্দ হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন:
- দ্বিগু সমাস: - চৌ রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা।
- বহুব্রীহি : চৌ চালা আছে যার = চৌচালা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৫৭.
‘তপোবন' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
  যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
- এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ - পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
- বজ্রের সম = বজ্রসম। (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)। 
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তি লোপ পেয়েছে।

• তপোবন = তপের নিমিত্তে বন।
- এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৮.
কোনটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. মুখভ্রষ্ট
  2. তপোবন
  3. রবাহূত
  4. তপস্বীকন্যা
সঠিক উত্তর:
তপোবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপোবন
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'তপস্বীর কন্যা = তপস্বীকন্যা' - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- 'রব দ্বারা আহূত = রবাহূত' - তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- 'মুখ থেকে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট' পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৯.
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) হাতঘড়ি
  2. খ) শশব্যস্ত
  3. গ) পদ্মআঁখি
  4. ঘ) চন্দ্রমুখ
সঠিক উত্তর:
ক) হাতঘড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাতঘড়ি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়। এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন – ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত
            হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি
            ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই
            বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৬০.
কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) প্রবচন
  2. খ) শতাব্দী
  3. গ) গৃহস্থ
  4. ঘ) ছা-পোষা
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবচন
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন, 
প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি।
প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ। 
৩৬১.
তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চৌরাস্তা
  2. গ্রামছাড়া
  3. চন্দ্রমুখ
  4. ঝড়বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
গ্রামছাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রামছাড়া
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: গ্রামছাড়া।

•  সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা,
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া,
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।

অন্যদিকে,
• দ্বিগু কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ= চৌরাস্তা।
• উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ= চন্দ্রমুখ।
• দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ= ঝড়বৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩৬২.
কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
  1. মধুমাখা
  2. দেশান্তর
  3. প্রবচন
  4. চিনিপাতা
সঠিক উত্তর:
দেশান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশান্তর
ব্যাখ্যা

• অন্য দেশ = দেশান্তর - নিত্য সমাসের উদাহরণ। 

⇒ নিত্য সমাস :
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয় তাকে নিত্য সমাস বলে। অর্থাৎ যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- কেবল বলা = বলামাত্র। 

অন্য অপশনে,
- প্র যে বচন = প্রবচন - প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩৬৩.
দ্বিগু সমাসের ক্ষেত্রে-
  1. পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়
  2. পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায়
  3. উভয়পদের অর্থ প্রাধান্য পায়
  4. কোনো পদের অর্থ পাধান্য পায় না
সঠিক উত্তর:
পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার/সমষ্টি বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৪.
‘দম্পতি’ কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
দম্পতি = জায়া ও পতি।
এটি সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব সমাস।



উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।
৩৬৫.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ?
  1. চিরসুখী
  2. দশানন
  3. গায়েহলুদ
  4. কানাকানি
সঠিক উত্তর:
কানাকানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাকানি
ব্যাখ্যা
- যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:-
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।
 
এরূপ- চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৬.
'গৃহান্তর' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে:
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩৬৭.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. ঘানিরতেল
  2. শান্তশিষ্ট
  3. হাতেকাটা
  4. গোড়ায়গলদ
সঠিক উত্তর:
শান্তশিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তশিষ্ট
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলো- কর্ম + ধূ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।

যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ঘানি তেল = ঘানিরতেল,
- হাতে কাটা = হাতেকাটা,
- ঘি দিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা,
- কল দ্বারা ছাঁটা = কলেছাঁটা ,
- গোড়ায় গলদ = গোড়ায়গলদ,
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৮.
'মুখচন্দ্র' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

অন্যদিকে,
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- স্থির নয় যে = অস্থির,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৯.
তৎপুরুষ সমাসের কোন পদ প্রধান থাকে ?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয় পদ
  4. অন্য পদ
সঠিক উত্তর:
পরপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরপদ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূরবপদের বিভক্তি লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- রথকে দেখা = রথ দেখা।

অন্যদিকে,
- দ্বন্দ্ব সমাসের উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ [নবম দশম শ্রেণি]
৩৭০.
‘মুখভ্রষ্ট’- এটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

- বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে, 
- মুখ থেকে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। 

- সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 

- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ,
যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, 
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম -১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩৭১.
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. উপবন
  2. উপগ্রহ
  3. উপশহর
  4. উপকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
উপকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭২.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি? 
  1. ঋতুচক্র
  2. উর্ণাজাল
  3. কালসাপ
  4. জ্ঞানালোক
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
উর্ণাজাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্ণাজাল
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: 
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- আত্ম বিষয়ে যে স্বাতন্ত্র্য = আত্মস্বাতন্ত্র্য,
- উর্ণা নির্মিত জাল = উর্ণাজাল,
- কণ্টক সদৃশ শয্যায় যে শয়ন = কণ্টকশয়ন,
- কার্য সাধনের লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা = কার্যপরিকল্পনা,
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি।

এরকম:
অষ্টাদশ, ইগলপাখি, উটপাখি, উল্কাপিণ্ড, খড়িমাটি, পদ্মানদী, কলিযুগ, কাষ্ঠফলক, কুশপুতলিকা, প্রবালপ্রাচীর, পত্রপুট, লৌহপিঞ্জর, স্বর্ণালংকার, জলভাত, ডালভাত, দুধভাত, শিক্ষামন্ত্রী, পূর্ববিভাগ, খাল- মন্ত্রণালয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- ঋতু রূপ চক্র = ঋতুচক্র, 
- কাল (মৃত্যু) রূপ সাপ = কালসাপ,
- জ্ঞান রূপ আলোক = জ্ঞানালোক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৭৩.
'প্রবচন' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।

যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭৪.
'চিরসুখী' শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. চিরকালের সুখী
  2. চিরদিনের জন্য সুখী
  3. চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
  4. চির দিনের জন্য সুখী
সঠিক উত্তর:
চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী।

এরকম:
গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ - ২০১৯)।
৩৭৫.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. চতুষ্পদ
  2. ক্ষুৎপিপাসা
  3. আলুসিদ্ধ
  4. দুধভাত
সঠিক উত্তর:
ক্ষুৎপিপাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুৎপিপাসা
ব্যাখ্যা
•দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

অন্যদিকে,
• চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী; বহুব্রীহি সমাস।
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ; সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
• দুধ মিশ্রিত ভাত = দুধভাত; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭৬.
'জন্মাদ্ধ'- কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. যষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• 'জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ'- পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৭.
'মধুপ' যে সমাসের উদাহরণ-
  1. ক) ব্যতিহার বহুব্রীহি
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপমিত কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
গ) উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ।
এরূপ: ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার ইত্যাদি৷
তেমনি, মধু আহরণ করে যে = মধুপ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৩৭৮.
'গ্রামছাড়া' কোন ধরনের সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'গ্রামছাড়া' তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷

সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: 
যেমন:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ,
গোলায় ভরা = গোলাভরা,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)। 
৩৭৯.
"আসমুদ্রহিমাচল" - এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. সমুদ্র ও হিমাচল
  2. আসমুদ্র থেকে হিমাচল
  3. আসমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত
  4. সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

"আসমুদ্রহিমাচল" - এর সঠিক ব্যাসবাক্য - সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত।
--------------------
• অব্যয়ীভাব সমাস:

- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে ।
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন, 
জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় ‘আ’) = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

• সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

নিম্নে কিছু অব্যয়ীভাব সমাসের কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
• কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
• কূলের সমীপে = উপকূল।
• দিন দিন = প্রতি দিন,
• ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
• আমিষের অভাব = নিরামিষ,
• সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল,
• পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক,
• শহরের সদৃশ = উপশহর,
• গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ,
• বনের সদৃশ উপবন,
• রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
• বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮০.
নিচের কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. জলচর
  2. দুঃখপ্রাপ্ত
  3. ধর্মবুদ্ধি
  4. খাসমহল
সঠিক উত্তর:
ধর্মবুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মবুদ্ধি
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন।
[এখানে 'দশ' বা 'আনন' (অর্থাৎ মুখ) পদের অর্থ বোঝানো হয়নি। লঙ্কার রাজা রাবণের দশটি মাথা থাকায় তার নাম দশানন, এখানে মূলত 'দশ আনন যার' বলতে লঙ্কার রাজা রাবণকে বোঝানো হয়েছে।]

এরূপকিছু উদাহরণ হলো:
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি।
- দশহজ পরিমাণ যার = দশগজি।
- ধর্মে বুদ্ধি যার = ধর্মবুদ্ধি।
- নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ।
- চার পদ আছে যার = চতুষ্পদী।

অন্যদিকে,
• জলে চরে যা = জলচর; উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
• দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত; দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস। 
• খাস যে মহল = খাসমহল; কর্মধারয় সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮১.
'পণ্ডিতমূর্খ' পদটির ব্যাসবাক্য নিচের কোনটি?
  1. ক) পাণ্ডিত্যের দ্বারা যিনি মূর্খ
  2. খ) জ্ঞান থাকতেও যিনি মূর্খ
  3. গ) পাণ্ডিত্যে যিনি মূর্খ
  4. ঘ) পণ্ডিত হয়েও যিনি মূর্খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পণ্ডিত হয়েও যিনি মূর্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পণ্ডিত হয়েও যিনি মূর্খ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস :
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
নরাকারের পশু যে = নরপশু,
জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮২.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
  2. খ) মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ
  3. গ) কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল
  4. ঘ) জায়া ও পতি = দম্পতি
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
ব্যাখ্যা

সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন (মধ্যপদলােপী কর্মধারয়)।
কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয়)।
মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (সাধারণ কর্মধারয়)।
জায়া ও পতি = দম্পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)।

উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ 

৩৮৩.
‘অনাদর’ কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) নঞ তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
খ) নঞ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নঞ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
‘অনাদর’ নঞ তৎপুরুষ সমাস।
এর ব্যসাবাক্য = ন আদর।

নঞ তৎপুরুষ সমাস :
- পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
- বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়। যেমন- নয় কাতর = অকাতর, ন অশন = অনশন, নয় বুঝ নামঞ্জুর, নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৮৪.
‘জাদুকর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- ছায়া দ্বারা শীতল - ছায়াশীতল;
- ছাত্রদের জন্য আবাস - ছাত্রাবাস;
- মধু দিয়ে মাখা - মধুমাখা ইত্যাদি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে - নীলকর;
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮৫.
'পরাণপ্রিয়' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা: খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।
- সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।যেমন: স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো, জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত ইত্যাদি। এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।
- কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর' 'চেয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়। যথা- পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয়।

অন্যদিকে,
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৮৬.
কোনটি বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. জ্বিন-পরি
  2. মাসি-পিসি
  3. ছোট-বড়
  4. মা-বাপ
সঠিক উত্তর:
ছোট-বড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোট-বড়
ব্যাখ্যা
বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
- জমা-খরচ,
- আয়-ব্যয়,
- ছোট-বড়,
- লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- মা-বাপ,
- মাসি-পিসি,
- জ্বিন-পরি,
- চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮৭.
‘বজ্জাত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮৮.
নিচের কোনটি অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. একগুয়ে
  2. কানেখাটো
  3. চিরুনদাতি
  4. কাজলকালো
সঠিক উত্তর:
কানেখাটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানেখাটো
ব্যাখ্যা

• অলুক বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া।
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

----------------------
অন্যদিকে, 
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- এক গোঁ যার = একগুঁয়ে,
- লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী।
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি।
[ বাক্যে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লুপ্ত হয়ে বহুব্রীহি সমাস সৃষ্টি হয়েছে।]

• উপমান কর্মধারয় সমাস: যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮৯.
'ত্রিভুজ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) দ্বিগু সমাস
  3. গ) বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
'তিন ভুজের সমাহার= ত্রিভুজ'- দ্বিগু সমাসের উদাহরণ। 

দ্বিগু সমাস:
 
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন-
তিন মাথার সমাহার = তেমাথা, 
তিন ভুজের সমাহার = ত্রিভুজ, 
সপ্ত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি, 
পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি, 
পঞ্চ বটের সমাহার = পঞ্চবটী। 

[পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৯০.
'সিংহাসন' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
  4. নিমিত্তার্থে চতুর্থী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
ব্যাখ্যা

যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সিংহ চিহ্নিত আসন=সিংহাসন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।

৩৯১.
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে-
  1. বহুপদী দ্বন্দ্ব
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. অলুক তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ উপপদ তৎপুরুষ:
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়  তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে।
যেমন:
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী;
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য;
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯২.
'পঙ্কজ' কোন তৎপুরুষ নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. পঞ্চমী
  2. উপপদ
  3. অলুক
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
উপপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

অলুক তৎপুরুষ:
- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৩.
'দ্বীপ' কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণঃ
দু দিকে অপ যার = দ্বীপ
অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ
নরাকারে পশু যে = নরপশু
জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত
পন্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পন্ডিতমূর্খ

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৩৯৪.
'তপোবন' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
 
যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,
- বজ্রের সম = বজ্রসম,
- তপের নিমিত্তে বন = তপোবন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৫.
কোনটি রূপক কর্মধারায় সমাস নয়?
  1. ক) কালচক্র
  2. খ) প্রাণপ্রিয়
  3. গ) বিদ্যাধন
  4. ঘ) সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
‘সিংহাসন’ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস । এর ব্যাস কাব্য হচ্ছে- সিংহ চিহ্নিত যে আসন = সিংহাসন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩৯৬.
কোন সমাসের ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না?
  1. নিত্য সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. অলুক সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৯৭.
‘পশ্চাৎ’ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. অনুধাবন
  2. প্রতিবিম্ব
  3. প্রতিচ্ছায়া
  4. প্রতিকূল
সঠিক উত্তর:
অনুধাবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুধাবন
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে।
যেমন:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি): প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৮.
নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. উপনগরী
  2. বিরানব্বই
  3. উপমহাদেশ
  4. সমক্ষ
সঠিক উত্তর:
বিরানব্বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরানব্বই
ব্যাখ্যা

নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
→ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
→ কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
→ অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
→ (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
→ তুমি আমি ও সে = আমরা,
দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে,
অব্যয়ীভাব সমাস - নগরীর সমীপে = উপনগরী; অক্ষির সমীপে = সমক্ষ; ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৯.
'বনেবাদাড়ে' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারায় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কেটে ও ছিঁড়ে = কেটে-ছিঁড়ে;
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- ঘরে ও বাইরে = ঘরেবাইরে;
- তেলে ও বেগুনে = তেলেবেগুনে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে;
- পথে ও ঘাটে = পথেঘাটে;
- হাতে ও পায়ে = হাতে-পায়ে;
- বনে ও বাদাড়ে = বনেবাদাড়ে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪০০.
'দশানন’ কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) প্রাদি সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) দ্বন্দ সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমনঃ দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী