বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৪৭ / ২১১ · ৪,৬০১৪,৭০০ / ২১,১৩২

৪,৬০১.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদূত
  2. খ) প্রবাসী
  3. গ) ভারতী
  4. ঘ) সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবাসী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে। 
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

• এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - 
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬০২.
প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত কোন সাহিত্যকর্মটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়
  3. কৃষিপাঠ
  4. বামাতোষিণী
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- তিনি ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষিপাঠ,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং
- বামাতোষিণী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬০৩.
বুদ্ধদেব বসুর 'রেখাচিত্র' কোন জাতীয় রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসুর 'রেখাচিত্র' একটি গল্পগ্রন্থের নাম।   

বুদ্ধদেব বসু:
-  ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্য:
- বন্দীর বন্দনা। 
- কঙ্কাবতী।
- দ্রৌপদীর শাড়ী। 
- শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর।
- যে আঁধার আলোর অধিক।

উপন্যাস:
- লাল মেঘ।
- রাতভর বৃষ্টি।
- পাতাল থেকে আলাপ।
- গোলাপ কেন কালো।

গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়।
- রেখাচিত্র।
- ভাসো আমার ভেলা।

নাটক:
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী।
- কলকাতার ইলেকট্রা, সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪,৬০৪.
'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. এস, ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  4. লুৎফর রহমান 
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
ব্যাখ্যা

'সওগাত' পত্রিকা:
- 'সওগাত' প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার ১৯১৮ সালে। সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।
- তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী' নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৪,৬০৫.
নিচের কোন লেখকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'?
  1. মণীশ ঘটক
  2. বিমল মিত্র
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা

• 'মণীশ ঘটক' এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম 'জাবালি'।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬০৬.
চর্যাপদ এর টীকাকার কে?
  1. ক) মুনি দত্ত
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সুকুমার সেন
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) মুনি দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুনি দত্ত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের টীকাকার হলেন মুনি দত্ত। তবে তিনি ১১ তম পদের ব্যাখ্যা করেননি। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
৪,৬০৭.
'বাংলার স্কট' বলা হয় কাকে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  3. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  4. অমিয় চক্রবর্তী 
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে "বাংলার স্কট" বলা হয়। ইংরেজি ঐতিহাসিক রোম্যান্স-উপন্যাস রচয়িতা স্যার ওয়াল্টার স্কটের লেখার শৈলী এবং ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ উপন্যাস রচনার সাথে সাদৃশ্য থাকায় সমালোচকরা বঙ্কিমচন্দ্রকে এই উপাধিতে ভূষিত করেছেন।  

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'সাহিত্য সম্রাট' নামেও পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি কবি ও নাট্যকার, যিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার প্রবর্তক এবং ‘মহাকবি’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। তিনি ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ ও ‘সনেট’ এর জনক। তাঁকে ‘আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি’ এবং ‘দত্তকুলোদ্ভব কবি’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। 

• বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' উপাধিতে ভূষিত হন। এছাড়াও, তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট (D.Litt) উপাধি লাভ করেন। 

• আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম পথিকৃৎ ও রবীন্দ্রোত্তর যুগের কবি অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬) বুদ্ধদেব বসু কর্তৃক "কবির কবি" উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি অন্যতম "তিরিশের কবি" বা "পঞ্চপাণ্ডব" কবি হিসেবে পরিচিত।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৬০৮.
কোনটি উপন্যাস?
  1. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
  4. মনিব ও তাহার কুকুর
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা
‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাস: 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন পলায়ন-পর মধ্যবিত্তের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে - ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাসে ।
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: 
» জননী,
» ক্রীতদাসের হাসি,
» সমাগম,
» চৌরসন্ধি,
» রাজা উপাখ্যান,
» জাহান্নম হইতে বিদায়,
» দুই সৈনিক,
» নেকড়ে অরণ্য,
» পতঙ্গ পিঞ্জর,
» আর্তনাদ,
» রাজপুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬০৯.
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম- চরণটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে-
  1. আগের দিন সুখের ছিল
  2. আগে মানুষ নির্লোভ ছিল
  3. পূর্বে মানুষ সমৃদ্ধ ছিল
  4. অতীতে মানুষ সহানুভূতিশীল ছিল
সঠিক উত্তর:
আগের দিন সুখের ছিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগের দিন সুখের ছিল
ব্যাখ্যা

• "আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম" গানটির গীতিকার হলেন শাহ্‌ আব্দুল করিম।

“আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম” —
এই চরণটি লালন ফকিরের বিখ্যাত গান থেকে নেওয়া। এখানে কবি অতীতের সুখময়, শান্তিপূর্ণ, সরল জীবনযাপনের কথা স্মরণ করে বর্তমানের জটিল ও দুঃখময় জীবনের সাথে তার তুলনা করেছেন।

তাই, চরণটির মূল ভাব হলো —
- অতীতে জীবনে সুখ, শান্তি ও সাদামাটা আনন্দ ছিল।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: ক) আগের দিন সুখের ছিল।

উৎস: শাহ্‌ আব্দুল করিমের গানসমগ্র; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬১০.
'তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।' - চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।'
-এ কবিতাংশটুকু 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর 'জীবন - বন্দনা' কবিতার অংশ।   
-----------------
• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ- 
- অগ্নিবীণা, 
- বিষের বাঁশি , 
- ভাঙার গান , 
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- সন্ধ্যা,
- ঝিঙে ফুল, 
- ফণি-মনসা , 
- জিঞ্জিরা, 
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি। 
---------------------------- 
• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা: 
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। 
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- বাংলাদেশের রণসংগীত “চল চল চল, উর্ধ গগণে বাঝে মাদল” এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।
----------------------------
• জীবন-বন্দনা- কবিতা, 
--------------– কাজী নজরুল ইসলাম। 

গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
– তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু –
         যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !
-----------
-------------
তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। (সংক্ষেপিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, জীবন-বন্দনা- কবিতা।
৪,৬১১.
উইলিয়াম কেরীর সহায়তায় কে ‘সংস্কৃত রামায়ণ’ অনুবাদ করেন?
  1. ক) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. খ) জোশুয়া মার্শম্যান
  3. গ) হেনরি লুই ডিরোজিও
  4. ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) জোশুয়া মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জোশুয়া মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

- উইলিয়াম কেরির সহায়তায় জোশুয়া মার্শম্যান ‘সংস্কৃত রামায়ণ’ অনুবাদ করেন।
- তাছাড়া তিনি সমাচার দর্পন, দিকদর্শন, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া পত্রিকা প্রকাশের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন।
- পত্রিকাগুলো তার পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৬১২.
মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবনসংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে সমরেশ বসু রচিত উপন্যাস-
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. ময়নামতির চর
  3. গঙ্গা
  4. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা
ব্যাখ্যা

'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

===========
সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার  ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ময়নামতির চর'- কবি বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’ আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন ও তাদের সংস্কৃতির তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত “হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসে।

উৎস: 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৬১৩.
‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি কোনটি?
  1. মুক্তির গান
  2. গেরিলা
  3. মাটির ময়না
  4. নিষিদ্ধ লোবান
সঠিক উত্তর:
গেরিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গেরিলা
ব্যাখ্যা
• নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
-------------------
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ: 
এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

উৎস: ‘নিষিদ্ধ লোবান’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪,৬১৪.
'আর কতদিন' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জহির রায়হান
  4. আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে, জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে নবুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখপক মনে উদয় হয়েছিল।

জহির রায়হান উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬১৫.
মধ্যযুগের মুসলিম কবিদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম-
  1. ক) সাহিত্যের কথা
  2. খ) শ্লেথ কাথা
  3. গ) নাথসাহিত্য
  4. ঘ) রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
ঘ) রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'। 
• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।
• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• হিন্দু কবিদের অনুবাদ সাহিত্যের নাম ‘সাহিত্যের কথা’। মূলত হিন্দু ধর্মের কাহিনি অর্থাৎ পৌরাণিক বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্মের অনুবাদ ‘সাহিত্যের কথা’। এটি পুরাপুরি ধর্মকেন্দ্রিক সাহিত্যকর্ম।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাম সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬১৬.
'নুরুল এসলাম ও গোলাপ জান' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গরীবের মেয়ে
  2. পরিণাম
  3. প্রেমের সমাধি
  4. আনোয়ারা
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।

নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬১৭.
'আব্বুকে মনে পড়ে' হুমায়ুন আজাদ রচিত -
  1. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস
  2. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কাব্য
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর কাব্য
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'আব্বুকে মনে পড়ে' হুমায়ুন আজাদ রচিত - মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস

আব্বুকে মনে পড়ে:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত 'আব্বুকে মনে পড়ে' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক শিশু। ১৯৭১ সালে যার বয়স ছিল ৪ বছর।
- যার মনে বারবার ভেসে উঠে যুদ্ধ করতে যাওয়া তার বাবার স্মৃতি।

হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার'।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।
- তিনি ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আব্বুকে মনে পড়ে,
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দণ্ডিত পুরুষ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬১৮.
নিচের কোনটি কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. ক) কপালকুণ্ডলা
  2. খ) নবকুমার
  3. গ) প্রতাপ
  4. ঘ) কাপালিক
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতাপ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে উপন্যাসের চরিত্র নয় প্রতাপ। 

 কপালকুণ্ডলা:
• কপালকুণ্ডলা বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
• এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়। কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং
• দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন ‘মৃন্ময়ী’। 

------------------------

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত  উপন্যাস দূর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) ও কপালকুন্ডলা (১৮৬৬) রচনা করেন। উপন্যাস দুটি দ্রুত প্রচার লাভ করে।
- তিনি বঙ্গদর্শন পত্রিকার সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- আনন্দমঠ
- দেবী চৌধুরাণী
- রাজসিংহ 
- সীতারাম
- কুপালকুণ্ডলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬১৯.
'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী' - এই প্রবাদ বাক্যটি কোন চর্যাকারের?
  1. ঢেণ্ডণপা
  2. ভুসুকুপা
  3. সরহপা
  4. কাঙ্কণপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি।
- 'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী' এটি একটি চর্যাপদের প্রবাদ বাক্য।
- এটি চর্যাপদের ৩৩নং পদ।
- এই পদটির রচয়িতা ঢেণ্ডণপা। 

• অন্যান্য প্রবাদ বাক্যগুলো হলো-
- 'অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী'। যার রচয়িতা ভুসুকুপা। এটি চর্যাপদের ৬নং পদ।
- 'দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায়' - এর রচয়িতা ঢেণ্ডণপা, চর্যাপদের ৩৩নং পদ।
- 'হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন' - এর রচয়িতা সরহপা, চর্যাপদের ৩২নং পদ।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৬২০.
'ব্যাঙাচি' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. সুকুমার রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে,
•  হুতোম পেঁচা ছদ্মনামে লিখতেন 'কালীপ্রসন্ন সিংহ'৷
• 'সমরেশ বসু' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কালকূট।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৪,৬২১.
'এই গৃহ এই সন্ন্যাস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. সোমেন চন্দ
  2. মহাদেব সাহা
  3. সমর সেন
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
'এই গৃহ এই সন্ন্যাস' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি কবি মহাদেব সাহা রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৪২টি কবিতা রয়েছে।

মহাদেব সাহা:
- কবি সাংবাদিক মহাদেব সাহার জন্ম ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানব এসেছি কাছে, 
- কী সুন্দর অন্ধ, 
- তোমার পায়ের শব্দ, 
- ফুল কই শুধুই অস্ত্রের উল্লাস, 
- আমি ছিন্নভিন্ন, 
- তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল, 
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল, 
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬২২.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ -
  1. লিপিমালা
  2. কথোপকথন
  3. রাজাবলী
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।
- তার রচিত আরেকটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা।
- তাকে 'কেরী সাহেবের মুনশী' বলা হয়।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬২৩.
কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে রচিত সাহিত্য ই হলো-
  1. ক) মর্সিয়া সাহিত্য
  2. খ) পুথিসাহিত্য
  3. গ) জঙ্গনামা
  4. ঘ) মৈমনসিংহ-গীতিকা
সঠিক উত্তর:
ক) মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা (১৫৭০)। 'মুক্তল হােসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷ তার গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪,৬২৪.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
  3. আর্তনাদ
  4. খেলাঘর
সঠিক উত্তর:
খেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেলাঘর
ব্যাখ্যা

'খেলাঘর' উপন্যাস:
- 'খেলাঘর' (১৯৮৮) মাহমুদুল হক রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
-  ‘খেলাঘর’ অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম ২০০৬ সালে  একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
 চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'কালো বরফ' (১৯৭৭): এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত। উপন্যাসটিতে হিন্দু- মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে। চরিত্র: আব্দুল খালেক।

• জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোট গল্পগ্রন্থ।

• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস- আর্তনাদ।

উৎস: 'খেলাঘর' উপন্যাস এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬২৫.
দীপ নির্বাণ - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী উপন্যাস রচয়িতা - স্বর্ণকুমারী দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ দীপ নির্বাণ, মেবার রাজ, মালতী, বিদ্রোহ, বিচিত্রা, মিলনরাত্রি ইত্যাদি। নাটকঃ - বসন্ত উৎসব, বিবাহ উৎসব, দেব কৌতুক, ইত্যাদি। কাব্যঃ গাথা, কবিতা ও গান। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬২৬.
বাংলা গদ্যে ‘বীরবলী’ ভাষারীতির প্রবর্তক কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বীরবলী চলিত ভাষা প্রমথ চৌধুরীর একনিষ্ঠ সাধনা ও সৃজনধর্মী মনের আন্তরিক প্রেরণায় উদ্বু্দ্ধ হয়েছে।
• অন্তর্নিহিত প্রাণশক্তি, দৃঢ়প্রকৃতিস্থ ও বহিরবয়ব আঙ্গিক বিন্যাসে সমৃদ্ধ বীরবলী রীতি।
• বাংলা সাহিত্যে বীরবলী গদ্যরীতিই সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যিক চলিত ভাষার মর্যাদা লাভ করেছে।
•  ‘বীরবলেন হালখাতা’ প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৬২৭.
‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার কবি হচ্ছেন- 
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. বাল্মীকি
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রামায়ণ:
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৬২৮.
'স্বাক্ষর' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন-
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'স্বাক্ষর' পত্রিকা:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে উত্তাল ষাটের দশকে যে-কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল, 'স্বাক্ষর' এগুলোর একটি। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে 'স্বাক্ষর-এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- এর সম্পাদক ছিলেন দুই কবি; রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক। পরে বিভিন্নজন এর সম্পাদকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইমরুল চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষাল, আসাদ চৌধুরী, রণজিৎ পালচৌধুরী।

- সাহিত্যে প্রথাবদ্ধতার বিরুদ্ধে ছিল এঁদের সংগ্রাম। রবীন্দ্র-রোম্যান্টিকতা, জীবনানন্দীয় প্রণয়- আকুলতা, সমাজবাদী মতবাদনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য দর্শন প্রভাবিত হয়ে 'স্বাক্ষরে'র লেখকগণ লেখনীধারণ করেন।

- জীবনের নর্থকতাকে পরিত্যাজ্য মনে করেন নি তাঁরা। যৌনতা, বিশেষ করে নাগরিক যৌনাচার নানা মাত্রায় উঠে এসেছে তাঁদের সাহিত্যে। বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্য বিকাশে সে কারণে 'স্বাক্ষর'-এর ভূমিকা প্রশংসার্হ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৬২৯.
কোন সাহিত্যকর্মে 'আলো-আঁধারি' ভাষার প্রয়োগ আছে?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. সেক শুভোদয়া
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৬৩০.
'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' - গানটি ব্যবহৃত হয় কোন নাটকে?
  1. তারাবাঈ
  2. সাজাহান
  3. দুর্গাদাস
  4. নূরজাহান
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও গীতিকার। তাঁর সাহিত্যে দেশপ্রেমের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।
তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক। এটি সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে লেখা প্রথম নাটক‌।
তাঁর বিখ্যাত গান-
ধনধান্যে পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক - সকল দেশের সেরা;
ও সে, স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানি সে যে - আমার জন্মভূমি।
এই নাটকে ব্যবহৃত হয়।
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক-
নূরজাহান, তারাবাঈ, মেবার পতন, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয়, দুর্গাদাস, রানা প্রতাপসিংহ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৬৩১.
নিচের কোন সাহিত্যটির পদকর্তাগণ ‘সিদ্ধাচার্য’ নামে খ্যাত?
  1. ক) শূন্যপুরাণ
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) মহাভারত
সঠিক উত্তর:
খ) চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ পদগুলির পদকর্তাগণ ‘সিদ্ধাচার্য’ নামে খ্যাত।

- তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন যথা : 
- লুইপা।
- ভুসুকুপা।  
- কাহ্নপা।
- শবরপা প্রমুখ।
 

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩২.
'উপদ্রুত উপকূল' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সেলিম আল দীন
  3. আল মাহমুদ
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'উপদ্রুত উপকূল' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা — রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। 

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩৩.
’রূপজালাল’ গ্রন্থটি রচিত-
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  2. গদ্য ছন্দে
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  4. গদ্য ও পদ্য ছন্দে
সঠিক উত্তর:
গদ্য ও পদ্য ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গদ্য ও পদ্য ছন্দে
ব্যাখ্যা
• রূপজালাল:
- রূপজালাল নওয়াব ফয়জুননেসা-র গদ্য ও পদ্য ছন্দে রচিত আত্মজীবনী ও কল্পকাহিনীমূলক একটি গ্রন্থ।
- এটি ১৮৭৬ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সম্ভবত বাংলার একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক প্রথম রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম।

• নবাব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি ।
- নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
-১৮৯৪ সালে হজ্জ পালন করতে গিয়ে ফয়জুন্নেসা মক্কায় একটি মাদ্রাসা ও একটি মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে 'নবাব' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।
বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
-গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য
জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩৪.
বাল্যবিধবা ‘কুন্দনন্দিনী’ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. চন্দ্রশেখর
  3. বিষবৃক্ষ
  4. রাজসিংহ
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।
- লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'বিষবৃক্ষ' আজও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর একটি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- দেবী চৌধুরাণী, 
- আনন্দমঠ,
- বিষবৃক্ষ,
- কপালকুণ্ডলা,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩৫.
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক কাজী নজরুল ইসলামের কোন প্রবন্ধগ্রন্থটি প্রথম নিষিদ্ধ হয়?
  1. বিষের বাঁশী
  2. যুগবাণী
  3. ভাঙার গান
  4. প্রলয় শিখা
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

• 'যুগবাণী':
- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
• যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
• বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
• ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
• প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
• চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬৩৬.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসে ঐতিহাসিক কোন ঘটনাটি বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. আগরতলা মামলা
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।

- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব-মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।

- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কাবিলের বোন' উপন্যাস।

৪,৬৩৭.
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
 
তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩৮.
কোন কবির উপাধি 'কবিশেখর'?
  1. কায়কোবাদ
  2. বিদ্যাপতি
  3. কালিদাস রায়
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কালিদাস রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিদাস রায়
ব্যাখ্যা
• কালিদাস রায়:
- রবীন্দ্রানুসারী কবিশেখর কালিদাস রায় ছিলেন একজন কবি ও সমালোচক।
- কালিদাস ‘রসচক্র’ নামে একটি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রবীন্দ্র-ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- রোমান্টিকতা, প্রেম, পল্লিজীবন, সমাজ, ঐতিহ্যপ্রীতি এবং বৈষ্ণবভাব তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়।
- তাঁর মোট কাব্যগ্রন্থ ১৯টি, তন্মধ্যে কুন্দ (১৯০৭) তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- ‘বেতালভট্ট’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর রম্যরচনাগুলি পাঠকসমাজে খুবই সমাদৃত হয়েছে।
- তাকে ১৯২০ সালে রংপুর সাহিত্য পরিষদ 'কবিশেখর' উপাধি প্রদান করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- পর্ণপুট,
- ঋতুমঙ্গল,
- রসকদম,
- চিত্তচিতা ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩৯.
নিচের কোনটি হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক?
  1. চারুমুখ চিত্তহারা
  2. বেণীসংহার
  3. মালতীমাধব
  4. রত্নাবলী
সঠিক উত্তর:
চারুমুখ চিত্তহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারুমুখ চিত্তহারা
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য। তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) ও 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' ও 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। বেণীসংহার (১৮৫৬), রত্নাবলী (১৮৫৮), অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও মালতীমাধব (১৮৬৭)-এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৪,৬৪০.
এমন পিরীতি কভু নাহি দেখি শুনি।
পরাণে পরাণ বান্ধা আপনা আপনি॥
উপরের চরণ দুটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস।
- তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন।
- দেহগত কামনা- বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন।
- চণ্ডীদাস রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন।
- কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন।

⇒ কবি এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন :
এমন পিরীতি কভু নাহি দেখি শুনি।
পরাণে পরাণ বান্ধা আপনা আপনি॥
দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।
আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া॥

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৪,৬৪১.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. বিরহ খণ্ড
  2. বৃন্দাবন খণ্ড
  3. ভার খণ্ড
  4. প্রেম খণ্ড
সঠিক উত্তর:
প্রেম খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেম খণ্ড
ব্যাখ্যা

•  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেের খণ্ড নয়- প্রেম খণ্ড। 

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
১. জন্ম খণ্ড,
২. তাম্বুল খণ্ড,
৩. দান খণ্ড,
৪. নৌকা খণ্ড,
৫. ভার খণ্ড,
৬. ছত্র খণ্ড,
৭. বৃন্দাবন খণ্ড,
৮. কালিয়দমন খণ্ড,
৯. যমুনা খণ্ড,
১০. হার খণ্ড,
১১. বাণ খণ্ড,
১২. বংশী খণ্ড ও
১৩. বিরহ খণ্ড।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি-
১. কৃষ্ণ (পরমাত্মা),
২. রাধা (জীবাত্মা),
৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,৬৪২.
‘দস্যু কেনারামের পালা’র রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. চন্দ্রাবতী
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• ‘দস্যু কেনারামের পালা’র রচয়িতা — চন্দ্রাবতী

• চন্দ্রাবতী: 
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ, 
- মলুয়া, 
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘কমলা’ পালার রচয়িতা - দ্বিজ ঈশান।
• 'চন্দ্রাবতী' পালার রচয়িতা - নয়ানচাঁদ ঘোষ।
• ‘দেওয়ানা মদিনা’ -মনসুর বয়াতি প্রণীত পালা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৪৩.
মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি কে?
  1. ক) সৈয়দ সুলতান
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. ঘ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের মধে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শাহ মুহাম্মদ সগীর।
- তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৪-এর শেষ থেকে ১৫ শতক। 
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য 'ইউসুফ জোলেখা'।
- ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- পারসি কবি আব্দুর রহমান জামি রচিত ইউসুফ জোলেখা থেকে তিনি এ কাহিনী গ্রহণ করেছেন। 

অন্যদিকে, 
• সৈয়দ সুলতানের জীবনকাল আনু্মানিক ১৫৫০ থেকে ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দ। 
• দৌলত উজির বাহরাম খান ষােড়শ শতাব্দীতে চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ বা জাফরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
• শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ ১৮শ শতকের মধ্যভাগে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৪৪.
‘চাঁদ সওদাগর’ চরিত্রটি কোন মঙ্গল কাব্যে পাওয়া যায়?
  1. ক) চণ্ডীমঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
- ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালী পালা।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- চাঁদ সওদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা ,পরে মনসা দেবীর অলৌকিক  শক্তির স্বীকার করে বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৪৫.
চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি ১৩ টি পদ রচনা করেন কে?
  1. ক) শবরপা
  2. খ) কৃত্তিবাস
  3. গ) কাহ্নপাদ
  4. ঘ) জয়দেব
সঠিক উত্তর:
গ) কাহ্নপাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাহ্নপাদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের সবচেয়ে প্রাচীন কবি শবরপাদ। তিনি ছিলেন চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা লুইপাদের গুরু। তাই চর্যাদের প্রথমপদ লুইপাদের হলেও সবচেয়ে প্রাচীন কবি শবরপাদ। তিনি বাংলাদেশ ভূখন্ডের কবি ছিলেন। ভুসুকুপাদও বাঙালি কবি। কাহ্নপাদ চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি ১৩ টি পদ রচনা করেন।
সূ্ত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৪,৬৪৬.
'আয়না বিবি' উপাখ্যানটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ডাক ও খনার বচন 
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ গীতিকা
ব্যাখ্যা
• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন। দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

পূর্ববঙ্গ গীতিকার উপাখ্যানগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- চৌধুরীর লড়াই,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৪৭.
কোন উপন্যাসকে 'পিন-আপ-নভেল' বলা হয়?
  1. ক) এক মহিলার ছবি
  2. খ) অনুপম দিন
  3. গ) রাজার সুন্দরী
  4. ঘ) খেলারাম খেলে যা
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেলারাম খেলে যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেলারাম খেলে যা
ব্যাখ্যা
• 'পিন-আপ-নভেল' বলা হয় - সৈয়দ শামসুল হক রচিত, 'খেলারাম খেলে যা' উপন্যাসটিকে।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- তিনি কথাসাহিত্যে চরম যৌনতা আমদানি করেছেন। 
- ষাটের ও সত্তরের দশকে যখন বাংলাদেশের বাংলা কথাসাহিত্যে যৌনতা ছিল খুবই লজ্জার ও অপমানের বিষয়, সে সময়ই তিনি বহু যৌনগন্ধী কাহিনি লেখেন।
- তাঁর ‘খেলারাম খেলে যা' উপন্যাসকে ‘পিন-আপ-নভেল' বলা হয়।
- এই উপন্যাসে সমাজবিচ্ছিন্ন ব্যক্তির আত্মসুখ খুঁজে ফেরা ভোগবাদী মানসিকতার চিত্ররূপ দেখতে পাওয়া যায়।
- হুমায়ুন আজাদ এই ধরনের উপন্যাসকে 'অপন্যাস' বলেছেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য :
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। 
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান৷।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর ।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস । 
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে । 
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৪৮.
কোন সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন?
  1. ক) বাল্যবিবাহ
  2. খ) বিধবাবিবাহ
  3. গ) সতীদাহ
  4. ঘ) ধর্মীয় গোড়ামী
সঠিক উত্তর:
খ) বিধবাবিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিধবাবিবাহ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সাহিত্যিকের চেয়ে সমাজ সংস্কারক আগে। 
- তিনি সমাজ সংস্কারক হিসেবে যে লেখগুলো লেখেন তা পরবর্তিতে সাহিত্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাল্যবিধবাদের পুনর্বিবাহের পক্ষে তাঁর প্রথম বেনামী লেখা প্রকাশিত হয় ১৮৪২ সালের এপ্রিল মাসে বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকায়।
- আর এ বিষয়ে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে, দ্বিতীয় গ্রন্থ অক্টোবর মাসে।
- এভাবে বিধবাবিবাহের পক্ষে শাস্ত্রীয় প্রমাণ দেওয়া ছাড়াও, বিধবাদের পুনর্বিবাহ প্রবর্তনের পক্ষে একটি আইন প্রণয়নের জন্যে তিনি সামাজিক আন্দোলন আরম্ভ করেন।
- বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ১৮৫৬ সালের জুলাই মাসে বিধবাবিবাহ আইন প্রণীত হয়।
- বিধবাবিবাহ আইন প্রণয়নে সাফল্য লাভ করায় পরে কুলীনদের বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ রোধ আইন পাস করার পক্ষে সরকারের কাছে আবেদন জানান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৪৯.
"নন্দিনী এবং রঞ্জন" চরিত্রদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন সাহিত্যকর্মের?
  1. চিরকুমার সভা
  2. রক্তকরবী
  3. বিসর্জন
  4. অচলায়তন
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

রবীন্দ্রনাথ রচিত আরো নাটক:
- বিসর্জন
- রাজা, 
- অচলায়তন
- চিরকুমার সভা
- তাসের দেশ, 
- বৈকুন্ঠের খাতা, 
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- ডাকঘর, 
- বসন্ত, 
- চণ্ডালিকা, 
- নটীর পূজা।

উৎস: রক্তকবরী নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৫০.
'ছোটবকুলপুরের যাত্রী ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
ছোট বকুল্পুরের যাত্রী ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ।
- 'ছোটবকুলপুরের যাত্রী' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ।

গল্পগ্রন্থের অন্যান্য গল্পগুলোর হচ্ছে:
-ছোটবকুলপুরের যাত্রী, মেজাজ, প্রাণাধিক, ঘর করলাম বাহির, সখী, নিচু চোখে দু আনা আর দু পয়সা, নিচু চোখে একটি মেয়েলি সমস্যা।

 তাঁর গল্পগ্রন্থসমূহ:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (প্রথম গল্প),
- প্রাগৈতিহাসিক (চরিত্র: ভিখু, পাঁচি),
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- ছোট বকুল্পুরের যাত্রী,
- ফেরিওয়ালা
- মিহি ও মোটা কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৫১.
'সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে॥' - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. আবদুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে॥' - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
-------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- খেয়া, 
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।
-------------------- 
সার্থক জনম আমার- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে ॥
জানি নে তোর ধনরতন   আছে কি না রানীর মতন,
শুধু   জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে ॥
কোন্‌ বনেতে জানি নে ফুল   গন্ধে এমন করে আকুল,
কোন্‌ গগনে ওঠে রে চাঁদ এমন হাসি হেসে।
আঁখি মেলে তোমার আলো   প্রথম আমার চোখ জুড়ালো,
ওই আলোতেই নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে ॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, সার্থক জনম আমার- কবিতা। 
৪,৬৫২.
প্রবাদ বলতে কী বোঝায়?
  1. মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
  2. মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি বিস্তৃত অভিব্যক্তি
  3. বস্তুকেন্দ্রিক অভিব্যক্তি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
ব্যাখ্যা
প্রবাদ:
- প্রবাদ লোকসাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট শাখা।
- প্রবাদ বলতে বোঝায় মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
- ব্যক্তি ও সমাজজীবনের অভিজ্ঞতার ফলে প্রবাদের সৃষ্টি এবং নীতি ও উপদেশ বিতরণ এর লক্ষ্য।
- জীবনের বিচিত্র পরিসরে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকে পরবর্তী পর্যায়ে কাজে লাগানোর জন্য অবয়বে প্রবাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৬৫৩.
ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৮২০
  2. ১৮২৬
  3. ১৮২৮
  4. ১৮৩৩
সঠিক উত্তর:
১৮২৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৮
ব্যাখ্যা
১৮২৮ সালে রামমোহন রায় ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বস্তুত হিন্দুধর্মের নতুন একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- রামমোহনের ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা মৌলিক হলেও তা ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম দ্বারা খানিকটা প্রভাবিত হয়েছিল।
- তাঁর সংস্কারমূলক ও উদারবাদী ধারণাসমূহের প্রচারের জন্য ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন।
রাজা রামমোহন রায়(১৭৭২/৭৪-১৮৩৩):
- তিনি ছিলেন হিন্দুধর্মের মহান সংস্কারক।
- পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৪ সালের মাঝামাঝিতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি তাঁর জীবনকে সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন। তাঁর কলকাতা পৌঁছার এক বছরের মধ্যেই সমমনা ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি আত্মীয় সভা (বন্ধুদের সমিতি) নামে একটি একান্ত সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এর সদস্যবৃন্দ ওই সময়কার ধর্মীয় ও সামাজিক সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁর বাসায় নিয়মিত মিলিত হতেন। 
- রামমোহন হিন্দু সংস্কারের এক মহান যুগের সূত্রপাত করেন। তিনি সতীদাহের মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সক্ষম হন, যা ১৮২৯ সালে বিশেষ আইনের মাধ্যমে এ প্রথা বন্ধ করতে সরকারকে প্রভাবিত করে। রামমোহন প্রতিমা পূজাকেও দৃঢ়ভাবে বর্জন করেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে, হিন্দুধর্ম এক সর্বজনীন ঈশ্বরের পূজা করতে নির্দেশ দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৫৪.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক কোনটি?
  1. গিনিপিগ
  2. সমতট
  3. অবরোধ
  4. ইবলিশ
সঠিক উত্তর:
অবরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবরোধ
ব্যাখ্যা

• 'অবরোধ' নাটক:
- মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক 'অবরোধ' (১৯৪৭)।
- অবরোধ নাটকটি কমিউনিজমের আদর্শে কারখানার মালিক-শ্রমিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রচিত, তবু কারখানার মালিকের পুঁজিবাদী স্বরূপ সম্পর্কে নাট্যকারের অনভিজ্ঞতার কারণে গণনাট্য সংঘ এ নাটকটিকে গ্রহণ করতে পারেনি।

অন্যদিকে, 
- মামুনুর রশীদ রচিত নাটক- গিনিপিগ, ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, এখানে নোঙর, সমতট, পাথর, ইবলিশ ইত্যাদি। 

--------------------
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা। ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'Jagannath University Journal of Arts'।

৪,৬৫৫.
'ফেরারী ডায়েরী' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. আল মাহমুদ
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'ফেরারী ডায়েরী' গ্রন্থের রচয়িতা- আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- এটি তাঁর স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই।

-------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৫৬.
'কুসুমকানন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
- 'কুসুমকানন' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কায়কোবাদ

• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।
- গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৫৭.
‘তোতা ইতিহাস’ গদ্য গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  2. রামরাম বসু
  3. গোলোকথান শর্মা
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুন্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুন্শী
ব্যাখ্যা
♦ চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'।
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

------------------------------------
♦ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন; ইতিহাসমালা।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৬৫৮.
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. নিজ বাসভূমে
  3. নিয়ত মন্তাজ
  4. নিরালোকে দিব্যরথ
সঠিক উত্তর:
নিয়ত মন্তাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ত মন্তাজ
ব্যাখ্যা

• 'নিয়ত মন্তাজ' শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি  ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
 
- শামসুর রাহমান উপন্যাস লিখেছেন চারটি। অক্টোপাস (১৯৮৩), অদ্ভুত আঁধার এক (১৯৮৫), নিয়ত মন্তাজ (১৯৮৫) এবং এলো সে অবেলায় ১৯৯৪ চারটি উপন্যাসেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি, তৎকালীন সমাজ ও নগরকেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত নাগরিকদের জীবনভাষ্য এক অন্তহীন অসঙ্গতি নবতর সৃজনী ব্যঞ্জনায় উঠে এসেছে। 

------------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৫৯.
চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রথম কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. নেপাল
  4. দিল্লী
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৪,৬৬০.
‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে’ কবিতার চরণটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সুকান্ত ভট্টচার্য
  3. গ) মহন মোহন তর্কালঙ্কার
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

আমাদের ছোট নদী
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।

৪,৬৬১.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের রচনা নয় কোনটি? 
  1. উত্তরফাল্গুনী
  2. কুলায় ও কালপুরুষ
  3. তন্বী
  4. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া 
সঠিক উত্তর:
চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া 
ব্যাখ্যা
• 'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া'  রফিক আজাদের কাব্যগ্রন্থ।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৬২.
'যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে' কোন কবিতার চরণ?
  1. কবিতার কথা
  2. কবিতা, তোমার দরজায়
  3. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  4. নির্বাচিত কবিতা
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
ব্যাখ্যা
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে”- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার চরণ। 

• 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা: 
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা,
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা। 
৪,৬৬৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে কাহ্নপা'র আবির্ভাব হয়েছিল কোন শতকে?
  1. দশম শতকে
  2. নবম শতকে
  3. অষ্টম শতকে
  4. সপ্তম শতকে
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতকে
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- খ্রিস্টিয় অষ্টম শতকে কাহ্নপা'র আবির্ভাব হয়েছিল বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৬৪.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকাটি কোথা থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. করাচি
  4. মুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৬৫.
'মরীচিকা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
- রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
- দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন দুঃখবাদী কবি, আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
- প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- মরীচিকা,
- মরুশিখা,
- মরুমায়া,
- সায়ম্,
- ত্রিযামা,
- নিশান্তিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।
৩) বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৬৬.
বাংলা সাহিত্যে পত্রোপন্যাসের জনক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
’বাঁধন-হারা’ উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা'।
- এটি গ্রন্থাকারে ১৩৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ’বাঁধন-হারা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে -  নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন হারা,
- কুহেলিকা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৬৬৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি কে?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. নবাব ফয়জুন্নেসা
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী:
- মধ্যযুগ তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
- চন্দ্রাবতী পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে। তিনিই মহিলা কবিদের মধ্যে প্রথম রামায়ণ অনুবাদ করেন।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।

চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৬৮.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লার মতে চর্যাপদের অধিকাংশ কোন ছন্দে লিখিত?
  1. ক) পাদাকুলক
  2. খ) মাদকুলক
  3. গ) পয়ার
  4. ঘ) মাত্রাবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) পাদাকুলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাদাকুলক
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের অধিকাংশ পাদাকুলক ছন্দে রচিত। তবে নানা ধরনের ছন্দের কথা বলা হলেও আধুনিক ছন্দ বিবেচনায় চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত ছন্দ।

উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৪,৬৬৯.
'হৈমন্তী' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' কবিতার রচয়িতা সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 
- কবিতাটি তাঁর 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- 'অর্কেস্ট্রা' তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ২৫ টি কবিতা স্থান পেয়েছে। 

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতা- 
- হৈমন্তী
- পণ্ডশ্রম
- কস্মৈ দেবায়ঃ
- সঞ্চয়
- মহাসত্য
- দ্বন্দ্ব
- ভবিতব্য, 
- মহাশ্বেতা
- অপচয়
- শাশ্বতী
- বিস্মরণী
- অর্কেস্ট্রা ইত্যাদি। 
- প্রায় সবগুলোই প্রেমের কবিতা। 

উল্লেখ্য, 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৭০.
'বিদ্রোহী’ - কবিতার প্রথম চরণ কোনটি?
  1. বল উন্নত মম শির
  2. বিদ্রোহী রণক্লান্ত
  3. বল বীর
  4. আমি চির-উন্নত শির
সঠিক উত্তর:
বল বীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল বীর
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
-  ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

'বিদ্রোহী' কবিতা - 

বল বীর
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪,৬৭১.
নিচের কোন সাহত্যিক কবিয়াল ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
এন্টনি ফিরিঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা

• কবিগান: 
- কবিগান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান।
- দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

- গোঁজলা গুঁইকে বলা হয় কবিগানের আদি কবিয়াল।
- তাঁর আবির্ভাবকাল আঠারো শতকের প্রথমার্ধ।
- উনিশ শতকের কলকাতায় যে কয়জন কবিয়াল বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে হরু ঠাকুর (১৭৪৯-১৮২৪), নিতাই বৈরাগী (১৭৫১-১৮২১), রাম বসু (১৭৮৬-১৮২৮), ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), 
- রাম বসু,
- নৃসিংহ, 
- এন্টনি ফিরিঙ্গি,
- হরু ঠাকুর, 
- রামনিধি গুপ্ত,
- কেষ্টা মুচী, 
- ভবানী,
- রামানন্দ নন্দী।
----------------------

• এন্টনি ফিরিঙ্গি: 
- ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল। 
- তাঁর  প্রকৃত নাম হেনসম্যান এন্টনি (Hensman Anthony)।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিস্টান।
- পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের ফরাসডাঙায় তিনি বসবাস করতেন।
- তিনি খ্রিস্টান হলেও বাঙালি কালি সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন। 
- তিনি হিন্দু বিধবা কে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কাকীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

• তাঁর একটি বিখ্যাত গান-
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,৬৭২.
‘গিনিপিগ’ নাটকটি কার রচনা?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. নুরুল মোমেন
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• ‘গিনিপিগ’ নাটক:
‘গিনিপিগ’ নাট্যকার মামুনুর রশীদের একটি উল্লেখযোগ্য নাটক। যা বাংলাদেশের নাট্য অঙ্গনে সাড়া ফেলেছিলো। গিনিপিগ নাটকে লেখক ২২ টি চরিত্রের মাধ্যমে তার চিন্তাকে সংলাপের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। দর্শকদের উৎসুক চিন্তা তাই ‘গিনিপিগ নাটকে অতি সহজেই নিজেদের মতো করে নিতে পারে।

-----------------
• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং গিনিপিগ’ নাটক।
৪,৬৭৩.
'নায়েবে নবী' গল্পটি আবুল মনসুর আহমদ এর কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) আবে হায়াত
  2. খ) আয়না
  3. গ) সত্য মিথ্যা
  4. ঘ) জীবনক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
খ) আয়না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আয়না
ব্যাখ্যা
⇒ আয়না:
• রম্য গল্পগ্রন্থের রচয়িতা- 'আবুল মনসুর আহমদ'।
• গ্রন্থটির ভূমিকা বা মুখবন্ধ লিখেছিলেন - কাজী নজরুল ইসলাম।
• এর অন্তর্ভুক্ত গল্পসমূহ:
- হুযুর কেবলা,
- গো - দেওতা কা দেশ,
- নায়েবে নবী,
- লীডরে কওম,
- মুজাহেদীন,
- বিদ্রোহী সংঘ,
- ধর্মরাজ্য।

• আবুল মনসুর আহমদ
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৭৪.
দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. জন্ম থেকে জ্বলছি
  2. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  3. বাংলার মাটি বাংলার জল
  4. মা যে জননী কান্দে
সঠিক উত্তর:
জন্মই আমার আজন্ম পাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্মই আমার আজন্ম পাপ
ব্যাখ্যা
• দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ - জন্মই আমার আজন্ম পাপ। 

দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

অন্যদিকে,
• শিতাংশু গুহ রচিত গ্রন্থ - জন্ম থেকে জ্বলছি।
• নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ - বাংলার মাটি বাংলার জল।
• জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - মা যে জননী কান্দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'জন্ম থেকে জ্বলছি', শিতাংশু গুহ।
৪,৬৭৫.
মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. কানা হরিদত্ত
  3. নারায়ণ দেব
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল হলো মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম শাখা, যা প্রধানত সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- মনসাকে কেতকা বা পদ্মা নামেও ডাকা হয়, তাই এই কাব্যকে কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণও বলা হয়।
- মনসামঙ্গল কাব্য পূর্ববঙ্গের বনজঙ্গল, নদী ও খাল বিলের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে, যেখানে গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম ও জীবনকাহিনি ফুটে ওঠে।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার কারণে বিভিন্ন কবির কাব্য থেকে অংশ সংগ্রহ করে তৈরি করা সংকলনকে বাইশা বা বাইশ কবির মনসামঙ্গল বলা হয়।
- মনসামঙ্গলের শ্রেণি/ধারা- লৌকিক বা লোকায়ত।

- মনসামঙ্গলের প্রধান কবিরা:
কানা হরিদত্ত:
- মনসামঙ্গলের আদি কবি। প্রথম রচিত গীত কানা হরিদত্তের।

• নারায়ণ দেব:
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি; কাব্যের নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।

• বিজয়গুপ্ত:
- বাংলা সাহিত্যে মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা হিসেবে সুস্পষ্ট সন তারিখসহ পরিচিত বিজয়গুপ্ত। তাকে মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবিও বলা হয়। তিনি বরিশালের কবি। তার লেখা মনসামঙ্গল কাব্যের নাম পদ্মপুরাণ।

• বিপ্রদাস পিপিলাই:
- মনসাবিজয় নামে কাব্য রচনা করেছেন।

• দ্বিজ বংশীদাস:
- বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের পাতুয়ারী গ্রামের কবি; গ্রামে গ্রামে মনসার গান গাইতেন। চন্দ্রাবতী নামক প্রাচীনতম মহিলা কবির পিতাও তিনি।

• অন্যান্য কবি: কেতকাদাশ, ক্ষেমানন্দ ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬৭৬.
'চিন্তা তরঙ্গিনী' কাব্যটির রচয়িতা-
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সত্যেন সেন
  4. কাজেম আল কোরেশী
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন মহাকবি।
• তাঁর রচিত কাব্যঃ
- চিন্তা তরঙ্গিনী,
- ছায়াময়ী,
- আশাকানন,
- বীরবাহু,
- চিত্তবিকাশ,
- দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৭৭.
ফররুখ আহমদ কোন গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন?
  1. পাখির বাসা
  2. হাতেমতায়ী
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. মুহূর্তের কবিতা
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪,৬৭৮.
হুমায়ূন আহমেদ এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছায়াছবি কোনটি?
  1. ক) আগুনের পরশমণি
  2. খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. গ) নূরুলদীনের সারাজীবন
  4. ঘ) এই দেশে এই বেশে
সঠিক উত্তর:
ক) আগুনের পরশমণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
- 'আগুনের পরশমণি' হুমায়ূন আহমেদ এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছায়াছবি।

• হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- হুমায়ূন আহমেদের অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- শ্যামল ছায়া।
- আগুনের পরশমণি।
- অনিল বাগচীর একদিন।
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

অন্যান্য অপশনগুলো:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- এসএম সোলায়মান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- এই দেশে এই বেশে।
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য- নূরুলদীনের সারাজীবন (পটভূমি- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৭৯.
'বিশ শতকের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. জহির রায়হান
  3. আহমদ শরীফ
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

'বিশ শতকের মেয়ে' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• 'আগুনের মেয়ে' নামক উপন্যাসটির রচয়িতা আল মাহমুদ।
• জহির রায়হানের 'শেষ বিকেলের মেয়ে' যত না প্রেমের উপন্যাস, আসলে এটি তার চেয়ে বেশী করে প্রেমহীনতার উপন্যাস। 
• "বিশ শতকের বাঙালি" ন্থটির লেখক হলেন আহমদ শরীফ। 

-------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• গবেষণা:
- শরৎ-প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক।
 
• উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

• আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৮০.
রত্নসেন ও নাগমতী কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মধুমালতী
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) লায়লী-মজনু
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
হিন্দি কবি মালিক জায়সীর রচিত পদুমাবৎ কাব্যের অনুবাদরূপে বাঙালি কবি আলাওল রচিত পদ্মাবতী। এর চরিত্র রত্নসেন, গন্ধর্ব সেন, চম্পাবতী, নাগমতী, হিরামন পাখি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৬৮১.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

• 'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
• এটি তাঁর ইতিহাস ভিত্তিক রচনা।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থঃ
- কচিপাতা,
- অনাবাদি জমি,
- ত্রিস্রোতা,
- দৃষ্টিকোণ,
- খরতরঙ্গ,
- অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,৬৮২.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন -
  1. 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থ
  2. 'কুলায় ও কালপুরুষ' প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ
  4. 'প্রতিধ্বনি' অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন - 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ
- উৎসর্গপত্রে লিখেছেন: 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।'

উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৮৩.
'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. কাঙাল হরিণাথ
  2. নীলমণি হালদার
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
ব্যাখ্যা

 • 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার সম্পাদক:
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন  - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা - স্বদেশ।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - প্রমথ চৌধুরী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন- সাধনা (১৮৯৪), ভারতী (১৮৯৮), বঙ্গদেশ (১৯০১), তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)।
- বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকা- প্রগতি (১৯২৭-২৯), কবিতা (১৯৩৫-৪০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৮৪.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. কুড়িগ্রাম
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. রংপুর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নওয়াব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
- 'বান্ধব', 'ঢাকা প্রকাশ', 'মুসলমান বন্ধু', 'সুধাকর', 'ইসলাম প্রচারক' প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও নওয়াব ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৮৫.
'নীড় সন্ধানী' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) ইব্রাহীম খাঁ
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
- 'নীড় সন্ধানী ' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন-আনোয়ার পাশা

আনোয়ার পাশা:
- তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে। 
- আনোয়ার পাশা ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়। 
- রাজশাহী কলেজে বিএ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে তিনি রচনা করেন ‘হাস্নাহেনা’ শিরোনামে একটি রম্যরচনা।
- তাঁর রাইফেল-রোটি-আওরাত উপন্যাসটি রচিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম
- নদী নিঃশেষিত হলে
- রবীন্দ্র ছোটগল্প সমীক্ষা 
- নীড় সন্ধানী 
- নিশুতি রাতের গাথা
- সাহিত্যশিল্পী আবুল ফজল 
- নিরুপায় হরিণী 
- রাইফেল-রোটি-আওরাত 
- সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী ও
- অন্যান্য কবিতা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪,৬৮৬.
"আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই।" - বিখ্যাত গানটির লেখক কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শামসুর রাহমান
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

• 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' বিখ্যাত গানটির রচয়িতা- 'সিকান্দার আবু জাফর'। 

• সিকান্দার আবু জাফর: 
- তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।
- 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গান - আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই।

তাঁর রচিত  গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর, 
- বৈরীবৃষ্টিতে, 
- তিমিরান্তক, 
- কবিতা, 
- বৃশ্চিকলগ্ন। 

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু, 
- জয়ের পথে, 
- পূরবী, 
- নবী কাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬৮৭.
‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. বদরুদ্দীন উমর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
• ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থটির রচয়িতা - বদরুদ্দীন উমর। 

বদরুদ্দীন উমর:

- ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত পান।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৮৮.
‘হারামণি’ লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করেন-
  1. শুকুর মাহমুদ
  2. মনসুর বয়াতি
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন:
- ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্ম।
- পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’:
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'।
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৮৯.
’দুদিনের খেলাঘর‘ উপন্যাসটির রচিয়তা কে?
  1. ক) আকবর হোসেন
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) নারায়ন গঙ্গোপধ্যায়
  4. ঘ) শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
ক) আকবর হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আকবর হোসেন
ব্যাখ্যা
’দুদিনের খেলাঘরে‘ উপন্যাসটির রচিয়তা - আকবর হোসেন। 

আকবর হোসেন রচিত অন্যান্য উপন্যাস- 
- অবাঞ্ছিত, 
- কি পাইনি, 
- মোহমুক্তি, 
- দুদিনের খেলাঘর ও 
- নতুন পৃথিবী।
৪,৬৯০.
'মর্সিয়া' সাহিত্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. কৃষ্ণের কাহিনী
  2. কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনী
  3. বৌদ্ধ ধর্মের কাহিনী
  4. শিবের উপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনী
ব্যাখ্যা
• 'মর্সিয়া' সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ।
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৯১.
কলকাতা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৯ সালে 
  2. ১৯১৩ সালে 
  3. ১৯১৬ সালে 
  4. ১৯২৩ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ (ধর্ম চর্চা)।
- ১৯১৬ সালে কলকাতা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। অপরদিকে ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী  ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬৯২.
মঙ্গলকাব্য ধারার প্রাচীনতম শাখা -
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
-‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো:
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৬৯৩.
'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2.  জাহানারা ইমাম
  3.  সুফিয়া কামাল
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সঠিক উত্তর:
 সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল। 

সুফিয়া কামাল: 

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তার রচিত প্রথম কবিতা 'বাসন্তী'; এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• তার উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,
- একাত্তরের ডায়েরী।

অন্যদিকে,
- বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক সেলিনা হোসেন।
- 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত জাহানারা ইমাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৬৯৪.
'খাঁচার ভিতরে অচিন পাখি"- পঙ্ক্তিটির উৎস কী?
  1. রবীন্দ্র সঙ্গীত
  2. ভজন
  3. লালন গীতি
  4. হাসান রাজার গান
সঠিক উত্তর:
লালন গীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন গীতি
ব্যাখ্যা
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’- এটি লালন গীতি।
- গানটির রচয়িতা বাউল সম্রাট খ্যাত লালন শাহ।
- তিনি বাউল সংগীত লিখে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন৷
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম তাঁর গানগুলো (২৯৮ টি) সংগ্রহ করে৷

তার অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’
- ‘মিলন হবে কত দিনে’
- ‘কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়, তাইতো জাত ভিন্ন বলায়’
- ‘তিন পাগলের মেলা’
- ‘সময় গেলে সাধন হবে না’।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৯৫.
”আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ঢেলার মূর্তি-আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।”-পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত? 
  1. বিদ্রোহী 
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে
  4. কান্ডারী হুশিয়ার      
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা

”আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ঢেলার মূর্তি-আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।”
- পঙ্‌ক্তিদ্বয় ”আনন্দময়ীর আগমনে” কবিতার অন্তর্গত।
- কবিতাটির লেখক কাজী নজরুল ইসলাম।

- ২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২ সালে, ধূমতুেতে 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা প্রকাশিত হয়,
- অক্টোবর মাসে 'অগ্নি-বীণা' কাব্য ও 'যুগবাণী' প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশিত হয়,
- 'যুগবাণী' সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ, ধূমকেতুতে প্রকাশিত 'আনন্দময়ীর আগমনে' বাজেয়াপ্ত, নভেম্বর মাসে নজরুলকে কুমিল্লায় গ্রেপ্তার ও কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলে আটক হয়।
- 'ধূমকেতু' পত্রিকাতেই নজরুল প্রথম ভারতের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেছিলেন ১৩ই অক্টেবর ১৯২২ সংখ্যায়।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয় ১৯৮৭ সালে।
- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা,

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,৬৯৬.
"আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
  2. মোহাম্মদী পত্রিকা
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. কল্লোল পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

• "আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। এর আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্তৃত। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। 'ঠকচাচা' এর অন্য একটি প্রধান চরিত্র।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিতি লাভকরে।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।

- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।

উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা। এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে রয়েছে-
- বাবুরাম,
- বাবুরামের পুত্র মতিলাল,
- ধূর্ত উকিল বটলর,
- অর্থলোভী বাঞ্ছারাম,
- তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৯৭.
বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে মধ্যযুগে রচিত কোন গ্রন্থে?
  1. গীতগোবিন্দ 
  2. সেক শুভোদয়া
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. শূন্যপুরাণ
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা

• শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ 'শূন্যপুরাণ'। রামাই পণ্ডিতের কাল তের শতক বলে অনুমিত হয়। শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ-গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য।

- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় হিন্দুধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। শূন্যপুরাণে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

- এ গ্রন্থের অন্তর্গত 'নিরঞ্জনের রুম্মা' কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা।' এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সদ্ধর্মীদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার কাহিনি বর্ণনার সঙ্গে মুসলমানদের জাজপুর প্রবেশ এবং ব্রাহ্মণ্য দেবদেবীর রাতারাতি ধর্মান্তর গ্রহণের কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

- ইসলাম সম্পর্কে অপরিণত ধারণা থেকে মনে হয় যে এ দেশে ইসলাম সম্প্রসারণের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি রচিত। ব্রাহ্মণ্য শাসনের অবসান এবং মুসলিম শাসন প্রচলনের পক্ষে মত প্রকাশিত হওয়াতে এতে তৎকালীন সামাজিক অবস্থার।

অন্যদিকে, 
----------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো বড়ু চণ্ডীদাস রচিত একটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্য, যা চর্যাপদের পর আবিষ্কৃত দ্বিতীয় প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্য নিদর্শন। কাব্যের মূল উপজীব্য হলো রাধা ও কৃষ্ণের প্রণয়কাহিনি। 

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন। শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

• জয়দেব রচিত 'গীতগোবিন্দ' কাব্যে কৃষ্ণ-রাধার প্রেম, বিরহ ও মিলনের লীলাময় অপূর্ব বর্ণনা পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৪,৬৯৮.
‘জমীরউদ্দীন মোল্লা’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. আবুল ফজল
  2. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  3. জসীমউদ্দীন
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
⇒ জসীমউদ্দীন ‘জমীরউদ্দীন মোল্লা’ ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম হলো: গৌড়তটবাসী মশা, উদাসীন পথিক, গাজী মিয়াঁ।
• ‘মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ’ জহির রায়হানের প্রকৃত নাম।
• লেখক আবুল ফজল ‘শমসের উল আজাদ’ ছদ্মনামে লিখতেন।

---------------------
⇒ জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৯৯.
কোনটি শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. ক) যাদের দেখেছি
  2. খ) ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়
  3. গ) পল্লী জননী
  4. ঘ) এক পয়সার বাঁশি
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক পয়সার বাঁশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক পয়সার বাঁশি
ব্যাখ্যা

জসিম উদ্দীনের রচিত আত্মকথা -
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ -
-  ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৭০০.
'সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. কামিনী রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্ব কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।

'সুখ' কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-

সুখ
- কামিনী রায়
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

----------------------
• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
- তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
- তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
- 'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'সুখ' কবিতা।