বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৫৮ / ২১১ · ৫,৭০১৫,৮০০ / ২১,১৩২

৫,৭০১.
কোন কবির রচনা ধারাকে অনুসরণ করে জ্ঞানদাস পদ রচনা করতেন?
  1. গোবিন্দদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. শ্রীচৈতন্যদেব
  4. দ্বীজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। 
​- প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭০২.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. বাঁধান-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. রিক্তের বেদন
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• কুহেলিকা :
- কুহেলিকা উপন্যাসটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
-উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
-১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

-তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
-নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
-নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
-তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
-২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্য উপন্যাস:
- বাঁধন হারা।
- মৃত্যু-ক্ষুধা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭০৩.
‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে খ্যাত ঔপন্যাসিক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- সাহিত্যরত্ন মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক। পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম। 

- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর (১৮৮০-১৯৩১) প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন।

- তাঁর রচিত প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা (১৯১৪) লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি "সাহিত্যরত্ন" উপাধি লাভ করেন।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো:
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০৪.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. আনন্দমঠ 
  2. সীতারাম 
  3. আরণ্যক
  4. চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
ব্যাখ্যা

 ‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’। 
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
 বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস হলো- আনন্দমঠ,  সীতারাম।
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস হলো- চতুরঙ্গ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৭০৫.
"জোহরা" উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. নজিবুর রহমান
  2. সরদার জয়েনউদ্দীন
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা

'জোহরা' উপন্যাস:
- জোহরা উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
-কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭০৬.
‘বাচ্চু’ কোন লেখকের ডাক নাম?
  1. রফিক আজাদ
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সমর সেন
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল -বাচ্চু।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত। 
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি মজলুম আদিব ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। 
- শামসুর রাহমান আধুনিক কবি হিসাবেও পরিচিত, যিনি রোমান্টিকতার সাথে সমাজমনস্কতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন কাব্যধারার পরিচয় দিয়েছেন।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। 

শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০৭.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘লালসালু’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৮ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
  5. কোনোটি নয়।
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
- ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
- তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক। 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০৮.
প্রহসন বলতে কি বোঝায়?
  1. ক) কমেডি নাটক
  2. খ) হাস্য-রসাত্মক উদ্দেশ্যহীন নাটক
  3. গ) অস্বাভাবিক নাটক
  4. ঘ) সমাজের ত্রুটি নির্দেশক ব্যাঙ্গাত্মক নাটক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাজের ত্রুটি নির্দেশক ব্যাঙ্গাত্মক নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাজের ত্রুটি নির্দেশক ব্যাঙ্গাত্মক নাটক
ব্যাখ্যা

- প্রহসন হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা। এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়। 
- নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- রামনারায়ণ তর্করত্ন (১৮২২-১৮৮৬) সংস্কৃত প্রহসনের আদর্শে বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ। 

অর্থাৎ, প্রহসন হলো সমাজের ত্রুটি নির্দেশক ব্যাঙ্গাত্মক নাটক।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৫,৭০৯.
জহির রায়হান রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. আর কতদিন
  2. সূর্যগ্রহণ
  3. কয়েকটি মৃত্যু
  4. শেষ বিকেলের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• পঞ্চাশের দশকে ছাত্র অবস্থায় জহির রায়হান রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ 'সূর্যগ্রহণ' (১৩৬২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো:
- সূর্য গ্রহণ,
- নয়া পত্তন,
- মহামৃত্যু,
- ভাঙ্গাচোরা,
- অপরাধ,
- স্বীকৃতি,
- অতি পরিচিতি,
- ইচ্ছা-অনিচ্ছা,
- জন্মান্তর,
- পোস্টার,
- ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি,
- কতগুলো কুকুরের আর্তনাদ,
- কয়েকটি সংলাপ,
- দেমাক,
- ম্যাসাকার,
- একুশের গল্প। 

-------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০),
- হাজার বছর ধরে (১৯৬৪),
- আরেক ফাল্গুন (১৯৬৯),
- বরফ গলা নদী (১৯৬৯),
- আর কতদিন (১৯৭০),
- কয়েকটি মৃত্যু।


•প্রবন্ধ:
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৭১)।এছাড়া তিনি অনেক গল্প রচনা করেছেন।

উৎস: 'সূর্যগ্রহণ' গল্পগ্রন্থ এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭১০.
কায়কোবাদ উপাধি পেয়েছিলেন—
  1. সাহিত্যরত্ন
  2. কাব্যভূষণ
  3. বিদ্যাভূষণ
  4. ক, খ, এবং গ, সবগুলোই
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক, খ, এবং গ, সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক, খ, এবং গ, সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণসাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭১১.
"সাফিয়া এবং তোরাব আলী" সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  3. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  4. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭১২.
তন্ত্রশাস্ত্রে চর্যার কোন কবির অপর নাম 'মৎস্যেন্দ্রনাথ'?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. কুক্কুরীপা 
  4. কাহ্নপা 
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা

• প্রথম কবি 'লুইপা' সম্পর্কিত তথ্য:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবনকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

উল্লেখ্য,
- যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা।

- লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'। প্রথম দুটি বই দর্শনের এবং তৃতীয়টি দোঁহা ও গানের।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭১৩.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসুর কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. একদিন চিরদিন
  2. যে আঁধার আলোর অধিক
  3. মহাপৃথিবী
  4. মরচেপড়া পেরেকের
সঠিক উত্তর:
মহাপৃথিবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু:
- তার জন্ম: ৩০ নভেম্বর ১৯০৮, কুমিল্লা।
- পরিবারের আদি নিবাস: বিক্রমপুর, মালখানগর।
- পেশা: সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের একজন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ- মহাপৃথিবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৭১৪.
বিহারের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী 'তাৎমাদের' জীবন অস্তিত্বের সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. জাগরী
  2. ঢোঁরাই চড়িত মানস
  3. বিবর
  4. জগদ্দল
সঠিক উত্তর:
ঢোঁরাই চড়িত মানস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢোঁরাই চড়িত মানস
ব্যাখ্যা
সতীনাথ ভাদুড়ী রচিত বিখ্যাত উপন্যাস - ''ঢোঁড়াই চরিত মানস''।
- দুই খন্ডে বিভক্ত উপন্যাসটির প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় - ১৯৪৯ সালে।
- দুই খণ্ডের এই উপন্যাসটি বিহারের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী 'তাৎমাদের' জীবন অস্তিত্বের সংগ্রাম নিয়ে রচিত।
- এছাড়া তাঁর আরেকটি উপন্যাস হচ্ছে - জাগরী (ভারত ছাড় আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত)

- বিবরজগদ্দল - উপন্যাস দুটির রচয়িতা সমরেস বসু

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭১৫.
‘অয়োময়’ নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. জিয়া হায়দার
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ‘অয়োময়’ নাটকটি হুমায়ূন আহমেদ রচনা করেছেন।
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- নক্ষত্রের রাত,
- এই সব দিনরাত্রি,
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়
- কোথাও কেউ নেই ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; ‘অয়োময়’ নাটক, হুমায়ূন আহমেদ।
৫,৭১৬.
মধুসূদন দত্ত পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রথম ব্যবহার করেন কোন গ্রন্থে?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. পদ্মাবতী
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. হেক্টরবধ
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসুদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন 'পদ্মাবতী' নাটক।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

• পরের বছর ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনি নিয়ে একই ছন্দে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'। এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য। এই কাব্যের মাধ্যমেই তিনি মহাকবির মর্যাদা লাভ করেন এবং তাঁর নব আবিষ্কৃত অমিত্রাক্ষর ছন্দও বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

• হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।

উৎস: 'পদ্মাবতী' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭১৭.
‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৭১৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেলজয়ী কাব্যগ্রন্থ 'গীতাঞ্জলি' তে কতটি গান সংকলিত আছে?
  1. ১৪৫ টি
  2. ১৫০ টি
  3. ১৫৭ টি
  4. ১৬২ টি
সঠিক উত্তর:
১৫৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭ টি
ব্যাখ্যা
• 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০।
- গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,৭১৯.
মণীন্দ্রমোহন বসু চর্যাপদের কত নং পদের সাথে রবীন্দ্রনাথের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুজে পেয়েছেন?
  1. ক) ৮ নং
  2. খ) ১ নং
  3. গ) ২৯ নং
  4. ঘ) ৩৩ নং
সঠিক উত্তর:
ক) ৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৮ নং
ব্যাখ্যা
মণীন্দ্রমোহন বসু চর্যাপদের '৮ নং' পদের সাথে রবীন্দ্রনাথের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুজে পেয়েছেন। 

• '৮ নং' পদ এর রচয়িতা কম্বলাম্বরপা। 
- ৮ নং চর্যায় লোকজীবনের একটি সাধারণ চিত্র সমৃদ্ধিময় আলঙ্কারিক মণ্ডলে একবিস্ময়কর শিল্পসুষমা লাভ করেছে।

মূল পদটি নিম্নরূপ:
সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।
গেলী জাম বাহুড়ই কইসে
ঘুণ্টি উপাড়ী মেলিলি কাচ্ছি।
বাহতু কামলি সদৃগুরু পুচ্ছি
মাঙ্গত চড়হিলে চউদিস চাহ ।
কেড়ুআল নাহি কে কি বাহবকে পারঅ
বাম দাহিণ চাপী মিলি মিলি মাঙ্গা।
বাচত মিলিল মহাসুহ সাঙ্গা

• আধুনিক বাংলা অনুসারে পদটি নিম্নরূপ:
'আমার করুণা- নৌকা সোনায় ভর্তি রয়েছে; তাতে রূপা রাখার ঠাঁই নেই। 
ওরে কম্বলি পা, গগনের (নির্বাণের) উদ্দেশ্যে তুমি বেয়ে চলো; যে জন্ম গেছে সে ফিরবে কি করে? (নৌকা বাইতে গিয়ে) খুঁটি উপড়ে ফেলো, কাছি মেলে দাও। সদগুরুকে জিজ্ঞেস করো, হে কম্বলি পা, তুমি বেয়ে যাও। পথে বেরিয়ে চারদিকে চেয়ে এগিইয়ো; কেড়ুয়াল ছাড়া কেউ কি বাইতে পারে? বামে- ডানে চেপে পথ বেয়ে গেলে ঐ পথেই মহাসুখের সঙ্গে মিলে যাবে।' 

• মণীন্দ্রমোহন বসু চর্যাপদের '৮ নং' পদের সাথে রবীন্দ্রনাথের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুজে পেয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৫,৭২০.
পদাবলির 'পূর্বরাগ' পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দ দাস
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• পূর্বরাগ:
রূপ গোস্বামী ''উজ্জ্বলনীলমণি'' গ্রন্থে পূর্বরাগের সংজ্ঞার্থে বলেছেন -
মিলনের পূর্বে দর্শন, নাম শ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নায়ক নায়িকার মনে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ জন্মে, তাকে বলে পূর্বরাগ।

- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় পর্যায়/ভাগ।

অন্যদিকে,
- বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি - বিদ্যাপতি।
- গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - গোবিন্দ দাস।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা - জয়দেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭২১.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয়?
  1. যুগবাণী
  2. চন্দ্রবিন্দু
  3. ভাঙার গান
  4. সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
ব্যাখ্যা
• 'সর্বহারা' কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয়।

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ - ৫টি
- যুগবাণী (সর্বপ্রথম নিষিদ্ধ হয়েছিল)।
- বিষের বাঁশি।
- ভাঙার গান।
- প্রলয় শিখা।
- চন্দ্রবিন্দু।

অন্যদিকে,
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।
- এটি তিনি বিরজাসুন্দরী দেবীকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫,৭২২.
মধ্যযুগের আদি কবি-
  1. ক) বড়ু চন্ডীদাস
  2. খ) দ্বিজ চন্ডীদাস
  3. গ) দীন চন্ডীদাস
  4. ঘ) চন্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
ক) বড়ু চন্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বড়ু চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি।

চন্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়: 

১. বড়ু চন্ডীদাস
২. দ্বিজ চন্ডীদাস
৩. দীন চন্ডীদাস ও 
৪. চন্ডীদাস

- এই চারটি নামের মধ্যে শেষ তিনটি নাম একজনের নাকি তাঁরা পৃথক কবি তা নিশ্চিত করে আজও বলা যাচ্ছে না। এই সমস্যাকে চণ্ডীদাস-সমস্যা বলে।
- তবে এঁদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাসকে মোটামুটিভাবে চিহ্নিত করা গেছে। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নান্নুর গ্রামে (মতান্তরে ছাতনা-বাঁকুড়া)। তাঁর পিতা দুর্গাদাস বাগচী ছিলেন বরেন্দ্র শ্রেণির ব্রাহ্মণ।
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে। বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া থেকে এ কাব্যের পুথি আবিষ্কার করে ১৯১৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭২৩.
‘রক্তরাগ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• গোলাম মোস্তফা: 
 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭২৪.
‘পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. নুরুল মোমেন
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ:
- এটি নবীনচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য
- পলাশি যুদ্ধ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে নবীনচন্দ্র সেন ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। 

তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস, 
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭২৫.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবুল ফজল
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।

আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৭২৬.
আবদুল্লাহ আল-মুতী সম্পাদিত ছোটদের ম্যাগাজিন-
  1. ক) মুকুল
  2. খ) স্বাক্ষর
  3. গ) পূর্বমেঘ
  4. ঘ) নয়া সড়ক
সঠিক উত্তর:
ক) মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুকুল
ব্যাখ্যা
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম “এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে
- তারার দেশের হাতছানি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭২৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত শেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. অপরাজিতা
  2. দৃষ্টিপ্রদীপ
  3. ইছামতী
  4. আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
ব্যাখ্যা

• 'ইছামতী' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত শেষ উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।

---------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী। তিনি ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭২৮.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে কাকে ‘সব্যসাচী’ লেখক বলা হয়?
  1. ক) বদ্ধদেব বসু
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
ক) বদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বন্ধুদেব বসুকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বুদ্ধদেব বসুর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কালের পুতুল'।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প :
– ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।
(রেখাচিত্র - আবুল ফজলের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ)।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস : 
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

•যে আঁধার আলোর অধিক - তার কাব্যগ্রন্থ ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭২৯.
বিদ্যাপতি রচিত 'নীতিশিক্ষা' বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. পুরুষপরীক্ষা
  2. কীর্ত্তিলতা
  3. দানবাক্যাবলী
  4. গঙ্গাবাক্যাবলী
সঠিক উত্তর:
পুরুষপরীক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরুষপরীক্ষা
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি: 
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার রাজসভার একজন বিখ্যাত কবি, যিনি চতুর্দশ শতকে তাঁর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করেছিলেন। মিথিলার রাজা শিবসিংহ তাঁর রচনায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, বিদ্যাপতিকে ‘কবিকণ্ঠহার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

• ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে বিদ্যাপতিকে বোঝায়। যেমন কোকিল তার সুমধুর গান দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, তেমনই বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় পদাবলি ও গীতিকবিতা রচনা করে সবার হৃদয় জয় করেন। এই কারণে তাঁকে মৈথিল কোকিল নামে অভিহিত করা হয়।

• বিদ্যাপতি একজন বৈষ্ণব কবি ছিলেন এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর মধ্যে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলিগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
• পুরুষপরীক্ষা (নীতিশিক্ষা),
• লিখনাবলী (পত্র লেখার রীতি),
• কীর্ত্তিলতা (ইতিহাস),
• ভূ-পরিক্রমা (ভূগোল),
• দানবাক্যাবলী (দানসংক্রান্ত),
• দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী (স্মৃতিমূলক),
• শৈবসর্বস্বসার,
• বিভাগসার (স্মৃতিমূলক),
• গঙ্গাবাক্যাবলী (তীর্থস্থান),
• কীর্তিপতাকা (অবহট্ঠ ভাষায় রচিত) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৩০.
'আরেফ আলী' কোন গ্রন্থের  বিখ্যাত চরিত্র?
  1. বহিপীর
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. লালসালু
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- লালসালু, 
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৩১.
'অয়োময়' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ইমদাদুল হক মিলন
  2. খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. গ) মমতাজউদদীন আহমেদ
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদের একটি বিখ্যাত নাটক অয়োময়‌
- ক্ষয়িষ্ণু জমিদার প্রথা নাটকটির মূল উপজীব্য।
- নাটকটি মূলত জমিদার মির্জা সাহেবের বিচিত্র চরিত্রকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত।
- একসময় জমিদার নিজে জমিদারি প্রথার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে গভীর রাতে সংসার ত্যাগ করেন।

উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৭৩২.
‘মগের মুলুক’ ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. বিজয় ভট্টাচার্য
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
⇒ গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত ব্যঙ্গকাব্য হচ্ছে ‘মগের মুলুক’।

⇒ গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।
এছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩৩.
লুইপা চর্যাপদের কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ। তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩৪.
কয় ধরনের গীতিকা প্রচলিত আছে বাংলা সাহিত্যে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়। এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভাণ্ডার।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি। 

বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে ৩ ধরনের গীতিকা প্রচলিত
যথা: 
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা ও
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩৫.
মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক ছিলেন-
  1. সৈয়দ শামসুল হক 
  2. সিকান্দার আবু জাফর 
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর 
ব্যাখ্যা

• 'সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- সমকাল ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি প্রগতিশীল সাহিত্য সাময়িকী। সিকান্দার আবু জাফর-এর সম্পাদনায় এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৩৬৪ বঙ্গাব্দের (১৯৫৭) ভাদ্র মাসে।

- এ সংখ্যার লেখকবৃন্দ ছিলেন কবিতায় শামসুর রাহমান ও আবুল হোসেন, গল্পে শওকত ওসমান ও আলাউদ্দিন আল আজাদ, প্রবন্ধ রচনায় মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ, এ.কে নাজমুল করিম, কাজী দীন মুহম্মদ, আনিসুজ্জামান, কামরুল হাসান, আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ও কাজী মোতাহার হোসেন এবং পুস্তক সমালোচনায় আবদুল গনি হাজারী ও চাকলাদার মাহবুব আলম।

- দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পত্রিকাটির সহযোগী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৃতীয় বর্ষ প্রথম সংখ্যা থেকে সিকান্দার আবু জাফরের একক সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হতে থাকে এবং সপ্তম বর্ষ থেকে এটি অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

- ১৯৬১ সালে 'রবীন্দ্র জন্ম-শতবার্ষিকী সংখ্যা' হিসেবে সমকালের একটি বিশেষ সংখ্যা এবং অষ্টম বর্ষের নবম-দ্বাদশ সংখ্যাটি (পৌষ-চৈত্র, ১৩৭১) বিশেষ 'কবিতা সংখ্যা' হিসেবে প্রকাশিত হয়। এতে কবিতাবিষয়ক আটটি দীর্ঘ প্রবন্ধ এবং পূর্ববাংলার ৫৭জন কবির ১৯১টি কবিতা মুদ্রিত হয়েছিল। ত্রয়োদশ বর্ষে পত্রিকাটির মাত্র তিনটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। মাসিক সমকাল এভাবেই ১৯৭০ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৩৬.
'মহুয়া' পালার চরিত্র নয় কোনটি?
  1. নদের চাঁদ
  2. হুমরা বেদে
  3. কমলা
  4. সাধু
সঠিক উত্তর:
কমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলা
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা: 
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
•'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই। 
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
- ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩৭.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. আল মাহমুদ
  3. এমদাদুল ইসলাম
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- কাবিলের বোন উপন্যাসটির রচয়িতা আল মাহমুদ।

- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে’ দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৩৮.
'ঘরে ফেরার দিন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) অন্নদাশংকর রায়
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬):
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
 
• অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার, 
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৩৯.
'ঠকচাচা' প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. আধ্যাত্মিকা
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. মদ খাওয়া বড় দায়
  4. জাত থাকার কি উপায়
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়?,
- আধ্যাত্মিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৪০.
মহাশ্মশান - কাব্যগ্রন্থ কোন সালের পানিপথের যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. ১৭২৬
  2. ১৭৬১
  3. ১৫৫৬
  4. ১৫২৬
সঠিক উত্তর:
১৭৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬১
ব্যাখ্যা
• 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মোহাম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান। 

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

------------------
• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৪১.
​মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. কালো ঘোড়া
  3. জীবন আমার বোন
  4. একাত্তর ও একজন মা
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- ​মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

​------------------
মাহমুদুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- চিক্কোর কাবুল,
- খেলাঘর,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

​অন্যদিকে, 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'একটি কালো মেয়ের কথা' মুক্তিজুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস।
• ​'একাত্তর ও একজন মা' এবং "কালো ঘোড়া" ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিজুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৫,৭৪২.
‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ গল্পটির লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উল্লেখ্য,
• ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ নামে বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৪৩.
জাহানারা ইমামের রচিত অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. জাগ্রত ধরিত্রী
  2. শবনম
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. প্রতিধ্বনি
সঠিক উত্তর:
জাগ্রত ধরিত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাগ্রত ধরিত্রী
ব্যাখ্যা

জাহানারা ইমামের রচিত অনুবাদ গ্রন্থ হচ্ছে জাগ্রত ধরিত্রী। 

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম ১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে পরিচিত।
- ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ এর আহবায়ক হিসেবে তিনি ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ তাঁর সর্বাধিক পরিচিত কীর্তি।
- ১৯৮১ সালের দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
 - পরে ঢাকায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

অনুবাদ গ্রন্থ:
- নদীর তীরে ফুলের মেলা,
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর। 

অন্যদিকে, 
খ) "শবনম" সৈয়দ মুজতবা আলীর এক কালজয়ী প্রেমের উপন্যাস যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অনন্য। উপন্যাসটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি একটি মৌলিক রচনা।
গ) 'সুলতানার স্বপ্ন' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের একটি অনুবাদ গ্রন্থ।
ঘ) 'প্রতিধ্বনি' (১৯৫৪) নামে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের একটি অনুবাদগ্রন্থ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

৫,৭৪৪.
রামপ্রসাদ সেন রচিত পদগুলোকে কী বলা হয়?
  1. শ্যামা সঙ্গীত
  2. রামপ্রসাদী
  3. শাক্ত পদাবলি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন রচিত পদগুলোকে বলা হয়- শ্যামা সঙ্গীত, রামপ্রসাদী, শাক্ত পদাবলি। 
----------------- 
• রামপ্রসাদ সেন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ভাষা জানতেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।
- রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:
- তিনি ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

• রামপ্রসাদ সেনের একটি বিখ্যাত গান-

'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৪৫.
'সত্যপীরবিজয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. ভবানী দাস
  4. সৈয়দ হামজা
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'সত্যপীরবিজয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ। 

শেখ ফয়জুল্লাহ:

- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

ফয়জুল্লাহর প্রধান তিনটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- সত্যপীরবিজয়,
- গোরক্ষবিজয় ও
- গাজীবিজয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৪৬.
'জাহিদুল কবির' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. জীবন আমার বোন
  2. জলাঙ্গী
  3. আগুনের পরশমণি
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- মুরাদ,
- রহমান,
- ইয়াসিন,
- রঞ্জু প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ, 
- জীবন আমার বোন
- অনুর পাঠশালা, 
- নিরাপদ তন্দ্রা, 
- অশরীরী, 
- চিক্কোর কাবুল, 
- খেলাঘর, 
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।
৫,৭৪৭.
টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে কোন কবির রচনায়?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বিষ্ণু দে
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৪৮.
"ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকে আসতেই হবে" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শামসুর রাহমান
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকে আসতেই হবে' - উদ্ধৃতাংশটি শামসুর রাহমানের তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

- ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় গণহত্যা শুরু করলে আরো অনেকের মতো শামসুর রাহমান ও শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর পাড়াতলীতে আশ্রয় নেন। সেখানেই এ কবিতাটি লেখা হয়।
- কবিতাটি তাঁর 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
--- শামসুর রাহমান

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?
---------------------------------------
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বন্দী শিবির থেকে, শামসুর রাহমান।
৫,৭৪৯.
নিচের কোনটিকে কবি শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা বলা হয়?
  1. আসাদের শার্ট 
  2. স্বাধীনতা তুমি
  3. রূপালি স্নান
  4. কখনো আমার মাকে
সঠিক উত্তর:
রূপালি স্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপালি স্নান
ব্যাখ্যা

• 'রূপালি স্নান' কবিতা:
- 'রূপালি স্নান' শামসুর রাহমান রচিত একটি কবিতা। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকায় 'রূপালি স্নান' প্রকাশ পেলে বৃহত্তর বাংলায় কবি হিসেবে শামসুর রাহমানের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- কবিতাটি সংকলিত হয় 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' কাব্যগ্রন্থে।

রূপালি স্নান- কবিতা, 
- শামসুর রাহমান

শুধু দু’টুকরো শুকনো রুটির নিরিবিলি ভোজ
অথবা প্রখর ধু-ধু পিপাসার আঁজলা ভরানো পানীয়ের খোঁজ
শান্ত সোনালি আল্পনাময় অপরাহ্নের কাছে এসে রোজ
চাইনি তো আমি। দৈনন্দিন পৃথিবীর পথে চাইনি শুধুই
শুকনো রুটির টক স্বাদ আর তৃষ্ণার জল। এখনো যে শুই
ভীরু-খরগোশ-ব্যবহৃত ঘাসে, বিকেলবেলার কাঠবিড়ালিকে
দেখি ছায়া নিয়ে শরীরে ছড়ায়,- সন্ধ্যা নদীর আঁকাবাঁকা জলে (সংক্ষেপিত)।

--------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়, 
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'রূপালি স্নান' কবিতা।

৫,৭৫০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. বড়দিদি
  2. মেজদিদি
  3. দত্তা
  4. পল্লীসমাজ
সঠিক উত্তর:
মেজদিদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজদিদি
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মেজদিদি' গল্পগ্রন্থ:
- ‘মেজদিদি' (১৯১৫) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মেজদিদি', 'দর্পচূর্ণ' ও ‘আঁধারে আলো' এই তিনটি গল্পের সংকলন
- 'মেজদিদি' শরৎচন্দ্রের অন্যতম জনপ্রিয় রচনা।
- এই গল্পগ্রন্থের তিনটি গল্পই চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই গ্রন্থে নারীর মহত্ত্বের পাশাপাশি ‘স্বামীর কাছে স্ত্রীর অহংকার সাজে না' এই বক্তব্যও প্রকাশিত হয়।

⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- দত্তা,
- বিরাজ-বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- পল্লীসমাজ,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৫১.
কোন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব ঘটে?
  1. ক) নন্দিত নরকে
  2. খ) শঙ্খনীল কারাগার
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) আশাবরী
সঠিক উত্তর:
ক) নন্দিত নরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি অধ্যাপনা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং সার্বক্ষণিক সাহিত্যর্চ্চায় মনোনিবেশ করেন।

- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।

- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প।
- হুমায়ূন আহমেদকে বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশনের পথিকৃৎ বলা যায়।
- তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন তোমাদের জন্য ভালোবাসা।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস মধ্যাহ্ন এবং বাদশাহ নামদার। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৫২.
শওকত ওসমান রচিত ‘আর্তনাদ’ উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. স্বদেশি আন্দোলন
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৫৩.
‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়‘ চরণটি কোন কবির রচনা?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮২৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি 'পদ্মিনী উপাখ্যান' ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের 'Annals and Antiquities of Rajasthan'-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায় / দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ 'পদ্মিনী উপাখ্যানে' তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।
- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ।
- তিনি ১৮৮৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৫৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র: সতীশ, সাবিত্রী, কিরণময়ী?
  1. চরিত্রহীন
  2. পল্লীসমাজ
  3. শ্রীকান্ত
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) চরিত্রহীন।

ব্যাখ্যা:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসে সতীশ, সাবিত্রী, এবং কিরণময়ী চরিত্রগুলো রয়েছে। এই উপন্যাসে সতীশ একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, সাবিত্রী হলেন তার স্ত্রী, এবং কিরণময়ী হলেন একটি কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র, যার জীবন ও সম্পর্কের জটিলতা গল্পের মূল বিষয়।
-----------------------
• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।

- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম — সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম — সুরবালা ও সরোজিনী। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উপন্যাসের চরিত্রগুলোর বর্ণনা:
সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ — সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কিছু উপন্যাসের চরিত্র: 
• 'দেবদাস' উপন্যাসের চরিত্র- দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।
- 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র - রমা, রমেশ, বললাম, বেণী।
• 'দত্তা' উপন্যাসের চরিত্র- বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র - ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অভয়া, গহর প্রমুখ।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
- 'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র - ভারতী, সব্যসাচী ওরফে ডাক্তার সাহেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৫৫.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. আব্বুকে মনে পড়ে
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 
- বাকী অপশনের সবগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

অন্যদিকে: 
- 'আব্বুকে মনে পড়ে' হুমায়ুন আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
- সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- 'নিষিদ্ধ লোবান'। 
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৫৬.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'চলে মুসাফির' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. স্মৃতিকথা
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা

• ‘চলে মুসাফির’:
- ‘চলে মুসাফির’ জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 

- ‘চলে মুসাফির’ বইটি মূলত সরলমতি ছাত্রদের জন্য লেখা হয়েছিল, তাই পাঠ্যপুস্তক হিসেবে এর অনেক বিষয় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে এই ভ্রমণকাহিনী বিস্তারিতভাবে লিখিত হয়েছে, যাতে পাঠ্যপুস্তক পড়া পাঠকদের কাছেও এটি নতুন মনে হয়। এই সংস্করণে করাচি ও মুলতান ভ্রমণের বিবরণও যোগ করা হয়েছে। এই কাহিনীর মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষদের সঙ্গে পাঠক-পাঠিকাদের মনের বন্ধন গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের আর্থিক সহায়তায় লেখক আমেরিকা ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি যে সকল আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত মানুষের সান্নিধ্যে আসেন, তাঁদের কথা এই বইয়ে ভালোবাসার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করেছেন।

-------------------------
• জসীম উদ্‌দীন: 

- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।
- জসীম উদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ।
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুস বড়,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবাকাহিনী।
• আত্মজীবনী: জীবনকথা। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  ‘চলে মুসাফির’ ভ্রমণকাহিনিএবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৫৭.
‘পাখির নীড়ের মত চোখ’ বাংলা কাব্যে সুন্দরী নারীর চোখের এই অনবদ্য ও অনিন্দ্যসুন্দর উপমার স্রষ্টা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সুধীন দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাস
ব্যাখ্যা
বনলতা সেন
জীবনানন্দ দাশ

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫),  বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ       থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

- জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।
প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৫৮.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক ছোটগল্প?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. মণিহারা
  3. কঙ্কাল
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ছোটগল্প:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প - ভিখারিনী।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয়- রবীন্দ্রনাথের ভিখারিনী গল্পটি। এখন পর্যন্ত যতদূর জানা যায়, এটিই তাঁর লেখা প্রথম গল্প, যা কোনো সাময়িকপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংকলনের নাম - 'গল্পগুচ্ছ'। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৫৯.
‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়’ – এই উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  2. আহমদ শরীফ
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
ব্যাখ্যা
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ:
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি তাঁর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের উক্তি- ‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুফল প্রত্যাশা করেছেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬০.
শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ 'কবিতা ও মুকুল' এর রচয়িতার নাম-
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) কুসুমকুমারী দাস
  3. গ) জসীমউদ্দিন
  4. ঘ)কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
খ) কুসুমকুমারী দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুসুমকুমারী দাস
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাসের মাতা কুসুমকুমারি দাসের সাহিত্যিক প্রসার বেশি একটা বড় নয়। শিশুদের জন্য উনি 'কবিতা ও মুকুল' নামক কাব্যটি রচনা করেন, এছাড়াও তার একটি গদ্যগ্রন্থ রয়েছে- 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৬১.
কোনটি জসীমউদ্দীনের নাটক?
  1. রাখালী
  2. মাটির কান্না
  3. বেদের মেয়ে
  4. বোবা কাহিনী
সঠিক উত্তর:
বেদের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদের মেয়ে
ব্যাখ্যা
• ‘বেদের মেয়ে’ জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি নাটক।

• জসীমউদ্‌দীন:

- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• ‘বোবা কাহিনী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত প্রশত উপন্যাস।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬২.
জঙ্গনামা হলো -
  1. কাহিনিকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. মহাকাব্য
  4. যুদ্ধকাব্য
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধকাব্য
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা: 
- জঙ্গনামা হলো যুদ্ধকাব্য। 
- মুসলিম বীরাত্মক কাহিনি নিয়ে মুসলিম কবিদের রচিত গ্রন্থ।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্যের মধ্যে বিষয়গত মিল থাকলেও আঙ্গিক ও রসগত পার্থক্য আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬৩.
কোনটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয়?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. দিগদর্শন
  3. ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  4. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
সঠিক উত্তর:
ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
ব্যাখ্যা
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয় - ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান।
- এটি হেনরি ডিরোজিও সম্পাদিত পত্রিকা।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৬৪.
মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন সংগঠনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন?
  1. সাহিত্য আকাদেমি
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  3. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি
  4. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সাহিত্য সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সাহিত্য সমাজ
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী ন ঢাকার "মুসলিম সাহিত্য সমাজ" এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং এর সভা ও সম্মেলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন।

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘আমাদের দৈন্য’, ‘আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী’ ও ‘মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা’ প্রবন্ধ যথাক্রমে সাহিত্য সমাজের পঞ্চম (১৯৩১), ষষ্ঠ (১৯৩২) ও অষ্টম (১৯৩৪) বার্ষিক সম্মেলনে পঠিত হয়। এছাড়া তাঁর ‘রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস’ প্রবন্ধটি সমাজের মুখপত্র শিখার পঞ্চম বর্ষে প্রকাশিত হয়।

--------------------------
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে। শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন। শিখার প্রতিটি সংখ্যায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের বিবরণ এবং সাহিত্য-সভায় পঠিত রচনা প্রকাশিত হতো।

- শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।


অন্যদিকে, 
----------------------
• বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে কলকতায় অবস্থানরত মুসলমান ছাত্রদের গঠিত একটি সাহিত্য সংগঠন। এর প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মুহম্মদ মোজাম্মেল হক, কাজী ইমদাদুল হক, মাওলানা আকরাম খাঁ, মৌলভী আবদুল করিম, কমরেড মুজফ্‌ফর আহমদ সহ আরো অনেকে। এই সমিতির পত্রিকা ছিল বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা।

• বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ একটি সাহিত্য সংস্থা। এল লিওটার্ড ও ক্ষেত্রপাল চক্রবর্তীর উদ্যোগে ১৮৯৩ সালের ২৩ জুলাই ‘বেঙ্গল একাডেমী অব লিটারেচার’ নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ রাখা হয়।

• সাহিত্য অকাদেমি ভারতের রাষ্ট্রভাষাগুলিতে রচিত সাহিত্যের উন্নতি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে ভারত সরকার কর্তৃক স্থাপিত একটি প্রতিষ্ঠান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬৫.
হুমায়ুন আজাদ রচিত 'কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষ' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল  বিক্রমপুরের রাড়িখালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী। 
- ১৯৮৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি হুমায়ুন কবির নাম পরিবর্তর করে বর্তমান হুমায়ুন আজাদ নাম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১৯৭২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন।
- ১৯৭৮ সালের ১ নভেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন এবং ১৯৮৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ:
-  যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল 
- আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে 
- কাব্যসংগ্রহ 
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমান:নিঃসঙ্গ শেরপা
- বিমানবিকীকরণ ও অন্যান্য প্রবন্ধ 
- ভাষা-আন্দোলন : সাহিত্যিক পটভূমি 
- নারী 
- নরকে অনন্ত ঋতু 
- প্রবচনগুচ্ছ
- সীমাবদ্ধতার সূত্র 
- আধার ও আধেয় 
- আমার অবিশ্বাস 
- নির্বাচিত প্রবন্ধ 
- আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম প্রভৃতি। 

উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল 
- সব কিছু ভেঙে পড়ে 
- মানুষ হিশেবে আমার অপরাধসমূহ 
- যাদুকরের মৃত্যু 
- শুভব্রত,তার সম্পর্কিত সুসমাচার 
- রাজনীতিবিদগণ 
- কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষ 
- নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু 
- ফালি ফালি করে কাটা চাঁদ
- শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা ইত্যাদি। 

ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক:
- লাল নীল দীপাবলি 
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না 
- কতো নদী সরোবর 
- আববুকে মনে পড়ে 
- বুকপকেটে জোনাকিপোকা 
- আমাদের শহরে একদল দেবদূত 
- অন্ধকারে গন্ধরাজ ইত্যাদি। 
- তাঁর নারী, দ্বিতীয় লিঙ্গ, পাক সার জমীন সাদ বাদ গ্রন্থ তিনটি বিতর্কের ঝড় তোলে এবং এরই এক পর্যায়ে সরকার বই তিনটিকে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬৬.
নিচের কোনটি হুমায়ুন আহমেদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. ক) কাঠপেন্সিল
  2. খ) রংপেন্সিল
  3. গ) লীলাবতীর মৃত্যু
  4. ঘ) সবগুলোই আত্মজীবনীমূলক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই আত্মজীবনীমূলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই আত্মজীবনীমূলক
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত সবগুলো গ্রন্থই হুমায়ুন আহমেদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। তার রচিত গল্পগ্রন্থের নাম - এলেবেলে। অটিজম নিয়ে তার একটি উপন্যাস রয়েছে - কে কথা কয়। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৫,৭৬৭.
'মধুমালতী' কাব্যটি কোন কবির কাব্যের অবলম্বনে রচিত?
  1. মালিক মুহম্মদ জায়সী
  2. হিন্দি কবি মনঝন
  3. আলাওল
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হিন্দি কবি মনঝন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি কবি মনঝন
ব্যাখ্যা

'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন।
- তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

মুহম্মদ কবীর:
- মুহম্মদ কবীর (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৬৮.
নিম্নের কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) চলে মুসাফির
  2. খ) হলদে পরীর দেশে
  3. গ) রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
  4. ঘ) যে দেশে মানুষ বড়
সঠিক উত্তর:
গ) রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
ব্যাখ্যা
'রঙ্গিলা নায়ের মাঝি' ব্যাতীত অন্যগুলো জসীমউদ্দিন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 

জসীমউদ্দিন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড় 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি 
- জারিগান 

 জসীমউদ্দিন রচিত ভ্রমণকাহিনি
- চলে মুসাফির
- হলদে পরীর দেশে
- যে দেশে মানুষ বড়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬৯.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'রসকলি' গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কল্লোল
  2. সমকাল 
  3. সবুজপত্র
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

• 'রসকলি' গল্প:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

লেখন জবানীতে 'রসকলি' গল্পের ভূমিকা:
"রসকলি" আমার প্রথম গল্প, 'রসকলি' হাতে লইয়াই সাহিত্য- অরণ্যে প্রবেশ করিয়াছিলাম। দশ বৎসর পূর্ব্বে, ১৩৩৪ সালের ফাল্গুনের 'কল্লোলে', গল্পটি প্রকাশিত হইয়াছিল।
গল্পটির প্রতি আমার একটি মমতা আছে। আজ দশ বৎসর পরে কবিগুরুকে উৎসর্গ করিবার সঙ্কল্প লইয়া গল্প বাছিতে বসিয়া বার বার 'রসকলি'র কথা মনে হইল, উপেক্ষা করিতে পারিলাম না। জীবনের প্রথম রচনা কবিগুরুর হাতেই সমর্পণ করিলাম।

------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসসমূহ হলো:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: 'রসকলি' গল্পের ভূমিকা; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৭০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. দীনেশ চন্দ্র সেন
  3. সুকুমার রায়
  4. ডঃ মুহম্মদ শহীদ
সঠিক উত্তর:
দীনেশ চন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশ চন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য':
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) — দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।

- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।

- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

----------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।

- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।

- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন। 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।

- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৭১.
‘মুহূর্তের কবিতা’ কার সনেট সংকলন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. আহসান হাবীব
  3. কামিনী রায়
  4. ফররুখ আহমদ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
 
• মুহূর্তের কবিতা:
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপিয়ারিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

অন্যদিকে,
- 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেট সংকলন।
- কামিনী রায়ের সনেট সংগ্রহ ‘অশোক সংগীত’ (১৯১৪)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৭২.
কোনটি দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ?
  1. পঞ্চগ্রাম
  2. পদ্মাপাড়
  3. পাথরের পুঁথি
  4. পূবাল হাওয়া
সঠিক উত্তর:
পাথরের পুঁথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথরের পুঁথি
ব্যাখ্যা
• দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ - পাথরের পুঁথি। 

দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - পঞ্চগ্রাম।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক - পদ্মাপাড়।
• দিলওয়ার রচিত গানের বই - পূবাল হাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৭৩.
'সিরাজাম মুনিরা'- কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন -
  1. ক) আব্দুল কাদির
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
'সিরাজাম মুনিরা'- কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন - ফররুখ আহমদ।

• বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্তু আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। ব্যঙ্গ্যকবিতা ও সনেট রচনায় তাঁর কৃতিত্ব অনস্বীকার্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী
- হাবেদা মরুর কাহিনী

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা
- হরফের ছড়া
- ছড়ার আসর

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৫,৭৭৪.
শামসুর রাহমান রচিত 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থে কয়টি কবিতা সংকলিত হয়েছে?
  1. ক) ১৬টি
  2. খ) ১৯টি
  3. গ) ২৩টি
  4. ঘ) ২১টি
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩টি
ব্যাখ্যা
২৩ টি কবিতার সমাহারে শামসুর রাহমানের 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে৷
১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের যূপকাষ্ঠে দেশ ও জনগণের চরম অবস্থার প্রতিফলন আছে এ কাব্যগ্রন্থে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৭৫.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আঁখিজল
  2. খ) লতিকা
  3. গ) প্রবন্ধমালা
  4. ঘ) নবী কাহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নবী কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নবী কাহিনী
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ ‘নবী কাহিনী’। ‘আঁখিজল’ ও ‘লতিকা’ হলো কাব্যগ্রন্থ। ‘প্রবন্ধমালা’ হলো প্রবন্ধ গ্রন্থ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৫,৭৭৬.
আলাউদ্দিন আল আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক-
  1. ক) মরক্কোর জাদুঘর
  2. খ) সংবাদ শেষাংশ
  3. গ) নরকে লাল গোলাপ
  4. ঘ) মায়াবী প্রহর
সঠিক উত্তর:
গ) নরকে লাল গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা

• 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক''
- মায়াবী প্রহর,
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- মানচিত্র,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ,
- সূর্য জ্বালার স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৭৭.
প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন কে?
  1. ড. সুকুমার সেন
  2. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  3. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  4. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
সঠিক উত্তর:
বিজয়চন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৭৭৮.
সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতে পদসংগ্রহটির নাম কী ছিল?
  1. চর্যাগীতিকোষ
  2. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  3. আশ্চর্যচর্যাচয়
  4. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
সঠিক উত্তর:
আশ্চর্যচর্যাচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশ্চর্যচর্যাচয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতকগুলো পদ আবিষ্কার করেন। তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব-এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,৭৭৯.
'আয়না' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।.’..... 

এর অন্তর্ভুক্ত গল্পগ্রন্থসমূহ:
- হুযুর কেবলা,
- গো - দেওতা - কা দেশ,
- নায়েবে নবী,
- লীডরে কওম,
- মুজাহেদীন,
- বিদ্রোহী সংঘ,
- ধর্মরাজ্য।

-------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৮০.
কোনটি ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. সতীশ
  2. কিরণময়ী
  3. সাবিত্রী
  4. সব্যসাচী
সঠিক উত্তর:
সব্যসাচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব্যসাচী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) সব্যসাচী

চরিত্রহীন:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে উল্লেখিত চরিত্রগুলো হলো: সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- জন্ম: ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬, দেবানন্দপুর, হুগলি।
- প্রথম উপন্যাস: বড়দিদি।
- প্রথম প্রকাশিত গল্প: মন্দির (১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ)।
- রাজনৈতিক উপন্যাস: পথের দাবী (১৯২৬), যা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

প্রধান রচিত উপন্যাসসমূহ:
- দোনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়। 

অন্যদিকে, পথের দাবী উপন্যাসের উল্লেখিত চরিত্র হচ্ছে সব্যসাচী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৮১.
'এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়' পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) হেলাল হাফিজ
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি হেলাল হাফিজ এর ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থের 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' কবিতার অন্তর্গত- 
কবিতাটি নিম্নরূপ - 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত/কণ্ঠ/পা এক নয়।" 

- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি সংস্করণ হয়েছে। যা এর আগে বাংলাদেশের কোনো কবিতার বইয়ের বেলায় ঘটেনি।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে (১৯৮৬)
- কবিতা ৭১ (বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়, একুশে বইমেলা ২০১২)
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা (২০১৯)

উৎস: যে জলে আগুন জ্বলে, হেলাল হাফিজ।
৫,৭৮২.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রবন্ধ গ্রন্থ কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র
  2. কালান্তর
  3. প্রবন্ধ সংগ্রহ
  4. শাশ্বত বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• পঞ্চতন্ত্র:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
- গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে, 
• কালান্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন।
• কাজী আবদুল ওদুদ রচিত ‘শাশ্বত বঙ্গ’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ।

--------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৮৩.
'খোয়াবনামা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আনোয়ার পাশা
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
> খোয়াবনামা উপন্যাসটি আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস এর মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- এর মাধ্যমে মূলত গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির -সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প,তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস এর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি।

তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬)
- খোঁয়ারি (১৯৮২)
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫)
- দোজখের ওম (১৯৮৯)
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল (১৯৯৭)

উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭)
- খোয়াবনামা (১৯৯৬)

প্রবন্ধ সংকলন:
- সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৮)


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ।
৫,৭৮৪.
বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক ছিলেন- 
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  3. রাজা রামমোহন রায় 
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী 
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল, এবং তিনি নিজেকে “বাংলা সাহিত্যের বীরবল” হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইয়ের মেয়ে ইন্দ্রাদেবীকে বিয়ে করেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি মাসিক সবুজপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির সূচনা করেন, যা তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশত।
• গল্পগ্রন্থ: নীললোহিত ও চার ইয়ারির কথা।
• প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল নুন লাকড়ি ও বীরবলের হালখাতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৮৫.
মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম ছিল-
  1. ভ্রমর
  2. জাবালি
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. যুবনাশ্ব
সঠিক উত্তর:
যুবনাশ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুবনাশ্ব
ব্যাখ্যা
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- কালকূট ও ভ্রমর।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৮৬.
বাংলা সাহিত্যে অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন-
  1. নুরুল মোমেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. সাঈদ আহমদ
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
সাঈদ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঈদ আহমদ
ব্যাখ্যা
• সাঈদ আহমদ: 
- সাঈদ আহমদ (১৯৩১-২০১০) নাট্যকার, চিত্রসমালোচক, শিক্ষাবিদ। তাঁর জন্ম পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে। 
- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।
 
তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।
 
• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
• বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাঁর লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটক।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৮৭.
মহাভারত প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  3. গ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. ঘ) কানা হরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
মহাভারত প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর। এর মূল রচয়িতা (সংস্কৃত ভাষায়) কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। [সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৫,৭৮৮.
'অবশেষে সব কাজ সেরে,
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস।' - উক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) পূর্বাভাস
  2. খ) হরতাল
  3. গ) অভিযান
  4. ঘ) ছাড়পত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত উক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর রচিত হয়।
- বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৮৯.
'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'- বিখ্যাত উক্তিটি কার রচনায় উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. সেলিম আল দীন 
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'। অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।

- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।

অন্যদিকে, 
হরগজ ও কেরামতমঙ্গল সেলিম আল দীন রচিত নাটক। 

---------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৯০.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. পাখির বাসা
  2. হাবেদা মরুরকাহিনী
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. নৌফেল ও হাতেম
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা'।
- ১৯৬৬ সালে 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থ হিসেবে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:

- পাখির বাসা, 
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর, 

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৯১.
"নাম রেখেছি কোমল গান্ধার" কাব্যের রচয়িতা -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিষ্ণু দে
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• ‘নাম রেখেছি কোমল গান্ধার’:
- ‘নাম রেখেছি কোমল গান্ধার’ বিষ্ণু দে রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।
- এই কাব্যগ্রন্থে ‘নাম রেখেছি কোমল গান্ধার মনে মনে’ নামক একটি কবিতা রয়েছে।

---------------
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৯২.
রামমোহন রায় কর্তৃক রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বেদান্তগ্রন্থ
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. লিপিমালা 
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'বেদান্তগ্রন্থ': 
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা। বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

----------------------
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেন।

অন্যদিকে, 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।
• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ- লিপিমালা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৯৩.
জীবনানন্দ দাশ মারা যান -
  1. ক) ১৮৯৯ সালে
  2. খ) ১৯৩৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৪ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা

- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এছাড়াও তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৭৯৪.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'র উৎস কি?
  1. ভাগবত
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. মহাভারত
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৭৯৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গল্পে যৌতুক প্রথা প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. আপদ
  2. দিদি
  3. প্রায়শ্চিত্র
  4. হৈমন্তী
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
হৈমন্তী:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প।
- এই গল্পে যৌতুক প্রথা প্রাধান্য পেয়েছে
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: হৈমন্তী, অপু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প:
- ব্যবধান,
- মেঘ ও রৌদ্র,
- পণরক্ষা,
- দিদি,
- কর্মফল,
- দান প্রতিদান, 
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- পুত্রযজ্ঞ,
- পোস্ট মাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৭৯৬.
চর্যাপদের বিলুপ্ত পদসমূহের মধ্যে তন্ত্রীপা রচিত পদ কোনটি?
  1. ২৩নং
  2. ৪৮নং
  3. ২৪নং
  4. ২৫নং
সঠিক উত্তর:
২৫নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫নং
ব্যাখ্যা
 চর্যাপদের পদ সংখ্যা সম্পর্কিত আলোচনা:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৯৭.
বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপখ্যান ধারার প্রবর্তক-
  1. সাবিরিদ খান
  2. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহাম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
শাহ মুহাম্মদ সগীর:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪ -এর শেষে থেকে ১৫ শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন।
- পনের শতকের প্রথমে ”ইউসুফ জোলেখা” কাব্য রচনা করার মাধ্যমে তিনি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধরার প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৯৮.
আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কৃষ্ণপক্ষ
  2. শেষ রাত্রির চাঁদ
  3. বাংলাদেশ কথা কয়
  4. চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’।
- উপন্যাসটি ১৯৬০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৯৯.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৮০০.
প্রেমেন্দ্র মিত্র কোন পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন?
  1. বাংলার কথা
  2. বঙ্গবাণী
  3. সংবাদ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র - সংবাদ, বঙ্গবাণী এবং বাংলার কথা পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র:

- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন ,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।