বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৬৮ / ২১১ · ৬,৭০১৬,৮০০ / ২১,১৩২

৬,৭০১.
’সাম্প্রদায়িকতা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন উমর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

- ’সাম্প্রদায়িকতা’ - গ্রন্থের রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর।
-  এটি একটি দর্শন ও দার্শনিক বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭০২.
”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” এই উক্তিটি কোন বিখ্যাত লেখকের?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

⇒ ”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” উক্তিটি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শর্মিষ্ঠা নাটকের  প্রথম সংস্করণের পুস্তকের প্রারম্ভে এই অংশ প্রস্তাবনা ছিল।

’শর্মিষ্ঠা’

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত নাটক :
- পদ্মবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,

উৎস:
i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
ii) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
iii) শর্মিষ্ঠা নাটক।

৬,৭০৩.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. আহমদ ছফা
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন- 'আবদুল মান্নান সৈয়দ'।  

 আবদুল মান্নান সৈয়দ: 
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস: 
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, 

• তাঁর রচিত ছোটগল্প: 
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭০৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান সংক্রান্ত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বিজ্ঞানতত্ত্ব
  2. শিক্ষা
  3. বিজ্ঞানপরিচয়
  4. বিশ্বপরিচয়
সঠিক উত্তর:
বিশ্বপরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বপরিচয়
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য। 
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ: শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ও চিঠিপত্র:
জীবনস্মৃতি: ২৫ বছর পর্যন্ত ঘটনা আছে।
চরিত্রপূজা।
ছেলেবেলা ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে চিঠিপত্র:
- ছিন্নপত্র (১৯১২): ১৫৩টি পত্র আছে। প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে লেখা। পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
- ভানুসিংহের পত্রাবলী : রানু অধিকারীকে লেখা।
- পথে ও পথের প্রান্তে: নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭০৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থটি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে উৎসর্গ করেন?
  1. আকাশ-প্রদীপ
  2. বলাকা
  3. পূরবী
  4. স্মরণ
সঠিক উত্তর:
পূরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরবী
ব্যাখ্যা

• 'পূরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৫ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ রচিত 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'আকাশ-প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থ সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বলাকা' কাব্যটি  উইলিয়াম পিয়ারসন কে উৎসর্গ করেন।
• 'স্মরণ' কাব্যটি কবি তার স্ত্রীর মৃত্যু উপলক্ষ করে রচনা করেন।

------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।

- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭০৬.
মর্সিয়া শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) আনন্দ প্রকাশ করা
  2. খ) শোক প্রকাশ করা
  3. গ) ভালোবাসা প্রকাশ করা
  4. ঘ) ভক্তি প্রকাশ করা
সঠিক উত্তর:
খ) শোক প্রকাশ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শোক প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া (বিশেষ্য):
অর্থ - 
১. মৃত্যু উপলক্ষে রচিত শোকগাথা
২. ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে কাহিনী অবলম্বনে রচিত শোকগাথা
৩. মহরমে গীত শোকগাথা

মর্সিয়া শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৭০৭.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. জীবনানন্দ দাশকে
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
  3. বুদ্ধদেব বসুকে
  4. কাজী নজরুল ইসলামকে
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭০৮.
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলে বেলার গান- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান। পঙক্তির রচিয়তা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কবি সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দিনের আলো নিবে এল,
        সুয্যি ডোবে - ডোবে।
আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে
        চাঁদের লোভে লোভে।
মেঘের উপর মেঘ করেছে—
        রঙের উপর রঙ,
মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা।
        বাজল ঠঙ ঠঙ।
ও পারেতে বিষ্টি এল,
        ঝাপসা গাছপালা।
এ পারেতে মেঘের মাথায়
        একশো মানিক জ্বালা।
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে
        ছেলেবেলার গান—
‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
        নদেয় এল বান।’
৬,৭০৯.
'জার্মানীর শহরে বন্দরে' ভ্রমণকাহিনিটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'জার্মানীর শহরে বন্দরে':
- 'জার্মানীর শহরে বন্দরে' জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
- গ্রন্থটিতে জার্মানের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের স্মৃতি বর্ণানা করা হয়েছে।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের মুখবন্ধে কবি লিখেছেন-
অবশেষে 'জার্মানীর শহরে বন্দরে' পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল। এই পুস্তক প্রকাশে পলাশ মুদ্রণের মালিক সোদরপ্রতিম মো: রুহুল আমীন যেভাবে আমাকে সাহায্য করিয়াছে কৃতজ্ঞতা জানাইয়া আমার প্রতি তাহার সম্পর্ককে ম্লান করিতে চাহি না। প্রকৃতপক্ষে সে না হইলে এত শীঘ্র এই পুস্তক প্রকাশিত হইতে পারিত না।

------------------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• কবি জসীমউদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত রচনা সংকলন কোনটি?
  1. চয়নিকা
  2. গল্পগুচ্ছ
  3. সঞ্চিতা
  4. সঞ্চয়িতা
সঠিক উত্তর:
চয়নিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চয়নিকা
ব্যাখ্যা
'চয়নিকা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম রচনা সংকলন চয়নিকা। প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এলাহবাদের ইন্ডিয়ান প্রেস থেকে পাঁচকড়ি মিত্র কর্তৃক মুদ্রিত এবং শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
- প্রথম সংস্করণে ১৩০টি কবিতা ছিল।
- ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের ২০০টি কবিতা বেছে দেবার জন্য বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় থেকে একটি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় ৩২০ জন পাঠক যোগ দেন। তাঁদের ভোট সংখ্যা কবিতাগুলির জনপ্রিয়তার সূচক। ১৯২৫ সালের সংস্করণ এই লোকপ্রিয়তা অনুসারে সংকলিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১১.
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সুচয়নী
  2. মাটির কান্না
  3. ধানক্ষেত
  4. মায়াকাজল
সঠিক উত্তর:
মায়াকাজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়াকাজল
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মায়া কাজল’ সুফিয়া কামাল রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

 • জসীমউদ্দীন: 

- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

 • তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

 • 'সুচয়নী' কবি জসিমউদ্দিনের কবিতা সংকলন।

 • জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়, 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, 
- জারিগান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১২.
'প্রবাস বন্ধু' কার রচনা?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'প্রবাস বন্ধু':
- সৈয়দ মুজতবা আলীর 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের পঞ্চদশ অংশ।
- প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ; সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্য ইত্যাদি হাস্যরসাত্মকভাবে এই রচনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের আংশিক অভিজ্ঞতার পরিচয় আছে এখানে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সন্নিকটে খাজামমাল্লা নামক গ্রামে বাসের সময় আবদুর রহমান নামের একজন তার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। আফগান আবদুর রহমান চরিত্রের মধ্যে সরলতা, স্বদেশপ্রেম, অতিথিপরায়ণতা ফুটে উঠেছে। আবদুর রহমানের রান্না ও পরিবেশন করা খাবারের মধ্যে আফগানিস্তানের বিচিত্র ও সুস্বাদু খাদ্যবস্তুর পরিচয় পাওয়া যায়।

আফগানিস্তানের প্রস্তরভূমি এবং একই সঙ্গে নিকট-প্রতিবেশী এই জনপদের বরফ শীতল জলবায়ু আকর্ষণীয়। আবদুর রহমানের সরল আতিথেয়তায় কখনো লেখকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলেও শেষ অবধি সৈয়দ মুজতবা আলী একে গ্রহণ করেছেন শ্রদ্ধার সঙ্গে।

-----------------
সৈয়দ মুজতবা আলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য  সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শত্রু-ইয়ার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭১৩.
‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. আবদুল্লাহ্‌ আল- মুতী
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ্‌ আল- মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ্‌ আল- মুতী
ব্যাখ্যা
• ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থ: 
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। 

• আবদুল্লাহ আল-মুতী:  
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- ১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর আবদুল্লাহ আল-মুতী মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য বইসমূহ: 
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি, 
- বিজ্ঞানে বিস্ময়,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- মহাকাশে কী ঘটছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১৪.
'আগুন' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
সঠিক উত্তর:
ক) বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য। তিনিই প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চকে পুরাণ ও ইতিহাসের রোম্যান্টিক প্রভাব থেকে মুক্ত করেন। তাঁর প্রথম নাটক আগুন। পরে তিনি রচনা করেন জবানবন্দী, এটি কৃষকজীবনের আলেখ্য। তাঁর প্রতিভার সার্থকতম নিদর্শন হলো নবান্ন নাটক। বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর রচিত নাটক হলো- মরাচাঁদ, কলঙ্ক, জীয়নকন্যা, গোত্রান্তর, অবরোধ। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি গল্প হচ্ছে ‘জনপদ’ এবং ‘রাণী পালঙ্ক’। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১৫.
সুকুমার রায় রচিত ছড়ার সংকলন কোনটি?
  1. পাগলা দাশু
  2.  হ-য-ব-র-ল
  3. চলচ্চিত্তচঞ্চরী
  4. আবোল তাবোল
সঠিক উত্তর:
আবোল তাবোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবোল তাবোল
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন:
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মোট ছড়ার সংখ্যা ৫০টি, যার মধ্যে ৭টি বেনামে লেখা হয়েছে। এবং তিনি এটি বাবু সমাজ কে সমালোচনা করার জন্য লিখেছিলেন।
- এটির দ্বারা তিনি গান্ধীজির অহিংসা সত্যাগ্রহ নীতির বিরোধিতা করেন। ছোটদের উদ্দেশ্যে লেখা সুকুমার রায় কবিতাগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আবহের প্রচ্ছন্ন রূপ। 

'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছড়া হলো-
- অবাক কাণ্ড
- আবোল তাবোল
- আহ্লাদী
- একুশে আইন
- কাঠবুড়ো
- কাতুকুতু বুড়ো
- কাঁদুনে
- কিম্ভূত
- কৈফিয়ত
- খিচুড়ি
- খুড়োর কল ইত্যাদি। 

----------------------
সুকুমার রায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন।

৬,৭১৬.
‘পঞ্চভূত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ করেন।
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় পত্রিকার কিছু অংশ বর্জিত হওয়ায় এর অন্তরঙ্গতা কমেছে। এই গ্রন্থের 'গদ্য ও পদ্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ পদ্যচ্ছন্দের উৎপত্তি বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান এখন সে কথাই বলছে।
- আসলে পঞ্চভূতের 'ডায়েরি'র মধ্যে সহজ সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে অনেক গভীর কথা আছে।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৭১৭.
'এখনো ক্রীতদাস' কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'এখনো ক্রীতদাস' নাটক:
• 'এখনো ক্রীতদাস' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক। 
• সব সময় আলোয় ঝলমল করে নগর। চারদিকে যেন শুধু সুখ আর সুখ। কিন্তু আলোর নিচে তো অন্ধকার! নগরের সেই অন্ধকার বস্তি। এখানে মানবেতর জীবনযাপন করে অসংখ্য মানুষ। কীভাবে কাটে মানুষগুলোর দিন? তাঁদের কাহিনি নিয়েই নাটক 'এখনো ক্রীতদাস'।

• প্রথম মঞ্চায়ন-বর্ষ: ১৯৮৩। এবং কলকাতার ‘প্রতিক্ষণ’ পত্রিকায় ১৯৮৬ সালে এটি ছাপা হয়।

• নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
গ্রাম থেকে শহরে চলে আসা ট্রাকচালক বাক্কা মিয়ার একসময় ঘর-বাড়ি, জমি, কোদাল সবই ছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধও করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সব হারিয়ে তিনি আজ পঙ্গু। এ পঙ্গু ট্রাকচালক বাক্কা মিয়াকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি। স্ত্রী কান্দুনীর রোজগারের ওপর নির্ভর করে জীবন চলে তাঁর। বাক্কা মিয়া এখন বস্তি ঘরে দিন-রাত শুয়ে শুয়ে দেখেন চারপাশের ঘটনাবলি। এর মাধ্যমেই উন্মোচিত হয় সমাজের অবক্ষয়ের চিত্র। চোখের সামনে নিজের মেয়েকে দেহব্যবসায় নেমে পড়তে দেখেও কিছুই করার থাকে না বাক্কার। এই পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের ইচ্ছা জাগে মনে।

-----------------
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। এবং তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: 'এখনো ক্রীতদাস' নাটক; প্রথম আলো রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭১৮.
'আয়না' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।’..... 

এর অন্তর্ভুক্ত গল্পগ্রন্থসমূহ:
- হুযুর কেবলা,
- গো - দেওতা - কা দেশ,
- নায়েবে নবী,
- লীডরে কওম,
- মুজাহেদীন,
- বিদ্রোহী সংঘ,
- ধর্মরাজ্য।
-------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১৯.
রচনাশৈলী অনুসারে কোন গ্রন্থটি ভিন্ন?
  1. করুণা 
  2. শেষলেখা
  3. যোগাযোগ
  4. রাজর্ষি
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
ব্যাখ্যা

• রচনাশৈলী অনুসারে 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থটি  ভিন্ন। 

• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেন নি। এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত মোট কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫৬টি।

'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

অন্যদিকে,
-------------------
• 'করুণা' উপন্যাস:
'করুণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।
মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) 'করণা' উপন্যাসটি ছাপা হয়।
তবে 'করুণা' উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবরণের (১৯৪১) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত 'রবীন্দ্র রচনাবলি'তে (১৯৬১) 'করুণা' প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
'যোগাযোগ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। এটি ১৯২৯ সালে (আষাঢ়, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়। এটি প্রথমে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাস থেকে ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস পর্যন্ত বিচিত্রা মাসিকপত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। প্রথম দুই সংখ্যায় এই উপন্যাসের শিরোনাম ছিল তিনপুরুষ। ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসের শিরোনাম পরিবর্তন করে নতুন শিরোনাম দেন যোগাযোগ।

• 'রাজর্ষি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজর্ষি' একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত।
- ১৮৯১ সালে এই উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে "বিসর্জন" নাটকটি রচিত হয়।
-রাজর্ষি উপন্যাসটি ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে (১২৯৩ বঙ্গাব্দ) বালক পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
'রাজর্ষি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোবিন্দমাণিক্য, পুরোহিত রঘুপতি, হাসি ও তাতা, জয়সিংহ, নক্ষত্ররায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬,৭২০.
'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) লালন শাহ
  2. খ) হাসন রাজা
  3. গ) সুরেন্দ্রনাথ রায়
  4. ঘ) শাহ আবদুল করিম
সঠিক উত্তর:
ঘ) শাহ আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক শাহ আবদুল করিম। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। 

লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিমের জন্ম ১৯১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে। 
শাহ আবদুল করিম রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- 
- কালনীর ঢেউ,
- ভাটির চিঠি,
- ধলমেলা,
- কালনীর কূল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭২১.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাখী
  2. কঙ্কাবতী
  3. কামনা পঞ্চবিংশতি
  4. কামিনী কাঞ্চন
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - কঙ্কাবতী

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতা - রাখী, কামনা পঞ্চবিংশতি।
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ছোটগল্প - কামিনী কাঞ্চন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭২২.
পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরিপূরক উপন্যাস-
  1. ইছামতী
  2. অপরাজিত
  3. আরণ্যক
  4. অনুবর্তন
সঠিক উত্তর:
অপরাজিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাজিত
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরিপূরক উপন্যাস - অপরাজিত।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
-  ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
-  শরৎচন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিকদের তিনি জনপ্রিয়।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - পথের পাঁচালী।
- পথের পাঁচালী  উপন্যাসের চরিত্র সমূহ - অপু, সর্বজয়া, হরহরি, অপর্ণা।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস - অপরাজিত।
- উপন্যাসটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল - অলোক সারথী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরিপূরক হিসেবে অপরাজিত উপন্যাসটি রচনা করেন।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে মাসিক প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:  
- পথের পাঁচালী (১৯২৯)
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- অনুবর্তন,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর ।
৬,৭২৩.
'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
খোঁয়ারি:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'খোঁয়ারি' ।
- এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন - নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু।
- তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর, 
- খোঁয়ারি
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; খোঁয়ারি, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
৬,৭২৪.
সৈয়দ আলী আহসানের আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম কী?
  1. অনেক আকাশ
  2. আমার সাক্ষ্য
  3. কবিতার কথা
  4. আমার প্রতিদিনের শব্দ
সঠিক উত্তর:
আমার সাক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান এর আত্মজীবনী - 'আমার সাক্ষ্য'।

• সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭২৫.
'দেনাপাওনা' উপন্যাস ও 'দেনাপাওনা' ছোটগল্পের লেখক যথাক্রমে -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'দেনাপাওনা' উপন্যাসের রচয়িতা - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্পের রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-----------------------------
• 'দেনাপাওনা' উপন্যাস:
-  রচয়িতা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এখানে নারীত্ব ও সতীত্বের ধারনার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র।  
- কাহিনির নায়ক জীবনানন্দ।
- এই উপন্যাস 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়। 
---------------------- 

• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ থেকে ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি সংকলিত হয়েছে।
- ‘দেনাপাওনা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজের প্রচলিত যৌতুক প্রথার মর্মান্তিক রূপ উপস্থাপন করেছেন। যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্ন মত গড়ে তুলতে গল্পটি সহায়ক।
 
• কাহিনি সংক্ষেপ:
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের রামসুন্দর পাঁচ পুত্র ও এক কন্যার জনক। আদরের কন্যার প্রতাপশালী রায়বাহাদুরের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় পাত্রের পিতা দশ হাজার নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কন্যার বাপ রাজি হন এবং বিয়ের সময় নগদ অর্থ বাকি পড়ে। শুরু হয় পিতা কন্যার ওপর মানসিক নির্যাতন। গল্পের নায়কা নিরূপমার আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধির কাহিনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২৬.
'আদিগন্ত' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সরদার জয়েনউদ্দীন
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েনউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরদার জয়েনউদ্দীন
ব্যাখ্যা
• 'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস। প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. হেক্টরবধ
  4. মেঘনাদবধ
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
ব্যাখ্যা
• 'হেক্টরবধ' গ্রন্থ:
- হেক্টরবধ (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা। গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল।

--------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

•  'হেক্টরবধ' গদ্যে রচিত অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭২৮.
‘ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন ?
  1. ক) গ্রাম্য গীতিকা
  2. খ) রূপকথা
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) উপকথা
সঠিক উত্তর:
খ) রূপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রূপকথা
ব্যাখ্যা
- ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ হলো বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন । 

ঠাকুরমার ঝুলি

- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে।
- এই গল্পগুলি বলার ক্ষেত্রে গ্রামীণ রীতি ও ভাষা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে লেখক গ্রন্থটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি সংকলন করেন- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
- এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
- এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মহুয়া
  2. বেনু ও বীনা
  3. শেষের কবিতা
  4. সবিতা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• মহুয়া: 
মহুয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
এ কাব্যের সবকটি কবিতা প্রেমবিষয়ক।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তত্ত্ব, অন্যদিকে তেমন সংরাগ প্রকাশিত।
-------------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা।

অন্যদিকে,
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ- ’বেনু ও বীনা’ , ‘সবিতা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩০.
বাংলা ভাষার প্রাচীন নমুনা পাওয়া যায়-
  1. মঙ্গলকাব্যে
  2. মর্সিয়া সাহিত্যে
  3. চর্যাপদে
  4. বৈষ্ণব পদাবলিতে
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদে
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রাচীন নমুনা পাওয়া যায় - চর্যাপদে। 
-------------- 
• বাংলা ভাষা: 
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। 
- ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষা ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। 
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। 
- যেসব বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয়→ ইন্দো-ইরানীয়→ ভারতীয় আর্য→ প্রাকৃত→ বাংলা।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। 
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'। 
------------- 
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 
--------------------
অন্যদিকে,
মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, মর্সিয়া সাহিত্য- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সাহিত্য নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩১.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. কামিনী রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি কামিনী রায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩২.
'মহেন্দ্র' ও 'বিনোদিনী' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. ঘরে বাইরে
  2. যোগাযোগ
  3. চোখের বালি
  4. গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩৩.
‘রূপসী বাংলা’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথর ঠাকুর
  3. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩৪.
'সনেট পঞ্চাশৎ' কার রচনা?
  1. মহাকবি আলাউল
  2. আব্দুল কাদির 
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মাইকেল মুধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• "সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন প্রমথ চৌধুরী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে।

প্রমথ চৌধুরী:
 প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট, তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন। সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে বীরবল' ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
পদচারণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৩৫.
'চাষাভুষার কাব্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. জসীম উদ্‌দীন  
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. জীবনানন্দ দাশ 
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চাষাভুষার কাব্য' বাংলা সাহিত্যের ষাট দশকের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের কবিতাগুলোয় রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম ও অর্থনীতির নানা বিভক্তি, সংঘাত এবং মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও বিপন্নতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থে কবি গ্রামীণ, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও মাটির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন।

-----------------------
নির্মলেন্দু গুণ রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো-
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৩৬.
চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম কি?
  1. ক) কবি মানিক দত্ত
  2. খ) কবি দ্বিজমাধব
  3. গ) কবি মুকুন্দরাম চক্রবতী
  4. ঘ) কবি কানা হরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) কবি মুকুন্দরাম চক্রবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কবি মুকুন্দরাম চক্রবতী
ব্যাখ্যা
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়

- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানা হরি দত্ত 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
 
৬,৭৩৭.
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দোলো আমার কনকচাঁপা
  2. গো হাকিম
  3. গাভী বিত্তান্ত
  4. বাঙালি মুসলমানের মন
সঠিক উত্তর:
গাভী বিত্তান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাভী বিত্তান্ত
ব্যাখ্যা

• 'গাভী বিত্তান্ত':
- আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।

-------------------
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৩৮.
মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিল-
  1. কবিরাজ
  2. কবিকঙ্কণ
  3. কবিকণ্ঠহার
  4. কবীন্দ্র
সঠিক উত্তর:
কবিকণ্ঠহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিকণ্ঠহার
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বিদ্যাপতি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের একজন কবি।
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত। 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।

-কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।

- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল:
নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।

অন্যদিকে, 
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি দেন। জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩৯.
‘পূর্ণিমা মিলন’ নামক সাহিত্য সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:   
• কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
• ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
• দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। 
• তাঁর রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  

⇒ দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য সাহিত্যগুলো:   
⇒ ঐতিহাসিক নাটক:
• তারাবাই,
• প্রতাপসিংহ,
• দুর্গাদাস, 
• মেবার পতন, 
• নূরজাহান,
• সাজাহান,
• চন্দ্রগুপ্ত।
- ঐতিহাসিক নাটক রচনার জন্য তিনি যশস্বী হয়ে আছেন।   

⇒ সামাজিক নাটক: 
• পরপারে,  
• বঙ্গনারী, 
• সমাজ-বিভ্রাট,  
• কল্কি অবতার,  
• ত্র্যহস্পর্শ,  
• প্রায়শ্চিত্ত, 
• পুনর্জন্ম।  
⇒ ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৬,৭৪০.
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ 'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত হোন কোন ঔপন্যাসিক?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৪১.
'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯২৪ সালে
  3. ১৯২০ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে।

• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৪২.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. মিঠে কড়া
  2. হরতাল
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. আকাল
সঠিক উত্তর:
আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৪৩.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে কতটি কবিতা সংকলিত হয়েছে?
  1. সতেরো 
  2. আঠারো 
  3. উনিশ 
  4. বিশ  
সঠিক উত্তর:
উনিশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ 
ব্যাখ্যা

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৪৪.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রামাণ্য চিত্র - Stop Genocide নির্মাণ করেন -
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) চাষী নজরুল ইসলাম
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্রসমূহ-
- কখনো আসে নি (১৯৬১, প্রথম ছবি),
- সঙ্গম (১৯৬৪, তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানের প্রথম টেকনিকালার ছবি),
- বাহানা (১৯৬৫, প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি),
- কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩, নিগার পুরস্কার পাওয়া),
- জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০),
- বেহুলা (১৯৬৬),
- আনোয়ারা (১৯৬৭)।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রামাণ্য চিত্র - Stop Genocide নির্মাণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৬,৭৪৫.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. কথামালা
  2. হিতোপদেশ
  3. কথোপকথন
  4. লিপিমালা
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা
• 'হিতোপদেশ'  মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
- 'কথোপকথন' ও 'লিপিমালা' উইলিয়াম কেরির মৌলিক গ্রন্থ।
- 'কথামালা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৪৬.
ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। 

- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 

- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। তাঁর নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট এবং বাঙালীর হাসির গল্প গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

- জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। 

অন্যদিকে, 
• নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৪৭.
মমতাজউদদীন আহমদের ‘বিবাহ’ নাটকটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে ১৯৬০ সালে মমতাজউদদীন আহমেদ এর লেখা প্রথম নাটক ‘বিবাহ’।

• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- বর্ণচোরা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল।
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং যুগান্তর পত্রিকা,রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।
৬,৭৪৮.
'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  3. আহমদ শরীফ
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ এনামুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা

• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থের রচয়িতা - মুহম্মদ এনামুল হক।

ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ছিলেন গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় তিনি অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- ১৯০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার বখৎপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এনামুল হক জন্মগ্রহণ করেন।
- এনামুল হকের সাহিত্যকর্মের বৈশিষ্ট্য হলো সত্যানুসন্ধান ও গবেষণা।
- তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় পাণ্ডুলিপির সন্ধান দেন।
- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চেতনা জাগরণই তাঁর সাহিত্যসাধনার মূল প্রেরণা। সাহিত্যের ইতিহাস সন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য (গবেষণামূলক, আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত),
- বঙ্গে সূফীপ্রভাব (গবেষণামূলক),
- বাঙলা ভাষার সংস্কার (ভাষাতত্ত্বমূলক),
- মুসলিম বাঙলা সাহিত্য (গবেষণামূলক) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৪৯.
কার সম্পাদনায় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৫০.
" মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী":
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।

- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ ও প্রশ্ন।

- 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: " মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ।
৬,৭৫১.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ময়নামতির চর
  2. মৃগপরী
  3. রূপকথা
  4. কুঁচবরণ কন্যা
সঠিক উত্তর:
ময়নামতির চর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়নামতির চর
ব্যাখ্যা

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
-কুঁচবরণ কন্যা, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৫২.
'কবিতার কথা'- কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
-‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ
-  এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৬,৭৫৩.
'আনোয়ারা' ছবিটি পরিচালনা করেন কে?
  1. ক) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. খ) আলমগীর কবির
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) তারেক মাসুদ
সঠিক উত্তর:
গ) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান: 
- তিনি ১৯শে আগস্ট ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।
- জহির রায়হান ১৯৬১ সালে প্রথম ছবি হিসেবে ‘কখনো আসে নি’ পরিচালনা করেন।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। 
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ করেন।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি।
- তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর পরিচালিত অন্য ছবিগুলো হলো: 
» সঙ্গম, 
» কাঁচের দেয়াল, 
» আনোয়ারা, 
» বেহুলা, 

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:
» তৃষ্ণা, 
» শেষ বিকেলের মেয়ে, 
» হাজার বছর ধরে, 
» আরেক ফাল্গুন, 
» বরফ গলা নদী, 
» আর কতদিন, 
» কয়েকটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫৪.
“তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি শত রূপে শত বার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ?
  1. অনন্ত প্রেম
  2. উপহার
  3. ব্যক্ত প্রেম
  4. শেষ উপহার
সঠিক উত্তর:
অনন্ত প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্ত প্রেম
ব্যাখ্যা
“তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার

জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।”

- উল্লেখ্য পঙ্‌ক্তিগুলো কবিতাটি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতার।

-------------------------
• "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:

- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”

মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ উদ্দীপনার খরদীপ্তি। 

উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।
----------------------------

অনন্ত প্রেম
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার—
কত রূপ ধ’রে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।"

উৎস: ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ; ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৫৫.
প্রাচীনযুগের কবি নন -
  1. আর্যদেবপা
  2. কঙ্কপা
  3. মহীধরপা
  4. কম্বলাম্বরপা
সঠিক উত্তর:
কঙ্কপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিদেরর সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে,
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
তারা হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

অন্যদিকে,
প্রাচীন যুগের কবি নন - কঙ্কপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৭৫৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. আরোগ্য নিকেতন
  3. চৈতালি ঘূর্ণি
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- উপন্যাসটি ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
• উপন্যাসে পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে ‘স্পাই’ হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে:
‘এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভোলো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।’

• সংগীত শিল্পী ও ট্রানজিস্টার-মেকানিক ডেভিড ভিক্ষাজীবী পিতার কন্যা নাজমার সঙ্গে সঙ্গীত-প্রতিভায় বিমুগ্ধ ছিল। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। তবে, উপন্যাসটিতে ব্যক্তিগত কথকতা ছাপিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে পূর্ব বাংলার সমাজ-রাজনীতি, গণহত্যা ও বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধ।

------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী।

উৎস: 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫৭.
‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’ ও ‘বুকপকেটে জোনাকি পোকা’ উপন্যাসদ্বয় কার রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
- বুকপকেটে জোনাকি পোকা,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫৮.
বাংলা একাডেমি ’আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’- এর সম্পাদক কে?
  1. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
- তিনি বাংলা একডেমি ’আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ'
- মহানবী’ (১৯৪০),
- ‘অমিয়শতক' (১৯৪০),
- ‘বাণী শিকওয়াহ’,
- ‘জওয়াব-ই-শিকওয়াহ'
- ‘রুবাইয়াত-ই-ওমর খ্যায়াম;

তাঁর সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মবতী;
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।
- গল্প সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫৯.
হিন্দি ভাষায় রচিত ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুর রহমান জামি
  2. খ) মালিক মুহম্মদ জায়সি
  3. গ) মুহম্মদ কবীর
  4. ঘ) কবি আলাওল
সঠিক উত্তর:
খ) মালিক মুহম্মদ জায়সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মালিক মুহম্মদ জায়সি
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি আলাওল, যাঁর একাধিক গ্রন্থ বিশেষ মূল্যবান।
- তিনি সতের শতকের কবি।
- 'পদ্মাবতী' তাঁর অমর কীর্তি।
- আরাকানের বৌদ্ধ রাজারা ও তাদের অমাত্যরা আলাওলের উপর খুশি ছিলেন তাদের আগ্রহে আলাওল অনেকগুলি গ্রন্থ রচনা করেন।
- ‘পদ্মাবতী' হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৬০.
ভুসুকুপার প্রকৃত নাম কী ছিলো?
  1. শান্তিদেব
  2. ধর্মপাল
  3. মুনিদত্ত
  4. ভুসুকু
সঠিক উত্তর:
শান্তিদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তিদেব
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৭৬১.
বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা-
  1. ক) নাটক
  2. খ) ছোট গল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) গীতি কবিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গীতি কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গীতি কবিতা
ব্যাখ্যা
কবির মনের একান্ত অনুভূতি, সুখ দুঃখ, আনন্দ বেদনা যে কবিতাতে প্রকাশ পায় তা-ই গীতি কবিতা।
- কবিতা প্রাচীন ও মধ্য যুগের সৃষ্টি হলেও গীতিকবিতা আধুনিক যুগের সৃষ্টি।
- আধুনিক যুগে সৃষ্ঠ এই গীতি কবিতাই এই যুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা।
উল্লেখ্য,
- মধ্যযুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ সাহিত্য ধারা - বৈষ্ণব সাহিত্যধারা। 
- হুমায়ুন আজাদের ভাষ্যে 'একে যদি আলোর সাথে তুলনা করি তাহলে বলবো মধ্যযুগে এমন আলো আর জ্বলে নি।'

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলী।
৬,৭৬২.
সিস্টার সারা চরিত্রটি বেগম রোকেয়া রচিত কোন রচনার অন্তর্গত? 
  1. পদ্মরাগ
  2. অবরোধবাসিনী
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. মতিচূর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন
ব্যাখ্যা

সিস্টার সারা চরিত্রটি বেগম রোকেয়ার কল্পকাহিনী - 'সুলতানার স্বপ্ন' এর অন্তর্ভুক্ত। 

• ‘সুলতানার স্বপ্ন’: 
- গল্পটি নারীবাদী কল্পকাহিনি।
- গল্পের মাধ্যমে লেখক নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতার বার্তা দিতে চেয়েছেন।
- বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গল্পের মূল চরিত্র হলো সুলতানা।
- সুলতানা হচ্ছে এই গল্পের কথক।
- গল্পে সুলতানার পথপ্রদর্শক হিসেবে সিস্টার সারার চরিত্রটি চিত্রায়ন করা হয়েছিলো।
- গল্পে সুলতানা স্বপ্ন একটি কল্পনাপূর্ণ নারী বিশ্ব বা লেডিল্যান্ডের স্বপ্ন দেখে।
- যেখানে সব নেতৃত্বের কাজ নারীদের অধীনে থাকবে।
- যেখানে পুরুষদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে রাখা হবে।
- এই স্বপ্নের জগৎ সম্পূর্ণভাবে নারীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। 
-----------------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল:
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৬৩.
বৈষ্ণব পদাবলির ‘শৃঙ্গার রস’-এর অপর নাম কী?
  1. সখ্যরস
  2. মধুররস
  3. বীররস
  4. শান্তরস
সঠিক উত্তর:
মধুররস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুররস
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলী:
- ব্রজবুলি ভাষায় রচিত।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

- 'শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে ৮ প্রকার অভিসার আছে।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৬৪.
মনসামঙ্গলকাব্যের কবি নন কে?
  1. ক) বিজয় গুপ্ত,
  2. খ) নারায়ণ দেব
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) হরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মনসা দেবীর পুজো প্রচারের জন্য যে কাব্য রচিত, তার নাম মনসামঙ্গল। 
- মনসামঙ্গলকাব্যের  আদি কবি কানাহরি দত্ত।
- মনসামঙ্গলকাব্য লিখেছেন হরি দত্ত, নারায়ণ দেব, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস এবং আরো অনেকে।
- মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।

- চন্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন মাণিক দত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজ রামদেব, ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ।
- ধর্মমঙ্গলকাব্য লিখেছেন ময়ূরভট্ট, মাণিকরাম, রূপরাম, সীতারাম, ঘনরাম, এবং আরো বহু কবি।


[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ]

৬,৭৬৫.
কোরেশী মাগন ঠাকুর কোন শতকের কবি? 
  1. তের শতক
  2. ষোল শতক
  3. পনের শতক
  4. সতের শতক
সঠিক উত্তর:
সতের শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতের শতক
ব্যাখ্যা
কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- তিনি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৬৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. নরকের লাল গোলাপ
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. যে অরণ্যে আলো নেই
  4. কি চাহ শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• লেখক সৈয়দ শামসুল হক এর একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'।

• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য|
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি। 


অন্যদিকে,
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক-
• নরকের লাল গোলাপ- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত নাটক। 
• যে অরণ্যে আলো নেই- নীলিমা ইব্রাহীম রচিত নাটক। 
• বর্ণচোর- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত নাটক। 
• কি চাহ শঙ্খচিল- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৬৭.
পুঁথি সাহিত্যের ভাষা কীরূপ?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. আরবি 
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) মিশ্র।
------------------
'পুথি সাহিত্য' সম্পর্কিত আলোচনা:


পরিচয়:
• ‘পুথি’ শব্দটির উৎপত্তি পুস্তিকা থেকে; সাধারণ অর্থে যেকোনো গ্রন্থকে বোঝায়, কিন্তু পুথি সাহিত্য বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• পুথি সাহিত্য — আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।

• এর রচয়িতা ও পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
• ব্যাপ্তিকাল: আঠারো থেকে উনিশ শতক।
 
বৈশিষ্ট্য ও প্রচার:
- রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে — দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে — ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।
 
• ড. আনিসুজ্জামান তাঁর রচিত — 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থে এই শ্রেণির কাব্যের নাম সম্পর্কে বলেছেন - 
"কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়ে এইধারার কাব্য দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে — বটতলার পুঁথি নামেও একে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে।"
 
উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
- বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৬৮.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) খোয়াবনামা
  2. খ) চিলেকোঠার সেপাই
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়ই
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) : কথাসাহিত্যিক। পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭),
- খােয়াবনামা (১৯৯৬)
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস৷)
ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬),
- খোয়ারি (১৯৮২),
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫),
- দোজখের ওম (১৯৮৯)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭৬৯.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. তপস্বী ও তরঙ্গিণী
  2. নীলাঞ্জনার খাতা
  3. কালো হাওয়া
  4. পরিক্রমা
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিণী
ব্যাখ্যা
• ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক:
• ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ চার অঙ্কে বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি নাটক।
• “তপস্বী ও তরঙ্গিণী” 'দেশ' পত্রিকার এপ্রিল, ১৯৬৬-র পাঁচটি সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো।
• 'দেশ'-এ প্রকাশের পরে একাধিক পাঠক একটি আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। তাঁদের মতে ঋষ্যশৃঙ্গের উপাখ্যান ত্রেতা যুগের, আর সত্যবতী, কুন্তী ও দ্রৌপদীর কাল পরবর্তী দ্বাপর যুগ; অতএব অংশুমান ও রাজপুরোহিতের মুখে সত্যবতী ইত্যাদির উল্লেখ বসিয়ে আমি বুদ্ধদেব বসু ভুল করেছেন।

এ বিষয়ে বুদ্ধদেব বসু বলেন-
'ত্রেতা' ও 'দ্বাপর' যুগের ঐতিহাসিক যাথার্থ্য কতখানি, সে-বিষয়ে আলোচনা বাহুল্য; তবে পণ্ডিতমহলে এ-কথা স্বীকৃত যে ঋষ্যশৃঙ্গ-উপাখ্যান ইন্দো-য়োরোপীয় জাতিসমূহের একটি প্রাচীনতম পুরাণ; তাই আমার মানতে বাধে না যে তথ্যের দিক থেকে পূর্বোক্ত পত্রলেখকেরা ভ্রান্ত নন।

-------------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক।
৬,৭৭০.
মীর মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় যে ধরনের সাহিত্যকর্ম -
  1. ক) প্রহসন
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ট্রাজেডি
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রাজেডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রাজেডি
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন : ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও গদ্যরচয়িতা৷
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী' (গল্পগ্রন্থ)৷
- তার রচিত প্রহসন : 'এর উপায় কি?'
নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক
- জমীদার দর্পণ
- বেহুলা গীতাভিনয়

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু
তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।

প্রবন্ধঃ
- গো-জীবন
- গোকুল নির্মূল আশঙ্কা

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া

৬,৭৭১.
'তিমির হননের কবি' কার উপাধি?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ: ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, রূপসী বাংলার কবি, নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৭২.
মঙ্গলকাব্যের কবি নয় কে?
  1. ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. জয়দেব
  3. দ্বিজমাধম
  4. মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য। ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্য কাব্যের প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে এই কাব্যগুলো রচনা করেছেন। এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

অন্যদিকে,
• মঙ্গলকাব্যে কবি নন - জয়দেব। 'জয়দেব' ছিলেন বৈষ্ণব পদাবলী কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৭৩.
নিচের কোনটি প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের সুযোগ রয়েছে। 
  2. তথ্য ও যুক্তির প্রয়োগ আছে।
  3. বক্তব্য সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট।
  4. গঠনভঙ্গির ঐক্য রয়েছে।
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের সুযোগ রয়েছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের সুযোগ রয়েছে। 
ব্যাখ্যা

প্রবন্ধ: সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
সংজ্ঞা:
• কল্পনা ও বুদ্ধিবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে লেখক কোনো বিষয় সম্বন্ধে সচেতনভাবে যে নাতিদীর্ঘ সাহিত্য সৃষ্টি করেন তাকেই প্রবন্ধ বলে।
• ‘প্রবন্ধ’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো প্রকৃষ্ট বন্ধন।

বৈশিষ্ট্য:
ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসহীনতা: প্রবন্ধে লেখকের ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাস ও লাগামহীন চিন্তার সুযোগ নেই।
• উচ্চারণ, ভাব ও ভাষা—এই তিনটি প্রবন্ধের প্রাণ।
• প্রতিটি প্রবন্ধে একটি প্রতিপাদ্য বিষয় থাকে।
তথ্য ও যুক্তি: যথার্থ তথ্য-প্রমাণ, যুক্তি, নিরাবেগ ভাষা ও সংযত চিন্তার প্রয়োগে সেই বিষয়কে উপস্থাপন করা হয়।
ভাবের সমতা: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রবন্ধে ভাবের সমতা বজায় রাখতে হয়।
 
সংক্ষিপ্ত বক্তব্য: প্রবন্ধের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিস্তার পরিহার করা যায়।
গঠনভঙ্গির ঐক্য: প্রবন্ধের কাঠামো সুসংগঠিত ও সুবিন্যস্ত হওয়া প্রয়োজন, যেখানে ভূমিকা, মূল আলোচনা ও উপসংহারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট সম্পর্ক থাকে।
• চিন্তার স্বচ্ছতা: লেখকের চিন্তাধারা প্রবন্ধে সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপিত হওয়া উচিত, যাতে পাঠক সহজেই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে।
• বক্তব্যের যথাযথ বিন্যাস: প্রবন্ধের বিষয়বস্তু ও যুক্তিগুলি একটি সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক ধারায় বিন্যস্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে রচনার ধারাবাহিকতা ও আকর্ষণ বজায় থাকে।

অর্থ্যাৎ, 
"ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের সুযোগ রয়েছে।" - প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৭৪.
হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন। 

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৭৫.
'জীবনস্মৃতি' কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনী গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

জীবনস্মৃতি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ। ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাল্মীকিপ্রতিভা রচনার সময় থেকে কবি সম্পূর্ণভাবে গান ও কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- তিনি রচনা করেন সন্ধ্যাসংগীত (১৮৮২) ও প্রভাতসংগীত (১৮৮৩)। এ সময়ের অনুভূতি কবির জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা; জীবনস্মৃতিতে তিনি তা ব্যক্ত করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৭৬.
বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক কোনটি?
  1. হাওয়া বদল
  2. তিথিডোর
  3. তপস্বী ও তরঙ্গিনী
  4. পরিক্রমা
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিনী
ব্যাখ্যা
'তপস্বী ও তরঙ্গিনী' বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক।

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- একদা তুমি প্রিয়ে,
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৭৭.
'দেওয়ানা মদিনা' কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. মধ্যযুগের গীতিকবিতা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. নাথ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা   করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ- গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। 

- গীতিকা গুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ  উল্লেখযোগ্য।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৬,৭৭৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার প্রাপ্ত গল্প কোনটি?
  1. মহেশ
  2. বিলাসী
  3. সতী
  4. মন্দির
সঠিক উত্তর:
মন্দির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দির
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'। তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৭৯.
মামুনুর রশিদ কোন নাট্য দলটি প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) গ্রাম্য থিয়েটার
  2. খ) বেঙ্গল থিয়েটার
  3. গ) উদীচী
  4. ঘ) আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
ঘ) আরণ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আরণ্যক
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে মামুনুর রশিদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং জড়িত হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে। ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে তিনি তৈরি করেন তার আরণ্যক নাট্যদল। [বিবিসি]
৬,৭৮০.
নিচের কোন লেখক 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আব্দুল কাদির
সঠিক উত্তর:
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়,(১৯০৪-২০০২)  ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
• দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রায় সত্তর বছর ধরে তিনি প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, ছড়া, কবিতা, নাটক, পত্রসাহিত্য, আত্মজীবনীমূলক রচনা প্রভৃতি লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। 
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২২টি। এর মধ্যে প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস আগুন নিয়ে খেলা (১৯৩০)। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস তাঁর ছয় খন্ডে প্রকাশিত ‘সত্যাসত্য’ ছয়টি নামে প্রকাশিত হয় যথাক্রমে- যার যেথা দেশ, অজ্ঞাতবাস, কলঙ্কবতী, দুঃখমোচন, মর্ত্যের স্বর্গ, অপসরণ।
• পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
-  ইত্যাদি।

 • তাঁর বিখ্যাত ছড়ার বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- উড়কি ধানের মুড়কি,
- রাঙা ধানের খৈ,
- ডালিম গাছে মৌ,
- শালি ধানের চিঁড়ে,
- আতা গাছে তোতা,
- হৈ রে বাবুই হৈ,
- ক্ষীর নদীর কূলে,
- হট্টমালার দেশে,
- ছড়াসমগ্র,
- রাঙা মাথায় চিরুনি,
- বিন্নি ধানের খই,
- কলকাতা পাঁচালী,
- ছড়াসমগ্র,
- সাত ভাই চম্পা,
- যাদু এ তো বড় রঙ্গ,
- খেয়াল খুশির ছড়া,
- দোল দোল দুলুনি  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৮১.
মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. শওকত ওসমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকেমুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা।
- বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কতৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৮২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ উপন্যাসের রচয়িতা হলেন-
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘কল্পতরু’ উপন্যাস ও ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
• ‘কল্পতরু’ ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ-উপন্যাস, যা ১৮৭৪ সালে রচিত হয়। উপন্যাসটি সামাজিক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে সমসাময়িক বাবু সংস্কৃতির নানা দিককে উদঘাটন করে। তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুরোধে ইন্দ্রনাথ এই রচনাটি লেখেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় এই উপন্যাসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি কল্পতরুকে “বঙ্গভাষার একটি উৎকৃষ্ট উপন্যাস” বলে উল্লেখ করেন এবং মন্তব্য করেন যে,
“বাবু ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একখানি মাত্র গ্রন্থ প্রচার করিয়া বাঙ্গালায় প্রধান লেখকদিগের মধ্যে স্থান পাইবার যোগ্য বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন।”
তবে বঙ্কিমচন্দ্র এই উপন্যাসকে আলালের ঘরের দুলাল বা হুতোম প্যাঁচার নকশা-র ওপরে স্থান দিলেও, সেই মতের সঙ্গে সকলেই একমত হননি।

ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
জন্ম: বর্ধমান জেলায়।
পেশা: কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি।
সাহিত্যযাত্রা: প্রথম রচনা “উৎকৃষ্ট কাব্যম” (১৮৭০) একটি ব্যঙ্গাত্মক কাব্য।
অবদান: বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত।

প্রাসঙ্গিক উল্লেখযোগ্য তথ্য: 
• আলালের ঘরের দুলাল – বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস (প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত, ১৮৫৭)।
• হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত সামাজিক ব্যঙ্গচিত্রমূলক গদ্য।

তথ্যসূত্র:
– ‘কল্পতরু’ উপন্যাস (ভূমিকা), ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়;
– বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৮৩.
ফররুখ আহমদ কোন গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. নতুন লেখা
  4. পাখির বাসা
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৮৪.
'আরো দুটি মৃত্যু' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. উপন্যাস 
  3. গল্প
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা

• 'আরো দুটি মৃত্যু' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত দাঙ্গাবিরোধী গল্প। গল্পটির প্রাসঙ্গিকতা এখনো সমানভাবে বিদ্যমান।

-----------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ "একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৮৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ কে লিখেছেন?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. মমতাজ উদ্দীন আহমদ 
  4. সেলিনা হোসেন 
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৮৬.
গোবিন্দচন্দ্র দাস কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. নাগরিক কবি 
  2. রোমান্টিক গীতিকবি
  3. বৈষ্ণব পদের কবি
  4. স্বভাব কবি
সঠিক উত্তর:
স্বভাব কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাব কবি
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৮৭.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন-
  1. শিশুসাহিত্যেক 
  2. গীতিকার
  3. ঔপন্যাসিক
  4. প্রাবন্ধিক 
সঠিক উত্তর:
গীতিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিকার
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার। তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে 'বঙ্গ আমার জননী আমার', 'ধনধান্য পুষ্প ভরা' ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
- তারাবাঈ,
- প্রতাপ-সিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৮৮.
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্পটি কোন লেখকের উপন্যাস থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্প:
- ‘আম আঁটির ভেঁপু' শীর্ষক গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের আনন্দিত জীবনের আখ্যান নিয়ে গল্পটি রচিত হয়েছে।
- গল্পের চরিত্রগুলো হলো: অপু, দুর্গা, সর্বজয়া ।

• গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অপু ও দুর্গা হতদরিদ্র পরিবারের শিশু। কিন্তু তাদের শৈশবে দারিদ্র্যের সেই কষ্ট প্রধান হয়ে ওঠেনি। গ্রামীণ ফলফলাদি খাওয়ার আনন্দ এবং বিচিত্র বিষয় নিয়ে তাদের বিস্ময় ও কৌতূহল গল্পটিকে মানুষের চিরায়ত শৈশবকেই যেন স্মরণ করিয়ে দেয়। এই গল্পের সর্বজয়া পল্লি-মায়ের শাশ্বত চরিত্র হয়ে উঠেছে। গল্পটিতে শিশুর আনন্দপূর্ণ শৈশব এবং প্রকৃতির সম্পর্ক দেখিয়েছেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়। এ গল্প শিশু-কিশোরকে প্রকৃতিমুখী হওয়ার প্রেরণা জোগায়।

⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৮৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটকের লেখক কে?
  1. মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন 
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শর্মিষ্ঠা। 
----------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।
------------------------------ 
- 'শর্মিষ্ঠা' নাটক নিয়ে কিছু কথা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক। এটি মহাভারতের রাজা যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার ত্রিকোণ প্রেম কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত। নাটকে দৈত্যরাজ কন্যা শর্মিষ্ঠা ও দৈত্যগুরু কন্যা দেবযানীর মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব থাকলেও যযাতিকে ঘিরে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিবাদের সৃষ্টি হয়। রাজা যযাতি দেবযানীকে বিয়ে করার পর শর্মিষ্ঠাকে নিজ দাসী হিসেবে নিয়ে আসে, পরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা নাটকের প্রধান দ্বন্দ্ব। শেষপর্যন্ত শুক্রাচার্যের মধ্যস্থতা এবং দেবযানীর ক্ষমার মাধ্যমে শর্মিষ্ঠা দাসী থেকে যযাতির দ্বিতীয় পত্নীর মর্যাদা পায়, এবং নাটকটি শুভ সমাপ্তি ঘটে। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬,৭৯০.
মুসলিম সাহিত্য সমাজের নেতৃত্বে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তাদের একজন হিসাবে ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. আবদুল কাদির
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

আবদুল কাদির: কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- ১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন
- মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা' পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭) ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।

প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা (১৯৪৪),
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- লোকায়ত সাহিত্য (১৮৮৫)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

৬,৭৯১.
'বাংলা সাহিত্যের কথা' - গ্রন্থটি রচয়িতা-
  1. ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) মাহবুবুল আলম
  3. গ) মুহাম্মদ আবদুল হাই
  4. ঘ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'বাংলা সাহিত্যের কথা' - গ্রন্থটি রচয়িতা- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত কিছু গ্রন্থ:
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাংলা সাহিত্যের কথা
- সিদ্ধা কানুপার গীত ও দোহা
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
- বৌদ্ধ মর্মবাদীর গান
- বাংলা ব্যাকরণ

অপরদিকে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য”রচনা করেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
- বাঙ্গলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থটি রচনা করেছেন- মাহবুবুল আলম।
- “বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত” গ্রন্থটি রচনা করেন মুহাম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

৬,৭৯২.
শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস -
  1. নিজ বাসভূমে
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. অক্টোপাস
  4. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
সঠিক উত্তর:
অক্টোপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টোপাস
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৯৩.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আনিসুজ্জামান 
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) আল মাহমুদ 
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা আনোয়ার পাশা।
- এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ।
- এই উপন্যাস রচনার সময়কাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন।
- ১৯৭৩ সালে এটি প্রকাশিত হয়। 

আনোয়ার পাশা রচিত অন্যান্য উপ্যনাস গুলো –
- নির সন্ধানী 
- নিষুতি রাতের গাথা

- ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরনোত্তর) লাভ করেন। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৯৪.
কোন পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিলো?
  1. সওগাত
  2. সমাচার চন্দ্রিকা
  3. তত্ত্ববােধিনী
  4. বঙ্গদূত
সঠিক উত্তর:
তত্ত্ববােধিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্ত্ববােধিনী
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৫.
'নারীর মূল্য' প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধ:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে  'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধটি লিখেছে।
- তিনি ১৯২৩ সালে প্রবন্ধটি যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন।
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান একটি প্রবন্ধ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ।
- ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম:
- অনীলা দেবী (লেখকের বড় দিদির নাম), 
- শ্রীকান্ত শর্মা, 
- অনুরূপা দেবী , 
- অপরাজিতা দেবী, 
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৯৬.
বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন একজন-
  1. ঔপন্যাসিক
  2. নাট্যকার
  3. কবি
  4. চিত্রশিল্পী
সঠিক উত্তর:
নাট্যকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাট্যকার
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা। ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৭.
‘একাত্তরের যীশু’ গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. শাহরিয়ার কবির
  2. সেলিম আল দীন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
শাহরিয়ার কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহরিয়ার কবির
ব্যাখ্যা
• ‘একাত্তরের যীশু’ গল্পটির রচয়িতা - শাহরিয়ার কবির

একাত্তরের যীশু:
- 'একাত্তরের যীশু' গল্পগ্রন্থের নামগল্প 'একাত্তরের যীশু'।
- 'একাত্তরের যীশু' নামের গল্পটি প্রথম ছাপা হয়  ১৯৭৩ সালে দৈনিক বাংলা পত্রিকায়।
- তারপর বাংলা একাডেমির একটা সংকলনে এবং সবশেষে বইয়ে ছাপা হয়েছে ১৯৮৫ সালে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি শান্ত-সুনিবিড় জনপদকে ঘিরে রচিত হয়েছে 'একাত্তরের যিশু'।
- উপার্জন আর গির্জায় প্রার্থনায় সময় কাটানো মানুষগুলোর জীবনে যুদ্ধ, বিহ্বলতা ও নৃশংসতা নিয়ে হাজির হয়।
- দ্রুত বদলে যায় তাদের অভ্যস্ত দৃশ্যপট।
- হানাদারদের রোষানলে পড়ার ভয় থাকলেও দূর দূরান্ত থেকে আসা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেয় তারা।
- আহার-চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে।
- এসবে অধীর আগ্রহে সর্বাগ্রে থাকেন ডেসমন্ড ডি রোজারিও; যার পুরো জীবনই গির্জার রক্ষণাবেক্ষণে কেটেছে।

শাহরিয়ার কবির:
- তিনি পুরোনো ঢাকার ইসলামপুরে ১৯৫০ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলায় স্নাতক অধ্যয়নকালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং যুদ্ধের পর দেশে ফিরে সাংবাদিকতা শুরু করেন 'দৈনিক বাংলা' ও 'সাপ্তাহিক বিচিত্রায়'।
- '৭৬-এ শাহরিয়ার কবির 'বাংলাদেশ লেখক শিবির'এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিন বছরের ভেতর এটি বাংলাদেশের লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের বৃহত্তম সংগঠনে পরিণত হয়।
- বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনামলে 'মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ ও আইন সাহায্য কমিটি'র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
- গত দুই যুগ ধরে বিভিন্ন প্রগতিশীল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত থেকেছেন এবং বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে আন্দোলনে ও রচনাকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন।
- জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর থেকে 'একাত্তরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি'র হাল ধরেছেন।
- লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন।
- '৯৮-এ তিনি আত্মপ্রকাশ করেছেন প্রামাণ্য চলচ্চিত্রনির্মাতা হিসেবে।
- তাঁর প্রামাণ্যচিত্র 'মুক্তিযুদ্ধের গান' ও 'ক্রাইফর জাস্টিস' দেশে ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
- তাঁর রচনাবলী বাংলা একাডেমি ও শিশু একাডেমি সহ বহু প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পুরস্কৃত।

উৎস: 'একাত্তরের যীশু' গল্পগ্রন্থ, শাহরিয়ার কবির।
৬,৭৯৮.
'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ-
  1. পথের দাবী
  2. বিন্দুর ছেলে
  3. সতী
  4. নারীর মূল্য
সঠিক উত্তর:
নারীর মূল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারীর মূল্য
ব্যাখ্যা
⇒ ‘নারীর মূল্য’:
- 'নারীর মূল্য' (১৯২৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নারীর সামাজিক অধিকার ও সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ।
- 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে 'যমুনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- অনিলা দেবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় বোনের নাম।

⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও নারীর মূল্য- নিবন্ধ গ্রন্থ।
৬,৭৯৯.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কঙ্কাবতী
  2. কামিনী কাঞ্চন
  3. বিনুর বই
  4. পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - কঙ্কাবতী
- উপন্যাসটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮০০.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. রত্নাবলী
  3. সমাচার দর্পণ
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবনী:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া চড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত, কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিল মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। ব্যঙ্গের মাধ্যমে অনেক গুরু বিষয়ও তিনি সহজভাবে প্রকাশ করতেন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনা গ্রন্থ:
• কালীকীর্তন ও
• প্রবোধ প্রভাকর।

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত নাটক:
• হিতপ্রভাকর ও
• বোধেন্দুবিকাশ।

অন্যদিকে, 
• সমাচার দর্পণ (১৮১৮ - ১৮৫২) শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।