বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২৩ / ২৭ · ২,২০১২,৩০০ / ২,৬৯২

২,২০১.
রাসায়নিক পদার্থসমূহের রাজা -
  1. ক) CO
  2. খ) NO
  3. গ) H2SO4
  4. ঘ) N2O
সঠিক উত্তর:
গ) H2SO4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) H2SO4
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিড (H2SO4): ১০০% বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিডকে সালফান এবং ধূমায়মান সালফিউরিক এসিডকে ওলিয়াম (H2S2O7) বলে। সালফিউরিক এসিডকে রাসায়নিক পদার্থসমূহের রাজা বলা হয় কারণ প্রায় প্রত্যেক শিল্পে কোনো না কোনো স্তরে H2SO4 এসিড ব্যবহৃত হয়।
২,২০২.
What type of process happens in iron during rust formation?
  1. Only Physical Change
  2. Oxidation Reaction
  3. Reduction Reaction
  4. Thermal Reaction
  5. Combustion Reaction
সঠিক উত্তর:
Oxidation Reaction
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oxidation Reaction
ব্যাখ্যা
• লোহায় মরিচা পড়ার সময় লোহাতে জারণ বিক্রিয়া ঘটে। 

• মরিচা:

- বিশুদ্ধ লোহা, জলীয় বাষ্প ও বায়ুর অক্সিজেন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে লোহার যে অক্সাইড গঠন করে তাকে মরিচা বলে।

• লোহাকে বাতাসে দীর্ঘসময় রেখে দিলে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে লোহা বিক্রিয়া করে মরিচা তৈরি করে।
- লোহার উপর মরিচা পড়া অনেক ধীর গতিতে সংঘটিত হয়।
- লোহায় মরিচা পড়ার এই প্রক্রিয়া টি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- এখানে এক ধাপে জারণ এবং অন্যধাপে বিজারণ ঘটে থাকে। 

• মরিচা পড়ার প্রক্রিয়া:
- লোহা (Fe) অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- এই বিক্রিয়ায় লোহা অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয় এবং ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
- এর ফলে লোহাতে জারণ ঘটে।
- ত্যাগকৃত ইলেকট্রনটি অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহণ করে পানি তৈরি করে, যা বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে।
- ফলে, লোহার অক্সাইড (Fe2O3) গঠিত হয়, যা মরিচা নামে পরিচিত।
- এই পুরো প্রক্রিয়াটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 
২,২০৩.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু কোনটি?
  1. রন্টজেনিয়াম
  2. প্লাটিনাম
  3. ইস্পাত
  4. ইউরেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ইউরেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।
- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪

উৎস: ব্রিটানিকা ও রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২০৪.
কোনটি আয়রন বা লোহার আকরিক?
  1. বক্সাইট
  2. হেমাটাইট
  3. ক্রায়োলাইট
  4. জিপসাম
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
ব্যাখ্যা

হেমাটাইট আয়রন বা লোহার আকরিক। 

আয়রন বা লোহার আকরিক:
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট।

আরও,
সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]। 

২,২০৫.
নাইট্রাস অক্সাইড মূলত কোন ধরনের পদার্থের উদাহরণ? 
  1. তেজস্ক্রিয় পদার্থ 
  2. উত্তেজক পদার্থ  
  3. বিস্ফোরক পদার্থ 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উত্তেজক পদার্থ  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তেজক পদার্থ  
ব্যাখ্যা

বিস্ফোরক পদার্থ (Explosive substance): 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এক ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ।এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 

দাহ্য পদার্থ (Flammable substance): 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। তাই এদের আগুন বা তাপ থেকে সব সময় দূরে রাখতে হবে। 

বিষাক্ত পদার্থ (Toxic substance): 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। এ পদার্থ শরীরে লাগলে বা শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা ক্ষতের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ (Irritant substance): 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ব্যবহার করতে হবে। 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ (Health risk substance): 
- বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি এ ধরনের পদার্থ। এ ধরনের পদার্থ ত্বকে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে তা শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগ কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। তাই এগুলোকে সতর্কভাবে রাখতে হবে এবং ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ও মাস্ক পরে নিতে হবে। 

তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive substance): 
- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। এসব পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি বের হয় যা ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে কিংবা একজনকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। তাই এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। 

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর (Dangerous for environment): 
- লেড, মার্কারি ইত্যাদি পদার্থগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই এগুলোকে ব্যবহার করার সময় যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ব্যবহারের পরে এগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। এসব পদার্থকে যথাসম্ভব পুনরুদ্ধার করে আবার ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে এগুলো সহজে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। 

ক্ষত সৃষ্টিকারী (Corrosive): 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ঘন দ্রবণ এ জাতীয় পদার্থের উদাহরণ। এ পদার্থগুলো শরীরে লাগলে শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে তা শরীরের ভেতরের অঙ্গেরও ক্ষতিসাধন করতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২০৬.
নিউট্রন কে আবিষ্কার করেন? 
  1. রাদারফোর্ড 
  2. ডারউইন 
  3. চ্যাডউইক 
  4. আইনস্টাইন 
সঠিক উত্তর:
চ্যাডউইক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ্যাডউইক 
ব্যাখ্যা

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২০৭.
ধাতুর ক্ষেত্রে নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়?
  1. আঘাত করলে টুন টুন শব্দ করে
  2. পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়
  3. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  4. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম
সঠিক উত্তর:
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো - 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৮.
কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান? 
  1. NH3
  2. CO2
  3. H2O
  4. PH3
সঠিক উত্তর:
CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO2
ব্যাখ্যা

• শুষ্ক বরফ:
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এর কঠিন রূপ। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইড, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

২,২০৯.
এস্টারের কার্যকরী মূলক হিসেবে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. -COOR
  2. -OH
  3. -CO
  4. -CHO
সঠিক উত্তর:
-COOR
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-COOR
ব্যাখ্যা

• এস্টারের কার্যকরী মূলক হলো -COOR, যেখানে R একটি অ্যালকাইল বা অ্যারাইল মূলককে নির্দেশ করে। এস্টার মূলত কার্বোক্সিলিক অ্যাসিড ও অ্যালকোহলের বিক্রিয়ায় তৈরি হয়, এ প্রক্রিয়াকে এস্টারিফিকেশন বলে। এই যৌগে কার্বনাইল গ্রুপ (C=O) একটি অক্সিজেন পরমাণুর মাধ্যমে অন্য একটি কার্বনযুক্ত মূলকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা -COOR গঠন সৃষ্টি করে। অন্য অপশন গুলোর মধ্যে -OH হলো অ্যালকোহলের কার্যকরী মূলক, -CO কিটোন বা অ্যাসিডের অংশ এবং -CHO অ্যালডিহাইডের কার্যকরী মূলক। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) -COOR

এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে।
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -COOR।
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধিযুক্ত হয়। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে।
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়।
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২১০.
মৌমাছি হুল ফুটালে যে জ্বালাপোড়া হয়, তা নিষ্ক্রিয় করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) জিংক কার্বোনেট
  2. খ) অক্সালিক এসিড
  3. গ) কার্বোনিক এসিড
  4. ঘ) অ্যাপামিন
সঠিক উত্তর:
ক) জিংক কার্বোনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিংক কার্বোনেট
ব্যাখ্যা
- পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। 
- আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়া হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়।
- এসব জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, যা নিষ্ক্রিয় করতে জিংক কার্বোনেট, বেকিং সোডা ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারি।

 উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

২,২১১.
দহন বিক্রিয়ার ফলে কোন গ্যাস তৈরি হয়? 
  1. H2
  2. N2
  3. O2
  4. CO2
সঠিক উত্তর:
CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO2
ব্যাখ্যা
সাধারণ জ্বালানি (কাঠ, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস): 
- রান্নার কাজে সাধারণত কাঠ, কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- এসকল বস্তু দহন করে যে তাপ পাওয়া যায় তা দিয়ে রান্না করা হয়। 
- দহন বলতে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া বোঝায় যেখানে কোন পদার্থ অক্সিজেনের সাথে স্বত:স্ফূর্ত বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো দেয়। 
- কাঠের উপাদান সেলুলোজ যার মূল উপাদান কার্বন। 
- দহনের ফলে কাঠ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রধানত CO2, তাপ ও আলো উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• কাঠ + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
- একইভাবে, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালেও তাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আলো পাওয়া যায়। 
• C (কয়লা) + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
• CH4 (মিথেন বা প্রাকৃতিক গ্যাস) + O2 → তাপ + CO2 + H2O + আলো । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১২.
যেসব এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয়, সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. দুর্বল এসিড
  2. শক্তিশালী এসিড
  3. জৈব এসিড
  4. খনিজ এসিড
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী এসিড
ব্যাখ্যা

• যেসব এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় এবং অধিক পরিমাণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে, সেগুলোকে শক্তিশালী এসিড বলা হয়।

• শক্তিশালী ও দুর্বল এসিড:
- যেসব এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় এবং প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে, তাদেরকে শক্তিশালী এসিড বলা হয়।
- অপরদিকে, যেসব এসিড পানিতে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় না, বরং আংশিকভাবে আয়নিত হয়, সেগুলোকে দুর্বল এসিড বলা হয়।
- অর্থাৎ, দুর্বল এসিডের ক্ষেত্রে এসিডের সব অণু থেকে H+ আয়ন উৎপন্ন হয় না।
- কিন্তু শক্তিশালী এসিডের ক্ষেত্রে পানিতে দ্রবীভূত হলে প্রায় সব অণুই H+ আয়নে বিযুক্ত হয়।
 
• গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- সব জৈব এসিডই যে দুর্বল হবে, তা নয়।
- উদাহরণস্বরূপ, কার্বনিক এসিড (H2CO3) একটি জৈব এসিড হলেও এটি দুর্বল এসিড।
- আবার কোনো এসিড খনিজ (Inorganic) হলেই যে তা শক্তিশালী হবে, এমনটিও নয়।
 
• দুর্বল এসিডের উদাহরণ:
- এসিটিক এসিড (CH3COOH),
- সাইট্রিক এসিড (C6H8O7),
- অক্সালিক এসিড (HOOC–COOH)।
 
• শক্তিশালী এসিডের উদাহরণ:
- সালফিউরিক এসিড (H2SO4),
- নাইট্রিক এসিড (HNO3),
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl)। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২১৩.
ইলেকট্রনিক টিউবলাইটে সবুজ আলো সৃষ্টি করার জন্য কী গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) জেনন
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) আর্গন
সঠিক উত্তর:
ক) জেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জেনন
ব্যাখ্যা
জেননের ব্যবহার - ইলেকট্রনিক টিউবলাইটে সবুজ আলো সৃষ্টি করার জন্য জেনন ব্যবহার করা হয়৷
ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ টিউবে অতি উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি করার জন্য জেনন গ্যাস ব্যবহার করা হয়৷
উৎসঃ রসায়ন এইচএসসি প্রোগ্রাম- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,২১৪.
মিল্ক অফ লাইম (Milk of Lime)-এর রাসায়নিক সংকেত নিচের কোনটি?
  1. Ca(OH)2
  2. CH3COONa
  3. CH3COOH
  4. CuSO4.5H2O
সঠিক উত্তর:
Ca(OH)2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ca(OH)2
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O, 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,২১৫.
কোন গ্যাসের আধিক্যের ফলে ইউরেনাস গ্রহকে নীলাভ সবুজ বর্ণ দেখায়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. আর্গন
  3. মিথেন
  4. নিয়ন
সঠিক উত্তর:
মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন
ব্যাখ্যা
ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল। ইউরেনাসের নীলাভ সবুজ বর্ণ শীতল মিথেন গ্যাসের প্রভাবে হয়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলে।
Source: NASA
২,২১৬.
পলিথিন কোন বিক্রিয়ার মধ্যমে তৈরি হয়?
  1. সংযোজন
  2. ঘনীভবন
  3. পানিগ্রাহী
  4. সালফোনেশন
সঠিক উত্তর:
সংযোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোজন
ব্যাখ্যা
• সংযোজন বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক যৌগ বা মৌল যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ উৎপন্ন করে সে বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়। 

• সংযোজন পলিমার:
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন ক্ষুদ্র অণুর অপসারণ ব্যাতিত মনোমার অণুসমূহ পরস্পর যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল পলিমার গঠন করে এবং গঠিত পলিমারের আণবিক ভর মনোমারের আণবিক ভরের পূর্ণ গুণিতক হয় তাকে সংযোজন পলিমার বলে।
- সাধারণত দ্বিবন্ধন যুক্ত যৌগসমূহ যেমন অ্যালকিন, প্রতিস্থাপিত অ্যালকিন ও ভিনাইল যৌগসমূহে সংযোগ পলিমারকরণ (addition polymerization) ঘটে।

• পলিথিন:
- ১০০০-১২০০ বায়ু চাপে ইথিন গ্যাসকে তরলীকৃত করে সমান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ২০০০০ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে ইথিনের অসংখ্য অণু পরপর যুক্ত হয়ে যুত পলিমার পলিথিন গঠন করে।
- পলিথিন তৈরির এই প্রক্রিয়া টি সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। 
- পলিথিন একটি সাদা অসচ্ছ ও শক্ত প্লাস্টিক পদার্থ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৭.
আন্তর্জাতিকভাবে রসায়নবিদদের অনুমোদিত সবুজ রসায়ন নীতি কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ১০টি
  4. ১২টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
সবুজ রসায়ন: 
- ১৯৯১ সালে Paul Anastas সর্বপ্রথম গ্রিন কেমিস্ট্রি ধারণার অবতারণা করেন। 
- সবুজ রসায়নে (Green Chemistry) মূলত পরিবেশবান্ধব যৌগ ও তার উৎপাদন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- এটি মূলত রাসায়নিক গবেষণা ও প্রকৌশলের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর যৌগের ব্যবহার ও উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে। 
- পরিবেশের উপর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিক্রিয়ক ও উৎপন্ন উৎপাদের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসকল্পে সবুজ রসায়নের অধ্যয়ন ও অনুশীলন আবশ্যক। 
- পল এনাসথাস এবং পরবর্তীতে United States Environment Protection Agency ও John C. Warner সবুজ রসায়নের ১২টি নীতি প্রণয়ন করেন। 
- নিচে এসব নীতিমালা আলোচনা করা হলো - 
১। প্রতিরোধ, 
২। পরমাণু অর্থনীতির সর্বোচ্চকরণ, 
৩। নিরাপদ উৎপাদ, 
৪। উৎপাদের বিষক্রিয়া হ্রাস, 
৫। নিরাপদ দ্রাবক ও সহায়ক পদার্থ, 
৬। শক্তির কর্মদক্ষতার পরিকল্পনা, 
৭। নিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার, 
৮। প্রভাবকীয় বিক্রিয়ক ব্যবহার, 
৯। ক্ষুদ্রাংশকরণ পরিকল্পনা, 
১০। বিক্রিয়ায় সময় অপ্রয়োজনীয় জাতক সৃষ্টি রোধ, 
১১। যথাসময়ে দূষণ এবং 
১২। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,২১৮.
টিউবলাইটে সাধারণত কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. অক্সিজেন
  2. আর্গন
  3. রেডন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
আর্গন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্গন
ব্যাখ্যা

• টিউবলাইটের ভেতরে খুব কম চাপে নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে আর্গন এবং সামান্য পারদ বাষ্প ব্যবহার করা হয়।

• আর্গনের ব্যবহার:
১. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি (পারদ) বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
২. রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৩. ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪. তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।।
৫. বিভিন্ন ধাতু যেমন অ্যালুমিনিয়াম বা স্টেইনলেস স্টিল জোড়া দেওয়ার সময় (TIG Welding) বাতাস থেকে অক্সিজেন সরিয়ে দিয়ে পরিষ্কার ঢালাই নিশ্চিত করতে আর্গন শিল্ডিং গ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৬. রেডিওকার্বন ডেটিং: ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় পটাশিয়াম-আর্গন ডেটিং পদ্ধতিতে শিলা বা খনিজের বয়স নির্ণয় করা হয়।

উৎস: রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটানিকা।

২,২১৯.
পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় বৃহৎ অণুকে কী বলা হয়? 
  1. মনোমার অণু 
  2. পলিমার অণু
  3. আয়নিক যৌগ 
  4. মৌলিক অণু 
সঠিক উত্তর:
পলিমার অণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলিমার অণু
ব্যাখ্যা

পলিমারকরণ (Polymerization) বিক্রিয়া: 
- প্রভাবক, উচ্চ চাপ ও তাপের প্রভাবে যখন এক বা একাধিক যৌগের অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃহদাকার অণু তৈরি করে তখন তাকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। 
- এক্ষেত্রে বৃহদাকার অণুটিকে পলিমার অণু এবং ক্ষুদ্র অণুটিকে মনোমার অণু বলা হয়। 
- যে বিক্রিয়ায় অসংখ্য মনোমার থেকে পলিমার উৎপন্ন হয় তাকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। 
- 1200 atm চাপে 200 °C তাপমাত্রায় ও O2 প্রভাবকের উপস্থিতিতে ইথিলিনের অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে বৃহৎ পলিমার অণু পলিথিন উৎপন্ন করে, এ বিক্রিয়া হচ্ছে ইথিলিনের পলিমারকরণ বিক্রিয়া। 
এখানে, ইথিলিন মনোমার এবং পলিথিন পলিমার অণু হিসেবে বিবেচিত। যেখানে, n দ্বারা ইথিলিনের অসংখ্য অণুর সংখ্যা বোঝায়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২২০.
বক্সাইট খনিজ থেকে কোন ধাতু উত্তোলন করা যায়? 
  1. লেড 
  2. জিংক
  3. আয়রন 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

খনিজ (Minerals): 
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়। 
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে। 

আকরিক: 
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে। 
যেমন- 
• গ্যালেনা থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়। 
বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়। কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়। 
• আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস বলা হয়, আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। 
অতএব, আকরিক অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২২১.
ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী কোনটি? 
  1. ইথার
  2. এস্টার
  3. গ্লুকোজ
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
এস্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস্টার
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২২.
ব্যাটারির এক ধরণের সংযােগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় কিন্তু উল্টো সংযােগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না কোন যন্ত্রে?
  1. ক) ডায়োড
  2. খ) ট্রানজিস্টর
  3. গ) ক্যাপাসিটর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ডায়োড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডায়োড
ব্যাখ্যা

ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযােগে হয় না।
ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছােট ছােট আলো হল Light Emitting Diode.
ডায়ােডের আরাে একটি ব্যবহার হচ্ছে AC থেকে DC তৈরি করা অর্থাৎ ডায়োড রেক্টিফায়ার হিসাবে কাজ করে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২২৩.
কোন কাজে টিএনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) তেলের খনি অনুসন্ধানে
  2. খ) বিস্ফোরক হিসেবে
  3. গ) পোকামাকড় ধ্বংস করা জন্য
  4. ঘ) হৃদরোগের ঔষুধরূপে
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্ফোরক হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্ফোরক হিসেবে
ব্যাখ্যা
- টিএনটি এর পূর্ণ নাম হচ্ছে ২, ৪, ৬ ট্রাইনাইট্রো টলুইন।

ব্যবহার
- শক্তিশালী বিস্ফোরক রুপে 
- হাত বোমায়
- সেনাবাহিনীর Bomb Shell এবং জাহাজ ধ্বংসকারক  Torpedo প্রস্তুতকরণে
- বিল্ডিং ও পাহাড় Amatol নামক বিস্ফোরক প্রস্তুতকরণে

সূত্র- রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, হাজারী ও নাগ, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি
২,২২৪.
হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা গ্যাস কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. নিয়ন
  3. আর্গন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা গ্যাস। 
- হাইড্রোজেন (H2) গ্যাসের তুলনায় হিলিয়াম (He) গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92%। 
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়। 
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্‌কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে। 
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন। 
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। 
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়। 
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী ও নাগ)।

২,২২৫.
সাধারণত কত তাপমাত্রায় একজস্টিং করা হয়?
  1. ক) 30°C - 45°C 
  2. খ) 45°C - 55°C
  3. গ) 80°C - 90°C 
  4. ঘ) 95°C - 110°C
সঠিক উত্তর:
ঘ) 95°C - 110°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 95°C - 110°C
ব্যাখ্যা
একজস্টিং:
এটি এক ধরনের কৌটাজাতকরণ পদ্ধতি। মাছ কৌটাজাতকরণের ক্ষেত্রে  একজস্টিং করা হয়।
কৌটাকে ফুটন্ত পানিতে ২/৩ অংশ ডুবিয়ে অথবা বাষ্পের সাহায্যে তাপ প্রয়োগ করে কৌটার সব বায়ু অপসারণ করে দেয়া হয়। এ কাজের জন্য ৮-১০ মিনিট সময়ই যথেষ্ট । 

• একজসটিং করার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা হলো: 95°C-110°C

• পাত্রের মধ্যস্থিত বায়ু দুর করার জন্য তাপ প্রয়োগ করে একজস্টিং করা হয়। যার কারনে পাত্রের ভেতরে মরিচা পড়েনা এছাড়া একজস্টিং করার ফলে বায়ুবীয় অনুজীব দ্বারা খাদ্য দুষিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। উপরিউক্ত কারনে কৌটা জাত করার সময় একজস্টিং করা হয়।

SOURCE: রসায়ন ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২৬.
pH স্কেলের সর্বাধিক সীমা কত? 
  1. 0
  2. 14
  3. 7
  4. 10
সঠিক উত্তর:
14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
14
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২২৭.
ডিটারজেন্ট এবং সাবানের মধ্যে মূল ভিন্নতা কী?
  1. সাবান ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, ডিটারজেন্ট গলে না
  2. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে না
  3. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে
  4. ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
সঠিক উত্তর:
ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
ব্যাখ্যা

• ডিটারজেন্ট এবং সাবানের মধ্যে মূল ভিন্নতা হচ্ছে - ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না। 

পরিষ্কারক উপাদান: 
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২২৮.
উদ্ভিদে কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বের হয়ে যায়? 
  1. শ্বসন
  2. নিঃসরণ
  3. প্রস্বেদন
  4. অভিসরণ
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২৯.
গ্যালভানাইজিং (Galvanizing) বলতে কী বোঝায়?
  1. লোহার উপর রুপার প্রলেপ দেওয়া
  2. লোহাকে তাপে গলিয়ে শক্তিশালী করা
  3. লোহাকে দস্তার প্রলেপ দেওয়া
  4. লোহাকে তাপে গলিয়ে বিশুদ্ধ করা
সঠিক উত্তর:
লোহাকে দস্তার প্রলেপ দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহাকে দস্তার প্রলেপ দেওয়া
ব্যাখ্যা

Galvanizing হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে লোহা বা ইস্পাতের উপর দস্তার (Zinc) আবরণ দেওয়া হয়। এই দস্তার স্তর বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে zinc oxide গঠন করে, যা লোহার উপর প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। এর ফলে লোহা সহজে মরিচা ধরে না এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২,২৩০.
কোন এসিড শিল্পোন্নয়নের পরিমাপক হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  4. কার্বোলিক এসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন-
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়।
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,২৩১.
COD এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. ক) Carbon Oxygen Density
  2. খ) Chemical Oxygen Demand
  3. গ) Carbon dioxide and Oxygen Demand 
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
খ) Chemical Oxygen Demand
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Chemical Oxygen Demand
ব্যাখ্যা

COD এর পূর্ণরূপ হল Chemical Oxygen Demand।

অর্থাৎ, COD এর বাংলা অর্থ হল রাসয়নিক অক্সিজেন চাহিদা। এক লিটার পানিতে উপস্থিত জৈব ও অজৈব দূষককে রাসয়নিক পদার্থ দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে উক্ত পানির COD বলে। কোন পানির COD এর মান যত বেশি হয়, সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। এছাড়া, BOD এবং COD উভয়ই পানির দূষণ মাত্রা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির রসায়নবিজ্ঞান

২,২৩২.
পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি হ্রাসের জন্য কী ব্যবহার করা হয়? 
  1. কোক
  2. গ্রাফাইট
  3. চারকোল
  4. হীরক
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
কার্বন: 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক। 
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক্।  
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক। 

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান। 
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। 
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,২৩৩.
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে সাধারণত ইলেকট্রন আসক্তির কী পরিবর্তন হয়? 
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. শূন্য হয়ে যায় 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে মৌলের ইলেকট্রন আসক্তির মান বৃদ্ধি পায়। 

• ইলেকট্রন আসক্তি: 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 
যেমন- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির ২ নং গ্রুপ-এর মৌল।
- এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি।
- আবার Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra ইলেকট্রন আসক্তি সবচেয়ে কম। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,২৩৪.
কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।- এটি কোন ধরনের বিক্রিয়া?
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. দহন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
দহন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দহন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া, 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া, 
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং 
৪। দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি।

দহন বিক্রিয়া (Combustion Reaction):
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ,
- কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- সালফারকে বায়ুতে পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- মিথেন গ্যাসকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পোড়ালে মিথেনের উপাদান মৌল কার্বন পরিবর্তিত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন পরিবর্তিত হয়ে উহার অক্সাইড পানি উৎপন্ন করে। এ দহন বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন তাপ রান্নাসহ অন্যান্য কাজ বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,২৩৫.
চিপসের প্যাকেটে থাকে-
  1. নাইট্রোজেন গ্যাস
  2. হাইড্রোজেন গ্যাস
  3. অক্সিজেন গ্যাস
  4. হিলিয়াম গ্যাস
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন গ্যাস
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন গ্যাসের  ব্যবহার:
- সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতিতে ব্যবহৃত হয়,
- চিপসের প্যাকেটে নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- এই নাইট্রজেন গ্যাস খাবারের গুণগত মান বজায় রাখে যা বিভিন্ন ধরনের চাপ থেকে উপাদানগুলোর গুঁড়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
- ইউরিয়া সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও,
- সবচেয়ে হালকা গ্যাস - হাইড্রোজেন।
- দিয়াশলাই এর মাথায় থাকে - লোহিত  ফসফরাস।
- অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারে থাকে - তরল কার্বন ডাই অক্সাইড।

উৎস: তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান বই ও ব্রিটানিকা।
২,২৩৬.
নিচের কোনটি বয়েল ও চার্লসের সমন্বয় সূত্র?
  1. V ∝ 1/P
  2. V ∝ T
  3. PT = V
  4. PV/T = ধ্রুবক 
সঠিক উত্তর:
PV/T = ধ্রুবক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
PV/T = ধ্রুবক 
ব্যাখ্যা
বয়েল ও চার্লসের সূত্রের সমন্বয়: 
বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন এর উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 

চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার উপর আরোপিত পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক। 

এখন, 
নির্দিষ্ট ভরের কোনো গ্যাসের আয়তন V, চাপ P ও কেনভিন তাপমাত্রা T হলে- 
বয়েলের সূত্র মতে, V ∝ 1/P যখন তাপমাত্রা স্থির। ................ (i)
চার্লসের সূত্র মতে, V ∝ T যখন চাপ স্থির।................. (ii) 

(i) নং ও (ii) নং সম্পর্ক হতে লিখা যায়-
V ∝ (1/P) × T (যখন তাপমাত্রা ও চাপ উভয়েই পরিবর্তনশীল)
বা, V = K × T/P (এখানে, K একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক) 
বা, PV = KT
বা, PV/T = K 
সুতরাং, PV/T = ধ্রুবক 
- এই সূত্রটিই বয়েল ও চার্লসের সূত্রের সমন্বয়।
২,২৩৭.
কোন ধরনের অ্যালকোহল মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. মিথানল 
  2. ইথানল
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট 
  4. পাওয়ার অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
পাওয়ার অ্যালকোহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাওয়ার অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা

- মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে পাওয়ার অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়। পাওয়ার অ্যালকোহল হলো মূলত পেট্রোল এবং ইথানলের একটি মিশ্রণ, যাতে অল্প পরিমাণে বেনজিন বা অন্য কোনো উদ্বায়ী তরল পদার্থও থাকতে পারে।

অ্যালকোহল: 

- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়, এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়, এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে, তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৩৮.
উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রধানত কোনটির মাধ্যমে ঘটে?
  1. ক) কাণ্ড
  2. খ) মূল
  3. গ) পত্ররন্ধ্র
  4. ঘ) পাপড়ি
সঠিক উত্তর:
গ) পত্ররন্ধ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পত্ররন্ধ্র
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন
- প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য। তাই উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে।
- শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পরিত্যাগ করে।
- উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।
- উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রধানত পত্ররন্ধের মাধ্যমে ঘটে। এছাড়া কাণ্ড ও পাতার কিউটিকল এবং কাণ্ডের ত্বকে অবস্থিত লেন্টিসেল নামন এক বিশেষ ধরনের অঙ্গের মাধ্যমেও অল্প পরিমাণ প্রস্বেদন হয়।
- প্রস্বেদন কোথায় সংঘটিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার। যথা:
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
২। ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং
৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
- সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পত্ররন্ধ্র এবং খালি চোখে কাণ্ডের লেন্টিসেল সহজে দেখা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,২৩৯.
ইউরিয়া সারে কতভাগ নাইট্রোজেন থাকে?
  1. ৪৪%
  2. ৪৬%
  3. ৫৬%
  4. ৬৪%
সঠিক উত্তর:
৪৬%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬%
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারে মোট ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে।

ইউরিয়া:
- ইউরিয়া সারে সাধারণত ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে।
-এটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার, যা ফসলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- ইউরিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে মাটিতে নাইট্রোজেন সরবরাহ করা হয়, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহায়ক।

বৈশিষ্ট্য:
- রাসায়নিক গঠন: ইউরিয়ার রাসায়নিক সূত্র হলো CH₄N₂O।
- এটি সহজে দ্রবণীয় এবং দ্রুত উদ্ভিদের শোষণের জন্য প্রস্তুত।
- সঠিক মাত্রায় ইউরিয়া ব্যবহার করলে এটি ফসলের ফলন বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াম সালফেট নাইট্রোজেন জাতীয় সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- অ্যামোনিয়াম সালফেটে শতকরা ২০.৫ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিআইসি ওয়েবসাইট।
২,২৪০.
স্বাভাবিক আদর্শ পরিবেশে পানির ঘনত্ব যে তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ মান পরিগ্রহ করে তা হলো -
  1. ০° সেন্টিগ্রেড
  2. ১০০° সেন্টিগ্রেড
  3. ৪° সেন্টিগ্রেড
  4. ২৬৩° সেন্টিগ্রেড
সঠিক উত্তর:
৪° সেন্টিগ্রেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪° সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে, পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৪১.
কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাসের সর্বশেষ শক্তিস্তরে আটটি ইলেকট্রন নেই? 
  1. জেনন (Xe)
  2. নিয়ন (Ne)
  3. হিলিয়াম (He)
  4. ক্রিপ্টন
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম (He)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম (He)
ব্যাখ্যা

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) ও ওগানেসন (Og)।
- এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে। - একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে। 
- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে। 

নিস্ক্রিয় গ্যাসের ধর্মসমূহ: 
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস। 
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই। 
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম। 
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম। 
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

২,২৪২.
অক্সিজেনের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্যি?
  1. বিজারক
  2. জারণ
  3. বিজারণ
  4. ধনাত্মক
সঠিক উত্তর:
বিজারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজারণ
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

- বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথােডে।
- জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানােডে।

- বিজারণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া বা জারক পদার্থ অপর পদার্থকে জারিত করে, কিন্তু নিজে বিজারিত হয়।
- ক্লোরিন, ফ্লোরিন ইত্যাদি প্রায় সকল অধাতু হলো জারক। যেমন - সকল পারঅক্সাইড, অক্সি এসিড, ক্যাটায়ন, ইক্ লবণ, অক্সিজেন, ওজোন গ্যাস, হ্যালোজেন ও রাজঅম্ল।

সুতরাং, এখানে, অক্সিজেনের সাথে বিজারণ - সামঞ্জস্যপূর্ণ।


উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর রসায়ন (২য় পত্র) বোর্ড বই ও মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৪৩.
খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত সোডিয়াম বেনজোয়েটের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. C6H5COONa
  2. CH3COONa
  3. NaHCO3
  4. Na2CO3
সঠিক উত্তর:
C6H5COONa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
C6H5COONa
ব্যাখ্যা

◉ সোডিয়াম বেনজোয়েটের রাসায়নিক সংকেত হলো C6H5COONa, যা খাদ্য সংরক্ষণের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সোডিয়াম বেনজোয়েট (Sodium Benzoate):
- সোডিয়াম বেনজোয়েট খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি সাধারণ সংরক্ষণকারী (Preservative), যা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ইস্টের (Yeast) বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।
- এটি প্রধানত অম্লীয় পরিবেশে কার্যকর এবং বিভিন্ন প্রসেসড খাবারে ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
CH3COONa - সোডিয়াম অ্যাসিটেট; 
NaHCO3 - সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, অ্যাসিড-নিয়ন্ত্রণকারী এজেন্ট ও বেকিং উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
Na2CO3 - সোডিয়াম কার্বোনেট মূলত কাচ, সাবান ও ডিটারজেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

আরো কিছু মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO, 
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O].

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৪৪.
কোন পদার্থটি সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয় না?
  1. আয়োডিন
  2. বেনজিন
  3. ন্যাপথালিন
  4. নিশাদল
সঠিক উত্তর:
বেনজিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনজিন
ব্যাখ্যা

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা তরলে রূপান্তরিত না হয় সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
যেমন:
- কর্পুর,
- গন্ধক,
- আয়োডিন,
- ন্যাপথালিন,
- নিশাদল,
- অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- আর্সেনিক,
- বেনজয়িক এসিড ইত্যাদি।

• কিন্তু বেনজিন উর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৪৫.
কত তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) ২৭৩ কেলভিন
  2. খ) ২৭৫ কেলভিন
  3. গ) ২৭৬ কেলভিন
  4. ঘ) ২৭৭ কেলভিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৭৭ কেলভিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৭৭ কেলভিন
ব্যাখ্যা
-  পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
- পানির ঘনত্ব ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩৯.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ২৭৭.১৫ কেলভিন তাপমাত্রায় সব থেকে বেশী।
- এই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার৩
- অর্থাৎ ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।


উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
২,২৪৬.
'গ্রাফাইট' কোন ধরনের খনিজ সম্পদ? 
  1. ধাতব খনিজ
  2. ধাতব ও শক্তি সম্পদ
  3. অধাতব খনিজ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অধাতব খনিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধাতব খনিজ
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ: 
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়। 
- এক বা একাধিক উপাদানে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে। 
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। 
যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ। 
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ। 
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ: 
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে। 
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে। 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল। 
- অলৌহ বর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি। 

২। অধাতব খনিজ: 
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে। 
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি। 

৩। শক্তি সম্পদ: 
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে। 
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪৭.
মাটির এসিডিটি (অম্লত্ব) নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত লবণ কোনটি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. কপার সালফেট
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট 
  4. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
ব্যাখ্যা

- মাটির অম্লত্ব বা এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়। এই অতিরিক্ত অম্লত্ব প্রশমিত বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য ক্ষারীয় পদার্থের প্রয়োজন হয়। ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3) একটি ক্ষারীয় লবণ (যা চুনাপাথর হিসেবে পরিচিত), এটি মাটির এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে মাটির pH মান বৃদ্ধি করে এবং মাটিকে নিরপেক্ষ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। 

লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• চুনাপাথর (CaCO3) । 

- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন- 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৪৮.
ফসজিন গ্যাসের সংকেত কোনটি? 
  1. CH3-CO-CH3
  2. COCI2
  3. CCI3
  4. CH3OH
সঠিক উত্তর:
COCI2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
COCI2
ব্যাখ্যা

• ফসজিন গ্যাসের রাসায়নিক নাম: কার্বনাইল ক্লোরাইড (Carbonyl Chloride). অর্থাৎ ফসজিন (Phosgene) একটি বিষাক্ত গ্যাস যা সাধারণত রাসায়নিক যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হতো। সঠিক উত্তর: ফসজিন গ্যাসের সংকেত  খ) COCl2

• ফসজিন গ্যাস (Phosgene Gas):
- ফসজিন একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, যা প্রাথমিকভাবে ক্লোরিন এবং কার্বন মনোক্সাইড থেকে তৈরি হয়।
- এটি রঙহীন, গ্যাসাকৃত এবং শ্বাসকষ্টজনিত উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে।
- ফসজিন সাধারণত রাসায়নিক যুদ্ধ বা শিল্পের দুর্ঘটনায় উৎপন্ন হতে পারে।

• রাসায়নিক সংকেত:
- ফসজিনের রাসায়নিক সূত্র হলো COCl2
- এটি একটি ক্লোরিনযুক্ত কার্বোনাইল যৌগ।
- সাধারণ বৈশিষ্ট্য: শ্বাসনালীর দ্বারা প্রবেশ করলে ফুসফুসে ক্ষতি করে এবং বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- শিল্পে এটি মূলত রাসায়নিক সংযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন প্লাস্টিক বা পেস্টিসাইড উৎপাদন।

• অন্যান্য যৌগ:
- CH3-CO-CH3: এটি অ্যাসিটোন।
- CCl3: এটি ট্রাইক্লোরোমিথাইল গ্রুপযুক্ত যৌগ।
- CH3OH: এটি মিথানল।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

২,২৪৯.
নিচের কোনটিকে নীরব ঘাতক বলা হয়? 
  1. N2O
  2. CO
  3. NO
  4. CO2
সঠিক উত্তর:
CO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোক্সাইড (CO): 
- কার্বন মনোক্সাইড মানুষের অজান্তেই খুব সহজেই শ্বাসের সাথে ফুসফুসে চলে যায়। 
- কার্বন মনোক্সাইড সেখানে গিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে একটি জটিল যৌগ তৈরি করে। 
Hb + CO → Hb(CO) 
- যার ফলে অক্সিজেন বহুরূপে কাজ করতে পারে না, শ্বাসকষ্ট হয় এবং হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 
- তাই কার্বন মনোক্সাইডকে নীরব ঘাতক বলা হয়
২,২৫০.
সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার নাম- 
  1. ব্যাপন
  2. নিঃসরণ
  3. পাতন
  4. ঊর্ধ্বপাতন
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:

- সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার নাম- ব্যাপন

অন্যদিকে,
ব্যাপন: 
- কোন মাধ্যমে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। এই প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ম ঘনমাত্রার দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পরে।

নিঃসরণ:
- সরু ছিদ্রপথে উচ্চচাপের স্থান থেকে কোন গাস নিম্মচাপের স্থানের দিকে সজোরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে। যেমন: সিলিন্ডার থেকে গ্যাস সজোরে বেরিয়ে আসার ঘটনা নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে প্রমান করে।

পাতন:
- কোন তরলকে তাপ প্রদানে বাস্পে পরিণত করে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিনত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। অর্থাৎ

             পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন

ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরিবাস্পে পরিণত হয়, সেই ঘটনাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। যেমন: কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল ইত্যাদি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

২,২৫১.
পরমাণুতে ইলেকট্রন সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী হলে তাকে কী বলে? 
  1. পজিট্রন
  2. নিউট্রন
  3. ধনাত্মক আয়ন
  4. ঋণাত্মক আয়ন
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক আয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক আয়ন
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষণ: 
- কোনো অম্ল, ক্ষারক বা লবণ জাতীয় পদার্থের দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর দ্রব পদার্থের প্রত্যেকটি অণু দুটি তড়িতাহিত অংশে বিভক্ত হয় যায়। 
অর্থাৎ, “কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে”। 
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবনের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- সকল অ্যাসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, অ্যাসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ। 
যেমন- H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি। 

- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়। 
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকে যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশী ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে তবে তাকে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে। 
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫২.
টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য টয়লেট ক্লিনার হিসেবে কোন ক্ষারধর্মীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ফেরাস হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষারক (Base): 
- সাধারণত ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারক বলে। 
যেমন- ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), কপার অক্সাইড (CuO), ফেরাস অক্সাইড (FeO), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, ফেরাস হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) ইত্যাদি। 
- এসিডের সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- তাই বলা হয় এসিড ক্ষারককে আর ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 
• CaO + 2HCl →  CaCl2 + H2
• 2KOH + H2SO4 → K2SO4 + 2H2
• NH4OH + HCl → NH4Cl + H2

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে- 
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক। 
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৫৩.
পাহাড়ের চূড়ায় কোনটির প্রাচুর্য থাকে?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) ওজোন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলে-
- নাইট্রোজেন - ৭৮.০২%,
- অক্সিজেন - ২০.৭১%,
- আর্গন - ০.৮০%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড - ০.০৩% থাকে।
পাহাড়ের চূড়ার বাতাসে সামান্য হেরফের থাকলেও নাইট্রোজেনের প্রাধান্য থাকে।
২,২৫৪.
মল্ট থেকে কোন এনজাইম নিঃসৃত হয়?
  1. জাইমেস
  2. ডায়াস্টেস
  3. মলটেস
  4. ইনভারটেস
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টেস
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন:
ঈস্ট: 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈষ্টের কোষে জাইমেস (zymase), ইনভারটেস (invertase), মলটেস (maltase) ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট: 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন- ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫৫.
Al এ উপস্থিত নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 12
  2. 13
  3. 14
  4. 11
সঠিক উত্তর:
14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
14
ব্যাখ্যা

• অ্যালুমিনিয়ামে উপস্থিত নিউট্রন সংখ্যা 14টি। 

- অ্যালুমিনিয়ামের রাসায়নিক সংকেত Al এবং এটি এক ধাতব মৌল।
- এর পারমাণবিক সংখ্যা 13, যার অর্থ নিউক্লিয়াসে 13টি প্রোটন থাকে।
- এর পারমানবিক ভর 27। 
- নিউট্রন সংখ্যা বাড়লে নিউক্লিয়াস স্থিতিশীল থাকে।
- অ্যালুমিনিয়াম একমাত্র প্রাকৃতিক আইসোটোপ 27Al নিয়ে গঠিত, যার নিউট্রন সংখ্যা 14 হওয়াই এটির স্থিতিশীলতার মূল কারণ।
- যদি নিউট্রন সংখ্যা বেশি বা কম হতো, তবে মৌলটি তেজস্ক্রিয় (Radioactive) হয়ে যেতে পারত।

নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা 
= 27 - 13  
= 14 

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৫৬.
নিউক্লিয়াসের সংযোজনকে বলা হয় -
  1. ক) ফিশন
  2. খ) ফিউশন
  3. গ) মেসন
  4. ঘ) নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
খ) ফিউশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফিউশন
ব্যাখ্যা
- দুটি নিউক্লিয়াসের সংযোগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়া কে ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
- অন্যদিকে যে নিউক্লিয় বিক্রিয়া একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে।

- মেসন হল মৌলের ক্ষুদ্রতম কণিকা।
- নিউট্রন মৌলের স্থায়ী মৌলিক কণিকা।
- নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া হাইড্রোজেন বোমা তৈরির ভিত্তি।
- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
২,২৫৭.
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে একটি ধাতুর উপর অন্য একটি ধাতুর প্রলেপ দেয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়? 
  1. পেইন্টিং 
  2. ভলকানাইজিং 
  3. গ্যালভানাইজিং 
  4. ইলেকট্রোপ্লেটিং 
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রোপ্লেটিং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রোপ্লেটিং 
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ভলকানাইজিং: 
- রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানোকে ভলকানাইজিং বলে। 

পেইন্টিং: 
- ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করার জন্য রং দেয়াকে পেইন্টিং বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৫৮.
পটাশিয়ামবাহী সার কোনটি?
  1. ক) ইউরিয়া
  2. খ) টিএসপি
  3. গ) মিউরিয়েট অব পটাশ
  4. ঘ) ডিএপি
সঠিক উত্তর:
গ) মিউরিয়েট অব পটাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিউরিয়েট অব পটাশ
ব্যাখ্যা
মিউরিয়েট অব পটাশ হচ্ছে পটাশিয়ামবাহী সার। 

- মিউরিয়েট অব পটাশ  এক ধরণের রাসায়নিক সার। কৃষিকাজে ব্যবহারে পটাশিয়াম ক্লোরাইডকে প্রায়ই মিউরিয়েট অব পটাশ বলা হয়।
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCl) একটি শোধিত লাল বা ধূসর লাল ঘনক কেলাসিত যৌগ, যা দেখতে খাবার লবণের মতো।
- ‘মিউরিয়েট’ শব্দটির উৎপত্তি মিউরিয়েটিক এসিড থেকে, যা হাইড্রোক্লোরিক এসিডের একটি সাধারণ নাম।
- প্রক্রিয়াজাত পটাশিয়ামের ৯০ শতাংশেরও অধিক পরিমাণ সার হিসেবে ব্যবহূত হয় এবং বিশ্বব্যাপী পটাশিয়াম লবণের অন্তত ৭৮ শতাংশ মিউরিয়েট অব পটাশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- এ যৌগটিতে K2O (পটাশিয়াম অক্সাইড)-এর পরিমাণ ৪৮ থেকে ৭৮ শতাংশ (অর্থাৎ ৩৯ থেকে ৬১ শতাংশ পটাশ) এবং ক্লোরিনের পরিমাণ প্রায় ৪৭ শতাংশ।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
২,২৫৯.
হ্যালোজেন সমূহ পর্যায় সারণীতে কোন গ্রুপে অবস্থিত? 
  1. ক) গ্রুপ ১ 
  2. খ) গ্রুপ ২ 
  3. গ) গ্রুপ ১৭
  4. ঘ) গ্রুপ ১৮ 
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রুপ ১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রুপ ১৭
ব্যাখ্যা
হ্যালোজন অর্থ সামুদ্রিক লবণ উৎপাদনকারী। এদের অবস্থান গ্রুপ ১৭ তে। 
- গ্রুপ ১৮ তে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ অবস্থান করে।
- গ্রুপ ১ কে বলা হয় ক্ষার ধাতু।
- গ্রুপ ২ কে বলা হয় মৃত ক্ষার ধাতু। 
২,২৬০.
নিচের কোনটি বয়েলের সূত্রকে সমর্থন করে? 
  1. V/T = ধ্রবক
  2. PV = ধ্রবক
  3. P/V = ধ্রবক
  4. VT = ধ্রবক
সঠিক উত্তর:
PV = ধ্রবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
PV = ধ্রবক
ব্যাখ্যা

• বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
- গাণিতিকভাবে, V ∝ 1/P বা, PV = ধ্রুবক। 

• চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
- গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
- গাণিতিকভাবে, V ∝ T বা, V/T = ধ্রুবক। 

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক । 
- গাণিতিকভাবে, P ∝ T বা, P/T = ধ্রুবক। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

২,২৬১.
ফিটকিরিতে _________ অণু পানি থাকে। 
  1. ১৫
  2. ২৪
  3. ১৬
  4. ২৬
সঠিক উত্তর:
২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪
ব্যাখ্যা

• পানি অণুগুলো ফিটকিরির স্ফটিক গঠনকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। উত্তপ্ত করলে এই পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে যায় এবং ফিটকিরির গঠন পরিবর্তিত হয়। তাই ফিটকিরিতে ২৪টি পানি অণু থাকে। সঠিক উত্তর হলো খ) ২৪।

ফিটকিরি: 
- প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার প্রচলিত। 
- ফিটকিরি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম সালফার ও ২৪ অণু পানির যৌগ। 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- এটি সাধারণত কঠিন অবস্থায় বাজারে প্রচলিত। 

- বিভিন্ন কাজে ফিটকিরি ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• এটি জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
• কোথাও কেটে গেলে, ছিঁড়ে গেলে সেখানে পানিতে ভিজানো ফিটকিরি ঘষে দেওয়া হয়। 
• ফিটকিরি কঠিন অবস্থায় থাকে বলে প্রথমে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হয় অথবা পানিতে দ্রবীভূত করে তা ক্ষতস্থানে লাগানো হয়। 
• খাবার পানি বিশুদ্ধ বা জীবাণুমুক্ত করার জন্য এর সাথে পরিমাণমত ফিটকিরি ব্যবহারের ঘণ্টাখানেক আগে দিয়ে রাখা হয়। 
• ফিটকিরি গলে গেলে পানি ছেঁকে নেয়া হয়। 
• অনেকে দাড়ি কাটার পর এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরি ব্যবহার করেন। 
• এটি আফটার সেভ লোশান হিসেবে কাজ করে। 
• ফিটকিরি রক্তক্ষরণও বন্ধ করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৬২.
নিম্নলিখিত অপশন গুলোর মধ্যে কোনটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন?
  1. ইথাইন
  2. বিউটিন
  3. ইথেন
  4. ইথিন
সঠিক উত্তর:
ইথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথেন
ব্যাখ্যা

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ হচ্ছে - ইথেন। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• ইথেন:
- ইথেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। ইথেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C2H6 
- এটি হলো ২ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ২ টি কার্বনের সাথে ৬ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৬৩.
প্রোটনের আপেক্ষিক ভর কত?
  1. ক) ০.১
  2. খ) ১
  3. গ) ০.০১
  4. ঘ) ০.১১
সঠিক উত্তর:
খ) ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১
ব্যাখ্যা
নিউট্রন এবং প্রোটনের আপেক্ষিক ভর হলো ১, ইলেকট্রনের ০।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,২৬৪.
নাইটিনল কী?
  1. এক ধরনের সংকর ধাতু
  2. এক ধরনের এন্টিবায়োটিক
  3. এক ধরনের ভাইরাস
  4. এক ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের সংকর ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের সংকর ধাতু
ব্যাখ্যা
নাইটিনল হলো সংকর ধাতু যা নিকেল ও টাইটিনিয়ামের সমান আণবিক অনুপাতে তৈরী।
এটি নিকেল টাইটিনিয়াম নামেও পরিচিত।

নাইটিনল সংকর ধাতুটি দুটি খুবই অনন্য ও খুবই কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত ধর্ম প্রদর্শন করে।

১) আকৃতি ধরে রাখার অনন্য ক্ষমতা যাকে  Shape Memory বলে।
Shape memory হচ্ছে বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট যা নাইটিনলকে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পরিসরে তার আকৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে।  নাইটিনল দিয়ে কোনো কিছু তৈরীর সময় নির্দিষ্ট আকৃতি দেওয়ার ক্ষত্রে তাপমাত্রা খুব বড় প্রভাবক। তৈরির সময়ের এই তাপমাত্রাকে রুপান্তরক তাপমাত্রা বলে।

২) বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা ( superelasticity বা pseudoelasticity)
নাইটিনলের বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা একটি ক্ষুদ্র তাপমাত্রার পরিসরে হয়ে থাকে যা এর রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি। এই কারণেই বাঁকা তার টি এই রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি তাপমাত্রার গরম পানিতে দেওয়ার ফলে সোজা হয়।

সূত্রঃ The Story of Nitinol: The Serendipitous Discovery of the Memory Metal and Its Applications; researchgate.net থেকে যাচাইকৃত।
২,২৬৫.
নিচের সবচেয়ে কম সক্রিয় ধাতু কোনটি?
  1. গোল্ড
  2. সিলভার
  3. ক্রোমিয়াম
  4. ক্যাডমিয়াম
সঠিক উত্তর:
গোল্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোল্ড
ব্যাখ্যা
- সক্রিয়তা সিরিজে 'গোল্ড (Au)' ধাতুটি সবচেয়ে কম সক্রিয়। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 
 
- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬৬.
হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণের সময় কোন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়?
  1. ক) নিউক্লিয় বিভাজন
  2. খ) তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
  3. গ) নিউক্লিয় সংযোজন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) নিউক্লিয় সংযোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিউক্লিয় সংযোজন
ব্যাখ্যা
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ভিন্ন মৌল তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বা নিউক্লিয় সংযােজন বিক্রিয়া বলে।

- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া।

- নিউক্লিয় ফিউশন নীতির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেনের আইসােটোপ - ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বােমা তৈরি করা হয়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৬৭.
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ শক্তির মূল উৎস-
  1. ক) পানির গতি শক্তি
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তি
  3. গ) পানির বিভব শক্তি
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) পানির বিভব শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পানির বিভব শক্তি
ব্যাখ্যা

- নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সঞ্চিত জলরাশিতে বিভবশক্তি জমা হয়।
- পানি নিচে প্রবাহিত হওয়ার সময় এই বিভবশক্তি গতিশক্তিতে পরিণত হয়।
- পানি প্রবাহের সাহায্যে টারবাইনের চাকা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- এভাবে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৬৮.
pH স্কেলের সীমা কত? 
  1. 0-14
  2. 7-14
  3. 0-7
  4. 0-18
সঠিক উত্তর:
0-14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0-14
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৬৯.
আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত টুথপেস্ট কী জাতীয়?
  1. ক্ষার জাতীয়
  2. এসিড জাতীয়
  3. লবণ জাতীয়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্ষার জাতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষার জাতীয়
ব্যাখ্যা
টুথপেস্ট:
কখনো মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে মুখ পরিষ্কার না করলে কিছুক্ষণ পর মুখে টক টক অনুভূত হয়।
- আসলে মুখের মধ্যে অনেক ব্যাকটেরিয়া থাকে যা আমাদের খাওয়া খাবার থেকে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড তৈরি করে।
- তাই মুখে টক স্বাদ অনুভূত হয়।
- এই এসিড দাঁতের এনামেলকে (ক্যালসিয়ামের যৌগ) ক্ষয় করে।
- টুথপেস্টে থাকা ক্ষারজাতীয় পদার্থ এ সকল এসিডকে প্রশমিত করে।
- ফলে দাঁতের এনামেল রক্ষা পায়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭০.
কে পরমাণুর নিউক্লিয়ার মডেল সম্পর্কে ধারণা দেন?
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) নীল বোর
  3. গ) ডেমোক্রিটাস
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাদারফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন।
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। 
- এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়।
- রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭১.
শুষ্ক কোষে কে ইলেকট্রন দান করে? 
  1. দস্তার খোল
  2. কার্বন দণ্ড
  3. কয়লার গুঁড়া
  4. ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
দস্তার খোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তার খোল
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell): 
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ।
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে। 

গঠন: 
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। 
- চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়। 
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে। 
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে। 
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে। 
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে। 
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়। 
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে। 
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে। 
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,২৭২.
হ্যালোনস বা BCF সাধারণত কোন রূপে কাজে লাগানো হয়?
  1. চেতনানাশক
  2. কীটনাশক
  3. জ্বালানী
  4. অগ্নিনির্বাপক
সঠিক উত্তর:
অগ্নিনির্বাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিনির্বাপক
ব্যাখ্যা

• হ্যালোনস বা BCF (Bromochlorodifluoromethane) প্রধানত অগ্নিনির্বাপক পদার্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এগুলো উচ্চ কার্যকারিতা সম্পন্ন ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলিতে ব্যবহৃত হয় এবং আগুন নিভানোর সময় দ্রুত তাপ শোষণ এবং জ্বলন প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বাধা সৃষ্টি করে। হ্যালোনস বাতাসে তেমন ক্ষতি ছাড়াই আগুন দমন করতে সক্ষম এবং এটি ইলেকট্রনিক বা সংবেদনশীল সরঞ্জাম যেমন কম্পিউটার রুম, বিমান ইঞ্জিন, বা ল্যাবরেটরিতে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। এগুলো চেতনানাশক বা কীটনাশক নয় এবং সাধারণ জ্বালানীর বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হয় না। তাই হ্যালোনসের প্রধান ব্যবহার হলো অগ্নিনির্বাপক হিসাবে।

- উত্তর: ঘ) অগ্নিনির্বাপক। 

• হ্যালোনস বা BCF (Halons or BCF):
- হ্যালোনস বা BCF হলো রসায়নিক যৌগ যা প্রধানত অগ্নিনির্বাপক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  
- এগুলো আগুন নিভাতে খুব কার্যকর, বিশেষত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বা সংবেদনশীল সরঞ্জামে।  
- হ্যালোনস আগুন নিভাতে ব্যবহার করার সময় জলে বা ধোঁয়ায় ক্ষতি করে না।  
- এগুলি চেতনানাশক, কীটনাশক বা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হয় না।  
- হ্যালোনস বাতাসে ছড়িয়ে গেলে পরিবেশে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এখন অনেক দেশ এগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।  

- সুতরাং, হ্যালোনস বা BCF সাধারণত অগ্নিনির্বাপক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  
- সঠিক উত্তর: ঘ) অগ্নিনির্বাপক।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

২,২৭৩.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড নয় কোনটি?
  1. ক) পামিটিক এসিড
  2. খ) প্রোপানোয়িক এসিড
  3. গ) স্টিয়ারিক এসিড
  4. ঘ) অলিয়িক এসিড
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলিয়িক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলিয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন - 

সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
২,২৭৪.
মানুষের শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর মান কত?
  1. ৮.৫
  2. ১৪
  3. ৫.৫
সঠিক উত্তর:
৫.৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫.৫
ব্যাখ্যা
• pH এর মানের ভিন্নতা:
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর মান ৫.৫।
- ত্বকের pH এর মান ৫.৫ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- ত্বকের pH এর মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়।
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল। এর pH এর মান হলো ৫.০।
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার শ্যাম্পুর pH এর মান ৫.৫ এর কাছাকাছি থাকাই উচিত।
- চুলের pH এর মান ৬ এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭৫.
নিচের কোনটি একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত খনিজ?
  1. সোনা
  2. লবণ
  3. চুনাপাথর 
  4. জিপসাম
সঠিক উত্তর:
সোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনা
ব্যাখ্যা

- একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত খনিজ হচ্ছে সোনা (Au)। 

খনিজ সম্পদ: 

- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- কোনো কোনো খনিজ কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত। 
যেমন- সোনা, রূপা, হীরা ইত্যাদি। 
- কিন্তু বেশিরভাগ খনিজ দুই বা তার বেশি মৌলিক উপাদানের রাসায়নিক যৌগের ফলে বা সংমিশ্রণে গঠিত হয়। 
- সাধারণত দুইভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- (ক) ধাতব খনিজ, (খ) অধাতব খনিজ এবং (গ) জ্বালানি খনিজ। 

অন্যদিকে, 
- চুনাপাথর একটি যৌগিক খনিজ, প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) দ্বারা গঠিত।
- লবণ মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক যৌগ দ্বারা গঠিত খনিজ।
- জিপসাম ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট (CaSO4.2H2O) নামক যৌগ দ্বারা গঠিত একটি সালফেট খনিজ। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।

২,২৭৬.
কোনটি পরমাণুর মৌলিক কণার মধ্যে নেই?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. ইলেকট্রন
  4. ফোটন
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা

• পরমাণুর মৌলিক কণা: পরমাণু মূলত তিনটি মৌলিক কণার সমন্বয়ে গঠিত: প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন।

- প্রোটন (Proton): ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে।
- নিউট্রন (Neutron): নিরপেক্ষ চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসে থাকে এবং পরমাণুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
- ইলেকট্রন (Electron): ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসের চারপাশে কক্ষপথে ঘোরে।

• ফোটন (Photon):
- এটি আলোর কণা বা কণা-প্রকৃতির তরঙ্গ যা শক্তি বহন করে, কিন্তু পরমাণুর কাঠামোর অংশ নয়। 
- ফোটন কোনো ভর রাখে না।
- এটি নিউক্লিয়াস বা ইলেকট্রনের অংশ নয়।

সুতরাং, পরমাণুর মৌলিক কণার মধ্যে নেই ফোটন।

তথ্যসূত্র: NCTB মাধ্যমিক রসায়ন। 

২,২৭৭.
ধাতুর সক্রিয়তা ক্রম কোনটি সঠিক?
  1. K> Li> Na> Mg
  2. K> Li> Mg> Na
  3. Li> K> Na> Mg
  4. Li> Na> K> Mg
সঠিক উত্তর:
Li> K> Na> Mg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Li> K> Na> Mg
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সক্রিয়তার সঠিক ক্রম: Li> K> Na> Mg।

• ধাতুর সক্রিয়তাক্রম:

- যে ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে ধাতু ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে ধাতু ততো কম সক্রিয়। 
- ধাতু সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭৮.
কপার ও টিনের সংকর ধাতু কোনটি?
  1. পিতল
  2. ইস্পাত
  3. ডুরালুমিন
  4. কাঁসা
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাঁসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁসা
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু:
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।
যেমন-
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
- সংকর ধাতু পিতলে ৬৫% তামা এবং ৩৫% দস্তা মিশ্রিত থাকে।
- সংকর ধাতু পিতলের প্রধান উপাদান হলো তামা যা শতকরা ৬৫% থাকে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭৯.
আমরা যে চক দিয়ে লিখি তা হলো-
  1. ক) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. গ) ক্যালসিয়াম সালফেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম ফসফেট
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
• আমরা যে চক দিয়ে লিখি তা হলো- ক্যালসিয়াম কার্বনেট। 

- চক CaCO3 ক্যালসিয়ামের একটি আকরিক। প্রাকৃতিক চর্ক তৈরি হয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) থেকে।
- পানির নীচে বছরের পর বছর জমে থাকার ফলে এই ক্যালসিয়াম কার্বনেটের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন হয়ে কালক্রমে চকে রূপান্তরিত হয়।
২,২৮০.
ক্লোরোফর্মের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. CCl4
  2. CHCl3
  3. CH2Cl2
  4. CH3Cl
সঠিক উত্তর:
CHCl3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CHCl3
ব্যাখ্যা

◉ ক্লোরোফর্ম (Chloroform) হলো একটি জৈব যৌগ, যার রাসায়নিক সংকেত CHCl3

ক্লোরোফর্মের ব্যবহার: 
- পূর্বে সার্জারির সময় অ্যানেসথেটিক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- জৈব দ্রাবক (Organic Solvent) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- প্লাস্টিক ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- ক্লোরোফর্ম অতিরিক্ত গ্রহণ করলে স্নায়ুতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে ক্ষতিকর হতে পারে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
CCl4 - কার্বন টেট্রাক্লোরাইড; 
CH2Cl2 - ডাইক্লোরোমিথেন; 
CH3Cl - মিথাইল ক্লোরাইড। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা। 

২,২৮১.
মিল্ক অফ লাইম (Milk of Lime) নামে অধিক পরিচিত-
  1. ক) পানি ও ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তৈরি পেস্ট
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের পাতলা দ্রবণ
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাসপেনশান
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ক্লোরিন গ্যাসের বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) পানি ও ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তৈরি পেস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানি ও ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তৈরি পেস্ট
ব্যাখ্যা
ব্লিচিং পাউডার তৈরি হয় শুকনো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ক্লোরিন গ্যাসের বিক্রিয়া ঘটিয়ে। আবার ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের পাতলা দ্রবণ যা চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার (Lime water) নামে পরিচিত সেটি আমাদের ঘরবাড়ি হোয়াইট ওয়াশ করতে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে পানি ও ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তৈরি পেস্ট যা মিল্ক অফ লাইম (Milk of Lime) নামে অধিক পরিচিত, তা পোকামাকড় দমনে ব্যবহৃত হয়। এন্টাসিড ঔষধ হলো মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড। যা সাসপেনশান ও ট্যাবলেট দুভাবেই পাওয়া যায়। ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাসপেনশান মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া (Milk of Magnesia) নামেই অধিক পরিচিত। কখনও কখনও এন্টাসিডে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডও থাকে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি]
২,২৮২.
সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা কোনটি? 
  1. অ্যানথ্রাসাইট
  2. লিগনাইট
  3. বিটুমিনাস
  4. ক্যালাসাইট
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 

- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা - 
১। অ্যানথ্রাসাইট, 
২। বিটুমিনাস এবং 
৩। লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৮৩.
নিচের কোনটির সাথে রাবার রাসায়নিক বিক্রিয়া করে?
  1. ওজোন
  2. পানি
  3. দুর্বল ক্ষার
  4. দুর্বল এসিড
সঠিক উত্তর:
ওজোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওজোন
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- বর্তমান দুনিয়ায় রাবার একটি অতি প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য দ্রব্য। 
- পেন্সিলের লেখা মোছার ইরেজার থেকে শুরু করে সাইকেল, রিক্সা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবার। 
- এছাড়াও রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক শিল্পে, পানির পাইপ, সার্জিকেল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল ইত্যাদি প্রস্তুতিতে বিপুল পরিমাণ রাবার ব্যবহৃত হয়। 
- প্রাকৃতিক রাবার একটি অদানাদার, পানিতে অদ্রবণীয় কঠিন কিন্তু প্লাস্টিকের চেয়ে নরম পদার্থ। 
- রাবার জৈব দ্রাবক এসিটোন, মিথানল ইত্যাদিতে অদ্রবণীয় হলেও ইথার, টারপিন, পেট্রোল ইত্যাদিতে দ্রবণীয়।
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি তাপ সংবেদনশীল ও স্থিতিস্থাপক পদার্থ।
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ ও তাপ কুপরিবাহী, তবে বিশেষভাবে তৈরি রাবার বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে। 
- অন্যান্য পদার্থে তাপ দিলে আয়তন বাড়ে কিন্তু রাবারে তাপ দিলে আয়তন কমে। 
- রাবার পানি, এসিড, দুর্বল ক্ষার ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। তাই প্রলেপ দেয়ার কাজে রাবারকে ব্যবহার করা হয়। 
- রাবার এসিড, ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া না করলেও বাতাসের অক্সিজেন দ্বারা আক্রান্ত হয়।
- অনুরূপভাবে প্রাকৃতিক রাবার ওজোনের (O3) সাথে বিক্রিয়া করে, ফলে রাবার ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ও একসময় নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৪.
CNG এর মূল দাহ্য পদার্থ কোনটি?
  1. বিউটেন
  2. প্রোপেন
  3. ইথেন
  4. মিথেন
সঠিক উত্তর:
মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন
ব্যাখ্যা
• সিএনজি:
- সিএনজি (CNG) এর অর্থ কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস।
- সিএনজি এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Compressed Natural Gas.
- CNG এর মূল দাহ্য পদার্থ  - মিথেন।
- প্রাকৃতিক গ্যাসকে অতি উচ্চ চাপে সংকুচিত করা হলে প্রাপ্ত নমুনাকে CNG বলে।
- এটি পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি।
- বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে যাবাহনসমূহকে সিএনজিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে ২০০১ সালে সিএনজি থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করে।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৫.
অম্লের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সত্য নয়?
  1. ক) সকল লঘু এসিড টক স্বাদ যুক্ত
  2. খ) লাল লিটমাসকে নীল করে
  3. গ) এসিডগুলো ক্ষয়কারী পদার্থ
  4. ঘ) সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে সংশ্লিষ্ট ধাতুটির লবণ উৎপন্ন করে
সঠিক উত্তর:
খ) লাল লিটমাসকে নীল করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাল লিটমাসকে নীল করে
ব্যাখ্যা

লঘু এসিডের বৈশিষ্ট্যঃ

- সকল লঘু এসিড টক স্বাদযুক্ত
- এসিডগুলো ক্ষয়কারী পদার্থ হিসাবে পরিচিত
- এসিড নীল বর্ণের লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে
- সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে সংশ্লিষ্ট ধাতুটির লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে
- ধাতব কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

২,২৮৬.
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কী নেই?
  1. আকার
  2. ভর
  3. আয়তন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকার
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি থাকার কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল পদার্থের কণাগুলো কঠিন পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
- যেকোন পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৮৭.
মৌলিক গ্যাস সাধারণত কেমন অণু গঠন করে? 
  1. একপরমাণুক
  2. দ্বিপরমাণুক
  3. ত্রিপরমাণুক
  4. বহুপরমাণুক
সঠিক উত্তর:
দ্বিপরমাণুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিপরমাণুক
ব্যাখ্যা
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে। 
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। 
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। 
যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি। 
- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। 
- আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে। 

- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে। 
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষণ বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে, যেমন- ধাতব বন্ধন। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৮.
কোনটি ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয়?
  1. নিশাদল
  2. ন্যাপথলিন
  3. ইথানল 
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
ইথানল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল 
ব্যাখ্যা

ইথানল ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয়। 

ঊর্ধ্বপাতন
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়।

অন্যদিকে, ইথানল তরল পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২,২৮৯.
'হেমাটাইট' কোন খনিজ পদার্থের একটি আকরিক?
  1. আয়রন
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন
ব্যাখ্যা
• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৯০.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. সংযোজন বিক্রিয়া
  4. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

প্রশমন বিক্রিয়া:
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
- এই প্রশমন বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়
যেমন- লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়।
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৯১.
দুধের প্রধান প্রোটিন কোনটি?
  1. লিপিড
  2. ক্যারোটিন
  3. ক্যাজিন
  4. ল্যাক্টোবুমিন
সঠিক উত্তর:
ক্যাজিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাজিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন (Protein): 
- দুধে তিন শ্রেণির প্রোটিন থাকে। 
যেমন- ক্যাজিন (casein), ল্যাক্ট এলবুমিন (lact albumin) ও ল্যাক্টো গ্লোবুলিন (lactoglobulin). 
- ল্যাক্ট এলবুমিন ও ল্যাকটোগ্লোবুলিনকে সেরাম বা হোয়ে-প্রোটিন (whey protein or serum) বলে। 
- দুধের মোট প্রোটিন (0.9-4.6%) এর মধ্যে 82% হলো ক্যাজিন এবং 18% হলো হোয়ে-প্রোটিন। 
- ক্যাজিন হলো দুধের প্রধান প্রোটিন উপাদান। 
- গ্লুটামিন ও এস্পারাজিন অ্যামাইনো এসিড বাদে অন্য সব অ্যামাইনো এসিড ক্যাজিনে আছে, তাই তরুণ-তরুণীদের দেহ বৃদ্ধির জন্য প্রায় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড সমৃদ্ধ দুধের প্রোটিন উৎকৃষ্ট প্রোটিন খাদ্যরূপে বিবেচিত হয়। 
- ক্যাজিন হলো এক প্রকার ফসফোপ্রোটিন। 
- আর্দ্রবিশ্লেষণের ফলে ক্যাজিন ফসফরিক এসিড ও অ্যামাইনো এসিডে বিভক্ত হয়। 
- ক্যাজিন পানিতে অদ্রবণীয়; দুধে এসিড মিশালে ক্যাজিন অধঃক্ষেপরূপে পৃথক হয়ে পড়ে। 
- মায়ের দুধে 0.9% এবং পশুর দুধে 3.2-4.6% প্রোটিন থাকে। 
- আবার দুধের প্রধান প্রোটিন ক্যাজিন চার ধরনের হয়। 
যেমন- αS1 ক্যাজিন, αS2 ক্যাজিন, β ক্যাজিন ও Κ (kappa) ক্যাজিন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,২৯২.
pH স্কেলের সীমা কোনটি? 
  1. 0–7 
  2. 0–10 
  3. 0–14 
  4. 1–14 
সঠিক উত্তর:
0–14 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0–14 
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়।
- কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৯৩.
ড্যানিয়েল সেলে অ্যানোড হিসেবে কোন ধাতুর দন্ড ব্যবহার করা হয়? 
  1. Zn
  2. Fe
  3. Na
  4. Cu
সঠিক উত্তর:
Zn
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Zn
ব্যাখ্যা

ড্যানিয়েল সেল (Daniel Cell) হলো একটি প্রকারের প্রাথমিক বৈদ্যুতিক ব্যাটারি যা রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুতের শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 

এতে দুটি ইলেক্ট্রোড থাকে: 
অ্যানোড (Zn): যেখান থেকে ইলেকট্রন নিঃসৃত হয়।
Zn → Zn2++ 2e-

ক্যাথোড (Cu):
যেখান ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
Cu2+ + 2e- → Cu

Zn ইলেকট্রন দানকারী, তাই অ্যানোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

২,২৯৪.
কোনটির আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) পানি
  2. খ) কেরোসিন
  3. গ) বায়ু
  4. ঘ) খাবার লবণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাবার লবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাবার লবণ
ব্যাখ্যা
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে।
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে।

কঠিন পদার্থ
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়।
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে।
- কক্ষ তাপমাতায় বেশির ভাগ পদার্থ কঠিন হলেও তরল ও বায়বীয় অবস্থাতেও পদার্থ অবস্থান করে। তাপমাত্রার পরিবর্তন পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।
কঠিন পদার্থ: ইট, কাঠ, পাথর, খাবার লবণ, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি।
তরল পদার্থ: দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি।
বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ: অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,২৯৫.
নিচের কোনটি অধাতব খনিজ পদার্থ?
  1. ক) Mica
  2. খ) Cu
  3. গ) Au
  4. ঘ) Fe
সঠিক উত্তর:
ক) Mica
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Mica
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে।
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে।

ধাতব খনিজ পদার্থ:
• লোহা (Fe)
• তামা  (Cu)
• সোনা (Au)
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

অধাতব খনিজ পদার্থ: 
• কোয়ার্টজ (Quartz)
• মাইকা (Mica)
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 
- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৯৬.
কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা __________ । 
  1. বেশি
  2. সমান
  3. কিছুটা কম
  4. অনেক বেশি কম
সঠিক উত্তর:
বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 


- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক বা বেশি। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯৭.
পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH কত?
  1. ৩.৫
  2. ৫.৫
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
pH:
- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45।
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7। 
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯৮.
শুকনা চুনে পানি ঢাললে কোনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষণ ঘটে
  2. মিশ্রণের তাপমাত্রা হ্রাস পায়
  3. মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  4. বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি থেকে কম হয়
সঠিক উত্তর:
মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• শুকনা চুনে পানি ঢাললে মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 

• রাসায়নিক বিক্রিয়া:

- রাসায়নিক বিক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এক বা একাধিক পদার্থ একত্রিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নতুন পদার্থে রূপান্তরিত হয়।

• তাপের পরিবর্তনের ভিত্তিতে বিক্রিয়াকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়া।
- তাপহারী বিক্রিয়া। 

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়া:
- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপ উৎপন্ন হয়, তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলা হয়। 

• শুকনা চুন (ক্যালসিয়াম অক্সাইড, CaO) পানির সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Ca(OH)2] তৈরি করে।
- এই বিক্রিয়াটি অত্যন্ত তাপ উৎপাদী (Exothermic) অর্থাৎ তাপ নির্গত হয়। 
- এই বিক্রিয়ায় 63.95 kJ/mol তাপ উৎপন্ন হয়।
- এর ফলে শুকনা চুনে পানি ঢাললে মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি থেকে বেশি হয়। 

• বিক্রিয়াটি হলো - CaO + H2O → Ca(OH)2 ​+ 63.95 kJ/mol

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,২৯৯.
নিচের কোনটি লাফিং গ্যাস?
  1. NO2
  2. N2O
  3. SO2
  4. N2O5
সঠিক উত্তর:
N2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
N2O
ব্যাখ্যা
• লাফিং গ্যাস:
- লাফিং গ্যাসের রাসায়নিক সংকেত N₂O (ডাই নাইট্রোজেন মনোক্সাইড)।
- এটি একটি বর্ণহীন, মিষ্টি স্বাদের গ্যাস।
- শ্বাস নেওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য মেজাজ চঞ্চল বা হাসির অনুভূতি হয় এজন্যই নাম "Laughing Gas"।

উল্লেখ্য,
- হিলিয়াম (He): হালকা গ্যাস হওয়ায় এটি বেলুন এবং এয়ারশিপে ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S): পচা ডিমের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।
- মিথেন (CH4): পচনশীল জৈব পদার্থ, গবাদি পশুর অস্ত্র থেকে নির্গত হয়।
- আরগন (Ar): এটি বৈদ্যুতিক বাতিতে ব্যবহৃত হয়।
- চিপসের প্যাকেটে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।


উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,৩০০.
পিতল হলো-
  1. ক) তামা ও টিনের সংকর
  2. খ) তামা ও দস্তার সংকর
  3. গ) নিকেল ও টিনের সংকর
  4. ঘ) টিন ও সীসার সংকর
সঠিক উত্তর:
খ) তামা ও দস্তার সংকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তামা ও দস্তার সংকর
ব্যাখ্যা
• দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।
• যেমন- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
• পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
• সংকর ধাতু পিতলে ৬৫% তামা এবং ৩৫% দস্তা মিশ্রিত থাকে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - রসায়ন বিজ্ঞান বই।