বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৭ · ৮০১৯০০ / ২,৬৯২

৮০১.
কোনটি জৈব যৌগের সমগোত্রীয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. অভিন্ন মৌল দ্বারা গঠিত
  2. সাধারণ সংকেত দ্বারা প্রকাশ করা যায়
  3. রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য বিদ্যমান
  4. আণবিক ভর অভিন্ন
ব্যাখ্যা

◉ সমগোত্রের যৌগের আণবিক ভর ভিন্ন হয় (প্রতিটি পরবর্তী যৌগে –CH2– গ্রুপ বৃদ্ধি পায়, ফলে আণবিক ভরও বাড়ে)।

​জৈব যৌগের সমগোত্রীয় শ্রেণি (Homologous Series): 
​- কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে কার্বন যৌগ তথা জৈব যৌগের সংখ্যা আট মিলিয়নের অধিক। এ বিপুল সংখ্যক জৈব যৌগ আলাদাভাবে অধ্যয়ন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
​- আলোচনার সুবিধার্থে জৈব যৌগসমূহকে গঠন ও ধর্মের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কতিপয় সমধর্মী যৌগ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এ সব সমধর্মী যৌগ শ্রেণির নাম সমগোত্রীয় শ্রেণি। 
​- অভিন্ন মৌল দ্বারা গঠিত সমধর্মী যৌগসমূহকে ক্রমবর্ধমান আণবিক ভর অনুসারে সাজালে যদি পাশাপাশি দুটি যৌগের মধ্যে মিথিলিন -CH2-মূলকের পার্থক্য থাকে এবং এদের সংযুক্তি একটি সাধারণ সংকেত দ্বারা প্রকাশ করা যায়, তবে এরূপ নিকট সম্পর্কযুক্ত যৌগসমূহকে সমগোত্রক বলে এবং এদের শ্রেণিকে সমগোত্রীয় শ্রেণি বলা হয়। 
​- যেমন- অ্যালকেন (CnH2n + 2) একটি সমগোত্রীয় শ্রেণি। মিথেন (CH4), ইথেন (C2H6), প্রোপেন (C3H8) ইত্যাদি অ্যালকেন শ্রেণির সমগোত্রক। 

​সমগোত্রীয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য: 
​সাধারণভাবে সমগোত্রীয় শ্রেণির যৌগসমূহের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
(i) এরা অভিন্ন মৌল দ্বারা গঠিত।
(ii) একটি সাধারণ সংকেত দ্বারা এদেরকে প্রকাশ করা যায়।
(iii) আণবিক ভরের ভিত্তিতে পাশাপাশি দুটি সমগোত্রকের মধ্যে-CH2- মূলকের পার্থক্য বিদ্যমান।
(iv) প্রত্যেক সমগোত্রীয় শ্রেণির একটি নির্দিষ্ট কার্যকরীমূলক থাকে।
(v) এদের ভৌত ধর্মে নিয়মিত ক্রম লক্ষ্য করা যায়। আণবিক ভর বৃদ্ধির সাথে এদের ভৌত ধর্ম যেমন-গলনাংক, স্ফুটনাংক ও ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং দ্রাব্যতা হ্রাস পায়।
(vi) এদের রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
(vii) একই সাধারণ নিয়মে এদের প্রস্তুত করা যায়।

​উৎস: ​রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮০২.
নিচের কোনটি অ্যারোমেটিক যৌগ?
  1. পিরিডিন
  2. ইথিলিন অক্সাইড
  3. গ্যামাক্সিন
  4. ক্লোরোফরম
ব্যাখ্যা
অ্যারোমেটিক যৌগ:

- পিরিডিন অ্যারোমেটিক যৌগের উদাহরণ।
- বলয়াকার যৌগ বেনজিন, বেনজিন জাতক এবং বেনজিনের সমধর্মী যৌগসমূহকে অ্যারোমেটিক যৌগ বলে।
- অ্যারোমেটিক সকল যৌগই চাক্রিক গঠন সম্পন্ন।
- অ্যারোমেটিক চক্রে অন্ততপক্ষে তিনটি কার্বন পরমাণু উপস্থিত থাকে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছয় কার্বন বিশিষ্ট বেনজিন চক্র বিদ্যমান।
- সকল অ্যারোমেটিক যৌগ অসম্পৃক্ত।
- কার্বনের আনুপাতিক পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
- অ্যারোমেটিক যৌগ অসম্পৃক্ত হওয়া সত্ত্বেও অতিসহজে নাইট্রেশন, সালফোনেশন, অ্যালকাইলেশন প্রভৃতি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া প্ৰদৰ্শন করে। 
- অ্যারোমেটিক হ্যালাইড সহজে আর্দ্র-বিশ্লেষিত হয় না।
- সাইক্লোপ্রোপিন, বেনজিন, টলুইন, ফিউরান, পিরিডিন অ্যারোমেটিক যৌগের উদাহরণ।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৩.
প্লুটোনিয়াম-২৩৮ কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়? 
  1. খাদ্য সংরক্ষণে
  2. রক্তাল্পতার চিকিৎসায়
  3. থাইরয়েড রোগের চিকিৎসায়
  4. হার্টে পেইসমেকার বসাতে
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
যেমন- 
খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণে: 
- বিভিন্ন কৃষিজাত ও অন্যান্য পচনশীল খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- খাদ্যদ্রব্য বেশি দিন ঘরে বা গুদামে রাখলে তা বিভিন্ন পোকামাকড় বা জীবাণুর আক্রমণে নষ্ট হতে পারে। 
- তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রয়োগ করলে এ সকল আক্রমণ থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা যায়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

অন্যদিকে,
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৪.
পরমাণু চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য মূলত কোনটি ঘটে?
  1. ক) প্রোটনের ভাঙ্গন
  2. খ) ইলেক্ট্রনের ভাঙ্গন
  3. গ) নিউক্লিয়াসের ভাঙ্গন
  4. ঘ) অণুর ভাঙ্গন
ব্যাখ্যা
যে বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে।
এটা স্বতঃস্ফূর্ত ভাঙ্গন অথবা কৃত্রিম ভাঙ্গন হতে পারে যাতে খুব শক্তিশালি কণা নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে এর ভাঙ্গন ত্বরান্বিত করে, যেমনটি পারমাণবিক চুল্লিতে ঘটে।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর রসায়ন (১ম পত্র বোর্ড বই)।
৮০৫.
ইউরিয়া উৎপাদনের সময় কারখানা থেকে কোন গ্যাসটি নির্গত হয়?
  1. ক) NO2
  2. খ) NO3
  3. গ) NH3
  4. ঘ) SO2
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া শিল্পের দূষকসমূহ-
১। প্রাকৃতিক গ্যাস হতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সময় বায়ু দূষক হিসেবে CO2, N-এর অক্সাইড সমূহ NOX, SO2, CO গ্যাস উৎপন্ন হয়।
২। ইউরিয়া উৎপাদনের সময় বিভিন্ন ধাপে কারখানা থেকে NH3 গ্যাস  নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে ।
৩। অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদনকালে বর্জ্য পানিতে অ্যামোনিয়া ও বিভিন্ন নাইট্রোজেন জৈব যৌগ দূষক হিসেবে মিশে যায়। ফলে পানি দূষণ ঘটে ।
৪। প্রাকৃতিক গ্যাস হতে H, উৎপাদন ও NH3 সংশ্লেষণে ব্যবহৃত প্রভাবকসমূহ ক্রিয়া শেষে বর্জ্য পদার্থরূপে পরিত্যক্ত হয়। এসব কঠিন পদার্থ পরিবেশে দূষকরূপে কাজ করে ।
৫ । ইউরিয়া প্যাকেজিং এ ব্যবহৃত প্লাস্টিক ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় মাটিকে দূষিত করে।

সূত্র: ৩২৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৮০৬.
আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ৩৩
  2. খ) ৩৮
  3. গ) ৩৬
  4. ঘ) ৪৪
ব্যাখ্যা
- আর্সেনিকের (As) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩। 

পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়।
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11।
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- স্ট্রনসিয়ামের (Sr) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৮।
- ক্রিপটনের (Kr) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৬।
- রুথেনিয়াম (Ru) পারমাণবিক সংখ্যা ৪৪। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
৮০৭.
টেবিল লবণ কোনটি?
  1. ক) পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  2. খ) সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  3. গ) সোডিয়াম গ্লুটামেট
  4. ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড - টেবিল লবণ; সোডিয়াম গ্লুটামেট - টেস্টিং সল্ট; কাপড় কাচার সাবান - সোডিয়াম স্টিয়ারেট, শেভিং ফোম বা জেলে ব্যবহৃত হয় পটাশিয়াম স্টিয়ারেট।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৮০৮.
নিচের কোন প্রোটিন দিয়ে 'রেশম তন্তু' তৈরি হয়? 
  1. ফাইব্রেয়ন
  2. প্রোলামিন
  3. প্রোটামিন
  4. অ্যালবিউমিন
ব্যাখ্যা
রেশম: 
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়। 

- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে। 
- রেশম তন্তু 'ফাইব্রেয়ন' নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। 
- প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে হালকা, শক্ত ও দীর্ঘ। 
- সিল্কের শক্তিমাত্রা, দৃড়তা, মসৃণতা এবং কোমল অনুভবতা বৈশিষ্ট্য দীর্ঘকাল ধরে সুপরিচিত। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৯.
ডিউটেরিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 0
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ডিউটেরিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে এক (১)। 

আইসোেটাপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১০.
মোম বাতি জ্বালালে কোন ধরণের বিক্রিয়া সংগঠিত হয়?
  1. ক) ভৌত
  2. খ) রাসায়নিক
  3. গ) উভয়
  4. ঘ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
মোম বাতি জ্বালালে ভৌত ও রাসায়ানিক উভয় ধরণের বিক্রিয়া সংগঠিত হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৮১১.
এক খন্ড বরফকে উত্তপ্ত করে পানিতে পরিণত করলে আয়তন-
  1. ক) বাড়বে
  2. খ) কমবে
  3. গ) প্রথমে কমবে পরে বাড়বে
  4. ঘ) একই থাকবে
ব্যাখ্যা

এক খন্ড বরফকে উত্তপ্ত করে পানিতে পরিণত করলে আয়তন কমবে এবং একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়।
সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি যার ফলে বরফ পানিতে ভাসে।
Source: britannica.com

৮১২.
'পরমাণু অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই' কথাটি কে বলেছেন? 
  1. নিলস বোর
  2. রাদারফোর্ড
  3. জন ডাল্টন
  4. ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। 
- তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। 
- ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। 
- ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। 
- বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৩.
ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে কী বলা হয়? 
  1. একক বন্ধন
  2. ক্যাটায়ন
  3. অ্যানায়ন
  4. সমযোজী বন্ধন
ব্যাখ্যা
আয়নিক বন্ধন:  
- নিকটতম নিস্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের উদ্দেশ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পরমাণুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণের ফলে উৎপন্ন বিপরীতধর্মী আয়নের মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলের মাধ্যমে যে বন্ধন গঠিত হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
- আয়নিক বন্ধন গঠনের ক্ষেত্রে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অন্যদিকে তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে গ্রহন করে ঋণাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 
- NaCl যৌগের মধ্যে Na+ ক্যাটায়ন ও Cl- অ্যানায়ন। 
- ক্যাটায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় কম এবং অ্যানায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় বেশি থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৪.
কোন পদার্থের কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ দ্বারা যুক্ত থাকে? 
  1. কঠিন 
  2. তরল 
  3. বায়বীয় 
  4. আর্দ্র পদার্থ 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ (Solids): 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল থাকে। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে, ফলে কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার হয়। 
- কঠিন পদার্থের উপর চাপ প্রয়োগ করলে এরা সংকুচিত হয় না। আবার, তাপমাত্রা বাড়ালে কঠিন পদার্থের আয়তন খুবই কম পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলো চলাচল বা স্থান ত্যাগ করতে পারেনা, তবে নিজস্ব স্থানে কম্পন সৃষ্টি করতে পারে। 

তরল পদার্থ (Liquids): 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল পদার্থের কণাগুলো কঠিন পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিন পদার্থের চেয়ে কম হয়। 
- তরল পদার্থে চাপ প্রয়োগ করলে আয়তন হ্রাস পায় না, তবে তাপ প্রয়োগ করলে তরল পদার্থের আয়তন বৃদ্ধি পায়। এই আয়তন বৃদ্ধির পরিমাণ কঠিন পদার্থের চেয়ে বেশি। 

গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থ (Gases): 
- গ্যাসীয় পদার্থের নিদিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ ভিন্ন ভিন্ন আয়তনের পাত্রে রাখলে পদার্থটি ধারক পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরল পদার্থের চেয়ে অনেক বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে, তাই এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 
- চাপ প্রয়োগ করলে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন অনেক কমে যায়। আবার, তাপ প্রয়োগ করলে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন অনেক বেড়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১৫.
NaOH কী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. চুন প্রস্তুতিতে 
  2. টয়লেট ক্লিনার হিসেবে
  3. অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে
  4. দাঁত পরিষ্কার করতে
ব্যাখ্যা

NaOH বা সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড হলো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষার, যা কস্টিক সোডা নামে পরিচিত। এটি শিল্পক্ষেত্রে এবং গৃহস্থালির পরিষ্কারক হিসেবে ব্যাপক ব্যবহৃত হয়।

- যেসব ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদের বলে ক্ষার।
- NaOH, KOH, Ca(OH)2, NH4OH এরা সবাই ক্ষার। এদের কিন্তু ক্ষারকও বলা হয়।
- কোনো ক্ষারক একটি এসিডকে প্রশমন করলে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।
- বাসাবাড়িতে পরিচ্ছন্নতা কাজে ক্ষারজাতীয় পদার্থের বেশ ব্যবহার আছে।
- যেমন: NaOH টয়লেট ক্লিনার হিসেবে, NH4OH কাচ পরিষ্কারক হিসেবে, Ca(OH)2 দেওয়াল চুনকাম করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন বই।

৮১৬.
কার্বন পরমাণু থাকা সত্ত্বেও জৈব যৌগ নয় কোনটি?
  1. ক) অ্যালকোহল
  2. খ) অ্যামিনো এসিড
  3. গ) গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড
  4. ঘ) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
ব্যাখ্যা
• অ্যালকেন, অ্যালকিন, অ্যালকাইন, অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড, কিটোন, অ্যামিনো এসিড, কার্বক্সিলিক এসিড প্রভৃতি হলো জৈব যৌগ। এজন্য গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড, এবসোলিউট এলকোহল হলো জৈব যৌগ।
- ব্লু ভিট্রিওল হলো ৫ অণু পানি বিশিষ্ট কপার(II) সালফেট কেলাস। এটি জৈব যৌগ নয় এবং এতে কোনো কার্বন পরমাণুও নেই।
- খাবার সোডা হলো সোডিয়াম বাই কার্বনেট
- এতে কার্বন পরমাণু থাকা সত্ত্বেও এটি জৈব যৌগ নয়। এটি একটি অজৈব যৌগ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৮১৭.
চুনের রাসায়নিক নাম কোনটি?
  1. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
  2. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট 
  4. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক নাম ও সংকেত: 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3). 
- চুনের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO)
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2. চুন (CaO) এর সাথে পানির (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার জলযুক্ত রাসায়নিক নাম সোডিয়াম কার্বনেট ডেকাহাইড্রেট সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 
- মরিচার রাসায়নিক নাম হচ্ছে হাইড্রেটেড আয়রন(III) অক্সাইড বা জলযোজিত ফেরিক অক্সাইড এবং সংকেত হলো Fe2O3.nH2O. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১৮.
অধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি? 
  1. পারদ
  2. তামা 
  3. মাইকা 
  4. সোনা 
ব্যাখ্যা

• মাইকা (Mica) বা অভ্র একটি স্তরীভূত অধাতব খনিজ যা ইলেকট্রনিক্স শিল্পে ইনসুলেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- অন্যদিকে সোনা, তামা এবং পারদ (তরল ধাতু হলেও) হলো ধাতব খনিজ।

ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au), 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৮১৯.
The water reaches its maximum density at which temperature?
  1. 50°C
  2. 25°C
  3. 10°C
  4. 4°C
  5. 0°C
ব্যাখ্যা
• পানির ঘনত্ব:
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।  
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২০.
সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে থাকে-
  1. তামার দণ্ড ও দস্তার দণ্ড
  2. তামার পাত ও দস্তার পাত
  3. কার্বন দণ্ড ও দস্তার কৌটা
  4. তামার দণ্ড ও দস্তার কৌটা
ব্যাখ্যা
- সাধারণত ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা থাকে। 
- ড্রাইসেলের কিছু বৈশিষ্ট্য- 
• এতে তরল ইলেকট্রোডের পরিবর্তে পেষ্ট ব্যবহার করা হয়, 
• এর পাত্রটি একটি ইলেকট্রোড নেগেটিভ হিসাবে কাজ করে, 
• প্রয়োজনে ইলেকট্রোড ও পানি যোগ করে ব্যবহার করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২১.
কোন ধরনের অ্যালকোহল মোটর ইঞ্জিনে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. রেকটিফাইড স্পিরিট
  2. মেথিলেটেড স্পিরিট
  3. পাওয়ার অ্যালকোহল
  4. ডেনেচার্ড অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়, এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২২.
লেড এসিড সঞ্চয়ী কোষ কী ধরণের কোষ?
  1. ক) প্রাইমারী কোষ
  2. খ) সেকেন্ডারী কোষ
  3. গ) উভমুখী কোষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়কি কোষগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী কোষ।

প্রাইমারী কোষ (Primary Cells) বা প্রাথমিক কোষ:
যে বিদ্যুৎ কোষ নিজেই নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করে বিদ্যুৎ প্রবাহ বজায় রাখে তাকে প্রাইমারী বা প্রাথমিক কোষ বলে। এ ধরনের কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় এবং একবার ব্যবহারে এ কোষগুলো ডিসচার্জ হয়ে পড়ে, সে কারণে একে পুনরায় চার্জিত করে ব্যবহার করা যায় না।

সেকেন্ডারী কোষ (Secondary Cells) বা গৌণ কোষ:
যে বিদ্যুৎ কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে বিদ্যুৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত রেখে পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারী কোষ বা গৌণ কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ বলে। এ ধরনের কোষগুলো বিদ্যুৎ
প্রবাহ চালিয়ে বার বার চার্জিত করা যায় এবং ব্যবহার করা যায়।
উদাহরণ: লেড এসিড সঞ্চয়ী কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ। 

সূত্র: রসায়ন, এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৩.
'শুষ্ক বরফ' বলা হয় - 
  1. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইডকে
  2. ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
  3. হিমায়িত অক্সিজেনকে
  4. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2). 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাই, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৮২৪.
গ্যাসীয় পদার্থে আন্তঃআণবিক দূরত্ব কেমন থাকে? 
  1. সর্বনিম্ন 
  2. অপরিবর্তনীয়
  3. মধ্যম 
  4. সবচেয়ে বেশি
ব্যাখ্যা

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক আকর্ষণ খুবই কম থাকে এবং আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- তাই গ্যাসীয় পদার্থকে নিম্ন তাপমাত্রায় শীতল করলে তাদের আন্তঃআণবিক দূরত্ব হ্রাস পেয়ে খুব নিকটে আসে ও তরলে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, গ্যাসের স্ফুটনাঙ্ক কক্ষতাপমাত্রা থেকে অনেক কম হয়। 
যেমন- নাইট্রোজেন (N2) গ্যাসের স্ফুটনাঙ্ক হল –196°C । 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।

৮২৫.
Na এর যোজনী কত?
  1. ক) ০
  2. খ) ১
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ২৩
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম বা Na এর যোজনী ১৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৮২৬.
এসিড কী দান করে? 
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোক্সাইড আয়ন
ব্যাখ্যা
- এসিড জলীয় দ্রবণে প্রোটন (H+) বা হাইড্রোজেন আয়ন দান করে। 

এসিড: 

- এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে। 
- এসিডে নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয়। 
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে। 
যেমন- এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড। 
- এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়। 

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১. এসিড স্বাদে টক। 
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে। 
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে। 
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন করে। 
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে। 
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী। 

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৭.
গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা বা এসিডিটি প্রশমনে কোনটি কাজ করে?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড
  3. গ) পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
- খাদ্য পরিপাকের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পাকস্থলী থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয় যার কারণে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির উদ্রেক হয়।
- এ এসিড কে প্রশমিত করতে এন্টাসিড হিসেবে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড [Al(OH)3] নামক ক্ষার ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সাসপেনশন মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া নামেই অধিক পরিচিত।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮২৮.
‘ডুরালুমিন’ কোনটির সংকর ধাতু?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) লোহা
  3. গ) কপার
  4. ঘ) সিলভার
ব্যাখ্যা

ডুরালুমিন এর উপাদানঃ
অ্যালুমিনিয়াম (Al) - ৯৫%
কপার (Cu) - ৪%
লােহা (Fe) - ১%
ম্যাঙ্গানিজ (Mn) ও
ম্যাগনেসিয়াম (Mg),

ব্যবহারঃ
উড়ােজাহাজের কাঠামাে (বডি), বাই সাইকেলের যন্ত্রাংশ ইত্যাদি।

সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেনির রসায়ন।

৮২৯.
তীব্র এসিড + তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ কেমন হয়? 
  1. নিরপেক্ষ 
  2. এসিডিক 
  3. ক্ষারীয় 
  4. অক্সাইডিক 
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। 
- লবণের ধনাত্মক আয়নটি ক্ষার থেকে আসে, তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয়মূলক (Basic radical) বলে। 
- আর লবণের ঋণাত্মক আয়নটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে, তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক (Acid radical) বলে। 
- তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ প্রকৃতির। 
যেমন- NaCl, Na2SO4 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ। 
- তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির। 
যেমন- FeCl3, Zn(NO3)2 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ অম্লীয়। 
- তীব্র ক্ষার ও মৃদু এসিডের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 
যেমন- Na2CO3, CH3COONa (সোডিয়াম ইথানয়েট) ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩০.
নিচের কোন পদার্থটির স্থিতিস্থাপকতা সর্বাপেক্ষা বেশি? 
  1. তামা 
  2. রাবার 
  3. সোনা
  4. ইস্পাত
ব্যাখ্যা

স্থিতিস্থাপকতা: 
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে। 
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)। 

৮৩১.
অম্লধর্মী বাদামী গ্যাস কোনটি?
  1. N2O
  2. NO2
  3. N2O3
  4. N2O5
ব্যাখ্যা
• NO₂ অম্লধর্মী বাদামী গ্যাস।

- NO₂ একটি বাদামী বর্ণের গ্যাস, যা বায়ুর সংস্পর্শে দৃশ্যমান হয়।
- এটি সাধারণত বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে পরিচিত।
- NO₂ পানির(H₂O) এর সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃) এবং নাইট্রাস অ্যাসিড (HNO₂) উৎপন্ন করে, যা অম্লীয়।
     2NO2 ​+ H2​O → HNO3 ​+ HNO2
- এর অর্থ, NO₂ পানির সাথে মিশে অম্ল তৈরি করে, তাই এটি অম্লধর্মী গ্যাস।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৩২.
বোলতা এবং বিচ্ছুর হুলে থাকে -
  1. ক) হিস্টামিন
  2. খ) ফরমিক এসিড
  3. গ) অ্যাপামিন
  4. ঘ) মেলিটিন
ব্যাখ্যা
- বোলতা এবং বিচ্ছুর হুলে থাকে হিস্টামিন নামে এক ধরনের ক্ষারক পদার্থ।
- জ্বালা নিবারণের জন্য যে মলম ব্যবহার করা হয়, তাতে থাকে ভিনেগার অথবা বেকিং সোডা, যেগুলো এসিড কিংবা এসিড—জাতীয়। এগুলো ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে; ফলে জ্বালা আর থাকে না।

---------------------------
- পিঁপড়ার কামড়ে থাকে ফরমিক এসিড।
- মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন, এবং অ্যাপামিন নামক এসিটিক এসিড নিঃসৃত হয়।

সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৮৩৩.
তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থ সরাসরি বাষ্পে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে বলে -
  1. ক) বাষ্পীভবন
  2. খ) স্ফুটন
  3. গ) উর্ধ্বপাতন
  4. ঘ) ঘনীভবন
ব্যাখ্যা
উর্ধ্বপাতন (Sublimation):
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন, কার্বন, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

গলন: কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে তরল অবস্থায় পরিবর্তন করার প্রক্রিয়াকে গলন বলা হয়।
গলনাঙ্ক: যে স্থির তাপমাত্রায় কোন পদার্থ গলতে শুরু করে তাকে ঐ কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
স্ফুটনাঙ্ক: যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের বাষ্পীয় চাপ বায়ুমন্ডলীয় চাপের সমান হওয়ার কারণে ঐ তরল উপাদানটি তার অবস্থান থেকে বুদ্ বুদ্ গঠনসহ ফুটতে শুরু করে। ঐ তাপমাত্রাকে ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।

সূত্র: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৪.
জমিতে নাইট্রোজেনের অভাবজনিত সমস্যায় কোন সার ব্যবহার করা হয়?
  1. ইউরিয়া সার
  2. টিএসপি সার
  3. সবুজ সার
  4. পটাশ সার 
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: 
- উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে।
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয়ে ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ ঊন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৫.
নিচের কোনগুলো একটি ব্যাটারি সেলের কাঠামোগত অপরিহার্য অংশ?
  1. অ্যানোড, রোধ, সুইচ
  2. অ্যানোড, ক্যাথোড, ইলেকট্রোলাইট
  3. ক্যাথোড, ট্রানজিস্টর, ইলেকট্রোলাইট
  4. ডায়োড, পরিবাহী তার, রেজিস্টর
ব্যাখ্যা

• অ্যানোড, ক্যাথোড ও ইলেকট্রোলাইট—এই তিনটি অংশের সমন্বয়েই একটি ব্যাটারি সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

• ব্যাটারির কার্যক্রম:
- দৈনন্দিন জীবনে টর্চ লাইট, মোবাইল ফোন ইত্যাদিতে আমরা ব্যাটারি সেল ব্যবহার করি।
- সাধারণ কথায় একটি সেলকেই ব্যাটারি বলা হলেও বিজ্ঞানের ভাষায় ব্যাটারি বলতে একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয় বোঝায়।
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি প্রকৃতপক্ষে একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়ে গঠিত।
- ব্যাটারি সেলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তি আকারে সঞ্চিত থাকে।

• ব্যাটারি সেলের গঠন:
- একটি অ্যানোড।
- একটি ক্যাথোড।
- মাঝখানে একটি ইলেকট্রোলাইট।

• ব্যাটারিতে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি:
- ব্যাটারি সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে অ্যানোড থেকে ইলেকট্রন অপসারিত হয়।
- এই ইলেকট্রনগুলো ক্যাথোডে জমা হয়।
- ফলে অ্যানোড ও ক্যাথোডের মধ্যে তড়িৎ বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

• বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক:
- অ্যানোড ও ক্যাথোডকে পরিবাহী তার দিয়ে সংযুক্ত করলে ক্যাথোডের ইলেকট্রন অ্যানোডের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক ধরা হয়।
- তাই বলা হয় অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে।

• ব্যাটারি নিষ্ক্রিয় হওয়ার কারণ:
- সাধারণ ব্যাটারি সেলের রাসায়নিক পদার্থ বিক্রিয়া করে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- তখন অ্যানোড ও ক্যাথোডের মধ্যে আর বিভব পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে না।
- ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

• রিচার্জযোগ্য ব্যাটারি:
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারি পুনরায় চার্জ করা যায়।
- চার্জ দেওয়ার ফলে রাসায়নিক পদার্থ পুনরায় সক্রিয় হয়।
- তখন ব্যাটারি আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী হয়ে ওঠে।

• প্রশ্নের অপশনে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ টার্ম:
- অ্যানোড → ইলেকট্রন নির্গমন ঘটে এমন ইলেকট্রোড।
- ক্যাথোড → ইলেকট্রন গ্রহণ ঘটে এমন ইলেকট্রোড।
- ইলেকট্রোলাইট → আয়ন পরিবহনকারী রাসায়নিক মাধ্যম।
- রোধ → তড়িৎ প্রবাহে বাধা প্রদানকারী উপাদান।
- সুইচ → তড়িৎ বর্তনী চালু বা বন্ধ করার যন্ত্র।
- ট্রানজিস্টর → তড়িৎ সংকেত নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্ধনের উপাদান।
- ডায়োড → একমুখী তড়িৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী অর্ধপরিবাহী উপাদান।
- পরিবাহী তার → তড়িৎ প্রবাহ পরিবহনের মাধ্যম।
- রেজিস্টর → নির্দিষ্ট মানের রোধ প্রদানকারী উপাদান।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮৩৬.
অধাতুর উদাহরণ কোনটি?
  1. আয়রন
  2. জিংক
  3. ক্লোরিন
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ:
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে।
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে।
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি।
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু।
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতু:
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি।

অধাতু:
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৭.
ধাতুর ক্ষয়রোধের উপায় নয় কোনটি?
  1. ক) রঙ করা
  2. খ) ইলেকট্রোপ্লেটিং
  3. গ) গ্যালভানাইজিং
  4. ঘ) ভলকানাইজিং
ব্যাখ্যা

ধাতু বা সংকর ধাতু যদি বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে তবে ধাতু ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।
- এটা বিভিন্নভাবে করা যায়, যেমন- রঙ করা, ইলেকট্রোপ্লেটিং, গ্যালভানাইজিং ইত্যাদি।

- রাবারের তৈরী জিনিসপত্রের সাথে সালফার বা গন্ধক মেশানোর প্রক্রিয়াকে ভলকানাইজিং বলে।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৮৩৮.
কোন গ্যাসটি নোবেল গ্যাস নয়?
  1. আর্গন
  2. জেনন
  3. রেডন
  4. ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

ক্লোরিন (Cl) হলো হ্যালোজেন গ্যাস, নোবেল গ্যাস নয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এ গ্রুপের মৌল গুলো হলো—
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৮৩৯.
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির কারণে আমরা যে এন্টাসিড খাই তা হল-
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, খাদ্য পরিপাকের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পাকস্থলী থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয় যার কারণে আমাদের গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির উদ্রেক হয়। এ এসিড কে প্রশমিত করতে আমরা এন্টাসিড হিসেবে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড নামক ক্ষার ব্যবহার করে থাকি।
৮৪০.
এস. আই এককে গ্যাসের এক বায়ুমন্ডল চাপের পরিমাণ কত?
  1. ক) 101.32 kPa
  2. খ) 100.00 kPa
  3. গ) 10.132 kPa
  4. ঘ) 100.352 kPa
ব্যাখ্যা
এক বায়ুমণ্ডল চাপ: 
- বাহ্যিক চাপের হ্রাস বা বৃদ্ধি হলে তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্কের হ্রাস বা বৃদ্ধি হবে। 
- পাহাড়ের উপরে বায়ুমণ্ডল তাই পাহাড়ের উপর পানির স্ফুটনাঙ্ক কমে; যেমন মাউন্ট এভারেস্ট শৃঙ্গে (8848 m) পানির স্ফুটনাঙ্ক হয় 71°C । 
- সুতরাং প্রমাণ চাপ হিসেবে এক বায়ুমণ্ডল চাপ বলতে 760 mm উচ্চতাবিশিষ্ট পারদ স্তম্ভের চাপকে ধরা হয়। 
অর্থাৎ 1 atm = 760mm (Hg) = 101.32 kPa (কিলো প্যাসকেল)। 
- কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক বাহ্যিক চাপের উপর কিছুটা নির্ভরশীল, তবে এ নির্ভরশীলতা খুবই কম। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)। 
৮৪১.
উচ্চ চাপের স্থান হতে নিম্ন চাপে কোন গ্যাস সজোরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ক) ব্যাপন 
  2. খ) নিঃসরণ
  3. গ) দহন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উচ্চ চাপের স্থান হতে নিম্ন চাপে কোন গ্যাস সজোরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে। 

নিঃসরণ বা অণুব্যাপন (Effusion) : সরু ছিদ্র পথ দিয়ে কোনো গ্যাসের অণুসমূহের উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে দ্রুত বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। উচ্চ চাপের প্রভাবে এটি একটি গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। এটি ছিদ্র পথে অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত পথে ঘটে। যেমন- প্রেসার কুকারের গ্যাস বের হওয়া নিঃসরণের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। গাড়ির চাকার গ্যাস লিকের মাধ্যমে বের হওয়া।
ব্যাপন/গ্যাসের ব্যাপন (Diffusion of gases): উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফুর্ত ও সমভাবে পরিব্যপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
নিঃসরণের ক্ষতিকর দিকঃ
১. সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে গ্যাস দ্রুত ছড়িয়ে দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
২. নিউক্লিয়ার চুল্লীতে গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
৩. বডি স্প্রে হতে সুগন্ধি দ্রব্যসমূহ বের হয়ে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে।

সূত্র: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৮৪২.
ডেসি মোল দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ কত? 
  1. ১.০ মোল 
  2. ০.০০১ মোল
  3. ০.০১ মোল
  4. ০.১ মোল 
ব্যাখ্যা

মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৩.
কে আধুনিক পর্যায় সারণির তত্ত্ব দেন? 
  1. জন ডাল্টন
  2. দিমিত্রি মেন্ডেলিভ
  3. হেনরি মোসলে
  4. নীলস বোর
ব্যাখ্যা

• আধুনিক পর্যায় সারণি পারমাণবিক সংখ্যা ভিত্তিক, যার তত্ত্ব প্রমাণ করেন হেনরি মোসলে (Henry Moseley)।
- তিনি দেখান, মৌলের রাসায়নিক ধর্মের প্রকৃত কারণ ইলেকট্রন বিন্যাস, যা নির্ধারিত হয় পারমাণবিক সংখ্যা দ্বারা।
- তার তত্ত্ব ছাড়া আধুনিক পর্যায় সারণিতে ৭ম পর্যায় সম্পূর্ণ করা বা নতুন মৌলের স্থান নির্ধারণ অসম্ভব হতো।

• পর্যায় সারণির বিবর্তন:
- প্রথমদিককার রসায়নবিদেরা মৌলগুলোর বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে তাদের শ্রেণিবিন্যাসের ধারণা দেন, তবে এই শ্রেণিবিন্যাস ছিল অসম্পূর্ণ ও সীমাবদ্ধ।
- মেন্ডেলিভ মৌলগুলোকে পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজিয়ে প্রথম কার্যকর পর্যায় সারণি তৈরি করেন।
- কিন্তু কিছু মৌলের অবস্থান ও ধর্ম তার সূত্রে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।

• আধুনিক পর্যায় সারণির ভিত্তি:
- আধুনিক পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number), যা কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রোটন সংখ্যা নির্দেশ করে।
- পারমাণবিক সংখ্যার এই ধারণা বিশ্বের রসায়নচর্চাকে পরিবর্তন করে দেয়, কারণ মৌলের ধর্ম ও অবস্থান নির্ধারণে এটিই একমাত্র সঠিক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড।

• হেনরি মোসলে অবদান:
- ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হেনরি মোসলে (Henry Moseley) এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে প্রমাণ করেন যে প্রতিটি মৌলের একটি স্বতন্ত্র পারমাণবিক সংখ্যা আছে, এবং মৌলের ধর্ম এই সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল।
- তার গবেষণায় দেখা যায় যে পর্যায় সারণিতে যেসব মৌল ভুল স্থানে ছিল, তাদের সঠিকভাবে সাজালে সব অসঙ্গতি দূর হয়ে যায়।
- এর ফলে মেন্ডেলিভের ভর-ভিত্তিক সারণি আধুনিক রূপ পায় এবং বর্তমানের ইলেকট্রন বিন্যাস ও গ্রুপ-পর্যায়ভিত্তিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৮৪৪.
নিচের কোন ঘটনাটি পৃষ্ঠটানের উদাহরণ?
  1. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
  2. সুঁচ পানিতে ভাসা।
  3. বৃষ্টির পানি গোলাকার আকার ধারন করা।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• তলটান বা পৃষ্ঠটান:
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।
- পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘর্টনা ঘটে তা হলো:
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা।
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া।

• পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতির হয় পৃষ্ঠটানের কারনে। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৫.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু কোনটি?
  1. হীরক
  2. লিথিয়াম
  3. প্লাটিনাম
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
ধাতু: 
- ধাতু দেখতে চকচকে। একে আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়। 
- ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম। 

অন্যদিকে, 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। 
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম। 
- পারদ হলো সর্বনিম্ন গলনাঙ্কের ধাতু। 
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৬.
গ্লুকোজের আণবিক সংকেত কী?
  1. C6H12O5
  2. CH2O
  3. C6H12O6
  4. C6H10O6
ব্যাখ্যা
সংকেত (Formula):  
- দুই বা ততোধিক মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু রাসায়নিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে। 
- যৌগের অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের প্রতীক ও তাদের পরমাণু সংখ্যার সাহায্যে যৌগের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকেই যৌগের সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানির একটি অণুর ক্ষেত্রে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি পানির অণু গঠন করে। সুতরাং পানির সংকেত H2O. 
- রসায়নে অনেক ধরনের সংকেতের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
(i) রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): 
- যৌগিক অণুর ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বা ততোধিক মৌল বা মূলক ওদের যোজ্যতার বিপরীত অণুপাতে যুক্ত হয়ে অণুগঠন করে। 
যেমন- Al মৌলটির যোজ্যতা 3 এবং O মৌলটির যোজ্যতা 2, সুতরাং Al এর 2টি পরমাণু O এর 3 তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন করবে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত Al2O3
- যৌগের অণুতে মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতাভিত্তিক সংকেতকে রাসায়নিক সংকেত বলা হয়। 

(ii) আণবিক সংকেত (Molecular Formula): 
- কোনো অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে যে সংকেত প্রকাশ করা হয় তাকে আণবিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- অক্সিজেনের আনিবক সংকেত O2, পানির আণবিক সংকেত H2O, গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C6H12O6

(iii) স্কুল সংকেত (Empirical Formula): 
- কোনো যৌগের অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রকাশ না করে কেবল ওদের ক্ষুদ্রতম অণুপাতকে প্রকাশ করা হয়, তখন ওই সংকেতকে ওই যৌগের স্থূল সংকেত বলা হয়। 
যেমন- গ্লুকোজ এর আণবিক সংকেত C6H12O6
- C, H ও O পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যার অণুপাত 6 : 12 : 6 হলেও ক্ষুদ্রতম অণুপাত 1 : 2 : 1. সুতরাং গ্লুকোজের স্থূল সংকেত CH2O. 

(iv) গাঠনিক সংকেত (Structural Formula): 
- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের অণুর মধ্যে বিভিন্ন পরমাণু পরস্পরের সাথে যেভাবে সংযুক্ত থাকে তা যে সংকেত এর মাধ্যমে দেখানো হয় তাকে ওই অণুর গাঠনিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O) অণুর গাঠনিক সংকেত H-O-H, হাইড্রোজেন (H2) অণুর গাঠনিক সংকেত H-H ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৭.
সিরামিকের তাপ সহনশীলতা ও যান্ত্রিক শক্তি বৃদ্ধি করতে কোন উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. ফেলস্পার
  2. সিলিকা
  3. চায়না ক্লে 
  4. ক্ষারীয় অক্সাইড
ব্যাখ্যা

সিরামিক: 
- সিরামিক বলতে মৃৎশিল্প (pottery), টেবিল সামগ্রী (table ware), চীনামাটির বাসনপত্র (crockery), স্যানিটারি সামগ্রী (sanitary ware), ঘর সজ্জার চীনামাটির পাত্র (decorateir) ইত্যাদিকে বোঝায়। 

সিরামিক উৎপাদনের উপাদানসমূহ: 
- সিরামিক সামগ্রী উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল তিনটি। 
যথা- 
১. চায়না ক্লে (কেওলিন বা কাদা মাটি): 
- চায়না ক্লে হলো হাইড্রেটেড অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট (Al2O3.2SiO2.2H2O)। 

২. সিলিকা (কোয়ার্টজ বা ফ্রিন্ট): 
- সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO2) একটি উচ্চ তাপসহ রিফ্লেকক্টরি দ্রব্য। ক্লে-কণাগুলোর বাইন্ডাররূপে সিলিকা কাজ করে। সিরামিকের তাপ সহনশীলতা ও যান্ত্রিক শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য সিলিকা ব্যবহৃত হয়। 

৩. ফেলস্পার (felspar): 
- অ্যালুমিনা (Al2O3), সিলিকা (SiO2) ও ক্ষারীয় অক্সাইডের মিশ্রণে গঠিত পদার্থ হলো ফেলস্পার। এটি বিগালক বা ফ্লাক্সিং পদার্থ (flux) রূপে ব্যবহৃত হয়। 
- তিন ধরনের  ফেলস্পার সিরামিক উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- (i) পটাশ ফেলস্পার (K2O.Al2O3.6SiO2); (ii) সোডা ফেলস্পার (Na2O.Al2O3.6SiO2) এবং (iii) লাইম ফেলস্পার (CaO.Al2O3. 6SiO2)। 

উৎস: রয়ায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

৮৪৮.
নিচের কোনটি একটি লবণ?
  1. NH₃
  2. Na₂CO₃
  3. Ca(OH)₂
  4. NH₄OH
ব্যাখ্যা
• Na₂CO₃ (সোডিয়াম কার্বোনেট) হলো একটি লবণ,
এটি সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) ও কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।

•  2NaOH+H2CO3→Na2​CO3​+2H2​O
- এখানে, NaOH একটি ক্ষার ও H2CO3 একটি দ্বিমূলীয় অম্ল প্রতিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে,
- Ca(OH)₂ ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড এটি একটি ক্ষারক, লবণ নয়।
- NH₄OHঅ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড এটি ক্ষারীয় দ্রবণ, লবণ নয়।
- NH₃অ্যামোনিয়া ক্ষারধর্মী গ্যাস লবণ নয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৪৯.
পোলার দ্রাবকের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. ক) আয়নিক যৌগগুলো সাধারণত পোলার দ্রাবকে দ্রবণীয় নয়।
  2. খ) পানি (H2O) পোলার দ্রাবক।
  3. গ) কার্বন ডাই-সালফাইড (CS) পোলার দ্রাবক।
  4. ঘ) বেনজিন (CH) পোলার দ্রাবক।
ব্যাখ্যা
দ্রাব্যতা: 

- আয়নিক যৌগগুলো সাধারণত পোলার দ্রাবকে দ্রবণীয়। 
- সমযোজী যৌগগুলো অপোলায় দ্রাবকে দ্রবণীয়। 
- পানি (H2O) পোলার দ্রাবক। 
- কার্বন ডাই-সালফাইড (CS)), কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (ccl 4), বেনজিন (CH) অপোলার দ্রাবক। 

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫০.
সিরকা তৈরিতে কোন অম্ল ব্যবহৃত হয়?
  1. এসকরবিক এসিড
  2. সাইট্রিক এসিড
  3. ইথানয়িক এসিড
  4. টারটারিক এসিড
ব্যাখ্যা

- আমলকি, কমলালেবু ইত্যাদি টক ফলে থাকে ভিটামিন- সি বা এসকরবিক এসিড।
- লেবুস রসে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে বলা হয় ভিনেগার বা সিরকা।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৫১.
কোনটি হ্যালোজেন গ্রুপভুক্ত? 
  1. ক) Na
  2. খ) Ca
  3. গ) F
  4. ঘ) Mg
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণীতে গ্রুপ ১৭ এর অন্তর্ভুক্ত গ্যাস সমূহ ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন কে হ্যালোজেন বলে।  
হ্যালোজেন অর্থ সামুদ্রিক লবণ উৎপাদনকারী।
৮৫২.
পাতন বলতে কী বুঝায়?
  1. বাষ্পীভবন
  2. ঘনীভবন
  3. বাষ্পীভবন + ঘনীভবন
  4. কোনোটিই নয়।
ব্যাখ্যা
• পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন।

- পাতন (Distillation) হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে তরল পদার্থকে প্রথমে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বাষ্পে রূপান্তর করা হয় এবং পরে সেই বাষ্পকে ঘনীভবনের মাধ্যমে তরলে রূপান্তর করে আলাদা করা হয়।
- এটি মূলত ভিন্ন ভিন্ন গলনাঙ্ক বা স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট পদার্থগুলোকে পৃথক করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮৫৩.
জৈব যৌগের নামকরণের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. ইউপ্যাক (IUPAC) পদ্ধতি
  2. ট্রিভিয়াল পদ্ধতি
  3. ডেকেন পদ্ধতি
  4. উদ্ভূত পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• জৈব যৌগ:
-  হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে। হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতক সমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 

•  জৈব যৌগের নামকরণের ক্ষেত্রে সার্বজনিনভাবে কিছু বিধি বিধান অনুসরণ করা হয়।

• বর্তমানে প্রচলিত তিনটি পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণ করা হয়। যথা-
- সাধারণ বা ট্রিভিয়াল পদ্ধতি (Common or trivial system)
- উদ্ভূত বা জাত পদ্ধতি (Derived system)
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা জেনেভা পদ্ধতি বা ইউপ্যাক পদ্ধতি (International system or Genava system or
IUPAC system) .

অন্যদিকে,
• ডেকেন কোন নামকরণ পদ্ধতি নয়। এটি একটি উচ্চতর অ্যালকেন। এর সংকেত হলো C10H22

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৪.
Which particle lacks neutrons?
  1. Oxygen (O)
  2. Carbon (C)
  3. Chlorine (Cl)
  4. Hydrogen (H)
  5. Helium (He)
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোন নিউট্রন থাকে না। 

• নিউট্রন:
- বৈদ্যুতিক আধানবিহীন যে মৌলিক কণা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে তাকে নিউট্রন বলা হয়। 

• নিউট্রনের বৈশিষ্ট্য:
- এর কোনো বৈদ্যুতিক আধান নেই, অর্থাৎ এটি চার্জ নিরপেক্ষ।
- এর ভর প্রোটনের ভরের প্রায় সমান। 

• হাইড্রোজেন পরমাণুর আইসোটোপ প্রোটিয়ামে কোন নিউট্রন থাকে না।
- প্রোটিয়াম (1H) হলো সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণু। 
- এর ভরসংখ্যা ১ এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১ হওয়ার কারণে এর নিউট্রন সংখ্যা হয় (১ - ১) বা ০।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৮৫৫.
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর হচ্ছে:
  1. 32
  2. 16
  3. 2
  4. 18
ব্যাখ্যা

H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর: 
- পানির অণুতে ২ পরমাণু হাইড্রোজেন ও ১ পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 
সুতরাং, H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = {(1 × 2) + (16 x 1)}
∴ H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = 18

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৬.
পৃথিবীর মোট জলরাশির মধ্যে মিঠা পানির পরিমাণ কত?
  1. ৯৭.৩%
  2. ২%
  3. ০.৬%
  4. ২.৭%
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর মোট জলরাশির ৯৭.৩% হলো সামুদ্রিক পানি এবং অবশিষ্ট ২.৭% হলো মিঠা পানি।
এই ২.৭% এর মাঝে হিমবাহ ও তুষার ২%, ভূগর্ভস্থ পানি ০.৬% এবং মিঠাপানির হ্রদ ও নদীতে প্রায় ০.০১%।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৮৫৭.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 19
  2. 39
  3. 58
  4. 20
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

পটাশিয়াম (K) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়:

- পটাশিয়ামের প্রোটন সংখ্যা 19 এবং 
- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর 39 
অতএব, পটাশিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হবে = 39 - 19 = 20 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৮.
গ্যালভানিক কোষে লবণ সেতুর প্রধান ভূমিকা কী?
  1. ক্যাথোডকে তৈরি করা
  2. অ্যানোডকে তৈরি করা
  3. দুই তড়িৎদ্বারের মধ্যবর্তী তড়িৎপ্রবাহকে বজায় রাখা
  4. ব্যাটারি সংযুক্ত করা 
ব্যাখ্যা

- গ্যালভানিক কোষে লবণ সেতুর প্রধান ভূমিকা হচ্ছে দুই তড়িৎদ্বারের মধ্যবর্তী তড়িৎপ্রবাহকে বজায় রাখা। 

গ্যালভানিক কোষ: 

- গ্যালভানিক কোষের ক্ষেত্রে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার গঠনের পদ্ধতি তড়িৎবিশ্লেষ্য কোষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- একটি ধাতব দন্ডকে ঐ ধাতুর লবণের দ্রবণের মধ্যে স্থাপন করা হয়। 
- এভাবে ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর দন্ডকে ঐ স্ব স্ব ধাতুর লবণের দ্রবণের মধ্যে স্থাপন করে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার গঠন করা হয়। তবে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার নির্ধারিত হয় ধাতুর সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করে। 
- তড়িৎদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত ধাতব দন্ড দুটোর মধ্যে অধিক সক্রিয় ধাতব দন্ডটি অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতব দন্ডটি ক্যাথোড তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। 
- গ্যালভানিক কোষের অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বারকে ব্যাটারির সাহায্যে সংযুক্ত না করে শুধু পরিবাহি তারের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। তবে নির্দেশক বাল্ব যুক্ত করে তড়িৎ প্রবাহকে নিশ্চিত করা হয়। 
- দুটো তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণকে লবণ সেতু দ্বারা সংযোগ করা হয়। 
- লবণ সেতুর মধ্যস্থ তড়িৎ বিশ্লেষ্য উভয় তড়িৎদ্বারের সাথে যুক্ত ধাতব লবণের দ্রবণের সাথে কোন বিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৯.
থার্মোমিটারে পারদ কেন ব্যবহার করা হয়?
  1. গলনাঙ্ক কম
  2. অল্প তাপে আয়তন বেশি প্রসারিত হয়
  3. একমাত্র তরল ধাতু
  4. স্ফুটনাংক বেশি
ব্যাখ্যা
• পারদ:
- পারদ (Mercury) থার্মোমিটারে ব্যবহারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো:
- এটি তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তনে আয়তনে অনেক বেশি প্রসারিত হয়।
- অর্থাৎ, এটি তাপের প্রতি সংবেদনশীল। ফলে খুব সহজে তাপমাত্রা মাপা যায়।
- এছাড়া পারদের গলনাঙ্ক পানির গলনাঙ্কের অনেক কম এবং স্ফুটনাঙ্ক পানির স্ফুটনাঙ্কের অনেক বেশি।
- এজন্য সাধারণত জীবদেহের তাপমাত্রা মাপতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পারদ থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮৬০.
ফরমালডিহাইডের জলীয় দ্রবণকে অতি নিম্ন চাপে উত্তপ্ত করলে কী উৎপন্ন হয়? 
  1. ভিনেগার
  2. ডেলরিন পলিমার
  3. পলিইথিন
  4. ইউরিয়া-ফরমালডিহাইড রেজিন
ব্যাখ্যা
অ্যালডিহাইড: 
- অ্যালডিহাইড এর পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় বিভিন্ন প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরি করা হয়। 
- ফরমালডিহাইড (মিথান্যাল) এর জলীয় দ্রবণকে অতি নিম্ন চাপে উত্তপ্ত করলে ডেলরিন পলিমার উৎপন্ন হয়। 
- ডেলরিন পলিমার দিয়ে চেয়ার, ডাইনিং টেবিল, বালতি ইত্যাদি প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরি করা হয়। 
- ফরমালডিহাইড ও ইউরিয়া থেকে ঘনীভবন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় ইউরিয়া-ফরমালডিহাইড রেজিন উৎপন্ন হয় যা গৃহের প্লেট, গ্লাস, মগ ইত্যাদি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিডসমূহ অজৈব এসিডের তুলনায় দুর্বল। 
- জৈব এসিড মানুষের খাদ্যোপযোগী উপাদান। 
যেমন- লেবুর রস (সাইট্রিক এসিড), তেঁতুল (টারটারিক এসিড), দধি (ল্যাকটিক এসিড) ইত্যাদি জৈব এসিডকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। 
- জৈব এসিডের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার ক্ষমতা থাকায় একে খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানয়িক এসিডের 4% থেকে 10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার সস ও আচার সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬১.
Na - e → Na+ এই বিক্রিয়ায় কি ঘটেছে?
  1. ক) জারণ
  2. খ) বিজারণ
  3. গ) সংযোজন
  4. ঘ) বিয়োজন
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na + Cl2 = 2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
এটি বিজারণ বিক্রিয়ার সাথে একইসাথে সংঘটিত হয়।
যেমন উপরের উদাহরণে একইসাথে ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক

Na - e → Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ


উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৮৬২.
সমগোত্রীয় শ্রেণির যৌগগুলোর মধ্যে যে বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তা হলো-
  1. ক) একই কার্যকরী মূলক
  2. খ) একই আণবিক ওজন
  3. গ) ক্যাটিনেশন
  4. ঘ) সমাবয়বতা
ব্যাখ্যা
সমগোত্রীয় শ্রেণি:
- কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে কার্বন যৌগ তথা জৈব যৌগের সংখ্যা আট মিলিয়নের অধিক। জৈব যৌগসমূহকে গঠন ও ধর্মের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কথিপয় সমধর্মী যৌগ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এ সব সমধর্মী যৌগ শ্রেণির নাম সমগোত্রীয় শ্রেণি। যেমন: অ্যালকেন (CnH2n+2) একটি সমগোত্রীয় শ্রেণি। 
- সমগোত্রীয় শ্রেণির মৌলসমূহ অভিন্ন মৌল দ্বারা গঠিত।
- একটি সাধারণ সংকেত দ্বারা সমগোত্রীয় শ্রেণির মৌলসমূহকে প্রকাশ করা যায়।
- আণবিক ভরের ভিত্তিতে পাশাপাশি দুটি সমগোত্রকের মধ্যে -CH2- মূলকের পার্থক্য বিদ্যমান।
- প্রত্যেক সমগোত্রীয় শ্রেণির একটি নির্দিষ্ট কার্যকরীমূলক থাকে
- সমগোত্রীয় শ্রেণির মৌলসমূহের রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- একই সাধারণ নিয়মে সমগোত্রীয় শ্রেণির মৌলসমূহ তৈরি করা যায়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৩.
একটি পরমাণুর চার্জ
  1. ক) =+1
  2. খ) 1
  3. গ) -1
  4. ঘ) 0
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রোটন এবং ইলেকট্রনের চার্জ একে অপরের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী হওয়ায় একটি পরমাণু সামগ্রিকভাবে চার্জ শূন্য।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৮৬৪.
কোনটি পানিতে অদ্রবণীয়?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. খ) পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।

- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীতূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।

- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)2] কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- অতএব একথা বলা যায় যে, সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।


সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।
৮৬৫.
pH স্কেলে কোন pH মান নিরপেক্ষ দ্রবণকে নির্দেশ করে?
  1. ১০
  2. ১৪
ব্যাখ্যা
pH-এর মান জানার প্রয়োজনীয়তা: 
- কোনো একটি পদার্থ এসিড, ক্ষার না নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। 
- কিন্তু তাতে কী পরিমাণ এসিড বা ক্ষার আছে, সেটি বোঝা যায় pH-এর মান পরিমাপ করে। 
- নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি যেখানে কোনো এসিড বা ক্ষার থাকে না, তার pH হয় ৭ । 
- আর যদি এতে এসিড যোগ করা হয় তাহলে pH-এর মান কমে যায়। যত বেশি এসিড যোগ করা যায়, pH-এর মান ততই কমে যায়। 
- পক্ষান্তরে যদি বিশুদ্ধ পানি বা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণে ক্ষার যোগ করা হয়, তাহলে এর pH বাড়তে থাকে। যত বেশি ক্ষার যোগ করা হয়, pH-এর মান ততই বাড়তে থাকে। 
সুতরাং বলা যায়, 
কোনো দ্রবণের pH = ৭ হলে তা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি হবে। 
• কোনো দ্রবণের pH < ৭ হলে (৭ থেকে কম হলে) তা অম্লীয় বা এসিডিয় দ্রবণ হবে। 
• কোনো দ্রবণের pH > ৭ হলে (৭ থেকে বেশি হলে) তা ক্ষারীয় দ্রবণ হবে। 
- pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি কম হবে, এসিডটি তত শক্তিশালী, আবার pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি হবে, ক্ষারকত্বও তত বেশি শক্তিশালী হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৬.
নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় কী ঘটে?
  1. পদার্থ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিব্যাপ্তি ঘটে
  2. গ্যাস পাত্রের ভেতরে এবং বাইরে সমান চাপ থাকে
  3. বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে গ্যাস সজোরে বের হয়ে আসে
  4. গ্যাসের কণা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মন্থরভাবে চলাচল করে
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- একটি উদাহরণ হলো গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র দিয়ে বাতাস বের হয়ে যাওয়া। 
- নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে, যেখানে পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থায় থাকে। 
- নিঃসরণ হলো গ্যাসের দ্রুত প্রক্রিয়া যা অধিক চাপের প্রভাবে ঘটে। 

ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যপ্তি ঘটানোর প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- উদাহরণস্বরূপ, ফুলের সুগন্ধ বা H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- এই প্রক্রিয়া ঘটে পদার্থের কণা বা অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে। 
- ব্যাপন হলো সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত, মন্থর প্রক্রিয়া, যেখানে গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একে অপরের সাথে সমান বায়ু চাপ থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৮৬৭.
কোন গ্যাসকে অত্যধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
• কার্বনেটেড ওয়াটার:
- কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে অত্যধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার বা কার্বনেটেড ওয়াটার তৈরি করা হয়। 
- এটি মিষ্টি কোমল পানীয়ের প্রধান উপাদান (90% এর বেশি)।
- এটি একটি বুদবুদ পানীয় তৈরি করে যা স্পার্কলিং ওয়াটার, ক্লাব সোডা, সোডা ওয়াটার, সেল্টজার ওয়াটার এবং ফিজি ওয়াটার নামেও পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৮৬৮.
মরিচার রাসায়নিক সংকেত কোনটি? 
  1. NaHCO3
  2. Fe2O3.nH2O
  3. CaCO3
  4. Na2CO3.10H2O
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক নাম ও সংকেত: 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3). 
- চুনের নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO). 
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2
- চুন (CaO) এর সাথে পানি (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 
- মরিচার রাসায়নিক সংকেত হলো Fe2O3.nH2O

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬৯.
ধনচার্জ যুক্ত ইলেকট্রন কে কী বলা হয়?
  1. ক) নিউট্রিনো
  2. খ) পজিট্রিনো
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) পজিট্রন
ব্যাখ্যা

- পজিট্রন পরমাণুর একটি অস্থায়ী মূল কণিকা। ১৯৩২ সালে অ্যান্ডারসন পজিট্রন আবিষ্কার করেন।
- এটি আসলে ধনচার্জ যুক্ত ইলেকট্রন। একে অ্যান্টি ইলেকট্রনও বলা হয়।
- নিউট্রন একটি স্থায়ী মূল কণিকা এবং নিউট্রিনো ও পজিট্রিনো পরমাণুর দুইটি অস্থায়ী মূল কণিকা।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৭০.
ম্যারি ও পিয়েরে কুরি কোন মৌলিক পদার্থ আবিষ্কার করেন?
  1. ক) রেডিয়াম
  2. খ) প্লাটিনাম
  3. গ) সিজিয়াম
  4. ঘ) টারবিয়াম
ব্যাখ্যা

ম্যারি ও পিয়েরে কুরি ১৮৯৮ সালে পোলনিয়াম ও রেডিয়াম নামের নতুন দুটি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কার করেন।
১৯০৩ সালে তাঁরা পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান।

৮৭১.
গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে আয়তন কিভাবে পরিবর্তিত হয়?
  1. আয়তন একই থাকে
  2. গ্যাসের চাপ বাড়ালে আয়তন বাড়ে
  3. গ্যাসের তাপমাত্রা বাড়লে আয়তন কমে
  4. পাত্রের আকারের সাথে আয়তন পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা
গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থ যেমন- বাতাসের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। 
- একই পরিমাণ গ্যাস ছোট পাত্রে রাখলে এর আয়তন কম হয় আবার বড় পাত্রে রাখলে এর আয়তন বেশি হয়। 
যেমন- যদি সমপরিমাণ গ্যাস দুইটি সিলিন্ডারে রাখা হয় তাহলে তা ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ গ্যাস বড় সিলিন্ডরে রাখলেও তা সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে। অর্থ্যাৎ, গ্যাসীয় পদার্থ যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আয়তনই গ্যাসের আয়তন। 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই, দৃঢ়তা তো একবারেই নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮৭২.
নিম্নের কোনটি পাললিক শিলা নয়? 
  1. কাঁদাপাথর
  2. বেলেপাথর
  3. চুনাপাথর
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

• ভুত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার।
- যথাঃ আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা।

• পাললিক শিলাঃ
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম ও স্তর লক্ষ্য করা যায়।
- পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
- আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না।

• রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

• অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা: 
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী। 

৮৭৩.
ফরমালিন হলো ফরমালডিহাইডের-
  1. ক) ৪০% জলীয় দ্রবণ
  2. খ) ৩০% জলীয় দ্রবণ
  3. গ) ২০% জলীয় দ্রবণ
  4. ঘ) ১০% জলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা
• ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- ফরমালিনে ৪০ ভাগ মিথান্যাল ও ৬০ ভাগ পানি থাকে। 
- ফরমালিন মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
৮৭৪.
কোনটি অ্যান্টিবায়োটিক?
  1. ইথিলিন
  2. পেনিসিলিন
  3. ইনসুলিন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন-MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৫.
চুন বলতে কোনটিকে বোঝানো হয়?
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. ক্যালসিয়াম সালফেট
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম অক্সাইড হলো চুন।
- স্ল্যাক লাইম বা চুনের পানি হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড। 
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট হলো চক পাউডার।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৮৭৬.
কোনো কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা সরাসরি বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. বাষ্পীভবন
  2. গলন
  3. ঊর্ধ্বপাতন
  4. ব্যাপন
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঊর্ধ্বপাতন। 
যেমন: নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- তাই এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থও বলা হয়। 
- কঠিন অবস্থায় ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থে তাপ প্রয়োগ করতে থাকলে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ সহজেই বাষ্পীভূত হয়। 
- আয়োডিন মিশ্রিত খাদ্য লবণের মধ্যে আয়োডিন একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭৭.
শুষ্ক কোষে ছদন নিবারক হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) KMnO4
  2. খ) MnO2
  3. গ) SiO2
  4. ঘ) K2Cr2O7
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell): 
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ। 
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে। 

গঠন: 
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। 
- চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়। 
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে। 
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে। 
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে। 
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে। 
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়। 
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে। 
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে। 
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে। 
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
৮৭৮.
কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই?
  1. স্ফটিক
  2. কঠিন 
  3. তরল 
  4. বায়বীয়
ব্যাখ্যা

পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৭৯.
কোন যৌগের ক্ষার হবার শর্ত হলো-
  1. ক) যৌগটিতে হাইড্রক্সাইড যৌগমূলক থাকতে হবে
  2. খ) যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে
  3. গ) পানিতে দ্রবীভূত হবে না
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
ধাতু বা ধাতুর মত ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সাইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। কোন যৌগের ক্ষার হবার শর্ত হলো- যৌগটিতে হাইড্রক্সাইড যৌগমূলক থাকতে হবে এবং যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে।
উৎসঃ রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮০.
নিচের কোনটি হাইড্রোকার্বন?
  1. NaHCO3
  2. NaCl
  3. C6H6
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। যেমন: মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C2H12), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার: (i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও (ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন।

 (i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন:
- অ্যালিফেটিক কথাটির অর্থ হলো চর্বিজাত। এই শ্রেণির হাইড্রোকার্বন মূলত প্রাণীর চর্বি থেকে পাওয়া গিয়েছিল। তাই এ ধরনের হাইড্রোকার্বনের নাম অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন দেওয়া হয়েছে। 
- মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C6H12), সাইক্লোবিউটিন হচ্ছে অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ। 

(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন:
- গ্রিক শব্দ অ্যারোমা (Aroma) থেকে অ্যারোমেটিক শব্দটি এসেছে। অ্যারোমেটিক শব্দের অর্থ হলো সুগন্ধযুক্ত। প্রথমে যে অ্যারোমেটিক যৌগগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো ছিল সুগন্ধযুক্ত, তাই এ ধরনের নামকরণ করা হয়েছে।
- বেনজিন (C6H6) বা ন্যাপথলিন (C10H8) হচ্ছে অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ।

- অপরদিকে NaHCO3 এবং NaCl হচ্ছে অজৈব লবণ।

উৎস: রসায়ন- নবম ও দশম শ্রেণি।

৮৮১.
নিচের কোনটিকে সাবান বললে তা সঠিক হবে?
  1. ক) সোডিয়াম স্টিবোগ্লুকোনেট
  2. খ) পটাশিয়াম সাইট্রেট
  3. গ) সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম পামিটেট
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
প্রকৃতপক্ষে সোডিয়াম বা পটাশিয়াম এর স্টিয়ারেট লবণকে সাবান বলা হয়।
সাবানের সংকেত হলো C17H35COONa অথবা C17H35COOK
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৮২.
প্রতিটি শেলে সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা নির্ণয় করতে কোন সূত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. 2n2
  2. n3
  3. 2n
  4. n2
ব্যাখ্যা

বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (যেখানে n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (1)2 টি = 2 টি, 
• ২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (2)2 টি = 8 টি, 
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (3)2 টি = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (4)2 টি = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৩.
'চিলি সল্টপিটার' কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. ক্যালসিয়াম 
  2. অ্যালুমিনিয়াম 
  3. সোডিয়াম 
  4. আয়রন 
ব্যাখ্যা
• আয়রন বা লোহার আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৮৮৪.
এক্রোলিন পরীক্ষা দ্বারা কোনটি শনাক্ত করা হয়?
  1. ইথানল
  2. গ্লিসারিন
  3. গ্লুকোজ
  4. ইথান্যাল
ব্যাখ্যা
গ্লিসারিন: 
- গ্লিসারিন ও ফেনল উভয় যৌগে অ্যালকোহলের মতো -OH মূলক কার্যকরী মূলকরূপে থাকলেও উভয় যৌগের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সাধারণ অ্যালকোহল থেকে ভিন্ন। 
- প্রকৃতিতে প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ সব ফ্যাট বা চর্বি ও তৈল হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের ট্রাই গ্লিসারাইড। 
- গ্লিসারিন ছাড়া এ তৈল ও চর্বি গঠন সম্ভব নয়। 
- গ্লিসারিন এর অপর নাম হলো গ্লিসারল বা প্রোপেন-1, 2, 3- ট্রাইঅল, HO-CH2-CH(OH)-CH2-OH. 

গ্লিসারিন প্রস্তুতি (Glycerine Preparation): 
- নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে গ্লিাসারিন উৎপন্ন করা হয়। 
যেমন- 
(১) তৈল বা চর্বির ক্ষারীয় আর্দ্র বিশ্লেষণ: সাবানায়ন প্রক্রিয়া, 
(২) তৈল বা চর্বির অম্লীয় আর্দ্র বিশ্লেষণ: গ্লিসারিন ও ফ্যাটি এসিড উৎপাদন, 
(৩) প্রোপিন থেকে গ্লিসারিন: আধুনিক সংশ্লেষণ পদ্ধতি। 

অপসারণ বিক্রিয়া: 
- নিরুদক পটাসিয়াম হাইড্রোজেন সালফেট (KHSO4) এর উপস্থিতিতে অথবা উচ্চ তাপমাত্রায় গ্লিসারিনকে উত্তপ্ত করলে গ্লিসারিন অণু থেকে দুই অণু পানি অপসারিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস রোধক ঝাঁঝালো এক্রোলিন উৎপন্ন হয়। 
- এটি গ্লিসারিন শনাক্তকরণের এক্রোলিন টেস্ট। 
- তৈল ও চর্বি আগুনে পড়লে বিষাক্ত এক্রোলিনের ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয়। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৮৮৫.
পর্যায় সারণির কোন পর্যায়কে অতি দীর্ঘ পর্যায় বলা হয়?
  1. চতুর্থ পর্যায়কে
  2. পঞ্চম পর্যায়কে
  3. দ্বিতীয় পর্যায়কে
  4. সপ্তম পর্যায়কে
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণীতে মোট ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ রয়েছে।

পর্যায় তালিকার 
- ১ম পর্যায়ে মাত্র দুটি মৌল, H ও He.
- ২য় পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ৮টি।
- ৩য় পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ৮টি।
- ৪র্থ পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ১৮টি।
- ৫ম পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ১৮টি।
- ৬ষ্ঠ পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ৩২টি।
- ৭ম পর্যায়েও মৌলর সংখ্যা ৩২টি।

ল্যান্থানাম, La(57) সহ পরবর্তী আরো ১৪টি মৌল অর্থাৎ এ ১৫টি মৌলকে ল্যান্থানাইড সিরিজের মৌল বলা হয়।
একইভাবে অ্যাক্টেনিয়াম, Ac(89) সহ পরবর্তি আরো ১৪টি মৌল অর্থাৎ এ ১৫টি মৌলকে অ্যাক্টেনাইড সিরিজের মৌল বলা হয়।

সুতরাং, পর্যায় সারণীর ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায় দুটোই অতি দীর্ঘ পর্যায় বলে বিবেচিত হবে।
৮৮৬.
ভারি পানি গঠনে নিচের কোনটি অংশ নেয়?
  1. প্রোটিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. টিট্রিয়াম
  4. ডিউটেরিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
হাইড্রোজেনের তিনটি প্রাকৃতিক আইসোটোপ হলো প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম, টিট্রিয়াম। এদের মধ্যে পানি গঠন করে হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম। আর ভারি পানি গঠন করে ডিউটেরিয়াম।
ডিউটেরিয়ামের ভর সংখ্যা ২, প্রোটন সংখ্যা ১ এবং নিউট্রন সংখ্যা ১।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বই, নবম-দশম শ্রেণি

৮৮৭.
বিজারকের ধর্ম -
  1. ক) ইলেকট্রন গ্রহণ
  2. খ) একই সাথে ইলেক্ট্রন গ্রহণ ও বর্জন
  3. গ) ইলেকট্রন বর্জন
  4. ঘ) প্রোটন গ্রহণ
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na+Cl2=2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
এটি বিজারণ বিক্রিয়ার সাথে একইসাথে সংঘটিত হয়।
যেমন উপরের উদাহরণে একইসাথে ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক

Na -e→Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)

Cl+e→Cl (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৮৮৮.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ-
  1. ৮০ - ৮৫%
  2. ৮৫ - ৯০ %
  3. ৯০ - ৯২ %
  4. ৯৫ - ৯৯%
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas):
- সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাসের বিভিন্ন উপাদানের অনুপাত তার প্রাকৃতিক উৎসের ভিত্তিতে ভিন্ন হয়ে থাকে।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন (৪০%)।
- এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসে ইথেন (7%), প্রোপেন (6%), বিউটেন ও আইসোবিউটেন (4%) এবং পেন্টেন (3%) থাকে।
- কিন্তু বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে তাতে 95-99% মিথেন থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
৮৮৯.
এসিডীয় দ্রবণের pH কত?
  1. pH = 7
  2. pH > 7
  3. pH < 7
  4. pH < -7
ব্যাখ্যা

কোনো দ্রবনের pH = 7 তা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি
কোনো দ্রবনের pH < 7 তা এসিডীয় দ্রবণ হবে
কোনো দ্রবনের pH > 7 তা ক্ষারীয় দ্রবণ হবে।
[উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণি বিজ্ঞান ,পৃষ্ঠা -১৪৫]

৮৯০.
'এটম' শব্দটির প্রবক্তা কে?
  1. জন ডাল্টন
  2. প্লেটো
  3. অ্যারিস্টটল
  4. ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা

পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৮৯১.
ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ কোনটি?
  1. পিট কয়লা
  2. লিগনাইট কয়লা
  3. বিটুমিনাস কয়লা
  4. অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা (Coal): 
- প্রাকৃতিক কারণে গাছপালা ভূগর্ভে মাটির নিচে চাপা পড়ে। 
- দীর্ঘকাল যাবৎ অধিক চাপ ও তাপের প্রভাবে চাপাপড়া গাছপালার মধ্যে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তখন স্তরীভূত ও কঠিন পদার্থরূপে পরিণত ঐ দহনযোগ্য জীবাশ্মকে কয়লা বলে। 
- ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ হলো পিট কয়লা। 
- তারপর ধারাবাহিক রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে লিগনাইট কয়লা, বিটুমিনাস কয়লা ও শেষে উন্নত অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় পরিণত হয়। 

বাংলাদেশের কয়লা ক্ষেত্র: 
- বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ হলো কয়লা। 
- অনেক দেশে কয়লাকে black diamond বলা হয়। 
- বাংলাদেশের রাজশাহীর বগুড়া জেলার জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ি ও দীঘিপাড়া এবং রংপুর জেলার খালিসপুর ইত্যাদি পাঁচটি খনিতে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লা আছে। 
- সিলেট জেলায় উন্নতমানের বিটুমিনাস ও লিগনাইট কয়লার খনি আছে। 
- ফরিদপুরে বাঘিয়া ও চান্দাবিল, খুলনার কোলা বিল ও সিলেটে পীট (peat) জাতীয় নিম্নমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৮৯২.
বায়োগ্যাসের কোন উপাদান জ্বালানির কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) মিথেন
ব্যাখ্যা
- বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসাবে বায়োগ্যাস একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
- বিভিন্ন পচনশীল জৈব পদার্থ বা বর্জ্যপদার্থ যেমন গোবর, হাঁস- মুরগীর মলমূত্র, গৃহস্থালীর বর্জ্য ইত্যাদি বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচনের ফলে যে গ্যাস তৈরী হয় তাকে বায়োগ্যাস বলে।
- এ জাতীয় গ্যাসে অধিকাংশ পরিমাণই থাকে মিথেন।

উৎসঃ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়।
৮৯৩.
গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশে STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0° C
  2. 25° C
  3. - 298° C
  4. 298 K
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশের দুটি পদ্ধতি আছে। 
যেমন- 
(১) STP পদ্ধতি: 
- STP এর পুরো নাম Standard Temperature and Pressure. 
- STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 0°C বা 273 K ও চাপ 1 atm বা 101.325 kPa ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন হয়, Vm = 22.414 Lmol-1

(২) SATP পদ্ধতি: 
- SATP এর পুরো নাম Standard Ambient Temperature and Pressure. 
- এ পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 25°C বা 298K ও চাপ 100 kPa (কিলো প্যাসকেল) ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন, Vmθ = 24.789 Lmol-1

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
৮৯৪.
কোনটি NaCl এর ব্যবহার নয়-
  1. বেকিং সোডা প্রস্তুতি
  2. সোডিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড তৈরি
  3. খাবার স্যালাইন তৈরি
  4. ব্লিচিং পাউডার তৈরি
ব্যাখ্যা
NaCl এর ব্যবহার:
- NaCl অনেক কাজে ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- ভাত-এর সাথে আমরা তরকারি খাই। তরকারিতে NaCl লবণ না দিলে তরকারি সুস্বাদু হয় না।
- শিল্পকারখানায় NaOH যৌগ প্রস্তুত করার জন্য NaCl ব্যবহৃত হয়।
- ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতা পূরণের জন্য ওষুধ শিল্পে স্যালাইনের মধ্যে NaCl প্রয়োজন হয়।
- বেকিং সোডা তৈরিতে NaCl ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- 40°C তাপমাত্রায় কঠিন ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মধ্যে ক্লোরিন গ্যাস চালনা করলে ব্লিচিং পাউডার, Ca(OCl)Cl উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৯৫.
এন্টাসিড ঔষধে মূলত কোনটি থাকে?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম অক্সাইড
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
এন্টাসিড ঔষধ:
- এন্টাসিড ঔষধ হলো মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] যা সাসপেনশান ও ট্যাবলেট দুভাবেই পাওয়া যায়।
- ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] এর সাসপেনশান মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া (Milk of Magnesia) নামেই অধিক পরিচিত।
- কখনো কখনো এন্টাসিডে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডও [Al(OH)3] থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৯৬.
CO2 কী ধরনের অণু?
  1. যৌগের অণু
  2. মৌলের অণু
  3. একক পরমাণুর অণু
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। 
যেমন- O2 । 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। 
যেমন- CO2 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৭.
ব্লু ভিট্রিওল যৌগে কত অণু পানি যুক্ত থাকে?
  1. ৩ অণু
  2. ৫ অণু
  3. ৭ অণু
  4. ১০ অণু
ব্যাখ্যা

- তুঁতে বা ব্লু ভিট্রিওল (Blue Vitriol) হলো আর্দ্র কপার সালফেট, এর রাসায়নিক সংকেত হলো  CuSO4.5H2O । এই সংকেত থেকে দেখা যায় যে, প্রতি অণু কপার সালফেটের সাথে ৫ অণু স্ফটিক পানি (Water of crystallization) যুক্ত থাকে। 

রাসায়নিক যৌগ ও তাদের সংকেত: 

- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH. 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতে বা ব্লু ভিট্রিওল যৌগের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৮.
ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে -
  1. সিলভার ব্রোমাইডের
  2. সিলভার ক্লোরাইডের
  3. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের
  4. সিলভার ফ্লোরাইডের
ব্যাখ্যা
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে সিলভার ব্রোমাইডের। 
- সিলভার ব্রোমাইডের রাসায়নিক সংকেত হলো AgBr. 
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ সাধারণত সিলভার হ্যালাইডের (ব্রোমাইড বা আয়োডাইড) আবরণ থাকে। 
- ব্রোমাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যাতে একটি ব্রোমাইড আয়ন বা লিগ্যান্ড রয়েছে। 
- এটি −১ (Br) আধান সহ আয়নিত একটি ব্রোমাইড পরমাণু। 
যেমন- সিজিয়াম ব্রোমাইড এর সিজিয়াম ধনাত্মক আয়ন(CS+)বৈদ্যুতিক ভাবে আকর্ষিত হতে পারে ব্রোমাইড অ্যানায়ন(Br) এর প্রতি। 
- ফলে বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ আয়নিক যৌগ CsBr গঠিত হয়। 

Dry plate, in photography, glass plate coated with a gelatin emulsion of silver bromide. It can be stored until exposure, and after exposure it can be brought back to a darkroom for development at leisure.

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮৯৯.
যক্ষ্মা (TB) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ট্রেপটোমাইসিন হলো- 
  1. অ্যান্টিবায়োটিক
  2. ব্যথানাশক
  3. অ্যান্টিসেপটিক
  4. চেতনানাশক 
ব্যাখ্যা

- যক্ষ্মা (TB) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ট্রেপটোমাইসিন হলো একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত এবং ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে বা তাদের বৃদ্ধি রোধে কাজ করে, বিশেষত Mycobacterium tuberculosis-এর বিরুদ্ধে এটি কার্যকর। 

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 

- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনানাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০০.
কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  3. আঘাত করলে টুন টুন শব্দ করে
  4. পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো - 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)।  
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।