ব্যাখ্যা
এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।
সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২৬ / ২৭ · ২,৫০১–২,৬০০ / ২,৬৯২
টিউমার নির্ণয় ও চিকিৎসায় 60Co তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
রোগ নিরাময়ে
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 131I সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়।
- এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছে বিটা রশ্মি নির্গত করে, যা থাইরয়েডের ক্যানসার কোষকে ধ্বংস করে।
- এছাড়া ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্রেইন ক্যানসার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়।
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যানসারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় 32P এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়।
উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি।
◉ বাফার দ্রবণ (Buffer Solution) হলো এমন একটি দ্রবণ, যা সামান্য পরিমাণ অম্ল (Acid) বা ক্ষার (Base) যোগ করার পরেও এর pH মানকে প্রায় স্থির রাখতে সক্ষম।
বাফার দ্রবণ:
- যে দ্রবণে সামান্য পরিমাণে এসিড বা ক্ষারক যোগ করার পরও তার pH অপরিবর্তিত থাকে তাকে বাফার দ্রবণ বলে।
- pH পরিবর্তন প্রতিরোধ করার এই ক্ষমতাকে দ্রবণটির বাফার ক্ষমতা (buffer capacity) বলে।
বাফার দ্রবণগুলো সাধারণত
(i) মৃদু এসিড ও ঐ এসিডের সঙ্গে তীব্র ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট) বা
(ii) মৃদু ক্ষার ও এর সঙ্গে তীব্র এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন NH4OH-NH4CI)-এর মিশ্রণ দ্বারা প্রস্তুত করা হয়।
উল্লেখ্য যে এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট দ্বারা প্রস্তুত বাফার দ্রবণের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
বাফার দ্রবণের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
(i) এই দ্রবণের একটি নির্দিষ্ট pH থাকে।
(ii) এই দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও এর pH এর পরিবর্তন হয় না।
(iii) বেশি সময় রেখে দিলে বা দ্রবণকে লঘুকরণ করলেও এর pH অপরিবর্তিত থাকে।
এই দ্রবণ তার বাফার ক্রিয়া (buffer action) দ্বারা pH পরিবর্তনে বাধা দান করে।
উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- যে সকল বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করে অন্য কোনো বস্তুতে রূপান্তরিত করা যায় না তাকে বলে মৌলিক পদার্থ।
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, লোহা, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি।
- যে সকল বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় তাকে বলে যৌগিক পদার্থ।
যেমন- পানি, লবণ, ইস্পাত, চিনি, ইউরিয়া ইত্যাদি।
◉ নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।
• ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে।
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয়ে ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে।
উৎস: রসায়ন-১ম পত্র, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ ঊন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• দিয়াশলাইয়ের কাঠির শীর্ষে সাধারণত লোহিত ফসফরাস (Red Phosphorus) ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিক লোহিত ফসফরাস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং স্থিতিশীল, যা ঘর্ষণের মাধ্যমে জ্বলে ওঠে। অন্যদিকে, শ্বেত ফসফরাস খুবই জ্বলনশীল ও বিষাক্ত, তাই এটি ব্যবহার করা হয় না। বেগুনি ফসফরাসও সাধারণত এই কাজে ব্যবহার করা হয় না। কাঠির শীর্ষে লোহিত ফসফরাস থাকায় ঘষলে তা সহজেই আগুন ধরে, যা আমাদের আলো জ্বালানোর জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর।
- তাই প্রশ্নে সঠিক উত্তর হলো গ) লোহিত ফসফরাস।
ফসফরাস: রূপভেদ ২ টি।
• শ্বেত ফসফরাস ও
• লোহিত ফসফরাস।
- শ্বেত ফসফরাস বেশি সক্রিয় এবং বিষাক্ত।
- দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়।
- লোহিত ফসফরাস একটু উষ্ণ অবস্থায় বায়ুর অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। তাই লোহিত ফসফরাস ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ম্যাচের কাঠি। ম্যাচের কাঠি বারুদে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ তৈরি হয়, তাতে লোহিত ফসফরাস অক্সিজেনর সঙ্গে বিক্রিয়া করে জ্বলে ওঠে।
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
- স্টেরিলাইজেশন একটি তীব্র তাপ প্রয়োগ পদ্ধতি যা ১০০°C -এর বেশি তাপমাত্রায় করা হয় এবং এর লক্ষ্য হল খাদ্যের মধ্যে উপস্থিত সমস্ত অণুজীব, এমনকি ব্যাকটেরিয়ার স্পোরগুলোও সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করে দেওয়া।
স্টেরিলাইজিং বা রিটর্টিং বা নির্জীবকরণ:
- সিলিং -এর পর স্টেরিলাইজিং করা হয়।
- যেসব খাদ্য এসিডিক সেক্ষেত্রে 90-100°C তাপমাত্রায় প্রায় 30 মিনিট তাপ প্রয়োগ করা হয়।
- যেসব খাদ্যে এসিড নেই অথবা খুব কম আছে সেক্ষেত্রে 121°C তাপমাত্রায় 1.5-2 ঘণ্টা ধরে তাপ প্রয়োগ করা হয়। কারণ 121°C তাপমাত্রায় জীবাণুর স্পোর বা কেলাস কাঠামো ভেঙে যায়।
- এতে খাদ্য সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয় এবং কিছুটা রান্নার কাজও হয়।
- যে ভৌত পদ্ধতিতে খাদ্য সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত হয় তাকে স্টেরিলাইজেশন বলে।
অন্যদিকে,
- স্টেরিলাইজেশন খাদ্যের পুষ্টির পরিমাণ বাড়ায় না; বরং কিছু ক্ষেত্রে পুষ্টি উপাদানের সামান্য হ্রাস ঘটতে পারে।
- স্টেরিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার কারণে খাদ্যের স্বাদ বা পুষ্টিগুণের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু স্বাদ উন্নত করা এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়।
- ঠান্ডা রাখা (শীতলীকরণ বা ফ্রিজিং) খাদ্য সংরক্ষণের একটি আলাদা পদ্ধতি যা অণুজীবের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, কিন্তু এটি স্টেরিলাইজেশন নয়।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি:
- বিজ্ঞানী উইটিংহাম (Whittinghum) সর্বপ্রথম 1970 সালে লিথিয়াম ব্যাটারির প্রস্তাব করেন।
- এটি একটি সেকেন্ডারী সেল।
লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির গঠন:
- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির তিনটি মূল কার্যকরী উপাদান হচ্ছে ঋণাত্মক ইলেকট্রোড, ধনাত্মক ইলেকট্রোড এবং ইলেকট্রোলাইট।
- ধনাত্মক তড়িৎদ্বার সাধারণত কার্বন হতে তৈরী করা হয়। ধনাত্মক তড়িৎদ্বার ধাতব অক্সাইডের তৈরী এবং ইলেকট্রোলাইট হচ্ছে জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত লিথিয়াম লবণ।
- বানিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ঋণাত্মক ইলেকট্রোড হয় গ্রাফইট এবং ধনাত্মক ইলেকট্রোড হিসাবে নিম্নলিখিত তিনটি পদার্থের যে কোন একটি ব্যবহৃত হয়-
(i) লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড স্তর (Li-CoO2), (ii) লিথিয়াম আয়রন ফসফেট এবং (iii) লিথিয়াম ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড (Li-Mn2O4)।
- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সুবিধা ও অসুবিধা দেওয়া হলো-
সুবিধা:
১। বিভিন্ন আকার আকৃতির পাওয়া যায় যা বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে সাইজেই ফিট হয়।
২। অন্যান্য ব্যাটারি হতে হালকা।
৩। অন্যান্য জলীয় ব্যাটারি হতে এদের বিভব পার্থক্য অধিক (উন্মুক্ত সার্কিটে)।
৪। কোনো মেমোরী প্রভাব নেই।
৫। অব্যবহৃত অবস্থায় চার্জ হারানোর হার কম (5-10%) অন্যান্য কার্যকারী ক্ষেত্রে হার 30% ।
৬। ব্যাটারির উপাদান পরিবেশগতভাবে বন্ধুভাবাপন্য।
অসুবিধা:
১। চার্জের ফলে ইলেক্ট্রোলাইটের মধ্যে জমাট বাধে যা আয়নের পরিবহনে বাধা দেয়।
২। উচ্চ মাত্রায় চার্জ করা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যাটারির ধারকতা হারায়।
৩। ২৫° C তাপমাত্রায় পূর্ণ চার্জের ফলে উভমূখীতা হারায়।
৪। আভ্যন্তরীণ রোধ বেশি।
৫। উচ্চ ক্ষমতার যন্ত্রের ক্ষেত্রে একটি বড় ব্যাটারি ব্যবহার অসুবিধা বরং একাধিক ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
৬। উচ্চ তাপমাত্রায় এ ব্যাটারি ব্যবহার বিপদজনক।
উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র (তড়িৎ রসায়ন), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
এসিডের ব্যবহার:
- দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য।
যেমন-
- সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়।
– আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়।
- বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড (যাকে ফিনলও বলা হয়) ব্যবহৃত হয়।
- আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড।
- সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড।
- এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়।
- কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে।
- ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়।
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
• সোডিয়াম ধাতুকে পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়।
• সোডিয়াম:
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু।
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে।
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে।
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়।
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না।
- তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫ °C (২৫৭ °F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে।
অন্যদিকে,
- ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত +2 জারণ অবস্থায় থাকে। এটি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ, আরএনএ এবং এটিপি-এর সঙ্গে জড়িত।
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক উপাদান, যা পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- রেডিয়াম অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এর যৌগগুলি অন্ধকারে হালকা নীল রঙের আলো ছড়ায়।
উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
• জিপসামের রাসায়নিক সংকেত হলো CaSO4.2H2O (ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট)। এটি ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আকরিক, যা সিমেন্ট এবং প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
• সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।
• ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।
• আয়রনের আকরিক:
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।
• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
শিলা:
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা।
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়।
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা।
উদাহরণস্বরূপ নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি।
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়।
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা।
রূপান্তরিত শিলা:
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।
যেমন- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন হয়; এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না; কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
গ্রাফিন কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। সহজভাবে বললে, এটা কার্বনের একটি ষড়ভুজাকৃতির স্ফটিক স্তর বা স্তর বিন্যাস যেখানে প্রতিটি স্তরের পুরুত্ব এক পরমাণুর সমান।
এটি আবিষ্কারের জন্য আন্দ্রেঁ গেইম এবং কনস্টানটিন নভোসেলভ ২০১০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
Britannica থেকেঃ
Graphene, a two-dimensional form of crystalline carbon, either a single layer of carbon atoms forming a honeycomb (hexagonal) lattice or several coupled layers of this honeycomb structure. The word graphene, when used without specifying the form (e.g., bilayer graphene, multilayer graphene), usually refers to single-layer graphene. Graphene is a parent form of all graphitic structures of carbon: graphite, which is a three-dimensional crystal consisting of relatively weakly coupled graphene layers; nanotubes, which may be represented as scrolls of graphene; and buckyballs, spherical molecules made from graphene with some hexagonal rings replaced by pentagonal rings.
প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে।
কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে।
কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
অদানাদার রূপভেদ হলো- কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- তড়িৎ বিশ্লেষণ (electrolysis) প্রক্রিয়ায় অ্যানোড একটি ধনাত্মক তড়িৎদ্বার (positive electrode), যেখানে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়নগুলো এসে ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়। এই ত্যাগের মাধ্যমে ইলেকট্রনগুলো দ্রবণ থেকে বেরিয়ে বাহ্যিক সার্কিটে প্রবেশ করে।অন্যদিকে, ক্যাথোড একটি ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার (negative electrode), যেখানে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়নগুলো এসে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয়। বাহ্যিক সার্কিট থেকে ইলেকট্রন ক্যাথোডে প্রবেশ করে।
তড়িৎদ্বার:
- তড়িৎ বিশ্লেষণে দুটি ধাতব পরিবাহী বা গ্রাফাইট দন্ড ব্যবহৃত হয়, যা তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। একটির মাধ্যমে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে, অন্যটির মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
- তড়িৎদ্বার ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে এবং কোষের বর্তনী পূর্ণ করে।
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের জন্য দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন।
যেমন-
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার:
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে।
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়।
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার:
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে।
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ডিডিটি হলো একটি কীটনাশক।
- ডিডিটি'র পূর্ণ নাম ডাইক্লোরোডাইফিনালট্রাইক্লোরোমিথেন (Dichlorodiphenyltrichloroethane – DDT)
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯৪০ সালে DDT আবিষ্কৃত হলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ কীটনাশক হিসেবে অজৈব ও উদ্ভিদজাত পদার্থ থেকে গুণগত মানের দিক থেকে উন্নত।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া
ঝিনুক বা শামুকের খোলসে প্রায় ৯৮% ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে। তাপ দিয়ে ঝিনুক বা শামুকের খোলস থেকে চুন তৈরি করা হয়।
তাপে ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙ্গে গিয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
খনিজ (Minerals):
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়।
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে।
আকরিক (Ores):
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে।
যেমন- গ্যালেনা (PbS) থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়।
- বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়। আবার, কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়।
- অতএব, আকরিক হলে সেটা অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে।
- আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস (FeS2) বলা হয়। আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
- পরমাণুর কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়াস, এই নিউক্লিয়াস পরমাণুর একটি ক্ষুদ্র ও ঘনত্বপূর্ণ অঞ্চল যেখানে ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন এবং আধানহীন (নিরপেক্ষ) নিউট্রন অবস্থান করে। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর এই নিউক্লিয়াসেই পুঞ্জীভূত থাকে।
মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে।
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকতে পারে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে।
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পটাশ এলাম বা ফিটকিরি পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করে। ফিটকিরি হলো আর্দ্র এলুমিনিয়াম পটাশিয়াম সালফেট [K2SO4.Al2(SO4)3.24H20]।
পটাশ এলাম ছাড়াও ব্লিচিং পাউডার, ক্লোরিন ট্যাবলেট প্রভৃতিও পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- বিশুদ্ধ বরফ স্বাভাবিক চাপে ০° সেলসিয়াস (0°C) তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে এবং পানিতে পরিণত হয়, এই তাপমাত্রাকে পানির গলনাঙ্ক বলা হয়। একইভাবে, পানি যখন শীতল হয়ে ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পৌঁছায়, তখন তা জমে বরফে পরিণত হতে শুরু করে।
পানি:
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন।
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে।
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।
গলনাঙ্ক:
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাঙ্ক।
- বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস।
স্ফুটনাংক:
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে।
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
অভিস্রবণ:
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে।
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে।
- অভিস্রবণ দুই ধরনের।
যথা-
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে।
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে।
উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে।
(২) বহিঃঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে।
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- আয়নিক বন্ধন হলো ধাতু ও অধাতুর মধ্যে তৈরি একটি রাসায়নিক বন্ধন।
- এই ধরনের রাসায়নিক বন্ধনে একটি ধাতু ইলেকট্রন হারায় এবং একটি অধাতু ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এর ফলে ধাতু ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই বিপরীত আয়নের মধ্যে ইলেকট্রস্ট্যাটিক আকর্ষণ দ্বারা যৌগ স্থিতিশীল হয়।
এছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক বন্ধন ও তাদের বৈশিষ্ট:
- সমযোজী: ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়।
- ধাতব: ধাতুগুলোর মধ্যে তৈরি হয়।
- হাইড্রোজেন: হাইড্রোজেন পরমাণুর বন্ধন।
তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, Britannica
• জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)
এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl
এভাবে মনে রাখতে হবে,
- জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
- জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
উৎস- নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
তরল-গ্যাস দ্রবণ:
- যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে তাকে তরল-গ্যাস দ্রবণ বলে।
- দ্রবণে দ্রাবক হলো তরল পদার্থ আর দ্রব হলো গ্যাসীয় পদার্থ। যেমন: (কোমল পানীয়- কোকা কোলা, সেভেন আপ)।
- এ সমস্ত কোমল পানীয়ের বোতল খোলার সাথে সাথে হিস্ শব্দ করে বুদবুদ আকারে যে গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড যা পানীয়ের মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল।
- অর্থাৎ কোমল পানীয়গুলো হলো তরল-গ্যাস দ্রবণ।
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ (যেমন: মাছ) তাদের নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরাসরি বাতাস থেকে নিতে পারে না।
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ অক্সিজেন নেয় পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকে। তাই নদ-নদী, খাল বিল বা প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানি কিন্তু এক ধরনের তরল-গ্যাস দ্রবণ।
- আবার বহুল সমালোচিত ফরমালিনও (যা আইনবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ফল ও মাছের সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে) পানিতে ফরমালডিহাইড নামক গ্যাসের দ্রবণ।
অপরদিকে,
- লেবুর শরবত ও ভিনেগার হলো তরল-তরল দ্রবণ।
- খাবার স্যালাইন হলো - তরল-কঠিন দ্রবণ।
উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
সংকর ধাতু:
- দুই বা ততোধিক ধাতু একে অপরের সঙ্গে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্বযুক্ত কঠিন ধাতব পদার্থ গঠন করে, তাকে সংকর ধাতু বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ-
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ): কাঁসার ক্ষেত্রে প্রধান ধাতু কপার (৯০%) এবং টিন (১০%)।
- পিতল: পিতলের মধ্যে কপার ৬৫% এবং জিংক ৩৫% থাকায় এটি কপারের সংকর ধাতু।
- স্টিল: প্রধান ধাতু লোহা (৯৯%) এবং অপ্রধান পদার্থ কার্বন (১%), তাই স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে — কারণ কোমল পানীয়তে CO2 উচ্চ চাপে ও নিম্ন তাপমাত্রায় দ্রবীভূত থাকে, ঢাকনা খোলার সাথে সাথে চাপ কমে গিয়ে গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়।
• কোমল পানীয়:
- আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেমন ঈদ, বিয়ে ইত্যাদিতে কোমল পানীয় পান করি।
- কোমল পানীয় পান করার সময় বোতলের ভিতর থেকে বুদবুদ আকারে একটি গ্যাস বের হতে দেখা যায়।
- এই গ্যাস হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)।
- CO2 গ্যাসকে উচ্চ চাপে ও ঠান্ডা অবস্থায় পানিতে দ্রবীভূত করা হয়।
- বোতলের ঢাকনা খোলার সাথে সাথে ভিতরের চাপ কমে যায়।
- চাপ কমে যাওয়ায় দ্রবীভূত CO2 বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে।
• কার্বনিক অ্যাসিড গঠন:
- CO2 পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড (H2CO3) তৈরি করে।
- সমীকরণ:
- CO2(g) + H2O → H2CO3.
- কার্বনিক অ্যাসিড একটি মৃদু অ্যাসিড।
- এটি পানিতে অল্প পরিমাণে আয়নিত হয়।
- এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে ও পরিপাকে সহায়তা করে।
• অন্যান্য অপশন:
- চিনি ভেঙে CO2 উৎপন্ন হয় → কোমল পানীয়তে CO2 পূর্বেই দ্রবীভূত করা থাকে, চিনি ভাঙার ফলে নয়।
- বোতলে দ্রবীভূত O2 অক্সিডেশন ঘটায় → কোমল পানীয়তে প্রধান দ্রবীভূত গ্যাস O2 নয়, CO2 .
- কার্বনিক অ্যাসিড সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় → H2CO3 একটি মৃদু অ্যাসিড, সম্পূর্ণ আয়নিত হয় না।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।