বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা / ২১১ · ৭০১৮০০ / ২১,১৩২

৭০১.
কোন কবি ‘ছন্দোরাজ’ নামে পরিচিত?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্য:
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭০২.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯১৮ সালে
  2. ১৯৪৭ সালে
  3. ১৯১১ সালে
  4. ১৮৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি: 
- এটি বাঙালি মুসলমানদের একটি সাহিত্য সংগঠন।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের (১৮৯৩) অনুপ্রেরণায় কয়েকজন উদীয়মান মুসলিম লেখক ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁরা হলেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমিতির সম্পাদক মনোনীত হন।
- একটি পরিচালক পরিষদ দ্বারা সমিতি পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭০৩.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. কঙ্ক ও লীলা
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. কাফন চোরা
সঠিক উত্তর:
কাফন চোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাফন চোরা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
• এগুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা।
• অপরদিকে, পূর্ববঙ্গ গীতিকার উপাখ্যান গুলো হলোঃ
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- চৌধুরীর লড়াই,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭০৪.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত একটি-
  1. গল্পগন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্তু অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ: 
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

নাটক:
- ধন্যবাদ,
- নিঃশব্দ যাত্রা,
- নরকে লাল গোলাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৫.
'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেনাপাওনা
  2. সমাপ্তি
  3. নষ্টনীড়
  4. পোস্টমাস্টার
সঠিক উত্তর:
সমাপ্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাপ্তি
ব্যাখ্যা
• 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'- উক্তিটি সমাপ্তি ছোটগল্পে 'মৃন্ময়ী' চরিত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• ‘সমাপ্তি’ ছোটগল্প:

- 'সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- তাঁর সৃষ্ট 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি- 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'

অন্যদিকে,
• দেনাপাওনা গল্পের নায়কা নিরূপমার। 
• 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
• পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

--------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহার,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও সমাপ্তি ছোটগল্প।
৭০৬.
'নিশুতি রাতের গাথা' গ্রন্থটি- কে লিখেছেন?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস - নিশুতি রাতের গাথা।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী, 
- অন্যান্য কবিতা।

অন্যদিকে,
- 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭০৭.
নিচের কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি নাটক?
  1. ক) আর্যগাথা
  2. খ) মেবার পতন
  3. গ) আলেখ্য
  4. ঘ) হাসির গান
সঠিক উত্তর:
খ) মেবার পতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেবার পতন
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও গীতিকার। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- আর্যগাথা, আষাঢ়ে, হাসির গান, আলেখ্য, ত্রিবেণী, মন্দ্র ইত্যাদি। তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক- তারাবাঈ, রানা প্রতাপসিংহ, দুর্গাদাস, সোরাব রুস্তম, নূরজাহান, মেবার পতন, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয় ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭০৮.
‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি কার রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প: 
- তৈলচিত্রের ভূত মানিক বেন্দ্যাপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি মাসিক ‘মৌচাক’ পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিাষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ডক্তার পরাশর এই গল্পের একটি চরিত্র।

⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- "তেইশ নম্বর তৈলচিত্র" আলাউদ্দিন আল আজাদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৯.
‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি'- উক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অভিযান
  2. ছাড়পত্র
  3. পূর্বাভাস
  4. হরতাল
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
• ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা 'ছাড়পত্র' এর উক্তি।

ছাড়পত্র,
--- সুকান্ত ভট্টাচার্য

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক, নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা।
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের—
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব—তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস ॥

------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭১০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. দি পীস
  2. বঙ্গভূমি
  3. তকবীর
  4. আঙুর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভূমি
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত পত্রিকা:
➝ শিশুপত্রিকা ⎯ 'আঙুর'; প্রকাশকাল ⎯ ১৯২০ সাল, 
➝ ইংরেজি মাসিক পত্রিকা ⎯ 'দি পীস'; প্রকাশকাল ⎯ ১৯২৩ সাল,
➝ বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ⎯ 'বঙ্গভূমি'; প্রকাশকাল ⎯ ১৯৩৭ সাল এবং
➝ পাক্ষিক পত্রিকা ⎯ 'তকবীর'; প্রকাশকাল ⎯ ১৯৪৭ সাল।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন। 

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- দীওয়ানে হাফিজ,
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- নবী করিম মুহাম্মাদ,
- ইসলাম প্রসঙ্গ, 
- বিদ্যাপতি শতক, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড), 
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- ব্যাকরণ পরিচয়, 
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান,
- মহররম শরীফ,
- টেইল ফ্রম দি কুরআন, 
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০),
- Hundred Sayings of the Holy Prophet. 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭১১.
জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. গ্রামের মায়া
  2. পদ্মগোখরো
  3. পল্লীবধূ
  4. পদ্মাপাড়
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরো
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক নয় - পদ্মগোখরো
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প।

জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্র্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭১২.
"দ্য ক্যাপটিভ লেডি" - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - দ্য ক্যাপটিভ লেডি। Captive অর্থ বন্দি।
- এটি ইংরেজিতে রচিত। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ খ্রষ্টাব্দে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭১৩.
বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ইতল বিতল
  2. ডাইনী বউ
  3. হলদে পরীর দেশে
  4. দোলা আমার কনক চাঁপা
সঠিক উত্তর:
ডাইনী বউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইনী বউ
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা,
- ডাইনী বউ,

- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা সুফিয়া কামাল। 
- 'হলদে পরীর দেশে' পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
- আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- দোলা আমার কনক চাঁপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১৪.
'নবান্ন' বিজন ভট্টাচার্য রচিত-
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• নবান্ন:
- 'নবান্ন' বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- 'নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- 'নবান্ন' নতুন বাংলা নাটকের অগ্রদূত রূপে গণ্য হয়।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুদর্শা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা-ব্যর্থতা ইত্যাদি এই নাটকের মূল সুর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ১৯০৬ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৎ।
- এছাড়া তিনি ভারত ছাড় আন্দোলন, জনযুদ্ধ-নীতি প্রচার, ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘ স্থাপন এবং প্রগতি লেখক সঙ্ঘ এবং ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১৫.
দৌলত কাজী কোন কাব্য অবলম্বনে 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' রচনা করেন?
  1. উর্দু কবি আল্লামা ইকবালের 'শিকওয়া'
  2. হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
  3. ফারসি কবি জামীর 'লায়লী ওয়া-মজনুন'
  4. আরবি উপাখ্যান 'আলিফ লায়লা'
সঠিক উত্তর:
হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার (থিরি-থু-ধম্ম, ১৬২২-১৬৩৮) সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের মৈনাসৎ ও মোল্লা দাউদের চান্দাইন কাব্য অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়। কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমা্যন্টিক আখ্যানমূলক কাব্য।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত। হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭১৬.
‘ইঁদুর’ গল্পটি কার লেখা?
  1. সোমেন চন্দ্র
  2. সুবোধ ঘোষ
  3. সোমেন চন্দ
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

ঢাকার প্রগতি সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দের বিখ্যাত গল্প ইঁদুর।
তিনি ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।
তাঁর গল্পগ্রন্থগুলো হলো :
সংকেত ও অন্যান্য গল্প
বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭১৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮২৩-১৮৭২
  2. ১৮২৩-১৮৭৩
  3. ১৮২৪-১৮৭৩
  4. ১৮২৪-১৮৭৪
সঠিক উত্তর:
১৮২৪-১৮৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৪-১৮৭৩
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭১৮.
কোন প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তক রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনা হয়?
  1. হিন্দু কলেজ
  2. শ্রীরামপুর মিশন
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা

আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উল্লেখ্য,
আদি যুগ:
প্রাক্-তুর্কি আক্রমণ যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের  একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

মধ্যযুগ:  
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।
- এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম। 

৭১৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসে এক মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য তাঁর ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে?
  1. ক্রীতদাসের হাসি   
  2. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি 
  3. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড 
  4. যাপিত জীবন
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গর নদী গ্রেনেড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গর নদী গ্রেনেড 
ব্যাখ্যা

'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।

- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

অন্য অপশন,
• 'ক্রীতদাসের হাসি':
• 'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

• 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাস:
- 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন।
- ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের আগের ও পরের সাহিত্য চর্চা, রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দিয়ে কাহিনি শুরু। সাথে আছে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র (১৯৪৩ যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত)।

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের আলেচিত উপন্যাস 'যাপিত জীবন'। এই উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।

৭২০.
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রেইনকোট
  2. ​চিলেকোঠার সেপাই
  3. অলাতচক্র
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) আনোয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
​- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়েই রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে: ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।

​অন্যদিকে, 
• ​চিলেকোঠার সেপাই বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস।
• ​আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
​• 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭২১.
হাসান আজিজুল হক রচিত ‘তৃষ্ণা’ একটি-
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) কাব্য
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
ব্যাখ্যা

হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পের নাম ''তৃষ্ণা'' কিন্তু তা গল্পগ্রন্থ নয়। তাই প্রশ্নটি বাতিল করা হল।
হাসান আজিজুল হক রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ ''সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য''। এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রথম গল্পটি- শকুন, দ্বিতীয় গল্পটি- তৃষ্ণা। এই গল্পগ্রন্থের অন্যান্য গল্প গুলো হলো- মন তাঁর শঙ্খিনী, একটি আত্মরক্ষার কাহিনী, গুনিন, একজন চরিত্রহীনের স্বপক্ষে, উত্তরবসন্তে, বিমর্ষরাত্রি : প্রথম প্রহর, সীমানা এবং আবর্তের সম্মুখে।
উল্লেখ্য, জহির রায়হান রচিত একটি উপন্যাস- ''তৃষ্ণা''।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।

৭২২.
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের'পর হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন সাহিত্যিকের সৃষ্টিকর্ম? 
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মহাদেব সাহা 
  3. নির্মলেন্দু গুণ 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

পঙ্‌ক্তিদ্বয় জীবনানন্দের সৃষ্টিকর্ম। 
--------------------- 
বনলতা সেন
 - জীবনানন্দ দাশ 

“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূরে সমুদ্রের 'পর হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, 'এতদিন কোথায় ছিলেন'
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।"
-----------------------------
• ‘বনলতা সেন' নিয়ে কিছু কথা: 
- বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা। 
- কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪২ সালে এক পয়সার একটি গ্রন্থমালায় প্রথমবার গ্রন্থাকারে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- পরবর্তীতে কবিতাটি ১৯৪৪ সালে মহাপৃথিবী কাব্যে প্রকাশ পায়।
- এবং ১৯৫২ সালে প্রকাশিত বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণেও স্থান লাভ করে।

- জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘বনলতা সেন’ কবিতা বাংলা সাহিত্যের একটি অসাধারণ রোমান্টিক ও আধুনিক সৃষ্টি। কবিতাটি হাজার বছরের ক্লান্তি, হাহাকার এবং হতাশাগ্রস্ত মানবসত্তার আখ্যান, যেখানে মানুষ নারী ও প্রকৃতির মধ্যে চিরশান্তি বা 'দুদণ্ড শান্তি' খুঁজে পায়। কবিতায় দীর্ঘ পথচলার ক্লান্ত কবি নাটোরের বনলতা সেনের কাছে এসে জীবনের সব দুঃখ-দুর্দশা ভুলে শান্তির আশ্রয় পান।
-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য রচিত হয়েছে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের কাব্যধারার অনুসরণে।   
- কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় কাব্য তিনি নিজস্ব মৌলিক ধারায় রচনা করেছেন। 
- রবীন্দ্রনাথের নিবিড় প্রকৃতিচেতনা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা-
- ধান কাটা হ’য়ে গেছে, 
- পথ হাঁটা, 
- বনলতা সেন, 
- আমাকে তুমি, 
- অন্ধকার, 
- সুরঞ্জনা, 
- সবিতা, 
- সুচেতনা, 
- আবহমান, 
- ভিখিরী, 
- তোমাকে।

উৎস:
‘বনলতা সেন' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৭২৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত লালসালু উপন্যাসটি কী নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়?
  1. Red rose
  2. Crocodiles tear
  3. Cry river cry
  4. Tree without roots
সঠিক উত্তর:
Tree without roots
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tree without roots
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস: 
- এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস 'লালসালু।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 
- লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- মজিদ,
- জমিল,
- আমেন,
- খালেক ব্যাপার,
- রহিম,
- আক্কা,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:  
- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস: 
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭২৪.
কবিগানের প্রথম কবি কে?
  1. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  2. গোঁজলা পুট
  3. ভবানী
  4. হরু ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা পুট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা পুট
ব্যাখ্যা
• কবিগানের আদি কবিয়াল : 'গোঁজলা পুট (গুই)'। 

• কবিগান: 
- কবিগান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান।
- দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

- গোঁজলা গুঁইকে বলা হয় কবিগানের আদি কবিয়াল।
- তাঁর আবির্ভাবকাল আঠারো শতকের প্রথমার্ধ।
- উনিশ শতকের কলকাতায় যে কয়জন কবিয়াল বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে হরু ঠাকুর (১৭৪৯-১৮২৪), নিতাই বৈরাগী (১৭৫১-১৮২১), রাম বসু (১৭৮৬-১৮২৮), ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), 
- রাম বসু,
- নৃসিংহ, 
- এন্টনি ফিরিঙ্গি,
- হরু ঠাকুর, 
- রামনিধি গুপ্ত,
- কেষ্টা মুচী, 
- ভবানী,
- রামানন্দ নন্দী,

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭২৫.
‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. রণভেরী
  3. বিদ্রোহী
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ারা, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭২৬.
'চিত্তনামা' কার জীবনভিত্তিক কাব্য?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. ক্ষুদিরাম বসু
  4. হযরত মুহাম্মদ
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
'চিত্তনামা:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়।
- এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্য আরেকটি জীবনীকাব্য হচ্ছে - মরু- ভাস্কর।
- এই কাব্যটি হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ এর জীবনীকাব্য।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৭.
নিচের বাক্যটিকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করুন:
ইন্দ্র বলল, 'তুই দাঁড় টানতে পারিস?'
  1. ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি।
  2. ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে কি পারে।
  3. ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে কি দাঁড় টানতে পারে না।
  4. ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না। 
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না। 
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিতে উক্তিটি প্রশ্নবোধক বাক্য থাকলে, পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়াপদটি 'জিজ্ঞেস করল', 'প্রশ্ন করল' প্রভৃতি হয়।
জিজ্ঞাসা চিহ্ন (?) উঠে গিয়ে পূর্ণচ্ছেদ বসে।যেমনঃ
প্রত্যক্ষ উক্তিঃ ইন্দ্র বলল, 'তুই দাঁড় টানতে পারিস?'
পরোক্ষ উক্তিঃ ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭২৮.
মহিম, অচলা, সুরেশ - কোন উপন্যাসের চরিত্র ?
  1.  দেবদাস
  2.  চরিত্রহীন
  3. পল্লীসমাজ
  4.  গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
 গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- 'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের দুইটি প্রধান চরিত্র।
- ১৯২০ সালে রচিত এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়িকা - অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি উপন্যাসের চরিত্র: 

- গৃহদাহ উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
- 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ ও কিরণময়ী।
- ‘দেবদাস’ উপন্যাসের চরিত্র: দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।
- রমেশ ও রমা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭২৯.
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা বা গান সংকলিত হয়েছে?
  1. ক) ১০৩ টি
  2. খ) ১১৩ টি
  3. গ) ১২৭ টি
  4. ঘ) ১৫৭ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৭ টি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে বা ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। ঠাকুর পরিবারের পূর্বপুরুষরা পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'গীতাঞ্জলি' তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি। 
- এটি মূলত ১৫৭ টি গানের সংকলন। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা। 
- এই গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- 'গীতাঞ্জলি'র ইংরেজি অনুবাদের নাম Song Offerings এবং এটি ১৯১২ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই। 
- Song Offerings - এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি - ডব্লিউ.বি. ইয়েটস।
- Song Offerings গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: নোবেল কমিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭৩০.
জীবনানন্দ দাশের রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. খ) নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
  3. গ) একক সন্ধ্যায় বসন্ত
  4. ঘ) অন্ধকারে একা
সঠিক উত্তর:
ক) ধূসর পাণ্ডুলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
আধুনিক কবিদের মধ্যে জীবনানন্দ দাস অন্যতম। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে বলেছেন ‘চিত্ররূপময়’।
- বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন 'নির্জনতম কবি'
- তাঁর জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- ঝরা পালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- সাতটি তারার তিমির 
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।
৭৩১.
মীর মশাররফ হোসেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৪৮ সালের
  2. ১৮৭৪ সালের
  3. ১৮৪৭ সালের
  4. ১৮৫৭ সালের
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭ সালের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭ সালের
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩২.
'বঙ্গদর্শন' কী ধরনের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. সাপ্তাহিক 
  2. মাসিক 
  3. দৈনিক 
  4. ত্রৈমাসিক 
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
ব্যাখ্যা

• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- 'বঙ্গদর্শন' একটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত “বন্দে মাতরম্‌' এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

• বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও এই পত্রিকায় অন্যান্য পন্ডিতগণও নিয়োমিত লিখতেন, এরা হলেন-
- গঙ্গাচরণ,
- রামদাস সেন,
- অক্ষয় সরকার,
- চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৩৩.
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'হাসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাস:
- এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- উপন্যাসে বীরভুমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ,
লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। 
- একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আরেকটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- পঞ্চগ্রাম,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা ,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৭৩৪.
মুনীর চৌধুরী কোন শহরে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মুন্সিগঞ্জ
  2. মানিকগঞ্জ
  3. ঢাকা
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ‘মুনীর অপটিমা’ তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

• মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৫.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
-  তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, 
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।

৭৩৬.
শওকত আলী রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. যাত্রা
  2. উন্মুল বাসনা
  3. পিঙ্গল আকাশ
  4. লেলিহান স্বাদ
সঠিক উত্তর:
পিঙ্গল আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিঙ্গল আকাশ
ব্যাখ্যা
• শওকত আলী রচিত প্রথম উপন্যাস - পিঙ্গল আকাশ

• পিঙ্গল আকাশ:
- পিঙ্গল আকাশ কথা সাহিত্যিক শওকত আলী লিখিত প্রথম উপন্যাস ।
- ১৯৬৩ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
- পিঙ্গল আকাশ গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৬১ সালে মাসিক পূবালী'র ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরে কলকাতার হরফ প্রকাশনী থেকেও ১৯৬৬ সালে উপন্যাসটির একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। 
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন স্ত্রী শওকত আরা বেগমকে।
- উপন্যাসের নায়ক মঞ্জু। মঞ্জুর নিজস্ব বয়ানে কাহিনী বেড়ে উঠেছে। তার জীবন সংগ্রামই এই কাহিনীর মূল বিষয়বস্তু। 
- এক দ্বান্দ্বিক কাহিনি রয়েছে উপন্যাসটিতে।

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‘পিঙ্গল আকাশ’ উপন্যাস।
৭৩৭.
মুক্তিযুদ্ধকালে শামসুর রাহমান কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. মাজলিম মান্দেব 
  2. মজলুম আদিব
  3. বাবুল মান্দেব 
  4. শান্তনু বাচ্চু 
সঠিক উত্তর:
মজলুম আদিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজলুম আদিব
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধকালে শামসুর রাহমান মজলুম আদিব ছদ্মনামে লিখতেন। 

শামসুর রাহমান
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিল 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা উনিশশ উনপঞ্চাশ নলিনী কিশোর গুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- দুটি বিখ্যাত কবিতা হলো "স্বাধীনতা তুমি" এবং "তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা"।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেছেন।
- শামসুর রাহমান ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

কবিতা:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭৩৮.
নিচের কোনটি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপন্যাস?
  1. ক) নব উদ্দীপনা
  2. খ) জাহানারা
  3. গ) অনল প্রবাহ
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা
ব্যাখ্যা
জাহানারা, রায়নন্দিনী, তারাবাঈ, নূরউদ্দিন, ফিরোজা বেগম ইত্যাদি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস।
স্পেনবিজয় কাব্য, অনল প্রবাহ, আকাঙ্ক্ষা, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধন, নব উদ্দীপনা, মহাশিক্ষা ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭৩৯.
'শ্রীকান্ত' উপন্যাসে শ্রীকান্তের বন্ধুটির নাম কী ছিলো?
  1. অভয়া
  2. রাজলক্ষ্মী
  3. ইন্দ্রনাথ
  4. হরিনাথ
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি, অভয়া।

এ উপন্যাসে শ্রীকান্তের বন্ধুটির নাম ছিলো - ইন্দ্রনাথ।

উপন্যাসের অংশবিশেষ:
কিন্তু, কি করিয়া ‘ভবঘুরে’ হইয়া পড়িলাম, সে কথা বলিতে গেলে, প্রভাত-জীবনে এ নেশায় কে মাতাইয়া দিয়াছিল, তাহার একটু পরিচয় দেওয়া আবশ্যক। তাহার নাম ইন্দ্রনাথ। আমাদের প্রথম আলাপ একটা ‘ফুটবল ম্যাচে’। আজ সে বাঁচিয়া আছে কি না জানি না। কারণ বহুবৎসর পূর্বে একদিন অতি প্রত্যূষে ঘরবাড়ি, বিষয়-আশয়, আত্মীয়-স্বজন সমস্ত পরিত্যাগ করিয়া সেই যে একবস্ত্রে সে সংসার ত্যাগ করিয়া চলিয়া গেল, আর কখনও ফিরিয়া আসিল না। উঃ—সে দিনটা কি মনেই পড়ে!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪০.
‘নেমেসিস’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ
  2. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ 
  4. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

‘নেমেসিস’ নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৪১.
‘বৃত্তসংহার’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্য
  2. মহাকাব্য
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
মহাকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘বৃত্তসংহার’ একটি মহাকাব্য।
তার অন্যান্য কাব্য হলো :
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তপ্রকাশ।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭৪২.
মঙ্গল কাব্যের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি যথা :
- মনসামঙ্গল
- চন্ডীমঙ্গল
- ধর্ম মঙ্গল

একটি সার্থক মঙ্গলকাব্য ৫টি অংশ থাকে যথা : 
- বন্দনা
- আত্মপরিচয়
- দেবখন্ড
- মর্ত্যখন্ড এবং
- শ্রুতিফল

- মঙ্গল কাব্যের প্রধান দেবতার হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী, ও ধর্মঠাকুর।
- এই কাব্য রচনার মূল কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতার নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৩.
ভাষা আলোচনা করে কে প্রথম স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৪৪.
কোন কবি 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত?
  1. চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজ মাধব
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত - বিদ্যাপতি।

• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৪৫.
‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. সত্যেন সেন
  2. সমর সেন
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন  তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
-  ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের  প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা, 
- খোলাচিঠি, 
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৪৬.
‘বনগীতি’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কবিতা
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. সংগীত গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
সংগীত গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংগীত গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘বনগীতি’ নজরুল ইসলাম রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৭.
পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলাকবি যিনি রামায়ণ রচনা করেন তিনি হলেন-
  1. ক) কুক্কুরীপা
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) ইন্দ্রবতী
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী ছিলেন সপ্তদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা দ্বিজবংশী বা বংশদাস এর বিদুষীকন্যা । চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলাকবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন। তাঁর রচিত রামায়ণের রচনাকাল কত ছিল তা সঠিকভাবে জানা যায় নি। তবে তার পিতা সপ্তদশ শতাব্দীর লােক ছিলেন। তাই, ধারণা করা হয় তার রামায়ণ সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে রচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭৪৮.
‘কাজলরেখা’ কী জাতীয় রচনা?
  1. পালা
  2. রূপকথা
  3. ছড়া
  4. উপকথা
সঠিক উত্তর:
রূপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপকথা
ব্যাখ্যা
• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা।
- এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

• রূপকথা:
- অন্যান্য লোককথার চেয়ে রূপকথার কাহিনি দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- রূপকথার মাধ্যমে এক অজানা রহস্যময় জগতের বিচিত্র কাহিনি শ্রোতার কাছে পরিবেশিত হয়।
- এসব কাহিনিতে বিভিন্ন রাজ্য ও রাজপুত্রের উল্লেখ থাকে।
- ভৌগলিক মাপকাঠিতে সে সব রাজ্যের কোন পরিচয় থাকে না।
- নানা অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য ঘটনা এতে ভীড় করে।
- বাস্তব রাজ্যের সঙ্গে রূপকথার কোন সম্পর্ক নেই।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• পালা:
- পালাগান কাহিনিমূলক লোকগীতি।
- পাঁচালি ছন্দে রচিত দেবতার কথা বা ধর্মসঙ্গীতও পালা নামে পরিচিত।
- মঙ্গলকাব্যে দিনে পরিবেশিত কাহিনী দিবাপালা এবং রাতে পরিবেশিত কাহিনী নিশাপালা নামে অভিহিত।
- পালার অন্য নাম ‘পাট’, যেমন ধোবার পাট।
- পালাগান প্রধানত পৌরাণিক ও লৌকিক আখ্যানভাগ নিয়ে রচিত। 
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পৌরাণিক পালাকীর্তন হচ্ছে: মান, মাথুর, নৌকাবিলাস, কালীয়দমন, নিমাইসন্ন্যাস প্রভৃতি।
- চন্দ্রাবতী, মহুয়া, মলুয়া, কমলা, দেওয়ান মদিনা, দেওয়ান ভাবনা, রূপবতী, দস্যু কেনারামের পালা, ভেলুয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য লৌকিক আখ্যানমূলক পালাগান।

• প্রবাদ:
- প্রবাদ লোকসাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট শাখা।
- প্রবাদ বলতে বোঝায় মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি।
- ব্যক্তি ও সমাজজীবনের অভিজ্ঞতার ফলে প্রবাদের সৃষ্টি এবং নীতি ও উপদেশ বিতরণ এর লক্ষ্য।
- জীবনের বিচিত্র পরিসরে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকে পরবর্তী পর্যায়ে কাজে লাগানোর জন্য অবয়বে প্রবাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

• উপকথা:
- পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা।
- কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যে উপকথা'র সৃষ্টি। 
- এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বা বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে।
- অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলাপিডিয়া।
৭৪৯.
‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবনানন্দ দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবনানন্দ দাস
ব্যাখ্যা
‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা ধূসরতার কবি জীবনানন্দ দাশ

• জীবনানন্দ দাস ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
• জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘
• ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহঃ
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৫০.
'ফেরদৌসি চরিত' গদ্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• 'ফেরদৌসি চরিত' গদ্যগ্রন্থের লেখক - মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭৫১.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস?
  1. ক) বন্দীর বন্দনা
  2. খ) কঙ্কাবতী
  3. গ) যে আঁধার আলোর অধিক
  4. ঘ) গোলাপ কেন কালো
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাপ কেন কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাপ কেন কালো
ব্যাখ্যা
সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 
- তাঁর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের প্রথমভাগ কাটে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ঢাকায়।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। 
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ।
- পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।

সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

কবিতা

- বন্দীর বন্দনা (১৯৩০)
- কঙ্কাবতী (১৯৩৭)
- দ্রৌপদীর শাড়ী (১৯৪৮)
- শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর (১৯৫৫)
- যে আঁধার আলোর অধিক (১৯৫৮)

উপন্যাস
- সাড়া (১৯৩০)
- সানন্দা (১৯৩৩) 
- লাল মেঘ (১৯৩৪)
- পরিক্রমা ( ১৯৩৮) 
- তিথিডোর (১৯৪৮)
- রাতভর বৃষ্টি (১৯৬৭)
- পাতাল থেকে আলাপ (১৯৬৭)
- গোলাপ কেন কালো (১৯৬৮)

গল্পগ্রন্থ  

- অভিনয়, অভিনয় নয় (১৯৩০)
- রেখাচিত্র (১৯৩১)
- ভাসো আমার ভেলা (১৯৬৩)

নাটক

- তপস্বী ও তরঙ্গিণী (১৯৬৬)
- কলকাতার ইলেকট্রা ও সত্যসন্ধ (১৯৬৮)

প্রবন্ধ

- কালের পুতুল (১৯৪৬)
- সাহিত্যচর্চা (১৯৫৪)
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য (১৯৫৫)
- স্বদেশ ও সংস্কৃতি (১৯৫৭)

ভ্রমণ ও স্মৃতিকথা

-  হঠাৎ আলোর ঝলকানি (১৯৩৫)
- সব-পেয়েছির দেশে (১৯৪১)
- জাপানি জার্নাল (১৯৬২)
- দেশান্তর (১৯৬৬)
- আমার ছেলেবেলা (১৯৭৩)
- আমার যৌবন (১৯৭৬)

অনুবাদ

- কালিদাসের মেঘদূত (১৯৫৭)
- শার্ল বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা (১৯৬০)
- রাইনের মারিয়া রিলকের কবিতা (১৯৭০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৫২.
কোনটি আবু ইসহাকের গল্প?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. জাল
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. হারেম
সঠিক উত্তর:
হারেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারেম
ব্যাখ্যা

- হারেম আবু ইসহাক রচিত একটি গল্প।
- তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
• পদ্মার পলিদ্বীপ,
• সূর্য দীঘল বাড়ি,
• জাল।
- তাঁর রচিত গল্পঃ মহাপতঙ্গ।
- জোঁক তাঁর রচিত একটি ছোটগল্প।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭৫৩.
'জঙ্গনামা' কাব্যের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. প্রেম
  2. শোক
  3. যুদ্ধ
  4. সামাজিক বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৪.
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. রাধারমণ গোপ
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭৫৫.
কোন উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবক কবি রূপে প্রতিষ্ঠা পায়?
  1. কবিতার কথা 
  2. কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ
  3. কবি
  4. আধুনিক কবি ও কবিতা
সঠিক উত্তর:
কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

অন্যদিকে,
• জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
• 'আধুনিক কবি ও কবিতা' প্রবন্ধটি লিখেছেন- হাসান হাফিজুর রহমান 
• "কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ" - হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস। তবে, এখানে, ডোম সম্প্রদায়ের উল্লেখ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।

৭৫৬.
‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

• আবু ইসহাক:

- তিনি ১৯২৬ সালে শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৭৫৭.
‘মধুমালা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি-
  1. গীতিনাট্য
  2. কাব্যনাট্য
  3. নৃত্যনাট্য
  4. প্রহসন
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা

• ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৫৮.
'ছায়া হরিণ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবিব
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবিব
ব্যাখ্যা
'ছায়া হরিণ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা আহসান হাবীব।

আহসান হাবীব (২ জানুয়ারি ১৯১৭ - ১০ জুলাই ১৯৮৫):
- তিনি একজন বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক।
- তিনি  'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন।

• কাব্যগ্রন্থ :
- রাত্রিশেষ ,
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর ,
- আশায় বসতি ,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর ,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ন দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৭৫৯.
মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা ‘আঙুর’ এর সম্পাদক ছিলেন- 
  1. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

• ‘আঙুর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। 
----------------- 
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত বাঙালি বহুভাষাবিদ, শিক্ষক ও দার্শনিক।
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় তাঁর অবদানের জন্য তিনি ‘জ্ঞানতাপস’ এবং ‘চলিষ্ণু অভিধান’ হিসেবে বিশেষ পরিচিত।

- এছাড়া তিনি বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে আল–এসলাম এবং যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছে। 
- তিনি মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা ‘আঙুর’ এর সম্পাদক ছিলেন।
- এছাড়াও তিনি দি পীস (ইংরেজি মাসিক), বঙ্গভূমি (বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা) এবং তকবীর (পাক্ষিক) সম্পাদনা করেছেন।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থ। 
- এই গ্রন্থে বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিবর্তন বিষয়ক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে। 
- এতে তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি, ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব এবং বিবর্তনের ধারাকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। 
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন যে বাংলা ভাষা মাগধী প্রাকৃত ও গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

- তিনি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বহু প্রবন্ধ লিখেছেন।
- ড. শহীদুল্লাহ্-এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—
• বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, 
• সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
• ভাষা ও সাহিত্য,
• বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
• দীওয়ান-ই-হাফিজ,
• শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
• রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম, 
• আমাদের সমস্যা,
• পদ্মাবতী,
• বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
• বিদ্যাপতি শতক,
• বাংলা আদব কী তারিখ,
• কুরআন শরীফ,
• অমরকাব্য ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭৬০.
'পাঞ্জেরী' কবিতাটি কে লিখেছেন? 
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আল মাহমুদ
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৬১.
'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন -
  1. মণীশ ঘটক
  2. সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. বিমল মিত্র
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
ব্যাখ্যা
• বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - 'যুবনাশ্ব'।
- 'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬২.
'হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী' পদটির রচয়িতা কে?
  1. সরহপা
  2. ভুসুকুপা
  3. সরহপা
  4. ঢেণ্ডণপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য গুলো হলঃ
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৬৩.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস?
  1. ডাকঘর
  2. চিরকুমার সভা
  3. রক্তকবরী
  4. প্রজাপতির নির্বন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রজাপতির নির্বন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাপতির নির্বন্ধ
ব্যাখ্যা
‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি হাস্যরসাত্মক উপন্যাস।
- এটি ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- চিরকুমার সভা' নামে এই উপন্যাসের নাট্যরূপটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উপন্যাসের প্রধান প্রধান চরিত্র হলো:
- অক্ষয়কুমার,
- চন্দ্রমাধব,
- শ্রীশ,
- বিপিন,
- পূর্ণ প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- ডাকঘর, চিরকুমার সভা ও রক্তকবরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।

উৎস: ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৪.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক-
  1. রূপার কৌটা
  2. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  3. মুখরা রমণী বশীকরণ
  4. নবান্ন
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
ব্যাখ্যা
• 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটক:
- 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন।
- প্রথমেই বলা দরকার রচনাকালে নাটকের নাম 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' থাকলেও কয়েক বছর পর নাট্যকার এর নাম থেকে 'ফ্যান্টাসি' শব্দটি বাদ দেন।
- স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকটি। এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• মুনীর চৌধরী  রচিত অনুবাদ নাটক:
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'নবান্ন' একটি নাটক। 'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু পঞ্চাশের মন্বন্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৬৫.
নাথ সাহিত্যের জনক কে?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) শেখ গরীবুল্লাহ
  3. গ) শ্যামদাস সেন
  4. ঘ) ভীমসেন
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক। মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৭৬৬.
'চরকাঁকড়ার ডকুমেন্টারি' সেলিম আল দীন রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
'চরকাঁকড়ার ডকুমেন্টারি' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- কবি ও তিমি, উপন্যাস- অমৃত উপাখ্যান, গীতিনৃত্যনাট্য- স্বপ্ন রমণীগণ, ঊষা উৎসব। তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, কেরামতমঙ্গল, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, হাতহদাই, প্রাচ্য, এক্সপ্লোসিড ও মূল সমস্যা, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭৬৭.
ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ কার গল্প পড়ে কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন?
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধায়
  2. সত্যেন সেন
  3. সমর সেন
  4. সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ সোমেন চন্দর গল্প পড়ে কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

সোমেন চন্দ:
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৬৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস এর অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. গণদেবতা
  2. ধাত্রীদেবতা
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।

• তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস:
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৬৯.
'মহাকবি আলাওল' নাটকটির রচয়িতা-
  1. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  2. সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সিকান্‌দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
-  তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। 
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন। 

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর, 
- বৈরীবৃষ্টিতে, 
- তিমিরান্তক, 
- কবিতা, 
- বৃশ্চিকলগ্ন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান, 
- সিরাজউদ্দৌলা,
- মহাকবি আলাওল

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু, 
- জয়ের পথে, 
- পূরবী, 
- নবী কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৭০.
সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ 'বনগীতি' রচনা করেন কে?
  1. কায়কোবাদ 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো। 
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং কবি নজরুল জীবনী।
৭৭১.
রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন কোন কবি?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সোমেন চন্দ
  3. সানাউল হক
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- সমর সেন ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক।  তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।

- সমর সেনকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়। তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদকও ছিলেন।
- 'Frontier' (ফ্রন্টিয়ার) ও 'নাও' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- 'আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট'- এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।

---------------
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৭২.
পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা , নারীর আত্মসম্মান ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব - নিচের কোন উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. মৃণালিনী
  3. সীতারাম
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

বিষবৃক্ষ উপন্যাসের বিষয়বস্তু - পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপ তৃষ্ণা, নারীর আত্মসম্মান ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, বিধবা বিবাহ ইত্যাদি।
- বিষবৃক্ষ বঙ্কিমচন্দ্র রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

বঙ্কিমচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হল:
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুণ্ডুলা 
- মৃণালিনী
- বিষবৃক্ষ
- ইন্দিরা
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- রাজসিংহ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

৭৭৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য সংকলন (কাব্যগ্রন্থ) -
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. সেক শুভোদয়া
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
 চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৭৭৪.
'রাজমোহনস ওয়াইফ' কোন ভাষায় লেখা উপন্যাস?
  1. ইংরেজি
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৭৫.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত ‘হিতকারী’ পত্রিকাটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

-------------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭৭৬.
নিচের কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. গোবিন্দমঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দমঙ্গল
ব্যাখ্যা
গোবিন্দমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

- বাংলা সাহিত্যের নানা শ্রেণির কাব্যে মঙ্গল কথাটির প্রয়োগ থাকলেও কেবল বাংলা লৌকিক দেবতাদের নিয়ে রচিত কাব্যই 'মঙ্গলকাব্য' নামে অভিহিত হয়।
- বৈষ্ণব সাহিত্যের চৈতন্যমঙ্গল, গোবিন্দমঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গল নামধেয় কাব্যের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের কোনো যোগসূত্র নেই।
- প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।

• পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

• লৌকিক শ্রেণি মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- শিবায়ন বা শিবমঙ্গল,
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর),
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সারদামঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
৭৭৭.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের অন্য নাম কী?
  1. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  2. চর্যাগীতিকা
  3. চর্যাগীতিকোষ
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
সঠিক উত্তর:
চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন।
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’, অর্থাৎ রূপক ও সংকেতধর্মী।
- এতে ধর্মীয় ভাবধারা, লৌকিক জীবনের সরল চিত্র এবং নৈতিক শিক্ষা ফুটে ওঠে। 

- চর্যাপদের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৮৮২ সালে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের Sanskrit Buddhist Literature in Nepal বইয়ে।
- এটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর dara আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে।
- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ১৯১৬ সালে এটি প্রকাশ করে, তখন প্রথম প্রকাশের নাম ছিল “হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা।”
- চর্যা অর্থ আচরণ।

- চর্যাপদের বিভিন্ন নাম আছে— চর্যাগীতিকা, চর্যাগীতিকোষ।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাপদের নাম "চর্যাচর্যবিনিশ্চয়"- এর অর্থ 'কোনোটি আচরণীয় কোনোটি আচরণীয় নয়'।
- সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের নাম 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়- এর অর্থ 'আশ্চর্য জীবনাচরণ'।
- আধুনিক পণ্ডিতের মতে চর্যাপদের নাম- চর্যাগীতিকোষ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭৭৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. ছত্র খণ্ড
  2. বংশী খণ্ড
  3. বাণ খণ্ড
  4. জন্ম খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জন্ম খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম খণ্ড
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম খণ্ড হচ্ছে - জন্ম খণ্ড।
- শেষ খণ্ড হচ্ছে - বিরহ খণ্ড।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি -
১. কৃষ্ণ ( পরমাত্মা),
২. রাধা ( জীবাত্মা),
৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭৭৯.
নিম্নের কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয়?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. টালা অভিনয়
  3. বসন্তকুমারী
  4. রক্তরাগ
সঠিক উত্তর:
রক্তরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তরাগ
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'রক্তরাগ' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন- গোলাম মোস্তফা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৮০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) রত্নপরীক্ষা
  2. খ) অতি অল্প হইল
  3. গ) বেতালপঞ্চবিংশতি
  4. ঘ) ব্রজবিলাস
সঠিক উত্তর:
গ) বেতালপঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বেতালপঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ - 
- অতি অল্প হইল 
- আবার অতি অল্প হইল 
- ব্রজবিলাস 
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা 
- রত্নপরীক্ষা 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ-
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে)
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দি বৈতালপচ্চিসি এর বঙ্গানুবাদ)
- শকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলাম অনুসারে),
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮১.
"বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- পঙক্তিটি 'নারী' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'নারী' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে 'নারী' কবিতা।
- 'সাম্যবাদী' ১৯২৫ সালে পুস্তিকাকারে প্রকাশিত হয়।

 নারী 
- কাজী নজরুল ইসলাম
সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা কিছু এল পাপ তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর অর্ধেক তার নারী।
নরক কুন্ড বলিয়া তোমা' করে নারী হেয় জ্ঞান?
তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে, ক্লীব সে,
তাই নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল
নারী দিল তাহে রূপ-রস-সূধা-গন্ধ সুনির্মল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।
৭৮২.
স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি?
  1. আলোছায়া
  2. বহুরূপা
  3. নেমেসিস
  4. রূপান্তর
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
ব্যাখ্যা
‘নেমেসিস’ নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তার প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়ৎ তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭৮৩.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না?
  1. ক) আঙুর
  2. খ) দি পীস
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) তকবীর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।

উল্লেখ, সাম্যবাদী পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮৪.
'সান্ধ্য ভাষা' কোন গ্রন্থের সাথে সম্পর্কিত?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. রামায়ণ
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৮৫.
'মহাপ্রস্থানের পথে' নামক ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-
  1. ক) প্রবোধকুমার সান্যাল
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবোধকুমার সান্যাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবোধকুমার সান্যাল
ব্যাখ্যা
• প্রবোধকুমার সান্যাল: 
- প্রবোধকুমার সান্যাল (১৯০৫-৮৩) গল্প উপন্যাস ভ্রমণকাহিনি স্মৃতিকথা রচনা করেছেন।
- ‘মহাপ্রস্থানের পথে' নামক ভ্রমণকাহিনির জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতিমান।
- তাঁর লেখনীতে জোর ছিল স্বতঃস্ফূর্ত; প্রকৃতির আপন গদ্যলেখক ছিলেন তিনি।
- অন্তরের অদম্য উচ্ছ্বাস তাঁর লেখার পেছনে কাজ করেছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:  
- 'যাযাবর',
- ‘দুই আর দুয়ে চার’,
- বাতাস দিল দোল',
- 'কাজললতা', 'কলরব',
- ‘প্রিয়বান্ধবী',
- আলো আর আগুন',
- ‘আকাবাঁকা’,
- ‘নদ ও নদী',
- 'জনম অবধি মে',
- 'জলকল্লোল', 'তুচ্ছ',
- 'নগরে অনেক রাত’,
- ‘নববোধন’,
- বনহংসী’,
- ‘পিয়া মুখচন্দা' ইত্যাদি  ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৭৮৬.
'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই'- বিখ্যাত গানটি কার রচনা?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
 তাঁর পূর্ণ নাম- সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্‌ত সিকান্দার। 

- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

- তাঁর রচিত 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন।

- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান,
- সিরাজউদ্দৌলা,
- মহাকবি আলাওল।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- পূরবী,
- নবী কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮৭.
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মুনীর চৌধুরী 
  2. শওকত ওসমান
  3. রশীদ করিম
  4. আহসান হাবীব 
সঠিক উত্তর:
রশীদ করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশীদ করিম
ব্যাখ্যা

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'রশীদ করীম'। 

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস: 
- উত্তম পুরুষ উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়। 

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :
- শাকের
- সেলিনা
- অণিমা
- শেখর।

রশীদ করীমের  অন্যান্য উপন্যাস :
- আমার যত গ্লানি
- প্রসন্ন পাষাণ
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৭৮৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. কপালকুণ্ডলা
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সফল উপন্যাস। প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর এটি রচনা করেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭৮৯.
'অশীতিপর শর্মা' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. অমিয় চক্রাবর্তী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৯০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯০৬ সালে
  4. ১৯১০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৯১.
মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে শওকত আলী রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. ওয়ারিশ
  2. উত্তরের খেপ
  3. যাত্রা
  4.  পিঙ্গল আকাশ
সঠিক উত্তর:
ওয়ারিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা

• 'ওয়ারিশ' উপন্যাস;
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটিতে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও -জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

---------------
শওকত আলীরচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৯২.
জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' - উপন্যাসটি কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা?
  1. ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ১৯৪৭ এর দেশভাগ
  4. ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- আরেক ফাল্গুন জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি উপন্যাস।
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক রচিত সাহিত্যকর্ম গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই বইটিকে।
- সিপাহী বিদ্রোহের নির্মম স্মৃতি বিজরিত ভিক্টোরিয়া পার্কের বর্ননা দিয়ে ঔপন্যাসিক উপন্যাসের সূচনা করেন।
- এই উপন্যাসের কাহিনীর স্থিতিকাল মাত্র তিনদিন দুই রাত। 
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে।

উল্লেখ্য,
- জহির রায়হান চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
- তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী এবং আর কত দিন।
- তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ৮ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
        iii) শিক্ষক বাতায়ন।
৭৯৩.
বাংলাভাষার প্রথম আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০ সালে রচনা করেন নীল দর্পণ নাটক।
- এটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাথমিক আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক নাটক।
- মীর মশাররফ হোসেন ১৮৭২-৭৩ সালে রচনা করেন জমিদার দর্পণ নাটক, এই নাটক রচনায় দীন বন্ধু মিত্রের নীল দর্পণ নাটকের প্রভাব রয়েছে।
- দীনবন্ধু মিত্র তার প্রখ্যাত নাটক "নীলদর্পণ" (১৮৬০) এর মাধ্যমে বাংলায় প্রথম আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ক নাটক রচনা করেন। এই নাটকে নীল চাষের কারণে বাংলা কৃষকদের ওপর ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচারকে অত্যন্ত জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় দীনবন্ধু মিত্রই প্রথম বাংলা ভাষায় আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন।
----------- 
দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- দীনবন্ধু সমকালীন হিন্দুসমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রহসন রচনা করেও খ্যাতি অর্জন করেন। সমাজের সাধারণ মানুষ সম্বন্ধে বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিই তাঁর রচনার প্রধান প্রেরণা। 
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৭৯৪.
'স্মৃতির নোটবুক' কোন সাহিত্যিকের স্মৃতিকথা?
  1. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতির নোটবুক' - আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৯৫.
'আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর' - পঙক্তির রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটির অংশ বিশেষ:

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৯৬.
চর্যাপদের রচয়িতা কারা ছিলেন? 
  1. বৈষ্ণব কবিগণ
  2. ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণ
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. শাক্ত কবিগণ
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন - বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৭৯৭.
"কুলায় ও কালপুরুষ" প্রবন্ধগ্রন্থটি - কে লিখেছেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে 
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

• ‘কুলায় ও কালপুরুষ’ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৭৯৮.
'রমা ও রমেশ' চরিত্র দুটি পাওয়া যায় শরৎচন্দ্রের-
  1. দেবদাসে
  2. চরিত্রহীনে
  3. গৃহদাহে
  4. পল্লী সমাজে
সঠিক উত্তর:
পল্লী সমাজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লী সমাজে
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮) জন্মগ্রহণ করেন হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে।
• তাঁর বিখ্যাত পল্লী সমাজ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
- রমা,
- রমেশ,
- বেণী,
- বলরাম প্রমুখ।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- শ্রীকান্ত,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭৯৯.
বাংলার নওয়াব উপাধি প্রাপ্ত প্রথম মহিলা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহীম
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
ব্যাখ্যা
• নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার পথিকৃৎ।
- দানশীলতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন। 

• 'রুপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসা রচিত গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনী মূলক রচনা। 
- গ্রন্থটি ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮০০.
'বর্ষার দিনে' ও 'মেঘের খেলা' কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিত্রা
  2. বলাকা
  3. মানসী
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা
• 'বর্ষার দিনে' ও 'মেঘের খেলা' কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানসী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

মানসী:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ। তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন।
- এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল। 
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভূল -ভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, বর্ষার দিনে, মেঘের খেলা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশচ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।