বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৭ · ২০১৩০০ / ২,৬৯২

২০১.
প্রোটন এর আধান-
  1. ক) ঋণাত্মক
  2. খ) ধণাত্মক
  3. গ) নিরপেক্ষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ধণাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধণাত্মক
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা ।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11 × 10-28 গ্রাম ও 1.60 × 10-19 কুলম্ব।
- ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট।

প্রোটন
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা।
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়।
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান।
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67 × 10-24 গ্রাম ও 1.60× 10-19 কুলম্ব।
- ধণাত্মক আধান বিশিষ্ট।

নিউট্রন
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক (James Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 গ্রাম।

উৎস: রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২০২.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে গ্রুপের সংখ্যা-
  1. ক) ৭
  2. খ) ৯
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ১৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামে পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- পর্যায়গুলোকে ১ম পর্যায়, ২য় পর্যায়, ৩য় পর্যায়, ৪র্থ পর্যায়, ৫ম পর্যায়, ৬ষ্ঠ পর্যায়, ৭ম পর্যায় এভাবে ভাগ করা হয়েছে।
- আর গ্রুপগুলোকে যথাক্রমে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯,১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ গ্রুপ এভাবে সাজানো হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৩.
মুক্তার প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. ক) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  2. খ) ক্যালসিয়াম বাই কার্বনেট
  3. গ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা

মুক্তা বা মতি এক ধরনের রত্ন বিশেষ, যা শম্বুক জাতীয় প্রাণী ঝিনুকের অভ্যন্তরে তৈরি হয়। তবে সব ঝিনুকে মুক্তা থাকে না।
মাসল শ্রেণির ঝিনুকের পেটে মুক্তা হয়। এর রাসায়নিক উপাদান হলো কনকায়োলিন ক্যালসাইট এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
খাওয়ার সময় ঝিনুক যখন তার খোলস ফাঁক করে তখন যদি বালুর কণা বা অন্য কোনো কঠিন পদার্থের চূর্ণ তার দেহের মধ্যে ঢুকে যায় এবং চেষ্টা সত্ত্বেও সেটি বের করতে না পারে, তখন এই কণাটির জন্য ঝিনুকের দেহে প্রদাহ বা জ্বলনের সৃষ্টি হয়। তখন ঝিনুকের অঙ্গ থেকে সাদা ঘন আঠালো রস ক্ষরিত হয়ে বহিরাগত কণাটিকে বেষ্টন করে স্তরে স্তরে জমাট বাঁধতে থাকে। এই কঠিন জমাট বস্তুটিই ধীরে ধীরে মুক্তায় রূপান্তরিত হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaC03।
এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খােলস,শামুক,ডিমের খােসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণির বোর্ড বই ও USGS and others।

২০৪.
মৌমাছি হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ে সৃষ্ট জ্বালাপোড়া নিষ্ক্রিয় করতে নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. অ্যাপামিন
  2. মেলিটিন
  3. ক্যালামিন
  4. ফরমিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ক্যালামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালামিন
ব্যাখ্যা
ক্ষারকের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য: 
- নির্দেশকের সাথে বিক্রিয়ার মাধ্যমে রং পরিবর্তন করে। 
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে। 
- এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক আছে যেগুলো নিয়মিতভাবে পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- মিথাইল অরেঞ্জ, মিথাইল রেড, ফেনলফথেলিন ইত্যাদি রং পরিবর্তন করে। 
যেমন- 

- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• NaOH → Na+ + OH
• KOH → K+ + OH
• NH4OH → NH4+ + OH
- ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার: 
-  মৌমাছি হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড় দিলে জ্বলে কারণ পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। 
- আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন (Melittin) এবং অ্যাপামিন (Apamin) নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়াও হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়। 
- যেহেতু এসব ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, তাই এসিডকে নিষ্ক্রিয় করতে মলম, লোশন (যেমন-চুন) ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- এরকম একটি লোশন হলো ক্যালামিন (Calamine), যা মূলত জিংক কার্বোনেট (ZnCO3)। 
- বেকিং সোডা ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যায়। 

মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মাটিতে এসিডিটি বাড়লে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। তখন ক্ষারক ব্যবহার করে এসিডিটিকে প্রশমিত করা যায় এবং উর্বরতা ফিরিয়ে আনা যায়। 
- এক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ক্ষারক হলো চুন (CaO) এবং মিল্ক অব লাইম (Ca(OH)2)। 
- অবশ্য এ কাজে চুনাপাথরও (CaCO3) ব্যবহার করা হয়। 
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার নিত্যদিনের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু, যা ক্ষারীয়। খাওয়ার পরে সাধারণত মুখে এসিডীয় অবস্থা তৈরি হয়। আর টুথপেস্ট বা পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলে একদিকে যেমন দাঁত পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে তেমনি পেস্ট বা পাউডারের ক্ষার সৃষ্ট এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে। ফলে দাঁতের ক্ষয় রোধ হয়। 
- আবার থালা-বাসন পরিষ্কার করার জন্য যে শক্ত সাবান বা তরল সাবান ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতেও ক্ষারক থাকে। 
- এমনকি যে কাপড় কাচার সাবান ব্যবহার করা হয়, তাও তৈরি করা হয় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- একইভাবে শেভিং ফোম বা নরম সাবান তৈরি করা হয় পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির কারণে যে এন্টাসিড খাওয়া হয় তা হলো ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) নামের ক্ষার। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৫.
কৃষিজমিতে শৈবালের উৎপাদন বন্ধে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়? 
  1. NaCl
  2. KNO3
  3. Na2CO3
  4. CuSO4
সঠিক উত্তর:
CuSO4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CuSO4
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা এক প্রকারের লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- আবার বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়, ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৬.
পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH-এর মান কত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
pH:
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।

উল্লেখ্য,
- মাটির pH সাধারণত ৪-৮ হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH: ৭.৪৫।
- বিশুদ্ধ পানির pH: ৭।
- মূত্রে pH-এর মান ৭-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH ৬.৬ এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH: ২।
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান ৫৫।
- ক্ষুদ্রান্তরের উপযোগী pH হল ৮।


উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৭.
কাচ ও সিরিজ কাগজ তৈরিতে কোন খনিজটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. মাইকা
  2. ম্যাগনেটাইট
  3. চুনাপাথর 
  4. কোয়ার্টজ
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৮.
নিম্নের কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থ?
  1. কোয়ার্টজ
  2. লোহা
  3. মাইকা
  4. জিপসাম
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা

- লোহা একটি ধাতব খনিজ পদার্থ। ধাতব খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত শক্ত হয়, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করে এবং একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঔজ্জ্বল্য বা দ্যুতি থাকে। 

খনিজ পদার্থ: 

- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুই রকম হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au), 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২০৯.
গ্যালভানিক কোষে কোন ভিত্তিতে অ্যানোড ও ক্যাথোড নির্ধারিত হয়?
  1. ধাতুর সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করে
  2. তড়িৎ প্রবাহের শক্তির উপর ভিত্তি করে
  3. ধাতুর লবণের দ্রবণের তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে
  4. তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে
সঠিক উত্তর:
ধাতুর সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতুর সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করে
ব্যাখ্যা
গ্যালভানিক কোষ: 
- গ্যালভানিক কোষের ক্ষেত্রে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার গঠনের পদ্ধতি তড়িৎবিশ্লেষ্য কোষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- একটি ধাতব দন্ডকে ঐ ধাতুর লবণের দ্রবণের মধ্যে স্থাপন করা হয়। 
- এভাবে ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর দন্ডকে ঐ স্ব স্ব ধাতুর লবণের দ্রবণের মধ্যে স্থাপন করে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার গঠন করা হয়। তবে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার নির্ধারিত হয় ধাতুর সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করে। 
- তড়িৎদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত ধাতব দন্ড দুটোর মধ্যে অধিক সক্রিয় ধাতব দন্ডটি অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতব দন্ডটি ক্যাথোড তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। 
- গ্যালভানিক কোষের অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বারকে ব্যাটারির সাহায্যে সংযুক্ত না করে শুধু পরিবাহি তারের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। তবে নির্দেশক বাল্ব যুক্ত করে তড়িৎ প্রবাহকে নিশ্চিত করা হয়। 
- দুটো তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণকে লবণ সেতু দ্বারা সংযোগ করা হয়। 
- লবণ সেতুর মধ্যস্থ তড়িৎ বিশ্লেষ্য উভয় তড়িৎদ্বারের সাথে যুক্ত ধাতব লবণের দ্রবণের সাথে কোন বিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১০.
সোডিয়ামের ভরসংখ্যা কত?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১২
  3. গ) ২৩
  4. ঘ) ৩২
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩
ব্যাখ্যা

সোডিয়ামের একটি পরমাণুতে ১১টি প্রোটন এবং ১২টি নিউট্রন আছে।

তাই, সোডিয়ামের ভরসংখ্যা ১১+১২=২৩।
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ওই মৌলের ভরসংখ্যা বলে। অর্থাৎ, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

২১১.
লোহাকে গ্যালভানাইজিং করা হয় কোনটি ব্যবহার করে?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) দস্তা
  3. গ) নিকেল
  4. ঘ) টিন
সঠিক উত্তর:
খ) দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দস্তা
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রের উপর অন্য একটি কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেয়াকে ইলেক্ট্রোপ্লেটিং বলে।
কোনাে ধাতুর উপর জিংক বা দস্তার প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রের উপর টিনের প্রলেপ দেওয়া কে টিনপ্লেটিং বলা হয়।
রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানােকে ভলকানাইজিং বলে।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]

২১২.
৪র্থ শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা কত?
  1. 2
  2. 8
  3. 32
  4. 18
সঠিক উত্তর:
32
উত্তর
সঠিক উত্তর:
32
ব্যাখ্যা
বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
• ২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (2)2 = 8 টি, 
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (3)2 = 18 টি এবং 
৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (4)2 = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৩.
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সম্পর্কে কোন্ বিবৃতিটি মিথ্যা? 
  1. Ni-Cd ব্যাটারির তুলনায় এদের শক্তির ঘনত্ব বেশি 
  2. এতে লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড ক্যাথোড ব্যবহার করা হয় 
  3. 'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয় 
  4. এখানে অতিরিক্ত চার্জিং-এর ফলে আগুন লাগতে পারে
সঠিক উত্তর:
'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয় 
ব্যাখ্যা

- লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সম্পর্কে 'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয়- এই বিবৃতিটি মিথ্যা, কারণ মেমরি এফেক্ট (স্মৃতি প্রভাব) মূলত Ni-Cd ব্যাটারির একটি সমস্যা, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির নয়, বরং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির অতিরিক্ত চার্জিং বা সম্পূর্ণ ডিসচার্জ না করলে তাদের পারফরম্যান্স কিছুটা কমতে পারে কিন্তু মেমরি এফেক্ট হয় না। 

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি (Lithium ion Battary): 
- বিজ্ঞানী উইটিংহাম (Whittinghum) সর্বপ্রথম 1970 সালে লিথিয়াম ব্যাটারির প্রস্তাব করেন। 
- এটি একটি সেকেন্ডারী সেল। 

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির গঠন: 
- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির তিনটি মূল কার্যকরী উপাদান হচ্ছে ঋণাত্মক ইলেকট্রোড, ধনাত্মক ইলেকট্রোড এবং ইলেকট্রোলাইট। 
- ধনাত্মক তড়িৎদ্বার সাধারণত কার্বন হতে তৈরী করা হয়। ধনাত্মক তড়িৎদ্বার ধাতব অক্সাইডের তৈরী এবং ইলেকট্রোলাইট হচ্ছে জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত লিথিয়াম লবণ। 
- বানিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ঋণাত্মক ইলেকট্রোড হয় গ্রাফইট এবং ধনাত্মক ইলেকট্রোড হিসাবে নিম্নলিখিত তিনটি পদার্থের যে কোন একটি ব্যবহৃত হয়-
(i) লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড স্তর (Li-CoO2), 
(ii) লিথিয়াম আয়রন ফসফেট এবং 
(iii) লিথিয়াম ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড (Li-Mn2O4)। 
ইলেকট্রোলাইট হিসাবে ব্যবহৃত হয় জৈব কার্বনেটের মিশ্রণ। যেমন- লিথিয়ামের জটিল ইথিলিন কার্বনেট (EC) ডাইইথাইল কার্বনেট ইত্যাদি। 
- নিম্নে একটি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি গঠনচিত্র দেয়া হলো- 

- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সুবিধা ও অসুবিধা দেওয়া হলো- 
সুবিধা: 
১। বিভিন্ন আকার আকৃতির পাওয়া যায় যা বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে সাইজেই ফিট হয়। 
২। অন্যান্য ব্যাটারি হতে হালকা। 
৩। অন্যান্য জলীয় ব্যাটারি হতে এদের বিভব পার্থক্য অধিক (উন্মুক্ত সার্কিটে)। 
৪। কোন মেমোরী প্রভাব নেই। 
৫। অব্যবহৃত অবস্থায় চার্জ হারানোর হার কম (5-10%) অন্যান্য কার্যকারী ক্ষেত্রে হার 30% । 
৬। ব্যাটারির উপাদান পরিবেশগতভাবে বন্ধুভাবাপন্য। 

অসুবিধা: 
১। চার্জের ফলে ইলেক্ট্রোলাইটের মধ্যে জমাট বাধে যা আয়নের পরিবহনে বাধা দেয়। 
২। উচ্চ মাত্রায় চার্জ করা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যাটারির ধারকতা হারায়। 
৩। ২৫° C তাপমাত্রায় পূর্ণ চার্জের ফলে উভমূখীতা হারায়। 
৪। আভ্যন্তরীণ রোধ বেশি। 
৫। উচ্চ ক্ষমতার যন্ত্রের ক্ষেত্রে একটি বড় ব্যাটারি ব্যবহার অসুবিধা বরং একাধিক ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। 
৬। উচ্চ তাপমাত্রায় এ ব্যাটারি ব্যবহার বিপদজনক। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র (তড়িৎ রসায়ন), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৪.
দ্রবণ শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. ক্ষরণ
  2. জলপ্রপাত
  3. অনুধ্যান
  4. নিমজ্জন
সঠিক উত্তর:
ক্ষরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষরণ
ব্যাখ্যা
দ্রবণ: দ্রাব গলন; ক্ষরণ; তরলীভবন; solution।
বিগলন : গলে যাওয়া; দ্রবণ।

দ্রবণ (Solution):
কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়।
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়।
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয় ।
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয় ।

উৎস: Accessible Dictionary.
২১৫.
ধাতব কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়-
  1. লবণ
  2. পানি
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
◉ ধাতব কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়।

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- এসিডের অণুতে প্রতিস্থাপন যোগ্য হাইড্রোজেন বর্তমান থাকে।
- এ হাইড্রোজেন ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

ধাতব কার্বোনেট ও হাইড্রোজেন কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- এসিড ধাতব কার্বোনেট বা ধাতব হাইড্রোজেন কার্বোনেট এর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে থাকে। যেমন-
• Na2CO3(s) + 2HCl(aq) → 2NaCl(aq) + H2O(l) + CO2(g).
• NaHCO3(s) + HCl(aq) → NaCl(aq) + H2O(l) + CO2(g).

ধাতুর অক্সাইডের সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- এসিড ধাতুর অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ধাতুর অক্সাইড সমূহ ক্ষার ধর্মী এটির সাথে এসিডের বিক্রিয়া ঘটে।

ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- এসিড ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড ক্ষার বিধায় এটির সাথে এসিডের বিক্রিয়া ঘটে।
- এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়।
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়।
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৬.
পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকারে কী পরিবর্তন হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে বৃদ্ধি পায় পরে হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। 

• পর্যায় সারণি:

- যে সারণির মাধ্যমে মৌলিক পদার্থগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (atomic number) এবং ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ভিত্তিতে কতকগুলো ছকে সাজানো হয় তাকে পর্যায় সারণি বলা হয়। 

• পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় ও ১৮ টি গ্রুপ রয়েছে। 
- পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে মৌলের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বহিঃস্থ স্তর সংখ্যা একই থাকে।
- এর ফলে যেসব পরিবর্তন হয় তা নিম্নরূপ:
→ পারমাণবিক ব্যাসার্ধ:
- পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসের চার্জ বাড়ে, যা ইলেকট্রন ঘনত্বকে নিউক্লিয়াসের দিকে আকর্ষণ করে এবং এর ফলে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ হ্রাস পায়।  
- ফলে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। 
→ ধাতব ধর্ম:
- একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রন ত্যাগ করার প্রবণতা হ্রাস পায়।  
→ অধাতব ধর্ম:
- অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা বৃদ্ধি করে।  
→ তড়িৎ ঋণাত্মকতা:
- তড়িৎ ঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রনকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার প্রবণতা বাড়ে।  
→ ইলেকট্রন আসক্তি:
- ইলেকট্রন আসক্তি বাড়ে, কারণ পরমাণুগুলো সহজে একটি অতিরিক্ত ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২১৭.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি গ্রুপ আছে? 
  1. ৭ 
  2. ৮ 
  3. ১৮
  4. ২০ 
সঠিক উত্তর:
১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮
ব্যাখ্যা

আধুনিক পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- আধুনিক পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র আধুনিক পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৮.
পটাশ অ্যালামকে কী বলা হয়?
  1. ক) কস্টিক সোডা
  2. খ) ফিটকিরি
  3. গ) চুন
  4. ঘ) সাবান
সঠিক উত্তর:
খ) ফিটকিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফিটকিরি
ব্যাখ্যা
• পটাশ অ্যালামকে ফিটকিরি বলা হয়।

পটাশ অ্যালাম:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ। 
- পটাশ অ্যালাম সাধারণ মানুষের কাছে ফিটকিরি নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- এর রাসায়নিক সংকেত K2SO4.Al2(SO4)3 24H2O.

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৯.
স্বর্ণপাতের উপর আলফা কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন কে?
  1. রাদারফোর্ড
  2. জন ডাল্টন
  3. নিলস বোর
  4. ডেমোক্রিটাস
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। 
- তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।  
- ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। 
- ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। 
- বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২০.
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ এক ধরনের -
  1. জারণ বিজারণ বিক্রিয়া
  2. বিজারণ বিক্রিয়া
  3. জারণ বিক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জারণ বিজারণ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তিকে ATP এবং NADPH+H' নামক রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে CO2 বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে।
- এ প্রক্রিয়ায় দরকার হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। উৎপন্ন হয় শর্করা (গ্লুকোজ)। এ বিক্রিয়ায় উপজাত দ্রব্য হিসেবে অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়।
- সূর্যালোকের দরকার হয় মূল শক্তির জন্য এবং ক্লোরোফিল দরকার হয় সূর্য শক্তিকে শোষণ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের জন্য। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদে তৈরিকৃত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কান্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত হয়।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২২১.
সবচেয়ে ছোট অণু কোনটি?
  1. ক) CO2
  2. খ) H2O
  3. গ) H2
  4. ঘ) O2
সঠিক উত্তর:
গ) H2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) H2
ব্যাখ্যা
অণু:
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে।
আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে।

অণুর বৈশিষ্ট্য: 
- স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
- বস্তুর বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে।
- সব চেয়ে ছোট অণু হাইড্রোজেন অণু। 
- খালি চোখে দেখা যায় না।
- কোন চার্জ নাই।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি।
২২২.
জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিদ্যাকে কী বলা হয়? 
  1. Physiology
  2. Ecology
  3. Palaeontology
  4. Morphology
সঠিক উত্তর:
Palaeontology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Palaeontology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil): 
- ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- প্রাগৈতিহাসিক জীবের সাক্ষ্য বা চিহ্ন হিসেবে মোল্ড (mold), কাস্ট (cast), হাত বা পায়ের ছাপ, গমন পথ (track), ট্রেইল (trail), গর্ত (boring), মলাশ্ম বা কপ্রোলাইট (coprolite) কে জীবাশ্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- বিবর্তনের সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য এবং প্রামাণিক সাক্ষ্য (উপাদান) হচ্ছে জীবাশ্ম। 
- জীবাশ্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সংগ্রহ করতে হলে ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তর সম্বন্ধেও জ্ঞান লাভ করতে হয় বলে বিবর্তনের এই প্রমাণকে ভূতত্ত্বীয় প্রমাণও (geological evidence) বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- Physiology হচ্ছে জীবদেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে (যেমন—শ্বসন, রক্তসঞ্চালন)। 
- Ecology হলো জীব ও তাদের পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। 
- Morphology হচ্ছে জীবের গঠন ও আকৃতি নিয়ে আলোচনা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৩.
নিচের কোন মৌলটির প্রতীক এদের ল্যাটিন নাম থেকে নেয়া হয় নি?
  1. ক) I
  2. খ) Au
  3. গ) Pb
  4. ঘ) Fe
সঠিক উত্তর:
ক) I
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) I
ব্যাখ্যা
গোল্ডের প্রতীক Au নেয়া হয়েছে ল্যাটিন Aurum থেকে, লেড এর প্রতীক Pb নেয়া হয়েছে ল্যাটিন Plumbum থেকে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২২৪.
পরমাণু আধান নিরপেক্ষ হওয়ার কারণ কী? 
  1. নিউট্রন সংখ্যা বেশি 
  2. প্রোটন সংখ্যা ইলেকট্রনের চেয়ে বেশি 
  3. ইলেকট্রনের ভর খুব কম 
  4. প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান 
সঠিক উত্তর:
প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৫.
নিচের কোনটি লেড (Lead) এর প্রতীক?
  1. Pd
  2. Pb
  3. Ld
  4. Pm
সঠিক উত্তর:
Pb
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pb
ব্যাখ্যা
- লেড এর রাসায়নিক প্রতীক  Pb.
- এর পারমাণবিক প্রতীক ৮২।
- এর পারমাণবিক ভর ২০৭। 
- এটি গ্রুপ ১৪ তে অবস্থিত। 

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২২৬.
অক্সিজেনের যোজ্যতা কত?
  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. 4
সঠিক উত্তর:
2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2
ব্যাখ্যা

• অক্সিজেনের যোজ্যতা হলো 2। অর্থাৎ, এটি সর্বাধিক দুটি একক বা সমমানের বন্ধন তৈরি করতে পারে।

• যোজ্যতা:
- যোজ্যতা হলো একটি মৌলের ক্ষমতা কতটি হাইড্রোজেন বা অন্যান্য এক-ভ্যালেন্সি পরমাণুর সঙ্গে বন্ধন তৈরি করতে পারে তা নির্দেশ করে।
- এটি মৌলের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াশীলতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- পারমাণবিক সংখ্যা 8 → ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p4.
- সর্বশেষ কক্ষপথে ৬টি ইলেকট্রন আছে। 
- সর্বশেষ কক্ষপথে (৮ ইলেকট্রন) পেতে আরও ২টি ইলেকট্রন দরকার। 
- তাই অক্সিজেন সর্বাধিক ২টি বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম।

উদাহরণ:
- H2O: প্রতিটি হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সঙ্গে একটি একক বন্ধন তৈরি করেছে → মোট ২টি বন্ধন।
- O2: দুটি অক্সিজেন পরমাণুর মধ্যে দ্বিগুণ বন্ধন (double bond) আছে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৭.
নীল লিটমাস কাগজ কোন অবস্থায় লালবর্ণ ধারণ করে? 
  1. pH > 7 
  2. pH < 7
  3. pH = 7
  4. সব ক্ষেত্রেই 
সঠিক উত্তর:
pH < 7
উত্তর
সঠিক উত্তর:
pH < 7
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন।
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = -log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে; আবার দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। 
- এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৮.
ইলেক্ট্রনের আপেক্ষিক ভর -
  1. ক) 9.11 × 10-31 kg
  2. খ) 9.11 × 10-28 kg
  3. গ) 1.6 × 10-19 kg
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ইলেকট্রনের ভর =  9.11 × 10-31 kg
- এই ভর প্রোটন ও নিউট্রনের তুলনায় ১৮৪০ গুণ কম। তাই ইলেকট্রনের আপেক্ষিক ভর 0 ধরা হয়।
- ইলেক্ট্রনের চার্জ = 1.60217662 × 10-19 coulombs অথবা,  - 1.6 × 10-19 C
- ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন জে জে থমসন।

উৎসঃ রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৯.
ক্যালসিয়াম কার্বনেট হচ্ছে-
  1. ক) বেকিং সোডা
  2. খ) ব্লিচিং পাউডার
  3. গ) চুন
  4. ঘ) চক
সঠিক উত্তর:
ঘ) চক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চক
ব্যাখ্যা
- চক এর রাসায়নিক নামক্যালসিয়াম কার্বনেট,
- চুনের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম অক্সাইড,
- খাবার লবণের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড,
- ব্লিচিং পাউডারের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইড।
- বেকিং সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট৷
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩০.
মানুষের মাথার চুলে স্বাভাবিকভাবে কোন প্রকার প্রাকৃতিক তেল উৎপন্ন হয়?
  1. সানফ্লাওয়ার অয়েল
  2. মিনারেল অয়েল
  3. সিবাম অয়েল
  4. গ্লিসারিন অয়েল
সঠিক উত্তর:
সিবাম অয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিবাম অয়েল
ব্যাখ্যা
প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মানুষের মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩১.
বেকিং সোডা কোন ধরণের পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড উৎপন্ন করে? 
  1. লবণ
  2. ক্ষারীয়
  3. অম্লধর্মী
  4. নিউট্রাল
সঠিক উত্তর:
অম্লধর্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্লধর্মী
ব্যাখ্যা
বেকিং সোডা (Baking Soda): 
- বেকিং সোডা (NaHCO3) বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- বেকিং সোডা ব্যবহার করে খাবার তৈরির বেলায় খাবারের উপাদান হিসেবে ভিনেগার বা লেবুর রস বা টক দই অথবা অন্য এমন কোন উপাদান থাকে যা অম্লধর্মী। 
- এক্ষেত্রে বেকিং সোডা NaHCO3 খাবারের অম্ল উপাদানের (যেমন- ভিনেগার) সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড (H2CO3) এসিড উৎপন্ন করে। 
- H2CO3 সহজেই বিয়োজিত হয় এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে যা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে। 
- বেকিং পাউডার হচ্ছে NaHCO3 ও পটাশিয়াম বাই-টারটারেটের অথবা সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট এর মিশ্রণ। 
- এটিকে উত্তপ্ত করলে বেকিং পাউডার থেকে CO2 গ্যাস নির্গত হয় যা কেক বা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে। 
• NaHCO3 + KHC4H4O6K → NaC4H4O6 + H2O + CO2
• 3NaHCO3 + NaAl(SO4)2 → Al(OH)3 + 2Na2SO4 + 3CO2 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩২.
কঠিন জারক পদার্থ কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
  2. ফেরিক ক্লোরাইড
  3. ফ্লোরিন
  4. সালফিউরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ফেরিক ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরিক ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
• জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা।
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়।
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়।
- যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 প্রভৃতি জারক পদার্থ।
- ফ্লোরিন, ক্লোরিন, অক্সিজেন, ওজোন ইত্যাদি হলো গ্যাসীয় জারক পদার্থ।
- তরল ব্রোমিন, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড ইত্যাদি হলো তরল জারক পদার্থ।
- আয়োডিন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, ফেরিক ক্লোরাইড ইত্যাদি হলো কঠিন জারক পদার্থ।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী-নাগ।
২৩৩.
কোনটি মৌলিক গ্যাসের অণু হিসেবে পরিচিত?
  1. H2O
  2. O3
  3. N2
  4. NH3
সঠিক উত্তর:
N2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
N2
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন: 
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে। 
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। 
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি। 

- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে। 
- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে। 
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষন বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- ধাতব বন্ধন। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৪.
নিচের কোনটি তুলনামূলক অধিক সক্রিয় ধাতুর উদাহরণ?
  1. সোনা (Au)
  2. কপার (Cu)
  3. পটাসিয়াম (K)
  4. প্লাটিনাম (Pt)
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম (K)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম (K)
ব্যাখ্যা

ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজে পটাশিয়াম (K) তালিকার একদম উপরের দিকে অবস্থান করে, যার ফলে এটি অত্যন্ত সক্রিয়।
- অন্যদিকে কপার, সোনা এবং প্লাটিনাম তালিকার নিচের দিকে অবস্থিত এবং এরা তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় বা কম সক্রিয় ধাতু।

• সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়।
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়।
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়।
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়।
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।
 

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে।
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৫.
নিচের কোনটি সোডিয়ামের আকরিক?
  1. সল্টপিটার
  2. চিলি সল্টপিটার
  3. ডলোমাইট
  4. ক্রায়োলাইট
সঠিক উত্তর:
চিলি সল্টপিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিলি সল্টপিটার
ব্যাখ্যা

- রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, বোরাক্স ইত্যাদি হলো সোডিয়ামের আকরিক।
- সল্টপিটার হলো পটাশিয়ামের আকরিক।
- ডলোমাইট হলো ক্যালসিয়ামের আকরিক।
- ক্রায়োলাইট হলো অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২৩৬.
কোন প্রক্রিয়ায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে? 
  1. ব্যাপন 
  2. অভিস্রবণ 
  3. নিঃসরণ 
  4. প্রস্বেদন 
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন 
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২৩৭.
CNG এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) Compact Natural Gas
  2. খ) Composite Natural Gas
  3. গ) Compressed Natural Gas
  4. ঘ) Cold Neutral Gas
সঠিক উত্তর:
গ) Compressed Natural Gas
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Compressed Natural Gas
ব্যাখ্যা
- CNG পূর্ণরুপ "Compressed Natural Gas"
- এটি এক ধরনের জ্বালানি যা যানবাহনে পেট্রোল (পেট্রোল) এবং ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- সিএনজি মূলত মিথেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত, যা প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ থেকে আহরণ করা হয়।

সুবিধা: 
পরিবেশগত সুবিধা:
গ্যাসোলিন এবং ডিজেলের তুলনায় সিএনজিকে একটি পরিষ্কার জ্বালানী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এটি কার্বন মনোক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx), এবং কণা পদার্থের মতো দূষকগুলির কম নির্গমন উৎপন্ন করে।

খরচ সঞ্চয়:
সিএনজি প্রায়শই পেট্রোল এবং ডিজেলের চেয়ে বেশি সাশ্রয়ী হয়, এটি  যানবাহন এবং পাবলিক পরিবহনের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প।

অভ্যন্তরীণ প্রাপ্যতা:
অনেক দেশে উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে, যা শক্তি সুরক্ষায় অবদান রাখতে পারে এবং আমদানি করা পেট্রোলিয়ামের উপর নির্ভরতা হ্রাস করতে পারে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
২৩৮.
কোন ধরনের পদার্থ যেকোনো পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে?
  1. কঠিন
  2. তরল 
  3. বায়বীয় 
  4. পলিমার
সঠিক উত্তর:
বায়বীয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়বীয় 
ব্যাখ্যা

- বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার বা আয়তন নেই, একে যে কোনো পাত্রে রাখলে এটি সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে নেয়। বায়বীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বল অত্যন্ত কম এবং গতিশক্তি অনেক বেশি থাকে, ফলে অণুগুলো সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বদ্ধ পাত্রের পুরো জায়গা জুড়ে অবস্থান করে। 

পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩৯.
NaOH কী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) চুন প্রস্তুতিতে
  2. খ) প্রসাধনী হিসেবে
  3. গ) আতশবাজি হিসেবে
  4. ঘ) টয়লেট ক্লিনার হিসেবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) টয়লেট ক্লিনার হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টয়লেট ক্লিনার হিসেবে
ব্যাখ্যা
- যেসব ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদের বলে ক্ষার।
- NaOH, KOH, Ca(OH)2, NH4OH এরা সবাই ক্ষার। এদের কিন্তু ক্ষারকও বলা হয়।
- কোনো ক্ষারক একটি এসিডকে প্রশমন করলে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।
- বাসাবাড়িতে পরিচ্ছন্নতা কাজে ক্ষারজাতীয় পদার্থের বেশ ব্যবহার আছে। যেমন: NaOH টয়লেট ক্লিনার হিসেবে, NH4OH কাচ পরিষ্কারক হিসেবে, Ca(OH)2 দেওয়াল চুনকাম করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন বই।
২৪০.
প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে শূন্য (০)। 

আইসোেটাপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪১.
জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে কোন গ্রিনহাউস গ্যাস?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. মিথেন
  3. ক্লোরোফ্লোরা কার্বন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে যে  গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ সব চাইতে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড। 

জীবশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে তৈরি  গ্রিনহাউস গ্যাসে,
- কার্বন ডাই অক্সাইড - ৪৯%,
- ক্লোরোফ্লোরো কার্বন বা সিএফসি - ১৪% ,
- মিথেন - ১৮%,
-নাইট্রাস অক্সাইড - ৬%,
- অন্যান্য গ্যাস - ১৩% থাকে। 
- এদের মধ্যে কলকারখানা ও যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে কার্বন - ডাই - অক্সাইডের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

উৎস: নাসা ওইয়েবসাইট (climate.nasa.gov). 
২৪২.
এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোট মৌলিক পদার্থের সংখ্যা কত?
  1. ১১৬ টি
  2. ১১৭ টি
  3. ১১৮ টি
  4. ১১৯ টি
সঠিক উত্তর:
১১৮ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৮ টি
ব্যাখ্যা
• এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ১১৮ টি। 

• মৌলিক পদার্থ:
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
-  কিছু মৌলের উদাহরণ হলো নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ইত্যাদি।
- এ পর্যন্ত 118টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে 9৪টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।
- বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২৪৩.
বায়ুমণ্ডলে শতকরা কতভাগ আর্গন বিদ্যমান?
  1. ক) ৭৮.০
  2. খ) ০.৮
  3. গ) ০.৪১
  4. ঘ) ০.৩
সঠিক উত্তর:
খ) ০.৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ০.৮
ব্যাখ্যা

আয়তন অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের শতকরা পরিমাণ-
নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
অক্সিজেন- ২০.৭১%
আর্গন - ০.৮০%
কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
অন্যান্য গ্যাসসমূহ- ০.০২%
ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৪.
'উড স্পিরিট' হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. ইথানল
  2. ফারমেন্টেশন
  3. মিথানল
  4. এনজাইম
সঠিক উত্তর:
মিথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথানল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন:

মিথানল: মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit)

ইথানল: সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। প্রাপ্ত কাচামালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়।

ফারমেন্টেশন: জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। যেমন: শ্বেতসার
হতে ইথানল উৎপাদন।

এনজাইম: এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। যেমন, ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে।

ঈস্ট: ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। পচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ইস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। ইস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৫.
দুধে থাকে-
  1. সাইট্রিক এসিড
  2. ল্যাকটিক এসিড
  3. নাইট্রিক এসিড
  4. এসিটিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটিক এসিড
ব্যাখ্যা
- আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার গ্রহণ করে থাকি তার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের এসিড থাকে।
যেমন- 
• ভিনেগারে থাকে ইথানয়িক এসিড, 
দুধে থাকে ল্যাকটিক এসিড
• সফট ড্রিংকসে থাকে কার্বনিক এসিড, 
• কমলালেবু বা লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড, 
• তেতুলে থাকে টারটারিক এসিড, 
• চায়ে থাকে ট্যানিক এসিড। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৬.
সকল জৈব যৌগে কোন পরমাণুটি অবশ্যই বিদ্যমান থাকবে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ:
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৪৭.
অ্যান্টাসিড দ্রবণে pH এর মাত্রা কত?
  1. ≤ 6.5
  2. ≥ 7.0
  3. > 10
  4. > 14
সঠিক উত্তর:
≥ 7.0
উত্তর
সঠিক উত্তর:
≥ 7.0
ব্যাখ্যা

পানি কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তার পরিমাপক হলো pH. এর সীমা ০-১৪, যেখানে ৭ নিরপেক্ষতা নির্দেশ করে, ৭ এর নিচে অম্লতা নির্দেশ করে, এবং ৭ এর উপরে ক্ষারক নির্দেশ করে। অ্যান্টাসিড হলো ক্ষারকীয় দ্রবণ। তাই এর pH এর মাত্রা ৭.০ এর বেশি।

Source: usgs.gov

 
২৪৮.
কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে?
  1. ক) ডিজেল
  2. খ) পেট্রোল
  3. গ) অকটেন
  4. ঘ) সিএনজি
সঠিক উত্তর:
ক) ডিজেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডিজেল
ব্যাখ্যা

ডিজেল পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে।
Source: eia.gov

সালফারযুক্ত ডিজেল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে এর দহন প্রক্রিয়ায় সালফারের জারন থেকে সালফার অক্সাইড উৎপন্ন ও নির্গত হয়।
সালফার ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ বেশি হবে না কম হবে তা ডিজেলে উপস্থিত সালফারের উপর নির্ভর করে।
(http://doe.portal.gov.bd)

জেনে রাখা ভাল,
অন্যদিকে ডিজেল একটি হাইড্রোকার্বন হওয়ায় এটির দহনে সবসময়ই কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। সকল হাইড্রোকার্বনই এমন দহন বিক্রিয়া দেয়।
যুক্ত্রাষ্ট্রের Energy Information Administration (EIA) এর তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ডিজেল পোড়ানোর কারণে ৪৬১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গত হয়েছে। যা ঐ বৎসরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের শতকরা ৯ ভাগ।
(https://www.eia.gov)
প্রশ্ন - কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে? উত্তরঃ ডিজেল।
সালফার ডাই অক্সাইড বায়ুমন্ডলে যুক্ত হওয়ার পরিমাণ নির্ভর করে ডিজেলের সাথে সালফারের উপস্থিতির উপর।

তবে, মনে রাখতে হবে, ডিজেল পোড়ালে সবচেয়ে বেশি বায়ুমন্ডলে যুক্ত হয়- কার্বন ডাই অক্সাইড।
প্রশ্ন - ডিজেল পোড়ালে সবচেয়ে বেশি কোন গ্যাসটি বায়ুমণ্ডলে যুক্ত হয়?
উত্তর হবে - কার্বন ডাই অক্সাইড

Sources: Bangladesh Govt. & U.S. Energy Information Administration (EIA) Websites.

২৪৯.
ইটিপি কোন ধরনের বর্জ্য পরিশোধন করে?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. বস্তুকণা
সঠিক উত্তর:
তরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল
ব্যাখ্যা
- রাসায়নিক শিল্প কারখানার তরল বর্জ্যকে effluent বলে। 
- এ সকল বর্জ্যে বিভিন্ন দূষক পদার্থ থাকে যা বাতাস, পানি ও মাটি তথা সমগ্র পরিবেশ দূষিত করে। 
- তাই শিল্প কারখানার এ সব বর্জ্য পদার্থকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে পরিত্যাগের পূর্বে এদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকর পদার্থসমূহকে পৃথক করা প্রয়োজন। 
- শিল্পজাত তরল বর্জ্যের বিশোধনকল্পে প্রতিটি শিল্প কারখানায় তরল বর্জ্য বিশোধন প্লান্ট (Effluent Treatment Plant, ETP) স্থাপন করা আবশ্যক। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫০.
নিচের কোনটি অবস্থান্তর মৌল নয়?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সোডিয়াম
  4. ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

• পর্যায় সারণির গ্রুপ-৩ থেকে গ্রুপ-১২ এর মৌলগুলোকে অবস্থান্তর মৌল বলে। সোডিয়াম (Na) এর অবস্থান গ্রুপ-১ এ হওয়ায় এটি অবস্থান্তর মৌল নয়।

• অবস্থান্তর মৌল:
- অবস্থান্তর মৌল হলো সেই ধাতু যাদের d-অরবিটাল আংশিকভাবে পূর্ণ থাকে।
- সাধারণত এগুলো ডি-ব্লক মৌল হিসেবে পরিচিত, যা পিরিয়ডিক টেবিলের গ্রুপ ৩ থেকে ১২ এ থাকে।
- অবস্থান্তর মৌল বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে থাকতে পারে এবং তাদের যৌগ রঙিন হয়।

• বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ ঘনত্ব এবং উচ্চ গলনাঙ্ক।
- রঙিন যৌগ গঠন এবং ক্যাটালিস্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে প্রবেশ করতে সক্ষম।

• উদাহরণ:
- লোহা (Fe): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d6 4s2 → অবস্থান্তর মৌল।
- তামা (Cu): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d10 4s1 → অবস্থান্তর মৌল।
- ক্রোমিয়াম (Cr): ইলেকট্রন বিন্যাস 3d5 4s1 → অবস্থান্তর মৌল।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৫১.
স্টেইনলেস স্টিলের উপাদান নয়-
  1. ক) লোহা
  2. খ) দস্তা
  3. গ) ক্রোমিয়াম
  4. ঘ) নিকেল
সঠিক উত্তর:
খ) দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দস্তা
ব্যাখ্যা
স্টেইনলেস স্টিল ৭৪% লোহা, ১৮% ক্রোমিয়াম ও ৮% নিকেলের সংমিশ্রনে তৈরি।
সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
২৫২.
ফলিক এসিডের অন্য নাম কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন বি ১২
  2. খ) ভিটামিন বি ৬
  3. গ) ভিটামিন বি ১
  4. ঘ) ভিটামিন বি ৯
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন বি ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন বি ৯
ব্যাখ্যা
ফলিক এসিড ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অন্তর্গত এক প্রকার বি ভিটামিন। 
ফলিক এসিডের অন্য নাম ভিটামিন বি ৯। 
এর কাজ:
- রক্তকণিকা তৈরিতে অংশ নেয়।
- বংশগতির অন্যতম উপাদান ডিএনএ (DNA) গঠনে কাজ করে।
- কোষ গঠন ও বিভাজনে কাজ করে।

 কলিজা, মাছ, মাংস, বাদাম, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি এর ভালো উৎস।
 
Folate is the natural form of vitamin B9, water-soluble and naturally found in many foods. It is also added to foods and sold as a supplement in the form of folic acid; this form is actually better absorbed than that from food sources—85% vs. 50%, respectively. Folate helps to form DNA and RNA and is involved in protein metabolism.

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; https://www.hsph.harvard.edu/

২৫৩.
দৃশ্যমান আলোর মধ্যে কোন রঙ- এর আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) নীল
  2. খ) লাল
  3. গ) সবুজ
  4. ঘ) বেগুনী
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাল
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
২৫৪.
"আনারসে" কোন এসিড থাকে?
  1. এসকরবিক এসিড
  2. টারটারিক এসিড
  3. ম্যালিক এসিড
  4. অক্সালিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ম্যালিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যালিক এসিড
ব্যাখ্যা
- আনারসে ও আপেল থাকে ম্যালিক এসিড।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড।।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৫৫.
পর্যায় সারণীর কোন মৌলসমূহ রঙিন যৌগ গঠন করে?
  1. ক্ষারধাতুসমূহ
  2. অবস্থান্তর মৌল
  3. নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ
  4. হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল
সঠিক উত্তর:
অবস্থান্তর মৌল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থান্তর মৌল
ব্যাখ্যা
অবস্থান্তর মৌল: 
- পর্যায় সারণির ৩নং গ্রুপ থেকে ১২নং গ্রুপের মৌলসমূহকে অবস্থান্তর মৌল বলে। 

অবস্থান্তর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট্য: 
- পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
- রঙিন যৌগ গঠন করে
- জটিল যৌগ গঠন করে।
- প্রভাবকরূপে ক্রিয়া করে।
- প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৬.
জারক ও বিজারক উভয় ধর্ম দেখা যায় কোনটিতে?
  1. ক) FeSO4
  2. খ) O2
  3. গ) H2S
  4. ঘ) SO2
সঠিক উত্তর:
ঘ) SO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) SO2
ব্যাখ্যা
• জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে।
- জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে।
- যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।

জারক মনে রাখার উপায়:- সকল পারঅক্সাইড,অক্সি এসিড, ক্যাটায়ন, ইক্ লবণ, অক্সিজেন, ওজোন গ্যাস, হ্যালোজেন ও রাজঅম্ল জারক।
FeSO4 বাদে অক্সিজেনেরর প্রাচুর্য আছে এমন সকল যৌগ জারক।

বিজারক মনে রাখার উপায়:- সকল আস্ লবণ, ধাতু, C ও CO ও হাইড্রোজেন বিজারক।

তাছাড়া H2O2, SO2 , O3 তিনটি পদার্থে জারক, বিজারক দুইটা ধর্মই আছে।
O3 হচ্ছে উত্তম জারক পদার্থ। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর রসায়ন (২য় পত্র) বোর্ড বই ও মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৭.
তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্যের একটি উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ইথানয়িক এসিড
  2. সালফিউরিক এসিড
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. কপার সালফেট
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যেসব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না কিন্তু গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে ঐ পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিত হয় থাকে। 
- এই আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- আয়নিক যৌগ এবং কিছু পোলার সমযোজী যৌগ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 

- তড়িৎ বিশ্লেষ্য আবার দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

২। মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় থাকে তাদেরকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৮.
যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বলে-
  1. ক) জারক
  2. খ) বিজারণ
  3. গ) জারণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে।
যেমন- সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।
ইলেকট্রন দান বা বর্জনের প্রক্রিয়াকে বলা হয় জারন।

আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে।
যেমন- অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।
ইলেকট্রন গ্রহণের উক্ত প্রক্রিয়াকে বলে বিজারন।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৯.
নিচের কোনটি কম্পোজিট কণিকা?
  1. ক) অ্যান্টি নিউট্রিনো
  2. খ) আলফা কণিকা
  3. গ) ইলেকট্রন
  4. ঘ) মেসন
সঠিক উত্তর:
খ) আলফা কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলফা কণিকা
ব্যাখ্যা
পরমাণূর মূল কণিকা তিন ধরনের, যথা স্থায়ী মূল কণিকা, অস্থায়ী মূল কণিকা এবং কম্পোজিট কণিকা।

১.স্থায়ী মূল কণিকা:
ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা হাইড্রোজেন পরামাণু ছাড়া সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূলকণিকা বলা হয়। (হাইড্রোজেন-১ পরমাণুতে শুধু ১.০টি ইলেকট্রন ও ১.০টি প্রোটন আছে) এতে কোন নিউট্রন নেই।

২.অস্থায়ী মূল কণিকা:
কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।।

৩.কম্পোজিট কণিকা:
স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ।

উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬০.
ফুরাডন কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ? 
  1. সার
  2. দ্রাবক
  3. কীটনাশক
  4. অ্যান্টিবায়োটিক
সঠিক উত্তর:
কীটনাশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীটনাশক
ব্যাখ্যা
চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

কৃষিকাজে রসায়ন: 
- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। 
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। 
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 

শিল্পক্ষেত্রে রসায়ন: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ম্যালামাইনের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃত্রিম নাইলন, সিল্ক, রাবার, প্রসাধনী ইত্যাদি সকল কিছুই নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়। 
- ইস্পাত, কাগজ, চিনি, বস্ত্র, কাচ ও চামড়া ইত্যাদি সকল শিল্পেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। 
- তাছাড়া ব্যাটারি, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলোও রসায়নের অবদান রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬১.
পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় -
  1. ক) ফুটানো
  2. খ) ক্লোরিনেশন
  3. গ) ছাঁকন
  4. ঘ) থিতানো
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লোরিনেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লোরিনেশন
ব্যাখ্যা

পানি বিশুদ্ধ করার কয়েকটি উপায় আছে৷ এরমধ্যে অন্যতম হলো ক্লোরিনেশন, ফুটানো, থিতানো এবং ছাঁকন৷
এদের মধ্যে পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ক্লোরিনেশন৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

২৬২.
অ্যালকাইল হ্যালাইড হতে অ্যালকোহল প্রস্তুতি কোন ধরনের বিক্রিয়া?
  1. ক) অপসারণ
  2. খ) প্রতিস্থাপন
  3. গ) যূত
  4. ঘ) আইসোমারীকরণ
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতিস্থাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতিস্থাপন
ব্যাখ্যা
প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Substitution or Displacement Reaction): কোনো অধিক সক্ৰিয় মৌল বা যৌগমূলক অপর কোনো কম সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলককে প্রতিস্থাপন করে নতুন যৌগ উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে৷ 

অ্যালকোহলের প্রস্তুতি
ইথাইল ব্রোমাইড থেকে: ব্রোমো ইথেন এর মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর জলীয় দ্রবণ যোগ করে উত্তপ্ত করলে ইথানল এবং সোডিয়াম ব্রোমাইড উৎপন্ন হয় ।


অতএব, অ্যালকাইল হ্যালাইড হতে অ্যালকোহল প্রস্তুতি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৬৩.
নিচের কোনটি তীব্র ক্ষারধর্মী যৌগ নয়? 
  1. NaOH
  2. KOH
  3. NH4OH
  4. Ca(OH)2
সঠিক উত্তর:
NH4OH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NH4OH
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সকল হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকেই ক্ষার বলা হয়। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড প্রত্যেকেই জলীয় দ্রবণে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 
 

ক্ষারক: 
- ক্ষারক হলো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
যেমন- কপার অক্সাইড, আয়রন (II) অক্সাইড, আয়রন (III) অক্সাইড এর প্রত্যেকেই ক্ষারক। 
- পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলে এরা ক্ষার নয়, ক্ষারক। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
-  যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (II) অক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (III) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (III) হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- অ্যামোনিয়া (NH3) ক্ষার বা ক্ষারক নয় বরং এটি একটি ক্ষার ধর্মী যৌগ। 
- অ্যামোনিয়া পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) উৎপন্ন করে। 
- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার। 
   NH3 (g) + H2O (l) → NH4OH (aq) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৪.
প্রাকৃতিক পলিমার কোনটি?
  1. সিল্ক
  2. রেজিন
  3. মেলামাইন
  4. ব্যাকেলাইট
সঠিক উত্তর:
সিল্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিল্ক
ব্যাখ্যা
পলিমার (Polymer): 
- মেলামাইনের থালা-বাসন, বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড, কার্পেট, পিভিসি পাইপ, পলিথিনের ব্যাগ, পাটের ব্যাগ, সিল্কের কাপড়, উলের কাপড়, সুতি কাপড়, নাইলনের সুতা, রাবার- এসব জিনিস সবই হচ্ছে পলিমার। 
- পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরোস (Meros) থেকে। পলি শব্দের অর্থ হলো অনেক (Many) এবং মেরোস শব্দের অর্থ অংশ (Part)। 
অর্থাৎ, অনেকগুলো ছোট অণু পরপর যুক্ত হয়ে বড় আকারের যে অণু তৈরি হয় তাকে পলিমার বলে। 
- যে ছোট অণু থেকে পলিমার তৈরি হয়, তাকে বলে মনোমার (Monomer)। 
- যে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয় তা 'ইথিলিন' নামের মনোমার থেকে তৈরি এক ধরনের পলিমার। 
- একইভাবে, পিভিসি পাইপ (PVC) হলো ভিনাইল ক্লোরাইড নামের মনোমার থেকে তৈরি পলিমার। 
- তবে সব সময় একটি মনোমার থেকেই পলিমার তৈরি হবে এমন নয়, একের অধিক মনোমার থেকেও পলিমার তৈরি হতে পারে। 
যেমন- বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত বস্তু। বৈদ্যুতিক সুইচে বাকেলাইট নামের একটি পলিমার ব্যবহার করা হয়। ব্যাকেলাইট তৈরি হয় ফেনল ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থেকে। আবার মেলামাইনের থালা-বাসন হলো মেলামাইন রেজিন নামের পলিমার, যা তৈরি হয় মেলামাইন ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থাকে। 

প্রাকৃতিক পলিমার: 
- পাট, সিল্ক, সুতি কাপড়, রাবার প্রভৃতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পলিমার। 

কৃত্রিম পলিমার: 
- মেলামাইন, রেজিন, ব্যাকেলাইট, পিভিসি, পলিথিন প্রভৃতি হলো কৃত্রিম পলিমার। এগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, শিল্পকারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৫.
হাইড্রোজেনের ডিউটেরিয়াম আইসোটোপের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 1
  2. 0
  3. 2
  4. 3
সঠিক উত্তর:
1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের ডিউটেরিয়াম আইসোটোপের নিউট্রন সংখ্যা এক (১)। 

আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৬.
কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান? 
  1. PH3
  2. H2O
  3. CO2
  4. NH3
সঠিক উত্তর:
CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO2
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এর কঠিন রূপ। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইড, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২৬৭.
নিচের কোনটি হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয়?
  1. ক) প্রোটিয়াম
  2. খ) ডিউটেরিয়াম
  3. গ) হাইড্রাইড
  4. ঘ) ট্রিটিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) হাইড্রাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাইড্রাইড
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (¹H, ²H, ³H, ⁴H, ⁵H, ⁶H এবং ⁷H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৮.
স্টেইনলেস স্টীল এ লোহার পরিমান -
  1. ৯৯%
  2. ৭৪%
  3. ৯২%
  4. ৭৮%
সঠিক উত্তর:
৭৪%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৪%
ব্যাখ্যা
স্টেইনলেস স্টীল এ লোহা ৭৪%, ক্রোমিয়াম ১৮% ও নিকেল ৮% থাকে।
কাঁটা চামচ, রান্নাঘরের সিঙ্ক, ছুরি, অস্ত্রপাতির যন্ত্রপাতি ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
স্টেইনলেস স্টীল কে মরিচাবিহীন ইস্পাত বলা হয়। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
২৬৯.
ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে কোন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
  1. ক) প্রশমন
  2. খ) অধ:ক্ষেপ
  3. গ) জারণ
  4. ঘ) বিজারণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিজারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিজারণ
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং 
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭০.
ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান কোনটি? 
  1. সেট্রিমাইড
  2. ক্লোরোজাইলিনল
  3. ক্লোরোহেক্সিডিন
  4. আইসোপ্রোপানল
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোজাইলিনল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোজাইলিনল
ব্যাখ্যা
ডেটল (Dettol): 
- ডেটল একটি জনপ্রিয় এন্টিসেপটিক এবং জীবাণুনাশক হলুদ বর্ণের তরল মিশ্রণ। 
- ডেটল কতগুলো রাসায়নিক পদার্থে তৈরি একটি প্রতিরোধক যা সজীব কোষ-কলার উপর জীবাণুর জন্ম ও বৃদ্ধি রোধ করে। 
- ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) যা ডেটলে সর্বোচ্চ ৪.৮% থাকে
- ডেটলের অন্যান্য উপাদানগুলো হলো- আইসো প্রোপানল, পাইন অয়েল, ক্যাস্টার অয়েল, সাবান এবং পানি। 


ডেটলের ব্যবহার: 
- স্যাভলনের ন্যায় ডেটল পানির সাথে মিশিয়ে কাটা, ছেঁড়া, পোকায় আক্রান্ত স্থানে তুলার সাহায্যে লাগালে জীবাণু সংক্রমণ রোধ হয়। 
- ডেটল এবং স্যাভলন উভয়কেই অ্যান্টিসেপটিক রূপে ব্যবহার করা হলেও এদেরগঠন উপাদান ভিন্ন। 
- স্যাভলন হলো ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট ও সেট্রিমাইড দ্রবণের মিশ্রণ। 
- এছাড়া পরিচ্ছন্নতার কাজে যেমন- গোসলের সময়, ধোয়া-মোছার কাজে, প্রসূতি, শিশু ও রোগীর ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য কাপড়, বিছানাপত্র, ঘরের মেঝে, বাথরুম ইত্যাদি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ডেটল ব্যবহার করা হয়।
- ডেটল পানির সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিৎ নয় এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিৎ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭১.
শিখা পরীক্ষায় পটাশিয়াম কী বর্ণ ধারণ করে?
  1. ক) সোনালি হলুদ
  2. খ) হালকা বেগুনী
  3. গ) গাঢ় সবুজ 
  4. ঘ) ইটের মত লাল
সঠিক উত্তর:
খ) হালকা বেগুনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হালকা বেগুনী
ব্যাখ্যা
শিখা পরীক্ষা হল রসায়নের পরীক্ষায় ব্যবহার করা একটি বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি, এটি বিভিন্ন উপাদানের সনাক্তকরণের পরীক্ষা। শিক্ষা পরীক্ষার ধাতুসমূহ নিন্মোক্ত বর্ন ধারণ করে। 

ধাতু  --  শিখা পরীক্ষায় বর্ণ 
সোডিয়াম - সোনালি হলুদ 
পটাশিয়াম - হালকা বেগুনী 
তামা - গাঢ় সবুজ 
ক্যালসিয়াম - লাল বর্ণ (ইটের ন্যায়)

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২৭২.
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর কত?
  1. 16
  2. 19
  3. 22
  4. 18
সঠিক উত্তর:
18
উত্তর
সঠিক উত্তর:
18
ব্যাখ্যা

• H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর: 
- পানির অণুতে ২ পরমাণু হাইড্রোজেন ও ১ পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 
সুতরাং, H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = {(1 × 2) + (16 × 1)}
∴ H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = 18. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৩.
হাইড্রোজনের পার অক্সাইড এর সংকেত কোনটি?
  1. ক) H2O
  2. খ) H3O2
  3. গ) H2O2
  4. ঘ) D2O
সঠিক উত্তর:
গ) H2O2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) H2O2
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজনের পার অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত H2O2। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় এটা বর্ণহীন তরল
- বিশেষজ্ঞরা হাইড্রোজেন পার অক্সাইডকে বর্ণনা করেন অক্সিডাইজিং এজেন্ট হিসেবে।
-সাধারণভাবে একে বলা যায় ব্লিচিং এজেন্ট।
- সরাসরি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার বিপজ্জনক। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে সবসময় এর জলীয় দ্রবণ পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।
- এটি নিজে দাহ্য পদার্থ না হলেও আগুন বা দাহ্য পদার্থের আশেপাশে রাখলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
 
উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট। 
২৭৪.
সাবান কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. এসিড
  2. এলডিহাইড
  3. লবণ
  4. এলকোহল
সঠিক উত্তর:
লবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণ
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- সোডিয়াম স্টিয়ারেট বা পটাসিয়াম স্টিয়ারেট হচ্ছে সাবানের রাসায়নিক নাম।
- সোডিয়াম স্টিয়ারেটের সংকেত C17H35COONa এবং পটাসিয়াম স্টিয়ারেটের সংকেতC17H35COOK।
- তেল বা চর্বির সঙ্গে NaOH বা KOH বিক্রিয়া করে সাবান তৈরি করা হয়।
-  সাবান তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন (saponification) বলে।
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে।
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি।
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি ও রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৫.
ঘর্ষণ, তাপ, রাসায়নিক ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় সহজেই পরমাণু থেকে নির্গত হয় -
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন
  3. নিউট্রন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
- তাপ, ঘর্ষন ও রাসায়নিক প্রকিয়ার সহজেই নির্গত হয় ইলেকট্রন। 
- পরমাণুর বাইরের স্তর থেকে সহজেই ইলেকট্রন পৃথক হয়ে যেতে পারে। 
- প্রোটন ও নিউট্রন সহজে পৃথক হয় না কারণ এগুলো আবদ্ধ শক্তির কারণে পরমাণুর ভিতরে অবস্থান করে। 
২৭৬.
K2Cr2O7 এখানে ক্রোমিয়ামের জারণ সংখ্যা কত?
  1. ক) + ২
  2. খ) + ৪
  3. গ) + ৬
  4. ঘ) + ৭
সঠিক উত্তর:
গ) + ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) + ৬
ব্যাখ্যা
ধরি, ক্রোমিয়ামের জারণ সংখ্যা = p 

এখন,
(1 x 2) + p x 2 + (-2) x 7 = 0
P = +6
২৭৭.
অক্সিজেনের একটি অণুকে ভাঙলে কয়টি পরমাণু পাওয়া যাবে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা

অক্সিজেন রাসায়নিক মৌল, এর প্রতীক O, পারমাণবিক সংখ্যা ৮ আর যোজ্যতা সাধারণত ২।
অক্সিজেনের সংকেত O2. এর একটি অণুকে ভাঙলে দুইটি অক্সিজেন পরমাণু পাওয়া যাবে। 
একটি অক্সিজেন পরমাণু ও দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সমযোজী বন্ধনে পানির (H2O) অণু গঠিত হয়।
অক্সিজেন নামটি ঠিক করেন বিজ্ঞানী অ্যান্টনি লাভোয়াজিয়ে (১৭৪৩-১৭৯৪)।

উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান , সপ্তম শ্রেণি 

২৭৮.
পাকস্থলীতে হজমে সাহায্যকারী এসিড হলো- 
  1. এসিটিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৭৯.
বৃষ্টির পানিতে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. Vit D
  2. Vit E
  3. Vit A
  4. Vit B12
সঠিক উত্তর:
Vit B12
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vit B12
ব্যাখ্যা
বৃষ্টির পানি:
- বৃষ্টির পানি খুব হালকা এবং অ্যালকালাইন পিএইচ সমৃদ্ধ।
- বৃষ্টির পানির মধ্যে কিছু অণুজীব থাকে যারা তাদের বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিটামিন বি-১২ তৈরি করে। 
- এই ভিটামিনটি মানুষের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: CABI Digital Library.
২৮০.
বরফের গলনাংক কত ডিগ্রি সেলসিয়াস? 
  1. ২৫° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. ০° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮১.
কার্বন-১৪ তে কয়টি নিউট্রন রয়েছে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
কার্বন(C)
- কার্বন একটি বহুরূপী মৌল।
- পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা ৬।

- ভরসংখ্যা = পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
- কার্বন-১৪ আইসোটোপে কার্বনের ভরসংখ্যা ১৪।
- কার্বন-১৪ আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা = ১৪-৬ টি = ৮টি।

- কার্বনের ৩টি আইসোটোপ রয়েছে।
১. কার্বন-১২,
২.কার্বন-১৩,
৩.কার্বন-১৪।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
২৮২.
কোনটি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব? 
  1. NaNO3
  2. CaCO
  3.  PbCl2 
  4. AgBr 
সঠিক উত্তর:
NaNO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NaNO3
ব্যাখ্যা

দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব, আবার চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৩.
কৃষিক্ষেত্রে সার হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ডায়াজিনন
  2. খ) ফুরাডান
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) এনড্রিন
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া  কৃষিক্ষেত্রে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়।
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়।
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: ৯ পৃষ্ঠা, রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৪.
সবচেয়ে শক্ত বস্তু কোনটি?
  1. হীরা
  2. গ্রানাইট পাথর
  3. পিতল
  4. ইস্পাত
সঠিক উত্তর:
হীরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীরা
ব্যাখ্যা
- হীরক হলো সবচেয়ে কঠিন পদার্থ।
- কার্বনের দুটি বিশেষ রূপ হলো হীরক ও গ্রাফাইট।
- দুটি পদার্থই খনিতে পাওয়া যায়।
- ভূগর্ভের অভ্যন্তরে অত্যধিক তাপ ও চাপের প্রভাবে কোটি কোটি বছর ধরে রূপান্তরিত হয়ে কার্বন কেলাসিত হয়ে গ্রাফাইট ও হীরকে পরিণত হয়।


উৎস : ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৫.
মাটির পাত্রে পানি ঠান্ডা থাকে কেন?
  1. ক) মাটির পাত্র পানি হতে তাপ শোষণ করে
  2. খ) মাটির পাত্র ভাল তাপ পরিবাহী
  3. গ) মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
  4. ঘ) মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
ব্যাখ্যা
মাটির পাত্রে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এসব ছিদ্র দিয়ে পানি কলসির উপরিতলে এসে পৌছে এবং বাষ্পীভূত হয়। বাষ্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ কলসির পানি থেকে গ্রহন করে। ফলে পানি ঠান্ডা থাকে।
২৮৬.
নিম্নের কোন খনিজ পদার্থ কাচ ও ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. কোয়ার্টজ
  3. ম্যাগনেটাইট 
  4. মাইকা 
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮৭.
কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যাই হচ্ছে ঐ মৌলের -
  1. প্রোটন সংখ্যা
  2. নিউট্রন সংখ্যা
  3. পজিট্রন সংখ্যা
  4. ইলেকট্রন সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11। 
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17। 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
২৮৮.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. ক) দস্তা
  2. খ) তামা
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, কপার/তামা, রূপা, সোনা, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লৌহ, দস্তা, টিন, সীসা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি হলো ধাতু।
- হাইড্রোজেন, ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, অক্সিজেন, সালফার, কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ইত্যাদি হলো অধাতু।
- অ্যামোনিয়াম, হাইড্রোক্সিল, নাইট্রাইট, নাইট্রেট, কার্বনেট, সালফেট, ফসফেট ইত্যাদি হলো যৌগমূলক।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি।
২৮৯.
নিচের কোনটি গ্রিন ভিট্রিওল?
  1. ক) ZnSO4.7H2O
  2. খ) CuSO4.7H2O
  3. গ) FeSO4.7H2O
  4. ঘ) কোণটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) FeSO4.7H2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) FeSO4.7H2O
ব্যাখ্যা
সাদা ভিট্রিওল - ZnSO4.7H2O
সবুজ ভিট্রিওল - FeSO4.7H2O
ব্লু ভিট্রিওল -CuSO4.7H2O

ব্লু ভিট্রিওলকে তুঁতে ও বলা হয়ে থাকে। তুঁত বিষাক্ত। এটি কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: LiveMCQ lecture
২৯০.
মাইকা খনিজ পদার্থ প্রধানত কোথায় ব্যবহার করা হয়? 
  1. ঘরবাড়ি নির্মাণে 
  2. বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে 
  3. কাচ তৈরিতে 
  4. লোহা উৎপাদনে 
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে 
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা ও রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা ও খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯১.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার নেই
  2. খ) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন নেই
  3. গ) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ওজন নেই
  4. ঘ) অ্যামোনিয়া গ্যাসীয় পদার্থ
সঠিক উত্তর:
গ) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ওজন নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ওজন নেই
ব্যাখ্যা
গ্যাসীয় পদার্থ :
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার নেই।
- গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন নেই,
- তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে।
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার।
- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া - এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ।
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে ।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৯২.
প্রােটিন তৈরি হয়-
  1. ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
  2. নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
ব্যাখ্যা
• প্রােটিন তৈরি হয় অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে।

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত।
- আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।
- প্রােটিন গঠনকারী অ্যামাইনাে অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনাে অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এই ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলাে হলাে:
১. লাইসিন,
২. লিউসিন,
৩. আইসােলিউসিন,
৪. মিথিওনিন,
৫. ট্রিপটোফ্যান,
৬. ভ্যালিন,
৭. ফিনাইল অ্যালানিন,
৮. থ্রিওনিন।

উৎস:
১. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
২৯৩.
কার্বন ব্যতীত আর কোন মৌলে ক্যটেনেশন দেখা যায়?
  1. ক) Si
  2. খ) Ga
  3. গ) In
  4. ঘ) Al
সঠিক উত্তর:
ক) Si
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Si
ব্যাখ্যা
ক্যাটেনেশন
• একই মৌলের অনেকগুলো পরমাণুর পর পর যুক্ত হয়ে শিকল গঠনের প্রক্রিয়াকে ক্যাটিনেশন বলা হয়।
• কার্বনের ক্যাটেনেশন গুণ বেশ প্রবল। ক্যাটিনেশন প্রবণতা মৌলের দু'টি পরমাণুর মধ্যকার বন্ধন-শক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত।
• কার্বন ক্যাটেনেশনের মাধ্যমে শিকল ও চক্রাকার বা বলয় উভয় ধরনের কাঠামো গঠন করতে পারে।

সিলিকনেও ক্যাটেনেশন দেখা যায়। সিলিকন অল্পসংখ্যক শিকল গঠন করে। অর্থাৎ সিলিকনে ক্যাটেনেশন ধর্ম সীমিত। 

উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২৯৪.
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পদার্থ সাধারণত কোন দিক দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে?
  1. নিম্ন ঘনমাত্রার স্থান থেকে উচ্চ ঘনমাত্রার স্থানে
  2. উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে
  3. সমান ঘনমাত্রার স্থান থেকে যেকোনো দিকে
  4. মহাকর্ষের দিক বরাবর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে
ব্যাখ্যা

ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পদার্থ সাধারণত উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।   

ব্যাপন (Diffusion)
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- উদাহরণ: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় বেশি লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- যে পদার্থের আণবিক ভর বেশি সে পদার্থের ব্যাপন হার কম।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২৯৫.
কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে নিউট্রনের উপস্থিতি নেই?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. সিলিকন
  4. বোরন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 

প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৬.
নিচের কোন গ্যাসটির ব্যাপন হার সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) ক্লোরিন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) সালফার
সঠিক উত্তর:
গ) হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
ব্যাপন:

- যে গ্যাসের আণবিক ভর কম সে গ্যাসের ব্যাপন হার বেশি হয়।
- হাইড্রোজেনের আণবিক ভর ২।
- অক্সিজেনের আণবিক ভর ৩২।
- ক্লোরিনের আণবিক ভর ৭০।
- সালফারের আণবিক ভর ৬৪।
- এখানে হাইড্রোজেনের আণবিক ভর সবচেয়ে কম, তাই হাইড্রোজেনের ব্যাপনের হারও সবচেয়ে বেশি হবে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৭.
বায়ু কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. মিশ্র পদার্থ 
  2. কঠিন পদার্থ 
  3. মৌলিক পদার্থ 
  4. যৌগিক পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
মিশ্র পদার্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র পদার্থ 
ব্যাখ্যা

মিশ্র পদার্থ: 
- যে মিশ্রণে একের অধিক পদার্থ বিদ্যমান থাকে তাকে বলা হয় মিশ্র পদার্থ। 
- বায়ু এক ধরনের মিশ্র পদার্থ যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্পসহ অন্যান্য পদার্থ থাকে। 
- বায়ু এমন একটি মিশ্র পদার্থ যেখানে মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরনের পদার্থ রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২৯৮.
নিচের কোনটি অজৈব রাসায়নিক যৌগের উদাহরণ? 
  1. ইথেন
  2. পেন্টাইন 
  3. প্রোপিন 
  4. মরিচা 
সঠিক উত্তর:
মরিচা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরিচা 
ব্যাখ্যা

• উল্লিখিত অপশন গুলোর মধ্যে ঘ) মরিচা অজৈব রাসায়নিক যৌগের উদাহরণ। কারণ অজৈব যৌগ সাধারণত কার্বন–হাইড্রোজেন (C–H) বন্ধনবিহীন হয় এবং ধাতু, অক্সাইড, লবণ ইত্যাদি নিয়ে গঠিত। মরিচা হলো লোহার অক্সাইড।

জৈব যৌগ:  
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।  
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ।  
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে।  
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।  
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার।  

অজৈব যৌগ:  
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে।  
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

২৯৯.
খাদ্য লবণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ক) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  3. গ) পটাসিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
খাবার লবণের রাসায়নিক নাম NaCl - সোডিয়াম ক্লোরাইড

টেস্টিং সল্ট নামে পরিচিত আরেকটি লবণ আছে যার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম গ্লুটামেট বা মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট। এটি শুষ্ক খাবার যেমন পাউরুটি, চানাচুর প্রভৃতির স্বাদ বাড়িয়ে তোলে।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩০০.
ড্রাই সেল কোন ধরনের কোষ? 
  1. উভমুখী কোষ 
  2. প্রাইমারি কোষ 
  3. সেকেন্ডারি কোষ 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি কোষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি কোষ 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।