বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৭ · ৪০১৫০০ / ২,৬৯২

৪০১.
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন বজায় থাকার মূল কারণ কী? 
  1. কণিকাগুলো স্থির থাকে
  2. কণিকাগুলো ঘূর্ণায়মান থাকে
  3. কণিকাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক শক্তি খুব কম
  4. কণিকাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল প্রবল
সঠিক উত্তর:
কণিকাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল প্রবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণিকাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল প্রবল
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে কণিকাগুলো গতিশীল কিন্তু তা দেখা সম্ভব নয়। 
- একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে প্রতিটি কণা অবিরত কম্পিত হচ্ছে। 
- এদের মধ্যকার প্রবল আন্তঃআণবিক শক্তি কণাগুলোকে পরস্পর থেকে বিছিন্ন হতে দেয় না, তাই কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন বজায় থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থ থেকে তরল অবস্থায় আসতে পদার্থ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে। 
- এ অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তির কারণে কণিকাগুলো গতির বিস্তার বৃদ্ধি পায় বা কণাগুলো মধ্যের দূরত্ব বেশি হয় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু একেবারে লুপ্ত হয় না। 
- সামান্য আকর্ষণ বলের কারণে কণিকা গুচ্ছগুলো পাত্রের মধ্যে থাকে। একারণে এটি পাত্রের যে কোন স্থানে সরে যায় এবং পাত্রের আকার গ্রহণ করতে পারে। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- বায়বীয় অবস্থায় পদার্থের মধ্যে আরও অনেক বেশি শক্তি যোগ হয় তখন কণিকাগুলোর গতি অত্যন্ত বেড়ে যায় এলোমেলোভাবে সবদিকে ছুটাছুটি করে পরস্পরের থেকে অনেক দূরত্বে চলে যায়। 
- তখন এই পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই নগন্য হয়ে যায়। 
- এজন্য বায়বীয় অবস্থায় বস্তুর কোন আকার বা আয়তন নাই এবং অত্যন্ত সংকোচনশীল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০২.
ভারী পানির রাসায়নিক সংকেত-
  1. 2H2O2
  2. H2O
  3. D2O
  4. HD2O2
সঠিক উত্তর:
D2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
D2O
ব্যাখ্যা
• পানি:
- পানির সংকেত হলো H2O.
- ভারী পানির সংকেত হলো D2O।
- রাসায়নিক নাম হচ্ছে ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
- পানিতে উপস্থিত থাকে প্রোটিয়াম এবং অক্সিজেন।
- ভারী পানিতে উপস্থিত থাকে ডিউটেরিয়াম এবং অক্সিজেন।
- প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম হলো হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ।
- সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই বোঝায়।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৩.
ফিটকিরি এর অপর নাম কি?
  1. কস্টিক পটাশ
  2. চুন
  3. পটাশ অ্যালাম
  4. সাধারণ লবণ
সঠিক উত্তর:
পটাশ অ্যালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশ অ্যালাম
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি: 
- প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার প্রচলিত। 
- ফিটকিরি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম সালফার ও ২৪ অণু পানির যৌগ। 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- এটি সাধারণত কঠিন অবস্থায় বাজারে প্রচলিত। 

Other Options:
Potassium Hydroxide = কস্টিক পটাশ।
Calcium Carbonate = চুন।
Sodium Chloride = সাধারণ লবণ।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৪.
সাধারণ তাপমাত্রায় বায়ুচাপে পানি কত ডিগ্রি তাপামাত্রায় ফোটে?
  1. ১০০° সেন্টিগ্রেড
  2. ১০৮° সেন্টিগ্রেড
  3. ৯৯° সেন্টিগ্রেড
  4. ২১২° সেন্টিগ্রেড
সঠিক উত্তর:
১০০° সেন্টিগ্রেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০° সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়, আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক হলো ১০০° সেলসিয়াস, এই তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৫.
নিচের কোনটি পানিতে অদ্রবনীয়?
  1. ক) অ্যালকোহল
  2. খ) সালফিউরিক এসিড
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম কার্বনেট বিশুদ্ধ পানিতে দ্রবীভূত হয় না।

- সোডিয়ামের যৌগ সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবণ স্বচ্ছ, বর্ণহীন কঠিন পদার্থ এবং পানিতে দ্রবণীয়।
- বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড ঘন তৈলাক্ত পদার্থ, যা পানিতে সহজেই দ্রবীভূত হয়।
- অ্যালকোহল সকল মাত্রায় পানিতে দ্রবীভূত হয়।

• অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম কার্বনেট প্রকৃতিতে চুনাপাথর, মার্বেল পাথর, চক ও অন্যান্য রূপে বিদ্যমান; যা বিশুদ্ধ পানিতে সম্পূর্ণভাবে অদ্রবণীয়।

Source: chem.ncbi.nlm.nih.gov & Britannica Encyclopedia.
৪০৬.
পলিমারের ক্ষুদ্র অংশকে কী বলা হয়? 
  1. মনোস্যাকারাইড
  2. মনোমার
  3. ডাইমার
  4. ট্রাইমার
সঠিক উত্তর:
মনোমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোমার
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। এক কথায় বহু সংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পর পর যুক্ত হয়ে পলিমার অণু গঠন করে থাকে। 
- পলিমারের প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র অংশকে মনোমার বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিনের পলিমার পলিইথিলিন। প্রোপিনের পলিমার পলি প্রোপিন। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৭.
অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার কোনটি? 
  1. ডিটারজেন্ট
  2. সাবান
  3. চর্বি
  4. তৈল
সঠিক উত্তর:
তৈল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৈল
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন- সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী ও নাগ)।
৪০৮.
কোন ধরনের পদার্থ লিটমাস কাগজকে নীল করে?
  1. Acid (এসিড)
  2. Alkali (ক্ষার)
  3. Salt (লবণ)
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
Alkali (ক্ষার)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Alkali (ক্ষার)
ব্যাখ্যা
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রঙ পরিবর্তন করে নীল করে।
- আর সকল এসিড নীল লিটমাসের বর্ণ পরিবর্তন করে লাল করে থাকে।
 
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড। কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না। 
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীতূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক। 
 
- Alkali (ক্ষার) is any of the soluble hydroxides of the alkali metals—i.e., lithium, sodium, potassium, rubidium, and cesium. 
- Alkalies are strong bases that turn litmus paper from red to blue.
- they react with acids to yield neutral salts; and they are caustic and in concentrated form are corrosive to organic tissues.

সূত্র: ব্রিটানিকা, মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 
৪০৯.
নিচের কোন পদার্থটি ঊর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. আয়োডিন
  2. সোডা অ্যাশ
  3. ন্যাপথলিন
  4. নিশাদল
সঠিক উত্তর:
সোডা অ্যাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডা অ্যাশ
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- নিশাদল, কর্পূর, ন্যাপথলিন, কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড, আয়োডিন ইত্যাদি। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) ওয়াশিং সোডা, সোডা অ্যাশ এবং সোডা স্ফটিক নামেও পরিচিত। 
- সোডিয়াম কার্বনেটের সব রূপই সাদা বর্ণের। 
- ভৌত ধর্মের দিক থেকে এটি গন্ধহীন এবং জলে দ্রাব্য। 
- জলে দ্রবীভূত হয়ে এটি ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৪১০.
ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার ভাল পদ্ধতি –
  1. বয়লিং
  2. বেনজিন ওয়াশ
  3. ফরমালিন ওয়াশ
  4. কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
সঠিক উত্তর:
কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
ব্যাখ্যা
কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন: 
- কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ধারালো যন্ত্রপাতি বা সংবেদনশীল উপকরণগুলো জীবাণুমুক্ত করতে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
- এই পদ্ধতি বিশেষত তাপ-সংবেদনশীল (heat-sensitive) বা উচ্চ তাপমাত্রায় বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য কার্যকর।
- ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য 'কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন' সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। 

অন্যদিকে, 
বয়লিং: 
- উচ্চ তাপমাত্রায় কিছু জীবাণু এবং স্পোর বেঁচে যেতে পারে। তাই ধারালো যন্ত্রপাতির ধার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

বেনজিন ওয়াশ: 
- বেনজিন জীবাণু ধ্বংসে কার্যকর নয় এবং এটি পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও জীবাণুমুক্ত করতে পারে না। 

ফরমালিন ওয়াশ: 
- ফরমালিন শুধুমাত্র জীবাণুনাশক (disinfectant) হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি পুরোপুরি স্টেরিলাইজ করার জন্য যথেষ্ট নয়।
৪১১.
কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয় নিচের কোন পদার্থটি?
  1. ক) ন্যাপথালিন
  2. খ) বরফ
  3. গ) পিভিসি
  4. ঘ) স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ক) ন্যাপথালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ন্যাপথালিন
ব্যাখ্যা
কিছু পদার্থ আছে যারা কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়। যেমন: ন্যাপথালিন, আয়োডিন, কর্পূর, কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড ইত্যাদি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪১২.
ইস্ট ব্যবহার করলে পাউরুটি ফুলে উঠে কেন?
  1. ইস্ট কার্বোনিক এসিড উপন্ন করে বলে
  2. ইস্ট কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে বলে
  3. ইস্ট মিথেন গ্যাস উপন্ন করে বলে
  4. ইস্ট কার্বন মনো অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে বলে
সঠিক উত্তর:
ইস্ট কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে বলে
ব্যাখ্যা
ইস্ট:

- পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়।
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেড ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন CO₂ বা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে।
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়।
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO₂ উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৩.
তীব্র এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. জলীয় দ্রবণে অম্লধর্ম প্রকাশ করে না
  2. এটি ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে না
  3. এটি আংশিকভাবে আয়নিত হয়
  4. এটি সম্পূর্ণ আয়নিত হয়
সঠিক উত্তর:
এটি সম্পূর্ণ আয়নিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি সম্পূর্ণ আয়নিত হয়
ব্যাখ্যা

- তীব্র এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়। 
অন্যদিকে, সব এসিডই জলীয় দ্রবণে অম্লধর্ম প্রকাশ করে; তীব্র এসিড সাধারণত সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে এবং আংশিকভাবে আয়নিত হওয়া দুর্বল এসিডের (weak acids) বৈশিষ্ট্য। 

এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এসিড ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন (H2) গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীল লিটমাসকে লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন (H2) গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- দুর্বল এসিড জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস:
রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৪.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ নয়? 
  1. ফ্লোরিন 
  2. লিথিয়াম 
  3. পটাশিয়াম 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন 
ব্যাখ্যা

- লিথিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সবই ইলেকট্রন দান করে, তাই এ পদার্থগুলো বিজারক। কিন্তু ফ্লোরিন ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এটি জারক। 

বিজারক পদার্থ: 

- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), H2S, H2O2, SO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- অক্সিজেন (O2), ক্লোরিন (Cl2), ফ্লোরিন (F2), H2SO4, HNO3, H2O2, SO2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৫.
কোনটি সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ?
  1. ক) আল্ট্রা ভায়োলেট
  2. খ) এক্স-রে
  3. গ) রেডিও ওয়েভ
  4. ঘ) গামা রে
সঠিক উত্তর:
ঘ) গামা রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গামা রে
ব্যাখ্যা

- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো, আরও ছোট হলে এক্স-রে আরও ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।
- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরও বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরও বড় হলে রেডিও ওয়েভ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৬.
অভিস্রবণ প্রক্রিয়া মূলত কত ধরনের হয়ে থাকে?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
সঠিক উত্তর:
দুই ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই ধরনের
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দু'ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ - কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৭.
বয়লার অথবা কেটলির তলায় কিসের স্তর পড়ে?
  1. ক) সোডিয়াম সালফেট
  2. খ) সোডিয়াম কার্বনেট
  3. গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৪১৮.
রেক্টিফাইড স্পিরিট হলো-
  1. ৯০% ইথাইল অ্যালকোহল +১০% পানি
  2. ৮০% ইথাইল অ্যালকোহল + ২০% পানি
  3. ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
  4. ৯৮% ইথাইল অ্যালকোহল + ২% পানি
সঠিক উত্তর:
৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৯.
গভীর সমুদ্রের উচ্চ চাপে ডুবুরিদের সিলিন্ডারে অক্সিজেনের সাথে কোন গ্যাসটির মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়?
  1. হিলিয়াম
  2. নিয়ন
  3. হাইড্রোজেন
  4. জেনন
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

• গভীর সমুদ্রে পানির প্রচণ্ড চাপে সাধারণ বাতাসের নাইট্রোজেন রক্তে দ্রবীভূত হয়ে যায়, যা পরে 'বেন্ডস' বা 'নাইট্রোজেন নারকোসিস' নামক প্রাণঘাতী সমস্যা তৈরি করে। এই ঝুঁকি এড়াতে হিলিয়াম (He) ব্যবহার করা হয়।
- হিলিয়াম রক্তে অত্যন্ত কম দ্রবণীয় এবং এটি খুবই হালকা একটি গ্যাস, যা উচ্চ চাপে শ্বাসক্রিয়া সহজ রাখে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ব্যবহার: 
১। রঙ্গীন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিম্ন চাপে নিয়ন গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে গ্যাসটি জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। এ আলো ঘন কুয়াশার মধ্যেও দেখা যায়। এ জন্য উড়োজাহাজকে উঁচু পর্বত থেকে সতর্ক করার জন্য গিরিচূড়ায় নিয়ন আলোর সংকেত দেখানো হয়। আবার আকাশে উড়ন্ত একটি উজোজাহাজকে দূর থেকে অন্য আর একটি উড়োজাহাজ যাতে দেখতে পায় সেজন্য উড়োজাহাজেও নিয়ন আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
২। নিয়ন গ্যাসের সাথে আর্গন এবং পারদ বাষ্প মিশিয়ে নিয়ন আলোর রং পরিবর্তন করা যায়। এজন্য বিভিন্ন রং এর বাতি এবং ফ্লোরোসেন্ট টিউবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আজকাল বিজ্ঞাপনের কাজে এরূপ আলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
৩। টেলিভিশন সেট এবং রেডিও ফটোগ্রাফীতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- নিয়ন (Ne): এটি হিলিয়ামের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং এর তাপ পরিবাহিতা বেশি হওয়ায় ডুবুরির শরীর দ্রুত ঠান্ডা করে ফেলতে পারে।
- হাইড্রোজেন (H2): হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য এবং অক্সিজেনের সাথে মিলে বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করতে পারে, যা সিলিন্ডারের ভেতরে বিপজ্জনক।
- জেনন (Xe): এটি একটি শক্তিশালী অ্যানেস্থেটিক বা চেতনানাশক। উচ্চ চাপে এটি ডুবুরিকে অচেতন করে ফেলতে পারে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২০.
পিপড়া কামড় দিলে কী ব্যবহার করতে হয়?
  1. ক) বেকিং সোডা
  2. খ) চুন
  3. গ) ভিনেগার
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

চুন এবং বেকিং সোডা দুইটাই সঠিক উত্তর হবে।

বোলতা ও বিচ্ছুর হুলে হিস্টামিন নামক ক্ষারক পদার্থ থাকে। এসবের কামড়ের ক্ষেত্রে যে মলম ব্যবহার করা হয় তাতে থাকে বেকিং সোডা, ভিনেগার, যেগুলো এসিড জাতীয়। এগুলো ঐ ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। চুন ব্যবহার করা যাবে না, কারণ চুন ক্ষারক পদার্থ।

পিপড়া বা মৌমাছি কামড়ালে ক্ষতস্থানে জ্বালা করে কারণ এদের হুলে এসিড থাকে। তাই জ্বালা যন্ত্রণা কমানোর জন্য ক্ষারক জাতীয় পদার্থ যেমন চুন, বেকিং সোডা, ক্যালামাইন বা জিঙ্ক কার্বনেট ব্যবহার করতে হয়।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৪২১.
কোন অবস্থায় পদার্থের কণিকাগুলো সর্বাধিক গতিশীল থাকে?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়বীয়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
বায়বীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়বীয়
ব্যাখ্যা
পদার্থের আণবিক গতিতত্ত্ব: 
- পদার্থ কঠিন, তরল, বায়বীয় এবং প্লাজমা চারটি অবস্থায় থাকতে পারে। এই চার অবস্থায় থাকার কারণ পদার্থের মধ্যকার তাপমাত্রা বা শক্তির পার্থক্য। 
- পদার্থের আণবিক গতি তত্ত্ব পদার্থের অবস্থা রূপান্তরের একটি মডেল হতে পারে। এই তত্ত্বটি অতি সরল কিন্তু পদার্থের ভৌত ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। 
- এই তত্ত্বের মূল কথা হলো বস্তু অসংখ্য ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে গঠিত যা হলো মূলত পরমাণু। 
- কতগুলো পরমাণু মিলে গঠিত হয় একটি অণু, এই অণুগুলো নিয়ত গতিশীল। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে কণিকাগুলো গতিশীল কিন্তু তা দেখা সম্ভব নয়। 
- একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে প্রতিটি কণা অবিরত কম্পিত হচ্ছে। 
- এদের মধ্যকার প্রবল আন্তঃআণবিক শক্তি কণাগুলোকে পরস্পর থেকে বিছিন্ন হতে দেয় না, তাই কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার আয়তন বজায় থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থ থেকে তরল অবস্থায় আসতে পদার্থ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে। 
- এ অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তির কারণে কণিকাগুলো গতির বিস্তার বৃদ্ধি পায় বা কণাগুলো মধ্যের দূরত্ব বেশি হয় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু একেবারে লুপ্ত হয় না। 
- সামান্য আকর্ষণ বলের কারণে কণিকা গুচ্ছগুলো পাত্রের মধ্যে থাকে। একারণে এটি পাত্রের যে কোন স্থানে সরে যায় এবং পাত্রের আকার গ্রহণ করতে পারে। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- বায়বীয় অবস্থায় পদার্থের মধ্যে আরও অনেক বেশি শক্তি যোগ হয় তখন কণিকাগুলোর গতি অত্যন্ত বেড়ে যায় এলোমেলোভাবে সবদিকে ছুটাছুটি করে পরস্পরের থেকে অনেক দূরত্বে চলে যায়। 
- তখন এই পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই নগন্য হয়ে যায়। 
- এজন্য বায়বীয় অবস্থায় বস্তুর কোন আকার বা আয়তন নাই এবং অত্যন্ত সংকোচনশীল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ
  2. খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া
  3. জ্বালানির দহন
  4. সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ
ব্যাখ্যা
ভৌত পরিবর্তন: 
- ভৌত পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না। 
অর্থাৎ, এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে। যেমন- চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ, লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া এবং উত্তপ্ত করলে পুনরায় লবণ পাওয়া, কিংবা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের উত্তাপে বাষ্পীভূত হয়ে পুনরায় কঠিন হয়ে জমাট বাঁধা—এসবই ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণুসমূহের মধ্যবর্তী বন্ধন ভেঙ্গে নতুন বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- অণুস্থিত পরমাণুসূহের বন্ধন ভাঙ্গা ও নতুন বন্ধন সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে, এটি একটি স্থায়ী পরিবর্তন। 
- মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে মূল পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক উভয় প্রকার ধর্মই পরিবর্তিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি দহন, খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ, এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন গ্যাস বা কঠিন পদার্থের উৎপত্তি সবই রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এ পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয় এবং শক্তির রূপান্তর ঘটে। 
 
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৩.
কোনটি থার্মোসেটিং পলিমার? 
  1. স্টার্চ 
  2. ফাইবার গ্লাস 
  3. সেলুলোজ 
  4. রাবার 
সঠিক উত্তর:
ফাইবার গ্লাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইবার গ্লাস 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
যেমন- ১। থার্মোপ্লাস্টিক ও ২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক। 

থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক: 
- থার্মোসেটিং প্লাষ্টিকের ক্ষেত্রে এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়। 
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়। 
- এ জাতীয় পলিমার অণুতে পরমাণুগুলোর শিকলের মধ্যে সমযোজী এবং পার্শ্ববর্তী শিকলের গঠনের সাথে দৃঢ়ভাবে হাইড্রোজেন বন্ধন বর্তমান থাকে। 
যেমন- ব্যাকেলাইট প্লাষ্টিক, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৪.
Which of the following indicates an acidic value on the pH scale?
  1. 8
  2. 7
  3. 4
  4. 9
  5. 10
সঠিক উত্তর:
4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4
ব্যাখ্যা
• pH স্কেলের প্রদত্ত মানগুলোর মধ্যে এসিডিক বা অম্লীয় মান হলো 4। 

• pH:

- pH হলো হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। 

• pH স্কেল ব্যবহার করে একটি দ্রবণের অম্লীয় (acidic) বা ক্ষারীয় (basic) প্রকৃতি বোঝা যায়।
- দ্রবণের pH এর মান 7 হলে বোঝায় দ্রবণটি নিরপেক্ষ। 
- pH এর মান 7 এর বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় হয়। 
- pH এর মান 7 এর কম হলে দ্রবণটি অম্লীয় হয়। 

• pH স্কেলে কোন দ্রবণের pH এর মান 0 থেকে 6 এর মধ্যবর্তী হলে দ্রবণটির প্রকৃতি হবে এসিডিক বা অম্লীয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৪২৫.
কোন ধরণের জৈব যৌগে কার্বন-কার্বন একক বন্ধন থাকে?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যাালকিন
  3. অ্যাালকাইন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলো
উত্তরপত্রের ইনপুট ও ব্যাখ্যা পরিবর্তন করা হয়েছে। 
-------------------- 

অ্যালকেন: 
- কার্বন-কার্বন একক বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকেন বলা হয়। 
- অ্যালকেন শুধুমাত্র হাইড্রোজেন এবং কার্বন পরমাণূ দ্বারা গঠিত যারা একক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
- অ্যালকেনের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো CnH2n+2। 

- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অন্যদিকে, 
- কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকিন বলা হয়। 
- কার্বন-কার্বন ত্রি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকাইন বলা হয়। 

উল্লেখ্য, অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন তিনটি যৌগেই কার্বন-কার্বন একক বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৬.
‘মিথাইল অরেঞ্জ’ নামক নির্দেশক এসিড দ্রবণে কি ধরনের বর্ণ নির্দেশ করে? 
  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. কমলা
  4. নীল
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা
নির্দেশক:
- যেসব রাসায়নিক পদার্থ অম্ল–ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে নিজ বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্রিয়ায় শেষবিন্দু নির্দেশ করে তাকে অম্ল ক্ষারক নির্দেশক বলে।



উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র। 
৪২৭.
কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত লবণ নিচের কোনটি? 
  1. CuSO4
  2. NH4NO3
  3. Na2CO3
  4. KNO3
সঠিক উত্তর:
CuSO4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CuSO4
ব্যাখ্যা

- কপার সালফেট (CuSO4) যা তুঁতে নামে পরিচিত, এটি কৃষিতে ব্যাপকভাবে একটি ব্যাকটেরিয়ানাশক এবং ছত্রাকনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়া এবং কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতার কারণে বহুল ব্যবহৃত হয়। 

লবণ: 

- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২৮.
নিচের কোনটি ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস?
  1. 2, 8, 2
  2. 2, 8, 8, 1
  3. 2, 8, 8, 2
  4. 2, 8, 10
সঠিক উত্তর:
2, 8, 8, 2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2, 8, 8, 2
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ২০। 

প্রথম শক্তিস্তর(K) এ ইলেকট্রন আছে ২ টি। 
২য় শক্তিস্তর(L) এ ইলেকট্রন আছে ৮ টি ।
৩য় শক্তিস্তর(M) এ ইলেকট্রন আছে ৮ টি । 
৪র্থ শক্তিস্তর(N) এ ইলেকট্রন আছে ২ টি । 

∴ ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 8, 2

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৯.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ?
  1. H2S
  2. O2
  3. HNO3
  4. H2SO4
সঠিক উত্তর:
H2S
উত্তর
সঠিক উত্তর:
H2S
ব্যাখ্যা
বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S, H2O2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- SO2, O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য যে, 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: 
১. রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।
৪৩০.
নিচের কোন মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা সবচেয়ে কম?
  1. N
  2. O
  3. Li
  4. F
সঠিক উত্তর:
Li
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Li
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ঋণাত্মকতার উপর বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাব: 
- সমযোজী বন্ধনে অংশগ্রহণকারী পরমাণুদ্বয়ের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন একটি পরমাণু কর্তৃক নিজের দিকে টেনে নেওয়ার তুলনামূলক ক্ষমতাকে ঐ পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে। 
- মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা যেসব নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয় তা হলো - 
(i) পরমাণুর আকার, 
(ii) উপস্তর এবং 
(iii) ইলেকট্রন বিন্যাস। 
- নিম্নে নিয়ামকসমূহের প্রভাব বর্ণনা করা হলো- 

পরমাণুর আকার (Size of Atom): 
- পরমাণুর আকার বৃদ্ধিতে পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে সর্বশেষ শক্তিস্তর দূরে সরে যায় তাই বন্ধনে অংশগ্রহণকারী শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড়ের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায় এবং পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়। 
- গ্রুপ-17 এর মৌলসমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান নিম্নে দেওয়া হলো: F = 4.0, Cl = 3.0, Br = 2.8, I = 2.5, At = 2.2  । 

নিউক্লিয়ার চার্জ (Nuclear Charge): 
- পরমাণুর নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধির সাথে মৌলের ইলেকট্রোনেগেটিভিটি সম্পর্কিত। 
- নিউক্লিয়ার চার্জ যত বেশি হবে ঐ নিউক্লিয়ার কর্তৃক সর্বশেষ স্তরের ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ তত বেশি প্রবল হয়। 
- দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌলসমূহের Li(3) হতে F(7) পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে নিউক্লিয়াসে একটি করে প্রোটন যুক্ত হয় এবং শেষ শক্তিস্তরে একটি করে ইলেকট্রন যুক্ত হয়। 
অর্থাৎ ক্রমান্বয়ে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধিতে নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধি পায় এবং মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মানও বৃদ্ধি পেতে থাকে। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩১.
pH স্কেলে নিরপেক্ষ দ্রবণ কী বর্ণ প্রদর্শন করে?
  1. লাল
  2. নীল
  3. সবুজ
  4. হলুদ
সঠিক উত্তর:
সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ
ব্যাখ্যা
pH স্কেলে তীব্র ক্ষার দ্রবণ বেগুনী এবং তীব্র এসিড দ্রবণ লাল বর্ণ ধারণ করে।
মৃদু ক্ষার নীলাভ বর্ণ এবং মৃদু এসিড হলুদাভ বর্ণের হয়।
আর নিরপেক্ষ দ্রবণ হলে pH স্কেল সবুজ বর্ণের হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪৩২.
মেন্ডেলিভের সারণি কোন ভিত্তিতে সাজানো ছিল?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. ইলেক্ট্রন সংখ্যা
  4. রাসায়নিক ধর্ম
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
ব্যাখ্যা

• মেন্ডেলিভের সারণি মূলত পারমাণবিক ভরের ক্রমে সাজানো হয়েছিল।

• মেন্ডেলিভের অবদান:
- দিমিত্রি মেন্ডেলিভ (Dmitri Mendeleev) ১৮৬৯ সালে প্রথম পর্যায়িক সারণি তৈরি করেন।
- তিনি রসায়নের রাসায়নিক ধর্ম এবং পারমাণবিক ভরের ভিত্তিতে মৌলগুলো সাজান।
- মেন্ডেলিভ মৌলগুলোকে উর্ধ্বক্রমে পারমাণবিক ভরের ভিত্তিতে সাজান।
- একই ধরনের রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট মৌলগুলো একই কলামে (গ্রুপ) রাখা হয়।
- সারণিতে কিছু খালি ঘর রাখার মাধ্যমে তিনি নতুন আবিষ্কৃত বা অজানা মৌলগুলো পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হন। যেমন: গ্যালিয়াম (Ga), জার্মেনিয়াম (Ge) ইত্যাদির পূর্বাভাস মেন্ডেলিভ করেছিলেন।

• সীমাবদ্ধতা:
- পারমাণবিক ভর ব্যবহার করার কারণে কিছু মৌল গ্রুপ ক্রমে পুরোপুরি সঠিক ছিল না।
- পরে হেনরি মোসলে (Henry Moseley) পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সারণি সাজিয়ে সমস্যার সমাধান করেন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৪৩৩.
নিচের কোনটি মুদ্রা ধাতু নয়?
  1. ক) সোডিয়াম
  2. খ) কপার
  3. গ) সিলভার
  4. ঘ) গোল্ড
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

মুদ্রা ধাতু:
গ্রুপ-11 এর এটি মৌল হচ্ছে - কপার, সিলভার, গােল্ড এবং রন্টজেনিয়াম।
এই চারটি মৌলেরমধ্যে প্রথম 3টি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়।
কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম (Rg) ছাড়া অন্য যে 3টি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতাে এবং ব্যবসা। বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতাে।
উৎস: নবম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান।

৪৩৪.
বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পলিথিন তৈরি করা হয় নিচের কোন প্রভাবক ব্যবহার করে?
  1. ক) NO
  2. খ) N2
  3. গ) O2
  4. ঘ) V2O5
সঠিক উত্তর:
গ) O2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) O2
ব্যাখ্যা
পলিমারকরণ:
- কৃত্রিম পলিমারগুলো  পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করা হয়।
- যে প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মনোমার যুক্ত হয়ে উচ্চ আণবিক ভরবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে পলিমারকরণ (Polymerisation) বলে। সাধারণত পলিমারকরণে উচ্চচাপ ও তাপের প্রয়োজন হয়।
- দুটি মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে ডাইমার তৈরি হয়, অনুরূপভাবে তিনটি মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে ট্রাইমার এবং অসংখ্য বা n সংখ্যক মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয়।
       ১টি মনোমার + ১টি মনোমার → মনোমার-মনোমার বা (মনোমার)
       ১টি মনোমার + ১টি মনোমার + ১টি মনোমার → মনোমার-মনোমার-মনোমার বা (মনোমার)
       n মনোমার → (মনোমার)n
- ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পলিথিন উৎপন্ন হয়। তবে বিক্রিয়াটি দ্রুত করার জন্য অক্সিজেন গ্যাসকে প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উচ্চ চাপ পদ্ধতিটি জটিল হওয়ায় বর্তমানে পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয় না।
- এখন বায়ুমণ্ডলীয় চাপে টাইটেনিয়াম ট্রাইক্লোরাইড (TiCl3) প্রভাবক ব্যবহার করে পলিথিন তৈরি করা হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৫.
বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক কত?
  1. 0°C
  2. 100°C
  3. -10°C
  4. -4°C
সঠিক উত্তর:
0°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0°C
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক 0°C।  

গলন
- তাপ প্রয়োগে কোনো পদার্থের কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে গলন বলে।
- 1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রয়োগের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থের একটি নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক থাকে।
- উদাহরণ: 1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক 0°C।

স্ফুটন
- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রয়োগের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- উদাহরণ: 1.0 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।

ঘনীভবন
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্য তাপ দিতে হয়।
- ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৪৩৬.
জৈব এসিডে কোন মূলক উপস্থিত থাকে?
  1. -COOH
  2. -SO4
  3. -OH
  4. -NH2
সঠিক উত্তর:
-COOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-COOH
ব্যাখ্যা

জৈব এসিডে -COOH মূলক উপস্থিত থাকে। 

এসিডের শ্রেণিবিভাগ:
জৈব এসিড (Organic Acid):
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO₃H) উপস্থিত থাকে।
- এরা অম্লধর্ম প্রকাশ করে।
- কার্বনিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড ছাড়া উল্লেখিত সব এসিড জৈব এসিড।
- জৈব এসিড শুধুমাত্র ফলমূলের মধ্যেই থাকে না; এটি সব অবস্থাতেই উপস্থিত থাকতে পারে।
- বাজারে কাঁচের বোতলে পাওয়া ভিনেগার মূলত ইথানোয়িক এসিড (CH₃-COOH)-এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণ।

অজৈব এসিড (Inorganic Acid):
- অজৈব যৌগ হলেও এরা টক স্বাদযুক্ত, নীল লিটমাসকে লাল করে।
- ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করলে হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) উৎপন্ন হয়।

অন্যদিকে, 
- সালফেট (-SO4),
- হাইড্রোক্সিল (-OH),
- অ্যামিনো (-NH2) মূলক জৈব এসিডের প্রধান মূলক নয়, বরং বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জন্য থাকে।
 
 উৎস: রসায়ন - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৪৩৭.
খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়? 
  1. স্টেরিলাইজেশন
  2. পাস্তুরাইজেশন
  3. রেফ্রিজারেশন
  4. ফারমেন্টেশন
সঠিক উত্তর:
স্টেরিলাইজেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেরিলাইজেশন
ব্যাখ্যা
স্টেরিলাইজিং বা রিটর্টিং বা নির্জীবকরণ: 
- সিলিং এর পর স্টেরিলাইজিং করা হয়। 
- যেসব খাদ্য এসিডিক সেক্ষেত্রে 90-100°C তাপমাত্রায় প্রায় 30 মিনিট তাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- যেসব খাদ্যে এসিড নেই অথবা খুব কম আছে সেক্ষেত্রে 121°C তাপমাত্রায় 1.5-2 ঘণ্টা ধরে তাপ প্রয়োগ করা হয়। কারণ 121°C তাপমাত্রায় জীবাণুর স্পোর বা কেলাস কাঠামো ভেঙে যায়। 
- এতে খাদ্য সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয় এবং কিছুটা রান্নার কাজও হয়। 
- যে ভৌত পদ্ধতিতে খাদ্য সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত হয় তাকে স্টেরিলাইজেশন বলে। 

অন্যদিকে, 
- পাস্তুরাইজেশন হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় জীবাণু ধ্বংসের প্রক্রিয়া, তবে সব জীবাণু ধ্বংস হয় না। 
- রেফ্রিজারেশন হলো ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করে জীবাণুর বৃদ্ধি ধীর করা হয়, ধ্বংস নয়। 
- ফারমেন্টেশন হচ্ছে ইস্ট বা ব্যাকটেরিয়া দিয়ে খাদ্যে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটানো হয়, যা স্বাদ ও সংরক্ষণে সাহায্য করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৮.
নিচের কোন খনিজটি ধাতব দ্যুতি প্রদর্শন করে?
  1. কোয়ার্টজ
  2. ট্যালক
  3. অ্যারাগনাইট
  4. পাইরাইটস
সঠিক উত্তর:
পাইরাইটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাইরাইটস
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
- ধাতব খনিজ পদার্থের মাঝে অন্যতম হলো লোহা (Fe), তামা (Cu), সোনা (Au) কিংবা রূপা (Ag)। 
- অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) কিংবা খনিজ লবণ। 
- কয়লা, গ্যাস, পেট্রোল এগুলোও খনিজ পদার্থ, তবে এদেরকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 

খনিজ পদার্থের ভৌত ধর্ম: 
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত দানাদার বা কেলাসাকার হয়। 
- অনেক খনিজ পদার্থ আছে, যাদের রাসায়নিক সংযুক্তি একই কিন্তু তাদের কেলাস গঠন ভিন্ন যে কারণে তাদের ভৌত ধর্মও ভিন্ন। 
যেমন- গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড। 
- যদিও দুটি পদার্থই কার্বন দিয়ে গঠিত, কিন্তু গঠনের ভিন্নতার কারণে গ্রাফাইট (যা পেন্সিলে ব্যবহার করা হয়) নরম হয় কিন্তু ডায়মন্ড বা হীরা এখন পর্যন্ত জানা খনিজের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ। 
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত কঠিন হয় এবং একেকটি খনিজের কাঠিন্য একেক রকম। 
- বেশি কঠিন খনিজ খুব সহজেই কম কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে; কিন্তু কম কঠিন খনিজ বেশি কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে না। 
- কাঠিন্য অনুযায়ী সবচেয়ে নরম খনিজ হলো ট্যালক (Talc), যা দিয়ে ট্যালকাম পাউডার তৈরি হয় এবং সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা বা ডায়মন্ড। 
- খনিজ পদার্থের নির্দিষ্ট দ্যুতি থাকে। 
- ধাতব খনিজ যেমন- পাইরাইটস ধাতুর মতোই দ্যুতি প্রদর্শন করে অর্থাৎ অনেকটা ধাতুর মতোই চকচক করে। 
- খনিজ হীরা অধাতু এবং এটিকে দেখে সাধারণ কাচের মতো মনে হতে পারে কিন্তু এটি কাটার পর এর দ্যুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 
- কিছু কিছু খনিজ পদার্থ আছে, যেগুলো খুব স্বচ্ছ এবং এর মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে। 
যেমন-কোয়ার্টজ বা সিলিকা । 
- আবার কিছু কিছু খনিজ পদার্থ আছে, যার মধ্য দিয়ে আলো প্রবেশ করলেও এর মধ্য দিয়ে কোনো বস্তু দেখা যায় না। 
যেমন- অ্যারাগনাইট। 
- অন্যদিকে এমন খনিজও আছে, যার মধ্য দিয়ে মোটেই আলো প্রবেশ করতে পারে না । 
যেমন- ক্যালসাইট (Calcite) বা চুনাপাথর। 

খনিজ পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম: 
- খনিজ পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম নির্ভর করে এতে বিদ্যমান উপাদানের উপর। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৯.
নিঃসরণ প্রক্রিয়া কোন অবস্থায় ঘটে?
  1. শুধুমাত্র তরল পদার্থে 
  2. পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়ামে
  3. পাত্রের ভেতরে ও বাইরে সমান চাপের সময় 
  4. কোনো স্থির তাপমাত্রায় 
সঠিক উত্তর:
পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়ামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়ামে
ব্যাখ্যা

ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যপ্তি ঘটানোর প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- উদাহরণস্বরূপ, ফুলের সুগন্ধ বা H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- এই প্রক্রিয়া ঘটে পদার্থের কণা বা অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে। 
- ব্যাপন হলো সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত, মন্থর প্রক্রিয়া, যেখানে গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একে অপরের সাথে সমান বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- একটি উদাহরণ হলো গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র দিয়ে বাতাস বের হয়ে যাওয়া। 
- নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে, যেখানে পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থায় থাকে। 
- নিঃসরণ হলো গ্যাসের দ্রুত প্রক্রিয়া যা অধিক চাপের প্রভাবে ঘটে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

৪৪০.
লোহার উপর মরিচা পড়া কী ধরনের বিক্রিয়া?
  1. ভৌত
  2. রাসায়নিক
  3. তাপীয়
  4. যান্ত্রিক
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক
ব্যাখ্যা
• লোহার উপর মরিচা পড়া হলো রাসায়নিক পরিবর্তন (বিক্রিয়া)।

• পদার্থের পরিবর্তন:
- পদার্থের পরিবর্তন বলতে কোনো পদার্থের অবস্থার বা গঠন প্রকৃতির পরিবর্তনকে বোঝায়। 

•  পদার্থের পরিবর্তন দুই প্রকার হয়। যথা-
- ভৌত পরিবর্তন
- রাসায়নিক পরিবর্তন

• রাসায়নিক পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হলো লোহায় মরিচা পড়া।
- আয়রন বা লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড বা মরিচা তৈরি করে।
- এতে ধাতুর পৃষ্ঠতল ক্ষয় হয়। মরিচা ঝাঁঝরা জাতীয় পদার্থ হওয়ায় এর ভিতর দিয়ে বাতাসের অক্সিজেন এবং জলীয় বাষ্প ঢুকে লোহার পৃষ্ঠকে ক্রমাগত ক্ষয় করতে থাকে।
- এভাবে লোহার তৈরি পুরো জিনিসটিই এক সময় নষ্ট হয়ে যায়।

• মরিচা পড়ার প্রক্রিয়া:
2Fe + 1.5O2 + 3H2O → 2Fe(OH)3
2Fe(OH)3 → Fe2O3 . nH2O (মরিচা)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৪৪১.
ক্যাথোডকে কী বলে?
  1. ধনাত্মক তড়িৎদ্বার
  2. ঋনাত্মক তড়িৎদ্বার
  3. নিরপেক্ষ তড়িৎদ্বার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঋনাত্মক তড়িৎদ্বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋনাত্মক তড়িৎদ্বার
ব্যাখ্যা
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন।
যথা-
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার।
• অ্যানোড তড়িৎদ্বার:
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে।
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়।

• ক্যাথোড তড়িৎদ্বার:
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে।
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪২.
ETP-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Emergency Transparent Plant
  2. Emergency Transparent Protocol
  3. Effluent Treatment Protocol
  4. Effluent Treatment Plant
সঠিক উত্তর:
Effluent Treatment Plant
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Effluent Treatment Plant
ব্যাখ্যা
ETP:
- ETP-এর পূর্ণরূপ: Effluent Treatment Plant.
- ইটিপি হলো শিল্প কারখানার বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা।
- রাসায়নিক শিল্প কারখানার তরল বর্জ্যে বিভিন্ন প্রকার দূষক পদার্থ থাকে।
- এ সব বর্জ্য পদার্থকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে পরিত্যাগের পূর্বে এদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকর পদার্থসমূহকে পৃথক করা প্রয়োজন।
- এ লক্ষ্যে প্রতিটি শিল্প কারখানার তরল বর্জ্য বিশোধিত প্লান্ট (Effluent Treatnent Plant) বা ইটিপি স্থাপন করা আবশ্যক।

উল্লেখ্য,
- রাসায়নিক শিল্প কারখানার তরল বর্জ্যকে effluent বলে।
- এ সকল বর্জ্যে বিভিন্ন দূষক পদার্থ থাকে যা বাতাস, পানি ও মাটি তথা সমগ্র পরিবেশ দূষিত করে।
- তাই শিল্প কারখানার এ সব বর্জ্য পদার্থকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে পরিত্যাগের পূর্বে এদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকর পদার্থসমূহকে পৃথক করা প্রয়োজন।
- শিল্পজাত তরল বর্জ্যের বিশোধনকল্পে প্রতিটি শিল্প কারখানায় তরল বর্জ্য বিশোধন প্লান্ট (Effluent Treatment Plant, ETP) স্থাপন করা আবশ্যক।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৩.
নিম্নলিখিত কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন নেই?
  1. হিলিয়াম
  2. লিথিয়াম
  3. কার্বন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৪.
রাসায়নিক অগ্নি নির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে -
  1. হাইড্রোজেন সরবরাহ করে
  2. নাইট্রোজেন সরবরাহ করে
  3. অক্সিজেন সরবরাহ করে
  4. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
- একটি নিরাপদ অগ্নিনির্বাপণ উপাদান হচ্ছে ড্রাই কার্বন- ডাই-অক্সাইড।
- যখন নির্বাপণ যন্ত্রের ভালব খোলা হয় তখন কার্বন-ডাই- অক্সাইড সম্প্রসারিত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়।
- যেহেতু কার্বন-ডাই-অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারী তাই এটি জ্বালানীর চারপাশ থেকে অক্সিজেনকে সরিয়ে দেয়।
- অক্সিজেনের অভাবে আগুন আর জ্বলতে পারে না।
- রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

উৎস: National Emergency Service website এবং Britannica.
৪৪৫.
লোহার উপর দস্তার আবরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. পেইন্টিং
  3. গ্যালভানাইজিং
  4. ক্রিস্টালাইজেশন
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানাইজিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানাইজিং
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৪৬.
কোনটি ধাতব খনিজের উদাহরণ?
  1. চুনাপাথর
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. লৌহ আকরিক
  4. কয়লা
সঠিক উত্তর:
লৌহ আকরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ আকরিক
ব্যাখ্যা

◉ ধাতব খনিজ (Metallic Minerals) থেকে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। লৌহ আকরিক (Iron Ore) থেকে লোহা আহরণ করা হয়, যা ইস্পাত ও অন্যান্য ধাতব পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• ধাতব-অধাতব খনিজ:
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে।
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। যথা:

১. ধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। যেমন:
- আয়রন (Fe),
- তামা (Cu),
- সোনা (Au),
- রূপা (Ag) ইত্যাদি।

২. অধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। যেমন:
- কোয়ার্টজ (Quartz),
- মাইকা (Mica),
- গ্রাফাইট,
- জিপসাম,
- কয়লা,
- খনিজ লবণ ইত্যাদি।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪৪৭.
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন-
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) জন ডাল্টন
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) মেন্ডেলিফ
সঠিক উত্তর:
ক) ডেমোক্রিটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪৪৮.
নিচের কোনটি সংকর ধাতুর উদাহরণ?
  1. বিশুদ্ধ লোহা
  2. বিশুদ্ধ স্বর্ণ
  3. স্টেইনলেস স্টিল
  4. বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
স্টেইনলেস স্টিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেইনলেস স্টিল
ব্যাখ্যা

- স্টেইনলেস স্টিল হলো লোহা এবং অন্যান্য মৌলের একটি সংকর ধাতু। এটি প্রধানত লোহা (Iron), ক্রোমিয়াম (Chromium) এবং সামান্য পরিমাণে নিকেল ও কার্বন মিশিয়ে তৈরি করা হয়, ক্রোমিয়াম যোগ করার ফলে এতে সহজে মরিচা ধরে না। 

সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন-
• বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
• আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের টেবিলে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যাবহার উল্লেখ করা হলো-


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৯.
pH স্কেল ব্যবহার করে কোনটি নির্ণয় করা হয়?
  1. দ্রবণের অম্লীয়তা বা ক্ষারীয়তা
  2. দ্রবণের ঘনত্ব
  3. দ্রবণের আর্দ্রতা 
  4. দ্রবণের তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
দ্রবণের অম্লীয়তা বা ক্ষারীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবণের অম্লীয়তা বা ক্ষারীয়তা
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫০.
অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্ল কোনটি? 
  1. ক) HNO3 + 3HCl
  2. খ) 2NO3 + 3HCl
  3. গ) 3HNO3 + 3HCl
  4. ঘ) 3HNO3 + HCl
সঠিক উত্তর:
ক) HNO3 + 3HCl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) HNO3 + 3HCl
ব্যাখ্যা
অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্ল
- এক মোল গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং তিন মোল গাঢ় হাইডোক্লোরিক এসিডের (HCl) মিশ্রণকে অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্ল বলে।
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যে কোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়।
৪৫১.
শুষ্ক বরফ কী?
  1. কঠিন নাইট্রোজেন
  2. কঠিন অক্সিজেন
  3. হিমায়িত পানি
  4. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ (Dry ice) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন ঘটে, অর্থাৎ এটি তার কঠিন অবস্থান থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হয়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা -78.5° C তাপমাত্রায় (বা -109.3° ফারেনহাইট) পরমানন্দ (sublimation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাসে পরিণত হয়। 
- এ কারণে এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৪৫২.
পাথরের তেল বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) পেট্রোলিয়াম
  2. খ) কয়লা
  3. গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) পেট্রোলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়ামকে পাথরের তেল বলা হয়। 

- পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায় নানা রকম কৃত্রিম বস্তু , এগুলো হলো টেরিলিন, পলিয়েস্টার, ক্যাশমিলন ইত্যাদি ।
- এছাড়া পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি হয় নানা রকম প্রসাধনী।
- এসব ব্যবহার থাকা সত্বেও এর মূল ব্যবহার জ্বালানি হিসেবে, পেট্রোলিয়াম জাত সামগ্রীর প্রধান ব্যবহার হলো বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক শক্তির উপাদান।
- পেট্রোলিয়াম একটি ল্যাটিন শব্দ। এটি তৈরি হয়েছে পেট্রো ও অলিয়াম মিলে।
- ল্যাটিন ভাষায় পেট্রো শব্দের অর্থ পাথর এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ তেল ।
- পেট্রোলিয়াম হলো পাথরের তেল অর্থাৎ পাথরের মধ্যে সঞ্চিত তেল
- টারশিয়ারি যুগে অর্থাৎ আজ থেকে পাঁচ ছয় কোটি বছর আগে সমুদ্রের তল দেশে পাললিক স্তরে গাছপালা ও সামুদ্রিক প্রাণী চাপা পড়ে যায়।
- বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে এরা রূপান্তরিত হয় খনিজ তেলে।
- আজকের স্থলভাগের অনেকাংশ প্রাগৈতিহাসিক যুগে সমুদ্রের তলদেশে ছিল।

সূত্র: ৭৮ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৩.
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ধাতু কোনটি?
  1. লোহা
  2. সিলিকন
  3. পারদ
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে যে ধাতুটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় তা হলো অ্যালুমিনিয়াম।
- ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%), লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬% ইত্যাদি। 
- অ্যালুমিনিয়াম অন্যান্য মৌলিক পদার্থের সাথে যৌগ গঠন করে অবস্থান করে যা অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক। 
যেমন- বক্সাইট, ক্রায়োলাইট, কোরানডাম ইত্যাদি। 

যেহেতু অ্যালুমিয়াম অপশনে নেই, তাই সঠিক উত্তর লোহা

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৪.
কোলেস্টেরল মূলত এক ধরনের-
  1. অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
  2. সম্পৃক্ত অ্যালকোহল
  3. জৈব এসিড
  4. এমিনো এসিড
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
• কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়।
- কোলেস্টেরলকে কঠিন বা অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল বলা হয়।
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদি রোগের আশংকা বেড়ে যায়।
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম-
- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein - HDL)। 
- নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein - LDL)। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৫.
প্লবতার মান পরিমাপের জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. তরলের ঘনত্ব
  2. বস্তুর আয়তন
  3. তরল বা বায়বীয় পদার্থের উচ্চতা
  4. বস্তুর অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজন
সঠিক উত্তর:
বস্তুর অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজন
ব্যাখ্যা
প্লবতা: 
- তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোন বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে ঊর্ধ্বমুখী বল বা চাপ প্রয়োগ করে, এই ঊর্ধ্বমুখী বলকে বলা হয় প্লবতা। 
- পানির মধ্যে একটি ফুটবল ডুবিয়ে ছেড়ে দিলে দেখা যায়, বলটিকে পানি কীভাবে ঊর্ধ্বমুখী ধাক্কা দিচ্ছে। 
- প্লবতার মান বস্তুর নিমজ্জিত অংশ কর্তৃক অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান হয়। 

প্লবতার মান: 
- তরলের মধ্যে একটি কঠিন বস্তু নিমজ্জিত করলে বস্তুর প্রতিটি বিন্দুতে তরল সর্বমুখী চাপ প্রয়োগ করে। 
- নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বল বা প্লবতা বস্তু কর্তৃক অপসারিত প্রবাহীর ওজনের সমান। 
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলের কারণে নিমজ্জিত বস্তুর ওজন কমে যায় বা ওজন হারায় বলে প্রতীয়মান হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৬.
স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়ার নাম কী? 
  1.  গলন 
  2. বাষ্পায়ন 
  3. ঘনীভবন 
  4.  উত্তপ্তকরণ 
সঠিক উত্তর:
ঘনীভবন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনীভবন 
ব্যাখ্যা

গলন (Melting): 
- তাপ প্রয়োগে কোনো পদার্থের কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। 
1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রয়োগের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। 
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থের একটি নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক থাকে। 
যেমন: 1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক 0°C । 

স্ফুটন (Boiling): 
- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে। 
1.0 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রয়োগের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে। 
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে। 
যেমন: 1.0 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C । 
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন। 
- স্ফুটনের জন্য তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৭.
তীব্র ক্ষার নয় কোনটি?
  1. NaOH
  2. Al(OH)3
  3. КОН
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
Al(OH)3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Al(OH)3
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৮.
নাইলন 6 : 6 উৎপাদনে কোন যৌগ ব্যবহৃত হয়না?
  1. HOOC - (CH2)4 - COOH
  2. NH2 - (CH2)6 - NH2
  3. TiO2
  4. NH3
সঠিক উত্তর:
NH3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NH3
৪৫৯.
হীরক কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. পেন্সিলের সীসে 
  2. যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশনে 
  3. বিদ্যুৎ পরিবাহীতে 
  4. কাচ কাটতে
সঠিক উত্তর:
কাচ কাটতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাচ কাটতে
ব্যাখ্যা

- হীরক বা হীরা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোরতম প্রাকৃতিক পদার্থ, এর এই চরম কাঠিন্যের কারণে এটি অত্যন্ত শক্ত বস্তু কাটতে বা ঘষতে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে কাচ কাটার জন্য হীরার ছোট টুকরো বা হীরা বসানো যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কঠিন শিলা ছিদ্র করার জন্য ড্রিল বিটেও হীরা ব্যবহৃত হয়। 

কার্বন অধাতুর ব্যবহার: 
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক। 
- হীরক কাচ কাটতে ব্যবহার করা হয়। 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬০.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু? 
  1. সোডিয়াম
  2. বেরিয়াম
  3. লিথিয়াম
  4. সিজিয়াম
সঠিক উত্তর:
বেরিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেরিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬১.
ধাতব খনিজ পদার্থের উদাহরণ কোনটি? 
  1. লোহা 
  2. কোয়ার্টজ 
  3. মাইকা 
  4. খনিজ লবণ 
সঠিক উত্তর:
লোহা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা 
ব্যাখ্যা

ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 
- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬২.
শুষ্ক বাতাসে কোন গ্যাসটির পরিমাণ সর্বাধিক?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. ঘ) আর্গন
সঠিক উত্তর:
খ) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

শুষ্ক বাতাসে ৭৮.০৯% নাইট্রোজেন,২০.৯৫% অক্সিজেন, ০.৯৩% আর্গন, ০.০৩% কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং সামান্য পরিমাণে অন্যান্য গ্যাস থাকে। বাতাসে এছাড়াও পরিবর্তনশীল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়েছে যার গড় প্রায় ১%।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান।

৪৬৩.
ফিটকিরি কোন ধরনের যৌগ?
  1. একলবণ
  2. দ্বি-লবণ
  3. অম্ল
  4. ক্ষার
সঠিক উত্তর:
দ্বি-লবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি-লবণ
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।

ফিটকিরি:
- প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার প্রচলিত।
- ফিটকিরি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম সালফার ও ২৪ অণু পানির যৌগ।
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4 )3. 24H2O] |
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে।
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত।

- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস।
- এটি সাধারণত কঠিন অবস্থায় বাজারে প্রচলিত।
- বিভিন্ন কাজে ফিটকিরি ব্যবহার করা হয়।
যেমন-
- এটি জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- কোথাও কেটে গেলে, ছিঁড়ে গেলে সেখানে পানিতে ভিজানো ফিটকিরি ঘষে দেওয়া হয়।
- ফিটকিরি কঠিন অবস্থায় থাকে বলে প্রথমে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হয় অথবা পানিতে দ্রবীভূত করে তা ক্ষতস্থানে লাগানো হয়।
- খাবার পানি বিশুদ্ধ বা জীবাণুমুক্ত করার জন্য এর সাথে পরিমাণমত ফিটকিরি ব্যবহারের ঘণ্টাখানেক আগে দিয়ে রাখা হয়।
- ফিটকিরি গলে গেলে পানি ছেঁকে নেয়া হয়।
- অনেকে দাড়ি কাটার পর এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরি ব্যবহার করেন।
- এটি আফটার সেভ লোশান হিসেবে কাজ করে। ফিটকিরি রক্তক্ষরণও বন্ধ করে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৪.
এক বায়ু মণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাংক:
  1. 25°C
  2. 0°C
  3. 39°C
  4. 100°C
সঠিক উত্তর:
0°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0°C
ব্যাখ্যা

গলন ও গলনাঙ্ক: 
- কোনো বস্তুর কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। 
- নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। 
- এক বায়ু মণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাংক 0°C, সমস্ত পদার্থ না গলা পর্যন্ত তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকে। 

স্ফুটন ও স্ফুটনাঙ্ক: 
- তাপ প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের দ্রুত বাষ্পীভবন ঘটানোর প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে। 
- যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের স্ফুটন সংঘটিত হয় তাকে ঐ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে। 
- এক বায়ু মণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৫.
সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক) ডিটারজেন্ট
  2. খ) সাবান
  3. গ) গ্লিসারিন
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান ও গ্লিসারিন উৎপন্ন করে। সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরির এ প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৪৬৬.
জারণ-বিজারণ একটি- 
  1. রেডক্স বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. আর্দ্র বিশ্লেষণ বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রেডক্স বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডক্স বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

জারণ-বিজারণ (Oxidation-Reduction) বিক্রিয়ায় একটি পদার্থ ইলেকট্রন দেয় (জারণ) এবং অপরটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে (বিজারণ)। এই ইলেকট্রনের আদান-প্রদানকে রেডক্স বিক্রিয়া বলা হয়। 

• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
• জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
• জারণ অর্ধবিক্রিয়া:  Na→ Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া: CI0 + e → CI- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

- এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + CI0 → Na+ + Cl-→NaCl

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস- নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই

৪৬৭.
নিচের কোনটি কলয়েড?
  1. ক) চিনির শরবত
  2. খ) ভিনেগার
  3. গ) দুধ
  4. ঘ) অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
গ) দুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুধ
ব্যাখ্যা
কলয়েড
- যে ধরনের মিশ্রণে অতি ক্ষুদ্র কোনো বস্তুকণা অপর বস্তুকণার মাঝে সাসপেন্ডেড বা ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং রেখে দিলে কখনই কোনো তলানি পড়ে না তাকে বলা হয় কলয়েড।
- কলয়েডে বিদ্যমান উপাদানগুলো একটি আরেকটিতে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু ছড়িয়ে থাকে।
- কলয়েডে যেটি প্রধান উপদান বা পরিমাণে বেশি থাকে, তাকে বলে অবিচ্ছিন্ন ফেজ বা দশা।
- আর যেটি কম পরিমাণে থাকে বা ছড়িয়ে থাকে, তাকে বলে ডিসপারসড ফেজ বা দশা। 

যেমন: দুধ হচ্ছে একটি কলয়েড, যা পানি ও চর্বি দিয়ে তৈরি। চর্বির ক্ষুদ্র কণাগুলো পানিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ঠিকই দেখা যায়।
- দুধের মতো কুয়াশা হচ্ছে আরেকটি কলয়েড, যেখানে পানির ছোট ছোট কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে থাকে। 
-আবার অ্যারোসলও কিন্তু এক ধরনের কলয়েড, যেখানে তরল কীটনাশকের কণাগুলো বাতাসে ভেসে থাকে।
- সাধারণত কলয়েডে বিদ্যমান ভাসমান কণাগুলোর আকার ১-১০০০ ন্যানোমিটার হয়ে থাকে। 
- আর যদি কণাগুলোর আকার ১ মাইক্রোমিটার বা তার বেশি হয়, তখন এটি আর কলয়েড না হয়ে সাসপেনসনে পরিণত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪৬৮.
ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ফসফেট
  2. আয়োডিন
  3. টেকনেশিয়াম
  4. ইরিডিয়াম
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ:
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনেশিয়াম-99 আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৯.
কোনটি জৈব অম্ল?
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. এসিটিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
এসিটিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসিটিক এসিড
ব্যাখ্যা
দুর্বল এসিড: 
- সাধারণত জৈব এসিড গুলো দুর্বল হয়ে থাকে। 
- বিভিন্ন শাকসবজি ফল-মূলে এ এসিডগুলো বিদ্যমান থাকে। 
- তাই জৈব এসিড খাওয়ার উপযোগী। 
যেমন: ইথানয়িক এসিড, টারটারিক এসিড, এসিটিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, এসকরবিক এসিড, ম্যালিক এসিড ইত্যাদি। 

শক্তিশালী এসিড: 
- অজৈব এসিড গুলো সাধারণত শক্তিশালী এসিড হয়ে থাকে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক। 
- তাই অজৈব এসিডগুলো খাওয়া যায় না। 
যেমন: হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭০.
প্রমাণ অবস্থায় এক মোল গ্যাসের আয়তন কত?
  1. 0.0224 লিটার
  2. 2.24 লিটার
  3. 0.224 লিটার
  4. 22.4 লিটার
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
ব্যাখ্যা

মোলার আয়তন: 
- যে কোনো উপাদানের এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা ভেদে মোলার আয়তন ভিন্ন ভিন্ন। 
- কঠিন ও তরল উপাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের এক মোলার আয়তন একই হয়। 
- প্রমাণ অবস্থায় এক মোল যে কোনো গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। 
- 0°C তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ চাপ বলে। 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটালে গ্যাসের আয়তনের বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার হ্রাস ঘটালে গ্যাসের আয়তনের হ্রাস ঘটে। 
- আবার গ্যাসের উপর আরোপিত চাপের বৃদ্ধি ঘটালে আয়তনের হ্রাস ঘটে। আরোপিত চাপের হ্রাস ঘটালে আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে। 
- এক মোল অণু = গ্রাম আণবিক ভর = 6.023×1023 টি অণু। আর প্রতিটির সম্পর্ক হলো যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। 

অর্থাৎ, 
• এক মোল অণু হাইড্রোজেন = 2 গ্রাম হাইড্রোজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অণু অক্সিজেন = 32 গ্রাম অক্সিজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অ্যামোনিয়া = 17 গ্রাম অ্যামোনিয়া = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল কার্বন ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭১.
কোন অ্যালকোহলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানীতে ব্যবহার করা হয় যা পরিবেশ বান্ধব?
  1. মিথানল 
  2. ইথানল
  3. প্রোপানল
  4. বেনজিন
সঠিক উত্তর:
ইথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল
ব্যাখ্যা

অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক।
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়, এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে; তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭২.
What is the chemical composition of baking powder?
  1. NaHCO3
  2. KCl
  3. NH4Cl
  4. CaCO3
  5. H2SO4
সঠিক উত্তর:
NaHCO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NaHCO3
ব্যাখ্যা
• বেকিং পাউডার:
- বেকিং পাউডার মূল উপাদান হলো সোডিয়াম বাই কার্বনেট। 
- কেক বা পিঠা ফোলানোর জন্য সাধারণত বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
- বেকিং পাউডারের মূল উপাদানের সংকেত NaHCO3.

অপশন আলোচনা:
- NaHCO3 - সোডিয়াম বাই কার্বনেট। 
- KCl - পটাসিয়াম ক্লোরাইড।
- NH4Cl - অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড।
- CaCO3 - ক্যালসিয়াম কার্বনেট।
- H2SO4 - সালফিউরিক এসিড।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৪৭৩.
ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা কত?
  1. 0
  2. + 1
  3. - 1
  4. + 2
সঠিক উত্তর:
+ 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+ 1
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 1
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৪.
রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফসফরাস–32 
  2. আয়োডিন–131 
  3. কোবাল্ট–60 
  4. ইরিডিয়াম–192 
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস–32 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস–32 
ব্যাখ্যা

- চিকিৎসাক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন প্রয়োজনে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হচ্ছে। 
যেমন- 
রোগ নির্ণয়ে: 
- আইসোটোপ ব্যবহার করে একজন রোগীর রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 (99Tc) কে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
- এই আইসোটোপ যখন শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয় তখন ঐ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ গামা রশ্মি বিকিরণ করে, তখন বাইরে থেকে গামা রশ্মি শনাক্তকরণ ক্যামেরা দিয়ে সেই স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 এর লাইফটাইম 6 ঘণ্টা। তাই সামান্য সময়েই এর তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায় বলে এটি অনেক নিরাপদ। 

রোগ নিরাময়ে: 
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 131I সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়। এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায় এবং এই আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
- এছাড়া ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়। 60C০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় 32p এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৫.
পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা কয়টি?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. প্রায় একশতটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা

- পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি, যথা- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- পরিমাণুর অস্থায়ী মূল কণিকার সংখ্যা প্রায় ১০০টি। পজিট্রন, নিউট্রিনো, মেসন, পাইওন ইত্যাদি কয়েকটি অস্থায়ী মূল কণিকার উদাহরণ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৭৬.
ওয়াশিং সোডা নামে পরিচিত কোনটি?
  1. সোডিয়াম কার্বনেট
  2. ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট
  3. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা

ওয়াশিং সোডা এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত Na2CO3 বা সোডিয়াম কার্বনেট যেটি কাপড়ের দাগ তুলতে সহায়তা করে।

source: www.thespruce.com

৪৭৭.
কোনটি নীল লিটমাসকে লাল করে? 
  1. ক্ষার
  2. ক্ষারক
  3. এসিড
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসিড
ব্যাখ্যা
এসিড: 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে। 
- এসিডে নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয়। 
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে। 
যেমন- এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড। 
- এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়। 

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১. এসিড স্বাদে টক। 
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে। 
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে। 
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন করে। 
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে। 
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী। 

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৮.
কোনটি সোডিয়ামের আকরিক?
  1. হেমাটাইট
  2. বক্সাইট
  3. জিপসাম
  4. রকসল্ট
সঠিক উত্তর:
রকসল্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রকসল্ট
ব্যাখ্যা
• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।

• ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি।

• আয়রন বা লোহার আকরিক:
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৯.
সাধারণত মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা কত এর বেশি হলে সেটি তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে?
  1. ক) ৮২
  2. খ) ৮৩
  3. গ) ৮৪
  4. ঘ) ৮৫
সঠিক উত্তর:
ক) ৮২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৮২
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয়তা:
ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে।
সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজষ্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায় -
১. তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩. তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪. এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮০.
'বক্সাইট' কোন খনিজের আকরিক? 
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. ক্যালসিয়াম
  3. আয়রন
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• বক্সাইট (Al2O3.2H2O) হলো অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক।

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 

- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৮১.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণাকে কী বলে?
  1. অণু
  2. পরমাণু
  3. ভরসংখ্যা
  4. নিউট্রন সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
ব্যাখ্যা
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮২.
নিচের কোনটি ল্যাটিন নাম থেকে উদ্ভূত মৌলের প্রতীক নয়?
  1. সিলভার (Ag)
  2. পটাসিয়াম (K)
  3. আয়রন (Fe)
  4. ক্রোমিয়াম (Cr)
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিয়াম (Cr)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিয়াম (Cr)
ব্যাখ্যা
- ল্যাটিন নাম থেকে উদ্ভূত মৌলের প্রতীক নয়- ক্রোমিয়াম (Cr)। 

মৌলের প্রতীক (Symbols of Elements): 

- কোনো মৌলের ইংরেজি বা ল্যাটিন নামের সংক্ষিপ্ত রূপকে প্রতীক বলে। 
- প্রত্যেকটি মৌলকে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে তাদের আলাদা আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। 
- মৌলের প্রতীক লিখতে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। 
যথা- 
১। প্রথমত মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে প্রতীক লেখা হয় এবং তা ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (Hydrogen) এর প্রতীক (H), কার্বন (Carbon) এর প্রতীক (C), অক্সিজেনের প্রতীক (O) ইত্যাদি। 


২। যদি দুই বা দুইয়ের অধিক মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর একই হয় তবে একটি মৌলকে নামের প্রথম অক্ষর (ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে প্রতীকটি দুই অক্ষরে লেখা হয়। নামের প্রথম অক্ষরটি ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের অক্ষর এবং নামের অন্য একটি অক্ষর ছোট হাতের অক্ষর দিয়ে লেখা হয়। 
যেমন- 


৩। কিছু মৌলের প্রতীক তাদের ল্যাটিন নাম থেকে নেওয়া হয়েছে। 
যেমন- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৩.
কোন পদার্থ পাত্রের সম্পূর্ণ আয়তন পূরণ করে? 
  1. গ্যাসীয় পদার্থ
  2. কঠিন পদার্থ
  3. তরল পদার্থ
  4. কঠিন ও তরল উভয়ই
সঠিক উত্তর:
গ্যাসীয় পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যাসীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ (Solids): 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে, একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি। 
- এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে, ফলে কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার হয়। 
- কঠিন পদার্থের উপর চাপ প্রয়োগ করলে এরা সংকুচিত হয় না। 
- আবার, তাপমাত্রা বাড়ালে কঠিন পদার্থের আয়তন খুবই কম পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলো চলাচল বা স্থান ত্যাগ করতে পারেনা, তবে নিজস্ব স্থানে কম্পন সৃষ্টি করতে পারে। 

তরল পদার্থ (Liquids): 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল পদার্থের কণাগুলো কঠিন পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিন পদার্থের চেয়ে কম হয়। 
- তরল পদার্থে চাপ প্রয়োগ করলে আয়তন হ্রাস পায় না। 
- তবে তাপ প্রয়োগ করলে তরল পদার্থের আয়তন বৃদ্ধি পায়, এই আয়তন বৃদ্ধির পরিমাণ কঠিন পদার্থের চেয়ে বেশি। 

গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থ (Gases): 
- গ্যাসীয় পদার্থের নিদিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ ভিন্ন ভিন্ন আয়তনের পাত্রে রাখলে পদার্থটি ধারক পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরল পদার্থের চেয়ে অনেক বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে, তাই এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 
- চাপ প্রয়োগ করলে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন অনেক কমে যায়। আবার, তাপ প্রয়োগ করলে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন অনেক বেড়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৪.
কোনটি হ্যালোজেন মৌল নয়?
  1. রেডন
  2. আয়োডিন
  3. টেনেসিন
  4. ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
রেডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডন
ব্যাখ্যা
• হ্যালোজেন মৌল:
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি।
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে।
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

• নিস্ক্রিয় মৌল:
- যে সব গ্যাসীয় মৌল রাসায়নিকভাবে নিস্ক্রিয় অর্থাৎ অন্য কোনো মৌলের সাথে সংযুক্ত হয় না, এমনকি নিজেদের মধ্যেও সংযুক্ত হয় না, সর্বদা এক পরমাণুক অবস্থা বিরাজ করে তাদেরকে নিস্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gas) বলে।
- নিস্ক্রিয় মৌল মোট ৭টি- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৫.
রাবার ক্ষয়প্রাপ্ত হয় নিচের কোনটি দ্বারা? 
  1. ক) দুর্বল এসিড
  2. খ) দুর্বল ক্ষার
  3. গ) জলীয় বাষ্প
  4. ঘ) ওজোন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওজোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওজোন
ব্যাখ্যা
রাবার:
- বর্তমান দুনিয়ায় রাবার একটি অতি প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য দ্রব্য। পেন্সিলের লেখা মোছার ইরেজার থেকে শুরু করে সাইকেল, রিক্সা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবার।
- এছাড়াও রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক শিল্পে, পানির পাইপ, সার্জিকেল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল ইত্যাদি প্রস্তুতিতে বিপুল পরিমাণ রাবার ব্যবহৃত হয়। 
- প্রাকৃতিক রাবার একটি অদানাদার, পানিতে অদ্রবণীয় কঠিন কিন্তু প্লাস্টিকের চেয়ে নরম পদার্থ। 
- রাবার জৈব দ্রাবক এসিটোন, মিথানল ইত্যাদিতে অদ্রবণীয় হলেও ইথার, টারপিন, পেট্রোল ইত্যাদিতে দ্রবণীয়। রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি তাপ সংবেদনশীল ও স্থিতিস্থাপক পদার্থ। বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ ও তাপ কুপরিবাহী। তবে বিশেষভাবে তৈরি রাবার বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে।
- অন্যান্য পদার্থে তাপ দিলে আয়তন বাড়ে কিন্তু রাবারে তাপ দিলে আয়তন কমে। 
- রাবার পানি, এসিড, দুর্বল ক্ষার ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। তাই প্রলেপ দেয়ার কাজে রাবারকে ব্যবহার করা হয়। 
- রাবার এসিড, ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া না করলেও বাতাসের অক্সিজেন দ্বারা আক্রান্ত হয়। অনুরূপভাবে প্রাকৃতিক রাবার ওজোনের (O₃) সাথে বিক্রিয়া করে, ফলে রাবার ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ও একসময় নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৮৬.
হাইড্রোজেন অপেক্ষা কম সক্রিয় মৌল কোনটি?
  1. সোডিয়াম
  2. লিথিয়াম
  3. সিলভার
  4. আয়রন
সঠিক উত্তর:
সিলভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন অপেক্ষা কম সক্রিয় মৌল হচ্ছে- সিলভার । 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকা অনুসারে, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু + লঘু এসিড → লবণ + হাইড্রোজেন। 
যেমন- অধিক সক্রিয় জিংক ধাতু ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা লঘু সালফিউরিক এসিড বা লঘু নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
• Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl2(aq) + H2(g) 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৭.
একটি কাচদণ্ডকে রেশম দ্বারা ঘষলে কী ঘটবে?
  1. ক) রেশম ও কাচদণ্ড উভয়ই ঋণাত্মক আধানে আহিত হবে
  2. খ) রেশম থেকে ইলেকট্রন কাচদণ্ডে যাবে
  3. গ) কাচদণ্ড থেকে ইলেকট্রন রেশমে যাবে
  4. ঘ) ইলেকট্রনের কোনো আদান-প্রদান হবে না
সঠিক উত্তর:
গ) কাচদণ্ড থেকে ইলেকট্রন রেশমে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাচদণ্ড থেকে ইলেকট্রন রেশমে যাবে
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অবস্থায় পদার্থের পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে।
- তবে প্রত্যেক পরমাণুই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ থাকে। ইলেকট্রনের প্রতি এই আসক্তি বিভিন্ন বস্তুতে বিভিন্ন রকম। তাই দুটি বস্তুকে যখন পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হয়, তখন যে বস্তুর ইলেকট্রন আসক্তি বেশি সে বস্তুটি অপর বস্তুটি থেকে মুক্ত ইলেকট্রন সংগ্রহ করে ঋণাত্মক আধানে আহিত হয়।   

- সাধারণ অবস্থায় কাচদণ্ডের পরমাণুসমূহে প্রোটন এবং ইলেকট্রণের সংখ্যা সমান থাকায় তা তড়িৎ নিরপেক্ষ থাকে।  
- কাচদণ্ডকে রেশমের কাপড় দিয়ে ঘর্ষণের ফলে কাচদণ্ডের পরমাণুসমূহ থেকে কিছু সংখ্যক ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে রেশমের কাপড়ের সাথে যুক্ত হয়।  
- রেশমের কাপড়ে ইলেকট্রন যুক্ত হওয়ায় এটি ঋণাত্মক তড়িতাহিত হয়।  
- অন্যদিকে কাচদণ্ডে ইলেকট্রন কমে যাওয়ায়, এতে ইলেকট্রনের সংখ্যার চেয়ে প্রোটনের সংখ্যা বেশি হয়, ফলে এটা ধনাত্মক তড়িতাহিত হয়। 

উৎস- এস.এস. সি পদার্থ বিজ্ঞান- ২য় পত্র (বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
৪৮৮.
কাঁদুনে গ্যাসের (Tear Gas) অপর নাম কী?
  1. ফসজিন
  2. বেনজাইল আয়োডাইড
  3. ক্লোরোপিক্রিন
  4. মিথাইল আইসোসায়ানেট
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপিক্রিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপিক্রিন
ব্যাখ্যা

• কাঁদুনে গ্যাসের (Tear Gas) অপর একটি নাম হলো ক্লোরোপিক্রিন (Chloropicrin)।
• কাঁদুনে গ্যাস: 
- কাঁদুনে গ্যাসকে তার কার্যকারিতার কারণে ল্যাক্রিমেটর (Lacrimator) নামেও ডাকা হয়। ল্যাক্রিমেটর কথাটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'lacrima' থেকে, যার অর্থ 'অশ্রু' বা 'জল'।
- কাঁদুনে গ্যাস কোনো একক রাসায়নিক নয়, বরং অনেক যৌগের একটি শ্রেণী। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• ক্লোরোপিক্রিন: এটি PS গ্যাস নামেও পরিচিত এবং এর রাসায়নিক সংকেত CCl3NO2 , এটি একটি কার্যকর ল্যাক্রিমেটর এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছিল।
• ক্লোরোঅ্যাসিটোফেনন: এটি CN গ্যাস নামে সুপরিচিত এবং বহু বছর ধরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়েছে।
• ২-ক্লোরোবেনজিলিডিন ম্যালোনোনাইট্রাইল: এটি CS গ্যাস নামে পরিচিত এবং এটিই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও শক্তিশালী কাঁদুনে গ্যাস।



উৎস: ব্রিটানিকা

৪৮৯.
pH হল-
  1. ক) এসিড নির্দেশক
  2. খ) ক্ষার নির্দেশক
  3. গ) নিরপেক্ষতা নির্দেশক
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
কোন রাসায়নিক পদার্থের pH এর মান যদি 7 এর কম হয় তাহলে সে পদার্থটি এসিড অন্যদিকে কোন রাসায়নিক পদার্থের pH এর মান 7 এর বেশি হয় সে পদার্থটি ক্ষার এবং পদার্থটির pH এর মন যদি বরাবর 7 হয় তাহলে পদার্থটি নিরপেক্ষ।
৪৯০.
ল্যান্থানাইড এবং অ্যাকটিনাইড সিরিজের মৌলসমূহ কোন ব্লকের?
  1. ক) s-ব্লক
  2. খ) p-ব্লক
  3. গ) d-ব্লক
  4. ঘ) f-ব্লক
সঠিক উত্তর:
ঘ) f-ব্লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) f-ব্লক
ব্যাখ্যা
f-ব্লক মৌল : যেসব মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ ইলেকট্রনটি f-অরবিটালে প্রবেশ করে সেসব মৌলকে f-ব্লক মৌল বলে ।
ল্যান্থানাইড (Lanthanides) এবং অ্যাকটিনাইড (Actinides) সিরিজের মৌলসমূহ f-ব্লকের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯১.
আঘাত করলে কোনো শব্দ হয় না কোনটিতে? 
  1. ক) Sb
  2. খ) Sn
  3. গ) Fe
  4. ঘ) Cu
সঠিক উত্তর:
ক) Sb
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Sb
ব্যাখ্যা
এন্টিমনি (Sb) -এই ধাতুকে আঘাত করলে কোনো শব্দ হয় না।
এটি একটি মৌলিক পদার্থ এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৫১।
এটি একটি চকচকে ধূসর ধাতু।
৪৯২.
কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়? 
  1. প্লাটিপাস
  2. ভেড়া
  3. লিমুলাস
  4. স্ফোনোডন
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৩.
সাবান প্রতির সময় একে শক্ত করতে কী ব্যবহৃত হয় ?
  1. NaOH
  2. KOH
  3. Na2CO3
  4. CaCO3
সঠিক উত্তর:
Na2CO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Na2CO3
ব্যাখ্যা
সাবান শিল্পে নিম্নলিখিত কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়ঃ
১। তৈল ও চর্বি : ট্যালো, পাম তেল, নারিকেল তেল, সোয়াবিন তেল, তুলা বীজ তেল ইত্যাদি।
২। ক্ষার : কস্টিক পটাস (KOH), কস্টিক সোডা (NaOH)।
৩। ফিলার : সাবানকে শক্ত করার জন্য ফিলার ব্যবহৃত হয়। যেমন- স্টার্ক, ট্যালক, সোডিয়াম কার্বনেট, বোরাক্স ইত্যাদি।
৪। রঞ্জক : চর্বিতে দ্রবণীয় কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল বিভিন্ন ধরনের অ্যাজোরঞ্জক সাবানে ব্যবহৃত হয়।
৫। সুগন্ধি : সাবানকে আর্কষণীয় ও জনপ্রিয় করার জন্য এতে বিভিন্ন প্রকারের সুগন্ধি ব্যবহৃত হয়। যেমন- ল্যাভেন্ডার তেল, বার্মোট তেল, সাইট্রোনল ও সিন্ট্রোনেলা তেল, জিরালিওল, লেমন ঘাস তেল প্রভৃতি।

সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৪.
গ্যাসীয় পদার্থে আন্তঃআণবিক দূরত্ব কেমন হয়?
  1. সর্বাধিক
  2. তরলের চেয়ে কম
  3. কঠিনের সমান
  4. সর্বনিম্ন 
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক
ব্যাখ্যা

- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলো একে অপরের থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে, যার ফলে এদের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান বা আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের বেলায় আস্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি ও আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল সবচেয়ে কম থাকে। তাই গ্যাসীয় অবস্থায় অণুসমূহ সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে। 
- তখন অণুসমূহ অধিকতর কম্পন, আবর্তন ও স্থানাস্তর গতি সহকারে আন্তঃআণবিক আকর্ষণকে উপেক্ষা করে মুক্তভাবে চলাচল করে। তখন অণুসমূহ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই গ্যাসের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই। 
- যেহেতু অণুসমূহ আর পরস্পরের নিকটে থাকে না, সেহেতু গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের আয়তন কঠিন বা তরল অবস্থা থেকে অনেক বেশি হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

৪৯৫.
নিচের কোন ধাতুর গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম?
  1. পারদ
  2. গ্যালিয়াম
  3. সীসা
  4. সিজিয়াম
সঠিক উত্তর:
পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ
ব্যাখ্যা
• গলনাঙ্ক:
- যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে, তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
- অপশনের পদার্থ গুলোর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম; যার মান -৩৮.৮৩°C।
- ফলে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল পদার্থ।

অন্যদিকে,
- গ্যালিয়াম এর গলনাঙ্ক - ২৯.৭৬৪৬ °সে।
- সীসার গলনাঙ্ক - ৩২৭°C।
- সিজিয়াম গলনাঙ্ক - ২৮.৪ °C ।

 উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৯৬.
নিচের কোনটি অজৈব যৌগ?
  1. ক) মরিচা
  2. খ) ইথেন
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) পেন্টাইন
সঠিক উত্তর:
ক) মরিচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মরিচা
ব্যাখ্যা
অজৈব যৌগ:

- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয়।
- এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।
- জৈব যৌগ: মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি।
- অজৈব যৌগ: পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৭.
কোন রাসায়নিক পদার্থ পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাকের মূল ভূমিকা পালন করে?
  1. সাইট্রিক অ্যাসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. ফরমিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাকের মূল ভূমিকা পালন করে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (Hydrochloric Acid)।

হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ভূমিকা:
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত একটি শক্তিশালী অ্যাসিড।
- এটি পাকস্থলীর ভেতরে একটি অত্যন্ত অম্লীয় পরিবেশ তৈরি করে (pH 1.5-3.5), যা খাবার হজমের জন্য অপরিহার্য।
- এই অম্লীয় পরিবেশের কারণে পেপসিনোজেন নামক নিষ্ক্রিয় এনজাইম সক্রিয় পেপসিনে রূপান্তরিত হয়, যা প্রোটিন পরিপাকে সাহায্য করে।
- এটি খাবারের সাথে আসা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতেও সহায়তা করে।
- হাইড্রোক্লোরিক এসিডের অম্লীয় পরিবেশ খাবারের জটিল উপাদানগুলোকে সহজে ভেঙে ফেলে, যা পরবর্তীতে ক্ষুদ্রান্তে শোষিত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
-  সাইট্রিক অ্যাসিড: সাধারণত লেবু জাতীয় ফলে পাওয়া যায়, যা পরিপাক প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নয়।
- এসিটিক এসিড: ভিনেগারের প্রধান উপাদান, যা মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে পরিপাকের জন্য উৎপন্ন হয় না।
- ফরমিক এসিড: মূলত পিঁপড়া এবং কিছু অন্যান্য পোকামাকড়ের দেহে পাওয়া যায় এবং এটি পরিপাক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৮.
ETP দিয়ে কী করা হয়?
  1. বায়ু দূষণ রোধ করা হয়।
  2. এসিড বৃষ্টি রোধ করা হয়।
  3. শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়।
  4. বর্জ্য পানি পরিশোধন করা হয়।
সঠিক উত্তর:
বর্জ্য পানি পরিশোধন করা হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্জ্য পানি পরিশোধন করা হয়।
ব্যাখ্যা
ইটিপি (ETP): 
- রাসায়নিক শিল্প কারখানার বর্জ্য পানি বা তরল পদার্থে জৈব ও অজৈব পদার্থ মিশ্রিত থাকে, এ বর্জ্য পানিকে effluent বলা হয়। 
- এরূপ শিল্প কারখানার effluent থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থকে পৃথক করার প্রক্রিয়াকে effluent treatment plant বা ETP বলে। 
- কারখানার প্রকৃতিভেদে বর্জ্য পানিতে দূষকের বিভিন্ন প্রকৃতি যেমন ধাতব আয়ন, জৈব পদার্থ ও জৈব যৌগ হতে পারে। 
- চন্দ্রঘোনার পেপার মিলের বর্জ্য দূষিত পানি দ্বারা কর্ণফুলি নদীর পানির দূষণ ঘটছে। 
- ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে ট্যানারির দূষিত বর্জ্য পানি দ্বারা দূষণ ঘটে চলেছে। 
- নদীর বর্জ্য দূষিত পানির মারাত্মক দূষণ প্রতিরোধ করতে ETP হলো আধুনিক চিন্তার গ্রিন কেমিস্ট্রির বারটি নীতির অন্যতম প্রয়োগ। 
- বাংলাদেশে বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শিল্প কারখানা জোন সৃষ্টি করে বিভিন্ন শিল্পের বর্জ্য পানিকে সমন্বিত প্রক্রিয়ায় কম্বাইন্ড ইটিপি বা CETP এর মাধ্যমে পরিশোধন প্রক্রিয়ার কার্যক্রম অনুমোদিত হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৪৯৯.
নিচের কোন যৌগটির জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির?
  1. NaCl 
  2. Na2SO4 
  3. Na2CO3 
  4. FeCl3
সঠিক উত্তর:
FeCl3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
FeCl3
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। 
- লবণের ধনাত্মক আয়নটি ক্ষার থেকে আসে, তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয়মূলক (Basic radical) বলে। 
- আর লবণের ঋণাত্মক আয়নটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে, তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক (Acid radical) বলে। 
- তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ প্রকৃতির। 
যেমন- NaCl, Na2SO4 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ। 
- তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির। 
যেমন- FeCl3, Zn(NO3)2 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ অম্লীয়। 
- তীব্র ক্ষার ও মৃদু এসিডের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 
যেমন- Na2CO3, CH3COONa (সোডিয়াম ইথানয়েট) ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০০.
বায়ুতে কোন গ্যাসটির অভাব হলে সামান্য আগুনেই পৃথিবীময় আগুন ছড়িয়ে পড়তো?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) জলীয়বাষ্প
সঠিক উত্তর:
গ) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- বায়ুর সক্রিয় অক্সিজেনের লঘুকারক হিসেবে নাইট্রোজেন বায়ুতে বিদ্যমান।
- নাইট্রোজেন না থাকলে বিশুদ্ধ অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসক্রিয়ার ফলে জীবদেহে এত বেশি তাপ উৎপন্ন হতো যে— জীবদেহ নিজের শরীরের তাপেই দগ্ধ হতো।   
- তাছাড়া শুধু অক্সিজেন দ্বারা দহন  ক্রিয়া এতো দ্রুত সংঘটিত হতো যে সামান্য আগুনেই পৃথিবীময় আগুন ছড়িয়ে পড়তো এবং অগ্নিনিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতো না। 
- এছাড়াও নাইট্রোজেন উদ্ভিদ ও জীবদেহে প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের প্রধান উপকরণ। 
- বায়ুস্থ নাইট্রোজেনকে কাজে লাগিয়ে সার ও বিভিন্ন রাসায়নি যৌগ বর্তমানে ব্যাপক হারে উৎপাদন ও ব্যবহার করা হচ্ছে।
 
উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।