বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৭ · ১০০ / ২,৬৯২

.
প্রাকৃতিক গ্যাসের কত শতাংশ ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১৫%
  2. খ) ২১%
  3. গ) ২৫%
  4. ঘ) ৩৩%
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল তৈরিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের  ২১ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। 
শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ২২%। 
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫১%। 
বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১১%। 
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১%। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই। 
.
Which of the following is not a fossil fuel?
  1. Coal
  2. Petroleum
  3. Firewood
  4. Natural gas
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি:
- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা প্রচুর পরিমাণ তাপশক্তি উৎপাদিত হয় তাকে জ্বালানি বলে।
- তাপশক্তির উৎস হলো জ্বালানি।
- জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।
- মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে উচ্চ চাপ ও উচ্চ তাপে পরিবর্তিত হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়।
- জীবাশ্ম জ্বালানিসমূহ অনবায়নযোগ্য।
- অর্থাৎ এসব জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এবং এদের মজুদ সীমিত।

⇒ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
- খনিজ তেল
- কয়লা
- প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ফায়ারওড জীবাশ্ম জ্বালানী নয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
H+ সংকেত দ্বারা কোন কণিকা বুঝায়? 
  1. নিউট্রন 
  2. ইলেকট্রন 
  3. পজিট্রন 
  4. প্রোটন 
ব্যাখ্যা

- H+ সংকেত দ্বারা মৌলিক কণিকা প্রোটনকে বুঝায়, এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 

পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 

- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 

প্রোটন (Proton): 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের সংকেত H+ । 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর 1.67×10-24 g ও আধান 1.60× 10-19 C । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে
  2. জারক পদার্থ ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
  3. জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া
  4. উপরের সবকয়টি সঠিক
ব্যাখ্যা
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:

- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

- জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া: Na → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ);
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া: Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ); 

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na + Cl  → NaCl

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই। 
.
স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান-
  1. তামা
  2. দস্তা
  3. ক্রোমিয়াম
  4. এলুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান হলো ক্রোমিয়াম।

• সংকর ধাতু:
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে।
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়।
যেমন-
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)।


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কৃষিতে শৈবালের উৎপাদন বন্ধ করতে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়?
  1. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  2. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. অ্যামোনিয়াম ফসফেট 
  4. কপার সালফেট
ব্যাখ্যা

কৃষিতে ব্যবহৃত লবণ: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- আবার বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়, ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
নিচের কোনটি অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক নয়?
  1. বক্সাইট
  2. ডলোমাইট
  3. কোরান্ডাম
  4. ক্রায়োলাইট
ব্যাখ্যা
• আয়রন বা লোহার আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

• সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।

• ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
.
মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় তা মূলত -
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) ইথেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল, গ্যাস বা কয়লা।
- তেল, গ্যাস বা কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে।
- মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়।
- মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় (Crude Oil) প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে।
- মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় সেটি মূলত মিথেন (CH4), এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশানো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়। 

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটির উপর কোনো এসিডের শক্তিমাত্রা নির্ভর করে না?
  1. ক) দ্রাবকের প্রকৃতি
  2. খ) প্রান্তীয় পরমাণুর জারণ অবস্থা
  3. গ) হাইড্রাসিডের ঋণাত্মক আয়নের আকার
  4. ঘ) এসিডের বিয়োজন ধ্রবক
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
এসিডের তীব্রতা বা শক্তিমাত্রা নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে-
- এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকঃ এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকের মান যতো বেশি হয়, এসিডটি ততো বেশি শক্তিশালী হয়।
- হাইড্রাসিডের ঋণাত্মক আয়নের আকারঃ ঋণাত্মক আয়নের আকার যতো বড় হয়, অণুর বিয়োজন ততো বেশি হয় অর্থাৎ এসিডের তীব্রতা ততো বেশি হয়।
- কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ অবস্থাঃ অক্সিজেন পরমাণুযুক্ত এসিডসমূহের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা যতো বেশি, ঐ এসিডের তীব্রতা ততো বেশি।
- কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকারঃ অক্সিজেন পরমাণুযুক্ত এসিডসমূহের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা সমান হলে তখন যেটির কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকার ছোটো হবে সে এসিডের তীব্রতা বেশি হবে।
- দ্রাবকের প্রকৃতিঃ দ্রাবকের প্রোটন গ্রহণ করার ক্ষমতাভবা ক্ষারকত্ব বেশি হলে এতে দ্রবীভূত এসিডের আয়নীকরণ বৃদ্ধি পায়।

১০.
নিচের কোনটি ইলেকট্রোলাইট?
  1. চিনি
  2. প্যারাফিন ওয়েল
  3. কেরোসিন
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড হলো ইলেকট্রোলাইট। 
- ইলেকট্রোলাইটিক পরিবাহী : যেসব পরিবাহী পদার্থের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহনের ফলে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে এবং | ফলশ্রুতিতে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় যেমন, এসিড, ক্ষার গলিত লবন ইত্যাদি।
- এক্ষেত্রে আয়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয়।
- এ ধরনের পরিবাহীকে ইলেকট্রোলাইটিক পরিবাহী বলে।
 
উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১.
দহন কোন ধরনের বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সংযোজন
  2. বিয়োজন
  3. প্রতিস্থাপন
  4. জারণ-বিজারণ
ব্যাখ্যা
• দহন বিক্রিয়া জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। 

• দহন বিক্রিয়া:
- কোনো মৌল বা যৌগকে বাতাসের অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে।

• দহন বিক্রিয়ার উদাহরণ:
CH4(g) + 2O2(g) → CO2 (g) + 2H2O(g) + তাপ

- দহন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন এর আদান-প্রদান ঘটে। 
- দহন বিক্রিয়ার প্রতিক্ষেত্রেই অক্সিজেন ইলেকট্রন গ্রহণ করে অপর যৌগ বা মৌল ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
সুতরাং দহন বিক্রিয়া জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
• সংযোজন বিক্রিয়া: যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক রাসায়নিক পদার্থ পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটিমাত্র উৎপাদ উৎপন্ন করে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- যেমন: 2FeCl2(aq) + Cl2(g) → FeCl3(aq)

• বিয়োজন বিক্রিয়া: যে বিক্রিয়ায় একটি যৌগ ভেঙে একাধিক যৌগ বা মৌলে উৎপন্ন হয় তাকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলা হয়।
- যেমন: PCl5 →  PCl3 + Cl2

• প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া: কোনো অধিক সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলক অপর কোনো কম সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলককে প্রতিস্থাপন করে নতুন যৌগ উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে।
- যেমন: Zn(s) + H2SO4 (l) →ZnSO4(aq) + H2(g)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১২.
যৌগিক পদার্থের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) পানি
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) এসিড 
  4. ঘ) তামা
ব্যাখ্যা
তামা একটি মৌলিক পদার্থ, কারণ তামাকে ভাঙলে অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না। 

মৌলিক পদার্থ : যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
মৌলিক পদার্থের উদাহরণ : হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

যৌগিক পদার্থ : দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে। অথবা, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
যৌগিক পদার্থের উদাহরণ : জল, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি 

১৩.
নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী?
  1. অত্যন্ত সক্রিয়
  2. যোজনী স্তর পূর্ণ
  3. ধাতব ধর্ম প্রদর্শন করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বা নোবেল গ্যাস (Noble Gases) পর্যায় সারণীর ১৮তম গ্রুপের মৌল।
-  এগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো যোজনী স্তর পূর্ণ (Full Valence Shell), যা এদেরকে রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে তোলে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাসের বৈশিষ্ট্য:
- যোজনী স্তর পূর্ণ:
- এদের সর্ববহিঃস্থ শেলে ইলেকট্রন সংখ্যা পূর্ণ থাকে। ফলে এদের যোজনী স্তর পূর্ণ থাকে। 
উদাহরণ: নিয়ন (Ne) এর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s22s22p6 (৮টি যোজনী ইলেকট্রন)।

• রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা:
- যোজনী স্তর পূর্ণ থাকায় এরা সাধারণত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
- ব্যতিক্রম: ভারী নিষ্ক্রিয় গ্যাস (যেমন: Xe, Kr) কিছু বিশেষ অবস্থায় ফ্লোরিন বা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৪.
স্বল্প দ্রবণীয় দ্রবের উদাহরণ কোনটি?
  1. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

দ্রব (Solute):
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়।
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব।
একইভাবে,
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব।
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব:
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে।
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়।
যেমন-
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl),
• সিলভার ব্রোমাইড (AgBr),
• সিলভার আয়োডাইড (AgI),
• সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3),
ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),
• ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2),
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4),
• ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2,
• লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি।

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব:
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়।
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না।
যেমন-
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl),
• সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3),
• পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCI),
পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3),
• অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4CI),
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 19
  2. 20
  3. 39
  4. 58
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

পটাশিয়াম (K) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 

- পটাশিয়াম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 19 এবং 
- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণুর ভর সংখ্যা 39 
অতএব, পটাশিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হবে = 39 - 19 = 20

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
বোরের পরমাণু মডেল কোন মূল ধারণার উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত? 
  1. পাউলির বর্জন সূত্র
  2. প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. আরহেনিয়াসের তড়িৎ বিযোজন তত্ত্ব
  4. ডাল্টনের পারমাণবিক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• বোরের পরমাণু মডেল মূলত প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত। প্লাঙ্ক দেখিয়েছিলেন যে তাপীয় বিকিরণ নির্দিষ্ট পরিমাণের শক্তি “কোয়ান্টাম” আকারে নিঃসৃত হয়। এই ধারণা ব্যবহার করে নীলস বোর ১৯১৩ সালে হাইড্রোজেন পরমাণুর জন্য একটি নতুন মডেল প্রস্তাব করেন। বোরের মডেল অনুযায়ী, ইলেকট্রন নির্দিষ্ট স্থির কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে ঘুরতে পারে এবং এই কক্ষপথে অবস্থান করার সময় কোনো বিকিরণ নিঃসৃত হয় না। শুধুমাত্র ইলেকট্রন যখন একটি কক্ষপথ থেকে অন্য কক্ষপথে স্থানান্তরিত হয়, তখনই নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি আলো বা ফোটনের আকারে নির্গত হয়। এটি কোয়ান্টাইজড শক্তির ধারণাকে পরমাণুর মধ্যে প্রয়োগ করার প্রথম পদক্ষেপ ছিল। তাই বোরের মডেল প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত।

- সঠিক উত্তর: খ) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব। 

• বোরের পরমাণু মডেল (Bohr's Atomic Model):
- বোরের পরমাণু মডেল মূলত প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব এর ধারণার উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত হয়।
- নিউক্লিয়াসের চারপাশে ইলেকট্রনের কক্ষপথের শক্তি নির্দিষ্ট কোয়ান্টাম সংখ্যার (quantum number) মান অনুসারে নির্ধারিত হয়।
- ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে এবং সেই কক্ষপথের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তনের সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি গ্রহণ বা বিকিরণ করে।
- এটি পরমাণুর স্থায়িত্ব এবং তার বিকিরণ রশ্মি বর্ণনায় সহায়ক হয়েছে।
- বোরের মডেল ক্লাসিক্যাল বৈদ্যুতিক তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করেছে এবং পরমাণুর কোয়ান্টাইজড প্রকৃতি প্রকাশ করেছে।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

১৭.
কোনো পদার্থে ঘনীভবন প্রক্রিয়া ঘটলে তাপের কোন পরিবর্তনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষন
  2. তাপের নির্গমন
  3. তাপের কোন পরিবর্তন ঘটে না।
  4. তাপ নির্গত হয় না
ব্যাখ্যা
• ঘনীভবন হল একটি তাপগতীয় প্রক্রিয়া যেখানে গ্যাস অবস্থায় থাকা কোন পদার্থ তাপ হ্রাসের কারণে তরল অবস্থায় পরিণত হয়।

-  এটি সাধারণত তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে ঘটে, যখন গ্যাসের কণাগুলির গতির পরিমাণ কমে যায় এবং তারা একে অপরকে আকর্ষণ করে,
 ফলে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। 

এটি একটি তাপোৎপাদী প্রক্রিয়া (Exothermic process), অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়। 

-  যখন গ্যাস তরল অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, তখন তার আণবিক শক্তি কমে যায় এবং তাপ মুক্ত হয়।

-  এই মুক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
১৮.
পলিথিন কী দিয়ে তৈরি?
  1. ইথিলিন
  2. ইথাইন
  3. ক্লোরোইথিন
  4. ইথিলিন গ্লাইকল
ব্যাখ্যা
পলিথিন: 
- ইথিলিন থেকে পলিথিন  পাওয়া যায়। 
- ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পলিথিন পাওয়া যায়।
- তবে এক্ষেত্রে পলিমারকরণ দ্রুত করার জন্য প্রভাবক হিসেবে অক্সিজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 

অথবা 


- তবে উচ্চ চাপ পদ্ধতি সহজসাধ্য না হওয়ায় বর্তমানে পদ্ধতি টি জনপ্রিয় নয়।
- এখন টাইটেনিয়াম ট্রাই ক্লোরাইড (TiCl3) নামক প্রভাবক ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপেই পলিথিন তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয় -
  1. গ্রাফাইট
  2. ইউরেনিয়াম
  3. কয়লা
  4. হীরক
ব্যাখ্যা
কার্বন:
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক। 
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক্।  
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক।

গ্রাফাইটের ব্যবহার:
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান।
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।
- এ ছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গলিত ধাতব লবণের তড়িৎ বিশ্লেষণে গ্রাফাইট অ্যানোড ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ- NaCl-এর তড়িৎ বিশ্লেষণ থেকে সোডিয়াম নিষ্কাশনে, KCI থেকে K, MgCl2 থেকে Mg, CaCl2 থেকে Ca প্রভৃতি ধাতু আহরণে গ্রাফাইট ইলেকট্রোড ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক/মডারেটর হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২০.
পানিকে রাসায়নিকভাবে ভাঙলে কোন মৌলগুলো পাওয়া যায়? 
  1. হিলিয়াম ও নাইট্রোজেন 
  2. কার্বন ও অক্সিজেন 
  3. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন 
  4. নাইট্রোজেন ও ফসফরাস 
ব্যাখ্যা

মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ইত্যাদি। 
- এই পর্যন্ত ১১৮ টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলোর মধ্যে ৯৮টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- মৌলিক পদার্থকে ভাঙলে শুধু ঐ পদার্থই পাওয়া যাবে। 
- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানিকে যদি ভাঙা হয় (অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়) তবে কিন্তু দুটি ভিন্ন মৌল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যাবে। আবার, লেখার চককে যদি ভাঙা যায় তাহলে সেখানে ক্যালসিয়াম, কার্বন ও অক্সিজেন এ তিনটি মৌল পাওয়া যাবে। 
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে। 
যেমন- পানিকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে
হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2: 1 । 
- যৌগের ধর্ম কিন্তু মৌলসমূহের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। 
যেমন- সাধারণ তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসীয় কিন্তু এদের থেকে উৎপন্ন যৌগ পানি সাধারণ তাপমাত্রায় তরল। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
ইথানল ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশে প্রধানত কোন প্রভাবটি পড়ে? 
  1. সূর্যের আলো কমে 
  2. বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে 
  3. জলবায়ুর তাপমাত্রা বাড়ে 
  4. জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমে 
ব্যাখ্যা

ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার: 
- ইথানল-এর অপর নাম ইথাইল অ্যালকোহল। 
- ইথানল-এর রাসায়নিক সংকেত CH3-CH2-OH । 
- জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল প্রভৃতির মতো ইথানলকে পোড়ালেও তাপ উৎপন্ন হয়। 
- তাই জীবাশ্ম জ্বালানির মতো ইথানলকেও তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করে কলকারখানা, গাড়ি, বিমান, জাহাজ প্রভৃতি চালানো যেতে পারে। 
- উত্তর আমেরিকাসহ অনেক দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির সাথে ইথানলকে মিশিয়ে তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়িতে পেট্রলের সাথে শতকরা 10 ভাগ ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই যত ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ততই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলো -----
  1. ক) অ্যামিটার
  2. খ) ভোল্টামিটার
  3. গ) অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
  5. ঙ) বিদ্যুৎনিরীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণয় করা যায় তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
২৩.
নিচের কোন পদার্থ সাধারণত বিজারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. হাইড্রোজেন 
  2. অক্সিজেন
  3. ক্লোরিন 
  4. ব্রোমিন 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেন সাধারণত বিজারক হিসেবে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে। বিজারক পদার্থ অন্য পদার্থকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়। অন্যদিকে অক্সিজেন, ক্লোরিন এবং ব্রোমিন ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এরা জারক পদার্থ। 

বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S), হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2) প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), অক্সিজেন (O), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2)ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2) সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

২৪.
একটি সাধারণ ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য কত?
  1. ক) ১.০V
  2. খ) ১.৫V
  3. গ) ২.০V
  4. ঘ) ২.৫V
ব্যাখ্যা
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে।
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট।

- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়।

- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋনাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 

- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫V। সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০V.

- বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০V থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি। আবার ২২০V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৫.
নিচের কোনটির মাধ্যমে দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশ করা হয়?
  1. মোলারিটি
  2. মোলালিটি
  3. নরমালিটি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
দ্রবণের শক্তি বা ঘনমাত্রা
দ্রবণের ঘনমাত্রা নিম্নলিখিত স্কেলে বা এককে প্রকাশ করা হয়।
যেমন-
১। শতকরা মাত্রা,
২। নরমালিটি,
৩। মোলারিটি,
81 মোলালিটি,
৫ ৷ মোল-ভগ্নাংশ ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
কোনটি মৌলিক পদার্থ?
  1. চিনি
  2. নিয়ন
  3. পানি
  4. লবণ
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা, লৌহ, নিয়ন, আর্গন প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ। 

যৌগিক পদার্থ: 
- যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবণ, চিনি, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হলো যৌগিক পদার্থ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৭.
কাঁচ ও সিরিজ কাগজ তৈরি করতে নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. মাইকা
  2. কোয়ার্টজ
  3. চুনাপাথর
  4. ম্যাগনেটাইট
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।  
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে।
ধাতব খনিজ পদার্থ: 
• লোহা (Fe), 
• তামা  (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

অধাতব খনিজ পদার্থ: 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica) এবং 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 
- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 

- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট (Fe3O4) খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর (CaCO3) খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮.
সর্বপ্রথম পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ দেখান-
  1. ক) বেকরেল
  2. খ) রন্টজেন
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) বেইন
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম বেকেরেল ১৮৯৬ সালে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ দেখান।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২৯.
1 মোলের 1 লিটার NaOH দ্রবণ তৈরীতে 40 গ্রাম দ্রব প্রয়োজন। একই দ্রবের একই পরিমাণ 0.01 মোলার দ্রবণ তৈরীতে কত গ্রাম দ্রব প্রয়োজন?
  1. ক) 0.4 g
  2. খ) 4 g
  3. গ) 0.8 g
  4. ঘ) 10 g
ব্যাখ্যা
• 1 মোলের 1 লিটার NaOH দ্রবণ তৈরীতে 40 গ্রাম দ্রব প্রয়োজন। একই দ্রবের একই পরিমাণ 0.01 মোলার দ্রবণ তৈরীতে 0.4 g দ্রব প্রয়োজন।
৩০.
ডায়োডে কয়টি তড়িৎদ্বার থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা
ডায়োডে দুইটি তড়িৎদ্বার থাকে।
৩১.
নিচের কোন মৌলিক কণিকার সংখ্যা কখনো সমান কিংবা কখনো বেশি থাকে? 
  1. ইলেকট্রন 
  2. নিউট্রন 
  3. প্রোটন 
  4. পজিট্রন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি কণিকাকে পরমাণুর স্থায়ী কণিকাও বলা হয়। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, আর প্রোটন ও নিউট্রন এই নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণুর অভ্যন্তরে কোন কণিকাগুলো বিদ্যমান?
  1. ১ টি প্রোটন ও ১ টি নিউট্রন
  2. ১ টি ইলেকট্রন, ১ টি প্রোটন ও ১ টি নিউট্রন
  3. ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি নিউট্রন
  4. ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন 
ব্যাখ্যা

- সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোনো নিউট্রন থাকে না। হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১, যার অর্থ এতে একটি প্রোটন রয়েছে। একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন এবং ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, তাই এতে একটি ইলেকট্রনও থাকে। 

পরমাণুর মূল কণিকা: 

- ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়, এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের হয়। 
যেমন- 
• স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাই এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

• অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

• কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
নিচের কোন পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. বরফ
  3. পানি
  4. জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি:

• যে আকর্ষণ শক্তির জন্যে কোনো পদার্থের কণাগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে তাকে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি বলে। অপরদিকে, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তির কারণে কণাগুলোর মধ্যবর্তী দুরত্বকে আন্তঃআণবিক দুরত্ব বলে।
• কঠিন পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি। 

• পদার্থের বিভিন্ন অবস্থা:

কঠিন অবস্থা:     

- নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে।
- এ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি।
- উদাহরণ: লোহা, বরফ, কাঠ ইত্যাদি               

তরল অবস্থা:
- নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু আয়তন আছে।
- এ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ কঠিন থেকে কম কিন্তু বায়বীয় থেকে বেশি।
-  উদাহরণ: পানি, কেরোসিন ইত্যাদি।       

বায়বীয় অবস্থা:
- নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই।
-  এ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম।
-  উদাহরণ: অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন।
৩৪.
মাথার চুলে থাকা সেবাম (Sebum) নামক প্রাকৃতিক তেলের pH এর মান কত?
  1. ৫.৭
  2. ৫.০
  3. ৬ থেকে বেশী
  4. ৬.০
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর ৫.৫। ত্বকের pH এর মান ৫.৫
থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। ত্বকের pH এর মান
আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়।
মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল। এর pH এর মান হলো ৫.০।
চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH এর মান ৫.৫ এর কাছাকাছি থাকাই উচিত।
চুলের pH এর মান ৬ এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
বিশ্বে জ্বালানির কত শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে? 
  1. প্রায় ৮০ শতাংশ
  2. প্রায় ৭০ শতাংশ
  3. প্রায় ৬০ শতাংশ
  4. প্রায় ৯০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- বিশ্বে জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে। 

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ু সংকটের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি মূলত দায়ী। 
- তাই জাতিসংঘ প্রধান জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধে একমত হতে আগেই দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। 
- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জাতিসংঘের কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসার জন্য সব দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন। 

উৎস: ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
৩৬.
নীচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
• কার্বন মনোক্সাইড:
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে।
- কার্বন মনোক্সাইড ইংরেজিতে Carbon Monoxide (রাসায়নিক সংকেত: CO) হলো একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম।
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে।
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত।

• কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে:
- দুর্বলতা,
- বমি বমি ভাব,
- মাথা ঘোরানো,
- ক্লান্তি,
- ক্ষুধা,
- মাথা ব্যাথা,
- অজ্ঞান হওয়া,
- খিঁচুনি ইত্যাদি।

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website.
৩৭.
মোট নিষ্ক্রিয় মৌলের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
- যে সব গ্যাসীয় মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় অর্থাৎ অন্য কোনো মৌলের সাথে সংযুক্ত হয় না, এমনকি নিজেদের মধ্যেও সংযুক্ত হয় না, সর্বদা এক পরমাণুক অবস্থা বিরাজ করে তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gas) বলে।
- নিষ্ক্রিয় মৌল মোট ৭টি -  হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)। 
- সাধারণ অবস্থায় এগুলো বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং এক পরমাণুক গ্যাস। এছাড়াও এগুলোর স্ফুটনাংক ও গলনাংক খুবই কম।
- আলোকসজ্জা, ওয়েল্ডিং এবং মহাশূন্য প্রযুক্তিতে এই গ্যাসগুলোর অনেক ব্যবহার রয়েছে।
- ওগানেসন পর্যায় সারণীর ১৮-তম গ্রুপের একমাত্র নিষ্ক্রিয় মৌল কিন্তু গ্যাস নয়।

সূত্র- ৬৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।    
৩৮.
অম্লের স্বাদ কেমন?
  1. ক) মিষ্টি
  2. খ) তেতো
  3. গ) টক
  4. ঘ) নোনতা
ব্যাখ্যা
এসিড টক স্বাদ যুক্ত। তেঁতুলের ভেতর টারটারিক এসিড থাকে বলেই তেতুল এত টক হয়৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৩৯.
স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH কত?
  1. 6.6
  2. 7.4
  3. 7.8
  4. 8.2
ব্যাখ্যা
pH:
- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
বরফের গলণাঙ্ক কত?
  1. ক) 0K
  2. খ) -273K
  3. গ) 273K
  4. ঘ) 373k
ব্যাখ্যা
• যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক।
• বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস বা ২৭৩ কেলভিন। 
• অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে।
• আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।
• ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
----------------------
সেলসিয়াস স্কেলের সাথে ২৭৩.১৫ যোগ করলেই কেলভিন স্কেল পাওয়া যায়৷
কেলভিন স্কেলে নিম্ন স্থিরাঙ্ক ২৭৩ এবং ঊর্ধ স্থিরাঙ্ক ৩৭৩ ধরে মৌলিক দৈর্ঘ্যকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
তাই ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর ২৭৩ কেল্ভিন একই তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১.
হাইড্রোকার্বনকে কোন ধরনের রাসায়নিক যৌগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?
  1. অজৈব যৌগ 
  2. লবণ 
  3. জৈব যৌগ 
  4. এসিড
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোকার্বনকে জৈব যৌগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, অর্থাৎ সঠিক উত্তর হলো গ) জৈব যৌগ। হাইড্রোকার্বন মূলত কার্বন ও হাইড্রোজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত রাসায়নিক যৌগ, যা জৈব রসায়নের মূল ভিত্তি। জীবদেহে উপস্থিত বিভিন্ন জৈব পদার্থ যেমন প্রোটিন, চর্বি ও শর্করার গঠনেও কার্বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের মতো জ্বালানিও হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ। কার্বনের বিশেষ বন্ধন ক্ষমতার কারণে এই যৌগগুলো নানা গঠন ও বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, যা অজৈব যৌগ, লবণ বা এসিডের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
 
জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার। 

অজৈব যৌগ: 
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে। 
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২.
পরমাণুর অস্থায়ী মূল কণিকা নয় কোনটি?
  1. মেসন
  2. নিউট্রিনো
  3. অ্যান্টি নিউট্রিনো
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা
• নিউট্রন পরমাণুর অস্থায়ী মূল কণিকা নয় , এটি পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা। 

• পরমাণু ও পরমাণুর মূল কণিকা:
- পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি। এ সব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়।

• পরমাণুর মূল কণিকা তিন ধরনের।
যথা:
- স্থায়ী মূল কণিকা,
- অস্থায়ী মূল কণিকা,
- কম্পোজিট কণিকা।

•  স্থায়ী মূল কণিকা:
- যে সব মূল কণিকা স্থায়ীভাবে সকল মৌলের পরমাণুতেই উপস্থিত থাকে তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে।
- উদাহরণ- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে।  এতে কোন নিউট্রন নেই।

• অস্থায়ী মূল কণিকা:
- যে সকল কণিকা কোনো কোনো মৌলের পরমাণুতে ক্ষণস্থায়ীভাবে অবস্থান করে তাকে অস্থায়ী মূল কণিকা(Temporary Core Particle) বলা হয়। 
- উদাহরণ- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন ইত্যাদি। 

• কম্পোজিট কণিকা (Composite particles):
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়।
- উদাহরণ- আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণিকা। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
'স্টিল'-এ কত ভাগ লোহা থাকে?
  1. ক) ৯৯
  2. খ) ৯৮
  3. গ) ৯৭
  4. ঘ) ৯৬
ব্যাখ্যা
স্টিল একটি সংকর ধাতু। এতে ৯৯ ভাগ লোহা এবং ১ ভাগ কার্বন থাকে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪৪.
উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল হওয়ার কারণে প্রধানত গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়- 
  1. বৈদ্যুতিক তারে
  2. প্লাস্টিক শিল্পে
  3. ক্রুসিবল তৈরিতে
  4. কাঁচ তৈরিতে
ব্যাখ্যা

উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীলতার কারণে গ্রাফাইট প্রধানত ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি গলিত ধাতু বা কাঁচের মতো পদার্থকে উচ্চ তাপে গলানো ও প্রক্রিয়াজাত করার জন্য উপযুক্ত, যা হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তন সহ্য করতে পারে এবং দূষণ প্রতিরোধ করে। 

কার্বন: 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক। 
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক। 

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান। 
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। 
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে এটি ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

৪৫.
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়াকে কী বলে?
  1. ক) ফিশন
  2. খ) ফিউশন
  3. গ) মেসন
  4. ঘ) লেপ্টন
ব্যাখ্যা
• পরমাণুর নিউক্লিয়াসে একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়াকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
• পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা:
১.  নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন।
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন।
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।
- উচ্চ শক্তিসম্পন্ন প্রোটন, নিউট্রন বা ডিউটেরনের আঘাতের ফলে ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াস ৩টি নিউট্রনসহ দুটি তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে পড়ে। 
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
- অত্যধিক উচ্চ তাপে ফিউশন সংঘটিত হয়।
- চারটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস ফিউশন প্রক্রিয়াতে জড়িত হয়ে একটি করে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
কোনটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস নয়?
  1. He
  2. Xe
  3. Rn
  4. Cl
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
মৌলগুলাে হলাে:
হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) । 

হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল।
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি।
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭.
ডেরলিন প্লাস্টিক কোন মৌলিক উপাদান থেকে প্রস্তুত হয়?
  1. ইউরিয়া
  2. ইথানল
  3. মিথান্যাল
  4. ফেনল
ব্যাখ্যা
অ্যালডিহাইড: 
- অ্যালডিহাইড যৌগ থেকে বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের পলিমার প্রস্তুত করা যায়। 
- অ্যালডিহাইড যৌগের প্রথম সদস্য মিথান্যাল থেকে ডেরলিন নামক পলিমার প্রস্তুত করা যায়। 
- ডেরলিন এর ব্যবহার খুবই ব্যাপক, প্লাস্টিকের চেয়ার, টেবিল, বালতি, জগ, মগ, প্লেট ইত্যাদি প্রস্তুতিতে ডেরলিন ব্যবহৃত হয়। 
- মিথান্যাল ইউরিয়ার ঘনীভবনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় মেলামাইন। 
- মেলামাইন দ্বারা প্লেট, মগ, গ্লাস, কাপ, প্রিজ, গামলা, বাটি ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। 
- মিথান্যাল ও ফেনল থেকে প্রস্তুত করা হয় ব্যাকেলাইট প্লাস্টিক, এটি খুবই শক্ত ও সুদৃঢ় পলিমার। 
- এ থেকে বৈদ্যুতিক সুইচ, চিরুনি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির হাতল, কলমের বডি প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া মেলামাইন ও মিথান্যালের ঘনীভবন বিক্রিয়ার ফলে মেলাডুর নামক মেলামাইন রেজিন ব্যবহার করা হয়। 

- মিথান্যাল পানিতে দ্রবীভূত করে ফরমালিন প্রস্তুত করা হয়। 
- 40% মিথান্যাল 52% পানি ও ৪% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রণ ফরমালিন। 
- মৃত জীবদেহ সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়। 
- ফরমালিন শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুজনিত পচন নিরোধক। 
- সংক্রামক রোগীর ব্যবহৃত বিছানা, আসবাব ও ঘর জীবাণুমুক্ত করতে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়। 
- কিছু অসাধু অর্থলোভী ব্যবসায়ী মাছ, মাংস, দুধ, ফল, শাক-সবজি সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করে থাকে। 
- ফরমালিন ব্যবহারে খাদ্যের অস্বাভাবিক খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙ্গে যায়, ফলে খাদ্যের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ ও খাদ্যমান বিনষ্ট হয়। 
- ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে মানুষের কিডনি, যকৃত, হৃৎপিন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
কোন মৌলের পরমাণু স্বাধীন বা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ঘ) হিলিয়াম

• পরমাণু:

- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

• পরমাণুর বৈশিষ্ট্য: 
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
৪. একমাত্র হাইড্রোজেন ছাড়া সকল পদার্থের পরমাণু তিনটি কণা দিয়ে তৈরি। সেগুলো হচ্ছে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এই কণাগুলোকে পরমাণুর সাংগঠনিক (fundamental) বা মৌলিক কণা বলে।
৫. পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরতে থাকে। 


♦ নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gases) মৌলগুলোর পরমাণু স্বাধীন বা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে। এদের সর্বশেষ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস পূর্ণ থাকায় এরা অন্য কোনো পরমাণুর সাথে বিক্রিয়া করে না বা অণু গঠন করে না। যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন  এবং রেডন।  
 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯.
বস্তুর ধর্ম ধারণ করে এরূপ ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম -
  1. পরমাণু
  2. অণু
  3. কণা
  4. মৌল
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রতম কণার মতবাদ: 
- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থকে ক্রমাগত ভাঙতে ভাঙতে এক পর্যায়ে এটি ক্ষুদ্রতম কণায় পরিণত হয়। 
- এই ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানা রকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমক্রিটাস (Democritus) খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা নিয়ে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য (যা আর ভাঙা যায় না কণা দিয়ে তৈরি।
- তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটমস (Atomos) থেকে, যার অর্থ হলো অবিভাজ্য (Indivisible) বা যা ভাঙা যায় না। 
- তাঁর সমসাময়িক আরও দুজন দার্শনিক প্লেটো (Plato) এবং অ্যারিস্টটল ( Aristotle) তাঁর মতবাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। 
- অ্যারিস্টটলের মতে, পদার্থসমূহ অবিচ্ছেদ্য (Continuous) এবং ভাঙনের কোনো সীমা নেই অর্থাৎ যতই ভাঙা হোক না কেন, পদার্থের কণাগুলো ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে। 

অণু ও পরমাণু: 
- আমরা ডাল্টনের মতবাদ থেকে জানলাম যে, পদার্থ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দিয়ে গঠিত। এ ক্ষুদ্র কণাদেরকে পরমাণু বলা হয়। 
- তবে পরমাণু স্বাধীন বা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না। 
- এরা একে অন্যের সাথে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে। 
- অণুরা মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে। 
- মৌলিক পদার্থের বেলায় শুধু ঐ পদার্থের পরমাণুরা যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে। 
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত হয়ে একটি অক্সিজেন অণু গঠন করে। 

- পরমাণু নামক ক্ষুদ্র কণা দ্বারা পদার্থ গঠিত। 
- এরা স্বাধীন অবস্থায় থাকতে পারে না। 
- দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলে অণু গঠন করে। 
- একই ধরনের পরমাণু মিলে মৌলিক পদার্থের অণু গঠন করে। 
- আর দুই বা ততোধিক পদার্থের পরমাণু মিলে যৌগিক পদার্থের অণু গঠন করে। 
অর্থাৎ, বস্তুর ধর্ম ধারণ করে এরূপ ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম অণু। 
- অণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫০.
নিচের কোনটি ধাতু বিশুদ্ধকরণের জন্য তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. লোহা
  2. সোনা
  3. কপার
  4. প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা
ধাতু বিশুদ্ধকরণ: 
- আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশনের পর প্রাপ্ত ধাতুতে যথেষ্ট পরিমাণে ভেজাল দ্রব্য মিশ্রিত থাকে। 
- এ সকল ধাতুকে বিশুদ্ধ করতে তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। 
- কপার, জিংক, লেড, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি ধাতুকে বিশুদ্ধকরণের জন্য তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- যে ভেজাল মিশ্রিত ধাতু থেকে ভেজাল অপসারণ করে বিশুদ্ধ ধাতু তৈরি করা হয় সেই ভেজাল মিশ্রিত ধাতুর দণ্ডকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুকে বিশুদ্ধ করতে চাওয়া হয় ঐ ধাতুর একটি বিশুদ্ধ দণ্ড ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে ভেজাল মিশ্রিত অবিশুদ্ধ ধাতুর দণ্ড থেকে ধাতব আয়ন দ্রবণে চলে যায় এবং দ্রবণ থেকে ঐ ধাতব আয়ন বিশুদ্ধ ধাতব দণ্ডে জমা পড়ে, ফলে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত বিশুদ্ধ ধাতব দণ্ড মোটা হতে থাকে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ চলাকালে একদিকে ভেজাল মিশ্রিত অবিশুদ্ধ ধাতব দণ্ড ক্ষয় হতে থাকে, অন্যদিকে বিশুদ্ধ ধাতব দণ্ড মোটা হতে থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১.
"ফেনলফথ্যালিন" নির্দেশক ক্ষারকে কোন রং প্রদর্শন করে?
  1. গোলাপী
  2. নীল
  3. বেগুনী
  4. বর্ণহীন
ব্যাখ্যা
• ফেনলফথ্যালিন - নির্দেশকের বর্ণ বর্ণহীন, এসিডে বর্ণহীন এবং ক্ষারকে গোলাপী বর্ণ প্রদর্শন করে।

এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক হলো-
- লিটমাস কাগজ - এসিডে লাল এবং ক্ষারকে নীল বর্ণ প্রদর্শন করে।

- মিথাইল রেড - নির্দেশকের বর্ণ লাল।
- মিথাইল রেড এসিডে লাল এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

- মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশকের বর্ণ হচ্ছে কমলা।
- এটি এসিডে গোলাপী এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

সুত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই।
৫২.
নাইট্রিক এসিডের মৌলিক পদার্থ কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. সোডিয়াম
  3. অক্সিজেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

নাইট্রিক এসিডের মৌলিক পদার্থ হল হাইড্রোজেন।
- নাইট্রিক এসিডে(HNO3) হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন থাকলেও এখানে অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন নাইট্রেট যৌগমূলক রূপে অবস্থান করে|
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন মৌলের মধ্যে অবস্থান করে ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি

৫৩.
নিলস বোরের পরমাণু মডেলের নাম কী?
  1. ক) সোলার মডেল
  2. খ) লুনার মডেল
  3. গ) কিশমিশ পুডিং মডেল
  4. ঘ) কোয়ান্টাম মডেল
ব্যাখ্যা

থমসনের পরমাণু মডেলের নাম - কিশমিশ পুডিং মডেল
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের নাম - সৌর মডেল
বোরের পরমাণু মডেলের নাম - কোয়ান্টাম মডেল৷

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

৫৪.
পরমাণুতে ইলেকট্রন সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাকে কী বলে? 
  1. নিউট্রন
  2. পজিট্রন
  3. ক্যাটায়ন
  4. অ্যানায়ন
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষণ: 
- কোনো অম্ল, ক্ষারক বা লবণ জাতীয় পদার্থের দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর দ্রব পদার্থের প্রত্যেকটি অণু দুটি তড়িতাহিত অংশে বিভক্ত হয় যায়। 
অর্থাৎ, “কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে”। 
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবনের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- সকল অ্যাসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, অ্যাসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ। 
যেমন- H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি। 

- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়। 
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকে যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশী ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে। 
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
কোন পদার্থ আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে?
  1. HCl
  2. HNO3
  3. H2O
  4. K2Cr2O7
ব্যাখ্যা

• আর্দ্রতা শোষণ: এটি এমন প্রক্রিয়া যেখানে একটি পদার্থ বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প শোষণ করে।

K2Cr2O7 (পটাসিয়াম ডাইক্রোমেট):
- এটি একটি হাইজ্রোস্কোপিক যৌগ, অর্থাৎ এটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে।
- এই প্রক্রিয়ায় যৌগটি পানির সাথে মিশে গলে যেতে পারে।
- HNO3 (নাইট্রিক এসিড): সাধারণত সোনা গলাতে ব্যবহার করা হয়, আর্দ্রতা শোষণ প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- HCl (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড): গ্যাস আকারে থাকে, আর্দ্রতা শোষণ প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- H₂O (পানি): এটি নিজেই পানি, শোষণ করার অর্থ নেই।

সুতরাং, আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে K2Cr2O7

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।    

৫৬.
তরল পদার্থের ক্ষেত্রে সঠিক কোনটি? 
  1. নির্দিষ্ট আকার আছে, আয়তন নেই 
  2. নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই নেই 
  3. নির্দিষ্ট আকার নেই, নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
  4. অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার।
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭.
নিচের কোনটি মুদ্রা ধাতু নয়?
  1. ক) তামা
  2. খ) রূপা
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) দস্তা
ব্যাখ্যা

পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর ৪টি মৌল হচ্ছে- তামা, রূপা, সোনা এবং রন্টজেনিয়াম।
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম ৩টি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে।
- কারণ এই গ্রুপের রন্টজেনিয়াম ছাড়া অন্য ৩টি মৌল দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হতো।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৫৮.
প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. ১৮
ব্যাখ্যা
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়।
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2 । যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
এ সূত্রানুসারে,
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1, অতএব
- K শেল অর্থাৎ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 12) টি = 2 টি।  
এভাবে প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯.
পানির একটি অণুকে ভাঙলে কয়টি পরমাণু পাওয়া যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা

পানির একটি অণুকে ভাঙলে তিনটি পরমাণু পাওয়া যায়। 

দুইটি হাইড্রোজেন এবং একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলে পানির একটি অণু গঠিত হয়।
অক্সিজেনের একটি অণুকে ভাঙলে দুইটি পরমাণু পাওয়া যায়।
অণু হচ্ছে কোনো পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক, যাতে ঐ পদার্থের সকল গুণাগুণ বিদ্যমান থাকে।
মৌলিক পদার্থের যে ক্ষুদ্রতম কণার মধ্যে মৌলটির সমস্ত ধর্ম উপস্থিত থাকে এবং যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে মৌলিক পদার্থটির পরমাণু বলে।

উৎস: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

৬০.
নিচের কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. Ra
  2. Na
  3. K
  4. Fe
ব্যাখ্যা

• রেডিয়াম (Ra) হচ্ছে মৃৎক্ষার ধাতুর উদাহরণ।

• মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়।
- মৌলগুলো হলো: বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra)।
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

• ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। - এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১.
কোনটিতে ঋণাত্মক আধান থাকে?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা । 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11 × 10-28 গ্রাম ও 1.60 × 10-19 কুলম্ব। 
- ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট। 

প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67 × 10-24 গ্রাম ও 1.60× 10-19 কুলম্ব। 
- ধণাত্মক আধান বিশিষ্ট। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক (James Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 গ্রাম। 

উৎস: রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
কোন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে মহাবিশ্বে ইথারের কোনো অস্তিত্ব নেই?
  1. ক) বোর-রাদারফোর্ড পরীক্ষা
  2. খ) হকিং-বোস পরীক্ষা
  3. গ) মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা
  4. ঘ) আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

অ্যালবার্ট মাইকেলসন ও এডওয়ার্ড মােরলে ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে ইথারের অস্তিত্ব নির্ণয়ের জন্য একটি বিখ্যাত পরীক্ষা সম্পাদন করেন।
এটি মাইকেলসন-মােরলে পরীক্ষা নামে সুপরিচিত।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, মহাবিশ্বে ইথারের কোনাে অস্তিত্ব নেই।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

৬৩.
কোন প্রক্রিয়ার সাহায্যে স্টার্চকে অ্যালকোহলে রূপান্তর করা হয়?
  1. ক্রিস্টালাইজেশন
  2. ক্লোরিনেশন
  3. ডিস্টিলেশন
  4. ফার্মেন্টেশন
ব্যাখ্যা

• স্টার্চকে অ্যালকোহলে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াটি ফার্মেন্টেশন। এই প্রক্রিয়ায় স্টার্চ প্রথমে সহজ চিনিতে রূপান্তরিত হয়, সাধারণত অ্যামাইলেজ নামক এনজাইমের মাধ্যমে। এরপর সেই সহজ চিনি খামির বা অন্য মাইক্রোবায়ালের সাহায্যে আলকোহলে রূপান্তরিত হয়। ফার্মেন্টেশনের সময় চিনি ভেঙে ইথানল এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সংমিশ্রণ, যা বীয়ার, রম, ভদকা ইত্যাদির উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অন্য তিনটি প্রক্রিয়া—ক্রিস্টালাইজেশন, ক্লোরিনেশন, এবং ডিস্টিলেশন—স্টার্চকে সরাসরি অ্যালকোহলে রূপান্তর করতে সক্ষম নয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) ফার্মেন্টেশন।
 
অ্যালকোহল: 
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। 
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। 
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলের ৯৬% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে। 
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। 

- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়, একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। 
- কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। 
- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪.
কোনটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) নিশাদল
  3. গ) মোম
  4. ঘ) কর্পূর
ব্যাখ্যা
- মোম পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়।

গলন
:
- কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করার প্রক্রিয়াকে গলন বলা হয়।
যেমন- কঠিন মোমকে তাপ দেয়ার ফলে তা গলে তরল মোমে পরিণত হয়।
- কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ হলে এটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলতে আরম্ভ করে এবং গলন যতক্ষণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে।
- এরূপ যে স্থির তাপমাত্রায় কোনো বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে তাকে ঐ কঠিন পদার্থের গলনাংক বলে।
- কঠিন পদার্থের মধ্যে অপদ্রব্য বা ভেজাল মিশ্রিত থাকলে উহা অপেক্ষাকৃত নিম্ন তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে।

উর্ধ্বপাতন
:
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর।
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না, যাদের উদ্বায়ী পদার্থ বলে।
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
যেমন- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
একটি পরমাণুর প্রধান শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে- 
  1. n2
  2. 2n2
  3. 2n
  4. 3n2
ব্যাখ্যা

শক্তিস্তর: 
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- একটি পরমাণুর প্রধান শক্তি স্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2,(যেখানে, n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি)।
- এ সূত্রানুসারে, 
• প্রথম বা K শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2 
= ( 2 x 12) টি, 
= 2 টি। 

• দ্বিতীয় বা L শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2 
= ( 2 x 22) টি, 
= 8 টি। 

• তৃতীয় বা M শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2 
= ( 2 x 32) টি, 
= 18 টি। 

• চতুর্থ বা N শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে, 2n2
= ( 2 x 42) টি,
= 32 টি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬.
HCl + NaOH → NaCl + H2O -এই বিক্রিয়ায় NaCl কী ধরনের লবণ?
  1. অম্লীয়
  2. ক্ষারীয় 
  3. পূর্ণ সরল
  4. আংশিক লবণ
ব্যাখ্যা

- NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড) একটি পূর্ণ সরল (Neutral) লবণ কারণ এটি একটি শক্তিশালী অ্যাসিড (HCl) এবং একটি শক্তিশালী ক্ষার (NaOH) এর প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়। শক্তিশালী অ্যাসিড ও শক্তিশালী ক্ষার সম্পূর্ণরূপে একে অপরকে প্রশমিত করে। 

লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ।
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে। 
যেমন- 
• HCl + NaOH → NaCl + H2
• এসিড + ক্ষার → লবণ + পানি 

- এছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। এই লবণগুলোর মধ্যে কোনোটি অম্লীয়, আবার কোনোটি ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
১) পূর্ণ সরল লবণ: NaCl, KNO3, CaCO3 ইত্যাদি। 
২) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3 ইত্যাদি। 
৩) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭.
প্লাস্টিক বোতলের মধ্যে যে PET লেখা থাকে, তার পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) PolyEthylene Tetrachloride
  2. খ) PolyEthylene Trichloride
  3. গ) PolyEthylene Terephthalate
  4. ঘ) PolyEthylene Tetraphenol
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিক বোতলের মধ্যে যে PET লেখা থাকে, তার পূর্ণরূপ - PolyEthylene Terephthalate.

Polyethylene terephthalate (PET or PETE) হচ্ছে একধরনের শক্ত সিন্থেটিক ফাইবার। এটি পলিমারের পলিয়েস্টার পরিবারের সদস্য।
- PET ইথিলিন গ্লাইকোল এবং টেরেফথালিক অ্যাসিডের পলিমারাইজেশন দ্বারা উত্পাদিত হয়।
- ইথিলিন গ্লাইকোল হল ইথিলিন থেকে প্রাপ্ত একটি বর্ণহীন তরল পদার্থ।
- টেরেফথালিক অ্যাসিড হল জাইলিন থেকে প্রাপ্ত একটি স্ফটিক কঠিন।
- রাসায়নিক অনুঘটকের প্রভাবে একসাথে উত্তপ্ত হলে, ইথিলিন গ্লাইকোল এবং টেরেফথালিক অ্যাসিড গলিত আকারে PET তৈরি করে।
- এটিকে সরাসরি ফাইবারে প্রক্রিয়াজাত করা যায় অথবা পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য শক্ত প্লাস্টিকে রূপান্তর করা যায়।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৬৮.
পঁচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী কোন গ্যাস?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ক্লোরিন
  3. গ) হাইড্রোজেন সালফাইড
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেন সালফাইড:
- এটি একটি রাসায়নিক যৌগ। এর রাসায়নিক সংকেত H2S.
- ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল উইলহেম শিলি হাইড্রোজেন সালফাইড আবিষ্কার করেন।
- এটি বর্ণহীন গ্যাস।
- এতে রয়েছে পচা ডিমের গন্ধ।
- সাধারণ প্রাকৃতিক বাতাসের থেকে এই গ্যাস একটু ভারি।
- জীবের জন্য এই গ্যাস বিষাক্ত।
৬৯.
নিচের কোন পদার্থটি ঊর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. বেজয়িক এসিড
  2. আয়োডিন
  3. নিশাদল
  4. বেনজিন
ব্যাখ্যা
• বেনজিন ঊর্ধ্বপাতিত হয় না।
- কারণ এটি কঠিন নয়, বরং একটি উদ্বায়ী তরল, যা গরম করলে বাষ্পে পরিণত হয়।

• ঊর্ধ্বপাতন:

- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
যেমন -
• বেজয়িক এসিড,
• নিশাদল (NH4CI),
• কপূর (C10H16O),
• ন্যাপথলিন (C10H8),
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂),
• আয়োডিন (I2),
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AICI₃)।
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০.
হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোন কণিকা নেই? 
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকা: 
- ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়। এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের। 
যেমন- 
স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১.
ইউরিয়া যখন মাটিতে প্রয়োগ করা হয়, তখন কোন এনজাইমের মাধ্যমে NH4+ উৎপন্ন হয়? 
  1. প্রোটিয়েজ 
  2. লিপেজ
  3. অ্যামিলেজ 
  4. ইউরিয়েজ 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া (Urea): 
- ইউরিয়া মূল্যবান পদার্থ।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অ্যামোনিয়া গ্যাসের মিশ্রণকে উচ্চ চাপে এবং 130°-150°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে প্রথমে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট (NH2COONH4) উৎপন্ন হয়। 
- পরবর্তীতে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট ভেঙে ইউরিয়া (NH2-CO-NH2) প্রস্তুত হয়। 
• CO2 + 2NH3 → NH2COONH4
• NH2COONH4 → NH2-CO-NH2 + H2

- শিল্পক্ষেত্রে এবং কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়ার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে ইউরিয়া থেকে ম্যালামাইন পলিমার তৈরি করা হয়।
- কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়াকে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জমিতে ইউরিয়া সার দেওয়া হয় যাতে গাছ ইউরিয়া সার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে।
- উদ্ভিদ বায়ু থেকে সরাসরি N2 গ্রহণ করে না। মাটিতে ইউরিয়েজ (urease) এনজাইমের উপস্থিতিতে ইউরিয়া পানির সাথে বিক্রিয়া করে NH4+, OH- এবং CO2 তৈরি করে। উদ্ভিদ এই NH4+ শোষণ করে। 
• NH2-CO-NH2 + 3H2O → 2NH4+ + 2OH- + CO2

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭২.
পানীয় হিসেবে গ্রহণযোগ্য একমাত্র অ্যালকোহল কোনটি? 
  1. ইথানল
  2. মিথানল 
  3. প্রোপানল 
  4. বিউটানল 
ব্যাখ্যা

মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit) । 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাচাঁমালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানল একমাত্র অ্যালকোহল যা পানীয় হিসেবে পান করা যায়। 
- অধিক পরিমাণ ইথানল পান বিষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে বা শিল্পে ব্যবহৃত ইথানলকে মানুষের পানের অযোগ্য করার জন্য এতে বিষাক্ত মিথানল (৪%) মিশিয়ে দেয়া হয়। 
- মিথানল মিশ্রিত এ ধরনের রেকটিফাইড স্পিরিটকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। একে ডিনেচারড অ্যালকোহলও (Denatured alcohol) বলা হয়ে থাকে। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন: শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
নন-রেডক্স বিক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ইলেকট্রন স্থানান্তর ঘটে
  2. শুধুমাত্র অক্সিডেশন ঘটে
  3. জারণ সংখ্যা পরিবর্তিত হয়
  4. জারণ সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

নন-রেডক্স বিক্রিয়া: 
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারণে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- প্রশমন বিক্রিয়া এবং অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪.
নিচের কোন ধাতুটি সবচেয়ে কম সক্রিয়?
  1. গোল্ড
  2. লিথিয়াম
  3. পটাসিয়াম
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়।
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল।
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়।
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়।
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে।
- অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলা
৭৫.
নিচের কোনটি প্রকৃতিতে প্রায় বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়?
  1. ক) পটাশিয়াম
  2. খ) সীসা
  3. গ) লোহা
  4. ঘ) প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা

প্লাটিনাম এবং সোনা দুইটি প্রায় অসক্রিয় ধাতু। এদের অবস্থান ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজের একেবারে নিচে। তাই পারতপক্ষে অন্য কোনো মৌলের সাথে এরা বিক্রিয়া করতে চায় না।
তাই প্রকৃতিতে এদের প্রায় বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৭৬.
এস্টারের অম্লীয় আর্দ্র বিশ্লেষণে কী উৎপন্ন হয়?
  1. অ্যামাইড
  2. অ্যালডিহাইড
  3. জৈব এসিড
  4. অ্যানহাইড্রাইড
ব্যাখ্যা
এস্টার (R-COOR): 
- উদ্ভিজ্জ্ব তৈল ও প্রাণিজ চর্বি হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের ট্রাইগ্লিসারাইড এস্টার। 
- এ এস্টারকে লঘু HCI এসিডসহ আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে উচ্চতর ফ্যাটি এসিড (জৈব এসিড) ও গ্লিসারিন উৎপন্ন হয়। 
- সাধারণ এস্টারও ব্যবহার করা যায়। 


ফরমিক এসিড বা মিথানোয়িক এসিড প্রস্তুতি: 
- প্রায় 200°C ও 8 atm চাপে CO ও NaOH বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ফরমেট উৎপন্ন করে। 
- এটিকে লঘু H2SO4 সহ অর্দ্র বিশ্লেষণের পর উৎপন্ন ফরমিক এসিডকে 101°C-এ পাতিত তরলরূপে সংগ্রহ করা হয়। 


অ্যাসিটিক এসিড প্রস্তুতি: 
- পেট্রোলিয়াম তাপ বিযোজনে উৎপন্ন অ্যাসিটিলিনকে 60°C এ 2%HgS04 ও 20% H2SO4 এর মিশ্রণে চালনা করলে ইথান্যাল উৎপন্ন হয়। 
- ইথান্যালকে ম্যাঙ্গানাস অ্যাসিটেট প্রভাবকের উপস্থিতিতে 60°C-এ বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত করে উৎপন্ন অ্যাসিটিক এসিডকে 118°C-এ পাতন করা হয়। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৭৭.
এরোপ্লেন ও ডুবুরিদের কাছে যে নিষ্ক্রিয় গ্যাস প্রয়োজন তা হলো-
  1. হিলিয়াম
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
হিলিয়াম: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
নিচের কোনটি পদার্থের অবস্থা বিবেচনা করা হয় না?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. প্লাজমা
  4. ভয়েড
ব্যাখ্যা

• পদার্থের অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা আছে যার নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়।
- আমাদের ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, নিয়ন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে।
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায় সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।
- বর্তমানে ফিশন পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়।
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশান পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

• ভয়েড:
- পদার্থের কণার মধ্যে ফাঁকা স্থান থাকাকে ভয়েড বা Void বলা হয়।
- প্রত্যেক পদার্থের কণার মধ্যে ছোট বা বড় পরিমাণে ভয়েড (শূন্যস্থান) থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯.
 নিচের কোনটির স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে কম?
  1. রাবার
  2. ইস্পাত
  3. হীরা
  4. পিতল
ব্যাখ্যা

প্রদত্ত অপশনসমূহের মধ্যে রাবার সবচেয়ে কম স্থিতিস্থাপক।

স্থিতিস্থাপকতা:
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে।
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে।
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক।

স্থিতিস্থাপক সীমা:
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক।
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়।
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন।
- যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম।

অপশনসমূহ:
- ইস্পাত: ইস্পাত রাবারের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক।
- হীরা: হীরা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন এবং অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক একটি পদার্থ।
- পিতল: পিতল একটি সংকর ধাতু যা ইস্পাত এবং হীরার চেয়ে কম স্থিতিস্থাপক হলেও রাবারের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিস্থাপক।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৮০.
ZnCO3 কোনটি নির্দেশ করে?
  1. বেকিং সোডা
  2. ক্যালামিন
  3. মিল্ক অফ লাইম
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সংকেত: 
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH.
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১.
কোনটি কলয়েডধর্মী না?”
  1. ক) পানি
  2. খ) স্টার্চ
  3. গ) সেলুলোজ
  4. ঘ) জিলেটিন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদদেহের কলয়েডধর্মী পদার্থের (স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন) পানি শোষণের প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে।
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮২.
প্রোটন আবিস্কার করেন কে?
  1. ক) জে জে থমসন
  2. খ) রাদারফোর্ড
  3. গ) জেমস্‌ চ্যাডউইক
  4. ঘ) রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
পরমানুর মৌলিক কণিকা ৩ টি।
ইলেক্ট্রন - জে জে থমসন আবিস্কার করেন।
প্রোটন - রাদারফোর্ড আবিস্কার করেন।
নিউট্রন - জেমস্‌ চ্যাডউইক আবিস্কার করেন।

- রবার্ট হুক কোষ আবিস্কার করেন।

উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই।
৮৩.
চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কী হয়?
  1. মার্বেল
  2. কোয়ার্টজাইট
  3. স্লেট
  4. নিস
ব্যাখ্যা

• রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।
যেমন: 
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৮৪.
Which of the following inert gases is used in tube lights?
  1. ক) Helium
  2. খ) Neon
  3. গ) Argon
  4. ঘ) Radon
ব্যাখ্যা
পূর্বে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে নাইট্রোজেন এবং টিউবলাইটে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হতো।
তবে বর্তমানে উভয়ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসাবে আর্গন ব্যবহৃত হয়।

আর্গনের ব্যবহার:
১. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
২. রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৩. ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪. তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।।

উল্লেখ্য, প্রশ্নের অপশনে আর্গন না থাকলে নাইট্রোজেন উত্তর হবে।

উৎস: রসায়ন বই, SSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
কোন পদার্থটি কঠিন অবস্থা থেকে তরলে রূপান্তরিত হলে আয়তনে হ্রাস পায়?
  1. মোম
  2. তামা
  3. বরফ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
(ক) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায় যেমন মোম, তামা ইত্যাদি।
চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় গলে।

(খ) কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায় যেমন লোহা, বরফ, বিসমাথ ইত্যাদি। চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায়।
অর্থাৎ এরা কম তাপমাত্রায় গলে। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬.
পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়-
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. হাইড্রোজেন
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক চুল্লি:
- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

উৎস:
১. রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. IAEA ওয়েবসাইট।
৮৭.
সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে কোন ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহৃত হয়?
  1. Na2O
  2. ZnO
  3. Al2O3
  4. CuO
ব্যাখ্যা
- সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে ব্যবহৃত পার্টিকেল হচ্ছে জিঙ্ক অক্সাইড (ZnO)। 

ন্যানো পার্টিকেল বা ন্যানো কণা: 
- ন্যানো শব্দের সাধারণ অর্থ হলো 'খুবই ক্ষুদ্র'; যেমন, সংখ্যার একক মানের 1x 10-9 বোঝায় এবং মিটার এককে এর প্রতীক হলো 1nm = 10-9 m. 
- ন্যানোস্কেল সিস্টেম বলতে ক্ষুদ্রতম কণার প্রস্থ 1nm থেকে 50mm পরিসর হলে তাকে ন্যানো কণা বলে। 

ন্যানো কণার শ্রেণিবিভাগ: 
১. ন্যানো-লেয়ার (nanolayer): 
- ন্যানো স্কেল মতে One dimension বা একমাত্রিক বা রৈখিক বস্তুকণার পরিসর (range) 1nm - 100nm হলে, এদেরকে ন্যানো-লেয়ার (nanolayer) বলে। 

২. ন্যানো-টিউব: 
- ন্যানো স্কেল মতে, 1nm-100nm এর দ্বিমাত্রিক (বা two dimensions) ক্ষুদ্রকণার নাম হলো ন্যানো-টিউব বা ন্যানো-ওয়্যার (nanotube বা, nanowire)। 

৩. ন্যানো পার্টিকেল: 
- ন্যানো স্কেল মতে, 1nm-100nm এর ত্রিমাত্রিক ক্ষুদ্রকণাকে ন্যানো পার্টিকেল বলে। 

- পদার্থের স্বাভাবিক অবস্থায় বস্তুর স্থূলতা বা পরিমাণ ভৌত ধর্মকে প্রভাবিত করে না; কিন্তু ন্যানো পার্টিকেলের আকার ছোট বা বড় হলে এদের ভৌত ধর্মসমূহে বিশেষত অপটিকেল (optical), চুম্বকীয় (magnetic), বৈদ্যুতিক (electrical), যান্ত্রিক (mechanical) ইত্যাদি ধর্মে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়। 
- এর মূলে রয়েছে ন্যানো কণার তলের ক্ষেত্রফল (surface area) পদার্থের স্বাভাবিক স্থল অবস্থা থেকে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। 
যেমন- 
(a) সাধারণ অবস্থায় সোনার বর্ণ হলো সোনালী হলুদ এবং সিলিকন হলো ধূসর বর্ণের। কিন্তু ন্যানো আকারে সোনার ও সিলিকনের বর্ণ হলো লাল। 
(b) সাধারণ অবস্থায় স্বর্ণের গলনাঙ্ক হলো 1064°C; কিন্তু 2.5 nm আকারের স্বর্ণের গলনাঙ্ক হয় প্রায় 300°C. 
(c) ফটোভোল্টিক সেলে (Photovoltic cell) সৌর রশ্মির শোষণের পরিমাণ ঐ সেলের ভেতরের পদার্থের আকারের ওপর নির্ভর করে। এতে সাধারণ অবস্থার পদার্থ যে পরিমাণ সৌর রশ্মি শোষণ করে, ন্যানো কণা যত ছোট হয়। ততো বেশি পরিমাণে সৌর রশ্মি শোষণ করতে পারে। 
(d) আবার ZnO স্বাভাবিক অবস্থায় UV রশ্মি যে পরিমাণ প্রতিহত করে এর চেয়ে ন্যানো কণা অবস্থায় ZnO অনেক বেশি UV রশ্মি প্রতিহত করে। এজন্য ZnO ন্যানো কণা অবস্থায় 'Sun-screen lotion' তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
(e) সাধারণত অদ্রবণীয় কঠিন বস্তুর গুঁড়া তরল পদার্থে মিশ্রিত করলে ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে ঐ কঠিন বস্তুর গুঁড়া তরলে ভাসবে অথবা তলায় পড়ে জমা হবে। কিন্তু ন্যানো স্কেলের সূক্ষ্ম গুঁড়া বিস্তারণ বল, আয়ন ডাইপোল সম্পর্ক মতে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সাসপেনশন অবস্থায় থাকে।
(f) ন্যানো কণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌতধর্ম হলো চুম্বকীয় ধর্ম ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ধর্ম। যেমন ফেরো-ইলেকট্রিক কঠিন পদার্থ 10 nm এর ছোট আকারে থাকলে কক্ষ তাপমাত্রার তাপীয় শক্তি ব্যবহার করে সুপার প্যারা ম্যাগনেটিজম ধর্ম প্রকাশ করে। তখন এসব ন্যানো পার্টিকেল মেমোরি স্টোরেজ (memory storage)-এর অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই সব সময় এরূপ ধর্ম ন্যানো পার্টিকেলে সুবিধাজনক বা কাম্য নয়। অনেক ন্যানো কণা বিশেষত গ্রাফিন ও কার্বন ন্যানো টিউব সাধারণ গ্রাফাইটের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী হয়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৮৮.
কোন মৌলিক পদার্থের পারমাণবিক সংখ্যা ২৬?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) আয়রন
ব্যাখ্যা

ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা 17
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 19
ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 20
আয়রনের পারমাণবিক সংখ্যা 26

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

৮৯.
কোন পদ্ধতিতে গ্যাস পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বাইরে বের হয়ে যায়? 
  1. পাতন
  2. ব্যাপন
  3. নিঃসরণ
  4. ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম। আর যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০.
যদি একটি তামার তারের ব্যাস দ্বিগুণ করা হয় তবে এর কারেন্ট বহন করার ক্ষমতা -
  1. ক) চতুর্গুণ বৃদ্ধি পায়
  2. খ) দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়
  3. গ) অর্ধেক হ্রাস পায়
  4. ঘ) এক-চতুর্থাংশ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
একটি তামার তারের ব্যাস দ্বিগুণ করা হলে এর রোধ এক-চতুর্থাংশ হয় এবং এর কারেন্ট বহন করার ক্ষমতা চারগুণ হয়।
৯১.
ভিনেগার অন্য কী নামে পরিচিত?
  1. ম্যালিক এসিড
  2. অ্যাসিটিক এসিড
  3. ল্যাকটিক এসিড
  4. সাইট্রিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
- তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে বলা হয় -
  1. অণু
  2. পরমাণু
  3. প্রোটন
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

অন্যদিকে, 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯৩.
কোনো যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে কতটি অণুকে বুঝায়?
  1. 6.023×10 - 17
  2. 6.023×1017
  3. 6.023×10 - 23
  4. 6.023×1023
ব্যাখ্যা
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা:  
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
- অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার মান 6.023×1023। 
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023। 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
ইউরোনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা -
  1. ৯২
  2. ৮৯
  3. ৯৮
  4. ৯০
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়।
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11।
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- ইউরোনিয়ামের (U) পারমাণবিক সংখ্যা  ৯২। 
- অ্যাক্টিনিয়ামের (Ac) পারমাণবিক সংখ্যা  ৮৯। 
- ক্যালিফোর্নিয়ামের (Cf) পারমাণবিক সংখ্যা  ৯৮।  
- থোরিয়ামের (Th) পারমাণবিক সংখ্যা ৯০।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
৯৫.
নিচের কোনটি উৎকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা?
  1. বিটুমিনাস 
  2. পিট 
  3. অ্যানথ্রাসাইট 
  4. লিগনাইট 
ব্যাখ্যা

কয়লা (Coal): 
- কোনো এক যুগে ভূপৃষ্ঠস্থ বিশেষ এক ধরনের গাছপালা ভূগর্ভে প্রোথিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ তাপ ও উপরের শিলাস্তরের চাপের ফলে তা রূপান্তরিত হয়ে এক ধরনের শিলাস্তরে পরিণত হয় তাকে কয়লা বলে। 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা কার্বনের সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
- কার্বনের পরিমাণ বেশি হলে তাপ প্রদানের ক্ষমতাও অধিক হয়।
সুতরাং, তাপ প্রদানের ক্ষমতা দ্বারাই কয়লার গুণাগুণ বিচার করা হয়।
- গুণাগুণের পার্থক্য অনুযায়ী কয়লাকে প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
যথা- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পিট।
যথা - 
১। অ্যানথ্রাসাইট: 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো উৎকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা। 

২। বিটুমিনাস: 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

৪। পিট:
- পিট হচ্ছে এক ধরণের নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা। 

উল্লেখ্য, 
- নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই অনুসারে, কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস, লিগনাইট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজজেম হোসেন চৌধুরী)।

৯৬.
জন্মদিনে কেক ফলানোর জন্য শেহতাজ একটি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে। উল্লিখিত রাসায়নিক পদার্থটি কি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম গ্লুটামেট
  3. সোডিয়াম কার্বনেট
  4. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
ব্যাখ্যা
বেকিং সোডা (Baking Soda) :
- বেকিং সোডা (NaHCO3) বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- বেকিং সোডা ব্যবহার করে খাবার তৈরির বেলায় খাবারের উপাদান হিসেবে ভিনেগার বা লেবুর রস বা টক দই অথবা অন্য এমন কোন উপাদান থাকে যা অম্লধর্মী।
- এক্ষেত্রে NaHCO3 খাবারের অম্ল উপাদানের (যেমন- ভিনেগার) সাথে বিক্রিয়া করে H2CO3 এসিড উৎপন্ন করে। H2CO3 সহজেই বিয়োজিত হয় এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে যা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে। 

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
কোনটি অধাতুর বৈশিষ্ট নয়? 
  1. ক) তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়
  2. খ) বিজারক 
  3. গ) আঘাত করলে শব্দ হয় না
  4. ঘ) ঘষলে চকচক করে না 
ব্যাখ্যা
অধাতুর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:  

- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়।
- আঘাত করলে শব্দ হয় না।
- অধাতু ঘাত সহনশীল ও নমনীয় নয়।
- ঘষলে চকচক করে না।
- অধাতু সমূহের দ্যুতি নেই।
- ওজনে হালকা হয়।
- সহজে জোড়া লাগানো যায় না।
- পিটিয়ে পাত করা যায় না।
- কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতুগুলো জারক পদার্থ।
- অপেক্ষাকৃত নিম্ন গলনাংক ও স্ফুটনাংক বিশিষ্ট।
- অধাতুসমূহ এসিডের হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করে লবণ উৎপন্ন করে না।
- চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ ডায়াম্যাগনেটিক প্রকৃতির।
৯৮.
জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ হচ্ছে - 
  1. বায়োগ্যাস
  2. জিওথার্মাল
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. জলবিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা

• জীবাশ্ম জ্বালানি হলো সেই ধরনের জ্বালানি যা প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীতে সৃষ্টি হওয়া মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশিষ্ট থেকে তৈরি হয়। পেট্রোলিয়াম, কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এর মধ্যে প্রধান উদাহরণ। এই জ্বালানি নির্দিষ্ট সময়ে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং পুনঃপ্রয়োগযোগ্য নয়।
- প্রশ্নে উল্লিখিত অপশন গুলির মধ্যে, পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানির একটি উদাহরণ। বায়োগ্যাস এবং জিওথার্মাল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আর জলবিদ্যুৎও পুনঃনবীকরণযোগ্য উৎস থেকে উৎপন্ন হয়, তাই সেগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ নয়।

• জীবাশ্ম জ্বালানি:
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 

• জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস।

• পেট্রোলিয়াম:
- পেট্রোলিয়াম এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি।
- তেলের প্রতিশব্দ হচ্ছে পেট্রোলিয়াম।
- ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত পেট্রো + অলিয়াম। পেট্রো শব্দের অর্থ রক বা শিলা এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ অয়েল বা তৈল। অর্থাৎ পাথরের বা শিলার স্তরে সঞ্চিত যে তেল তাহাকে পেট্রোলিয়াম বলে।
- আজ থেকে প্রায় পাঁচশত কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলার স্তরে গাছ-পালা ও প্রাণিদেহের দেহাবশেষ জৈব বিধ্বংসী পাতন প্রক্রিয়ার ফলে খনিজ তেলের সৃষ্টি হয়।
- ইহা কার্বন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ। তাই পেট্রোলিয়াম হচ্ছে তরল জীবাশ্ম জ্বালানি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- জল বিদ্যুৎ ও জিও থার্মাল, বায়োগ্যাস নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯.
শিখা পরীক্ষার ইটের মত লাল বর্ণ ধারণ করে কোনটি? 
  1. ক) সোডিয়াম 
  2. খ) পটাসিয়াম 
  3. গ) তামা  
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম 
ব্যাখ্যা
শিখা পরীক্ষা হল রসায়নের পরীক্ষায় ব্যবহার করা একটি বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি, এটি বিভিন্ন উপাদানের সনাক্তকরণের পরীক্ষা। শিক্ষা পরীক্ষার ধাতুসমূহ নিন্মোক্ত বর্ন ধারণ করে। 

ধাতু  --  শিখা পরীক্ষায় বর্ণ 
সোডিয়াম - সোনালি হলুদ 
পটাশিয়াম - বেগুনী 
তামা - গাঢ সবুজ 
ক্যালসিয়াম - লাল বর্ণ (ইটের ন্যায়)
১০০.
অকেলাসিত পদার্থ কোনটি? 
  1. চিনি
  2. কাঁচ
  3. মাইকা
  4. কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে। 
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে। 
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন। 
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত। 
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়। 

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাঁচ, রবার, সালফার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।