• পঙ্ক্তিদ্বয় জীবনানন্দের সৃষ্টিকর্ম।
---------------------
বনলতা সেন
- জীবনানন্দ দাশ
“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূরে সমুদ্রের 'পর হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, 'এতদিন কোথায় ছিলেন'
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।"
-----------------------------
• ‘বনলতা সেন' নিয়ে কিছু কথা:
- বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা।
- কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪২ সালে এক পয়সার একটি গ্রন্থমালায় প্রথমবার গ্রন্থাকারে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- পরবর্তীতে কবিতাটি ১৯৪৪ সালে মহাপৃথিবী কাব্যে প্রকাশ পায়।
- এবং ১৯৫২ সালে প্রকাশিত বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণেও স্থান লাভ করে।
- জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘বনলতা সেন’ কবিতা বাংলা সাহিত্যের একটি অসাধারণ রোমান্টিক ও আধুনিক সৃষ্টি। কবিতাটি হাজার বছরের ক্লান্তি, হাহাকার এবং হতাশাগ্রস্ত মানবসত্তার আখ্যান, যেখানে মানুষ নারী ও প্রকৃতির মধ্যে চিরশান্তি বা 'দুদণ্ড শান্তি' খুঁজে পায়। কবিতায় দীর্ঘ পথচলার ক্লান্ত কবি নাটোরের বনলতা সেনের কাছে এসে জীবনের সব দুঃখ-দুর্দশা ভুলে শান্তির আশ্রয় পান।
-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য রচিত হয়েছে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের কাব্যধারার অনুসরণে।
- কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় কাব্য তিনি নিজস্ব মৌলিক ধারায় রচনা করেছেন।
- রবীন্দ্রনাথের নিবিড় প্রকৃতিচেতনা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
• বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা-
- ধান কাটা হ’য়ে গেছে,
- পথ হাঁটা,
- বনলতা সেন,
- আমাকে তুমি,
- অন্ধকার,
- সুরঞ্জনা,
- সবিতা,
- সুচেতনা,
- আবহমান,
- ভিখিরী,
- তোমাকে।
উৎস:
‘বনলতা সেন' কবিতা;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।