বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৫৬ / ২১১ · ৫,৫০১৫,৬০০ / ২১,১৩২

৫,৫০১.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ নয়?
  1. আখ্যান মঞ্জুরী
  2. বোধোদয়
  3. কথামালা
  4. ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্তিবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ নয় - ভ্রান্তিবিলাস।
- ভ্রান্তিবিলাস বিশ্বখ্যাত নাট্যকার শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটক অবলম্বনে রচিত।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা,
- শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০২.
বন্দে আলী মিয়ার শিশুতোষ গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চোর জামাই
  2. মৃগপুরি
  3. কুচবরণ কন্যা
  4. অনুরাগ
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ
ব্যাখ্যা
⇒ বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্য নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) লিপিমালা
  2. খ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. গ) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।
- রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত) 
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন। 

- বেতাল পঞ্চবিংশতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গদ্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রভাবতী সম্ভাষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫০৪.
"বল        বীর -
               বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!" পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ক) অগ্নি-বীণা
  2. খ) সর্বহারা
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) সিন্ধু হিন্দোল
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের 'বিদ্রোহী' কবিতার অন্তর্গত। 
 - 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন। 
- এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ও দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
- কবিতাটি নিম্নরূপ- 

"বল        বীর -
               বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
                 বল        বীর -
বল   মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
       চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
       ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
       খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
       উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
 মম   ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
                 বল        বীর -
              আমি   চির উন্নত শির! (সংক্ষিপ্ত) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০৫.
নিচের কোনটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) অগ্নীশ্বর
  2. খ) প্রচ্ছন্ন মহিমা
  3. গ) ভুবনসোম
  4. ঘ) সতীর্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীর্থ
ব্যাখ্যা

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
তৃণখন্ড (১৯৩৫),
স্থাবর (১৯৫১),
অগ্নীশ্বর (১৯৫৯),
হাটেবাজারে (১৯৬১),
ত্রিবর্ণ (১৯৬৩),
ভুবনসোম (১৯৬৩),
প্রচ্ছন্ন মহিমা (১৯৬৭),
উদয় অস্ত (দুই খন্ড, ১৯৫৯ ও ১৯৭৪) প্রভৃতি।

[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]

৫,৫০৬.
‘পল্লী জননী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধানখেত
  2. রাখালী 
  3. রূপবতী
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
রাখালী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী 
ব্যাখ্যা

- জসীমউদ্‌দীন রচিত ‘পল্লী জননী’ কবিতাটি রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ।
- ১৯২৭ সালে ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা নিয়ে কাব্যগ্রন্থটি রচিত।
- ‘রাখালী’ নামক কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

⇒ জসীমউদ্‌দীন:

- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫০৭.
'নবী বংশ' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. সৈয়দ হামজা
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা

• 'নবীবংশ' গ্রন্থটির রচয়িতা - সৈয়দ সুলতান।

• 'নবীবংশ' গ্রন্থ:
- নবীবংশ গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত হয়। হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবনীকাব্য এটি।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।

• সৈয়দ সুলতান:
- মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো -
- জ্ঞানচৌতিশা,
- নবীবংশ,
- শব-ই-মেরাজ ও
- জয়কুমার রাজার লড়াই (যুদ্ধবিষয়ক কাহিনীকাব্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫০৮.
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. চৈতন্য-লীলা
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. চৈতন্য-মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০৯.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) A Code of Gento Laws
  2. খ) The Development of Bengali Language
  3. গ) History of Bengali Language
  4. ঘ) Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes
সঠিক উত্তর:
ক) A Code of Gento Laws
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) A Code of Gento Laws
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচনা করেন 'A Code of Gento Laws' ।
- গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন।
- পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন
- সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
-------------------------
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০):
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা  ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও  বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও  অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত  A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে হ্যালহেড এটি রচনা করেন।
- ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে  খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল।

Manuel da Assumpção--- 'Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes' (১৭৪৩)
ব্রাসি হ্যালহেড --- ' A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮)।
উইলিয়াম কেরি --- 'A Grammar of the BengaliLanguage' (১৮০১)
দীনেশচন্দ্র সেন - History of Bengali Language and Literature 
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় - Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১০.
১১ নং সেক্টরের সম্মুখ যুদ্ধ' চিত্রিত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  2. খ) নেকড়ে অরণ্য
  3. গ) যুদ্ধ
  4. ঘ) ঘাতক রাত্রি
সঠিক উত্তর:
গ) যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• সেলিনা হোসেন জনযুদ্ধকে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে দেখার বাসনা থেকে রচনা করেছেন -
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- যুদ্ধ,
- কাঠকয়লার ছবি,
- মাটি ও শস্যের বুনন,
- ঘুমকাতরে ঈশ্বর,
- দিনের রশিতে গিটটু,
- বীরাঙ্গনা, ইত্যাদি উপন্যাস।

• তিনি তার ‘যুদ্ধ’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন ১১ নম্বর সেক্টরে সরাসরি যুদ্ধকে চিত্রিত করে। অগণিত মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং এ যুদ্ধ সম্পর্কে দেশীয় ঐতিহ্যস্পর্শী ভাবনার ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উচ্চকিত করার প্রয়াস পেয়েছেন তিনি ৩২৬ পৃষ্ঠার বৃহৎ এ উপন্যাসে।

- ঘাতক রাত্রি - রাবেয়া খাতুন রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং যুগান্তর পত্রিকা- স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা;২৬ মার্চ ২০২২।
৫,৫১১.
'বখতিয়ারের ঘোড়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. আহসান হাবীব
  3. আল মাহমুদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ:
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি ছিলেন।
- বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১২.
“আগুনের শেষ, ঋণের শেষ আর শত্রুর শেষ কখনো রাখিসনে মা” - শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি?
  1. ক) শ্রীকান্ত
  2. খ) দত্তা
  3. গ) পল্লী সমাজ
  4. ঘ) পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
গ) পল্লী সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পল্লী সমাজ
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত উক্তি “পল্লী সমাজ” উপন্যাস থেকে নেয়া। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত। এর আগে “ভারতবর্ষ” পত্রিকায় উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। শরৎচন্দ্রের আত্মজীবনীমূলিক উপন্যাস - শ্রীকান্ত; প্রেমের উপন্যাস - দত্তা, রাজনৈতিক উপন্যাস - পথের দাবী। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৫,৫১৩.
শামসুর রাহমানের পরিচয় বিধৃত আছে তাঁর -
  1. 'অদ্ভুত আঁধার এক' গ্রন্থে
  2. 'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' গ্রন্থে
  3. 'কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে' গ্রন্থে
  4. 'সৌন্দর্য আমার ঘরে' গ্রন্থে
সঠিক উত্তর:
'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' গ্রন্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' গ্রন্থে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- সাহিত্য রসযোদ্ধা ও সমালোচক শামসুর রাহমানের পরিচয় বিধৃত আছে তাঁর 'আমৃত্যু তার জীবনানন্দ' (১৯৮৬) ও 'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' (২০০২) গ্রন্থ দুটিতে।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- অদ্ভুত আঁধার এক, 
- নিয়ত মন্তাজ, 
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ, 
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর, 
- কালের ধুলোয় লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৪.
নিচের যেটি অনূদিত কবিতার দৃষ্টান্ত-
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) জীবন-সঙ্গীত
  3. গ) ছায়াময়ী
  4. ঘ) শূরসুন্দরী
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন-সঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন-সঙ্গীত
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতাটি H.W. Longfellow রচিত A Psalm in life এর অনুবাদ। হেমচন্দ্রের কাব্য ছায়াময়ী এবং রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্য- শূরসুন্দরী।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৫১৫.
'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' কিসের সংকলন?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) লোকসাহিত্য
  4. ঘ) গান
সঠিক উত্তর:
ঘ) গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গান
ব্যাখ্যা

• অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
• তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
• 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৫১৬.
"আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা- সৈয়দ শামসুল হক। 
- আলোচ্য পঙ্‌ক্তিদ্বয় সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'আমার পরিচয়' কবিতার অংশ।  
------------------------- 
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: হৃৎকলমের টানে।
---------------
আমার পরিচয়- কবিতা, 
- সৈয়দ শামসুল হক।

আমি জন্মেছি বাংলায়
আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে। (সংকলিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৭.
'যুদ্ধ মানেই শত্রু শত্রু খেলা,
যুদ্ধ মানেই
আমার প্রতি তোমার অবহেলা৷' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• যুদ্ধ মানেই শত্রু শত্রু খেলা,
যুদ্ধ মানেই
আমার প্রতি তোমার অবহেলা৷' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ। 

•  কবিতাংশটুকু নির্মলেন্দু গুণ এর 'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' কাব্যগ্রন্থের 'যুদ্ধ' কবিতার অন্তর্গত।  

---------------------
⇒ নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো : 
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ কাব্যগ্রন্থ নির্মলেন্দু গুণ।
৫,৫১৮.
'চারুলতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. শাস্তি
  2. সমাপ্তি
  3. পোস্টমাস্টার
  4. নষ্টনীড়
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

• 'চারুলতা' রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র। 

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫১৯.
’Rajmohan's Wife’ - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রমেশচন্দ্র দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ’Rajmohan's Wife’
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম ইংরেজি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয়-১৮৬৪ সালে, Indian Field, পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
----------------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫২০.
'কাকজ্যোৎস্না' উপন্যাসটি কোন লেখকের লেখা?
  1. ক) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  2. খ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
খ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত কাকজ্যোৎস্না' উপন্যাসটি রচনা করেন 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত'।

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত 

- কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এর
- জন্ম ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল নোয়াখালী শহরে। দ
- ১৯২১ সালে প্রবাসী পত্রিকায় 'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।
- তিনি উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব দেখান।

-• তাঁর প্রথম উপন্যাস বেদে (১৯২৮)।
- অচিন্ত্যকুমারের গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় সত্তর।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-

উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না,
- বিবাহের চেয়ে বড়, -
- প্রাচীর ও প্রান্তর,
- প্রথম কদমফুল;

কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা,
- আমরা,
- প্রিয়া ও পৃথিবী, - নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম,
- উত্তরায়ণ

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২১.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা'- (১৯১৪) মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত প্রথম ও জনপ্রিয় উপন্যাস। 
- ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য বিষয়। 
- এ উপন্যাসের চরিত্র আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজীমুল্লা, গোলাপজান ইত্যাদি। 
 
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২২.
'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' কাব্যটি কোন সাহিত্য ধারার নিদর্শন?
  1. বৈষ্ণব পদাবলি
  2. লোকসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী ইত্যাদি।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫২৩.
মুনির চৈধুরী রচিত কোনো নাটকে কোন নারী চরিত্র নেই?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. কবর
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা
• মুনির চৈধুরী রচিত 'কবর' নাটকে কোনো নারী চরিত্র নেই।

• ‘কবর’ নাটক:
-  ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
 
• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।
বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।
------------------------
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।
---------------- 
• 'দণ্ডকারণ্য' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।
- 'দণ্ড', 'দণ্ডধর', 'দণ্ডকারণ্য' নামে তিনটি নাটক একত্রিত করে ১৯৬৬ সালে 'দণ্ডকারণ্য' নামে প্রকাশিত হয়। 
- 'দণ্ড' একাঙ্ক কমেডি, ১৯৬০ সালে রচিত।
- 'দণ্ডধর' ১৯৬৩ সালে রচিত।
- 'দণ্ডকারণ্য' ১৯৬৫ সালে রচিত।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: আমিন, জাহানারা, রোকেয়া।
------------------
• ‘মানুষ’ নাটক:
- ‘মানুষ’ নাটকটি একটি একদৃশ্য বিশিষ্ঠ নাটক।
- ১৯৪৭ সালে প্রকশিত হয়।
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, হিন্দু ডাক্তার প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৫,৫২৪.
‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন গল্প অবলম্বনে রচনা করা হয়েছে?
  1. Arnals and Anliquities
  2. Apple of Discords
  3. পাদুমাবত
  4. Paradise Lost
সঠিক উত্তর:
Apple of Discords
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Apple of Discords
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত,(১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- তিনি কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের বেলগাছিয়া থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। এমন একটি পরিস্থিতিতে নাট্যকার হিসেবেই মধুসূদনের বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে পদার্পণ ঘটে। তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

 তার রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯) -পৌরাণিক নাটক।
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০) - প্রহসন।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) - প্রহসন।
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০) - পৌরাণিক নাটক

১৮৬০ সালেই মধুসূদন রচনা করেন পদ্মাবতী নাটকটি।
- এই নাটকের ভিত্তি পুরোপুরি ভারতীয় পুরাণ নয়। গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অফ ডিসকর্ড’ গল্পটি ভারতীয় পুরাণের মোড়কে পরিবেশন করেছেন মধুসূদন। গ্রিক পুরাণের জুনো, প্যালাস ও ভেনাস এই নাটকে হয়েছেন শচী, মুরজা ও রতি। হেলেন ও প্যারিস হয়েছেন পদ্মাবতী ও ইন্দ্রনীল। তিন দেবীর মধ্যে রতিকে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নির্বাচিত করলে অন্য দুই দেবী ইন্দ্রনীলের প্রতি রুষ্টা হন এবং ইন্দ্রনীলের জীবনে বিপর্যয় নামিয়ে আনেন। শেষে রতি ও ভগবতীর চেষ্টায় ইন্দ্রনীল উদ্ধার পান এবং বিচ্ছিন্না স্ত্রী পদ্মাবতীর সঙ্গে তার মিলন ঘটে। মূল গ্রিক উপাখ্যানটি বিয়োগান্তক হলেও, মাইকেল এই নাটকটিকে ইংরেজি ট্র্যাজি-কমেডির ধাঁচে করেছেন মিলনান্তক। এই নাটকে সংস্কৃত নাট্যরীতির প্রভাব অল্পই। প্লট-নির্মাণ, নাটকীয় দ্বন্দ্ব উপস্থাপনা ও চরিত্র চিত্রণে মাইকেল এখানে আগের থেকে পরিণত হয়েছেন।

কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১) - প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক, ঐতিহাসিক নাটক।
মায়া-কানন (১৮৭৪) - নাটকটি তিনি শেষ করতে পারেন নি।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে কপর্দকহীন (অর্থাভাবে) অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে কলকাতার সার্কুলার রোডে সমাধি দেওয়া হয়।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া

৫,৫২৫.
'তিলত্তোমা' কোন উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
 বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:

- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৫২৬.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন?
  1. প্রগতি
  2. কোহিনূর
  3. শিখা
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন: 
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। - কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন, 
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে, 
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২৭.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কামিনী কাঞ্চন
  2. খ) অসমাপিকা
  3. গ) কঙ্কাবতী
  4. ঘ) রাখী
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাখী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ রাখী। 
- এটি তাঁর প্রথম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। 

- 'অসমাপিকা' (১৯৩০) অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রথম উপন্যাস। 
- কামিনী কাঞ্চন (১৯৫৪) অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ছোটগল্প। 
- কঙ্কাবতী (১৯৩৪) অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫২৮.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে আর কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. মঙ্গল কবিরত্ন
  2. নাগরিক কবি
  3. অলঙ্কার কবি
  4. কাব্যভূষণ
সঠিক উত্তর:
নাগরিক কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি। ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৫,৫২৯.
'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. মেজর রফিকুল ইসলাম
  4. রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা - রাবেয়া খাতুন।

রাবেয়া খাতুন:
- রাবেয়া খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে মামাবাড়ি পাউসার গ্রামে।
- খাতুনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন শহর ও পুরোন ঢাকায়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প 'প্রশ্ন'।
- পুস্তকাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'মধুমতী'।
- প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশ। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও সাহিত্যের সব শাখায় রয়েছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। লিখেছেন অসংখ্য ছোট গল্প, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ছড়া, কিশোর সাহিত্য।

রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- শুধু তোমার জন্য,
- বসন্তভীলা,
- কুয়াশার ভোর,
- মেঘের পরে মেঘ,
- চাঁদের ফোটা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩০.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ 
  3. সামাজিক কুসংস্কার 
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩১.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নাটক কোনটি?
  1. যুদ্ধ
  2. কবর
  3. বর্ণচোর
  4. বিবাহ
সঠিক উত্তর:
বর্ণচোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণচোর
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর, 
- বকুলপুরের স্বাধীনতা, 
- কী চাহ শঙ্খচিল, 
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক-
• নরকের লাল গোলাপ - আলাউদ্দিন আল আজাদ.
• যে অরণ্যে আলো নেই - নীলিমা ইব্রাহীম,
• পঙ্কজ বিভাস - জিয়া হায়দার,
• কিংশুক যে ম্রুতে - মোহাম্মদ এহসানুল্লাহ,
• কি চাহ শঙ্খচিল - মমতাজউদ্দীন আহমেদ,
• প্রতিদিন একদিন - সাঈদ আহমদ,
• ফেরী আসছে - রনেশ দাশগুপ্ত।
-------------------
• মমতাজউদদীন আহমদ: 
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
 
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩২.
‘আয়নায় বন্ধুর মুখ’- এই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটি কার রচনা?
  1. আবুল হাসান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল হোসেন
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

• "আয়নায় বন্ধুর মুখ" নাটক:
- "আয়নায় বন্ধুর মুখ" আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পথ হারানো তারুণ্য, ঘরের বাইরে বাঙালি মেয়েদের সীমাবদ্ধতা- এসবই ছিল আয়নায় বন্ধুর মুখ-এর উপজীব্য।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৩৩.
‘কানু ছাড়া গীত নাই’- কোন যুগের সাহিত্যের ক্ষেত্রে সত্য ছিল?
  1. প্রাচীন যুগে
  2. মধ্যযুগে
  3. অন্ধকার যুগে
  4. আধুনিক যুগে
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগে
ব্যাখ্যা
• কানু ছাড়া গীত নাই- মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- কানু হলেন কৃষ্ণ।

- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা হলো:
বৈষ্ণব সাহিত্য,
মঙ্গলকাব্য,
অনুবাদ সাহিত্য,
নাথ সাহিত্য,
জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য,
লোক সাহিত্য ধারা ইত্যাদি।

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারা গুলোর মধ্যে পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ বৈষ্ণব সাহিত্যধারা।
- এ সময় বাংলায় কৃষ্ণকথা এবং শ্রীকৃষ্ণ অধিক জনপ্রিয় ছিল।
- ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যগ্রন্থ টি রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের কাহিনি অবলম্বনে রচিত মধ্যযুগের প্রথম বাংলা ভাষার কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৩৪.
জসীম উদ্‌দীন রচিত ’রঙ্গিলা নায়ের মাঝি’ একটি-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গানের সংকলন
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন:
-  তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
-  ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
-  তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

তাঁর রচিত গানের সংকলন: 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি।
- গাঙ্গের পাড়।
- জারিগান।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত আত্মকথা:
- যাদের দেখেছি ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।

তাঁর ভ্রমণ কাহিনী:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩৫.
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. বেগম রোকেয়া 
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ ও গবেষণাগ্রন্থ।

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত নারীদের জীবনকাহিনীকে কেন্দ্র করে লেখা।
- বইয়ে উল্লেখিত নারীরা হলেন: তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
- লেখক বলেছেন, এই সাতজনের কাহিনী প্রতিনিধিত্ব করছে প্রায় দুই লাখ মা-বোনের।
- বইতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি সম্বন্ধেও আলোচনা করা হয়েছে।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন মৃত্যু বরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ ও গবেষণাকর্ম:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়। 

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই, 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর। 

তাঁর আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৩৬.
'একাত্তরের দিনগুলি' জাহানারা ইমাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. দিনলিপি
  3. নাটক
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
দিনলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনলিপি
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের দিনগুলি' দিনলিপি:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

- বইটি ব্যক্তিগত দিনলিপি আকারে লেখা, যার শুরু ১৯৭১ সালের ১ মার্চ এবং সমাপ্তি সেই বছরের ১৭ ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা শহরের অবস্থা ও গেরিলা তৎপরতার বাস্তব চিত্র এতে উঠে এসেছে। বইটিতে তার সন্তান শফি ইমাম রুমী অন্যতম প্রধান চরিত্র হিসেবে দেখা দেয়।

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।খণ্ড খণ্ড আকারে লেখা এই ঘটনাগুলিই ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়।

- বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

উৎস: 'একাত্তরের দিনগুলি' জাহানারা ইমাম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৩৭.
'কড়চা' বলতে কী বুঝায়?
  1. আত্মজীবনী
  2. ছড়া
  3. গীতিকবিতা
  4. দিনিলিপি
সঠিক উত্তর:
দিনিলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনিলিপি
ব্যাখ্যা
'কড়চা' কথাটির আধুনিক অর্থ দাড়িয়েছে দিনিলিপি বা ডায়েরি। 
- তবে মুরারি গুপ্ত ও স্বরুপ দামোদারের কল্যানে চৈতন্যজীবনি গ্রন্থ কড়চা বলে অভিহিত হয়েছে। 
- তাঁরা  চৈতন্যজীবন কাহিনি শ্লোকে পরিবেশন করে কড়চা বলে নির্দেশ করেছেন। 
- সুকুমার সেনের মতে, "কড়চা শব্দটি আসিয়াছে প্রাকৃত 'কটকচ্চ' সংস্কৃত 'কৃতকৃত্য' হইতে। কট শব্দটি প্রাচীন অনুশাসনে 'খসড়া লেখা' (original draft)অর্থেই পাওয়া গিয়াছে। কড়চার অর্থও এই বুৎপত্তির অনুরূপ খসড়া রচনা , স্মারকলিপি, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।"


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৩৮.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিণি কোনটি?
  1. ক) পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ
  2. খ) দেশে বিদেশে
  3. গ) মংডুর পথে
  4. ঘ) পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথে প্রবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- ১৯৪২ সালে প্রকাশিত 'ইউরোপের চিঠি' নামে আরও একটি ভ্রমণকাহিনি রয়েছে।

'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী
'পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - শহীদুল্লাহ কায়সার
'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - বিপ্রদাশ বড়ুয়া

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৩৯.
"বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলিয়া দেয়" - উক্তিটি কোন রচনার?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. শ্রীকান্ত
  3. বড়দিদি
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- পঙ্‌ক্তিটি তিনি 'শ্রীকান্ত' নামক আত্মজৈবনিক উপন্যাসে উদ্ধৃত করেছেন। 

 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' তাঁর আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।
- এতে তিনি শ্রীকান্ত শর্মা ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

• এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি-
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।',
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া দেয়।', (শ্রীকান্ত ও বাইজি রাজলক্ষ্মীর বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে এই কথাটি বলা হয়েছে।)
- 'মড়ার আবার জাত কি?'

উৎস: শরৎ রচনাবলী।
৫,৫৪০.
কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. ক্ষিতিমোহন সেন
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক্ষিতিমোহন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষিতিমোহন সেন
ব্যাখ্যা

'কবিগুরু':
- ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন।

- তাঁর কাব্য প্রতিভা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই এ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য,:
- মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।

- পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

- বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোনো বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেননি, বরং তিনি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথকে 'আদিগন্ত ব্যাপ্ত' এবং 'স্বরাট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উৎস:
১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২.বাংলাপিডিয়া।
৩.আমার ছেলেবেলা ।

৫,৫৪১.
”পাখির বাসা” শিশুতোষ গ্রন্থের জন্যে ফররুখ আহমদ কী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ইউনেস্কো পুরস্কার
  2. আদমজি পুরস্কার
  3. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  4. রবীন্দ্রনাথ পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
ইউনেস্কো পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউনেস্কো পুরস্কার
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪২.
আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সারা দুপুর
  2. খ) শেষরাত্রি
  3. গ) অরণ্যে নীলিমা
  4. ঘ) ছুটির দিন দুপুরে
সঠিক উত্তর:
ক) সারা দুপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সারা দুপুর
ব্যাখ্যা
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- ছায়া হরিণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৪৩.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের শুরু হয়-
  1. ১১০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১২০১ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০১ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের যুগ তিনটি।
যথা:
- প্রাচীন যুগ (৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রি.),
- মধ্যযুগ (১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রি.) ও
- আধুনিক যুগ (১৮০১ থেকে বর্তমান)।

- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময় বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাই অনেক লেখক এই সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলে থাকেন।
-  এ সময় যে সাহিত্য কর্ম পাওয়া গেছে তা মূলত সংস্কৃত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৪৪.
"আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - চরণটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. দোলনচাঁপা
  2. সাম্যবাদী
  3. চক্রবাক
  4. প্রলয়শিখা
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

"আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত। 

•'পাপ' কবিতা: 
'পাপ' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী' কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত। কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।

উৎস: সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৪৫.
শাহপরি দ্বীপের মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ ঘটেছে সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  3. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  4. জলোচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা

'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মালেক,
- সাফিয়া,
- তোরাব আলী প্রমুখ।

--------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং 'পোকা মাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস।

৫,৫৪৬.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার নাম কী?
  1. স্মৃতিস্তম্ভ
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
সঠিক উত্তর:
কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
ব্যাখ্যা
'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' কবিতা:
- কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী। 
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪৭.
নিচের কোনটি কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ?
  1. অশোকসঙ্গীত
  2. পৌরাণিকী
  3. মাল্য ও নির্মাল্য
  4. অম্বা
সঠিক উত্তর:
অশোকসঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশোকসঙ্গীত
ব্যাখ্যা

• 'অশোকসঙ্গীত' হলো বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি ও লেখিকা কামিনী রায়ের লেখা একটি বিখ্যাত সনেট সংগ্রহ, যা তিনি ১৯১৪ সালে রচনা করেন। 

-----------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৪৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শেষের কবিতা
  2. শেষলেখা
  3. শেষ প্রশ্ন
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
ব্যাখ্যা
• 'শেষলেখা':
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শেষের কবিতা" প্রধানত গীতিধর্মী উপন্যাস।
•  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শেষ প্রশ্ন, শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

---------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে -
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- প্রভাতসঙ্গীত,
- বনফুল,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪৯.
চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়- 
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯১০ সালে
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৫০.
পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করে নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. হাজার বছর ধরে
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. বরফ গলা নদী
সঠিক উত্তর:
জীবন থেকে নেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন থেকে নেয়া
ব্যাখ্যা
'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্র:
• 'জীবন থেকে নেয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়।

• 'জীবন থেকে নেয়া' ছবিতে প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

• ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
• বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
• 'বরফ গলা নদী' উপন্যাসটির রচয়িতা জহির রায়হান। ১৩৭৬ বঙ্গাব্দে 'বরফ গলা নদী' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫,৫৫১.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. অন্ধ কথামালা
  3. জীবন আমার বোন
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে-কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
• 'ওঙ্কার' এটি '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফার উপন্যাস।
• রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- খাঁচায়, অন্ধ কথামালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৫২.
'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
'ঝিলিমিলি' নাটক:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ছোট নাটকের গ্রন্থ ‘ঝিলিমিলি'।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ, শিল্পী নামের তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মির্জা সাহেব;
- ফিরোজা;
- হালিমা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
-  ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫৩.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. ইতিহাসমালা
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. হিতোপদেশ
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা
• বেদান্তচন্দ্রিকা, হিতোপদেশ, রাজাবলি - মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা।

অন্যদিকে,
• উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ - ইতিহাসমালা।

------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলি,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৫,৫৫৪.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) সহচা সচকিত
  2. খ) একক সন্ধায় বসন্ত
  3. গ) অনেক আকাশ
  4. ঘ) অনল প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ - অনেক আকাশ, একক সন্ধায় বসন্ত, সহচা সচকিত, উচ্চারণ, আমার প্রতিদিনের শব্দ, প্রেম যেখানে সর্বস্ব।
অনল প্রবাহ - সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৫,৫৫৫.
দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র -
  1. আয়েশা
  2. তিলোত্তমা
  3. বিমলা
  4. জগৎসিংহ
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫২ সালে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
- ১৮৫৬ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা পুরাকালিক গল্প তথা মানস’ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশ করেন বঙ্গদর্শন নামের সাময়িক পত্রিকা।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'।
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।

• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী ,
- বিষবৃক্ষ ,
- ইন্দিরা ,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,

প্রবন্ধ গ্রন্থ: 
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- লোকরহস্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ সমালোচনা,
- প্রবন্ধ-পুস্তক,
- সাম্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত (ব্যাঙ্গ)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫৬.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিকথা?
  1. ক) বাতায়ন
  2. খ) আমি বিজয় দেখেছি
  3. গ) রাজবন্দীর রোজনামচা
  4. ঘ) অনিল বাগচীর একদিন
সঠিক উত্তর:
খ) আমি বিজয় দেখেছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমি বিজয় দেখেছি
ব্যাখ্যা
'আমি বিজয় দেখেছি' (১৯৮৫) এম আর আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্মৃতিকথা। 

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিছু স্মৃতিকথা:
- একাত্তরের দিনগুলি ( জাহানারা ইমাম)
- একাত্তরের ডায়েরি (সুফিয়া কামাল)
- ফেরারী ডায়েরি (আলাউদ্দিন আল আজাদ)

• অন্যদিকে,
- কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - 'অনিল বাগচীর একদিন'
- ইব্রাহীম খাঁ রচিত স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশবস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথা ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. ভদ্রার্জুন 
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. পদ্মবতী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণকুমারী: 
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক রচনা করেন। 

• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত চরিত্রকে হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করেন ।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্য:

→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী; 

• তাঁর রচিত প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৫৮.
বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত কবি কে?
  1. কৃষ্ণদাস সেন 
  2. বৃন্দাবন দাস
  3. লোচন দাস
  4. বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা

• শ্রীচৈতন্যদেব ও জীবনী সাহিত্য:
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।

• বৃন্দাবন দাস ও বাংলা সাহিত্যের জীবনীকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

উল্লেখ্য,
- বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত ''চৈতন্যমঙ্গল''।
- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত- চৈতন্য-চরিতামৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৫৯.
'সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।' বিখ্যাত উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৈমন্তী
  2. সমাপ্তি
  3. পোস্টমাস্টার
  4. মহেশ
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। -
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৬০.
'আগুনপাখি' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৬১.
'তুবড়ি বাঁশির ডাক' প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'তুবড়ি বাঁশির ডাক' প্রবন্ধ:
- 'তুবড়ি বাঁশির ডাক' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রবন্ধ।
- প্রবন্ধটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই প্রবন্ধে সাপুড়েরা তাদের তুবড়ি বাঁশির ডাকে যেমন গর্ত থেকে সাপকে বের করে আনেন; তেমনি বাঁশির ডাকে দেশকে জাগরণের মন্ত্রে উজ্জীবিত করার কথা কবি লিখেছেন। সাপের বিষদাঁতের ছোবল মেরে জর্জরিত ধরণী বা ভারতবর্ষকে জাগিয়ে তোলার কথা কবি বলেছেন।
- এই প্রবন্ধে মূলত ভারতবাসীকে স্বাধীনতা ও মনুষ্যত্বের মন্ত্রে উজ্জীবিত হবার বিষয়টিই কবি অভিব্যক্ত করেছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনে পিষ্ট ভারতবর্ষকে কবি বলেছেন-'অরাজক বিশ্ব'। 

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
 
• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।
 
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থ।
৫,৫৬২.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ধুমকেতু
  2. কল্লোল
  3. লাঙল
  4. সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয়- কল্লোল। 
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা:
- তার প্রথম পত্রিকা ছিল ধূমকেতু।
- লাঙল কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় সম্পাদিত পত্রিকা।
- 'লাঙল' ছিল শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ পার্টির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ এ যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- জন্ম: ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯), পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- ডাক নাম: দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে পরিচিত 'বিদ্রোহী কবি' নামে।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে তিনি 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৬৩.
কোন সাহিত্যকর্মটি ‘রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান’ নয়?
  1. পদ্মাবতী
  2. গুলে বকাওলী
  3. মধুমালতী
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য একটি সাহিত্যিক মহাকাব্য।
- এটি বাঙালি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন।

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩। বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬৪.
'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধটি কে লিখেছেন?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধটির রচয়িতা - প্রমথ চৌধুরী।
- রচনাটি প্রমথ চৌধুরীর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

• 'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
প্রকৃতির যৌবন শাসনযোগ্য হলেও তাকে শাসন করবার ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই; কেননা, প্রকৃতির ধর্ম মানবধর্মশাস্ত্রবহির্ভূত। সেই কারণে জ্ঞানীব্যক্তিরা আমাদের প্রকৃতির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে বারণ করেন, এবং নিত্যই আমাদের প্রকৃতির উলটো টান টানতে পরামর্শ দেন; এই কারণেই মানুষের যৌবনকে বসন্তের প্রভাব হতে দরে রাখা আবশ্যক। অন্যথা, যৌবন ও বসন্ত এ দুয়ের আবির্ভাব যে একই দৈবীশক্তির লীলা–এইরূপ একটি বিশ্বাস আমাদের মনে স্থানলাভ করতে পারে।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত,
- গল্পসংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৬৫.
বুদ্ধদেব বসুর প্রথম উপন্যাস-
  1. সাড়া
  2. কালো হাওয়া
  3. সানন্দা
  4. তিথিডোর
সঠিক উত্তর:
সাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়া
ব্যাখ্যা
• 'সাড়া' উপন্যাস:
- বুদ্ধদেব বসুর প্রথম উপন্যাস "সাড়া” (১৯২৮-২৯)।
- এই উপন্যাস রচনাকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র কুড়ি।
- তাঁর তেতাল্লিশটি (৪৩) উপন্যাসের মধ্যে "সাড়া” সাধুভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস।
- এরপর সাধুভাষায় বুদ্ধদেব আর কোনো উপন্যাস রচনা করেন নি।
- এই সময় "প্রগতি” পত্রিকা প্রকাশ পায়।
- ১৯২৮ সালে উপন্যাসটি লেখা শুরু করেন এবং ১৯৩০ সালের জানুয়ারী মাসে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস রূপে প্রকাশিত হয়।
- 'সাগর' এই উপন্যাসের নায়ক।

উপন্যাসটির উৎসর্গ পত্রে লেখা ছিল -
"এই আমার প্রথম উপন্যাস শ্রী অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্তকে দিলাম
যে লেখকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা সেই মানুষের প্রতি অনুরাগের সমান এ-বই তাঁর উপযুক্ত বলে নয়, আমার প্রথম বলে।"
------------------ 
• বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি প্রকাশনা।
৫,৫৬৬.
শ্রীহর্ষ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. সেক শুভোদয়া
  3. প্রাকৃত পৈঙ্গল
  4. নিলপুরাণ
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত পৈঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত পৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।
 
অন্যদিকে,
• ‘নিলপুরাণ’ (১৭৩৫) সহদেব চক্রবর্তী রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
৫,৫৬৭.
‘ভিখু ও পাচি’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের রচয়িতা- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ভিখু ও পাচী তাঁর 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের পাত্র-পাত্রী।

-------------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৬৮.
অমিয় চক্রবর্তী কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ঢাকা
  2. বীরভূম
  3. চব্বিশ পরগনা
  4. হুগলী
সঠিক উত্তর:
হুগলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুগলী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৬৯.
'কাশবনের কন্যা' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  2. খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম একজন কথাসাহিত্যিক।
১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গল্পগ্রন্থ: 
- অনেক দিনের আশা 
- ঢেউ 
- পথ জানা নেই 
- দুই হৃদয়ের তীর 
- শাহের বানু 
- পুঁই ডালিমের কাব্য 

তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৫৭০.
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।। - পদটি রচয়িতা কে?
  1. তাড়কপা
  2. বীণাপা
  3. ভাদেপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
ব্যাখ্যা
ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো।
- তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

ভাদেপা রচিত পদ:

• এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।
(অর্থাৎ এতকাল আমি স্বমোহে ছিলাম, এখন সদগুরু বুঝলাম।)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৭১.
'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিজলী
  2. মোসলেম ভারত 
  3. মাসিক মোহাম্মদী 
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
সওগাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সওগাত
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাসসমূহ:
কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি উপন্যাস রয়েছে। এগুলো হলো-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস:
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উপন্যাস। ১৯২৭-১৯৩০- এসময়ের মধ্যে উপন্যাসটি রচিত এবং সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয় (অগ্রহায়ণ ১৩৩৪-১৩৩৬ ফাল্গুন)।

- 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা প্রধানত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।

- উপন্যাসটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রসূত। ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত নজরুল কৃষ্ণনগরে বাস করতেন। এ নগরের চাঁদসড়কের ধারে বিরাট কম্পাউন্ডওয়ালা একতলা বাংলো প্যাটার্নের একটি বাড়িতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা ছিল। মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের পটভূমি উক্ত বাড়ি, ওমান কাথলি পাড়া এবং কলতলার পারিপার্শ্বিককে কেন্দ্র করে রচিত।

- উপন্যাসের প্রথমাংশ কৃষ্ণনগরে এবং শেষাংশ কলকাতায় রচিত। কৃষ্ণনগরে অবস্থানকালে নিদারুণ দুঃখ-কষ্ট এবং দুঃসাধ্য কৃষ্ণসাধন ছিল নজরুলের নিত্য জীবনযাত্রার অঙ্গ। তাই দারিদ্রের চিত্র, সাম্য ও বিপ্লবীচেতনা এ উপন্যাসের রূপকল্পের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁর বহুল পঠিত 'দ্রারিদ্র' কবিতাটিও এ সময়ের রচনা।

- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- আনাস, রুবি, মেজো বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস।

৫,৫৭২.
চর্যাপদে কয়টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো:
- আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী ( ভুসুকুপা, ৬ নং পদ)।
- দুহিলা দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২ নং পদ)।
- হাড়িতে ভাত নাহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪ নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৭৩.
কোন রচনাটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়?
  1. আমীর হামজা
  2. ইউসুফ জোলেখা
  3. ময়মনসিংহ গীতিকা
  4. গুলে বাকওয়ালী
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। 

অন্যদিকে,

• পুথি সাহিত্য:

- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।
- আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ। 

• বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়-
• প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য:
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি।

• যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য:
- জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি।

• পীর পাঁচালি:
- গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি।

• ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য
- কাসাসুল আম্বিয়া, তাজকিরাতুল আউলিয়া, হাজার মসলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৪.
নিচের কোন সাহিত্যিক কখনো উপন্যাস রচনা করেননি?
  1. বিষ্ণু দে
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
কখনো উপন্যাস রচনা করেননি বিষ্ণু দে।

• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।
 
• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে,
• নির্মলেন্দু গুণ রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
- তৃণখণ্ড,
- জঙ্গম,
- অগ্নি,
- স্থাবর,
- পঞ্চপর্ব,
- নবদিগন্ত।

•  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৫.
'কাব্যকণ্ঠ' কার উপাধি?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।
- তিনি মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্বদর্শন,
- হযরত মুহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলোর হলো:
- ফেরদৌসী-চরিত, 
- মহর্ষি-মনসুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন ছন্দে রচিত ?
  1. ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  2. খ) মাত্রবৃত্ত ছন্দে
  3. গ) স্বরবৃত্ত ছন্দে
  4. ঘ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
সঠিক উত্তর:
ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, (১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মধুসূদনের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি যাকিছু রচনা করেছেন তাতেই নতুনত্ব এনেছেন। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ বাংলা সাহিত্যে সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন।
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক। এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
প্রহসন
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী

কাব্য
-মেঘনাদবধ
- বীরঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব

উৎস: বংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।
৫,৫৭৭.
‘আর্তনাদ’ উপন্যাসটি কার লেখা এবং কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. সেলিনা হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ
  2. শওকত ওসমান, ভাষা আন্দোলন
  3. নীলিমা ইব্রাহীম, ভাষা আন্দোলন
  4. সৈয়দ শামসুল হক, মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান, ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান, ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম 'আর্তনাদ'।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে।
- এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

• কয়েকটি ভাষা আন্দলন ভিত্তিক উপন্যাস:
- আরেক ফাল্গুন -জহির রায়হান,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি - সেলিনা হোসেন,
- যাপিত জীবন - সেলিনা হোসেন।
-------------

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- নেকড়ে অরণ্য,
- দুই সৈনিক,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাঙ্গী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।

৫,৫৭৮.
'ফ্যাশনটা হল মুখোশ, স্টাইলটা মুখশ্রী' বাক্যটি কোন উপন্যাস থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. গোরা
  2. শেষের কবিতা
  3. নৌকাডুবি
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- এটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

• এই উপন্যাসের চরিত্র-
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,৫৭৯.
ভারত সরকার কর্তৃক দীনেশচন্দ্র সেন কোন উপাধি লাভ করেন?
  1. বাংলার মিল্টন
  2. দেশবন্ধু
  3. রায়বাহাদুর
  4. ইতিহাসকার
সঠিক উত্তর:
রায়বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়বাহাদুর
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খন্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিইয়া।
৫,৫৮০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত পত্রসংকলনের নাম কী?
  1. ক) রাশিয়ার চিঠি
  2. খ) বাঁধন হারা
  3. গ) জাভাযাত্রীর পত্র
  4. ঘ) পঞ্চভূতের ডায়রি
সঠিক উত্তর:
গ) জাভাযাত্রীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাভাযাত্রীর পত্র
ব্যাখ্যা
'জাভাযাত্রীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত পত্রসংকলন। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে। 
- দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণকালে রবীন্দ্রনাথ এই পত্রগুলো লিখেছেন। 
- তবে ব্যক্তিগত পত্র বলতে যা বোঝায় এগুলি তা না। 
- নতুন দেশের মানুষ ও সমাজ সম্পর্কে, পথচলাকালীন কবির নানা চিন্তার প্রকাশঘটেছে এখানে। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণ কাহিনি - রাশিয়ার চিঠি
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে ছাপা হয়। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮১.
'রেখাচিত্র' বুদ্ধদেব বসু রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. কবিতা
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'রেখাচিত্র' বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
'রেখাচিত্র' আত্মজীবনী লিখেছেন আবুল ফজল।

• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮২.
সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ-  
  1. সাঁঝের মায়া 
  2. কেয়ার কাঁটা 
  3. আলো ও ছায়া 
  4. অশোকসঙ্গীত 
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া 
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ- সাঁঝের মায়া। 

• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’।
• তাঁর স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

অন্যদিকে, 
- আলো ও ছায়া এবং অশোকসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থ দুইটির রচয়িতা হচ্ছে- কামিনী রায়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।

৫,৫৮৩.
'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) দামোদর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
- আধ্যাত্মিকা উপন্যাসের লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র। 
- প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয়৷
- তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৫৮৪.
মধ্যযুগের প্রথম কয় বছর অন্ধকার যুগ হিসেবে বিবেচিত?
  1. ১৫০ বছর
  2. ২৫০ বছর
  3. ১০০ বছর
  4. ৩৫০ বছর
সঠিক উত্তর:
১৫০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১-১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল (৯৫০ - ১২০০) সুতরাং ২৫০ বছর।
• এবং বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যপ্তি ছিল (১২০১-১৮০০) সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮৫.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধ-শত জন্মবার্ষিকী পালিত হয় কত সালে?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
• বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধ-শত জন্মবার্ষিকী ২০১১ সালের মে মাসে। 

-----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয়। 
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন। গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কবিতা: মানসী, সোনারতরী, চিত্রা, গীতাঞ্জলি, বলাকা, শেষলেখা।

• উপন্যাস: চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা।

• নাটক: বিসর্জন, রাজা, অচলায়তন, ডাকঘর, রক্তকরবী।

• প্রবন্ধ: আধুনিক সাহিত্য, মানুষের ধর্ম, কালান্তর, সাহিত্যের স্বরূপ।

• আত্মজীবনী: জীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা।

উৎস: মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাপিডিয়া এবং BBC NEWS বাংলা (৪ মে ২০১১ রিপোর্টস)।
৫,৫৮৬.
"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়"- চরণটি কার?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা
কবি রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়

“স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব-শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।
কোটিকল্প দাস থাকা নরকের প্রায় হে,
নরকের প্রায়!
দিনেকের স্বাধীনতা, স্বর্গসুখ-তায় হে,
স্বর্গসুখ তায়!

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।
- তিনি নিজে কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন।
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত কাব্য:
- কর্মদেবী,
- শূরসুন্দরী ও
- কাঞ্চী কাবেরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮৭.
'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
• রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভকরেছিল।

সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা, 
- মালতীমাধব, 
- রত্নাবলী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৫,৫৮৮.
আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন কোনটি?
  1. গীতগোবিন্দম্‌
  2. রাধাকৃষ্ণগীত
  3. গোরক্ষ বিজয়
  4. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
সঠিক উত্তর:
গীতগোবিন্দম্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতগোবিন্দম্‌
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল। বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।
৫,৫৮৯.
পরাগলী মহাভারত’ নামে পরিচিত অনুবাদটি কার রচনা?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কবীন্দ্র পরশ্বের
  3. কাশীরাম দাস
  4. দ্বিজ মাধব
সঠিক উত্তর:
কবীন্দ্র পরশ্বের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবীন্দ্র পরশ্বের
ব্যাখ্যা

• মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন মহাকাব্যগুলোর অন্যতম।
- এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মহাকাব্য হিসেবে স্বীকৃত।
- ‘মহাভারত’ শব্দের অর্থ—ভারত বংশের উপাখ্যান।

- এই মহাকাব্য রচনা করেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস (ব্যাসদেব)।
- মহাভারতে মোট ১৮টি পর্ব বা খণ্ড রয়েছে।
- এতে প্রায় ৮৫,০০০ শ্লোক এবং প্রায় ১,৭০,০০০ চরণ বা পঙক্তি সংকলিত হয়েছে।
- কুরুক্ষেত্র যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কৌরব ও পাণ্ডবদের বংশকথা, ধর্ম, নীতি, রাজনীতি এবং মানবজীবনের জটিলতা এই মহাকাব্যের মূল বিষয়বস্তু।
- যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল ১৮ দিন। 

- বাংলা ভাষায় মহাভারতের প্রথম অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরশ্বের।
- তিনি পরাগল খাঁ-এর আদেশে মহাভারতের সারসংক্ষেপ অনুবাদ করেন; তাই এ অনুবাদ ‘পরাগলী মহাভারত’ নামে পরিচিত।
- পরে শ্রীকর নন্দী ছুটি খানের আদেশে মহাভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন, যা ‘ছুটি খানি মহাভারত’ নামে খ্যাত।
- বাংলা সাহিত্যে মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হিসেবে কাশীরাম দাস সর্বাধিক স্বীকৃত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৯০.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন দীর্ঘ বাইশ বছর কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
  1. দৈনিক আজাদ
  2. মাসিক মোহাম্মদী
  3. দৈনিক সোলতান
  4. সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা

'দৈনিক আজাদ' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

------------------------
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন (১৮৯৭-১৯৭৮) সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- ১৯২২ সালে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদে যোগদান করে তিনি ১৯৪০-৬২ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৪ সালে প্রেস ট্রাস্ট অব পাকিস্তান পরিচালিত দৈনিক পাকিস্তানের সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

আবুল কালাম রচিত ও অনূদিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- ত্রিস্রোতা,
- খরতরঙ্গ,
- দৃষ্টিকোণ,
- নতুন চীন নতুন দেশ,
- দিগ্বিজয়ী তাইমুর,
- ইলিয়ড,
- পলাশী থেকে পাকিস্তান,
- অতীত দিনের স্মৃতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৯১.
বৃত্রসংহার কাব্য কে রচনা করেছেন?
  1. ক) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ চিন্তাতরঙ্গিণী ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে বৃত্রসংহার (২ খন্ড, ১৮৭৫-৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে। একসময় বাংলাদেশে কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের যা খ্যাতি তা মূলত এ কাব্যের জন্যই। উল্লেখ্য, বৃত্রসংহার নামে সঞ্জীবচন্দ্রের একটা প্রবন্ধও আছে। সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৫,৫৯২.
'কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?' - কে লিখেছেন?
  1. কামিনী রায়
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• "কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?" পঙ্‌ক্তি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

-----------------------
• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবার।
- ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙ্‌ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সমাজিক উপন্যাস- 
  1. ললিতা তথা মানস
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. চৈতালী ঘূর্ণি
  4. পঞ্চগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সমাজিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

অন্যদিকে,
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'চৈতালী ঘূর্ণি'; 'পঞ্চগ্রাম' উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

------------------------------
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৯৪.
একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) তিনটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) ছয়টি
সঠিক উত্তর:
গ) পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
-  একটি সার্থক মঙ্গলকাব্য পাঁচটি অংশ থাকে যথা : 
- বন্দনা।
- আত্নপরিচয়।
- দেবখন্ড।
- মর্ত্যখন্ড এবং
- শ্রুতিফল।

- মঙ্গল কাব্যের প্রধান দেবতার হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী, ও ধর্মঠাকুর।
- এই কাব্য রচনার মূল কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতার নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।


উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৯৫.
শওকত আলী রচিত বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা' কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৬
  3. ১৯৮৬
  4. ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬
ব্যাখ্যা
• শওকত আলী:
- শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ জানুয়ারি উত্তর দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস ⎯ ‘যাত্রা’।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার পান ১৯৮৬ সালে এবং একুশে পদক লাভ করেন ১৯৯০ সালে।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• 'যাত্রা' উপন্যাস: 
- শওকত আলী রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’। প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।
---------------------------------- 
• শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন ,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উওরের খেপ, 
- বসত, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: 'যাত্রা' উপন্যাস- শওকত আলী; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৬.
সেলিম আল দীন কোন উপজাতিদের নিয়ে নাটক লিখেছিল?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. সাঁওতাল  
  4. মারমা
সঠিক উত্তর:
মারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারমা
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন মারমাদের নিয়ে নাটক লিখেছিল।
-----------------------------------------
• "একটি মারমা রূপকথা":
- একটি মারমা রূপকথা নাট্যকার সেলিম আল দীনের লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক।
- এটি মারমা জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে রচিত।
- এটি বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়েছিলো
- নাটকটিতে রূপকথার চরিত্র ও ঘটনা বাস্তবতার সাথে মিশে এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক আখ্যান তৈরি করে।
- এটি সেলিম আল দীনের নৃগোষ্ঠী নাট্য ধারার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
----------------------------------------
সেলিম আল দীন:
-  সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনি জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা আধুনিক নাট্যকারদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- সেলিম আল দীনের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস এবং অসংখ্য নাটক।

তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো:
- একটি মারমা রূপকথা,
 গঙ্গাবতী,
- জন্ডিস, বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র, ইত্যাদি।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৯৭.
'মেঘ বলে চৈত্রে যাবো' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। অরণ্য নীলিমা, জাফরানী রং পায়রা ও রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৫৯৮.
সৈয়দ সুলতান এর সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা 'নবীবংশ' কাব্য কোন ভাষা থেকে অনুবাদকৃত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. উর্দু
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

 সৈয়দ সুলতান (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮) এর সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত। 
- গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত। 
- এটি হযরত মুহম্মদের জীবনী কাব্য। 
- এর দ্বিতীয় খন্ডের নাম 'রাসুল চরিত' 

- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
-  নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা ও
- জয়কুম রাজার লড়াই  । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৯৯.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিচের কোন লেখক সংঘের সাথে যুক্ত ছিলেন?   
  1. প্রগতি লেখক সংঘ
  2. ক্রান্তি লেখক সংঘ
  3. সাধনা লেখক সংঘ
  4. শিখা লেখক সংঘ
সঠিক উত্তর:
প্রগতি লেখক সংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগতি লেখক সংঘ
ব্যাখ্যা
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- কথাসাহিত্যিক।  
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- জন্মপঞ্জিকায় তাঁর নাম 'অধরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'।  

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।
- 'বঙ্গশ্রী' পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। 
- 'প্রগতি লেখক সংঘের' নির্বাচিত যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি কল্লোল পত্রিকারও নিয়মিত লেখক ছিলেন।   
⇒ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬০০.
‘লালসালু’ উপন্যাসের বিদ্রোহিণী ও প্রতিবাদের প্রতীক নারী চরিত্র কোনটি?
  1. জমিলা
  2. রহিমা
  3. মালা
  4. আমেনা
সঠিক উত্তর:
জমিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিলা
ব্যাখ্যা
• ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।