বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সমাস

মোট প্রশ্ন২,৫০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সমাস

PrepBank · পাতা ১৩ / ২৫ · ১,২০১১,৩০০ / ২,৫০১

১,২০১.
'পণ্ডিতমূর্খ' কোন সমাস?
  1. অলুক বহুব্রীহি
  2. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
  4. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।

যেমন:
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ,
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০২.
'খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।'- এখানে 'ঘুম'কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য 
  2. কর্তায় শূন্য
  3.  করণে শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য 
ব্যাখ্যা

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।

কর্মকারকের প্রকারভেদ
ক) সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
খ) প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
গ) সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি। [বাক্যে ঘুম কে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করেছে। সুতরাং 'ঘুম ' কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।]
ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম। যেমন- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না। 
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২০৩.
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. উপমেয়
  2. রূপক
  3. উপমান
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
উপমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২০৪.
'সিংহাসন' কোন সমাস?
  1. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
- প্রীতি সূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, 
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা ইত্যাদি।

• কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা,
- ঋষি যে কবি = ঋষিকবি  ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২০৫.
ব্যাসবাক্য অনুসারে বহুব্রীহি ও কর্মধারয় উভয় সমাস হয় কোনটি?
  1. দশানন
  2. গরমিল
  3. নীলকণ্ঠ
  4. পীতাম্বর
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পীতাম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পীতাম্বর
ব্যাখ্যা
• পীতাম্বর (কৃষ্ণ অর্থে) > পীত অম্বর যাঁর (বহুব্রীহি সমাস)। 

কিন্তু,
• পীতাম্বর (পীতবর্ণ বস্ত্র অর্থে) > পীত যে অম্বর (কর্মধারয় সমাস)।

অন্যদিকে, 
• গরমিল > মিল নেই যাতে (বহুব্রীহি সমাস)। 
• কিন্তু গরমিল > মিলের অভাব (নঞ তৎপুরুষ/অব্যয়ীভাব)।

• দশ আনন যার = দশানন (বহুব্রীহি সমাস)। 
• নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৬.
'পরাজয়' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• 'পরাজয়' - জয় থেকে দূরে,
- এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে।
যেমন:
মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
জেলার সদৃশ = উপজেলা।
ঈষৎ নত = আনত।
আমিষের অভাব = নিরামিষ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,২০৭.
'অর্থবছর' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. অর্থ রূপ বছর
  2. অর্থের বছর
  3. বছরের অর্থ
  4. অর্থ হিসাবের বছর
সঠিক উত্তর:
অর্থ হিসাবের বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থ হিসাবের বছর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ঘ) অর্থ হিসাবের বছর।

ব্যাখ্যা:
 'অর্থবছর' একটি মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস যার ব্যাসবাক্য হলো "অর্থ হিসাবের বছর"।

• মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২০৮.
কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রতিকূল
  2. প্রতিদিন
  3. পরিভ্রমণ
  4. গৃহান্তর
সঠিক উত্তর:
পরিভ্রমণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিভ্রমণ
ব্যাখ্যা

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।

এরূপ- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ অনুতাপ, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত, প্র
(প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
নিত্য সমাস - অন্য গৃহ = গৃহান্তর। 
অব্যয়ীভাব সমাস - বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল, দিন দিন = প্রতিদিন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২০৯.
"কে, জন্য, নিমিত্ত" ইত্যাদি কোন তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে ব্যবহৃত হয়?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ= ছাত্রসমাজ।
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস: না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৮. উপপদ তৎপুরুষ সমাস: যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২১০.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদহারণ কোনটি?
  1. প্রাণভয় 
  2. সিংহপুরুষ 
  3. শশব্যস্ত
  4. প্রাণপাখি
সঠিক উত্তর:
প্রাণভয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাণভয় 
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসের দুটো পদই বিশেষ্য হয়। যেমনঃ 
- পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ 
- আঁখি পদ্মের ন্যায়= পদ্মআঁখি
- মুখ চন্দ্রের ন্যায়= চন্দ্রমুখ

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক না একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস নামে পরিচিত।
যেমনঃ
প্রাণ হারানোর ভয় = প্রাণভয় 
জ্যোৎস্না বিধৌত রাত= জ্যোৎস্নারাত 
উর্ণা নির্মিত জাল = উর্ণাজাল
আয়ের ওপর কর = আয়কর
খেয়া পারাপারের ঘাট= খেয়াঘাট
ধর্ম রক্ষার্থে ঘট= ধর্মঘট
প্রীতি জনক ভোজ = প্রীতিভোজ

উপমান কর্মধারয়:

উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে। 
যেমনঃ
- কুসুমের ন্যায় কোমল= কুসুমকোমল
- রক্তের ন্যায় লাল= রক্তলাল
- শশের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- মিশির মতো কালো= মিশকালো

রূপক কর্মধারয় সমাস:
উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করে উপমান ও উপেময় পদের যে সমাস হয় তাকে রূপল কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমনঃ
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
-মন রূপ মাঝি= মনমাঝি
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি
- দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া
- শোক রূপ অনল= শোকানল

[উৎস:ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২১]]
 
১,২১১.
'জজ সাহেব' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যাক্তি বা বস্তুকে বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়।
জজ সাহেব=যিনি জজ তিনিই সাহেব।

উৎসঃবাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী
১,২১২.
'ফুলবাবু' কোন প্রকার কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. গ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
প্রত্যক্ষ বস্তুর সাথে পরােক্ষ বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয় বা উপমিত।
যেমন-
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ,
- চরণ কোমলের ন্যায় = চরণকোমল,
- অধর কোমলের ন্যায় = অর্ধকোমল,
- ফুল বাবুর ন্যায় = ফুলবাবু,
- ফুল কুমারীর ন্যায় = ফুলকুমারী,
- কর কমল সদৃশ =করকমল,
- পদ পল্লবের ন্যায় = পদপল্লব ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৩.
‘শান্তশিষ্ট’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয়
এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- যিনি মাস্টার তিনিই সাহেব = মাস্টার সাহেব।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা।
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,২১৪.
‘জন্মান্ধ’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৫.
অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. হাতঘরি
  2. আলুসিদ্ধ
  3. মাথায়পাগড়ি
  4. চতুর্ভুজ
সঠিক উত্তর:
মাথায়পাগড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথায়পাগড়ি
ব্যাখ্যা

• 'মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি' - অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 
--------------------
অলুক বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তির লোপ হয়না তাই অলুক বহুব্রীহি সমাস।
যেমন:
গায়ে এসে পড়ে যে - গায়ে পড়া।
মাথায় পাগড়ি যার - মাথায়পাগড়ি।

অন্যদিকে,
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘরি; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ; কর্মধারয় সমাস।
​সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস: চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২১৬.
"বজ্রকঠোর" কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- বজ্রের ন্যায় কঠোর = বজ্রকঠোর,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- স্থির নয় যে = অস্থির,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২১৭.
'বিস্ময়াপন্ন' সমস্ত পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) বিস্ময় দ্বারা আপন্ন
  2. খ) বিস্ময়ে আপন্ন
  3. গ) বিস্ময়কে আপন্ন
  4. ঘ) বিস্ময়ে যে আপন্ন
সঠিক উত্তর:
গ) বিস্ময়কে আপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিস্ময়কে আপন্ন
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,
- পরলোকে গত = পরলোকগত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী, পৃষ্ঠা নংঃ ৬৪
১,২১৮.
"বসতবাড়ি" শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠী
  2. তৃতীয়া
  3. পঞ্চমী
  4. চতুর্থী
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২১৯.
'ধামা ধরে যে = ধামাধরা' কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. উপপদ
  3. অলুক
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
উপপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।

যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে = নীলকর;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- ধামা ধরে যে = ধামাধরা;
- পকেট মারে যে = পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২২০.
‘কোলেপিঠে’ কী ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব 
  2. অলুক দ্বন্দ্ব 
  3. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব 
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- আদায় ও কাঁচকলায় = আদায়-কাঁচকলায়;
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- জলে ও স্থলে = জলেস্থলে;
- হাতে ও কলমে = হাতেকলমে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২২১.
কোনটি ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. হৃতসর্বস্ব
  2. খোশমেজাজ
  3. হতশ্রী
  4. কথাসর্বস্ব
সঠিক উত্তর:
কথাসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথাসর্বস্ব
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ
- এরকম: হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদবত, কমবত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১,২২২.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) চন্দ্রমুখ
  2. খ) তুষারশুভ্র
  3. গ) বিষাদসিন্ধু
  4. ঘ) সাহিত্যসভা
সঠিক উত্তর:
খ) তুষারশুভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা
'তুষারশুভ্র'- উপমান কর্মধারয় সমাস।
যথা: তুষারের ন্যায় শুভ্র= তুষারশুভ্র। 


• উপমান কর্মধারয় সমাস: উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাঁকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন: ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ= ভ্রমরকৃষ্ণকেশ, অরুণের ন্যায় রাঙা= অরুণরাঙা, কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।

তাছাড়া,
মুখচন্দ্র= মুখ চন্দ্রের ন্যায়; উপমিত কর্মধারয় সমাস।
বিষাদসিন্ধু= বিষাদ রূপ সিন্ধু; রূপক কর্মধারয় সমাস।
সাহিত্যসভা= সাহিত্য বিষয়ক সভা; মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১,২২৩.
'হাতেকলমে' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তির লোপ হয় না তাকে বলা হয় অলুক দ্বন্দ্ব।
যেমন-
- হাতে ও কলমে = হাতেকলমে,
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে,
- ধনে ও জনে = ধনেজনে,
- জলে ও স্থলে = জলেস্থলে,
- মায়ে ও ঝিয়ে = মায়ে-ঝিয়ে,
- ঘরে ও বাইরে = ঘরে-বাইরে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৪.
‘অহর্নিশ’ কী ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব
  2. বহুপদী দ্বন্দ্ব
  3. অলুক দ্বন্দ্ব
  4. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• ‘অহর্নিশ’ হলো নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস। 
---------------------------------
• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণ বা নিয়ম অনুসরণ করে না, তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলা হয়।
- অর্থাৎ, এই ধরনের সমাসে সমস্যমান পদগুলো স্বাধীনভাবে মিলিত হয়েছে এবং প্রচলিত বিভক্তি বা ব্যাকরণগত নিয়ম মানা হয়নি।
- উদাহরণ:
- অহর্নিশ = অহঃ ও নিশা;
- অহোরাত্র = অহঃ ও রাত্র;
- দিবারাত্র = দিবা ও রাত্রি;
- কুশীলব = কুশ ও লব।
---------------------------- 
অন্যদিকে, 
• বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস:
- বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন সমাস যেখানে দুই বা ততোধিক পদ মিলিত হয়ে একটি দ্বন্দ্ববাচক অর্থ প্রকাশ করে।
- এই ধরনের সমাসে প্রতিটি পদ স্বতন্ত্র থাকলেও একত্রিত হয়ে নতুন একপদ তৈরি করে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- তেল-নুন-লাকড়ি = তেল, নুন ও লকড়ি,
- নাক-কান-গলা = নাক, কান ও গলা,
- স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল = স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল।

অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- অলুক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা কোনো বিভক্তি লোপ পায় না।
- অর্থাৎ, প্রতিটি পদ তার ব্যাকরণগত রূপ ধরে থাকে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- দুধে-ভাতে = দুধে ও ভাতে,
- হাতে-কলমে = হাতে ও কলমে,
- ধীরেসুস্থে = ধীরে ও সুস্থে।

বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
- বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদ ও পরপদ বিপরীত বা বৈরী অর্থের শব্দ নিয়ে গঠিত হয়।
- এই ধরনের সমাসে প্রতিটি পদ স্বতন্ত্র অর্থ বহন করে, কিন্তু মিলিত হয়ে একটি দ্বন্দ্ববাচক অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণস্বরূপ:
- শত্রু-মিত্র = শত্রু ও মিত্র, 
- দা-কুমড়া = দা ও কুমড়া,
- অহি-নকুল = অহি ও নকুল। 

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২২৫.
‘দিগম্বর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন,
- চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
- পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার,
- দিগম্বর = দিক অম্বর যার,
- নীলাম্বর = নীল অম্বর যার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৬.
কোনটি প্রাদি সমাসের দৃষ্টান্ত নয়?
  1. অনুক্ষণ
  2. অনুতাপ
  3. প্রগতি
  4. প্রবচন
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিপ্‌সা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস = অনুক্ষণ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২২৭.
নিচের কোনটি যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. গজনীরাজ
  2. মাতৃসেবা
  3. খেয়াঘাট
  4. বিয়েপাগলা
সঠিক উত্তর:
বিয়েপাগলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়েপাগলা
ব্যাখ্যা
• বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।

-------------------------------
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৮.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. কমলমুখ
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. তুষারশুভ্র
  4. মনমাঝি
সঠিক উত্তর:
তুষারশুভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
কমল রূপ মুখ = কমলমুখ, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ এগুলো রূপক কর্মধারয় সমাস।
তুষারশুভ্র রুপক কর্মধারয় সমাস নয়। এটি উপমান কর্মধারয় সমাস যার ব্যাসবাক্যঃ তুষারের ন্যায় শুভ্র।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,২২৯.
নিত্য সমাস নয় কোনটি?
  1. গ্রামান্তর
  2. গৃহান্তর
  3. বিরানব্বই
  4. একচোখা
সঠিক উত্তর:
একচোখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একচোখা
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন: 
তুমি আমি ও সে - আমরা,
অন্য গ্রাম - গ্রামান্তর,
অন্য গৃহ- গৃহান্তর, 
দুই এবং নব্বই - বিরানব্বই।
- তেমনিভাবে, কালসাপ - নিত্য সমাসের উদাহরণ।

- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।

অন্যদিকে,
'একচোখা' প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১,২৩০.
‘আলুনি’ শব্দটি কোন সমাসের অন্তর্গত?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

যে সমাসে পূর্বপদ অব্যয় থাকে, উত্তরপদে সাধারনত বিশেষ্য থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ সাধারনত প্রধান হয়ে দেখায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
সাধারণত অব্যয়ীভাবে বীপ্সা, সামীপ্য, অনতিক্রম, অভাব, পর্যন্ত, অতিক্রান্ত, বরোধ, যোগ্যতা,সাদৃস্য, পশ্চাৎ প্রভৃতি অর্থে থাকে।
আলুনি = লুনের (লবণেরে) অভাব।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ডঃ সৌমিত্র শেখর।

১,২৩১.
"মৃগনয়না" শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- মৃগের ন্যায় নয়ন যার = মৃগনয়না,
- গজের ন্যায় আনন যার = গজানন। 
এরকম - ক্ষুরধার, মীনাক্ষী, স্বর্ণাভ, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৩২.
'চৌরাস্তা' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারায়
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. দ্বিগু
  4. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
ব্যাখ্যা

দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৩৩.
"যৌবন সূর্য” কোন সমাস ?
  1. ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
- এটির ব্যাসবাক্যে উপমেয় ও উপমান পদের মাঝে 'রূপ' শব্দটি অথবা 'ই' শব্দাংশটি ব্যবহৃত হয়।
যেমন: 'মন রূপ মাঝি - মনমাঝি'।

এখানে 'মন' উপমেয় ও 'মাঝি' উপমান।
কিন্তু এখানে তাদের কোন নির্দিষ্ট গুণের তুলনা করা হয়নি। মনকেই মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।

যৌবনসূর্য = যৌবন রূপ সূর্য।
ঋতুচক্র = ঋতু রূপ চক্র।
কালসাপ = কাল(মৃত্যু) রূপ সাপ।
পরানপাখি = পরান রূপ পাখি।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৩৪.
'আশীবিষ' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১,২৩৫.
'নির্ধন' শব্দটি কোন ধরণের সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
নির্ধন (বিশেষণ)
অর্থ:
- ধনশূন্য;
- ধনহীন;
- বিত্তহীন;
- দরিদ্র;
- গরিব।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) নিঃ+ধন; বহুব্রীহি সমাস}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,২৩৬.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চৌরাস্তা
  2. খ) চালাকচতুর
  3. গ) টাকমাথা
  4. ঘ) ঘিভাত
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘিভাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘিভাত
ব্যাখ্যা
- 'ঘিভাত' হচ্ছে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ের উদাহরণ।
- যেমন: ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, সেগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে।

ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত।
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি।
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই।
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

• অন্যান্য অপশন:
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা (দ্বিগু কর্মধারয়)।
 টাক যে মাথা = টাকমাথা (কর্মধারয় সমাস)।
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর (কর্মধারয় সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,২৩৭.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) জনাকীর্ণ
  2. খ) মাল্যদান
  3. গ) সংগীতাসর
  4. ঘ) অশ্বপদ
সঠিক উত্তর:
ক) জনাকীর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জনাকীর্ণ
ব্যাখ্যা
⇒ তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জন দ্বারা আকীর্ণ = জনাকীর্ণ;
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত;
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ;
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা;
- রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত;
- ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা;
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার;
- স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মালাকে দান = মাল্যদান দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
- সংগীতের জন্য আসর = সংগীতাসর  চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
- অশ্বের পদ = অশ্বপদ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৩৮.
'কলুর বলদ' কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) অব্যয়ীভাব সমাস
  4. ঘ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লেখিত ”কলুর বলদ” অলুক তৎপুরুষ সমাস।
অলুক তৎপুরুষ সমাস 
যে তৎপুরুষ সমাসের পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
» কুলুর বলদ = কলুর বলদ
» ঘোড়ার ডিম = ঘোড়ার ডিম
» গায়ে পড়া = গায়েপড়া
» সোনার বাংলা = সোনার বাংলা ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
১,২৩৯.
’বিদ্যাহীন’ কোন সমাস?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  3. ষষ্ঠী  তৎপুরুষ সমাস
  4. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা
মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।

উল্লেখ্য,
- উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা:
এক দ্বারা উন = একোন,
বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
পাঁচ দ্বারা কম  = পাঁচ কম।

এছাড়াও,
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
গাছে পাকা =  গাছপাকা,
দিবায় নিদ্রা =  দিবানিদ্রা।
এরূপ
বাকপটু, গোলাভরা, তালকানা, অকালমৃত্যু, বিশ্ববিখ্যাত, ভোজনপটু, দানবীর, বাক্সবন্দি, বস্তাপচা, রাতকানা, মনমরা ইত্যাদি।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
খাঁচা থেকে ছাড়া =  খাঁচাছাড়া,
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী  তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
চায়ের বাগান = চাবাগান,
রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,২৪০.
‘রূপান্তর’ কোন সমাস?
  1. ক) প্রাদি
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) নিত্য
  4. ঘ) সুপসুপা
সঠিক উত্তর:
গ) নিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিত্য
ব্যাখ্যা
রূপান্তর শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো ‘অন্য রূপ’।
এটি নিত্য সমাসের উদাহরণ।
সাধারণত শব্দের ‘অন্তর’ যুক্ত পদটি নিত্য সমাসের উদাহরণ হয়।
যে সমাসের ব্যাসবাক্য করার প্রয়োজন পড়ে না, সমাসবদ্ধ পদগুলো নিত্য অবস্থায় থাকে তাকে নিত্য সমাস বলে।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১,২৪১.
'দু কানকাটা' কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. খ) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
  4. ঘ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমনঃ দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ এবং পরপদ কোনটিই সাধারণত বিশেষণ না হয় (অন্যপদ) তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি বলে।
যেমন: বীণা পাণিতে যার= বীণাপাণি, শূল পাণিতে যার= শূলপাণি। 

পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন: দুই কান কাটা যার= দু কানকাটা, বোঁটা খসেছে যার= বোঁটাখসা।
অনুরুপভাবে,ছা পোষা যার = ছা পোষা; পা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি। 

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ। এছাড়া হতশ্রী, হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, নীলকন্ঠ ইত্যাদি।
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি: যে বহব্রীহি সমাস কোন নিয়মের অধীনে নয়।
যেমন: দু দিকে অপ যার= দ্বীপ, জীবিত থেকেও যে মৃত= জীবন্মৃত ইত্যাদি। 
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন: এক দিকে চোখ যার= একচোখা, ঘরের দিকে মুখ যার= ঘরমুখো। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
১,২৪২.
নিচের কোনটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. নদীমাতৃক
  2. খোশমেজাজ
  3. নীলকণ্ঠ
  4. পদ্মগন্ধি
সঠিক উত্তর:
নদীমাতৃক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীমাতৃক
ব্যাখ্যা
• নদীমাতৃক= নদী মাতা যার। এখানে নদী ও মাতা উভয়ই বিশেষ্য। তাই এটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:

- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা: আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ, কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব।
- পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন: দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা, বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা।
- অনুরূপভাবে ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পদ্মগন্ধি= পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার; খোশমেজাজ = খোশ মেজাজ যার এবং নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২৪৩.
’নীতিশাস্ত্র’ কোন প্রকার সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. অব্যয়ীভাব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• নীতি বিষয়ক শাস্ত্র = নীতিশাস্ত্র। মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা- 
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, 
সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, 
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।
নীতি বিষয়ক শাস্ত্র = নীতিশাস্ত্র।

উল্লেখ্য,
• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 

• কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ:
কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকার মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

১,২৪৪.
'বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা' এটি কোন সামস?
  1. ব্যতিহার সমাস
  2. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১,২৪৫.
'দ্বীপ' এর ব্যাস বাক্য-
  1. ক) চারদিকে জল যার
  2. খ) দুদিকে আবদ্ধ জল যার
  3. গ) দুদিকে অপ যার
  4. ঘ) দ্বীপের মত
সঠিক উত্তর:
গ) দুদিকে অপ যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুদিকে অপ যার
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
'দ্বীপ' এর ব্যাসবাক্য = দুই দিকে অপ(জল) যার। 

এছাড়াও,
দুই দিকে অপ(জল) যার = দ্বীপ,
অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
নরাকারের পশু যে = নরপশু,
জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪৬.
সমাহার বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে কী বলে?
  1. ক) দিগু
  2. খ) দ্বন্দ্ব
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
ক) দিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দিগু
ব্যাখ্যা
সমাহার বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের সমাসকে দিগু সমাস বলে। দিগু সমাসে সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়।
যেমনঃ তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী, পঞ্চ বটের সমাহার = পঞ্চবটী, পাঁচ সেরের সমাহার = পসুরি। এরূপ- চৌরাস্তা, ত্রিপদী, তেমাথা, অষ্টধাতু, চতুর্ভুজ, চতুরঙ্গ, ত্রিমোহনী ইত্যাদি।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,২৪৭.
কোনটি নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস?
  1. বেহেড
  2. অকাতর
  3. অনাচার
  4. বেতাল
সঠিক উত্তর:
বেহেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহেড
ব্যাখ্যা

নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে। নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার।

অন্যদিকে,
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যথা-
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
এরূপ – অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১,২৪৮.
সমাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) সমাস হলাে শব্দগঠনের সংযােজন প্রক্রিয়া।
  2. খ) সমাস ভাষাকে শ্রুতিমধুর করে।
  3. গ) সমাস শব্দের নতুন অর্থ প্রদান করে।
  4. ঘ) সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
গ) সমাস শব্দের নতুন অর্থ প্রদান করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমাস শব্দের নতুন অর্থ প্রদান করে।
ব্যাখ্যা
সমাসের প্রয়ােজনীয়তা 
বাংলা ব্যাকরণে রূপতত্ত্ব অংশে সমাস আলােচিত হয়েছে।
- শব্দগঠনের তিনটি প্রক্রিয়া সংযােজন, বিয়ােজন ও অর্থপরিবর্তন।
- এ তিনটির মধ্যে সমাস হলাে সংযােজন প্রক্রিয়ার অন্তর্গত।
- সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাস শব্দের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য হলাে একত্রে অবস্থান বা সংক্ষেপণ।
- সুতরাং ভাষায় সমাসের প্রধান কাজ হলাে শব্দ ও বাক্য সংক্ষিপ্তকরণ।
- সমাস ভাষাকে শ্রুতিমধুর করে।
- ভাষার অলঙ্করণ, গুণ সংযােজন ও পরিভাষা রচনার ক্ষেত্রে সমাসের প্রয়ােজনীয়তা বিদ্যমান।
- তাই বলা যায়, বাংলাভাষাকে সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর ও সাবলীল করার জন্য সমাসের ভূমিকা অপরিসীম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪৯.
'দর্শনমাত্র' কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে:
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,২৫০.
'ফুলকুমারী' সমস্তপদটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) ফুলের ন্যায় কুমারী
  2. খ) কুমারী ফুলের ন্যায়
  3. গ) ফুল রুপ কুমারী
  4. ঘ) কুমারী ফুল
সঠিক উত্তর:
খ) কুমারী ফুলের ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুমারী ফুলের ন্যায়
ব্যাখ্যা
'ফুলকুমারী' সমস্তপদটির সঠিক ব্যাসবাক্য কুমারী ফুলের ন্যায়। এটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। এরুপ আরো হলোঃ সিংহপুরুষ - পুরুষ সিংহের ন্যায়। চন্দ্রমুখ - মুখ চন্দ্রের ন্যায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,২৫১.
নিচের কোনটি মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. দা-কুমড়া
  2. বই-পুস্তক
  3. মাছ-ভাত
  4. ছোট-বড়
সঠিক উত্তর:
মাছ-ভাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ-ভাত
ব্যাখ্যা
মিলনার্থক দ্বন্দ্ব : 
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে একত্র বা মিলন বা সম্পর্ক বোঝায় তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
ছেলে ও মেয়ে = ছেলে-মেয়ে;
পিতা ও পুত্র = পিতা-পুত্র;
মাছ ও ভাত = মাছ-ভাত;
ভাই ও বোন = ভাই-বোন।

অন্যদিকে,
বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বৈরী অর্থ বা ভাব প্রকাশ করে, তাকে বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন-
অহি ও নকুল = অহি-নকুল;
দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া।

সমার্থক দ্বন্দ্ব:
একই জাতীয় বস্তুর সংযোগে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয়, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
হাট ও বাজার= হাট-বাজার;
বই ও পুস্তক = বই-পুস্তক;

বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
ছোট ও বড় = ছোট-বড়;
জমা ও খরচ = জমা-খরচ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৫২.
দুটি বিশেষণ পদে গঠিত কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. কাঁচকলা
  2. চালাকচতুর
  3. দুঃশাসন
  4. মহাত্মা
সঠিক উত্তর:
চালাকচতুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালাকচতুর
ব্যাখ্যা

• ​দুটি বিশেষণ পদে গঠিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ: চালাকচতুর।

​--------------------
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।
যেমন:
- ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী, 
​- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে কিছু উদাহরণ:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য):
কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

(বিশেষণ+ বিশেষণ):
যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
​যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচামিঠে)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৫৩.
“কাঁচামিঠা” কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
১,২৫৪.
অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) অহিনকুল
  2. খ) আমরা
  3. গ) উপকূল
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
গ) উপকূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপকূল
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। ঈষৎ রক্তিম= আরক্তিম, ঈষৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস। উপকূল = কূলের সমীপে, সামীপ্য(উপ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম- দশম শ্রেণির র্বোড বই
১,২৫৫.
কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বন্দ্ব
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
গোলাপ নামের ফুল= গোলাপফুল।

• দ্বন্দ্ব সমাস- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন-
'সোনা-রূপা' সমস্ত পদের ব্যাসবাক্য সোনা ও রূপা। 

• বহুব্রীহি সমাস- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন,
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।

• পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন : উপকূল = কূলের সমীপে, প্রতিদিন = দিন দিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫৬.
'মৎস্যগন্ধা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'গন্ধ' শব্দ স্থানে 'গন্ধি' বা গন্ধা' শব্দ যুক্ত হয়। 
যেমন: 
সুগন্ধ যার - সুগন্ধি।
পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার - পদ্মগন্ধি।
মৎস্যের ন্যায় গন্ধ যার - মৎস্যগন্ধা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
১,২৫৭.
'বীপ্সা' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. অনুক্ষণ
  2. অনুগমন
  3. অনুধাবন
  4. প্রত্যুত্তর
  5. প্রতিবিম্ব
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে।
যেমন:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন,
- পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি) : প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১,২৫৮.
'ছেলে-ভুলানো' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো, 
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- ধানের খেত = ধানখেত,
- পথের রাজা = রাজপথ, 
- গোলায় ভরা = গোলাভরা,
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 
- রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া,
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।

গ. কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
- যেমন গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৫৯.
'মাথায়পাগড়ি' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. উপপদ তৎপুরুষ
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে বলা হয় অলুক বহুব্রীহি সমাস। এ সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি,
মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত,
কানে খাটো যে = কানে-খাটো ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬০.
'সমাস' শব্দ গঠনের কোন প্রক্রিয়া?
  1. ক) সংযােজন
  2. খ) বিয়ােজন
  3. গ) অর্থপরিবর্তন
  4. ঘ) নতুন অর্থ গঠন
সঠিক উত্তর:
ক) সংযােজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংযােজন
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে রূপতত্ত্ব অংশে সমাস আলােচিত হয়েছে।
- শব্দগঠনের তিনটি প্রক্রিয়া সংযােজন, বিয়ােজন ও অর্থপরিবর্তন।
- এ তিনটির মধ্যে সমাস হলাে সংযােজন প্রক্রিয়ার অন্তর্গত।
- সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাস শব্দের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য হলাে একত্রে অবস্থান বা সংক্ষেপণ।
- সুতরাং ভাষায় সমাসের প্রধান কাজ হলাে শব্দ ও বাক্য সংক্ষিপ্তকরণ।
- সমাস ভাষাকে শ্রুতিমধুর করে।
- ভাষার অলঙ্করণ, গুণ সংযােজন ও পরিভাষা রচনার ক্ষেত্রে সমাসের প্রয়ােজনীয়তা বিদ্যমান।
- তাই বলা যায়, বাংলাভাষাকে সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর ও সাবলীল করার জন্য সমাসের ভূমিকা অপরিসীম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬১.
'সুন্দরলতা' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) সুন্দরীর লতা
  2. খ) সুন্দরী লতার ন্যায়
  3. গ) সুন্দর যে লতা
  4. ঘ) সুন্দরী যে লতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দরী যে লতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দরী যে লতা
ব্যাখ্যা
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬২.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) বাগদত্তা (বাগ দ্বারা দত্তা)
  2. খ) জীবনবীমা (জীবন রক্ষার বীমা)
  3. গ) গমনাগমন (গমন ও আগমন)
  4. ঘ) নদীমাতৃক (নদী মাতা যাৱ
সঠিক উত্তর:
ক) বাগদত্তা (বাগ দ্বারা দত্তা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাগদত্তা (বাগ দ্বারা দত্তা)
ব্যাখ্যা
বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা; তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 
• যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ ঘি দ্বারা ভাজা = ঘিভাজা, মন দ্বারা গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, মেঘ হতে মুক্ত = মেঘমুক্ত, ঘর হতে ছাড়া = ঘরছাড়া ইত্যাদি।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
- বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত,
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা,
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত, প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৩.
কয়টি সমাসের সাথে ‘অলুক’ কথাটি যুক্ত আছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
তিনটি সমাসের সাথে অলুক কথাটি আছে।
১) অলুক দ্বন্দ্বসমাস
২) অলুক তৎপুরুষসমাস
৩) অলুক বহুব্রীহি সমাস
১,২৬৪.
‘জীবনপ্রদীপ’ সমাসের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) জীবনের প্রদীপ
  2. খ) প্রদীপের মতো জীবন
  3. গ) প্রদীপ রূপ জীবন
  4. ঘ) জীবন রূপ প্রদীপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবন রূপ প্রদীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবন রূপ প্রদীপ
ব্যাখ্যা
জীবনপ্রদীপ একটি রূপক কর্মধারয় সমাস।
এর সঠিক ব্যাসবাক্য হলো ‘জীবন রূপ প্রদীপ'।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১,২৬৫.
‘হরবোলা’ কোন সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ক) উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমনঃ
জলে চরে যা = জলচর
জল দেয় যে = জলদ
মন হরণ করে যে - মনোহারিণী
তেমনি, মধু আহরণ করে যে = মধুপ
বিভিন্ন বুলি বলে যে = হরবোলা 
এছাড়াও গৃহস্থ, সত্যবাদী, পকেটমার, ছেলেধরা ইত্যাদি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১,২৬৬.
বহুব্রীহি সমাসে কোনপদ প্রাধান্য পায়?
  1. পর পদ 
  2. উভয় পদ
  3. পূর্বপদ 
  4. তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে।
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে।
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বা অর্থ বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- ব্রীহি মানে হচ্ছে ধান। 
- বহুব্রীহি সমাস আট প্রকারের হয়ে থাকে।
যথা:
- সমানাধিকরণ,
- ব্যাধিকরণ,
- মধ্যপদলোপী,
- প্রত্যয়ান্ত,
- ব্যতিহার,
- নঞর্থক,
- সংখ্যাবাচক এবং
- অলুক। 

এ ধরণের সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে, অন্য কোন তৃতীয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৬৭.
সমাসবদ্ধ শব্দ 'আনত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) সুপসুপা
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
অব্যয়ীভাব সমাস এর উদাহরণ:
ঈষৎ (আ):  ঈষৎ নত = আনত
                  অনুরূপভাবে, ঈষৎ রক্তিম = আরক্তিম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)
১,২৬৮.
নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. ক) একচোখা
  2. খ) দোনলা
  3. গ) সামীপ্য
  4. ঘ) ঊনপাজুরে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঊনপাজুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঊনপাজুরে
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস
যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।
- অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে উপসর্গ ও পরপদে বিশেষ্য থাকবে।
- অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত (কাছে), মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।

বিভিন্ন অর্থে  অব্যয়ীভাব সমাস ব্যবহৃত হয়। যেমন - 

সামীপ্য অর্থে (উপ) উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ :
কূলের সমীপে = উপকূল,
নগরীর সমীপে = উপনগরী,
শহরের সমীপে = উপশহর,
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ।

[অপশনে প্রদত্ত ‘ঊনপাঁজুরে’ শব্দটির পূর্বপদে বাংলা ‘ঊন’ উপসর্গ এবং পরপদে ‘পাঁজর’ বিশেষ্য পদযোগে গঠিত।  সুতরাং অব্যয়ীভাব সমাসের নিয়ম অনুসারে ‘ঊনপাঁজুরে’ অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৬৯.
আঁধার কৃষ্ণ কোন কর্মধারয় সমাস?
  1. মধ্যপদলাপী কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. রূপক কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কেনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলে উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।

যেমন:
- আঁধারের ন্যায় কৃষ্ণ = আঁধারকৃষ্ণ।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।

রূপক কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
কমল রূপ মুখ = কমলমুখ,
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৭০.
দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে হয়-
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
• নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, 
• শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, 
• কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা। 

কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়। 
যেমন: 
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। 
যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। 

২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তিকে বোঝালে। 
যেমন – যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,২৭১.
দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি কোন পদ হয়?
  1. বিশেষণ পদ
  2. বিশেষ্য পদ
  3. অব্যয় পদ
  4. সর্বনাম পদ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য পদ
ব্যাখ্যা

দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৭২.
নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. সহকর্মী
  2. রাজপথ
  3. ভ্রাতৃস্নেহ
  4. প্রতিবাদ
সঠিক উত্তর:
প্রতিবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিবাদ
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন: জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় ‘আ’) = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। নিচের উদাহরণগুলোতে অব্যয়ীভাব সমাসের অব্যয় পদটি বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হলো৷ 

১. সামীপ্য (উপ): কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল
২. বিপ্‌সা (অনু, প্রতি): দিন দিন = প্রতি দিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।
৩. অভাব (নিঃ = নির): আমিষের অভাব = নিরামিষ, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জলের অভাব=নির্জল, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ।
৪. পর্যন্ত (আ): সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল, পা থেকে মাথা পর্যন্ত আপাদমস্তক।
৫. সাদৃশ্য (উপ): শহরের সদৃশ = উপশহর, গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ, বনের সদৃশ উপবন।
৬. অনতিক্রম্যতা (যথা): রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য। এরূপ-যথাবিধি, যথাযোগ্য ইত্যাদি।
৭. অতিক্রান্ত (উৎ): বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল, শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
৮. বিরোধ (প্রতি): বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল। 
৯. পশ্চাৎ (অনু): পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন৷

অন্যদিকে, 
• বহুব্রীহি সমাসে ‘সমান' শব্দের স্থানে ‘স’ এবং ‘সহ’ হয়। যেমন: সমান কর্মী যে = সহকর্মী, সমান বর্ণ = সমবর্ণ, সমান উদর যাদের = সহোদর।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়। যেমন: পথের রাজা = রাজপথ, গজনীর রাজা = গজনীরাজ, রাজার পুত্র = রাজপুত্র, পিতার ধন = পিতৃধন, মাতার সেবা = মাতৃসেবা, ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ, পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,২৭৩.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. ক) রক্তলাল
  2. খ) কুসুমকোমল
  3. গ) ভবনদী
  4. ঘ) শশব্যস্ত
সঠিক উত্তর:
গ) ভবনদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভবনদী
ব্যাখ্যা
উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে। 
যেমনঃ
- কুসুমের ন্যায় কোমল= কুসুমকোমল
- রক্তের ন্যায় লাল= রক্তলাল
- শশের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- মিশির মতো কালো= মিশকালো
অপরদিকে,
- 'ভব রূপ নদী = ভবনদী' হলো রূপক কর্মধারয় সমাস। 


[উৎস:ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
১,২৭৪.
“শতাব্দী” কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিগু
ব্যাখ্যা
শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।
শতাব্দী দ্বিগু সমাসের উদাহরণ।
অনুরূপভাবে, ত্রিপদী, ত্রিফলা, পঞ্চবটী, পঞ্চভূত, তেমাথা এগুলোও দ্বিগু সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,২৭৫.
'রক্তলাল' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তালতমাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৭৬.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ঘিভাত
  2. ঘরছাড়া
  3. সিংহপুরুষ
  4. চৌরাস্তা
সঠিক উত্তর:
ঘিভাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘিভাত
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, সেগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে।

যেমন:
- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত, 
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি, 
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই, 
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা (দ্বিগু কর্মধারয়)।
- ঘর থেকে ছাড়া = ঘরছাড়া (পঞ্চমী তৎপুরুষ)।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ; উপমিত কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,২৭৭.
'দলছুট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদের পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি। লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। হতে, থেকে, চেয়ে- এসব পঞ্চমী বিভক্তির চিহ্ন।
যেমন:
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত ইত্যাদি,
- দল থেকে ছুট = দলছুট। 

এরকম-
কণ্ঠনিঃসৃত, দুখজাত, বোঁটাখসা, স্বর্গচ্যুত, ঋণমুক্ত, কারামুক্ত, কৃষিজাত, খাঁচাছাড়া, গদিচ্যুত, দলস্থাত, বৃত্তচ্যুত, লক্ষ্যচ্যুত, চাকভাঙা, জেলফেরত, দলছুট, পথভ্রষ্ট, বন্ধনমুক্ত, বিক্রয়লখ, বিদেশাগত, মেঘমুক্ত, শাপমুক্ত, রোগমুক্ত, স্কুলপালানো, স্নেহবঞ্চিত, হাতছাড়া ইত্যাদি।

সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহে, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর', 'চেয়ে' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৭৮.
'মৌমাছি' শব্দটি কোন কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- মৌ-সঞ্চয়কারী মাছি = মৌমাছি,
- আত্মলিখিত জীবনী = আত্মজীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৭৯.
‘মাথাপিছু’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নিত্য সমাস
  2. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. অলুক তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম - গ্রামান্তর;
- অন্য দেশ - দেশান্তর;
- কেবল দর্শন - দর্শনমাত্র;
- কেবল যাওয়া - যাওয়ামাত্র;
- এক জন - জনৈক;
- প্রতিমাথা - মাথাপিছু;
- ঈষৎ ঘোলা - ঘোলাটে;
- কেবল বলা - বলামাত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৮০.
“জজ সাহেব” কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
১,২৮১.
‘কর কমলের ন্যায়’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমান নির্দেশ করে?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
এ সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা;
- কর কমলের ন্যায় = করকমল;
- চন্দ্রের ন্যায় মুখ = চন্দ্রমুখ;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ।

অন্যদিকে,
• রূপক কর্মধারয় সমাস: 
উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এটির ব্যাসবাক্যে উপমেয় ও উপমান পদের মাঝে 'রূপ' শব্দটি অথবা 'ই' শব্দাংশটি ব্যবহৃত হয়।
যেমন: 'মন রূপ মাঝি = মনমাঝি'। এখানে 'মন' উপমেয় ও 'মাঝি' উপমান।
[কিন্তু এখানে তাদের কোন নির্দিষ্ট গুণের তুলনা করা হয়নি। মনকেই মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।]

এরূপ কিছু উদাহরণ হলো:
- যৌবন রূপ সূর্য = যৌবনসূর্য;
- ঋতু রূপ চক্র = ঋতুচক্র;
- কাল(মৃত্যু) রূপ সাপ = কালসাপ;
- পরান রূপ পাখি = পরানপাখি।

--------------------
• উপমান কর্মধারয়: 
সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস তা উপমান কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন:
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র;
- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা;
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ = ভ্রমরকৃষ্ণ। 

এছাড়াও,
অরুণরাঙা, শশব্যস্ত, কাজলকালো, দুগ্ধধবল ইত্যাদি এই ধরনের সমাস নিষ্পন্ন শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২৮২.
'শশব্যস্ত' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বন্দ্ব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

অন্যদিকে, 
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 যেমন: 
- ভাইবোন,
- তাল-তমাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৮৩.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) জলে-স্থলে
  2. খ) হাতে কলমে
  3. গ) গলায়গামছা
  4. ঘ) ঘিয়েভাজা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘিয়েভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘিয়েভাজা
ব্যাখ্যা

অলুক অর্থ হলো বিভক্তি লোপ পাবে না অর্থাৎ ব্যাসবাক্যে এবং সমস্ত পদে বিভক্তি বজায় থাকবে।

- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন: দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে।

- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন-  ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা, কলে ছাঁটা = কলেছাঁটা, কলের গান = কলেগান, গরুর গাড়ি = গরুগাড়ি ইত্যাদি।

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যথা- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি, গলায় গামছা যার = গলায়গামছা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৮৪.
'বেতনভোগী' কোন সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ
  3. গ) নঞ্ তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ক) উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন -
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে - জলদ ;
- পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ।

তেমনিভাবে, বেতন ভোগ করে যে = বেতনভোগী।

উৎসঃ ভাষাশিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।
১,২৮৫.
যে সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্ত পদের দ্বারা সমাহার বোঝায় তাকে বলে?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন -
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৮৬.
দ্বিগু সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চতুরঙ্গ
  2. ত্রিপদী
  3. ত্রিনয়ন
  4. ত্রিকাল
সঠিক উত্তর:
ত্রিনয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিনয়ন
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে প্রথম পদটি সংখ্যাবাচক হয় এবং পরপদটি হবে বিশেষ্য।
- সমস্তপদটি দ্বারা সমষ্টি বা সমাহার বোঝায় এবং সমস্তপদটি একটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন -
• তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা,
• নব (নয়) রত্নের সমাহার = নবরত্ন।

এরূপ - ত্রিকাল, ত্রিপদী, চতুরঙ্গ, ত্রিমোহিনী, সাতসমুদ্র।

অন্যদিকে,
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি = ত্রিনয়ন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৮৭.
কোনটি দ্বিগু কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. চৌচালা
  2. চৌরাস্তা
  3. তেপায়া
  4. দশগজি
সঠিক উত্তর:
চৌরাস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌরাস্তা
ব্যাখ্যা
দ্বিগু কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
যেমন -
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা, চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা

অন্যদিকে,
চৌচালা, তেপায়া, দশগজি = সংখ্যাবাচক বহুবীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৮৮.
মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) ভাই - বোন
  2. খ) চুন - কালি
  3. গ) আদান - প্রদান
  4. ঘ) লোক - জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোক - জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোক - জন
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে। 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ৷ 

• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে একত্র বা মিলন বা সম্পর্ক বোঝায় তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: মা-বাবা, ভাই - বোন, ছেলে-মেয়ে, নানা-দাদা, কাগজ-কলম, নদী-নালা, নাচ-গান, চা-বিস্কুট, চুন-কালি, ঝড়-বৃষ্টি, আদান-প্রদান, হাসি-ঠাট্টা, বিদ্যা-বুদ্ধি ইত্যাদি। 

• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ-পরপদ একই অর্থ বা প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: কাজ-কর্ম, রীতি-নীতি, সমাজ-সংস্কার, ঘর-বাড়ি, নদ-নদী, হাট-বাজার, বই-পুস্তক, চোর-ডাকাত, কুলি-মজুর, খাল- বিল, টাকা-কড়ি, ধন-দৌলত, জন-মানব, বন-জঙ্গল, বন্ধু-বান্ধব, ভাগ-বাটোয়ারা, চালাক-চতুর, লোক-জন, আপদ-বিপদ ইত্যাদি।

⇒ 'লোক-জন' মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয়। 
- এটি সমার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৮৯.
'ইন্দ্রজিৎ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপমিত কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ।

- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২৯০.
নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. অনন্ত
  2. অন্তরীপ
  3. অনুক্ষণ
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস - অনুক্ষণ।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন:
বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

অন্যদিকে,
- নঞ্‌ বহুব্রীহি - অনন্ত।
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - অন্তরীপ।
- প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২৯১.
'আমরণ' কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন জানু পর্যন্ত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় আ) লম্বিত = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমারণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,২৯২.
'বেতার' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নঞ্‌ তৎপুরুষ
  2. নঞ্‌ বহুব্রীহি
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
নঞ্‌ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্‌ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন -
→ ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
→ বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
→ না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
→ নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,

এরকম - নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, বেপরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯৩.
"চিনিপাতা" - কোন সমাস সাধিত শব্দ?
  1. কর্মধার‍য় সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে।

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ। যেমন-
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৯৪.
কর্মধারয় সমাসের বিপরীত সমাস কোনটি? 
  1. প্রাদি সমাস 
  2. দ্বন্দ্ব সমাস 
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বিগু সমাস 
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাসের বিপরীত হলো অব্যয়ীভাব সমাস।
- কারণ, কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, কিন্তু অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থ প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয়। 
-----------------------
কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয়।
- এটি বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ দ্বারা গঠিত হয় এবং সমস্তপদ সাধারণত কোনো গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘যে-সে’, ‘যিনি-তিনি’, ‘ন্যায়’, ‘মতো’, ‘রূপ’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়। 

- কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ নিম্নোক্ত কোনো একটি পদ্ধতিতে গঠিত হতে পারে:

• বিশেষ্য + বিশেষণ:
- পূর্বপদ বিশেষ্য ও পরপদ বিশেষণ দ্বারা গঠিত সমাস।
- সাধারণত কোনো ক্রিয়া বা গুণ বোঝায়।
- উদাহরণ: আলুসিদ্ধ, হলুদবাটা, নরাধম, মাছভাজা, চালভাজা, পটলভাজা, নরোত্তম, বেগুনপোড়া।

• বিশেষণ + বিশেষ্য:
- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য দ্বারা গঠিত সমাস।
- সাধারণত পরপদে মূল অর্থ প্রতীয়মান হয়।
- উদাহরণ: কাঁচকলা, মহানগর, কুশাসন, মহানবি, সুকীর্তি, খাসকামরা, সুখ্যাতি, মহাত্মা।

• বিশেষ্য + বিশেষ্য:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য।
- ব্যাসবাক্যে ‘যিনি-তিনি’ বা ‘যে-সে’ ধরনের অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: দাদাভাই, মৌলভিসাহেব, খোকাবাবু, খাঁসাহেব, গোলাপফুল, গুরুদেব, গিন্নিমা, দেবর্ষি।

• বিশেষণ + বিশেষণ:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষণ; সাধারণত গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- উদাহরণ: চালাকচতুর, সুস্থসবল, অম্লমধুর, কঠিনকোমল, কাঁচাপাকা, মিঠেকড়া, মোটাতাজা।
------------------------- 
অব্যয়ীভাব সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে কোনো অব্যয় (উপসর্গ বা অব্যয় পদ) বসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য বজায় রেখে নতুন অর্থ তৈরি করে, তাকেই অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- এই সমাসে অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে। 
- এবং এই সমাসে সাধারণত অভাব, যোগ্যতা, সাদৃশ্য, সীমা বা পৌনঃপুনিক অর্থ প্রকাশ পায়। 

- অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:

• পর্যন্ত অর্থে:
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ, 
- কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ,
- মাথা থেকে পা পর্যন্ত = আপাদমস্তক, 

• সামীপ্য (নৈকট্য) অর্থে:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠনগরের সমীপে = উপনগরী। 

• অভাব অর্থে:
- ভাতের অভাব = হাভাত,
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ,
- মিলের অভাব = গরমিল,
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন,
- লাজ (লজ্জা) নাই যার = নিলর্জ্জ। 

• পৌনঃপুনিকতা/বারবার) অর্থে:
- দিন দিন = প্রতিদিন,
- একে একে = প্রত্যেককে,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ,
- ঘরে ঘরে = প্রতিঘর

• অনতিক্রম্যতা অর্থে:
- বিধিকে অতিক্রম না করে = যথাবিধি, 
- শক্তিকে অতিক্রম না করে = যথাশক্তি। 

• সাদৃশ্য অর্থে:
- শহরের সদৃশ = উপশহর,
- বর্ণের সদৃশ = উপবর্ণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ);
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৯৫.
'রক্তলাল' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ 
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. রূপক কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

• রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
 যেমন- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৯৬.
প্রাদি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. প্রবচন
  2. উপবন
  3. অনুগমন
  4. অনুধাবন
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পশ্চাৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস = অনুগমন, অনুধাবন।
- সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস = উপবন। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯৭.
'বেসরকারি' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  2. খ) সাধারণ কর্মধারয়
  3. গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
'বেসরকারি' - নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস।

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমান হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গ ন, নি. বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

- নঞ্ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়। যেমন- নয় কাতর = অকাতর, ন অশন = অনশন, নয় বুঝ = অবুঝ, নয় সরকারি = বেসরকারি প্রভৃতি। তেমনই- নামঞ্জুর, নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক প্রভৃতি ।

পঞ্চমী তৎপুরুষ:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি অর্থাৎ 'হইতে/হতে, থেকে, চেয়ে' প্রভৃতি বিভক্তিচিহ্ন লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে । যেমন- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ। তেমনই— স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, রোগমুক্ত, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, নীতিভ্রষ্ট, ধর্মভীরু, দুগ্ধজাত, দলছাড়া, ঋণমুক্ত প্রভৃতি।

অব্যয়ীভাব:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যাতে অব্যয় পদের বা পূর্বপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন- মরণ পর্যন্ত = আমরণ, জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত ইত্যাদি ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন
১,২৯৮.
‘ছাত্রসমাজ’ শব্দটি কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) কর্মধারায়
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯)
১,২৯৯.
'বাগদত্তা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. অলুক কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পর পূর্বপদে বিদ্যমান দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতু্র্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী প্রভৃতি বিভক্তি লোপ পায় এবং সমস্তপদে পরপদের অর্থ প্রাধান্য লাভ করে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- কলাকে বেচা = কলাবেচা।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত। 
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ।
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত।
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা।
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য।
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন।
- বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত।
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা।
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩০০.
'তপোবন' কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'তপোবন' = তপস্যার নিমিত্তে যে বন।  
- এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• তপোবন (বিশেষ্য)- 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: 
- যে বনে মুনি ঋষিগণ তপস্যা করেন। 
- মুনি ঋষিদের আশ্রম। 

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লােপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা,
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ,
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি,
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য,
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।