বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৬২ / ২১১ · ৬,১০১৬,২০০ / ২১,১৩২

৬,১০১.
কোন কবি ‘ছন্দের জাদুকর’ নামে পরিচিত?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১০২.
'ধুম লেগেছে হৃদ কমলে' কাব্যগ্রন্থের কবি -
  1. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. শঙ্খ ঘোষ
  4. সুবোধ ঘোষ
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘোষ
ব্যাখ্যা
• 'ধুম লেগেছে হৃদ কমলে'র কবি - শঙ্খ ঘোষ

শঙ্খ ঘোষ: 
- শঙ্খ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কবি।
- সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী।
- একজন রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব রয়েছে।
- তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ, কিন্তু শঙ্খ ঘোষ নামেই তিনি পরিচিত। 
- তিনি 'বাবরের প্রার্থনা' নামক কাব্যগ্রন্থের জন্য ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার 'সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দিনগুলি রাতগুলি (১৯৫৬),
- নিহিত পাতাল ছায়া (১৯৬৭),
- এখন সময় নয় (১৯৬৭),
- আদিম লতা গুল্মময় (১৯৭২),
- মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয় (১৯৭৫), 
- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে (১৯৮৪),
- বন্ধুরা মাতি তরজায় (১৯৮৪),
- বহুল দেবতা বহুল স্বর (১৯৮৬), 
- বাবরের প্রার্থনা (১৯৭৬)
- ধুম লেগেছে হৃদ কমলে (১৯৮৭) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,১০৩.
‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে নেয়া?
  1. সাম্য
  2. আমার পথ
  3. লাইব্রেরী
  4. সংস্কৃতি - কথা
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি - কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি - কথা
ব্যাখ্যা
• জীবন ও বৃক্ষ:
- ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘সংস্কৃতি - কথা’ শীর্ষক গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে তিনি জীবনের সার্থকতা বৃক্ষের মাঝে খুজেছেন।
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী ছিলেন বিশিষ্ট গদ্যশিল্পী।
- তিনি বুদ্ধির মুক্ত আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে -

- আমার পথ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের সুবিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র - মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- লাইব্রেরী প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ। 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা উপন্যাসের জনক।
- তাঁর প্রকাশিত একটি গদ্যগ্রন্থ ‘সাম্য’।
- ইউরোপীয় সাম্য চিন্তার ধারার ইতিহাস এখানে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণী, বাংলা সাহিত্য।
৬,১০৪.
'কায়কোবাদ' এর উপাধি -
  1. কাব্যকণ্ঠ
  2. কবিকন্ঠহার
  3. কবিকঙ্কন
  4. কাব্যভূষণ
সঠিক উত্তর:
কাব্যভূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যভূষণ
ব্যাখ্যা

• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• ‘কবিকন্ঠহার’ মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো।
• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল ‘কবিকঙ্কন’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১০৫.
‘চৈত্র দুপুরে একেলা পুকুরে গ্রামীণ মেয়ের অবাধ সাঁতার' কবিতাংশটি কোন কবির?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুকুমার রায়
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা তুমি
– শামসুর রাহমান

স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।
স্বাধীনতা তুমি
ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।
স্বাধীনতা তুমি
মজুর যুবার রোদে ঝলসিত দক্ষ বাহুর গ্রন্থিল পেশী।
স্বাধীনতা তুমি
অন্ধকারের খাঁ খাঁ সীমান্তে মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক।
স্বাধীনতা তুমি
বটের ছায়ায় তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর
শানিত কথার ঝলসানি-লাগা সতেজ ভাষণ।

[ প্রশ্নে প্রদত্ত কবিতার লাইনটি অশুদ্ধ। তবে শামসুর রাহমান রচিত স্বাধীনতা তুমি কবিতার লাইনের সাথে মিল থাকায়, সম্ভব্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ গ্রহণ করা হয়েছে।]

---------------------
• শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)  কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- কবির পিতা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা খাতুন।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শামসুর রাহমান ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।
- তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ - প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০)।

উৎস: স্বাধীনতা তুমি কবিতা; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১০৬.
নিচের কোনটি ইব্রাহিম খাঁর গ্রন্থ নয়?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  3. গ) কুঁচবরণ কন্যা
  4. ঘ) সোনার শিকল
সঠিক উত্তর:
গ) কুঁচবরণ কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুঁচবরণ কন্যা
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক- আনোয়ার পাশা, ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, গল্প- সোনার শিকল আর বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- কুঁচবরণ কন্যা। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬,১০৭.
ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত গীতিকাব্য কোনটি?
  1. অনল-প্রবাহ
  2. প্রেম প্রবাহিনী
  3. কবিতা ও গান
  4. প্রদীপ
সঠিক উত্তর:
অনল-প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল-প্রবাহ
ব্যাখ্যা

- ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত গীতিকাব্য- 'অনল প্রবাহ’। 
--------------------------------------------------
• ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি লেখক, কবি, বাগ্মী ও কৃষক নেতা।
- তাঁর জন্ম ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- জন্মস্থানের সঙ্গে পরিচয় বজায় রাখতেই তিনি নিজের নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সমাজে নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি পরিচিত।
- তাকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়।
- সাহিত্যকর্মের দিক থেকেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে:
- অনল-প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী ও
- প্রেমাঞ্জলি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।
---------------------------------------------- 
‘অনল প্রবাহ’ নিয়ে কিছু কথা:
- অনল প্রবাহ হলো সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি গীতিকাব্য।
- এই কাব্যটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- সাহিত্য ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘অনল-প্রবাহ’ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- এ কারণে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের কবিদের মধ্যে একজন হিসেবে কারাবরণ করেন।
---------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত গীতিকাব্য- 'প্রেম প্রবাহিনী';
- স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত গীতিকাব্য- 'কবিতা ও গান'।
- অক্ষয়কুমার বড়াল রচিত গীতিকাব্য- 'প্রদীপ'।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৬,১০৮.
কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম নয়?
  1. কবিরত্ন
  2. লেখরাজ সামন্ত
  3. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  4. কলমগীর
সঠিক উত্তর:
লেখরাজ সামন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেখরাজ সামন্ত
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১০৯.
“The Origin and Development of the Bengali Language” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?”
  1. অমর্ত্য সেন
  2. ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ 
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজা রামমোহন রায় 
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

“The Origin and Development of the Bengali Language” গ্রন্থটির রচয়িতা- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। 
---------------------------------------
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লন্ডনে ধ্বনিতত্ত্ব, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ব এবং প্রাকৃত, ফারসি, প্রাচীন আইরিশ, গোথিকসহ বিভিন্ন ভাষা অধ্যয়ন করেন।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা করেছেন।
- ভাষা নিয়ে তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্মে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ভাষাচার্য উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি খ্যাতিলাভ করেছেন “The Origin and Development of the Bengali Language” গ্রন্থ রচনার মধ্য দিয়ে।
- বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তিনি ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘Origin and Development of the Bengali Language; 
- Bengali Phonetic Reader;
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা;
- পশ্চিমের যাত্রী;
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা;
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ;
- ভারত সংস্কৃতি;
- সংস্কৃতি কী;
- রবীন্দ্রসঙ্গমে,
- ইউরোপ ভ্রমণ,
- Languages and Literatures of Modern India;
- World Literature and Tagore;
- দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ। 
----------------------------------------------------- 
‘The Origin and Development of the Bengali Language’:
- এই গ্রন্থটি অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের একটি মৌলিক গবেষণা।
- এতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিবর্তন, ধ্বনি ও রূপতত্ত্ব, বাক্য গঠন আলোচনা করা হয়েছে।
- পাশাপাশি ইন্দো-আর্য ভাষা পরিবারের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণও আলোচনা করা হয়েছে।
- তিনি প্রমাণ করেছেন যে বাংলা ভাষা সরাসরি সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত নয়।
- বরং এটি প্রাচীন গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে বিকশিত হয়েছে, যা প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্য ভাষার একটি শাখা।
- গ্রন্থে বলা হয়েছে, সপ্তম শতাব্দীর দিকে গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষার আধুনিক রূপের বিকাশ শুরু হয়।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬,১১০.
কোনটি শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. পূর্বাভাস
  2. তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
  3. হরতাল
  4. ঘুম নেই
সঠিক উত্তর:
তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

অন্যদিকে,
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো - পূর্বাভাস, হরতাল, ঘুম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১১১.
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) সূর্য তুমি সাথী
  2. খ) ওঙ্কার
  3. গ) গাভী বৃত্তান্ত
  4. ঘ) ভূমিপুত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমিপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমিপুত্র
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস- সূর্য তুমি সাথী, একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, মরণবিলাস, গাভী বিত্তান্ত, ওঙ্কার, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
অন্যদিকে ভূমিপুত্র উপন্যাসে রচয়িতা ইমদাদুল হক মিলন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,১১২.
কোন ঘটনার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশদের দেওয়া ‘নাইট’ উপাধি বর্জন করেন?
  1. সিপাহি বিদ্রোহ
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন
  4. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৬,১১৩.
'প্রকৃতি' কোন নাটকের নাইকার নাম?
  1. শ্যামা
  2. চণ্ডালিকা
  3. তাসের দেশ
  4. ফাল্গুনী
সঠিক উত্তর:
চণ্ডালিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডালিকা
ব্যাখ্যা
চণ্ডালিকা:
নাটকটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এর কথাবস্তু পালি শার্দুল-কর্ণাবদান থেকে গৃহীত।
- এই নাটকের নাইকার নাম হচ্ছে 'প্রকৃতি'।
-
এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ । প্রকৃতি নামের এক চণ্ডালী কন্যা  মায়ের সাহায্যে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের প্রলোভন করার ঘটনাই প্রধান।
- ১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ এই নাটকটিকে নৃত্যনাট্যে রূপ দেন।
- কথা ও সুরের সমন্বয়ে চণ্ডালিকা রবীন্দ্রনাথের অন্যতম সৃষ্টি।

রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- চিত্রাঙ্গদা,
- অচলায়তন,
- ডাকঘর ,
- রক্তকরবী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১১৪.
‘কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• ‘কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা : 'হুমায়ুন আজাদ'। 
---------------

• হুমায়ুন আজাদ ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো:
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ, 
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১১৫.
নীল-দর্পণ নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ক) ১৮৬০
  2. খ) ১৮৬১
  3. গ) ১৮৮০
  4. ঘ) ১৮৮১
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৬১
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- নীল-দর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror'।
- অনুবাদটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে এই অনুবাদ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১১৬.
"হাথেরে কাঙ্কণ মা লোউ দাপণ।"- পদটি কে লিখেছেন?
  1. লুইপা
  2. সরহপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
সরহপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরহপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে ৬টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া গেছে।
এগুলো হলো: 

• অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী। (ভুসুকুপা, ৬ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হরিণ তার নিজের মাংসের জন্যই সকলের শত্রু।

• হাথেরে কাঙ্কণ মা লোউ দাপণ। (সরহপা, ৩২ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হাতের কঙ্কন দেখতে আয়নার দরকার নেই। নিজেই তুমি নিজের মন বোঝ।

• হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী। (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হাঁড়িতে ভাত নেই কিন্তু নিত্য প্রেমিক আসে।

• দুহিল দুধু কি বেণ্টে ষামায়? (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : দোহন করা দুধ কি বাটে প্রবেশ করানো যায়?

• বর সুণ গোহালী কি মো দুঠ বলন্দে (সরহপা, ৩৯ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : বরং শূন্য গোয়াল ভালো, কি করব আমি দুষ্ট বলদে।

• আণ চাহন্তে আণ বিনঠা (কঙ্কনপা, ৪৪ নম্বর পদ)।
আধুনিক  বাংলা : এক চাইতে অন্য বিনষ্ট হলো।

উৎস:
চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।

৬,১১৭.
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত কোন কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন?
  1. মরুশিখা
  2. বিস্ময়
  3. মরুসূর্য
  4. হসন্তিকা
সঠিক উত্তর:
মরুশিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুশিখা
ব্যাখ্যা
• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত :
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে।
- যতীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন যুক্তিবাদী ও মননশীল লেখক
- তাঁর উপাধি ছিল- দুঃখবাদী কবি।


• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- মরীচিকা (১৯২৩),
- মরুশিখা (১৯২৭),
- মরুমায়া (১৯৩০),
- কাব্য পরিমিতি (১৯৩১),
- সায়ম (১৯৪০),
- অনুপূর্বা (১৯৪৬),
- ত্রিযামা (১৯৪৮),
- নিশান্তিকা (১৯৫৭)

• অন্যদিকে,
• আ. ন. ম. বজলুর রশীদ রচিত কাব্যগ্রন্থ- মরুসূর্য
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত গ্রন্থ -  হসন্তিকা
• মোহিতলাল মজুমদার রচিত গ্রন্থ -  বিস্ময়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১১৮.
'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
প্রবাসের দিনগুলি, ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস, সাতটি তারার ঝিকিমিকি, গজ কচ্ছপ ইত্যাদি গ্রন্থের রচয়িতা জাহানারা ইমাম। উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,১১৯.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
- এটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১২০.
‘গতিবাদ ‘র প্রভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থটি রচিত হয়েছিল?
  1. ক) পূরবী
  2. খ) খেয়া
  3. গ) বলাকা
  4. ঘ) সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
গ) বলাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বলাকা
ব্যাখ্যা
• বলাকা ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
- কাব্যটি রবীন্দ্র কবি মানসের বিবর্তন ধারাপথে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- এ কাব্যের ভাষা তীক্ষ্ণ, দীপ্ত, শাণিত ও উজ্জ্বল।
- এ কাব্যের ছন্দের গতিময়তা ও ভাষার সংহতি এবং নবতর বক্তব্যকে রূপ দেওয়ার কারণে এর আঙ্গিক একটি বিশিষ্টরূপ লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,১২১.
'চাকা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মমতাজউদদীন আহমদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন: 
- সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বিজ্ঞাপন সংস্থা বিটপী’তে কপি রাইটারের পদে যোগদান করেন।
- ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
- দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- তাঁর রচিত হরগজ নাটকটি সুইডিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল কর্তৃক হিন্দি ভাষায় মঞ্চস্থ হয়েছে।
- সেলিম আল দীনের নাটক ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক বিপরীত তমসায় ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় লিব্রিয়াম (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- বাসন, 
- কেরামতমঙ্গল, 
- প্রাচ্য, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা, 
- হরগজ, 
- একটি মারমা রূপকথা, 
- বনপাংশুল, 
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৬,১২২.
হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস -
  1. নামহীন গোত্রহীন
  2. জীবন ঘষে আগুন
  3. শীতের অরণ্য
  4. আগুনপাখি
সঠিক উত্তর:
আগুনপাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনপাখি
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

হাসান আজিজুল হক রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১২৩.
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অন্বেষা, দ্বিতীয় ভুবন, নিরাশ্রয় গৃহী, আরণ্যক দৃশ্যাবলী, স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, বাঙালিকে কে বাঁচাবে, নেতা জনতা ও রাজনীতি ইত্যাদি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ। বাবুলের বেড়ে ওঠা তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১২৪.
‘প্রতিদান’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. নক্সীকাঁথার মাঠ
  2. বালুচর
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট 
  4. মা যে জননী কান্দে 
সঠিক উত্তর:
বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালুচর
ব্যাখ্যা
কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।

‘প্রতিদান’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
এ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলােকপাত করেছেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সীকাঁথার মাঠ 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট 
- মা যে জননী কান্দে 

তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থঃ
- হাসু
- এক পয়সার বাঁশী
- ডালিমকুমার


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্য পাঠ -একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি]
৬,১২৫.
'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. সামাজিক উপন্যাস
  2. রাজনৈতিক উপন্যাস
  3. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাসএই উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।
- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে: 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

 উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্র
- তাহমিনা (ভূণী),
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  বাংলাপিডিয়া।

৬,১২৬.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  2. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  3. বাঙ্গাল গেজেট
  4. সমাচার চন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা - ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

অন্যদিকে,
• হেনরি ডিরোজিও সম্পাদিত পত্রিকা - ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান।
• গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট।
• ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা - সমাচার চন্দ্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১২৭.
“শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদবুদ,
স্মৃতি গন্ধে ভরপুর একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং ।” - লাইনগুলোর রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

আলোচ্য পঙক্তিটি কবি শামসুর রাহমানের কবিতা ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ থেকে নেয়া হয়েছে ।
শামসুর রহমান ১৯২৯ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ।
বাংলাদেশের সমকালীন কবিদের মধ্যে তাকে শ্রেষ্ঠ মনে করা হয় ।
তিনি ২০০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।
তার কাব্যগ্রন্থ :
- বন্দী শিবির থেকে (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- একফোঁটা কোমল অনল
- নিজ বাসভূমে
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- বিধ্বস্ত নীলিমা

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

৬,১২৮.
‘সুরজিত নন্দী’ নুরুল মোমেন রচিত কোন নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. নয়া খান্দান
  2. নেমেসিস
  3. বহুরূপা
  4. রূপলেখা
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

--------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬,১২৯.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর স্মৃতিচারণ মূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) স্মৃতিকথা
  2. খ) স্মৃতিনীড়
  3. গ) আমার স্মৃতিময় ছেলেবেলা
  4. ঘ) অতীত দিনের স্মৃতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতীত দিনের স্মৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতীত দিনের স্মৃতি
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ মূলক গ্রন্থ 'অতীত দিনের স্মৃতি'। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। 
 
আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ, ১৯৩৯),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি (১৯৩৮),
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন, ১৯৬১),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ, ১৯৬৭),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস, ১৯৬৮) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৩০.
আল মাহমুদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭০ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- কাব্যগ্রন্থটি রচয়িতা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'। কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৩১.
'দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাপার'- গানটির রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. আনিসুজ্জামান
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!" পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের 'কাণ্ডারী হুশিয়ার' কবিতার অংশ।

কাণ্ডারী হুশিয়ার!
কাজী নজরুল ইসলাম
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার!!

--------------------
• সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ’ কাজী নজরুল ইসলাম।
৬,১৩২.
'সত্যপীরের পাঁচালি' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. রূপরাম চক্রবর্তী
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তার রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম 'সত্যপীরের পাঁচালি' (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১৩৩.
'মজিদ, জমিলা' চরিত্রগুলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. ক) দুই দুয়ারী
  2. খ) নদী ও নারী
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) পদ্মানদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
গ) লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লালসালু
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের পেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৩৪.
‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকের অন্তর্গত চরিত্র কোনটি?
  1. দেবযানী
  2. ধনদাস
  3. বিভীষণ
  4. প্রমীলা
সঠিক উত্তর:
ধনদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনদাস
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।
• ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৩৫.
‘শূণ্যপুরাণ’ গ্রন্থটি মোট কয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত? 
  1. ২৫টি
  2. ৪১টি
  3. ৫১টি
  4. ৬১টি
সঠিক উত্তর:
৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১টি
ব্যাখ্যা

শূণ্যপুরাণ:
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১৩৬.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বাঁধন হারা' উপন্যাসটি প্রথম কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯১৮ সালে
  2. খ) ১৯৩১ সালে
  3. গ) ১৯২৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৪১ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয় ১৯৭২ সালে।

- তাঁর রচিত উপন্যাস সংখ্যা ৩টি।
এগুলো হলো:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বাঁধন-হারা।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। সেই সাথে এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৩৭.
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মত মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙ্গে গেল বলে কেঁদে ভাষাইত বুক। - পংক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) কবি জসীম উদ্দীন
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
খ) কবি জসীম উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবি জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু  সোনার মত মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙ্গে গেল বলে কেঁদে ভাষাইত বুক। - পংক্তিটি 'কবি জসীম উদ্দীন' এর 'কবর' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।  

• 'কবর' কবিতা
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে। 

• কবর- কবিতা 
জসীমউদ্দীন
 
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, কবর- কবিতা: জসীমউদ্দীন। 
৬,১৩৮.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'- কাব্যনাট্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) মমতাজ উদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য
- সৈয়দ শামসুল হক এটি রচনা করেন।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।
• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৩৯.
ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ ‘Buddhist Mystic Songs’ প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯২৬ সালে
  2. খ) ১৯২৭ সালে
  3. গ) ১৯৩৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৬০ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ ‘Buddhist Mystic Songs’ প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনি এই গ্রন্থে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়েও আলোচনা করেন। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ।
৬,১৪০.
বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত :
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষরে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ”তিলোত্তমাসম্ভব” কাব্য।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬,১৪১.
'মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়' - গ্রন্থের রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৪২.
কোনটি জসীমউদ্দীনের রচনা?
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. দুর্দিনের দিনলিপি
  3. রেখাচিত্র
  4. যে দেশে মানুষ বড়
সঠিক উত্তর:
যে দেশে মানুষ বড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর -  ঘ) যে দেশে মানুষ বড়।
----------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

• 'যে দেশে মানুষ বড়' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্য অপশনগুলো:
ক) গাজী মিয়াঁর বস্তানী- মীর মশাররফ হােসেনের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা।
খ) দুর্দিনের দিনলিপি - আবুল ফজল রচিত দিনলিপি।
গ) রেখাচিত্র - আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৬,১৪৩.
‘মুসাফির’ ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• ‘মুসাফির’ ছদ্মনামে সৈয়দ মুজতবা আলী লিখতেন।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর অন্য ছদ্মনাম:
- সত্যপীর,
- ওমর খৈয়াম,
- প্রিয়দর্শী।

এছাড়া,
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর।

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন-
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪৪.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. ক) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. গ) এর উপায় কি?
  4. ঘ) একেই কি বলে সভ্যতা?
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- বিয়ে পাগলা বুড়ো
- বিয়ে পাগলা বুড়ো প্রহসনে তিনি এক বৃদ্ধের পৌনঃপুনিক বিবাহের আকাঙ্ক্ষাজনিত চারিত্রিক অসঙ্গতি নিপুণ ব্যঙ্গের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্রের জনপ্রিয় কবিতা: সুরধুনী কাব্য (১ম ও ২য় খন্ড), দ্বাদশ কবিতা
- নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক: নীল-দর্পণ (১৮৬০)
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত.১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

• প্রদত্ত প্রশ্নের বাকি অপশনগুলো:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা?
- ইওয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন হচ্ছে: একেই কি বলে সভ্যতা?
- “এর উপায় কি?” প্রহসনটি মীর মশাররফ হোসেন রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪৫.
‘যাত্রা’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কে?
  1. মুনির
  2. অধ্যাপক রায়হান
  3. হায়দার
  4. রাশেদ
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক রায়হান
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- "যাত্রা" উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রির পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা, ঢাকা শহরের গণহত্যা, প্রতিরোধ সংগ্রাম, এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।  
- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।
৬,১৪৬.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' গ্রন্থের সম্পাদক ছিলেন-
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান':
- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আহমদ শরীফ (১৯২১ - ১৯৯৯) 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' সম্পাদনা করেন, যা ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
- ১৯৯২ সালে অভিধানটি প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা একাডেমী একটি বানাননীতি প্রণয়ন করে। অভিধানের দ্বিতীয় সংস্করণে বিষয়টি মনে রাখা হয়েছে।
- বর্তমান পরিমার্জিত সংস্করণের কাজেও প্রফেসর আহমদ শরীফ সর্বতোভাবে পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে অভিধানের কাজকে সহজ করেছেন। তবে এ সংস্করণের পরিমার্জনা, নতুন ভুক্তির সংযোজন ও তার অর্থ নির্ণয়, বিন্যাসগত ও পদক্রমের ত্রুটি দূরীকরণের কতিপয় কাজ সম্পন্ন করেছেন একাডেমীর জ্যেষ্ঠ পরিচালক শামসুজ্জামান খান ও তাঁর সহকর্মী সহযোগী সম্পাদকগণ।

অন্যদিকে,
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদনা করেন 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' (দুই খণ্ড)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান।
৬,১৪৭.
মুনীর চৌধুরী রচিত মৌলিক নাটক?
  1. কেউ কিছু বলতে পারে না
  2. রূপার কৌটা 
  3. মুখরা রমণী বশীকরণ 
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

 মুনীর চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি।
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।
- ‘মানুষ’ ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- ‘নষ্ট ছেলে’ রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- ‘দণ্ডকারণ্য’ তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১৪৮.
"মৌমাছি" কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  2. বিমল মিত্র
  3. বিমল ঘোষ
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিমল ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল ঘোষ
ব্যাখ্যা
• বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম - মৌমাছি।

অন্যদিকে, 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
• বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম - জাবালি।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
যেমন:
নীল লোহিত,
নীল উপাধ্যায়,
সনাতন পাঠক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৪৯.
কত সালে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হন?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০৫ সালে
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,১৫০.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সামাজিক সমস্যা সংক্রান্ত ছোটগল্প নয়?
  1. ক) অনধিকার প্রবেশ
  2. খ) দেনা পাওনা
  3. গ) যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
  4. ঘ) ক্ষুধিত পাষাণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষুধিত পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর রচিত সামাজিক সমস্যা সংক্রান্ত ছোটগল্প- দেনা পাওনা, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, অনধিকার প্রবেশ, যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ ইত্যাদি এবং তাঁর রচিত অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প- কঙ্কাল, নিশীথে, মনিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,১৫১.
একুশের ঘটনাভিত্তিক উল্লেখযোগ্য উপন্যাস 'যাপিত জীবন' এর রচয়িতা কে?
  1. আতহার আহমেদ
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. সেলিনা হোসেন
  4. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের আলোচিত উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- দেশ ভাগ, ভাষা আন্দোলনসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।
- ১৯৮২ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- 'যাপিত জীবন' অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
- সরকারি অনুদানে নির্মিত হবে চলচ্চিত্রটি। 

উৎস: দি ডেইলি স্টার।  [লিঙ্ক]
৬,১৫২.
'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনটি সম্পাদনা করেন-
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন: 
• ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।

• এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান। সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকসহা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন। এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৫৩.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৫৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে “সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি” বলে অভিহিত করেছেন?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
♦ চণ্ডীদাস:
-  চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,১৫৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা-
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা- 'আনোয়ার পাশা' 

• রাইফেল রােটি আওরাত
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৫৬.
বাংলা সাহিত্যে দেবমাহাত্ম্যসূচক কাহিনি সূচক গান-
  1. ক) কবিগান
  2. খ) পূথিগান
  3. গ) শাক্তপদাবলি
  4. ঘ) পাঁচালি
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাঁচালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাঁচালি
ব্যাখ্যা
আগে মঙ্গলকাব্যকেই পাঁচালি বলে অভিহিত করা হতো। 
- পরবর্তীকালে দীর্ঘ আখ্যান্মূলক কাব্যই  'পাঁচালি' নামে পরিচিত। 
- বাংলায় 'পাঁচালি' বলতে আমরা বুঝি দেবমাহাত্ম্যসূচক কাহিনি সূচক গান। 
- বাংলায় পাঁচালির শেষ্ঠ কবি দশারথী রায়।
- ইনি প্রথমে কবিওয়ালাই ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৫৭.
কোন লেখক 'ওমর খৈয়াম' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সেলিম আল দীন
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• 'ওমর খৈয়াম' ছদ্মনামে লিখতেন - সৈয়দ মুজতবা আলী

অন্যদিকে,
- গোলাম মোস্তফা ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কাব্য সুধাকর।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১৫৮.
'স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে
পানি টলটল মেঘনা নদীর কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।' - পঙ্‌ক্তিগুলো কে রচনা করেছেন?
  1. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. শামসুর রাহমান
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে,
পানি টলটল মেঘনা নদীর কাছে,
আমার অনেক ঋণ আছে।' - পঙ্‌ক্তিগুলো রচনা করেছেন - শামসুর রাহমান। 
- পঙ্‌ক্তিগুলো 'স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে' নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।  

স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে - কবিতা, 
- শামসুর রাহমান। 

স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে
পানি টলটল মেঘনা নদীর কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।
বকের ডানায় ছাওয়া চরের কাছে
চাঁদ জাগা বাঁশ বাগানের কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।।

যখন হাওয়ায় উড়ে কালো হলদে পাখি
আমি কেবল মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকি
উড়ন্ত ঐ পাখির মালার কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।। (সংক্ষেপিত) 
----------------------- 
শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়। 

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,১৫৯.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  2. ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্‌  
  3. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  4. সৈয়দ অলিউল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা

'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,১৬০.
’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা ⎯ তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়। 
উল্লেখ্য,
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ⎯ পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ⎯ রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র, জাপান যাত্রী, জাভা যাত্রার পত্র, পারসো।
- সুফিয়া কামাল রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ⎯ সোভিয়েতের দিনগুলি।


• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৬১.
বুদ্ধদেব বসু কোন দশকের কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. বিশ দশকের
  2. ত্রিশ দশকের
  3. চল্লিশ দশকের
  4. পঞ্চাশ দশকের
সঠিক উত্তর:
ত্রিশ দশকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিশ দশকের
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- মৌলিনাথ,
- রাত ভরে বৃষ্টি,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনের খাতা ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৬২.
ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. চিত্রা
  2. কল্পনা
  3. বলাকা
  4. ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী
সঠিক উত্তর:
ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী
ব্যাখ্যা

• “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।                                                                                                                                      
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।

-  উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন।
- ‘মরণ’ কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ।

৬,১৬৩.
আহসান হাবীব এর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  2. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  3. রাত্রিশেষে
  4. ছায়া হরিণ
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। 

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৬৪.
'চৈতন্য-ভাগবত' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  2. বৃন্দাবন দাস
  3. জয়দেব
  4. লোচন দাস
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,১৬৫.
জসীম উদ্‌দীনের ‘কবর’ কবিতার দাদু শাপলার হাটে কী বেচাকেনা করতেন?
  1. শাপলা
  2. ধান
  3. শসা
  4. তরমুজ
সঠিক উত্তর:
তরমুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরমুজ
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙক্তি আছে।
- এটি কবি জসীম উদ্‌দীনের বহুল পঠিত ও নন্দিত কবিতা।
- এটি একটি শোক-প্রকাশক কবিতা।

'কবিতা' কবিতার অংশবিশেষ- কবর, 
লেখক: জসীম উদ্‌দীন।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু’পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর; 'কবিতা' কবিতা; এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৬৬.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প-
  1. কালিন্দী
  2. ডাক-হরকরা
  3. রাধা
  4. ধাত্রীদেবতা
সঠিক উত্তর:
ডাক-হরকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক-হরকরা
ব্যাখ্যা
• 'ডাক-হরকরা' গল্প:
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত গল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। ঐ বছর বৈশাখে তাঁর 'ছলনাময়ী' গল্পগ্রন্থ বেরোয়। 

- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। এর আগেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় (যেমন, পূর্ণিমা, কল্লোল, উপাসনা, কালি-কলম, উত্তরা নবশক্তি, ভারতবর্ষ, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি দেশ, প্রবাসী প্রভৃতি) তাঁর ৫৩টি গল্প বেরিয়েছে।

- এদের মধ্যে 'রসকলি', 'রাইকমল', 'ডাইনীর বাঁশী', 'মেলা', 'আখড়াইয়ের দীঘি', 'নারী ও নাগিনী', 'তারিণী মাঝি'-র মতো বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গল্পও আছে। 'ডাক হরকরা' গল্পটি প্রকাশের আগেই গল্পকার হিসেবে তারাশঙ্কর খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ছোটগল্পের আর্ট তাঁর আয়ত্তে এসেছে।

---------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৬৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'যখন উদ্যত সঙ্গীন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - 
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. হাসান হাফিজুর রহমান 
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান 
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'যখন উদ্যত সঙ্গীন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হাসান হাফিজুর রহমান। 

• হাসান হাফিজুর রহমান:

- হাসান হাফিজুর রহমান (জুন ১৪, ১৯৩২ – এপ্রিল ১, ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন। 
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,  
- মূল্যবোধের জন্য,  
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,  
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

তথ্যসূত্র:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,১৬৮.
‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত -
  1. ছোটগল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত - উপন্যাস।

আবু জাফর শামসুদ্দীন:

- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৬৯.
বৈষ্ণব পদাবলিতে প্রধান নায়িকা কে?
  1. ক) বিশাখা
  2. খ) ললিতা
  3. গ) চন্দ্রাবলি
  4. ঘ) শ্রীরাধা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীরাধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীরাধা
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।
• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার আটটি অবস্থা। যথা: 
১. অভিসারিকা
২. বাসকসজ্জা
৩. উৎকণ্ঠিতা
৪. বিপ্রলব্ধা
৫. খণ্ডিতা
৬. কলহান্তরিতা
৭. প্রোষিতভর্তৃকা ও
৮. স্বাধীনভর্তৃকা

• যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যাঁর রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং প্রেমে কৃষ্ণ বশীভূত, তাকে বলা হয় ‘সমর্থা’ নায়িকা। বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি ‘সমর্থা’ নায়িকা, এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৭০.
কোন উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) জলোচ্ছ্বাস
  2. খ) সংশপ্তক
  3. গ) টানাপোড়েন
  4. ঘ) সারেং বৌ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারেং বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারেং বৌ
ব্যাখ্যা
- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

- 'সারেং বৌ' (১৯৬২) তাঁর রচিত আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

- 'সংশপ্তক' (১৯৬৫) তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন  ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।

- 'রাজবন্দীর রোজনামচা' তাঁর রচিত স্মৃতিকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,১৭১.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আহসান হাবীব
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আহসান হাবীব।
- এটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।
- তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- আশায় বসতি,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৭২.
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসে কোন সম্প্রদায়ের চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. ক) চাকমা সম্প্রদায়ের
  2. খ) সাঁওতাল সম্প্রদায়ের
  3. গ) কাহার সম্প্রদায়ের
  4. ঘ) ডোম সম্প্রদায়ের
সঠিক উত্তর:
গ) কাহার সম্প্রদায়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাহার সম্প্রদায়ের
ব্যাখ্যা
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- উপন্যাসে বীরভুমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। 
- একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আরেকটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত। 

--------------------
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়(১৮৯৮-১৯৭১) ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। 
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্কর প্রায় দুশো গ্রন্থ রচনা করেন।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২),
- ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯),
- কালিন্দী (১৯৪০),
- গণদেবতা (১৯৪৩),
- পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪),
- কবি (১৯৪৪),
- আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩)
- একটি কালো মেয়ের কথা (১৯৭১) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৭৩.
"ডাক ও খনার বচন"- কোন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগ
ব্যাখ্যা

• ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তবে এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। 
- ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।
- ডাক ও খনার বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

৬,১৭৪.
সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'র মুখবন্ধ লেখেন -
  1. জসীম উদ্দিন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'সাঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা/মুখবন্ধ লিখেছিলেন ⎯ কাজী নজরুল ইসলাম।
- উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
 
- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে ।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে।
----------------------- 
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’- এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 
 
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
৬,১৭৫.
আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি ছিলেন-
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে প্রেমের ফুল; প্রেমের বাণী; প্রেম-পারিজাত; মন্দাকিনী-ধারা; ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ প্রকাশিত হয়।
- সম্প্রতি বাংলা একাডেমি কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খণ্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,১৭৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি কার সৃষ্টিকর্ম?
  1. মাহমুদুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. শহীদুল জহির
  4. আবু বকর সিদ্দিক 
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি মাহমুদুল হকের লেখা। 

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ঢাকার রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় নিয়ে লেখা। এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবন, আবেগ এবং মানসিক দ্বন্দ্বের গল্প। গল্পের চরিত্রের নামগুলো: জাহেদুল করিম (খোকা), রঞ্জু, মুরাদ, লুলু চৌধুরী, ইয়াসিন, রহমান। গল্পের মূল চরিত্র জাহেদুল করিম (খোকা) একজন সাধারণ যুবক। তিনি রাজনীতি নিয়ে কম চিন্তা করে এবং নিজের সুবিধা বা নিরাপত্তায় বেশি মনোযোগ দেয়। এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এবং চলাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভয়, দ্বিধা, সুবিধাবাদ এবং আবেগের মধ্যে জীবন যাপন করে। 

--------------------- 
• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত কথাশিল্পী, ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৬ নভেম্বর ১৯৪১ সালে বারাসাত, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তার স্বতন্ত্র লেখনশৈলী, তীক্ষ্ণ শব্দচয়ন এবং মানুষের জীবন ও সমাজের গভীর বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা জন্য পরিচিত।
- তাঁর লেখায় মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২১ জুলাই ২০০৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘কালো বরফ’,
- ‘জীবন আমার বোন’ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- ‘মাটির জাহাজ’,
- ‘খেলাঘর’ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- 'অনুর পাঠশালা', 
- 'অশরীরী।' 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
কালি ও কলম। 

৬,১৭৭.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. সংশপ্তক
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. বন্দী শিবির থেকে
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ 'বন্দি শিবির থেকে' গ্রন্থটির রচয়িতা: 'শামসুর রাহমান'।  
----------------- 
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
--------------------------
• 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি, 
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।
------------------------
• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৭৮.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বাগদাদের কবি
  2. রাজা উপাখ্যান
  3. তস্কর নস্কর
  4. আমলার মামলা
সঠিক উত্তর:
রাজা উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত নাটক:
- আমলার মামলা,
- তস্কর নস্কর,
- বাগদাদের কবি,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১৭৯.
প্রহসন বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের নাট্যধারা?
  1. আদি যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. পাল যুগ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
প্রহসন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাট্যধারা।

• আধুনিক যুগের সাহিত্য:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।
- এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যানকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র-সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।
- আধুনিক যুগের সাহিত্যকীর্তির বিস্তৃতির কারণে এ যুগের সামগ্রিক সাহিত্যসৃষ্টির পরিচয় প্রদান প্রায় অসম্ভব।
- উপন্যাস, ছোটগল্প, রম্যরচনা এবং আধুনিক রীতির কবিতা ও নাটকের সম্ভারে আজ বাংলা সাহিত্য বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য ভাণ্ডার।
- মহাকাব্যের ধারায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত, উপন্যাসের ধারায় বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র থেকে হাল আমলের সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, কবিতায় নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ থেকে শামসুর রাহমান, জয় গোস্বামী, নাটকে দ্বিজেন্দ্রলাল থেকে বিজন ভট্টাচার্য, সেলিম আলদীন প্রমুখ অসংখ্য রচনাকারের নামই উল্লেখ করা যায়।
- সর্বযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দনাথও তো এই আধুনিক যুগেরই ফসল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬,১৮০.
বাংলার প্রাচীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল?
  1. ক) মঙ্গোলীয়
  2. খ) ককেশীয়
  3. গ) অষ্ট্রেলীয়
  4. ঘ) নিগ্রীয়
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্ট্রেলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্ট্রেলীয়
ব্যাখ্যা
বাংলার প্রাচীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে অষ্ট্রেলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।
- জাতিতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর প্রতিটির কোনো না কোনো শাখার  আগমন ঘটেছে বাংলায়। 
- বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি।
- নরগোষ্ঠীগুলি হলো নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়। 
- বাংলাদেশের সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী প্রভৃতি আদি অষ্ট্রেলীয়দের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 
 - এই আদি জনগোষ্ঠীগুলি দ্বারা নির্মিত সমাজ ও সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে আর্যদের  আগমনের পর। 
- বাংলাদেশের জনপ্রবাহে মঙ্গোলীয় রক্তেরও পরিচয় পাওয়া যায়।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮১.
'কঙ্ক ও লীলা' পালার রচয়িতা কে?
  1. ক) দামোদার দাস
  2. খ) শ্রীনাথ বেনিয়া
  3. গ) নয়াচাঁদ ঘোষ
  4. ঘ) সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবাই
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

'কঙ্ক ও লীলা' পালার রচয়িতা একজন নন। 
- দামোদার দাস, 
- রঘুসুত, 
- শ্রীনাথ বেনিয়া
- নয়াচাঁদ ঘোষ 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৮২.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস-
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. চৈতালী ঘূর্ণি
  4. পঞ্চগ্রাম
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৮৩.
কাজী নজরুল ইসলামের রচনাবলি প্রথম সম্পাদনা করেন-
  1. আনিসুজ্জামান
  2. আবদুল কাদির
  3. আবদুল হক
  4. রফিকুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের রচনাবলি প্রথম সম্পাদনা করেন-- আবদুল কাদির।

• আবদুল কাদির:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দসিক, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন  কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭),

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- ছন্দসমীক্ষণ (১৯৭৯),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত (১৯৮৫),
- যুগকবি নজরুল (১৯৮৬) ইত্যাদি।

• আবদুল কাদির বেশসংখ্যক রচনাবলি সম্পাদনার কৃতিত্ব অর্জন করেন,
যেমন:
- কাব্যমালঞ্চ (যুগ্মভাবে, ১৯৪৫),
- এয়াকুব আলী চৌধুরী রচনাবলী ,
- নজরুল রচনাবলী (৫ খণ্ড, ১৯৬৬-১৯৮৪),
- শিরাজী রচনাবলী ,
- কাজী ইমদাদুল হক রচনাবলী ,
- আবুল হুসেন রচনাবলী,
- লুৎফর রহমান রচনাবলী,
- রোকেয়া রচনাবলী,
- বাংলা সনেট (১৯৭৪) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১৮৪.
'A Code of Gento Laws' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
A Code of Gento Laws:
- হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gento Laws।
- গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন।
- পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- কাজেই এটি ছিল একটি ত্রি-স্তরীয় কাজ, যদিও প্রথম দুই স্তরের পণ্ডিতদের নাম গ্রন্থে উল্লিখিত হয়নি।
- পরবর্তী দশকে এ গ্রন্থটির কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- ফরাসি ও জার্মান ভাষায়ও এর অনুবাদ হয়।
- এর মাধ্যমেই বয়স তিরিশে পৌঁছার আগেই হ্যালহেডের খ্যাতি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।
--------------------------------------------
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা  ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও  বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও  অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি ১৭৭২ সালে  কলকাতায় এসে পৌঁছান এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে রাইটার হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরি নেন।
- সাহিত্যিক গুণের অধিকারী হওয়ার কারণে হ্যালহেড অচিরেই গভর্নর Warren Hastings-এর বন্ধুতে পরিণত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮৫.
১৯২১ সালে ভারত সরকার দীনেশচন্দ্র সেনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার
  2. লোক-সাহিত্যবিশারদ
  3. বাংলার মিল্টন
  4. রায়বাহাদুর
সঠিক উত্তর:
রায়বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়বাহাদুর
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তাঁর জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোশিপ’ পেয়ে (১৯১৩) তিনি মৈমনসিংহ-গীতিকাসহ পূবর্ববঙ্গ-গীতিকা (চার খন্ড, ১৯২৩-১৯৩২) এবং এর ইংরেজি ভাষ্যে Eastern Bengal Ballads (চার খন্ড, ১৯২৩-১৯৩২) সংকলন ও সম্পাদনা করেন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য বিলুপ্তি থেকে উদ্ধার এবং এ সাহিত্য বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে গ্রন্থ প্রণয়নে তিনি অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয়,
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য,
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য,
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড),
-আশুতোষ-স্মৃতিকথা,
- বাংলার পুরনারী,
প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান।

অন্যদিকে, 
• বাংলার মিল্টন বলা হয় হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮৬.
কোনটি ইব্রাহিম খাঁর গ্রন্থ নয়?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর গল্প
  3. গ) কুঁচবরণ কন্যা
  4. ঘ) সোনার শিকল
সঠিক উত্তর:
গ) কুঁচবরণ কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুঁচবরণ কন্যা
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক - আনোয়ার পাশা, ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, গল্প- সোনার শিকল আর বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- কুঁচবরণ কন্যা।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
৬,১৮৭.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. লক্ষ্মণ সেনের রাজসভা
  2. মিথিলার রাজসভা
  3. কৃষ্ণনগর রাজসভা
  4. আরাকান রাজসভা
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণনগর রাজসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণনগর রাজসভা
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
- অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি।
- তিনি 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’।
- ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির রচয়িতা তিনি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮৮.
'লিপিমালা' পত্রসাহিত্য কে রচনা করেছেন?
  1. রামরাম বসু
  2. উইলিয়াম কেরী
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার
  4. চণ্ডীচরণ মুন্সী
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।


ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো
হলো:
- উইলিয়াম কেরী: কেরি রচিত: কথোপকথন; ইতিহাসমালা।
- রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা।
- গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা।
- তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
- রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত: তোতা ইতিহাস।
- হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮৯.
নিচের কোন কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলা্মের অগ্নি-বীণা কাব্যের অন্তর্গত নয়?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) আগমনী
  3. গ) নারী
  4. ঘ) কামালপাশা
সঠিক উত্তর:
গ) নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নারী
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- নারী

- বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'নারী' কবিতাটি ‘সাম্যবাদী’ কাব্যের অন্তর্গত।

 অগ্নি-বীণা কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
প্রলোয়ল্লাস
বিদ্রোহী
রক্তাম্বর-ধারিণী মা
আগমণী
ধূমকেতু
কামাল পাশা
আনোয়ার
রণভেরী
শাত-ইল-আরব
খেয়াপাড়ের তরণী
কোরবানি
মোহররম ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য  জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,১৯০.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' - চরিত্র দুটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. বড়দিদি
  2. শেষের পরিচয়
  3. চরিত্রহীন
  4. শ্রীকান্ত
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। তার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।
৬,১৯১.
কোনটি ইব্রাহীম খাঁর গ্রন্থ নয়?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর পথ
  3. গ) কুচবরণের কন্যে
  4. ঘ) সোনার শিকল
সঠিক উত্তর:
গ) কুচবরণের কন্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুচবরণের কন্যে
ব্যাখ্যা
• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক - আনোয়ার পাশা।
- ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র।
- গল্প - সোনার শিকল।

• অন্যদিকে,
বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- কুঁচবরণ কন্যা।

উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬,১৯২.
'আবোলতাবোল' ছড়াগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

• সুকুমার রায় একজন বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে 'ননসেন্স রাইমের' প্রবর্তক।
• তিনি 'সন্দেশ' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মঃ
- আবোলতাবোল (ছড়াগ্রন্থ),
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- ব্যাঙের সমুদ্র দেখা,
- খাইখাই, ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,১৯৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে লুইপার গুরু কে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. সরহপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ শবরপাকে লুইপার গুরু বলে উল্লেখ করেছেন। 

লুইপা: 

- প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন লুইপা।
- লুইপা পদ দুইটি রচনা করেন।

শবরপা:
- ড. শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৯৪.
মনসা দেবীকে নিয়ে বিজয়গুপ্তের লেখা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্য নাম কী?
  1. মনসা দেবী 
  2. পদ্মপুরাণ
  3. পদ্মাবতী
  4. মনসাবিজয়
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল: 
- বিজয়গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগীয় মনসামঙ্গল কাব্যের একজন সর্বাধিক পরিচিত ও জনপ্রিয় কবি। 
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যের পূর্ণাঙ্গ রচয়িতা।
- মনসামঙ্গল মূলত দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। 
- এই কাব্যটি গল্পরস, করুণরস ও হাস্যরসের প্রয়োগ, চরিত্রচিত্র এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উপস্থাপনায় সমৃদ্ধ।
- বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামে পরিচিত।   



উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬,১৯৫.
কোন কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলামকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়?
  1. সর্বহারা 
  2. সাম্যবাদী
  3. প্রলয় শিখা
  4. অগ্নিবীণা 
সঠিক উত্তর:
প্রলয় শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

• 'প্রলয় শিখা' কাব্যগ্রন্থ:
- প্রলয় শিখা কাজী নজরুল ইসলামের রচিত ষোড়শ কাব্যগ্রন্থ। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে ৫০/২ মসজিদ বাড়ি স্ট্রিট, কলিকাতা থেকে গ্রন্থাকার কর্তৃক প্রলয়-শিখা প্রকাশিত হয়।
 
- প্রলয়-শিখা-র জন্য নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত আদালতের রায়ে নজরুলের ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ হয়, নজরুল হাইকোর্টে আপিল ও জামিন লাভ করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসুমূহ হলো:
- অগ্নিবীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- প্রলয় শিখা,
- নির্ঝর,
- ভাঙার গান,
- সর্বহারা,
- শেষ সওগাত,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'প্রলয় শিখা' কাব্যগ্রন্থ। 

৬,১৯৬.
নিচের যে উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজ জীবনের চিত্র প্রাধান্য লাভ করেনি-
  1. গণদেবতা
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. সীতারাম
  4. পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
সীতারাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীতারাম
ব্যাখ্যা
• গ্রামীণ সমাজ জীবনের চিত্র প্রাধান্য লাভ করেনি- ‘সীতারাম’ উপন্যাসে। 

• ‘সীতারাম’ উপন্যাস:

- 'সীতারামে'র বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র সীতারামকে ঐতিহাসিক ব্যক্তি স্বীকার করেও, তাঁর উপন্যাসের সীতারামের অনৈতিহাসিকতা মেনে নিয়েছেন; কারণ, তিনি স্পষ্টই বলেছেন গ্রন্থের উদ্দেশ্য অন্য।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস সীতারাম। এতে এক ব্যক্তির পারিবারিক জীবন প্রাধান্য পেয়েছে।

----------------------------
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।


• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি। সমাজ জীবনের চিত্র প্রাধান্য এই উপন্যাসে।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• ‘গণদেবতা’ উপন্যাস:
গনদেবতা উপন্যাসের কাহিনি গ্রাম জীবন থেকে নির্বাচিত হয়েছে। গ্রামীণ জীবনের নিস্তরঙ্গ পরিবেশে অধিবাসীরা পুরনো ধান-ধারণা, রীতিনীতি; বিশ্বাস ও সংস্কার মেনেই জীবনযাপণ করে। আধুনিক অবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রামীণ ভূস্বামী ও মহাজনদের অত্যাচার ও শোষণে তাদের জীবনে আসে বিপর্যের ঘনঘটা সেটাই এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ করা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্ররা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীভুক্ত; চাষী ও গৃহস্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘গণদেবতা’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া
৬,১৯৭.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. সধবার একাদশী
  4. এর উপায় কি?
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• 'একেই কি বলে সভ্যতা':
- প্রহসনে তৎকালীন নব্যবঙ্গীয় সম্প্রদায়ের সুরাপান এবং ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
- বেলগাছিয়া নাট্যশালায় অভিনয়ের জন্য মধুসূদন যে দুটো প্রহসন রচনা করেন ‘একেই কি বলে সভ্যতা' তার একটি।
- প্রকাশিত হয়েছে ১৮৬০ সালে।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র - 
- নবকুমার,
- কালীনাথ,
- তীয় বাবাজী,
- নিতম্বিনী,
- কর্তামশাই,
- প্রসন্নময়ী,
- পয়োধরী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- এর উপায় কি? প্রহসনটি মীর মশাররফ হোসেন রচনা করেন।
- “বিয়ে পাগলা বুড়ো”, “সধবার একাদশী” প্রহসনটির রচয়িতা- দীনবন্ধু মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৬,১৯৮.
কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. মাহেনও
  2. সওগাত
  3. ধূমকেতু
  4. কালিকল
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান    ছিল।
- এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু'।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

অন্যদিকে,
 - 'মাহে নও'  একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৯৪৯ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৭১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়। আবদুর রশিদ এর প্রথম প্রকাশক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- 'সওগাত' পত্রিকা - ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কালিকলম  সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)। মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,১৯৯.
নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কাকতাড়ুয়া
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  4. যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
কাঁটাতারে প্রজাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁটাতারে প্রজাপতি
ব্যাখ্যা

• 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাস:
- সেলিনা হোসেনের 'কাটাতারে প্রজাপতি' [১৯৮৯] নাচোলের তেভাগা আন্দোলন ও তার কিংবদন্তিতুল্য সংগঠক ও নেত্রী ইলা মিত্রকে নিয়ে লেখা ইতিহাস-নির্ভর জীবনী-উপন্যাস।

- এ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু নাচোলের কৃষক বিদ্রোহের নেত্রী ইলা মিত্র। সেলিনা হোসেনের 'কাঁটাতারে প্রজাপতি'তে ঐতিহাসিক নায়িকাই উপন্যাসের আঙ্গিকে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছেন। জমিদার বাড়ির বউ ইলা মিত্রের তেভাগা আন্দোলনের নাচোল শাখার মুখ্য কর্তা রমেন মিত্রের সঙ্গে নাচোলের কৃষক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে সকলের ভালোবাসার রানিমা হয়ে ওঠার কাহিনি বিবৃত হয়েছে।

- ২৭টি অধ্যায়ে বর্ণিত 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে সুতো উৎপাদক আজমলের চিন্তাস্রোত বর্ণনা করে। আর কাহিনি শেষ হয়েছে রাজশাহী জেল হাসপাতালে মরণাপন্ন অবস্থায় থেকে আজমলের ইলা মিত্রের জবানবন্দি পাঠ ও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘটনার মাধ্যমে।

--------------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• 'যুদ্ধ' (১৯৯৮): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এ উপন্যাসে ১১ নম্বর সেক্টরের নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির প্রসঙ্গ এসেছে।'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• 'কাকতাড়ুয়া' (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন।
• 'যাপিত জীবন' (১৯৮১): এ উপন্যাসে ১৯৪৭-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যাবতীয় ঘটনা কেন্দ্রীয় চরিত্র জাফর এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ। চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

উৎস: 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২০০.
'যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ' প্রবন্ধ সংকলনটি কার রচনা?
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ:
• বদরুদ্দীন উমরের এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধগুলি ১৯৭২ সালের প্রথম থেকে ১৯৭৪ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিলো। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও এগুলির মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা এবং ঐক্যসূত্র আছে।

লেখক জবানিতে-
সংকলনের প্রবন্ধগুলিতে আমি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পরবর্তী দুই বৎসরের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কতকগুলি সমস্যার পর্যালোচনা করেছি। এই পর্যালোচনার পরিধির মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যারই প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্ভব হয় নি। সেদিক থেকে সংকলনটির অপূর্ণতা অনস্বীকার্য। কিন্তু তবু আশা করি যে, এই ক্ষুদ্র পরিসরে সংক্ষিপ্তভাবে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির ওপর আলোচনা ও পর্যালোচনা এই প্রবন্ধগুলিতে করা হয়েছে তার থেকে পাঠকরা যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশের একটা সাধারণ ও সামগ্রিক চিত্রের সাথে পরিচিত হতে সক্ষম হবেন।

----------------
বদরুদ্দীন উমর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
-  যুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ' গ্রন্থ।