♦ নীল চোখ একটি সাধারন কর্মধারয় সমাস।
∗ কর্মধারয় সমাস: যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- এখানে নীল একটি বিশেষণ এবং চোখ একটি বিশেষ্য।
∗ উপমান কর্মধারয়:
- উপমান কর্মধারয় সমাস সত্য উপমা দেয় না, এটি উপমান পদের সাথে উপমেয় পদের একটি সত্য তুলনা করে। এখানে 'উপমান' হলো তুলনার বস্তু, আর 'উপমেয়' হলো যাকে তুলনা করা হচ্ছে।
- এই সমাসে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে একটি সাধারণ গুণকে কেন্দ্র করে তুলনা করা হয়।
• উদাহরণস্বরূপ, 'তুষারের ন্যায় শুভ্র' থেকে হয় 'তুষারশুভ্র'।
- উপমান: উপমানের সাথে তুলনা করা হয়, যেমন 'তুষার';
- উপমেয়: যার সাথে তুলনা করা হয়, যেমন 'শুভ্র';
- সাধারণ গুণ: তুলনাটি যে গুণের ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন 'শুভ্রতা'।
- ব্যাসবাক্য: উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে তুলনা বোঝানোর জন্য 'ন্যায়', 'মতো' ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়, যেমন: তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র।
- প্রকৃত ব্যবহার: এই সমাস সরাসরি উপমা দেয় না, বরং উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে একটি সত্য সম্পর্ক স্থাপন করে। যেমন, 'অরুণের ন্যায় রাঙা' (অরুণরাঙা) এখানে 'অরুণ' (উপমান) এবং 'রাঙা' (উপমেয়) - উভয়েরই 'রাঙা' বা 'লাল' গুণটি সত্য।
অন্যদিকে,
- ঘনশ্যাম -‘ঘনের ন্যায় শ্যাম’, এটি প্রকৃত উপমান কর্মধারয় সমাস;
- রক্তচন্দন - ‘রক্তের ন্যায় চন্দন’, উপমান পদ আগে আছে;
- শীতলচন্দ্র - ‘শীতল যে চন্দ্র’, উপমান কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।