বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২১ / ২৭ · ২,০০১২,১০০ / ২,৬৯২

২,০০১.
বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধানত কোন ধরণের কারখানায় ETP স্থাপন করা বেশি প্রয়োজন?
  1. ট্যানারি শিল্প
  2. পশু খামার শিল্প
  3. রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্প
  4. কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে ETP (Effluent Treatment Plant) বা বর্জ্য পানি নিষ্কাশন কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন হয় মূলত সেই সকল শিল্পে যেখানে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বা দূষিত পানি উৎপন্ন হয়। বিশেষভাবে ট্যানারি শিল্পে ETP থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়াম, সলফার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হয়, যা সরাসরি পরিবেশে ফেলা হলে মাটি, জল এবং মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে। অন্যদিকে, পশু খামার, রেডিমেড গার্মেন্টস বা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বর্জ্য পানি কম দূষিত বা সহজে পরিচালনাযোগ্য হলেও, কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান অনুসারে ছোট ETP থাকতে পারে। তাই সর্বাধিক জরুরি এবং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ETP হলো ট্যানারি শিল্পে।
 
• ETP (Effluent Treatment Plant) এর প্রয়োজনীয়তা শিল্প কারখানায়:
- ETP হলো একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিল্প কারখানার তরল বর্জ্য বা জলকে পরিশোধন করা হয়।
- এটি পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের সময় কিছু ধরণের শিল্পে ETP স্থাপন বাধ্যতামূলক।  

• ট্যানারি শিল্প (Tannery Industry):
- ট্যানারি শিল্পে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর রঞ্জক এবং রাসায়নিক ব্যবহার হয়।
- এই শিল্প থেকে নির্গত বর্জ্যে ভারী ধাতু এবং বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে।
- তাই, ট্যানারি শিল্পে ETP স্থাপন করা বাধ্যতামূলক।  

• পশু খামার শিল্প (Animal Farming Industry):
- পশুপালন বা খামার শিল্প থেকে সাধারণত জৈব বর্জ্য উৎপন্ন হয়।
- যদিও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, এটি ETP বাধ্যতামূলক নয়।  

• রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্প (Readymade Garments Industry):
- গার্মেন্টস শিল্পে প্রধানত রঙ এবং রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বর্জ্য সাধারণত সহজে পরিশোধনযোগ্য।
- তাই সব ক্ষেত্রে ETP বাধ্যতামূলক নয়।  
- টেক্সটাইল ডাইং ফ্যাক্টরিগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিকযুক্ত রঙিন পানি নির্গত হয়, যা শোধন করতে ETP লাগে। তবে রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পের তুলনায় ট্যানারি শিল্পে ETP স্থাপন করা বেশি প্রয়োজন। 

• কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প (Agricultural Processing Industry):
- কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে তরল বর্জ্য সাধারণত কম দূষিত হয়।
- ETP স্থাপন সাধারণত ঐচ্ছিক, নির্দিষ্ট শিল্প ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।  

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

২,০০২.
হাইড্রোজেন গাড়ি থেকে বর্জ্য হিসেবে নিচের কোনটি নির্গত হয়?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. জলীয় বাষ্প
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন গাড়িতে হাইড্রোজেন জ্বালানী কোষে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। 
- এই বিক্রিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। 
- এই প্রক্রিয়ায় একমাত্র বর্জ্য হিসেবে নির্গত হয় জলীয় বাষ্প।
 
- পেট্রোল এবং ডিজেল গাড়িতে, জ্বালানী পুড়িয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়। 
- বাতাসে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্লোবাল ওয়ার্মিং হওয়ার জন্য দায়ী।
 
উৎস: বিবিসি ওযেবসাইট।
২,০০৩.
2311Na এ সোডিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 11
  2. খ) 12
  3. গ) 23
  4. ঘ) 16
ব্যাখ্যা
কোনো পরমাণুতে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে।
ভরসংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেহেতু ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়। সোডিয়ামের (Na) ভরসংখ্যা হলো 23, এর প্রোটন সংখ্যা 11, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে 23 - 11 = 12

কোনো পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা পরমাণুর প্রতীকের নিচে বাম পাশে লেখা হয়, পরমাণুর ভরসংখ্যা প্রতীকের বাম পাশে উপরের দিকে লেখা হয়। যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর প্রতীক Na, এর পারমাণবিক সংখ্যা 11 এবং ভরসংখ্যা 23। এটাকে এভাবে প্রকাশ করা যায়: 2311Na

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
২,০০৪.
নিচের কোনটি সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ?
  1. কেলাসিত ইথেন ডাইওয়িক এসিড বা অক্সালিক এসিড
  2. পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট
  3. অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট
  4. পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট
ব্যাখ্যা
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 

- যেসব কঠিন রাসায়নিক পদার্থকে (১) বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়; (২) এরা বাতাসের সংস্পর্শে জলীয় বাষ্প বা O2 সহ বিক্রিয়া করে না; (৩) এদের ওজন নেয়ার সময় রাসায়নিক নিক্তিকে ক্ষয় করে না এবং (৪) এদের দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, এদেরকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) ক্ষার, 
(২) কেলাসিত ইথেন ডাইওয়িক এসিড বা অক্সালিক এসিড (H2C2O4.2H2O), 
(৩) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K2Cr2O7) জারক পদার্থ, 
(৪) কেলাসিত সোডিয়াম ইথেন ডাইওয়েট বা অক্সালেট (Na2C2O4.2H2O) বিজারক পদার্থ ইত্যাদি হলো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ। 

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থের মধ্যে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের যেমন বিশুদ্ধতা, বাতাসে অপরিবর্তিত থাকা, রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় না করা অথবা ঘনমাত্রার পরিবর্তন না ঘটা ইত্যাদির মধ্যে কোনো একটির অভাব ঘটলে, এদেরকে সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) NaOH ক্ষার, 
(২) HCl এসিড, 
(৩) H2SO4 এসিড, 
(৪) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) জারক পদার্থ, 
(৫) সোডিয়াম থায়োসালফেট (Na2S2O3.5H2O) বিজারক ইত্যাদি। 
- এ সব সেকেন্ডারি পদার্থের মোলার দ্রবণ বা ডেসিমোলার (0.1M) দ্রবণ প্রমাণ দ্রবণ হয় না। 
- সেকেন্ডারি পদার্থের দ্রবণকে অপর পদার্থের প্রমাণ দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করে এর সঠিক মোলার ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়। 
- এরূপ সেকেন্ডারি পদার্থের যেমন KMnO4 এর 0.1M দ্রবণ তৈরি করে জারণ-বিজারণ টাইট্রেশনে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,০০৫.
জীবন্ত মেষ থেকে যে পশম তৈরি করা হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) ফ্লিস উল
  2. খ) পুল্ড উল
  3. গ) অ্যারিস উল
  4. ঘ) বোরাক্স উল
ব্যাখ্যা
- মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন নামক প্রোটিন থাকে।
- রেশম মূলত ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন দ্বারা তৈরি।
- জীবন্ত মেষ থেকে লোম সরিয়ে যে পশম তৈরি করা হয়, তাকে ফ্লিস উল (Fleece Wool) বলে।
- মৃত বা জবাই করা মেষ থেকে যে পশম তৈরি করা হয়, পুল্ড উল (Pulled Wool) বলে।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০০৬.
কোন ধাতুটির বিজারণ তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটানো হয়?
  1. Cu
  2. Zn
  3. Al
  4. Au
ব্যাখ্যা
ধাতব অক্সাইডকে মুক্ত ধাতুতে রূপান্তর: 
- আকরিককে ভষ্মীকরণ বা তাপজারণ করায় যে ধাতব অক্সাইড পাওয়া যায় তাদেরকে বিজারিত করলে ধাতু পাওয়া যায়। 
- বিভিন্নভাবে এ বিজারণ সম্পন্ন করা যায়। 
যেমন- তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজারণ, কার্বন বিজারণ পদ্ধতি, স্ববিজারণ ইত্যাদি। 
- ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজে তাদের অবস্থানের উপর কোন পদ্ধতিতে বিজারণ সম্পন্ন হবে তা নির্ভর করে। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০০৭.
ডিটারজেন্টের রাসায়নিক নাম কী ?
  1. ক) সোডিয়াম সালফেট
  2. খ) লরাইল অ্যালকোহল
  3. গ) লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট
  4. ঘ) সোডিয়াম লরাইল সালফেট
ব্যাখ্যা
- ডিটারজেন্ট সাবানের মতোই এক প্রকার পরিষ্কারক দ্রব্য।
- ডিটারজেন্ট সাধারণত পাউডারের মতো হয় এবং তরল আকারেও পাওয়া যায়।
- লরাইল অ্যালকোহলের ( C12H26O ) সাথে সালফিউরিক এসিড ( H2SO4 ) বিক্রিয়া করে লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট ( C12H26SO4 ) এবং পানি উৎপন্ন করে।
- এই লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট ( C12H26SO4 ) এর সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ( NaOH ) বিক্রিয়া করে সোডিয়াম লরাইল সালফেট ( C12H25SO4Na ) এবং পানি (H2O) উৎপন্ন হয়।
- সোডিয়াম লরাইল সালফেট ( C12H25SO4Na ) ডিটারজেন্ট নামে পরিচিত।

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০০৮.
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর কত? 
  1. 16 
  2. 2
  3. 18 
  4. 32 
ব্যাখ্যা
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর: 
- পানির অণুতে 2 পরমাণু হাইড্রোজেন ও 1 পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 
সুতরাং, H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = (1 × 2 + 16 x 1) 
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = 18

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০০৯.
এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের অধীনে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?
  1. 0° K
  2. 0° C
  3. 100° C
  4. 100° K
ব্যাখ্যা

- এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক হলো 100° C। এই তাপমাত্রায় পানি তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় বা বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হতে শুরু করে। 

• গলন ও গলনাঙ্ক: 
- কোনো বস্তুর কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। 
- নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। 
- এক বায়ু মণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাংক 0°C, সমস্ত পদার্থ না গলা পর্যন্ত তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকে। 

বাস্পীভবন: 
- কোনো বস্তুর তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
- বাষ্পীভবন দু'ভাবে সংঘটিত হয়। 
(১) স্ফুটন এবং (২) স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন। 

১। স্ফুটনাঙ্ক ও স্ফুটন: 
- তাপ প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের দ্রুত বাষ্পীভবন ঘটানোর প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে। 
- যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের স্ফুটন সংঘটিত হয় তাকে ঐ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে। 
- এক বায়ু মণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C । 

২। স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন: 
- যখন তরল পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় তাপ সংগ্রহ করে নিজের উপরের স্তর থেকে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হয়, তখন এই প্রক্রিয়াকে স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন বলা হয়। 
উদাহরণস্বরূপ- ভিজা কাপড় রোদে শুকিয়ে যাওয়া, পানি মেঝেতে শুকিয়ে বাষ্পে পরিণত হওয়া এবং কেরোসিনের বোতল খোলা রাখলে কেরোসিন বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়া এই প্রক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০১০.
মিথাইল কার্বিনলের সংকেত কোনটি?
  1. CH3 CH2OH
  2. CH3OH
  3. CH3CH2-CH2OH
  4. (CH3)2 CHOH
ব্যাখ্যা
- মিথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো CH3-CH2OH

অন্যদিকে,  
- ইথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো CH3CH2-CH2OH. 
- ডাইমিথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো (CH3)2-CHOH. 
- ট্রাইমিথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো (CH3)3-COH. 
- মিথাইল মিথেন এর সংকেত হলো CH3-CH3
- ডাইমিথাইল মিথেন এর সংকেত হলো CH3-CH2-CH3. 
- ট্রাইমিথাইল মিথেন এর সংকেত হলো (CH3)3-CH. 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,০১১.
কোনটিকে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বলা হয়? 
  1. গ্যাস 
  2. কঠিন 
  3. প্লাজমা 
  4. তরল 
ব্যাখ্যা

পদার্থের চতুর্থ অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা আছে যার নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়।
- আমাদের ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, নিয়ন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে।
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায় সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।
- বর্তমানে ফিশন পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়।
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশান পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০১২.
কঁচু খেলে গলা চুলকায় কঁচুতে উপস্থিত কোন যৌগের কারণে?
  1. ক্যালসিয়াম সালফেট
  2. ক্যালসিয়াম অক্সালেট
  3. ম্যগনেসিয়াম অক্সালেট
  4. ক্যালসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
• কঁচুতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকার কারণে কঁচু খেলে গলা চুলকায়।

-কচু খাওয়ার পর গলা চুলকানোর প্রধান কারণ হলো এতে থাকা একটি বিশেষ যৌগ ক্যালসিয়াম অক্সালেট (Calcium Oxalate)।
- এই যৌগটি সূক্ষ্ম সূচের মতো স্ফটিক আকারে থাকে, যা মুখ বা গলার সংবেদনশীল টিস্যুকে জ্বালাপোড়া বা চুলকানি অনুভূতি দেয়।

প্রতিকার:
- ভালভাবে রান্না করা: উচ্চ তাপে রান্না করলে বা উপযুক্ত পদ্ধতিতে কচু প্রক্রিয়াজাত করলে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের পরিমাণ কমে যায়।
- লেবুর রস বা দই ব্যবহার: খাবারের সাথে লেবুর রস বা দই মিশিয়ে খেলে চুলকানি কম হয়।
- নুন মাখানো: রান্নার আগে কচুতে লবণ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে এই যৌগগুলোর কার্যকারিতা কমে।
- এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া, তবে সঠিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করলে সমস্যা এড়ানো যায়।

উৎস: USDA অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২,০১৩.
ডিজিটাল ঘড়িতে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে ওঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. ক) এলইডি
  2. খ) সিলিকন চিপ
  3. গ) এলসিডি
  4. ঘ) আইসি
ব্যাখ্যা
আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলি সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে।
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেমন কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়।

সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই এবং সেটা থাকার কোন সুযোগও নেই।
- সহজ কথায়, যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে।
২,০১৪.
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ১৭
  3. গ) ১৮
  4. ঘ) ১৯
ব্যাখ্যা
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা- ১৯। 

পটাশিয়ামের পারমাণবিক ভর- ৩৯। 

পারমাণবিক সংখ্যা হলো কোনো মৌলের পরমাণুতে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যা। পারমাণবিক সংখ্যা একটি উপাদানের প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়।

সূত্র: ৬৯ পৃষ্ঠা, রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।  
২,০১৫.
কোনটি একটি দ্বিপরমাণুক অণু?
  1. O2
  2. O3
  3. CH4
  4. CO2
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বন্ধন: 
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে। 
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। 
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি। 
- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে। 
- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে। 
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষন বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- ধাতব বন্ধন। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১৬.
কোনটি উর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) নিশাদল
  3. গ) ন্যাপথালিন
  4. ঘ) বেনজিন
ব্যাখ্যা

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা তরলে রূপান্তরিত না হয় সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। যেমন:
- কর্পুর,
- গন্ধক,
- আয়োডিন,
- ন্যাপথালিন,
- নিশাদল,
- অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- আর্সেনিক,
- বেনজয়িক এসিড ইত্যাদি।
• কিন্তু বেনজিন উর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়।
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০১৭.
সালফিউরিক এসিডে কোন মৌলিক পদার্থটি নেই?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিডের সংকেত H2SO4.
সংকেত থেকে আমরা দেখতে পাই সালফিউরিক এসিডে দুই অণু হাইড্রোজেন, এক অণু সালফার ও চার অণু অক্সিজেন থাকে। 
নাইট্রোজেন থাকে না। 
২,০১৮.
নিচের কোনটি মেটালয়েড?
  1. ক) থ্যালিয়াম
  2. খ) টেলুরিয়াম
  3. গ) সীসা
  4. ঘ) সেলেনিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
যে সকল মৌলের ক্ষেত্রে ধাতু ও অধাতু উভয় শ্রেণির ধর্ম প্রকাশ পায়; তাদেরকে অপধাতু বা মেটালয়েড বলে।
বোরন, সিলিকন, জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, অ্যান্টিমনি এবং টেলুরিয়াম- এই ছয়টি মৌল হলো অপধাতু।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,০১৯.
পানি (H₂O) কোন ধরনের যৌগ?
  1. জৈব
  2. অজৈব
  3. মিশ্র
  4. অ্যারোমাটিক যৌগ
ব্যাখ্যা
• অজৈব যৌগ: যে সকল যৌগে কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন (C-H) থাকে না এবং সাধারণত খনিজ বা ভূ-তাত্ত্বিক উৎস থেকে পাওয়া যায় তাদেরকে অজৈব যৌগ বলা হয়। ।
পানি (H₂O) হলো একটি অজৈব যৌগ।

এর কারণ হলো:
-  জৈব যৌগ সাধারণত কার্বন (C) এবং হাইড্রোজেন (H) এর সরাসরি বন্ধন (C–H bond) ধারণ করে।
-  পানি-তে কার্বন নেই। এটি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের বন্ধনে তৈরি। তাই  এটি একটি অজৈব যৌগ।

-   পানি জীবদেহের জন্য অপরিহার্য হলেও রাসায়নিক গঠনের দিক থেকে এটি জৈব রসায়নের  (C-H ভিত্তিক) অংশ নয়।
-  পানিতে কার্বন-হাইড্রোজেন (C-H) বন্ধন নেই, যা জৈব যৌগের মূল শর্ত।
-  এটি প্রাকৃতিকভাবে খনিজ বা ভূতাত্ত্বিক উৎস (নদী, সমুদ্র, বৃষ্টি) থেকে পাওয়া যায়, জীবদেহ থেকে সংশ্লেষিত হয় না।
-   এর গঠন ও ধর্ম অজৈব যৌগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (যেমন: উচ্চ গলনাঙ্ক, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা)।

অন্যদিকে, 
•  জৈব: জৈব যৌগে অবশ্যই C-H বন্ধন থাকতে হয়, যা পানিতে নেই।
মিশ্র: মিশ্র যৌগ বলতে সাধারণত মিশ্রণ বোঝায় (যেমন: লোহা-কার্বন মিশ্রণ), যা পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অ্যারোমাটিক যৌগ: যে সকল জৈব যৌগের অণুতে এক বা একাধিক বেনজিন চক্র উপস্থিত থাকে তাদেরকে অ্যারোমাটিক যৌগ বলা হয়। পানি অ্যারোমাটিক যৌগ নয়। 


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
২,০২০.
“ইনার্ট গ্যাস” নয় কোনটি?
  1. Rn
  2. Ra
  3. Xe
  4. Ar
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gas): 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়। 
যেমন: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)। 
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোন যৌগ গঠন করতে চায় না। 
- নিষ্ক্রিয় অন্য মৌলগুলো থেকে হিলিয়াম (He) মৌলটি ব্যতিক্রম। কারণ হিলিয়াম (He) এর বাইরের শক্তিস্তর ২টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে যা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অন্য মৌলগুলোর ক্ষেত্রে ৮টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে। 
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে। 
- Ra (Radium) - নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা, “ইনার্ট গ্যাস” নয়।

Figure: ptable.com [লিংক]

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০২১.
যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে, তাকে কী বলে?
  1. জারক
  2. বিজারক
  3. জারিত
  4. বিজারিত
ব্যাখ্যা
- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে।
- উদাহরণ: সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে।
- উদাহরণ: অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২,০২২.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ -
  1. নীল লিটমাসকে লাল করে
  2. লাল লিটমাসকে নীল করে
  3. নীল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. নীল লিটমাসকে সবুজ করে
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস:
রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২৩.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লিটমাসকে কী রঙে পরিবর্তিত করে? 
  1. লাল
  2. নীল
  3. সবুজ
  4. অপরিবর্তিত
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- 
• NaOH, 
• KOH, 
• Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- 
• NH4OH, 
• Fe(OH)2
• Fe(OH)3
• Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২৪.
পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য হল-
  1. মাটির অনেক গভীরে থাকে
  2. ভিজা ও নরম
  3. পাহাড়ী এলাকায় পাওয়া যায়
  4. দহন ক্ষমতা কয়লার তুলনায় অধিক
ব্যাখ্যা
- পীট কয়লা হলো জৈব পদার্থের আংশিক পচন দ্বারা গঠিত স্পঞ্জি উপাদান যা প্রাথমিকভাবে উদ্ভিদ উপাদান। 
- পীট কয়লা সবচেয়ে নিম্ন মানের কয়লা যা মাটির ভূগর্ভে থেকে পাওয়া যায়। 
- পীট কয়লা ভিজা ও নরম, দহনে খুব কম তাপ উৎপন্ন করে। 
- শুষ্ক অবস্থায় এটি অবাধে জ্বলে। 
- এতে শনাক্তযোগ্য উদ্ভিজ্জ কণিকা বিদ্যমান থাকলেও মণিক নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,০২৫.
নিচের কোন যৌগের মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন? 
  1. মোম
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কেরোসিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন: 
- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। 
যেমন - মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
(i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও 
(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০২৬.
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে কী বলে?
  1. ভর সংখ্যা
  2. নিউট্রন সংখ্যা
  3. নিউক্লিয়ন সংখ্যা
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
- পারমাণবিক সংখ্যাকে 'Z' অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- যেমন: সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11 টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11.
- তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হলো, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,০২৭.
জারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. ক) তড়িৎ- ধনাত্মক আধান হ্রাস
  2. খ) তড়িৎ- ঋণাত্মক আধান বৃদ্ধি
  3. গ) তড়িৎ- ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি
  4. ঘ) ইলেকট্রন গ্রহণ
ব্যাখ্যা
- কোন পরমাণুর,আয়ন বা পরমাণুপুঞ্জ (রেডিক্যাল) থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে তড়িৎ- ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ- ঋণাত্মক আধান হ্রাসের প্রক্রিয়াকে জারণ বলা হয়।
- যে সকল পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ ক্রতে পারে, তাদেরকে জারক পদার্থ বলা হয়।
- আর যে সকল পদার্থের বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন প্রদান করে তাকে বিজারক পদার্থ বলে।

এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,০২৮.
Which chemical compound is responsible for the sweet aroma of fruits?
  1. Alcohol
  2. Ester
  3. Amine
  4. Carboxylic Acid
  5. None of these
ব্যাখ্যা

• ফলের সুগন্ধের পেছনে মূলত উদ্বায়ী এস্টার যৌগগুলো কাজ করে। বিভিন্ন ফলের নির্দিষ্ট গন্ধ নির্দিষ্ট ধরণের এস্টারের উপস্থিতির কারণে হয়, যেমন- পাকা কলার গন্ধে থাকে অ্যামাইল অ্যাসিটেট এবং কমলার গন্ধে থাকে অক্টাইল অ্যাসিটেট।

• এস্টার: 

- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -COOR.
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
• মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস, 
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০২৯.
ক্ষারীয় দ্রবণকে কীভাবে শনাক্ত করা যায়?
  1. এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে
  2. এটি নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
  3. এটি হলুদ লিটমাস কাগজকে বাদামী করে
  4. এটি সবুজ লিটমাস কাগজকে কালো করে
ব্যাখ্যা

ক্ষারীয় (alkaline) দ্রবণ হলো এমন জলীয় দ্রবণ যার pH ৭-এর উপরে থাকে। যেমন— সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) ইত্যাদি। ক্ষারীয় দ্রবণের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল রঙে পরিবর্তন করে।

​ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
​- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

মৃদু ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়।
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 ইত্যাদি।
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়।

তীব্র ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়।
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৩০.
ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়া কোনটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ক) অ্যামোনিয়া
  2. খ) ন্যাপথলিন
  3. গ) নিশাদল
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন - 
নিশাদল (NH4Cl), 
• কর্পূর (C10H16O), 
ন্যাপথলিন (C10H8), 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), 
আয়োডিন (I2), 
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,০৩১.
হেনরি বেকরেল কোন আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?
  1. ক) রঞ্জন রশ্মি
  2. খ) রেডিয়াম
  3. গ) তেজস্ক্রিয়তা
  4. ঘ) কোয়ান্টাম তথ্য
ব্যাখ্যা
১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে তিনি এটি আবিষ্কার করেন। তেজস্ক্রিয়তার একক বেকরেল। উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
২,০৩২.
H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে কোন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে? 
  1. ব্যাপন
  2. প্রস্বেদন
  3. নিঃসরণ
  4. অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,০৩৩.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. বায়োগ্যাস
  3. কয়লা 
  4. তরল পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা
জ্বালানি ও জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপাদিত হয়, সেগুলোকে জ্বালানি বলা হয়। 
- জ্বালানিই তাপশক্তির প্রধান উৎস। 

জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরল পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- এগুলো প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর উচ্চ চাপ ও তাপে পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়।

অন্যদিকে, 
- বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয় কারণ এটি পুনঃনবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎস
- এটি সাম্প্রতিক জৈব পদার্থের পচন থেকে উৎপন্ন হয়, যা স্বল্প সময়ে পুনরায় উৎপাদনযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৩৪.
একটি অণু বা পরমানুর সম্মিলিত চার্জ-
  1. ক) ধণাত্মক
  2. খ) ঋণাত্মক
  3. গ) শূন্য
  4. ঘ) অশূন্য
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়াসের ভেতরে ধণাত্মক চার্জ যুক্ত প্রোটন এবং এর বাইরে ঋণাত্মক চার্জ যুক্ত ইলেকট্রন থাকে বলে একটি অণু বা পরমানুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,০৩৫.
পৃথিবীতে অজৈব যৌগের সংখ্যা কত?
  1. ক) প্রায় ৯০ হাজার
  2. খ) প্রায় ৮০ লক্ষ
  3. গ) প্রায় ৩৯ হাজার
  4. ঘ) প্রায় ১ কোটি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
কার্বনের ক্যাটেনেশন ও জৈব যৌগের সমাণুতার জন্য বর্তমানে আবিষ্কৃত জৈব যৌগের সংখ্যা প্রায় ৮০ লক্ষ। অন্যদিকে অজৈব যৌগের সংখ্যা ১ লাখেরও কম (প্রায় ৯০ হাজার মাত্র)
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,০৩৬.
গ্রাফাইট মূলত ____ এর একটি রুপ।
  1. ক) কার্বন
  2. খ) আর্গন
  3. গ) হ্যালোজেন
  4. ঘ) জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
কার্বন একটি অধাতু। কিন্তু কার্বন এরই অন্য একটি রুপ গ্রাফাইট যা বিদ্যুৎ পরিবাহী।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,০৩৭.
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধানত কোন বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. ফটোইলেকট্রিক প্রক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. নিউক্লিয় ফিউশন
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৩৮.
সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামাল কী?
  1. ক) মাইকা
  2. খ) ম্যাগনেটাইট
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয় জিপসাম (CaSO4.2H2O)। এছাড়া-

• মাইকা - বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
• ম্যাগনেটাইট - লোহা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
• কোয়ার্টজ - কাচ, সিরিচ কাগজ, রেডিও বা ঘড়িতে ব্যবহৃত হয়। 

সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
২,০৩৯.
জৈব যৌগের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়
  2. নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়
  3. জৈব যৌগ পানিতে অদ্রবণীয়
  4. বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ সুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ বিশ্লেষ্য না হওয়ায় বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ সুপরিবাহী নয় বরং অপরিবাহী। 

• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
উদাহরণ:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3-OH), অ্যানিলিন (C6H5-NH2) ইত্যাদি।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
- জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
- জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
- জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪০.
জীবাশ্ম জ্বালানির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো—
  1. ক্লোরিন-সমৃদ্ধ
  2. সোডিয়াম-সমৃদ্ধ
  3. সিলিকন-সমৃদ্ধ
  4. কার্বন-সমৃদ্ধ
ব্যাখ্যা

◉ জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, টার স্যান্ড, অয়েল শেল ইত্যাদি) জৈব উৎস থেকে গঠিত হাইড্রোকার্বন; তাই এদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো কার্বন-সমৃদ্ধতা।

জীবাশ্ম জ্বালানি:
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 

• জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস, ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

২,০৪১.
মোমবাতির দহন-
  1. ক) ভৌত পরিবর্তন
  2. খ) রাসায়নিক পরিবর্তন
  3. গ) উভয়টি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মােম হলাে বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলাে হাইড্রোকার্বন।
মােমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলাে তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। ঐ তরল মােম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়।
অতএব ঐ বাষ্পীয় মােম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলােএবং তাপ উৎপন্ন করে এটা রাসায়নিক পরিবর্তন।
অন্যদিকে তরল মােমের কিছু অংশ ঠাণ্ডা হলে কঠিন মােমে পরিণত হয় এটা ভৌত পরিবর্তন।
২,০৪২.
নিচের কোনটির কারণে ঘোলা চুনের পানিকে স্বচ্ছ দেখায়?
  1. CaCO3
  2. Ca(HCO3)2
  3. Ca2CO3
  4. NaHCO3
ব্যাখ্যা

এদ্রবণীয় CaCO3 এর সাথে CO2 ও H20 বিক্রিয়া করে দ্রবণীয় Ca(HCO3)2 উৎপন্ন করার কারণে ঘোলা চুনের পানিকে স্বচ্ছ দেখায়।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি মাধ্যমিক রসায়ন। 

২,০৪৩.
হাইড্রোজেন পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াসের প্রকৃত ভর কত?
  1. ক) ১.৬৭ x ১০-২৮ গ্রাম
  2. খ) ০
  3. গ) ১.৬৭ x ১০-২৪ গ্রাম
  4. ঘ) ১
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১। একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত নিউক্লিয়াসে তাই প্রোটন থাকে ১টি এবং কোনো নিউট্রন থাকে না।
তাই হাইড্রোজেন পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াসের ভর হলো একটি প্রোটনের ভর। প্রোটনের ভর তথা প্রকৃত ভর হলো ১.৬৭ x ১০-২৪ গ্রাম। প্রোটনের আপেক্ষিক ভর ১।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,০৪৪.
কোনটি জারণ প্রক্রিয়া?
  1. অক্সিজেন লাভ করা
  2. হাইড্রোজেন লাভ করা
  3. ইলেকট্রন লাভ করা
  4. প্রোটন লাভ করা
ব্যাখ্যা

◉ জারণ (Oxidation) প্রক্রিয়া মূলত ইলেকট্রন হারানো বা অক্সিজেন গ্রহণ করার সাথে সম্পর্কিত।

জারণ:
পুরাতন ধারণা অনুসারে, কোন মৌল বা যৌগের সাথে অক্সিজেনের সরাসরি সংযোগ বিক্রিয়াকে জারণ বলে। যেমন,

ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুসারে, যে প্রক্রিয়ায় কোন মৌল, আয়ন বা পরমাণুপূঞ্জের (রেডিক্যাল) তড়িৎ ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি পায় তাকেই জারণ বলা হয়। ইলেকট্রন আদান-প্রদান মতবাদের সাহায্যে এই তড়িৎ মাত্রার পরিবর্তন ব্যাখ্যা দেয়া যায়। আমরা জানি যে প্রতিটি ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধান বহন করে।
- তাই ইলেকট্রন অপসারণ বা বিতাড়নের ফলে তড়িৎ ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ ধনাত্মক আধান হ্রাস পায়।
- অতএব কোন পরমাণু, আয়ন বা পরমাণুপুঞ্জ (রেডিক্যাল) থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে তড়িৎ ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ-ঋনাত্মক আধান হ্রাসের প্রক্রিয়াকে জারণ বলা হয়। যেমন, ক্লোরিন দ্বারা FeCl2 এর FeCl3 এ রূপান্তর বিক্রিয়াটি একটি জারণ বিক্রিয়া।

অন্যদিকে, বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং হাইড্রোজেনের সংযোগ ঘটে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৪৫.
স্বর্ণের সাথে কোন ধাতু মিশিয়ে গয়না টেকসই করা হয়? 
  1. আয়রন
  2. রূপা 
  3. কার্বন 
  4. ক্রোমিয়াম 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন-
বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না, স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
• আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৪৬.
বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিডের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. বর্ণহীন তরল পদার্থ
  2. আয়নিত নয়
  3. পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না
  4. হাইড্রোজেন আয়ন অনুপস্থিত থাকে
ব্যাখ্যা
• বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিড পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে। 

• এসিড:
-  যে সব পদার্থ পানিতে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তৈরি করে তাদেরকে এসিড বলা হয়। 

• উদাহরণ:
সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড।

• এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
-  অ্যাসিড টক স্বাদযুক্ত। 
- নীল লিটমাসকে লাল করে।
- ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- মৃদু এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হলেও তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়। 

• বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড বর্ণহীন তরল পদার্থ। যৌগ দুটি আণবিক অবস্থায় থাকে।
- এরা আয়নিত নয় বলে অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়ন অনুপস্থিত।
- এই কারণে বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড এসিডের ধর্ম প্রদর্শন করে না এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
- এই এসিডগুলোকে শুধু পানিতে দ্রবীভূত করলেই হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে।
- ফলে তখন এরা এসিডের ধর্ম প্রদর্শন করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে। 


H2SO4 (l) + পানি → H2SO4(aq)
H2SO4 (aq) → 2H+ (aq) + SO42-(aq)
অনুরূপভাবে,
HNO3 (l) + পানি →  HNO3(aq)
HNO3(aq) →  H+ (aq) + NO3- (aq)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,০৪৭.
তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ΔH ধনাত্মক
  2. ΔH ঋণাত্মক
  3. ΔH শূন্য
  4. তাপ শোষণ করে
ব্যাখ্যা

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য হলো ΔH ঋণাত্মক।

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় তাপ‌ উৎপন্ন হয়,তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলে।

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার উদাহরণ:
N2 (g)  + 3H2 (g) ⇔ 2NH3 (g) + 92 kJ

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- তাপের নির্গমন: বিক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়।
- তাপমাত্রার প্রভাব:  বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে)।
- এনথালপি পরিবর্তন (ΔH):  তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔH ঋণাত্মক (ΔH < 0), কারণ বিক্রিয়া থেকে শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

২,০৪৮.
নিচের কোন মৌল ক্ষার ধাতুর উদাহরণ? 
  1. রূপা (Ag)
  2. ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
  3. সোনা (Au)
  4. সোডিয়াম (Na)
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রুপা (Ag) ও সোনা (Au)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৯.
রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানোকে বলা হয় -
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. ভলকানাইজিং
  3. গ্যালভানাইজিং
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রোপ্লেটিং:
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলা হয়।
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়।

• গ্যালভানাইজিং:
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়।

• ভলকানাইজিং:
- রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানোকে ভলকানাইজিং বলে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৫০.
চুলের pH এর মান কত এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৫.২
  3. গ) ৫.৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর মান ৫.৫।
- ত্বকের pH এর মান ৫.৫ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- ত্বকের pH এর মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়।
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল। এর pH এর মান হলো ৫.০।
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH এর মান ৫.৫ এর কাছাকাছি থাকাই উচিত।
- চুলের pH এর মান ৬ এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৫১.
কোনটি অজৈব যৌগ?
  1. CH4
  2. C6H5NH2
  3. Na2CO3
  4. CH3OH
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ:
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।
যেমন: মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৫২.
কোন লোহায় বেশি পরিমাণ কার্বন থাকে?
  1. ক) কাস্ট আয়রন বা পিগ আয়রন
  2. খ) রট আয়রন
  3. গ) ইস্পাত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন/স্টেইনলেস স্টিল (ইস্পাত) প্রস্তুত করা হয়।
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে।
- কাস্ট আয়রন বা পিগ আয়রনে ২ থেকে ৪% কার্বন থাকে।
- ইস্পাতে ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা। 
২,০৫৩.
পারদ তাপ____
  1. ক) অপরিবাহী
  2. খ) সুপরিবাহী
  3. গ) পরিবাহী
  4. ঘ) কুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
যে সমস্ত পদার্থের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ সহজে পরিবাহিত হয় তাকে পরিবাহী বলে।
যেমন রূপা, লোহা, তামা, পারদ ইত্যাদি ধাতু বা গলিত ধাতু, লবণ, ক্ষার, এসিড বা এদের দ্রবণ।
সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবহনের পদ্ধতি এক নয়।

তড়িৎ পরিবহণের পদ্ধতির ভিত্তিতে মাধ্যমকে দু'ভাগে ভাগ করা যায় ।
ক) ইলেকট্রোনীয় বা ধাতব পরিবাহী (তড়িৎ অবিশ্লেষ্য)
খ) ইলেকট্রোলাইটিক বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী

উৎস : রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৫৪.
প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে? 
  1. ২ টি
  2. ৮ টি
  3. ১৮ টি
  4. ৩২ টি
ব্যাখ্যা
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
এ সূত্রানুসারে, 
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 হলে, 
∴ K শেল অর্থাৎ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 
= ( 2 x 12) টি 
= 2 টি। 
প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = ২টি। 
- এভাবে প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৫৫.
সাবানের তুলনায় ডিটারজেন্টের প্রধান সুবিধা কোনটি?
  1. কম ফেনা তৈরি করে
  2. সহজে নষ্ট হয়
  3. খর পানিতেও কাজ করে
  4. লবণের সাথে বিক্রিয়া করে
ব্যাখ্যা

- সাবান খর পানিতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় তলানি (স্কাম) তৈরি করে, যার ফলে সাবান সহজে ফেনা তৈরি করতে পারে না এবং অপচয় হয়। কিন্তু ডিটারজেন্ট খর পানির এই আয়নগুলোর সাথে কোনো অদ্রবণীয় পদার্থ তৈরি করে না এবং খর পানিতেও চমৎকার ফেনা তৈরি করে কাপড় দ্রুত পরিষ্কার করতে পারে। এটিই সাবানের তুলনায় ডিটারজেন্টের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান সুবিধা। 

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৫৬.
কোনটি তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ?
  1. ক) পানি
  2. খ) লবণ
  3. গ) চিনি
  4. ঘ) ইথানয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
যে সকল পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অন্য পদার্থে পরিণত হয় তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
যেমনঃ কপার সালফেট, সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম ক্লোরাইড, পানি, ইথানয়িক এসিড ইত্যাদি।
সব পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে সমস্ত পদার্থ দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে না ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়াও করে না, তাদের তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
যেমনঃ চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি এবং রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
২,০৫৭.
ড্রাই সেলে ক্যাথোড হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. লৌহ দণ্ড
  2. জিংক দণ্ড
  3. কার্বন দণ্ড
  4. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
• ড্রাই সেলে ক্যাথোড হিসেবে কার্বনের দণ্ড ব্যবহার করা হয়।

• ড্রাই সেল:

- ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ হলো এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ। 

• ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 
- সাধারণত টর্চলাইট জ্বালাতে, রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, খেলনা চালাতে ড্রাই সেল ব্যবহার করা হয়।
 
• ড্রাই সেলের গঠন:
- ড্রাই সেল অ্যানোড এবং ক্যাথোড দ্বারা গঠিত।
- ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে সাধারণত ধাতব জিংকের তৈরি ছোট কৌটা ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড NH4Cl জিংক ক্লোরাইড (ZnCl2) ও পাতিত পানি মিশ্রিত করে প্রস্তুতকৃত কাই (paste) দ্বারা জিংকের তৈরি ছোট কৌটা পূর্ণ করা হয়।
- এরপর জিংকের কৌটাটির মাঝখানে একটি কার্বন (গ্রাফাইট) দণ্ড প্রবেশ করানো হয়।
- ড্রাই সেলে কার্বন দণ্ড ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- ড্রাই সেলের অ্যানোড ও ক্যাথোড প্রান্তকে যদি বাল্ব বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের দুই প্রান্তে যুক্ত করা হয় তখন ইলেকট্রনের প্রবাহ সৃষ্টি হয় অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

• ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে জিঙ্ক এবং ক্যাথোড হিসেবে কার্বন দণ্ড ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,০৫৮.
খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ভিনেগার
  2. খ) এন্টিবায়োটিক
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগার  ব্যবহৃত হয়। 

- ভিনেগার হল অ্যাসিটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইথানলের গাঁজন দ্বারা উত্পাদিত একটি অ্যাসিডিক তরল।
- এটি শুধুমাত্র তার স্বাদের গুণাবলীর জন্যই নয় বরং এর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের জন্যও রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
- ভিনেগারকে অ্যাসিটিক অ্যাসিড (Acetic Acid) বলা হয় এবং এর সংকেত (CH3-COOH).
- খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণেও রসায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। বিভিন্ন রকম খাদ্য যেমন- চিপস, গুড়াদুধ,প্রক্রিয়কৃত মাছ, মাংশ ইত্যাদি কৌটায় বা - প্যাকেটজাত করে সংরক্ষণ ও বাজারজাত করার জন্য প্রয়োজন হয় নানা রকমের রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেমন- আচার, সস ইত্যাদি সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহৃত হয়।
- তাছাড়া কৃত্রিম খাদ্য উৎপাদন, যেমন- মাখনের পরিবর্তে মার্জারিন, চিনির পরিবর্তে স্যাকারিন ইত্যাদি প্রস্তুতিতেও রয়েছে রসায়নের ভূমিকা এবং এরা সবই রাসায়নিক দ্রব্য।

সূত্র: ৯ পৃষ্ঠা, রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৫৯.
কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরির উপকরণ কী?
  1. কয়লা
  2. গ্রাফাইট
  3. হীরক
  4. লেড
ব্যাখ্যা
• হীরক ধাতু: 
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক। 
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়। 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৬০.
কাচ পরিষ্কার করার জন্য কি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) এমোনিয়াম হাইড্রক্সাইড
  2. খ) সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
এমোনিয়াম হাইড্রক্সাইড কাচ পরিষ্কার,সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড টয়লেট ক্লিন এবং ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড পান খাওয়ার চুন বা দেওয়ালে চুনকাম করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,০৬১.
নিচের কোনটি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় একটি দ্রব?
  1. সিলভার ব্রোমাইড
  2. সিলভার ক্লোরাইড
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. সিলভার আয়োডাইড
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব। 
একইভাবে, 
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং 
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন- 
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl)
সিলভার ব্রোমাইড (AgBr)
সিলভার আয়োডাইড (AgI)
• সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), 
• ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3), 
• ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), 
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), 
• ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2
• লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- 
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)
• সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), 
• পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCI), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3), 
• অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4CI), 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬২.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন-
  1. ক) অপরিবর্তিত থাকবে
  2. খ) বৃদ্ধি পাবে
  3. গ) শূন্য হবে
  4. ঘ) ঋণাত্মক হবে
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা: যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -২৭৩°C ।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,০৬৩.
মুক্তার রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে -
  1. ক) কনকিওলিন
  2. খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. গ) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা

মুক্তা বা মতি এক ধরনের রত্ন বিশেষ, যা শম্বুক জাতীয় প্রাণী ঝিনুকের অভ্যন্তরে তৈরি হয়। তবে সব ঝিনুকে মুক্তা থাকে না।
মাসল শ্রেণির ঝিনুকের পেটে মুক্তা হয়। এর রাসায়নিক উপাদান হলো কনকায়োলিন ক্যালসাইট এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
খাওয়ার সময় ঝিনুক যখন তার খোলস ফাঁক করে তখন যদি বালুর কণা বা অন্য কোনো কঠিন পদার্থের চূর্ণ তার দেহের মধ্যে ঢুকে যায় এবং চেষ্টা সত্ত্বেও সেটি বের করতে না পারে, তখন এই কণাটির জন্য ঝিনুকের দেহে প্রদাহ বা জ্বলনের সৃষ্টি হয়। তখন ঝিনুকের অঙ্গ থেকে সাদা ঘন আঠালো রস ক্ষরিত হয়ে বহিরাগত কণাটিকে বেষ্টন করে স্তরে স্তরে জমাট বাঁধতে থাকে। এই কঠিন জমাট বস্তুটিই ধীরে ধীরে মুক্তায় রূপান্তরিত হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaC03
এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খােলস,শামুক,ডিমের খােসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণির বোর্ড বই ও রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,০৬৪.
কোনটি অর্ধ-পরিবাহী (Semi-conductor) নয়?
  1. লোহা
  2. সিলিকন
  3. জার্মেনিয়াম
  4. গ্যালিয়াম
ব্যাখ্যা
১. পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়। যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায় ১০-৮ Ωm ক্রমের।
- রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক।

২. অপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহী বলে। যেমন- কাচ, কাঠ, রাবার, প্লাস্টিক ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ।
- অপরিবাহী পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা খুব কম এবং আপেক্ষিক রোধের মান অত্যন্ত বেশি।

৩. অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। যেমন জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্তরকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। এদের আপেক্ষিক রোধ ১০-৪ Ωm থেকে ১০-২ Ωm ক্রমের।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৫.
জৈব যৌগ নামকরণের পদ্ধতির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. উদ্ভূত পদ্ধতি
  2. ডেকেন পদ্ধতি
  3. ট্রিভিয়াল পদ্ধতি
  4. ইউপ্যাক (IUPAC) পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

• জৈব যৌগের নামকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে “উদ্ভূত পদ্ধতি” হলো সেই পদ্ধতি যেখানে যৌগটির নাম স্বাভাবিক বা সাধারণ ব্যবহারের সূত্রে তৈরি হয়। “ডেকেন পদ্ধতি” একটি সুনির্দিষ্ট বা প্রচলিত নামকরণের পদ্ধতি নয়; এটি রাসায়নিক সাহিত্যে ব্যবহৃত কোনো স্বীকৃত নামকরণ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। “ট্রিভিয়াল পদ্ধতি” হলো যৌগটির প্রচলিত বা সাধারণ নাম ব্যবহার করার পদ্ধতি। অন্যদিকে, “ইউপ্যাক (IUPAC) পদ্ধতি” হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, বৈজ্ঞানিক ও মানসম্মত নামকরণের পদ্ধতি। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে জৈব যৌগের নামকরণের স্বীকৃত পদ্ধতির সঙ্গে “ডেকেন পদ্ধতি” অন্তর্ভুক্ত নয়।

• জৈব যৌগ:
-  হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে। হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতক সমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 

•  জৈব যৌগের নামকরণের ক্ষেত্রে সার্বজনিনভাবে কিছু বিধি বিধান অনুসরণ করা হয়।

• বর্তমানে প্রচলিত তিনটি পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণ করা হয়। যথা-
- সাধারণ বা ট্রিভিয়াল পদ্ধতি (Common or trivial system)
- উদ্ভূত বা জাত পদ্ধতি (Derived system)
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা জেনেভা পদ্ধতি বা ইউপ্যাক পদ্ধতি (International system or Genava system or
IUPAC system) .

অন্যদিকে,
• ডেকেন কোন নামকরণ পদ্ধতি নয়। এটি একটি উচ্চতর অ্যালকেন। এর সংকেত হলো C10H22

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৬৬.
স্থূল সংকেত কী নির্দেশ করে?
  1. মৌলের আকার ও পরিমাণ
  2. মৌলের রাসায়নিক সূত্র
  3. মৌলের আয়নিক সংখ্যা
  4. মৌলের ভর
ব্যাখ্যা

• স্থূল সংকেত মূলত মৌলের আকার ও পরিমাণ বা ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে, যেমন কঠিন, তরল বা গ্যাস।

• সংজ্ঞা:
- স্থূল সংকেত হলো একটি রাসায়নিক প্রতীক বা চিহ্ন, যা মৌলের ভৌত অবস্থার (physical state) তথ্য প্রদর্শন করে।
- এটি মূলত দেখায় যে কোনো মৌল কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় অবস্থায় আছে।
- স্থূল সংকেত রাসায়নিক সূত্রের অংশ নয়, বরং ভৌত বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

• বৈশিষ্ট্য:
- মৌলের আকার, পরিমাণ ও অবস্থার পরিবর্তন বোঝায়।
- এটি রাসায়নিক ধর্ম বা আয়নিক সংখ্যা নয়, শুধুমাত্র ভৌত অবস্থার তথ্য দেয়।
- ব্যবহারকারীরা সহজে বুঝতে পারে মৌল কোন অবস্থায় রয়েছে।

• উদাহরণ:
- H2O(l) → l নির্দেশ করে জল তরল অবস্থায় আছে।
- Na(s) → s নির্দেশ করে সোডিয়াম কঠিন অবস্থায় আছে।
- O2(g) → g নির্দেশ করে অক্সিজেন গ্যাসীয় অবস্থায় আছে।
- Hg(l) → l নির্দেশ করে পারদ তরল অবস্থায় আছে।

• ব্যবহার:
- ল্যাবরেটরিতে রসায়নী সঠিকভাবে কাজ করার জন্য।
- রিপোর্ট, বই বা সূত্রে স্পষ্ট নির্দেশনার জন্য।
- ভৌত অবস্থার চিহ্ন না থাকলে, অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৬৭.
পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে কোন অবস্থার পদার্থের প্রাধান্য বেশি? 
  1. কঠিন 
  2. গ্যাসীয় 
  3. প্লাজমা 
  4. তরল 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়, তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়নিত হয়। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,০৬৮.
কোনটি পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা?
  1. আলফা কণিকা
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রিনো
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
পরমাণু ও পরমাণুর মূল কণিকা:

• মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে।
• প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। যেমন: H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়।
- যে সকল ক্ষুদ্র কণা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলে।
- পরমাণুর মূল কণিকা তিন প্রকার। যথা: 

১. স্থায়ী মূল কণিকা: যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

২. অস্থায়ী মূল কণিকা: যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়।

৩. কম্পোজিট কণিকা: স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
২,০৬৯.
কয়লা কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. অজৈব পদার্থ 
  2. জৈব পদার্থ
  3. ধাতব পদার্থ 
  4. প্লাস্টিকজাত পদার্থ 
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কাণ্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে, মাটির নিচে পাতা ও কাণ্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
- জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
যেমন- কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৭০.
অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কী বলে?
  1. চুন
  2. সেভিং সোপ
  3. ফিটকিরি
  4. কস্টিক সোডা
ব্যাখ্যা
- অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা 'ফিটকিরি' বলে যার রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 

পটাশ অ্যালাম: 
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ। 
- পটাশ অ্যালাম সাধারণ মানুষের কাছে ফিটকিরি নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭১.
লাল লিটমাস কাগজ নীল রঙ ধারণ করে যখন দ্রবণের pH মান হয়- 
  1. 5 এর নিচে
  2. 7 এর নিচে
  3. 7 এর উপরে
  4. 7 এর সমান
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H] 

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন বা নিরপেক্ষ হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭২.
pH-স্কেলে মান কমতে থাকলে নিচের কোন বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পায়?
  1. ক্ষারধর্মিতা
  2. আয়নিক ঘনত্ব
  3. লবণাক্ততা
  4. অম্লীয়তা
ব্যাখ্যা

পিএইচ মান যত কম হয় (অর্থাৎ ৭ থেকে ০-এর দিকে যায়), হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্ব তত বেশি হয়, এবং দ্রবণটির অম্লতা তত বাড়ে।

pH:
- পিএইচ (pH) স্কেল হল কোনো জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H⁺) ঘনত্বের উপর ভিত্তি করে দ্রবণটির অম্লতা বা ক্ষারত্ব পরিমাপের একটি পদ্ধতি।
- স্কেলটির ব্যাপ্তি সাধারণত ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত হয়।
- এই স্কেলে ৭ হলো নিরপেক্ষ (Neutral) অবস্থা।
- ৭ এর কম মানগুলো অম্লীয় (Acidic) অবস্থাকে নির্দেশ করে।
- ৭ এর বেশি মানগুলো ক্ষারীয় (Alkaline or Basic) অবস্থাকে নির্দেশ করে।
- এসিডের পরিমাণ যত বাড়বে, pH-এর মান তত কমে। অন্যদিকে ক্ষারের পরিমাণ যত বাড়ে, pH-এর মানও তত বাড়ে।
- অম্লীয় দ্রবণ (Acidic Solution) এর উদাহরণ হলো লেবুর রস, ভিনেগার এবং হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।
- ক্ষারীয় দ্রবণ (Basic or Alkaline Solution) এর উদাহরণ হলো সাবান, অ্যামোনিয়া এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড।
- নিরপেক্ষ দ্রবণ (Neutral Solution) এর আদর্শ উদাহরণ হলো বিশুদ্ধ পানি।
- নদ-নদী, খালবিল ইত্যাদির জন্য pH-এর মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণত নদ-নদীর পানি ক্ষারীয় হয়।
- গবেষণা করে দেখা গেছে, নদ-নদীর পানির pH যদি ৬-৮ এর মধ্যে থাকে, তাহলে সেটা জলজ উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য কোনো অসুবিধার সৃষ্টি করে না।
- তবে pH-এর মান যদি এর চাইতে কমে যায় বা বেড়ে যায়, তাহলে ঐ পানিতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী আর উদ্ভিদের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
- পানিতে এসিডের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে, অর্থাৎ pH-এর মান খুব কমে গেলে জলজ প্রাণীদের দেহ থেকে ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ বাইরে চলে আসে, যার ফলে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হতে শুরু করে।

উৎস:
১। বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

২,০৭৩.
প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- 
  1. কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে 
  2. তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে 
  3. কঠিন ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে 
  4. কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে 
ব্যাখ্যা

প্যাসকেলের সূত্র:  
- প্যাসকেলের সূত্র (Pascal's Law) হলো পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি যা তরলের গতিবিদ্যা (fluid dynamics) এর অন্তর্গত।
- এই সূত্রটি প্রথম ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেজ প্যাসকেল প্রস্তাব করেছিলেন।
- প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- বায়বীয় ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে

প্যাসকেলের সূত্রটি নিম্নরূপ: 
- "কোনো আবদ্ধ তরলের মধ্যে চাপের পরিবর্তন হলে, সেই পরিবর্তনটি তরলের সব দিকেই সমানভাবে সঞ্চারিত হয়"।
- এই সূত্রটি গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায়-
P = F/A
এখানে,
- P হলো চাপ (Pressure),
- F হলো বল (Force),
- A হলো ক্ষেত্রফল (Area).

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৭৪.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) ক্লিংকার
  2. খ) অ্যামোনিয়া
  3. গ) অপরিশোধিত তেল
  4. ঘ) মিথেন গ্যাস
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলি জমিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- এর প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে কাজকে গাঢ় সবুজ রং প্রদান করে থাকে।
- কুশি বরসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক কৃষি শিক্ষা বোর্ড বই।

২,০৭৫.
সমুদ্রে লবণের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ২.৫% - ৩.৫%
  2. ৬.৫% - ৭.৫%
  3. ৪.৫% - ৫.৫%
  4. ৫.৫% - ৬.৫%
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি।
সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।
২,০৭৬.
নিম্নের চারটির মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) পিতল
  2. খ) তামা
  3. গ) লোহা
  4. ঘ) টিন
ব্যাখ্যা
পিতল একটি সংকার ধাতু যা তামা ও দস্তার সমন্বয়ে গঠিত। 
তামা, লোহা ও টিন মৌলিক ধাতু।
২,০৭৭.
একটি পরমাণু ইলেকট্রন দান করলে তার জারণ সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. শূন্য
  2. ঋণাত্মক
  3. ধনাত্মক
  4. অসীম
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা (Oxidation Number): 
- মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ বা দানের মাধ্যমে আয়নে পরিণত হয়। 
- পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় এবং বিপরীতভাবে এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- কোনো পরমাণু যত সংখ্যক ইলেকট্রন দান করে তত ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহন করে তত ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয়। 
- যৌগের মধ্যে কোন মৌলের জারণ সংখ্যা মৌলটির পরমাণুকে মুক্ত অবস্থা থেকে যৌগের অণুর মধ্যে যে অবস্থায় বর্তমান সে অবস্থায় পরিণত করতে কী পরিমাণ জারণ বা বিজারণ প্রয়োজন তা নির্দেশ করে। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যদি জারণের প্রয়োজন হয় তবে জারণ সংখ্যা হবে ধনাত্মক। 
- বিজারণের প্রয়োজন হলে জারণ সংখ্যা হবে ঋণাত্মক। 
- মুক্ত অবস্থায় থাকা মৌলের অণু বা পরমাণুর জারণ সংখ্যাকে শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- Na, K, Fe, O2, H2, N2, P4, S8, ইত্যাদি অণুতে স্ব স্ব পরমাণুর জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭৮.
কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের কত গুণ?
  1. ক) ৫ গুণ
  2. খ) ৪ গুণ
  3. গ) ৩ গুণ
  4. ঘ) ২ গুণ
ব্যাখ্যা
বাষ্প ঘনত্ব:
একই উষ্ণতা এবং চাপে নির্দিষ্ট আয়তন কোনো গ্যাসের ওজন সম আয়তন হাইড্রোজেন গ্যাসের ওজন এর যত গুণ সেই গুণিতক সংখ্যাকে গ্যাসের বাষ্প ঘনত্ব বলে।
বাষ্প ঘনত্বকে 'D' দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের দ্বিগুণ।
গ্যাসের আণবিক গুরুত্ব (M) = 2 × গ্যাসটির বাস্প ঘনত্ব (D)
বা, M = 2D

উদাহরণ: কার্বন ডাই অক্সাইড এর বাষ্প ঘনত্ব 22, সুতরাং, এর আণবিক গুরুত্ব = 2 × 22 = 44.
২,০৭৯.
নিচের কোনটি মুদ্রা ধাতুর উদাহরণ? 
  1. লিথিয়াম 
  2. সোডিয়াম 
  3. কপার 
  4. ক্যালসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌলকে (লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম, সিজিয়াম এবং ফ্রানসিয়াম) ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষারধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে অবস্থিত 6 টি (বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, বেরিয়াম এবং রেডিয়াম) মৌলকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।  
- এই ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- এরা ক্ষার তৈরি করে, এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর 4 টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম। 
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম 3 টি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম (Rg) ছাড়া অন্য যে 3 টি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৮০.
গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী
  2. স্বচ্ছ স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ
  3. তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
  4. তেজস্ক্রিয়তা
ব্যাখ্যা
• গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য হলো এটি তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 

• গ্রাফাইট:
- গ্রাফাইট হল কার্বনের একটি রূপ। এটি কার্বনের একটি অ্যালোট্রোপ। 

• গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য:
- গ্রাফাইট বিদ্যুৎ ও তাপের সুপরিবাহী।
- এটি অস্বচ্ছ স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ। 
- গ্রাফাইট খুব নরম এবং পিচ্ছিল।
- গ্রাফাইট রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল।
- গ্রাফাইটের গলনাঙ্ক উচ্চ (প্রায় ৩৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
- স্বাভাবিক অবস্থায় কার্বনের সবচেয়ে স্থিতিশীল রূপ।
- গ্রাফাইটের স্তরযুক্ত গঠন এর ইলেকট্রনগুলোকে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যেতে সাহায্য করে, ফলে বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
২,০৮১.
নিচের কোনটিতে অক্সালিক এসিডের উপস্থিতি রয়েছে? 
  1. ক) আমলকীতে 
  2. খ) আপেলে
  3. গ) টমেটোতে
  4. ঘ) তেঁতুলে
ব্যাখ্যা

অক্সালিক অ্যাসিড একটি জৈব যৌগ। এটি সাদা স্ফটিকাকার শক্ত পদার্থ এবং পানিতে বর্ণহীন দ্রবণ তৈরি করে। 
এটি অনেক খাদ্যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়, তবে অধিক মাত্রায় অক্সালিক অ্যাসিড গ্রহণ বা দীর্ঘাদিন ত্বকের সংস্পর্শে আসলে তা বিপজ্জনক হতে পারে।
যেমন-
টমেটোতে অক্সালিক এসিড পাওয়া যায়। 
কমলা, আঙ্গুর, লেবু- সাইট্রিক এসিড
তেঁতুল- টারটারিক এসিড
টমেটো- অক্সালিক এসিড
আমলকী - এসকরবিক এসিড
আপেল, আনারস- ম্যালিক এসিড 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি

২,০৮২.
PVC এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) Polymer-V Carbon
  2. খ) Polymer-V Chloride
  3. গ) Polyvinyl Chloride
  4. ঘ) Polyvinyl Carbon
ব্যাখ্যা
PVC এর সংকেত CH2=CHCl
PVC এর পূর্ণ নাম - পলিভিনাইল ক্লোরাইড।
এটি শক্ত, কঠিন ও পলিথিনের তুলনায় কম নমনীয়। 
পানির পাইপ ও বিদ্যুৎ ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
২,০৮৩.
পরমাণুর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক? 
  1. এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে
  2. এটি একটি যৌগ
  3. এটি স্বাধীনভাবে সব সময় থাকে
  4. এটি দুই বা তার অধিক পরমাণুর সংযোগে গঠিত হয়
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
- পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
- সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
- পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৮৪.
একই মৌলের একাধিক পরমাণুর সংযোগে কোন ধরনের অণু গঠিত হয়? 
  1. যৌগের অণু 
  2. মৌলের অণু 
  3. আয়নিক অণু 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

পরমাণু ও অণু (Atoms and Molecules): 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। যেমন- O2। 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। যেমন-CO2 । 

উৎস:
রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৮৫.
পঁচা ডিমের গন্ধযুক্ত গ্যাস কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম সালফাইড
  2. খ) হাইড্রোজেন সালফাইড
  3. গ) মিথেন
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S), সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) ইত্যাদি পঁচা ডিমের গন্ধযুক্ত গ্যাস।

হাইড্রোজেন সালফাইড:
- এটি একটি রাসায়নিক যৌগ।
- এর রাসায়নিক সংকেত H2S।
- ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল উইলহেম শিলি হাইড্রোজেন সালফাইড আবিষ্কার করেন।
- এটি বর্ণহীন গ্যাস।
- এতে রয়েছে পচা ডিমের গন্ধ।
- সাধারণ প্রাকৃতিক বাতাসের থেকে এই গ্যাস একটু ভারি।
- জীবের জন্য এই গ্যাস বিষাক্ত।

সূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং PubChem

২,০৮৬.
কোন বিক্রিয়াটিতে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ইস্পাতকে চুম্বকে পরিণত করলে
  2. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হওয়া
  3. পানিতে চুন যোগ করলে
  4. পানিতে খাদ্য লবণ যোগ করলে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) পানিতে চুন যোগ করলে

চুনকাম এবং তাপ সৃষ্টি
- বিল্ডিং-এ যখন রং করা হয় তখন সবার আগে চুনকাম করা হয়।
- বড় একটি পাত্রের মধ্যে পানি নিয়ে ধীরে ধীরে চুনের বড় বড় টুকরা ঢেলে দেওয়া হয়।
- পানিতে চুন গলতে থাকে এবং পানির তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
- একসময় পানি ফুটতে থাকে। এক্ষেত্রে চুনের সাথে পানির বিক্রিয়ায় তাপের সৃষ্টি হয়েছে।
- রাসায়নিক সমীকরণ: CaO (s) + H₂O (l) → Ca(OH)₂ + তাপ
- তাই এখানে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে। 

ভৌত পরিবর্তন (Physical Change)
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না।
- অর্থাৎ এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে।
- উদাহরণ ১: একখন্ড ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করাতে থাকলে এটি এক সময় লোহাকে আকর্ষণ করার এক বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। এটি অবশ্যই ভৌত পরিবর্তন, কেননা এটি ইস্পাতের অস্থায়ী পরিবর্তন এবং এর ফলে কোনো নতুন অণুর সৃষ্টি হয় না।
- উদাহরণ ২: কিছু পরিমাণ খাবার লবণকে একটি কাঁচের পাত্রে নিয়ে পানি যোগ করে দ্রবণ তৈরী কর। এ দ্রবণকে বিকারে নিয়ে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়। কঠিন অবশেষ হিসেবে লবণ পাওয়া যায়। কঠিন অবস্থায় বা দ্রবীভূত অবস্থায় উপাদানসমূহের গঠন ও সংযুক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। সুতরাং এটিও ভৌত পরিবর্তন।
- উদাহরণ ৩: পরীক্ষাগারে অল্প পরিমাণ অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডকে তাপ দিলে তা বাষ্পীভূত হয়ে নলের শীতল অংশে জমা হয়। এটিও ভৌত পরিবর্তন। এ পরিবর্তনে নতুন কোনো উপাদানের সৃষ্টি হয় না, শুধু অবস্থার পরিবর্তন ঘটে মাত্র।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৮৭.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ - 
  1. লাল লিটমাসকে নীল করে
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. নীল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. নীল লিটমাসকে সবুজ করে
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৮৮.
কোন দ্রবণের pH মান 7 এর কম হলে লিটমাস পেপার কোন রং ধারণ করে?
  1. ক) নীল
  2. খ) হলুদ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
pH মান জানার জন্য সাধারণত ইউনিভার্সাল ইন্ডিকেটর, pH পেপার বা pH মিটার ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,০৮৯.
কোনটি জৈব যৌগ নয়? 
  1. CH4
  2. Na2CO3
  3. CH3OH
  4. C6H5NH2
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ: 
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। 
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে। 
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। 
যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি। 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে। 
যেমন- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯০.
সালফারের যোজনী নয় কোনটি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ একে অপরের সাথে সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ অথবা ভাগাভাগির মাধ্যমে অণু গঠন করে। অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজনী বা যোজ্যতা বলা হয়।

সাধারণত সব সময় হাইড্রোজেনের যোজনী এক (1) ধরা হয়। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলো ঐ পরমাণু বা H পরমাণু বা Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে সেই সংখ্যাই হলো ঐ মৌলের যোজনী বা যোজ্যতা।

কিছু কিছু মৌলের একাধিক যোজনী থাকে। কোনো মৌলের একাধিক যোজনী থাকলে সেই মৌলের যোজনীকে পরিবর্তনশীল যোজনী বলা হয়। যেমন: Fe এর পরিবর্তনশীল যোজনী 2 এবং 3।
- সালফারের পরিবর্তনশীল যোজনী ২, ৪, ৬

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি। 
২,০৯১.
টাংস্টেনের ল্যাটিন নাম কোনটি?
  1. Aurum
  2. Wolfram
  3. Ferrum
  4. Kalium
ব্যাখ্যা
- টাংস্টেনের ল্যাটিন নাম  হলো  Wolfram.
- এটি একটি মৌলিক পদার্থ যার চিহ্ন (Symbol) W. 
- এই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৭৪ । 

অন্যদিকে, 
- গোল্ডের ল্যাটিন নাম হলো Aurum.
- আয়রনের ল্যাটিন নাম হলো Ferrum. 
- পটাশিয়ামের ল্যাটিন নাম হলো Kalium.

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২,০৯২.
How many elements are found naturally in nature?
  1. 88
  2. 90
  3. 118
  4. 98
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- এ পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- যার মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- আর বাকী ২০টি কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থ। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থেরই একটি নাম আছে। 
- আর এদেরকে সংক্ষিপ্ত ও সুবিধাজনকভাবে প্রকাশের জন্যই আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। 
- প্রতীক সাধারণত মৌলের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,০৯৩.
মোম-এর মূল উপাদান কী?
  1. হাইড্রোকার্বন
  2. কার্বন
  3. মিথেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
মোমের তিন অবস্থা: 
- মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। 
- হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। 
- মোমের প্রজ্বলনে মোমের কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় এই তিনটি অবস্থাই দেখা যায়। 
- মোম বাতিতে মোমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। অর্থাৎ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হয়। 
- ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়। অতপর ঐ বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে। তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে তা কঠিন মোমে পরিণত হয়। 
- অর্থাৎ তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৯৪.
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নিকেল
  2. খ) জিংক
  3. গ) ক্রোমিয়াম
  4. ঘ) তুঁতে
ব্যাখ্যা

- লোহার তৈরি জিনিসের ওপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে বলা হয় গ্যালভানাইজিং। গ্যালভানাইজিং এর উদ্দেশ্য হলো লোহার জিনিসকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা।
- ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রের ক্ষয় রোধের জন্য তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির সাহায্যে একটি ধাতুর ওপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। সাধারণত নিকেল ব ক্রোমিয়াম ধাতু এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,০৯৫.
অপরিশোধিত তেলকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য নিচের কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) পাতন
  2. খ) কেলাসন
  3. গ) আংশিক পাতন
  4. ঘ) বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়ামের উপাদানসমূহ ও তাদের পৃথকীকরণ:
- পেট্রোলিয়াম সাধারণত 5000 ফুট বা তার চেয়েও গভীরে শিলা স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়।
- পেট্রোলিয়ামের সাথে অনেক সময় প্রাকৃতিক গ্যাস থাকে যা পেট্রোলিয়ামের উপরিভাগে চাপ প্রয়োগ করে।
- কূপ খনন করা হলে এই প্রাকৃতিক গ্যাস পেট্রোলিয়ামকে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগে উঠে আসতে সাহায্য করে।
- যে পেট্রোলিয়াম খনি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বা পেট্রোলিয়াম বলে।
- অপরিশোধিত তেল অস্বচ্ছ কখনো কখনো সালফারের কিছু কিছু যৌগ থাকার কারণে দুর্গন্ধযুক্ত হয়।
- পেট্রোলিয়াম মূলত বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়।
- অপরিশোধিত তেল আংশিক পাতন পদ্ধতিতে স্ফুটনাঙ্কের উপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,০৯৬.
ড্রাই আইস তৈরীতে কোন গ্যাসের প্রয়োজন হয়?
  1. ক) NH2
  2. খ) CO2
  3. গ) H2
  4. ঘ) H2O
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বরফ:

- শুষ্ক বরফ বা ‘ড্রাই আইস' হলো জমাট বা হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
- এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড -78.5°C উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়।
- তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৯৭.
উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবন কে কি বলা হয়?
  1. বেকিং সোডা
  2. কস্টিক পটাশ
  3. গ্রিজ
  4. সাবান
ব্যাখ্যা
সাবান:  সাবান হলো উচ্চতর জৈব এসিডের  (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড)  সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ময়লা ও তেল অপসারণ করে।


• সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া কে বলা হয় স্যাপোনিফিকেশন।
- এ প্রক্রিয়া তে জৈব এসিডের সাথে ক্ষারের ক্রিয়ায় সাবান তৈরি হয়। 
বিক্রিয়াটি হলো:
                       জৈব এসিড বা স্টিয়ারিক এসিড (C₁₇H₃₅COOH ) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O
- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সবানের রাসায়নিক নাম। 

অন্যদিকে, 
বেকিং সোডা: এটির রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO₃)।  এটি খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার হয়।

কস্টিক পটাশ: এটির রাসায়নিক নাম হলো পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH)।  এটি সাবান তৈরির জন্য ব্যবহার হয়, কিন্তু এটি সাবান নয়। 

গ্রিজ: এটি একধরনের ঘন পিচ্ছিল পদার্থ। এটি সাধারণত লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


তথ্যসূত্র:
-  রসায়ন ,  নবম-দশম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র,  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
২,০৯৮.
পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য হজমের জন্য কোন এসিড অত্যাবশ্যক?
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. কার্বোলিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য হজমের জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,০৯৯.
পৃথিবীতে আবিস্কৃত মৌলের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১৮ টি
  2. ২০ টি
  3. ৯৮ টি
  4. ১০৮ টি
ব্যাখ্যা
মৌল বা মৌলিক পদার্থ: 
- পৃথিবীতে অসংখ্য পদার্থগুলোর মধ্যে কতগুলো পদার্থ আছে যেগুলোকে ভেঙে যত ক্ষুদ্র কণাতে পরিনত করা হোক না কেন প্রত্যেক ক্ষুদ্র কণাতেই ঐ পদার্থের ধর্ম ও গুণাগুণ বিদ্যমান থাকে। 
- যে পদার্থগুলোকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে ঐ পদার্থ ছাড়া অন্য কোন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ পাওয়া যায় না তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বা সংক্ষেপে মৌল বলা হয়। 
- পৃথিবীতে বর্তমানে আবিস্কৃত মৌলের সংখ্যা ১১৮টি, এর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় প্রায় ৯৮টি মৌল, বাকি মৌলগুলো কৃত্রিমভাবে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম বা হিলিয়াম এগুলো সব মৌলিক পদার্থ। 
- এই মৌলিক পদার্থগুলোকে প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেনের প্রতীক H, আবার সোডিয়ামের প্রতীক Na। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থের নির্দিষ্ট পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০০.
স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকা ধাতু কোনটি?
  1. পারদ
  2. সোডিয়াম
  3. কপার
  4. ব্রোমিন
ব্যাখ্যা
পারদ: 
'পারদ' একমাত্র ধাতু যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮০ । 
- পারদের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৮.৮৩° সেলসিয়াস। 
- তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 

অন্যদিকে, 
- সাধারণ তাপমাত্রায় ব্রোমিন তরল অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। 
- কিন্তু ব্রোমিন একটি অধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।