বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৭ · ১০১২০০ / ২,৬৯২

১০১.
পেট্রোলের আগুন পানি দ্বারা নেভানো যায় না, কারণ-
  1. পেট্রোলের সাথে পানি মিশে যায়
  2. পেট্রোল পানির সাথে মিশে না
  3. পেট্রোল পানির চেয়ে হালকা
  4. খ ও গ উভয়ই ঠিক
ব্যাখ্যা
- পেট্রোল একধরনের প্রাকৃতিক হাইড্রোকার্বন যা পানির চেয়ে অনেক হালকা। 
- এজন্য পেট্রোলের আগুনে পানি দিলে পানি নিচে চলে যায় এবং তা পেট্রোলের সাথে মিশে না। 
- পেট্রোল উপরে উঠে আগুন জ্বলতেই থাকে। 
- পেট্রোলের আগুনে পানি ঢেলে দিলে পেট্রোলের আগুনের উত্তাপ অনেক বেশি হওয়ায় পানি বিশ্লিষ্ট হয়ে যায়। তাই পানি দ্বারা পেট্রােলের আগুন নেভানো যায় না।
১০২.
গ্রিনহাউজ কি?
  1. ক) কাচের তৈরি ঘর
  2. খ) সবুজ আলোর আলোকিত ঘর
  3. গ) সবুজ ভবনের নাম
  4. ঘ) সবুজ গাছপালা
১০৩.
মানব শরীরে মোট কত ধরনের মৌল আছে? 
  1. ৩৩ 
  2. ১৬ 
  3. ২৬ 
  4. ৫০ 
ব্যাখ্যা

মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা বা লোহা ইত্যাদি বিশুদ্ধ পদার্থকে যতই ভাঙ হউক না কেন সেখানে তাদের ক্ষুদ্রতর কণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না। 
উদাহরণ- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার ইত্যাদি। 
- এই পর্যন্ত ১১৮ টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে যার মধ্যে ৯৮ টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলা হয়। 
- মানব শরীরে মোট ২৬ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৪.
কোনটি বহুরূপী মৌল?
  1. ক) আর্সেনিক
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

- প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে।
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে।
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
- অদানাদার রূপভেদ হলো- কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৫.
যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা কোনটি?
  1. ক) পরমাণু
  2. খ) ইলেক্ট্রন
  3. গ) অণু
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
পরমাণু:
পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা ঐ পদার্থের বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে।
পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

অণু:
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে।
আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে।

অণুর বৈশিষ্ট:
- স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
- বস্তুর বৈশিষ্ট বজায় রাখে।
- সব চেয়ে ছোট অণু হাইড্রোজেন অণু।
- খালি চোখে দেখা যায় না।
- কোন চার্জ নাই।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি।
১০৬.
[Fe(CN)6]-4 এ Fe এর জারণ সংখ্যা কত?
  1. -2
  2. +2
  3. -4
  4. +6
ব্যাখ্যা
ধরি [Fe(CN)6]-4 এ Fe এর জারণ সংখ্যা x
আমরা জানি, CN এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা -1 এবং সম্পূর্ণ যৌগটির আয়ন -4 ।

অতএব,
 x + (-1) × 6 = -4
⇒  x = 6 - 4
∴ x = + 2

∴ Fe এর জারণ সংখ্যা +2

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি
১০৭.
গ্লুকোজের স্থূল সংকেত কোনটি?
  1. CH2O
  2. C6H10O6
  3. C6H12O5
  4. C6H12O6
ব্যাখ্যা
সংকেত (Formula):  
- দুই বা ততোধিক মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু রাসায়নিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে। 
- যৌগের অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের প্রতীক ও তাদের পরমাণু সংখ্যার সাহায্যে যৌগের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকেই যৌগের সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানির একটি অণুর ক্ষেত্রে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি পানির অণু গঠন করে। সুতরাং পানির সংকেত H2O. 
- রসায়নে অনেক ধরনের সংকেতের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
১। রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): 
- যৌগিক অণুর ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বা ততোধিক মৌল বা মূলক ওদের যোজ্যতার বিপরীত অণুপাতে যুক্ত হয়ে অণুগঠন করে। 
যেমন- Al মৌলটির যোজ্যতা 3 এবং O মৌলটির যোজ্যতা 2, সুতরাং Al এর 2টি পরমাণু O এর 3 তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন করবে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত Al2O3
- যৌগের অণুতে মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতাভিত্তিক সংকেতকে রাসায়নিক সংকেত বলা হয়। 

২। আণবিক সংকেত (Molecular Formula): 
- কোনো অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে যে সংকেত প্রকাশ করা হয় তাকে আণবিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- অক্সিজেনের আনিবক সংকেত O2, পানির আণবিক সংকেত H2O, গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C6H12O6

৩। স্থূল সংকেত (Empirical Formula): 
- কোনো যৌগের অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রকাশ না করে কেবল ওদের ক্ষুদ্রতম অণুপাতকে প্রকাশ করা হয়, তখন ওই সংকেতকে ওই যৌগের স্থূল সংকেত বলা হয়। 
যেমন- গ্লুকোজ এর আণবিক সংকেত C6H12O6
- C, H ও O পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যার অণুপাত 6 : 12 : 6 হলেও ক্ষুদ্রতম অণুপাত 1 : 2 : 1. সুতরাং গ্লুকোজের স্থূল সংকেত CH2O

৪। গাঠনিক সংকেত (Structural Formula): 
- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের অণুর মধ্যে বিভিন্ন পরমাণু পরস্পরের সাথে যেভাবে সংযুক্ত থাকে তা যে সংকেত এর মাধ্যমে দেখানো হয় তাকে ওই অণুর গাঠনিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O) অণুর গাঠনিক সংকেত H-O-H, হাইড্রোজেন (H2) অণুর গাঠনিক সংকেত H-H ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৮.
নিচের কোন প্লাস্টিক পুড়ে যাওয়ার সময় হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস নির্গত করে?
  1. পলিইউরেথেন
  2. পিভিসি
  3. পলিস্টার
  4. ব্যকেলাইট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিক: 
- প্লাস্টিক শব্দের অর্থ হলো সহজেই ছাঁচযোগ্য। 
- নরম অবস্থায় প্লাস্টিক ইচ্ছামতো ছাঁচে ফেলে সেটা থেকে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি বিশিষ্ট বস্তু সামগ্রী তৈরি করা যায়। 
যেমন- মগ, বালতি, জগ, মেলামাইনের থালা-বাসন, পিভিসি পাইপ, বাচ্চাদের খেলনা, গাড়ির সিটবেল্ট, এমনকি আসবাবপত্র সবকিছুই প্লাস্টিকের তৈরি। 
- এ সবই প্লাসটিক জাতীয় পলিমার থেকে তৈরি। 

প্লাস্টিকের ভৌত ধর্ম: 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিকই পানিতে অদ্রবণীয় যা দ্রবীভূত হয় না। 
- প্লাস্টিকের বিদ্যুৎ এবং তাপ নিরোধক হিসেবে বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো গলিত অবস্থায় এদেরকে যেকোনো আকার দেওয়া যায়। 
- পলিথিন, পিভিসি পাইপ, পলিস্টার কাপড়, বাচ্চাদের খেলনা-এসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয়ে যায় এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়। এভাবে যতবারই এদেরকে তাপ দেওয়া যায়, এরা নরম হয় ও ঠান্ডা করলে শক্ত হয়, এগুলোকে থার্মোপ্লাস্টিকস (Thermoplastics) বলে। 
- অন্যদিকে মেলামাইন, ব্যকেলাইট (যা ফ্রাইং প্যানের হাতলে এবং বৈদ্যুতিক সকেটে ব্যবহার করা হয়) এগুলো তাপ দিলে নরম হয় না বরং পুড়ে শক্ত হয়ে যায়। এদেরকে একবারের বেশি ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় না। এই সকল প্লাস্টিককে থার্মোসেটিং প্লাস্টিকস (Thermosetting Plastics) বলে। 

প্লাস্টিকের রাসায়নিক ধর্ম: 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়, তাই বাতাসের জলীয় বাষ্প ও অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। 
- এমনকি পাতলা এসিড বা ক্ষারের সাথেও প্লাস্টিক বিক্রিয়া করে না, তবে শক্তিশালী ও ঘনমাত্রার এসিডে কিছু কিছু প্লাস্টিক দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- প্লাস্টিক সাধারণত দাহ্য হয় অর্থাৎ এদেরকে আগুন ধরালে পুড়তে থাকে এবং প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 
- প্লাস্টিক পচনশীল নয়, দীর্ঘদিন মাটি বা পানিতে পড়ে থাকলেও এসব পচে না। 
- অবশ্য বর্তমানে বিজ্ঞানীরা পচনশীল প্লাস্টিক আবিষ্কার করেছেন, সেগুলো বিশেষ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- হাত-পা কেটে গেলে বা মেডিক্যাল অপারেশনে সেলাইয়ের কাজে যে সুতা ব্যবহৃত হয়, সেগুলো এক ধরনের পচনশীল প্লাস্টিক। 
- প্লাস্টিক পোড়ালে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়। 
যেমন- পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) নিঃসৃত হয়। আবার পলিইউরেথেন (Polyurethane) প্লাস্টিক (যা আসবাবপত্র, যেমন: চেয়ার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস এবং হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৯.
কোনটি নিষ্ক্রিয় মৌল না?
  1. ক) He
  2. খ) Fe
  3. গ) Ne
  4. ঘ) Xe
ব্যাখ্যা
He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn, Og এই সাতটি মৌল নিষ্ক্রিয় গ্রুপভুক্ত।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১১০.
চারটি কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের সংকেত কী?
  1. CH4
  2. CH3-CH2-CH2-CH3
  3. CH3-CH3
  4. CH3-CH2-CH3
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- যে সকল হাইড্রোকার্বনের কার্বন শিকলে কার্বন-কার্বন একক বন্ধন বিদ্যমান থাকে তাকে অ্যালকেন বলে। 
- অ্যালকেনের সাধারণ সংকেত CnH2n+2 (n = 1, 2, 3, 4,... ইত্যাদি)। 
- এ শ্রেণির প্রথম সদস্যের নাম মিথেন, প্রথম সদস্য বলে সাধারণ সংকেতে n = 1 , তাই এর সংকেত CH4 এবং দ্বিতীয় সদস্য (n = 2) এর নাম ইথেন, ইথেনের সংকেত C2H6
- অ্যালকেনের কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন ভাঙা অনেক কঠিন, তাই অ্যালকেন রাসায়নিকভাবে অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এজন্য এদেরকে প্যারাফিন বলে, প্যারাফিন অর্থ আসক্তিহীন। 
- সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রা, উচ্চ চাপ কিংবা শক্তিশালী প্রভাবকের উপস্থিতিতেই অ্যালকেন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 

অ্যালকেনের নামকরণ: 
- IUPAC পদ্ধতিতে অ্যালকেনের নামকরণের নিয়ম হলো- 
(i) সরল শিকলবিশিষ্ট অ্যালকেনে এক কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকেন (CH4) কে মিথেন, দুই কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন (CH3-CH3) কে ইথেন, তিন কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকেন (CH3-CH2-CH3) কে প্রোপেন এবং চার কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকেন (CH3-CH2-CH2-CH3) কে বিউটেন নাম দেওয়া হয়েছে। 
(ii) অ্যালকেনের ক্ষেত্রে কার্বন সংখ্যার গ্রিক সংখ্যাসূচক শব্দের শেষে এন (ane) যোগ করে নামকরণ করা হয়। 
- নিচে কিছু অ্যালকেনের কার্বন সংখ্যা, নাম এবং সংকেত দেওয়া হলো- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১১১.
বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির-
  1. ক) ঘনত্ব কম
  2. খ) ঘনত্ব বেশি
  3. গ) তাপমাত্রা বেশি
  4. ঘ) দ্রবণীয়তা বেশি
ব্যাখ্যা
বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।
Source: britannica.com
১১২.
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় কোন ধাতুটি সাধারণত লোহার উপর আবরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. দস্তা
  2. সোনা
  3. নিকেল
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১১৩.
পানির স্থায়ী খরতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক্লোরিন
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. সোডিয়াম কার্বনেট
  4. সালফিউরিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
পানির খরতা (Hardness of Water): 
- পানির উৎস হলো নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, সমুদ্র বা টিউবওয়েল ইত্যাদি, এসব পানিতে বিভিন্ন খনিজ লবণ দ্রবীভূত থাকতে পারে। 
- পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের ক্লোরাইড, সালফেট, কার্বনেট, বাইকার্বনেট ইত্যাদি লবণ দ্রবীভূত থাকলে উক্ত পানি সাবানের সাথে সহজে ফেনা উৎপন্ন করে না, এ ধরনের পানিকে খর পানি বলে। 
- অবশ্য ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম ছাড়া আয়রন, ম্যঙ্গানিজ প্রভৃতি লবণ দ্রবীভূত থাকলেও পানি খর হতে পারে। 
- খর পানিতে সাবান ঘষলে সহজে ফেনা উৎপাদন করে না, কারণ সাবান হলো উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। 
যেমন- সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) হলো স্টিয়ারিক এসিডের সোডিয়াম লবণ, এটি সাবান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- এ সাবান দিয়ে খর পানিতে কাপড় কাচা হলে যতক্ষণ পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের লবণ উপস্থিত থাকে ততক্ষণ ফেনা উৎপন্ন হয় না এবং সাবান ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। 
• 2C17H35COONa + CaCl2 → (C17H35COO)2Ca + 2NaCl 
- ম্যাগনেসিয়াম বা অন্যান্য ধাতুর লবণও একই রূপ বিক্রিয়া করে। 
- পানির পাইপ বা কলকারখানাতে বয়লারের ভিতরে খর পানি ব্যবহার করলে খর পানিতে বিদ্যমান বিভিন্ন খনিজ লবণ পাইপের গায়ে জমা হয়। ফলে পাইপের গায়ে মোটা আস্তরণ পড়ে। এতে পানির পাইপে পানি প্রবাহে বাধা পায়। বয়লারে তাপের অপচয় ঘটে এমনকি বয়লার ফেটে বিস্ফোরণ পর্যন্ত ঘটতে পারে। 
- পানির মধ্যে যে ধর্মের জন্য পানিতে সাবান ভালোভাবে ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না পানির সেই ধর্মকে পানির খারতা বলে। 
- পানির খরতা দুই প্রকার। যথা- স্থায়ী খরতা এবং অস্থায়ী খরতা। 

স্থায়ী খরতা: 
- পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি ধাতুর ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে স্থায়ী খরতার সৃষ্টি হয় এবং এই পানি স্থায়ী খর পানি বলে। 
- স্থায়ী খর পানিকে শুধু উত্তপ্ত করলেই স্থায়ী খরতা দূরীভূত হয় না। বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে স্থায়ী খরতা দূর করা হয়। 
- সাধারণত বদ্ধ জলাশয় যেমন-পুকুর, ডোবা ইত্যাদির পানি মৃদু হয় এমনকি বৃষ্টির পানিও মৃদু পানি। মৃদু পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি ধাতুর লবণ খুব বেশি দ্রবীভূত থাকে না। 
- স্থায়ী খর পানি থেকে স্থায়ী খরতা অপসারণ করে ঐ পানিকে মৃদু পানিতে পরিণত হয়। 

অস্থায়ী খরতা: 
- পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি লবণের বাইকার্বনেট (HCO3-) লবণ দ্রবীভূত থাকলে যে খারতা সৃষ্টি হয় তাকে অস্থায়ী খারতা বলে এবং এই পানিকে অস্থায়ী খর পানি বলা হয়। 
- অস্থায়ী খর পানিকে শুধু উত্তপ্ত করলেই অদ্রবণীয় কার্বনেট লবণ উৎপন্ন হয়। এ লবণ পাত্রের নিচে তলানি আকারে জমা হয়। এই তলানি থেকে ছাঁকনির মাধ্যমে পানিকে সহজেই পৃথক করা যায়। 
- ফলে অস্থায়ী খরতা দূর হয় এবং অস্থায়ী খর পানি মৃদু পানিতে পরিণত হয়। 
• Ca(HCO3)2  → CaCO3(s)↓ + CO2(g)↑ + H2O(l) 

স্থায়ী খরতা দূরীকরণের পদ্ধতি: 
- স্থায়ী খর পানির মধ্যে সোডিয়াম কার্বনেট যোগ করলে সোডিয়াম কার্বনেট ক্যালসিয়াম আয়ন ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেটের অধঃক্ষেপ উৎপন্ন করে। ফলে পানি থেকে ক্যালসিয়াম আয়ন এবং ম্যাগনেশিয়াম আয়ন পানি থেকে অপসারিত হয় অর্থাৎ স্থায়ী খরতা দূর হয়। 
• CaCl2 + Na2CO3 → CaCO3↓+ 2NaCl 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৪.
বৈদ্যুতিক বাল্বে টাংস্টেন তারের সঙ্গে আর্গন গ্যাস ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য কী? 
  1. আলো তীব্র করা 
  2. তাপমাত্রা কমানো 
  3. বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি করা 
  4. টাংস্টেন তারের জারণ রোধ করা
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক বাল্বে টাংস্টেন তারের সাথে আর্গন গ্যাস ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো টাংস্টেন ফিলামেন্টের আয়ু বাড়ানো অর্থাৎ টাংস্টেন তারের জারণ রোধ করা। আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় বা নোবেল গ্যাস, যার অর্থ এটি উচ্চ তাপমাত্রায়ও টাংস্টেনের সাথে রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়া করে না। এটি ফিলামেন্টকে পুড়ে যাওয়া থেকে বাষ্পীভবনের হার কমিয়ে দেয় এবং এর ফলে বাল্বটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। 

আর্গনের ব্যবহার: 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে বায়ুতে আর্গনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে উচ্চ তাপে টাংস্টেন তারটি ব্যবহার করা হয় যেন জারিত হয়ে কেটে না যায় তার জন্য নিষ্ক্রিয় আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- নাইট্রোজেন থেকে আর্গন অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় এবং এর বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতাও কম, এ কারণে বৈদ্যুতিক বাল্ববে নাইট্রোজেনের পরিবর্তে আর্গন ব্যবহার করা হয়।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় পরিবেশ তৈরির জন্য আর্গন বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশে আর্গন সহজলভ্য না হওয়ায় গবেষণাগারসমূহে নিষ্ক্রিয় পরিবেশ তৈরিতে সাধারণত নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়; কিন্তু উন্নত দেশসমূহে এক্ষেত্রে আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক যন্ত্র, বিশেষত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।

১১৫.
প্রাচুর্যতার ভিত্তিতে ভূত্বকে কোন মৌলিক পদার্থ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. আয়রন
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা
• ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।

• প্রাচুর্যতার ভিত্তিতে ভূত্বকে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের পরিমাণ:

- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ - ৪২.৭%, 
- সিলিকনের পরিমাণ - ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ - ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ - ৫.১%, 
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ - ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ - ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ - ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৬.
গাছের পাতা হলুদ হওয়া কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ভৌত পরিবর্তন
  2. রাসায়নিক পরিবর্তন
  3. জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. সাময়িক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

পদার্থের পরিবর্তন: 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে।
- একটি হলো ভৌত পরিবর্তন ও অপরটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন।

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। যেমন:
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা,
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া,
• বরফ গলে পানি হওয়া,
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি।

রাসায়নিক পরিবর্তন:  
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। যেমন: 
• লোহায় মরিচা ধরা,
• দুধ থেকে দই হওয়া,
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া,
• উদ্ভিদ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বৃদ্ধি,
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি।

উৎস:
১. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২. রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১৭.
কোনটি ওয়াটার গ্যাস নামে পরিচিত?
  1. হাইড্রোজেন + কার্বন-মনোঅক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন + কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  3. মিথেন + হাইড্রোজেন
  4. পানি + কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• ওয়াটার গ্যাস হলো একটি গ্যাসীয় মিশ্রণ যা হাইড্রোজেন (H₂) এবং কার্বন-মনোঅক্সাইড (CO) দ্বারা গঠিত।

• ওয়াটার গ্যাস:

- এটি সাধারণত কোক বা কোলে স্টিম (বাষ্প) দ্বারা উত্তপ্ত করে প্রস্তুত করা হয়।
- এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কোক বা কাঠের কার্বন গ্যাসের সাথে প্রতিক্রিয়া করে কার্বন-মনোঅক্সাইড এবং হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে, যা ওয়াটার গ্যাস হিসেবে পরিচিত।
• রাসায়নিক সমীকরণ:
C (s) + H2O (স্টিম) → CO + H2(ওয়াটার গ্যাস)।

উল্লেখ্য,
কার্বন মনোক্সাইড (CO) খুব বিষাক্ত গ্যাস, এটি নীরব ঘাতক গ্যাস নামে পরিচিত এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
১১৮.
পানির উপস্থিতি শনাক্তের জন্য পরীক্ষাগারে যে যৌগটি ব্যবহৃত হয়—
  1. ক) CuSO4.5H2
  2. খ) CuSO4 (অনার্দ্র)
  3. গ) CaSO4
  4. ঘ) Na2SO4
ব্যাখ্যা
CuSO4
পানির উপস্থিতি শনাক্তের জন্য পরীক্ষাগারে CuSo4 যৌগটি ব্যবহৃত হয়।
- কপার (II) সালফেট (CuSO4) একটি হাইড্রেটেড, নীল কঠিন - এটি পানির অণুর সাথে সংযুক্ত। - যখন এটি হাইড্রেটেড থাকে, তখন সাধারণত একটি কুপার সালফেট অণুর সাথে পাঁচটি পানির অণু সংযুক্ত থাকে (CuSO4.5H2O).
- CuSO4 গরম করলে এটি ডিহাইড্রেট হবে। 

উৎস: National center for biotechnology center. 
১১৯.
লাল লিটমাসকে নীল করে-
  1. ক) এসিড
  2. খ) ক্ষারক
  3. গ) পানি
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
লিটমাস পেপার এসিডে ডুবালে সেটি নীল লিটমাস লাল হয়। আবার, ক্ষারকের দ্রবণে ডুবালে লাল লিটমাসকে নীল করে এবং লবনের দ্রবনে লিটমাস পেপার ডুবালে তার রংয়ের কোন পরিবর্তন হবে না।
সূত্রঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই।
১২০.
কম্পোজিট কণিকা কোনটি? 
  1. নিউট্রিনো 
  2. ডিউটেরন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. প্রোটন 
ব্যাখ্যা

কণিকা: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে।
- প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। 
যেমন- H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়। 
- মূল উপাদানরূপে যে সব অতি সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত, তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক প্রকার হতে পারে। 
যথা- 
১। স্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
 
২। অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। 
- অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়। 
 
৩। কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। 
যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা। 
 
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

১২১.
ড্রাই আইস কী? 
  1. হিমায়িত ভারি পানি
  2. হিমায়িত অক্সিজেন
  3. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. হিমায়িত কার্বন মনো-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
ড্রাই আইস: 
- শুষ্ক বরফ (Dry ice) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন ঘটে, অর্থাৎ এটি তার কঠিন অবস্থান থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হয়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা -78.5° C তাপমাত্রায় (বা -109.3° ফারেনহাইট) পরমানন্দ (sublimation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাসে পরিণত হয়। 
- এ কারণে এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১২২.
তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে বোঝায়- 
  1. আয়তন প্রসারণ
  2. ক্ষেত্রফল প্রসারণ
  3. দৈর্ঘ্য প্রসারণ
  4. পৃষ্ঠতল প্রসারণ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তরল পদার্থের দৈর্ঘ্য বা ক্ষেত্রফল কিছুই নেই, শুধু তরল পদার্থের আয়তন আছে। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে তার আয়তন প্রসারণকেই বোঝায়। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ মাপার সময় একটু সতর্ক থাকতে হয় কারণ তরল পদার্থকে সব সময়ই কোনো পাত্রে রাখতে হয়। কাজেই প্রসারণ সহগ মাপতে চাইলে যখন তরলটিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে পাত্রটিও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাত্রটিরও একটি প্রসারণ হয়। কাজেই পাত্রে তরল যে প্রসারণ দেখা যায় সেটা সত্যিকারের প্রসারণ না, সেটা হচ্ছে আপাত প্রসারণ। 
- কাজেই প্রকৃত প্রসারণ বের করতে হলে পাত্রের প্রসারণের ব্যাপারটা সব সময়ই মনে রাখতে হবে। 
- সাধারণত তরলের প্রসারণ কঠিন পদার্থের প্রসারণ থেকে বেশি হয়। যদি তা না হতো তাহলে আপাত প্রসারণটি হয়তো দেখা যেত না, মনে হতো আপাত সংকোচন। 
- তরল পদার্থের প্রসারণের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে থার্মোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৩.
খাদ্যের কাজ হলো-
  1. ক) দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ
  2. খ) দেহে তাপ উৎপাদন, কর্মশক্তি প্রদান
  3. গ) রোগ প্রতিরোধ করা, দেহকে সুস্থ, সবল রাখা
  4. ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি৷ যথাঃ দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ; দেহে তাপ উৎপাদন, কর্মশক্তি প্রদান; রোগ প্রতিরোধ করা, দেহকে সুস্থ, সবল রাখা ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৪.
গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র নিচের কোনটি?
  1. V ∝ n
  2. V ∝ T
  3. P ∝ T
  4. PV = K
ব্যাখ্যা
গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T
 
চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273; 
- এ সূত্রটি অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
১২৫.
সাবান মূলত কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ?
  1. অ্যালকোহল 
  2. প্রোটিন 
  3. কার্বোহাইড্রেট 
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড 
ব্যাখ্যা

- সাবান মূলত উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি লবণ। 

সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে, R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 যেখানে n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- ১। প্রসাধনী সাবান এবং ২। লন্ড্রি সাবান। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৬.
ইথানলকে কোন খাতে জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়? 
  1. বিদ্যুৎ সংরক্ষণে
  2. খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে 
  3. তাপ ইঞ্জিনে 
  4. শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে 
ব্যাখ্যা
জ্বালানি হিসেবে ইথানলের ব্যবহার: 
- ইথানল-এর অপর নাম ইথাইল অ্যালকোহল। 
- ইথানলের রাসায়নিক সংকেত CH3-CH2-OH. 
- জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল প্রভৃতির মতো ইথানলকে পোড়ালেও তাপ উৎপন্ন হয়। 
- তাই জীবাশ্ম জ্বালানির মতো ইথানলকেও তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করে কলকারখানা, গাড়ি, বিমান, জাহাজ প্রভৃতি চালানো যেতে পারে। 
- উত্তর আমেরিকাসহ অনেক দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির সাথে ইথানলকে মিশিয়ে তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়িতে পেট্রলের সাথে শতকরা 10 ভাগ ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই যত ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ততই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৭.
নিচের কোনটি উপধাতু?
  1. ক) জার্মেনিয়াম
  2. খ) আর্সেনিক
  3. গ) টেলুরিয়াম
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metalic Properties) :
পর্যায় সারণিতে বিভিন্ন সারিতে এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলসমূহকে ধাতু, অধাতু এবং অপধাতুতে ভাগ করা হয়েছে।
মৌলের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের উল্লিখিত নামে বিভক্ত করা হয়েছে।

ধাতুর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন—
- এরা উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী,
- এদের ধাতব দ্যুতি আছে এবং
- এরা নমনীয় প্রকৃতির।

ধাতুর এসব বৈশিষ্ট্যই হলো ধাতব ধর্ম। সাধারণত যেসব মৌলের তড়িৎ ধনাত্মকতা যত বেশি হয় এবং আয়নিকরণ শক্তি যত কম হয় ঐ সব মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি হয়। পর্যায় সারণিতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যেহেতু বাম থেকে যতই ডানে যাওয়া যায় ততই পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ধনাত্মকা হ্রাস পায় তাই মৌলের ধাতু ধর্মও হ্রাস পায়। তাই পর্যায় সারণির বামে 1 এবং 2 শ্রেণির মৌলসমূহের ধাতু ধর্ম প্রবল অথচ ডান পার্শ্বের 17 শ্রেণির মৌলের ধাতব ধর্ম নেই বললেই চলে। পর্যায় সারণির মাঝামাঝি পর্যায়ে অবস্থিত জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, টেলুরিয়াম প্রভৃতি উপধাতু ।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১২৮.
পলিমার ও প্লাস্টিক তৈরিতে কার্বনের কোন বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ?
  1. বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা
  2. কাঠিন্যতা
  3. যৌগ গঠনের ক্ষমতা
  4. উচ্চ তাপ পরিবাহিতা
ব্যাখ্যা
পলিমার ও প্লাস্টিক তৈরিতে কার্বনের যৌগ গঠনের ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-  কার্বন (C) একে একে চারটি বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম, যা তাকে বিভিন্ন ধরনের জটিল যৌগ গঠনে সক্ষম করে তোলে।
-  এটি ক্লোরিন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং অন্যান্য মৌলগুলির সঙ্গে শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করে, যার ফলে বিভিন্ন ধরনের পলিমার ও প্লাস্টিক তৈরি করা সম্ভব হয়।
-  পলিথিন, পলিপ্রোপিলিন, নাইলন ইত্যাদির পলিমার গঠন করা হয় কার্বন সম্বলিত মনোমারের সাহায্যে।  

অন্যদিকে, 
বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা:  এটি সাধারণত পলিমার ও প্লাস্টিকের বৈশিষ্ট্য নয়।

কাঠিন্যতা: কাঠিন্যতা (hardness) প্লাস্টিকের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়।

উচ্চ তাপ পরিবাহিতা: প্লাস্টিকের মধ্যে সাধারণত কম তাপ পরিবাহিতা থাকে কারন পলিমার সাধারণত তাপ কুপরিবাহী।

তথ্যসূত্র: 
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ২য় পত্রএকাদশ-দ্বাদশ। 
- "Polymer Chemistry: An Introduction" by Malcom P. Stevens. 
১২৯.
প্রমাণ দ্রবণ কোনটি?
  1. 1.0M Na2CO3
  2. 1.0g H2SO4
  3. 1.0mL H2SO4
  4. 1.0 mol H2SO4
ব্যাখ্যা
প্রমাণ দ্রবণ: 
- কোনো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের নমুনা দিয়ে তৈরি করা দ্রবণের ঘনমাত্রা সঠিকভাবে জানা থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ নমুনা দ্রবের প্রমাণ দ্রবণ বলে। 
যেমন- 1M Na2CO3 দ্রবণ, 0.5M Na2CO3 দ্রবণ, 0.1M Na2CO3 দ্রবণ হলো প্রত্যেকেই এক একটি প্রমাণ দ্রবণ। 
কারণ, Na2CO3 প্রথমত প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ এবং দ্বিতীয়ত প্রতিটি প্রস্তুত করা দ্রবণের বেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ Na2CO3 রাসায়নিক নিক্তিতে সঠিকভাবে ওজন করে দ্রবণটি তৈরি করা হয়। 

প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যেসব কঠিন রাসায়নিক পদার্থকে (১) বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়; (২) এরা বাতাসের সংস্পর্শে জলীয় বাষ্প বা O2 সহ বিক্রিয়া করে না; (৩) এদের ওজন নেয়ার সময় রাসায়নিক নিক্তিকে ক্ষয় করে না এবং (৪) এদের দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, এদেরকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) ক্ষার, 
(২) কেলাসিত ইথেন ডাইওয়িক এসিড বা অক্সালিক এসিড (H2C2O4.2H2O), 
(৩) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K2Cr2O7) জারক পদার্থ, 
(৪) কেলাসিত সোডিয়াম ইথেন ডাইওয়েট বা অক্সালেট (Na2C2O4.2H2O) বিজারক পদার্থ ইত্যাদি হলো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ। 

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থের মধ্যে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের যেমন বিশুদ্ধতা, বাতাসে অপরিবর্তিত থাকা, রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় না করা অথবা ঘনমাত্রার পরিবর্তন না ঘটা ইত্যাদির মধ্যে কোনো একটির অভাব ঘটলে, এদেরকে সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) NaOH ক্ষার, 
(২) HCl এসিড, 
(৩) H2SO4 এসিড, 
(৪) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) জারক পদার্থ, 
(৫) সোডিয়াম থায়োসালফেট (Na2S2O3.5H2O) বিজারক ইত্যাদি। 
- এ সব সেকেন্ডারি পদার্থের মোলার দ্রবণ বা ডেসিমোলার (0.1M) দ্রবণ প্রমাণ দ্রবণ হয় না। 
- সেকেন্ডারি পদার্থের দ্রবণকে অপর পদার্থের প্রমাণ দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করে এর সঠিক মোলার ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়। 
- এরূপ সেকেন্ডারি পদার্থের যেমন KMnO4 এর 0.1M দ্রবণ তৈরি করে জারণ-বিজারণ টাইট্রেশনে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১৩০.
Which is the symbol for Carbonic acid?
  1. H3C2O4
  2. H2CO3
  3. CH3-COOH
  4. C6H8O7
  5. H3PO4
ব্যাখ্যা
এসিডের নাম ও সংকেত:
• ফসফরিক এসিড - H3PO4
• ফরমিক এসিড - H-COOH
• অ্যাসিটিক এসিড - CH3-COOH
• কার্বনিক এসিড - H2CO3
• সাইট্রিক এসিড - C6H8O7
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড - HCI
• নাইট্রিক এসিড - HNO3
• সালফিউরিক এসিড - H2SO4

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
তরল সাবান তৈরি করতে সাধারণত কোন যৌগ বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. NaOH
  2. NH3
  3. HCI
  4. KOH
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
- সাবান সাধারণত শক্ত এবং কোমল এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত।
- শক্ত সাবান তৈরিতে কষ্টিক সোডা (NaOH)।
- কোমল সাবান তৈরিতে কস্টিক পটাসের (KOH) ব্যবহার হয়ে থাকে।
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও,
- সাবানকে শক্ত ও ভারী করার জন্য সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3) ব্যবহার করা হয়।
- তবে, এটা পরিমাণমত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যাতে বেশি শক্ত হয়ে না যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩২.
নিচের কোন মৌলটির ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি? 
  1. Be
  2. Ca
  3. Ra
  4. Mg
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি: 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 
যেমন- 
- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির ২ নং গ্রুপ-এর মৌল। এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি। আবার Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra ইলেকট্রন আসক্তি সবচেয়ে কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৩.
পিঁপড়ার কামড়ে জ্বালাপোড়া করে কোন রাসায়নিক পদার্থের কারণে?
  1. ফরমিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. জিংক সালফাইড
ব্যাখ্যা
• ফরমিক এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
- আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়া হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়।
- এসব জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, যা নিষ্ক্রিয় করতে জিংক কার্বোনেট, বেকিং সোডা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে,
- আপেল, টমেটোতে ম্যালিক এসিড পাওয়া যায়।
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড পাওয়া যায়।
- সাপের বিষে জিংক সালফাইড  পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১৩৪.
কোন অ্যালকোহল খাবার বা পানীয়ে ব্যবহারযোগ্য?
  1. প্রোপানল
  2. মেথিলেটেড স্পিরিট
  3. মিথানল
  4. ইথানল
ব্যাখ্যা

• খাবার বা পানীয়ে ব্যবহারযোগ্য অ্যালকোহল হলো ইথানল (ঘ)। ইথানল সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করলে মানবদেহের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং এটি বিভিন্ন খাদ্য, পানীয় ও ওষুধে ব্যবহৃত হয়। মদ্যপ পানীয়, ভিনেগার প্রস্তুতকরণ এবং ফুড ফ্লেভার এক্সট্রাকশনে ইথানল ব্যবহারের প্রচলন আছে। অন্যদিকে প্রোপানল, মিথানল ও মেথিলেটেড স্পিরিট মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত। বিশেষ করে মিথানল অল্প পরিমাণে গ্রহণ করলেও অন্ধত্ব বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। মেথিলেটেড স্পিরিটে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো থাকে, তাই তা খাদ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়।

• অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন: 
মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit) । 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাচাঁমালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন: শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানল একমাত্র অ্যালকোহল যা পানীয় হিসেবে পান করা যায়। 
- অধিক পরিমাণ ইথানল পান বিষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে বা শিল্পে ব্যবহৃত ইথানলকে মানুষের পানের অযোগ্য করার জন্য এতে বিষাক্ত মিথানল (৪%) মিশিয়ে দেয়া হয়। 
- মিথানল মিশ্রিত এ ধরনের রেকটিফাইড স্পিরিটকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। একে ডিনেচারড অ্যালকোহলও (Denatured alcohol) বলা হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৫.
'মিথাইল অরেঞ্জ' নির্দেশক ক্ষারকে কোন রং প্রদর্শন করে?
  1. ক) লাল
  2. খ) নীল
  3. গ) কমলা
  4. ঘ) হলুদ
ব্যাখ্যা
- মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশকের বর্ণ হচ্ছে কমলা।
- এটি এসিডে গোলাপী এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক হলো-

• লিটমাস কাগজ - এসিডে লাল এবং ক্ষারকে নীল বর্ণ প্রদর্শন করে।
• মিথাইল রেড - নির্দেশকের বর্ণ লাল, এসিডে লাল এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।
•  ফেনলফথ্যালিন - নির্দেশকের বর্ণ বর্ণহীন, এসিডে বর্ণহীন এবং ক্ষারকে গোলাপী বর্ণ প্রদর্শন করে।

সুত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই
১৩৬.
তেল বা চর্বিকে NaOH বা KOH দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে কী উৎপন্ন হয়?
  1. এসিড
  2. লবণ
  3. সাবান
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা

• তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH)–এর জলীয় দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis / Saponification) করলে সাবান উৎপন্ন হয়।

• সাবান (Soap):
- সাবান একটি বহুল ব্যবহৃত পরিষ্কারক পদার্থ, যা দেহ ও কাপড়–চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- আধুনিক জীবনে সাবানের পাশাপাশি ডিটারজেন্ট, ইমালশন, পলিশ ইত্যাদিও পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
 
• রাসায়নিক গঠন:
- সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
 
• কাঁচামাল:
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো তেল বা চর্বি।
 
• সাবান তৈরির প্রক্রিয়া:
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) অথবা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH)–এর জলীয় দ্রবণের সাথে আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis) করলে—
- সোডিয়াম সাবান অথবা
- পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
 
• উপজাত পদার্থ:
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন (Glycerin) পাওয়া যায়।

উৎস: রসায়ন, নবম–দশম শ্রেণি।

১৩৭.
কোন ধাতুর Ductility সর্বোচ্চ?
  1. কাচা লোহা
  2. তামা
  3. জিঙ্ক
  4. সোনা
ব্যাখ্যা
• Ductility বা নমনীয়তা:
- Ductility বা নমনীয়তা (নমনশীলতা) হলো একটি পদার্থের সেই বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে সেটিকে সহজেই তার (wire) আকারে টানা যায়, ভেঙে না গিয়ে।
- সোনার (Gold - Au) Ductility সর্বোচ্চ।

• কারণ:
- এটি অত্যন্ত নমনীয় এবং প্রসারণযোগ্য ধাতু।
- মাত্র ১ গ্রাম সোনা দিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার (২০০০ মিটার) লম্বা তার তৈরি করা যায়!
- সোনা সহজে না ভাঙে, না ফাটে, বরং খুব পাতলা ও লম্বা আকৃতিতে টানা যায়।
- এটি অন্যান্য ধাতুর তুলনায় বেশি নমনীয়, তাই গয়না, বৈদ্যুতিক তার ও ন্যানো টেকনোলজিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৩৮.
চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম কী? 
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম সালফেট
  3. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3)
- চুনের নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO). 
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2
- চুন (CaO) এর সাথে পানি (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 
- মরিচার রাসায়নিক নাম - Fe2O3.nH2O. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৯.
সাধারণত হাইড্রোজেন বলতে হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপকে বোঝায়?
  1. প্রোটিয়াম
  2. ডিউটেরিয়াম
  3. ট্রিটিয়াম
  4. হাইড্রোজেন-৪
ব্যাখ্যা
• সাধারণত হাইড্রোজেন বলতে হাইড্রোজেনের প্রথম আইসোটোপ প্রোটিয়ামকেই বোঝায়।

• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 

• হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে।
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়।

• সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই (1H) বোঝায়। 


তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৪০.
মিথেনের দহন কোন ধরনের পরিবর্তন? 
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন উভয়ই 
  4. জৈব পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

- পরিবেশে সবসময় নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।  
- একটুকরা লোহাকে খোলা অবস্থায় বাতাসে কিছুদিন রেখে দিলে তার উপর এক প্রকার আবরণ পড়ে, এটিকে মরিচা বলে। আবার তাপদিলে বরফ গলে পানি হয় ও পানি এক সময়ে আরো তাপে বাষ্পে পরিণত হয়। 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন- একটি হলো ভৌত পরিবর্তন ও অপরটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন। 
১। ভৌত পরিবর্তন (Physical Change): 
- ভৌত পরিবর্তনে কোনো নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না, বরং পদার্থের অবস্থা (যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা বা চৌম্বক অবস্থা) পরিবর্তিত হয়। 
যেমন- 
ইস্পাতের চুম্বকত্ব: 
- ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করলে এটি একসময় লোহাকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা পায়, তবে এতে ইস্পাতের গঠন বা উপাদানে কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধুমাত্র তার চৌম্বক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 

লবণ দ্রবণ: 
- খাবার লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ তৈরি হলে এবং পরে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে যায়, এবং শুধু লবণই অবশিষ্ট থাকে। এতে লবণের গঠন বা সংযোগে কোনো পরিবর্তন ঘটছে না, কেবল অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পরিবর্তন: 
- তাপে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হয়ে শীতল স্থানে জমা হয়, তবে এতে কোনো নতুন উপাদান তৈরি হচ্ছে না, শুধুমাত্র অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

২। রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change): 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণু বা আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়।
যেমন- 
জ্বালানি পুড়ানোর মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- কয়লা, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন ইত্যাদি পুড়িয়ে তাপ, আলো এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই পরিবর্তনে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O2) একত্রিত হয়ে নতুন পদার্থ CO2 সৃষ্টি করে, এবং এতে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে। 

উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ: 
- উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 ও পানি গ্রহণ করে, এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে স্টার্চ বা সেলুলোজ উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ একটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 

মিথেনের দহন: 
- মিথেন (CH4) ও অক্সিজেন (O2) জ্বালালে CO2 ও পানির (H2O) সৃষ্টি হয়, এতে মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় যা রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। 

শরীরের পুষ্টি প্রক্রিয়া: 
- দেহে খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা শক্তি ও পুষ্টি প্রদান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪১.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি?
  1. হীরক
  2. ইস্পাত
  3. টাইটেনিয়াম
  4. প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা
• কার্বন:
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক।
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়।
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস  তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪২.
কোনো ধাতুর উপর জিংক বা দস্তার প্রলেপ দেওয়াকে বলে- 
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. ভলকানাইজিং
  3. গ্যালভানাইজিং
  4. টিনপ্লেটিং
ব্যাখ্যা

• গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংক বা দস্তার প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়।

• ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৪৩.
নীচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
• কার্বন মনোক্সাইড:
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে।
- কার্বন মনোক্সাইড ইংরেজিতে Carbon Monoxide (রাসায়নিক সংকেত: CO) হল একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম।
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে।
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত।

• কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে:
- দুর্বলতা,
- বমি বমি ভাব,
- মাথা ঘোরানো,
- ক্লান্তি,
- ক্ষুধা,
- মাথা ব্যাথা,
- অজ্ঞান হওয়া,
- খিঁচুনি ইত্যাদি। 

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website.
১৪৪.
কোন গ্যাসকে নীরব ঘাতক বলা হয়?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোঅক্সাইড
  3. নাইট্রাস অক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোঅক্সাইড:
- কার্বন মনোঅক্সাইডকে নীরব ঘাতক বলা হয়।
- গ্যাসটি বিষাক্ত; কিন্তু রং, গন্ধ ও স্বাদহীন।
- তাই মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন।
- দীর্ঘ সময় গ্যাসটি শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে মৃত্যুও হতে পারে।

উল্লেখ্য,
- জীবাশ্ম জ্বালানির উৎসগুলো পুরোপুরি দহন বিক্রিয়ায় বা পুড়ে উপজাত হিসেবে তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস।
- কিন্তু এই দহন বিক্রিয়া অসম্পূর্ণ হলে তৈরি হয় কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাস।
- এর সংকেত CO।
- সাধারণত দহনের সময় পরিবেশে অক্সিজেনের অভাব থাকলে এরকম অসম্পূর্ণ দহন বিক্রিয়া ঘটে।
- মানুষের তৈরি বিভিন্ন উৎস থেকে কার্বন মনোক্সাইড নিঃসৃত হয়।
- যেমন অটোমোবাইল বা গাড়ির ইঞ্জিন, বহনযোগ্য জেনারেটর, ত্রুটিযুক্ত কেরোসিন বা গ্যাস হিটার ও বয়লার, ছিদ্রযুক্ত চিমনি ও ফার্নেস ইত্যাদি।
- সাধারণত এ কারণেই গাড়ি ও বাড়ির ভেতরে এই উদ্বায়ী গ্যাস নিঃসৃত হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৫.
নিচের কোনটি পেট্রোলিয়াম নয়?
  1. ক) প্রোপেন
  2. খ) গ্যাসোলিন
  3. গ) বিউটেন
  4. ঘ) অ্যাসিটোন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
পেট্রোলিয়াম হলো খনিজ তেল, অর্থাৎ খনিতে পাওয়া তরল জ্বালানি পদার্থ। সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস এর সাথে খনিতে পেট্রোলিয়ামও থাকে। প্রোপেন ও বিউটেন স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় হলেও উচ্চ চাপে তরল অবস্থায় থাকে বলে এরাও পেট্রোলিয়ামের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া গ্যাসোলিন, কেরোসিন, ডিজেল- এগুলো সবই পেট্রোলিয়াম।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৪৬.
কাঁচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) সিলিকা
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) শাজিমাটি
ব্যাখ্যা
- কাঁচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বালি বা সিলিকা
- কাঁচ তৈরির মূল উপকরন কোয়ার্টজ (সিলিকা), সোডা ও চুন।
- যখন এগুলির মিশ্রণকে ১২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে উত্তপ্ত করা হয়, তখন এগুলি গলতে শুরু করে এবং তৎক্ষণাৎ যদি ঠাণ্ডা করা যায় তাহলে কাঁচের জন্ম হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, বিজ্ঞান বোর্ড বই। 
১৪৭.
  1. ক) 17
  2. খ) 35
  3. গ) 18
  4. ঘ) 52
ব্যাখ্যা

কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রােটন+নিউট্রন সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেহেতু, ভরসংখ্যা হলাে প্রােটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যােগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রােটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে।

এখানে, Cl- এর ভরসংখ্যা 35 এবং প্রােটন সংখ্যা 17।
সুতরাং, নিউট্রন সংখ্যা = 35 - 17 = 18।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর। রসায়ন বাের্ড বই।

১৪৮.
একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা -
  1. ক) শুন্য
  2. খ) বেশি
  3. গ) একই
  4. ঘ) কম
ব্যাখ্যা
প্রমাণ বা আদর্শ কোষ: সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
সুতরাং প্রমিত করার (Standardisation) কাজে অথবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে যেখানে প্রায় অপরিবর্তনীয় তড়িচ্চালক বলের প্রয়োজন হয় সে সব ক্ষেত্রে সাধারণ কোষ ব্যবহার করা যায় না। 
যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। 
ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরণের কোষ। এগুলোকে পরাবর্ত কোষ (Reversible) বলে।
 
অর্থাৎ, যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ
কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে। 
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৪৯.
সিএনজি পাম্প থেকে গাড়িতে যে গ্যাস পূর্ণ করা হয় তা মুলত
  1. ক) মিথেন
  2. খ) প্রােপেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা
- জ্বালানি হিসেবে তেল মানে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল বহুল পরিচিত। 
- গাড়ি চালানোর খরচ কমাতে দেশে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন। প্রাকৃতিক গ্যাসে এর পরিমাণ প্রায় ৮০%।
- এছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, আইসোবিউটেন, পেন্টেন ইত্যাদি উপাদানও উপস্থিত থাকে।
- বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গিয়েছে, তার ৯৯.৯৯% উপাদান হলো মিথেন
 
উৎস: প্রথম আলো, রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
 
১৫০.
নিচের কোনটি খাবার সোডা হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  2. সোডিয়াম কার্বনেট
  3. সোডিয়াম বাই কার্বনেট
  4. সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ
ব্যাখ্যা
- সোডিয়াম বাই কার্বনেট অর্থাৎ সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট হলো খাবার সোডা বা বেকিং সোডা। 
- সোডিয়াম কার্বনেট বা সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো কাপড় কাচার সোডা। 
- সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ হলো বেকিং পাউডার। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৫১.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে বলা হয় - 
  1. অণু
  2. নিউট্রন
  3. ইলেকট্রন
  4. পরমাণু
ব্যাখ্যা

• পরমাণু:
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।

• পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক।
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে।
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি।
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না।

• অণু:
- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।

• ইলেকট্রন:
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।

• নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫২.
এরিস্টটলের মতানুসারে, সকল বস্তু মূলত কতটি উপাদান দিয়ে তৈরি? 
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
রয়ায়ন পরিচিতি: 
- মানব সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ রসায়নের জ্ঞান প্রয়োগ করে আসছে। 
- প্রাচীন মিশরীয় ও ভারতীয় সভ্যতার যে সকল নিদর্শন পাওয়া গেছে তাতে বিভিন্ন ধাতু যেমন- লোহা, তামা, সোনা ইত্যাদির ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। 
- আবার প্রাচীন যুগের অনেক গুহাচিত্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যা থেকে প্রাচীনকালে রং প্রস্তুতি ও তার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। 
- আনুষ্ঠানিক রসায়ন চর্চা বা তত্ত্বের প্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় প্রাচীন গ্রীসে। 
- বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল খৃষ্টপূর্ব প্রায় ৩০০ অব্দে পদার্থের গঠন ও ধর্ম নিয়ে একটি মতবাদ দেন। এই মতবাদ অনুসারে পৃথিবীর সকল বস্তুই চারটি উপাদান যথা: বায়ু, মাটি, পানি ও আগুন দিয়ে তৈরি এবং সকল বস্তুর মাত্র চারটি ধর্ম আছে যথা- শুকনা, ভেজা, গরম ও ঠাণ্ডা। 

-  প্রাচীন ও মধ্যযুগে 'আল-কেমি'গণ সস্তা বস্তু থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন, স্বর্ণ প্রস্তুতের চেষ্টা করেন। তাছাড়া কিছু 'আল-কেমি' অমরত্বের ঔষধ প্রস্তুতির চেষ্টা চালিয়ে যান, যদিও স্বর্ণ বা অমরত্বের ঔষধ দুটোই 'আল-কেমি'গণ আবিষ্কারে ব্যর্থ হয়। তবুও তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলে নতুন নতুন রাসায়নিক পদার্থের আবিষ্কার ঘটে যা রসায়ন বিদ্যার বিকাশকে বেগবান করে। 
- 'আল-কেমি' শব্দটি আরবি 'আল-কিমিয়া' থেকে উদ্ভূত যা দিয়ে মিশরীয় সভ্যতাকে বুঝানো হতো। 
- পরবর্তীতে রবার্ট বয়েলের (Robert Boyle) রচিত পুস্তক 'The Skeptical Chemist' প্রকাশের মাধ্যমে আধুনিক রসায়নের বিকাশ শুরু হয়, যা বর্তমানে বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। 
- রসায়ন হচ্ছে ভৌত বিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে পদার্থের গঠন, সংযুক্তি, পরিবর্তন, প্রস্তুতি ও ধর্ম নিয়ে চর্চা করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৩.
মোমের জ্বলনের সময় কোন গ্যাসের উৎপত্তি হয়?
  1. সালফার ডাই-অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

মোমের তিন অবস্থা: 
- মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। 
- হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। 
- মোমের প্রজ্বলনে মোমের কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় এই তিনটি অবস্থাই দেখা যায়। 
- মোম বাতিতে মোমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। অর্থাৎ, কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হয়। ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়।
- অতপর ঐ বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে।
- তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে আবার কঠিন মোমে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৪.
মাটির অম্লতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. সোডা লেমন
  2. ভিনেগার
  3. চুন
  4. সালফিউরিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে। 
- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• NaOH → Na+ + OH- 
• KOH → K+ + OH- 
- ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মৌমাছি হুল ফুটালে এবং পিঁপড়া কামড় দিলে শরীরে যেহেতু ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলি জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে। 
- এসিডের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে ক্ষারক ধর্মীয় মলম, লোশন (যেমন চুন), ক্যালামিন (যা জিংক কার্বোনেট) এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়, যা এই জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। 

মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মাটিতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়, যা প্রশমিত করতে ক্ষারক যেমন- চুন (CaO), মিল্ক অব লাইম (Ca(OH)2 এবং চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ক্ষারীয় পদার্থ হয়ে মুখে এসিডীয় অবস্থা নিরসন করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। 
- সাবান যেমন- শক্ত সাবান, তরল সাবান এবং কাপড় কাচার সাবান ক্ষারক হিসেবে তৈরি হয়। আবার শেভিং ফোম এবং নরম সাবানও ক্ষারক দিয়ে তৈরি। 
- গ্যাস্ট্রিক ব্যথা বা এসিডিটির জন্য ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৫.
22 ক্যারেট স্বর্ণে কত শতাংশ স্বর্ণ থাকে?
  1. ক) ৯১.৭%
  2. খ) ৮৫%
  3. গ) ৯৯%
  4. ঘ) ৬৭.৫%
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সংকর ধাতু এবং তাদের উপাদান: 


উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।



উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই, NCTB.

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বেশি গ্রহনযোগ্য কারন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সাথে তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে। যেমন: 


উৎস: worldgoldcounsil.
১৫৬.
বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত কোনটি? 
  1. ZnCO
  2. NaHCO
  3. CaCO
  4. CH3COOH 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক সংকেত: 
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH. 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৭.
ব্যাপন প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের প্রক্রিয়া? 
  1. জৈব প্রক্রিয়া
  2. শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া
  3. ভৌত প্রক্রিয়া
  4. রাসায়নিক প্রক্রিয়া 
ব্যাখ্যা
ব্যাপন (Diffusion): 
- ঘরের এক কোণে কিছু সুগন্ধি ঢেলে দিলে তার সুগন্ধ সারা ঘরে ছড়িয়ে যায়, কারণ এর ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। আবার, এক গ্লাস পানিতে কিছু চিনি ছেড়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্লাসের পানি মিষ্টি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে চিনির অণু পানিতে ছড়িয়ে পুরো পানিকে মিষ্টি স্বাদযুক্ত করে তোলে, এই প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ব্যাপন একটি ভৌত প্রক্রিয়া (Physical process)। 
- যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো দ্রব্যের অণু বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তাকে ব্যাপন প্রক্রিয়া বলে। 
- একই তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের বেশি ঘনত্ববিশিষ্ট দ্রবণ থেকে কম ঘনত্বের দ্রবণের দিকে দ্রাবকের ব্যাপিত হওয়ার প্রচ্ছন্ন ক্ষমতাকে ব্যাপন চাপ বলে। 
- একই বায়ু চাপে কোনো একটি দ্রবণ ও দ্রাবকের ব্যাপন চাপের পার্থক্যকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি (Diffusion pressure deficit) বলে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে এই ব্যাপন চাপ ঘাটতির ফলে পানির ঘাটতি আছে, এমন কোষ পাশের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়। 
- এক কথায় উদ্ভিদের পানি শোষণে ব্যাপনের গুরুত্ব অপরিসীম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৮.
নিচের কোনটি কপার ধাতুর আকরিক?
  1. ক) ক্যালামাইন
  2. খ) বক্সাইট
  3. গ) চালকোসাইট
  4. ঘ) হেমাটাইট
ব্যাখ্যা
আকরিক:
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না।
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে।
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে ।
- এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে ।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৯.
ড্যানিয়েল কোষ এক ধরনের -
  1. সঞ্চয়ী কোষ
  2. সেকেন্ডারি কোষ
  3. প্রাইমারি কোষ
  4. উভমুখী কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৬০.
অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে কী উৎপন্ন করে? 
  1. লবণ ও পানি
  2. পানি ও ক্ষার
  3. লবণ ও ক্ষারক
  4. অক্সিজেন ও লবণ
ব্যাখ্যা
লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ। 
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে। 


- এ ছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। 
- এই লবণগুলোর মধ্যে কোনোটি অম্লীয়, আবার কোনো ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
i) পূর্ণ সরল লবণ (Simple salt): NaCl, KNO3, CaCO3
(ii) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3
(iii) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬১.
নিউট্রনের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. ঋণাত্মক আধানযুক্ত 
  2. ধনাত্মক আধানযুক্ত 
  3. আধানহীন 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।  
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬২.
বিরল ভূতল খনিজ (Rare-Earth Minerals) সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. এর মধ্যে ১৫টি ধাতু রয়েছে
  2. লিথিয়াম এই খনিজের মধ্যে অন্যতম সদস্য
  3. এর অসাধারণ চৌম্বক ধর্ম রয়েছে
  4. ইউক্রেন এ খনিজ উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে আছে
ব্যাখ্যা

- বিরল ভূতল খনিজ (Rare-Earth Minerals) সম্পর্কিত সঠিক তথ্যটি হচ্ছে- বিরল ভূতল খনিজ পদার্থের অসাধারণ চৌম্বক ধর্ম রয়েছে। 
অন্যদিকে, 
- বিরল ভূতল খনিজ মৌল রয়েছে ১৭ টি। 
- বিরল ভূতল খনিজের মধ্যে কিছু মাত্রায় লিথিয়াম পাওয়া যায় কিন্তু এটি এগুলোর অন্যতম সদস্য নয়। 
- উৎপাদনের দিক থেকে চীন শীর্ষস্থানে রয়েছে। 

বিরল খনিজ: 

- ১৭টি মৌলের একটি গ্রুপ হলো বিরল খনিজ। 
- ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পিওর অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির (আইইউপিএসি) নামকরণ অনুযায়ী, পর্যায় সারণির ল্যান্থানাইড সিরিজের ১৫টি মৌলের (ল্যান্থানাম, সিরিয়াম, প্রাসিয়োডিমিয়াম, নিওডিমিয়াম, প্রমিথিয়াম, স্যামারিয়াম, ইউরোপিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টারবিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, হোলমিয়াম, আরবিয়াম, থুলিয়াম, ইটারবিয়াম ও লুটেশিয়াম) সঙ্গে স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়ামকে একত্রে বিরল খনিজ বলছে যুক্তরাষ্ট্রের জিওসায়েন্স ইনস্টিটিউট। 
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খনিজ সংস্থা ভার্জিনিয়া এনার্জির মতে, বিরল খনিজের দুটি ভাগ রয়েছে- হালকা ও ভারী। 
- হালকা বিরল খনিজের মধ্যে আছে ল্যান্থানাম, সিরিয়াম, প্রাসিয়োডিমিয়াম, নিওডিমিয়াম, প্রমিথিয়াম ও স্যামারিয়াম। 
- আর ভারী বিরল খনিজের মধ্যে আছে ইউরোপিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টারবিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, হোলমিয়াম, আরবিয়াম, থুলিয়াম, ইটারবিয়াম ও লুটেশিয়াম। এছাড়া আছে স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়াম। 

- আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে বিরল খনিজ অপরিহার্য। আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিরল খনিজের ব্যবহার আছে।
যেমন-
• মুঠোফোন, কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড যানবাহন, টেলিভিশনের এলইডি ডিসপ্লে তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
• প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি যেমন- লেজার, রাডার ও সোলার সিস্টেম, জেট ইঞ্জিন, মিসাইল সিস্টেম ও স্যাটেলাইটেও এর ভূমিকা আছে। 
• এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তি, যেমন- বায়ু টারবাইন ও সৌর প্যানেল এবং চিকিৎসা, অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি (যন্ত্র নির্মাণশিল্প) এবং কাচ ও সিরামিক শিল্পও এখন বিরল খনিজনির্ভর। তবে এদের উত্তোলন এবং পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল। 

- চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজ মজুতের অধিকারী। দেশটিতে ৪ কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন বিরল খনিজ মজুত আছে। বর্তমানে বিরল খনিজ খননের ৭০ শতাংশ, প্রক্রিয়াজাতকরণের ৯০ শতাংশ আর চুম্বক তৈরির ৯৩ শতাংশই চীনের হাতে। 
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল, দেশটির মজুতের পরিমাণ ২ কোটি ১০ লাখ টন। 
- এছাড়া ভারতে ৬৯ লাখ টন, অস্ট্রেলিয়ায় ৫৭ লাখ টন, রাশিয়ায় ৩৮ লাখ টন, ভিয়েতনামে ৩৫ লাখ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ লাখ টন বিরল খনিজের মজুত আছে। 
- উৎপাদনের দিক থেকেও চীন শীর্ষস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি ২ লাখ ৭০ হাজার টন বিরল খনিজ উৎপাদন করেছে। 
- একই বছর ব্রাজিল ও ভারত ২ হাজার ৯০০ টন, রাশিয়া ২ হাজার ৫০০ টন এবং যুক্তরাষ্ট্র ৪৫ হাজার টন বিরল খনিজ উৎপাদন করেছে।
- আর ১৩ হাজার টন উৎপাদন নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া। 

- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল যেমন সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহের পাহাড়ি স্রোতধারা, গাইবান্ধার যমুনা নদী, ধরলা নদীর বালু, এবং দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে তেজস্ক্রিয় মৌল ও বিরল মৃত্তিকা মৌলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। 
- বিশেষ করে মোনাজাইট ও জিরকনের সঙ্গে যুক্ত এসব মৌলের মধ্যে লিথিয়াম, ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, স্যামারিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টারবিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়াম উল্লেখযোগ্য। 
- গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি বালুতে ৬০–১৭৬ মিলিগ্রাম বিরল মৌল থাকতে পারে, যা দেশের জন্য বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা তৈরি করছে। 
 
উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা [লিঙ্ক] [লিঙ্ক] এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

১৬৩.
রাসায়নিক প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে প্রধানত নতুন কোন যৌগগুলো উৎপন্ন হয়?
  1. ক্ষার ও লবণ
  2. এসিড ও ক্ষার
  3. এসিড ও হাইড্রোজেন
  4. লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা

• প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে পরস্পরকে নিষ্ক্রিয় করে এবং ফলস্বরূপ লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

• প্রশমন বিক্রিয়া:
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়।
- যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়।
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৪.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ হিসেবে কোনটি বিবেচিত হয়? 
  1. লিনোলিক এসিড
  2. স্টিয়ারিক এসিড
  3. অক্সালিক এসিড
  4. অলিয়িক এসিড
ব্যাখ্যা

• সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড (Saturated Fatty Acid) হলো সেই ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড যার কার্বন চেইনে দুটি কার্বনের মধ্যে একক বন্ধন (single bond) ছাড়া আর কোনো দ্বৈত বন্ধন (double bond) থাকে না। এর ফলে এগুলো সাধারণত কক্ষে দৃঢ় এবং তাপমাত্রা বাড়ালে ঘন অবস্থায় থাকে। উদাহরণ হিসেবে স্টিয়ারিক এসিড বিবেচিত হয়, যা একটি সাধারণ সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রধানত প্রাণীজ তেল ও মাখনে পাওয়া যায়। অন্যদিকে লিনোলিক এসিড ও অলিয়িক এসিড হলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, যেখানে এক বা একাধিক দ্বৈত বন্ধন থাকে, আর অক্সালিক এসিড হলো একটি কার্বোক্সিলিক অ্যাসিড যা ফ্যাটি অ্যাসিডের শ্রেণিতে পড়ে না। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) স্টিয়ারিক এসিড।

ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 

• সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড। 

• অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড, 
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

১৬৫.
কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা __________ ।
  1. কম
  2. বেশি
  3. সমান
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 


- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৬.
Which acid is used in automobile batteries?
  1. Sulfuric acid
  2. Hydrochloric acid
  3. Hydrofluoric acid
  4. Nitric acid
  5. Carbonic acid
ব্যাখ্যা
এসিড:
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ব্যবহার করা হয়।
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।
- সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH₄NO₃), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH₄)₂SO₄] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH₄)₃PO₄]।
- সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO₃), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) এবং ফসফরিক এসিড (H₃PO₄) ব্যবহার করে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৭.
পানির কয়টি অবস্থা রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা: 
- রোদে ফেলে রাখা একখন্ড বরফ লক্ষ্য করেলে দেখা যায় বরফর খন্ড গলতে থাকে এবং এর চারিদিকে পানি গড়িয়ে পড়ে। 
- আর কিছুক্ষণের মধ্যে পানি বাস্প হয়ে উড়ে যেতেও দেখা যায়। 
- এই বরফ, পানি আর পানি বাষ্প তিনটিই আসলে পানির তিনটি অবস্থা যা কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- সকল পদার্থেরই কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিনটি অবস্থা হতে পারে। 
- পদার্থেরই কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিনটি অবস্থা নির্ভর করে তাপ বা তাপমাত্রার উপর। 
- তাপ একটি শক্তি। 
- কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে তাপমাত্রা বাড়ে, এবং একসময় তা তরলে রূপান্তরিত হয়, তরল পদার্থের তাপমাত্রা বাড়ালে এক পর্যায়ে তা বায়বীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়। বিপরীতভাবে তাপমাত্রা কমালে বায়বীয় পদার্থ তরল হয়। 
যেমন- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়। 
- তরল পদার্থের তাপমাত্রা কমলে এক সময় কঠিন হয়। 
যেমন- শীত প্রধান এলাকায় পানি জমে বরফ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
কোন শিখা লোহা গলিয়ে জোড়া লাগাতে সাহায্য করে -
  1. অক্সি-হাইড্রোজেন শিখা
  2. অক্সি-নাইট্রোজেন শিখা
  3. অক্সি-অ্যামোনিয়াম শিখা
  4. অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা
ব্যাখ্যা
- ১৯১৬ সাল নাগাদ অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে বিকশিত হয়েছিলো। 
- তখনকার এই ঢালাই কৌশল এখনও ব্যবহৃত হয়। 
- অক্সিজেন ও অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাসের মিশ্রণকে অক্সি অ্যাসিটিলিন বলা হয়। 
- এই মিশ্রণকে প্রজ্জ্বলিত করলে, যে অগ্নিশিখার সৃষ্টি হয় তাকেই অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা বলে। 
- এই শিখার তাপমাত্রা ৩০০০-৩৫০০° ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে থাকে। 
- এই অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা লোহা গলিয়ে জোড়া লাগাতে সাহায্য করে। 

উৎস: britannica.com

- By 1916 the oxyacetylene process was well developed, and the welding techniques employed then are still used. 
source: britannica.com
১৬৯.
স্বর্ণের খাদ বের করার জন্য স্বর্ণকারগণ কোন অ্যাসিড ব্যবহার করে থাকেন?
  1. সালফিউরিক অ্যাসিড
  2. নাইট্রিক অ্যাসিড
  3. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড
  4. ইথানয়িক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
সোনার বিশুদ্ধতা নির্ধারণের জন্য যে অ্যাসিড ব্যবহার করা হয় তা হলো নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃)

কীভাবে কাজ করে:
- নাইট্রিক অ্যাসিড অনেক ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে, কিন্তু খাঁটি সোনার সাথে বিক্রিয়া করে না, কারণ সোনা রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়।
- সোনার একটি ছোট নমুনার উপর নাইট্রিক অ্যাসিড প্রয়োগ করা হলে,
- যদি এতে তামা বা রূপার মতো অমিশ্রণ থাকে, তাহলে এগুলো নাইট্রিক অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে গলে যায় এবং বুদবুদ বা রঙের পরিবর্তন দেখা যায়।
- যদি সোনা খাঁটি হয়, তাহলে কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না।

উৎস: www.caratlane.com
১৭০.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।

- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (¹H, ²H, ³H, ⁴H, ⁵H, ⁶H এবং ⁷H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ।
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১৭১.
সবচেয়ে হালকা নিষ্ক্রিয় গ্যাস কোনটি?
  1. রেডন
  2. জেনন
  3. হাইড্রোজেন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন এবং ওগানেসন হলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
- এগুলোর মধ্যে হিলিয়াম হলো সবচেয়ে হালকা গ্যাস। হিলিয়ামের বেলুন উড্ডয়নের ক্ষমতা ৯২%। 

- হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা গ্যাস হলেও তা কোনো নিষ্ক্রিয় গ্যাস নয়। 

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭২.
ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস কি?
  1. ক) নিকেল ৬০
  2. খ) কোবাল্ট ৬০
  3. গ) কপার ৬০
  4. ঘ) জিংক ৬০
ব্যাখ্যা
- ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলাে আইসােটোপ।
- যেসব পরমাণুর প্রােটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাকে আইসােটোপ বলে।
- ক্যান্সার চিকিৎসায় সাধারণত কোবাল্ট-৬০ আইসােটোপ ব্যবহার করা হয়।
১৭৩.
নিচের কোন মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে?
  1. কার্বন
  2. ফসফরাস
  3. সালফার
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বহুরূপী মৌল: 
- প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে। 
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- অদানাদার রূপভেদ হলো কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের একটি দানাদার রূপভেদ হলো গ্রাফাইট যা বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৭৪.
বারুদ এবং দেয়াশলাই উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়-
  1. ক) কপার
  2. খ) সালফার
  3. গ) জিঙ্ক
  4. ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
সালফার: প্রকৃতিতে সালফার মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়
একে খনি থেকে উত্তোলন করে প্রক্রিয়াজাত না করেই ব্যবহার করা যায়।
সাধারণত মাটির গভীরে সালফারের খনি অবস্থান করে। 
সালফারের ব্যবহারঃ
সালফারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে।
রসায়ন শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান সালফিউরিক এসিড উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে সালফার ব্যবহার করা হয়।
তাছাড়া বারুদ, দেয়াশলাই, রাবার ভলকানাইজিং, সালফাড্রাগসহ বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ উৎপাদনে সালফার ব্যবহার করা হয়।


উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৭৫.
কোন ধরনের কয়লাকে সর্বোচ্চ মানের কয়লা হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. পিট
  2. লিগনাইট
  3. বিটুমিনাস
  4. অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা

অ্যানথ্রাসাইট (Anthracite) হলো সবচেয়ে উচ্চমানের কয়লা, যাতে কার্বনের পরিমাণ সর্বাধিক এবং আর্দ্রতা ও অমিশ্রণ খুব কম থাকে। এটি ধোঁয়াবিহীন ও অধিক তাপ উৎপাদনকারী।

কয়লা:
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা।
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)।
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে।
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা।
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।

কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে।
যথা -
১। অ্যানথ্রাসাইট,
২। বিটুমিনাস এবং
৩। লিগনাইট।

- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে।
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে।
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৬.
দুর্বল এসিড কোনটি? 
  1. সালফিউরিক এসিড 
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সাইট্রিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
ব্যাখ্যা

দুর্বল এসিড: 
- সাধারণত জৈব এসিড গুলো দুর্বল হয়ে থাকে।
- বিভিন্ন শাকসবজি ফল-মূলে এ এসিডগুলো বিদ্যমান থাকে।
- তাই জৈব এসিড খাওয়ার উপযোগী।
যেমন: ইথানয়িক এসিড, টারটারিক এসিড, এসিটিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, এসকরবিক এসিড, ম্যালিক এসিড ইত্যাদি।

শক্তিশালী এসিড: 
- অজৈব এসিড গুলো সাধারণত শক্তিশালী এসিড হয়ে থাকে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।
- তাই অজৈব এসিডগুলো খাওয়া যায় না।
যেমন: হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৭.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ নয়? 
  1. লিথিয়াম 
  2. অক্সিজেন
  3. ম্যাগনেসিয়াম 
  4. পটাশিয়াম 
ব্যাখ্যা

- লিথিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সবই ইলেকট্রন দান করে, তাই এ পদার্থগুলো বিজারক। কিন্তু অক্সিজেন ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এটি জারক। 

বিজারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), H2S, H2O2, SO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- অক্সিজেন (O2), ক্লোরিন (Cl2), ফ্লোরিন (F2), H2SO4, HNO3, H2O2, SO2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৮.
কোন মৌলের ভরসংখ্যা ৬৫ এবং ইলেকট্রনের সংখ্যা ৩০ হলে, ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা যথাক্রমে-
  1. ক) ৯৫ ও ৩৫
  2. খ) ৩৫ ও ৯৫
  3. গ) ৩০ ও ৩৫
  4. ঘ) ৩৫ ও ৩০
ব্যাখ্যা
• কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা।
আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।
তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান।
অর্থাৎ, উপরিউক্ত মৌলের প্রোটন সংখ্যা ৩০টি।

• কোনো মৌলের ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার পার্থক্য হল নিউট্রন সংখ্যা।
অর্থাৎ,
ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
বা, নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা।
সুতরাং, উপরোক্ত মৌলের নিউট্রন সংখ্যা হবে ৩৫টি।

সূত্র: বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি
১৭৯.
অ্যালুমিনিয়াম ধাতুর আকরিক কোনটি? 
  1. জিপসাম
  2. লিমোনাইট
  3. রকসল্ট
  4. ক্রায়োলাইট
ব্যাখ্যা
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
• বক্সাইট, 
• কোরান্ডাম, 
ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
• রকসল্ট, 
• চিলি সল্টপিটার, 
• ন্যাট্রোন, 
• বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
• চুনাপাথর, 
• জিপসাম, 
• ডলোমাইট ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
• ম্যাগনেটাইট, 
• হেমাটাইট, 
• আয়রন পাইরাইটস, 
• লিমোনাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮০.
রঙিন কাঁচকে বর্ণহীন করার জন্য বিরঞ্জক হিসেবে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. Cu2O
  2. NiO
  3. FeO
  4. MnO2
ব্যাখ্যা
কাঁচ: 
- কাঁচ বা গ্লাস হলো রাসায়নিক গঠনগতভাবে সোডিয়াম-ক্যালসিয়াম-দ্বি সিলিকেট মিশ্রণ, যা দেখতে স্বচ্ছ, শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর, অনিয়তাকার (non-crystalline) কঠিন পদার্থ। 
- কাঁচের কোনো নির্দিষ্ট সংকেত বা সংযুক্তি নেই। 
- কেলাসাকার কঠিন পদার্থ যেমন NaCl এর নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক (801°C) থাকলেও কাঁচের কোনো সুনির্দিষ্ট গলনাঙ্ক নেই। 
- কাঁচকে তাপ দিলে ধীরে ধীরে নরম হয় অর্থাৎ গলন শুরু হয় (প্রাথমিক গলনাঙ্ক) এবং তাপমাত্রার একটি বিস্তৃত সীমার (যেমন প্রায় 500°C) মধ্যে সম্পূর্ণ গলে গিয়ে (সর্বোচ্চ গলনাঙ্কে) সর্ব নিম্ন সান্দ্রতা (101 poise) যুক্ত তরলে পরিণত হয়। 

কাঁচের উপাদান: 
- অনেক ধরনের কাঁচ বাজারে পাওয়া যায়, এদের সংযুক্তি বিভিন্ন। 
- তবে কাঁচ তৈরির প্রধান উপাদান হলো সিলিকা বালি (SiO2), চুন (CaO) বা চুনাপাথর (CaCO3) ও সোডা অ্যাস (Na2CO3). 
- এ তিনটি মূল উপাদান থেকে উৎপাদিত সাধারণ কাঁচের মোটামুটি সংযুক্তি হলো Na2O.CaO.6SiO2

কাঁচের গৌণ উপাদান: 
- গৌণ উপাদানরূপে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কাঁচ তৈরির জন্য নিচের দুই বা ততোধিক উপাদান উপরের মূল উপাদানের সাথে মিশিয়ে চুল্লিতে উত্তপ্ত করা হয়। 
- গৌণ উপাদানগুলো হলো পটাশ (K2CO3), BaSO4, BaCO3, বোরিক এসিড (H3BO3), বোরাক্স (Na2B4O7), জিংক কার্বনেট (ZnCO3), কেওলিন বা চীনা মাটি (Al2O3.2SiO2.2H2O). 
- রঙিন কাঁচ তৈরিতে অবস্থান্তর ধাতুর অক্সাইড যেমন Cu2O, FeO, Fe2O3, Cr2O3, NiO মূল উপাদানের সাথে যোগ করা হয়। 
- অস্বচ্ছ কাঁচ তৈরির জন্য অ্যান্টিমনি, টিন ও আর্সেনিক অক্সাইড বা সালফাইড যোগ করা হয়। 
- সিলিকা বালিতে FeO থাকলে উৎপন্ন কাঁচ সবুজ বর্ণের এবং Fe2O3 থাকলে হলুদাভ হয়। তখন কাঁচকে বর্ণহীন করার জন্য বিরঞ্জকরূপে MnO2 যোগ করা হয়। 
- গলিত কাঁচে আবদ্ধ গ্যাস-বুদবুদ যেমন CO2 ও SO2 দূর করার জন্য স্বচ্ছকারকরূপে NaNO3, Al2O3, NH4Cl ইত্যাদি যোগ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারো ও নাগ)।
১৮১.
সিমেন্টের সেটিং প্রক্রিয়াকে মন্থর করতে কোন উপাদান ব্যবহার করা হয়? 
  1. ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট 
  2. জিপসাম 
  3. সিলিকা 
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট 
ব্যাখ্যা

সিমেন্ট সেটিং-এ জিপসামের ভূমিকা: 
- সিমেন্টের উপাদান ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট (3CaO.Al2O3) সিমেন্ট জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কিন্তু জিপসাম (CaSO4.2H2O) ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেটের সাথে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম সালফো অ্যালুমিনেট তৈরি করে।
- ফলে সিমেন্টের দ্রুত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াটি ধীরে চলে এবং উৎপন্ন কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা শক্তি বেড়ে যায়। 
- সিমেন্টের জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াকে মন্থর করা জিপসামের কাজ। 
• 3CaO.Al2O3 + 3(CaSO4.2H2O) + 2H2O → 3CaO.Al2O3.3CaSO4.2H2O + 6H2O

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

১৮২.
নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস ৭টি।

• মৌলগুলো হলো:
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne),
- আর্গন (Ar),
- ক্রিপ্টন (Kr),
- জেনন (Xe),
- রেডন (Rn) এবং
- ওগানেসন (Og)।

- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনো যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৮৩.
বায়োগ্যাসে সবচেয়ে বেশি থাকে -
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) বিউটেন
  4. ঘ) মিথেন
ব্যাখ্যা
- গোবর ও অন্যান্য পঁচনশীল পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে (অবায়বীয় অবস্থায়) পঁচানোর ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়, তাকে বায়োগ্যাস বলে।
- বায়োগ্যাসে শতকরা ৬০-৭০ ভাগ মিথেন থাকে, তাই একে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- মিথেন ছাড়া বায়োগ্যাসে থাকে মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)।
- সাধারণত অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতায় গোবর ও অন্যান্য আবর্জনা পঁচে বায়োগ্যাস সৃষ্টি হয়।
- এ গ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট অংশ উন্নত মানের সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বায়োগ্যাসের ব্যবহার- 
১. এ গ্যাস দিয়ে রান্না-বান্না করা যায়।
২. ম্যান্টল জ্বেলে হ্যাজাক লাইটের মত আলো পাওয়া যায় ।
৩. জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে লাইট, ফ্যান, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি চালানো যায় এবং বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানো যায় ।
৪. পাম্পের সাহায্যে জমিতে পানি সেচ করা যায়।
৫. এ গ্যাস দিয়ে গাড়ি চালানো যায়।
৬. এ গ্যাস দিয়ে ফ্রিজ ও ইনকিউবেটর চালানো যায় ।

বায়োগ্যাস তৈরির সময় রেসিডিউ (অবশিষ্টাংশ) নিম্নলিখিত কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে
১ . উন্নতমানের জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা যায়।
২. মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় ৷
৩. মাশরুম চাষ করা যায়।
৪. মুক্তা চাষে ব্যবহার করা যায়।

সূত্র: ৩৯৫ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৪.
‘জীবাশ্ম’ বলতে কী বোঝায়? 
  1. মৃত প্রাণীর হাড়ের গুঁড়া
  2. প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের চিহ্ন
  3. মাটি থেকে তোলা যেকোনো বস্তু
  4. কেবলমাত্র প্রাগৈতিহাসিক গাছ
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil): 
- ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- প্রাগৈতিহাসিক জীবের সাক্ষ্য বা চিহ্ন হিসেবে মোল্ড (mold), কাস্ট (cast), হাত বা পায়ের ছাপ, গমন পথ (track), ট্রেইল (trail), গর্ত (boring), মলাশ্ম বা কপ্রোলাইট (coprolite) কে জীবাশ্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- বিবর্তনের সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য এবং প্রামাণিক সাক্ষ্য (উপাদান) হচ্ছে জীবাশ্ম। 
- জীবাশ্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সংগ্রহ করতে হলে ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তর সম্বন্ধেও জ্ঞান লাভ করতে হয় বলে বিবর্তনের এই প্রমাণকে ভূতত্ত্বীয় প্রমাণও (geological evidence) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
কোন গ্রুপের মৌলগুলোকে নোবেল গ্যাস বলা হয়?
  1. গ্রুপ ১৭
  2. গ্রুপ ১৮
  3. গ্রুপ ২
  4. গ্রুপ ১
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

• পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
• এ গ্রুপের মৌল গুলো হল -
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

১৮৬.
তৈলকে চর্বিতে পরিণত করার হাইড্রোজেনেশন প্রক্রিয়ায় কোন ধাতু ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করে? 
  1. তামা 
  2. লোহা 
  3. অ্যালুমিনিয়াম 
  4. নিকেল 
ব্যাখ্যা

তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড (C15H31CO2H), স্টেয়ারিক এসিড (C17H35CO2H) এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড (C17H33CO2H), লিনোলিক এসিড (C17H31CO2H) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20° C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20° C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে শক্তি পাওয়া যায়। 1 g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান। 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। যেমন- সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
• সয়াবিন তৈল (অসম্পৃক্ত গ্লিসারাইড) + H2 ⇒ মার্জারিন (সম্পৃক্ত গ্লিসারাইড)। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।

১৮৭.
অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডারে থাকে?
  1. ক) তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) তরল অ্যামোনিয়া
  3. গ) তরল নাইট্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন তরল আকারে
ব্যাখ্যা
অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র একটি মজবুত মেটাল সিলিন্ডার যার ভেতর পানি বা অদাহ্য অন্য কোন পদার্থ (তরল কার্বন-ডাই-অক্সাইড উদাহরন স্বরূপ) উচ্চ চাপে সংরক্ষিত থাকে। যখন লিভার চেপে সিলিন্ডারের ভালব খোলা হয় তখন ভিতরে রক্ষিত তরল সজোড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে যেমনটা হয় এ্যারোসলের ক্ষেত্রে।
Source: National Emergency Service
১৮৮.
ডিমের খোসার প্রধান উপাদান কী?
  1. ক) সালফেট
  2. খ) অক্সালেট
  3. গ) কার্বনেট
  4. ঘ) ফসফেট
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaCO3। এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস, শামুক, ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

১৮৯.
পানির ঘনত্ব কত?
  1. 1 kgm-3
  2. 1000 gm-3
  3. 1000 kgm-3
  4. 100 kgcm-3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯০.
কোন পরমাণুতে নিউট্রন নেই? 
  1. হাইড্রোজেন 
  2. হিলিয়াম
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম 
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন (H) পরমাণু:
- হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক H।
-  সংকেত- H2
- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১।
- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে কেন্দ্রের বাইরে কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন এবং কেন্দ্রে ১টি প্রোটন অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম) পরমাণুর কেন্দ্রে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- তবে হাইড্রোজেনের অন্য দুটি আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১টি ও ২টি করে নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু বলতে স্বাভাবিকভাবে প্রোটিয়াম কেই বোঝায়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৯১.
তড়িৎ মুদ্রণ কী? 
  1. ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রযুক্তি
  2. ফটোগ্রাফির প্রিন্টিং প্রযুক্তি
  3. কাগজে হাতের লেখা মুদ্রণের পদ্ধতি
  4. তড়িৎ প্রলেপের মাধ্যমে হরফ বা ব্লক তৈরি করার পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মুদ্রণ (Electrotyping): 
- তড়িৎ প্রলেপের একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে হরফ, ব্লক মডেল ইত্যাদি তৈরি করাকে তড়িৎ মুদ্রণ বলে
- তড়িৎ মুদ্রণের জন্য প্রথমে লেখাটি সাধারণ টাইপে মোমের ওপর ছাপ নেওয়া হয়। 
- এর উপরে কিছু গ্রাফাইট গুঁড়ো ছড়িয়ে একে তড়িৎ পরিবাহী করা হয়। 
- তারপর কপার সালফেট দ্রবণে এটি ক্যাথোড পাত হিসেবে ডুবানো হয় এবং একটি তামার পাতকে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তারপর দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালালে মোমের ছাঁচের ওপর তামার প্রলেপ পড়বে। 
- প্রলেপ খানিকটা পুরু হলে ছাঁচ থেকে ছাড়িয়ে ছাপার কাজে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯২.
একটি গ্লাসে পানি ভর্তি করে তার উপর কাগজ রেখে উল্টিয়ে দিলে কাগজটি পড়ে যায় না। এর মূল কারণ কী?
  1. পানির চৌম্বকীয় শক্তি
  2. বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তারতম্য
  3. পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
  4. কাগজের আঠালো ধর্ম
ব্যাখ্যা

◉ যখন একটি গ্লাসে পানি ভর্তি করে তার মুখে কাগজ রেখে উল্টানো হয়, তখন কাগজটি পড়ে যায় না। এর মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (Atmospheric Pressure)।

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 

যেমন- 
• কোনো স্থানে ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বুঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ জলীয় বাষ্প বায়ু থেকে হালকা। এক্ষেত্রে ঐস্থানে বা এলাকায় বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা। 
• যদি কোনো স্থানে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ খুব কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে চারিদিকে বায়ুমণ্ডলের চাপ সহসা কমে গেছে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তখন পার্শ্ববর্তী উচ্চ চাপের এলাকা থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঐ স্থানে ছুটে আসবে। সুতরাং ঐ স্থানে দ্রুত ঝড়ের সম্ভাবনা। 
• ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে বা এলাকায় বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প অপসারিত হয়ে শুষ্ক বাতাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুতরাং আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। এভাবে ব্যারোমিটারের পাঠ দেখে আহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়। 

Science Museum Group-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী:
গ্লাস উল্টানোর পর কাগজের নিচে বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পানি ও কাগজকে উপরের দিকে ঠেলে ধরে রাখতে সক্ষম হয়, যার ফলে পানি বের হয় না। 

উৎস:
১। পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। The Science Museum Group.

১৯৩.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহার করা হয়?
  1. পটাশিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. লিথিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

• পারমাণবিক চুল্লি:

- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

উৎস:
ক) রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
খ) IAEA ওয়েবসাইট।
১৯৪.
প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কোন ধাতু?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. লোহা
  3. তামা
  4. দস্তা
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়াম (Al):
- অ্যালুমিনিয়াম (Al) হল পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধাতু।
- এটি মূলত বক্সাইট আকরিক (Bauxite ore) আকারে পাওয়া যায়।
- যদিও এটি কখনোই মুক্ত ধাতু হিসেবে পাওয়া যায় না, কারণ এটি অত্যন্ত সক্রিয়। তাই এটি সর্বদা যৌগ আকারে থাকে।

• অ্যালুমিনিয়ামের ধর্ম:
১. অ্যালুমিনিয়াম তাপ এবং বৈদ্যুতিক সুপরিবাহী।
২. হালকা কিন্তু টেকসই।

উৎস:  ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১৯৫.
কোন অধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন থাকে?
  1. ব্রোমিন
  2. আয়োডিন
  3. ক্লোরিন
  4. পারদ
ব্যাখ্যা
• আয়োডিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- পারদ একটি ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- ক্লোরিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস।
- ব্রোমিন হলো একমাত্র অধাতু, যা সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপ এ তরল অবস্থায় থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৬.
টয়লেট ক্লিনার বা হারপিকের মূল উপাদান কোনটি?
  1. Hydrochloric acid (HCl)
  2. Sodium chloride (NaCl)
  3. Sodium hydroxide (NaOH)
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
• টয়লেট ক্লিনারগুলোর প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)।
- এটি একটি শক্তিশালী অ্যাসিড, যা ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং লেমস্কেল (পানি থেকে জমে থাকা কঠিন পদার্থ) দ্রবীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।

• টয়লেট ক্লিনার বা হারপিকের ব্যবহার:
- দাগ দূর করার জন্য: টয়লেটের উপর জমে থাকা শক্ত দাগ এবং পাথরের স্তর (scale) অপসারণে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড খুব কার্যকর।
- জীবাণু ধ্বংস করতে: এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে, ফলে টয়লেট আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

অপশন আলোচনা:
- Sodium hydroxide (NaOH): এটি একটি শক্তিশালী বেস, যা সাধারণত পাইপ পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- Sodium chloride (NaCl): এটি সাধারণ লবণ, যা টয়লেট ক্লিনারে ব্যবহার হয় না।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১৯৭.
নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
  2. সিলিকন বিদ্যুৎ অর্ধ-পরিবাহী।
  3. হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
  4. কার্বনের রূপভেদ আছে, কিন্তু সিলিকনের নাই
ব্যাখ্যা
- কার্বন ও সিলিকন উভয়েই অধাতু।
- উভয় মৌলের বহুরূপতা আছে।
- সিলিকনের দানাদার ও অদানাদার দুটি রূপভেদ আছে।
-  কার্বনের অনেক রূপভেদের মধ্যে হীরক, গ্রাফাইট প্রধান রূপভেদ।

অন্যদিকে,
- গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- সিলিকন বিদ্যুৎ অর্ধ-পরিবাহী।
- হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
উপরের সবগুলো তথ্যই সঠিক।
 
উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
১৯৮.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের আনুমানিক পরিমাণ কত?
  1. ৫০-৬০%
  2. ৬০-৭০%
  3. ৭০-৮০%
  4. ৯৫-৯৯%
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৯.
এক পরমাণু পুরুত্ববিশিষ্ট গ্রাফাইটের স্তরকে বলে -
  1. ক) গ্রাফিন
  2. খ) হীরক 
  3. গ) চারকোল 
  4. ঘ) ফুলারিন
ব্যাখ্যা
এক পরমাণু পুরুত্ববিশিষ্ট গ্রাফাইটের স্তরকে গ্রাফিন বলে।
এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা অত্যন্ত বেশি। বিভিন্ন গ্রেডের উড পেন্সিলের “সীস” হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে গ্রাফাইট এনোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২০০.
গ্যালভানিক কোষের অ্যানোডে কোন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
  1. ক) জারন
  2. খ) বিজারণ
  3. গ) প্রশমন
  4. ঘ) বিয়োজন
ব্যাখ্যা

• গ্যালভানিক কোষ (Galvanic Cell)

সংজ্ঞা: এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত বৈদ্যুতিক উৎস। অর্থাৎ প্রতিক্রিয়াটি নিজে থেকেই সংঘটিত হয় এবং বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করে।

অ্যানোড:
এটি ঋণাত্মক হয়।
এখানে জারণ (Oxidation) বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
ক্যাথোড:
এটি ধনাত্মক হয়।
এখানে বিজারণ (Reduction) বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।

• ইলেকট্রোলাইটিক কোষ (Electrolytic Cell)

সংজ্ঞা: এটি একটি অ-স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়।

অ্যানোড:
- এখানে বিজারণ (Reduction) নয়, বরং জারণ (Oxidation) প্রতিক্রিয়া সংঘটিত হয়।

ক্যাথোড:
- এখানে বিজারণ (Reduction) ঘটে।