বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা / ২১১ · ৫০১৬০০ / ২১,১৩২

৫০১.
'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকা-
  1. ক) রুপা
  2. খ) সাজু
  3. গ) টুনি
  4. ঘ) রুপাই
সঠিক উত্তর:
খ) সাজু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাজু
ব্যাখ্যা
• 'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকা - সাজু
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ই. এম. মিলফোর্ড।
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী। এই দুজনই ছিলেন বাস্তব চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৫০২.
রোসাঙ্গ রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি ছিলেন-
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. আলাওল
  3. দৌলত কাজী
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• দৌলত কাজী:
- আরাকান/রোসাঙ্গ রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
- তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত।

• আরাকান/রোসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য:
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপোষকতায় আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য 'পদ্মাবতী' ও 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছিলেন।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করীম খোন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৩.
সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করে রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. আর্তনাদ
  2. বনী আদম
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. দুই সৈনিক
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

• "ক্রীতদাসের হাসি" উপন্যাস:
শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫০৪.
বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রথম সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) রায়তের কথা
  3. গ) বীরবলের হালখাতা
  4. ঘ) আহুতি
সঠিক উত্তর:
গ) বীরবলের হালখাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা

বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়, প্রমথ চৌধুরীকে।
তিনি প্রথম চলিত ভাষায় 'বীরবলের হালখাতা' নামে গদ্য রচনা করেন। যা ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
সবুজপত্র, ১৯১৪ সালে প্রকাশিত প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা।
আহুতি, প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ।
রায়তের কথা, প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৫০৫.
নিচের কোনটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত প্রবন্ধ?
  1. দুইয়ে দুইয়ে চার
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. এক পথ দুই বাক
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি':
- নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' একটি প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনীনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।

- লেখিকা বইটিতে সাত জন বীরাঙ্গণা নারীর কথা বলেছেন যারা ভিন্ন ভিন্ন পারিবারিক অবস্থা থেকে এসেছে। দর্জির মেয়ে আছে, গ্রামের বিত্তশালী কৃষকের মেয়ে আছে আবার শহরের উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিবিদের মেয়ে আছে। তবে এই বীরাঙ্গণাদের মধ্যে একটি মিল হচ্ছে তারা জীবন যুদ্ধে কেউই পরাজিত হয়নি।
- যাদের দুঃখ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।

----------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
 - শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহিম।
- তাঁর জন্ম ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে। 
 
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- দুইয়ে দুইয়ে চার। 
- যে অরণ্যে আলো নেই (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)।
- রোদজ্বলা বিকেল।
- সূর্যাস্তের পর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে।
- এক পথ দুই বাক।
- কেয়াবন সঞ্চারিনী।
- বহ্নিবলয়।

গল্প: 
- রমনা পার্কে।

প্রবন্ধ: 
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।
- শরৎ প্রতিভা।
- বাংলার কবি মধুসূদন (১৯৬১)।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক।
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছদিত কন্যা আমি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' প্রবন্ধ।

৫০৬.
‘হুইটম্যানের কবিতা’ বাংলায় অনুবাদ করেন-
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সিকান্দার আবু জাফর
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান রচিত অনুবাদ গ্রন্থঃ হুইটম্যানের কবিতা, ইডিপাস ইত্যাদি। তার অন্যান্য কাব্যঃ অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, উচ্চারণ, সমুদ্রেই যাবো ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৫০৭.
মধ্যযুগে কোন শতক থেকে অনুবাদের ধারাটির সূত্রপাত লক্ষ করা যায়?
  1. চৌদ্দ
  2. পনের
  3. ষোল
  4. সতের
সঠিক উত্তর:
পনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনের
ব্যাখ্যা
অনুবাদ সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সমগ্র সৃষ্টিকে অনুবাদ ও মৌলিক এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা চলে।
- অনুবাদ শাখা মধ্যযুগের ব্যাপক পরিসর জুড়ে আছে।
- পনের শতক থেকে অনুবাদের ধারাটির সূত্রপাত লক্ষ করা যায়।
- অনুবাদ শাখার মধ্যে এক শ্রেণির সাহিত্য সংস্কৃত থেকে অনূদিত যেমন রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত ইত্যাদি।
- অনুবাদজাতীয় সাহিত্যসৃষ্টি হিসেবে মুসলমান কবিগণের প্রণয়োপাখ্যান কাব্যের কথাও এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। 
- পনের শতকের কবি শাহ মুহম্মদ সগীর এ ধারার সূত্রপাত করেন।
- মুসলমান কবি রচিত প্রণয়োপাখ্যান কাব্যগুলো ফারসি হিন্দি প্রভৃতি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।
- মুসলমান কবিগণের কেউ কেউ নিজস্ব ধর্মীয় সাহিত্য রচনা করেছিলেন। সেগুলো আরবি ফারসি থেকে অনূদিত।
- এ সব কাব্য রচনাকালে কবিরা মূলের প্রতি যে গভীর আনুগত্য দেখিয়েছেন তা নয়, বরং তাঁরা মৌলিক রচনার বৈশিষ্ট্য এগুলোর মধ্যে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫০৮.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দিয়েছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহাম্মাদ শহিদুল্লাহ 
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ভাষাচার্য উপাধি দিয়েছেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
---------------------------------------------- 
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা করেছেন।
- ভাষা নিয়ে তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্মে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ভাষাচার্য উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তাছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘Origin and Development of the Bengali Language; 
- Bengali Phonetic Reader;
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা;
- পশ্চিমের যাত্রী;
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা;
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ;
- ভারত সংস্কৃতি;
- সংস্কৃতি কী;
- রবীন্দ্রসঙ্গমে,
- ইউরোপ ভ্রমণ,
- Languages and Literatures of Modern India;
- World Literature and Tagore;
- দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫০৯.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. শওকত ওসমান
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা

'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা; বাংলাপিডিয়া।

৫১০.
আধুনিক যুগের কোন সাহিত্যিককে 'অবক্ষয়' যুগের কবিও কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সজনীকান্ত দাস
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।

- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তে মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বা 'অবক্ষয় যুগ' এর কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৫১১.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র-
  1. সমাচার দর্পণ
  2. দিগ্‌দর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌দর্শন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র- দিগ্‌দর্শন।

দিকদর্শন: 
- প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র “দিগ্‌দর্শন” (প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা)।
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক ১৮১৮ সালে শ্রিরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।  
---------------------
অন্যদিকে,
• সমাচার দর্পণ: 
- “সমাচার দর্পণ” শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান  কর্তৃক সম্পাদিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।  
- প্ত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ২৩শে মে, ১৮১৮ সালে।   

• সংবাদ প্রভাকর: 
- বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা- “সংবাদ প্রভাকর” ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫১২.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ইউনেস্কোতে কর্মরত কোন সাহিত্যিক বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ার ক্ষেত্রে কাজ করেন?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্‌
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) শামসুর রহমান
  4. ঘ) আহমেদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ্‌ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ইউনেস্কোতে কর্মরত ছিলেন এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কাজ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫১৩.
মেঘনাদবধ কাব্যে মোট কতটি সর্গ আছে?
  1. ৯টি 
  2. ১১টি 
  3. ৭টি 
  4. ৫টি 
সঠিক উত্তর:
৯টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি 
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্যে মোট ৯টি সর্গ আছে। 
----------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ২৫ জানুয়ারি, ১৮২৪ সালে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর জন্মস্থান ছিল-  যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদ তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার উকিল, এবং মা জাহ্নবী দেবী।
- তিনি ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হয়ে বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন। 
- কলেজ থাকাকালীনই তিনি কবিতা রচনা শুরু করেন।

- তাঁর কবিতা নানা পত্রিকায় প্রকাশিত হত, যেমন –
- জ্ঞানান্বেষণ,
- Bengal Spectator,
- Literary Gleamer,
- Calcutta Library Gazette,
- Literary Blossom,
- Comet ইত্যাদি।

- ১৮৪৩ সালে ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর তিনি ‘মাইকেল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পর ১৮৭৩ সালে কলকাতায় তিনি জীবনাবসান করেন।
-------------------------------- 
‘মেঘনাদবধ কাব্য’র খুঁটিনাটি:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।  
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।
- ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের মহাকাব্য। 

- ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মূলত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে রচিত।
- তবে কবি রাবণ ও মেঘনাদকে ট্রাজিক নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
- নয়টি সর্গে বিভক্ত এই কাব্যটিতে বীরত্ব, প্রেম, শোক ও বিচ্ছেদের সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে। 
- কাহিনীতে দেখা যায়, লঙ্কাপুরে মেঘনাদ ইন্দ্রকে পরাজিত করে;
- পরবর্তীতে নিরস্ত্র অবস্থায় লক্ষ্মণ তাকে হত্যা করে, এবং শেষমেষ মেঘনাদ-পত্নী প্রমীলা সহমরণে মৃত্যুবরণ করে।

- মধুসূদন প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে রাবণ ও মেঘনাদকে মহিমান্বিত করেছেন;
- এবং রাম-লক্ষ্মণকে প্রথাগত মহত্ত্ব থেকে বিচ্যুতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- এটি রামায়ণের আধুনিক ও পাশ্চাত্য প্রভাবমিশ্রিত এক নতুন রূপান্তর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৫১৪.
বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. দ্য ক্যাপটিভ লেডি
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য:
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- কাব্যটি মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৮৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৫.
Buddhist Mystic Songs এর সঙ্গে কার নাম জড়িত?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- Buddhist Mystic Songs চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদ।
- এটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন।
- প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। এই গ্রন্থে ৫০ টি পদ রয়েছে।
উৎস : Buddhist Mystic Songs.

৫১৬.
কবি দৌলত উজির বাহরাম খানের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. আসাউদ্দীন
  2. নেজাম শাহ সুর
  3. মোবারক খান
  4. হামিদ খান
সঠিক উত্তর:
আসাউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাউদ্দীন
ব্যাখ্যা

 দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৭.
নির্মলেন্দু গুণের জন্মস্থান কোথায়?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. নেত্রকোনা
  3. ময়মনসিংহ
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।


- তিনি মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
- তাঁর ডাকনাম ছিলো রতন। 
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবন, সমাজ-বাস্তবতা ও রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।
- নির্মলেন্দু গুণকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- সেই বছরই তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কারও পান।
- ২০০১ সালে তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া। 

অনুবাদ কবিতা:
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা। 

উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫১৮.
মনসামঙ্গলের আদিকবি -
  1. ময়ূর ভট্ট
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কানা হরিদত্ত
  4. মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গলের  আদি কবি-  কানা হরিদত্ত। 

• কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

 • মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫১৯.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অনল প্রবাহ
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. একক সন্ধ্যায় বসন্ত
  4. স্পেন বিজয় কাব্য
সঠিক উত্তর:
একক সন্ধ্যায় বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একক সন্ধ্যায় বসন্ত
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের 'The Rose' নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

অন্যদিকে, 
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২০.
কোন উপন্যাসে গ্রাম্য মুসলমান সমাজের করুণচিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) আনোয়ারা
  2. খ) জোহরা
  3. গ) বিষবৃক্ষ
  4. ঘ) পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
খ) জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জোহরা
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩)

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ১৮৬০ সালে নদীয়ার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কবি ও গদ্যশিল্পী।

- তিনি 'শান্তিপুরের কবি' নামে পরিচিত।
- কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'সময়' পত্রিকায় কিছুকাল সাংবাদিকতা করেন।
- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাকে ‘কাব্যকণ্ঠ' উপাধি দেয়।

উপন্যাস
- দরাফখান গাজী (১৯১৯)
- জোহরা (১৯২৯)।
(গ্রাম্য মুসলমান সমাজের এক করুণচিত্র এই উপন্যাসে অঙ্কিত হয়েছে। কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয়স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে কন্যার জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ গ্রন্থের উপজীব্য।)
- রঙ্গিলাবাঈ

কাব্য
- কুসুমাঞ্জলি (১৮৮১)
- অপূর্ব দর্শন (১৮৮৫)
- প্রেমহার (১৮৯৮)
- হযরত মুহম্মদ (১৯০৩)
- জাতীয় ফোয়ারা (১৯১২)
- ইসলাম সংগীত (১৯২৩)।

জীবনীগ্রন্থ
- মহর্ষি মনসুর (১৮৯৬)
- ফেরদৌসি চরিত (১৮৯৮)
- বড়পীর চরিত
- তাপস কাহিনী (১৯০৪, এতে সাতজন প্রখ্যাত আওলিয়ার জীবনকাহিনি রয়েছে)
- টিপু সুলতান (১৯৩১)।

গদ্যগ্রন্থ
- শাহনামা (১৯০৯, ফেরদৌসির শাহনামার প্রথমাংশের গদ্যানুবাদ)
- হাতেমতাই (১৯১৯)।

সম্পাদিত পত্রিকা
- লহরী (১৯০০)। শান্তিপুর থেকে প্রকাশিত মাসিক কবিতা পত্রিকা। এর প্রধান লেখক ছিলেন ডি.এল. রায়।
- মোসলেম ভারত (১৯২০)। এ পত্রিকার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম ব্যাপকভাবে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।


তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫২১.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আহমদ ছফা
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. হুমায়ূন আহমদ
  4. আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে 'রোববার' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৬/৮৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি। একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

• এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসে।
• ওসমানের বাবা থেকে যান ভারতে, বাবা বেঁচে আছে কি না তা-ও জানে না সে। সবকিছু থেকে সে এতটাই বিচ্ছিন্ন আর ছিন্নমূল যে ঢাকার ঘিঞ্জি গলির মধ্যে এক বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করাই তার জন্য যথাযথ হয়।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার,
- আলাউদ্দিন,
- আলতাফ,
- হাড্ডি খিজির,
- রানু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২২.
কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয় - 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬বঙ্গাব্দ) ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন ১৯৬০ সালে।
- পদ্মভূষণ হলো ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরষ্কার যা সরকার দ্বারা প্রদান করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব, একুশে পদক প্রদান করা হয় ১৯৭৬ সালে।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ 'তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা'।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'যুগবাণী'।
- প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'ব্যথার দান'। (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থও এটি।)
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নি-বীণা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৩.
'রাধা' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যের নায়িকা?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২৪.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের ভুপ্রকৃতি চিত্রায়িত হয়েছে?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' (১৯৫৪) শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি উপন্যাস। 
- এ উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দু;খ-দারিদ্র থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান প্রমুখ।

- শামসুদ্দীন আবুল কালাম 'মাহেনও' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- কাঞ্চনগ্রাম
- আলমনগরের উপকথা,
- জায়জঙ্গল,
- নবান্ন,
- সমুদ্রবাসর
- কাঞ্চনমালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৫.
'গেরিলা' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'গেরিলা' কবিতাটি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতা তুমি' এবং 'রক্তাক্ত প্রান্তরে' বিখ্যাত কবিতাগুলো এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

গেরিলা,
- শামসুর রাহমান

দেখতে কেমন তুমি?কী রকম পোশাক-আশাক
প'রে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?
পেছনে দেখাতে পারো জ্যোতিশ্চক্র সন্তের মতন?
টুপিতে পালক গুঁজে অথবা জবরজং, ঢোলা
পাজামা কামিজ গায়ে মগডালে এক শিস দাও
পাখির মতোই; কিংবা চা-খানায় বসো ছায়াচ্ছন্ন?

শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। এবং ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫২৬.
সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বনে মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫২৭.
'এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।' - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. ডাকঘর
  2. পোস্টমাস্টার
  3. অপরিচিতা
  4. হৈমন্তী
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি:

- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৮.
‘মাটির দেয়াল’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ‘মাটির দেয়াল’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - অমিয় চক্রবর্তী।

অমিয় চক্রবর্তী:

- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫২৯.
“স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো চারকোটি পরিবার”- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ঢাকায় নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার ভাঙার প্রতিবাদে লেখা।
- মহান একুশে নিয়ে এটি তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।

কবিতার কিছু অংশ নিম্নরূপ-

স্মৃতিস্তম্ভ
আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু,
আমরা এখনো চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে...

--------------------
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আলাউদ্দিন আল আজাদ জীবন সাহিত্য, সম্পাদনা সিকদার আবুল বাশার।
৫৩০.
দশারথি রায় কোন ধারার কবি?
  1. ক) কবিগান
  2. খ) টপ্পাগান
  3. গ) পাঁচালী গান
  4. ঘ) পুঁথিসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) পাঁচালী গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাঁচালী গান
ব্যাখ্যা
কবিগানের যুগে পাঁচালী গান নামে এক ধরনের গান প্রচলিত ছিল এবং এই ধারায় দশারথি রায় শক্তিশালী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন। 
- 'দাশু রায়' নামে তিনি খ্যাত ছিলেন। 
- তিনি নিজেই পাঁচালী দল বেঁধে গান গাইতেন। 
- তাঁর পাঁচালী-পালা ১০ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫৩১.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ?
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) ইতিহাসমালা
  3. গ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  4. ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ।
- 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি রচনা করেন - মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো: কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ।
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোর্তুগিজ।
- এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন।
- তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৩২.
হোমারের রচনার বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. হেক্টরবধ
  3. মেঘনাদবধ
  4. বীরঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
ব্যাখ্যা

• হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে 'মিলন' খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য' একটি পত্র কাব্য। পত্রাকারে এ ধরনের সাহিত্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩৩.
'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - 
  1. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  2. সুফিয়া কামাল
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয় ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয় ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩৪.
জ্ঞানদাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. জাহ্নবী দেবী
  3. অদ্বৈত আচা
  4. নিত্যানন্দ প্রভু
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৫৩৫.
ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন কাব্যে?
  1. অনল প্রবাহ
  2. উদ্বোধন
  3. উচ্ছ্বাস
  4. স্পেন বিজয় কাব্য 
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা

'অনল প্রবাহ' কাব্য:
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
• 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।

• 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
• ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
• প্রথম সংস্করণে কবিতাগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ-ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

• বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
• সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

----------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩৬.
"যবনিকা পতন” উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ইব্রাহীম খাঁ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
"যবনিকা পতন” উপন্যাস: 
- বুদ্ধদেব বসুর একটি অন্যতম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দে লেখা শুরু হয়।
- ১৯৩২ খ্রীষ্টাব্দে নভেম্বর মাস থেকে উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে "ভারতবর্ষ” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
"যবনিকা পতন" উপন্যাসটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত। প্রতিটি খণ্ডের আলাদা নামকরণ আছে।
- প্রথম খণ্ড দুই বন্ধু
- দ্বিতীয় খণ্ডঃ অঞ্জলী বসুর প্রেমোপাখ্যান।
- তৃতীয় খণ্ডঃ অতি-পুরাতন বিরহ-মিলন কথা।
------------------- 
বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি প্রকাশনা।
৫৩৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ ‘একাত্তরের ডায়রি’ এর রচয়িতা কে?
  1. এম আর আখতার মুকুল
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সুফিয়া কামাল
  4. শাহরিয়ার কবির
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
- একাত্তরের ডায়রি : সুফিয়া কামালের গ্রন্থ।
অন্যদিকে,
- একাত্তরের বর্ণমালা : এম আর আখতার মুকুল
- একাত্তরের দিনগুলি : জাহানারা ইমাম
- একাত্তরের যিশু : শাহরিয়ার কবির।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫৩৮.
‘মগের মুলুক’ - কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

• ‘মগের মুলুক’ ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা - গােবিন্দচন্দ্র দাস

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩৯.
'কবিতার কথা' জীবনানন্দ দাশ রচিত- 
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• ‘কবিতার কথা’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪০.
নয়নচারা কোন শ্রেণির রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
ক) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গল্প
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থঃ নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প। নাটকঃ বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি। উপন্যাসঃ লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪১.
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা

• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

অন্যদিকে,
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪২.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম পত্রিকার সম্পাদকের নাম কী?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শামসুর রাহমান
  4. গাজীউল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সম্পাদনা। এটি একটি সাহিত্য সংকলন তবে এর লেখাগুলো ৬টি বিভাগে বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

• সুতরাং এটিকে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম পত্রিকা সম্পাদনাও বলা যায়।

• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:

- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নক্শা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।
- প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৩.
আমার দেশের পথের ধূলা,
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি। - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• আমার দেশের পথের ধূলা,
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি।
- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'খাঁটি সোনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও 'খাঁটি সোনা কবিতা।
৫৪৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত গল্প কোনটি?
  1. একটি তুলসী গাছের কাহিনি
  2. বহিপীর
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. উজান মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
একটি তুলসী গাছের কাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি তুলসী গাছের কাহিনি
ব্যাখ্যা

একটি তুলসী গাছের কাহিনি:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত গল্প ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’।
- এই গল্পটি দুই তীর ও অন্যান্য গল্প গ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- গল্পটির মধ্যে ফুটে উঠে মানুষের জীবন যখন বিপন্ন ও অর্থহীন তখন তার পারিপার্শ্বিক অনষঙ্গসমূহও হয়ে পড়ে অর্থহীন।
- দেশবিভাগের নির্মম পরিণতিতে সর্বস্বান্ত মানুষের মানবিক মূল্যবোধেও পরিস্থিতির কাছে জিম্মি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪৫.
বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচিত হয়-
  1. ক) ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৫৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র  সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়। 

⇒ মুহম্মদ কবির:
• মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। 
• প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। 
• মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর  পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর 'ষোড়শী' নাটকটি কোন উপন্যাস অবলম্বনে রচিত?
  1. দেনা-পাওনা
  2. বিরাজবৌ
  3. পরিণীতা
  4. বামুনের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
দেনা-পাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনা-পাওনা
ব্যাখ্যা
• 'দেনাপাওনা' উপন্যাস:
- 'দেনাপাওনা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি অন্যতম রচনা।
- 'দেনাপাওনা' (১৯২৩) শরৎচন্দ্রের অন্যান্য উপন্যাসের মতোই নারীপুরুষের সম্পর্ক, নারীত্ব ও সতীত্বের ধারণার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র।
- কাহিনির নায়ক জীবনানন্দ শরৎচন্দ্রের সৃষ্ট চরিত্রগুলির অন্যতম।
- এই উপন্যাস 'ষোড়শী' ১৩২৭) নামে নাট্যায়িত হয় এবং মঞ্চে সাফল্যের সঙ্গে অভিনীত হয়।

------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- দত্তা,
- বিরাজ-বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- পল্লীসমাজ,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৭.
১৯৬৫ সালে সাহিত্যে আদমজি পুরস্কার পান-
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৪৮.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
গ) এস ওয়াজেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

• এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ:
- ভবিষ্যতের বাঙালি,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- জীবনের শিল্প,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- মোটর যোগে রাঁচী সফর,
- পশ্চিম ভারত।

• 'গ্রানাডার শেষ বীর' তাঁর রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫৪৯.
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি।" - কবিতাংশটুকু কোন কবিতার?
  1. বঙ্গভূমির প্রতি
  2. বঙ্গবাণী
  3. বঙ্গভাষা
  4. কপোতাক্ষ নদ 
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা
ব্যাখ্যা

• "হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি।" - কবিতাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এবং 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত। 

বঙ্গভাষা- কবিতা, 
 মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫০.
'পূরবী' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• 'পূরবী' উপন্যাসটি রচনা করেন - সিকান্দার আবু জাফর।
 
সিকান্দার আবু জাফর:
- তিনি সাহিত্যিক, সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।

সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু;
- জয়ের পথে;
- নবী কাহিনী;
- পূরবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫১.
ইব্রাহীম খাঁ রচিত 'বাতায়ন' কী ধরণের রচনা?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্মৃতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
প্রিন্সিপাল ,একজন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
 - তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশবস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
সেগুলির মধ্যে
- কামাল পাশা (১৯২৭),
- আনোয়ার পাশা (১৯৩৯),
- ঋণ পরিশোধ (১৯৫৫),
- আলু বোখরা (১৯৬০),
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র (১৯৫৪),
- ব্যাঘ্র মামা (১৯৫১) এবং
- বেদুঈনদের দেশে (১৯৫৬) প্রধান।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৫৫২.
সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. হেক্টরবধ কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. বিদ্যাসুন্দর কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
অন্যদিকে,
• কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে। সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী প্রত্যাশা করে সুন্দর পতির। এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর-পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেননি।

• ‘হেক্টরবধ’ (১৮৭১) হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ। মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়। হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৩.
কবি গােবিন্দদাস কার ভাবশিষ্য ছিলেন?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. শ্রীচৈতনাদেব
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি ছিলেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
• বিদ্যাপতির মতো ব্রজবুলি ভাষায় অলঙ্কার সমৃদ্ধ পদ রচনা করায় তাকে 'বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য' বলা হয়ে থাকে।

গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি।

উল্লেখ্য, 
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন এবং 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫৫৪.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প?
  1. স্বাধীনতার স্বাদ
  2. শহরতলী
  3. জননী
  4. সমুদ্রের স্বাদ
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের স্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের স্বাদ
ব্যাখ্যা
• 'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত- ছোটগল্প।
- এটি 'সমুদ্রের স্বাদ' গল্পগ্রন্থের প্রথম গল্প।

----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সমুদ্রের স্বাদ', মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
৫৫৫.
বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয় কখন?
  1. সতেরো শতকের শেষ দিকে
  2. আঠারো শতকের শেষ দিকে
  3. সতেরো শতকের শুরুর দিকে
  4. আঠারো শতকের শুরুর দিকে
সঠিক উত্তর:
আঠারো শতকের শেষ দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঠারো শতকের শেষ দিকে
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষ দিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৫৬.
সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. কীর্তিচন্দ্র
  3. মুনিদত্ত
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা:
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা যুক্ত করা হয়েছে। পুঁথিটি খণ্ডিত ছিল বলে টীকাকারের নাম পাওয়া যায় নি। পরে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী একই সংকলনের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তাতে টীকাকার হিসেবে মুনিদত্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবিষ্কৃত পুঁথিটি মুনিদত্তের মূল সংকলন গ্রন্থ নয়-এটি ছিল অনুলিপি অথবা অনুলিপির অনুলিপি।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন
চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৫৫৭.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. কালপুরুষ
  2. কুলায়
  3. স্বগত
  4. উত্তরফাল্গুনী
সঠিক উত্তর:
উত্তরফাল্গুনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরফাল্গুনী
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫৮.
চর্যাগীতি-সংগ্রহের প্রথম কবি কে?
  1. সবরপা 
  2. লুইপা 
  3. কাহ্নপা 
  4. শবরপা 
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি:
- চর্যাগীতি-সংগ্রহের প্রথম কবি লুই। শুধু পদসংখ্যার ক্রমানুসারেই নয়, তিব্বতী ঐতিহ্যে যে ৮৪ জন সিদ্ধাচার্যের নাম পাওয়া যায় লুই তাঁদের মধ্যেও আদিতম।

- নাথ ধর্মের ঐতিহ্যেও এই সিদ্ধগণ স্বীকৃত। সেক্ষেত্রে অবশ্য আদিসিদ্ধ মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। লুই শব্দটি সম্ভবত রোহিত শব্দ থেকে সৃষ্ট (রোহিত>রুইলুই), এই ব্যুৎপত্তি থেকে মীননাথের সঙ্গে লুইয়ের অর্থগত সঙ্গতি পাওয়া যায়। সুম্পা রচিত Pag samjon Zans (রচনাকাল ১৭৪৭ খ্রীঃ) -এ লুইকে শবরীপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মৎস্যের সঙ্গে নামের সংযোগের জন্যই বোধহয় এই সিদ্ধান্ত।

- তিব্বতী অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের তিনখানা বইয়ের নাম পাওয়া যায় 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্বঙ্গভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টি নাম'। প্রথম দুটি বই বিশুদ্ধ বৌদ্ধদর্শনের, তৃতীয়টি দোহা ও গানের কোষগ্রন্থ। অন্যান্য চর্যাকারদের মধ্যে কেউ কেউ গান ছাড়াও অন্য বই লিখেছেন, কিন্তু সেগুলি বৌদ্ধ তন্ত্রবিষয়ক, বিশুদ্ধ দর্শনের নয়। বাংলাদেশে যখন বৌদ্ধতন্ত্রধর্ম ব্যাপ্তি লাভ করেছিল তখন আচারের চেয়ে বিশুদ্ধ দর্শনচর্চা অনেকটা অপ্রচলিত হয়ে পড়েছিল। এদিক থেকেও বোঝা যায় যে লুই সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের গোড়ার দিককার লোক।

উৎস: চর্যাগীতি পরিক্রমা, ড. নির্মল দাশ। 

৫৫৯.
The Blood Telegram গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. মার্কাস গ্রান্ডা
  2. গ্যারি জে ব্যাস
  3. রিচার্ড সেশন
  4. পল ওয়ালেচ
সঠিক উত্তর:
গ্যারি জে ব্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যারি জে ব্যাস
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা বিষয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও অধ্যাপক গ্যারি জে ব্যাস রচিত বিখ্যাত বই হলো 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম : নিক্সন-কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগেটেবল জেনোসাইট'।
- এটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়৷
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি গণহত্যা বিষয়ে ঢাকায় কর্মরত তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিকট যে টেলিগ্রাম প্রেরণ করেন তা ব্লাড টেলিগ্রাম নামে পরিচিত।
- এই বিষয়ের আর্চার কে ব্লাড 'দ্য ক্রোয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ' নামে একটি বই লিখেন।

সূত্র: আমাজন এবং বিডিনিউজ২৪।
৫৬০.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতা কোনটি?
  1. ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. খ) কামনা পঞ্চবিংশতি
  3. গ) কঙ্কাবতী
  4. ঘ) পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
খ) কামনা পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কামনা পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতাগুলো হলোঃ রাখী, কালের শাসন, কামনা পঞ্চবিংশতি, নূতন রাধা ইত্যাদি।
-'কঙ্কাবতী' এবং 'পথে প্রবাসে' তার রচিত উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনী।
-'বেতাল পঞ্চবিংশতি' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬১.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কত সালে?
  1. ক) ১৯০১
  2. খ) ১৯১১
  3. গ) ১৮৯০
  4. ঘ) ১৯২৯
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০১
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (৩০ অক্টোবর ১৯০১ - ২৫ জুন ১৯৬০) বাংলা ভাষার একজন প্রধান আধুনিক কবি।
- বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম।
- তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়।
সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি -
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেষ্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫৩),
- দশমী (১৯৫৬)।

এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ আছে -
- স্বগত (১৯৩৮),
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি( ১৯৫৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৬২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. মাল্যদান
  2. মহেশ
  3. ব্যবধান
  4. অতিথি
সঠিক উত্তর:
মহেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহেশ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত নয়- মহেশ। 

• 'মহেশ' ছোটগল্প: 

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছোটগল্প 'মহেশ'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- গল্পের চরিত্র: গফুর, আমেনা, মহেশ, তর্করত্ন, জমিদার শিববাবু প্রমুখ।
- এ গল্পে 'মহেশ' একটি ষাঁড়ের নাম।

-----------------------
• "গল্পগুচ্ছ":
গল্পগুচ্ছ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের সংকলন। কবি ১২৯৮ থেকে ১৩৪০ বঙ্গাব্দের মধ্যে বেশিরভাগ গল্প লিখেছেন।[১] অখণ্ড সংস্করণে মোট ৯৫টি ছোট গল্প রয়েছে। উল্লেখযোগ্য গল্প ‌- পোস্টমাস্টার, ব্যবধান, হৈমন্তী, অতিথি, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, নষ্টনীড়, মাল্যদান, ফেল, কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

১৯০৮‌-১৯০৯ সালে ইন্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস ৫ খণ্ডে এগুলো প্রকাশ করে। তবে ১৩০৭ বঙ্গাব্দে মজুমদার লাইব্রেরি প্রকাশিত সংস্করণকেই প্রথম সংস্করণ হিসাবে গণ্য করা হয়। এ বই এর প্রচুর গল্পের উপর বিভিন্ন সময় নাটক তৈরি হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের বইগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

উৎস: "গল্পগুচ্ছ" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মহেশ' গল্প।

৫৬৩.
কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৯৯-১৮৭৩ খ্রীঃ
  2. ১৮৯৯-১৯৭২ খ্রীঃ
  3. ১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রীঃ
  4. ১৮৯৯-১৯৭৫ খ্রীঃ
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রীঃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রীঃ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৪ মে) জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৪.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. দুই সৈনিক
  3. যে অরণ্যে আলো নেই
  4. জলাংগী
সঠিক উত্তর:
যে অরণ্যে আলো নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে অরণ্যে আলো নেই
ব্যাখ্যা
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত উপন্যাসগুলো-
- দুই সৈনিক (১৯৭৩),
- নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩),
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- জলাংগী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৫.
গঠনগত দিক থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কী ধরনের রচনা?
  1. চম্পুকাব্য
  2. গানের সংকলন
  3. নাট্যগীতি
  4. রূপক কবিতা
সঠিক উত্তর:
নাট্যগীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাট্যগীতি
ব্যাখ্যা
• গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়।
- এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হত, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থের গঠন:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মূলত একটি যাত্রার পালা ছিল বলে মনে করা হয়। কাব্যটি সংস্কৃত গীতগোবিন্দের অনুরূপ গীতি এবং সংলাপবহুল নাট্যলক্ষণাক্রান্ত রচনা বলে তা নাট্যগীতিকাব্য হিসেবেও আখ্যাত হয়েছে। এ কাব্যে নাট্যরসাশ্রয়ী ঘটনা ও সংলাপ থাকলেও তা বর্ণনামূলক কাব্যের মর্যাদার অধিকারী। কোথাও কবি নিজে কাহিনির মধ্যে উপস্থিত থেকে সংলাপের সঙ্গে বর্ণনা যোগ করেছেন, আবার কোথাও সংস্কৃত শ্লোকের সাহায্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। গীতিসংলাপমূলক এই আখ্যানকাব্যে নাটকীয়তা বিদ্যমান।

--------------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র:
- কৃষ্ণ,
- রাধা,
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৫৬৬.
জাহানারা ইমাম কোন পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সাংবাদিকতা
  2. শিক্ষকতা
  3. আইন পেশা
  4. ডাক্তার
সঠিক উত্তর:
শিক্ষকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষকতা
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
- কর্মজীবনে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- একাত্তরের দিনগুলি (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ)
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫৬৭.
'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
ব্যাখ্যা

'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাস:
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) একটি উপন্যাস যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ লিখেছেন।
- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন "How to Cook Beans".
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৮.
‘গাজী মিয়ার বস্তানী’ গ্রন্থে লেখক নিজেকে কী নামে উল্লেখ করেছেন?
  1. মীর সাহেব
  2. গাজীমিয়া
  3. ভেড়াকান্ত
  4. হোসেন আলী
সঠিক উত্তর:
ভেড়াকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়াকান্ত
ব্যাখ্যা
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
-  'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'- মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

• মীর মশাররফ হোসেন: 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার- 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- বসন্ত কুমারী' নাট্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন- 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা৷
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- তার রচিত প্রহসন : 'এর উপায় কি?' 

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়, 

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- বিষাদ-সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৬৯.
নিচের কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) মহাপৃথিবী
  3. গ) সাতটি তারার তিমির
  4. ঘ) অর্কেস্ট্রা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্কেস্ট্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্কেস্ট্রা
ব্যাখ্যা
'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচনা করেন।

তাছাড়া, 
ঝরা পালক, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহন করেন।
- পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।
- তাঁর স্ত্রী রাজেশ্বরী বাসুদেব প্রসিদ্ধ গায়িকা ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী।
- অর্কেস্ট্রা।
- ক্রন্দসী।
- উত্তরফাল্গুনী।
- সংবর্ত।
- দশমী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত।
- কুলায় ও কালপুরুষ।

এছাড়াও 'প্রতিধ্বনি' নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭০.
'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র- 
  1. কুমুদিনী
  2. বিনোদিনী
  3. নিখিলেশ
  4. রাজলক্ষী
সঠিক উত্তর:
কুমুদিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমুদিনী
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র: 
- তাঁর 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী
- তাঁর চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- তাঁর 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র- বিমলা, নিখিলেশ, সন্দীপ।
- তাঁর গোরা উপন্যাসের চরিত্র- গোরা, বিনয়, সুচরিতা, ললিতা, লাবণ্য।
- তাঁর দুই বোন উপন্যাসের চরিত্র- শশাঙ্ক, শর্মিল, ঊর্মিলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার, রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।

৫৭১.
'রণভেরী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চক্রবাক
  2. মরুভাস্কর
  3. প্রলয়শিখা
  4. বিষের বাঁশি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। নএই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ল্যাবরেটরী
  2. সমাপ্তি
  3. ভিখারিণী
  4. দেনাপাওনা
সঠিক উত্তর:
ভিখারিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিখারিণী
ব্যাখ্যা

'ভিখারিণী' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘ভিখারিণী’ ১৮৭৪ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ,
- রবিবার,
- সমাপ্তি,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরী ও
- পোস্ট মাস্টার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৭৩.
কোথায় চর্যাপদ প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. সংস্কৃত কলেজ
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৫৭৪.
প্যারীচাঁদ মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

মাসিক পত্রিকা:
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র  ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে:
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা সম্পাদনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৭৫.
সুরঞ্জনা,
ঐখানে যেয়ো না তুমি বোলো নাকো কথা
ওই যুবকের সাথে - চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
সুরঞ্জনা,
ঐখানে যেয়ো না তুমি বোলো নাকো কথা
ওই যুবকের সাথে - চরণদ্বয়ের রচয়িতা জীবনানন্দ দাশের ‘সাতটি তারার তিমির’ কাব্যগ্রন্থের 'আকাশনীলা' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশ: 
- তিনি একজম কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক,,
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৬.
'নরকে লাল গোলাপ' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. মমতাজউদ্দিন আহমদ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক 'নরকে লাল গোলাপ'।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত। উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫৭৭.
গোরক্ষবিজয় সম্পাদনা করেন কে?
  1. আবদুল করিম
  2. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
  3. আলি আহমদ
  4. নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল করিম
ব্যাখ্যা

• ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
-  নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
-  আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।
 - এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম মীনচেতন এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে গোরক্ষবিজয় ও গোর্খবিজয়।
 -  গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পন্ডিত মহলে বিতর্ক আছে।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়। তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৭৮.
কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) পথ জানা নেই 
  2. খ) আলমগড়ের উপকথা
  3. গ) কাশবনের কন্যা
  4. ঘ) জায়জঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ক) পথ জানা নেই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পথ জানা নেই 
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম একজন কথাসাহিত্যিক।
১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গল্পগ্রন্থ: 
- অনেক দিনের আশা 
- ঢেউ 
- পথ জানা নেই 
- দুই হৃদয়ের তীর 
- শাহের বানু 
- পুঁই ডালিমের কাব্য 

তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫৭৯.
'চিত্রাঙ্গদা' কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  4. স্বরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
চিত্রাঙ্গদা:
- এটি মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রনয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি নাটক।
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে পৃথক।
- এই নাটকের নারী মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে।
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮০.
মঙ্গল কাব্যে কোন দেবীর কাহিনী আছে?
  1. ক) লক্ষীন্দর দেবী
  2. খ) পদ্মাবতী দেবী
  3. গ) মনসা দেবী
  4. ঘ) বেহুলা ও চাঁদসুন্দর
সঠিক উত্তর:
গ) মনসা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনসা দেবী
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা। মনসামঙ্গলের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫৮১.
আলাওলের হপ্তপয়কর কোন ভাষার কাব্যের অনুবাদ?
  1. ফারসি
  2. উর্দু
  3. হিন্দি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
'হপ্তপয়কর' কাব্য:
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। এটি আলাওল রচিত কাব্য।
- আরাকান রাজসভায় আলাওল এই কাব্য রচনা করেন। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি / ফারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮২.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের রচিয়তা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শওকত ওসমাস
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে মিলত হওয়ার গল্প এটি।
- একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
চরিত্র: ওসমান গণি, আনোয়ার, আলাউদ্দিন, আলতাফ, হাড্ডি খিজির, রানু প্রমুখ।
-------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থসমূহ- 
 
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭),
- খােয়াবনামা (১৯৯৬)।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)
 
ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬),
- খোয়ারি (১৯৮২),
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫),
- দোজখের ওম (১৯৮৯)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৩.
'নূরউদ্দীন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সোমেন চন্দ
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
• 'নূরউদ্দীন' উপন্যাসের রচয়িতা - সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- উচ্ছ্বাস, 
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা, 
- স্পেন বিজয় কাব্য, 
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী, 
- প্রেমাঞ্জলি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী, 
- তারাবাঈ, 
- ফিরোজা বেগম। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম, 
- তুর্কি নারী জীবন, 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা। 

ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৮৪.
‘হ-য-ব-র-ল’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ক) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
'হ-য-ব-র-ল' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- নেমেসিস, রূপান্তর, যদি এমন হতো, নয়া খান্দান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যেমন ইচ্ছা তেমন, ইত্যাদি।
তাছাড়া 'হ-য-ব-র-ল' নামে সুকুমার রায় রচিত একটি রম্যরচনা রয়েছে।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৮৫.
হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আগুনের পরশমনি
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. আয়োময়
সঠিক উত্তর:
আয়োময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োময়
ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে'।
- তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। 
- হিমু, মিসির আলী, শুভ্র চরিত্রে সৃষ্টি করেছেন তিনি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া (১৯৭৪),
- আগুনের পরশমণি (১৯৮৬),
- অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২),
- জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪)
- সূর্যের দিন প্রভৃতি।

স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:
শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩),
আনন্দ বেদনার কাব্য (১৯৮৪),
আমার আছে জল (১৯৮৫),
ফেরা (১৯৮৬),
নক্ষত্রের রাত (১৯৮৭),
ছায়াসঙ্গী (১৯৯০),
এই সব দিনরাত্রি (১৯৯০),
বহুব্রীহি (১৯৯০),
অয়োময় (১৯৯০),
গৌরীপুর জংশন (১৯৯০),
শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯০),
আশাবরী (১৯৯১),
অমানুষ (১৯৯১),
চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক (১৯৯১),
দুই দুয়ারী (১৯৯১),
কোথাও কেউ নেই (১৯৯২),
কবি (১৯৯৬),
মহাপুরুষ (১৯৯৬),
মেঘ বলেছে যাব (১৯৯৭),
মৃন্ময়ী (২০০১),
বৃষ্টি ও মেঘমালা (২০০১),
বাদশাহ নামদার (২০১১),
মেঘের ওপর বাড়ি (২০১২) প্রভৃতি।

- তাঁর মৃত্যু নিউইয়র্কে, ১৯ জুলাই ২০১২

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া

৫৮৬.
মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫৮৭.
বাংলা সাহিত্যে 'অন্ধকার যুগ' কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল?
  1. ১০০১-১২০০ সাল
  2. ১২০১-১৩৫০ সাল
  3. ১৩৫১-১৫০০ সাল
  4. ১৫০১-১৮০০ সাল
সঠিক উত্তর:
১২০১-১৩৫০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০১-১৩৫০ সাল
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।
- তুর্কি আক্রমণে বঙ্গীয় সমাজ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে মানুষ সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়।
- এ সময় রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া।)
- সেগুলো মূলত সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- ১২০১ খ্রী : বাঙ্গালা দেশে তুর্কি আক্রমণ হয়। সমস্ত বাঙ্গালা অধিকার করিতে প্রায় ১০০ বৎসর লাগে। শান্তি ও শৃঙ্খলা স্থাপিত হইতে আরও প্রায় ৫০ বৎসর কেটে  যায়।
- তুর্কি আক্রমণে বঙ্গীয় সমাজ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে মানুষ সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়।
- এই ১২০০ হইতে ১৩৫০ খ্রী : পর্যন্ত বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাসে এক শূন্য স্থান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।

৫৮৮.
একুশের প্রথম স্মরণিকা প্রকাশ করে-
  1. ক) বাংলা একাডেমি
  2. খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস
  3. গ) আওয়ামী লীগ
  4. ঘ) ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস
ব্যাখ্যা
ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাসের পক্ষ থেকে ১৯৫৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চার পৃষ্ঠার পুস্তিকা শহিদদের স্মরণে একুশের প্রথম স্মরণিকা। 
- শুরুতেই আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ওরে ভয় নাই/নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তাঁর ক্ষয় নাই।"
- স্মরণিকায় ছিল 'আমাদের কথা' ভুলি নাই রক্তরাঙ্গাএকুশের কথা' শিরোনামে দুটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৯.
গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) আর্তনাদ
  2. খ) ক্রীতদাসের হাসি
  3. গ) নেকড়ে অরণ্য
  4. ঘ) জননী
সঠিক উত্তর:
ঘ) জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জননী
ব্যাখ্যা
গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে শওকত ওসমান রচিত 'জননী' উপন্যাসে।

• শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।

• জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। প্রাচীন কাহিনী, ঘটনা ও চরিত্রের রূপকে লেখক সমকালীন রাজনীতিতে স্বৈরাচারী চরিত্র ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন। জননীতে গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস :
- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি
- রাজা উপাখ্যান
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- আর্তনাদ
- রাজপুরুষ

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৯০.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. খিজির
  2. ওসমান
  3. কবি
  4. আলতাফ
সঠিক উত্তর:
ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৯১.
মোতাহের হোসেন চৌধুরী 'সভ্যতা' গ্রন্থটি কোন লেখকের গ্রন্থ থেকে অনুবাদ করেছেন?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. ক্লাইভ বেল
  3. টি এস ইলিয়ট
  4. এডগার এলান পো
সঠিক উত্তর:
ক্লাইভ বেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লাইভ বেল
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):
মোতাহের হোসেন চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ এবং লেখক, যিনি নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরী এবং মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব স্পষ্ট। তিনি সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ, এবং মানুষের জীবনাচরণ নিয়ে মৌলিক বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মাধ্যমে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

• প্রধান গ্রন্থসমূহ: 
সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮): এটি তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
সুখ (১৯৬৫): বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

সভ্যতা (১৯৬৫):
- ক্লাইভ বেল-এর Civilisation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

বিশেষ খ্যাতি: 
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী, এবং মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন।

উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ:
• আমাদের দৈন্য, 
• আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী, 
• মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
- বাংলাপিডিয়া।
৫৯২.
'জনৈক বঙ্গমহিলা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. কামিনী রায়
  3. সেলিনা হোসেন
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
• কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
• কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
• তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
• কামিনী রায় এক সময় 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।

এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নির্মাল্য,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অম্বা,
- পৌরাণিকী,
- অশোক সঙ্গীত,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে,
- গুঞ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৩.
'শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. যতীন্দ্রনাথ বাগচী
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. শেখ ফজলুল করিম
  4. রজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
রজনীকান্ত সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
'শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা রজনীকান্ত সেন। 

• কবিতাংশটুকুর মূলভাব:
- জীবনে সফলতা অর্জনের জন্যে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক সততার শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত।
- শৈশবে সৎকাজ করতে না শিখলে পরে আর সে অভ্যাস গড়ে ওঠে না।
------------------------
• রজনীকান্ত সেন: 
- রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯১০) কবি, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী।
- তিনি কবিতাও রচনা করতেন এবং ‘কান্তকবি’ নামে খ্যাত ছিলেন।
- তাঁর কবিতা ও গানের বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত ভক্তি ও দেশপ্রেম।

• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি: 
- বাণী,
- কল্যাণী, 
- অমৃত, 
- অভয়া, 
- আনন্দময়ী, 
- বিশ্রাম, 
- সদ্ভাবকুসুম, 
- শেষদান, 
- পথচিন্তামণি এবং
- অভয় বিহার। 

এগুলির মধ্যে
- 'বাণী ও কল্যাণী' গানের সঞ্চয়ন,
- 'পথচিন্তামণি' একটি কীর্তনগ্রন্থ,
- আর 'অভয় বিহার' একটি গীতিকাব্য।

উপযুক্ত কাল - কবিতা,
- রজনীকান্ত সেন। 

শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?

সময় ছাড়িয়া দিয়া করে পণ্ডশ্রম,
ফল চাহে,- সে ও অতি নির্ব্বোধ, অধম।
খেয়া-তরী চ’লে গেলে বসে এসে তীরে,
কিসে পার হবে, তরী না আসিলে ফিরে?

উৎস: উপযুক্ত কাল - কবিতা, রজনীকান্ত সেন এবং বাংলাপিডিয়া। 
৫৯৪.
"অশোক সংগীত" - কার রচনা? 
  1. কামিনী রায়
  2. অমিয় চক্রবর্তী 
  3. বন্দে আলী মিয়া 
  4. সেলিনা হোসেন 
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৫.
কোনটি নুরুল মোমেনের রম্য রচনা?
  1. আইনের অন্তরালে
  2. বহুরূপা
  3. যদি এমন হতো
  4. নয়া খান্দান
সঠিক উত্তর:
বহুরূপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুরূপা
ব্যাখ্যা
• বহুরূপা, নরসুন্দর ও হিং টিং ছট নুরুল মোমেনের রম্য রচনা। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন: 
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯৬.
শওকত ওসমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. পঞ্চসঙ্গী
  4. পাতালে হাসপাতালে
সঠিক উত্তর:
পঞ্চসঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চসঙ্গী
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ - পঞ্চসঙ্গী

অন্যদিকে,
• শওকত আলী রচিত উপন্যাস - পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত রম্য-রচনা - পঞ্চতন্ত্র।
• হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ - পাতালে হাসপাতালে।

শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- মস্কুইটোফোন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট,
- পঞ্চসঙ্গী,
- তারা দুই জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯৭.
ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে প্রাচীনযুগের ব্যপ্তি ছিল-    
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৬৫০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৯৫০-১২০১ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

ড. শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- ড. শহীদুল্লাহ ধারনা করেন, বাংলা সাহিত্য সুদীর্ঘ হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস বহন করে।
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে:

• প্রাচীন যুগ (৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) – 
- এই যুগে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে এবং সাহিত্য নিদর্শন হিসেবে মূলত চর্যাপদ পাওয়া যায়।

• মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) –
- তুর্কি আক্রমণের পর থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে গণ্য।

• আধুনিক যুগ (১৮০১–বর্তমান) –
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়কাল আধুনিক যুগ হিসেবে বিবেচিত।

• ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৫০ বছর।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল ১২০১–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বা বন্ধ্যা যুগ চলেছিল ১২০১–১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- এই প্রায় ১৫০ বছরের সময়কালকে তুর্কি আক্রমণের পরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির অভাবের কারণে এই যুগকে অন্ধকার যুগ বলা হয়।
--------------------------
অন্যদিকে,
- সুনিতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল ৯৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৯৮.
'আমি হব সকাল বেলার পাখি- কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'আমি হব সকাল বেলার পাখি- কবিতাটি লিখেছেন- কাজী নজরুল ইসলাম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ: ব্যাথার দান।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা মুক্তি।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নী-বীণা।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বাঁধন হারা ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

আমি হব সকাল বেলার পাখি
- কাজী নজরুল ইসলাম

আমি হবো সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসম-বাগে উঠবো আমি ডাকি।
সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে,
‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’–মা বলবেন রেগে।
বলবো আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাকো,
হয়নি সকাল–তাই বলে কি সকাল হবে নাকো!

উৎস:  বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫৯৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক কোনটি?
  1. সাজাহান
  2. নূরজাহান
  3. মেবার পতন
  4. প্রতাপ-সিংহ
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
ব্যাখ্যা

• 'সাজাহান' নাটক:
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক। নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
- তারাবাঈ,
- প্রতাপ-সিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬০০.
মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ছিলেন-
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. আলাওল
  4. ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
ভারতচন্দ্র রায় (১৭১২-১৭৬০) বাংলা মঙ্গলকাব্য ধারার ও মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।

ফরাসি কোম্পানির দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে ভারতচন্দ্রের পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন। মহারাজা তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।

কবি প্রায়ই তাঁকে কবিতা শুনিয়ে আনন্দ দিতেন। মহারাজা তাঁর কবি প্রতিভায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে সতের শতকের কবি মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলের অনুকরণে অন্নদামঙ্গল রচনার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ পেয়ে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল রচনা করেন, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কাব্য। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এ কাব্য রচনা পড়ে খুশি হন এবং এতে বিদ্যা ও সুন্দরের কাহিনি সংযোজনের নির্দেশ দেন। কবি তাঁর এ নির্দেশ মেনে নেন এবং কৃষ্ণনগর পরিবারের একটি কাহিনিও এতে সংযোজন করেন।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে সভাকবি নিযুক্ত করেন এবং জমি দান করে মুলাজোরে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ভারতচন্দ্র সেখানে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত বসবাস করে ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরীক্ষিত, রামতনু এবং ভগবান নামে তিন পুত্র রেখে যান।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগ সন্ধিক্ষণের কবি।
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের কবি। 
• আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।