বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৭ / ২৭ · ১,৬০১১,৭০০ / ২,৬৯২

১,৬০১.
pH মান 7 এর নিচে হলে দ্রবণটি কী হবে?
  1. ক্ষারীয়
  2. ধাতব 
  3. নিরপেক্ষ 
  4. অম্লীয় 
সঠিক উত্তর:
অম্লীয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্লীয় 
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬০২.
In a neutralization reaction, what substance is typically generated?
  1. Water
  2. Sodium hydroxide
  3. Hydrochloric acid
  4. Carbon dioxide
  5. Methane
সঠিক উত্তর:
Water
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Water
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralization Reaction):
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়।

- যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়।
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬০৩.
নিচের কোনটি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. সিলভার ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব, আবার চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০৪.
যে পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে কী বলা হয়?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোটোন
  4. আইসোমার
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়

আইসোমার:
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬০৫.
অভিস্রবনে কোনটির স্থানান্তর ঘটে?
  1. দ্রবণ
  2. দ্রাবক
  3. দ্রব
  4. প্রথমে দ্রব ও এরপর দ্রাবক
সঠিক উত্তর:
দ্রাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাবক
ব্যাখ্যা
• অভিস্রবনে দ্রবণের দ্রাবক অণুর স্থানান্তর ঘটে। 

• অভিস্রবণ:

- অভিস্রবণ (Osmosis) হল একটি ভৌত প্রক্রিয়া, যেখানে একটি অর্ধভেদ্য পর্দা (semi-permeable membrane) দিয়ে ঘেরা দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ এর মধ্যে দ্রাবক (যেমন: পানি) কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে (spontaneously) চলাচল করে। 

• অভিস্রবণের বৈশিষ্ট্য:
→ অর্ধভেদ্য পর্দা:
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি অর্ধভেদ্য পর্দা অপরিহার্য। এই পর্দা শুধুমাত্র দ্রাবক অণুগুলোকে (যেমন: পানি) চলাচল করতে দেয়, কিন্তু দ্রবীভূত পদার্থ (যেমন: লবণ) চলাচল করতে দেয় না।
→ ঘনত্বের পার্থক্য:
- দ্রবণ দুটির মধ্যে দ্রাবকের ঘনত্বের পার্থক্য থাকতে হবে। অভিস্রবণ প্রক্রিয়া এই পার্থক্যের কারণে ঘটে।
- যতক্ষণ পর্যন্ত উভয় দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এই চলাচল  চলতে থাকে।
→ স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া:
- অভিস্রবণ একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া, অর্থাৎ এখানে কোনো বাহ্যিক শক্তির প্রয়োজন হয় না।
→ ব্যাপনের একটি প্রকার:
- অভিস্রবণ মূলত ব্যাপন প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ রূপ, যেখানে দ্রাবক অণুগুলি চলাচল করে।  
→ অভিস্রবণের গুরুত্ব:  
- উদ্ভিদের শিকড় দিয়ে পানি শোষণ, কোষের অভ্যন্তরে পানি চলাচল, এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় অভিস্রবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

তথ্যসূত্র:
- বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, NCTB।
১,৬০৬.
পিরিডক্সিনের অন্য নাম কোনটি?
  1. ভিটামিন বি১২
  2. ভিটামিন বি২
  3. ভিটামিন বি৫
  4. ভিটামিন বি৬
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি৬
ব্যাখ্যা
ভিটামিন B কমপ্লেক্স:
- পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে।
- ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলা হয়। 
- দেহের বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, দেহকোষে বিপাকীয় কাজ, প্রজনন ইত্যাদি সম্পন্ন করার জন্য খাদ্যে ভিটামিন B কমপ্লেক্সের উপস্থিতি অতি আবশ্যক।

থায়ামিন(ভিটামিন বি১): 
♦ উৎস:
আটা, ডাল, বাদাম, তেলবীজ ইত্যাদি। 
♦ অভাবজনিত রোগ:
বেরিবেরি, অরুচি, ওজনহীনতা।

রাইবোফ্ল্যাভিন(ভিটামিন বি২):
♦ উৎস: যকৃৎ, দুধ, ডিম, শাকসবজি ইত্যাদি। 
♦ অভাবজনিত রোগ: 
- এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়।
- চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
- এর অভাবে তীব্র আলোতে চোখ খুলতে অসুবিধা হয়।

নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড(ভিটামিন বি৩):
♦ উৎস: মাংস, যকৃৎ, আটা, ডাল, বাদাম, তেলবীজ, ছোলা, শাক- সবজি।
♦ অভাবজনিত রোগ: 
- এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। পেলেগ্রা রোগে ত্বকে রঞ্জক পদার্থ জমতে শুরু হয় এবং সূর্যের আলোয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। | ফলে ত্বকে লালচে দাগ পড়ে এবং ত্বক খস খসে হয়ে যায়।
- এছাড়া জিভে রঞ্জক পদার্থ জমে জিভের এট্রোফি হয়।

পিরিডক্সিন (ভিটামিন বি৬)
♦ উৎস: চাল, আটা, মাছ, মাংস, শাক- সবজি, ছোলা, ছত্রাক, বৃক্ক, ডিমের কুসুম।
♦ অভাবজনিত রোগ :
অরুচি, বমিভাব, অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দেয়। 

কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (ভিটামিন বি১২):
♦ উৎস: মাংস, যকৃৎ, দুধ ইত্যাদি 
♦ অভাবজনিত রোগ :
- রক্তশূন্যতা,
- স্নায়বিক অবক্ষয়।
১,৬০৭.
মৌলের প্রতীক কোনটি নির্দেশ করে?
  1. মৌলের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ
  2. মৌলের একটি পরমাণু
  3. মৌলের একটি অণু
  4. মৌলের পারমাণবিক ভর
সঠিক উত্তর:
মৌলের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ
ব্যাখ্যা
মৌলের প্রতীক (Symbol of Elements):
রসায়নে প্রতিটি মৌলের পরমাণুকে একটি প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিন্ন ভিন্ন পরমাণুর প্রতীক ভিন্ন ভিন্ন হয়।
যে কোনাে মৌলের পরমাণুর পূর্ণ নামের সংক্ষিপ্ত রূপকে প্রতীক বলে।

উৎসঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০৮.
ডিটারজেন্ট নিচের কোনটি থেকে তৈরি হয়?
  1. ক) সাবান
  2. খ) চর্বি
  3. গ) পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ
  4. ঘ) পানি
সঠিক উত্তর:
গ) পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ
ব্যাখ্যা
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। 
- যেমন: পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- রসায়ন শিল্পের কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক পরিষ্কারক উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
-  এর প্রত্যেকের আবার রয়েছে আলাদা উপাদান এবং রাসায়নিক যৌগ। 
- এ ছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রং এবং কখনও জীবাণুনাশক পদার্থ।
 
উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, সাধারণ বিজ্ঞান; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬০৯.
সোডিয়ামের ভর সংখ্যা কত?
  1. ২৩ 
  2. ১২ 
  3. ২২ 
  4. ১১ 
সঠিক উত্তর:
২৩ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ 
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম (Fundamental property)। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ১ টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা ১ । আবার, কার্বনের পরমাণুতে ৬ টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬ । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা ৬ টি এবং নিউট্রন সংখ্যা ৬ টি। 

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা ১১ টি এবং নিউট্রন সংখ্যা ১২ টি, তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা ২৩ । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬১০.
সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে কোন খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা হয়? 
  1. মাইকা
  2. কোয়ার্টজ
  3. চুনাপাথর
  4. ম্যাগনেটাইট
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
- ধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে অন্যতম হলো- 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

- অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে- 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica) এবং 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 
- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬১১.
কৃত্রিমভাবে প্রথম জৈব যৌগ কত সালে তৈরি করা হয়? 
  1. ১৮২৮ সালে 
  2. ১৮২৫ সালে 
  3. ১৮৩০ সালে 
  4. ১৮৩৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে 
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ: 
- ১৮১৫ সালে বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াস প্রস্তাব করেন যে, জৈব যৌগসমূহ কেবল সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে এক রহস্যময় প্রাণশক্তির প্রভাবে উৎপন্ন হয়ে থাকে। 
- তাই একে পরীক্ষাগারে উৎপন্ন করা সম্ভব নয়। একে প্রাণশক্তি মতবাদ বলা হয়। তখন সব বিজ্ঞানী এ মতবাদ গ্রহণ করেন। 
- ১৮২৮ সালে বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলার পরীক্ষাগারে অজৈব অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড লেড সায়ানেট দ্রবণের বিক্রিয়া ঘটিয়ে আকস্মিকভাবে পরীক্ষাগারে ইউরিয়া প্রস্তুত করেন। 
- ১৮২৮ সালে প্রস্তুতকৃত ইউরিয়া হলো প্রথম জৈব যৌগ যা পরীক্ষাগারে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। 
- এজন্য বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৬১২.
মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণির ভিত্তি কী ছিল?
  1. পারমাণবিক ব্যাসার্ধ
  2. ইলেকট্রন বিন্যাস
  3. নিউট্রনের সংখ্যা
  4. পারমাণবিক ভর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
ব্যাখ্যা

• মেন্ডেলিফ তাঁর পর্যায় সারণি পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজিয়েছিলেন।
- 1869 সালে রাশিয়ান বিজ্ঞানী মেন্ডেলিফ সকল মৌলের ধর্ম পর্যালোচনা করে একটি পর্যায় সূত্র প্রদান করেন।

• সূত্রটি হলো: "মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলি তাদের পারমাণবিক ভর বৃদ্ধির সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।"

• এ সূত্র অনুসারে তিনি তখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত 63টি মৌলকে তার তৈরি পর্যায় সারণিতে 12টি আনুভূমিক সারি আর ৪টি খাড়া কলামের একটি ছকে পারমাণবিক ভর বৃদ্ধি অনুসারে সাজান। 
- এই পর্যায় সারণির ভিত্তি ছিলো মৌলের পারমাণবিক ভর। 
- তার পর্যায় সারণি অনুসারে "একই কলাম বরাবর সকল মৌলের ধর্ম একই রকমের এবং একটি সারির প্রথম মৌল থেকে শেষ মৌল পর্যন্ত মৌলগুলোর ধর্মের ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন ঘটে।" 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

১,৬১৩.
পরমাণুতে শক্তিস্তর সম্পর্কে ধারণা দেন নীচের কোন বিজ্ঞানী?
  1. চ্যাডউইক
  2. নীলস বোর
  3. ম্যাক্সওয়েল
  4. রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
নীলস বোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলস বোর
ব্যাখ্যা

বোর পরমাণু মডেল (Bohr Atom model):
- পরমাণুর গঠন সম্পর্কে ১৯১৩ সালে ডেনমার্কের পদার্থবিজ্ঞানী নীলস বোর রাদার ফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণসহ ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব যুক্ত করে একটি মডেল প্রদান করেন।
- এটি বোর পরমাণু মডেল নামে পরিচিত।

বোর মডেলের প্রস্তাবনা সমূহ হলো- 
• শক্তিস্তর সম্পর্কিত প্রস্তাব: নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ইলেকট্রন আবর্তন করে। এসব কক্ষপথে আবর্তনকালে ইলেকট্রন কোন শক্তি শোষণ বা বিকিরণ করে না। এসব কক্ষপথকে শক্তিস্তর (energy level) বলা হয়।

• কৌনিক ভরবেগ সম্পর্কিত প্রস্তাব: অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিক্রমণরত ইলেকট্রনের কৌনিক ভরবেগ নির্দিষ্ট এবং তা h/2π এর গুণিতক। এখানে h হল প্লাঙ্কের ধ্রুবক। 

• শক্তির বিকিরণ সম্পর্কিত প্রস্তাব: ইলেকট্রন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে লাফ দিয়ে উচ্চ শক্তিস্তরে অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে নিম্ন শক্তি স্তরে গমন করতে পারে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৬১৪.
গ্যাসীয় পদার্থে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ কেমন থাকে? 
  1. সবচেয়ে বেশি 
  2. বেশি 
  3. সবচেয়ে কম 
  4. মধ্যম 
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে কম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে কম 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে কম এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সর্বাধিক থাকে। ফলে অণুসমূহ স্থির অবস্থানে এবং পরস্পরের যথাসম্ভব নিকটে থাকে। 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন অবস্থায় অণুর স্থানান্তর ও আবর্তন গতি প্রায় থাকে না; তবে অণুসমূহের কম্পন গতি থাকে। যেহেতু তাপমাত্রা বাড়লে আন্তঃআণবিক দূরত্ব কিছুটা বাড়ে ও অণুর কম্পন বাড়ে; সেহেতু তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কঠিন পদার্থের আয়তন কিছুটা বাড়ে, তবে এ বৃদ্ধি খুবই কম। 

 তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ ও অণুর স্থানান্তর গতি প্রায় সমান থাকে, তাই অণু বা কণাসমূহ স্থির অবস্থানে থাকে না। 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। কিন্তু যেহেতু তরল অবস্থাতেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে থাকে; সেহেতু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়ালে অণুসমূহের স্থানান্তর, আবর্তন ও কম্পন গতি বৃদ্ধি পায়, তাই তরল পদার্থের আয়তনও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ে। কিন্তু এক্ষেত্রেও আয়তন বৃদ্ধি খুব বেশি নয়; কেননা, তিন প্রকার গতি বৃদ্ধি পেলেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে অবস্থান করে। তবে তরল পদার্থের অণুসমূহ কঠিন পদার্থের তুলনায় কম সুশৃঙ্খল থাকে। 

 গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের বেলায় আস্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি ও আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম থাকে, তাই গ্যাসীয় অবস্থায় অণুসমূহ সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে। 
- তখন অণুসমূহ অধিকতর কম্পন, আবর্তন ও স্থানাস্তর গতি সহকারে আন্তঃআণবিক আকর্ষণকে উপেক্ষা করে মুক্তভাবে চলাচল করে। 
- তখন অণুসমূহ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাই গ্যাসের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই। 
- যেহেতু অণুসমূহ আর পরস্পরের নিকটে থাকে না, সেহেতু গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের আয়তন কঠিন বা তরল অবস্থা থেকে অনেক বেশি হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

১,৬১৫.
মরিচাবিহীন ইস্পাতে শতকরা লোহার পরিমাণ-
  1. ক) ৮%
  2. খ) ১৮%
  3. গ) ৭৪%
  4. ঘ) ৯৯%
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৪%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৪%
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু:
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়।
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে।
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়।
আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬১৬.
পানি এ দুটোর সংমিশ্রণে একটি কম্পাউন্ড-
  1. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
  4. অক্সিজেন ও হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানির সংকেত হলো H2O. 
- পানিতে উপস্থিত থাকে হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম) এবং অক্সিজেন।  
- ভারী পানির সংকেত হলো D2O. 
- ভারী পানিতে উপস্থিত থাকে ডিউটেরিয়াম এবং অক্সিজেন। 
- প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম হলো হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ। 
- সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই বোঝায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬১৭.
কেরোসিনের রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. ক) C12H15
  2. খ) CHCl3
  3. গ) C3H4Cl4
  4. ঘ) C10H15O12
সঠিক উত্তর:
ক) C12H15
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) C12H15
ব্যাখ্যা
• কেরোসিনের রাসায়নিক সংকেত: C12H15

------------------------------
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সংকেত:

• ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত: CHCl3
- ক্লোরোফরম  চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত: Ca(OCl)Cl
- বলপেন এর কালি বা অন্য কোনাে রং যেগুলাে সাবান এবং ডিটারজেন্ট দিয়ে তােলা যায় না সেগুলােকে কাপড় থেকে উঠানাের জন্য তথা বর্ণহীন করার জন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মেঝে, কমােড, বেসিন ইত্যাদি জায়গা থেকে জীবাণু ধ্বংস করার কাজেও ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।

• ইথানয়িক এসিড একটি জৈব এসিড, যার রাসায়নিক সংকেত: CH3COOH
• কাঁদুনে গ্যাস এর রাসায়নিক সংকেত: CCl3NO2
১,৬১৮.
​রকেটে জ্বালানি ও সোনা আহরণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. কার্বোলিক এসিড 
  2. নাইট্রিক এসিড 
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  4. সালফিউরিক এসিড 
সঠিক উত্তর:
নাইট্রিক এসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রিক এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
​- সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
– আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
- সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
- এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
- ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৬১৯.
কাপড় কাঁচার সোডা কোনটি?
  1. K2CO3
  2. CaCO3
  3. Na2CO3
  4. Li2CO3
সঠিক উত্তর:
Na2CO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Na2CO3
ব্যাখ্যা
- জামা-কাপড় কাঁচার জন্য আমরা যে সাবান ব্যবহার করি তা আসলে সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) নামক লবণ ।
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) যা কাপড় কাচার সোডা হিসেবে পরিচিত তাও একটি লবণ।
- তুঁতে বা ফিটকিরি যা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেটিও লবণ।
- সেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাসিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) নামক লবণ ।
- কৃষি জমিতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে তুঁতে বা কপার সালফেটকে (CuSO4,5H2O) ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।
- তবে শৈবালের উৎপাদন বন্ধে এটি খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
- মাটির অ্যাসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে যে চুনাপাথর বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে যে সকল সার যেমন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4], পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।

উৎস : বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২০.
প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণু কোনটিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন
  3. নিউট্রন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২১.
ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী-
  1. ইথার
  2. এস্টার
  3. ইথিলিন
  4. এলকোহল
সঠিক উত্তর:
এস্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস্টার
ব্যাখ্যা
• এস্টার (Ester):
- এস্টার হলো এমন যৌগ, যা কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের (-COOH) হাইড্রোক্সিল (-OH) অংশ প্রতিস্থাপন করে অ্যালকক্সি (-OR) বা অ্যারাইলক্সি (-OAr) দ্বারা গঠিত হয়।
- এস্টারের সাধারণ কার্যকরী মূলক হলো -CO-O-R।
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সাধারণত সুগন্ধিযুক্ত।
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- রাসায়নিকভাবে সংশ্লেষিত এস্টার ব্যবহার করে কৃত্রিম ফলের সুগন্ধি প্রস্তুত করা হয়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২২.
নিচের কোন মিশ্রণে ঊর্ধ্বপাতন ব্যবহার করে পদার্থ আলাদা করা যায় না? 
  1. কর্পূর + বালি 
  2. বালি + গ্লুকোজ 
  3. নিশাদল + লবণ 
  4. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড + লবণ 
সঠিক উত্তর:
বালি + গ্লুকোজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালি + গ্লুকোজ 
ব্যাখ্যা

ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়। 

ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ার প্রয়োগ: 
- কোনো কঠিন পদার্থের মিশ্রণের মধ্যে একটি উদ্বায়ী পদার্থ মিশ্রিত থাকলে ঐ উদ্বায়ী পদার্থকে মিশ্রণ থেকে সহজে পৃথক করা যায়।
যেমন- নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) এর সাথে খাদ্য লবণ (NaCl) মিশ্রিত থাকলে ঊর্ধ্বপাতন পদ্ধতির মাধ্যমে নিশাদলকে পৃথক করা যাবে। 
- বালি এবং গ্লুকোজের মিশ্রণের মধ্যে কোনো উদ্বায়ী পদার্থ নেই, কাজেই তাপ প্রয়োগ করে বালি এবং গ্লুকোজের মিশ্রণ থেকে বালি বা গ্লুকোজকে আলাদা করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬২৩.
গ্যালভানাইজিং পদ্ধতিতে লোহার উপর কিসের প্রলেপ দেয়া হয়?
  1. ক) জিঙ্ক
  2. খ) কপার
  3. গ) সিলভার
  4. ঘ) নিকেল
সঠিক উত্তর:
ক) জিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিঙ্ক
ব্যাখ্যা
• যে কোন ধাতুর উপর জিংকের (দস্তা) প্রলেপ দেয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
এ ক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
গ্যালভানাইজিং এর উদ্দেশ্য হলো লোহার জিনিসকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা।

লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়। গুড়া দুধের টিন বা টিনজাত খাবারের টিনগুলো মূলত লোহা ও ইস্পাতের তৈরি। 
এর উপর টিনে ধাতুর পাতলা প্রলেপ দেয়া থাকে ফলে এতে মরিচা ধরে না এবং ভিতরের খাবার নষ্ট হয় না।

• তড়িৎ বিশ্লেণের মাধমে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরি করার প্রক্রিয়াকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলে।
যেমন- লোহার উপর তামার প্রলেপ দেয়া। 

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি
১,৬২৪.
সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা কোনটি?
  1. ক) বিটুমিনাস
  2. খ) অ্যানথ্রাসাইট
  3. গ) ক্যালাসাইট
  4. ঘ) লিগনাইট
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যানথ্রাসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা - 
১। অ্যানথ্রাসাইট, 
২। বিটুমিনাস এবং 
৩। লিগনাইট। 

- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৬২৫.
ফলকে টিন জাত করে সংরক্ষণ কে কী বলে?
  1. ক্যানিং
  2. মোম আবৃতকরণ
  3. নির্জলীকরণ
  4. স্টোরেলাইজেশন
সঠিক উত্তর:
ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যানিং
ব্যাখ্যা
ক্যানিং বা টিনজাত করে সংরক্ষণ (Canning) :
- আম, আনারস, লিচু, কমলা ইত্যাদি ফলকে টিনজাত করে সংরক্ষণ করা যায়।
- সাধারণত মানসম্পন্ন টাটকা, পাকা ফল পরিস্কার করে খোসা ছাড়ানো হয় এবং ছোট ছোট টুকরা করা হয়।
- টিনজাত করার আগে ফলকে ষ্টেরিলাইজেশন করে নেয়া হয় এবং প্রিজারভেটিভ যোগ করে স্টেরিলাইজড পাত্রে রাখা হয় । পাত্রটিকে বায়ুশুন্য করা হয় এবং বায়ুরোধী অবস্থায় ঠান্ডা করে লেবেল লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

মোম আবৃতকরণ পদ্ধতি :
সম্পূর্ণ ফলকে মোম দিয়ে আবৃত করা হয়। এ কারণে ফলে শ্বসন ও প্রস্বেদন কম হয়। রোগ জীবাণু ও পোকামাকড় দ্বারাও ফল আক্রান্ত হয় না । এই অবস্থায় ফলকে অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।

 স্টোরেলাইজেশন:
স্টোরেলাইজেশন বলতে একটি পৃষ্ঠ, উপাদান বা পরিবেশ থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং স্পোর সহ সমস্ত ধরণের অণুজীবকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল বা মেরে ফেলার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এটি সাধারণত চিকিৎসা, পরীক্ষাগার এবং শিল্প সেটিংসে ব্যবহৃত হয় যাতে নিশ্চিত করা হয় যে সরঞ্জাম, যন্ত্র এবং পৃষ্ঠগুলি যে কোনও কার্যকর অণুজীব থেকে মুক্ত যা সম্ভাব্য সংক্রমণ বা দূষণের কারণ হতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৬.
কোনটি প্রাইমারি দূষক?
  1. SO3
  2. N2O5
  3. NO
  4. HNO3
সঠিক উত্তর:
NO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NO
ব্যাখ্যা

• প্রাইমারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে। যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
- কার্বন মনোক্সাইড (CO)
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂)
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂)
- অ্যামোনিয়া (NH3)
- ছাই, ধুলিকণা
- Volatile organic compounds (VOCs)

• সেকেন্ডারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে।
- যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
- নাইট্রিক এসিড (HNO3)
- সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H₂O₂)
- ওজোন (O3)

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬২৭.
নিচের কোন এসিড সিরকা হিসেবে বেশ পরিচিত?
  1. সাইট্রিক এসিড
  2. ল্যাকটিক এসিড
  3. ম্যালিক এসিড
  4. অ্যাসিটিক এসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
- তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
১. মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
২. যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
৩. ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
৪. পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
৫. দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৮.
গ্রিন হাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে?
  1. ক) বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  2. খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  3. গ) উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
  4. ঘ) সাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
সঠিক উত্তর:
খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি- নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে।
গ্রীন হাউস ইফেক্টের কারনে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইসিসি ২০০৭ সালে তার সতর্কীকরণে বলেছে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সে.মি. বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী ১০-১৫ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। আনুমানিক ৩.৫ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০।
১,৬২৯.
নিচের কোনটি ব্যাটারির অংশ নয়?
  1. ক) অ্যানোড
  2. খ) ক্যাথোড
  3. গ) ডায়োড
  4. ঘ) ইলেকট্রোলাইট
সঠিক উত্তর:
গ) ডায়োড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডায়োড
ব্যাখ্যা

ব্যাটারিতে তিনটি অংশ থাকে।
যথা- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং ইলেকট্রোলাইট।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৩০.
pH স্কেলের উদ্ভাবন করেন কে?
  1. মেন্ডেলিফ
  2. সোরেনসেন
  3. ডাল্টন
  4. ল্যাভয়সিয়ে
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
ব্যাখ্যা
•  pH :
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের [H+] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে।
- 1909 সালে ড্যানিশ প্রাণ-রসায়নবিদ সোরেনসেন কোনো দ্রবণের H+ ও OH- আয়নের ঘনমাত্রা প্রকাশের জন্য pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH হলো Puissance d' Hydrogen অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়নের প্রাবল্য। 

• pH pOH এর মধ্যে সম্পর্ক-
pH + pOH = 14

• বিশুদ্ধ পানির pH এবং pOH একই অর্থাৎ pH = pOH = 7 I অর্থাৎ বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ।
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হলে pH এর মান কমতে থাকে এবং ক্ষার যোগ করলে pH এর মান বাড়তে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩১.
তড়িচ্চালক শক্তির একক-
  1. Joule
  2. Volt
  3. Coulomb
  4. NC-1
সঠিক উত্তর:
Volt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Volt
ব্যাখ্যা
তড়িচ্চালক শক্তিঃ কোষ বা উৎসকে এক কুলম্ব পরিমান আধানকে তার নিম্ন বিভব প্রান্ত থেকে উচ্চ বিভব প্রান্তে আনতে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে হয় তাকে কোষ বা উৎসের তড়িচ্চালক শক্তি বলে।
একে E দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
এর একক ভোল্ট (V)। খোলা বর্তনীতে কোষের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্যই কোষের তড়িচ্চালক শক্তি।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৬৩২.
হাইড্রক্সিল মূলক (-OH) মূলক থাকা সত্ত্বেও নিচের কোনটি অ্যালকোহল নয়?
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. ফেনল
  4. প্রোপানল
সঠিক উত্তর:
ফেনল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেনল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল (Alcohol): 
- যে জৈব যৌগে হাইড্রক্সিল মূলক (-OH) বিদ্যমান থাকে তাকে অ্যালকোহল বলে। 
- তবে কিছু কিছু যৌগে হাইড্রক্সিল মূলক (-OH) বিদ্যমান থাকলেও তাদেরকে অ্যালকোহল বলা হয় না (যেমন- ফেনল C6H5-OH) । 
- অ্যালকোহলের সাধারণ সংকেত CnH2n+1OH । 
- এ শ্রেণির প্রথম সদস্য হচ্ছে মিথানল (CH3-OH), দ্বিতীয় সদস্য ইথানল (CH3-CH2-OH)। 
- অ্যালকোহলকে R-OH দিয়ে প্রকাশ করা যায়, যেখানে R হলো অ্যালকাইল মূলক। 
- এ শ্রেণির প্রথম দিকের সদস্যগুলো বর্ণহীন তরল পদার্থ এবং পানিতে যে কোনো অনুপাতে মিশ্রিত হয়। 

নামকরণ: 
- অ্যালকেনের নামের শেষের 'e' বাদ দিয়ে অল (ol) যোগ করে অ্যালকোহলের নামকরণ করা হয়।
যেমন: ইথানল (CH3CH2OH) । 

অ্যালকোহলের প্রস্তুতি: 
ইথাইল ব্রোমাইড থেকে: 
- ব্রোমো ইথেন এর মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর জলীয় দ্রবণ যোগ করে উত্তপ্ত করলে ইথানল এবং সোডিয়াম ব্রোমাইড উৎপন্ন হয়। 

অ্যালকোহলের ব্যবহার: 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৩৩.
ইলেট্রোলাইটিক সেল বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সেল
  2. এদের অ্যানোড ঋণাত্মক ও ক্যাথোড ধনাত্মক
  3. ডেনিয়েল সেল এর উদাহরণ
  4. তড়িৎবিশ্লেষ্যের বিয়োজন ঘটে
সঠিক উত্তর:
তড়িৎবিশ্লেষ্যের বিয়োজন ঘটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎবিশ্লেষ্যের বিয়োজন ঘটে
ব্যাখ্যা
ইলেট্রোলাইটিক সেল:
- এখানে বাহিরের উৎস হতে সেলে বিদ্যুৎ প্রবেশ করে। ফলে তড়িৎবিশ্লেষ্যের বিয়োজন ঘটে
- এটি বিদ্যুৎ শোষণকারী সেল।
- ইলেকট্রোডদ্বয় বাহিরের কোন তড়িৎচালক বলের উৎসের সাথে সংযুক্ত থাকে।
- এদের অ্যানোড ধনাত্মক ও ক্যাথোড ঋণাত্মক। 
- নেলসন ডায়ফ্রাম সেল এর উদাহরণ।

গ্যালভানিক সেল:
- এখানে ইলেকট্রোডের উপর রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সেল।
- এদের ইলেকট্রোডদ্বয় পরিবাহী তারের সাথে যুক্ত থাকে ফলে উৎপাদিত বিদুৎ পরিচালিত হতে পারে।
- এদের অ্যানোড ঋণাত্মক ও ক্যাথোড ধনাত্মক।
- ডেনিয়েল সেল এর উদাহরণ।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৪.
কোনো গ্যাসের আণবিক ভর বেশি হলে তার ব্যাপনের হার কী হবে? 
  1.  শূন্য হবে 
  2.  কম হবে 
  3.  বেশি হবে 
  4. অপরিবর্তিত থাকবে 
সঠিক উত্তর:
 কম হবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 কম হবে 
ব্যাখ্যা

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম, আবার যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক। 

নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৩৫.
প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না -
  1. ক) কার্বন
  2. খ) জার্মেনিয়াম
  3. গ) টিন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টিন
ব্যাখ্যা
কার্বন: প্রাচূর্যের দিক দিয়ে বিশ্বে কার্বনের অবস্থান চতুর্দশ। জীবন প্রক্রিয়ায় কার্বন একটি অত্যাবশ্যকীয় মৌল বলে এর অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
কার্বন প্রকৃতিতে মূক্ত ও যৌগ উভয় অবস্থায় বিদ্যমান। মুক্ত অবস্থায় ডায়মন্ড ও গ্রাফাইট এ দু'টি স্ফটিকাকার এবং কার্বন অনিয়তাকার বা অদানাদার। কার্বন মূলত: কয়লা হিসেবে থাকে। যৌগাবস্থায় কার্বন চুনাপাথর বা ক্যালসাইট, CaCO3; ম্যাগনেসাইট, MgCO3; ডলোমাইট, CaCO3.MgCO3 ইত্যাদিতে থাকে। এ ছাড়া খনিজ তৈল ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ জৈব যৌগে কার্বন থাকে। অজৈব যৌগ যেমন CO, কার্বনেট ও বাইকার্বনেট যৌগেও উলে-খযোগ্য পরিমাণে কার্বন থাকে ।

সিলিকন: অক্সিজেনের পরই প্রকৃতিতে প্রাচুর্যতার দিক দিয়ে সিলিকনের অবস্থান। অক্সিজেনের প্রতি সিলিকনের প্রবল আসক্তি থাকায় প্রকৃতিতে সিলিকন অক্সাইড যৌগ। বালি, পাথর ও কোয়ার্ডে সিলিকা রূপে (SiO2) সিলিকন বিদ্যমান থাকে। এছাড়া সিলিকন ফেল্ডস্পার, মাইকা, এ্যাসবেসটস ইত্যাদিতে সিলিকেট রূপে থাকে ।

টিন: টিন প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়না। এর প্রধান আকরিক হচ্ছে ক্যাসিটেরাইট বা টিন-স্টোন, SnO2 । Fe, Cu ও Zn এর বিভিন্ন পাইরাইট্স আকরিকের সাথেও স্বল্প পরিমাণে টিন মিশ্রিত থাকে ।

সূত্র: ৪২৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৬.
তরল থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হলে কোনটির আয়তন কমে যায়?
  1. ক) পিতল
  2. খ) বরফ
  3. গ) ঢালাই লোহা
  4. ঘ) প্যারাফিন মোম
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্যারাফিন মোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্যারাফিন মোম
ব্যাখ্যা
তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরকে কঠিনীভবন (Solidification) বলে।
১. সাধারণত তরল থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হলে আয়তন কমে যায়। তামা, প্যারাফিন মোম।
২. তরল থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হলে আয়তন বেড়ে যায় - বরফ, ঢালাই লোহা, পিতল, বিসমাথ, অ্যান্টিমনি, ছাপার হরফ।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৩৭.
শুষ্ক কোষের তড়িচ্চালক বল-
  1. ক) 1.2 Volt
  2. খ) 1.6 Volt
  3. গ) 1.5 Volt
  4. ঘ) 1.7 Volt
সঠিক উত্তর:
গ) 1.5 Volt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 1.5 Volt
ব্যাখ্যা

শুষ্ক কোষ (Dry Cell):
এ কোষ মূলত লেকল্যান্স কোষের ভিন্ন সংষ্করণ। লেকল্যান্স কোষের উপাদান দিয়ে এ কোষ গঠিত হয়। একোষে তরল NH4Cl এর পরিবর্তে NH4Cl এর পেষ্ট এবং পোলারক হিসাবে কঠিন MnO2 ব্যবহার করা হয়।
উভয়ই শুষ্ক বলে একে শুষ্ক কোষ বলা হয়। এ কোষের তড়িচ্চালক বল ১.৫ ভোল্ট।

সুত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৩৮.
কোনটি আদর্শ খাবার?
  1. ক) ডিম
  2. খ) মাছ
  3. গ) দুধ
  4. ঘ) ডাল
সঠিক উত্তর:
গ) দুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুধ
ব্যাখ্যা

- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- কারণ এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।

১,৬৩৯.
ইলেকট্রনের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. চার্জহীন
  2. ভরহীন 
  3. ধনাত্মক চার্জধারী
  4. ঋণাত্মক চার্জধারী 
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক চার্জধারী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক চার্জধারী 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- 
১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 

প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৪০.
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে শতকরা কতভাগ 238U আইসোটোপ থাকে?
  1. 50%
  2. 99.3%
  3. 0%
  4. 69.3%
সঠিক উত্তর:
99.3%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
99.3%
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে শতকরা 99.3 ভাগ 238U আইসোটোপ থাকে।

আইসোটোপ:
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- বর্তমানে সর্বমোট আইসোটোপের সংখ্যা প্রায় ১৩০০।

ইউরেনিয়াম:
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় মৌল।
- ইউরেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ৯২ এবং পারমাণবিক ভর ২৩৮।
- ইউরেনিয়ামের তিনটি প্রধান আইসোটোপ হলো-

238U আইসোটোপ:
• প্রোটনের সংখ্যা: 92,
• নিউট্রনের সংখ্যা: 146,
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 99.3% এবং
• অর্ধায়ু: 4.47 বিলিয়ন বছর।

235U আইসোটোপ:
• প্রোটনের সংখ্যা: 92,
• নিউট্রনের সংখ্যা: 143,
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 0.7% এবং
• অর্ধায়ু: 703.8 মিলিয়ন বছর।

234U আইসোটোপ:
• প্রোটনের সংখ্যা: 92,
• নিউট্রনের সংখ্যা: 142,
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 0.0057% এবং
• অর্ধায়ু: 245,500 বছর।

- 238U প্রাকৃতিকভাবে অবস্থিতিশীল এবং অতি দীর্ঘজীবী।
- অন্যদিকে, 235U আইসোটোপটি বিভক্ত হতে পারে এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের জন্য দায়ী, এটিই পারমাণবিক চুল্লী ও বোমায় ব্যবহৃত হয়।

উৎস: United States Nuclear Regolatory Commission এবং ব্রিটানিকা।
১,৬৪১.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন মৌল?
  1. রেডন
  2. টেনেসিন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ট্যান্টালাম
সঠিক উত্তর:
টেনেসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেনেসিন
ব্যাখ্যা
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
- যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

হ্যালোজেন মৌল: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।

- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
- যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
- যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৪২.
নিচের কোন ধাতুটি অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে সবচেয়ে সহজে জারিত হয়?
  1. সোনা
  2. রূপা
  3. পটাসিয়াম
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
পটাসিয়াম (K) হলো একটি খুবই সক্রিয়  ধাতু, যা অক্সিজেনের সাথে খুব সহজেই জারণ বিক্রিয়া করে। এটি একটি ক্ষার ধাতু (alkali metal)। 
- ক্ষার ধাতুগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত সহজে অক্সিজেন এবং পানি সহ অন্যান্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে।
- পটাসিয়াম অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে জারিত হয়ে পটাসিয়াম অক্সাইড (K₂O) বা পটাসিয়াম পারঅক্সাইড (K₂O₂) তৈরি করে।
- এটিকে কেরোসিন তেলে ডুবিয়ে রাখা হয় কেননা বাতাস / পানির সংস্পর্শে এটির বিস্ফোরণ ঘটে।  

ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজ (Reactivity Series):
পটাসিয়াম (K) > সোডিয়াম (Na) > ক্যালসিয়াম (Ca) > ম্যাগনেসিয়াম (Mg) > অ্যালুমিনিয়াম (Al) > জিংক (Zn) > আয়রন (Fe) > টিন (Sn) > লেড (Pb) > কপার (Cu) > মার্কারি (Hg) > সিলভার (Ag) > গোল্ড (Au)
অর্থাৎ সক্রিয়তা সিরিজে পটাশিয়াম উপরে অবস্থান করায় এটি বেশ সক্রিয়। 

অন্যদিকে, 
সোনা (Gold): সোনা অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং সহজে অক্সিজেনের সাথে প্রতিক্রিয়া করে না।

রূপা (Silver): রূপা অক্সিজেনের সাথে কিছুটা প্রতিক্রিয়া করতে পারে, কিন্তু পটাসিয়ামের মতো দ্রুত নয়।

তামা (Copper): তামা কিছুটা প্রতিক্রিয়া করতে পারে, তবে এটি পটাসিয়ামের তুলনায় অনেক কম প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা প্রদর্শন করে।


তথ্যসূত্র:

- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
- "Chemistry: The Central Science" by Brown, LeMay, Bursten — Reactivity of Alkali Metals chapter.
১,৬৪৩.
এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি? 
  1. N2O
  2. SO2
  3. CO
  4. CO2
সঠিক উত্তর:
SO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SO2
ব্যাখ্যা

এসিড বৃষ্টি: 
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন: NO, NO2) । 

এসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব: 
- বর্তমানে রিপোর্টে প্রকাশিত ভারতের 'মথুরা অয়েল রিফাইনারি' থেকে নির্গত SO2 বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এসিড বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। 
- এ এসিড বৃষ্টি থেকে 'তাজমহল'-এর মার্বেল পাথর আক্রান্ত হচ্ছে। এসিড বৃষ্টিতে বিভিন্ন ধাতুর তৈরি ব্রিজ ও অট্টালিকার ক্ষতি হয়। 
- এসিড বৃষ্টির ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ আক্রান্ত হয়। কম pH এর পানিতে মাছের ডিম হ্যাচিং (hatching) বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। অধিক অম্লত্বের কারণে জলাশয়ে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে জলাশয় বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।
- এসিড বৃষ্টির প্রভাবে বৃষ্টি অরণ্য (rain forest)- এর বিশেষ ক্ষতি হতে পারে। বীজের অঙ্কুরোদ্গম এসিড বৃষ্টিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- মাটির উপাদান ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, জিংক ধাতুর ফসফরাস যৌগ এসিড বৃষ্টি ধুয়ে নিয়ে মাটিকে অনুর্বর করে দেয়। 

এসিড বৃষ্টির প্রতিকার: 
- এসিড বৃষ্টি হওয়ার পরে পুকুর ও হ্রদের পানিতে এবং কৃষি জমিতে চুন বা লাইম অথবা চুনাপাথর গুঁড়া ছিটানো দরকার। তখন অতিরিক্ত এসিড ক্যালসিয়াম লবণে পরিণত হয়। এরূপ লাইমিং কাজে অর্থ ব্যয় খুব বেশি। 
- দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ট্রপোস্ফিয়ারকে SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা। 
- এজন্য শিল্পক্ষেত্রে FGD প্ল্যান্ট ও মোটর-কারে ক্যাটালাইটিক কনভার্টার ব্যবহার করে NOx গ্যাসকে বিজারিত করে N2 গ্যাসে পরিণত করা। 

অন্যদিকে, 
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
যেমন- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) দূর্বল কার্বনিক এসিড (H2CO3) তৈরি করে যা এসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

১,৬৪৪.
নিচের কোন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়?
  1. ন্যাপথলিন 
  2. আয়োডিন
  3. নিশাদল 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- 
নিশাদল (NH4Cl)
• কর্পূর (C10H16O), 
ন্যাপথলিন (C10H8)
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), 
আয়োডিন (I2)
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৪৫.
অণুসমূহ পরস্পরকে যে শক্তিতে আকর্ষণ করে তাকে কি বলে?
  1. ক) রাসায়নিক বন্ধন
  2. খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি
  3. গ) রাসায়নিক শক্তি
  4. ঘ) নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি
ব্যাখ্যা
আন্তঃআণবিক শক্তির কারণে অণুসমূহ পরস্পরের সন্নিকটে থাকতে চায় কিন্তু অণুসমূহ সর্বদা কম্পমান। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কম্পন বৃদ্ধি পায় এবং অণুসমূহ পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। আন্তঃআণবিক শক্তি নির্ভর করে পদার্থের প্রকৃতির উপর।
১,৬৪৬.
পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ কোন তাপমাত্রায় হয়?
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. ২৫° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৪° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৪৭.
হাইড্রোজেন পরমাণুর বর্ণালীর ধারণা কোন পরমাণু তত্ত্ব থেকে পাওয়া যায়?
  1. ক) রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
  2. খ) বোর পরমাণু মডেল
  3. গ) হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা সূত্র
  4. ঘ) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তথ্য
সঠিক উত্তর:
খ) বোর পরমাণু মডেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোর পরমাণু মডেল
ব্যাখ্যা
পরমাণুর ইলেক্ট্রন যখন নিম্ন শক্তি স্তর থেকে উচ্চ শক্তিস্তরে বা উচ্চ শক্তি স্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করে তখন শক্তির শোষণ বা বিকিরণ ঘটে যার কারণে বর্ণালীর উৎপন্ন হয়। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল অনুসারে কোনাে মৌলের পারমাণবিক বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায় না।
কিন্তু বােরের পরমাণু মডেল অনুসারে এক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণু হাইড্রোজেন (H) এর বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায়।
১,৬৪৮.
পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় কোনটি?
  1. ক) ইমবাইবেশন
  2. খ) প্রস্বেদন
  3. গ) ক্লোরিনেশন
  4. ঘ) অসমোসিস
সঠিক উত্তর:
গ) ক্লোরিনেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্লোরিনেশন
ব্যাখ্যা
ক্লোরিনেশন
- জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ক্লোরিন গ্যাস (Cl) ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়া ব্লিচিং পাউডার [(Ca(OCl)Cl], যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলো ব্যবহার করা হয়।
- দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য  সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (NaOCl) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৪৯.
গ্যাসীয় পদার্থের কোনটি থাকেনা?
  1. নির্দিষ্ট ভর
  2. নির্দিষ্ট আকার
  3. নির্দিষ্ট আয়তন
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• বায়বীয় পদার্থ:
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই।
- যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে।
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৫০.
নিচের কোনটি যৌগিক পদার্থ?
  1. লোহা
  2. পানি
  3. সোনা 
  4. রূপা 
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা বা লোহা ইত্যাদি বিশুদ্ধ পদার্থকে যতই ভাঙ হউক না কেন সেখানে তাদের ক্ষুদ্রতর কণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না। 
- এরকম আরও কিছু মৌলের উদাহরণ হলো- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ইত্যাদি। 
- এ পর্যন্ত 118 টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে যার মধ্যে 98টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে। 
- মানব শরীরে মোট 26 ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানিকে যদি ভাঙা হয় (অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়) তবে কিন্তু দুটি ভিন্ন মৌল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যাবে। আবার, লেখার চককে যদি ভাঙা যায় তাহলে সেখানে ক্যালসিয়াম, কার্বন ও অক্সিজেন এ তিনটি মৌল পাওয়া যাবে। 
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে। 
যেমন- যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হউক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2 : 1 । 
- যৌগের ধর্ম কিন্তু মৌলসমূহের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। 
যেমন- সাধারণ তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসীয় কিন্তু এদের থেকে উৎপন্ন যৌগ পানি সাধারণ তাপমাত্রায় তরল। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৫১.
সিমেন্ট তৈরিতে প্রধান কাঁচামাল কী?
  1. চুনাপাথর
  2. কয়লা
  3. সালফার
  4. বালি 
সঠিক উত্তর:
চুনাপাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুনাপাথর
ব্যাখ্যা

চুনাপাথর (Limestone) সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল। এতে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) থাকে, যা পোড়ালে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) তৈরি হয় এবং অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সিমেন্ট তৈরি করে।

​সিমেন্ট উৎপাদন: 
​- সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য দু'ধরনের কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। যথা-
১। ক্যালকেরিয়াস (Calcareous): চুনাপাথর, সিমেন্ট রক, মার্বেল, চক ইত্যাদি।
২। আরজিলেসিয়াস (Argillaceous): সিলিকা (SiO2), অ্যালুমিনা (Al2O3), আয়রন অক্সাইড (Fe2O3) ইত্যাদি।

সাধারণভাবে পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের শতকরা সংযুক্তি নিম্নরূপ:
• চুন (CaO) → 60-70%, 
• ​সিলিকা (SiO2) → 20-25%, 
​• অ্যালুমিনা (Al2O3) → 5-10%,  
​• ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) → 2-3%, 
​• ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO) → 1-5%,  
​• ক্ষার → 1%.

​উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৬৫২.
আলোক সজ্জার জন্য ইলেকট্রিক বাল্ববে সাধারণত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হিলিয়াম গ্যাস
  2. খ) রেডন গ্যাস
  3. গ) জেনন গ্যাস
  4. ঘ) নিয়ন গ্যাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিয়ন গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিয়ন গ্যাস
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ব্যবহার: 
হিলিয়ামের ব্যবহার: 
- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হাল্‌কা। 
- H2 গ্যাসের তুলনায় He গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92%। 
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়। 
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্‌কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে। 
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন। 
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। 
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়। 
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে। 

নিয়নের ব্যবহার: 
- প্রধানত আলোক সজ্জার জন্য নিয়ন গ্যাস ইলেকট্রিক বাল্ববে ব্যবহৃত হয়। 
- নিয়ন আলো কুয়াশার মধ্যেও দৃশ্যমান, এজন্য বিমানের পাইলটগণ আলোক সংকেতরূপে নিয়ন বাল্ব আলো ব্যবহার করেন। 
- নিয়নপূর্ণ বাল্ব টিউব উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। 
- অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস অথবা মার্কারি মিশ্রিত করে সবুজ বা নীল বর্ণের বিকিরণকারী মোক্ষণ নল তৈরি করা হয়। 
- ভোল্টামিটার ও রেকটিফায়ার বৈদ্যুতিক যন্ত্রে রক্ষাকবচ হিসেবে হিলিয়াম-নিয়ন মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়।

আর্গনের ব্যবহার: 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে বায়ুতে আর্গনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- তাই সবচেয়ে সস্তা বৈদ্যুতিক বালবে উচ্চ তাপে টাংস্টেন তারটি যেন জারিত হয়ে কেটে না যায় তার জন্য নিষ্ক্রিয় আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- নাইট্রোজেন থেকে আর্গন অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় এবং এর বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতাও কম। এ কারণে বৈদ্যুতিক বাল্ববে নাইট্রোজেনের পরিবর্তে আর্গন ব্যবহার করা হয়। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় পরিবেশ তৈরির জন্য আর্গন বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশে আর্গন সহজলভ্য না হওয়ায় গবেষণাগারসমূহে নিষ্ক্রিয় পরিবেশ তৈরিতে সাধারণত নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়; কিন্তু উন্নত দেশসমূহে এক্ষেত্রে আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক যন্ত্র, বিশেষত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 

ক্রিপটন ও জেনন - এর ব্যবহার: 
- প্রকৃতপক্ষে বৈদ্যুতিক গ্যাস বাল্ববে ক্রিপ্‌টন ও জেননের ব্যবহার আর্গন অপেক্ষাও ভাল। 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক যন্ত্রেও তাদের ব্যবহার অধিকতর হয়ে থাকে। 
- ফটো তৈরির জন্য ফটোগ্রাফিক ফ্লাশ বাল্ব তৈরিতে ক্রিপ্‌টন-জেননের মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়। 

রেডনের ব্যবহার: 
- রেডন গ্যাস অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়। এ কারণে সাধারণ ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নেই। 
- তবে তেজস্ক্রিয় গবেষণায় এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার কাজে রেডন ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
১,৬৫৩.
কাচ তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সিলিকা
  2. কার্বন
  3. আয়রন
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
সিলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা
ব্যাখ্যা
• কাচ তৈরিতে প্রধানত সিলিকা (SiO₂) বা সিলিকন ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
- সিলিকন ডাইঅক্সাইড মূলত বালি (sand) থেকে প্রাপ্ত হয় এবং এটি কাচের মূল উপাদান।

• কাচ তৈরির প্রক্রিয়া:
- সিলিকা (SiO₂), সোডা (Na₂CO₃), এবং চুন (CaCO₃) মিশিয়ে ১২০০তাপমাত্রায় গলানো হয়।
-  যা ঠান্ডা হলে কাচের আকার ধারণ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৬৫৪.
মিথান্যালের ৪০% জলীয় দ্রবণকে কী বলে?
  1. ভিনেগার 
  2. ফরমালিন
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট 
  4. অ্যাসিটোন
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরমালিন
ব্যাখ্যা

মিথান্যালের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 

ফরমালিন (Formalin):

- ফরমালডিহাইড অর্থাৎ মিথান্যাল (Methanal)-এর ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- অর্থাৎ এতে থাকে ৪০ ভাগ মিথান্যাল এবং ৬০ ভাগ পানি।
- এটি একটি সংরক্ষণকারী পদার্থ, যা বিভিন্ন মৃত প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

রেকটিফাইড স্পিরিট (Rectified Spirit):
- এটি ৯৫.৬% ইথানল এবং ৪.৪% পানির মিশ্রণ।
- এটি সাধারণত জীবাণুনাশক, ঔষধ প্রস্তুতি এবং পরীক্ষাগারে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ভিনেগার (Vinegar):
- (৬ - ১০)% ইথানোয়িক অ্যাসিডের (Ethanoic acid) জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়।
- এটি খাদ্য সংরক্ষণ এবং স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৫৫.
COD দ্বারা কোন পদার্থের জারনকে নির্দেশ করে?
  1. জৈব
  2. অজৈব
  3. জৈব ও অজৈব উভয়ই
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
জৈব ও অজৈব উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব ও অজৈব উভয়ই
ব্যাখ্যা
দূষিত পানিতে উপস্থিত জৈব পদার্থকে অণুজীব যেমন: ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিয়োজনের জন্য যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে সংক্ষেপে বলা হয় B.O.D ।
BOD দ্বারা শুধু জৈব পদার্থ জারিত হয়। 
এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে - Biochemical Oxygen Demand( প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা)

COD দ্বারা জৈব ও অজৈব উভয় পদার্থ জারিত হয়।
এ কারণে কোন পানির নমুনার BOD অপেক্ষা COD এর মান বেশি। 
এর পূর্ণ রূপ - Chemical Oxygen Demand

উৎস - HSC Program, রসায়ন ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৬৫৬.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই?
  1. ইট
  2. অ্যামোনিয়া
  3. পারদ
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৫৭.
নিচের কোনটি লাইম ওয়াটার?
  1. ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
  2. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
  3. ক্যালসিয়াম অক্সাইড এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
  4. ক্যালসিয়াম বাইকার্বোনেটের এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা
CaO + H2O = Ca(OH)2
ক্যালসিয়াম অক্সাইড (চুন) + পানি --> ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
Ca(OH)2, স্ন্যাক লাইম নামেই বেশি পরিচিত। এই বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় যার ফলে পানি ফুটতে থাকে। স্ন্যাক লাইম বা Ca(OH)2, পানিতে খুব অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
আর, পানিতে Ca(OH)2, এর সম্পৃক্ত দ্রবণকেই চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার বলা হয়।

সুত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৬৫৮.
বডিস্প্রের কনটেইনার থেকে গ্যাসীয় পদার্থ কোন প্রক্রিয়ায় বাইরে বেরিয়ে আসে?
  1. ক) ব্যাপন
  2. খ) অভিশ্রবণ
  3. গ) নিঃসরণ
  4. ঘ) প্রস্বেদন
সঠিক উত্তর:
গ) নিঃসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
বডিস্প্রের কনটেইনার থেকে গ্যাসীয় পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া হলো নিঃসরণ। আর পরবর্তীতে বডিস্প্রের সুগন্ধ বাতাসের মাধ্যমে কক্ষের সর্বত্র ছড়িইয়ে পড়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায়।

ব্যাপন:

- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপনের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ:
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,৬৫৯.
কোন পদার্থটি বোতলে রেখে দিলে সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে?
  1. পানি
  2. বাতাস
  3. দুধ
  4. পাউডার
সঠিক উত্তর:
বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাস
ব্যাখ্যা
- যদি সমপরিমাণ বাতাস দুইটি বোতলে রাখা হয় তাহলে তা ছোট বোতলের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ বাতাস বড় বোতলে রাখলেও তা সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে। 

কঠিন পদার্থ: 

- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি আছে, কোনো বস্তু যতটুকু জায়গা দখল করে সেটিই ঐ বস্তুর আয়তন। 
- সকল কঠিন বস্তুই জায়গা দখল করে, তাই সকল কঠিন বস্তুরই আয়তন আছে। 
- কঠিন পদার্থের আয়তন ও আকার সহজে পরিবর্তন করা যায় না। 
- এরা যথেষ্ট দৃঢ় অর্থাৎ এদের দৃঢ়তা আছে। তবে কিছু কিছু কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা কম। 
যেমন: সরিষার দানা, ভাত, কলা ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই, এটি যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আকৃতি ধারণ করে। 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে, কারণ কঠিন পদার্থের মতো এরাও জায়গা দখল করে। 
- এদের আয়তন পরিমাপ করা যায়। পাত্রভেদে আকৃতি পরিবর্তন হলেও আয়তন কিন্তু একই থাকে। 
- যেহেতু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই, আকৃতি পরিবর্তনশীল, সেহেতু বলা যায় যে এরা কঠিন পদার্থের মতো দৃঢ় নয়, অর্থাৎ তরল পদার্থের দৃঢ়তা নেই। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থ যেমন- বাতাসের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। 
- একই পরিমাণ গ্যাস ছোট পাত্রে রাখলে এর আয়তন কম হয় আবার বড় পাত্রে রাখলে এর আয়তন বেশি হয়। 
যেমন- যদি সমপরিমাণ গ্যাস দুইটি সিলিন্ডারে রাখা হয় তাহলে তা ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ গ্যাস বড় সিলিন্ডরে রাখলেও তা সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে। অর্থ্যাৎ, গ্যাসীয় পদার্থ যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আয়তনই গ্যাসের আয়তন। 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই, দৃঢ়তা তো একবারেই নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৬৬০.
হাইড্রোজেনের মোট আইসোটোপ সংখ্যা কতটি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৬১.
এসিডের একটি ধর্ম হলো -
  1. ক) এরা লাল লিটমাসকে নীল করে
  2. খ) এরা নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. গ) এরা নীল লিটমাসকে সাদা করে
  4. ঘ) এরা লাল লিটমাসকে হলুদ করে
সঠিক উত্তর:
খ) এরা নীল লিটমাসকে লাল করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এরা নীল লিটমাসকে লাল করে
ব্যাখ্যা

সকল লঘু এসিড টক স্বাদযুক্ত,
এসিডগুলো ক্ষয়কারী পদার্থ হিসাবে পরিচিত,
এসিড নীল বর্ণের লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে,
এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে সংশ্লিষ্ট ধাতুটির লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে,
লঘু এসিড ধাতব কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৬২.
কোনটি থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার?
  1. পলিথিন
  2. ব্যাকেলাইট
  3. ফাইবার গ্লাস
  4. মেলামাইন
সঠিক উত্তর:
পলিথিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলিথিন
ব্যাখ্যা
• কৃত্রিম পলিমার:
• পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার।
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি।
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
যেমন-
• থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার:
- এটি সহজেই গলানো ও পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- সাধারণত প্লাস্টিক ব্যাগ, বোতল, পাইপ, তারের আবরণে ব্যবহৃত হয়।
- এটি নরম ও নমনীয় (flexible) হওয়ায় সহজে আকৃতি পরিবর্তন করা যায়।
- উদাহরণ: পলিপ্রোপিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড, পলিস্টাইরিন, পলিথিন

• থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক:

- থার্মোসেটিং প্লাষ্টিকের ক্ষেত্রে এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়।
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়।
যেমন- ব্যাকেলাইট,মেলামাইন, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৩.
মেন্ডেলিফ ও লোথার মেয়ারের পর্যায় সূত্র অনুযায়ী- মৌল সমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী উহাদের ____________সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
  1. পারমাণবিক সংখ্যার
  2. ইলেক্ট্রন সংখ্যার
  3. পারমাণবিক ভরের
  4. আণবিক ভরের
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভরের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভরের
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণি সম্পর্কিত সূত্রসমূহ:
- আধুনিক পর্যায় সারণি: বিজ্ঞানী বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলে। এ পর্যায় সারণিতে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ বর্তমান।
- ত্রয়ী সূত্র: ত্রয়ী সূত্রগুলোর মাধ্যমে মৌলের পারমাণবিক ভর দলের অপর দুটি মৌলের গড় পারমাণবিক ভরের সমান এবং ত্রয়ী মৌল তিনটির পারমাণবিক ভরের পার্থক্য একটি ধ্রুবক।

- মেন্ডেলিফ ও লোথার মেয়ারের পর্যায় সূত্র: মৌল সমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী উহাদের পারমাণবিক ভরের সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
- আধুনিক পর্যায় সূত্র: মৌল সমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৪.
এন্টাসিড জাতীয় ঔষধের রাসায়নিক সংকেত নিচের কোনটি?
  1. ক) H2CO3
  2. খ) NaHCO3
  3. গ) CH3-COOH
  4. ঘ) Na2CO3
সঠিক উত্তর:
খ) NaHCO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) NaHCO3
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট:

- এন্টাসিড জাতীয় ঔষধের রাসায়নিক সংকেত NaHCO3 বা সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট। 

- আমাদের পাকস্থলির দেয়াল হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) উৎপন্ন করে। এ হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সাথে বিভিন্ন ক্ষতিকারক অণুজীবকে মেরে ফেলে এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।
- পাকস্থলি থেকে অতিরিক্ত এসিড উৎপন্ন হলে বুক জ্বালা ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভব হয়।
- অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করতে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) অথবা এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবন করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
- লেবুতে, জলপাই, করমচা, আমলকি ও কাঁচা আমড়ায় থাকে সাইট্রিক এসিড। 
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- বিভিন্ন রকমের সফট ড্রিংকস পাওয়া যায় কার্বনিক এসিড (H2CO3)-এর দ্রবন।
- টকদই এর মধ্যে থাকে ল্যাকটিক এসিড

তথ্যসূত্র - রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৫.
মানুষের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান কত? 
  1. 3.5
  2. 4.0
  3. 5.5
  4. 7.0
সঠিক উত্তর:
5.5
উত্তর
সঠিক উত্তর:
5.5
ব্যাখ্যা

প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মানুষের মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৬৬.
কোনটি জারক হিসেবে কাজ করে? 
  1. Cl2
  2. H2
  3. Na
  4. H2S
সঠিক উত্তর:
Cl2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cl2
ব্যাখ্যা

জারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- O2, Cl2, F2, H2SO4, HNO3, H2O2, SO2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

বিজারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, H2S, H2O2, SO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

১,৬৬৭.
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে কী বলে?
  1. ক) সোলার প্যানেল
  2. খ) সান সান সিস্টেম মডেল
  3. গ) লুনার প্যানেল
  4. ঘ) সোলার সিস্টেম মডেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোলার সিস্টেম মডেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোলার সিস্টেম মডেল
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে একে সোলার সিস্টেম মডেল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৬৬৮.
স্ফুটনের জন্য তাপ-
  1. ক) সরিয়ে নিতে হয়
  2. খ) কমিয়ে দিতে হয়
  3. গ) বাড়িয়ে দিতে হয়
  4. ঘ) কোনোটাই না
সঠিক উত্তর:
গ) বাড়িয়ে দিতে হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাড়িয়ে দিতে হয়
ব্যাখ্যা
স্ফুটনের জন্য তাপ দিতে হয় এবং ঘনীভবনের জন্য সরিয়ে নিতে হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৬৬৯.
ইউরিয়ার কার্যকারিতায় কোন এনজাইম ভূমিকা রাখে? 
  1. ল্যাকটেজ 
  2. অ্যামিলেজ
  3. ইউরিয়েজ 
  4. প্রোটিনেজ 
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়েজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়েজ 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: 
- উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। 
- ইউরিয়ার রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [(NH2)2C=O] । 
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত করে
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয় ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৭০.
"বিশ্বের যাবতীয় বস্তু এটম নামক খুবই ক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে গঠিত" – এই ধারণা প্রদান করেন -
  1. ক) রাদারফোর্ড
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) ডেমেক্রিটাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডেমেক্রিটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডেমেক্রিটাস
ব্যাখ্যা
খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ সনে গ্রীক দার্শনিক ডেমেক্রিটাস সর্ব প্রথম অভিমত প্রকাশ করেন যে প্রতিটি বস্তুই অতি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন কণিকার সাহায্যে গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্র কণিকার নাম দিয়েছিলেন ‘এটম'।
১,৬৭১.
Fe(OH)2 একটি -
  1. ক্ষার
  2. ক্ষারক
  3. সবল এসিড
  4. দুর্বল এসিড
সঠিক উত্তর:
ক্ষারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষারক
ব্যাখ্যা

Fe(OH)2 এ OH- মূলক থাকলে ও পানিতে দ্রবণীয় নয় তাই এটি ক্ষারক কোন যৌগ ক্ষার হবার ২টি শর্ত রয়েছে।
যথা - ১. যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড OH- যৌগমূলক থাকতে হবে।
২. ঐ যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে Fe(OH)2 ক্ষার নয়, ক্ষারক।
[উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই।]

১,৬৭২.
ফেনা ভাসমান পদ্ধতি কোন ধরনের আকরিকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক্লোরাইড আকরিক
  2. হাইড্রোক্সাইড আকরিক
  3. অক্সাইড আকরিক
  4. সালফাইড আকরিক
সঠিক উত্তর:
সালফাইড আকরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফাইড আকরিক
ব্যাখ্যা
আকরিক ঘনীকরণ: 
- বিচূর্ণকৃত আকরিক থেকে খনিজমল সাধারণত ভৌত পদ্ধতিতে দূর করে আকরিক ঘনীকরণ করা হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। 
- আকরিকের প্রকৃতি অনুসারে আকরিক ঘনিকরণে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
যেমন- 
অভিকর্ষ বলের সাহায্যে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিকের আপেক্ষিক গুরুত্ব খনিজমল থেকে আপেক্ষিক গুরুত্ব থেকে বেশি হয় তবে এ পদ্ধতিতে ঘনীকরণ করা হয়। 
- বিচূর্ণকৃত আকরিককে প্রবাহমান পানি দ্বারা আলোড়িত বা ধৌত করা হয়। ফলে হালকা খনিজমল প্রবাহমান পানির সাথে চলে যায় এবং ভারি আকরিক সঞ্চিত থাকে। এতে আকরিক ঘনীভূত হয়। 

ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক সালফাইড হিসেবে থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- একটি বড় পাত্রে বিচূর্ণকৃত সালফাইড আকরিক নিয়ে তাতে পানি ও অল্প পরিমাণ উপযুক্ত তেল যোগ করা হয়। অতপর পানির মধ্যে বায়ু প্রবাহিত করা হয়, ফলে সালফাইড আকরিকসমূহ তেলে সিক্ত হয়ে পানির উপর ফেনা আকারে ভেসে উঠে। এবার ফেনাসহ আকরিক পৃথক করে নেওয়া হয় এবং পাত্রে খনিজমল পড়ে থাকে। 

চৌম্বক পৃথকীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক অথবা খনিজমল কোন একটির চৌম্বক ধর্ম থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- এই পদ্ধতিতে দুইটি চাকতিতে স্থাপিত একটি চলমান বেল্টে উপর থেকে বিচূর্ণকৃত আকরিক ফেলা হয়। বেল্টটি চলমান হওয়ায় বিচূর্ণকৃত আকরিক বাহিরের দিকের চাকতিটি পার হয়ে ছিটকে পড়তে থাকে। 
- বাহিরের চাকতিটি চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট রাখা হয়। ফলে চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতির কাছে এবং অচৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতি থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। 

রাসায়নিক পদ্ধতি: 
- কিছু কিছু আকরিকের বৈশিষ্ট্য যদি এমন হয় যে, এর সাথে মিশ্রিত খনিজমল কোন দ্রাবকের সাহায্যে দ্রবীভূত করে দূরিভূত করা যায় তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।
- এই পদ্ধতিতে কোন একটি উপযুক্ত দ্রবক দ্বারা দ্রবীভূত করে আকরিকের মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত একটি উপাদানকে পৃথক করা হয়।
- পরবর্তিতে দ্রবণ থেকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে আকরিক পৃথক করা হয়।
যেমন- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক থেকে খনিজমল দূর করার জন্য কস্টিক সোডা (NaOH) যোগ করে ১২০০-২০০০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে বক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং খনিজমল অদ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। অতপর দ্রবণ ছেঁকে খনিজমল দূর করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৩.
টমেটোতে প্রধানত কোন এসিড পাওয়া যায়?
  1. টারটারিক এসিড
  2. অ্যাসিটিক এসিড
  3. ম্যালিক এসিড
  4. স্যালিসাইক্লিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ম্যালিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যালিক এসিড
ব্যাখ্যা
• টমেটোতে থাকে ম্যালিক এসিড।

• বিভিন্ন জৈব এসিড:
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড।
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড।
- স্যালিসাইক্লিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৬৭৪.
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বাতাস বা অক্সিজেন ছাড়া কতক্ষণ বাঁচতে পারে?
  1. ক) ৩০-৪০ সেকেন্ড
  2. খ) ৪০-৫০ সেকেন্ড
  3. গ) ১ মিনিট
  4. ঘ) ১.৫ মিনিট
  5. ঙ) উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০-৫০ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০-৫০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বাতাস বা অক্সিজেন ছাড়া ৪০-৫০ সেকেন্ড বাঁচতে পারে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৬৭৫.
NaHCO3 -কীসের সংকেত?
  1. ক) বেকিং পাউডার
  2. খ) সোডিয়াম কার্বনেট
  3. গ) সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) বেকিং পাউডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেকিং পাউডার
ব্যাখ্যা
- বেকিং পাউডারের রাসায়নিক সংকেত হলো NaHCO3  ।
- সোডিয়াম কার্বনেটের রাসায়নিক সংকেত হলো Na2CO3 যা ওয়াশিং সোডা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- সালফিউরিক এসিড রাসায়নিক সংকেত হলো H2SO।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৭৬.
কোন ধরনের পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে? 
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. বায়বীয়
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৭.
পেট্রোলের আগুন পানি দ্বারা নেভানো যায় না, কারণ-
  1. পেট্রোল পানির সাথে মিশে যায়
  2. পেট্রোল পানির সাথে মিশে না
  3. পেট্রোল পানির চেয়ে হালকা
  4. খ ও গ উভয়ই ঠিক
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই ঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই ঠিক
ব্যাখ্যা
- পেট্রোল একধরনের প্রাকৃতিক হাইড্রোকার্বন যা পানির চেয়ে অনেক হালকা। 
- এজন্য পেট্রোলের আগুনে পানি দিলে পানি নিচে চলে যায় এবং তা পেট্রোলের সাথে মিশে না। 
- পেট্রোল উপরে উঠে আগুন জ্বলতেই থাকে। 
- পেট্রোলের আগুনে পানি ঢেলে দিলে পেট্রোলের আগুনের উত্তাপ অনেক বেশি হওয়ায় পানি বিশ্লিষ্ট হয়ে যায়। তাই পানি দ্বারা পেট্রােলের আগুন নেভানো যায় না। 
১,৬৭৮.
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত কি গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. হিলিয়াম
  3. নিয়ন
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
আর্গন: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- তাছাড়া বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত নাইট্রোজেন এবং মাঝে মাঝে আর্গন (Ar) গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১,৬৭৯.
নিচের কোনটি নীল লিটমাসকে লাল করে?
  1. এসিড
  2. ক্ষার
  3. ক্ষারক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসিড
ব্যাখ্যা
এসিড:
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে
- এসিডে নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয়।
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে।
যেমন- এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড।
- এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়।

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. এসিড স্বাদে টক।
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে।
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন করে।
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে।
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী।

তথ্যসূত্র - রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮০.
নিচের কোনটির ভর সবচেয়ে কম?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
ক) ইলেকট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
- পরমাণু মূলত ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন কণিকা দিয়ে গঠিত।
- প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে গঠিত নিউক্লিয়াস পরমাণুর কেন্দ্রে খুব স্বল্প স্থান নিয়ে অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন ও প্রোটন চার্জিত কণা। 
- ইলেকট্রনের ভর সবচেয়ে কম। 
- প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের 1836 গুণ।
- নিউট্রনের ভর ইলেকট্রনের ভরের 1839 গুণ ।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কোনো নিউট্রন নেই, শুধু একটি প্রোটন আছে।

উৎস : পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৮১.
নিচের কোন কয়লায় কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. অ্যানথ্রাসাইট
  2. বিটুমিনাস
  3. লিগনাইট
  4. কোনোটিই না
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ। পরবর্তীতে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। যথা: 
১। অ্যানথ্রাসাইট: অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
২। বিটুমিনাস: বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
৩। লিগনাইট: লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮২.
ইথিলিন থেকে কী পাওয়া যায়?
  1. ক) পলিথিন
  2. খ) PVC
  3. গ) নাইলন ৬ঃ৬
  4. ঘ) পলিপ্রপিন
সঠিক উত্তর:
ক) পলিথিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পলিথিন
ব্যাখ্যা
ইথিলিন থেকে পলিথিন  পাওয়া যায়। 
ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পলিথিন পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে পলিমারকরণ দ্রুত করার জন্য প্রভাবক হিসেবে অক্সিজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 
 
অথবা

তবে উচ্চ চাপ পদ্ধতি সহজসাধ্য না হওয়ায় বর্তমানে পদ্ধতি টি জনপ্রিয় নয়। এখন টাইটেনিয়াম ট্রাই ক্লোরাইড (TiCl3) নামক প্রভাবক ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপেই পলিথিন তৈরি হয়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,৬৮৩.
কোনটি একটি দ্বিপরমাণুক অণু হিসেবে পরিচিত?
  1. CO2
  2. CH4
  3. O3
  4. O2
সঠিক উত্তর:
O2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
O2
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন: 
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে। 
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। 
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি। 
- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে। 
- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে। 
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষন বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- ধাতব বন্ধন। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৮৪.
কোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে বলে-  
  1. টিনপ্লেটিং
  2. ভলকানাইজিং
  3. গ্যালভানাইজিং
  4. ইলেকট্রোপ্লেটিং 
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানাইজিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালভানাইজিং
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮৫.
NaCl যৌগে নিচের বিক্রিয়াটি - 
  1. জারণ অর্ধ বিক্রিয়া
  2. বিজারণ অর্ধ বিক্রিয়া
  3. জারণ বিজারন বিক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জারণ অর্ধ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ অর্ধ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে।
জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও
যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে।
যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।

NaCl যৌগেঃ


উৎস - নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
১,৬৮৬.
সাবানকে শক্ত করতে কোন যৌগ ব্যবহার করা হয়?
  1. গ্লিসারিন
  2. সোডিয়াম সিলিকেট
  3. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম সিলিকেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম সিলিকেট
ব্যাখ্যা

সাবান:
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে।
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি।
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।
- 'সোডিয়াম সিলিকেট' সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৮৭.
৯৫.৬% ইথাইল অ্যালকোহল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে কী বলে?
  1. রেক্টিফাইড স্পিরিট
  2. ফরমালিন
  3. ভিনেগার
  4. ক্লোরোপিক্রিন
সঠিক উত্তর:
রেক্টিফাইড স্পিরিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেক্টিফাইড স্পিরিট
ব্যাখ্যা
প্রাত্যহিক জীবনে রসায়ন:

• ক্লোরোফরমের রাসায়নিক সংকেত: CHCl3 (চেতনানাশক রূপে ব্যবহৃত হয়)।
• ক্লোরোফরমের সাথে গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় কাঁদুনে গ্যাস বা ক্লোরোপিক্রিন তৈরি হয়।
• ফল পাকানোর জন্য দায়ী ইথিলিন (CH2=CH2)
• ৯৫.৬% ইথাইল অ্যালকোহল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেক্টিফাইড স্পিরিট বলে।
• ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
• পিঁপড়ার কামড়ের সময় পিঁপড়ার লালার সাথে ফরমিক এসিড বা মিথানোয়িক এসিড নিঃসৃত হয়।
• অ্যাসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে।
• পাকা কলায় এমাইল এসিটেট এস্টার থাকে।
• কঁচুতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকার কারণে কঁচু খেলে গলা চুলকায়।

 উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১,৬৮৮.
সিলভারের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ৩৩
  2. খ) ৪৭
  3. গ) ৭৯
  4. ঘ) ১২
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৭
ব্যাখ্যা
আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩।
সিলভারের পারমাণবিক সংখ্যা ৪৭। 
গোল্ডের পারমাণবিক সংখ্যা ৭৯। 
ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২। 

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি। 
১,৬৮৯.
আইসোবারের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন
  2. প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন
  3. নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন
  4. ইলেকট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন
সঠিক উত্তর:
ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন
ব্যাখ্যা

• যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা (প্রোটন + নিউট্রন) সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন, তাদের একে অপরের আইসোবার বলা হয়।

• আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

• আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৯০.
কোনটি উভধর্মী অক্সাইড? 
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. জিংক অক্সাইড
  3. কার্বন মনো-অক্সাইড
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
জিংক অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিংক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3)। 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন- অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো-অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯১.
সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে কী গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
পূর্বে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে নাইট্রোজেন এবং টিউবলাইটে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হতো।
তবে বর্তমানে উভয়ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসাবে আর্গন ব্যবহৃত হয়।

আর্গনের ব্যবহার:
১. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
২. রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৩. ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪. তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।।

উল্লেখ্য, প্রশ্নের অপশনে আর্গন না থাকলে নাইট্রোজেন উত্তর হবে।

উৎস: রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯২.
শুষ্ককোষের তড়িচ্চালক বল -
  1. ক) ১ ভোল্ট
  2. খ) ১.৫ ভোল্ট
  3. গ) ২ ভোল্ট
  4. ঘ) ২.৫ ভোল্ট
সঠিক উত্তর:
খ) ১.৫ ভোল্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১.৫ ভোল্ট
ব্যাখ্যা
• শুষ্ক কোষ (Dry Cell) কোষ মূলত লেকল্যান্স কোষের ভিন্ন সংস্করণ।
• লেকল্যান্স কোষের উপাদান দিয়ে এ কোষ গঠিত হয়।
• এ কোষে তরল NH4Cl এর পরিবর্তে NH4Cl এর পেষ্ট এবং পোলারক হিসাবে কঠিন MnO2 ব্যবহার করা হয়। 
• এ কোষের তড়িচ্চালক বল ১.৫ ভোল্ট ।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৩.
কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো-
  1. শাজিমাটি
  2. চুনাপাথর
  3. জিপশাম
  4. বালি
সঠিক উত্তর:
বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালি
ব্যাখ্যা
কাঁচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হল বালি। 
- কাঁচ স্বচ্ছ পদার্থ এবং এটি স্বচ্ছ বলেই এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি ভেদ করে চলে যেতে পারে। 
- কাঁচ তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে বালু এবং বালুর প্রধান উপাদান হলো সিলিকা অর্থাৎ সিলিকন-ডাই-অক্সাইড। 
- কাঁচ হচ্ছে মূলত সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণ। 
- রাসয়নিকভাবে কাঁচ একটি ক্ষারীয় দ্বি-লবণ। 
- সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণকে উত্তপ্ত করে সম্পূর্ণরূপে গলিয়ে শীতল করলে যে শক্ত, অনিয়তাকার স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর কঠিন পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কাঁচ বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৪.
pH স্কেলে pH মানের সীমা কোনটি?
  1. 7 থেকে 14
  2. 0 থেকে 14
  3. 1 থেকে 7
  4. 1 থেকে 14
সঠিক উত্তর:
0 থেকে 14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0 থেকে 14
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৫.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত? 
  1. 11
  2. 23
  3. 34
  4. 12
সঠিক উত্তর:
12
উত্তর
সঠিক উত্তর:
12
ব্যাখ্যা

ভরসংখ্যা (Mass Number): 
- কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে। 
- ভরসংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়।  যেমন- সোডিয়ামের (Na) ভরসংখ্যা হলো 23, এর প্রোটন সংখ্যা 11, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে 23 - 11 = 12 । 
- কোনো পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা পরমাণুর প্রতীকের নিচে বাম পাশে লেখা হয়, পরমাণুর ভরসংখ্যা প্রতীকের বাম পাশে উপরের দিকে লেখা হয়।  যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর প্রতীক Na, এর পারমাণবিক সংখ্যা 11 এবং ভরসংখ্যা 23 । 
- এটাকে নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করা যায়- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৯৬.
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অবস্থান পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে?
  1. ১৮ তম গ্রুপে
  2. ১৭ তম গ্রুপে
  3. ১৬ তম গ্রুপে
  4. ১৫ তম গ্রুপে
সঠিক উত্তর:
১৮ তম গ্রুপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ তম গ্রুপে
ব্যাখ্যা
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির ১৮ নম্বর গ্রুপে বা শূন্য গ্রুপে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের অবস্থান।
যেমন - হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)। 
- এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।
- আবার বায়ুতে এদের পরিমাণ খুবই কম (<1%); এ কারণে এদেরকে বিরল বা দুর্লভ গ্যাসও বলা হয়।
- এই গ্যাসগুলো খুব একটা ক্ষতিকরও নয়; তাই এদেরকে ‍উত্তম গ্যাসও বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
১,৬৯৭.
কোন মৌলটির উপস্থিতি কয়লার মান নষ্ট করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. সালফার
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা

• কয়লার মান নষ্টকারী মৌল (সালফার):
- কয়লায় সালফারের উপস্থিতি কয়লার গুণগত মান কমিয়ে দেয়।
- সালফারযুক্ত কয়লা জ্বালালে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস (SO2) উৎপন্ন হয়, যা পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
- এই গ্যাস বায়ু দূষণ ও অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী।
- শিল্পকারখানায় সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করলে যন্ত্রপাতিতে ক্ষয় (corrosion) দেখা যায়।
- তাই উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লাকে নিম্নমানের কয়লা হিসেবে ধরা হয়।

• অন্যান্য মৌলগুলোর প্রভাব:
- নাইট্রোজেন সাধারণত কয়লার মান নষ্ট করার প্রধান কারণ নয়।
- ফসফরাস ধাতব শিল্পে ক্ষতিকর হলেও কয়লার প্রধান মাননষ্টকারী মৌল নয়।
- অক্সিজেন কয়লার দহন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, কিন্তু সরাসরি কয়লার মান নষ্ট করে না।

সুতরাং, কয়লার মান নষ্ট করার জন্য প্রধানত দায়ী মৌল হলো সালফার।  
সঠিক উত্তর: গ) সালফার। 

সূত্র - sciencedirect journal.

১,৬৯৮.
ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে কতকগুলো অনুমোদিত কক্ষপথে আবর্তন করে- কে এই তত্ত্ব প্রদান করেন?
  1. ক) বোর
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) ডাল্টন
সঠিক উত্তর:
ক) বোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বোর
ব্যাখ্যা
বোরের পরমাণু তত্ত্ব অনুসারে আমরা জানি যে, ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসকে কেন্দু করে কতকগুলো অনুমোদিত কক্ষপথে আবর্তন করে। এই কক্ষপথগুলোর ব্যাসার্ধ সুনির্দিষ্ট। এই কক্ষপথগুলোর সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি জড়িত থাকে। পরমাণুর ইলেকট্রন যে কক্ষপথে আবর্তন করে সেই কক্ষপথের শক্তি ধারণ করে। ইলেকট্রনের কক্ষপথগুলোর শক্তিকে কতকগুলো সুনির্দিষ্ট শক্তিস্তর হিসেবে প্রকাশ করা হয়। এই গুলোকে ইলেকট্রনের শক্তিস্তর বলে।

সূত্র: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১,৬৯৯.
BOD-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Basic Oxygen Demand
  2. Biological Oxygen Demand
  3. Biological Oxidation Demand
  4. Biochemical Oxygen Determination
সঠিক উত্তর:
Biological Oxygen Demand
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Biological Oxygen Demand
ব্যাখ্যা

BOD: 
- BOD এর পূর্ণরূপ হলো Biological Oxygen Demand
অর্থাৎ, BOD এর বাংলা অর্থ হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত পচনযোগ্য জৈব দূষককে ব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীব দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির BOD বলে। 
- কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

COD: 
- COD এর পূর্ণরূপ হলো Chemical Oxygen Demand. 
অর্থাৎ, COD এর বাংলা অর্থ হলো রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত জৈব ও অজৈব দূষককে রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। 
- কোনো পানির COD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

- BOD ও COD উভয়ই পানির দূষণ মাত্রা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা, পানিতে উপস্থিত শুধু জৈব বস্তুকে ভাঙতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ হলো BOD। অপরদিকে, সকল জৈব ও অজৈব দূষক তা অণুজীব দ্বারা পচনযোগ্য হোক বা না হোক তাদের রাসায়নিকভাবে সম্পূর্ণরূপে জারিত করতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। সুতরাং, একই পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭০০.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ কয়টি?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
আইসোেটাপ (Isotopes): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।