বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৮৯ / ২১১ · ৮,৮০১৮,৯০০ / ২১,১৩২

৮,৮০১.
বেগম সুফিয়া কামাল কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৯ সালে 
  2. ১৯১১ সালে 
  3. ১৯১৩ সালে 
  4. ১৯১৫ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে 
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী।
- তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও বলা হয়ে থাকে।
- বেগম সুফিয়া কামাল ২০শে জুন ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মাতা ছিলেন সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধের অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।
- তিনি ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প- ‘কেয়ার কাঁটা’।
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৮,৮০২.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কত বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৬ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
- কাব্যটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

৮,৮০৩.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. জাহিদুল কবির খোকা
  2. সুদীপ্ত শাহীন
  3. রায়হান 
  4. বদিউল আলম
সঠিক উত্তর:
জাহিদুল কবির খোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহিদুল কবির খোকা
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী।

অন্যদিকে, 
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস: 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) আনোয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুতপূর্ণ চরিত্র।

• 'যাত্রা' উপন্যাস: শওকত আলী রচিত 'যাত্রা' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।'যাত্রা' উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র অধ্যাপক রায়হান। 

• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস: হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস আগুনের পরশমণি। এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।
---------------
• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- চিক্কোর কাবুল,
- খেলাঘর,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।

৮,৮০৪.
কত শতকে নেপালে প্রথম বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়?
  1. ষোল শতকে
  2. আঠারো শতকে
  3. বিশ শতকে
  4. সতের শতকে
সঠিক উত্তর:
আঠারো শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঠারো শতকে
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ: 
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৮০৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'তাসের দেশ' নাটকটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলামকে 
  2. মহাত্মা গান্ধীকে
  3. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে
  4. ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'তাসের দেশ' নাটকটি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন। 
---------------------- 
• তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক আরো কয়েকটি উৎসর্গকৃত গ্রন্থ:
• তাসের দেশ - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
• পূরবী - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
• বসন্ত - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি:কাজী নজরুল ইসলাম।
• খেয়া - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: জগদীশচন্দ্র বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৮০৬.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ঘুম নেই
  2. রানার
  3. পূর্বাভাস
  4. ছাড়পত্র
সঠিক উত্তর:
রানার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রানার
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'রানার' একটি কবিতা।
- তিনি শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন।

------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:

- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮০৭.
'সত্যপীর' কার ছদ্মনাম?
  1. শওকত ওসমান
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

-----------------
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনাম গুলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়া এবং  উদাসীন পথিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৮০৮.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগে বাংলা শাসনভার ছিল কাদের উপর?
  1. মুঘল
  2. সেন
  3. পাল
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময়ে তুর্কিরা বাংলা শাসন করত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।
- তুর্কি আক্রমণে বঙ্গীয় সমাজ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে মানুষ সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়।
- এ সময় রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া। অবশ্য এগুলোর রচনাকাল নিয়ে মত-পার্থক্য আছে।) সেগুলো মূলত সংস্কৃত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগ বিভাগ হয়েছে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে।
- চর্যার কবিদের অস্তিত্ব দ্বাদশ শতাব্দীর (১২০০) পূর্ব পর্যন্ত ছিল বলে মনে করা হয়।
- তাই দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন যুগ।
- অন্যদিকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য' বা ‘ইউসুফ জোলেখা'র ভাষা বৈশিষ্ট্যের বিচারেই সেগুলো ১৩৫০ সালের পরের রচনা বলে প্রমাণিত। এগুলো মধ্যযুগের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৮০৯.
‘মগের মুলুক’ - কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  4. নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

• ‘মগের মুলুক’ ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা - গােবিন্দচন্দ্র দাস

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৮১০.
'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. সেলিম আল দীন
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' গ্রন্থ:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

- সঞ্জীবচন্দ্র “Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities” (১৮৬৪) গ্রন্থে উপনিবেশিক শাসনের অধীনে বাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক ধারাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কীভাবে কৃষক-অধিকার পর্যুদস্ত করেছিল তা তিনি এ গ্রন্থে তুলে ধরেন। Bengal Ryots-এর দৃষ্টান্তেই ১৮৮২ সালে রেন্ট কমিশন এর রিপোর্ট বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন (১৮৮৫) হিসেবে কার্যকর হয়।

---------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮১১.
‘চতুষ্কোণ’ - উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হুমায়ুন কবির
  3. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আসল নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি তার উপন্যাসে বিভিন্ন রকম তত্ত্ব অবলম্বন করেছেন। তাই তার উপন্যাসের কাহিনী কিছুটা জটিল। মনের গোপন কামনা বাসনা থেকে শ্রেণীসংগ্রাম রূপ পেয়েছে তার উপন্যাসে।

তার বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস হচ্ছে -
- দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫)
- পুতুল নাচের ইতিকথা (১৯৩৬)
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬)
- শহরতলী (১৯৪০)
- চতুষ্কোণ (১৯৪৮)

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

এছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চতুরঙ্গ' নামের একটি উপন্যাস রয়েছে।

৮,৮১২.
‘বীরবল' নিম্নোক্ত একজন লেখকের ছদ্মনাম-
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. ধূর্জটি প্রসাদ মুখোপাধ্যায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮১৩.
'নন্দিনী' চরিত্রের দেখা পাওয়া যার রবীন্দ্রনাথের কোন রচনায় ?
  1. ক) বিসর্জন
  2. খ) গোরা
  3. গ) ডাকঘর
  4. ঘ) রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সাংকেতিক নাটক। 
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যায় 'প্রবাসী' তে এটি প্রকাশিত হয়। 
- চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন ইত্যাদি। 
-  'রক্তকরবী'-তে ধনের উপর ধ্যানের, শক্তির উপর প্রেমের এবং মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। 

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক- 
-  বাল্মীকিপ্রতিভা
- কালমৃগয়া
- রাজা ও রাণী 
-  গোড়ায় গলদ 
- বৈকুণ্ঠের খাতা 
- বিসর্জন
- চিরকুমার সভা 
- শারদোৎসব
- রাজা
- ডাকঘর
- অচলায়তন
- ফাল্গুনী 
- মুক্তধারা 
- রক্তকরবী
- তাসের দেশ 
- কালের যাত্রা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৮,৮১৪.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের রচনা নয়?
  1. মহাপৃথিবী
  2. ঝরাপালক
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. বেলা অবেলা
সঠিক উত্তর:
বেলা অবেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলা অবেলা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাকে ধূসরতার কবি বলা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতদাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
"বেলা অবেলা" - নামে তাঁর কোনো সাহিত্যকর্ম নেই। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,  বাংলাপিডিয়া ।
৮,৮১৫.
'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২২ জন
  2. ২৩ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৫ জন
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৮,৮১৬.
‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’-প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৬ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯২৬ সালে
  4. ১৯৩৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণচার্য পাদের দোহাকোষ, 
- ডাকার্ণব। 

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।
------------------ 
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় নাম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, বহুভাষাবিদ, দার্শনিক, পণ্ডিত, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিক।
- তার উপাধি ছিলো - মহামহোপাধ্যায়। ১৮৯৮ সালে তাকে এই উপাধি প্রদান করা হয়।
- তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে বাংলা সাহিত্যের আদিগ্রন্থ চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে তার সম্পাদনায় 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮১৭.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী। হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী।।" চর্যাপদের এ পদটি কে রচনা করেন?
  1. লুইপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. শবরপা
  4. ঢেণ্ডণপা পা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা পা
ব্যাখ্যা
- 'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী' হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী।" - চর্যাপদের এ পদটির রচয়িতা ’ঢেণ্ডণপা’।
- চর্যাপদের এ চরণ দুটিতে কি বোঝানো হয়েছে: টিলার উপর আমার ঘর,আমার কোন প্রতিবেশী নেই। আমার হাঁড়িতে ভাত নেই,অথচ নিত্য অতিথি আসে।
-------------------------------------------------
• ঢেণ্ডণপা পা:
- তিনি নবম শতকের কবি।
- তিনি পেশায় একজন  তাঁতি।
- তিনি চর্যায় ৩৩ নং পদটি রচনা করেন।
- তাঁর রচিত পদটি : 'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী' হাড়ীতে ভাত নাহি নিতি আবেশী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮১৮.
‘বনি আদম’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাওলানা আকরাম খাঁ
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. সৈয়দ আহমদ
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

কবি ও লেখক গোলাম মোস্তফার জন্ম যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি। 
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- তিনি ১৯৬০ সালে পাকিস্তানি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-ইমতিয়াজ উপাধিতে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত কবিতা
- রক্তরাগ
- হাসনাহেনা
- খোশরোজ
- সাহারা
- গুলিস্তান
- বনী আদম(মহাকাব্য)
- কাব্য কাহিনী
- সাহারা
- তারানা ই পাকিস্তান
- বুলবুলিস্তান
- কিশোর
- কবর

তাঁর রচিত জীবনী
- বিশ্বনবী
- মরুদুলাল

তাঁর রচিত উপন্যাস
- রূপের নেশা
- ভাঙাবুক
- এক মন এক প্রান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৮,৮১৯.
"এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।" বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. শওকত ওসমান
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- “নূরলদীনের সারা জীবন” সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীন যার আসল নাম নূরুলউদ্দিন, তাঁর সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচনা করা হয়েছে।
- নূরলদীনের বিখ্যাত আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- কাব্যনাট্যটির বিখ্যাত লাইন - "এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।"
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৮২০.
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকটি অনুবাদ করেন কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরীর'র অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,৮২১.
'লায়লী-মজনু' কার কাব্য অবলম্বনে রচিত হয়েছে?
  1. মীর্জা গোলাম
  2. হেলাল হাফিজ
  3. আবদুর রহমান জামি
  4. মালিক মুহাম্মদ জয়সীর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রহমান জামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রহমান জামি
ব্যাখ্যা
'লায়লী-মজনু' কাব্য:
- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত ‘লায়লী মজনু’কাব্য।
- ‘লায়লী মজনু’র রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে।
- আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩। শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- 'লায়লী মজনু' পারসি কবি আবদুর রহমান জামির কাব্য অবলম্বনে রচিত।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮২২.
ডিরোজিওর পূর্ণ নাম-
  1. ক) হেনরি লুই ভিক্টোরিয়ান ডিরোজিও
  2. খ) লুই আই খান ডিরোজিও
  3. গ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. ঘ) হেনরি লুই আই খান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
গ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮২৩.
'এলাটিং বেলাটিং', 'ধান ভানলে কুঁড়ো দেব' ইত্যাদি শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্যঃ
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেব,
- গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে,
- আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮২৪.
কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য?
  1. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
  2. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  3. গুলে বকাওলী
  4. মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতপৈঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতপৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

অন্যদিকে,
- মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম - সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, গুলে বকাওলী, মধুমালতী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮২৫.
নাথধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য কোনটি?
  1. গোরক্ষবিজয়
  2. মনসাবিজয়
  3. স্পেনবিজয় কাব্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষবিজয়
ব্যাখ্যা
• নাথধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা কাব্য - গোরক্ষবিজয়

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।

গোরক্ষবিজয়:
- নাথসাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
→ নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
→ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
→ আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং
→ পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত।
- পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে 'গোরক্ষবিজয়' ও 'গোর্খবিজয়'।

• গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পণ্ডিত মহলে বিতর্ক আছে।  
- শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়।
- তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮২৬.
'সহসা সচকিত' কাব্যগ্রন্থটির কবি হলেন-
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহাসান
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ আলী আহাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ আলী আহাসান
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

অনুবাদগ্রন্থঃ
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,৮২৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. চতুরঙ্গ
  2. চোখের বালি
  3. নৌকাডুবি
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস নয় - নৌকাডুবি

নৌকাডুবি:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- মূল চরিত্র: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৮২৮.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে' - পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. বুদ্বদেব বসু
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮২৯.
'রমেশ ও হেমনলিনী' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. রাজর্ষি
  2. নৌকাডুবি
  3. গোরা
  4. দুই বোন
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- মূল চরিত্র: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৮৩০.
'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. শেখ আবদুর রহিম
  2. আল মাহমুদ
  3. রওশন আলী চৌধুরী
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক - আহমদ ছফা। 
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৩১.
"মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।" সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উক্তি।  

------------------------
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ'।
- বর্তমানে পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা। 
- 'পালামৌ' বিহারের একটি স্থানের নাম লেখক চাকরিসূত্রে যখন বিহারে ছিলেন, সেই সময়ের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর এই রচনায় লিখেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

'পালামৌ' রচনার ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৩২.
গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. গোলক নাথ শর্মা
  2. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. চণ্ডীচরণ মুন্শী
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
ব্যাখ্যা
• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিষ্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। গ্রন্থাকার ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের পাদ্রি হিসেবে ধর্মপ্রচারে রত ছিলেন এবং সে অঞ্চলে থাকাকালীন গ্রন্থটি রচিত বলে তাতে স্থানীয় উপভাষার প্রভাব আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৮৩৩.
চন্দ্রাবতীর রচনায় কোন সময়ের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত?
  1. চতুর্দশ শতাব্দীর
  2. পঞ্চদশ শতাব্দীর
  3. ষোড়শ শতাব্দীর
  4. সপ্তদশ শতাব্দীর
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ শতাব্দীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ শতাব্দীর
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী:
- ষোড়শ শতাব্দীর নারীকবি।
- তিনি ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতীর পিতা মনসামঙ্গলের কবি 'দ্বিজ বংশীদাস'।
- চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো:
• মলুয়া,
• দস্যু কেনারামের পালা,
• রামায়ণ ইত্যাদি।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত 'রামায়ণ' বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
- ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর রচনায় প্রতিফলিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৩৪.
কুক্কুরীপা কোন অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন বলে ধারণা করা হয়?
  1. নেপাল
  2. তিব্বত
  3. বঙ্গদেশ
  4. কামরূপ
সঠিক উত্তর:
তিব্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বত
ব্যাখ্যা

কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কুক্কুরীপা রচিত পঙক্তি হলো:

“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।”

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৮৩৫.
রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) সম্বাদ কোমুদী
  2. খ) ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. গ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. ঘ) বেদান্তসার
সঠিক উত্তর:
গ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

কয়েকটি বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম ও লেখকঃ
Manuel da Assumpção--- 'Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes' (১৭৪৩)
ব্রাসি হ্যালহেড --- ' A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮)।
উইলিয়াম কেরি --- 'A Grammar of the Bengalla Language' (১৮০১) [১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন]।
রাজা রামমোহন রায় --- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮৩৩)
সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় --- 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' (১৯৩৯)।
ড. সুকুমার সেন --- 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ - 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' ( ১৯৫৯)

৮,৮৩৬.
বিমল মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম-
  1. চিত্রগুপ্ত
  2. যুবনাশ্ব
  3. জাবালি
  4. যাযাবর
সঠিক উত্তর:
জাবালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাবালি
ব্যাখ্যা
বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।

অনদিকে, 
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম- যুবনাশ্ব।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৩৭.
'আনোয়ার পাশা' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. আহমদ ছফা
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
  4. ইব্রাহীম খাঁ
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ার পাশা' নাটকটির রচয়িতা - ইব্রাহীম খাঁ। 

ইব্রাহীম খাঁ:

- তিনি ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৩৮.
'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি-
  1. রূপক নাটক
  2. ঐতিহাসিক নাটক
  3. সামাজিক নাটক
  4. মনস্তাত্ত্বিক নাটক
সঠিক উত্তর:
সামাজিক নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক নাটক
ব্যাখ্যা

• 'বহিপীর' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সামাজিক নাটক।
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত এবং নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮,৮৩৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ নিম্নের কোন গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
  2. খ) সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. গ) বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  4. ঘ) বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
সঠিক উত্তর:
গ) বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা ইত্যাদি।

এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।
 
অপরদিকে, 
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৪০.
'নেমেসিস' নাটকের পটভূমি-
  1. ক) মন্বন্তর
  2. খ) দেশভাগ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) গণ- অভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
ক) মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
- এক চরিত্র বিশিষ্ট নাকট নেমেসিস।
- নাটকটির রচয়িতা - নুরুল মোমেন।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
- এ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী।
- এ নাটকে নুরুল মোমেন দেখিয়েছেন যে, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সুরজিত নন্দী সাধারণ মানুষের জীবনে যে দুঃখ-দুর্দশার বয়ে এনেছে তার প্রতিশোধ হিসেবে দেবী নেমেসিস (প্রতিহিংসার দেবী) তাঁর জীবন কেড়ে নিয়েছে।

নুরুল মোমেনের অন্যান্য নাটক হলো :
- রূপান্তর
- যদি এমন হতো
- নয়া খান্দান
- আলোছায়া
- শতকরা আশি
- আইনের অন্তরালে
- যেমন ইচ্ছা তেমন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৪১.
বাংলা সঙ্গীতে প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা সঙ্গীতে ঠুংরি:
- বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন এ ছাড়া রাগপ্রধান ঢঙে বাংলা গান রচনা তাঁর থেকেই শুরু হয়।
- উল্লেখ্য যে, বাংলায় ঠুংরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। অতুলপ্রসাদের বিশেষত্ব এ যে, তিনি বাংলা গানের সুর-তালের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই হিন্দুস্থানি রীতির প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন।
- জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় তিনি উত্তর ভারতে কাটান। সেজন্য ওখানকার সাঙ্গীতিক পরিমন্ডলের সঙ্গে মিশে গিয়ে তিনি হিন্দুস্থানি গীতিপদ্ধতিকে রপ্ত করতে সমর্থ হন। তাই বাংলা গানে হিন্দুস্থানি ঢঙের মিশ্রণ ঘটানো তাঁর পক্ষে সহজ হয়েছিল। অতুলপ্রসাদের এ প্রয়াস বাংলা গানে একদিকে যেমন নতুনত্ব এনেছে, অন্যদিকে তেমনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ উন্মুক্ত করে বাংলা গানের জগতে এক বন্ধনমুক্ত শৈল্পিক আবহ নির্মাণে সক্ষম হয়েছে।।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৪২.
নিচের কে কবিওয়ালা?
  1. ক) হরিস ঠাকুর
  2. খ) সুকুর মামুদ
  3. গ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  4. ঘ) রাধারমণ গোপ
সঠিক উত্তর:
গ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা

রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্য ও সুকুর মামুদ নাথ সাহিত্যের কবি।
আর এন্টনি ফিরিঙ্গি কবি গানের কবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৮৪৩.
“একের ‘সহিত’ অন্যের মিলনের মাধ্যমই হলো সাহিত্য” - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ড. নীহাররঞ্জন রায়
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

“একের ‘সহিত’ অন্যের মিলনের মাধ্যমই হলো সাহিত্য” - উক্তিটি করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৮৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা কোনটি?
  1. আদুরে
  2. আমাদের ছোট নদী
  3. জননী
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
আমাদের ছোট নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের ছোট নদী
ব্যাখ্যা
আমাদের ছোট নদী
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আমাদের ছোটো নদী চলে আঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি

উল্লেখ্য,
- 'আদুরে পুতুল' কবিতার রচয়িতা - সুকুমার রায়।
- 'জননী তোমার করুণ চরণখানি' কবিতার রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- 'পল্লী জননী' এবং 'কবর' কবিতার রচয়িতা - জসীমউদ্দীন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৪৫.
অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যের নিদর্শন নয় কোনটি?
  1. কলিমা জলাল
  2. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  3. শূন্যপুরাণ
  4. হপ্তপয়কর
সঠিক উত্তর:
হপ্তপয়কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা
হপ্তপয়কর অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যের নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত নয়।

- অন্ধকার যুগে প্রথমেই 'প্রাকৃতপৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূন্যপুরাণ' এবং এর 'কলিমা জলাল' বা 'নিরঞ্জনের রুম্মা',  হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়ার' অন্তর্গত।
- পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা 'আর্যা' অথবা 'ভাটিয়ালী রাগেণ গীয়তে' নির্দেশক বাংলা গান প্রভৃতি এ সময়ের বাংলা সাহিত্যসৃষ্টির নমুনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- রাহুল সংকৃত্যায়ন এই সময়ে রচিত কিছু চর্যাপদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করেছেন।

• হপ্তপয়কর
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল এই কাব্য রচনা করেন।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৮৪৬.
জীবনভিত্তিক কাব্য 'মরুভাস্কর' রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আল মাহমুদ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. গোলাম মোস্তাফা
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনভিত্তিক কাব্য:
- মরুভাস্কর - হযরত মুহম্মদ (সঃ)।
- চিত্তনামা - দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৪৭.
‘কোকিলারা’ নাটকটির রচয়িতা -
  1. আবুল ফজল
  2. মামুনুর রশীদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
‘কোকিলারা’ নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশি নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত ''কোকিলারা'' একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।

তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলো:
- শপথ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৪৮.
নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. ধূমকেতু
  2. লাঙ্গল
  3. দৈনিক আজাদ
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৪৯.
আলাওল কার আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন?
  1. দৌলত কাজীর আদেশে
  2. দৌলত উজির বাহরাম খানের আদেশে 
  3. কানাহরি দত্তের আদেশে
  4. মাগন ঠাকুরের আদেশে
সঠিক উত্তর:
মাগন ঠাকুরের আদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগন ঠাকুরের আদেশে
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

--------------------
 আলাওল:
-  আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাতটি।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে- 
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩)। 

• নীতিকাব্য
- তোহ্‌ফা (১৬৬৪)। 

• সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
- রাগতালনামা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৫০.
‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের কোন ধরনের উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  4. রহস্য উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন। উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৫১.
কোনটি মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক নয়?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. পলাশী ব্যারাক
  3. চিরকুমার সভা
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
চিরকুমার সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরকুমার সভা
ব্যাখ্যা

'চিরকুমার সভা' হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি নাটক। 

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক এবং বাগ্মী।
- শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি এবং ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর, তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

নাটকসমূহ:
- রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, কবর, দণ্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক, ইত্যাদি।

অনুবাদ নাটকসমূহ:
- কেউ কিছু বলতে পারে না, রূপার কৌটা, মুখরা রমণী বশীকরণ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস, তুলনামূলক সমালোচনা, বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৫২.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'?
  1. অন্নদাশংকর রায়
  2. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশংকর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশংকর রায়
ব্যাখ্যা

অন্নদাশংকর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।

অন্যদিকে,
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী'র ছদ্মনাম -  জরাসন্ধ।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
সমরেশ বসু'র ছদ্মনাম - কালকূট।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৫৩.
'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - এই বাক্যটি কোন গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. মেঘ ও রৌদ্র
  3. জীবিত ও মৃত
  4. প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। এটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা ।
- তবে এটি কোনও নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৮,৮৫৪.
‘চাচা - কাহিনী’র লেখক কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ আলী আশরাফ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ মুজতবা আলী,(১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।
- বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
ভ্রমণকাহিনী
দেশে-বিদেশে (১৯৪৯),
জলে-ডাঙায় (১৯৬০);

উপন্যাস
অবিশ্বাস্য (১৯৫৪),
শবনম (১৯৬০),
শহ্র-ইয়ার (১৯৬৯);

রম্যরচনা
পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২),
ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫২) 

ছোটগল্প
চাচা-কাহিনী (১৯৫২),
টুনি মেম (১৯৬৪)।
- মুজতবা আলীর ডি.ফিল অভিসন্দর্ভ The Origin of Khojahs and Their Religious Life Today (১৯৩৬) বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর আরেকটি অনবদ্য গ্রন্থ পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। 

- সৈয়দ মুজতবা আলী দেশে-বিদেশে গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। গ্রন্থখানি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পাঠকচিত্ত জয় করতে সক্ষম হন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি। সামগ্রিকভাবে তিনি উভয় বঙ্গে সমান জনপ্রিয় ও সমাদৃত লেখক ছিলেন। আন্তর্জাতিক চেতনায় সমৃদ্ধ এই লেখকের বিশ্বমানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অননুকরণীয় রচনাশৈলী তাঁকে এই সম্মানের অধিকারী করেছে। তদুপরি তিনি যে নৈপুণ্যের সঙ্গে বিদেশি চরিত্র ও আবহ বাংলা সাহিত্যে এনেছেন তাও তুলনাহীন। হালকা মেজাজে আড্ডার ঢঙে বলে গেলেও তাঁর অধিকাংশ রচনা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শাস্ত্রচর্চা ও বিচার-সমালোচনায় পরিপূর্ণ।
উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৫৫.
নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম- 
  1. কালকূট
  2. ভ্রমর
  3. জাবালি
  4. বানভট্ট
সঠিক উত্তর:
বানভট্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানভট্ট
ব্যাখ্যা

• 'বানভট্ট' নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম 'জাবালি' 
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৮৫৬.
'সুরবালা' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মুসলমান চরিত্র রয়েছে।
• এ গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- রহমত ও খুকী।
• 'সমাপ্তি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মৃণ্ময়ী'।
• 'হৈমন্তী' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'হৈমন্তী'।
• 'একরাত্রি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।
উৎসঃ রবীন্দ্রনাথ রচনাবলী।
৮,৮৫৭.
'হুতোমী বাংলা' ভাষার প্রবক্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ অনুসৃত রীতির ভাষাকে বলা হয় 'হুতোমী বাংলা' ভাষা। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০-১৮৭০)  
সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী কালীপ্রসন্ন সিংহ কলকাতার এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
-  মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’। 
- দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।
- সমসাময়িকদের মধ্যে কালীপ্রসন্ন শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- নাটক,  প্রহসন,  উপন্যাস, নকশা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা নয়।
- ইংরেজিতে দি ক্যালকাটা পুলিশ অ্যাক্ট-ও (১৮৬৬) তাঁর রচনা।
- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৫৮.
সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত 'পূর্বাশা' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৩০ সালে
  2. ১৯৩১ সালে
  3. ১৯৩২ সালে
  4. ১৯৩৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ সালে
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।
- এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৫৯.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি বাঁকুড়া জেলার কোন গ্রাম থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. নানুর
  2. কাঁকিল্যা
  3. চণ্ডীপুর
  4. বীরসিংহ
সঠিক উত্তর:
কাঁকিল্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁকিল্যা
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। ভাগবত প্রভৃতি পুরাণের কৃষ্ণলীলা-সম্পর্কিত কাহিনি অনুসরণে, জয়দেবের গীতগোবিন্দ কাব্যের প্রভাব স্বীকার করে, লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে কবি বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনা করেন।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটান। বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। খণ্ডগুলো হল: জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহখণ্ড।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮,৮৬০.
আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্যে কয়টি পর্ব রয়েছে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে — দুইটি পর্ব রয়েছে।
প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া
৮,৮৬১.
হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. জ্বলো চিতাবাঘ
  2. অলৌকিক ইস্টিমার
  3. সবকিছু ভেঙে পড়ে
  4. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
সঠিক উত্তর:
সবকিছু ভেঙে পড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকিছু ভেঙে পড়ে
ব্যাখ্যা
• ‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’ উপন্যাস:
- ‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’ হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক সেতু-প্রকৌশলী ‘মাহবুব’।
- 'ব্রিজ একটি কাঠামো; সব কিছুই আমার কাছে কাঠামো'- উক্তিটি বলেছে সব কিছু ভেঙে পড়ের নায়ক, সেতু-প্রকৌশলী, মাহবুব।

-------------------
• হুমায়ুন আজাদ:

- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার'।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।
- তিনি ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো:
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ, 
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি

কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি

উৎস: ‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৬২.
"পূর্ববঙ্গ-গীতিকা" কোন ধারার সাহিত্য?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. মর্সিয়া
  3. লোক সাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৬৩.
'জয়নবের চৌতিশা' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোকসাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- পারস্যের কবিদের দ্বারা মর্সিয়া সাহিত্যের প্রসার ঘটে।
- বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
-  রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা ও অফৎনামা'।
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে 'জঙ্গনামা' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য লেখেন। এটি ১৭২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৮৬৪.
'নীল দর্পণ' নাটকটির বিষবস্তু কি?
  1. ক) নীলকরদের অত্যাচার
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) অসহযোগ আন্দোলন
  4. ঘ) তে-ভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ক) নীলকরদের অত্যাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীলকরদের অত্যাচার
ব্যাখ্যা
নীল দর্পণ(১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের নীলকর সাহেবদের নীল চাষিদের উপর বীভৎস অত্যচার অবলম্বনে রচিত নাটক।
উৎসঃবাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৮৬৫.
'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' অবলম্বনে কোন নাটকটি রচিত হয়?
  1. ক) রাজা
  2. খ) ডাকঘর
  3. গ) প্রায়শ্চিত্ত
  4. ঘ) রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
গ) প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩): রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
যশােরের রাজা প্রতাপাদিত্য ও বাকলার জমিদার রামচন্দ্রের বিবাদকে উপজীব্য করে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ
‘প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নাটকটি রচনা করেন। ১৯২৯ সালে প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের সংক্ষিপ্ত রূপ 'পরিত্রাণ' নামে মুদ্রিত হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৮,৮৬৬.
জর্জ বার্নার্ড শ-এর "You never can tell" নাটক 'কেউ কিছু বলতে পারে না' নামে বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক:
- "কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
- "রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
- "মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক।
- তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়।
- তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।
- ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।
- ১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্টিমা"।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৬৭.
রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়' - এ বিতর্ক নিয়ে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বসন্তকুমারী
  2. রত্নবতী
  3. জমিদার দর্পণ
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
ব্যাখ্যা
• রত্নবতী: 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থের নাম হচ্ছে 'রত্নবতী'।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান।
- লেখক নাম-পৃষ্ঠায় গ্রন্থটিকে ‘কৌতুকাবহ উপন্যাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়' - এ বিতর্ক ও বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।

----------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
 
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।
 
• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।
 
• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৬৮.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. ভ্রমণকারী বন্ধু
  2. পরশুরাম
  3. সত্যপীর
  4. দৃষ্টিহীন
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকারী বন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকারী বন্ধু
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- ‘সত্যপীর’ - সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম।
- 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৬৯.
সংস্কৃত নাটক ‘সংগীতমাধব’ রচনা করেন কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. দ্বিজমাধব
  4. বিপ্রদাস পিপলাই
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস কবিরাজ (আনু. ১৫৩৫-১৬১৩) বৈষ্ণব পদকর্তা।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর আসল পদবি সেন এবং তাঁর ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- তাঁর নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৭০.
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
- ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক।
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৭১.
‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহের কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু হচ্ছে, ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা। 
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী প্রতিবাদের প্রতীক।
- লালসালু একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো: মজিদ, খালেক, ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরে বাপ, হাসুনির মা।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) সালে খ্যাতি অর্জন করে।
================================
 সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
-  আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ডিস্টিংকশনসহ বি.এ (১৯৪৩) পাস করেন।
-  তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো  সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর।

নাটক: 
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ, 
- সুড়ঙ্গ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া। 
৮,৮৭২.
ডোম্বীপা'র গুরু ছিলেন -
  1. গোরক্ষনাথ
  2. নাগার্জুন
  3. বিরুপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
বিরুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরুপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা। তার গুরু ছিলেন - বিরুপা
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৮৭৩.
চর্যাপদে কোন ধর্মীয় ভাবধারা ফুটে উঠেছে?
  1. বৈষ্ণব
  2. শৈব
  3. বৌদ্ধ
  4. শাক্ত
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদে বৌদ্ধ ধর্মীয় ভাবধারা ফুটে উঠেছে।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৭৪.
আমি কবি যত কামারের, কাঁসারির আর ছুতারের মুটে মজুরের, আমি কবি যত ইতরের চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) মহাদেব সাহা
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
আলোচ্য চরণগুলো কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ''প্রথমা'' (১৯৩২) এর ‘আমি কবি যত কামারের’ শীর্ষক কবিতার অংশবিশেষ। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৮,৮৭৫.
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান মারা যান-
  1. ক) ১৪ মে ২০২০
  2. খ) ১৪ আগস্ট ২০২০
  3. গ) ১৪ আগস্ট ২০২১
  4. ঘ) ১৪ মে ২০২১
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪ মে ২০২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪ মে ২০২০
ব্যাখ্যা
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- গত ১৪ মে ২০২০ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ৮৩ বছর বয়সে মারা যান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর ছিলেন (বাংলা বিভাগ)। 
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। 
- তাঁর এই গবেষণা পত্রকে তিনি 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন। 
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিযোগ দেন।
- মৃত্যুর পূর্বে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৭৬.
'চাঁদনী রাতে' - কবিতা টি কোন কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) অগ্নী-বীণা
  2. খ) সন্ধ্যা
  3. গ) সিন্ধু-হিন্দোল
  4. ঘ) জিঞ্জির
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু-হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
'চাঁদনী রাতে' - কবিতা টি কাজি নজরুল ইসলাম এর 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

নজরুল নির্বাচনের প্রচারের কাজে ঢাকা থেকে জয়দেবপুর যাবার সময় জ্যোৎস্না রাতে 'জয়দেবপুরের পথে' নামে একটি কবিতা লেখেন। পরে তিনি এ কবিতাটি পরিনার্জনা করে নাম দেন 'চাঁদনী রাতে'। এটি 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

- কবিতাটি আবদুল কাদির তাঁর 'জয়তী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৭৭.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নিসর্গ সঙ্গীত
  2. সাধের আসন
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. প্রেম প্রবাহিণী
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
ব্যাখ্যা
• 'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন' (১৮৮৯)।
- 'সাধের আসন'কে 'সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির 'সারদামঙ্গল' কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কাকে ধ্যান কর?"। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল 'বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ' লিখেছিলেন।

------------
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৭৮.
"আহুতি" প্রমথ চৌধুরী রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• ‘আহুতি’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।

প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- নানাকথা,
- নানাচর্চা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৭৯.
কার ‍উদ্যোগে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ” বিষয়ক দলিল সংগ্রহের প্রকল্প গৃহীত হয়েছিল?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) আতাউল গণি ওসমানী
  3. গ) জিয়াউর রহমান
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) আতাউল গণি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আতাউল গণি ওসমানী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর পনেরো খন্ডে রচিত একটি দালিলিক প্রকাশনা। এ দলিলপত্রাদি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীর ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমানের যৌথ নেতৃত্বে একটি প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক প্রণীত। প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠা ব্যাপী বিপুলায়তন ও সংগৃহীত উপাত্ত থেকে নির্বাচন করে প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর কালপঞ্জি অনুসারে বিভিন্ন খন্ডে প্রকাশ করা হয়।

“বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিষয়ক দলিল" সংগ্রহের প্রকল্পটি গৃহীত হয়েছিলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি আতাউল গণি ওসমানীর উদ্যোগে।
তবে সরকারিভাবে,
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাধীনতার ইতিহাস সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি থেকে। তবে প্রকল্পটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে ১৮ জুলাই ১৯৭৮-এ বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (নং ৫১/২/৭৮/ডেব/২৬১)। এই প্রকল্পের সদস্য সচিব হাসান হাফিজুর রহমান বাংলা একাডেমী কর্তৃক ইতোপূর্বে সংগৃহীত দলিলপত্রসমূহ স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের শাসনামলে ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে খন্ডগুলির প্রকাশ শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ওসমানী ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের মন্ত্রীসভায়  ডাক, তার ও টেলিফোন, যোগাযোগ, জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমান চলাচল মন্ত্রী ছিলেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৮০.
"মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।" - এই পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।'-  কবিতাংশটুকুর রচয়িতা সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। এটি 'খাঁটি সোনা' কবিতার অংশবিশেষ।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৮১.
"আঠারো শতকের বাংলা চিঠি" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবুল ফজল
  4. আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
আনিসুজ্জামান:
- তিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক, বাংলাদেশের বাতিঘর হিসেবে খ্যাত, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প-িত অধ্যাপক।
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৮২.
কোন যুগকে 'তামস যুগ' বলে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. মধ্য যুগ
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ:
 বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮,৮৮৩.
‘গড্ডলিকা’ গল্পের বইটি কে রচনা করেছেন?
  1. অচিত্যকুমার সেন
  2. রাজশেখর বসু
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজশেখর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা
• ‘গড্ডলিকা’:
- ‘গড্ডলিকা’ রাজশেখর বসুর (পরশুরাম) প্রথম গল্পের বই। প্রকাশকাল ১৯২৪ সাল।
- প্রকাশক ছিলেন ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। বইয়ে ছবি এঁকেছিলেন যতীন্দ্রমোহন সেন।
- এ বইয়ের মোট পাঁচটি গল্প রয়েছে। এই গ্রন্থের প্রথম গল্প ‘শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’।

এ ছাড়াও এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- চিকিৎসা-সঙ্কট,
- মহাবিদ্যা,
- লম্বকর্ণ ও
- ভূষণ্ডীর মাঠে।

------------------------
• রাজশেখর বসু: 
- রাজশেখর বসু ছিলেন একাধারে একজন লেখক ও বিজ্ঞানী অভিধান প্রণেতা।
- ১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম
- রাজশেখর চাকরি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি বাংলা  অভিধান ও  পরিভাষা রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- ১৯০৬ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষা পরিষদে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
- তিনি ১৯৩৫ সালে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত বাংলা বানান সংস্কার সমিতি এবং ১৯৪৮ সালে সরকার গঠিত পরিভাষা সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- লেখক হিসেবে তিনি ‘পরশুরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট একুশ।
- তাঁর চলন্তিকা (১৯৩৭) বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত একখানি জনপ্রিয় অভিধান।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গড্ডলিকা,
- কজ্জলী,
- হনুমানের স্বপ্ন,
- গল্পকল্প;
- আনন্দীবাঈ;
- ভারতের খনিজ,
- কুটিরশিল্প,
- বিচিন্তা;
- বাল্মীকি রামায়ণ,
- মহাভারত,
- হিতোপদেশের গল্প ইত্যাদি।

উৎস: ‘গড্ডলিকা’ গল্পগ্রন্থ;  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৮৪.
'কুঁচবরণ কন্যা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) বদর উদ্দিন ওমর
সঠিক উত্তর:
খ) বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর ছিলেন। তিনি কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো- কাব্য: ময়নামতীর চর, অনুরাগ, পদ্মানদীর চর, মধুমতীর চর, ধরিত্রী, উপন্যাস: বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, শেষ লগ্ন, অরণ্য গোধূলি, নীড়ভ্রষ্ট। তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ তাসের ঘর, নাটক মসনদ এবং শিশুসাহিত্য- চোর জামাই, মেঘকুমারী, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, সোনার হরিণ, শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, কুঁচবরণ কন্যা, সাত রাজ্যের গল্প। তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৮৫.
আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদ কোন ছন্দের অধীনে বিবেচ্য?
  1. পায়ার 
  2. মাত্রাবৃত্ত 
  3. ত্রিপদী 
  4. স্বরবৃত্ত 
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত 
ব্যাখ্যা

'চর্যাপদ' এর ছন্দ সম্পর্কিত তথ্য:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণ ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্ৰাপ্রধান পাদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পাদাকুলক ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে গঠিত হলেও মাত্রাবৃত্তের বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

৮,৮৮৬.
'ভিখু' ও 'পাচি' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
• তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম ‘অতসী মামী’ বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘প্রাগৈতিহাসিক’। এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ভিখু ও পাচি।,

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থঃ
- অতসী মামা ও অন্যান্য গল্প, 
- মিহি ও মোটা কাহিনী, ]
- বৌ,
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ,
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী, 
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৮৭.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রতিশোধ
  2. পুতুল ও প্রতিমা
  3. উপনয়ন
  4. কুয়াশা
সঠিক উত্তর:
পুতুল ও প্রতিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুতুল ও প্রতিমা
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কুয়াশা,
- উপনয়ন,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৮৮.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের ছদ্মনাম?
  1. তর্করত্ন
  2. মল্লিক
  3. কস্যচিৎ পথিকস্য
  4. সত্যসুন্দর দাস
সঠিক উত্তর:
কস্যচিৎ পথিকস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কস্যচিৎ পথিকস্য
ব্যাখ্যা
• নীলদর্পণ:
- নীল দর্পণ হলো দীনবন্ধু মিত্র কর্তৃক ১৮৬০ খ্রি. রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন। 
  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নীলদর্পণ নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ।

অন্যদিকে,
• রামনারায়ণের ছদ্মনাম - তর্করত্ন।
• পঞ্চানন কর্মকারের ছদ্মনাম -মল্লিক।
• মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম -সত্যসুন্দর দাস।
------------------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র  রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৮৯.
'দিবারাত্রির কাব্য' কার লেখা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৯০.
'ওরা কদম আলী' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) গ্রামীণ জীবন ব্যাবস্থা
  3. গ) বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম
  4. ঘ) জেলে সম্প্রদায়ের জীবন ব্যাবস্থা
সঠিক উত্তর:
গ) বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' নাটকের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে। 
- বঞ্চিত, শোষিত  মানুষের শ্রেণি সংগ্রাম এর রূপকার হিসেবে বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম 'ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। 
- গরীব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সমশটিক রূপ কিভাবে পরীগ্রহণ করে কদম আলী নামের এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্ম:
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮)
- ওরা আছে বলেই(১৯৮০)
- ইবলিশ(১৯৮২)
- এখানে নোঙর(১৯৮৬)
- গিনিপিগ(১৯৮৫)
- পাথর(১৯৯৩)
- লেবেদেফ(১৯৯৭) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৯১.
বাংলা গদ্যের প্রথম কথ্যরীতিতে রচিত গ্রন্থ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর রচয়িতা কে?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
- বাংলা গদ্যে প্রথমবারের মত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থের মাধ্যমে প্যারীচাঁদ মিত্র কথ্য বা চলিত ভাষারীতির প্রয়োগ ঘটান।
- তিনি উপলব্ধি করেছিলেন , বাংলা গদ্যের সাধুরীতি কেবল লিখিত রূপেই প্রচলিত এবং বিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সুযোগ বঞ্চিত লোকেরা , বিশেষত অন্তঃপুরচারিণীরা এই ভাষারীতি হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না।
- এই অসুবিধা দূরীকরণে প্রথমত ‘মাসিক পত্রিকার” মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালায় এবং তারই ফলস্বরুপ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এই গ্রন্থটি রচিত।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা গদ্যরীতিতে এক অভিনব লঘুভঙ্গি প্রবর্তিত হয় এবং তা  কথ্যরীতির বহুল ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করে।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৮৯২.
'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রহসন
  3. কাব্য
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
ব্যাখ্যা
'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৯৩.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী কবিতার কত বছর উদযাপিত হয়েছে?
  1. সার্ধ শতবর্ষ
  2. একশত বিশ বছর
  3. দুইশত বছর
  4. শতবর্ষ
সঠিক উত্তর:
শতবর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতবর্ষ
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২১ সালে কবি নজরুলের বাংলা কাঁপানো কবিতা ‘বিদ্রোহী’ রচনার শতবর্ষ উদযাপিত হয়েছে। 
⇒ ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের কোনো এক রাতে এক বৈঠকে রচিত হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের বিপুল প্রভাববিস্তারী এই কবিতা। নজরুল তখন মাত্র ২২ বছরের যুবক।


⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো রিপোর্ট (২১ মে ২০২১)।
৮,৮৯৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ল্যাবরেটরি' গল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. দামিনী
  2. রমা
  3. রোহিণী
  4. সোহিনী
সঠিক উত্তর:
সোহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোহিনী
ব্যাখ্যা
• 'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তিনসঙ্গী' গ্রন্থের শেষ গল্প হলো 'ল্যাবরেটরি'। 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- এটি আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় ১৩৪৭ সালে ১৫ আশ্বিন প্রকাশিত হয়।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি এখানে বিষয়গত, চরিত্রগত এবং আঙ্গিকগত সমস্ত দিক থেকেই আধুনিকতার উপস্থাপন ঘটিয়েছেন। 
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে- সোহিনী। 'ল্যাবরেটরি' গল্পে সোহিনী চরিত্রের মধ্যে আমরা বিশেষভাবে আধুনিকতার ছাপ দেখি।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন। গল্পে সোহিনীর মনস্তাত্ত্বিকতারই উদ্ঘাটন রয়েছে সমগ্র কাহিনি জুড়ে।

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিন সঙ্গী,
- গল্পসল্প।

উৎস: 'ল্যাবরেটরি' গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'তিনসঙ্গী' গল্পগ্রন্থ।
৮,৮৯৫.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জননী
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. বনি আদম
সঠিক উত্তর:
নেকড়ে অরণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
• 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস :
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৯৬.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প নিচের কোনটি?
  1. ক) রেইনকোট
  2. খ) আগুণের পরশমণি
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) মাটির দেয়াল
সঠিক উত্তর:
ক) রেইনকোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেইনকোট
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোর্ট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ।
৮,৮৯৭.
জসীমউদ্দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) পল্লীবধূ
  3. গ) বেদের মেয়ে
  4. ঘ) বোবা কাহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন। 

জসীমউদ্দীন রচিত নাটক- 
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৯৮.
চর্যাপদের কোন পদগুলো পাওয়া যায় নি?
  1. ২৪, ২৫ ও ৪৬ নং
  2. ৪৮, ২৩ ও ২৫ নং
  3. ২৩, ২৫ ও ৪৬ নং
  4. ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং
সঠিক উত্তর:
২৪, ২৫ ও ৪৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪, ২৫ ও ৪৮ নং
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ: 
 বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ৫১ টি পদের মধ্যে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- ২৩ নং পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। 
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৯৯.
'বোবা কাহিনী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. কিশোর
  2. রুপাই
  3. আজহার
  4. সাজু
সঠিক উত্তর:
আজহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজহার
ব্যাখ্যা
• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯০০.
‘ঈশ্বরী পাটনী’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

-----------------
অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

• কালিকামঙ্গল কাব্যের দুটি চরিত্র- বিদ্যা ও সুন্দর।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।