বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৯৪ / ২১১ · ৯,৩০১৯,৪০০ / ২১,১৩২

৯,৩০১.
কোনটি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক দিনলিপি গ্রন্থ?
  1. ফেরারী ডায়েরী
  2. একাত্তরের দিনগুলি
  3. ফেরারী সূর্য
  4. নরকে লাল গোলাপ
সঠিক উত্তর:
ফেরারী ডায়েরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরারী ডায়েরী
ব্যাখ্যা
• মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিদিনের ঘটনাবলী নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত দিনলিপি হচ্ছে ‘ফেরারী ডায়েরী’।

------------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

অন্যদিকে,
• ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
• রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - ফেরারী সূর্য।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘নরকে লাল গোলাপ’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩০২.
‘পউষের পাতা-ঝরা তপোবনে আজি কী কারণে, টলিয়া পড়িল আসি বসন্তের মাতাল বাতাস’ - চরণগুলো রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. ক) চিত্রা
  2. খ) মানসী
  3. গ) বলাকা
  4. ঘ) ক্ষণিকা
সঠিক উত্তর:
গ) বলাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বলাকা
ব্যাখ্যা

বলাকা কাব্যের পূর্ব পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের রোম্যান্টিক কবিমানস কখনও সুখ-দুঃখ-বিরহ-মিলনপূর্ণ মানব সংসারে বিচরণ করেছে, আবার কখনও নিরুদ্দেশ সৌন্দর্যলোকে যাত্রা করেছে।
এই জীবন ও অরূপের সমন্বয় সাধনজনিত অস্থিরতা থেকে কবি মুক্তি পান বলাকা কাব্যে এসে। বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারার দুঃখবোধ ও মানসিক দ্বন্দ্ব তাঁর সন্ধ্যাসংগীত কাব্যের মূল সুর।

বস্ত্তত জীবনজিজ্ঞাসা ও প্রকাশরীতির বিভিন্ন পর্যায়ে প্রাচ্য চিন্তা এবং পাশ্চাত্য ধারণার সমন্বয় সাধনই রবীন্দ্র-কবিমানসের বৈশিষ্ট্য।
বার্গসঁর গতিতত্ত্বের প্রভাব রবীন্দ্রমানসে প্রথম থেকেই ক্রিয়াশীল ছিল।
বলাকা নবজীবনবাদের কাব্য। এতে বিষয়বস্ত্ত ও ভাবগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কবি কলাকৌশলেও অভিনবত্ব এনেছেন।
বস্ত্তজগতে পরমাণুর নিরন্তর গতি, অবিরাম প্রবাহ আর ছন্দের স্পন্দন যেন তাঁর চেতনার জগতেও সৃষ্টি করেছে এক প্রবল ছন্দোময়তা।
তাই মুক্ত ছন্দ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তিনি ভাষা ও ছন্দের নিরীক্ষা করেছেন বিভিন্ন কবিতায়। যেমন:

পউষের পাতা-ঝরা তপোবনে
আজি কী কারণে
টলিয়া পড়িল আসি বসন্তের মাতাল বাতাস;
নাই লজ্জা, নাই ত্রাস,
আকাশে ছড়ায় উচ্চহাস
চঞ্চলিয়া শীতের প্রহর
শিশির-মন্থর।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৯,৩০৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হিন্দুমেলার উপহার’ কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. পূর্ণিমা
  2. ভারতী
  3. অমৃতবাজার
  4. থিয়েটার
সঠিক উত্তর:
অমৃতবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃতবাজার
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হিন্দুমেলার উপহার’ কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকা-তে প্রকাশিত হয়।
-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের ছিলেন।
- তিনি আট বছর বয়স থেকে কবিতা রচনা শুরু করেন।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর 'হিন্দুমেলার উপহার' কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকা-তে প্রকাশিত হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতা হলো—
• গীতাঞ্জলি (যার জন্য তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল পান),
• সোনার তরী,
• ঐকতান,
• প্রাণ,
• বৃক্ষ,
• আষাঢ়,
• ১৪০০ সাল,
• যেতে নাহি দিব,
• দুই পাখি,
• নিরুদ্দেশ যাত্রা,
• মানষী,
• হঠাৎ দেখা,
• দান,
• দুই বিঘা জমি।
----------------------
উল্লেখ্য,
• পূর্ণিমা- বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা।
• ভারতী- দিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা।
• থিয়েটার- রামেন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৩০৪.
'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা -
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়: 
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।
-  অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ রাখী (১৯৩২)। 
- তাঁর প্রথম উপন্যাস অসমাপিকা (১৯৩০)।
- ১৯২৭ সালে অন্নদাশঙ্কর রায় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথমস্থান অধিকার করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৩০৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘হেক্টরবধ’ গ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ভূদেব মুখোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ভূদেব মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূদেব মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত  রচিত ‘হেক্টরবধ’ গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।

• হেক্টরবধ:

- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,৩০৬.
উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশে কোন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. হিন্দু কলেজ
  3. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. প্রেসিডেন্সি কলেজ
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• বাংলা গদ্য সাহিত্য বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিশেষ অবদান রয়েছে।
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন; ইতিহাসমালা।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৩০৭.
‘রমা ও বেণী’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গৃহদাহ
  2. পল্লীসমাজ
  3. চরিত্রহীন
  4. দত্তা
সঠিক উত্তর:
পল্লীসমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাস:
- পল্লীসমাজ (১৯১৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এর নাট্যরূপ ‘রমা’ (১৯২৮) সালে বাংলা রঙ্গমঞ্চে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

 প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রমা,
- রমেশ,
- বেণী,
- বলরাম।

অন্যদিকে,
‘গৃহদাহ’ উপন্যাসের চরিত্রসমূহ: অচলা, সুরেশ ও মহিম।
‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের চরিত্রসমূহ: সতীশ, সাবিত্রী ও কিরণময়ী। 
‘দত্তা’ উপন্যাসের চরিত্রসমূহ: বিজয়া, রাসবিহারী, নরেন, রমা ও বনমালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩০৮.
বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতা প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সবুজপত্র
  2. হিতকরী
  3. কল্লোল
  4. সমকাল
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতা:
- জসীম উদ্‌দীনের 'কবর' কবিতা 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'কবর' কবিতার মোট লাইন সংখ্যা- ১১৮ টি।
- ১৯২৫ সালে কবি জসীমউদ্দীন রচিত ‘কবর’ কাবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়

জসীম উদ্‌দীন:

- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- সূচয়নী,
- নিমন্ত্রণ,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩০৯.
'আনোয়ার পাশা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) ইবরাহীম খাঁ
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
খ) ইবরাহীম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইবরাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ইব্রাহীম খাঁ পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- এছাড়াও তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ- 
- কামাল পাশা (১৯২৭),
- আনোয়ার পাশা (১৯৩৯),
- ঋণ পরিশোধ (১৯৫৫),
- আলু বোখরা (১৯৬০),
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র (১৯৫৪),
- বাতায়ন (১৯৬৭),
- ব্যাঘ্র মামা (১৯৫১) এবং
- বেদুঈনদের দেশে (১৯৫৬) প্রধান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩১০.
'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. আহমেদ শরীফ
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধের লেখক - মোতাহের হোসেন চৌধুরী

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:

- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ, 
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩১১.
সেলিম আল দীন রচিত কোন নাটকটি নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় রচিত?  
  1. হাতহদাই 
  2. নিমজ্জন
  3. চাকা 
  4. হরগজ
সঠিক উত্তর:
হাতহদাই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতহদাই 
ব্যাখ্যা

• ​হাতহদাই:
​- সেলিম আল দীন রচিত হাতহদাই নাটকটি নোয়খালির আঞ্চলিক ভাষায় রচিত।

- ​হাত হদাই সবদ্যার মানে সাত সদাই সাত রকমের সওদা।
​- এক নাটকে নোয়াখালী অঞ্চলের এক গ্রামের মৌলবির মুখের আঞ্চলিক ভাষাও যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সে কথা প্রতিষ্ঠিত।

​অন্যদিকে,
​- হরগজ,চাকা ও নিমজ্জন আঞ্চলিক ভাষায় রচিত নয়।

​সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- তাঁর রচিত হরগজ নাটকটি সুইডিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল কর্তৃক হিন্দি ভাষায় মঞ্চস্থ হয়েছে।

​ উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- যৈবতী কন্যার মন,
- চাকা,
- হরগজ,
- একটি মারমা রূপকথা,
- বনপাংশুল,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৯,৩১২.
‘শঙ্খমালা’ কবিতাটির রচয়িতা -
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• ‘শঙ্খমালা’ কবিতাটির রচয়িতা - 'জীবনানন্দ দাশ'।

• শঙ্খমালা’ কবিতা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'শঙ্খমালা’। 
- এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 
------------------------ 
• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর এডগার অ্যালান পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩১৩.
বুদ্ধদেব বসুর জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. বরিশাল
  3. বর্ধমান
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা-প্রগতি (১৯২৭-১৯), কবিতা (১৩৪২-৪৭)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩১৪.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত - 
  1. কাঙাল হরিনাথ
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৩১৫.
'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংকলন গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের ঢাকা':
- সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ঘটনা শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।
- একাত্তরের নয় মাসে কত কি ঘটেছে তার নানা ধরণের বিবরণ আছে এ বইয়ে। বিভিন্ন শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন।
- একটি-দু'টি উদাহরণ এমন : 'মার্চের পঁচিশ দিন : পাকিস্তান সরকার বনাম বঙ্গবন্ধু সরকার, কাক ও ডোমদের শহর, রুদ্ধশ্বাসের দিনগুলো ইত্যাদি।

-------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

অন্যদিকে,
• ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমাম রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক অসাধারণ ডায়েরি (দিনলিপি) গ্রন্থ।
• ‘একাত্তরের ডায়েরী’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিকথাটির রচয়িতা সুফিয়া কামাল।

উৎস: ‘একাত্তরের ঢাকা’ সংকলন গ্রন্থ সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩১৬.
‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - চরণদ্বয় রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কর্মদেবী
  2. কাঞ্চী কাবেরী
  3. পদ্মিনী উপাখ্যান
  4. শূরসুন্দরী
সঠিক উত্তর:
পদ্মিনী উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মিনী উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?<br/>
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - চরণদ্বয় রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

পদ্মিনী উপাখ্যান:
- রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি 'পদ্মিনী উপাখ্যান' ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের 'Annals and Antiquities of Rajasthan' - এর কাহিনি অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য। 
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম ১৮২৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে। 
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। 
- তিনি নিজে  কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন। 
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন। 
- ১৮৮৭ সালের ১৩ মে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য: 
- কর্মদেবী, 
- শূরসুন্দরী,
- কাঞ্চী কাবেরী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩১৭.
পূর্ববঙ্গ গীতিকা কোন অঞ্চলের পালা?
  1. ক) নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ
  2. খ) কুমিল্লা ও চাঁদপুর
  3. গ) লক্ষ্মীপুর ও ফেনী
  4. ঘ) নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এগুলো সংগ্রহ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে তিন খ-ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৯,৩১৮.
"একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!" - কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. বিদ্রোহী
  2. রণভেরী
  3. আগমণী
  4. প্রলয়োল্লাস
সঠিক উত্তর:
আগমণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগমণী
ব্যাখ্যা

"একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!" - কাজী নজরুল ইসলামের আগমণী কবিতার অংশবিশেষ।
-------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু প্রকাশিত গ্রন্থ হিসেবে দ্বিতীয়।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- মোট বারটি কবিতার সমাহারে কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি প্রকাশিত হয়।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মোহররম।
-------------------------- 
আগমনী- কবিতা, 
- কাজী নজরুল ইসলাম,

একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!
সেকি দমকি দমকি
ধমকি ধমকি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা কবিতা সাময়িকী।

৯,৩১৯.
'কারাগারের রোজনামচা' বইটি ইংরেজিতে কে অনুবাদ করেন?
  1. ক) ড. হাবিবুর রহমান
  2. খ) ড. মুনজুরুল করিম
  3. গ) ড. ফকরুল আলম
  4. ঘ) ড. ফরহাদ রেজা
সঠিক উত্তর:
গ) ড. ফকরুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. ফকরুল আলম
ব্যাখ্যা
- 'কারাগারের রোজনামচা' বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন 'ড. ফকরুল আলম'

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।

•এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

•নামকরণ করেন শেখ রেহেনা
প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।

- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৯,৩২০.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন -
  1. ডেভিড হেয়ার
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. উইলিয়াম কেরি​
  4. জন আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
সঠিক উত্তর:
জন ক্লার্ক মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩২১.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- চর্যার পদটি কোন কবির রচনা?
  1. শবরপা 
  2. ভুসুকুপা
  3. ঢেণ্ডুণপা 
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।"- এটি কুক্কুরীপা রচিত চর্যাপদের ২নং পদ।

• এর বাংলা অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুক্কুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

৯,৩২২.
'দোজখের ওম' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প সংকলন
  3. কাব্যনাট্য
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গল্প সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প সংকলন
ব্যাখ্যা
• 'দোজখের ওম' গল্প সংকলন:
- 'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ছোটগল্প সংকলন।
- এটি ১৯৮৯ সালে ঢাকার প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়।
- 'দোজখের ওম' নামে এই গল্পগ্রন্থে একটি নামগল্প রয়েছে।
- ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প।

এগুলো হচ্ছে-
- কীটনাশকের কীর্তি,
- যুগলবন্দি,
- অপঘাত ও
- দোজখের ওম।

উৎস: 'দোজখের ওম' গল্প সংকলন।
৯,৩২৩.
বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. গোলোকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩২৪.
কীর্তিচন্দ্র কী নামে মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেন?
  1. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  2. আশ্চর্যচর্যাচয়
  3. চর্যাগীতিকোষ
  4. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'।
- নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।
- এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন।
- সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
- মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।
- এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। 
- আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৩২৫.
‘নুরুল হুদা, নবকুমার ও অমল’ কোন গ্রন্থগুচ্ছের চরিত্র?
  1. ঘরে-বাইরে, কপালকুণ্ডলা ও দেনাপাওনা
  2. মালঞ্চ, দুর্গেশনন্দিনী ও পোস্টমাস্টার
  3. বাঁধন-হারা, কপালকুণ্ডলা ও ডাকঘর
  4. কুহেলিকা, রাজসিংহ ও প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা, কপালকুণ্ডলা ও ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা, কপালকুণ্ডলা ও ডাকঘর
ব্যাখ্যা
• ‘নুরুল হুদা, নবকুমার ও অমল’ বাঁধন-হারা, কপালকুণ্ডলা ও ডাকঘর গ্রন্থেসমূহের চরিত্র।

• ‘বাঁধন হারা' উপন্যাস:

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে মোট ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।

অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে-
- রবিউল,
- রাবেয়া,
- সােফিয়া,
- মাহবুবা প্রমুখ।

----------------------------
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য এটাকে 'রোমান্স' ধর্মী উপন্যাস বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

-----------------------
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক। 
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক। 
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩২৬.
"মালিনী" কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত চরিত্র?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩২৭.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি’ এই বিখ্যাত উক্তিটি কোন লেখকের?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. জহির রায়হান
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
- কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’। 
- জীবনানন্দ দাশের ‘কবিতার কথা’ গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি'। 
- মূলত কবি হলেও তিনি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ লিখেছেন। 

জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাঁওপাড়া গ্রামে। 
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। 
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩২৮.
কাজী নজরুল ইসলামের 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থে কয়টি গল্প আছে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
শিউলিমালা (১৯৩১) গল্পগ্রন্থে মোট চারটি গল্প আছে- পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি ও শিউলিমালা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৩২৯.
"আমার কেবল ইচ্ছে জাগে নদীর কাছে থাকতে, বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মত ডাকতে।" - কোন কবির শিশু সাহিত্য?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. সুকুমার রায়
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• "আমার কেবল ইচ্ছে জাগে নদীর কাছে থাকতে, বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মত ডাকতে।" - কবিতাংশটুকু কবি আল মাহমুদের 'পাখির মতো' কবিতার অংশবিশেষ। 

পাখির মতো - কবিতা,
- আল মাহমুদ।
 
আম্মা বলেন, পড়রে সোনা
আব্বা বলেন, মন দে;
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়,
দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি
ফেরেস্তারা উল্টায়।
------------------
• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদের প্রকৃত নাম: মির আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'। 
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
 
কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম।
৯,৩৩০.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম বাঙালি কবি কে?
  1.  চণ্ডীদাস
  2. জয়দেব
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 
সঠিক উত্তর:
 চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগে বৈষ্ণব ধর্ম, বৈষ্ণবশাস্ত্র এবং রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের আড়ালে জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলনলীলাকে কেন্দ্র করে যে সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে, তাকে বৈষ্ণব সাহিত্য বলা হয়।

- বৈষ্ণব সাহিত্য মূলত তিন প্রকার—
- পদাবলি,
- জীবনীকাব্য,
- এবং বৈষ্ণবশাস্ত্র।

- পদাবলি হলো রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও জীবাত্মা–পরমাত্মার মিলনলীলার আড়ালে রচিত গীতিকাব্য, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
- বাঙালি কবি জয়দেব-কে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা আদিকবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত গীতগোবিন্দম্ কাব্যে রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির রূপ চিত্রিত হলেও এটি বাংলা নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- তবু এটিকেই আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন ধরা হয়।
- পরবর্তীতে অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- তাই তাঁকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বলা হয়। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস—যার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এই ধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।

- বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রসের প্রকাশ দেখা যায়—
- শান্তরস,
- দাস্যরস,
- সখ্যরস,
- বাৎসল্যরস,
- ও মধুররস।
- এই রসসমূহের সমন্বয়েই বৈষ্ণব পদাবলি ভক্তি ও প্রেমের এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৯,৩৩১.
রাজশাহী থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. সওগাত
  3. পূর্বমেঘ
  4. শনিবারের চিঠি
সঠিক উত্তর:
পূর্বমেঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বমেঘ
ব্যাখ্যা
• "পূর্বমেঘ" পত্রিকা:
- ঢাকা থেকে নির্ভেজাল সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ ও তা টিকিয়ে রাখা যখন কষ্টকর ছিল, সে সময়েই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' (১৯৬০) নামে সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ হয় এবং এক দশকের বেশি সময় টিকে থাকে।

- বঙ্গাব্দের হিসেবে ১৩৬৭ থেকে ১৩৭৮ পর্যন্ত 'পূর্বমেঘের' আয়ুকাল।
- পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তফা নূরউল ইসলাম এবং প্রকাশক ছিলেন এ. আর. মল্লিক।
- উচ্চমার্গীয় সাহিত্যালোচনার পাশাপাশি সৃজনশীল রচনার নমাদর ছিল এ পত্রিকায়।

- ঢাকা থেকে যেকালে 'সমকাল' (১৯৫৭) প্রকাশ হচ্ছে, ঠিক সে-কালেই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' প্রকাশ দেশে সাহিত্য চর্চার ইতিবাচক উত্তরণকে চিহ্নিত করে।

অন্যদিকে,
• 'পূর্বাশা' পত্রিকাটি সঞ্জয় ভট্টাচার্য এর সম্পাদনায় ১৯৩২ সালে কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
• 'সওগাত' একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 

• 'শনিবারের চিঠি' স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৩২.
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. প্ৰথমা
  3. বিমুখ প্রান্তর
  4. রাজা যায় রাজা আসে
সঠিক উত্তর:
বিমুখ প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমুখ প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (জুন ১৪, ১৯৩২ – এপ্রিল ১, ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হন।
-  অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন ' একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পাদনা করেন তিনি।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - বিমুখ প্রান্তর।

•  তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত রচিত গল্প: 
- আরো দুটি মৃত্যু।

অন্যদিকে,
’প্রেমেন্দ্র মিত্র’ রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘প্ৰথমা’।
’আবুল হাসান’ রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘‘রাজা যায় রাজা আসে'’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৩৩.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে'- পঙক্তিটির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।

কুসুমকুমারী দাশ:
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৩৪.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কোন ঋতুর উল্লেখ আছে?
  1. ক) হেমন্ত
  2. খ) গ্রীষ্ম
  3. গ) বসন্ত
  4. ঘ) শীত
সঠিক উত্তর:
গ) বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বসন্ত
ব্যাখ্যা
কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। কবিতায় কবির অনুভূতির সাথে শীতের রিক্ততা তুলনীয়। তবে কবিতায় উল্লেখ আছে বসন্ত ঋতুর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৩৩৫.
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  2. খ) মৈত্রেয়ী দেবী
  3. গ) কমলকুমার মজুমদার
  4. ঘ) আশালতা দেবী
সঠিক উত্তর:
খ) মৈত্রেয়ী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৈত্রেয়ী দেবী
ব্যাখ্যা
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা মৈত্রেয়ী দেবী। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ সানিধ্য লাভের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। 
- তাঁর সবচেয়ে খ্যাতিমান উপন্যাস। 
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- 'ন হন্যতে' উপন্যাসে বাস্তবধর্মী  এবং সময়কালীন অনেক ব্যাক্তিত্বের প্রসঙ্গে এতে তুলে ধরা হয়েছে। 
- এ উপন্যাসের অমৃতা চরিত্রের মধ্য দিয়ে মৈত্রেয়ী দেবীর জীবন খুঁজে পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৯,৩৩৬.
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদক কে?
  1. কীর্তিচন্দ্র
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. মুনিদত্ত
  4. অতীশ দীপঙ্কর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিচন্দ্র
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন — কীর্তিচন্দ্র। 
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত চর্যাপদে মুনিদত্ত নামক এক পন্ডিতের সংস্কৃত টীকা ছিল।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৩৭.
বাংলা ভাষায় প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র-
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. দিগ্দর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. ক্যালকাটা জার্নাল
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন যে, দিগদর্শন সংবাদপত্র ছিল না। নীতিতত্বমূলক মাসিক সাময়িকপত্র ছিল।

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ। জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সমাচার দর্পণ ১৮১৮ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়।

বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র দিকদর্শন (১৮১৮)। বাঙ্গালী কর্তৃক প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেট এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র ঢাকা প্রকাশ (১৮৬১)। 

• উপমহাদেশে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে 'দিগ্দর্শন' নামে বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়। এই মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন।

অন্যদিকে, 
• জেমস অগাস্টাস হিকি কর্তৃক প্রকাশিত দুই পাতার এই ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম ছিল 'বেঙ্গল গেজেট' বা ক্যালকাটা জেনারেল অ্যাডভার্টাইজার। হিকি ছিলেন মুদ্রণ ব্যবসায়ী। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে দুই হাজার রুপি খরচ করে তিনি কলকাতায় যে ছাপাখানা বসান সেখান থেকেই 'বেঙ্গল গেজেট' মুদ্রিত হয়।

• ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারিরা আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করে। এটি ছিল জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ। এটি প্রায় ২০ বছর চালু ছিল।

• ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দের ১ মে জেমস সিল্ক বাকিংহাম সম্পাদিত 'ক্যালকাটা জার্নাল' অর্ধ-সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক-এ রূপান্তরিত হয়। ক্যালকাটা জার্নালই ছিল উপমহাদেশের প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।

উল্লেখ্য, 
• ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে বাঙালি মালিকানায় প্রথম সংবাদপত্র 'বাঙ্গাল গেজেটি' প্রকাশিত হয়, প্রকাশক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য, কারো কারো মতে গঙ্গাধর ভট্টাচার্য্য। মাঝে মধ্যে এতে ইংরেজি ও হিন্দিতে কিছু নিবন্ধ মুদ্রিত হলেও সাধারণভাবে এর ভাষা ছিল বাংলা। হরচন্দ্র রায় ছিলেন বাঙ্গাল গেজেটি-র সম্পাদনাকার্যে গঙ্গাকিশোরের অন্যতম সহযোগী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৩৮.
'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গল্পগুচ্ছ
  2. কণিকা
  3. লিপিকা
  4. তিনসঙ্গী
সঠিক উত্তর:
তিনসঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনসঙ্গী
ব্যাখ্যা

• 'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা। গল্পটি কবির 'তিনসঙ্গী' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী। বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।


• 'তিনসঙ্গী' গল্পগ্রন্থ:
- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন। সংকলনটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।

সংকলনের গল্প তিনটি হলো:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

-------------------
রবীন্দ্রিনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো-
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিনসঙ্গী,
- কণিকা, 
- গল্পসল্প।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৩৯.
"আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল? 
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।" 
- চরণ দুটি কোন কবিতার অংশ?
  1. আনন্দময়ীর আগমনে
  2. দুঃশাসনের রক্ত পান
  3. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  4. বিদ্রোহী
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা
- ধূমকেতু পত্রিকায় ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।
- নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত হয় ২৩ নভেম্বর ১৯২২।
- একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়।
- বিচারাধীন বন্দি হিসেবে ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থন করে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে যে জবানবন্দী প্রদান করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তা ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে সাহিত্য-মর্যাদা পেয়ে আসছে।
- ৬ জানুয়ারি বিচারের রায়ে নজরুল এক বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হন।
--------------------------
আনন্দময়ীর আগমনে
- কাজী নজরুল ইসলাম

আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল? 
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল। 
দেব–শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি, 
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী? 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও আনন্দময়ীর আগমনে কবিতা।
৯,৩৪০.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙ্গল
  2. নবযুগ
  3. ধূমকেতু
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
ব্যাখ্যা
• নবযুগ:
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে।
- পত্রিকাটির মূল্য ছিল এক পয়সা।
- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা  এ.কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক  কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড  মুজফ্ফর আহমদ।
- পত্রিকায় পরিচালকের নাম মুদ্রিত হতো, কিন্তু সম্পাদকের নাম থাকত না।
- স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী পত্রিকা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।

অন্যদিকে, 
- ’ধূমকেতু’ কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ’লাঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা।
-  ’কল্লোল’ একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা, যার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪১.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থের নাম কী?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. শবনম
  3. দেশে বিদেশে
  4. অবিশ্বাস্য
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা

- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য, 
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৪২.
'টুনি মেম' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত - 
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,

ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

গল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯,৩৪৩.
‘ভবিষ্যতের বাঙালী’ লিখেছেন কে?
  1. ক) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  2. খ) শেখ ওয়াজেদ আলি
  3. গ) বদরুদ্দীন ওমর
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ ওয়াজেদ আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• শেখ ওয়াজেদ আলি:
- শেখ ওয়াজেদ আলি প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
-  ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি এস ওয়াজেদ আলি নামে সমধিক পরিচিত।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এস ওয়াজেদ আলী ১৯১৯ সালে Bulletin of the Indian Rationalistic Society নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়।

- তিনি পরপর দুবার (১৯২৫ ও ১৯২৬) বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি উক্ত সমিতির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- এবং একই বছর তাঁর ছোটোগল্পগ্রন্থ গুলদস্তা প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি কলকাতা এলবার্ট হলে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে গঠিত সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অভিনন্দন পত্র পাঠ করেন।
- একই বছর তিনি ‘আসাম মুসলিম ছাত্র সমিতি’-র বার্ষিক সম্মেলনেও সভাপতিত্ব করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- প্রবন্ধ জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

• গল্প:
- গুলদাস্তা,
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প,
- গল্পের মজলিশ;

 • উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর;

 • ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

⇒ বিঃদ্রঃ নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪৪.
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের কোন কবিকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়?
  1. কঙ্কন ঠাকুর
  2. দ্বিজমাধব
  3. মুকুন্দরাম
  4. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। এবং প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু,
ফুল্লরা,
ধনপতি,
ভাঁড়ুদত্ত,
মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৪৫.
জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'কবর' কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) রাখালী
  2. খ) সুচয়নী
  3. গ) বালুচর
  4. ঘ) ধানক্ষেত
সঠিক উত্তর:
ক) রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাখালী
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'কবর'।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় এ কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়। 
- কবিতাটি প্রথমে 'কল্লোল' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৪৬.
'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. শেররাজ
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. হেয়াত মামুদ
সঠিক উত্তর:
শেররাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেররাজ
ব্যাখ্যা
• 'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা - 'শেররাজ'। 

'জঙ্গনামা' কাব্য: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। 
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
-------------
জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:  
শেখ ফয়জুল্লাহ - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জয়নবের চৌতিশা।
   
দৌলত উজির বাহরাম খান - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জঙ্গনামা।

মুহম্মদ খান - সতের শতক।
গ্রন্থের নাম: মকতুল হোসেন।

শেরবাজ - আঠার শতক। 
গ্রন্থের নাম: কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা।

হেয়াত মামুদ - আঠার শতক।
গ্রন্থের নাম: জারি-জঙ্গনামা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. আপদ
  2. সমস্যাপূরণ
  3. মেঘ ও রৌদ্র
  4. খাপছাড়া
সঠিক উত্তর:
খাপছাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাপছাড়া
ব্যাখ্যা
• 'খাপছাড়া':
- 'খাপছাড়া' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "অন্ত্যপর্ব"- এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থটি রাজশেখর বসু (পরশুরাম) কে উৎসর্গ করেন।

• অন্যদিকে, আপদ, সমস্যাপূরণ ও মেঘ ও রৌদ্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।

===================
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।

উৎস: খাপছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪৮.
“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।” উক্তিটি কোন উপন্যাসের সংলাপ?
  1. আনন্দমঠ
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কপালকুণ্ডলা 
  4. রাজসিংহ
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমের রোমান্টিক উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা, যার বিখ্যাত উক্তি —
- ‘তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।' 
 -“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।”
-----------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কানালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম কমলাকান্ত।
- তাঁর উপাধি — বাংলার স্কট, সাহিত্যসম্রাট, এবং আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকায় কবিতা রচনার মাধ্যমে সাহিত্যের চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৮৯৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস Rajmohan’s Wife (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।

- তাঁর উপন্যাসগুলি হলো —
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাধারাণী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- ইন্দিরা এবং
- বিষবৃক্ষ।
------------------------------ 
‘কপালকুণ্ডলা’ সম্পর্কিত কিছু আলোচনা-
- “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।” এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। 
- সংলাপটি কপালকুণ্ডলা উপন্যাস থেকে নেয়া। 

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬) একটি রোমান্টিক ট্র্যাজেডি। 
- উপন্যাসটি অরণ্যচারিণী কপালকুণ্ডলা ও তার স্বামী নবকুমারের সংসার ও সমাজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ঘিরে আবর্তিত।
- উপন্যাসে প্রকৃতির স্বাধীনতা বনাম সমাজের কঠোর নিয়ম, নিয়তি, রহস্যময়তা ও নারী চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে।
- প্রধান চরিত্র: কপালকুণ্ডলা (মৃন্ময়ী), নবকুমার, কাপালিক এবং মতিবিবি।
- গল্পে কপালকুণ্ডলার প্রকৃতি-নির্ভর জীবন ও সমাজের ছকবাঁধা জীবন, নিয়তির প্রভাব, রহস্যময়তার রোমান্টিকতা এবং নারী মনস্তত্ত্বের সংঘাত প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া

৯,৩৪৯.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) রাইফেল রোটি আওরাত
  3. গ) আগুনের পরশমনি
  4. ঘ) জীবন আমার বোন
সঠিক উত্তর:
ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫০.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' কার উপাধি?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- ষোড়শী,
- রমা,
- বিজয়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- কাশীনাথ,
- মন্দির,
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- মেজদিদি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৫১.
‘দোজখের ওম’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
⇒ ‘দোজখের ওম’ আখতারুজ্জামান ইরিয়াস রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।

⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫২.
জহির রায়হান রচিত 'সঙ্গম' কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. চলচ্চিত্র
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
চলচ্চিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলচ্চিত্র
ব্যাখ্যা
• 'সঙ্গম' চলচ্চিত্র:
- 'সঙ্গম' ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জহির রায়হান ও প্রযোজনা করেছেন ইফতেখারুল আলম কিসলু।
- এটিই সমগ্র পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম রঙ্গীন চলচ্চিত্র
- তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৬৪ সালের ২৩ এপ্রিল ঈদ উল আযহাতে সমগ্র পাকিস্তান জুড়ে মুক্তি পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং জহির রায়হান জীবনী।
৯,৩৫৩.
দোনাগাজী চৌধুরী রচিত 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' কাব্যের মূল কাহিনী কোন ভাষায় রচিত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. হিন্দী
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' এর রচয়িতা - দোনাগাজী চৌধুরী।

 দোনাগাজী চৌধুরী (১৬শ শতক):
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। 
- দোনাগাজীর প্রধান পরিচয় রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কবি হিসেবে।

- তাঁর রচিত - সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল দীর্ঘ আখ্যানমূলক প্রেমকাব্য।
- এর মূল উৎস আরবি আলেফ-লায়লা ওয়া লায়লা গ্রন্থ।
- ফারসি ও তুর্কি ভাষায় এ কাহিনী অনুলিখিত হয়েছে।

- ভারতের কবি মহফিল ফারসিতে এবং গাওয়াসি দাকিনি উর্দুতে সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল  রচনা করেন।
- দোনাগাজী ফারসির অনুসরণে বাংলা ভাষায় তাঁর কাব্য রচনা করেন বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫৪.
"আদিবাসি রাঙামিলা, দেওয়ানপুত্র" কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. পথের পাঁচালী 
  2. অপরাজিত 
  3. কর্ণফুলী
  4. অনুবর্তন 
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

⇒ ‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসি (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৫৫.
'নবান্ন' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৫৬.
মহাকবি আলাওল রচিত সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. সিকান্দারনামা
  2. সপ্তপয়কর
  3. পদ্মাবতী
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
 
আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫৭.
নিচের কোনটি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ? 
  1. রাখালী
  2. ধানখেত 
  3. নক্সী কাঁথার মাঠ 
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা

• ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯,৩৫৮.
বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় কাকে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
-  তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৫৯.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন? 
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. পূর্ণিমা
  4. সোমপ্রকাশ 
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ভারতী-এর সম্পাদনা করেছিলেন প্রায় এক দশক ধরে।
- এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার অগ্রদূত ছিলেন।
- নারীদের সৃজনশীলতা ও সহায়তার জন্য তিনি সখী সমিতি নামক একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
------------------------ 
অন্যদিকে,
- সাধনা – সম্পাদনা করেছিলেন হরচন্দ্র বসু।
- পূর্ণিমা – সম্পাদনা করেছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- সোমপ্রকাশ – সম্পাদনা করেছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৬০.
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি কে?
  1. জয়দেব 
  2. বিদ্যাপতি 
  3. চণ্ডীদাস
  4. জ্ঞানদাস 
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস।
- তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন।
- দেহগত কামনা- বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন।
- চণ্ডীদাস রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন।
- কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, 
• বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

• পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৩৬১.
প্রসিদ্ধ মহাকাব্য "শাহ্‌নামা" গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) মুহম্মদ কবীর
  2. খ) মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  3. গ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
প্রসিদ্ধ মহাকাব্য শাহ্‌নামা গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেন মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯),  মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
কাব্য
- কুসুমাঞ্জলি (১৮৮১),
- অপূর্বদর্শন (১৮৮৫),
- প্রেমহার (১৮৯৮),
- হজরত মহাম্মদ (১৯০৩),
- জাতীয় ফোয়ারা (১৯১২),
- ইসলাম সঙ্গীত (১৯২৩);
গদ্য রচনা
- মহর্ষি-মনসুর (১৮৯৬),
- ফেরদৌসী-চরিত (১৮৯৮),
- শাহনামা (১৯০৯),
- তাপসকাহিনী (১৯১৪, ২য় সং),
- খাজা ময়ীনউদ্দীন চিশতী (১৯১৮),
- হাতেমতাই (১৯১৯),
- টিপু সুলতান (১৯৩১);
উপন্যাস
- জোহরা (১৯১৭),
- দরাফ খান গাজী (১৯১৯) ইত্যাদি।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৬২.
'বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে, দেখা না হইত পরাণ গেলে।' - কে বলেছেন?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. চণ্ডীদাস
  3. রামকৃষ্ণ পরমহংস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
চণ্ডীদাস: 
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। 
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়। 
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই’ বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তি জীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন। 
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। 

চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- ‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে, দেখা না হইত পরাণ গেলে।
- ‘শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’
- ‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমারি বধূয়া আনবাড়ী যায় আমারি আঙিনা দিয়া।’

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 
৯,৩৬৩.
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল' - কার রচনা?
  1. ক) লোচনদাস
  2. খ) বিদ্য্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) চণ্ডিদাস
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল' রচয়িতা - জ্ঞানদাস।

• জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ(মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৬৪.
"রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস" কাব্যত্রয়ী কার রচনা?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন 'অবকাশরঞ্জিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে। এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

- তাঁর আত্মজীবনী 'আমার জীবন' গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া
৯,৩৬৫.
''পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'' – কথাটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?"  উক্তিটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:

- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস। 
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

•  বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও 
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৬৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নিজ কবিতার সংকলন কোনটি?
  1. সঞ্চিতা
  2. চিরকুমার সভা
  3. সঞ্চয়িতা
  4. সুচয়নী
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়িতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়িতা
ব্যাখ্যা
• সঞ্চয়িতা:
- ‘সঞ্চয়িতা’ (১৯৩১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নিজ কবিতার সংকলন।
- ‘সঞ্চয়িতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সংকলিত গ্রন্থ।
- কবিতাগুলি কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত। ‘সান্ধ্যসঙ্গীত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতাগুলি এতে সংকলিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• সঞ্চিতা:
- কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন - ‘সঞ্চিতা'।
- এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
- ‘সঞ্চিতা' কবিতা সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক নাটক 'চিরকুমার সভা'।
• 'সুচয়নী' জসীম উদদীনের কাব্য সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৬৭.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম ছোটগল্প কোনটি? 
  1. অতসী মামী
  2. প্রাগৈতিহাসিক
  3. সরীসৃপ
  4. বৌ  
সঠিক উত্তর:
অতসী মামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতসী মামী
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প অতসী মামী।
----------------
‘অতসী মামী’ গল্প নিয়ে কিছু কথা:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছোটগল্প ‘অতসী মামী’।
- গল্পটি ১৯২৮ সালে কলকাতা থেকে খ্যাতনামা ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লেখা এই গল্পটি প্রকাশের পরই তিনি সাহিত্যজগতে পরিচিতি লাভ করেন।
- পরবর্তীকালে গল্পটি ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৩৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়।

- গল্পটির মূলভাব হলো- জীবনের কঠোর বাস্তবতার ভেতরেও মানবিক সম্পর্কের গভীর টান, বিচ্ছেদের বেদনা এবং আত্মিক অনুভবের প্রকাশ। এখানে সমাজের নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম, ভালোবাসার অনুরণন এবং রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানসিক ও আত্মিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সম্পর্কের নতুন ব্যাখ্যা, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, হারিয়ে পাওয়ার আনন্দ–বেদনা—এসবই গল্পটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গভীর জীবনদর্শন ও বাস্তবধর্মী সাহিত্যশৈলীর স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।
---------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- ‘মানিক’ ছিল তাঁর পারিবারিক ডাকনাম।

- তাঁর পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় সেটেলমেন্ট বিভাগে চাকরি করে জীবনের শেষদিকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- পিতার চাকরির কারণে তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুলে পড়াশোনা করতে হয়—দুমকা, আড়া, সাসারাম, কলকাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বারাসাত, টাঙ্গাইল ও মেদিনীপুরে।
- শেষ পর্যন্ত তিনি মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

- মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের প্রথম পর্যায়ে তিনি ফ্রয়েড, ইয়ুং ও অ্যাডলারের মনোবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যচিন্তায় মার্কসবাদের প্রভাব গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

• তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে:
- অতসী মামী
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- বৌ,
- সমুদ্রের স্বাদ।

উৎস:
‘অতসী মামী’ গল্প; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৯,৩৬৮.
চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. রোজনামচা
  2. উপাখ্যান
  3. জীবনীসার
  4. কড়চা
সঠিক উত্তর:
কড়চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কড়চা
ব্যাখ্যা
কড়চা:
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে 'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে।
- যেমন: মুরারি গুপ্তের কড়চা, স্বরূপ দামোদরের কড়চা, গোবিন্দদাসের কড়চা প্রভৃতি। কড়চা কথাটির প্রয়োগ সম্পর্কে ড. সুকুমার সেন লিখেছেন, 'কড়চা শব্দটি আসিয়াছে প্রাকৃত 'কটকচ্চ', সংস্কৃত 'কৃতকৃত্য' হইতে। 'কট' শব্দ প্রাচীন অনুশাসনে 'খসড়া লেখা' (Original draft) অর্থেই পাওয়া গিয়াছে।

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৬৯.
'সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন' - বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্বপ্নদর্শন
  2. বন্ধু-বিয়োগ
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. নিসর্গ সঙ্গীত
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• বঙ্গসুন্দরী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ 'বঙ্গসুন্দরী' (১৮৭০)।
- এ কাব্যে কবি বলেছেন: 'সর্বদাই হুহু করে মন / বিশ্ব যেন মরুর মতন / চারিদিকে ঝালাপালা / উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা / অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: 'আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।'
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরবালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।
-----------------------------------------

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৭০.
সাহিত্যপত্র 'সমকাল' কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. ক) দৈনিক
  2. খ) সাপ্তাহিক
  3. গ) মাসিক
  4. ঘ) ষান্মাসিক
সঠিক উত্তর:
গ) মাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাসিক
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান।

• তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৭১.
নিচের কোনটি মধ্যযুগের সাহিত্যধারার অন্তর্ভুক্ত-
  1. প্রহসন
  2. পত্রসাহিত্য
  3. সুফী সাহিত্য
  4. ভ্রমণসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
সুফী সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফী সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের সাহিত্যের খসড়া চিত্র:
মধাযুগের বাংলা সাহিত্যের পরিধি যেমন বিস্তৃত, তেমনি ভার বিষয়বস্তুও বৈচিত্র্যপূর্ণ। ড. আহমদ শরীফ মধ্যযুগের সাহিত্যের একটা খসড়াচিত্র তৈরি করে বিভিন্ন কবির যে উল্লেখ করেছেন তা থেকে মধ্যযুগের বৈচিত্র্যপূর্ণ সাহিত্য সম্পর্কে নিম্নরূপ ধারণা করা যায়:

• বৌদ্ধ সাহিত্য নাথ ও সহজিয়া সাহিত্য। 
• ধর্মমঙ্গল। 
• প্রণয়োপাখ্যান। 
• রামায়ণ। 
• মহাভারত ও ভাগবত বা বা কৃষ্ণমঙ্গল। 
• মুসলিম ধর্মসাহিত্য। 
• বৈষ্ণব পদাবলি ও শাক্ত পদাবলি। 
• জীবনী সাহিত্যলৌকিক দেবতা ও পাঁচালী। 
• সুফী সাহিত্য। 
• লোকসাহিত্য। 
• জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৯,৩৭২.
চর্যাপদে খণ্ডিত আকারে পাওয়া পদটির রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. তন্ত্রীপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

চর্যাপদে ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪ পঙক্তি পাওয়া যায় নি।
- এর রচয়িতা ভুসুকুপা
• কাহ্নপা রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
• তন্ত্রীপা রচিত ২৫নং পদটি পাওয়া যায় নি।
• কুক্কুরীপা রচিত ৪৮নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৭৩.
'কবিতা মুকুল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) কুসুমকুমারী দাশ
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) উপরের কেউ নন
সঠিক উত্তর:
খ) কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
কবিতা মুকুল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ। কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।
যার প্রথম দুই চরণ
''আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?''।
'কবিতার কথা' নামে জীবনানন্দ দাশের একটি প্রবন্ধ রয়েছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৩৭৪.
'উত্তর বসন্ত' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
আব্দুল কাদের ছিলেন মূলত কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ - কবিতা: দিলরুবা, উত্তর বসন্ত;
প্রবন্ধ: বাংলা কাব্যের ইতিহাস, কবি নজরুল, কাজী আবদুল ওদুদ, লোকায়ত সাহিত্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৭৫.
‘অগ্নি-গিরি’ গল্পের রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- ‘অগ্নি-গিরি’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘শিউলিমালা’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি গল্প।

• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:

- 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৭৬.
মধ্যযুগের নিদর্শন ‘সেক শুভোদয়া’ কার সৃষ্টিকর্ম? 
  1. সুকুমার সেনে
  2. হলায়ূধ মিশ্র
  3. রামনিধি গুপ্ত 
  4. রামাই পণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
হলায়ূধ মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলায়ূধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের নিদর্শন ‘সেক শুভোদয়া’ হলায়ূধ মিশ্র-এর রচনা।
----------------------
• সেক শুভোদয়া:
- সেখশুভোদয়া বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার মিশ্রণে রচিত একটি চম্পুকাব্য (গদ্য-পদ্য মিশ্র সাহিত্য)।
- গ্রন্থটি সংস্কৃত গদ্য ও পদ্যে লেখা হলেও ভাষা সম্পূর্ণ শুদ্ধ নয়;
- এতে অশুদ্ধ সংস্কৃত, বাংলা ছড়া, বচন ও বাগধারার ব্যবহার দেখা যায়।
- এই কারণেই ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে ‘Dog Sanskrit’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

- অনেকে মনে করেন, এটি গৌড়ের রাজা লক্ষ্মণ সেন-এর সভাকবি হলায়ূধ মিশ্র-এর রচনা।
- গবেষক মুহম্মদ এনামুল হক গ্রন্থটির রচনাকাল খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিক বলে মত দেন।
- যদিও অন্যদের মতে এটি ষোড়শ শতকের আগে রচিত নয়।

- গ্রন্থটিতে মোট ২৫টি অধ্যায় রয়েছে এবং প্রতিটি অধ্যায়ে এক বা একাধিক কাহিনি সংযোজিত। 
- কাহিনিগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্র জালালুদ্দিন তাব্রিজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান (সেক)।
- তিনি রাজা লক্ষ্মণ সেনের দরবারে চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক গল্প পরিবেশনের মাধ্যমে সবার মনে বিস্ময় সৃষ্টি করলে রাজা তাকে পুরস্কৃত করেন। 

- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ‘কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছদ অনুবাদ সহ প্রকাশ করেন।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।
-------------------
অন্যদিকে,
- রামাই পণ্ডিত- শুন্যপুরাণ গ্রন্থের রচয়িতা।
- রামনিধি গুপ্ত টপ্পাগানের জনক। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৩৭৭.
মুক্তিযোদ্ধা 'বদিউল আলম' হুমায়ূন আহমেদ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. আগুনের পরশমণি
  4. অনীল বাগচীর একদিন
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি। উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

------------
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৭৮.
কোনটি ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. আলমগীর
  2. রামদয়াল
  3. জাহেদ
  4. রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
আলমগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলমগীর
ব্যাখ্যা

'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক। সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে। একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৭৯.
'আব্দুল্লাহ্' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- আব্দুল্লাহ্। আঁখিজল ও লতিকা তাঁর রচিত কাব্য। প্রবন্ধমালা তাঁর রচিত প্রবন্ধ এবং নবীকাহিনী তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৮০.
কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ হলো-
  1. ক) আলো ও ছায়া
  2. খ) নির্মাল্য
  3. গ) পৌরাণিকী
  4. ঘ) উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো -
আলো ও ছায়া, নির্মাল্য, পৌরাণিকী, গুঞ্জন, মাল্য ও নির্মাল্য, অশোক সংগীত, অম্বা, দীপ ও ধূপ, জীবনপথে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৩৮১.
গোলাম মোস্তফাকে ‘কাব্য সুধাকর’ উপাধি দেন -
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. যশোর সংঘ
  3. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বাংলা একাডেমি
সঠিক উত্তর:
যশোর সংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোর সংঘ
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৮২.
চর্যাপদের রচয়িতা কারা?
  1. আর্য সমাজের সদস্যগণ
  2. বৈষ্ণব কবিগণ
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. শৈব সাধকগণ
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। তথা বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৮৩.
‘মগের মুলুক’ ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. বিজয় ভট্টাচার্য
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
⇒ গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত ব্যঙ্গকাব্য হচ্ছে ‘মগের মুলুক’।

⇒ গােবিন্দচন্দ্র দাস:

- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।
এছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৮৪.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৮৫.
'ইউসুফ জোলেখা' কি জাতীয় রচনা?
  1. নাটক
  2. রোমান্টিক প্রণয়কাব্য
  3. উপন্যাস
  4. রম্যরচনা
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়কাব্য
ব্যাখ্যা

ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
-বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৮৬.
নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয়? 
  1. রায়তের কথা
  2. বীরবলের হালখাতা
  3. তেল-নুন-লকড়ি
  4. চার-ইয়ারি কথা।
সঠিক উত্তর:
চার-ইয়ারি কথা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-ইয়ারি কথা।
ব্যাখ্যা
 • প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক। 
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়তসঃ
৯,৩৮৭.
কোনটি চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত সাহিত্যকর্ম?
  1. তোতা কাহিনী
  2. তোতা ইতিহাস
  3. বোবা ইতিহাস
  4. ইতিহাস মালা
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'।
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

অন্যদিকে, 
- ‘তোতা কাহিনী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'লিপিকা' নামের সংকলনের একটা লেখা।
- 'ইতিহাস মালা' গ্রন্থের রচয়িতা উইলিয়াম কেরি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৮৮.
'ময়ূরকণ্ঠী' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) রম্যরচনা
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
খ) রম্যরচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রম্যরচনা
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য ধরণের গ্রন্থ - 'ময়ূরকণ্ঠী'। 

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল 'দেশে-বিদেশে' ভ্রমণকাহিনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

• তাঁর রচিত রম্যরচনা: 
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৯,৩৮৯.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র ৩ টি
- কৃষ্ণ
- রাধা
- বড়ায়ি

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৯,৩৯০.
কবি আলাওলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তোহফা
  2. পদ্মাবতী
  3. সিকান্দরনামা
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

• আলাওলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: 'পদ্মাবতী'। 
- ১৬৪৮ সালে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
-----------------
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা।

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৯১.
Sanskrit Buddhist Literature in Nepal’ গ্রন্থে কোন দেশের রাজ দরবারে বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন থাকার সম্ভাবনার কথা প্রথম জানা যায়?
  1. ভারত
  2. নেপাল
  3. তিব্বত
  4. ভুটান
সঠিক উত্তর:
নেপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেপাল
ব্যাখ্যা
১৮৮২ সালে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র তাঁর ‘Sanskrit Buddhist Literature in Nepal’ গ্রন্থে নেপালে বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন।
এই গ্রন্থের মাধ্যমে নেপালের রাজ দরবারে বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন থাকার সম্ভাবনার কথা প্রথম জানা যায়।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৯২.
কোন কবি পঞ্চপাণ্ডবদের একজন?
  1. সমর সেন
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
পঞ্চপান্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপান্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।

আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডব লেখক হচ্ছেন:
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
পঞ্চপান্ডবের অন্তর্ভূক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৯৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবিতা সংকলন -
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. সেক শুভোদয়া
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৯৪.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস?
  1. পরিশেষ
  2. শেষলেখা
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• "শেষের কবিতা" উপন্যাস:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• “শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।

• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।

• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে এই উপন্যাসে।

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

অন্যদিকে,
- পরিশেষ ও শেষলেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- ‘শেষের পরিচয়’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৯৫.
‘গোটা অঙ্গ কবরে কীটের খাদ্য হওয়ার চেয়ে মানুষের কাজে লাগাই বাঞ্ছনীয়।’- উক্তিটি কার?
  1. আবুল ফজল
  2. আল মাহমুদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
⇒ আহমদ শরীফ:
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তারঁ মৃত্যুদেহ কবর দেয়া হয়নি। মৃত্যুর আগে তিনি এক উইল করে নিজের মৃত্যু-উত্তর দেহ ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজে’কে দান করে যান। তিনি লিখেছিলেন: ‘গোটা অঙ্গ কবরে কীটের খাদ্য হওয়ার চেয়ে মানুষের কাজে লাগাই বাঞ্ছনীয়।’

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ গবেষণা:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৯৬.
কাঁঠালপাড়া গ্রামে কোন লেখক জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৯৭.
বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. মৃণালিনী
  4. কপালকুণ্ডলা
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
ব্যাখ্যা
• ‘মৃণালিনী’ উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্রসমূহ হলো:
- হেমচন্দ্র,
- মৃণালিনী,
- পশুপতি,
- মনোরমা।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৯৮.
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর,
পাঠশালা পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর,
পাঠশালা-পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং 'দুই বিঘা জমি' কবিতা।
৯,৩৯৯.
ইয়ংবেঙ্গল বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) বাংলা ভাষা শিক্ষার্থী ইংরেজি
  2. খ) একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠী
  3. গ) ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক
  4. ঘ) একটি সাময়িক পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক
ব্যাখ্যা

ইয়ং বেঙ্গল হিন্দু কলেজের ছাত্রদেরকে সমসাময়িক কলকাতা সমাজ কর্তৃক প্রদত্ত সামাজিক বুদ্ধিবাদী একটি অভিধা বিশেষ। এঁরা সবাই হিন্দু কলেজ-এর মুক্তবুদ্ধি যুক্তিবাদী শিক্ষক হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও-র অনুসারী ছিলেন। ডিরোজিও তাঁর ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ-প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি শিখিয়েছিলেন কি করে সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ গড়ে ওঠে ও বিকশিত হয় এবং কি করে মানুষ মৃত ও সেকেলে ধ্যান-ধারণা ও সমাজ-সংগঠনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

হিন্দুদের কুসংস্কার আর কতিপয় নিষ্ঠুর সামাজিক ও ধর্মীয় আচারের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান মিশনারিগণ যে সকল যুক্তি ব্যবহার করতেন, ইয়ং বেঙ্গল-এর অনেক সদস্য সেসব যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করতেন। দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও কৃষ্ণমোহন বন্দোপ্যাধ্যায়ের মতো এঁদের অনেকই হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন।

ইয়ং বেঙ্গল ইংরেজিকে অফিস-আদালতের ভাষা হিসেবে প্রবর্তনের সমর্থক ছিল। কলকাতায় কতিপয় গণপাঠাগার স্থাপনের বিষয়টিকে তারা স্বাগত জানায়।

পাশ্চাত্যের প্রতি অন্ধ আনুগত্যই ছিল ইয়ং বেঙ্গল-এর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। প্রাচ্য জীবনচর্চাকে তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনে করত। এ বিশ্বাস থেকে তারা পাশ্চাত্য রীতি-নীতি অভ্যাসকে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করে, যদিও এ-ক্ষেত্রে তারা সর্বাংশে সফল হতে পারে নি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৯,৪০০.
জসীম উদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রাখালী
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. নকশী কাঁথার মাঠ
  4. বালুচর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা

'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে। বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

-------------------
জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।