উত্তর
ব্যাখ্যা
◉ সমগোত্রের যৌগের আণবিক ভর ভিন্ন হয় (প্রতিটি পরবর্তী যৌগে –CH2– গ্রুপ বৃদ্ধি পায়, ফলে আণবিক ভরও বাড়ে)।
জৈব যৌগের সমগোত্রীয় শ্রেণি (Homologous Series):
- কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে কার্বন যৌগ তথা জৈব যৌগের সংখ্যা আট মিলিয়নের অধিক। এ বিপুল সংখ্যক জৈব যৌগ আলাদাভাবে অধ্যয়ন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
- আলোচনার সুবিধার্থে জৈব যৌগসমূহকে গঠন ও ধর্মের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কতিপয় সমধর্মী যৌগ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এ সব সমধর্মী যৌগ শ্রেণির নাম সমগোত্রীয় শ্রেণি।
- অভিন্ন মৌল দ্বারা গঠিত সমধর্মী যৌগসমূহকে ক্রমবর্ধমান আণবিক ভর অনুসারে সাজালে যদি পাশাপাশি দুটি যৌগের মধ্যে মিথিলিন -CH2-মূলকের পার্থক্য থাকে এবং এদের সংযুক্তি একটি সাধারণ সংকেত দ্বারা প্রকাশ করা যায়, তবে এরূপ নিকট সম্পর্কযুক্ত যৌগসমূহকে সমগোত্রক বলে এবং এদের শ্রেণিকে সমগোত্রীয় শ্রেণি বলা হয়।
- যেমন- অ্যালকেন (CnH2n + 2) একটি সমগোত্রীয় শ্রেণি। মিথেন (CH4), ইথেন (C2H6), প্রোপেন (C3H8) ইত্যাদি অ্যালকেন শ্রেণির সমগোত্রক।
সমগোত্রীয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য:
সাধারণভাবে সমগোত্রীয় শ্রেণির যৌগসমূহের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
(i) এরা অভিন্ন মৌল দ্বারা গঠিত।
(ii) একটি সাধারণ সংকেত দ্বারা এদেরকে প্রকাশ করা যায়।
(iii) আণবিক ভরের ভিত্তিতে পাশাপাশি দুটি সমগোত্রকের মধ্যে-CH2- মূলকের পার্থক্য বিদ্যমান।
(iv) প্রত্যেক সমগোত্রীয় শ্রেণির একটি নির্দিষ্ট কার্যকরীমূলক থাকে।
(v) এদের ভৌত ধর্মে নিয়মিত ক্রম লক্ষ্য করা যায়। আণবিক ভর বৃদ্ধির সাথে এদের ভৌত ধর্ম যেমন-গলনাংক, স্ফুটনাংক ও ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং দ্রাব্যতা হ্রাস পায়।
(vi) এদের রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
(vii) একই সাধারণ নিয়মে এদের প্রস্তুত করা যায়।
উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।