বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৫৪ / ২১১ · ৫,৩০১৫,৪০০ / ২১,১৩২

৫,৩০১.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেছেন?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অর্কেষ্ট্রা 
- ক্রন্দসী 
- তন্বী 
- উত্তর ফাল্গুনী 
- সংবর্ত
- দশমী 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বগত 
- কুলায় ও কালপুরুষ

 তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর 
৫,৩০২.
'রুচি ও প্রগতি' প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিষ্ণু দে
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'রুচি ও প্রগতি' বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি আর্ট, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ।

---------------
• বিষ্ণু দে:

- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে 'পরিচয়' পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে 'সাহিত্যপত্র'।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩০৩.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) আলী আহসান
  2. খ) সুকুমার সেন
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
- মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলা ভাষার প্রধানতম ধ্বনিবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে সর্বোচ্চ সহজ সরলভাবে উদ্ভাসিত করেন।

- তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- এ ফোনেটিক এন্ড ফোনোলোজিক্যাল স্টাডি অব নেইজালস অ্যান্ড নেইজালাইজেশন ইন বেঙ্গলি,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,

- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (সৈয়দ আলী আহসান সহযোগে)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩০৪.
‘বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা (১৯২৯), পশ্চিমের যাত্রী (১৯৩৮), ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ (১৯৩৯), ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা (১৯৪৪)। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৩০৫.
"আত্মোপকারীকে বনবাসে বিসর্জ্জন করা যাহাদিগের প্রকৃতি, তাহারা চিরকাল আত্মোপকারীকে বনবাস দিবে – কিন্তু যত বার বনবাসিত করুক না কেন, পরের কাষ্ঠাহরণ করা যাহার স্বভাব, সে পুনর্ব্বার পরের কাষ্ঠাহরণে যাইবে।" - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. আমার পথ 
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. রাজবন্দীর জবানবন্দী 
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• "কপালকুণ্ডলা – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়" অংশবিশেষ:
---- এরূপ বিবেচনা করিয়া যাত্রীরা নবকুমার ব্যতীত স্বদেশে গমনই উচিত বিবেচনা করিলেন। নবকুমার সেই ভীষণ সমুদ্রতীরে বনবাসে বিসর্জ্জিত হইলেন।
ইহা শুনিয়া যদি কেহ প্রতিজ্ঞা করেন, কখনও পরের উপবাস নিবারণার্থ কাষ্ঠাহরণে যাইবেন না, তবে তিনি উপহাসাস্পদ। আত্মোপকারীকে বনবাসে বিসর্জ্জন করা যাহাদিগের প্রকৃতি, তাহারা চিরকাল আত্মোপকারীকে বনবাস দিবে – কিন্তু যত বার বনবাসিত করুক না কেন, পরের কাষ্ঠাহরণ করা যাহার স্বভাব, সে পুনর্ব্বার পরের কাষ্ঠাহরণে যাইবে। তুমি অধম – তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস।
৫,৩০৬.
আঁধার যুগের রচনা বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) প্রাকৃতপৈঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রাকৃতপৈঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রাকৃতপৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে অন্ধকার যুগ বা আঁধার যুগ বলা হয়। এ যুগের সাহিত্য নিদর্শন প্রাকৃতপৈঙ্গল, শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৩০৭.
ইউসুফ-জোলেখা কাব্য প্রথম কে রচনা করেন?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উল্লেখ্য,
• ইউসুফ-জোলেখা, লায়লী-মজনু, হানিফা-কয়রাপরী, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল, জেবলমুলুক-শামারোখ প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি ফারসি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
• গুলে-বকাওলী, লোরচন্দ্রানী, পদ্মাবতী, মধুমালতী, গদামল্লিকা প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি হিন্দি-আরবি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৩০৮.
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ কে ছিলেন?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
• বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- তিনি মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি গঠন করেন।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
-  নবনূর, সওগাত, মোহাম্মাদী, পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হাতো।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

• তার রচিত উপন্যাস:
- পদ্মরাগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩০৯.
বাংলা সাহিত্যে 'সাহিত্যবিশারদ' কার উপাধি?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আবদুল করিম
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ(১৮৭১-১৯৫৩):
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ১৯২০-২১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁর রচিত বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ শিরোনামে দুখন্ডে প্রকাশ করে। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির বেশির ভাগ মুসলমান কবিদের লেখা এবং ঐগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পান্ডুলিপিগুলি থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১০.
নাট্যকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. বিষ্ণু দে
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক। তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। 
• বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
• নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন একজন কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩১১.
পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন রচিত 'মা যে জননী কান্দে' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্দীন:  
- কবি জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে, ইত্যাদি।

• ‘মা যে জননী কান্দে’ কাব্য: 
- ‘মা যে জননী কান্দে’ এক ধরনের গাঁথা কাব্য বা কাব্যগ্রন্থ। 
- অনেকে এটিকে কাহিনী কাব্য হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১২.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. নতুন লেখা
  3. হাতেমতায়ী
  4. মরুশিখা
সঠিক উত্তর:
মরুশিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুশিখা
ব্যাখ্যা
• 'মরুশিখা' ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়।
• 'মরুশিখা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত।

• ফররুখ আহমদ:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা, 
- হরফের ছড়া, 
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১৩.
মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য কোনটি?
  1. কলিমা জালাল
  2. সত্যপীরের পুঁথি
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. সত্যপীরের পাঁচালি
সঠিক উত্তর:
সত্যপীরের পুঁথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যপীরের পুঁথি
ব্যাখ্যা
• মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য - সত্যপীরের পুঁথি।

জঙ্গনামা:

- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব মযুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩১৪.
নিচের কোনটি বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রকার নয়?
  1. পদাবলি
  2. প্রণয়োপাখ্যান
  3. বৈষ্ণবশাস্ত্র
  4. জীবনীকাব্য
সঠিক উত্তর:
প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

অন্যদিকে,
- 'প্রণয়োপাখ্যান' হলো মুসলিম সাহিত্যিকদের দ্বারা অনূদিত রোমান্টিক কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৩১৫.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বীরভূম
  2. মুর্শিদাবাদ
  3. বর্ধমান
  4. হুগলী
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। রবীন্দ্রনাথের অনুকরণমুক্ত কবিতা রচনায় তাঁর অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী কবিতার জন্যই ‘ত্রিশোত্তর আধুনিক কবিতা’র সৃষ্টি সহজতর হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩১৬.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) গোরা (নাট্যগ্রন্থ)
  2. খ) বিদ্রোহী (কাব্যগ্রন্থ)
  3. গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
  4. ঘ) একাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
সঠিক উত্তর:
গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক উপন্যাস - গোরা।
কবিতা - বিদ্রোহী
পথের দাবী - রাজনৈতিক উপন্যাস। 
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ - একাত্তরের দিনগুলি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৩১৭.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কার ছদ্মনাম?
  1. শওকত ওসমান
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শৈশবেই মায়ের মৃত্যু ঘটে।
- পিতার দ্বিতীয় বিয়োর পর তিনি মামার বাড়িতে কোলকাতায় বসবাস শুরু করেন।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়।
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় খুব অগ্রগতি না হলেও নিজ চেষ্টায় তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং বেদান্তদর্শনে পারদর্শী হন।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামে লিখতেন।
তিনি বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
- সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার মধ্যযুগীয় বৈশিষ্ট্যের ছিল।
- বিশেষত ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপকবিতার জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত গ্রামাঞ্চলে ঘুরে প্রাচীন কবিয়ালদের জীবনী ও তথ্য সংগ্রহ করে, মুখে মুখে পদ্য রচনা করতেন। 
- তিনি অজস্র কবিতা লিখেছেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর কবিতা সংগ্রহ দীর্ঘ ভূমিকার সঙ্গে প্রকাশ করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
- সাংবাদিক ও কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যিক ও সামাজিক অবদান বাঙালি সমাজে চিরস্মরণীয়।
--------------------------------- 
অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেন যেসব ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন: 
- গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়া এবং উদাসীন পথিক।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর সবচেয়ে প্রচলিত ছদ্মনাম হলো-
- প্রিয়দর্শী, মুসাফির, সত্যপীর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।    

৫,৩১৮.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে কোন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও লোকজীবন চিত্রায়িত হয়েছে?
  1. দিনাজপুর
  2. বরিশাল
  3. কুষ্টিয়া
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস 'কাশবনের কন্যা'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।

উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো:
- সিকদার,
- হোসেন,
- জোবেদা,
- মেহেরজান ইত্যাদি।

--------------------
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১৯.
কুলীন কুলসর্বস্ব নাটকটি কার লেখা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
- 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটকটি রচনা করেছেন রামনারায়ণ তর্করত্ন।

• কুলীনকুলসর্বস্ব:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
• তাঁর 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
• সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
• 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
• এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।
• 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী।

• রামনারায়ণ তর্করত্ন যেসকল নাটক অনুবাদ করেন:
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা,
- রত্নাবলী,
- মালতীমাধব,
- বেণীসংহার।

• রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক:
- রুক্ষ্মিণীহরণ,
- কংসবধ,
- ধর্মবিজয়।

• রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত প্রহসন:
- যেমন কর্ম তেমন ফল,
- উভয় সংকট,
- চক্ষুদান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৩২০.
"রাজবন্দীর রোজনামচা" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা

• রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারে আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন-
আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ ।

উল্লেখ্য,
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ রয়েছে।

উৎস: ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ গ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩২১.
বিষ্ণু দে রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রভাত চিন্তা
  2. সাহিত্যের ভবিষ্যৎ 
  3. সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা
  4. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যের ভবিষ্যৎ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যের ভবিষ্যৎ 
ব্যাখ্যা

• ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগ্রন্থে সাহিত্যের ভবিষ্যৎ নামে একটি প্রবন্ধও রয়েছে।

 বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

• অন্যদিকে,
- কালী প্রসন্ন ঘোষ রচিত প্রবন্ধ-  ‘প্রভাত চিন্তা'
- ড. আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা’
- মুহম্মদ আব্দুল হাই রচিত প্রবন্ধ- সাহিত্য ও সংস্কৃতি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ প্রবন্ধগ্রন্থ।

৫,৩২২.
বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যযুগের সময়কাল কোনটি?
  1. ১৬০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৪৫০ থেকে ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৪০০ থেকে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যযুগের সময়কাল - ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।

শ্রী চৈতন্যদেব:
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ। - শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’। ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা: জীবনীকাব্য, বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩২৩.
বৃন্দাবন দাস কোন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পরিচিত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. জীবনীকাব্য
  3. তাত্ত্বিক কাব্য
  4. শৃঙ্গার কাব্য
সঠিক উত্তর:
জীবনীকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনীকাব্য
ব্যাখ্যা
বৃন্দাবন দাস ও বাংলা সাহিত্যের জীবনীকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩২৪.
'আরণ্যক' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2.  অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩২৫.
'ব্রাহ্মণসেবধি' এর সম্পাদক ছিলেন -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকুমার রায়
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা- 
- 'ব্রাহ্মণসেবধি' (১৮২১),
- সম্বাদ কৌমুদী, 
- ফারসি ভাষায় 'মিরাত-উল- আখবার' (১৯২২)। 

• 'ব্রাহ্মণসেবধি':
- রাজা রামমোহন রায় ১৮২১ সালে 'ব্রাহ্মণসেবধি' প্রকাশ করেন।
- পত্রিকাটির এক পৃষ্ঠায় বাংলা এবং অপর পৃষ্ঠায় এর ইংরেজি অনুবাদ থাকতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩২৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ -
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বর্ণপরিচয়
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ কৌমুদী:
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম - প্রভাবতী সম্ভাষণ।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রাজা রামমোহন রায় রচনা করেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে। এটিই বাঙালি রচিত বাংলা ভাষার প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩২৭.
'রাইফেল রোটি আওরাত' - উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. শওকত ওসমান
  2. আনোয়ার পাশা
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আলাউদ্দীন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

• রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা:
- তিনি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৩২৮.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ?
  1. জিঞ্জির
  2. সিন্ধু হিন্দোল
  3. সর্বহারা
  4. প্রলয় শিখা
সঠিক উত্তর:
প্রলয় শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩২৯.
"ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।। রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।"— এই পঙ্‌ক্তিটি কোন পালার অংশ?
  1. মলুয়া
  2. চন্দ্রাবতী
  3. কমলা
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৩০.
”হাজার বছর ধরে” উপন্যাসটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬৩ সালে
  2. ১৯৬৪ সালে
  3. ১৯৬৯ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা

• হাজার বছর ধরে:
- জহির রায়হানের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - 'হাজার বছর ধরে'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ ছিল উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র।
- আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ।
-------------------------------------------------------
• জহির রায়হান:
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তিনি ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি স্টপ জেনোসাইড নামে পাকিস্তান হানাদার বহিনির গণহত্যার একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেন।
- ভাষা আন্দোলনের অভিজ্ঞাতায় তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: আরেক ফাল্গুন।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি মিরপুর থেকে নিখোঁজ হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,৩৩১.
‘জীবনানন্দ’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেনাপাওনা
  2. দত্তা
  3. গৃহদাহ
  4. শেষপ্রশ্ন
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা
• 'দেনাপাওনা' উপন্যাস:
- 'দেনাপাওনা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি অন্যতম রচনা।
- 'দেনাপাওনা' (১৯২৩) শরৎচন্দ্রের অন্যান্য উপন্যাসের মতোই নারীপুরুষের সম্পর্ক, নারীত্ব ও সতীত্বের ধারণার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র।
- কাহিনির নায়ক জীবনানন্দ শরৎচন্দ্রের সৃষ্ট চরিত্রগুলির অন্যতম।
- এই উপন্যাস 'ষোড়শী' ১৩২৭) নামে নাট্যায়িত হয় এবং মঞ্চে সাফল্যের সঙ্গে অভিনীত হয়।

------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- দত্তা,
- বিরাজ-বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- পল্লীসমাজ,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৩২.
কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয় কোনটি?
  1. বালুচর
  2. ছায়ানট
  3. চক্রবাক
  4. চিত্তনামা
সঠিক উত্তর:
বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালুচর
ব্যাখ্যা

'বালুচর' কবিতাটি জসীম উদ্‌দীনের 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'ছায়ানট' কাব্যগ্রন্থ:
ছায়ানট কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থটি বর্মণ পাবলিশিং হাউস, ১৯৩ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলকাতা হতে ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রকাশক ছিলেন ব্রজবিহারী বর্মণরায়। এতে রয়েছে নজরুলের ৫০টি কবিতা।

• 'চক্রবাক' কাব্যগ্রন্থ:
চক্রবাক কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে মোট কবিতার সংখ্যা ১৯টি। এই কাব্যে নজরুল বেদনার ছবি তুুুলে ধরেছেন; এতে রয়েছে প্রেমের অনুুুভূতি এবং অতীত সুুখের স্মৃতিচারণা।

• 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে, তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৩৩.
'আব্বুকে মনে পড়ে' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
ক) হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
- হুমায়ুন আজাদ রচিত 'আব্বুকে মনে পড়ে' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কিশোর উপন্যাস
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক শিশু। ১৯৭১ সালে যার বয়স ছিল ৪ বছর।

• হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৩৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন সাহিত্যকর্মের সাথে 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে?
  1. বৌ ঠাকুরাণীর হাট
  2. নৌকাডুবি
  3. ঘরে-বাইরে
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা

'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- ঘরে বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৩৫.
'হাতেম তায়ী' ফররুখ আহমেদ রচিত - 
  1. উপন্যাস 
  2. কাহিনী কাব্য
  3. গীতি কাব্য 
  4. কাব্য নাটক
সঠিক উত্তর:
কাহিনী কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহিনী কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'হাতেম তায়ী' ফররুখ আহমেদ রচিত একটি কাহিনী কাব্য ।

অন্যদিকে,
​- পাখির বাসা (১৯৬৫) ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্য নাটক ।
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩) ফররুখ আহমেদের সনেট সংকলনের নাম ।

ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫,৩৩৬.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কোন গ্রন্থটি ফরাসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে?
  1. ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা
  2. প্রেমের কবিতা
  3. জার্মান সাহিত্য
  4. কবিতার কথা
সঠিক উত্তর:
প্রেমের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমের কবিতা
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আলী আহসান রচিত প্রেমের কবিতা গ্রন্থটি ফরাসি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।
-------------------------------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯২০ সালের ২৬ মার্চ মাগুরার আলোকদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০–৬৭ পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমীর পরিচালক ছিলেন।
- ১৯৭২ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন।
- নবনির্মিত বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিকভাবে গড়ে তোলাসহ তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দেন- 
• সংবিধানের বাংলা ভাষ্য চূড়ান্তকরণ,
• শিল্পকলা একাডেমীর গঠনতন্ত্র প্রণয়ন,
• বাংলা একাডেমী ও ডেভেলপমেন্ট বোর্ড একত্রীকরণ।
• এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের ইংরেজি অনুবাদ তিনি সম্পন্ন করেন।

- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- Our Heritage;
- নজরুল ইসলাম;
- প্রেমের কবিতা;
- ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা;
- রবীন্দ্রনাথ: কাব্যবিচারের ভূমিকা;
- কথাবিচিত: বিশ্বসাহিত্য ইত্যাদি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত;
- রজনীগন্ধা;
- সহসা সকচিত।
----------------------------------------
• ফরাসী অনুবাদ: 
- “Poems d’amour: Claire & Yvan Goll” হলো ফরাসি ভাষার একটি প্রেমের কবিতা সংকলন। 
- আবদুল মান্নান সৈয়দ এই গ্রন্থটি ফরাসি থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।
- বাংলায় অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম- প্রেমের কবিতা। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,৩৩৭.
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) নয়া সড়ক
  2. খ) সমকাল
  3. গ) চতুরঙ্গ
  4. ঘ) স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
গ) চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত বিখ্যাত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা “চতুরঙ্গ” ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস - নদী ও নারী।
- ১৯৩২ সালে বারোমাসি নামে একটি মাসিক পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সিকান্‌দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আমির যৌথ সম্পাদনায় ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত বার্ষিক সাহিত্য পত্র 'নয়া সড়ক।'
- ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত, আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা 'স্বদেশ।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৩৮.
'নারীর মূল্য' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. গল্প
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
•'নারীর মূল্য':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

- এটি 'অনীলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে যমুনা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৩৯.
শহীদুল জহির রচিত ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

- ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ শহীদুল জহির রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

» ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস:
- ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
-  দর্শনের প্রয়োগ এবং কর্মের নতুনত্বের সাথে টানাগদ্যে রচিত ভিন্নমাত্রার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটিকে অনেকে প্রবন্ধ ভেবে ভুল করেন।

• শহীদুল জহির:
- শহীদুল জহিরের জন্ম ১৯৫৩ সালে ঢাকায় নারিন্দার ভূতের গলিতে।
- গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। 
- অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটি এবং কিছুদিন বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেছেন।
- পেশায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
• গল্পগ্রন্থ:
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য,
- আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু,
- পারাপার।

• উপন্যাস:
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে দেখি,
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস।

৫,৩৪০.
'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জাহানারা ইমাম
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৪১.
'ঠাকুরমার ঝুলি' রূপকথার সংকলনটির রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংগৃহীত জনপ্রিয় রূপকথার সংকলনটি চারটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথা- ঠাকুরমার ঝুলি, ঠাকুরদাদার ঝুলি, ঠানদিদির থলে, দাদামাশয়ের থলে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৩৪২.
'সুরবালা' কোন গল্পের চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. একরাত্রি
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. হৈমন্তী
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
ব্যাখ্যা
'সুরবালা' চরিত্রের স্রষ্টা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
'একরাত্রি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা' - গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- রহমত ও খুকী।
• 'সমাপ্তি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মৃণ্ময়ী'।
• 'হৈমন্তী' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'হৈমন্তী'।

উৎস: রবীন্দ্রনাথ রচনাবলী।
৫,৩৪৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মারা যান কত সালে?
  1. ১৮২০
  2. ১৮৯১
  3. ১৮৯৯
  4. ১৯৭৬
সঠিক উত্তর:
১৮৯১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯১
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে ৭১ বছর বয়েসে মৃত্যু বরণ করেন।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৪৪.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন কবিতায় 'কালাপাহাড়'-কে স্মরণ করেছেন?
  1. মানুষ
  2. নারী 
  3. বিদ্রোহী 
  4. কুলি-মজুর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা

• ‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'গজনি মামুদ', 'চেঙ্গিস', 'কালাপাহাড়' এর নাম স্মরণ করেছেন।
- এখানে কবি কালা পাহাড়কে প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে স্মরণ করেছেন।

মানুষ- কবিতা
– কাজী নজরুল ইসলাম

‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করনি প্রভু!
তব মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!’
কোথা চেঙ্গিস, গজনি-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!

--------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ -
- অগ্নিবীণা
- সঞ্চিতা
- চিত্তনামা
- মরুভাস্কর
- প্রলয় শিখা
- নির্ঝর
- ভাঙার গান
- সর্বহারা
- ফণি-মনসা
- চক্রবাক
- সাম্যবাদী
- ছায়ানট
- পুবের হাওয়া
- জিঞ্জির
- বিষের বাঁশি
- দোলনচাঁপা
- চন্দ্ৰবিন্দু
- সিন্ধু হিন্দোল
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘মানুষ’ কবিতা।

৫,৩৪৫.
বছির ও আজহার জসীমউদ্দীন রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বোবা কাহিনী
  2. চলে মুসাফির
  3. মরীচিকা
  4. ডালিমকুমার
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
বোবা কাহিনী: 
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রকাশিত প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস।
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসের বিষবস্তু হচ্ছে, মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

অন্যদিকে:
- 'ডালিমকুমার' হচ্ছে জসীমউদ্দীনের শিশুতোষ গ্রন্থ।
- 'চলে মুসাফির' হচ্ছে জসীমউদ্দীনের ভ্রমণকাহিনি।
- 'মরীচিকা' হচ্ছে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের কাব্যগ্রন্থ।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।
৫,৩৪৬.
'বাঁধনহারা' কাজী নজরুল ইসলামের কোন জাতীয় রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধনহারা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস।
- এছাড়াও মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা নামে আরো দুটি উপন্যাস লিখেছেন তিনি।

• বাঁধনহারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩৪৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা 'রাইফেল রোটি আওরাত' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আহমদ ছফা
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• "রাইফেল রোটি আওরাত" উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সর্বপ্রথম উপন্যাস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পরবর্তী দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনি উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।

- সেকালে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা প্রবাহের মধ্যে বসে লেখা, আমাদের সমগ্র ইতিহাসে একটি মাত্র উপন্যাসই পাওয়া যায়-এ উপন্যাসই হচ্ছে "রাইফেল রোটি আওরাত"।

- ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস এর রচনাকাল। লেখক শহীদ আনোয়ার পাশা নিহত হলেন ১৯৭১ সালেরই ১৪ই ডিসেম্বর। স্বাধীনতা লাভের মাত্র দু'দিন আগে তিনি যে অমর কাহিনি উপন্যাসে বিধৃত করেছেন নিজেই হয়ে গেলেন তারই অঙ্গ চিরকালের জন্য।উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।

অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- ড. খালেক,
- ড. মালেক,
- ছাবেদ আলী,
- জামাল সাহেব প্রমুখ।

উৎস: "রাইফেল রোটি আওরাত" উপন্যাস।
৫,৩৪৮.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. কুয়াশা
  2. পুতুল ও প্রতিমা
  3. পঞ্চশর
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩৪৯.
পঞ্চপাণ্ডবদের মধ্যে কোন সাহিত্যিক 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু 
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমীয় চক্রবর্তী 
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

পঞ্চপান্ডবের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে-  তন্বী। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের একজন। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যধারার প্রভাব তার কবিতায় দেখা যায়।
- তার কবিতায় মূলত ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ফুটে উঠে। 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বহুসংখ্যক কাব্যগ্রন্থ রচনা করলেও কোন উপন্যাস রচনা করেননি। 
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের প্রবর্তক হিসেবেও পরিচিত।
- ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- স্বগত,
- কুলায়,
- কালপুরুষ।
• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ হচ্ছে: প্রতিধ্বনি। 

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার। 
• বিষ্ণু দে রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- উর্বশী ও আর্টেমিস;
- চোরাবালি ইত্যাদি। 
• অমীয় চক্রবর্তী রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- অনিঃশেষ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,৩৫০.
"মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন,
হয়েছেন প্রাতঃস্মরনীয়,
সেই পথ লক্ষ্য করে স্বীয় কীর্তি ধ্বজা করে 
আমরাও হব বরণীয়।"  - পঙক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. ক) মহাদেব সাহা
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
"মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন,
হয়েছেন প্রাতঃস্মরনীয়,
সেই পথ লক্ষ্য করে স্বীয় কীর্তি ধ্বজা করে 
আমরাও হব বরণীয়।" - পঙক্তিটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'জীবন সঙ্গীত' কবিতার অংশ।
- 'জীবন সঙ্গীত' কবিতা মার্কিন কবি 'Henry Wadsworth Longfellow' এর 'A Psalm of Life' শীর্ষক ইংরেজি কবিতার ভাবানুবাদ।
-------------
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়(১৮৩৮-১৯০৩)  
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ চিন্তাতরঙ্গিণী ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে বৃত্রসংহার (২ খন্ড, ১৮৭৫-৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে। 
- হেমচন্দ্রের অপর বিশিষ্ট কাব্য
- বীরবাহু কাব্য (১৮৬৪)
- আশাকানন (১৮৭৬),
- ছায়াময়ী (১৮৮০),
- দশমহাবিদ্যা (১৮৮২),
- চিত্তবিকাশ (১৮৯৮) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৫১.
চর্যার ২৯নং পদটি কোন কবির রচনা?
  1. লুইপা 
  2. শবরপা 
  3. ভুসুকুপা 
  4. বীণাপা 
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা 
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সাংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না।
- লুইপা বাঙালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি প্রথম জীবনে উদ্যানের (সোয়াতের) রাজার কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ।
- তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল।
- সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম 'অভিসময়বিভঙ্গ।'
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।

চর্যা -২৯
লুইপা
১. ভাব ন হোই অভাব ণ জাই।
অইস' সংবোহেঁ কো পতিআই॥

২. লুই ভণই বঢ়' দুল বিণাণা।
তিঅ ধাএ বিলসই উহ লাগে ণা॥

৩. জাহের বানচিহ্ন রূব ণ জাণী। 
সো কইসে আগম বেঐ বখাণী॥

৪. কাহেরে কিস ভণি মই দিবি পিরিচ্ছা।
উদক চান্দ জমি সাচ ন মিচ্ছা॥

৫. লুই ভণই মই ভাইব' কীস”।
জা লই অচ্ছম তাহের” উহ ণ দিস”॥

আধুনিক গদ্যে রূপান্তর
১. ভাব হয় না, অভাব যায় না। এরূপ সংবোধে [= উপদেশে] কে প্রত্যয় করে?
২. লুই বলেন, মূর্খ, বিজ্ঞান দুর্লক্ষ্য। ত্রিধাতুতে বিলাস করে, [কিন্তু] ঠাঁই (= উদ্দেশ] বোঝা যায় না।
৩. যার বর্ণ, চিহ্ন, রূপ জানা নেই, তা কীভাবে আগম বেদে ব্যাখ্যাত হয়?
 ৪. কাকে, কী বলে আমি উত্তর দেব। জলে [প্রতিবিম্বিত] চাঁদ যেমন না-সত্য, না- মিথ্যা।
৫. লুই বলেন, আমার ভাবনা কী, যা নিয়ে আছি তার উদ্দেশ দেখা যায় না।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহাবুবুল হক।

৫,৩৫২.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত সর্বপ্রথম যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় - 
  1. ঢাকা প্রকাশ 
  2. সমকাল 
  3. বঙ্গদর্শন 
  4. শিখা 
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বঙ্গদর্শন।
---------------------
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত: ‘আমার সোনার বাংলা’ সম্পর্কিত বিস্তারিত- 

রচনা ও প্রেক্ষাপট:
• ‘আমার সোনার বাংলা’ রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
• ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এই গান প্রচার করেন।
• গানটি ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে রচিত।
 
সঙ্গীত ও প্রকাশনা:
• ‘আমার সোনার বাংলা’ সঙ্গীতটির — প্রথম ১০ পঙ্‌ক্তি বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
• গানটি রবীন্দ্রনাথের — ‘গীতবিতান’ এর — স্বরবিতান অংশভুক্ত।
• সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং, তবে এতে বাউল — গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।
• প্রথম প্রকাশ: ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায়, ১৩১২ বঙ্গাব্দ (১৯০৫)।
 
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা:
- প্রথম প্রকাশ: ১৮৭২ সালে, সম্পাদক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
 ------------------
অন্য আলোচনা:

• 'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকা: 
- 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
- এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
- ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। ।

• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।

• 'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র ছিল শিখা পত্রিকাটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)।

• অপশনের এই পত্রিকাগুলোতে - “আমার সোনার বাংলা” প্রকাশিত হয়নি।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
- বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৫৩.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাপদের ভাষা কেমন?
  1. সরল ও বোধগম্য
  2. পূর্ণরূপে অন্ধকার
  3. আলো আঁধারি ভাষা
  4. সর্বজনবোধ্য ভাষা
সঠিক উত্তর:
আলো আঁধারি ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো আঁধারি ভাষা
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাপদের ভাষা আলো আঁধারি ভাষা যা সন্ধ্যাভাষা বলে।

• সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' - এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।
- তবে তত্ত্বজ্ঞানীদের কাছে এ ভাষা অবোধ্য নয় বলে এই অর্থ সমর্থনযোগ্য নয়।
- মুনিদত্ত তাঁর টীকায় সন্ধাভাষ, সন্ধাভাষা, সন্ধ্যাবচন, সন্ধ্যাসংকেত, সন্ধ্যা ও ব্যাজ প্রভৃতি শব্দ চর্যার রূপকাশ্রিত দুর্বোধ্য অংশের বা প্রতীকী শব্দের ভাষ্য ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বারবার প্রয়োগ করেছেন।
- কারও মতে 'সন্ধ্যাদেশ' নামে বিশেষ অঞ্চলের ভাষার সঙ্গে চর্যাপদের ভাষার মিল আছে বলে এ নাম হয়েছে।
- তিব্বতি ভাষায় সন্ধ্যাভাষার অর্থ প্রহেলিকাচ্ছলে উক্ত দুরূহ তত্ত্বের ব্যাখ্যা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।
৫,৩৫৪.
ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৩৮ সালে
  4. ১৯৪৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬ সালে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
 
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৩৫৫.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. প্রগতি
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. পরিচয়
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৫৬.
'দনুবানু' চরিত্রটি কোন রচনার?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  3. পদ্মিনী উপাখ্যান
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
হুতোম প্যাঁচার নকশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুতোম প্যাঁচার নকশা
ব্যাখ্যা
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহের শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- চরিত্র: দনুবানু।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৫৭.
শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসটি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল?
  1. পথের দাবী
  2. গৃহদাহ
  3. বৈকুন্ঠের উইল
  4. চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:  
-  এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস গুলো: 
- বড়দিদি,
- শ্রীকান্ত,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা
- চরিত্রহীন,
- পল্লীসমাজ,
- বৈকুন্ঠের উইল,
- দেবদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

৫,৩৫৮.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক রচনা?
  1. ব্রজবিলাস
  2. শকুন্তলা
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. সীতার বনবাস
সঠিক উত্তর:
ব্রজবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজবিলাস
ব্যাখ্যা

• ব্রজবিলাস: 
‘ব্রজবিলাস’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত একটি মৌলিক রচনা।

- ‘ব্রজবিলাস’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত একটি প্রখর ব্যঙ্গাত্মক গ্রন্থ, যা তিনি ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’ ছদ্মনামে ১৮৮৪ সালে প্রকাশ করেন।
- এই রচনায় তৎকালীন সমাজব্যবস্থার ভণ্ডামি, সংকীর্ণতা ও কুসংস্কারকে সূক্ষ্ম অথচ তীক্ষ্ণ ভাষায় বিদ্রূপ করা হয়েছে, বিশেষত ব্রাহ্মণ সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি ও আচরণকে কেন্দ্র করে।
- ‘ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন’ নামের এক তথাকথিত পণ্ডিতের জীবনকাহিনি ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লেখক সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, অসার পাণ্ডিত্য এবং বহুমাত্রিক অসংগতিকে শিল্পিত ভঙ্গিতে উন্মোচিত করেছেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ: 
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৫৯.
হুমায়ূন কবির কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) লাঙল
  2. খ) সমকাল
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
-  হুমায়ূন কবির 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• হুমায়ূন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবেও তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক।
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব।
- বাংলার কাব্য।
- মার্কসবাদ।
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ।
- সাথী।
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৬০.
'প্রবোধ চন্দ্রিকা' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. রাজা রাম মোহন রায়
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিখ্যাত পণ্ডিত ছিল।
• তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
• তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলোঃ
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধ চন্দ্রিকা ও
- বেদান্ত চন্দ্রিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৩৬১.
'ঘর মন জানালা' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) রশীদ করীম
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) দিলারা হাসেম
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) দিলারা হাসেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দিলারা হাসেম
ব্যাখ্যা
'ঘর মন জানালা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'দিলারা হাসেম'
• তাঁর প্রথম উপন্যাস 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

দিলারা হাসেম  
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তিনি ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- মুরাল,
- শঙ্খ করাত,
- অনুক্ত পদাবলী,
- মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,৩৬২.
কাশীরাম দাসের অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মেঘদূত
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) শকুন্তলা
সঠিক উত্তর:
গ) মহাভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাভারত
ব্যাখ্যা
মহাভারত প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর। এর মূল রচয়িতা (সংস্কৃত ভাষায়) কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।সতের শতকের কবি কাশীরাম দাস মহাভারতের বিখ্যাত, জনপ্রিয় ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। কাশীরাম দাসের মহাভারতের দুটি পঙক্তি- 'মহাভারতের কথা অমৃত সমান, কাশারাম দাস ভনে শােনে পুন্যবান।'
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ডঃ. সৌমিত্র শেখর
৫,৩৬৩.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. বিরুপা
  2. দারিকপা
  3. তাড়কঙ্কপা
  4. মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
তাড়কঙ্কপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়কঙ্কপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন তাড়কঙ্কপা।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

এর হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৩৬৪.
'সংবাদ প্রভাকর' বাংলায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয় কত সালে?
  1. ১৮৩৯ সালে
  2. ১৮৩৮ সালে
  3. ১৮৩৪ সালে
  4. ১৮২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ও পত্রিকা:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা প্রকাশ করেন।

• অর্থসংকটের কারণে মাঝে চার বছর বন্ধ থাকার পর ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট সপ্তাহে তিন সংখ্যা হিসেবে পত্রিকাটি আবার প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে 'সংবাদ প্রভাকর' বাংলায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৬৫.
''হয়তো ভোরের কাক হ'য়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়''
- কার রচিত পংক্তি?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) জসীম উদদীন
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

"আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হ'য়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো— কিশোরীর— ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে-ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলায় নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙ্গায়;"

- আবার আসিব ফিরে
জীবনানন্দ দাশ
উল্লেখ্য,
কবিতাটি তার 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।

৫,৩৬৬.
কৃত্তিবাস ওঝার অনুবাদকৃত বাংলা রামায়ণ কোন ছন্দে রচিত?
  1. লোকছন্দে
  2. পয়ার ছন্দে
  3. মেয়েলি ছন্দে
  4. লৌকিক ছন্দে
সঠিক উত্তর:
পয়ার ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পয়ার ছন্দে
ব্যাখ্যা
• কৃত্তিবাস ওঝা:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি।
- কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন।
- কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাস ওঝার অনুবাদকৃত রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে,
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৬৭.
'স্বর্ণলতা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শরৎচন্দ্র চপ্টটোপাধ্যায়
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
ক) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'স্বর্ণলতা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়'।

• তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ও 'স্বর্ণলতা' উপন্যাস: 
- বঙ্কিমের পরে তাঁর আদর্শ নিয়ে যাঁরা উপন্যাস রচনায় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। 
- 'স্বর্ণলতা' উপন্যাসে দরিদ্র ভদ্র বাঙালির ঘরের পরিচিত সুখদুঃখের চিত্র স্থান পেয়েছে। 
- সে আমলের একান্নবর্তী পরিবারে ভ্রাতৃবধূদের স্বার্থপরতা ও কলহের ফলে ভাইদের সংসারে কীভাবে ভাঙন ধরে তারই চিত্র এ উপন্যাসে অঙ্কিত হয়েছে। 
- জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার স্ত্রী প্রমদার নীচতা এবং কনিষ্ঠের স্ত্রী সরলার সহিষ্ণুতা উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।  
৫,৩৬৮.
'আমি বিজয় দেখেছি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) এম আর আখতার মুকুল
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
'আমি বিজয় দেখেছি' (১৯৮৫) এম আর আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্মৃতিকথা।
-------------
এম. আর আখতার মুকুল(১৯২৯-২০০৪):
- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
- এ সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর রচিত ৬০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।।
এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পল্লী এক্সপ্রেস (অনুবাদ, ১৯৬০),
- রূপালী বাতাস (১৯৭২),
- রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ (১৯৭৩),
- মুজিবের রক্তলাল (১৯৭৬),
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি (১৯৮৪),
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন (১৯৮৫),
- চল্লিশ থেকে একাত্তর (১৯৮৫),
- আমি বিজয় দেখেছি (১৯৮৫),
- বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন (১৯৮৬),
- বায়ান্নোর জবানবন্দী (১৯৮৭),
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, ১৯৮৭),
- একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবিদের ভূমিকা (১৯৯৭),
- বঙ্গবন্ধু (১৯৯৭),
- জিন্নাহ থেকে মুজিব (১৯৯৮) 
- ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা (১৯৯৯) ইত্যাদি।
--------------
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্মৃতিকথা:  একাত্তরের দিনগুলি - জাহানারা ইমাম
                                          একাত্তরের ডায়রি - সুফিয়া কামাল

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫,৩৬৯.
‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. ধনঞ্জয়
  2. শীতলবাবু
  3. কুবের
  4. হোসেন মিয়া
সঠিক উত্তর:
কুবের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুবের
ব্যাখ্যা
'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি' ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯৩৬ সালে।
- 'কুবের' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কপিলা
- মালা,
- হোসেন মিয়া,
- ধনঞ্জয়,
- শীতলবাবু।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৭০.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন একুশে পদক লাভ করেন কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৬ সালে
  2. খ) ১৯৭০ সালে
  3. গ) ১৯৭২ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন, একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-খিদমত (১৯৬১) এবং সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৭) উপাধিতে ভূষিত হন
- ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরকারি দমননীতির প্রতিবাদে উভয় খেতাব বর্জন করেন।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।


আবুল কালাম রচিত ও অনূদিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি (১৯৩৮),
ত্রিস্রোতা (১৯৩৯),
খরতরঙ্গ (১৯৫৩),
দৃষ্টিকোণ (১৯৬১),
নতুন চীন নতুন দেশ (১৯৬৫),
দিগ্বিজয়ী তাইমুর (১৯৬৫),
ইলিয়ড (১৯৬৭),
পলাশী থেকে পাকিস্তান (১৯৬৮),
অতীত দিনের স্মৃতি (১৯৬৮) ইত্যাদি। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
 
৫,৩৭১.
বিখ্যাত কবিতা 'শিক্ষা গুরুর মর্যাদা' কার লেখা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আব্দুল কাদির
  3. কাজী কাদের নেওয়াজ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কাজী কাদের নেওয়াজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী কাদের নেওয়াজ
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত কবিতা 'শিক্ষা গুরুর মর্যাদা' লিখেছেন কাজী কাদের নেওয়াজ।

শিক্ষাগুরুর মর্যাদা
কাজী কাদের নেওয়াজ

বাদশাহ্ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলবী দিল্লীর্
‌একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশা-শাহাজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধূলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ সঞ্চারি অঙ্গুলি।


• কাজী কাদের নেওয়াজ (১৯০৯-১৯৮৩):

- একজন  শিক্ষাবিদ, কবি।
- ১৯০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের তালেবপুরে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট গ্রামে।

কাজী কাদের নেওয়াজের গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলি হলো:
- মরাল, 
- দাদুর বৈঠক, 
- নীল কুমুদী, 
- মণিদীপ,
- কালের হাওয়া,
- মরুচন্দ্রিকা,
- দুটি পাখি দুটি তারা,
- উতলা সন্ধ্যা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতা।

৫,৩৭২.
'আসাদের শার্ট' কবিতাটির স্রষ্টা কে?
  1. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  2. আল মাহমুদ
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

'আসাদের শার্ট':
- 'আসাদের শার্ট' কবিতার লেখক শামসুর রহমান ।

- শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’।
তাতে কবি লিখেছিলেন—
''আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।’'

শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৭৩.
চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১১ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, চর্যাগীতিকা , মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।

৫,৩৭৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর লিপিকাল কত সালের?
  1. ক) ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. গ) ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ঘ) ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন  বৈষ্ণব কাব্য।
- রচয়িতা  বড়ু চন্ডীদাস।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর লিপিকাল নিয়ে মতান্তর রয়েছে। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ লিখেছেন: "গ্রন্থটির লিপিকাল আনুমানিক ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ, বড়ু চণ্ডীদাস ইহার পূর্বে বিদ্যমান ছিলেন।"
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন: "বইখানির ভাষা খুটিয়ে আলোচনা করে আমার এই ধ্রুব বিশ্বাস দাঁড়িয়েছে যে, এর ভাষা ১৪০০ বা ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দের ধারে কিছুতেই হতে পারে না।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৭৫.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের পদ সংখ্যা-
  1. ক) ৫০টি
  2. খ) ৫১টি
  3. গ) ৪৭টি
  4. ঘ) ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫১টি
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতান্তর আছে।
- সুকুমার সেনের হিসেবে ৫১ টি এবং ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বলেছেন ৫০ টি।
- চর্যাপদ ছিন্নাবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।
- সুকুমার সেন তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থেও ৫০ জন কবির পদ উল্লেখ করেছেন।
- তবে আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নাই, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- এটা ধরলে পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১টি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৩৭৬.
'পাক, মিছিল, প্রতিশোধ' উপন্যাস গুলোর রচয়িতা-
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
পাক, মিছিল, প্রতিশোধ, উপনয়ন, আগামী কাল ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা প্রেমেন্দ্র মিত্র। প্রথমা, সম্রাট, ফেরারী ফৌজ, সাগর থেকে ফেরা, হরিণ চিতা চিল, কখনো মেঘ ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৭৭.
মীর মশাররফ হোসেনের ‘সাহিত্য গুরু’ কে ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. কাঙাল হরিণাথ
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
কাঙাল হরিণাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঙাল হরিণাথ
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, এবং প্রাবন্ধিক, যিনি উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর সাহিত্যিক কর্মজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্মগুলি নিম্নরূপ:

• জীবনীসংক্রান্ত তথ্য:
জন্ম: ১৩ নভেম্বর ১৮৪৭, কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে।
সাহিত্যিক জীবনের সূচনা: সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-তে সংবাদদাতা হিসেবে।
সাহিত্যগুরু: ‘কাঙাল হরিনাথ’, যিনি গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র সম্পাদক ছিলেন।
সম্পাদিত পত্রিকা: আজিজননেহার এবং হিতকরী।

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:

• নাটক:
বসন্তকুমারী, 
জমীদার দর্পণ, 
বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন (হাস্যরসাত্মক নাটক):
টালা অভিনয়, 
এর উপায় কি, 
ফাঁস কাগজ, 
ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
বিষাদ-সিন্ধু: এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস, যেখানে কারবালার ঘটনা ফুটে উঠেছে।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
আমার জীবনী, 
কুলসুম জীবনী।

• মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যিক অবদান:
তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সমাজের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হন এবং গদ্যশিল্পের ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের যুগে অন্যতম প্রধান অবদানকারী ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে সমকালীন সমাজব্যবস্থা, জমিদারি প্রথার অন্যায় অত্যাচার এবং মুসলিম সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস:
i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৭৮.
“একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই অমর পঙ্ক্তির রচয়িতা -
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আবুল ফজল
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• “একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই অমর পঙ্‌ক্তির রচয়িতা হচ্ছেন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল।

• আবুল ফজল:

- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথা সাহিত্যিক ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- কর্মজীবনে আবুল ফজল শিক্ষকতা করেছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজে। তিনি যখন চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তখন দেশজুড়ে বইছিল ভাষা আন্দোলনের হাওয়া। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে চট্টগ্রামে আবুল ফজলের ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য।

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তাঁর বিখ্যাত উক্তি 'একুশ মানে মাথা নত না করা' তো চিরকালই প্রেরণা জুগিয়েছে বাঙালিকে।
- ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার যখন রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিল তখন তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন আবুল ফজল। বলেছিলেন, 'রবীন্দ্রনাথকে মুছে দেওয়ার মতো সামর্থ্য পাকিস্তান কেন, সমগ্র ভূমণ্ডলেরও নেই।''
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনি ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মসমূহ হলো:
• রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ বিষয়ক প্রবন্ধ: একুশ মানে মাথা নত না করা।

• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া ও The Daily Star Bangla।
৫,৩৭৯.
'শেষ বিকেলের মেয়ে' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. জহির রায়হান
  2. শওকত ওসমান
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• শেষ বিকেলের মেয়ে:
- 'শেষ বিকেলের মেয়ে' উপন্যাস হিসেবে জহির রায়হানের প্রথম সৃষ্টি।

- প্রেমের উপাখ্যান হিসেবে উপন্যাসটির জুড়ি মেলা ভার।
- বাংলা সাহিত্যে যতগুলো প্রেমের উপাখ্যান রয়েছে তার মধ্যে 'শেষ বিকেলের মেয়ে' গ্রন্থটি সম্ভবত পাঠক প্রিয়তার শীর্ষের দিকেই অবস্থান করছে।

• জহির রায়হান:

- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।

• জহির রায়হানের উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৮০.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. পদ্মরাগ
  3. মতিচূর
  4. সুলতানার স্বপ্ন
  5. নারীর মূল্য
সঠিক উত্তর:
নারীর মূল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারীর মূল্য
ব্যাখ্যা
• 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধ:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে 'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধটি যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। 
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান একটি প্রবন্ধ। 
---------------------------------- 
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৮১.
'আগুন নিয়ে খেলা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- সে সময় অন্নদাশঙ্কর 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন 'লীলা রায়'।
- অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক। বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৮২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করা হয়েছে? 
  1. জগদীশচন্দ্র বসু
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  4. ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক আরো কয়েকটি উৎসর্গকৃত গ্রন্থ:
- তাসের দেশ - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
- পূরবী - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
- বসন্ত - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি:কাজী নজরুল ইসলাম।
- খেয়া - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: জগদীশচন্দ্র বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫,৩৮৩.
'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক ছিলেন-
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. কালিদাস রায়
  3. কায়বোকাদ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিদ্যোৎসাহিনী সভাতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৮৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তীকে
  3. গ) মীর মোশারফ হোসেনকে
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁকে বাংলা গদ্যের 'যথার্থ শিল্পী' বা বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
কারণ তিনি প্রথম বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণ দান করেছেন।
তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন।
বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।
বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৮৫.
আহসান হাবীব এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারাদুপুর
  2. রাত্রিশেষে
  3.  ছায়াহরিণ
  4.  আশায় বসতি
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।

⇒ আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
• রাত্রিশেষ,
• ছায়াহরিণ,
• সারা দুপুর,
• আশায় বসতি,
• মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
• দুহাতে দু আদিম পাথর,
• প্রেমের কবিতা,
• বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩৮৬.
আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত 'কৃষ্ণপক্ষ' কোন প্রকার গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

আবদুল গাফফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৮৭.
‘সাঁঝের তারা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্য
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা
• ‘সাঁঝের তারা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রিক্তের বেদন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি গল্প।

• রিক্তের বেদন:

- ১৯২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় কাজী নজরুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'রিক্তের বেদন'।
- অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো: রিক্তের বেদন, বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী, মেহের নেগার, সাঁজের তারা, রাক্ষুসী, সালেক, স্বামীহারা, দুরন্ত পথিক।
- প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- গল্পগুলোর প্রধান বিষয় প্রেম। তবে প্রেমকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক ঘটনা ও মনোবেদনাসমূহও উল্লেখযোগ্য।
- এ গ্রন্থে নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিত্রায়ণ করা হয়েছে।

---------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন ও
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘রিক্তের বেদন’ গল্পগ্রন্থ।
৫,৩৮৮.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - 
  1. লিচু চোর
  2. মুক্তি
  3. বিদ্রোহী
  4. কুলি-মজুর
সঠিক উত্তর:
মুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - 'মুক্তি'। 
- কবিতাটি কবির নির্ঝর কাব্যগ্রন্থে মুদ্রিত হয়।

উল্লেখ্য,
হাবিলদার কবি নজরুল ইসলাম করাচি থেকে কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকায় প্রকাশের জন্য ‘ক্ষমা’ নামে প্রেরণ করেন। কবিতাটির শিরোনাম বদলে ‘মুক্তি’ রাখা হয় এবং ওই পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৬ সংখ্যায় প্রতিষ্ঠিত লেখকদের জন্য নির্ধারিত পৃষ্ঠায় আত্মপ্রকাশ করে।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
উপন্যাস: 'বাঁধন হারা'। 
প্রবন্ধ: 'তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা'। 
নাটক: 'ঝিলিমিলি'। 
গল্পগ্রন্থ: 'ব্যথার দান'। 
:কাব্যগ্রন্থ: 'অগ্নি-বীণা'।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৮৯.
‘পারাপার’ ও ‘পালাবদল’ কাব্যগ্রন্থগুলোর কবি-
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম। অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন। তিনি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ: তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ: উপহার (১৯২৭), খসড়া (১৯৩৮), এক মুঠো (১৯৩৯), মাটির দেয়াল (১৯৪২), অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩), পারাপার (১৯৫৩), পালাবদল (১৯৫৫), ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১), হারানো অর্কিড (১৯৬৬), পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭), অমরাবতী (১৯৭২), অনিঃশেষ (১৯৭৬), নতুন কবিতা (১৯৮০) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৫,৩৯০.
"যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. দাউদ হায়দার
  3. হেলাল হাফিজ
  4. আলাউদ্দীন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• "যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক - হেলাল হাফিজ।

'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১,
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৯১.
'নবান্ন' নাটক লিখেছেন-
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) অমৃতলাল বসু
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

বিজন ভট্টাচার্য : তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন৷
তিনি 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটি রচনা করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
তার রচিত অন্যান্য নাটক-
- জনপদ
- কলঙ্ক
- মরাচাঁদ
- অবরোধ
- গোত্রান্তর
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,৩৯২.
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) রাইফেল রুটি আওরাত
  2. খ) কে কথা কয়
  3. গ) নিষিদ্ধ লেবানন
  4. ঘ) রেইনকোর্ট
সঠিক উত্তর:
ক) রাইফেল রুটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাইফেল রুটি আওরাত
ব্যাখ্যা
• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস রাইফেল রুটি আওরাত। 

- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
 - উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ।
 - মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম।
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

অপরদিকে,
• নিষিদ্ধ লোবান- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস . ‘
• রেইনকোর্ট- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প।
• কে কথা কয়- হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৯৩.
কাহ্নপার প্রকৃত নাম কী?
  1. কাহ্নপা
  2. কনহপা
  3. কৃষ্ণাচার্য পাদ
  4. কাহ্নিল পাদ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণাচার্য পাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণাচার্য পাদ
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৯৪.
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী
  2. নদী নিঃশেষিত হলে
  3. নিশুতি রাতের গাথা
  4. নরকে লাল গোলাপ
সঠিক উত্তর:
নিশুতি রাতের গাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশুতি রাতের গাথা
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস - নিশুতি রাতের গাথা

আনোয়ার পাশা:

- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী
- অন্যান্য কবিতা।

অন্যদিকে,
- 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৯৫.
বাংলা গদ্যে সর্বপ্রথম কথ্য বা চলিত ভাষারীতির প্রয়োগ দেখা যায় কোন গ্রন্থে?
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) আলালের ঘরের দুলাল
  3. গ) ইতিহাসমালা
  4. ঘ) হিতোপদেশ
সঠিক উত্তর:
খ) আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
- বাংলা গদ্যে প্রথমবারের মত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থের মাধ্যমে প্যারীচাঁদ মিত্র কথ্য বা চরিত ভাষারীতির প্রয়োগ ঘটান।
- তিনি উপলব্ধি করেছিলেন , বাংলা গদ্যের সাধুরীতি কেবল লিখিত রূপেই প্রচলিত এবং বিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সুযোগ বঞ্চিত লোকেরা , বিশেষত অন্তঃপুরচারিণীরা এই ভাষারীতি হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না।
- এই অসুবিধা দূরীকরণে প্রথমত ‘মাসিক পত্রিকার” মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালায় এবং তারই ফলস্বরুপ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এই গ্রন্থটি রচিত।
- এই গ্রন্তের মাধ্যমে বাংলা গদ্যরীতিতে এক অভিনব লঘুভঙ্গি প্রবর্তিত হয় এবং তা  কথ্যরীতির বহুল ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করে।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৩৯৬.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর কী উপাধি ছিলো?
  1. পণ্ডিত
  2. মহামহোপাধ্যায়
  3. রায় বাহাদুর 
  4. ভাষাচার্য 
সঠিক উত্তর:
মহামহোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহামহোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি - মহামহোপাধ্যায়। 
----------------

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে
- বাল্মীকির জয়
- মেঘদূত
- প্রাচীন বাংলার গৌরব

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৯৭.
তিথিডোর উপন্যাসটির উপজীব্য কী?
  1. আবহমান বাংলার কাহিনী
  2. প্রেম ও যৌবনের বন্দনা
  3. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  4. সামাজিক বিশৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
প্রেম ও যৌবনের বন্দনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেম ও যৌবনের বন্দনা
ব্যাখ্যা

• 'তিথিডোর' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮। 
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত। 
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
- উপন্যাসটির উপজীব্য- প্রেম ও যৌবনের বন্দনা। 

• বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩৯৮.
আরাকানে কখন সমৃদ্ধ সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছিল?
  1. ক) ষােড়শ শতাব্দী
  2. খ) সপ্তদশ শতাব্দী
  3. গ) পঞ্চদশ শতাব্দী
  4. ঘ) অষ্টাদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
খ) সপ্তদশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সপ্তদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
সপ্তদশ শতাব্দীতে বাংলায় মােগল-পাঠান সংঘর্ষের ফলে অনেক অভিজাত মুসলমান আরাকানে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন উচ্চ রাজপদে নিযুক্তি লাভ করেন। এদের মাধ্যমে রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়। উৎস: শীকর, বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৩৯৯.
১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের কোন তত্ত্বের বিশ্লেষণ করেন?
  1. তিব্বতি অনুবাদ তত্ত্বের
  2. ধর্মতত্ত্বের
  3. ছন্দের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের
  4. অন্তর্নিহিত তত্ত্বের
সঠিক উত্তর:
ধর্মতত্ত্বের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মতত্ত্বের
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ - বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ।অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
-  বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান - ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,৪০০.
পদাবলির প্রথম কবি কে?
  1. শ্রীচৈতন্য
  2. জয়দেব
  3. চণ্ডীদাস
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি।
- পদাবলির আদিকবি বাঙালি কবি - জয়দেব, তিনি পদাবলি রচনা করেছেন সংস্কৃত ভাষায়।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়।
- বিদ্যাপতি পদাবলি রচনা করেছেন ব্রজবুলি ভাষায়।
- উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলীর আদিকবি চণ্ডীদাস।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।