বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সমাস

মোট প্রশ্ন২,৫০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সমাস

PrepBank · পাতা ১০ / ২৫ · ৯০১১,০০০ / ২,৫০১

৯০১.
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. উপনদী
  2. উপগ্রহ
  3. উপশহর
  4. উপকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
উপকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৯০২.
'সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য,
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯০৩.
কোনটি দ্বিগু সমাস?
  1. দশগজি
  2. চৌচালা
  3. দুআনি
  4. দশানন
সঠিক উত্তর:
দুআনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুআনি
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন, 
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ,
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি,
- দু আনার সমাহার = দুআনি ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
- দশ আনন আছে যার = দশানন, চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা এবং দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি - সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০৪.
'বিষাদসিন্ধু' কোন সমাস সাধিত শব্দ?
  1. ক) মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
⇒ যেসকল কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়। এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন –
- ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা

⇒ যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস
হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন –
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

⇒ যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

যেসকল কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলােকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯০৫.
‘বাস্তুহারা’ কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  5. ঙ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
খ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : জলে চড়ে যা - জলচর ; জল দেয় যে - জলদ ; পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ।

কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন : √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে) ; √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)

উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন : বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯০৬.
‘অকালপক্ব’ কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বুঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে সপ্তমী বিভক্তি লোপ পায়। ভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব, অকালপক্ব, কৃষিপ্রধান, ঘরপোড়া, গালভরা ইত্যাদি হলো সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯০৭.
'প্র যে হার' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. কর্মধারায় সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র যে হার = প্রহার;
- অতি (অতিক্রান্ত) মাত্রা = অতিমাত্র; 
- উৎ (ত্যক্ত) বাসু = উদ্বাস্থ;
- উৎ (উৎক্রান্ত) বেলা = উদ্বেল;
- উৎ যে শ্বাস = উচ্ছ্বাস;
- উৎ (উন্নত) কণ্ঠিত = উৎকণ্ঠিত;
- প্র (প্রকৃষ্ট) গতি = প্রগতি;
- প্র (প্রকৃষ্ট) ভাত = প্রভাত;
- প্রতি যে হিংসা = প্রতিহিংসা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯০৮.
সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয় কোনটি? 
  1. মৃগশিশু
  2. জলমগ্ন 
  3. উপলখণ্ড
  4. জীবনসঞ্চার 
সঠিক উত্তর:
জলমগ্ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলমগ্ন 
ব্যাখ্যা

সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয়- জলমগ্ন।  
----------------------- 
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস:
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি (য, এর) লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে প্রকাশ পায়।
- এটি মূলত সম্বন্ধ পদ তৈরি করে।
- এই সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে যৌক্তিক বা সম্পর্কসূচক অর্থ থাকে।

- উদাহরণস্বরূপ:
চা-বাগান = চায়ের বাগান,
রাজহংস = হংসের রাজা,
মৃগশিশু = মৃগের শিশু, 
উপলখণ্ড = উপলের খণ্ড, 
জীবনসঞ্চার = জীবনের সঞ্চার, 
কবিগুরু = কবিদের গুরু, 
গৃহকর্ত্রী = গৃহের কর্ত্রী, 
মার্তণ্ডপ্রায় = মার্তণ্ডের প্রায়, 
পুষ্পসৌরভ = পুষ্পের সৌরভ, 
পূর্বাহ্ণ = অহ্নের পূর্বভাগ, 
বনস্পতি = বনের পতি, 
গণতন্ত্র = জনগণের তন্ত্র, 
রাজদণ্ড = রাজের দণ্ড, 
রাজপথ = পথের রাজা, 
পুষ্পাঞ্জলি = পুষ্পের অঞ্জলি, 
পৌরসভা = পৌরদের সভা।
-----------------------
অন্যদিকে,
জলমগ্ন (জলে মগ্ন) সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস। 

- সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (যেমন – এ, য়, তে) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এই সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, পূর্বপদকে “কোথায়, কখন, কীসে দ্বারা” প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে তাই সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। 
- উদাহরণস্বরূপ:
- গাছপাকা = গাছে পাকা,
- মাথাব্যথা = মাথায় ব্যথা,
- বনভোজন = বনে ভোজন,
- রথারোহণ = রথে আহোরণ,
- তমাসাচ্ছন্ন = তমসায় আচ্ছন্ন,
- সলিলসমাধি = সলিলে সমাধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯০৯.
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. খোশমেজাজ
  2. কথাসর্বস্ব
  3. দোমনা
  4. হৃতসর্বস্ব
সঠিক উত্তর:
কথাসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথাসর্বস্ব
ব্যাখ্যা

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস: 
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। 
যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ।

অন্যদিকে,
- 'হৃতসর্বস্ব' ও খোশমেজাজ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- 'দোমনা' প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৯১০.
পূর্ব পদে উপসর্গ বসে যে সমাস হয়, তাকে বলে-
  1. অলুক সমাস
  2. রূপক সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎপ্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯১১.
‘উদ্বেল’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. অব্যয়ীভাব
  3. নিত্য সমাস
  4. বহুব্রীহি
  5. কোনোটিই
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯১২.
‘সিংহাসন’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. সিংহের আসান
  2. সিংহ আসন যার
  3. সিংহের আসন যা
  4. সিংহ চিহ্নিত আসন
সঠিক উত্তর:
সিংহ চিহ্নিত আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিংহ চিহ্নিত আসন
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

এরূপ, সাহিত্যসভা, গোবর গণেশ, সংবাদপত্র ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯১৩.
'জজ-সাহেব' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন - যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
৩. কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন – আগে ধোয়া পরে মোছা ধোয়ামোছা।
৪. পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
৫. বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন – মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
৬. পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন- কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।
৭. পরপদে 'রাজা' শব্দ থাকলে কর্মধারয় সমাসে 'রাজ' হয়। যেমন মহান যে রাজা = মহারাজ।
৮. বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষণ পরে আসে, বিশেষ্য আগে যায়। যেমন-সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ, অধম যে নর = নরাধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯১৪.
‘ঋণমুক্ত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

⇒ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৫.
প্রাতিপদিক হচ্ছে-
  1. ক) বিভক্তিহীন নাম শব্দ
  2. খ) তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি
  3. গ) নাম প্রকৃতি
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে ‘নাম প্রকৃতি’ ও বলা হয়ে থাকে। ধাতু যেমন কৃৎ প্রত্যয়ের প্রকৃতি তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯১৬.
কোন সমাসবদ্ধ পদটি দ্বিগু সমাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেশান্তর
  2. গ্রামান্তর
  3. তেপান্তর
  4. দর্শনমাত্র
সঠিক উত্তর:
তেপান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেপান্তর
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।

যেমন:
- তিন প্রান্তরের সমাহার = তেপান্তর,
- তিন পদের সমাহার = ত্রিপদী,
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অন্য দেশ = দেশান্তর, অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, এবং কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র নিত্য সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯১৭.
(কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপ পেয়ে কোন সমাস হয়?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন- 
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি।

অন্যদিকে,
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯১৮.
‘চিনির বলদ’ কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
- চোখের বালি = চোখের বালি।
- সোনার তরী = সোনার তরী।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- চিনির বলদ = চিনির বলদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৯.
'খাসমহল' কোন প্রকার সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়  তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
ক্ষুধিত-পাষাণ =ক্ষুধিত যে পাষাণ
অক্ষয়কীর্তি = অক্ষয় যে কীর্তি
অর্ধপথ = অর্ধ যে পথ 
খাসমহল = খাস যে মহল 
নবান্ন = নব যে অন্ন 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ
৯২০.
নিচের কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসে নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. সিংহাসন
  2. চৌরাস্তা
  3. কোলাকুলি
  4. বীণাপানি
সঠিক উত্তর:
কোলাকুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলাকুলি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং পরপদে 'ই' যুক্ত হয়।
যেমন: হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
এরূপ- চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২১.
‘দলছাড়া’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ৩য়া তৎপুরুষ
  2. ৪র্থী তৎপুরুষ
  3. ৫মী তৎপুরুষ
  4. ৭মী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
৫মী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫মী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া,
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ,
- দল থেকে ছাড়া = দলছাড়া,
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯২২.
নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) পকেটমার
  2. খ) চাবাগান
  3. গ) বেহায়া
  4. ঘ) ভোজন পটু
সঠিক উত্তর:
গ) বেহায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বেহায়া
ব্যাখ্যা
না বাচক নঞ অব্যয় ( না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাঁকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন:
নয় সুখ = অসুখ
নয় উচিত = অনুচিত 
নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস 
নেই মিল = অমিল 
নেই হায়া = বেহায়া ইত্যাদি। 

পকেট মারে যে = পকেটমার = উপপদ তৎপুরুষ সমাস। 
চায়ের বাগান = চাবাগান = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
ভোজনে পটু = ভোজন পটু = সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৩.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. সিংহাসন
  2. গাছপাকা
  3. মাতাপিতা
  4. রাজপথ
সঠিক উত্তর:
মাতাপিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতাপিতা
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তাল-তমাল,
- ভালোমন্দ,
- মাতাপিতা,
- যাকে-তাকে ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'রাজপথ' (পথের রাজা) ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
- 'গাছপাকা' (গাছে পাকা) ৭মী তৎপুরুষ সমাস।
- 'সিংহাসন' (সিংহ চিহ্নিত আসন) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯২৪.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. পদ্মআঁখি
  2. চন্দ্রমুখ
  3. মনমাঝি
  4. কাজলকালো
সঠিক উত্তর:
কাজলকালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলকালো
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)

৯২৫.
'রোগমুক্ত' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি 
  3. তৎপুরুষ
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়, 
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত,
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯২৬.
'জলদ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯২৭.
কোনটি নিত্য সমাসের সমস্ত পদ?
  1. ক) নরপশু
  2. খ) মনমাঝি
  3. গ) গ্রামান্তর
  4. ঘ) উপনদী
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রামান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রামান্তর
ব্যাখ্যা
যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা এক সঙ্গে থাকে এবং ব্যাসবাক্য হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- তবে নিত্য সমাস কোন স্বতন্ত্র সমাস নয়। ব্যাসবাক্য না থাকলে অন্য শ্রেণীর সমাসকেও নিত্য সমাস বলে।
উদাহরণ:
গ্রামান্তর = অন্যগ্রাম,
আমরা = সে, তুমি ও আমি,
দর্শনমাত্র = কেবল দর্শন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৮.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস?
  1. জীবন্মৃত
  2. অজ্ঞান
  3. বিড়ালচোখী
  4. একচোখা
সঠিক উত্তর:
জীবন্মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন্মৃত
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
কোনো নিয়মের অধীনে নয় বা কোনো নিয়ম মেনে গঠিত হয় না এমন সমাসকে নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন:
- দু দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• নঞ বহুব্রীহি:
বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নং (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে। নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। 

• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
যথা-
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও),
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)।

এরকম- দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২৯.
'মাথায়পাগড়ি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'মাথায় পাগড়ি যার - মাথায়পাগড়ি' - অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 
-------------------- 
• অলুক বহুব্রীহি:

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তির লোপ হয়না তাই অলুক বহুব্রীহি সমাস।
যেমন:
গায়ে এসে পড়ে যে - গায়ে পড়া। 
মাথায় পাগড়ি যার - মাথায়পাগড়ি। 

অন্যদিকে, 
ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ এবং পরপদ কোনটিই সাধারণত বিশেষণ না হয় (অন্যপদ) তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
বীণা পাণিতে যার - বীণাপাণি, শূল পাণিতে যার - শূলপাণি। 

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন –
খোশ মেজাজ যার - খোশমেজাজ। এছাড়া হতশ্রী, হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, নীলকন্ঠ ইত্যাদি।


মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন –
এক দিকে চোখ যার- 'একচোখা, চিরুনির মতো দাঁত যার - চিরুনদাঁতি, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে - হাতেখড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৩০.
'কালচক্র' - এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. কালের চক্র
  2. কাল রূপ চক্র
  3. কাল হতে চক্র
  4. কালের ন্যায় চক্র
সঠিক উত্তর:
কাল রূপ চক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাল রূপ চক্র
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯)।

৯৩১.
উপমান কর্মধারয় সমাস এর সঠিক উদাহরণ কোনটি?
  1. চাঁদমুখ
  2. তুষারশুভ্র
  3. সিংহপুরুষ
  4. মুখচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
তুষারশুভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র।

অন্যদিকে, 
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- চাঁদের মতো মুখ/চাঁদের ন্যায় মুখ = চাঁদমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৯৩২.
‘অঘাট’ কোন সমাস উদাহরণ ?
  1. ক) অব্যয়ীভাব সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার।না বাচক নঞ অব্যয় ( না, নেই, নাই, নয়) পূবে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞতৎপুরুষ সমাস বলে। ন ঘাট = অঘাট নঞ তৎপুরুষ সমাস। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৯৩৩.
নিচের কোনটি দ্বিগু সমাস?
  1. অন্তর্দ্বন্দ্ব
  2. নবরত্ন
  3. গণপতি
  4. নবীনবরণ
সঠিক উত্তর:
নবরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবরত্ন
ব্যাখ্যা

• দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পঞ্চ ঋষির সমাহার= পঞ্চর্ষি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

অন্যদিকে, 
অন্তরের দ্বন্দ্ব = অন্তর্দ্বন্দ্ব; 
গণের পতি = গণপতি;
নবীনদের বরণ = নবীনবরণ; 
[ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৩৪.
'অন্তরীপ' সমাসটির ব্যাসবাক্য নির্ণয় করুন।
  1. ক) অন্তে রীপ যার
  2. খ) অন্তে অপ যার
  3. গ) অন্তর্গত অপ যার
  4. ঘ) অনন্ত অপ যার
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তর্গত অপ যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তর্গত অপ যার
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ (কোনাে নিয়মের অধীনে নয়) বহুব্রীহি:
- দু দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী

৯৩৫.
'সুন্দরলতা' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
যথা:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে।
যেমন: যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।

২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে।
যেমন: যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

৩. কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন:  আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।

৪. পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন:
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা;
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

৫. বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়।
যেমন:
- মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান;
- মহান যে নবি = মহানবি।

৬. পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়।
যেমন:
- কু যে অর্থ = কদর্থ;
- কু যে আচার = কদাচার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯৩৬.
'স্কুলপালানো' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
স্কুলপালানো = স্কুল হতে পালানো পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ৷
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - খাঁচাছাড়া, বিলাতফেরত, জেলমুক্ত, ঋণমুক্ত, পরাণপ্রিয় ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি
৯৩৭.
'নির্জল' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• 'নির্জল' = জলের অভাব - অব্যয়ীভাব সমাস।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিস্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
- মিলের অভাব = গরমিল,
- জলের অভাব = নির্জল, 
- ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা,
- আমিষের অভাব = নিরামিষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৩৮.
নিচের কোনটি অলুক বহুব্রীহি নয়?
  1. ক) গায়ে-হলুদ
  2. খ) মুখেভাত
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) বিড়ালাক্ষী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিড়ালাক্ষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিড়ালাক্ষী
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব ও পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- মাথায়পাগড়ি = মাথায় পাগড়ি যার,
- গলায়গামছা = গলায় গামছা যার,
- মুখেভাত = মুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে,
- হাতেখড়ি = হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে,
- গায়েহলুদ = গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯৩৯.
"সুহৃদ; সুবুদ্ধি" কোন ধরনের সমাস?
  1. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  2. ব্যতিহার বহুব্রীহি
  3. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

⇒ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সুন্দর হৃদয় যার = সুহৃদ;
- সু বুদ্ধি যার = সুবুদ্ধি;
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী ইত্যাদি।

[এখানে সুন্দর ও ‘সু’ পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য। উভয়ে মিলে এই সমাস গঠিত হয়েছে বলেই একে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়।]

অন্যদিকে,
ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য সংগঠিত হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক প্রকাশ করলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, পূর্বপদ বিশেষণ না হয়ে অন্যপদ হলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বীণা পাণিতে যার= বীণাপাণি।
[এখানে বীণা (বাদ্যযন্ত্র) বা পাণি (হাত) উভয়ই বিশেষ্যপদ।]

⇒ ব্যতিহার বহুব্রীহি:
একই জাতীয় বিশেষ্যপদ পরপর বসে একই কাজের একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া বোঝালে তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি;
[হাত শব্দের পুনঃ ব্যবহার করে একটি কর্মপ্রক্রিয়াকে উপস্থাপন করা হয়েছে।]

তেমনই- কোলাকুলি, চোখাচোখি, ফাটাফাটি, টানাটানি, বকাবকি, হাসাহাসি, লাঠালাঠি, গালাগালি, চুলাচুলি, কানাকানি ইত্যাদি।

⇒ প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পরে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে সমাস তৈরি হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- এক দিকে চোখ যার = একচোখ + আ = একচোখা,
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখ + ও = ঘরমুখো,
- দুই দিকে যার মন = দো + মন + আ = দোমনা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৯৪০.
'নির্বিঘ্ন' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) অব্যয়ীভাব সমাস
  4. ঘ) নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

যেমন:
- নির্বিঘ্ন = বিঘ্নের অভাব, 
- নিরামিষ = আমিষের অভাব, 
- গরমিল = মিলের অভাব,  
- জানু পর্যন্ত লম্বিত ('পর্যন্ত' শব্দের অব্যয় 'আ')= আজানুলম্বিত (বাহু),

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববদ্যালয়। 
৯৪১.
নিচের কোনটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. সেচনকলস
  2. লোকভয়
  3. পথভ্রষ্ট
  4. ভদ্রেতর
সঠিক উত্তর:
সেচনকলস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেচনকলস
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়- সেচনকলস। 
------------------------------- 
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পঞ্চমী তৎপুরুষ বা অপাদান তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (যেমন – হতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এই সমাসে পূর্বপদ “কোথা থেকে, কী থেকে, কার থেকে” ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে এবং পরপদ মূল অর্থ বহন করে।
- সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, ভ্রষ্ট বা পালানো বোঝানো হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।

- উদাহরণসমূহ:
লোকভয় = লোক হতে ভয়, 
পথভ্রষ্ট = পথ হতে ভ্রষ্ট, 
ভদ্রেতর = ভদ্র হতে ইতর, 
মেঘমুক্ত = মেঘ হতে মুক্ত, 
জেলমুক্ত = জেল হতে মুক্ত, 
ঝণমুক্ত = ঝণ হতে মুক্ত, 
সত্যভ্রষ্ট = সত্য থেকে ভ্রষ্ট, 
রোগমুক্ত = রোগ হতে মুক্ত, 
দলছুট = দল থেকে ছুট, 
বৃক্ষচ্যুত = বৃক্ষ হতে চ্যুত,
লক্ষ্যচ্যুত = লক্ষ্য হতে চ্যুত। 

- টেকনিক:
- পরপদে ‘ভ্রষ্ট’, ‘মুক্ত’, ‘চ্যুত’, ‘ভয়’, ‘ছুট’ বা সমজাতীয় শব্দ থাকলে তা পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- সেচনকলস- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস। 

- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস:
- চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (যেমন – কে, জন্য, নিমিত্ত) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এ ধরনের সমাসে সমস্তপদ দ্বারা পরপদ মূলত পূর্বপদের জন্য বা উদ্দেশ্যে বোঝায়। 

- উদাহরণসমূহ:
সেচনকলস = সেচনের নিমিত্তে কলস,
রান্নাঘর = রান্নার জন্য ঘর,
বসতবাটি = বসতের নিমিত্তে বাটি,
তপোবন = তপের নিমিত্তে বন,
ডাকমাশুল = ডাকের নিমিত্ত মাশুল,
দেশপ্রীতি = দেশের জন্য প্রীতি,
পাঠাগার = পাঠের জন্য আগার,
দেবভক্ত = দেবকে ভক্তি,
ডাকঘর = ডাকের নিমিত্ত ঘর,
মুক্তিযুদ্ধ = মুক্তির জন্য যুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৪২.
'চৌচালা' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. কর্মধারায় সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- দশ আনন যার = দশানন,
- সমান বর্ণ যার = সমবর্ণ,
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি।

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য, সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা,
- দুটি নল যার = দোনলা,
- চার চাল যে ঘরের = চৌচালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৪৩.
‘চন্দ্রমুখ’ এর সঠিক ব্যাসবাক্য হলো-
  1. চন্দ্র মুখের ন্যায়
  2. মুখ চন্দ্রের ন্যায়
  3. চন্দ্র মুখ যার
  4. চন্দ্র রূপ মুখ
সঠিক উত্তর:
মুখ চন্দ্রের ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখ চন্দ্রের ন্যায়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৪৪.
কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. কালসাপ
  2. প্রবচন
  3. ঘরমুখো
  4. আপাদমস্তক
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'কালসাপ' নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- 'ঘরমুখো' প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- পর্যন্ত অর্থে - অব্যয়ীভাব সমাস = আপাদমস্তক ( পা থেকে মাথা পর্যন্ত)।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৪৫.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ইন্দ্রজিৎ
  2. একরোখা
  3. কালান্তর
  4. ইহকাল
সঠিক উত্তর:
ইহকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহকাল
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: 
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
- ইহ যে কাল = ইহকাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৪৬.
'আপাদমস্তক' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি
  2. তৎপুরুষ 
  3. কর্মধারয় 
  4. অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন, 
- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় ‘আ’) = আজানুলম্বিত (বাহু),
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

• সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

নিচে কিছু অব্যয়ীভাব সমাসের কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
• কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
• কূলের সমীপে = উপকূল।
• দিন দিন = প্রতি দিন,
• ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
• আমিষের অভাব = নিরামিষ,
• সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল,
• পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক,
• শহরের সদৃশ = উপশহর,
• গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ,
• বনের সদৃশ উপবন,
• রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
• বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯৪৭.
নিচের কোনটি প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. কেশাকেশি
  2. ঘরমুখো
  3. বদরাগী
  4. কালােবরণ
সঠিক উত্তর:
ঘরমুখো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরমুখো
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পরে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে সমাস তৈরি হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- উন (দুর্বল) পাঁজর যার - উনপাঁজুরে।
- এক দিকে চোখ যার - একচোখা। 
- ঘরের দিকে মুখ যার - ঘরমুখো। 
- দুই দিকে যার মন - দোমনা ইত্যাদি।

এরূপ-দোটানা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------------
• ব্যতিহার বহুব্রীহি:
একই জাতীয় বিশেষ্যপদ পরপর বসে একই কাজের একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া বোঝালে তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি।
[হাত শব্দের পুনঃ ব্যবহার করে একটি কর্মপ্রক্রিয়াকে উপস্থাপন করা হয়েছে।]

- কেশে কেশে ধরে যে যুদ্ধ = কেশাকেশি

তেমনই- কোলাকুলি, চোখাচোখি, ফাটাফাটি, টানাটানি, বকাবকি, হাসাহাসি, লাঠালাঠি, গালাগালি, চুলাচুলি, কানাকানি ইত্যাদি।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী। 
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ। 
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে। 
- সমান উদর যার = সহোদর। 
- বদ রাগ যার = বদরাগী। 
- সুন্দর বর্ণ যার = সুবর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ;প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৪৮.
বহু ব্রীহি আছে যার = বহুব্রীহি। এখানে, 'ব্রীহি' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) চাল
  2. খ) ধান
  3. গ) গম
  4. ঘ) ভূট্টা
সঠিক উত্তর:
খ) ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধান
ব্যাখ্যা
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি। এখানে বহু কিংবা ব্রীহি কোনটিরই অর্থের প্রধান্য নেই, বরং যার বহু ধান আছে এরূপ লোককে বোঝাচ্ছে।
এরূপ কতগুলো বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ হচ্ছে- ঊর্ণনাভ, পদ্মনাভ, সহোদর, নদীমাতৃক, কমলাক্ষ ইত্যাদি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৯৪৯.
কোন শব্দটি তৎপুরুষ শব্দ?
  1. ক) কালি-কলম
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) দশানন
  4. ঘ) মাতাপিতা
সঠিক উত্তর:
খ) মধুমাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধুমাখা
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসঃ
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা,
রব(শব্দ) দ্বারা আহুত(ডাকা হয়েছে এমন) =রবাহুত,
রক্ত দ্বারা অক্ত(মাখানো)=রক্তাক্ত।

ক) উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা-
এক দ্বারা উন = একোন,
বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

খ) উপকরণবাচক বিশেষ্য পদ পূর্বপদে বসলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা- স্বর্ণ দ্বারা মণ্ডিত = স্বর্ণমণ্ডিত। এরূপ-হীরকখচিত, চন্দনচর্চিত, রত্নশোভিত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫০.
‘অকাতর’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. নঞ্ তৎপুরুষ
  2. অলুক দ্বন্দ্ব
  3. অব্যয়ীভাব
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
নঞ্ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়।
যেমন:
- নয় উক্ত = অনুক্ত,
- নয় কাতর = অকাতর,
- নয় বুঝ = অবুঝ,
- নয় সরকারি = বেসরকারি ইত্যাদি।

এরূপ- নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক, নাতিদীর্ঘ প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৫১.
‘ঘরমুখো’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
 যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও)।
- এরকম: দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:

- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
 যেমন:
- হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী।

নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
 যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫২.
‘বহুব্রীহি’ শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বিগু
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা:
- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
- এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫৩.
'মনমাঝি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মন ও মাঝি
  2. খ) মন মাঝির ন্যায়
  3. গ) মনরূপ মাঝি
  4. ঘ) মন যে মাঝি
সঠিক উত্তর:
গ) মনরূপ মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনরূপ মাঝি
ব্যাখ্যা
'মনমাঝি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য = মন রূপ মাঝি।

• কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়।
- এগুলােকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৫৪.
'হংসডিম্ব' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. হংসীর ডিম
  2. হাঁসের ডিম
  3. হাঁস ও ডিম
  4. হঁংস হতে যে ডিম
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
হংসীর ডিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হংসীর ডিম
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি (র, এর) লোপ হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
মৃগীর শিশু= মৃগশিশু,
ছাগীর দুগ্ধ= ছাগদুগ্ধ,
হংসীর ডিম্ব= হংসডিম্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫৫.
'ইত্যাদি' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• ইতি হতে আদি = ইত্যাদি; এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
- স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো।
- জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত।
- স্নাতক থেকে উত্তর = স্নাতকোত্তর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৫৬.
‘ডাকঘর’ কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ ডাকের নিমিত্তে ঘর = ডাকঘর৷
দেশপ্রীতি = দেশের জন্য প্রীতি৷
বিয়ের জন্য পাগল - বিয়েপাগল,
গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি,
বিদ্যার জন্য আলয় - বিদ্যালয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৯৫৭.
'বিরানব্বই' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৯৫৮.
আমরা = তুমি, আমি ও সে - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) একশেষ দ্বন্দ্ব
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব
  3. গ) নিত্য
  4. ঘ) প্রাদি
সঠিক উত্তর:
গ) নিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিত্য
ব্যাখ্যা
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না কিংবা তা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য লাগে তাকে নিত্য সমাস বলে। ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা ব্যাকাংশ যোগ করে এগুলোর অর্থ বিশ্লেষণ করতে হয়।
যেমন :
- আমরা = তুমি, আমি ও সে,
- বিরানব্বই = দুই ও নব্বই,
- জনৈক = এক জন,
- মাথাপিছু = প্রতিমাথা
- দিনভর = সারা দিন
- পূজার্থ = পূজার নিমিত্ত

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯৫৯.
"প্রাদি সমাস" কীভাবে গঠিত হয়?
  1. কেবল কৃৎ প্রত্যয় সহযোগে
  2. সংখ্যাবাচক শব্দ সহযোগে
  3. অব্যয় এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের মিলনে
  4. বিশেষ্য এবং বিশেষণ সহযোগে
সঠিক উত্তর:
অব্যয় এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের মিলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয় এবং কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের মিলনে
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস: 
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন, 
প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬০.
'অষ্টধাতু' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  2. প্রাদি সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী,
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি
- অষ্ট ধাতুর সমাহার = অষ্টধাতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৬১.
গঠনরীতি অনুযায়ী 'প্রগতি' ____ নিস্পন্ন শব্দ।
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) সন্ধি
  4. ঘ) সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাস
ব্যাখ্যা
গঠনরীতি অনুযায়ী 'প্রগতি' সমাস নিস্পন্ন শব্দ।
প্রাদি সমাস: প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস। 
প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন, 
প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

প্রাদি সমাসে-
‘প্র’থাকলে ‘প্রকৃষ্ট’ হবে। যেমন: প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত।
‘পরি’ থাকলে ‘চতুর্দিকে’ হবে। যেমন: পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ।
‘অনু’ থাকলে ‘পশ্চাত’ হবে। যেমন: অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৯৬২.
‘চিনিপাতা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

- বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে, 

- সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 

- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ,
যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, 
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৬৩.
'রাজপুত্র' কোন সমাস?
  1. ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্বপদের শেষের বিভক্তি লোপ পায়, এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন, রাজার পুত্র- রাজপুত্র।
৯৬৪.
তৎপুরুষ সমাস কত প্রকারের হয়ে থাকে?
  1. ক) এগারো
  2. খ) বারো
  3. গ) নয়
  4. ঘ) তেরো
সঠিক উত্তর:
গ) নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নয়
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকারের হয়ে থাকে। 

- যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ ঘি দ্বারা ভাজা = ঘিভাজা, মন দ্বারা গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, মেঘ হতে মুক্ত = মেঘমুক্ত, ঘর হতে ছাড়া = ঘরছাড়া ইত্যাদি।

- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার। যথা:
১) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস,
২) তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস,
৩) চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস,
৪) পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস,
৫) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস,
৬) সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস,
৭) নঞ্ তৎপুরুষ সমাস,
৮) উপপদ তৎপুরুষ সমাস এবং
৯) অলুক তৎপুরুষ সমাস।

১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস : না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৮. উপপদ তৎপুরুষ সমাস : যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৯. অলুক তৎপুরুষ সমাস : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৯৬৫.
"সাহিত্যসভা" শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. প্রাদি
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা= সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬৬.
'তেপান্তর' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন : 
- তেমাথা = তিন মাথার সমাহার,
- ত্রিফলা = তিন ফলের সমাহার,
- তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার,
- ত্রিপদী = তিন পদের সমাহার,
- ত্রিকাল = তিন কালের সমাহার
- ত্রিলোক = তিন লোকের সমাহার ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯৬৭.
"দুই কান কাটা যার" - ব্যাসবাক্যটি কোন বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত?
  1. প্রত্যয়ান্ত
  2. ব্যাধিকরণ
  3. ব্যতিহার
  4. সমানাধিকরণ
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা:
আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব।

• পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
- দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা,
অনুরূপভাবে - পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯৬৮.
কোনটি সাদৃশ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস নয়?
  1. ক) উপকূল
  2. খ) উপবন
  3. গ) উপগ্রহ
  4. ঘ) উপশহর
সঠিক উত্তর:
ক) উপকূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপকূল
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। কূলের সমীপে = উপকূল সামীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস। সাদৃশ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হলোঃ বনের সদৃশ =উপবন, শহরের সদৃশ= উপশহর, গ্রহের তুল্য /সদৃশ= উপগ্রহ। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণী বোর্ড বই।
৯৬৯.
পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’ এর স্থানে কি হয়?
  1. ক) কো
  2. খ) কৃ
  3. গ) কৎ
  4. ঘ) ক
সঠিক উত্তর:
গ) কৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৎ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদে প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়।
যেমন: কু যে অর্থ = কদর্থ ; কু যে আচার = কদাচার।
সূত্র - বাংলা ভাষার ব্যাকরণঃ নবম - দশম শ্রেণির বোর্ড বই।
৯৭০.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. ক্ষণস্থায়ী
  2. হাসিমুখ
  3. হাতেখড়ি
  4. অরুণরাঙা
সঠিক উত্তর:
হাসিমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসিমুখ
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ক্ষণকাল ব্যাপীয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী, এটি ব্যাপ্তি অর্থে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি, মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
- 'অরুণরাঙা' শব্দটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৭১.
‘নাতিদূর’ কোন সমাস ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) নঞ বহুব্রীহি
  4. ঘ) নঞ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নঞ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নঞ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

নাতিদূর/ অনতিদূর (ন অতিদূর) নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- পরপদের অর্থ প্রাধান্য রেখে নঞ অব্যয়( ন, না, নাই, নেই ইত্যাদি) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকেই নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
- উদাহরণ: অক্ষত, অবিশ্বাস্য, বেআইনি, অমিল ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)

৯৭২.
’তেপান্তর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) নিত্য সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগু
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন : 
- তেমাথা = তিন মাথার সমাহার,
- ত্রিফলা = তিন ফলের সমাহার,
- তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার,
- ত্রিপদী = তিন পদের সমাহার,
- ত্রিকাল = তিন কালের সমাহার
- ত্রিলোক = তিন লোকের সমাহার ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯৭৩.
উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়-
  1. ক) জলচর
  2. খ) পঙ্কজ
  3. গ) অকেশা
  4. ঘ) জলদ
সঠিক উত্তর:
গ) অকেশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অকেশা
ব্যাখ্যা

• যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
• কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস। যেমনঃ
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।
• অকেশা নঞ তৎপুরুষ সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭৪.
'স্বর্গ-নরক' কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• স্বর্গ-নরক - বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস

 • দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্ব ও পরপদের মধ্যে আপাত বিরোধ আছে বলে মনে হয়, তাকে বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- দা-কুমড়ো,
- অহি-নকুল,
- স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৫.
বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
সমাস মূলত চার প্রকার ।
- এগুলো হচ্ছে: দ্বন্দ্ব, কর্মধারায়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ।

পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও বর্তমানে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সমাসের বৈশিষ্ট:
- সমাস দ্বারা দুই বা ততোধিক পদের সমন্বয়ে নতোরন পদের সৃষ্টি হয়।
- বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার জন্য সমাসের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৯৭৬.
'যথাসাধ্য' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কী?
  1. সাধ্য পর্যন্ত
  2. সাধ্যকে অতিক্রম না করে
  3. যথাযথ সাধ্যের সদৃশ
  4. সাধ্যকে অতিক্রান্ত
সঠিক উত্তর:
সাধ্যকে অতিক্রম না করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধ্যকে অতিক্রম না করে
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌প্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
 নিচের উদাহরণগুলোতে অব্যয়ীভাব সমাসের অব্যয় পদটি বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হলো-

১. সামীপ্য (উপ): 
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল।

২. বিপ্সা (অনু, প্রতি):
দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

৩. অভাব (নিঃ = নির): 
আমিষের অভাব = নিরামিষ, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জলের অভাব = নির্জল, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ।

৪. পর্যন্ত (আ):
সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল, পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক।

৫. সাদৃশ্য (উপ):
শহরের সদৃশ = উপশহর, গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ, বনের সদৃশ = উপবন।

৬. অনতিক্রম্যতা (যথা):
রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য। এরূপ-যথাবিধি, যথাযোগ্য ইত্যাদি।

৭. অতিক্রান্ত (উৎ):
বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল, শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

৮. বিরোধ (প্রতি):
বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল।

৯. পশ্চাৎ (অনু):
পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
৯৭৭.
'সমাস' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?  
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) রূপতত্ত্ব

রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
শব্দ, শব্দের গঠন, বচন, লিঙ্গ, কারক, পুরুষ, উপসর্গ, প্রত্যয়, বিভক্তি, সমাস, পদের পরিচয়, ক্রিয়া প্রকরণ ইত্যাদি।

সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। 
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯৭৮.
"বিদ্যাহীন" শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. দ্বিতীয়া
  4. ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন ইত্যাদি।

উতস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭৯.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিমনা
  2. দশানন
  3. দম্পতি
  4. চতুষ্পদ
সঠিক উত্তর:
দম্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দম্পতি
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

অন্যদিকে,
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: 
- বিচলিত মন যার = বিমনা,
- দশ আনন যার = দশানন, 
- চার পা বিশিষ্ট প্রাণী =চতুষ্পদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮০.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাস?
  1. ৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
  2. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে।

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।
- এরূপ-ছাত্রাবাস, ডাকমাশুল, চোষকাগজ, শিশুমঙ্গল, মুসাফিরখানা, হজ্বযাত্রা, মালগুদাম, রান্নাঘর, মাপকাঠি, বালিকা-বিদ্যালয়, পাগলাগারদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৮১.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. কমলমুখ
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. মন মাঝি
  4. বাহুলতা
সঠিক উত্তর:
বাহুলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুলতা
ব্যাখ্যা

• বাহুলতা রূপক কর্মধারয় সমাস নয়।
• এটি উপমিত কর্মধারয় সমাস যার ব্যাসবাক্য বাহু লতার ন্যায়।
• যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
• রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণঃ
- কমল রূপ মুখ = কমলমুখ,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৯৮২.
' চাবাগান' শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৯৮৩.
'শান্তশিষ্ট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধার‍য় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধার‍য় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধার‍য় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়।
- এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে।
- অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে।
- বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৪.
'সোনার বাংলা' কোন সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত 'সোনার বাংলা' হলো অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

অলুক তৎপুরুষ সমাস
: যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অনুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : গায়ে পড়া - গায়েপড়া।
এরূপ-ঘিয়ে ভাজা, কলে ছাঁটা, কলের গান, গরুর গাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৮৫.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) তুষারশুভ্র
  2. খ) চন্দ্রমুখ
  3. গ) সিংহপুরুষ
  4. ঘ) সাহিত্যসভা
সঠিক উত্তর:
ক) তুষারশুভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা
'তুষারশুভ্র'- উপমান কর্মধারয় সমাস।
তাছাড়া, চন্দ্রমুখ, সিংহপুরুষ, উপমিত কর্মধারয় সমাস। 
'সাহিত্যসভা'- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

 
উপমান কর্মধারয় সমাস: সাধারণ ধর্মবাচক পদের সঙ্গে উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
অর্থাৎ, উপমান ও উপমেয় কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে, সেটিই উপমান কর্মধারয়।
যেমন, তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস: সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে সাধারণ ধর্ম উল্লেখ করা থাকে না। 
যেমন, ‘পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ’।
এখানে ‘পুরুষ’কে ‘সিংহ’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ‘পুরুষ’ উপমেয় আর ‘সিংহ’ উপমান। সাধারণ ধর্মের উল্লেখ নেই। 

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:  যে কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদগুলো লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন, সাহিত্যসভা= সাহিত্য বিষয়ক সভা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৯৮৬.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) প্রতিদিন
  2. খ) অকাল
  3. গ) খোশমেজাজ
  4. ঘ) সেতার
সঠিক উত্তর:
ক) প্রতিদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রতিদিন
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। সামীপ্য, বীপ্সা, পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। বীপ্সা (পৌনঃপুনিকতা) বোঝাতে দিন দিন = প্রতিদিন, ন কাল = অকাল (নঞ তৎপুরুষ সমাস), খোশমেজাজ যার = খোশমেজাজ (বহুব্রীহি) এবং সে (তিন) তারের সমাহার (দ্বিগু সমাস)।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৭.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত নয়?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বিগু
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়। কিন্তু তৎপুরুষ, কর্মধারয় ও দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্ধ প্রধান হয় বলে এগুলো অব্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে বহুব্রীহি সমাসে কোনো পদের অর্থ প্রধান হয় না বলে এটি অব্যয়ীভাবের বিপরীত নয়।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)
৯৮৮.
তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' শব্দটি কোন প্রকারের অব্যয়?
  1. ক) অনুসর্গ অব্যয়
  2. খ) সংকোচক অব্যয়
  3. গ) বিয়োজক অব্যয়
  4. ঘ) সংযোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংযোজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংযোজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। তাছাড়া অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯৮৯.
বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. গরুরগাড়ি
  2. রাজপথ
  3. তেলেভাজা
  4. কানেখাটো
সঠিক উত্তর:
রাজপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজপথ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো, মামার বাড়ি = মামাবাড়ি, ধানের খেত = ধানখেত, পথের রাজা = রাজপথ, গোলায় ভরা = গোলাভরা, গাছে পাকা = গাছপাকা, অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু ।

অন্যদিকে,
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
 যেমন – গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

• যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। 
যেমন - গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৯০.
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ট্য- 
  1. পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ/য়/তে) থাকে যা লোপ পায়।
  2. ব্যাসবাক্যে 'এ', 'য়', 'তে' বিভক্তি ব্যবহৃত হয়।
  3. কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
  4. উপরের সবকটি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ট্য:
- পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ/য়/তে) থাকে যা লোপ পায়।
- ব্যাসবাক্যে 'এ', 'য়', 'তে' বিভক্তি ব্যবহৃত হয়।
- কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
--------------

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে ) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- সত্যে আগ্রহ (নিষ্ঠা) = সত্যাগ্রহ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
যেমন -
- পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব,
- পূর্বে অশ্ৰুত = অশ্রুতপূর্ব,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯১.
'অনুতাপ' শব্দের 'অনু' দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. সামনে
  2. পশ্চাতে
  3. চারদিকে
  4. উপরে
সঠিক উত্তর:
পশ্চাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চাতে
ব্যাখ্যা

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।

যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯৯২.
“আমরা” কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  4. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
একশেষ দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একশেষ দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

- 'আমরা' হলো একশেষ দ্বন্দ্বের উদাহরণ। 
-----------------------
একশেষ দ্বন্দ্ব:
- একশেষ দ্বন্দ্ব হলো এমন সমাস যেখানে প্রধান পদটি অবশিষ্ট থেকে অন্য পদের লোপ ঘটে এবং শেষ পদ অনুসারে সমস্তপদের রূপ নির্ধারিত হয়।
- এই ধরনের সমাসে সমস্তপদ একটি একক পদ হিসেবে থাকে।
- ব্যাসবাক্যের অন্যান্য পদ লুপ্ত অবস্থায় থাকে।
- এবং সমস্ত পদ সর্বদা বহুবচন হয়।
- যেমন:
- আমরা = সে, তুমি ও আমি,
- আমাদের = তার, তোমার ও আমার,
- তোরা = সে ও তুই। 
---------------------- 
অন্যদিকে,
• সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব হলো এমন সমাস যা সম্বন্ধ বোঝায়।
- যেমন:
- দম্পতি = দম্ ও পতি,
- মাসি-পিসি = মাসি ও পিসি,
- কাকা-কাকি = কাকা ও কাকি।

• সমার্থক দ্বন্দ্ব হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদ ও পরপদে সমার্থক অর্থের শব্দ মিলিত হয়।
- যেমন: হাট-বাজার = হাট ও বাজার,
- জনমানব = জন ও মানব,
- সুখশান্তি = সুখ ও শান্তি।

• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব হলো এমন সমাস যা একাধিক পদের মিলন বোঝায়।
- যেমন:
- চা-বিস্কুট = চা ও বিস্কুট, 
- মা-বাপ = মা ও বাপ।
- কালি-কলম = কালি ও কলম। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯৯৩.
'একগুঁয়ে' কোন সমাস?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. ব্যতিহার বহুব্রীহি
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
 যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
 যেমন:
- এক গোঁ যার = একগুঁয়ে,
- লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৯৪.
'রক্তারক্তি' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) কর্মধার‍য় সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
- 'রক্তারক্তি' শব্দটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

• ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস: 
- পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
- দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজকে বোঝায়।
- এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তরপদে 'ই' যুক্ত হয়।
যেমন: 
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি।
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি। 
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ =  লাঠালাঠি।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৯৫.
‘দেহপিঞ্জর’ শব্দটি কোন সমাস দ্বারা গঠিত?
  1. ক) রূপক কর্মধারয়
  2. খ) উপমিত কর্মধারয়
  3. গ) উপমান কর্মধারয়
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ক) রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারয় সমাসে প্রত্যেকটির উদাহরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য। পূর্বপদ অদৃশ্যমান, কিন্তু পরপর দৃশ্যমান।
পূর্বপদ ও পরপদে কোনো গুণের উল্লেখ নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্কটি কল্পনায় আছে।
কারণ, বাস্তবে এমন কোনো বিষাদের কোনো সিন্ধু (সাগর) নেই,  মনের কোনো মাঝি নেই। এভাবে প্রত্যেকটা সম্পর্ক কল্পনাপ্রসূত, কিন্তু দুটোকে অভিন্ন দেখা হয়েছে।
রূপকের আরো উদাহরণ : ক্ষুধানল, শোকানল, সুখসাগর, যৌবনবন, পরানপাখি, চিত্তচকোর, কালচক্র, কালসর্প, মনবিহঙ্গ, প্রাণবায়ু।
ব্যতিক্রম : রূপক কর্মধারয় সমাসে কিছু উদাহরণে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ইকে স্পর্শ করা যায়। যেমন : দেহঘড়ি, দেহপিঞ্জর, কায়াতরু, দেহকায়া।  

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৯৯৬.
কর্মকারক কত প্রকার?
  1. ক) ৩ প্রকার
  2. খ) ৪ প্রকার
  3. গ) ২ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ প্রকার
ব্যাখ্যা

কর্মকারক ৪ প্রকার।
যথা:
১. সকর্মক ক্রেয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
২. প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
৩. সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
৪. উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম। যেমন: দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

৯৯৭.
'সাদৃশ্য' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. উপকণ্ঠ
  2. উপকূল
  3. উপনগরী
  4. উপবন
সঠিক উত্তর:
উপবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপবন
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• সামীপ্য (উপ): কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল, নগরীর সমীপে = উপনগরী
সাদৃশ্য (উপ): শহরের সদৃশ = উপশহর, গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ, বনের সদৃশ = উপবন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৮.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) আপাদমস্তক
  2. খ) কথাসর্বস্ব
  3. গ) হতশ্রী
  4. ঘ) অল্পবয়সী
সঠিক উত্তর:
ক) আপাদমস্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আপাদমস্তক
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে ।
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন : জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় ‘আ’) = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল।

• নিম্নে কিছু অব্যয়ীভাব সমাসের কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
দিন দিন = প্রতি দিন,
ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
আমিষের অভাব = নিরামিষ,
সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল,
পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক,
শহরের সদৃশ = উপশহর,
গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ,
বনের সদৃশ উপবন,
রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৯৯.
'জীবন্মৃত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. খ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  3. গ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস: 
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে, যে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।

• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি: 
- নিপাতনে সিদ্ধ কথাটির অর্থ কোন নিয়মের অধীনে নয়। 

• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের কিছু উদাহরণ:
- দু দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ,
- নরাকারে পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিত্মূর্খ ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০০০.
‘তেলেভাজা’ কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
- চোখের বালি = চোখের বালি।
- সোনার তরী = সোনার তরী।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- চিনির বলদ = চিনির বলদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।